সমন্বয় অধ্যায়ের নোট | SSC জীববিজ্ঞানের ১০ম অধ্যায় “সমন্বয়” জ্ঞানমূলক ও অনুধাবনমূলক প্রশ্ন উত্তর নিচে দেওয়া হলো। এই পোস্টে ৭৫টি জ্ঞানমূলক ও ৯টি অনুধাবনমূলক প্রশ্ন ও উত্তর আছে। বহুনির্বাচনি প্রশ্নের জন্য সমন্বয় অধ্যায়ের MCQ দেখুন।
সমন্বয় অধ্যায়ের জ্ঞানমূলক প্রশ্ন ও উত্তর
প্রাণীর সমন্বয়, অন্তঃক্ষরা গ্রন্থি ও হরমোন
1। প্রাণীর সমন্বয় প্রক্রিয়া প্রধানত কয়টি উপায়ে ঘটে?
দুটি উপায়ে: হরমোনাল প্রভাব ও স্নায়বিক প্রভাব।
2। হরমোনকে রাসায়নিক দূত বলা হয় কেন?
হরমোন রক্তের মাধ্যমে পরিবাহিত হয়ে উৎপত্তিস্থল থেকে দূরবর্তী কোষ বা অঙ্গকে উদ্দীপিত করে বলে একে রাসায়নিক দূত বলা হয়।
3। ফেরোমন কী?
পিঁপড়া খাদ্যের সন্ধান পেলে যে হরমোন নিঃসরণ করে অন্য পিঁপড়াদের পথ দেখায়, তাকে ফেরোমন বলে।
4। ফেরোমন ব্যবহার করে কীটপতঙ্গ দমন কীভাবে করা হয়?
ফাঁদে ফেরোমন ব্যবহার করে অনিষ্টকারী পোকাকে আকৃষ্ট করে পানিতে ফেলে ধ্বংস করা হয়, যা পরিবেশবান্ধব পদ্ধতি।
5। স্নায়ুতন্ত্র কাকে বলে?
যে তন্ত্রের সাহায্যে প্রাণী উত্তেজনায় সাড়া দিয়ে পরিবেশের সাথে সম্পর্ক রক্ষা করে ও দেহের অঙ্গের মধ্যে সমন্বয় করে, তাকে স্নায়ুতন্ত্র বলে।
6। বাহ্যিক ও অভ্যন্তরীণ উদ্দীপকের উদাহরণ দাও।
বাহ্যিক: আলো, গন্ধ, স্বাদ, স্পর্শ; অভ্যন্তরীণ: চাপ, তাপ ও রাসায়নিক বস্তু।
7। পিটুইটারি গ্রন্থি কোথায় অবস্থিত ও একে কী বলা হয়?
মস্তিষ্কের নিচের অংশে অবস্থিত এবং একে মানবদেহের প্রধান হরমোন উৎপাদনকারী গ্রন্থি বলা হয়, যদিও এটি আকারে সবচেয়ে ছোট।
8। পিটুইটারি থেকে কী কী হরমোন নিঃসৃত হয়?
গোনাডোট্রপিক, সোমাটোট্রপিক, থাইরয়েড উদ্দীপক (TSH), এড্রেনোকোর্টিকোট্রপিক ইত্যাদি হরমোন।
9। থাইরয়েড গ্রন্থি থেকে কোন হরমোন নিঃসৃত হয় ও এর কাজ কী?
থাইরক্সিন, যা স্বাভাবিক বৃদ্ধি ও বিপাকীয় কাজ নিয়ন্ত্রণ করে; ক্যালসিটোনিন ক্যালসিয়াম বিপাকে জড়িত।
10। প্যারাথাইরয়েড গ্রন্থি থেকে কোন হরমোন নিঃসৃত হয়?
প্যারাথরমোন, যা ক্যালসিয়াম ও ফসফরাসের বিপাক নিয়ন্ত্রণ করে।
11। থাইমাস গ্রন্থির কাজ কী?
দেহের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বিকাশে সাহায্য করে; থাইমোসিন হরমোন নিঃসরণ করে।
12। অ্যাড্রেনাল গ্রন্থি কোথায় অবস্থিত ও এর কাজ কী?
কিডনির উপরে অবস্থিত; মানসিক-শারীরিক চাপ থেকে পরিত্রাণে সাহায্য করে এবং অ্যাড্রেনালিন নিঃসরণ করে।
13। আইলেটস অফ ল্যাঙ্গারহ্যান্স কোথায় অবস্থিত ও কী নিঃসরণ করে?
অগ্ন্যাশয়ের মাঝে অবস্থিত; ইনসুলিন ও গ্লুকাগন নিঃসরণ করে রক্তের গ্লুকোজ নিয়ন্ত্রণ করে।
14। গোনাড থেকে কোন কোন হরমোন উৎপন্ন হয়?
পুরুষদেহে টেস্টোস্টেরন এবং স্ত্রীদেহে ইস্ট্রোজেন হরমোন উৎপন্ন হয়।
উদ্ভিদে সমন্বয় ও ফাইটোহরমোন
15। সমন্বয় কাকে বলে?
জীবদেহের বিভিন্ন শারীরবৃত্তীয় ক্রিয়া-বিক্রিয়ার মধ্যে সংগতি রক্ষাকে সমন্বয় বলে।
16। ফাইটোহরমোন কাকে বলে?
যে জৈব রাসায়নিক পদার্থ উদ্ভিদদেহে উৎপন্ন হয়ে বৃদ্ধি-বিকাশ ও অঙ্গ সৃষ্টি নিয়ন্ত্রণ করে, তাকে ফাইটোহরমোন বা উদ্ভিদ হরমোন বলে।
17। অক্সিন হরমোন কে প্রথম আবিষ্কার করেন?
চার্লস ডারউইন; পরবর্তীতে কোল ও হ্যাগেন স্মিট এর নাম অক্সিন রাখেন।
18। অক্সিনের কাজ কী কী?
শাখাকলমে মূল গজানো, অকালে ফল ঝরা বন্ধ করা এবং অভিভবন-শ্বসনের হার বৃদ্ধি করা।
19। জিবেরেলিন হরমোনের আবিষ্কার কীভাবে হয়?
ধানের বাকানি রোগের ছত্রাক থেকে নিষ্কাশিত পদার্থ, যা ধানগাছের অতিবৃদ্ধি ঘটায়।
20। জিবেরেলিনের কাজ কী কী?
পর্বমধ্য দীর্ঘ করে কাণ্ডের বৃদ্ধি ঘটায়, ফুল ফোটাতে ও বীজের সুপ্তাবস্থা দূর করতে সাহায্য করে।
21। সাইটোকাইনিনের কাজ কী কী?
অক্সিনের সাথে যুক্ত হয়ে কোষ বিভাজন উদ্দীপিত করে, কোষবৃদ্ধি ও সুপ্তাবস্থা ভাঙনে সাহায্য করে।
22। ইথিলিন হরমোনের বৈশিষ্ট্য ও কাজ কী?
এটি একটি গ্যাসীয় হরমোন, ফল পাকাতে সাহায্য করে এবং পাতা-ফুল-ফল ঝরা ত্বরান্বিত করে।
23। পোস্টুলেটেড হরমোন কী?
যেসব হরমোন শনাক্ত করা যায়নি তাদের পোস্টুলেটেড হরমোন বলে, যেমন ফ্লোরিজেন ও ভার্নালিন।
24। ফ্লোরিজেনের কাজ কী?
পাতায় উৎপন্ন হয়ে ফ্লোয়েমে পরিবাহিত হয়ে পত্রমুকুলকে পুষ্পমুকুলে রূপান্তরিত করে।
উদ্ভিদের বৃদ্ধি ও চলন
25। অক্সিনের প্রভাবে কাণ্ড আলোর দিকে বাঁকে কেন?
আলোতে অক্সিন নিষ্ক্রিয় হয়ে অন্ধকারের দিকে চলে যায়, ফলে অন্ধকার দিকের কোষ দ্রুত বৃদ্ধি পেয়ে কাণ্ড আলোর দিকে বেঁকে যায়।
26। অভিকর্ষ উপলব্ধি কী?
ভ্রূণমূল বা ভ্রূণকাণ্ডের অগ্রভাগ অভিকর্ষের উদ্দীপনা অনুভব করার ক্ষমতা।
27। ছোটদিনের উদ্ভিদ কী?
যেসব উদ্ভিদের পুষ্পায়নে দৈনিক ৮-১২ ঘণ্টা আলো প্রয়োজন, যেমন চন্দ্রমল্লিকা, ডালিয়া।
28। বড়দিনের উদ্ভিদ কী?
যেসব উদ্ভিদের পুষ্পায়নে দৈনিক ১২-১৬ ঘণ্টা আলো প্রয়োজন, যেমন লেটুস, ঝিঙা।
29। আলোক নিরপেক্ষ উদ্ভিদ কী?
যেসব উদ্ভিদের পুষ্পায়নে দিনের আলোর কোনো প্রভাব নেই, যেমন শসা, সূর্যমুখী।
30। ভার্নালাইজেশন কী?
শৈত্য প্রদানের মাধ্যমে উদ্ভিদের ফুল ধারণ ত্বরান্বিত করার প্রক্রিয়াকে ভার্নালাইজেশন বলে।
31। উদ্ভিদ চলন কয় ভাগে বিভক্ত?
দুই ভাগে: সামগ্রিক চলন ও বক্রচলন।
32। সামগ্রিক চলন কাকে বলে ও উদাহরণ দাও?
উদ্ভিদদেহের কোনো অংশ সম্পূর্ণরূপে এক স্থান থেকে অন্য স্থানে গমন করলে তাকে সামগ্রিক চলন বলে, যেমন শৈবালের জুস্পোর বা জননকোষের চলন।
33। বক্রচলন কাকে বলে ও উদাহরণ দাও?
মাটিতে আবদ্ধ উদ্ভিদের অঙ্গ যখন বিভিন্নভাবে বেঁকে যায় তাকে বক্রচলন বলে, যেমন কাণ্ডের আলোকমুখী চলন।
34। ফটোট্রপিজম কী?
আলোর প্রভাবে উদ্ভিদের অঙ্গের বক্রচলনকে ফটোট্রপিজম বলে; কাণ্ডের আলোর দিকে চলন পজিটিভ ও মূলের বিপরীত দিকে চলন নেগেটিভ ফটোট্রপিজম।
স্নায়ুতন্ত্র — মস্তিষ্ক ও মেরুরজ্জু
35। কেন্দ্রীয় স্নায়ুতন্ত্র কী নিয়ে গঠিত?
মস্তিষ্ক ও মেরুরজ্জু (সুষুম্নাকাণ্ড) নিয়ে গঠিত।
36। মস্তিষ্ক কয় ভাগে বিভক্ত?
তিন ভাগে: অগ্রমস্তিষ্ক, মধ্যমস্তিষ্ক ও পশ্চাৎমস্তিষ্ক।
37। সেরিব্রাম বা অগ্রমস্তিষ্কের কাজ কী?
চিন্তা, চেতনা, জ্ঞান, স্মৃতি, ইচ্ছা, বাকশক্তি ও ঐচ্ছিক পেশির কার্যকলাপ নিয়ন্ত্রণ করে।
38। সেরিব্রামের কর্টেক্স ও তার নিচের স্তরের নাম কী?
কর্টেক্স বা গ্রে ম্যাটার (ধূসর পদার্থ) এবং তার নিচে হোয়াইট ম্যাটার (শ্বেত পদার্থ)।
39। কর্পাস ক্যালোসাম কী?
সেরিব্রামের ডান ও বাম হেমিস্ফিয়ারকে সংযুক্তকারী নিউরনগুচ্ছ।
40। মধ্যমস্তিষ্কের কাজ কী?
পেশির কাজের সমন্বয়, ভারসাম্য রক্ষা এবং দর্শন-শ্রবণে ভূমিকা রাখে।
41। পশ্চাৎমস্তিষ্ক কী নিয়ে গঠিত?
সেরিবেলাম, পনস ও মেডুলা অবলংগাটা নিয়ে গঠিত।
42। সেরিবেলামের কাজ কী?
দেহের পেশির টান নিয়ন্ত্রণ, চলনে সমন্বয় সাধন ও দেহের ভারসাম্য রক্ষা করা।
43। মেডুলা অবলংগাটা থেকে কতগুলো করোটি স্নায়ু উৎপন্ন হয়?
আট জোড়া করোটি স্নায়ু উৎপন্ন হয়, যা খাদ্য গলাধঃকরণ, হৃৎপিণ্ড, ফুসফুস নিয়ন্ত্রণ করে।
44। মেরুরজ্জু কোথায় অবস্থিত?
ফোরামেন ম্যাগনাম থেকে কটিদেশের কশেরুকা পর্যন্ত বিস্তৃত এবং মেরুদণ্ডের ভেতরে সুরক্ষিত থাকে।
45। মেরুরজ্জু থেকে কতজোড়া স্নায়ু বের হয়?
৩১ জোড়া মেরুরজ্জ্বীয় স্নায়ু বের হয়, যা মিশ্র প্রকৃতির।
নিউরন, প্রতিবর্তী ক্রিয়া ও উদ্দীপনা সঞ্চালন
46। নিউরনের গঠন কী?
নিউরন কোষদেহ ও প্রলম্বিত অংশ (ডেনড্রন ও অ্যাক্সন) নিয়ে গঠিত।
47। ডেনড্রন ও অ্যাক্সনের কাজ কী?
ডেনড্রাইট অন্য নিউরন থেকে স্নায়ু তাড়না গ্রহণ করে এবং অ্যাক্সন এই তাড়না অন্য নিউরনে প্রেরণ করে।
48। মায়েলিন ও নিউরিলেমা কী?
অ্যাক্সনের চারদিকের পাতলা আবরণ নিউরিলেমা এবং নিউরিলেমা-অ্যাক্সনের মধ্যবর্তী স্নেহ পদার্থের স্তরকে মায়েলিন বলে।
49। র্যানভিয়ারের পর্ব কী?
মায়েলিন স্তরের নির্দিষ্ট দূরত্ব পরপর বিচ্ছিন্ন অংশকে র্যানভিয়ারের পর্ব বলে।
50। সিন্যাপস কী?
দুটি নিউরনের সন্ধিস্থল, যেখানে অ্যাক্সন টার্মিনাল থেকে তড়িৎ-রাসায়নিক পদ্ধতিতে স্নায়ু তাড়না পরবর্তী নিউরনে প্রবাহিত হয়।
51। মানুষের মস্তিষ্কে আনুমানিক কতগুলো নিউরন থাকে?
প্রায় একশত বিলিয়ন নিউরন থাকে, প্রতিটি ৭-১০ হাজার নিউরনের সাথে সিন্যাপস সংযোগ করে।
52। প্রতিবর্তী ক্রিয়া কাকে বলে?
উদ্দীপনার আকস্মিকতায় সুষুম্নাকাণ্ড দ্বারা নিয়ন্ত্রিত স্বয়ংক্রিয় প্রতিক্রিয়াকে প্রতিবর্তী ক্রিয়া বলে, যা মস্তিষ্ক দিয়ে নিয়ন্ত্রিত হয় না।
53। আঙুলে সুচ ফুটলে হাত সরে যাওয়ার প্রতিবর্তী ক্রিয়ার ধাপগুলো কী?
ত্বকের সংবেদী নিউরন উদ্দীপনা গ্রহণ করে সুষুম্নাকাণ্ডের ধূসর অংশে পাঠায়, রিলে নিউরনের মাধ্যমে মোটর নিউরনে যায়, তারপর পেশিতে পৌঁছে সংকোচন ঘটিয়ে হাত সরিয়ে নেয়।
54। প্রান্তীয় স্নায়ুতন্ত্র কী নিয়ে গঠিত?
মস্তিষ্ক থেকে ১২ জোড়া করোটিক স্নায়ু ও মেরুরজ্জু থেকে ৩১ জোড়া মেরুরজ্জ্বীয় স্নায়ু নিয়ে গঠিত।
55। স্বয়ংক্রিয় স্নায়ুতন্ত্র কী?
যেসব অঙ্গের ওপর প্রত্যক্ষ নিয়ন্ত্রণ নেই (হৃৎপিণ্ড, অন্ত্র, পাকস্থলী), সেগুলো পরিচালনাকারী স্নায়ুতন্ত্র।
56। স্নায়ু তাড়নার প্রবাহ বেগ কত?
প্রতি সেকেন্ডে প্রায় ১০০ মিটার, যদিও স্নায়ুর ধরনভেদে তারতম্য হতে পারে।
হরমোনজনিত অস্বাভাবিকতা — থাইরয়েড, ডায়াবেটিস ও স্ট্রোক
57। থাইরয়েড হরমোনের ঘাটতিতে শিশুদের কী সমস্যা হয়?
মানসিক বিকাশ বাধা পায়, গায়ের চামড়া খসখসে হয় এবং মুখমণ্ডল গোলাকার হয়ে যায়।
58। ডায়াবেটিস বা বহুমূত্র কী?
অগ্ন্যাশয়ে পর্যাপ্ত ইনসুলিন তৈরি না হলে রক্তে শর্করা বেড়ে গিয়ে প্রস্রাবের সাথে গ্লুকোজ নির্গত হওয়াকে ডায়াবেটিস বলে।
59। ডায়াবেটিস কয় প্রকার?
দুই প্রকার: টাইপ-১ (ইনসুলিন একেবারেই তৈরি হয় না) ও টাইপ-২ (আংশিক ইনসুলিন তৈরি হয়)।
60। ডায়াবেটিসের লক্ষণ কী কী?
ঘন ঘন প্রস্রাব, অধিক পিপাসা, ক্ষুধা বৃদ্ধি, ওজন কমা, দুর্বলতা ও ক্ষত সহজে না শুকানো।
61। ডায়াবেটিস নিয়ন্ত্রণে তিনটি ‘D’ কী কী?
Discipline (শৃঙ্খলা), Diet (খাদ্য নিয়ন্ত্রণ) ও Drug (ঔষধ সেবন)।
62। স্ট্রোক কী?
মস্তিষ্কে রক্ত সরবরাহে ব্যাঘাত ঘটে স্নায়ুতন্ত্রের কাজে ব্যাঘাত ঘটাকে স্ট্রোক বলে; এটি মস্তিষ্কে হয়, হৃৎপিণ্ডে নয়।
63। স্ট্রোক কীভাবে ঘটতে পারে?
মস্তিষ্কে রক্তক্ষরণ অথবা রক্তনালিতে রক্ত জমাট বেঁধে রক্ত চলাচল বাধাগ্রস্ত হয়ে; রক্তক্ষরণজনিত স্ট্রোক বেশি মারাত্মক।
64। স্ট্রোকের লক্ষণ কী কী?
বমি, প্রচণ্ড মাথাব্যথা, সংজ্ঞা হারানো, ঘাড় শক্ত হওয়া, শ্বসন-নাড়ির স্পন্দন কমা ও মুখমণ্ডল লাল হওয়া।
65। স্ট্রোক প্রতিরোধের উপায় কী?
ধূমপান পরিহার, উচ্চ রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণ, ডায়াবেটিস নিয়ন্ত্রণ ও দুশ্চিন্তামুক্ত জীবনযাপন।
স্নায়বিক বৈকল্য ও মাদকদ্রব্যের প্রভাব
66। প্যারালাইসিস কী?
শরীরের কোনো অংশের ঐচ্ছিক মাংসপেশি ইচ্ছামতো নাড়ানোর ক্ষমতা নষ্ট হওয়াকে প্যারালাইসিস বলে।
67। প্যারালাইসিসের কারণ কী কী?
সাধারণত স্ট্রোক, মেরুদণ্ড বা ঘাড়ের আঘাত, স্নায়ু রোগ বা কশেরুকার ক্ষয়রোগ।
68। এপিলেপসি বা মৃগীরোগ কী?
মস্তিষ্কের রোগ যাতে খিঁচুনি বা কাঁপুনি হয় এবং রোগী প্রায়ই অজ্ঞান হয়ে পড়ে।
69। এপিলেপসি রোগীদের কী সতর্কতা নিতে হয়?
জলাশয়, আগুন বা বিপজ্জনক স্থান থেকে দূরে রাখতে হয়, কারণ আক্রান্ত অবস্থায় নিজ শক্তিতে উঠতে পারে না।
70। পারকিনসন রোগ কী?
মস্তিষ্কের এমন অবস্থা যেখানে হাত-পায়ে কাঁপুনি হয় ও নড়াচড়ায় সমস্যা হয়; সাধারণত ৫০ বছর পরে হয়।
71। পারকিনসন রোগের কারণ কী?
মস্তিষ্কে ডোপামিন তৈরির কোষ ধীরে ধীরে নষ্ট হয়ে যাওয়া, ফলে পেশিতে সংবেদন পাঠানো ব্যাহত হয়।
72। নিকোটিন কীভাবে স্নায়ুতন্ত্রে প্রভাব ফেলে?
প্রাথমিকভাবে স্নায়ু কোষকে উদ্দীপিত করে, পরে চাহিদা বেড়ে গিয়ে আসক্তি তৈরি করে এবং ধীরে ধীরে স্নায়ুকোষের কার্যকারিতা নষ্ট করে।
73। মাদকাসক্তির কুফল কী কী?
মানসিক, শারীরিক, সামাজিক ও আর্থিক ক্ষতিসাধন হয়।
74। বাংলাদেশ মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তর কত সালে প্রতিষ্ঠিত হয়?
১৯৯০ সালে।
75। মাদকাসক্তি থেকে মুক্তির উপায় কী কী?
সুস্থ পারিবারিক-সামাজিক পরিবেশ, নৈতিক শিক্ষা, কর্মসংস্থান, সচেতনতা ও মাদকাসক্তি নিরাময় কেন্দ্রের সহায়তা।
সমন্বয় অধ্যায়ের অনুধাবনমূলক প্রশ্ন ও উত্তর
প্রাণীর সমন্বয়, অন্তঃক্ষরা গ্রন্থি ও হরমোন
1। হরমোন ও স্নায়ুতন্ত্র পরস্পর নির্ভরশীল— ব্যাখ্যা করো।
স্নায়ুতন্ত্র ব্যবস্থাপকের মতো নালিহীন গ্রন্থিগুলোর হরমোন ক্ষরণ নিয়ন্ত্রণ করে, আবার স্নায়ুতন্ত্রের বিকাশ ও কাজের ওপর হরমোনের দীর্ঘমেয়াদি প্রভাব থাকে, তাই উভয় তন্ত্র একে অপরের ওপর নির্ভরশীল ও পরস্পর সংযুক্ত।
2। পিটুইটারিকে মানবদেহের প্রধান হরমোন উৎপাদনকারী গ্রন্থি বলা হয় কেন— ব্যাখ্যা করো।
পিটুইটারি থেকে একাধিক গুরুত্বপূর্ণ হরমোন (গোনাডোট্রপিক, সোমাটোট্রপিক, TSH ইত্যাদি) নিঃসৃত হয় এবং এসব হরমোন অন্যান্য অন্তঃক্ষরা গ্রন্থির কার্যকলাপ নিয়ন্ত্রণ করে, তাই আকারে ক্ষুদ্র হলেও একে প্রধান হরমোন উৎপাদনকারী গ্রন্থি বলা হয়।
উদ্ভিদে সমন্বয় ও ফাইটোহরমোন
3। অক্সিনকে একটিমাত্র হরমোন না বলে হরমোন শ্রেণি বলা হয় কেন— ব্যাখ্যা করো।
অক্সিন নামে একক কোনো নির্দিষ্ট রাসায়নিক পদার্থ নেই, বরং IAA, IBA, NAA এর মতো একাধিক রাসায়নিক পদার্থ একইভাবে উদ্ভিদের বৃদ্ধি নিয়ন্ত্রণ করে, তাই এদের সবাইকে একত্রে অক্সিন নামক হরমোন শ্রেণি বলা হয়, একক হরমোন নয়।
উদ্ভিদের বৃদ্ধি ও চলন
4। কাণ্ড সবসময় আলোর দিকে বাঁকে কিন্তু মূল বিপরীত দিকে যায় কেন— ব্যাখ্যা করো।
আলোর প্রভাবে অক্সিন কাণ্ডের অন্ধকার দিকে জমা হয়ে সেই দিকের কোষের বৃদ্ধি বাড়িয়ে কাণ্ডকে আলোর দিকে বাঁকায় (পজিটিভ ফটোট্রপিজম), কিন্তু মূলে অক্সিনের প্রভাব বিপরীত হওয়ায় অন্ধকার দিকের বৃদ্ধি ব্যাহত হয়ে মূল আলোর বিপরীত দিকে বৃদ্ধি পায় (নেগেটিভ ফটোট্রপিজম)।
স্নায়ুতন্ত্র — মস্তিষ্ক ও মেরুরজ্জু
5। সেরিব্রামকে অনুভূতির কেন্দ্র বলা হয় কেন— ব্যাখ্যা করো।
সেরিব্রাম দেহের প্রতিটি অঙ্গ থেকে স্নায়ুতাড়না গ্রহণ করে এবং চিন্তা, চেতনা, স্মৃতি, ইচ্ছা ও ঐচ্ছিক পেশির কার্যকলাপ নিয়ন্ত্রণ করে, তাই একে অনুভূতি ও সাড়া প্রদানের কেন্দ্র বলা হয়।
নিউরন, প্রতিবর্তী ক্রিয়া ও উদ্দীপনা সঞ্চালন
6। প্রতিবর্তী ক্রিয়া আমরা ইচ্ছা করলেও নিয়ন্ত্রণ করতে পারি না কেন— ব্যাখ্যা করো।
প্রতিবর্তী ক্রিয়া সুষুম্নাকাণ্ড দিয়ে নিয়ন্ত্রিত হয়, মস্তিষ্ক দিয়ে নয়; উদ্দীপনা মস্তিষ্কে পৌঁছে সিদ্ধান্ত নেওয়ার আগেই সুষুম্নাকাণ্ড সরাসরি মোটর নিউরনে নির্দেশ পাঠিয়ে দ্রুত প্রতিক্রিয়া ঘটায়, তাই সচেতন ইচ্ছার হস্তক্ষেপের সুযোগ থাকে না।
হরমোনজনিত অস্বাভাবিকতা — থাইরয়েড, ডায়াবেটিস ও স্ট্রোক
7। ডায়াবেটিস সংক্রামক রোগ নয়— ব্যাখ্যা করো।
ডায়াবেটিস মূলত বংশগতি ও পরিবেশের প্রভাবে অগ্ন্যাশয়ে ইনসুলিন উৎপাদনের ঘাটতির কারণে হয়, কোনো জীবাণুর সংক্রমণে হয় না, তাই এটি একজন থেকে অন্যজনে ছড়ায় না এবং ছোঁয়াচে নয়।
8। রক্তক্ষরণজনিত স্ট্রোক বেশি মারাত্মক কেন— ব্যাখ্যা করো।
রক্তক্ষরণজনিত স্ট্রোকে মস্তিষ্কের টিস্যু সরাসরি রক্তে ডুবে গিয়ে ক্ষতিগ্রস্ত হয় এবং এই রক্তক্ষরণ বন্ধ করা কঠিন, অন্যদিকে জমাট বাঁধা রক্তের কারণে সৃষ্ট স্ট্রোকে চিকিৎসার মাধ্যমে রক্ত চলাচল পুনরায় স্বাভাবিক করার সুযোগ বেশি থাকে, তাই রক্তক্ষরণজনিত স্ট্রোক বেশি বিপজ্জনক।
স্নায়বিক বৈকল্য ও মাদকদ্রব্যের প্রভাব
9। পারকিনসন রোগে রোগীর নড়াচড়া কষ্টকর হয়ে পড়ে কেন— ব্যাখ্যা করো।
পারকিনসন রোগে মস্তিষ্কে ডোপামিন তৈরির কোষ ধীরে ধীরে নষ্ট হয়ে যায়, ডোপামিন ছাড়া স্নায়ুকোষ পেশিতে সংবেদন পাঠাতে পারে না, ফলে মাংসপেশি তার স্বাভাবিক কার্যকারিতা হারিয়ে রোগীর চলাফেরা ও নড়াচড়া কষ্টকর হয়ে পড়ে।
