চল বিদ্যুৎ অধ্যায়ের নোট | SSC পদার্থবিজ্ঞানের ১১তম অধ্যায় “চল বিদ্যুৎ” জ্ঞানমূলক ও অনুধাবনমূলক প্রশ্ন উত্তর নিচে দেওয়া হলো। এই পোস্টে ৫১টি জ্ঞানমূলক ও ৬টি অনুধাবনমূলক প্রশ্ন ও উত্তর আছে। বহুনির্বাচনি প্রশ্নের জন্য চল বিদ্যুৎ অধ্যায়ের MCQ দেখুন।
চল বিদ্যুৎ অধ্যায়ের জ্ঞানমূলক প্রশ্ন ও উত্তর
বিদ্যুৎপ্রবাহ ও তড়িৎচালক শক্তি
1। বিদ্যুৎপ্রবাহ কাকে বলে?
সময়ের সাথে চার্জ প্রবাহের হারকে বিদ্যুৎপ্রবাহ বলে, I = Q/t।
2। বিদ্যুৎপ্রবাহের একক কী?
অ্যাম্পিয়ার (A) = কুলম্ব/সেকেন্ড।
3। তড়িৎচালক শক্তি বা ইএমএফ কাকে বলে?
কম বিভব থেকে বেশি বিভবে চার্জ আনতে যে কাজ করতে হয় তার প্রতি একক চার্জের পরিমাণকে তড়িৎচালক শক্তি বলে, EMF=W/Q।
4। সাধারণ ব্যাটারি সেলের দুই প্রান্তে কত ভোল্ট বিভব পার্থক্য থাকে?
১.৫ ভোল্ট।
5। ব্যাটারির ভেতর বিভব পার্থক্য কীভাবে তৈরি হয়?
রাসায়নিক বিক্রিয়ার মাধ্যমে।
6। বিদ্যুৎপ্রবাহের দিক ও ইলেকট্রন প্রবাহের দিকের সম্পর্ক কী?
বিদ্যুৎপ্রবাহের দিক ইলেকট্রন প্রবাহের দিকের ঠিক বিপরীত।
পরিবাহী, অপরিবাহী ও অর্ধপরিবাহী
7। পরিবাহী পদার্থ কাকে বলে?
যে পদার্থে মুক্ত ইলেকট্রন থাকে এবং সহজে বিদ্যুৎ প্রবাহিত হতে পারে তাকে পরিবাহী পদার্থ বলে, যেমন সোনা, রুপা, তামা।
8। অপরিবাহী পদার্থ কাকে বলে?
যে পদার্থে বিদ্যুৎ পরিবহনের জন্য কোনো মুক্ত ইলেকট্রন নেই তাকে অপরিবাহী পদার্থ বলে, যেমন প্লাস্টিক, রাবার, কাঠ, কাচ।
9। অর্ধপরিবাহী পদার্থ কাকে বলে?
যে পদার্থের পরিবহন ক্ষমতা পরিবাহী ও অপরিবাহীর মাঝামাঝি এবং তাপমাত্রা বাড়ালে পরিবহন ক্ষমতা বাড়ে তাকে অর্ধপরিবাহী বলে, যেমন সিলিকন, জার্মেনিয়াম।
ও’মের সূত্র ও রোধ
10। ও’মের সূত্রটি কী?
I = V/R, অর্থাৎ বিদ্যুৎপ্রবাহ বিভব পার্থক্যের সমানুপাতিক ও রোধের ব্যস্তানুপাতিক।
11। রোধের একক কী?
ওহম (Ω)।
12। এক ওহম রোধ বলতে কী বোঝায়?
কোনো বস্তুর দুই প্রান্তে ১ ভোল্ট বিভব পার্থক্যে যদি ১ অ্যাম্পিয়ার বিদ্যুৎ প্রবাহিত হয়, তবে তার রোধ ১ ওহম।
13। রোধ কী কী রাশির ওপর নির্ভর করে?
দৈর্ঘ্য (L), প্রস্থচ্ছেদ (A) ও পদার্থের আপেক্ষিক রোধ (ρ) এর ওপর নির্ভর করে, R=ρL/A।
14। দৈর্ঘ্য বাড়ালে রোধের কী পরিবর্তন হয়?
রোধ বৃদ্ধি পায়, R ∝ L।
15। প্রস্থচ্ছেদ বাড়ালে রোধের কী পরিবর্তন হয়?
রোধ হ্রাস পায়, R ∝ 1/A।
16। আপেক্ষিক রোধ (ρ) এর একক কী?
Ωm।
17। পরিবাহিতা (σ) কাকে বলে?
কোনো পদার্থ কতটুকু বিদ্যুৎ পরিবাহী তা প্রকাশ করার রাশি, σ = 1/ρ।
18। তাপমাত্রা বাড়ালে পরিবাহী পদার্থের রোধের কী পরিবর্তন হয়?
রোধ বৃদ্ধি পায়, কারণ অণু-পরমাণু বেশি কম্পিত হয়ে ইলেকট্রনের চলাচলে বেশি বাধা দেয়।
19। তাপমাত্রা বাড়ালে অর্ধপরিবাহীর রোধের কী পরিবর্তন হয়?
রোধ হ্রাস পায়, কারণ তাপমাত্রা বাড়ালে বিদ্যুৎ পরিবহনের জন্য বেশি ইলেকট্রন মুক্ত হয়।
20। স্থির রোধ ও পরিবর্তনশীল রোধের পার্থক্য কী?
স্থির রোধের মান পরিবর্তন করা যায় না, পরিবর্তনশীল রোধ বা রিওস্টেটের মান একটি নির্দিষ্ট সীমার মধ্যে পরিবর্তন করা যায়।
21। রুপা, তামা, সোনার মধ্যে কোনটি সবচেয়ে ভালো পরিবাহী (সর্বনিম্ন আপেক্ষিক রোধ)?
রুপা, এর আপেক্ষিক রোধ ১.৫৯×১০⁻⁸ Ωm, যা তামা ও সোনার চেয়ে কম।
22। হীরা ও বাতাসের আপেক্ষিক রোধ পরিবাহী পদার্থের তুলনায় কেমন?
অনেক অনেক বেশি (হীরার ১০¹² Ωm, বাতাসের ১০¹⁶ Ωm), তাই এরা চমৎকার অন্তরক।
সার্কিট বিশ্লেষণ ও তুল্য রোধ
23। সার্কিট বিশ্লেষণের একটি মূলনীতি কী?
সার্কিটের যেকোনো বিন্দুতে যে পরিমাণ বিদ্যুৎ প্রবেশ করে ঠিক সেই পরিমাণ বিদ্যুৎ বের হয়ে যায়, চার্জের সৃষ্টি বা ধ্বংস হয় না।
24। শ্রেণি সমবায়ে তুল্য রোধের সূত্র কী?
R = R₁ + R₂ + R₃ + … + Rₙ।
25। সমান্তরাল সমবায়ে তুল্য রোধের সূত্র কী?
1/R = 1/R₁ + 1/R₂ + 1/R₃ + … + 1/Rₙ।
26। শ্রেণি সমবায়ে প্রতিটি রোধের মধ্য দিয়ে কী প্রবাহিত হয়?
একই পরিমাণ বিদ্যুৎপ্রবাহ।
27। সমান্তরাল সমবায়ে প্রতিটি রোধের দুই প্রান্তে কী থাকে?
একই বিভব পার্থক্য।
তড়িৎ ক্ষমতা
28। তড়িৎ ক্ষমতার সূত্রটি কী?
P = VI, যেখানে V বিভব ও I বিদ্যুৎপ্রবাহ।
29। রোধের মাধ্যমে ক্ষমতার অন্য দুটি রূপ কী কী?
P = I²R এবং P = V²/R।
30। রোধে ব্যয়িত বৈদ্যুতিক শক্তি কোন রূপে বের হয়?
তাপশক্তি হিসেবে।
31। বৈদ্যুতিক শক্তি ব্যয়ের প্রচলিত একক কী?
কিলোওয়াট-ঘণ্টা (kWh), যাকে ইউনিটও বলা হয়।
32। ১ ইউনিট বিদ্যুৎ বলতে কী বোঝায়?
১ কিলোওয়াট ক্ষমতার একটি যন্ত্র ১ ঘণ্টা চললে যে বিদ্যুৎ শক্তি ব্যয় হয়।
বিদ্যুৎ সরবরাহ, সিস্টেম লস ও লোডশেডিং
33। দূরবর্তী স্থানে বিদ্যুৎ সরবরাহে উচ্চ ভোল্টেজ ব্যবহার করা হয় কেন?
উচ্চ ভোল্টেজে কম বিদ্যুৎপ্রবাহে একই শক্তি পাঠানো যায়, ফলে I²R হিসেবে তাপশক্তির অপচয় (সিস্টেম লস) কমে যায়।
34। সিস্টেম লস কাকে বলে?
বিদ্যুৎ পরিবহনের সময় তারের রোধের কারণে তাপ হিসেবে যে বিদ্যুৎশক্তি অপচয় হয়, তাকে সিস্টেম লস বলে।
35। স্টেপ আপ ট্রান্সফর্মার কী কাজ করে?
উৎপাদিত বিদ্যুতের ভোল্টেজ বাড়িয়ে উচ্চ ভোল্টেজে রূপান্তর করে।
36। স্টেপ ডাউন ট্রান্সফর্মার কী কাজ করে?
উচ্চ ভোল্টেজের বিদ্যুৎকে গ্রাহকদের ব্যবহারযোগ্য নিম্ন ভোল্টেজে নামিয়ে আনে।
37। লোডশেডিং কাকে বলে?
চাহিদার তুলনায় উৎপাদন কম হলে একটি এলাকায় সরবরাহ বন্ধ রেখে অন্য এলাকায় বিদ্যুৎ সরবরাহ করার প্রক্রিয়াকে লোডশেডিং বলে।
বিদ্যুতের নিরাপদ ব্যবহার
38। বাংলাদেশে সাধারণত বিদ্যুৎ কত ভোল্টে সরবরাহ করা হয়?
২২০ ভোল্ট (AC)।
39। হৃৎপিণ্ডের মধ্য দিয়ে কত বিদ্যুৎপ্রবাহে মানুষ মারা যেতে পারে?
মাত্র ১০ মিলিঅ্যাম্পিয়ার (mA)।
40। শুকনো ও ভেজা চামড়ার রোধের পার্থক্য কেমন?
শুকনো চামড়ার রোধ প্রায় ১,০০,০০০ ওহম, ভেজা অবস্থায় তা হাজার গুণ কমে যায়।
41। শর্ট সার্কিট কী?
কোনো রোধ ছাড়াই সরাসরি পজিটিভ ও নেগেটিভ প্রান্ত স্পর্শ করে যাওয়ার ঘটনাকে শর্ট সার্কিট বলে।
42। ফিউজ কীভাবে কাজ করে?
নির্দিষ্ট সীমার বেশি বিদ্যুৎ প্রবাহিত হলে সরু তারটি উত্তপ্ত হয়ে পুড়ে বিদ্যুৎ সরবরাহ বন্ধ করে দেয়।
43। সার্কিট ব্রেকার কী কাজ করে?
নিরাপদ সীমার বেশি বিদ্যুৎ প্রবাহিত হলে স্বয়ংক্রিয়ভাবে সার্কিট বিচ্ছিন্ন করে দেয়।
44। সুইচ কোন তারে লাগানো বুদ্ধিমানের কাজ?
উচ্চ ভোল্টেজ বা Live তারে, যাতে যন্ত্র বন্ধ থাকলে তার ভেতরে কোথাও উচ্চ ভোল্টেজ না থাকে।
45। গ্রাউন্ড বা ভূমি সংযোগের কাজ কী?
দুর্ঘটনায় যন্ত্রপাতি বিদ্যুতায়িত হলে তা নিরাপদে মাটিতে চলে যাওয়ার ব্যবস্থা করা।
46। Live ও Neutral তারের পার্থক্য কী?
Live তারে উচ্চ বিভব থাকে, Neutral তার ভোল্টেজহীন।
বাসাবাড়ির বিদ্যুৎ বর্তনী
47। বাসার বিদ্যুৎ ব্যবহার রেকর্ড করে কোন যন্ত্র?
বিদ্যুৎ মিটার।
48। বাসার সার্কিটে সাধারণত কয়টি সার্কিট ব্রেকার থাকে ও কত অ্যাম্পিয়ারের?
সাধারণত তিনটি: ৫ A (লাইট ও ফ্যান), ১৫ A (রান্নার চুলা), ৩০ A (প্লাগ পয়েন্ট)।
49। বাসার প্লাগ পয়েন্ট সংযোগ সাধারণত কোন আকৃতির হয়?
রিং আকৃতির, যাতে বিদ্যুৎপ্রবাহ দুটি ভিন্ন পথে যেতে পারে।
তড়িৎ ক্ষমতা ও নিরাপত্তা
50। বৈদ্যুতিক সংযোগ ভালো না হলে কী সমস্যা হতে পারে?
বাড়তি রোধ তৈরি হয়ে I²R হিসেবে উত্তপ্ত হয়ে অপরিবাহী আস্তরণ পুড়ে যেতে পারে।
51। বাসাবাড়িতে গ্রাউন্ড সংযোগ সাধারণত কোথায় লাগানো থাকে?
যন্ত্রপাতির ঢাকনা বা কাঠামোতে।
চল বিদ্যুৎ অধ্যায়ের অনুধাবনমূলক প্রশ্ন ও উত্তর
ও’মের সূত্র ও রোধ সম্পর্কিত
1। ফিলামেন্টযুক্ত বাল্বের ফিলামেন্ট ও’মের সূত্র মানছে কি না পরীক্ষা করা কঠিন কেন— ব্যাখ্যা করো।
বাল্ব জ্বলার সময় ফিলামেন্টের তাপমাত্রা অনেক বেড়ে যায় এবং তাপমাত্রা বাড়ার সাথে সাথে রোধও পরিবর্তিত হতে থাকে, ফলে V ও I এর মধ্যে সরল সমানুপাতিক সম্পর্ক (ধ্রুব রোধ অনুমান) নির্ভুলভাবে পরীক্ষা করা কঠিন হয়ে পড়ে।
2। তাপমাত্রা বাড়লে পরিবাহীর রোধ বাড়ে কেন— ব্যাখ্যা করো।
তাপমাত্রা বাড়লে পরিবাহীর অণু-পরমাণুগুলো বেশি মাত্রায় কম্পিত হয়, ফলে চলমান ইলেকট্রনগুলো এই কম্পনরত অণু-পরমাণুর সাথে বেশি সংঘর্ষে বাধাগ্রস্ত হয় এবং রোধ বৃদ্ধি পায়।
বিদ্যুৎ সরবরাহ ও সিস্টেম লস সম্পর্কিত
3। দূরবর্তী স্থানে বিদ্যুৎ সরবরাহে উচ্চ ভোল্টেজ ব্যবহার করলে শক্তির অপচয় কমে কীভাবে— ব্যাখ্যা করো।
একই পরিমাণ শক্তি (P=VI) পাঠাতে ভোল্টেজ বাড়ালে বিদ্যুৎপ্রবাহ কমানো যায়; যেহেতু তাপশক্তির অপচয় I²R অনুযায়ী প্রবাহের বর্গের সমানুপাতিক, তাই প্রবাহ কম রাখলে অপচয় অনেক বেশি কমে যায়, যদিও ভোল্টেজ বাড়ানো হয়েছে।
বিদ্যুতের নিরাপদ ব্যবহার সম্পর্কিত
4। ভেজা মাটিতে ভেজা পায়ে দাঁড়িয়ে বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হওয়া সবচেয়ে বিপজ্জনক কেন— ব্যাখ্যা করো।
ভেজা চামড়ার রোধ শুকনো চামড়ার তুলনায় হাজার গুণ কমে যায়, ফলে ও’মের সূত্র অনুযায়ী একই বিভবে শরীরের ভেতর দিয়ে অনেক বেশি বিদ্যুৎ প্রবাহিত হতে পারে, যা প্রাণঘাতী হতে পারে।
5। সুইচ উচ্চ ভোল্টেজের তারে লাগানো উচিত কেন, নিউট্রাল তারে নয়— ব্যাখ্যা করো।
সুইচ Live তারে লাগালে যন্ত্র বন্ধ থাকা অবস্থায় যন্ত্রের ভেতরে কোথাও উচ্চ বিভব থাকে না; নিউট্রাল তারে সুইচ লাগালে যন্ত্র বন্ধ থাকলেও ভেতরের তার উচ্চ বিভবেই থেকে যায়, যা বিপজ্জনক।
সার্কিট ও নিরাপত্তা সম্পর্কিত
6। গ্রাউন্ড সংযোগ থাকলে বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হওয়ার আশঙ্কা কমে যায় কেন— ব্যাখ্যা করো।
কোনো দুর্ঘটনায় যন্ত্রপাতি বিদ্যুতায়িত হলে গ্রাউন্ড সংযোগের মাধ্যমে চার্জ সরাসরি মাটিতে চলে যায় এবং এই প্রবাহে সাধারণত ফিউজ পুড়ে বিদ্যুৎ সরবরাহ বন্ধ হয়ে যায়, ফলে যন্ত্র স্পর্শকারী ব্যক্তি নিরাপদ থাকে।
