কোষ বিভাজন অধ্যায়ের নোট | SSC জীববিজ্ঞানের ৩য় অধ্যায় “কোষ বিভাজন” জ্ঞানমূলক ও অনুধাবনমূলক প্রশ্ন উত্তর নিচে দেওয়া হলো। এই পোস্টে ৪০টি জ্ঞানমূলক ও ৬টি অনুধাবনমূলক প্রশ্ন ও উত্তর আছে। বহুনির্বাচনি প্রশ্নের জন্য কোষ বিভাজন অধ্যায়ের MCQ দেখুন।
কোষ বিভাজন অধ্যায়ের জ্ঞানমূলক প্রশ্ন ও উত্তর
কোষ বিভাজন, প্রকারভেদ ও মাইটোসিসের গুরুত্ব
1। এককোষী ও বহুকোষী জীব কাকে বলে?
যে জীবের দেহ একটিমাত্র কোষ দিয়ে গঠিত তাকে এককোষী জীব বলে (যেমন ব্যাকটেরিয়া, অ্যামিবা) এবং যে জীবের দেহ একাধিক কোষ দিয়ে গঠিত তাকে বহুকোষী জীব বলে (যেমন মানুষ)।
2। কোষ বিভাজনের উদ্দেশ্য কী?
জীবের বৃদ্ধি ও প্রজননের জন্য কোষের সংখ্যা বৃদ্ধি করা।
3। জীবদেহের দুটি গুরুত্বপূর্ণ কোষ বিভাজন প্রক্রিয়া কী কী?
মাইটোসিস ও মিয়োসিস।
4। মাইটোসিস কাকে বলে?
যে বিভাজন প্রক্রিয়ায় প্রকৃত কোষ একবার বিভাজিত হয়ে দুটি অপত্য কোষে পরিণত হয় এবং মাতৃকোষ ও অপত্য কোষে ক্রোমোজোম সংখ্যা সমান থাকে, তাকে মাইটোসিস বলে।
5। মাইটোসিসকে সমীকরণিক বিভাজন বলা হয় কেন?
কারণ মাতৃকোষের DNA-এর প্রায় হুবহু অনুলিপি অপত্য কোষে পাওয়া যায়, অর্থাৎ ক্রোমোজোম সংখ্যা ও গুণাগুণ অপরিবর্তিত থাকে।
6। মাইটোসিস কোথায় সংঘটিত হয়?
প্রাণীর দেহকোষে এবং উদ্ভিদের বর্ধনশীল অংশের ভাজক টিস্যুতে (কাণ্ড-মূলের অগ্রভাগ, ভ্রূণমূল ইত্যাদি)।
7। ইন্টারফেজ কাকে বলে?
মাইটোসিস বিভাজন শুরুর আগে কোষের নিউক্লিয়াসে প্রস্তুতিমূলক কাজ সম্পন্ন হওয়ার অবস্থাকে ইন্টারফেজ বলে।
8। ক্যারিওকাইনেসিস ও সাইটোকাইনেসিস কী?
নিউক্লিয়াসের বিভাজনকে ক্যারিওকাইনেসিস এবং সাইটোপ্লাজমের বিভাজনকে সাইটোকাইনেসিস বলে।
9। মাইটোসিসের নিউক্লিয়াস বিভাজন প্রক্রিয়াকে কয়টি পর্যায়ে ভাগ করা হয়?
পাঁচটি পর্যায়ে: প্রোফেজ, প্রো-মেটাফেজ, মেটাফেজ, অ্যানাফেজ ও টেলোফেজ।
10। মাইটোসিসের মাধ্যমে কী ধরনের বৃদ্ধি ঘটে?
অজৈব বৃদ্ধি সাধিত হয়, অর্থাৎ কোষ সংখ্যা বৃদ্ধির মাধ্যমে দৈহিক বৃদ্ধি ঘটে।
11। মানুষের দেহে আনুমানিক কত কোষ থাকে ও পূর্ণাঙ্গ হতে কত সময় লাগতে পারে?
প্রায় ৩০ ট্রিলিয়ন কোষ থাকে এবং প্রতিদিন একবার বিভাজন ধরলে মাত্র ৪০-৫০ দিনে প্রয়োজনীয় কোষ তৈরি হয়ে যায়।
12। মাইটোসিসের ফলে জীবদেহের কী সুবিধা হয়?
ক্ষতস্থান পূরণ, নির্দিষ্ট আয়ুষ্কালের কোষ পূরণ এবং জননকোষের সংখ্যাবৃদ্ধি ঘটে।
13। মাইটোসিস জীবজগতের গুণগত বৈশিষ্ট্যে কী ভূমিকা রাখে?
একই ধরনের কোষের উৎপত্তি হওয়ায় জীবজগতের গুণগত বৈশিষ্ট্যের স্থিতিশীলতা বজায় থাকে।
14। অনিয়ন্ত্রিত মাইটোসিসের ফল কী হতে পারে?
টিউমার এমনকি ক্যান্সার সৃষ্টি হতে পারে।
15। ক্যান্সার কী?
অনিয়ন্ত্রিত কোষ বিভাজনের ফলে সৃষ্ট প্রাণঘাতী টিউমারকে ক্যান্সার বলে।
মাইটোসিসের পর্যায়সমূহ
16। প্রোফেজ পর্যায়ে কী ঘটে?
নিউক্লিয়াস আকারে বড় হয়, ক্রোমোজোমগুলো সংকুচিত হয়ে মোটা-খাটো হয় এবং প্রতিটি ক্রোমোজোম লম্বালম্বি বিভক্ত হয়ে দুটি ক্রোমাটিড উৎপন্ন করে।
17। প্রো-মেটাফেজ পর্যায়ে কী ঘটে?
দুই মেরুবিশিষ্ট স্পিন্ডল যন্ত্র তৈরি হয়, ক্রোমোজোমের সেন্ট্রোমিয়ার আকর্ষণ তন্তুর সাথে যুক্ত হয় এবং নিউক্লিয়ার মেমব্রেন ও নিউক্লিওলাসের বিলুপ্তি শুরু হয়।
18। স্পিন্ডল যন্ত্র ও ইকুয়েটর কী?
কোষকঙ্কালের মাইক্রোটিউবিউল দিয়ে তৈরি তন্তুময় প্রোটিনের দুই মেরুবিশিষ্ট কাঠামোকে স্পিন্ডল যন্ত্র এবং এর দুই মেরুর মধ্যবর্তী স্থানকে ইকুয়েটর বলে।
19। প্রাণিকোষে প্রো-মেটাফেজে অতিরিক্ত কী ঘটনা ঘটে?
বিখণ্ডিত সেন্ট্রিওল দুটি মেরুতে অবস্থান নেয় এবং তাদের চারদিক থেকে রশ্মি বিচ্ছুরিত হয়, একে অ্যাস্টার-রে বলে।
20। মেটাফেজ পর্যায়ে ক্রোমোজোমের অবস্থান কেমন?
সব ক্রোমোজোম স্পিন্ডল যন্ত্রের বিষুবীয় অঞ্চলে অবস্থান করে, সেন্ট্রোমিয়ার বিষুবীয় অঞ্চলে ও বাহু দুটি মেরুমুখী থাকে।
21। মেটাফেজে ক্রোমোজোম সবচেয়ে কেমন আকার ধারণ করে?
সর্বাধিক মোটা ও খাটো আকার ধারণ করে।
22। অ্যানাফেজ পর্যায়ে কী ঘটে?
সেন্ট্রোমিয়ার দুটাতে বিভক্ত হয়ে ক্রোমাটিড আলাদা হয় এবং অপত্য ক্রোমোজোমগুলো বিপরীত মেরুর দিকে সরে যেতে থাকে।
23। সেন্ট্রোমিয়ারের অবস্থান অনুযায়ী ক্রোমোজোম কী কী আকার নিতে পারে?
V (মেটাসেন্ট্রিক), L (সাবমেটাসেন্ট্রিক), J (অ্যাক্রোসেন্ট্রিক) বা I (টেলোসেন্ট্রিক)।
24। টেলোফেজ পর্যায়ে কী ঘটে?
ক্রোমোজোম আবার সরু-লম্বা হয়ে নিউক্লিয়ার রেটিকুলাম গঠন করে, নিউক্লিওলাস পুনরায় দেখা যায় এবং দুই মেরুতে দুটি অপত্য নিউক্লিয়াস গঠিত হয়।
25। টেলোফেজের শেষে সাইটোপ্লাজম কীভাবে বিভক্ত হয় (উদ্ভিদ কোষে)?
কোষপ্লেট গঠনের মাধ্যমে বিভক্ত হয়।
26। টেলোফেজের শেষে সাইটোপ্লাজম কীভাবে বিভক্ত হয় (প্রাণিকোষে)?
কোষঝিল্লি বিষুবীয় অঞ্চল বরাবর ভিতরের দিকে ঢুকে গর্ত তৈরি করে ক্রমান্বয়ে গভীর হয়ে কোষটিকে দুভাগে ভাগ করে।
মিয়োসিস, হ্যাপ্লয়েড-ডিপ্লয়েড ধারণা ও জিনগত বৈচিত্র্য
27। মিয়োসিস কাকে বলে?
যে কোষ বিভাজনে নিউক্লিয়াস দুবার বিভাজিত হয়ে একটি মাতৃকোষ থেকে চারটি অপত্য কোষ তৈরি হয়, যাদের প্রতিটিতে মাতৃকোষের অর্ধেক ক্রোমোজোম থাকে, তাকে মিয়োসিস বলে।
28। মিয়োসিসকে হ্রাসমূলক বিভাজন বলা হয় কেন?
কারণ প্রথম বিভাজনে ক্রোমোজোম সংখ্যা অর্ধেক হয়ে যায়।
29। মিয়োসিসের প্রথম ও দ্বিতীয় বিভাজনের নাম কী?
প্রথমটি মিয়োসিস-১ (হ্রাস বিভাজন), দ্বিতীয়টি মিয়োসিস-২ (সম বিভাজন, মাইটোসিসের অনুরূপ)।
30। হ্যাপ্লয়েড ও ডিপ্লয়েড অবস্থা কী?
কোষের অর্ধেক ক্রোমোজোম সংখ্যার অবস্থাকে হ্যাপ্লয়েড (n) এবং দুটি হ্যাপ্লয়েড কোষের মিলনজাত পূর্ণ ক্রোমোজোম সংখ্যার অবস্থাকে ডিপ্লয়েড (2n) বলে।
31। যৌন জননে জননকোষ হ্যাপ্লয়েড না হলে কী সমস্যা হতো?
প্রতি প্রজন্মে জাইগোটে ক্রোমোজোম সংখ্যা দ্বিগুণ হয়ে যেত, যার ফলে বংশধরদের মধ্যে আমূল পরিবর্তন ঘটে যেত।
32। মিয়োসিস প্রধানত কোথায় ঘটে?
সপুষ্পক উদ্ভিদের পরাগধানী ও ডিম্বকে এবং প্রাণীর শুক্রাশয় ও ডিম্বাশয়ে।
33। ছত্রাক, শৈবাল ও মসজাতীয় উদ্ভিদে মিয়োসিস কোথায় ঘটে?
হ্যাপ্লয়েড উদ্ভিদের ডিপ্লয়েড মাতৃকোষ থেকে হ্যাপ্লয়েড রেণু উৎপাদনের সময়।
34। Xenopus laevis প্রজাতির উদ্ভব কীভাবে হয়েছে?
Xenopus tropicalis প্রজাতির সম্পূর্ণ ক্রোমোজোম সেট দ্বিগুণ হয়ে এই নতুন প্রজাতির উদ্ভব ঘটেছে।
35। মিয়োসিসের প্রধান গুরুত্ব কী?
ক্রোমোজোম সংখ্যার সমতা রক্ষা করা এবং জিনগত বৈচিত্র্য বজায় রাখা।
36। জিনগত বৈচিত্র্য কীভাবে সৃষ্টি হয়?
মিয়োসিসের মাধ্যমে জিনের পুনর্বিন্যাসের ফলে জিনগত বৈচিত্র্য সৃষ্টি হয়।
37। প্রজাতির টিকে থাকা কীসের ওপর নির্ভর করে?
সদস্য জীবদের মধ্যে জিনগত বৈচিত্র্যের পরিমাণের ওপর নির্ভর করে।
38। বৈচিত্র্য কম থাকলে প্রজাতির কী ঝুঁকি থাকে?
নতুন পরিবেশে খাপ খাওয়ানোর মতো বৈশিষ্ট্য না থাকায় পুরো প্রজাতি বিলুপ্ত হয়ে যাওয়ার ঝুঁকি থাকে।
39। বৈচিত্র্য বেশি থাকলে প্রজাতির কী সুবিধা হয়?
কোনো বিপদ এলেও অন্তত কিছু সদস্যের খাপ খাইয়ে নেওয়ার বৈশিষ্ট্য থাকায় তারা বেঁচে যেতে পারে।
40। মিয়োসিস কীভাবে বিবর্তিত হয়ে টিকে আছে?
জীবের টিকে থাকার ক্ষেত্রে বিশেষ সুবিধা দেয় বলেই মিয়োসিস বিবর্তিত হয়ে জীবজগতে স্থান করে নিয়েছে।
কোষ বিভাজন অধ্যায়ের অনুধাবনমূলক প্রশ্ন ও উত্তর
মিয়োসিস, হ্যাপ্লয়েড-ডিপ্লয়েড ধারণা ও জিনগত বৈচিত্র্য
1। জনন কোষ হ্যাপ্লয়েড প্রকৃতির— ব্যাখ্যা করো।
জনন মাতৃকোষ মিয়োসিস বিভাজনের মাধ্যমে জনন কোষ তৈরি করে, যেখানে প্রথম বিভাজনেই ক্রোমোজোম সংখ্যা অর্ধেক হয়ে যায়; ফলে জনন কোষে মাতৃকোষের অর্ধেক অর্থাৎ হ্যাপ্লয়েড সংখ্যক ক্রোমোজোম থাকে, যাতে নিষেকের পর জাইগোটে পূর্ণ সংখ্যক (ডিপ্লয়েড) ক্রোমোজোম পুনরুদ্ধার হয়।
2। মিয়োসিস না ঘটলে যৌন জননকারী জীবে কী সমস্যা হতো— ব্যাখ্যা করো।
মিয়োসিস না ঘটলে জননকোষের ক্রোমোজোম সংখ্যা দেহকোষের সমান থেকে যেত, ফলে নিষেকের পর জাইগোটে ক্রোমোজোম সংখ্যা দ্বিগুণ হয়ে যেত এবং প্রতি প্রজন্মে এই সংখ্যা ক্রমাগত বাড়তে থাকত, যা বংশধরদের মধ্যে আমূল পরিবর্তন ঘটিয়ে জীবজগতের ভারসাম্য নষ্ট করত।
3। জিনগত বৈচিত্র্য প্রজাতির টিকে থাকার জন্য গুরুত্বপূর্ণ— ব্যাখ্যা করো।
পরিবর্তনশীল পরিবেশে যেসব প্রজাতির সদস্যদের মধ্যে বেশি বৈচিত্র্য থাকে, তাদের মধ্যে কারো না কারো নতুন পরিবেশের সাথে খাপ খাওয়ানোর বৈশিষ্ট্য থাকার সম্ভাবনা বেশি থাকে, ফলে বিপদের মুখেও প্রজাতিটি সম্পূর্ণ বিলুপ্ত না হয়ে টিকে থাকতে পারে।
কোষ বিভাজন, প্রকারভেদ ও মাইটোসিসের গুরুত্ব
4। মাইটোসিসকে সমীকরণিক বিভাজন বলা হয় কেন— ব্যাখ্যা করো।
মাইটোসিস বিভাজনে মাতৃকোষের DNA-এর প্রায় হুবহু অনুলিপি অপত্য কোষে স্থানান্তরিত হয় এবং ক্রোমোজোম সংখ্যা মাতৃকোষের সমান থাকে, অর্থাৎ উভয় কোষের গুণাগুণ ও পরিমাণ সমীকৃত থাকে বলে একে সমীকরণিক বিভাজন বলা হয়।
5। অনিয়ন্ত্রিত মাইটোসিস ক্যান্সারের কারণ হতে পারে— ব্যাখ্যা করো।
স্বাভাবিক অবস্থায় মাইটোসিস কোষ বিভাজন নিয়ন্ত্রিতভাবে ঘটে, কিন্তু কোনো কারণে এই নিয়ন্ত্রণ নষ্ট হয়ে গেলে কোষ অস্বাভাবিকভাবে ও অবিরত বিভাজিত হতে থাকে, যা টিউমার সৃষ্টি করে এবং প্রাণঘাতী হলে তাকে ক্যান্সার বলে।
মাইটোসিসের পর্যায়সমূহ
6। মেটাফেজ পর্যায়ে ক্রোমোজোম গণনা করা সহজ হয় কেন— ব্যাখ্যা করো।
মেটাফেজ দশায় ক্রোমোজোমগুলো সর্বাধিক মোটা ও খাটো হয়ে বিষুবীয় অঞ্চলে সুবিন্যস্তভাবে সজ্জিত থাকে, ফলে প্রতিটি ক্রোমোজোম স্পষ্টভাবে পৃথক করে দেখা ও গণনা করা সহজ হয়।
