জীবের পরিবেশ অধ্যায়ের নোট | SSC জীববিজ্ঞানের ১৩তম অধ্যায় “জীবের পরিবেশ” জ্ঞানমূলক ও অনুধাবনমূলক প্রশ্ন উত্তর নিচে দেওয়া হলো। এই পোস্টে ৬৩টি জ্ঞানমূলক ও ৮টি অনুধাবনমূলক প্রশ্ন ও উত্তর আছে। বহুনির্বাচনি প্রশ্নের জন্য জীবের পরিবেশ অধ্যায়ের MCQ দেখুন।
জীবের পরিবেশ অধ্যায়ের জ্ঞানমূলক প্রশ্ন ও উত্তর
জীবের মধ্যে মিথস্ক্রিয়া — ধনাত্মক ও ঋণাত্মক আন্তঃক্রিয়া
1। সহাবস্থান বা সিম্বায়োসিস কী?
জীবজগতে বিভিন্ন প্রকার গাছপালা ও প্রাণীদের মধ্যে বিদ্যমান জৈবিক সম্পর্ককে সহাবস্থান বলে।
2। ধনাত্মক আন্তঃক্রিয়া কাকে বলে?
যে আন্তঃসম্পর্কে একটি জীব অন্যটিকে সহায়তা করে, তাকে ধনাত্মক আন্তঃক্রিয়া বলে।
3। মিউচুয়ালিজম কাকে বলে?
যেখানে সহযোগী উভয় জীবই একে অন্যের দ্বারা উপকৃত হয়, তাকে মিউচুয়ালিজম বলে, যেমন মৌমাছি ও ফুলের সম্পর্ক।
4। রাইজোবিয়াম ব্যাকটেরিয়া কীভাবে মিউচুয়ালিজমে অংশ নেয়?
শিমজাতীয় উদ্ভিদের শিকড়ে গুটি তৈরি করে বায়বীয় নাইট্রোজেন সংবন্ধন করে উদ্ভিদকে সরবরাহ করে, বিনিময়ে উদ্ভিদ থেকে শর্করা পায়।
5। লাইকেন কীভাবে গঠিত হয়?
একটি শৈবাল ও একটি ছত্রাক সহাবস্থান করে লাইকেন গঠন করে; ছত্রাক পানি-খনিজ সংগ্রহ করে আর শৈবাল খাদ্য প্রস্তুত করে।
6। কমেনসালিজম কাকে বলে?
যেখানে সহযোগীদের মধ্যে একজন মাত্র উপকৃত হয় কিন্তু অন্যজন ক্ষতিগ্রস্ত হয় না, তাকে কমেনসালিজম বলে।
7। রোহিনী উদ্ভিদ (apophyte) কী?
মূলের সাহায্যে মাটিতে আবদ্ধ থেকে অন্য বড় উদ্ভিদকে আরোহণ করে আলো গ্রহণকারী উদ্ভিদ, যা আশ্রয়দাতার ক্ষতি করে না।
8। পরাশ্রয়ী উদ্ভিদ (metabiont) কী?
বায়ু থেকে খাদ্য সংগ্রহ করে অন্য উদ্ভিদের ওপর আশ্রয় নেয় এমন উদ্ভিদ, যা আশ্রয়দাতার কোনো ক্ষতি করে না।
9। ঋণাত্মক আন্তঃক্রিয়া কাকে বলে?
যেখানে জীবদ্বয়ের একটি বা উভয়েই ক্ষতিগ্রস্ত হয়, তাকে ঋণাত্মক আন্তঃক্রিয়া বলে।
10। ঋণাত্মক আন্তঃক্রিয়া কয় ভাগে বিভক্ত?
তিন ভাগে: শোষণ, প্রতিযোগিতা ও অ্যান্টিবায়োসিস।
11। শোষণ (Exploitation) কাকে বলে?
একটি জীব অন্য জীবকে তার অধিকার থেকে বঞ্চিত করে নিজের অধিকার ভোগ করলে তাকে শোষণ বলে, যেমন স্বর্ণলতা।
12। স্বর্ণলতা কীভাবে খাদ্য সংগ্রহ করে?
হস্টোরিয়া নামক শোষক অঙ্গের মাধ্যমে আশ্রয়দাতা উদ্ভিদ থেকে খাদ্য সংগ্রহ করে।
13। কোকিলের শোষণমূলক আচরণ কী?
কোকিল নিজে বাসা তৈরি না করে কাকের বাসায় ডিম পাড়ে এবং কাকের দ্বারাই তার ডিম ফোটায়।
14। প্রতিযোগিতা (Competition) কী?
কোনো নির্দিষ্ট স্থানে আলো-বাতাস-পানি-খাদ্যের জন্য জীবের মধ্যে যে প্রতিযোগিতা হয়, তাকে প্রতিযোগিতা বলে, যা ডারউইনের সংগ্রামের উদাহরণ।
15। অ্যান্টিবায়োসিস (Antibiosis) কী?
একটি জীবের তৈরি রাসায়নিক পদার্থের কারণে অন্য জীবের বৃদ্ধি বাধাপ্রাপ্ত হওয়া বা মৃত্যু ঘটার প্রক্রিয়াকে অ্যান্টিবায়োসিস বলে।
16। অ্যান্টিবায়োসিসের একটি বিখ্যাত উদাহরণ কী?
আলেকজান্ডার ফ্লেমিং পেনিসিলিয়াম ছত্রাকের অ্যান্টিবায়োসিস পর্যবেক্ষণ করে পেনিসিলিন অ্যান্টিবায়োটিক আবিষ্কার করেন।
জীববৈচিত্র্য ও পরিবেশ সংরক্ষণের গুরুত্ব
17। জীববৈচিত্র্য কাকে বলে?
পৃথিবীতে বিরাজমান জীবগুলোর প্রাচুর্য ও ভিন্নতাকে জীববৈচিত্র্য বলে।
18। এ পর্যন্ত কত প্রজাতির প্রাণী ও উদ্ভিদ শনাক্ত করা হয়েছে?
প্রায় তেরো লক্ষ প্রাণী-প্রজাতি এবং চার লক্ষ উদ্ভিদ-প্রজাতি।
19। জীববৈচিত্র্য কয় প্রকার?
তিন প্রকার: প্রজাতিগত বৈচিত্র্য, জিনগত বৈচিত্র্য ও বাস্তুতান্ত্রিক বৈচিত্র্য।
20। ঝিনুক বিলুপ্তির ফলে উপকূলে কী প্রভাব পড়ে?
ঝিনুকের সংখ্যা কমে গেলে পানি পরিশুদ্ধ হওয়ার হার কমে যায়, ফলে পানি কর্দমাক্ত হয় ও অক্সিজেন কমে যায়।
21। ব্যাঙ কীটপতঙ্গ নিয়ন্ত্রণে কী ভূমিকা রাখে?
একটি পূর্ণবয়স্ক ব্যাঙ একদিনে তার ওজনের সমপরিমাণ পোকামাকড় খেয়ে ফসলের ক্ষতিকর পোকা নিয়ন্ত্রণ করে।
22। পেঁচা ইঁদুরের সংখ্যা নিয়ন্ত্রণে কীভাবে সাহায্য করে?
একটি পেঁচা দিনে কমপক্ষে তিনটি ইঁদুর খেয়ে হজম করতে পারে, যা ইঁদুরের অতিরিক্ত বংশবৃদ্ধি রোধ করে।
23। শকুন-চিল-কাক প্রকৃতিতে কী ভূমিকা রাখে?
মৃত প্রাণীর দেহ খেয়ে প্রকৃতির জঞ্জাল পরিষ্কার রাখে, নয়তো রোগ জীবাণুতে পৃথিবী সয়লাব হয়ে যেত।
24। বাস্তুতন্ত্রের স্থিতিশীলতায় জীববৈচিত্র্যের ভূমিকা কী?
কোনো প্রজাতি বিলুপ্ত হলে বাস্তুতন্ত্রের ভারসাম্য নষ্ট হয়ে যায়, তাই জীববৈচিত্র্য বাস্তুতন্ত্রের স্থিতিশীলতা রক্ষায় অপরিহার্য।
25। পরিবেশ সংরক্ষণ কেন অপরিহার্য?
পৃথিবীকে জীবের বাসযোগ্য রাখতে এবং মানুষের অন্ন-বস্ত্র-বাসস্থান-ঔষধের মতো মৌলিক চাহিদা নিরবচ্ছিন্নভাবে পূরণ করতে পরিবেশ সংরক্ষণ অপরিহার্য।
26। মানুষ ও জীববৈচিত্র্যের সম্পর্কে গুরুত্বপূর্ণ সত্য কী?
মানুষ ছাড়াই জীববৈচিত্র্য টিকে থাকতে পারবে, কিন্তু জীববৈচিত্র্য না টিকলে মানুষ টিকে থাকতে পারবে না।
27। বনাঞ্চল ধ্বংসের প্রভাব কী?
বৃষ্টিপাতের হার কমে যায় এবং চাষাবাদের যথেষ্ট ক্ষতি হয়।
28। গ্রিনহাউস প্রভাব বা গ্রিনহাউস এফেক্ট কী?
CO₂, CO, CH₄, N₂O এর মতো গ্রিনহাউস গ্যাস বৃদ্ধি পাওয়ার ফলে বায়ুর তাপমাত্রা বেড়ে যাওয়াকে গ্রিনহাউস এফেক্ট বলে।
29। গ্রিনহাউস এফেক্টের ফলাফল কী কী?
সমুদ্রের পানির উচ্চতা বৃদ্ধি, উপকূল অঞ্চল প্লাবিত হওয়া, আবহাওয়ার পরিবর্তন, বনাঞ্চল ধ্বংস ও ঝড়-জলোচ্ছ্বাসের তীব্রতা বৃদ্ধি।
30। বৃক্ষরোপণের ক্ষেত্রে কী নিয়ম মানা উচিত?
প্রতিদিন যে গাছ কাটা হবে তার দ্বিগুণ গাছ লাগাতে হবে এবং যেখানে যে ধরনের গাছ উপযোগী সেখানে সেই গাছ লাগাতে হবে।
খাদ্যজাল, পুষ্টিপ্রবাহ, শক্তির প্রবাহ ও শক্তি পিরামিড
31। খাদ্যজাল কাকে বলে?
একই খাদক বিভিন্ন স্তরে থাকার ফলে বেশ কয়েকটি খাদ্যশৃঙ্খল একত্রিত হয়ে যে জালের মতো গঠন তৈরি করে, তাকে খাদ্যজাল বলে।
32। পুষ্টিপ্রবাহ কাকে বলে?
পুষ্টিদ্রব্য উৎপাদক থেকে খাদক হয়ে বিয়োজকের মাধ্যমে আবার পরিবেশে ফিরে গিয়ে চক্রাকারে প্রবাহিত হওয়ার প্রক্রিয়াকে পুষ্টিপ্রবাহ বলে।
33। বিয়োজক পুষ্টিপ্রবাহে কী ভূমিকা রাখে?
মৃত উদ্ভিদ-প্রাণীর দেহ বিয়োজিত করে অজৈব বস্তুতে রূপান্তর করে, যা সবুজ উদ্ভিদ পুনরায় গ্রহণ করতে পারে।
34। বনভূমির বাস্তুতন্ত্রে খাদ্যজালের একটি উদাহরণ দাও।
সবুজ উদ্ভিদ → খরগোশ/পতঙ্গ/শামুক/হরিণ → ব্যাঙ/সাপ/মানুষ → গুইসাপ/ময়ূর/বাঘ ইত্যাদি নিয়ে জটিল খাদ্যজাল গঠিত হয়।
35। বাস্তুতন্ত্রে শক্তির মূল উৎস কী?
সূর্য।
36। সূর্যের আলোর কত শতাংশ সালোকসংশ্লেষণে ব্যবহৃত হয়?
বড়জোর ২%।
37। ট্রফিক লেভেল কাকে বলে?
খাদ্যশিকলের প্রতিটি স্তরকে ট্রফিক লেভেল বলে।
38। এক ট্রফিক লেভেল থেকে পরবর্তী স্তরে কত শতাংশ শক্তি স্থানান্তরিত হয়?
প্রায় ১০%, বাকি ৯০% তাপ হিসেবে পরিবেশে বিমুক্ত হয়।
39। শক্তি পিরামিড কাকে বলে?
খাদ্যশিকলে যুক্ত প্রতিটি পুষ্টিস্তরের শক্তি সঞ্চয় ও স্থানান্তরের বিন্যাস ছককে শক্তি পিরামিড বলে।
40। শক্তি পিরামিডের ভূমি ও শীর্ষে কী থাকে?
ভূমিতে উৎপাদক (সর্বাধিক শক্তি) এবং শীর্ষে সর্বোচ্চ খাদক (সর্বনিম্ন শক্তি) থাকে।
41। খাদ্যশিকল ৪-৫ ধাপের মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকে কেন?
প্রতিটি ধাপে প্রায় ৯০% শক্তি ক্ষয় হয়ে যাওয়ায় দীর্ঘ শৃঙ্খলে ঊর্ধ্বতম স্তরে আর কোনো শক্তি অবশিষ্ট থাকে না।
42। শক্তির প্রবাহ কোন দিকে হয়?
সবসময় একমুখী, কখনো বিপরীতমুখী হয় না।
বাস্তুতন্ত্র ও এর উপাদানসমূহ
43। বাস্তুতন্ত্র কাকে বলে?
ভূপৃষ্ঠের এমন একক যেখানে জড়, খাদ্য উৎপাদনকারী সবুজ উদ্ভিদ, উদ্ভিদনির্ভর প্রাণী এবং বিয়োজক অণুজীব রয়েছে এবং এদের মধ্যে যথাযথ আন্তঃসম্পর্ক বিদ্যমান, তাকে বাস্তুতন্ত্র বলে।
44। বাস্তুতন্ত্রের প্রধান উপাদান কয়টি?
তিনটি: জড় উপাদান, ভৌত উপাদান ও জীব উপাদান।
45। জড় উপাদান কয় ভাগে বিভক্ত?
দুই ভাগে: অজৈব বস্তু ও জৈব বস্তু।
46। জীব উপাদান কয় ভাগে বিভক্ত?
তিন ভাগে: উৎপাদক, খাদক ও বিয়োজক।
47। উৎপাদক কাকে বলে?
সালোকসংশ্লেষণকারী সবুজ উদ্ভিদ, যারা নিজেদের খাদ্য নিজেরাই তৈরি করে, তাদের উৎপাদক বলে।
48। প্রথম স্তরের খাদক বা তৃণভোজী কাকে বলে?
যেসব প্রাণী সরাসরি উদ্ভিদ খেয়ে বাঁচে, তাদের প্রথম স্তরের খাদক বা তৃণভোজী বলে।
49। গৌণ খাদক বা দ্বিতীয় শ্রেণির খাদক কাকে বলে?
যেসব প্রাণী তৃণভোজী প্রাণীদের খায়, তাদের গৌণ খাদক বলে, যেমন ব্যাঙ, শিয়াল, বাঘ।
50। সর্বোচ্চ খাদক কাকে বলে?
যেসব প্রাণী গৌণ খাদকদের খেয়ে বাঁচে, তাদের তৃতীয় বা সর্বোচ্চ খাদক বলে, যেমন সাপ, ময়ূর।
51। আবর্জনাভুক বা ধাঙড় (scavenger) কাকে বলে?
যেসব প্রাণী জীবন্ত প্রাণীর চেয়ে মৃত প্রাণীর মাংস বা আবর্জনা খেতে পছন্দ করে, তাদের ধাঙড় বলে, যেমন কাক, শকুন।
52। সর্বভুক (omnivorous) প্রাণী কী?
যেসব প্রাণী একই সাথে তৃণভোজী ও মাংসাশী, তাদের সর্বভুক বলে, যেমন মানুষ।
53। বিয়োজক কাকে বলে?
ব্যাকটেরিয়া, ছত্রাকের মতো অণুজীব যারা মৃত জীবদেহ ও বর্জ্য পদার্থ বিয়োজিত করে মাটি বা পানির সাথে মিশিয়ে দেয়, তাদের বিয়োজক বলে।
পুকুরের বাস্তুতন্ত্র ও খাদ্যশৃঙ্খল
54। পুকুরের বাস্তুতন্ত্রে উৎপাদক কী কী?
সালোকসংশ্লেষণকারী শৈবাল ও ফাইটোপ্লাংকটন এবং অগভীর পানির উদ্ভিদ।
55। প্লাংকটন কাকে বলে?
পানিতে ভাসমান ক্ষুদ্র জীবদের প্লাংকটন বলে।
56। পুকুরের প্রথম স্তরের খাদক কী কী?
জুপ্ল্যাংকটন, মশার শূককীট, রুই-কাতলা মাছ।
57। পুকুরের দ্বিতীয় ও তৃতীয় স্তরের খাদক কী কী?
দ্বিতীয় স্তর: ছোট মাছ, জলজ পতঙ্গ, ব্যাঙ; তৃতীয় স্তর: শোল, বোয়াল, ভেটকি, বক।
58। খাদ্যশিকল বা খাদ্যশৃঙ্খল কাকে বলে?
যখন খাদ্য শক্তি উৎপাদক থেকে বিভিন্ন স্তরের খাদকদের মধ্যে প্রবাহিত হয়, তখন সেই প্রবাহকে খাদ্যশিকল বলে।
59। শিকারজীবী খাদ্যশৃঙ্খল কাকে বলে?
যে খাদ্যশৃঙ্খলে ছোট খাদক থেকে বড় খাদক ক্রমান্বয়ে শিকার করে খায়, তাকে শিকারজীবী খাদ্যশৃঙ্খল বলে, যেমন ঘাস→ফড়িং→ব্যাঙ→সাপ→গুইসাপ।
60। পরজীবী খাদ্যশৃঙ্খল কাকে বলে?
যেখানে পরজীবী তার পোষকদেহ থেকে খাদ্য গ্রহণ করে এবং শৃঙ্খলে সবুজ উদ্ভিদ নাও থাকতে পারে, তাকে পরজীবী খাদ্যশৃঙ্খল বলে, যেমন মানুষ→মশা→ডেঙ্গু ভাইরাস।
61। মৃতজীবী খাদ্যশৃঙ্খল কাকে বলে?
জীবের মৃতদেহ থেকে শুরু হওয়া খাদ্যশৃঙ্খলকে মৃতজীবী খাদ্যশৃঙ্খল বলে, যেমন মৃতদেহ→ছত্রাক→কেঁচো।
62। পরজীবী ও মৃতজীবী খাদ্যশৃঙ্খল অসম্পূর্ণ কেন?
কারণ এখানে কোনো উৎপাদক থাকে না, তাই এরা শিকারজীবী খাদ্যশৃঙ্খলের ওপর নির্ভরশীল।
63। বাস্তুতন্ত্রে সবার প্রথমে কারা খাদ্য উৎপাদনের কাজ শুরু করে?
উৎপাদক হিসেবে সবুজ উদ্ভিদ সবার প্রথমে খাদ্য উৎপাদনের কাজ শুরু করে।
জীবের পরিবেশ অধ্যায়ের অনুধাবনমূলক প্রশ্ন ও উত্তর
জীবের মধ্যে মিথস্ক্রিয়া — ধনাত্মক ও ঋণাত্মক আন্তঃক্রিয়া
1। সবুজ উদ্ভিদও পরিবেশগত দিক থেকে সম্পূর্ণ স্বনির্ভর নয়— ব্যাখ্যা করো।
সবুজ উদ্ভিদ নিজের খাদ্য নিজে তৈরি করলেও পর-পরাগায়নের জন্য কীটপতঙ্গের ওপর এবং বীজ বিতরণের জন্য পশুপাখির ওপর নির্ভরশীল, তাই স্বভোজী হওয়া সত্ত্বেও পরিবেশতাত্ত্বিকভাবে সম্পূর্ণ স্বনির্ভর নয়।
2। পেনিসিলিন আবিষ্কার অ্যান্টিবায়োসিসের একটি চমৎকার উদাহরণ— ব্যাখ্যা করো।
ফ্লেমিং লক্ষ করেন পেনিসিলিয়াম ছত্রাক একই কালচার প্লেটে থাকা ব্যাকটেরিয়ার বৃদ্ধি বাধাগ্রস্ত করছে, অর্থাৎ ছত্রাকের তৈরি রাসায়নিক পদার্থ ব্যাকটেরিয়ার ক্ষতি করছে; এই পর্যবেক্ষণ থেকেই পেনিসিলিন অ্যান্টিবায়োটিক আবিষ্কৃত হয়, যা অ্যান্টিবায়োসিসের একটি বাস্তব উদাহরণ।
জীববৈচিত্র্য ও পরিবেশ সংরক্ষণের গুরুত্ব
3। কোনো জীবকেই অপ্রয়োজনীয় বলা যায় না— ব্যাখ্যা করো।
প্রতিটি জীব বাস্তুতন্ত্রে নির্দিষ্ট ভূমিকা পালন করে, যেমন ব্যাঙ পোকামাকড় নিয়ন্ত্রণ করে, শকুন-কাক মৃতদেহ পরিষ্কার করে এবং পেঁচা ইঁদুরের সংখ্যা নিয়ন্ত্রণ করে; কোনো একটি প্রজাতি বিলুপ্ত হলে সেই নির্দিষ্ট কাজে ভারসাম্যহীনতা তৈরি হয়ে পুরো বাস্তুতন্ত্রের স্থিতিশীলতা নষ্ট হয়ে যেতে পারে, তাই কোনো জীবকেই অপ্রয়োজনীয় বলা যায় না।
4। বনাঞ্চল ধ্বংস হলে বৃষ্টিপাত কমে যায় কেন— ব্যাখ্যা করো।
বৃক্ষ প্রস্বেদনের মাধ্যমে বায়ুমণ্ডলে জলীয়বাষ্প ছেড়ে মেঘ গঠনে সহায়তা করে, বনাঞ্চল ধ্বংস হলে এই প্রস্বেদনের পরিমাণ কমে গিয়ে স্থানীয় জলীয়বাষ্পের ঘনত্ব হ্রাস পায়, ফলে বৃষ্টিপাতের হার কমে যায়।
খাদ্যজাল, পুষ্টিপ্রবাহ, শক্তির প্রবাহ ও শক্তি পিরামিড
5। খাদ্যজাল বাস্তুতন্ত্রের স্থিতিশীলতা বজায় রাখতে সাহায্য করে— ব্যাখ্যা করো।
খাদ্যজালে একই খাদক একাধিক খাদ্যশৃঙ্খলে অংশ নেয়, ফলে কোনো একটি প্রজাতি বিলুপ্ত হলেও অন্য বিকল্প পথে খাদ্যপ্রবাহ চলতে পারে, তাই একক খাদ্যশৃঙ্খলের তুলনায় জটিল খাদ্যজাল বাস্তুতন্ত্রকে বেশি স্থিতিশীল রাখে।
6। খাদ্যশৃঙ্খল সাধারণত ৪-৫টি ধাপের বেশি দীর্ঘ হয় না কেন— ব্যাখ্যা করো।
প্রতিটি ট্রফিক লেভেলে প্রায় ৯০% শক্তি শ্বসন ও অন্যান্য কাজে তাপ হিসেবে ক্ষয় হয়ে যায় এবং মাত্র ১০% পরবর্তী স্তরে স্থানান্তরিত হয়, ফলে শৃঙ্খল দীর্ঘ হলে একসময় পরবর্তী স্তরের জীবের বেঁচে থাকার মতো পর্যাপ্ত শক্তি অবশিষ্ট থাকে না, তাই খাদ্যশৃঙ্খল সীমিত ধাপের মধ্যে থাকে।
বাস্তুতন্ত্র ও এর উপাদানসমূহ
7। মানুষকে সর্বভুক প্রাণী বলা হয় কেন— ব্যাখ্যা করো।
মানুষ একই সাথে উদ্ভিজ্জ খাদ্য (তৃণভোজীর মতো) এবং প্রাণিজ খাদ্য (মাংসাশীর মতো) উভয়ই গ্রহণ করতে পারে, তাই একাধিক খাদক স্তরে ভূমিকা রাখায় মানুষকে সর্বভুক প্রাণী বলা হয়।
পুকুরের বাস্তুতন্ত্র ও খাদ্যশৃঙ্খল
8। পরজীবী খাদ্যশৃঙ্খলকে কেন অসম্পূর্ণ খাদ্যশিকল বলা হয়— ব্যাখ্যা করো।
সাধারণ খাদ্যশৃঙ্খল সবসময় উৎপাদক সবুজ উদ্ভিদ থেকে শুরু হয়, কিন্তু পরজীবী খাদ্যশৃঙ্খলে (যেমন মানুষ→মশা→ডেঙ্গু ভাইরাস) কোনো উৎপাদক থাকে না, তাই এটি একটি সম্পূর্ণ শক্তিপ্রবাহ চক্র প্রতিনিধিত্ব করে না এবং একে অসম্পূর্ণ খাদ্যশিকল বলা হয়।
