● SSC জীববিজ্ঞান

জীবে পরিবহন অধ্যায়ের নোট | জ্ঞানমূলক ও অনুধাবনমূলক প্রশ্ন উত্তর

জীবে পরিবহন অধ্যায়ের নোট | SSC জীববিজ্ঞানের ৬ষ্ঠ অধ্যায় “জীবে পরিবহন” জ্ঞানমূলক ও অনুধাবনমূলক প্রশ্ন উত্তর নিচে দেওয়া হলো। এই পোস্টে ৭৯টি জ্ঞানমূলক ও ৮টি অনুধাবনমূলক প্রশ্ন ও উত্তর আছে। বহুনির্বাচনি প্রশ্নের জন্য জীবে পরিবহন অধ্যায়ের MCQ দেখুন।

জীবে পরিবহন অধ্যায়ের জ্ঞানমূলক প্রশ্ন ও উত্তর

উদ্ভিদে পানি শোষণ, খনিজ লবণ শোষণ ও পরিবহন

1। পানিকে ফ্লুইড অফ লাইফ বলা হয় কেন?

প্রোটোপ্লাজমের প্রায় ৯০ ভাগই পানি, তাই পানিকে ফ্লুইড অফ লাইফ বলা হয়।

2। উদ্ভিদে পানি শোষণে কয়টি প্রক্রিয়া কাজ করে?

তিনটি: ইমবাইবিশন, ব্যাপন ও অভিস্রবণ।

3। ইমবাইবিশন কাকে বলে?

কলয়েড জাতীয় শুকনা বা আধা শুকনা পদার্থ (যেমন সেলুলোজ, স্টার্চ) তরল পদার্থ শুষে নেওয়ার প্রক্রিয়াকে ইমবাইবিশন বলে।

4। ব্যাপন কাকে বলে?

কোনো দ্রব্যের অণু বেশি ঘনত্বের এলাকা থেকে কম ঘনত্বের এলাকায় ছড়িয়ে পড়ার প্রক্রিয়াকে ব্যাপন বলে।

5। ব্যাপন চাপ ঘাটতি কী?

কোনো দ্রবণ ও দ্রাবকের ব্যাপন চাপের পার্থক্যকে ব্যাপন চাপ ঘাটতি বলে; পাতার মেসোফিলে এই ঘাটতির ফলে পানি শোষণ হয়।

6। অভিস্রবণ কাকে বলে?

একই দ্রব ও দ্রাবকযুক্ত দুটি ভিন্ন ঘনত্বের দ্রবণকে বৈষম্যভেদ্য পর্দা দিয়ে আলাদা করলে দ্রাবক নিম্ন ঘনত্ব থেকে উচ্চ ঘনত্বের দিকে প্রবাহিত হওয়াকে অভিস্রবণ বলে।

7। অভিস্রবণকে দ্রাবকের ব্যাপন বলা হয় কেন?

কারণ এতে দ্রাবক আনুপাতিকভাবে বেশি পরিমাণ থেকে কম পরিমাণের দিকে (অর্থাৎ কম ঘনত্ব থেকে বেশি ঘনত্বের দিকে) প্রবাহিত হয়, যা মূলত ব্যাপনেরই একটি রূপ।

8। উদ্ভিদ কীভাবে মাটি থেকে পানি শোষণ করে?

মূলরোমের মাধ্যমে মাটির কৈশিক পানি শোষণ করে, যেখানে প্রস্বেদনের ফলে সৃষ্ট ব্যাপন চাপ ঘাটতি একটি চোষক শক্তি তৈরি করে পানি টেনে আনে।

9। কোষ থেকে কোষান্তরে অভিস্রবণ কী?

মূলরোম থেকে পানি অভিস্রবণ প্রক্রিয়ায় ধাপে ধাপে কর্টেক্স, অন্তঃত্বক ও পরিচক্র হয়ে পরিবহন কলাগুচ্ছে পৌঁছানোর প্রক্রিয়া।

10। খনিজ লবণ শোষণ প্রধানত কয় উপায়ে হয়?

দুই উপায়ে: নিষ্ক্রিয় শোষণ (বিপাকীয় শক্তি লাগে না) ও সক্রিয় শোষণ (বিপাকীয় শক্তি প্রয়োজন)।

11। খনিজ লবণ কোথা থেকে বেশি শোষিত হয়?

মূলের অগ্রভাগের কোষ বিভাজন অঞ্চল থেকে, যদিও কিছু লবণ মূলরোম দিয়েও শোষিত হয়।

12। কোষরস কী?

কোষের ভিতরকার পানি এবং তাতে দ্রবীভূত খনিজ লবণকে একত্রে কোষরস বলে।

13। কোষরসের আরোহণ কী?

মূল থেকে শোষিত পানি ও খনিজ লবণ ধীরে ধীরে উদ্ভিদের উপরের দিকে ও পাতায় ওঠার প্রক্রিয়াকে কোষরসের আরোহণ বলে।

14। উদ্ভিদে খাদ্য পরিবহন কোন টিস্যুর মাধ্যমে হয়?

ফ্লোয়েম টিস্যুর সিভনলের মাধ্যমে, যা পাতায় তৈরি খাদ্যকে বিভিন্ন অংশে পরিবহন করে।

15। উদ্ভিদে পরিবহনের গুরুত্ব কী?

পানি ও খনিজ লবণ বিক্রিয়াস্থলে পৌঁছানো এবং পাতায় তৈরি খাদ্য উদ্ভিদের বিভিন্ন অংশে পৌঁছানো; জাইলেম বা ফ্লোয়েম বন্ধ হলে উদ্ভিদের মৃত্যু অবধারিত।

প্রস্বেদন — প্রকারভেদ ও প্রভাবক

16। পত্ররন্ধ্রীয় প্রস্বেদন কী?

রক্ষীকোষ বেষ্টিত পত্ররন্ধ্রের মাধ্যমে ঘটা প্রস্বেদন, যা মোট প্রস্বেদনের ৯০-৯৫%।

17। কিউটিকুলার প্রস্বেদন কী?

পাতার বহিঃত্বকের কিউটিকল ভেদ করে পানি বাষ্পাকারে বের হওয়ার প্রক্রিয়া।

18। লেন্টিকুলার প্রস্বেদন কী?

কাণ্ডের বাকলে সৃষ্ট লেন্টিসেল নামক ছিদ্র দিয়ে পানি বাষ্পাকারে বের হওয়ার প্রক্রিয়া।

19। প্রস্বেদনের বাহ্যিক প্রভাবকগুলো কী কী?

তাপমাত্রা, আপেক্ষিক আর্দ্রতা, আলো ও বায়ুপ্রবাহ।

20। তাপমাত্রা প্রস্বেদনের হারকে কীভাবে প্রভাবিত করে?

তাপমাত্রা বাড়লে পানি সহজে বাষ্পে পরিণত হয় ও বায়ুর জলীয়বাষ্প ধারণক্ষমতা বাড়ে, তাই প্রস্বেদনের হার বাড়ে।

21। আপেক্ষিক আর্দ্রতা কী?

বায়ুতে জলীয়বাষ্পের পরিমাণ ও বায়ুর জলীয়বাষ্প ধারণক্ষমতার আনুপাতিক হার।

22। আলো প্রস্বেদনকে কীভাবে প্রভাবিত করে?

আলোতে পত্ররন্ধ্র খুলে যায় ও প্রস্বেদন বাড়ে, অন্ধকারে রন্ধ্র বন্ধ থাকায় প্রস্বেদন বন্ধ হয়।

23। প্রস্বেদনের অভ্যন্তরীণ প্রভাবকগুলো কী কী?

পত্ররন্ধ্রের সংখ্যা-আকার, পাতার সংখ্যা-আয়তন এবং বায়ব অঙ্গের আয়তন।

24। প্রস্বেদনকে অতি প্রয়োজনীয় অমঙ্গল বলা হয় কেন?

বিজ্ঞানী কার্টিস একে Necessary Evil বলেন, কারণ এটি পানি হারানোর মাধ্যমে ক্ষতি করলেও জাইলেমে টান সৃষ্টি করে পানি শোষণ ও তাপ নিয়ন্ত্রণে অপরিহার্য ভূমিকা রাখে।

25। শীতকালে গাছের পাতা ঝরে কেন?

প্রস্বেদনের ফলে পানি হ্রাসের হার শোষণের চেয়ে বেশি হয়ে গেলে উদ্ভিদ পাতা ঝরিয়ে প্রস্বেদন কমিয়ে দেয়, যাতে পানির ঘাটতিতে মৃত্যু এড়ানো যায়।

রক্তের উপাদান ও কাজ

26। রক্ত সংবহনতন্ত্র কী?

যে তন্ত্রের মাধ্যমে রক্ত দেহের বিভিন্ন অঙ্গে চলাচল করে তাকে রক্ত সংবহনতন্ত্র বলে।

27। বদ্ধ সংবহনতন্ত্র কী?

যে সংবহনতন্ত্রে রক্তপ্রবাহ হৃৎপিণ্ড ও রক্তনালির মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকে, কখনো বাইরে আসে না, তাকে বদ্ধ সংবহনতন্ত্র বলে।

28। রক্তের প্রধান দুই উপাদান কী কী?

রক্তরস (প্লাজমা, ৫৫%) ও রক্তকোষ (৪৫%)।

29। রক্তরসে কী কী উপাদান থাকে?

পানি, প্রোটিন (অ্যালবুমিন-গ্লোবিউলিন-ফাইব্রিনোজেন), গ্লুকোজ, চর্বিকণা, খনিজ লবণ, ভিটামিন, হরমোন, এন্টিবডি ও বর্জ্য পদার্থ।

30। রক্তকোষ কয় ধরনের ও কী কী?

তিন ধরনের: লোহিত রক্তকোষ, শ্বেত রক্তকোষ ও অণুচক্রিকা।

31। লোহিত রক্তকোষের বৈশিষ্ট্য কী?

নিউক্লিয়াসবিহীন, দ্বি-অবতল বৃত্তাকার, গড় আয়ু ১২০ দিন, লাল অস্থিমজ্জায় তৈরি হয় এবং সংখ্যায় সবচেয়ে বেশি (প্রায় ৫০ লক্ষ প্রতি কিউবিক মিলিমিটার)।

32। হিমোগ্লোবিনের কাজ কী?

অক্সিহিমোগ্লোবিন হিসেবে অক্সিজেন ও কার্বন ডাই-অক্সাইড পরিবহন করে।

33। শ্বেত রক্তকোষের বৈশিষ্ট্য কী?

নিউক্লিয়াসযুক্ত, হিমোগ্লোবিনবিহীন, নির্দিষ্ট আকার নেই, গড় আয়ু ১-১৫ দিন এবং RBC এর তুলনায় সংখ্যায় অনেক কম।

34। শ্বেত রক্তকোষ কয় ধরনের?

দুই ধরনের: অ্যাগ্রানুলোসাইট (লিম্ফোসাইট, মনোসাইট) ও গ্রানুলোসাইট (নিউট্রোফিল, ইওসিনোফিল, বেসোফিল)।

35। লিম্ফোসাইট ও মনোসাইটের কাজ কী?

লিম্ফোসাইট অ্যান্টিবডি তৈরি করে জীবাণু ধ্বংস করে, মনোসাইট ফ্যাগোসাইটোসিসের মাধ্যমে জীবাণু ধ্বংস করে।

36। বেসোফিলের কাজ কী?

হিস্টামিন নিঃসরণ করে অ্যালার্জি প্রতিরোধ করে এবং হেপারিন নিঃসরণ করে রক্তকে জমাট বাঁধতে বাধা দেয়।

37। অণুচক্রিকার কাজ কী?

রক্ত তঞ্চন বা জমাট বাঁধাতে সাহায্য করে; ক্ষতিগ্রস্ত স্থানে থ্রম্বোপ্লাস্টিন তৈরি করে যা প্রোথ্রম্বিনকে থ্রম্বিনে পরিণত করে।

38। ফাইব্রিন কী?

থ্রম্বিনের প্রভাবে ফাইব্রিনোজেন থেকে তৈরি অদ্রবণীয় প্রোটিন, যা জালিকা তৈরি করে ক্ষতস্থানে রক্ত জমাট বাঁধায়।

39। রক্তের কাজগুলো কী কী?

অক্সিজেন পরিবহন, CO₂ অপসারণ, খাদ্যসার পরিবহন, তাপের সমতা রক্ষা, বর্জ্য নিষ্কাশন, হরমোন পরিবহন, রোগ প্রতিরোধ ও রক্ত জমাট বাঁধা।

রক্তের গ্রুপ ও রক্তদান

40। ব্লাড গ্রুপ কীসের ভিত্তিতে নির্ধারিত হয়?

লোহিত কণিকায় A ও B অ্যান্টিজেন এবং রক্তরসে a ও b অ্যান্টিবডির উপস্থিতির ভিত্তিতে।

41। রক্তের শ্রেণিবিন্যাস কে করেন?

বিজ্ঞানী কার্ল ল্যান্ডস্টেইনার, ১৯০১ সালে, চারটি গ্রুপ A, B, AB, O নামকরণ করেন।

42। গ্রুপ A ও B এর অ্যান্টিজেন-অ্যান্টিবডি কী?

গ্রুপ A তে A অ্যান্টিজেন ও b অ্যান্টিবডি; গ্রুপ B তে B অ্যান্টিজেন ও a অ্যান্টিবডি।

43। সর্বজনীন রক্তদাতা ও গ্রহীতা কারা?

O গ্রুপ সর্বজনীন রক্তদাতা (universal donor) এবং AB গ্রুপ সর্বজনীন রক্তগ্রহীতা (universal recipient)।

44। রেসাস বা Rh ফ্যাক্টর কী?

রক্তে থাকা এক ধরনের অ্যান্টিজেন, যার উপস্থিতিতে পজিটিভ ও অনুপস্থিতিতে নেগেটিভ বলা হয়।

45। রক্ত পরিসঞ্চালনের আগে কোন পরীক্ষাগুলো করা জরুরি?

ABO গ্রুপিং, Rh টাইপিং, ক্রস ম্যাচিং এবং জীবাণুঘটিত রোগ (এইডস, হেপাটাইটিস) শনাক্তে স্ক্রিনিং পরীক্ষা।

46। রক্ত সঞ্চালন কী?

শিরার মধ্য দিয়ে বাইরে থেকে অন্যের রক্ত প্রবেশ করানোর প্রক্রিয়াকে রক্ত সঞ্চালন বলে।

47। একজন সুস্থ ব্যক্তির কত রক্ত দিলে অসুবিধা হয় না?

৪৫০ মিলি রক্ত দিলে কোনো অসুবিধা হয় না এবং চার মাস পরপর রক্তদান করা যায়।

48। রক্তদানের আগে কেন ক্রস ম্যাচিং করা হয়?

দাতা ও গ্রহীতার রক্ত সত্যিকার অর্থে সামঞ্জস্যপূর্ণ কিনা তা নিশ্চিত করতে ক্রস ম্যাচিং করা হয়, যাতে রক্ত জমাট বাঁধার ঝুঁকি না থাকে।

49। Rh নেগেটিভ মায়ের গর্ভে Rh পজিটিভ সন্তান থাকলে কী সতর্কতা প্রয়োজন?

প্রথম গর্ভধারণে সাধারণত সমস্যা না হলেও পরবর্তী গর্ভধারণে মায়ের শরীরে অ্যান্টিবডি তৈরি হয়ে সন্তানের ক্ষতি করতে পারে, তাই চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী বিশেষ ইনজেকশন দেওয়া প্রয়োজন হয়।

হৃৎপিণ্ডের গঠন ও রক্ত সঞ্চালন

50। হৃৎপিণ্ড কোথায় অবস্থিত ও কী দিয়ে গঠিত?

বক্ষগহ্বরের বাম দিকে দুই ফুসফুসের মাঝখানে অবস্থিত, হৃৎপেশি নামক অনৈচ্ছিক পেশি দিয়ে গঠিত।

51। হৃৎপিণ্ড-প্রাচীরের তিনটি স্তর কী কী?

বহিঃস্তর (এপিকার্ডিয়াম), মধ্যস্তর (মায়োকার্ডিয়াম) ও অন্তঃস্তর (এন্ডোকার্ডিয়াম)।

52। হৃৎপিণ্ডের চারটি প্রকোষ্ঠ কী কী?

ডান ও বাম অলিন্দ (উপরে) এবং ডান ও বাম নিলয় (নিচে)।

53। ট্রাইকাসপিড ও বাইকাসপিড ভালভ কোথায় থাকে?

ট্রাইকাসপিড ডান অলিন্দ-নিলয়ের মাঝে এবং বাইকাসপিড (মাইট্রাল) বাম অলিন্দ-নিলয়ের মাঝে থাকে।

54। সিস্টোল ও ডায়াস্টোল কী?

হৃৎপিণ্ডের সংকোচনকে সিস্টোল এবং প্রসারণকে ডায়াস্টোল বলে; একবার সিস্টোল-ডায়াস্টোলকে হৃৎস্পন্দন বলে।

55। ডান অলিন্দে কোন রক্ত প্রবেশ করে?

ঊর্ধ্ব মহাশিরার মাধ্যমে কার্বন ডাই-অক্সাইডযুক্ত রক্ত।

56। বাম অলিন্দে কোন রক্ত প্রবেশ করে?

পালমোনারি শিরার মাধ্যমে অক্সিজেনযুক্ত রক্ত।

57। মহাধমনি ও ফুসফুসীয় ধমনির মুখে কী থাকে?

অর্ধচন্দ্রাকার কপাটিকা, যা রক্তকে একই দিকে প্রবাহিত রাখে এবং পেছনে ফিরতে দেয় না।

58। সারা দেহে রক্ত একবার পরিভ্রমণে কত সময় লাগে?

প্রায় এক মিনিট বা তার চেয়েও কম সময়।

59। হৃৎপিণ্ডের মধ্যস্তর কী দিয়ে গঠিত?

দৃঢ় অনৈচ্ছিক পেশি (মায়োকার্ডিয়াম) দিয়ে গঠিত।

রক্তবাহিকা ও রক্তচাপ

60। ধমনি কাকে বলে?

হৃৎপিণ্ড থেকে সাধারণত অক্সিজেনসমৃদ্ধ রক্ত সারাদেহে বহনকারী রক্তনালিকে ধমনি বলে; ব্যতিক্রম ফুসফুসীয় ধমনি, যা CO₂ যুক্ত রক্ত বহন করে।

61। শিরা কাকে বলে?

দেহের বিভিন্ন অংশ থেকে রক্ত হৃৎপিণ্ডে ফিরিয়ে আনা নালিকে শিরা বলে; ব্যতিক্রম ফুসফুসীয় শিরা, যা অক্সিজেনসমৃদ্ধ রক্ত বহন করে।

62। ধমনি ও শিরার গঠনগত পার্থক্য কী?

ধমনির প্রাচীর পুরু-স্থিতিস্থাপক ও কপাটিকাবিহীন, শিরার প্রাচীর কম পুরু-কম স্থিতিস্থাপক ও কপাটিকাযুক্ত।

63। কৈশিক জালিকা কী?

ক্ষুদ্রতম ধমনি ও শিরার মধ্যে সংযোগকারী অতি সূক্ষ্ম পাতলা প্রাচীরযুক্ত রক্তনালি, যার মাধ্যমে দ্রব্য ব্যাপন প্রক্রিয়ায় কোষে প্রবেশ করে।

64। রক্তচাপ কাকে বলে?

রক্তপ্রবাহের সময় ধমনির গায়ে সৃষ্ট চাপকে রক্তচাপ বলে।

65। সিস্টোলিক ও ডায়াস্টোলিক চাপ কী?

হৃৎপিণ্ডের সংকোচনে সর্বাধিক চাপকে সিস্টোলিক চাপ এবং প্রসারণে সর্বনিম্ন চাপকে ডায়াস্টোলিক চাপ বলে।

66। আদর্শ রক্তচাপ কত?

প্রায় ১২০/৮০ মিলিমিটার পারদ (সিস্টোলিক ১২০ এর নিচে, ডায়াস্টোলিক ৮০ এর নিচে)।

67। উচ্চ রক্তচাপ কাকে বলে?

সিস্টোলিক চাপ ১৪০ মিমি বা ডায়াস্টোলিক চাপ ৯০ মিমি এর বেশি হলে তাকে উচ্চ রক্তচাপ বলে।

68। উচ্চ রক্তচাপের ঝুঁকির কারণ কী কী?

পারিবারিক ইতিহাস, স্নায়বিক চাপ, ধূমপান, অতিরিক্ত ওজন, লবণ-চর্বিযুক্ত খাদ্য ও ডায়াবেটিস।

69। স্বাভাবিক পালস রেট কত?

প্রতি মিনিটে ৬০-১০০।

70। রক্তচাপ পরিমাপক যন্ত্রের নাম কী?

স্ফিগমোম্যানোমিটার (Sphygmomanometer)।

কোলেস্টেরল ও হৃদরোগ

71। কোলেস্টেরল কী?

উচ্চশ্রেণির প্রাণিজ কোষের গুরুত্বপূর্ণ উপাদান, যা লিপোপ্রোটিন হিসেবে রক্তে প্রবাহিত হয়।

72। LDL ও HDL কী?

LDL (Low Density Lipoprotein) খারাপ কোলেস্টেরল যা হৃদরোগের ঝুঁকি বাড়ায়; HDL (High Density Lipoprotein) ভালো কোলেস্টেরল যা হৃদরোগের ঝুঁকি কমায়।

73। ট্রাই-গ্লিসারাইড কী?

চর্বি হিসেবে রক্তের প্লাজমায় অবস্থানকারী এক ধরনের কোলেস্টেরল, যা প্রাণিজ চর্বি বা কার্বোহাইড্রেট থেকে তৈরি হয়।

74। কোলেস্টেরলের উপকারিতা কী কী?

কোষপ্রাচীর তৈরি-রক্ষা, হরমোন (এনড্রোজেন-ইস্ট্রোজেন) তৈরি, পিত্তরস তৈরি ও ভিটামিন D সংশ্লেষণে সহায়তা।

75। অ্যানজিনা কী?

করোনারি ধমনিতে চর্বি জমে রক্তপ্রবাহ ব্যাহত হলে হৃৎপিণ্ড পর্যাপ্ত অক্সিজেন না পেয়ে বুকে ব্যথা অনুভূত হওয়াকে অ্যানজিনা বলে।

76। হার্ট অ্যাটাক কী?

হৃৎপিণ্ডের কোনো অংশে রক্ত জমাট বেঁধে রক্তপ্রবাহ বন্ধ হয়ে হৃৎপেশি ক্ষতিগ্রস্ত হওয়াকে হার্ট অ্যাটাক বলে।

77। বাতজ্বর কী কারণে হয়?

Streptococcus অণুজীবের সংক্রমণে হয়, যা শিশুকালে শুরু হয়ে হৃৎপেশি ও কপাটিকা ক্ষতিগ্রস্ত করতে পারে।

78। হার্ট অ্যাটাকের লক্ষণ কী কী?

বুকের মাঝখানে প্রচণ্ড ব্যথা যা বাম হাত-গলায় ছড়াতে পারে, প্রচণ্ড ঘাম ও বুকে চাপ অনুভূত হওয়া।

79। হৃৎপিণ্ডকে সুস্থ রাখার উপায় কী?

চর্বিযুক্ত খাবার পরিহার, নিয়মিত ব্যায়াম, ধূমপান-মাদক ত্যাগ ও সুষম খাদ্য গ্রহণ।

জীবে পরিবহন অধ্যায়ের অনুধাবনমূলক প্রশ্ন ও উত্তর

উদ্ভিদে পানি শোষণ, খনিজ লবণ শোষণ ও পরিবহন

1। ঘরে সুগন্ধি ছড়িয়ে পড়া ও কিশমিশ ফোলা ভিন্ন প্রক্রিয়া কেন— ব্যাখ্যা করো।

সুগন্ধি ছড়িয়ে পড়া ব্যাপন প্রক্রিয়া, যেখানে অণু বেশি ঘনত্ব থেকে কম ঘনত্বে ছড়িয়ে পড়ে কোনো পর্দা ছাড়াই; কিন্তু কিশমিশ ফোলা অভিস্রবণ প্রক্রিয়া, যেখানে বৈষম্যভেদ্য পর্দার মাধ্যমে দ্রাবক প্রবাহিত হয়, তাই দুটি ভিন্ন প্রক্রিয়া।

2। জাইলেম বা ফ্লোয়েম বন্ধ হয়ে গেলে উদ্ভিদের মৃত্যু ঘটে কেন— ব্যাখ্যা করো।

জাইলেম বন্ধ হলে পানি ও খনিজ লবণ পাতায় পৌঁছাতে পারবে না ফলে খাদ্য প্রস্তুত বন্ধ হবে, আর ফ্লোয়েম বন্ধ হলে তৈরি খাদ্য উদ্ভিদের অন্য অংশে পৌঁছাতে পারবে না, উভয় ক্ষেত্রেই উদ্ভিদের বিপাকীয় কার্যক্রম সম্পূর্ণ ব্যাহত হয়ে মৃত্যু অনিবার্য হয়।

প্রস্বেদন — প্রকারভেদ ও প্রভাবক

3। প্রস্বেদনকে অতি প্রয়োজনীয় অমঙ্গল বলার যৌক্তিকতা ব্যাখ্যা করো।

প্রস্বেদনের ফলে পানি হারানো উদ্ভিদের জন্য ক্ষতিকর মনে হলেও এই প্রক্রিয়াই জাইলেমে টান সৃষ্টি করে মূল থেকে পানি-খনিজ শোষণে সাহায্য করে এবং তাপমাত্রা নিয়ন্ত্রণ করে, তাই ক্ষতিকর দিক থাকা সত্ত্বেও এটি উদ্ভিদের জন্য অপরিহার্য বলে একে অতি প্রয়োজনীয় অমঙ্গল বলা হয়।

রক্তের উপাদান ও কাজ

4। শ্বেত রক্তকোষ কীভাবে দেহ রক্ষায় কাজ করে— ব্যাখ্যা করো।

নিউট্রোফিল ও মনোসাইট ফ্যাগোসাইটোসিস প্রক্রিয়ায় জীবাণু ভক্ষণ করে ধ্বংস করে, আবার লিম্ফোসাইট অ্যান্টিবডি তৈরি করে রোগজীবাণু প্রতিরোধ করে; এভাবে বিভিন্ন প্রকার শ্বেত রক্তকোষ একযোগে দেহকে জীবাণু আক্রমণ থেকে রক্ষা করে।

রক্তের গ্রুপ ও রক্তদান

5। A গ্রুপের রক্ত B গ্রুপের ব্যক্তিকে দেওয়া যায় না কেন— ব্যাখ্যা করো।

A গ্রুপের রক্তে A অ্যান্টিজেন থাকে এবং B গ্রুপের রক্তরসে a (অ্যান্টি-A) অ্যান্টিবডি থাকে, তাই A গ্রুপের রক্ত B গ্রুপের ব্যক্তিকে দিলে দাতার A অ্যান্টিজেন গ্রহীতার a অ্যান্টিবডির সাথে বিক্রিয়া করে জমাট বেঁধে রোগীর জীবন বিপন্ন করতে পারে।

হৃৎপিণ্ডের গঠন ও রক্ত সঞ্চালন

6। হৃৎপিণ্ডের প্রকোষ্ঠসমূহ সম্পূর্ণ বিভক্ত থাকার গুরুত্ব ব্যাখ্যা করো।

প্রকোষ্ঠগুলো আন্তঃঅলিন্দ ও আন্তঃনিলয় পর্দা দিয়ে সম্পূর্ণ পৃথক থাকায় অক্সিজেনযুক্ত ও অক্সিজেনবিহীন রক্তের মধ্যে কোনো সংমিশ্রণ ঘটে না, ফলে দেহের বিভিন্ন অঙ্গে পূর্ণ অক্সিজেনযুক্ত রক্ত সরবরাহ নিশ্চিত হয়।

রক্তবাহিকা ও রক্তচাপ

7। ধমনির প্রাচীর পুরু ও স্থিতিস্থাপক হওয়া প্রয়োজন কেন— ব্যাখ্যা করো।

হৃৎপিণ্ডের প্রতিটি সংকোচনে ধমনিতে উচ্চ চাপে রক্ত তরঙ্গাকারে প্রবাহিত হয়, এই উচ্চ চাপ সহ্য করতে এবং রক্তপ্রবাহকে মসৃণ রাখতে ধমনির প্রাচীর পুরু ও স্থিতিস্থাপক হওয়া প্রয়োজন।

কোলেস্টেরল ও হৃদরোগ

8। ডায়াবেটিস রোগীর ব্যথাহীন হার্ট অ্যাটাক বেশি বিপজ্জনক কেন— ব্যাখ্যা করো।

সাধারণত হার্ট অ্যাটাকে বুকে তীব্র ব্যথা অনুভূত হয় বলে দ্রুত চিকিৎসা নেওয়া সম্ভব হয়, কিন্তু ডায়াবেটিস রোগীর ক্ষেত্রে স্নায়ুর সংবেদনশীলতা কমে যাওয়ায় কোনো ব্যথা ছাড়াই হার্ট অ্যাটাক হতে পারে, ফলে রোগী বুঝে ওঠার আগেই মারাত্মক ক্ষতি হয়ে যেতে পারে, তাই এটি বেশি বিপজ্জনক।

আরও পড়ুন

SSC জীববিজ্ঞান-এর সব পোস্ট

মন্তব্য করুন

Your email address will not be published. Required fields are marked *

সাহায্য লাগবে?
BCS Journey Support
● Online
×
💬Messenger ✈Telegram
BCS JOURNEY
BCS Journey
চ্যাট শুরু করুন ➜