● SSC জীববিজ্ঞান

জীবের প্রজনন অধ্যায়ের নোট | জ্ঞানমূলক ও অনুধাবনমূলক প্রশ্ন উত্তর

জীবের প্রজনন অধ্যায়ের নোট | SSC জীববিজ্ঞানের ১১তম অধ্যায় “জীবের প্রজনন” জ্ঞানমূলক ও অনুধাবনমূলক প্রশ্ন উত্তর নিচে দেওয়া হলো। এই পোস্টে ৬৬টি জ্ঞানমূলক ও ৮টি অনুধাবনমূলক প্রশ্ন ও উত্তর আছে। বহুনির্বাচনি প্রশ্নের জন্য জীবের প্রজনন অধ্যায়ের MCQ দেখুন।

জীবের প্রজনন অধ্যায়ের জ্ঞানমূলক প্রশ্ন ও উত্তর

মানব প্রজনন হরমোন, বয়ঃসন্ধি ও ভ্রূণের বিকাশ

1। মানুষের প্রজনন-সংক্রান্ত হরমোন নিঃসরণকারী গ্রন্থিগুলো কী কী?

পিটুইটারি, থাইরয়েড, অ্যাড্রেনাল, শুক্রাশয়, ডিম্বাশয় ও অমরা।

2। থাইরক্সিন প্রজননে কী ভূমিকা রাখে?

দৈহিক-মানসিক বৃদ্ধি, যৌনলক্ষণ প্রকাশ ও বিপাকে সহায়তা করে।

3। টেস্টোস্টেরন ও অ্যান্ড্রোজেনের কাজ কী?

শুক্রাণু উৎপাদন, দাড়ি-গোঁফ গজানো ও গলার স্বর পরিবর্তনের মতো যৌনলক্ষণ প্রকাশে সহায়তা করে।

4। ইস্ট্রোজেন ও প্রোজেস্টেরনের কাজ কী?

নারীসুলভ লক্ষণ সৃষ্টি, ঋতুচক্র নিয়ন্ত্রণ ও গর্ভাবস্থায় জরায়ু-ভ্রূণ-অমরার বৃদ্ধি নিয়ন্ত্রণ করে।

5। বয়ঃসন্ধিকাল কী?

কৈশোর ও তারুণ্যের সন্ধিকাল, যখন দৈহিক-মানসিক-যৌন বৈশিষ্ট্যের বিকাশ ঘটে।

6। ছেলেদের বয়ঃসন্ধিকালে কী কী পরিবর্তন হয়?

গোঁফ-দাড়ি গজানো, গলার স্বর পরিবর্তন ও কাঁধ চওড়া হওয়া।

7। মেয়েদের বয়ঃসন্ধিকালে কী কী পরিবর্তন হয়?

দেহত্বক কোমল হওয়া, চেহারায় কমনীয়তা বৃদ্ধি এবং ঋতুস্রাব শুরু হওয়া।

8। মেনোপজ কী?

৪০-৫০ বছর বয়সের পর মেয়েদের ঋতুস্রাব চিরদিনের জন্য বন্ধ হয়ে যাওয়াকে মেনোপজ বলে।

9। বাল্যবিবাহের ক্ষতি কী?

অপরিণত বয়সে গর্ভধারণে মা ও সন্তান উভয়েরই স্বাস্থ্যঝুঁকি বৃদ্ধি পায়।

10। ব্লাস্টোসিস্ট কী?

নিষিক্ত ডিম্বাণুর কোষ বিভাজনের শেষ পর্যায়ের গঠনমুখ ভ্রূণ, যা ডিম্বনালি থেকে জরায়ুতে পৌঁছায়।

11। ভ্রূণ সংস্থাপন বা ইমপ্ল্যান্টেশন কী?

জরায়ুর প্রাচীরে ভ্রূণের সংযুক্তিকে ভ্রূণ সংস্থাপন বা গর্ভধারণ বলে।

12। গর্ভাবস্থা কী?

জরায়ুতে ভ্রূণের সংস্থাপন থেকে শিশু ভূমিষ্ঠ হওয়া পর্যন্ত সময়কে গর্ভাবস্থা বলে, যা সাধারণত ৩৮-৪০ সপ্তাহ স্থায়ী হয়।

13। অমরা বা গর্ভফুল কী?

ভ্রূণ ও মাতৃ জরায়ু-টিস্যুর মধ্যে সম্পর্ক স্থাপনকারী বিশেষ অঙ্গ, যা নিষেকের ১২ সপ্তাহের মধ্যে গঠিত হয়।

14। অমরা ফুসফুস ও বৃক্কের মতো কাজ করে কীভাবে?

ফুসফুসের মতো অক্সিজেন-CO₂ বিনিময় করে এবং বৃক্কের মতো বিপাকীয় বর্জ্য পদার্থ ভ্রূণের দেহ থেকে অপসারণ করে।

15। আম্বিলিকাল কর্ড বা নাড়ি কী?

অমরাকে ভ্রূণের নাভির সাথে যুক্তকারী নালি, যার মাধ্যমে মাতৃদেহের সাথে ভ্রূণের পদার্থ বিনিময় ঘটে।

16। প্রসববেদনা কী?

প্রসবের পূর্বে জরায়ুর নির্দিষ্ট ব্যবধানে সংকোচনজনিত ক্রমবর্ধমান ব্যথাকে প্রসববেদনা বলে।

পরাগায়ন, গ্যামেটোফাইট, নিষেক ও ফল সৃষ্টি

17। পরাগায়ন কাকে বলে?

পরাগধানী থেকে পরাগরেণুর একই ফুলে বা একই জাতের অন্য ফুলের গর্ভমুণ্ডে স্থানান্তরিত হওয়াকে পরাগায়ন বলে।

18। স্ব-পরাগায়ন কাকে বলে?

একই ফুলে বা একই গাছের ভিন্ন দুটি ফুলের মধ্যে পরাগায়ন ঘটলে তাকে স্ব-পরাগায়ন বলে, যেমন সরিষা, ধুতুরা।

19। স্ব-পরাগায়নের সুবিধা ও অসুবিধা কী?

সুবিধা: পরাগের অপচয় কম, প্রজাতির বিশুদ্ধতা বজায় থাকে; অসুবিধা: জিনগত বৈচিত্র্য কম, অভিযোজন ক্ষমতা কমে যায়।

20। পর-পরাগায়ন কাকে বলে?

একই প্রজাতির দুটি ভিন্ন উদ্ভিদের ফুলের মধ্যে পরাগ সংযোগ ঘটলে তাকে পর-পরাগায়ন বলে, যেমন শিমুল, পেঁপে।

21। পর-পরাগায়নের সুবিধা ও অসুবিধা কী?

সুবিধা: নতুন চরিত্র সৃষ্টি, অঙ্কুরোদগম হার বৃদ্ধি, নতুন প্রজাতি সৃষ্টি; অসুবিধা: বাহকনির্ভর হওয়ায় নিশ্চয়তা কম, পরাগ অপচয় বেশি।

22। পতঙ্গপরাগী ফুলের বৈশিষ্ট্য কী?

বড়, রঙিন, মধুগ্রন্থিযুক্ত এবং পরাগরেণু-গর্ভমুণ্ড আঠালো ও সুগন্ধযুক্ত হয়, যেমন জবা, কুমড়া।

23। বায়ুপরাগী ফুলের বৈশিষ্ট্য কী?

হালকা, মধুগ্রন্থিহীন, সুগন্ধহীন এবং গর্ভমুণ্ড আঠালো ও শাখান্বিত বা পালকের মতো, যেমন ধান।

24। পানিপরাগী ফুলের বৈশিষ্ট্য কী?

আকারে ক্ষুদ্র, হালকা, সুগন্ধহীন; স্ত্রীপুষ্পের বৃন্ত লম্বা কিন্তু পুংপুষ্পের বৃন্ত ছোট, যেমন পাতাশ্যাওলা।

25। মাইক্রোস্পোরোজেনেসিস কী?

পরাগ মাতৃকোষ (2n) মিয়োসিস বিভাজনের মাধ্যমে চারটি হ্যাপ্লয়েড অপত্য পরাগ কোষ সৃষ্টি করার প্রক্রিয়া।

26। নালিকোষ ও জেনারেটিভ কোষ কী?

পরাগরেণুর নিউক্লিয়াস বিভাজনে সৃষ্ট বড় কোষ নালিকোষ (পরাগনালি তৈরি করে) এবং ছোট কোষ জেনারেটিভ কোষ (দুটি পুংজনন কোষ উৎপন্ন করে)।

27। মেগাস্পোরোজেনেসিস কী?

ভ্রূণপোষক কলার একটি কোষ মিয়োসিস বিভাজনের মাধ্যমে চারটি হ্যাপ্লয়েড কোষ সৃষ্টি করে, যার মধ্যে একটি বেঁচে থেকে ভ্রূণথলিতে পরিণত হয়।

28। গর্ভযন্ত্র ও প্রতিপাদ কোষ কী?

ডিম্বকরন্ধ্রের দিকের তিনটি কোষ (ডিম্বাণু ও দুই সহকারী কোষ) গর্ভযন্ত্র এবং বিপরীত দিকের তিনটি কোষ প্রতিপাদ কোষ।

29। দ্বিনিষেক কী?

একটি পুংজনন কোষ ডিম্বাণুর সাথে মিলিত হয়ে জাইগোট এবং অপরটি গৌণ নিউক্লিয়াসের সাথে মিলিত হয়ে ট্রিপ্লয়েড সস্য কোষ সৃষ্টি করার প্রক্রিয়াকে দ্বিনিষেক বলে।

30। ভিত্তি কোষ ও এপিক্যাল কোষ কী?

জাইগোট বিভাজনে ডিম্বকরন্ধ্রের দিকের কোষ ভিত্তি কোষ (ভ্রূণধারক গঠন করে) এবং কেন্দ্রের দিকের কোষ এপিক্যাল কোষ (ভ্রূণে পরিণত হয়)।

31। প্রকৃত ফল ও অপ্রকৃত ফল কী?

শুধু গর্ভাশয় ফলে পরিণত হলে প্রকৃত ফল (আম, জাম) এবং গর্ভাশয়সহ অন্যান্য অংশ পুষ্ট হলে অপ্রকৃত ফল (আপেল, চালতা) বলে।

32। সস্য কোষের ক্রোমোজোম সংখ্যা কেমন?

ট্রিপ্লয়েড, অর্থাৎ 3n সংখ্যক ক্রোমোজোম থাকে।

জীবে প্রজননের ধারণা, গুরুত্ব ও প্রাণীর প্রজনন-নিষেক

33। প্রজনন কাকে বলে?

যে প্রক্রিয়ায় কোনো জীব তার বংশধর সৃষ্টি করে, তাকে প্রজনন বলে।

34। প্রজনন প্রধানত কয় প্রকার?

দুই প্রকার: যৌন প্রজনন ও অযৌন প্রজনন।

35। সহবাসী ও ভিন্নবাসী উদ্ভিদ কী?

পুং ও স্ত্রী জননকোষ একই দেহে সৃষ্টি হলে সহবাসী (monoecious) এবং আলাদা দেহে সৃষ্টি হলে ভিন্নবাসী (dioecious) উদ্ভিদ বলে।

36। জননকোষ সৃষ্টির পূর্বশর্ত কী?

জনন মাতৃকোষকে অবশ্যই মিয়োসিস পদ্ধতিতে বিভাজিত হতে হয়, যাতে ক্রোমোজোম সংখ্যা অর্ধেক হয়।

37। যৌন জনন জটিল হওয়া সত্ত্বেও কেন টিকে আছে?

মিয়োসিস বিভাজনের ফলে এক প্রজন্ম থেকে পরবর্তী প্রজন্মে ব্যাপক জিনগত বৈচিত্র্য সৃষ্টি হয়, যা প্রতিকূল পরিবেশে প্রজাতিকে টিকিয়ে রাখতে সহায়ক।

38। অযৌন জননে অপত্য জীবের বৈশিষ্ট্য কেমন হয়?

মাতৃজীবের প্রায় হুবহু অনুরূপ হয়, তাই বৈচিত্র্য কম থাকে।

39। সরলতর জীবে অযৌন জনন টিকে থাকার কারণ কী?

কম সময়ে কম শক্তি ব্যয়ে অধিকসংখ্যক জীব জন্ম দেওয়া যায় বলে ব্যাকটেরিয়া-প্রোটোজোয়ার মতো জীবে এই প্রক্রিয়া টিকে আছে।

40। প্রাণীর অযৌন প্রজনন কী কী পদ্ধতিতে হয়?

মুকুলোদগম, বিভাজন ও খণ্ডায়ন পদ্ধতিতে।

41। প্রাণীর যৌন প্রজনন কাকে বলে?

দুটি বিপরীত লিঙ্গের প্রাণী গ্যামেট উৎপন্ন করে নিষেকের মাধ্যমে সন্তান উৎপন্ন করার প্রক্রিয়া।

42। নিষেক কাকে বলে?

ডিম্বাণু ও শুক্রাণুর মিলনকে নিষেক বলে, যাতে উভয়ের নিউক্লিয়াস একীভূত হয়ে জাইগোট তৈরি হয়।

43। বহিঃনিষেক কাকে বলে ও উদাহরণ দাও?

প্রাণিদেহের বাইরে সংঘটিত নিষেক, সাধারণত জলজ প্রাণীতে (মাছ, ব্যাঙ) ঘটে; ব্যতিক্রম হাঙ্গর।

44। অন্তঃনিষেক কাকে বলে?

স্ত্রীদেহের জননাঙ্গে সংঘটিত নিষেক, যা ডাঙায় বসবাসকারী অধিকাংশ প্রাণীর বৈশিষ্ট্য।

45। নিষেকের মৌলিক তাৎপর্য কী কী?

ভ্রূণে ডিপ্লয়েড ক্রোমোজোম সংখ্যা পুনঃস্থাপন, ডিম্বাণুকে পরিস্ফুটনের জন্য সক্রিয় করা এবং ভ্রূণের লিঙ্গ নির্ধারণ করা।

46। শুক্রাণু ও ডিম্বাণুর ক্রোমোজোম সংখ্যা কেমন?

উভয়ই হ্যাপ্লয়েড (n), মিলনে সৃষ্ট জাইগোট ডিপ্লয়েড (2n)।

ফুল — প্রজনন অঙ্গ ও এর অংশসমূহ

47। সম্পূর্ণ ফুল ও অসম্পূর্ণ ফুল কী?

পাঁচটি স্তবক উপস্থিত থাকলে সম্পূর্ণ ফুল (জবা, ধুতুরা) এবং কোনো একটি অনুপস্থিত থাকলে অসম্পূর্ণ ফুল (লাউ, কুমড়া) বলে।

48। উভলিঙ্গ, একলিঙ্গ ও ক্লীব ফুল কী?

পুংস্তবক ও স্ত্রীস্তবক উভয় থাকলে উভলিঙ্গ, একটি থাকলে একলিঙ্গ এবং দুটোই অনুপস্থিত থাকলে ক্লীব ফুল বলে।

49। বৃতির কাজ কী?

ফুলের ভেতরের অংশকে রোদ-বৃষ্টি-পোকার আক্রমণ থেকে রক্ষা করা; রঙিন হলে পরাগায়নেও সাহায্য করে।

50। দলমন্ডলের কাজ কী?

অত্যাবশ্যকীয় অংশগুলোকে রক্ষা করা এবং উজ্জ্বল রঙের মাধ্যমে পোকামাকড়-পশুপাখি আকর্ষণ করে পরাগায়নে সহায়তা করা।

51। পুংকেশরের দুটি অংশ কী কী?

পুংদন্ড বা পরাগদন্ড এবং পরাগধানী বা পরাগথলি।

52। একগুচ্ছ, দ্বিগুচ্ছ ও বহুগুচ্ছ পুংস্তবক কী?

পরাগদন্ড একগুচ্ছে থাকলে একগুচ্ছ (জবা), দুই গুচ্ছে থাকলে দ্বিগুচ্ছ (মটর) এবং বহুগুচ্ছে থাকলে বহুগুচ্ছ (শিমুল) পুংস্তবক বলে।

53। গর্ভপত্রের তিনটি অংশ কী কী?

গর্ভাশয়, গর্ভদণ্ড ও গর্ভমুণ্ড।

54। যুক্তগর্ভপত্রী ও বিযুক্তগর্ভপত্রী কী?

গর্ভপত্রগুলো সম্পূর্ণ যুক্ত থাকলে যুক্তগর্ভপত্রী (Syncarpous) এবং আলাদা থাকলে বিযুক্তগর্ভপত্রী (Polycarpous) বলে।

55। পুষ্পমঞ্জরি কাকে বলে?

একটি শাখায় বিশেষ নিয়মে সজ্জিত ফুলসহ শাখাকে পুষ্পমঞ্জরি বলে।

56। অনিয়ত ও নিয়ত পুষ্পমঞ্জরি কী?

শাখার বৃদ্ধি অসীম হলে অনিয়ত এবং পুষ্প উৎপাদনে বৃদ্ধি থেমে গেলে নিয়ত পুষ্পমঞ্জরি বলে।

এইডস

57। এইডস কী?

Acquired Immune Deficiency Syndrome, HIV ভাইরাসের আক্রমণে সৃষ্ট একটি মারাত্মক রোগ, ১৯৮১ সালে আবিষ্কৃত হয়।

58। HIV ভাইরাস কীভাবে দেহে ক্ষতি করে?

শ্বেত রক্তকোষের (বিশেষত CD4) ক্ষতিসাধন করে এন্টিবডি তৈরিসহ রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বিনষ্ট করে।

59। এইডস রোগের কারণ কী কী?

অনিরাপদ যৌনমিলন, সংক্রমিত রক্ত পরিসঞ্চালন, মা থেকে সন্তানে সংক্রমণ এবং সংক্রমিত সুচ-সিরিঞ্জের ব্যবহার।

60। এইডসের লক্ষণ প্রকাশ পেতে কত সময় লাগে?

জীবাণু প্রবেশের প্রায় ৬ মাস পরে প্রথম লক্ষণ প্রকাশ পায়, তারপর কয়েক বছর সুপ্ত থেকে হঠাৎ মারাত্মক আকার নেয়।

61। এইডসের লক্ষণ কী কী?

দ্রুত ওজন কমা, একটানা জ্বর, দীর্ঘদিন পাতলা পায়খানা, শুকনো কাশি ও সারাদেহে চুলকানি।

62। এইডস রোগের কোনো নিরাময়যোগ্য ঔষধ আছে কি?

না, রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা পুনরুদ্ধারের মতো কোনো ঔষধ এখনও আবিষ্কৃত হয়নি।

63। ২০২৩ সালের UNAIDS পরিসংখ্যান অনুযায়ী বিশ্বে কত মানুষ HIV আক্রান্ত?

প্রায় ৩ কোটি ৩৩ লাখ মানুষ, যার মধ্যে প্রায় ৫৩ শতাংশ নারী।

64। এইডস কতটি দেশে ছড়িয়ে পড়েছে?

বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার তথ্য অনুযায়ী প্রায় ১৬৪টি দেশে এই রোগের বিস্তার ঘটেছে।

65। সন্তান জন্মের সময় এইডস আক্রান্ত বাবার থেকে সন্তানে কীভাবে সংক্রমণ ঘটতে পারে?

বাবার সাথে যৌনমিলনের মাধ্যমে মায়ের এইডস হতে পারে এবং আক্রান্ত মায়ের গর্ভের সন্তান তখন সংক্রমিত হতে পারে; সরাসরি বাবা থেকে সন্তানে ছড়ায় না।

66। এইডস প্রতিরোধে সচেতনতার গুরুত্ব কী?

নিরাপদ যৌনাচার, নিরাপদ রক্ত পরিসঞ্চালন ও জীবাণুমুক্ত সুচ ব্যবহারের মাধ্যমে এইডস সংক্রমণ উল্লেখযোগ্যভাবে প্রতিরোধ করা সম্ভব, তাই ব্যাপক সচেতনতা তৈরি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।

জীবের প্রজনন অধ্যায়ের অনুধাবনমূলক প্রশ্ন ও উত্তর

মানব প্রজনন হরমোন, বয়ঃসন্ধি ও ভ্রূণের বিকাশ

1। ২০ বছর বয়সের আগে মেয়েদের বিয়ে না করার পরামর্শ দেওয়া হয় কেন— ব্যাখ্যা করো।

অল্প বয়সে দেহ ও প্রজননতন্ত্র সম্পূর্ণ পরিণত না হওয়ায় বাল্যবিবাহের ফলে অপরিণত বয়সে গর্ভধারণ ঘটলে গর্ভবতী মা ও সন্তান উভয়েরই স্বাস্থ্যঝুঁকি অনেক বেড়ে যায়, তাই একটি নির্দিষ্ট বয়সসীমা মেনে চলার পরামর্শ দেওয়া হয়।

2। অমরাকে বৃক্কের সাথে তুলনা করা হয় কেন— ব্যাখ্যা করো।

বৃক্ক যেমন দেহের বিপাকীয় বর্জ্য পদার্থ রক্ত থেকে ছেঁকে বের করে দেয়, তেমনি অমরাও ভ্রূণের বিপাকক্রিয়ায় উৎপন্ন বর্জ্য পদার্থ ভ্রূণের রক্ত থেকে মাতৃরক্তে পাঠিয়ে অপসারণ করে, এই কাজের সাদৃশ্যের কারণে অমরাকে বৃক্কের সাথে তুলনা করা হয়।

পরাগায়ন, গ্যামেটোফাইট, নিষেক ও ফল সৃষ্টি

3। স্ব-পরাগায়নে প্রজাতির বিলুপ্তির ঝুঁকি থাকে কেন— ব্যাখ্যা করো।

স্ব-পরাগায়নে জিনগত উপাদান একই উৎস থেকে আসে বলে জিনগত বৈচিত্র্য অত্যন্ত কম থাকে, ফলে উৎপন্ন নতুন উদ্ভিদের পরিবর্তিত পরিবেশে খাপ খাওয়ানোর ক্ষমতা কমে যায় এবং দীর্ঘমেয়াদে প্রতিকূল পরিস্থিতিতে প্রজাতিটি বিলুপ্ত হয়ে যাওয়ার ঝুঁকিতে পড়ে।

4। সপুষ্পক উদ্ভিদের নিষেককে দ্বিনিষেক বলা হয় কেন— ব্যাখ্যা করো।

একই সময়ে দুটি পুংজনন কোষের একটি ডিম্বাণুর সাথে মিলিত হয়ে জাইগোট গঠন করে এবং অপরটি গৌণ নিউক্লিয়াসের সাথে মিলিত হয়ে ট্রিপ্লয়েড সস্য কোষ গঠন করে, একই সাথে দুটি পৃথক মিলন ঘটে বলে একে দ্বিনিষেক বলা হয়।

জীবে প্রজননের ধারণা, গুরুত্ব ও প্রাণীর প্রজনন-নিষেক

5। জটিল হওয়া সত্ত্বেও যৌন জনন বিবর্তনের ধারায় টিকে আছে কেন— ব্যাখ্যা করো।

যৌন জননে মিয়োসিস বিভাজনের মাধ্যমে জিনের পুনর্বিন্যাস ঘটে, যা প্রতি প্রজন্মে বিপুল জিনগত বৈচিত্র্য সৃষ্টি করে; এই বৈচিত্র্য প্রতিকূল পরিবেশে প্রজাতির টিকে থাকার সম্ভাবনা বহুগুণে বাড়িয়ে দেয়, তাই জটিল ও সময়সাপেক্ষ হওয়া সত্ত্বেও যৌন জনন বিবর্তনের ধারায় স্থান করে নিয়েছে।

6। জলজ প্রাণীতে বহিঃনিষেক ও ডাঙার প্রাণীতে অন্তঃনিষেক ঘটে কেন— ব্যাখ্যা করো।

জলজ পরিবেশে পানি শুক্রাণুকে ডিম্বাণু পর্যন্ত পৌঁছাতে সাহায্য করে বলে দেহের বাইরেই নিষেক সম্ভব হয়, কিন্তু ডাঙায় এমন কোনো তরল মাধ্যম না থাকায় শুক্রাণু শুকিয়ে নষ্ট হয়ে যাওয়ার ঝুঁকি থাকে, তাই ডাঙার প্রাণীতে দেহাভ্যন্তরে সরাসরি নিষেক ঘটার প্রয়োজন হয়।

ফুল — প্রজনন অঙ্গ ও এর অংশসমূহ

7। বৃতি ও দলমন্ডল উভয়ই ফুলের অত্যাবশ্যকীয় অংশকে রক্ষা করে কিন্তু তাদের ভূমিকায় পার্থক্য আছে— ব্যাখ্যা করো।

বৃতি সাধারণত সবুজ হয়ে খাদ্য প্রস্তুতেও অংশ নেয় এবং মূলত রোদ-বৃষ্টি-পোকা থেকে রক্ষা করে, কিন্তু দলমন্ডল সাধারণত রঙিন ও আকর্ষণীয় হয়ে মূলত পরাগায়নকারী পোকামাকড়-পাখি আকর্ষণে ভূমিকা রাখে, তাই উভয়ের প্রধান কাজ ভিন্ন।

এইডস

8। এইডসকে ঘাতক ব্যাধি বলা হয় কেন— ব্যাখ্যা করো।

HIV ভাইরাস শ্বেত রক্তকোষ ধ্বংস করে দেহের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা সম্পূর্ণরূপে বিনষ্ট করে দেয়, ফলে সামান্য সংক্রমণেও রোগী মারাত্মকভাবে অসুস্থ হয়ে পড়ে এবং বর্তমানে এই রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা পুনরুদ্ধারের কোনো ঔষধ না থাকায় রোগীর মৃত্যু অনিবার্য হয়ে পড়ে, তাই একে ঘাতক ব্যাধি বলা হয়।

আরও পড়ুন

SSC জীববিজ্ঞান-এর সব পোস্ট

মন্তব্য করুন

Your email address will not be published. Required fields are marked *

সাহায্য লাগবে?
BCS Journey Support
● Online
×
💬Messenger ✈Telegram
BCS JOURNEY
BCS Journey
চ্যাট শুরু করুন ➜