● SSC জীববিজ্ঞান

রেচন প্রক্রিয়া অধ্যায়ের নোট | জ্ঞানমূলক ও অনুধাবনমূলক প্রশ্ন উত্তর

রেচন প্রক্রিয়া অধ্যায়ের নোট | SSC জীববিজ্ঞানের ৮ম অধ্যায় “রেচন প্রক্রিয়া” জ্ঞানমূলক ও অনুধাবনমূলক প্রশ্ন উত্তর নিচে দেওয়া হলো। এই পোস্টে ৪৬টি জ্ঞানমূলক ও ৫টি অনুধাবনমূলক প্রশ্ন ও উত্তর আছে। বহুনির্বাচনি প্রশ্নের জন্য রেচন প্রক্রিয়া অধ্যায়ের MCQ দেখুন।

রেচন প্রক্রিয়া অধ্যায়ের জ্ঞানমূলক প্রশ্ন ও উত্তর

বৃক্কের কাজ, অসমোরেগুলেশন ও বৃক্কে পাথর

1। একজন স্বাভাবিক মানুষ প্রতিদিন কত মিলিলিটার মূত্র ত্যাগ করে?

প্রায় ১৫০০ মিলিলিটার।

2। আল্ট্রাফিলট্রেট থেকে মূত্র তৈরি হয় কীভাবে?

আল্ট্রাফিলট্রেট রেনাল টিউব্যুলের মধ্য দিয়ে প্রবাহিত হওয়ার সময় কয়েক দফা শোষণ ও নিঃসরণ প্রক্রিয়ার মধ্য দিয়ে গিয়ে চূড়ান্তভাবে মূত্রে পরিণত হয়।

3। মূত্র তৈরির পর তা কোন পথে দেহের বাইরে আসে?

সংগ্রাহী নালিকা → পেলভিস → ইউরেটার → মূত্রথলি → মূত্রনালি হয়ে দেহের বাইরে আসে।

4। বৃক্ক দেহের কোন কোন পদার্থের পরিমাণ নিয়ন্ত্রণ করে?

সোডিয়াম, পটাশিয়াম, ক্লোরাইড ইত্যাদির পরিমাণ নিয়ন্ত্রণ করে।

5। বৃক্কের অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ কাজ কী কী?

রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণ এবং পানি ও অম্ল-ক্ষারের ভারসাম্য রক্ষা করা।

6। অভিস্রবণ চাপ কী?

কোনো দ্রবণে দ্রাবক প্রবেশ বন্ধ করতে যে সর্বনিম্ন চাপ প্রয়োগ করতে হয়, তাকে সেই দ্রবণের অভিস্রবণ চাপ বলে।

7। অসমোরেগুলেশন বা পানিসাম্য কী?

দেহে পানি ও লবণের পরিমাণ এমনভাবে নিয়ন্ত্রিত হয় যাতে দেহভাগের অভিস্রবণ চাপ প্রায় অপরিবর্তিত থাকে, এই প্রক্রিয়াকে অসমোরেগুলেশন বলে।

8। বৃক্কের রোগের লক্ষণ কী কী?

শরীর ফুলে যাওয়া, প্রস্রাবে অতিরিক্ত প্রোটিন বা রক্ত যাওয়া, প্রস্রাবে জ্বালাপোড়া, ঘন ঘন প্রস্রাব বা প্রস্রাব বন্ধ হয়ে যাওয়া।

9। বৃক্কে পাথর কী?

কিডনিতে ছোট আকারের পাথর জাতীয় পদার্থের সৃষ্টিকে বৃক্ক বা কিডনির পাথর বলে।

10। বৃক্কে পাথর কার বেশি হয়?

মেয়েদের তুলনায় পুরুষদের বেশি হয়।

11। বৃক্কে পাথর হওয়ার কারণ কী কী?

অতিরিক্ত শারীরিক ওজন, কিডনির সংক্রমণ ও কম পানি পান করা।

12। বৃক্কে পাথরের উপসর্গ কী কী?

কোমরের পিছনে ব্যথা, প্রস্রাবের সাথে রক্ত এবং কাঁপুনি দিয়ে জ্বর আসা।

13। বৃক্কে পাথরের আধুনিক চিকিৎসা পদ্ধতি কী কী?

ইউরেটোস্কোপিক, আল্ট্রাসনিক লিথোট্রিপসি অথবা বৃক্ক অপারেশন।

রেচন ও রেচন পদার্থ

14। রেচন কাকে বলে?

দেহে বিপাক প্রক্রিয়ায় উৎপন্ন নাইট্রোজেনঘটিত ক্ষতিকর বর্জ্য পদার্থ বের করে দেওয়ার জৈবিক প্রক্রিয়াকে রেচন বলে।

15। রেচনতন্ত্র কাকে বলে?

যে তন্ত্রের মাধ্যমে দেহের বিষাক্ত পদার্থ নিষ্কাশিত হয়, তাকে রেচনতন্ত্র বলে।

16। মানবদেহের রেচন অঙ্গ কী?

কিডনি বা বৃক্ক; বৃক্কের একক হলো নেফ্রন।

17। রেচন পদার্থ বলতে কী বোঝায়?

মূলত নাইট্রোজেনঘটিত বর্জ্য পদার্থ, যা মূত্রের মাধ্যমে দেহ থেকে বের হয়।

18। স্বাভাবিক মূত্রের ভরের কত শতাংশ পানি?

প্রায় ৯৫% পানি।

19। মূত্রে অন্যান্য কী কী উপাদান থাকে?

ইউরিয়া, ইউরিক এসিড, ক্রিয়েটিনিন ও বিভিন্ন ধরনের লবণ।

20। মূত্রের রং হালকা হলুদ হয় কেন?

ইউরোক্রোম নামক রঞ্জক পদার্থের উপস্থিতির কারণে।

21। আমিষজাতীয় ও উদ্ভিজ্জ খাদ্য মূত্রের প্রকৃতিতে কী প্রভাব ফেলে?

আমিষজাতীয় খাদ্যে মূত্রের অম্লতা বৃদ্ধি পায়, ফলমূল-তরকারিতে সাধারণত ক্ষারীয় মূত্র তৈরি হয়।

22। কার্বন ডাই-অক্সাইড কোন অঙ্গের মাধ্যমে নিষ্কাশিত হয়?

ফুসফুসের মাধ্যমে, রক্ত এটি বহন করে ফুসফুসে নিয়ে যায় এবং সেখান থেকে দেহের বাইরে নির্গত হয়।

23। রেচন প্রক্রিয়ায় দেহের কী কী পদার্থ অপসারিত হয়?

অতিরিক্ত পানি, লবণ এবং নাইট্রোজেনঘটিত জৈব বর্জ্য পদার্থ অপসারিত হয়।

বৃক্কের গঠন — বহিঃগঠন ও নেফ্রন

24। বৃক্ক কোথায় ও কেমন আকৃতিতে অবস্থিত?

উদরগহ্বরের পেছনে মেরুদণ্ডের দুদিকে পিঠ-সংলগ্ন অবস্থায় দুটি শিমবীজ আকৃতির বৃক্ক অবস্থিত।

25। হাইলাস বা হাইলাম কী?

বৃক্কের ভেতরের অবতল অংশের ভাঁজ, যেখান থেকে ইউরেটার ও রেনাল শিরা বের হয় এবং রেনাল ধমনি প্রবেশ করে।

26। রেনাল ক্যাপসুল ও রেনাল পেলভিস কী?

বৃক্ককে ঘিরে থাকা তন্তুময় আবরণ রেনাল ক্যাপসুল এবং ইউরেটারের ফানেল আকৃতির প্রশস্ত অংশ রেনাল পেলভিস।

27। বৃক্কের কর্টেক্স ও মেডুলা কী?

ক্যাপসুল-সংলগ্ন বাইরের অংশ কর্টেক্স এবং ভেতরের অংশ মেডুলা।

28। রেনাল পিরামিড ও প্যাপিলা কী?

মেডুলায় থাকা ৪-১২টি পিরামিড আকৃতির অংশ রেনাল পিরামিড, এদের অগ্রভাগ রেনাল প্যাপিলা, যা সরাসরি পেলভিসে উন্মুক্ত হয়।

29। ইউরিনিফেরাস নালিকা কী দুটি অংশে বিভক্ত?

নেফ্রন ও সংগ্রাহী নালিকা; নেফ্রন মূত্র তৈরি করে ও সংগ্রাহী নালিকা মূত্র পেলভিসে বহন করে।

30। প্রতিটি বৃক্কে কতগুলো নেফ্রন থাকে?

প্রায় ১০-১২ লক্ষ নেফ্রন থাকে।

31। নেফ্রন কী দিয়ে গঠিত?

রেনাল করপাসল (মালপিজিয়ান অঙ্গ) ও রেনাল টিউব্যুল নিয়ে গঠিত।

32। রেনাল করপাসল কী দুটি অংশে বিভক্ত?

গ্লোমেরুলাস ও বোম্যান্স ক্যাপসুল।

33। গ্লোমেরুলাস কী?

অ্যাফারেন্ট আর্টারিওল থেকে সৃষ্ট প্রায় ৫০টি কৈশিকনালিকার একগুচ্ছ জালিকা, যা বোম্যান্স ক্যাপসুলে বেষ্টিত থাকে।

34। অ্যাফারেন্ট ও ইফারেন্ট আর্টারিওল কী?

রেনাল ধমনি থেকে সৃষ্ট যে ধমনি ক্যাপসুলে ঢোকে তা অ্যাফারেন্ট এবং কৈশিকজালিকা মিলিত হয়ে যে ধমনি ক্যাপসুল থেকে বের হয় তা ইফারেন্ট আর্টারিওল।

35। রেনাল টিউব্যুল কয়টি অংশে বিভক্ত?

তিনটি অংশে: নিকটবর্তী প্যাঁচানো নালিকা, হেনলি’র লুপ ও প্রান্তীয় প্যাঁচানো নালিকা।

36। আল্ট্রাফিলট্রেট কী?

গ্লোমেরুলাস ছাঁকনির মতো কাজ করে রক্ত থেকে যে পরিশ্রুত তরল উৎপন্ন করে, তাকে আল্ট্রাফিলট্রেট বলে।

বৃক্ক বিকল, ডায়ালাইসিস ও প্রতিস্থাপন

37। বৃক্ক ধীরে ধীরে বিকল হওয়ার কারণ কী কী?

নেফ্রাইটিস, ডায়াবেটিস, উচ্চ রক্তচাপ ও কিডনিতে পাথর।

38। আকস্মিক কিডনি বিকল হওয়ার কারণ কী কী?

কিছু ওষুধের পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া, মারাত্মক ডায়রিয়া ও অতিরিক্ত রক্তক্ষরণ।

39। কিডনি বিকল হলে কী ঘটে?

মূত্রের পরিমাণ কমে যায় এবং রক্তে ক্রিয়েটিনিনের পরিমাণ বৃদ্ধি পায়।

40। ডায়ালাইসিস কী?

বৃক্ক সম্পূর্ণ বিকল হওয়ার পর বৈজ্ঞানিক উপায়ে রক্ত পরিশোধন করার প্রক্রিয়াকে ডায়ালাইসিস বলে।

41। ডায়ালাইসিস প্রক্রিয়া কীভাবে কাজ করে?

ধমনি থেকে রক্ত ডায়ালাইসিস টিউবের মধ্য দিয়ে প্রবাহিত করানো হয়, টিউবের আংশিক বৈষম্যভেদ্য প্রাচীর দিয়ে ইউরিয়া-ইউরিক এসিডসহ ক্ষতিকর পদার্থ বেরিয়ে যায়, পরিশোধিত রক্ত পুনরায় শিরার মাধ্যমে দেহে প্রবেশ করে।

42। বৃক্ক প্রতিস্থাপন কী?

অন্য ব্যক্তির কাছ থেকে সুস্থ বৃক্ক সংগ্রহ করে বিকল বৃক্কের স্থলে স্থাপন করার চিকিৎসা পদ্ধতি।

43। মূত্রনালি সুস্থ রাখতে কী করণীয়?

টনসিল ও খোসপাঁচড়া থেকে সাবধান থাকা, ডায়াবেটিস-উচ্চ রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণে রাখা, ধূমপান ত্যাগ ও পরিমিত পানি পান করা।

44। শিশুদের কিডনি রোগের একটি সম্ভাব্য কারণ কী?

টনসিল বা খোসপাঁচড়ার সংক্রমণ থেকে কিডনির অসুখ হতে পারে।

45। ডায়ালাইসিসে ব্যবহৃত তরলের গঠন কেমন হয়?

এই তরলের গঠন রক্তের প্লাজমার অনুরূপ রাখা হয়, প্রয়োজনে এতে চিনিও যোগ করা যেতে পারে।

46। বৃক্ক প্রতিস্থাপনের বিকল্প হিসেবে কী ব্যবহৃত হয়?

ডায়ালাইসিস, যেখানে যন্ত্রের সাহায্যে নিয়মিত রক্ত পরিশোধন করা হয়।

রেচন প্রক্রিয়া অধ্যায়ের অনুধাবনমূলক প্রশ্ন ও উত্তর

বৃক্কের কাজ, অসমোরেগুলেশন ও বৃক্কে পাথর

1। অসমোরেগুলেশন দেহের জন্য গুরুত্বপূর্ণ কেন— ব্যাখ্যা করো।

দেহকোষ সঠিকভাবে কাজ করতে হলে কোষের ভেতরে ও বাইরে অভিস্রবণ চাপের একটি নির্দিষ্ট ভারসাম্য প্রয়োজন; বৃক্ক পানি ও লবণের পরিমাণ নিয়ন্ত্রণ করে এই ভারসাম্য (অসমোরেগুলেশন) বজায় রাখে, যার ব্যত্যয় ঘটলে কোষ ফুলে যেতে বা সংকুচিত হয়ে যেতে পারে।

2। কম পানি পান করলে বৃক্কে পাথর হওয়ার ঝুঁকি বাড়ে কেন— ব্যাখ্যা করো।

কম পানি পান করলে মূত্রে খনিজ লবণ ও অন্যান্য পদার্থের ঘনত্ব বেড়ে যায়, ফলে এসব পদার্থ দ্রবীভূত অবস্থায় না থেকে কেলাস আকারে জমাট বেঁধে পাথরে পরিণত হওয়ার সম্ভাবনা বেড়ে যায়।

রেচন ও রেচন পদার্থ

3। নাইট্রোজেনঘটিত বর্জ্য পদার্থ দেহে জমতে থাকলে বিপজ্জনক হতে পারে— ব্যাখ্যা করো।

ইউরিয়া, ইউরিক এসিডের মতো নাইট্রোজেনঘটিত বর্জ্য পদার্থ দেহের জন্য বিষাক্ত, শরীর থেকে নিয়মিত অপসারিত না হলে এগুলো রক্তে জমে বিভিন্ন অঙ্গের কার্যক্ষমতা নষ্ট করতে পারে এবং চূড়ান্ত পর্যায়ে মৃত্যু পর্যন্ত ঘটাতে পারে, তাই রেচন প্রক্রিয়া অপরিহার্য।

বৃক্কের গঠন — বহিঃগঠন ও নেফ্রন

4। গ্লোমেরুলাসকে ছাঁকনির সাথে তুলনা করা হয় কেন— ব্যাখ্যা করো।

গ্লোমেরুলাসের কৈশিকজালিকার সূক্ষ্ম প্রাচীর দিয়ে রক্তের তরল অংশ ও ছোট অণু চাপের প্রভাবে বেরিয়ে আসে কিন্তু রক্তকোষ ও বড় প্রোটিন অণু আটকে যায়, ঠিক ছাঁকনির মতো নির্বাচিতভাবে পদার্থ পৃথক করে বলে একে ছাঁকনির সাথে তুলনা করা হয়।

বৃক্ক বিকল, ডায়ালাইসিস ও প্রতিস্থাপন

5। ডায়ালাইসিস টিউবের প্রাচীর আংশিক বৈষম্যভেদ্য হওয়া প্রয়োজন কেন— ব্যাখ্যা করো।

আংশিক বৈষম্যভেদ্য প্রাচীর ইউরিয়া, ইউরিক এসিডের মতো ক্ষতিকর ছোট অণুগুলোকে বাইরে বের হতে দেয় কিন্তু রক্তকোষ ও প্রয়োজনীয় বড় প্রোটিন অণুগুলোকে রক্তেই রেখে দেয়, ফলে শুধু বর্জ্য পদার্থ অপসারিত হয়ে রক্ত পরিশোধিত হয়।

আরও পড়ুন

SSC জীববিজ্ঞান-এর সব পোস্ট

মন্তব্য করুন

Your email address will not be published. Required fields are marked *

সাহায্য লাগবে?
BCS Journey Support
● Online
×
💬Messenger ✈Telegram
BCS JOURNEY
BCS Journey
চ্যাট শুরু করুন ➜