● বিসিএস লিখিত: আন্তর্জাতিক বিষয়াবলি

জলবায়ু পরিবর্তন মোকাবিলায় বাংলাদেশ সরকারের গৃহীত পদক্ষেপ | বিসিএস লিখিত

📌 এক নজরে

জলবায়ু পরিবর্তন মোকাবিলা ও টেকসই পরিবেশ গড়তে বাংলাদেশ সরকার বিভিন্ন উদ্যোগ নিয়েছে, যার একটি ২০০৯ সালের BCCSAP। এই পোস্টে নীতি, কৌশল ও কার্যক্রমগুলো পয়েন্ট আকারে সাজানো আছে।

জলবায়ু পরিবর্তন মোকাবিলায় বাংলাদেশ সরকারের গৃহীত কার্যক্রম

জলবায়ু পরিবর্তন মোকাবিলায় ও টেকসই পরিবেশ গড়ে তুলতে সরকার কাজ করছে। Bangladesh Climate Change Strategy and Action Plan (BCCSAP)-২০০৯ বাস্তবায়নে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণ করা হয়েছে।

  1. ১জলবায়ু পরিবর্তন ট্রাস্ট ফান্ড: ২০০৯ সালে জলবায়ু পরিবর্তন কৌশল ও কর্মপরিকল্পনা অধীনে দেশের সর্বপ্রথম ফান্ড গঠনের কাজ শুরু হয়। স্বল্পোন্নত দেশগুলোর ভেতর বাংলাদেশই সর্বপ্রথম জলবায়ু পরিবর্তন ট্রাস্ট ফান্ড (BCCTF) গঠন করেছে। ২০১৮-১৯ অর্থবছরে উক্ত তহবিলে ৩৫০০ কোটি টাকা বরাদ্দ রাখা হয়েছিল। এছাড়াও Bangladesh Climate Change Resilience Fund (BCCRF) গঠন করা হয়েছে।
  2. ২উপকূলীয় এলাকায় সবুজ বেষ্টনি: জলবায়ু পরিবর্তন মোকাবিলায় সরকার বৃক্ষরোপণ কর্মসূচির পাশাপাশি উপকূলীয় এলাকায় সবুজ বেষ্টনি গড়ে তুলছে। এগুলো ভবিষ্যতে উপকূলীয় অঞ্চলে ঘূর্ণিঝড়, জলোচ্ছ্বাস ইত্যাদি প্রাকৃতিক দুর্যোগ রোধে সহায়তা করবে। দেশে বর্তমানে বনভূমির ডিজিটাল ম্যাপ তৈরি করা হচ্ছে। টেকসই প্রকল্প গ্রহণের জন্য প্রণয়ন করা হয়েছিল ‘Country Investment Plan for Environment, Forestry and Climate Change (EFCC CIP)’ যার মেয়াদ ২০১৬ থেকে ২০২১ পর্যন্ত ছিল।
  3. ৩খরা ও লবণাক্ততা সহিষ্ণু ধান জাতের উদ্ভাবন: জলবায়ু পরিবর্তন প্রেক্ষাপটে দেশের খাদ্য শস্য উৎপাদন সচল রাখতে দেশের বিভিন্ন বীজ উৎপাদন ও গবেষণা প্রতিষ্ঠান প্রতিনিয়ত কাজ করে যাচ্ছে। উদ্ভাবন করা হয়েছে ঠান্ডা ও লবণাক্ততা সহিষ্ণু পরিবেশ বান্ধব ধান জাত ব্রি-৫৫, ব্রি-৫৭; খরা সহিষ্ণু ধান জাত ব্রি-৫২৯, ব্রি-৭১ এবং বন্যা সহিষ্ণু ধান জাত ব্রি-৭৩।
  4. ৪আশ্রয়কেন্দ্র নির্মাণ: প্রাকৃতিক দুর্যোগ মোকাবিলায় ও বন্যার ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ কমাতে উপকূলীয় অঞ্চল ও বন্যাপ্রবণ অঞ্চলে ১০৭২টি নতুন আশ্রয়কেন্দ্র নির্মাণের পরিকল্পনা অনুযায়ী ইতিমধ্যে ৩০০টি নতুন আশ্রয়কেন্দ্র নির্মাণ কাজ শেষ হয়েছে।
  5. ৫ডেল্টা প্লান- ২১০০: জলবায়ু পরিবর্তনের ফলে বঙ্গীয় ব-দ্বীপ অঞ্চলে নেতিবাচক প্রভাব ঠেকাতে ও উপকূলীয় অঞ্চল সমুদ্রের পানিতে তলিয়ে যাওয়া রোধে বাংলাদেশ সরকার নেদারল্যান্ডের সাথে Delta Plan-২১০০ গ্রহণ করে। প্রাকৃতিক দুর্যোগ, জলবায়ু পরিবর্তনজনিত অভিঘাত এবং অন্যান্য ব-দ্বীপ সংক্রান্ত সমস্যা মোকাবিলা করে দীর্ঘমেয়াদে পানি ও খাদ্যনিরাপত্তা, অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি ও পরিবেশগত স্থিতিশীলতা নিশ্চিত করে ‘নিরাপদ, জলবায়ু পরিবর্তন অভিঘাত সহিষ্ণু সমৃদ্ধশালী ব-দ্বীপ গড়ে তোলার জন্যই এ মহাপরিকল্পনা প্রণয়ন করা হয়েছে।
  6. ৬জাতীয় দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা পরিকল্পনা (NDMP): প্রাকৃতিক দুর্যোগে ক্ষয়ক্ষতি কমিয়ে আনতে সরকার জাতীয় দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা পরিকল্পনা গ্রহণ করেছে। এর আওতায় ২০২১ থেকে ২০২৫ সাল নাগাদ দুর্যোগের ঝুঁকি কমাতে ৫টি ধাপে পরিকল্পনা করা হয়েছে; যথা-
  7. ৭দুর্যোগ ঝুঁকি হ্রাস
  8. ৮আগাম সতর্কতা
  9. ৯পুনর্বাসন ও পুনরুদ্ধার
  10. ১০দুর্যোগ পূর্বপ্রস্তুতি
  11. ১১সাড়াদান
  12. ১২বাংলাদেশের পরিবেশ সংক্রান্ত আইন: বিশ্বব্যাপী পরিবেশের অবক্ষয় এবং জলবায়ু পরিবর্তনজনিত বিরূপ প্রভাবের উপর গুরুত্বারোপ করে বাংলাদেশের মহান জাতীয় সংসদে Planetary Emergency নামে একটি প্ল্যান গৃহীত হয়েছে। ওজোন স্তর রক্ষা ও পরিবেশকে অধিকভাবে দূষণমুক্ত রাখতে পরিবেশ, বন ও জলবায়ু মন্ত্রণালয় কাজ করছে। ‘জাতীয় পরিবেশ নীতি ২০১৮ বাস্তবায়নের মাধ্যমে পরিবেশ সংরক্ষণ, দূষণ নিয়ন্ত্রণ, জীববৈচিত্র্য সংরক্ষণ ও জলবায়ু পরিবর্তনের বিরূপ প্রভাব মোকাবিলা করা হচ্ছে। এই নীতিমালায় বিভিন্ন মন্ত্রণালয়/বিভাগ ও দপ্তর সংস্থার কার্যক্রম নির্ধারণ করে দেয়া হয়েছে।
  13. ১৩সংবিধানের ১৮ (ক) অনুচ্ছেদ ‘জীববৈচিত্র্য সংরক্ষণ ও উন্নয়ন’
  14. ১৪দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা আইন- ২০১২
  15. ১৫বাংলাদেশ পরিবেশ সংরক্ষণ আইন- ১৯৯৫
  16. ১৬পরিবেশ আদালত আইন- ২০১০
  17. ১৭Bangladesh Climate Change Strategy and Action Plans (BCCSAP)- ২০০৯
  18. ১৮ইট প্রস্তুত ও ভাটা স্থাপন (নিয়ন্ত্রণ) আইন- ২০১৯ বাস্তবায়নের মাধ্যমে বায়ুদূষণ কমানোর প্রচেষ্টা অব্যাহত রয়েছে।
  19. ১৯National Biodiversity Strategy and Action Plan: ‘বাংলাদেশ জীববৈচিত্র্য আইন-২০১৭’ ও ‘প্রতিবেশগত সংকটাপন্ন ব্যবস্থাপনা নীতিমালা-২০১৬ প্রণীত হয়েছে। এর আওতায় কার্যক্রমসমূহ হলো:
  20. ২০প্রতিবেশগত সংকটাপন্ন এলাকা সংরক্ষণ: সরকার ১৩টি প্রতিবেশগত সংকটাপন্ন এলাকার ঘোষণা দিয়েছে।
  21. ২১ব্লু-ইকোনমি সংক্রান্ত কার্যক্রম: সমুদ্র প্রতিবেশ সংরক্ষণ, সমুদ্রদূষণ রোধ, সমুদ্রসম্পদ আহরণ, ও সমুদ্রসম্পদের পরিবেশসম্মত ব্যবস্থাপনা নিশ্চিতকরণের লক্ষ্যে ব্লু-ইকোনমি কর্ম-পরিকল্পনা গৃহীত হয়েছে। তাছাড়া সামুদ্রিক ও উপকূলীয় জীববৈচিত্র্য সংরক্ষণ ও ব্যবস্থাপনাকে কার্যক্রমের মূলধারায় আওতাভুক্ত করাও এর অন্যতম উদ্দেশ্য।
  22. ২২সামুদ্রিক দূষণ পরিবীক্ষণ: মনিটরিংয়ের জন্য বঙ্গোপসাগরের নিম্নোক্ত পয়েন্ট রয়েছে। যথা: (১) কর্ণফুলি মোহনা, (২) পতেঙ্গা সমুদ্র সৈকত থেকে ১ কিলোমিটার সোজা সমুদ্র অভিমুখী পতেঙ্গা চরপাড়া, (৩) CEPZ থেকে ১ কিলোমিটার সোজা সমুদ্র অভিমুখী পানির গুণাগুণ পরীক্ষা।
  23. ২৩ওজোন স্তর সংরক্ষণ: বাংলাদেশ ১৯৯০ সালে মন্ট্রিল প্রটোকলে স্বাক্ষর করে। ১৯৯৫ সালে ওজোন স্তর ক্ষয়কারী দ্রব্যসামগ্রী সংক্রান্ত জাতীয় কমিটি গঠন করে। ১৯৯৬ সালে ওজোন সেল গঠন করা হয়। ওজোন স্তর ক্ষয়কারী দ্রব্যের ব্যবহার বন্ধের সাফল্যের স্বীকৃতিস্বরূপ ২০১২ ও ২০১৭ সালে জাতিসংঘ প্রশংসা করে বাংলাদেশের।
  24. ২৪এসডিজি ও বাংলাদেশ: এসডিজি এর ১৭টি অভীষ্টের মধ্যে ৩ টি সরাসরি পরিবেশ ও জলবায়ু সংক্রান্ত।

টেকসই উন্নয়ন অভীষ্ট

১৩নং অভীষ্ট: জলবায়ু পরিবর্তন ও এর প্রভাব মোকাবিলা জরুরি কার্যক্রম গ্রহণ।

১৪নং অভীষ্ট: সাগর, মহাসাগর ও সামুদ্রিক সম্পদের টেকসই সংরক্ষণ ও ব্যবহার।

১৫নং অভীষ্টে স্থলজ বাস্তুতন্ত্রের পুনরুদ্ধার ও সুরক্ষা প্রদান এবং টেকসই ব্যবহারের পৃষ্ঠপোষকতা, টেকসই বন ব্যবস্থাপনা, মরুকরণ প্রক্রিয়া মোকাবিলা, ভূমির অবক্ষয় রোধ, ভূমি সৃষ্টি প্রক্রিয়ায় পুনরুজ্জীবন এবং জীববৈচিত্র্য হ্রাস প্রতিরোধের বিষয়টি উল্লেখ আছে।

আরও পড়ুন

মন্তব্য করুন

Your email address will not be published. Required fields are marked *

সাহায্য লাগবে?
BCS Journey Support
● Online
×
💬Messenger ✈Telegram
BCS JOURNEY
BCS Journey
চ্যাট শুরু করুন ➜