● বিসিএস লিখিত: আন্তর্জাতিক বিষয়াবলি

সার্ক পুনরুজ্জীবিত হলে কি আঞ্চলিক সমস্যার সমাধান সম্ভব? ব্যর্থতা, চ্যালেঞ্জ ও সুপারিশ | বিসিএস লিখিত

📌 এক নজরে

দক্ষিণ এশিয়ার আঞ্চলিক সহযোগিতা সংস্থা সার্ক প্রতিষ্ঠিত হয় ১৯৮৫ সালের ৮ ডিসেম্বর, কিন্তু সংস্থাটি এখন কার্যত স্থবির। এই পোস্টে সার্কের পরিচিতি, ব্যর্থতার কারণ, পুনরুজ্জীবনের চ্যালেঞ্জ এবং সুপারিশ বিশ্লেষণ করা হয়েছে।

উত্তর: সার্ক (SAARC) হলো দক্ষিণ এশিয়ার একটি আঞ্চলিক সহযোগিতা সংস্থা। সংস্থাটি প্রতিষ্ঠিত হয় ১৯৮৫ সালের ৮ই ডিসেম্বর। প্রথম অধিবেশন অনুষ্ঠিত হয় ঢাকায়। এর সদস্য রাষ্ট্রগুলো হল ভারত, বাংলাদেশ, পাকিস্তান, শ্রীলংকা, নেপাল, ভুটান, মালদ্বীপ। পরবর্তী সময়ে অন্তর্ভুক্ত হয় আফগানিস্তান। পর্যবেক্ষক হিসাবে নির্বাচন করা হয়েছে চীন ও জাপানকে। এর সদর দপ্তর নেপালের রাজধানী কাঠমান্ডু।

সার্ক গঠনের পটভূমি

সার্ক গঠনের পটভূমি: দক্ষিণ এশিয়ার দেশগুলোর মধ্যে বিরাজমান পারস্পরিক সন্দেহ ও সংশয় দূর করে পারস্পরিক আস্থার সম্পর্ক সৃষ্টি করতেই সার্ক গঠনের প্রয়োজনীয়তা অনুভব করে সার্ক গঠনের প্রথম প্রস্তাব করেন ১৯৮০ সালের মে মাসে বাংলাদেশের প্রয়াত প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান। এ সময় প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান এ অঞ্চলের দেশগুলোর রাষ্ট্রপ্রধানের কাছে চিঠি লিখে দক্ষিণ এশিয়া আঞ্চলিক সহযোগিতা সংস্থা গঠনের গুরুত্ব তুলে ধরেন। চিঠিতে তিনি পৃথিবীর বিভিন্ন অঞ্চলের সহযোগিতা কাঠামো যেমন- EEC, লাফটা, আফ্রিকান ঐক্য সংস্থা, GCC, ASEAN ইত্যাদি সংস্থার দৃষ্টান্ত তুলে ধরে এ লক্ষ্যে একটি শীর্ষ সম্মেলন অনুষ্ঠানের প্রস্তাব করেন। তাঁর এ প্রস্তাব বিবেচনার উদ্দেশ্যে ১৯৮১ সালের এপ্রিল মাসে কলম্বোতে ৭টি দেশের পররাষ্ট্র সচিব পর্যায়ে একটি বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। ১৯৮৩ সালে দিল্লিতে পররাষ্ট্রমন্ত্রী পর্যায়ে আরেকটি বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। এ বৈঠকে ৯টি যৌথ সহযোগিতার ক্ষেত্র চিহ্নিত হয়। পরবর্তীতে ১৯৮৫ সালের ৮ ডিসেম্বর শীর্ষ সম্মেলনের মধ্য দিয়েই সার্কের জন্ম হয়।

সার্কের উদ্দেশ্য ও লক্ষ্য কী ছিল?

সার্কের উদ্দেশ্য ও লক্ষ্য ছিল দক্ষিণ এশিয়ার দেশগুলোর মধ্যে সামাজিক, সাংস্কৃতিক ও নিরাপত্তা সংক্রান্ত বিষয়ে আলাপ আলোচনা করা ও এ বিষয়ে পারস্পরিক সহযোগিতা নিশ্চিত করা। সার্ক সনদের প্রথম ধারাতেই তা বিষয়ে নির্দিষ্টভাবে উল্লেখ করা হয়েছে।

❖ উন্নয়ন : সদস্য রাষ্ট্রগুলির মধ্যে অর্থনৈতিক, সামাজিক ও সাংস্কৃতিক বিষয়ে অগ্রগতি ঘটানো।

❖ আত্মনির্ভরতা : প্রতিটি সদস্য রাষ্ট্রের স্বাধীনতা রক্ষা ও যৌথ উদ্যোগে আত্মনির্ভরতার শক্তি বৃদ্ধি করা।

❖ উৎসাহ প্রদান : আধুনিক বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিষয়ে সদস্য রাষ্ট্রগুলির মধ্যে সক্রিয় সহযোগিতায় উৎসাহ দান করা।

❖ তথ্যের আদান-প্রদান বৃদ্ধি : পরস্পরের সহযোগিতায় দেশের নিরাপত্তা ও উন্নতির লক্ষ্যে সদস্য দেশগুলির মধ্যে তথ্যের আদান-প্রদান বৃদ্ধি করা।

❖ জনকল্যাণে কাজ করা : পারস্পরিক সহযোগিতার মাধ্যমে প্রত্যেক সদস্য রাষ্ট্রের জনগণের কল্যাণ সাধন ও তাদের জীবনযাত্রার মানোন্নয়ন ঘটানো।

❖ বোঝাপড়া বৃদ্ধি করা : সদস্য রাষ্ট্রগুলির মধ্যে পারস্পরিক বিশ্বাস বোঝাপড়া ও সংবিধানশীলতার পরিবেশ তৈরি করা।

❖ সার্বভৌমত্ব রক্ষা : সদস্য রাষ্ট্রগুলির ভৌগোলিক অখণ্ডতা রক্ষা করা এবং অন্যান্য রাষ্ট্রের অভ্যন্তরীণ বিষয়ে হস্তক্ষেপ না করা।

❖ নিরাপত্তা বিধান করা : প্রতিটি সদস্য রাষ্ট্রের নিরাপত্তা বৃদ্ধির লক্ষ্যে কাজ করা এবং সমস্ত রকম সন্ত্রাসবাদ প্রতিরোধ করা।

❖ শান্তিপূর্ণ সহাবস্থান : সদস্য রাষ্ট্রগুলির মধ্যে শান্তিপূর্ণ সহাবস্থান বজায় রাখা।

সার্ক পুনরুজ্জীবিত হলে যেসব আঞ্চলিক সমস্যার সমাধান সম্ভব

অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনুস বলেছেন, ‘সার্কের চেতনার’ পুনরুজ্জীবন হওয়া উচিত। আট সদস্যের এই জোট আঞ্চলিক অনেক সমস্যার সমাধান করতে পারে।

রোহিঙ্গা সমস্যার সমাধান: ড. ইউনুস বলেন, (রোহিঙ্গা) সংকট মোকাবিলায় ঢাকার জন্য ভারত ও চীন উভয়ের সহায়তা প্রয়োজন। তিনি বলেন, ‘ইস্যুটি সমাধানের জন্য আমাদের ভারত ও চীনের সহায়তা দরকার। প্রায় ১০ লাখ মানুষ বাংলাদেশে এসেছে এবং এখন এই জনসংখ্যা বাড়ছে। এটি বাংলাদেশের অর্থনীতিতে প্রচণ্ড চাপ সৃষ্টি করছে। কিছু দেশ তাদের নিচ্ছে কিন্তু খুব অল্পসংখ্যক। ভারত মিয়ানমারের সঙ্গে সুসম্পর্ক বজায় রেখে চলে, মিয়ানমারকে রোহিঙ্গাদের ফিরিয়ে নিতে রাজি করাতে আমাদের ভারতের সহায়তা দরকার।’ সার্ক পুনরুজ্জীবিত হলে আঞ্চলিক ভাবে এটি মোকাবিলা করা সম্ভব।

আন্ত: বাণিজ্য বৈষম্যের সমাধান: রাজনৈতিক কিংবা অর্থনৈতিক দৃষ্টিকোণ থেকে বিশ্বের আঞ্চলিক কাঠামোতে সবচেয়ে সম্ভাবনার জায়গাটি হলো দক্ষিণ এশিয়া। যার মাঝখানে ভবিষ্যতের পরাশক্তি ভারত আর চারপাশে উন্নয়নশীল শ্রীলংকা ও পাকিস্তান। আছে উদীয়মান অর্থনীতির দেশ বাংলাদেশ আর নেপাল, ভুটান আর মালদ্বীপের মতো বাজার, যাদের সম্ভাবনা এখনো যাচাই করা হয়ে ওঠেনি ঠিক মতো। আছে আফগানিস্তানের মতো প্রাকৃতিক সম্পদে ভরপুর দেশ। এই অঞ্চলে বিশ্বের প্রায় ২০ শতাংশ মানুষের বসবাস। হোক পণ্য বা সেবা, যে কোনো বিচারেই বাজার হিসেবে লোভনীয়। প্রতিটি দেশেরই ইউরোপ ও আমেরিকার সাথে রয়েছে ব্যাপক ব্যবসা বাণিজ্য। সার্ক পুনরুজ্জীবিতকরণ এবং সাফটা ও সাপটা চুক্তি কার্যকর করার মাধ্যমে এটিকে অন্যতম বাণিজ্যিক হাব করা সম্ভব।

আঞ্চলিক খাদ্য নিরাপত্তা নিশ্চিতকরণ: সার্ক ফুড সিকিউরিটি সংক্রান্ত চুক্তির মাধ্যমে সদস্যদেশগুলোর জরুরি প্রয়োজন মেটানোর জন্য একটি ‘খাদ্যনিরাপত্তা মজুদ’ গড়ে তোলা হয়েছে। এর সুফল ইতিমধ্যেই সদস্য দেশগুলোর জনগণ পেতে শুরু করেছে। এছাড়া সার্কভুক্ত দেশগুলোর দারিদ্র্য বিমোচনসহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে অর্থনৈতিক সহযোগিতা জোরদার করার লক্ষ্যে “South Asian Development Found (SADF)” গঠন করা হয়েছে।

দ্বিপাক্ষিক সমস্যার সমাধান: যদিও সার্ক চার্টারে দ্বি-পাক্ষিক সমস্যাকে সার্কের আলোচ্যসূচির বাইরে রাখা হয়েছে, তথাপি সার্ক সম্মেলন চলাকালীন সময়ে দ্বি-পাক্ষিক বৈঠকে কোনো বাধা নেই। এ সুযোগ কাজে লাগিয়ে অনেক গুরুত্বপূর্ণ সমস্যার সমাধান করতে সক্ষম হয়েছে। তন্মধ্যে দ্বাদশ শীর্ষ সম্মেলনের সময় ইসলামাবাদে পাকিস্তানের প্রেসিডেন্ট পারভেজ মোশারফ ও ভারতের তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী অটল বিহারী বাজপেয়ির মধ্যে অনুষ্ঠিত দ্বি-পাক্ষিক বৈঠকেই ভারত ও পাকিস্তানের মধ্যে অর্ধ-শতাব্দীর বেশি সময় ধরে জমাট বাঁধা বরফ গলতে শুরু করে। উক্ত বৈঠককে ভিত্তি করে দু’দেশের সম্পর্ক অনেক উন্নত হয়েছে, যার পরিপ্রেক্ষিতে দু’দেশ প্রথমবারের মতো জম্মু ও কাশ্মীর নিয়ে আলোচনা করতেও রাজি হয়। ব্যাঙ্গালোরে অনুষ্ঠিত দ্বিতীয় শীর্ষ সম্মেলনে ভারত ও শ্রীলঙ্কার মধ্যে আলোচনার মাধ্যমে তামিল সমস্যা এবং ইসলামাবাদে চতুর্থ শীর্ষ সম্মেলনের উপলক্ষ্য ছাড়া হয়তো দু’দেশের শীর্ষ নেতৃত্বের মধ্যে বৈঠক সম্ভব হতো না। ফলে এসব গুরুত্বপূর্ণ সমস্যা অমীমাংসিত থেকে যেত। সার্ক পুনরুজ্জীবিতকরণের মাধ্যমে ভারত, বাংলাদেশ, পাকিস্তান, নেপাল, ভুটানসহ বিভিন্ন দেশের মধ্যে সৃষ্টি সমস্যা সমাধান সম্ভব।

মানবসম্পদ ও প্রযুক্তিগত সমস্যার সমাধান: সার্কের রয়েছে বেশ কয়েকটি ইস্যুভিত্তিক আঞ্চলিক কেন্দ্র। তন্মধ্যে বাংলাদেশ রয়েছে সার্ক কৃষি তথ্যকেন্দ্র ও সার্ক আবহাওয়া গবেষণা কেন্দ্র, নয়াদিল্লি সার্ক ডকুমেন্টেশন কেন্দ্র, কাঠমান্ডুতে সার্ক টিউবার কিউলোসিস কেন্দ্র ও সার্ক তথ্যকেন্দ্র, ইসলামাবাদে সার্ক মানবসম্পদ উন্নয়ন কেন্দ্র, শ্রীলঙ্কায় সার্ক সাংস্কৃতিক কেন্দ্র ও মালদ্বীপে সার্ক উপকূলীয় অঞ্চল ব্যবস্থাপনা কেন্দ্র রয়েছে। প্রতিটি কেন্দ্রের একটি গভর্নিং বোর্ড রয়েছে। এসব আঞ্চলিক কেন্দ্র সংশ্লিষ্ট বিষয়ে তথ্য সংগ্রহ আদান-প্রদান গবেষণা ও সংশ্লিষ্ট বিষয়ে উন্নয়নের লক্ষ্যে কাজ করে যাচ্ছে। এর ফলে সংশ্লিষ্ট বিষয়ে সদস্যদেশগুলো উপকৃত হচ্ছে।

সার্কের সমস্যা বা ব্যর্থতার কারণ

ক) রাজনৈতিক অস্থিরতা : দক্ষিণ এশিয়ার রাজনৈতিক অস্থিরতা, বিশেষ করে ভারত-পাক বিরোধের কারণে বহু ক্ষেত্রেই লক্ষ্য পূরণে ব্যর্থ হয়েছে।

খ) ভারত শ্রীলঙ্কা সম্পর্কের অবনতি : শ্রীলঙ্কার তামিল জঙ্গিদের সন্ত্রাসবাদী কার্যকলাপের ঘটনায় শ্রীলঙ্কা ভারতের মদন দেয়ার অভিযোগ তোলে। ফলে দুই দেশের সম্পর্কের অবনতি হয়।

গ) ভারসাম্যহীনতা : ক্ষুদ্র ও বৃহৎ সদস্য রাষ্ট্রগুলির মধ্যে সামরিক ও আর্থিক শক্তির ব্যবধান থাকায় তাদের মধ্যে ভারসাম্য নষ্ট হয়েছে।

ঘ) মতপার্থক্য : সার্কের কর্মপদ্ধতি ও কার্যকলাপ সম্পর্কে বিভিন্ন সদস্য রাষ্ট্রের মধ্যে মতপার্থক্য রয়েছে। এই মতভেদ সার্কের সমস্যাকে বাড়িয়ে তুলেছে।

ঙ) সন্ত্রাসবাদী কার্যকলাপ : তামিল জঙ্গি হানায় শ্রীলঙ্কার রাষ্ট্রপতির মৃত্যু, ভারতে বাবরি মসজিদ ধ্বংস, ভারতে সন্ত্রাসবাদী হামলা, বাংলাদেশে ভারত বিরোধী মৌলবাদ বৃদ্ধি ইত্যাদি কারণে সদস্য দেশগুলির মধ্যে পারস্পরিক সন্দেহ এই সংগঠনকে দুর্বল করেছে।

চ) পর্যাপ্ত সহযোগিতার অভাব : পারস্পরিক সহযোগিতার লক্ষ্য নিয়ে সার্ক গঠিত হলেও অনেক সময় সদস্য রাষ্ট্রগুলির মধ্যে পর্যাপ্ত সহযোগিতার মনোভাব লক্ষ্য করা যায় না।

সার্কভুক্ত পুনরুজ্জীবিত করতে চ্যালেঞ্জসমূহ:

ভারত-পাকিস্তান দ্বন্দ্ব: ভারত ও পাকিস্তান দক্ষিণ এশীয় এ আঞ্চলিক সংস্থাটির সবচেয়ে শক্তিশালী দুটি দেশ। কাশ্মীর ইস্যু ও পারমাণবিক অস্ত্র নিয়ে ভারত-পাকিস্তান সম্পর্ক তলানির দিকে চলে গিয়েছিল। এরপর মুম্বাইতে জঙ্গি হামলাসহ বিভিন্ন ইস্যুতে ভারত -পাকিস্তানের পরস্পর বিপরীতমুখী অবস্থান সার্ক পুনরুজ্জীবিতকরণে প্রধান বাধা। সাম্প্রদায়িকতা: দেশ ভাগের আমল থেকে সাম্প্রতিককাল পর্যন্ত উপমহাদেশে হিন্দু-মুসলিম দাঙ্গা এবং এর রাজনীতিকরণ পারস্পরিক সম্পর্ক উন্নয়নে বড় বাধা হিসেবে কাজ করছে। সম্প্রতি বাংলাদেশ-ভারতের মধ্যে সাম্প্রদায়িক ইস্যু নিয়ে দু’দেশের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের বিবৃতির মাধ্যমে তাদের টানাপোড়েনের বিষয় সামনে চলে আসে।

নিরাপত্তা হুমকি ও আস্থার অভাব: দক্ষিণ এশিয়ার দেশগুলো সাধারণ নিরাপত্তা জোট গঠনের পরিবর্তে নিজেরাই নিজেদের নিরাপত্তার হুমকি হিসেবে মনে করে। ভারত পাকিস্তানকে এবং পাকিস্তান ভারতকে একে অপরের নিরাপত্তার জন্য হুমকি মনে করে। নেপাল, বাংলাদেশের মত দেশগুলো ভারতকে তাদের সার্বভৌমত্বের হুমকি মনে করে।

বাণিজ্যের ভারসাম্যহীনতা: দক্ষিণ এশিয়ায় বাংলাদেশসহ অন্যান্য দেশের সবচেয়ে বড় ব্যবসায়িক অংশীদার ভারত। বাণিজ্য ঘাটতি থাকা সত্ত্বেও বাংলাদেশ সবচেয়ে বেশি পণ্য আমদানি করে ভারত থেকে। ভারতের কেন্দ্রীয় অবস্থান, বিশালত্ব ও তাদের আগ্রাসী মনোভাব এই অঞ্চলে বাণিজ্য সম্প্রসারণে একেও একটি বড় সমস্যা হিসেবে মনে করেন বিশেষজ্ঞরা।

ভিন্ন পররাষ্ট্রনীতি: ইউরোপীয় ইউনিয়ন, আসিয়ানসহ সফল আঞ্চলিক সংস্থাগুলোর ক্ষেত্রে আমরা অনেক বিষয়ে অভিন্ন পররাষ্ট্রনীতি দেখতে পাই। অপরদিকে এ অঞ্চলে ভারত যুক্তরাষ্ট্রমুখী, পাকিস্তান চীনমুখী পররাষ্ট্রনীতি অনুসরণ করে। যুক্তরাষ্ট্র ও চীন আবার বিপরীতমুখী পররাষ্ট্রনীতি অনুসরণ করে। ইসলামি রাষ্ট্রসমূহের সাথে সম্পর্কের ক্ষেত্রেও ভিন্নতা রয়েছে।

সার্ক সনদে দ্বি-পাক্ষিক আলোচনার সুযোগ না থাকা: সার্ক সনদে দ্বি-পাক্ষিক আলোচনার সুযোগ না থাকায় অনেকক্ষেত্রে শান্তিপূর্ণ ও গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্তে উপনীত হওয়া যায় না। অনেক সম্মেলন ব্যর্থতায় পর্যবসিত হয়ে যায়।

আন্তঃযোগাযোগ: পারস্পরিক অবিশ্বাস বা মানসিক দূরত্বের পাশাপাশি এই অঞ্চলের অন্যতম প্রধান সমস্যা হল আন্তঃযোগাযোগ কাঠামো। এছাড়া, ভিসা পদ্ধতি আরো সহজ ও উদার হওয়া প্রয়োজন।

সুপারিশ

  1. ১বিশ্বব্যাপী অর্থনৈতিক মন্দা ও সংকটের প্রেক্ষাপটে দক্ষিণ এশিয়ার দেশগুলোকে যৌথ উদ্যোগ গ্রহণ এবং সম্প্রসারণের মাধ্যমে অর্থনৈতিক ক্ষমতা বৃদ্ধি করতে হবে। আর এজন্য SAPTA ও SAFTA কার্যকর করতে হবে।
  2. ২সার্ক সনদে দ্বি-পাক্ষিক শান্তিপূর্ণ আলোচনার সুযোগ রাখতে হবে।
  3. ৩পারস্পরিক অর্থনৈতিক সহযোগিতা ও প্রযুক্তি হস্তান্তরের ক্ষেত্রে এগিয়ে আসতে হবে যাতে আঞ্চলিক সম্পদ সঠিকভাবে কাজে লাগানো যায়।
  4. ৪নিজেদের মধ্যে বাণিজ্য ও বিনিয়োগ বৃদ্ধি করতে হবে। শুল্ক কাঠামো পরিবর্তন করতে হবে এবং অশুল্ক বাধা দূর করতে হবে।
  5. ৫সার্কের সদস্যদেশগুলোর বিনিয়োগ নীতিমালার ভবিষ্যৎ নির্দেশনা ও সংগতি নিশ্চিত করার জন্যে সমন্বিত প্রচেষ্টা চালাতে হবে।
  6. ৬দক্ষিণ এশীয় অঞ্চলে সমুদ্র অর্থনীতির অপার সম্ভাবনা কাজে লাগাতে যৌথ উদ্যোগের মাধ্যমে আঞ্চলিক সহযোগিতা বৃদ্ধি করতে হবে।
  7. ৭আন্তর্জাতিক পরিমণ্ডলে নিজেদের স্বার্থ সংশ্লিষ্ট বিষয়ে অভিন্ন প্রস্তাবনা রাখতে হবে।

দক্ষিণ এশিয়ায় শান্তি ও সমৃদ্ধি আনয়নে সার্কের ভূমিকা অস্বীকার করার উপায় নেই। সার্ক তার লক্ষ্য অর্জনে আশানুরূপ সাফল্য লাভ করতে পারেনি সত্যি কিন্তু তা সত্ত্বেও এ সংস্থার অর্জনও একেবারে কম নয়। সার্ক পুনরুজ্জীবিতকরণের মাধ্যমে অত্র অঞ্চলের আঞ্চলিক সমস্যার সমাধানসহ এটিকে বিশ্বের অন্যতম বৃহৎ বাণিজ্যিক হাব হিসেবে গড়ে তোলা সম্ভব আর এজন্য প্রয়োজন প্রতিবেশী দেশগুলোর পারস্পরিক সহযোগিতা।

আরও পড়ুন

মন্তব্য করুন

Your email address will not be published. Required fields are marked *

সাহায্য লাগবে?
BCS Journey Support
● Online
×
💬Messenger ✈Telegram
BCS JOURNEY
BCS Journey
চ্যাট শুরু করুন ➜