● বিসিএস লিখিত: আন্তর্জাতিক বিষয়াবলি

বাংলাদেশ-ভারত ও বাংলাদেশ-চীন সম্পর্ক: ভারসাম্য নীতি (Balancing Game) | বিসিএস লিখিত

📌 এক নজরে

আন্তর্জাতিক রাজনীতিতে সম্পর্কের মূল ভিত্তি জাতীয় স্বার্থ। বাংলাদেশ-ভারত ও বাংলাদেশ-চীন সম্পর্কের বাস্তবতা এবং সাম্প্রতিক ভূ-রাজনীতিতে দুই দেশের সাথে ভারসাম্য নীতি কীভাবে কাজ করে, তা এই পোস্টে পৃথক দুই অংশে পাবেন।

উত্তর: আন্তর্জাতিক রাজনীতিতে সম্পর্কের মূল ভিত্তি হচ্ছে জাতীয় স্বার্থ। আন্তর্জাতিক রাজনীতিতে চিরস্থায়ী বন্ধু-শত্রু বলে কিছু নেই। তাই সাবেক ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী পামারস্টোন যথার্থই বলেছেন-

“We have no eternal allies, and we have no perpetual enemies, our interests are eternal and perpetual, and those interests it is our duty to follow.”

বাংলাদেশের পররাষ্ট্রনীতির মূল ভিত্তি হলো- “সকলের সাথে বন্ধুত্ব, কারো সাথে বৈরিতা নয়।” সাম্প্রতিক সময়ে দক্ষিণ এশিয়ার ভূ-রাজনীতিতে বিশ্বের পরাশক্তিগুলোর নতুন আগ্রহের কেন্দ্র বিন্দুতে পরিণত হয়েছে। পরাশক্তিগুলো ভূ-রাজনৈতিক স্বার্থে আধিপত্য বিস্তার ও স্বার্থ রক্ষায় এশিয়ার বিভিন্ন দেশের সাথে কৌশলগত পারস্পরিক সম্পর্ক তৈরিতে প্রতিযোগিতা শুরু করেছে। এশিয়ার দুই পারমাণবিক শক্তিধর দেশ ভারত ও চীন দক্ষিণ এশিয়ায় ভূ-রাজনীতি নিয়ন্ত্রণ ও আধিপত্য ধরে রাখার জন্য নানা ছক ও পরিকল্পনা বাস্তবায়নে কাজ করছে।

আঞ্চলিক এবং বৈশ্বিক পরাশক্তিগুলোর এই বিশেষ আগ্রহের ফলে বঙ্গোপসাগরীয় অঞ্চলের গুরুত্ব বৃদ্ধি পাওয়ায় বাংলাদেশের মতো দেশের পররাষ্ট্রনীতি কেমন হবে তা নিয়ে অনেক আলোচনা হচ্ছে। বাংলাদেশের জন্য একদিকে রয়েছে দীর্ঘ সময়ের পরীক্ষিত বন্ধু ভারত আবার অন্যদিকে রয়েছে বাংলাদেশের নানা উন্নয়নের অংশীদার চীন। এই অবস্থায় বাংলাদেশ তার পররাষ্ট্রনীতি প্রণয়নে কি ধরনের পদক্ষেপ নিবে তার উপর নির্ভর করছে আগামী দিনগুলিতে দেশটির অর্থনৈতিক, সামাজিক, রাজনৈতিক উন্নয়ন এবং অগ্রগতি।

দুই দেশের সাথে সু-সম্পর্ক বজায় রেখে দেশের উন্নয়নের ধারা অব্যাহত রাখতে রাজনৈতিক বিশ্লেষকগণের মতে এই মুহূর্তে বাংলাদেশের দরকার দুই দেশের সাথে পররাষ্ট্রনীতির ‘ব্যালান্সিং গেম’ বা ভারসাম্য নীতি।

  • পররাষ্ট্রনীতির ‘ব্যালান্সিং গেম’ বা ভারসাম্য নীতি-

প্রয়শই একটি জটিল এবং দ্রুত পরিবর্তনশীল আন্তর্জাতিক পরিবেশে একাধিক প্রতিদ্বন্দ্বী শক্তিধর দেশের সাথে কোন দেশ বা রাজনৈতিক সত্তার সুসম্পর্ক বজায় রাখার জন্য যে কৌশলগত প্রচেষ্টা তাকে আন্তর্জাতিক রাজনীতির পরিভাষায় ভূ-রাজনৈতিক ভারসাম্য নীতি বা ‘ব্যালান্সিং গেম’ বলে।

বাংলাদেশের ভারত-চীনের সাথে ‘ব্যালান্সিং গেম’ আলোচনা করার পূর্বে বাংলাদেশের সাথে এই দেশ দুইটির দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কের দিকে আলোকপাত করা দরকার।

বাংলাদেশ ভারতের দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক

ভারতের সঙ্গে রয়েছে বাংলাদেশের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ সম্পর্ক। ভারতের সাথে বাংলাদেশের সাংস্কৃতিক, সামাজিক, এবং অর্থনৈতিক সম্পর্ক রয়েছে। দুই দেশেরই ইতিহাস, সংস্কৃতি, ভাষাগত, ঐতিহ্যগত এবং শিল্পকলা এবং সংস্কৃতির প্রতি আবেগ প্রায় সমরূপ এবং উক্ত বিষয়গুলোতে মিল রয়েছে। বাংলাদেশ ভারতের দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কে গুরুত্বপূর্ণ কিছু উপাত্ত-

  • খাদ্যপণ্য নিয়েই আলোচনা বেশি হলেও ভারত থেকে টাকার অঙ্কে সবচেয়ে বেশি আসে তুলা ও সুতা যা দেশের তৈরি পোশাক শিল্প খাতের কাঁচামাল। দেশের চাহিদার ৮০ থেকে ৮৫ শতাংশই মেটানো হয় ভারত থেকে। যুক্তরাষ্ট্রের কৃষি বিভাগের (ইউএসডিএ) প্রতিবেদনের তথ্যানুসারে, ২০২৩ পঞ্জিকাবর্ষে বাংলাদেশ যত সুতা আমদানি করেছে তার মধ্যে ভারত থেকেই এসেছে ৮৪ দশমিক ৫ শতাংশ। অন্যদিকে তৈরি পোশাক শিল্পের জন্য বছরে তুলা আমদানিতে ব্যয় হয় তিন বিলিয়ন ডলারেরও কিছু বেশি। সব মিলিয়ে গত অর্থবছরে আমদানি হয়েছে সাড়ে ১১ বিলিয়ন ডলারের কিছু বেশি। চলতি অর্থবছরের জুলাইয়ে আমদানি হয় ৮০ কোটি ৩৫ লাখ ডলারের পণ্য, আগের অর্থবছরের একই সময়ে যা ছিল ৭২ কোটি ৩০ লাখ ডলারের। এ সময় সবচেয়ে বেশি ২০ কোটি ৩২ লাখ ডলারের তুলা আসে, সুতা আসে ১ কোটি ৭৫ লাখ ডলারের, বিভিন্ন ধরনের জ্বালানি আমদানি হয়েছে ১১ কোটি ৩৪ লাখ ডলারের। সবজি ও খাদ্য আমদানি হয় ৪ কোটি ৯৪ লাখ ডলারের।
  • আগস্টে ক্ষমতার পালাবদলে তৈরি হওয়া সংকটে আমদানি ব্যাহত হয়। গত অর্থবছরের এই মাসে যেখানে ৯৪ কোটি ৩৮ লাখ ডলারের পণ্য আমদানি হয়; সেখানে এবার তা দাঁড়ায় ৭৬ কোটি ৪ লাখ ডলার। অর্থাৎ কমে ১৯ দশমিক ৪৩ শতাংশ। সেপ্টেম্বরে আমদানি হয়েছে ৮৬ কোটি ৮ লাখ ডলারের পণ্য যা আগের বছরের একই সময়ের চেয়ে ১ দশমিক ০২ শতাংশ কম।
  • ভারতের বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের তথ্য বলছে, বাংলাদেশ থেকে জুলাইয়ে রপ্তানি হয়েছে ১৬ কোটি ৮৩ লাখ ডলারের পণ্য; আগের বছরের একই মাসে যা ছিল ১৫ কোটি ৯৬ লাখ ডলার; অর্থাৎ বেড়েছে ৫ দশমিক ৪২ শতাংশ। এ সময়ে ভারতে ৪ কোটি ৪২ লাখ ডলারের পোশাক খাতের অ্যাকসেসরিজ পাঠানো হয়। বিমান ও মহাকাশযানের খুচরা যন্ত্র যায় ২ কোটি ৫৫ লাখ ডলারের। আগস্টে ৬ দশমিক ৬৯ শতাংশ কমে ১৫ কোটি ৬৮ লাখ ডলারের পণ্য রপ্তানি হলেও সেপ্টেম্বরে রপ্তানি ২৬ শতাংশ বেড়ে হয়েছে ২০ কোটি ৬২ লাখ ডলার। রপ্তানির তালিকায় সবচেয়ে বেশি ছিল তৈরি পোশাক।
  • সাউথ এশিয়ান ফ্রি ট্রেড এরিয়া (সাফটা) চুক্তির আওতায় ভারতে ২৫টি পণ্য ছাড়া সব পণ্যে শুল্কমুক্ত রপ্তানি সুবিধা পায় বাংলাদেশ।
  • বাংলাদেশে সরাসরি বিদেশি বিনিয়োগে (এফডিআই) শীর্ষ দেশের মধ্যে চীন ও ভারত থাকলেও উভয় দেশের মোট বিনিয়োগের পরিমাণ ৪১৬ মিলিয়ন ডলার।
  • বাংলাদেশ ব্যাংকের তথ্যানুসারে, ২০২৪ সালের জানুয়ারি থেকে জুন পর্যন্ত দেশে ৭১২.৪৪ মিলিয়ন ডলারের এফডিআই এসেছে। এর মাঝে ভারতের বিনিয়োগের পরিমাণ ১৩২.৮৩ মিলিয়ন ডলার।
  • বিভিন্ন কয়লাভিত্তিক বিদ্যুৎকেন্দ্র যেমন রামপাল তাপ বিদ্যুৎ কেন্দ্র ভারতের অর্থায়নে ও কারিগরি সহায়তায় বাস্তবায়িত হচ্ছে।

ভারত বাংলাদেশের দ্বিতীয় বৃহত্তম আমদানি বাণিজ্য অংশীদার যা মোট আমদানির ১৮.১%। তুলনামূলকভাবে, ভারতে বাংলাদেশের রপ্তানি মোট রপ্তানির প্রায় ২%। ভারতীয় আমদানির সিংহভাগই অত্যাবশ্যকীয় খাদ্য সামগ্রী, বিশেষ করে চাল, যা বাংলাদেশি খাদ্যের প্রধান উপাদান। তবে এই দেশ দুটির মাঝে এখনো কিছু সংকট বিদ্যমান। সবচেয়ে উল্লেখযোগ্য কিছু সংকট হল তিস্তা-গঙ্গা সহ প্রায় ১৮টি অভিন্ন নদ-নদীর পানিবণ্টন ও অববাহিকার যৌথ ব্যবস্থাপনা নদীর পানি বণ্টন নিয়ে মতবিরোধ, বিভিন্ন নিত্য-প্রয়োজনীয় পণ্যের আমদানিতে ভারতের অনেক সময় বাংলাদেশের প্রতি গুরুত্ব প্রদান না করা বা কম গুরুত্ব প্রদান করা, রোহিঙ্গা শরণার্থী সংকটে ভারতের বাংলাদেশের প্রতি দৃপ্ত সমর্থন না দেয়া, দুই দেশের আন্তর্জাতিক বাণিজ্যে ব্যাপক বৈষম্য ইত্যাদি।

এছাড়াও, বাংলাদেশে ক্ষমতার পালাবদলে দুই দেশের মধ্যে রাজনৈতিক উত্তেজনা স্পষ্ট হওয়ার পর দ্বিপক্ষীয় বাণিজ্যিক সম্পর্কে কী প্রভাব পড়বে, এ নিয়ে শুরু হয়েছে নানা আলোচনা। এরমধ্যেই স্বাধীনতার পর প্রথমবারের মত পাকিস্তানের সঙ্গে শুধু বাণিজ্যিক সমুদ্র রুট চালু নয়, দেশটি থেকে পণ্য আমদানি বাড়ানোর খবর আসছে। অন্যদিকে বাংলাদেশে সংখ্যালঘু নির্যাতনের অভিযোগ ওঠার পর সীমান্ত লাগোয়া ভারতের কিছু রাজ্যে বাণিজ্য বাধাগ্রস্ত হওয়ার খবরও আসছে। এ নিয়ে দুই দেশের মানুষদের মধ্যে যেমন আলোচনা আছে, তেমনি ব্যবসায়ীদের মধ্যে উদ্বেগ আছে।

বাংলাদেশ চীনের দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক

চীনের সাথে সম্পর্ক

চীন-বাংলাদেশ মধ্যকার দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক বিগত দশক গুলিতে ক্রমশ উন্নত হয়ে বর্তমানে তা বাংলাদেশের পররাষ্ট্রনীতির একটি মূল শক্তি হিসেবে প্রকাশ পেয়েছে। চীন সরকার বাংলাদেশের সামরিক সক্ষমতা এবং অবকাঠামোর উন্নয়নে উল্লেখযোগ্যভাবে বিনিয়োগ করেছে। ২০১৬ সালে চীনের রাষ্ট্রপতি শি জিন পিং তার বাংলাদেশ সফরে এসে ২৪ বিলিয়ন মার্কিন ডলার বিনিয়োগের প্রতিশ্রুতি দিয়েছিল, যা কোনো একক দেশ কর্তৃক বাংলাদেশের কাছে প্রতিশ্রুতিষ্কৃত বৃহত্তম অর্থ। বাণিজ্য খাতের ক্ষেত্রে, বাংলাদেশের টেক্সটাইল শিল্পের অব্যাহত বিনিয়োগ বৃদ্ধির জন্য চীন-বাংলাদেশ অর্থনৈতিক সম্পর্ক গুরুত্বপূর্ণ। বাংলাদেশের বৃহত্তম বাণিজ্য অংশীদার হিসেবে নিজেদের অবস্থান ধরে রেখেছে চীন। ২০২৩-২৪ অর্থবছরে দেশটির সঙ্গে দ্বিপক্ষীয় বাণিজ্যের পরিমাণ ছিল ২ লাখ ২৪ হাজার ৬০০ কোটি টাকা। চীন এখন বাংলাদেশের অন্যতম শীর্ষ বিদেশি বিনিয়োগকারী (FDI) এবং সামরিক হার্ডওয়্যার সরবরাহকারী। বাংলাদেশ চীনের দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কে গুরুত্বপূর্ণ কিছু উপাত্ত –

বাংলাদেশ চীন থেকে সবচেয়ে বেশি পণ্য আমদানি করে। ২০২৩-২৪ অর্থবছরে দেশটির সঙ্গে দ্বিপক্ষীয় বাণিজ্যের পরিমাণ ছিল ২ লাখ ২৪ হাজার ৬০০ কোটি টাকা। এছাড়াও বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরোর তথ্যে দেখা যায়, ২০২৩-২৪ অর্থবছরে জুন মাসে চীনের সঙ্গে বাংলাদেশের মোট আমদানি-রপ্তানি বাণিজ্য বেড়ে ১৫ দশমিক ১৭ শতাংশে দাঁড়িয়েছে। যা আগের অর্থবছরের এ সময়ের তুলনায় শূন্য দশমিক ২৬ শতাংশ পয়েন্ট বেড়েছে।

বাংলাদেশে সরাসরি বিদেশি বিনিয়োগে (এফডিআই) শীর্ষ দেশের মধ্যে চীন ও ভারত থাকলেও উভয় দেশের মোট বিনিয়োগের পরিমাণ ৪১৬ মিলিয়ন ডলার।

চীনের বাজারে ৯৯ শতাংশ পণ্যেই শুল্কমুক্ত সুবিধা আছে।

বাংলাদেশ ব্যাংকের তথ্যানুযায়ী, ২০২৪ সালের জানুয়ারি থেকে জুন পর্যন্ত দেশে ৭১২.৪৪ মিলিয়ন ডলারের এফডিআই এসেছে। তার মধ্যে চীনের বিনিয়োগ ২৮৩.৫৬ মিলিয়ন ডলার।

BRI খাতে বাংলাদেশ চীনের কানেক্টিভিটি, অবকাঠামো, বিদ্যুৎ ও জ্বালানি প্রভৃতি খাত অগ্রাধিকার পাচ্ছে।

BR2

বাণিজ্য ও বিনিয়োগ

২০১৮ সাল থেকে বাংলাদেশের শীর্ষ বাণিজ্য অংশীদার চীন

: China flag / ২০২৩-২৪ অর্থবছরে চীনের সঙ্গে বাণিজ্য ২ লাখ ২৪ হাজার ৬০০ কোটি টাকা / ভারতের সঙ্গে ১ লাখ ৪৬ হাজার ৩০০ কোটি টাকা আমদানি রপ্তানির পরিমাণ
: China flag / ২০২৩-২৪ অর্থবছরে চীনের সঙ্গে বাণিজ্য ২ লাখ ২৪ হাজার ৬০০ কোটি টাকা / ভারতের সঙ্গে ১ লাখ ৪৬ হাজার ৩০০ কোটি টাকা চীন-বাংলাদেশ
: China flag / ২০২৩-২৪ অর্থবছরে চীনের সঙ্গে বাণিজ্য ২ লাখ ২৪ হাজার ৬০০ কোটি টাকা / ভারতের সঙ্গে ১ লাখ ৪৬ হাজার ৩০০ কোটি টাকা জুন ২০২৪ সাল পর্যন্ত ১৫ দশমিক ১৭ শতাংশ
: China flag / ২০২৩-২৪ অর্থবছরে চীনের সঙ্গে বাণিজ্য ২ লাখ ২৪ হাজার ৬০০ কোটি টাকা / ভারতের সঙ্গে ১ লাখ ৪৬ হাজার ৩০০ কোটি টাকা জুন ২০২৩ সাল পর্যন্ত ১৪ দশমিক ৯১ শতাংশ
: China flag / ২০২৩-২৪ অর্থবছরে চীনের সঙ্গে বাণিজ্য ২ লাখ ২৪ হাজার ৬০০ কোটি টাকা / ভারতের সঙ্গে ১ লাখ ৪৬ হাজার ৩০০ কোটি টাকা ভারত-বাংলাদেশ
: China flag / ২০২৩-২৪ অর্থবছরে চীনের সঙ্গে বাণিজ্য ২ লাখ ২৪ হাজার ৬০০ কোটি টাকা / ভারতের সঙ্গে ১ লাখ ৪৬ হাজার ৩০০ কোটি টাকা জুন ২০২৪ সাল পর্যন্ত ৮ দশমিক ৪৭ শতাংশ
: China flag / ২০২৩-২৪ অর্থবছরে চীনের সঙ্গে বাণিজ্য ২ লাখ ২৪ হাজার ৬০০ কোটি টাকা / ভারতের সঙ্গে ১ লাখ ৪৬ হাজার ৩০০ কোটি টাকা জুন ২০২৩ সাল পর্যন্ত ৮ দশমিক ৭৮ শতাংশ
চীন থেকে আমদানি শিল্পের কাঁচামাল, সেমি ফিনিশড পণ্য ও ভোগ্যপণ্য
চীনে রপ্তানি পাটের সুতা, চামড়াজাত পণ্য ও প্রক্রিয়াজাতকরণ চুল

পটুয়াখালী জেলার কলাপাড়া উপজেলায় পায়রায় নির্মিত বিদ্যুৎ কেন্দ্রটি হলো পায়রা তাপ বিদ্যুৎ কেন্দ্র। বিদ্যুৎ কেন্দ্রটি যৌথভাবে চীনের চায়না মেশিনারিজ কোম্পানি এবং বাংলাদেশের নর্থ-ওয়েস্ট পাওয়ার জেনারেশন কোম্পানি লিমিটেড নির্মাণ করছে। আলট্রা সুপার ক্রিটিক্যাল প্রযুক্তিতে পরিচালিত এই ১৩২০ মেগাওয়াট কয়লা বিদ্যুৎ কেন্দ্রে চীনের বিনিয়োগ রয়েছে প্রায় ১৬ হাজার কোটি টাকা।

গত কয়েক বছর ধরে বাংলাদেশ প্রতি বছর গড়ে ২৩০ কোটি ডলার ঋণ কিংবা সহায়তা নিয়েছে চীনের কাছ থেকে। একটি হিসাবে দেখা যাচ্ছে, গত চার বছরে বাংলাদেশে তিন বিলিয়ন ডলার সহায়তা এসেছে চীন থেকে।

তবে এই দেশ দুটির মাঝে এখনো কিছু সংকট বিদ্যমান। এর মধ্যে রয়েছে রোহিঙ্গা শরণার্থী সংকটে জাতিসংঘে উত্থাপিত বিভিন্ন ভোটাভুটিতে চীনের বাংলাদেশের বিপক্ষে সরাসরি ভোট দেয়া, দুই দেশের আন্তর্জাতিক বাণিজ্যে ব্যাপক বৈষম্য, চীনের ঋণ ফাঁদ কূটনীতির (Debt trap diplomacy) আশঙ্কা ইত্যাদি।

বাংলাদেশের ভারত-চীনের সাথে ‘ব্যালান্সিং গেম’

ভারত ও চীনের সাথে সম্পর্কের ভারসাম্য রক্ষা করা চ্যালেঞ্জিং হতে পারে, তবে বাংলাদেশের জন্য তার জাতীয় স্বার্থ রক্ষা করা এবং আঞ্চলিক স্থিতিশীলতায় অবদান রাখা অপরিহার্য। নমনীয়তা, বাস্তববাদিতা এবং কূটনীতির প্রতি অঙ্গীকার এই সম্পর্কগুলি সফলভাবে পরিচালনার মূল উপাদান। দেশের অবকাঠামো ও বিদ্যুৎ উৎপাদন খাতে চীনের বিপুল পরিমাণে বিনিয়োগ রয়েছে। বিনিয়োগ রয়েছে ভারতেরও। এখন পর্যন্ত এ দুই দেশের পারস্পরিক বিরোধে কোনোটিকেই প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবে রাজনৈতিক সমর্থন জানায়নি বাংলাদেশ। এ বিষয়টি দুই দেশের সঙ্গে বাংলাদেশের সম্পর্কের ভারসাম্য রক্ষার ক্ষেত্রে বড় ভূমিকা রেখেছে বলে মনে করছেন ভূরাজনীতির পর্যবেক্ষকরা। আগামী দিন গুলিতেও এটি বজায় রাখা জরুরি।

ভারত ও চীনের মতো দুই প্রধান প্রতিবেশী দেশের সঙ্গে বৈদেশিক সম্পর্কের ভারসাম্য বজায় রাখা বাংলাদেশের জন্য একটি জটিল কূটনৈতিক কাজ হতে পারে। ভারত ও চীন উভয়ের সাথেই ভারসাম্যপূর্ণ সম্পর্ক বজায় রাখতে বাংলাদেশের জন্য এখানে কিছু কৌশল হতে পারে-

ভারসাম্য রক্ষার কৌশল

বাংলাদেশের জোট নিরপেক্ষ পররাষ্ট্র নীতি: স্নায়ু যুদ্ধের সময়ের মতো বাংলাদেশ সরকার ভারত ও চীনের প্রতি জোট নিরপেক্ষ পররাষ্ট্র নীতি বজায় রাখতে পারে। এর অর্থ কোন নির্দিষ্ট দেশের সাথে নিজেকে সরাসরি যুক্ত না করে এর পরিবর্তে তার নিজস্ব জাতীয় স্বার্থ অনুসরণ করা। এই পন্থায় বাংলাদেশকে ভারত ও চীন উভয়ের সাথেই কোন পক্ষ না নিয়ে বাংলাদেশ তার নিজস্ব স্বার্থ অর্জনে দরকষাকষির মধ্য দিয়ে অর্জন করতে পারে।

অধিকতর অর্থনৈতিক সম্পর্ক বৃদ্ধি: বাংলাদেশ ভারত ও চীন উভয়ের সাথেই অর্থনৈতিক সহযোগিতার মাধ্যমে উপকৃত হতে পারে। উভয় দেশের সাথে বাণিজ্য, বিনিয়োগ এবং অর্থনৈতিক অংশীদারিত্ব বাড়াতে সক্রিয়ভাবে চেষ্টা করা উচিত। এই অধিকতর অর্থনৈতিক সম্পর্ক বৃদ্ধি একটি স্থিতিশীল সম্পর্ক বজায় রাখতে সাহায্য করতে পারে। বাংলাদেশের পণ্য আমদানির সর্বোচ্চ ৪৩ শতাংশ ভারত ও চীন থেকে আসে। সেই তুলনায় দেশ দুটিতে রপ্তানি খুবই নগণ্য, মাত্র ৫ শতাংশ। ফলে ভারত ও চীনের সঙ্গে দ্বিপক্ষীয় বাণিজ্যে বেশ পিছিয়ে রয়েছে বাংলাদেশ। তাই এই সমস্যা সমাধানে উভয় দেশের সাথেই বাংলাদেশের কূটনৈতিক তৎপরতা বজায় রাখতে হবে। উভয় দেশের সাথেই বিভিন্ন উন্নয়ন প্রকল্পে নিবিড় ভাবে অংশগ্রহণ করে বাংলাদেশ ভূ-রাজনৈতিক ভারসাম্য বজায় রাখতে পারে।

বৈদেশিক প্রত্যক্ষ বিনিয়োগের জন্য তৎপর: বাংলাদেশে সরাসরি বিদেশি বিনিয়োগে (এফডিআই) শীর্ষ দেশের মধ্যে চীন ও ভারত থাকলেও উভয় দেশের মোট বিনিয়োগের পরিমাণ ৪১৬ মিলিয়ন ডলার। বাংলাদেশ ব্যাংকের তথ্যানুযায়ী, চলতি বছরের জুন পর্যন্ত দেশে ৭১২.৪৪ মিলিয়ন ডলারের এফডিআই এসেছে। তার মধ্যে চীনের বিনিয়োগ ২৮৩.৫৬ মিলিয়ন ডলার। আর ভারতের বিনিয়োগের পরিমাণ ১৩২.৮৩ মিলিয়ন ডলার। উভয় দেশের সাথে আমাদের নানামুখী সু-সম্পর্ক বজায় থাকলেও বাংলাদেশের উচিত উভয় দেশের সাথে FDI বাড়ানোর লক্ষ্যে কূটনৈতিক তৎপরতা বজায় রাখা। এতে ভূ-রাজনৈতিক ভারসাম্য বজায় রাখার পাশাপাশি দেশের বিনিয়োগ বৃদ্ধিতে ভূমিকা পালন করবে।

বিভিন্ন আঞ্চলিক সংস্থায় যোগদান: বাংলাদেশ বিভিন্ন আঞ্চলিক সংস্থাগুলির সক্রিয় সদস্য হওয়ায় মধ্য দিয়ে উভয় দেশের সাথেই বিভিন্ন ক্ষেত্রে সম্পর্কের উন্নয়ন করা সম্ভব। বিশ্বের বৃহত্তম অর্থনৈতিক জোট RCEP তে ভারত-চীন উভয় দেশই সদস্য। RCEP এবং BRICS এর মতো প্ল্যাটফর্মগুলি সংলাপ এবং সহযোগিতার সুযোগ প্রদান করে। এর ফলে উভয় দেশের সাথে বাংলাদেশের বোঝাপড়া বৃদ্ধি পাবে।

আঞ্চলিক বিভিন্ন সংকটে উভয় দেশের কাছ থেকে দাবী আদায়: চীন ও ভারতের সঙ্গে বাংলাদেশের সু-সম্পর্ক থাকা সত্ত্বেও রোহিঙ্গা ইস্যুতে তারা সবসময়ই মিয়ানমারের পক্ষে অবস্থান নিয়েছে। ফলে রোহিঙ্গা সমস্যার সমাধানের আশা কার্যত সুদূর পরাহত হয়েছে। অধিকন্তু কৌশলগত স্বার্থের কারণে মিয়ানমারকে পাশে পাওয়ার জন্য চীন ও ভারত উঠে পড়ে লেগেছে। এ অবস্থায় বাংলাদেশের উচিত এই সংকট মোকাবিলায় উভয় দেশের সাথে একসাথে ত্রিপাক্ষিক আলোচনায় বসে বাংলাদেশের পক্ষে জনমত নিয়ে আসা।

সংঘাতের সমাধান: বাংলাদেশের সাথে চীন ও ভারত উভয়েরই সু-সম্পর্ক রয়েছে। যে সকল ক্ষেত্রে ভারত ও চীনের মধ্যে বিরোধ বা দ্বন্দ্ব আছে, বাংলাদেশ শান্তিপূর্ণ সমাধানের জন্য মধ্যস্থতাকারী বা সহায়ক হিসেবে গঠনমূলক ভূমিকা পালন করতে পারে। এটি আঞ্চলিক স্থিতিশীলতার প্রতি বাংলাদেশের যে দৃঢ় আকাঙ্ক্ষা তার বহিঃপ্রকাশ প্রদর্শন করে।

বৈদেশিক সম্পর্কের বৈচিত্র্য আনয়ন: ভারত ও চীনের পাশাপাশি, বাংলাদেশের উচিত অন্যান্য দেশ ও অঞ্চলের সাথে সম্পৃক্ততার মাধ্যমে বৈদেশিক সম্পর্কের বৈচিত্র্য অব্যাহত রাখা। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও অন্যান্য পশ্চিমা দেশের সাথে, আঞ্চলিক বিভিন্ন রাষ্ট্রে যেমন: নেপাল, ভুটান, আসিয়ানভুক্ত দেশের সাথে বাংলাদেশের সম্পর্ক উন্নয়নের মাধ্যমে বাংলাদেশ আন্তর্জাতিক রাজনীতির মেরুকরণের স্বীকার হওয়া থেকে বাঁচতে পারবে। এটি যেকোনো একটি দেশের ওপর নির্ভরশীলতা কমায় এবং কূটনৈতিক বিকল্প বৃদ্ধি করে।

সাংস্কৃতিক এবং জনগণের মধ্যে বন্ধন: ভারত ও চীনের সাথে সাংস্কৃতিক এবং জনগণের মধ্যে সম্পর্ক জোরদার করার সদিচ্ছা ও বোঝাপড়াকে বৃদ্ধি করতে সরকার নানা পদক্ষেপ নিতে পারে। সাংস্কৃতিক বিনিময়, শিক্ষামূলক কর্মসূচি এবং পর্যটনে ইতিবাচক সম্পর্ক গড়ে তুলতে অবদান রাখতে পারে।

স্বচ্ছতা এবং উন্মুক্ত যোগাযোগ: ভারত ও চীন উভয়ের সাথে স্বচ্ছ এবং উন্মুক্ত যোগাযোগ বজায় রাখতে ভারত-চীন দুইটি দেশকে নিয়ে একটি আলোচনার ক্ষেত্র প্রস্তুতি সরকার প্রচেষ্টা চালাতে পারে। এতে ভুল বোঝাবুঝি এড়িয়ে বাংলাদেশ তার পররাষ্ট্র নীতি এবং উদ্দেশ্যগুলি স্পষ্টভাবে উভয় দেশের কাছে ব্যক্ত করতে পারে।

নিরাপত্তা জোট এড়ানো: নিরাপত্তা জোটে প্রবেশের ব্যাপারে বাংলাদেশের সতর্ক হওয়া উচিত যা এটিকে ভারত ও চীনের মধ্যে সংঘাতের দিকে নিয়ে যেতে পারে। নিরাপত্তার বিষয়ে একটি নিরপেক্ষ অবস্থান বজায় রাখা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। বাংলাদেশের ভারত-মার্কিন QUAD জোট, মার্কিন Indo pacific Strategy সহ বিভিন্ন জোটে অংশ নেয়ার আগে ভারত-চীন উভয় দেশের সাথেই আলোচনা করা উচিত।

কূটনৈতিক দক্ষতা: ভারত-চীন উভয় দেশের সাথে বাংলাদেশ ভূ-রাজনৈতিক ভারসাম্য বজায় রাখতে দক্ষ কূটনীতি অপরিহার্য। বাংলাদেশের যোগ্য কূটনীতিক থাকা উচিত যারা দুটি প্রধান শক্তির সাথে সম্পর্কের ভারসাম্য রক্ষার জটিলতাগুলি কার্যকরভাবে নেভিগেট করতে পারে। এক্ষেত্রে বাংলাদেশ “strategic ambiguity” পন্থা অবলম্বন করতে পারে।

সাম্প্রতিক সাফল্যের উদাহরণ

বাংলাদেশ দীর্ঘদিন ধরে বঙ্গোপসাগরে একটি গভীর সমুদ্র বন্দর নির্মাণ করতে চেয়েছে। এতে দেশের আন্তর্জাতিক বাণিজ্যের নতুন দ্বার উন্মোচিত হবে বলে বিশেষজ্ঞদের মত। এই অবস্থায় এ প্রকল্পটি জাতীয় এজেন্ডায় উচ্চ অগ্রাধিকার। সোনাদিয়ায় প্রকল্পটি নির্মাণের জন্য চীন কয়েক দশক ধরে বাংলাদেশ সরকারের কাছে তৎপর ছিল। কিন্তু ভারতের বিরোধিতার কারণে বাংলাদেশ সোনাদিয়ায় প্রকল্পটি বাস্তবায়নে বিরত থাকে। ভূ-রাজনৈতিক বাস্তবতাকে স্বীকৃতি দিয়ে জাপানের অর্থায়নে মাতারবাড়িতে গভীর সমুদ্র বন্দর নির্মাণে কাজ শুরু করে বাংলাদেশ। এতে একদিকে যেমন ভারত-বাংলাদেশের সম্পর্ক ঠিক থাকে তেমনি জাপানি অর্থায়ন হওয়ায় চীন সরাসরি এর বিরোধিতা থেকে বিরত থাকে।

এখন পর্যন্ত চীন ও ভারতের মধ্যে একটা ‘ব্যালান্সিং গেম’ বা ভারসাম্য নীতি বজায় রেখেছে বাংলাদেশ। কিন্তু এ ভারসাম্য রাখাটা কঠিন ও ঝুঁকিপূর্ণ, কারণ ভারসাম্য রাখতে ব্যর্থতা যে কোনো একটি দেশের সঙ্গে শত্রুতা তৈরি করতে পারে। তাই বাংলাদেশের পররাষ্ট্রনীতির সফলতা নির্ভর করবে কতটা দক্ষতার সঙ্গে বাংলাদেশ এ ভারসাম্যের ‘দড়িতে হাঁটতে পারে।

ভূ-রাজনীতি ও পররাষ্ট্র নীতিতে সফল হওয়ার জন্য সব দেশের সঙ্গে বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক তৈরির পাশাপাশি সামরিক সক্ষমতা বৃদ্ধি বাংলাদেশের ভূ-রাজনৈতিক অবস্থানকে সুদৃঢ় করবে। এক্ষেত্রে বাংলাদেশের সতর্কভাবে পথ চলতে হবে। কেননা ভারসাম্যপূর্ণ নিরপেক্ষতা নীতি বাংলাদেশের ভূ-রাজনীতিতে গুরুত্বপূর্ণ ও তাৎপর্য ভূমিকা পালন করবে। অধিকন্তু প্রতিবেশী দেশের সঙ্গে সু-সম্পর্ক বাংলাদেশের ভূ-রাজনৈতিক অবস্থানকে সুদৃঢ় করবে। এখানে উল্লেখ্য, বাংলাদেশের স্বার্থকে সর্বোচ্চ প্রাধান্য দিয়ে চীন ও ভারতের সঙ্গে ব্যালেন্সিং সম্পর্কের পাশাপাশি যুক্তরাষ্ট্র, যুক্তরাজ্য ও ইউরোপীয় ইউনিয়নের সঙ্গে উষ্ণ কূটনৈতিক সম্পর্ক স্থাপনে মনোযোগী হতে হবে। আর তা হলেই ভবিষ্যতে যে কোনো সংকট মোকাবিলায় আমরা সফল হতে পারব এবং জটিল ভূ-রাজনীতির কবল থেকে দেশ মুক্ত থাকবে। এছাড়া যে কোনো সংকট ও পরিবর্তিত পরিস্থিতিতে দেশকে চাপমুক্ত রাখতে কৌশলগত ভূ-রাজনীতি অপরিহার্য। সর্বোপরি বৈরিতা নয় বরং সকল দেশের সাথেই বন্ধুত্ব সম্পর্কই দেশের ভূ-রাজনীতির ক্ষেত্রে সফলতা অর্জিত হবে। তাই বঙ্গবন্ধুর এ কূটনৈতিক দর্শনে আস্থা রেখে দেশের সামরিক সক্ষমতা অর্জনের পাশাপাশি প্রত্যেক দেশের সঙ্গে আমাদের কূটনৈতিক সম্পর্ক ও কর্মপরিধি বাড়িয়ে দেশের স্বার্থকে সমুন্নত রাখতে সচেষ্ট হতে হবে।

আরও পড়ুন

মন্তব্য করুন

Your email address will not be published. Required fields are marked *

সাহায্য লাগবে?
BCS Journey Support
● Online
×
💬Messenger ✈Telegram
BCS JOURNEY
BCS Journey
চ্যাট শুরু করুন ➜