● বিসিএস লিখিত: আন্তর্জাতিক বিষয়াবলি

জাতিসংঘের সঙ্গে বাংলাদেশের সম্পর্ক: পাঁচ দশকের বহুমাত্রিক অংশীদারিত্ব | বিসিএস লিখিত

📌 এক নজরে

পাঁচ দশকে জাতিসংঘের সাথে বাংলাদেশের সম্পর্ক বিশ্ব শান্তি, উন্নয়ন ও মানবিক মর্যাদা রক্ষার এক গভীর অংশীদারিত্বে রূপ নিয়েছে। এই পোস্টে উক্তিটির আলোকে স্বীকৃতি ও আদর্শিক বিজয়, দক্ষিণ-দক্ষিণ সহযোগিতা, শান্তিরক্ষা এবং জলবায়ু ও টেকসই উন্নয়নের ভূমিকা বিশ্লেষণ করা হয়েছে।

(ক) বিশ্ব দরবারে বাংলাদেশের কূটনৈতিক সাফল্য ও নেতৃত্ব অর্জনের প্রধান ক্ষেত্রগুলো কী কী? (খ) জাতিসংঘের শান্তিরক্ষা কার্যক্রমে বাংলাদেশের অবদান কীভাবে এটিকে একটি ব্র্যান্ড নেমে’ পরিণত করেছে? এর স্বীকৃতিসমূহ উল্লেখ করুন। (গ) রোহিঙ্গা সংকট ও জলবায়ু পরিবর্তনের মতো বৈশ্বিক চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় জাতিসংঘের প্ল্যাটফর্মে বাংলাদেশ কীভাবে নেতৃত্ব দিচ্ছে?

উত্তর: “বাংলাদেশ জাতিসংঘের গুরুত্বপূর্ণ অংশীদার: বাংলাদেশ আন্তর্জাতিক শান্তি ও নিরাপত্তা, টেকসই উন্নয়ন, জলবায়ু পরিবর্তন মোকাবিলাসহ জাতিসংঘের অনেক কর্মযজ্ঞে উল্লেখযোগ্য অবদান রেখে চলেছে এবং সেই কারণে আমরা বাংলাদেশকে জাতিসংঘের গুরুত্বপূর্ণ অংশীদার হিসেবে বিবেচনা করি।”

—জাতিসংঘ মহাসচিব, আন্তোনিও গুতেরেস

১৯৭৪ সালের ১৭ সেপ্টেম্বর জাতিসংঘের ১৩৬তম সদস্য হিসেবে বাংলাদেশের অন্তর্ভুক্তি ছিল বিশ্বমঞ্চে এক নবীন রাষ্ট্রের গৌরবোজ্জ্বল অগ্রযাত্রার সূচনা। বিগত পাঁচ দশকে বাংলাদেশ শুধু জাতিসংঘের কাছ থেকে সহায়তাপ্রাপ্ত দেশ হিসেবেই থাকেনি, বরং সংস্থাটির শান্তি, নিরাপত্তা, উন্নয়ন ও মানবিক কার্যক্রমের এক অপরিহার্য ও নেতৃত্বদানকারী অংশীদার হিসেবে নিজেকে প্রতিষ্ঠা করেছে। আলোচ্য উক্তিটি এই রূপান্তরেরই প্রতিচ্ছবি।

বাংলাদেশের কূটনৈতিক অগ্রযাত্রার সোপান

(ক) বিশ্ব দরবারে বাংলাদেশের কূটনৈতিক সাফল্য ও নেতৃত্ব অর্জনের প্রধান ক্ষেত্রসমূহ:

জাতিসংঘকে কেন্দ্র করে বিশ্ব দরবারে বাংলাদেশ উল্লেখযোগ্য কূটনৈতিক সাফল্য অর্জন করেছে, যা এর আন্তর্জাতিক ভাবমূর্তি ও প্রভাব বৃদ্ধি করেছে। এর প্রধান ক্ষেত্রগুলো হলো:

১. বহুপাক্ষিক ফোরামে নীতি-নির্ধারণী নেতৃত্ব: সাধারণ পরিষদের সভাপতিত্ব (হুমায়ুন রশিদ চৌধুরী, ১৯৮৬-৮৭) থেকে শুরু করে নিরাপত্তা পরিষদ, ECOSOC এবং মানবাধিকার কাউন্সিলের সদস্য হিসেবে বাংলাদেশ সর্বদা উন্নয়নশীল বিশ্বের বলিষ্ঠ কণ্ঠস্বর হিসেবে কাজ করেছে।

সদস্যপদ লাভ

১৯৭৪ সালে জাতিসংঘের সদস্যপদ লাভ

মাতৃভাষা দিবসের স্বীকৃতি

১৯৯৯ সালে আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবসের স্বীকৃতি লাভ করে।

LDC গ্রাজুয়েশন

২০২৬ সালে বাংলাদেশ LDC গ্রাজুয়েশনের পথে।

সাধারণ পরিষদের সভাপতিত্ব

১৯৮৬-৮৭ সালে বাংলাদেশ সাধারণ পরিষদের সভাপতিত্ব করে।

পিসবিল্ডিং কমিশনের নেতৃত্ব

বাংলাদেশ পিসবিল্ডিং কমিশনের নেতৃত্ব দেয়।

বহুপাক্ষিক নেতৃত্ব

বাংলাদেশ CVF সভাপতিত্বের মাধ্যমে বহুপাক্ষিক নেতৃত্ব দেয়।

  • পিসবিল্ডিং কমিশন (PBC): বাংলাদেশ জাতিসংঘের পিসবিল্ডিং কমিশনের অন্যতম প্রতিষ্ঠাতা সদস্য এবং এর সভাপতিত্বও করেছে, যা যুদ্ধ-পরবর্তী দেশগুলোতে শান্তি বিনির্মাণে এর দক্ষতার পরিচায়ক।
  • নিরস্ত্রীকরণ: পারমাণবিক অস্ত্রের বিস্তার রোধ (NPT) এবং Comprehensive Test Ban Treaty (CTBT) সহ সকল প্রকার নিরস্ত্রীকরণ চুক্তির পক্ষে বাংলাদেশ জোরালো ভূমিকা পালন করে।

২. স্বীকৃতি ও আদর্শিক বিজয়:

  • আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস: ১৯৯৯ সালে ইউনেস্কো কর্তৃক ২১শে ফেব্রুয়ারিকে আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবসের স্বীকৃতি বাংলাদেশের শ্রেষ্ঠতম কূটনৈতিক বিজয়।
  • স্বল্পোন্নত দেশ (LDC) থেকে উত্তরণ: জাতিসংঘের Committee for Development Policy (CDP) কর্তৃক নির্ধারিত তিনটি সূচকই পূরণ করে বাংলাদেশ ২০২৬ সালে LDC কাতার থেকে চূড়ান্তভাবে উত্তরণের পথে রয়েছে। এটি বাংলাদেশের অর্থনৈতিক সক্ষমতা ও কূটনৈতিক সাফল্যের এক বিরাট স্বীকৃতি।

৩. দক্ষিণ-দক্ষিণ সহযোগিতা (South-South Cooperation):

বাংলাদেশ উন্নয়নশীল দেশগুলোর মধ্যে জ্ঞান, অভিজ্ঞতা ও প্রযুক্তি বিনিময়ের অন্যতম প্রবক্তা। বাংলাদেশের উন্নয়ন মডেল (যেমন: ক্ষুদ্রঋণ, গ্রামীণ উন্নয়ন, দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা) অনেক দেশের জন্য অনুকরণীয় হওয়ায় এই সহযোগিতার ক্ষেত্রে বাংলাদেশের নেতৃত্বমূলক ভূমিকা রয়েছে।

(খ) জাতিসংঘের শান্তিরক্ষা কার্যক্রমে বাংলাদেশের অবদান এবং ‘ব্র্যান্ড নেম’-এ রূপান্তর:

জাতিসংঘের শান্তিরক্ষা কার্যক্রমে বাংলাদেশের অংশগ্রহণ শুধু একটি রুটিন দায়িত্ব নয়, বরং এটি একটি বৈশ্বিক ‘ব্র্যান্ড নেমে’ পরিণত হয়েছে। এর কারণ ও স্বীকৃতিসমূহ নিম্নরূপ:

‘ব্র্যান্ড নেমে’ পরিণত হওয়ার কারণ:

  1. ১দীর্ঘ সময় ধরে সর্বাধিক সৈন্য প্রেরণকারী দেশ: ১৯৮৮ সালে ইরান-ইরাক শান্তি মিশনে (UNIIMOG) যোগদানের মাধ্যমে বাংলাদেশের যাত্রা শুরু হয়। এরপর থেকে বাংলাদেশ ধারাবাহিকভাবে সর্বোচ্চ শান্তিরক্ষী প্রেরণকারী দেশগুলোর অন্যতম। জাতিসংঘের শান্তিরক্ষা মিশনে ২০২৫ সালের ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত প্রকাশিত তথ্য থেকে দেখা যাচ্ছে নেপাল ৫,৯৫১ জন পাঠিয়ে শীর্ষে রয়েছে। বাংলাদেশ ৫,৬৭৭ জনের মাধ্যমে রয়েছে তৃতীয় স্থানে। দীর্ঘ সময় ধরে প্রথম বা দ্বিতীয় স্থানে থাকার রেকর্ড বাংলাদেশের রয়েছে।

‘নীল হেলমেট’ পরে বিশ্বশান্তির মঞ্চে বাংলাদেশের পথচলা শুরু ১৯৮৮ সালে। তখন জাতিসংঘের ইরান-ইরাক সামরিক পর্যবেক্ষক মিশনে ১৫ জন সদস্য পাঠিয়েছিল বাংলাদেশ। এরই ধারাবাহিকতায় বর্তমানে ১০ দেশে শান্তির পতাকা হাতে নিয়োজিত আছেন ৪৪৪ নারীসহ ৫ হাজার ৮১৮ শান্তিরক্ষী [আপডেট: মে, ২০২৫]। বিশ্বশান্তি রক্ষার এ যাত্রায় ৩৫ বছরে জীবন দিয়েছেন ১৬৮ বাংলাদেশি শান্তিরক্ষী। আহত হয়েছেন অন্তত ২৫৭ জন। পেশাদারত্বের মাধ্যমে শান্তি রক্ষা মিশনে সৈন্য প্রেরণকারী শীর্ষ দেশগুলোর তালিকায় রয়েছে বাংলাদেশ। বর্তমানে বাংলাদেশ তৃতীয় শীর্ষ শান্তিরক্ষী প্রেরণকারী দেশ।

জাতিসংঘের শান্তিরক্ষা মিশনে

২০২৫ সালে বেশি অবদান যাদের (২০২৫ সালের ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত)

দেশ সংখ্যা
নেপাল ৫,৯৫১
রুয়ান্ডা ৫,৮৯৭
বাংলাদেশ ৫,৬৭৭
ভারত ৫,৩৭৫
পাকিস্তান ২,৪০৮
ইন্দোনেশিয়া ২,৭৬২
ঘানা ২,৬০৭
চীন ১,৭৯৭
  • Source: UN Peacekeeping
  • পেশাদারিত্ব ও মানবিকতা: বাংলাদেশি শান্তিরক্ষীরা কেবল সংঘাতপূর্ণ এলাকায় শান্তি প্রতিষ্ঠাই করে না, বরং রাস্তাঘাট, স্কুল, হাসপাতাল নির্মাণ এবং চিকিৎসাসেবা প্রদানের মতো মানবিক কার্যক্রমের মাধ্যমে স্থানীয় জনগণের আস্থা ও ভালোবাসা অর্জন করে। এই দ্বৈত ভূমিকা তাদের স্বাতন্ত্র্য দান করেছে।
  • অর্থনৈতিক গুরুত্ব: শান্তিরক্ষা কার্যক্রম বাংলাদেশের অন্যতম বৃহত্তম বৈদেশিক মুদ্রা আয়ের খাতে পরিণত হয়েছে, যা বছরে প্রায় ৩ হাজার কোটি টাকা আয় করে। এটি দেশের অর্থনীতিতে ইতিবাচক প্রভাব ফেলে।
সূচক তথ্য ও উপাত্ত
যাত্রা শুরু ১৯৮৮ (UNIIMOG, ইরান-ইরাক)
বর্তমান অবস্থান (মে, ২০২৫) তৃতীয় (৫,৮১৮ জন শান্তিরক্ষী)
নারী শান্তিরক্ষী ৪৪৪ জন (শীর্ষস্থানীয় দেশগুলোর অন্যতম)
অংশগ্রহণ ৬৩টি মিশন, ৪৩টি দেশে
বৈদেশিক মুদ্রা আয় প্রায় ৩ হাজার কোটি টাকা (বার্ষিক)
উল্লেখযোগ্য মিশন UNAMSIL (সিয়েরা লিওন), MONUSCO (ডিআর কঙ্গো), UNOCI (আইভরি কোস্ট)

আন্তর্জাতিক স্বীকৃতিসমূহ

  • ভাষাগত সম্মান: সিয়েরা লিওনে শান্তি প্রতিষ্ঠায় অনন্য অবদানের স্বীকৃতিস্বরূপ সেখানকার জনগণ ২০০২ সালে বাংলাকে তাদের অন্যতম রাষ্ট্রভাষার মর্যাদা দিয়েছে।
  • অবকাঠামোগত নামকরণ: লাইবেরিয়ায় একটি গুরুত্বপূর্ণ সড়কের নাম রাখা হয়েছে “বাংলাদেশ স্ট্রিট”।
  • জাতিসংঘের আনুষ্ঠানিক স্বীকৃতি: জাতিসংঘের মহাসচিব বিভিন্ন সময়ে বাংলাদেশি শান্তিরক্ষীদের পেশাদারিত্ব, শৃঙ্খলা ও সাহসিকতার ভূয়সী প্রশংসা করেছেন।
  • পদক ও পুরস্কার: বাংলাদেশি শান্তিরক্ষীরা তাদের বীরত্ব ও সেবার জন্য বিভিন্ন আন্তর্জাতিক পুরস্কারে ভূষিত হয়েছেন। এর মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলো ২০১৪ সালে “Thank A Peacekeeper” পুরস্কার এবং ২০২১ সালে ৮ জন শান্তিরক্ষীর মরণোত্তর “দ্যাগ হ্যামারশোল্ড পদক” লাভ।

এই সাফল্য ও স্বীকৃতিসমূহ সম্মিলিতভাবে শান্তিরক্ষা মিশনে বাংলাদেশকে একটি বিশ্বস্ত ও অপরিহার্য নামে পরিণত করেছে।

(গ) রোহিঙ্গা সংকট ও জলবায়ু পরিবর্তনে বাংলাদেশের নেতৃত্ব

বৈশ্বিক চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় বাংলাদেশ জাতিসংঘের প্ল্যাটফর্মকে কার্যকরভাবে ব্যবহার করে নেতৃত্বদানকারী ভূমিকা পালন করছে।

  • রোহিঙ্গা সংকট মোকাবিলা:

মানবিক আশ্রয়দান: ২০১৭ সাল থেকে মিয়ানমার থেকে বিতাড়িত ১১ লক্ষাধিক রোহিঙ্গাকে আশ্রয় দিয়ে বাংলাদেশ এক নজিরবিহীন মানবিকতার দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছে। সীমিত সম্পদ সত্ত্বেও এই বিশাল জনগোষ্ঠীর দায়িত্ব নেওয়ায় বাংলাদেশ বিশ্বব্যাপী প্রশংসিত হয়েছে।

কূটনৈতিক চাপ প্রয়োগ: প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূসের নেতৃত্বে বাংলাদেশ প্রতিনিধিদল কর্তৃক জাতিসংঘে রোহিঙ্গা সংকট বিষয়ক উচ্চপর্যায়ের সম্মেলনে যোগদান করা হয়েছে। সম্মেলনের পূর্বে, জাতিসংঘের শরণার্থী বিষয়ক হাইকমিশনারের (ইউএনএইচসিআর) সঙ্গে প্রধান উপদেষ্টার একটি বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। উক্ত বৈঠকে রাখাইনের অবনতিশীল মানবিক পরিস্থিতি, আন্তর্জাতিক সহায়তার ঘাটতি এবং রোহিঙ্গাদের স্বেচ্ছায়, নিরাপদ ও মর্যাদাপূর্ণ প্রত্যাবাসন নিশ্চিত করার চলমান প্রচেষ্টা নিয়ে গভীর আলোচনা করা হয়। গত ১৮ মাসে প্রায় দেড় লাখ নতুন রোহিঙ্গার আগমনে মানবিক পরিস্থিতি আরও জটিল হয়ে উঠেছে এবং আঞ্চলিক উত্তেজনা বৃদ্ধির বিষয়টি প্রধান উপদেষ্টার পক্ষ থেকে তুলে ধরা হয়। এই ঐতিহাসিক সম্মেলন থেকে রোহিঙ্গা সংকট নিরসনে একটি সুস্পষ্ট রোডম্যাপ তৈরি এবং জরুরি তহবিল সংগ্রহের জন্য আন্তর্জাতিক সমর্থন আদায় করা সম্ভব হবে বলে দৃঢ় আশাবাদ ব্যক্ত করা হয়েছে। বৈঠকে টেকসই সমাধানের লক্ষ্যে বৈশ্বিক শক্তিধর দেশগুলোর সঙ্গে কূটনৈতিক তৎপরতা আরও জোরদার করার জন্য বাংলাদেশকে আহ্বান জানানো হয়। সবশেষে, বাংলাদেশে রোহিঙ্গাদের চলমান শনাক্তকরণ প্রক্রিয়া সম্পর্কে অবহিত করা হয় এবং জানানো হয় যে এ পর্যন্ত প্রায় আড়াই লাখ রোহিঙ্গার যাচাই-বাছাই সম্পন্ন হয়েছে।

রোহিঙ্গা সংকট নিরসনে বাংলাদেশের প্রস্তাব: জাতিসংঘ সদর দপ্তরের সাধারণ পরিষদ হলে মিয়ানমারের রোহিঙ্গা মুসলিম ও অন্য সংখ্যালঘুদের পরিস্থিতি নিয়ে উচ্চপর্যায়ের আন্তর্জাতিক সম্মেলনে অনুষ্ঠিত হয়েছে। এতে সংকট সমাধানে সাতটি প্রস্তাব দিয়েছে বাংলাদেশ। বাংলাদেশের অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূস কর্তৃক এই প্রস্তাবগুলো বিশ্ব সম্প্রদায়ের সামনে তুলে ধরা হয় এবং সংকট নিরসনে সবার সহযোগিতা কামনা করা হয়। তাঁর বক্তব্যে বলা হয় যে, এই সংকটের উৎপত্তি মিয়ানমারে এবং সমাধানও সেখানেই নিহিত। মিয়ানমার ও আরাকান আর্মির ওপর কার্যকর চাপ প্রয়োগের মাধ্যমে রোহিঙ্গাদের ওপর নির্যাতন বন্ধ করে তাদের দ্রুত প্রত্যাবাসন শুরু করার জন্য আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের প্রতি আহ্বান জানানো হয়েছে। আন্তর্জাতিক তহবিলের ঘাটতির কথা উল্লেখ করে বলা হয় যে, প্রত্যাবাসনই একমাত্র শান্তিপূর্ণ এবং সাশ্রয়ী বিকল্প। এই সংকটের কারণে বাংলাদেশকে যে বিপুল আর্থিক, সামাজিক ও পরিবেশগত মূল্য দিতে হচ্ছে এবং এর ফলে সৃষ্ট মাদকসহ অন্যান্য আন্তঃসীমান্ত অপরাধমূলক কার্যকলাপ দেশের সামাজিক কাঠামোকে হুমকির মুখে ফেলছে, সে বিষয়টিও তুলে ধরা হয়।

জবাবদিহিতা নিশ্চিতকরণ: বাংলাদেশ শুধু আশ্রয় দিয়েই ক্ষান্ত হয়নি, বরং এই গণহত্যার বিচার নিশ্চিত করতে আন্তর্জাতিক বিচার আদালতে (ICJ) গাম্বিয়ার করা মামলাকে পূর্ণ সমর্থন ও সহায়তা জুগিয়ে যাচ্ছে।

আন্তর্জাতিকীকরণ: বাংলাদেশ সফলভাবে রোহিঙ্গা সংকটকে একটি দ্বিপাক্ষিক সমস্যা থেকে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের দায়িত্বে পরিণত করেছে। UNHCR, IOM, WFP-এর মতো জাতিসংঘের সংস্থাগুলোর সঙ্গে সমন্বয়ের মাধ্যমে বাংলাদেশ এই সংকট মোকাবিলা করছে।

জলবায়ু পরিবর্তন ও টেকসই উন্নয়ন:

ঝুঁকিপূর্ণ দেশগুলোর কণ্ঠস্বর: বাংলাদেশ বিশ্বের অন্যতম জলবায়ু ঝুঁকিপূর্ণ দেশ হওয়ায় এ বিষয়ে আন্তর্জাতিক ফোরামে সবচেয়ে সোচ্চার। ক্লাইমেট ভালনারেবল ফোরাম (CVF)-এর সভাপতি হিসেবে বাংলাদেশ জলবায়ু ন্যায়বিচার, উন্নত দেশগুলোর কাছ থেকে প্রতিশ্রুত ১০০ বিলিয়ন ডলারের জলবায়ু তহবিল নিশ্চিতকরণ এবং ‘লস অ্যান্ড ড্যামেজ’ (Loss and Damage) তহবিল বাস্তবায়নের দাবিতে নেতৃত্ব দিচ্ছে।

টেকসই উন্নয়নের রোল মডেল: জলবায়ু পরিবর্তনের সঙ্গে অভিযোজন এবং দুর্যোগ ব্যবস্থাপনায় বাংলাদেশের সাফল্য বিশ্বব্যাপী স্বীকৃত। নিজস্ব অর্থায়নে ‘ক্লাইমেট চেঞ্জ ট্রাস্ট ফান্ড’ গঠন এবং ‘ব-দ্বীপ পরিকল্পনা ২১০০’ (Delta Plan 2100) প্রণয়নের মতো উদ্যোগগুলো টেকসই উন্নয়নে বাংলাদেশের নেতৃত্বমূলক ভূমিকার প্রমাণ।

জাতিসংঘের সঙ্গে ৫০ বছরের পথচলায় বাংলাদেশ তার ভূমিকা ও অবস্থানের আমূল পরিবর্তন ঘটিয়েছে। নিছক সদস্য রাষ্ট্র থেকে আজ বাংলাদেশ বিশ্ব শান্তি, মানবিকতা ও টেকসই উন্নয়নের এক নীতি নির্ধারক ও নেতৃত্বের আসনে সমাসীন। শান্তিরক্ষা, জলবায়ু কূটনীতি এবং মানবিক সাড়ার মতো ক্ষেত্রগুলোতে বাংলাদেশের অবদান এটিকে বিশ্ব দরবারে এক দায়িত্বশীল, সক্রিয় ও অপরিহার্য রাষ্ট্র হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করেছে।

আরও পড়ুন

মন্তব্য করুন

Your email address will not be published. Required fields are marked *

সাহায্য লাগবে?
BCS Journey Support
● Online
×
💬Messenger ✈Telegram
BCS JOURNEY
BCS Journey
চ্যাট শুরু করুন ➜