● SSC জীববিজ্ঞান

দৃঢ়তা প্রদান ও চলন অধ্যায়ের নোট | জ্ঞানমূলক ও অনুধাবনমূলক প্রশ্ন উত্তর

দৃঢ়তা প্রদান ও চলন অধ্যায়ের নোট | SSC জীববিজ্ঞানের ৯ম অধ্যায় “দৃঢ়তা প্রদান ও চলন” জ্ঞানমূলক ও অনুধাবনমূলক প্রশ্ন উত্তর নিচে দেওয়া হলো। এই পোস্টে ৪৭টি জ্ঞানমূলক ও ৫টি অনুধাবনমূলক প্রশ্ন ও উত্তর আছে। বহুনির্বাচনি প্রশ্নের জন্য দৃঢ়তা প্রদান ও চলন অধ্যায়ের MCQ দেখুন।

দৃঢ়তা প্রদান ও চলন অধ্যায়ের জ্ঞানমূলক প্রশ্ন ও উত্তর

পেশি, চলনে অস্থি-পেশির ভূমিকা, টেনডন ও লিগামেন্ট

1। পেশিতন্ত্র কী নিয়ে গঠিত?

অনৈচ্ছিক পেশি, হৃৎপেশি ও ঐচ্ছিক কঙ্কাল পেশি নিয়ে পেশিতন্ত্র গঠিত।

2। পেশিতন্ত্রের কাজ কী কী?

অঙ্গ সঞ্চালন-চলাফেরা, দেহের আকার গঠন, গ্লাইকোজেন সঞ্চয়, হৃৎস্পন্দন-রক্ত সঞ্চালন এবং মলমূত্র ত্যাগের মতো স্বয়ংক্রিয় কাজ।

3। চলনে অস্থি ও পেশির ভূমিকা কী?

অস্থি কঙ্কাল গঠন করে, আর পেশি টেন্ডনের মাধ্যমে অস্থিকে আটকে সংকোচন-প্রসারণের মাধ্যমে নড়াচড়া করায়।

4। পেশি সংকোচন কীভাবে ঘটে?

স্নায়বিক উত্তেজনা পেশিতে উদ্দীপনা জাগালে পেশি সংকুচিত হয়, উদ্দীপনা সরে গেলে পেশি শিথিল বা প্রসারিত হয়।

5। কনুই বাঁকা করার সময় কী ঘটে?

ইচ্ছাধীন স্নায়ুর তাড়নায় বাইসেপস পেশি সংকুচিত হয় এবং ট্রাইসেপস পেশি শিথিল হয়ে প্রসারিত হয়, ফলে রেডিয়াস-আলনা হিউমেরাসের কাছে আসে।

6। কনুই সোজা করার সময় কী ঘটে?

ট্রাইসেপস পেশি সংকুচিত হয়ে রেডিয়াস-আলনাকে টেনে সোজা করে, আর বাইসেপস পেশি শিথিল হয়ে প্রসারিত হয়।

7। বাইসেপস ও ট্রাইসেপস পেশি কীভাবে বিপরীতভাবে কাজ করে?

একটি সংকুচিত হলে অন্যটি প্রসারিত হয়, এই বিপরীতমুখী ক্রিয়ার মাধ্যমেই অঙ্গের নড়াচড়া সম্ভব হয়।

8। টেনডন কী?

মাংসপেশির প্রান্তভাগ যে শক্ত দড়ির মতো অংশ দিয়ে অস্থির সাথে সংযুক্ত হয়, তাকে টেনডন বলে।

9। টেনডন কী দিয়ে গঠিত?

ঘন, শ্বেত তন্তুময় যোজক টিস্যু দিয়ে গঠিত, যার তন্তুগুলো গুচ্ছাকারে সমান্তরালভাবে বিন্যস্ত থাকে।

10। টেনডনের স্থিতিস্থাপকতা কেমন?

তুলনামূলকভাবে কম, এবং ছিঁড়ে গেলে সহজে জোড়া লাগে না।

11। টেনডনের কাজ কী?

পেশিকে অস্থির সাথে আটকে দেহকাঠামো গঠনে সাহায্য করে এবং চাপটানের বিরুদ্ধে যান্ত্রিক প্রতিরোধ গড়ে তোলে।

12। লিগামেন্ট বা অস্থিবন্ধনী কী?

যে কোমল কিন্তু দৃঢ় ও স্থিতিস্থাপক বন্ধনী দিয়ে অস্থিগুলো পরস্পরের সাথে সংযুক্ত থাকে, তাকে অস্থিবন্ধনী বা লিগামেন্ট বলে।

13। লিগামেন্ট কী দিয়ে গঠিত?

শ্বেততন্তু ও পীততন্তু এই দুই ধরনের ইলাস্টিক তন্তু দিয়ে গঠিত, যাতে পীতবর্ণের স্থিতিস্থাপক তন্তু বেশি থাকে।

14। লিগামেন্টের স্থিতিস্থাপকতা কেমন?

তুলনামূলকভাবে বেশি, কারণ এতে ইলাস্টিন প্রোটিন দিয়ে তৈরি ইলাস্টিক তন্তু বেশি থাকে।

15। লিগামেন্টের কাজ কী?

হাড়কে আটকে রেখে অঙ্গকে সবদিকে নড়াচড়া করতে সাহায্য করে এবং হাড় স্থানচ্যুত হতে বাধা দেয়।

মানবকঙ্কালের পরিচিতি ও কাজ

16। চলন কাকে বলে?

যে পদ্ধতিতে প্রাণী নিজ চেষ্টায় সাময়িকভাবে এক স্থান থেকে অন্য স্থানে যায়, তাকে চলন বলে।

17। কঙ্কালতন্ত্র কাকে বলে?

যে তন্ত্র দেহের কাঠামো গঠন করে, নির্দিষ্ট আকৃতি দেয়, অঙ্গকে আঘাত থেকে রক্ষা করে এবং চলনে সাহায্য করে, তাকে কঙ্কালতন্ত্র বলে।

18। পূর্ণবয়স্ক মানুষের কঙ্কালে কতটি অস্থি থাকে?

মোট ২০৬টি অস্থি; শিশুর কঙ্কালে অস্থির সংখ্যা আরও বেশি থাকে।

19। কঙ্কালতন্ত্র কী কী নিয়ে গঠিত?

অস্থি, তরুণাস্থি, পেশি, পেশিবন্ধনী (টেনডন) ও অস্থিবন্ধনী (লিগামেন্ট) নিয়ে গঠিত।

20। বহিঃকঙ্কাল ও অন্তঃকঙ্কাল কী?

বাইরে অবস্থিত অংশ (নখ, চুল, লোম) বহিঃকঙ্কাল এবং দেহের ভেতরের অস্থি-তরুণাস্থি দিয়ে গঠিত অংশ অন্তঃকঙ্কাল।

21। কঙ্কালের কাজগুলো কী কী?

দেহকাঠামো গঠন, রক্ষণাবেক্ষণ ও ভারবহন, নড়াচড়া-চলাচল, লোহিত রক্তকণিকা উৎপাদন এবং খনিজ লবণ সঞ্চয়।

22। কঙ্কাল কোন কোন অঙ্গকে সুরক্ষা দেয়?

মস্তিষ্ক করোটির মধ্যে, মেরুরজ্জু মেরুদণ্ডের ভেতরে এবং হৃৎপিণ্ড-ফুসফুস বক্ষগহ্বরে নিরাপদ থাকে।

23। অস্থিমজ্জা থেকে কী উৎপন্ন হয়?

লোহিত রক্তকণিকা উৎপন্ন হয়।

24। অস্থিতে কী কী খনিজ লবণ সঞ্চিত থাকে?

ক্যালসিয়াম, পটাশিয়াম ও ফসফরাস, যা অস্থিকে শক্ত ও মজবুত রাখে।

25। শিশুর কঙ্কালে অস্থির সংখ্যা বেশি থাকে কেন?

শিশুর কিছু অস্থি পরে বড় হওয়ার সাথে সাথে জোড়া লেগে একটি অস্থিতে পরিণত হয়, তাই পূর্ণবয়স্কদের তুলনায় শিশুর কঙ্কালে অস্থির সংখ্যা বেশি থাকে।

26। কঙ্কালতন্ত্র ও পেশিতন্ত্র একসাথে কী গঠন করে?

উভয়ে মিলে দেহের সঞ্চালন তন্ত্র গঠন করে, যার মাধ্যমে জীব চলাফেরা ও অঙ্গ সঞ্চালন করতে পারে।

অস্থি, তরুণাস্থি ও অস্থিসন্ধি

27। অস্থি কী?

যোজক কলার রূপান্তরিত রূপ, দেহের সবচেয়ে দৃঢ় কলা; এর মাতৃকা জৈব পদার্থ দিয়ে গঠিত এবং তাতে অস্থিকোষ ছড়ানো থাকে।

28। তরুণাস্থি কী?

অস্থির চেয়ে নরম ও নমনীয় এক ধরনের যোজক কলা, যা কঙ্কালের নমনীয় অংশ (যেমন নাক, কান) গঠন করে।

29। অস্থিসন্ধি কাকে বলে?

যে অংশে দুই বা ততোধিক অস্থি পরস্পর সংযুক্ত হয় এবং চলনে সাহায্য করে, তাকে অস্থিসন্ধি বলে।

30। সাইনোভিয়াল অস্থিসন্ধি কী?

যে অস্থিসন্ধিতে দুই বা ততোধিক অস্থি মিলিত হয়ে গঠিত হয় এবং সাইনোভিয়াল রস থাকে, তাকে সাইনোভিয়াল অস্থিসন্ধি বলে।

31। সাইনোভিয়াল অস্থিসন্ধির অংশগুলো কী কী?

তরুণাস্থিতে আবৃত অস্থিপ্রান্ত, সাইনোভিয়াল রস এবং লিগামেন্ট বেষ্টিত মজবুত ক্যাপসুল।

32। সাইনোভিয়াল রস ও তরুণাস্থির ভূমিকা কী?

অস্থিতে অস্থিতে ঘর্ষণ ও ক্ষয় হ্রাস করে এবং অস্থিসন্ধি নাড়াতে কম শক্তি ব্যয় হয়।

33। নিশ্চল অস্থিসন্ধি কাকে বলে ও উদাহরণ দাও।

যে অস্থিসন্ধি নাড়ানো যায় না তাকে নিশ্চল অস্থিসন্ধি বলে, উদাহরণ করোটিকা অস্থিসন্ধি।

34। ঈষৎ সচল অস্থিসন্ধি কাকে বলে ও উদাহরণ দাও।

যে অস্থিসন্ধি সামান্য নড়াচড়া করতে পারে তাকে ঈষৎ সচল অস্থিসন্ধি বলে, উদাহরণ মেরুদণ্ডের অস্থিসন্ধি।

35। পূর্ণ সচল অস্থিসন্ধি কাকে বলে?

যে অস্থিসন্ধি সহজে নাড়াচাড়া করানো যায় তাকে পূর্ণ সচল অস্থিসন্ধি বলে; শুধু সাইনোভিয়াল অস্থিসন্ধিই পূর্ণ সচল হতে পারে।

36। বল ও কোটরসন্ধি কী ও উদাহরণ দাও?

একটি অস্থির গোল মাথা অন্য অস্থির কোটরে বসে সকল দিকে নাড়ানো সম্ভব করে; উদাহরণ কাঁধ ও উরুসন্ধি।

37। কব্জাসন্ধি কী ও উদাহরণ দাও?

দরজার কব্জার মতো শুধু একদিকে নাড়ানো যায় এমন সন্ধি; উদাহরণ কনুই, জানু ও আঙুলের সন্ধি।

অস্থিসংক্রান্ত রোগ — অস্টিওপোরোসিস ও আর্থ্রাইটিস

38। অস্টিওপোরোসিস কী কারণে হয়?

দেহে ক্যালসিয়ামের ঘাটতির কারণে হয়, যাতে অস্থি ভঙ্গুর ও দুর্বল হয়ে যায়।

39। অস্টিওপোরোসিস কাদের বেশি হয়?

বয়স্ক পুরুষ-নারী, দীর্ঘদিন স্টেরয়েড সেবনকারী, মেনোপজ পরবর্তী নারী এবং অলস জীবনযাপনকারীদের বেশি হয়।

40। অস্টিওপোরোসিসের লক্ষণ কী কী?

অস্থি ভঙ্গুর হয়ে ঘনত্ব কমা, পেশির শক্তি কমা এবং পিঠ বা অস্থিতে ব্যথা।

41। অস্টিওপোরোসিসের প্রতিকার কী?

৫০ ঊর্ধ্বদের দৈনিক ১২০০ মিলিগ্রাম ক্যালসিয়াম গ্রহণ এবং দুগ্ধজাত দ্রব্য, কমলার রস, সবুজ শাকসবজি খাওয়া।

42। অস্টিওপোরোসিস প্রতিরোধে করণীয় কী?

পর্যাপ্ত সূর্যালোকের সংস্পর্শ, ক্যালসিয়াম-ভিটামিন D সমৃদ্ধ খাদ্য এবং নিয়মিত ব্যায়াম।

43। রিউমাটয়েড আর্থ্রাইটিস বা গেঁটে বাত কী?

শতাধিক প্রকার বাতরোগের মধ্যে একটি, যা সাধারণত বয়স্কদের বেশি হয়।

44। রিউমাটয়েড আর্থ্রাইটিসের লক্ষণ কী কী?

অস্থিসন্ধি বা গিঁটে প্রদাহ-ব্যথা, সন্ধি শক্ত হয়ে যাওয়া এবং গিঁট ফুলে যাওয়া।

45। রিউমাটয়েড আর্থ্রাইটিসের প্রতিকার কী?

অত্যধিক পরিশ্রম এড়ানো, কুসুম গরম সেঁক নেওয়া, হালকা ব্যায়াম এবং ডাক্তারের পরামর্শে বেদনা উপশমকারী ওষুধ সেবন।

46। বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকের পরামর্শ ছাড়া বাতের চিকিৎসা করা উচিত নয় কেন?

বিভিন্ন প্রকার অস্থিসন্ধির অসুখের লক্ষণ একইরকম মনে হলেও চিকিৎসা ভিন্ন হয়, তাই ভুল চিকিৎসায় উপকারের চেয়ে অপকার বেশি হতে পারে।

47। রিউমাটয়েড আর্থ্রাইটিস প্রতিরোধে করণীয় কী?

চিকিৎসক নির্দেশিত নিয়মে নিয়মিত ব্যায়াম করা এবং সুষম ও আঁশযুক্ত খাদ্য গ্রহণ করা।

দৃঢ়তা প্রদান ও চলন অধ্যায়ের অনুধাবনমূলক প্রশ্ন ও উত্তর

পেশি, চলনে অস্থি-পেশির ভূমিকা, টেনডন ও লিগামেন্ট

1। বাইসেপস ও ট্রাইসেপস পেশি একসাথে সংকুচিত হয় না কেন— ব্যাখ্যা করো।

কনুইয়ের নড়াচড়ার জন্য একটি পেশি সংকুচিত হওয়ার সাথে সাথে বিপরীত পেশিটি শিথিল বা প্রসারিত হতে হয়, যদি উভয় পেশি একসাথে সংকুচিত হতো তাহলে অস্থি কোনো দিকেই নড়তে পারত না, তাই এই বিপরীতমুখী ক্রিয়া প্রয়োজনীয়।

2। টেনডন ছিঁড়ে গেলে সহজে জোড়া লাগে না কিন্তু লিগামেন্টের স্থিতিস্থাপকতা বেশি— ব্যাখ্যা করো।

টেনডন ঘন শ্বেত তন্তু দিয়ে গঠিত যার স্থিতিস্থাপকতা কম এবং রক্তসঞ্চালন সীমিত থাকায় ছিঁড়ে গেলে সহজে জোড়া লাগে না; কিন্তু লিগামেন্টে ইলাস্টিন প্রোটিনযুক্ত পীততন্তু বেশি থাকায় এটি বেশি স্থিতিস্থাপক হয়ে অঙ্গকে সবদিকে বাঁকতে সাহায্য করে।

মানবকঙ্কালের পরিচিতি ও কাজ

3। কঙ্কালতন্ত্র ছাড়া মানবদেহের অস্তিত্ব কল্পনা করা যায় না কেন— ব্যাখ্যা করো।

কঙ্কালতন্ত্র দেহকে নির্দিষ্ট আকার দেয়, কোমল অভ্যন্তরীণ অঙ্গকে সুরক্ষা দেয়, পেশির সাথে যুক্ত হয়ে চলাচলে সহায়তা করে এবং রক্তকণিকা উৎপাদন ও খনিজ সঞ্চয় করে, তাই কঙ্কালতন্ত্র ছাড়া দেহের গঠন, সুরক্ষা ও কার্যক্ষমতা কোনোটিই সম্ভব নয়।

অস্থি, তরুণাস্থি ও অস্থিসন্ধি

4। মেরুদণ্ডের অস্থিসন্ধিকে ঈষৎ সচল বলা হয় কেন— ব্যাখ্যা করো।

মেরুদণ্ডের প্রতিটি কশেরুকা পরস্পরের সাথে দৃঢ়ভাবে যুক্ত থাকলেও প্রতিটি সন্ধিতে সামান্য পরিমাণ নড়াচড়ার সুযোগ থাকে, এই সামান্য নড়াচড়াগুলো মিলিতভাবে দেহকে সামনে-পিছনে-পাশে বাঁকানোর সুযোগ দেয়, তাই একে ঈষৎ সচল অস্থিসন্ধি বলা হয়।

অস্থিসংক্রান্ত রোগ — অস্টিওপোরোসিস ও আর্থ্রাইটিস

5। মেনোপজ পরবর্তী নারীদের অস্টিওপোরোসিসের ঝুঁকি বেশি থাকে কেন— ব্যাখ্যা করো।

মেনোপজের পর নারীদের দেহে ইস্ট্রোজেন হরমোনের মাত্রা কমে যায়, আর এই হরমোন অস্থির ঘনত্ব বজায় রাখতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে, তাই এর ঘাটতিতে অস্থির ঘনত্ব ও পুরুত্ব কমে গিয়ে অস্টিওপোরোসিসের ঝুঁকি বৃদ্ধি পায়।

আরও পড়ুন

SSC জীববিজ্ঞান-এর সব পোস্ট

মন্তব্য করুন

Your email address will not be published. Required fields are marked *

সাহায্য লাগবে?
BCS Journey Support
● Online
×
💬Messenger ✈Telegram
BCS JOURNEY
BCS Journey
চ্যাট শুরু করুন ➜