● বিসিএস লিখিত: আন্তর্জাতিক বিষয়াবলি

অর্থনৈতিক কূটনীতি কী? বাংলাদেশের পররাষ্ট্রনীতিতে গুরুত্ব ও করণীয় | বিসিএস লিখিত

📌 এক নজরে

অর্থনৈতিক কূটনীতি হলো সেই প্রক্রিয়া, যার মাধ্যমে দেশগুলো আন্তর্জাতিক পরিবেশে অর্থনৈতিক স্বার্থ অর্জনে কাজ করে। ৪০তম বিসিএস লিখিত পরীক্ষায় বাংলাদেশের প্রেক্ষাপটে এর গুরুত্ব ও সফলতার পদক্ষেপ জানতে চাওয়া হয়েছিল। এই পোস্টে তিন অংশেরই উত্তর পাবেন।

উত্তরঃ

অর্থনৈতিক কূটনীতি কী?

Economic diplomacy is the process through which countries tackle the outside word, to maximize their national gain in all the fields of activity including trade, investment and other forms of economically beneficial exchanges, where they enjoy comparative advantage; it has bilateral, regional and multilateral dimensions, each of which is important’. – কূটনীতিবিদ রানা

মুক্তবাজারের ধারণে সার্ভিস অ্যাসোসিয়েশন এর মতে, “অর্থনৈতিক কূটনীতি একটি দেশের অর্থনৈতিক, রাজনৈতিক এবং কৌশলগত লক্ষগুলিকে এগিয়ে নিতে অর্থনৈতিক সম্পর্ক বা কৌশলগত অর্থনৈতিক সুবিধার সাথে কূটনৈতিক দক্ষতা ব্যবহার করে।” অর্থনৈতিক কূটনীতি বলতে কোনো রাষ্ট্রের অর্থনৈতিক স্বার্থকে এগিয়ে নেওয়ার লক্ষ্যে যে কোনো কূটনৈতিক কার্যকলাপকেই বোঝায়। সংক্ষেপে অর্থ, অর্থনৈতিক কূটনীতি হল একটি দেশের রপ্তানি উন্নয়ন এবং অভ্যন্তরীণ বিনিয়োগ বাড়াতে গ্রহণ করা নীতিমালা। একে কখনও কখনও বাণিজ্যিক কূটনীতি বলা হয়।

সাম্প্রতিক বছরগুলোতে বাংলাদেশের মতো উন্নয়নশীল দেশের জাতীয় স্বার্থকে সর্বাধিকীকরণের ক্ষেত্রে অর্থনৈতিক কূটনীতি একটি স্বতন্ত্র গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা লাভ করেছে।

বর্তমানে বিশ্বের বিভিন্ন রাষ্ট্রের মধ্যে গড়ে ওঠা আঞ্চলিক ও আন্তর্জাতিক অর্থনৈতিক ও বাণিজ্যিক জোটসমূহ যেমন- বিশ্ব বাণিজ্য সংস্থা (WTO), আন্তর্জাতিক অর্থ তহবিল (IMF), বিশ্বব্যাংক (World Bank), আসিয়ান (ASEAN), ইউরোপীয় ইউনিয়ন (EU), জি-৮ (G-8), সাফটা (SAFTA), নাফটা (NAFTA) ইত্যাদি অর্থনৈতিক কূটনীতির প্রতিষ্ঠার ফল।

অর্থনৈতিক কূটনীতির মূল উদ্দেশ্য হলো

    1. ১বৈদেশিক বিনিয়োগকে আকর্ষণ করা
    1. ১রপ্তানি বৃদ্ধিে ব্যবস্থা গ্রহণ করা
    1. ১শ্রমশক্তি বিদেশে রপ্তানিকক্ষে ব্যবস্থা গ্রহণ করা

বাংলাদেশের পররাষ্ট্রনীতিতে অর্থনৈতিক কূটনীতির গুরুত্ব

বিশ্বের বিভিন্ন দেশে বাংলাদেশের রপ্তানি বৃদ্ধি এবং আমাদের দেশে উৎপাদিত পণ্যের নতুন বাজার তৈরির পাশাপাশি বাংলাদেশে বৈদেশিক বিনিয়োগ বৃদ্ধি ও আমাদের উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রা অর্জনের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। বাংলাদেশ বিনিয়োগ উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ (বিডা) গঠনের মাধ্যমে সরকার বিদেশি বিনিয়োগকারীদের জন্য বিভিন্ন ধরনের প্রণোদনা প্রদান করছে। বাংলাদেশে যে ১০০টি বিশেষ অর্থনৈতিক অঞ্চল এবং ২৮টি হাই-টেক পার্ক সৃষ্টি করা হয়েছে, সেখানে বিদেশি বিনিয়োগ আকর্ষণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছে বলে আশা করা হচ্ছে।

Economic Diplomacy-এর ৫টি ক্ষেত্র

  • বৈদেশিক বিনিয়োগ বৃদ্ধি (More foreign investment)
  • বাণিজ্য ও রপ্তানি বৃদ্ধি (More trade and export diversity)
  • দক্ষ জনশক্তি তৈরি ও রপ্তানি বাজার সৃষ্টি (Skilled Employment of human resources both in home & abroad)
  • প্রযুক্তির বিনিময় নিশ্চিত করা (Transfer of technology)
  • বাংলাদেশী অভিবাসীদের সেবা নিশ্চিত করা (Quality Service to Bangladeshi Diaspora & to Other)

সময়ের চাহিদা পূরণে পররাষ্ট্রনীতিতেও সংযোজন ও পরিবর্তন অনিবার্য হয়ে ওঠে। বাংলাদেশের বর্তমান ও ভবিষ্যত চ্যালেঞ্জ মোকাবেলায় বর্তমানে পররাষ্ট্রনীতিতে বিশেষ গুরুত্ব পাচ্ছে অর্থনৈতিক কূটনীতি। ভবিষ্যতে অর্থনৈতিক কূটনীতিই হবে বাংলাদেশের পররাষ্ট্রনীতির অন্যতম চালিকাশক্তি।

বাংলাদেশের উন্নয়ন সহযোগী রাষ্ট্রগুলোর সঙ্গে পারস্পরিক সম্পর্ক উন্নয়নের পাশাপাশি বিদেশী বিনিয়োগ আহরণ, দক্ষ জনশক্তি রপ্তানি বৃদ্ধি এবং নতুন বাজার সম্প্রসারণের মাধ্যমে আর্থিক বুনিয়াদের ভিত্তি আরও মজবুত করার জন্য বিভিন্ন স্তরে যোগাযোগ বাড়ানোতে অর্থনৈতিক কূটনীতির বিকল্প নেই।

অর্থনৈতিক কূটনীতির উপর বৃহত্তর জোর দেওয়ার প্রয়োজনীয়তা এখন সর্বজনীনভাবে স্বীকৃত। রাজনীতি এখন আর অর্থনীতিকে চালিত করে না বরং অর্থনীতি রাজনীতিকে চালিত করে। বাংলাদেশের বৈদেশিক নীতির লক্ষ্যমাত্রা অর্জনের প্রচেষ্টায় অর্থনৈতিক বিবেচনা অবশ্যই প্রাধান্য দিতে হবে। অর্থনৈতিক কূটনীতির ফ্রন্টে বাংলাদেশকে অবস্থান করে নিতে হবে। এতে করে জনগণের প্রকৃত স্বার্থ তথা অর্থনৈতিক স্বাধীনতা, দেশের আর্থ-রাজনৈতিক স্থিতিশীলতার অর্জিত হবে। এর ফলে বাংলাদেশ তাঁর কাঙ্ক্ষিত লক্ষ্যমাত্রায় পৌঁছাতে পারবে।

অর্থনৈতিক কূটনীতি সফল করতে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ –

বাংলাদেশের মতো উন্নয়নশীল দেশকে অর্থনৈতিক কূটনীতিতে সফল হতে হলে অত্যন্ত দক্ষতার সাথে বর্তমানের ক্রমপরিবর্তনশীল বিশ্বব্যবস্থার সাথে তাল মিলিয়ে চলতে হবে। এজন্য কিছু পদক্ষেপ গ্রহণ করা যেতে পারে। যেমন-

  • অর্থনৈতিক কূটনীতিকে এগিয়ে নেয়ার জন্য প্রথমত বাংলাদেশ দূতাবাসগুলোর সক্রিয়তা বাড়াতে হবে। এজন্য সরকার এ বিষয়টি সম্পর্কে সম্পূর্ণ সচেতন এবং মুখ্য ভূমিকা পালন করার জন্য বিদেশে বাংলাদেশ দূতাবাসগুলোকে নির্দেশনা প্রদান করেছে।
  • আগামী কয়েক বছরে বাংলাদেশে কোন্ দেশ কী পরিমাণ বাণিজ্য ও বিনিয়োগ বাড়তে পারে তার একটি রূপরেখা দিতে বিদেশে বাংলাদেশের দূতাবাসগুলোকে জোরালো ভূমিকা পালন করতে হবে।
  • ব্র্যান্ডিংয়ের মাধ্যমে বিদেশে বাংলাদেশকে তুলে ধরে দেশের মর্যাদা বাড়ানোর ক্ষেত্রে সরকারকে পদক্ষেপ গ্রহণ করতে হবে। বিদেশে গণমাধ্যমগুলোতে বাংলাদেশের একটি ইতিবাচক ইমেজ তুলে ধরতে হবে। এক্ষেত্রে সরকার জনকূটনীতির আশ্রয় গ্রহণ করতে পারে। সত্যিকার অর্থে তুলে ধরার কাজটি হয়নি সেভাবে।
  • দেশের আন্তর্জাতিক বাণিজ্য সঙ্কট দূর করা, নতুন শ্রমবাজার তৈরি, বন্ধ বাজার খোলাকে কূটনৈতিক সম্পর্কের দায়িত্বের মধ্যে নিতে হবে। একই সঙ্গে উন্নত প্রযুক্তি আহরণ ও ব্যবসা-বাণিজ্য বাড়ানোর জন্য দূতাবাসগুলোর সক্রিয় উদ্যোগ নেয়া প্রয়োজন। কেন্দ্রীয়ভাবেও বিষয়টি মনিটর করাও আবশ্যক।
  • অর্থনৈতিক কূটনীতির সাফল্যের জন্য বাংলাদেশকে বাণিজ্য, প্রযুক্তি এবং বিনিয়োগ প্রবাহে স্থিতিশীল প্রবৃদ্ধি নিশ্চিত করতে হবে। এজন্য বাংলাদেশের উচিত আধুনিক যোগাযোগ ব্যবস্থা তথা সড়ক, মহাসড়ক এবং বিমানবন্দর নির্মাণ এবং ভ্রমণ ও পর্যটনের উন্নয়নে সচেতনভাবে নিজেকে সম্পৃক্ত করার মাধ্যমে আঞ্চলিক দেশগুলোর সাথে ভৌগোলিক ও সাংস্কৃতিক উভয় ধরনের যোগাযোগের উন্নয়ন করা।

একটি রোডম্যাপ তৈরির মাধ্যমে নির্ধারিত লক্ষ্য বাস্তবায়ন করে অর্থনৈতিক কূটনীতি চালিয়ে যেতে হবে। বাংলাদেশের উন্নয়ন অংশীদার দেশ এবং সংস্থাগুলোর সাথে দ্বিপাক্ষিক এবং বহুপাক্ষিক সংযোগ স্থাপন করত দেশের অর্থনৈতিক সমৃদ্ধি অর্জন করতে হবে।

বিশ্ব পরিমণ্ডলে একসময় ক্ষুদ্র অর্থনীতির দেশ বলে পরিচিত বাংলাদেশ আজ আবির্ভূত হয়েছে বিশ্বের সবচেয়ে দ্রুত বর্ধনশীল অর্থনীতির দেশ হিসেবে। ক্ষুধা ও দারিদ্র্যবিমোচন নিশ্চিত করে একটি উন্নত ও আধুনিক রাষ্ট্র হওয়ার পথে জোরেশোরে এগিয়ে চলেছে বাংলাদেশ। বাংলাদেশের বর্তমান পররাষ্ট্রনীতির একটি গুরুত্বপূর্ণ ফোকাসিং পয়েন্ট হলো ইকোনমিক ডিপ্লোমেসি।

আরও পড়ুন

মন্তব্য করুন

Your email address will not be published. Required fields are marked *

সাহায্য লাগবে?
BCS Journey Support
● Online
×
💬Messenger ✈Telegram
BCS JOURNEY
BCS Journey
চ্যাট শুরু করুন ➜