জীবকোষ ও টিস্যু অধ্যায়ের নোট | SSC জীববিজ্ঞানের ২য় অধ্যায় “জীবকোষ ও টিস্যু” জ্ঞানমূলক ও অনুধাবনমূলক প্রশ্ন উত্তর নিচে দেওয়া হলো। এই পোস্টে ১২৭টি জ্ঞানমূলক ও ৯টি অনুধাবনমূলক প্রশ্ন ও উত্তর আছে। বহুনির্বাচনি প্রশ্নের জন্য জীবকোষ ও টিস্যু অধ্যায়ের MCQ দেখুন।
জীবকোষ ও টিস্যু অধ্যায়ের জ্ঞানমূলক প্রশ্ন ও উত্তর
কোষের প্রকারভেদ, কোষপ্রাচীর ও কোষঝিল্লি
1। কোষ কাকে বলে?
জীবদেহের গঠন ও জীবজ ক্রিয়াকলাপের একককে কোষ বলে; লোয়ি ও সিকেভিজ (১৯৬৯) একে বৈষম্যভেদ্য পর্দা দিয়ে আবৃত এবং নিজের প্রতিরূপ তৈরিতে সক্ষম জীবজ ক্রিয়াকলাপের একক হিসেবে সংজ্ঞায়িত করেন।
2। নিউক্লিয়াসের গঠনের ভিত্তিতে কোষ কত প্রকার?
দুই প্রকার: আদিকোষ (Prokaryotic cell) ও প্রকৃত কোষ (Eukaryotic cell)।
3। আদিকোষের বৈশিষ্ট্য কী?
সুগঠিত নিউক্লিয়াস নেই, নিউক্লিও-বস্তু সাইটোপ্লাজমে ছড়ানো থাকে, মাইটোকন্ড্রিয়া-প্লাস্টিড-ER থাকে না কিন্তু রাইবোজোম থাকে, ক্রোমোজোমে শুধু DNA থাকে।
4। আদিকোষের উদাহরণ দাও।
নীলাভ সবুজ শৈবাল ও ব্যাকটেরিয়া।
5। প্রকৃত কোষের বৈশিষ্ট্য কী?
নিউক্লিয়ার ঝিল্লি দিয়ে নিউক্লিও-বস্তু পরিবেষ্টিত ও সুসংগঠিত, সকল অঙ্গাণু উপস্থিত, ক্রোমোজোমে DNA-প্রোটিন-হিস্টোন থাকে।
6। কাজের ভিত্তিতে প্রকৃত কোষ কত প্রকার?
দুই প্রকার: দেহকোষ (Somatic cell) ও জননকোষ (Gametic cell)।
7। দেহকোষ কীভাবে বিভাজিত হয়?
মাইটোসিস পদ্ধতিতে বিভাজিত হয় এবং দেহের বৃদ্ধি ঘটায়।
8। জননকোষ কীভাবে উৎপন্ন হয়?
মিয়োসিস পদ্ধতিতে জনন মাতৃকোষের বিভাজনের মাধ্যমে উৎপন্ন হয়, যেখানে ক্রোমোজোম সংখ্যা মাতৃকোষের অর্ধেক থাকে।
9। জাইগোট কাকে বলে?
পুং ও স্ত্রী জননকোষের মিলনের ফলে সৃষ্ট প্রথম কোষটিকে জাইগোট বলে।
10। কোষপ্রাচীর কী দিয়ে তৈরি?
সেলুলোজ, হেমিসেলুলোজ, লিগনিন, পেকটিন ও সুবেরিন দিয়ে তৈরি; ব্যাকটেরিয়ায় প্রোটিন-লিপিড-পলিস্যাকারাইড এবং ছত্রাকে কাইটিন দিয়ে তৈরি।
11। কোষপ্রাচীরের কাজ কী?
কোষকে দৃঢ়তা প্রদান, আকার-আকৃতি বজায় রাখা, প্লাজমোডেজমাটার মাধ্যমে যোগাযোগ রক্ষা এবং পানি-খনিজ লবণের চলাচল নিয়ন্ত্রণ করা।
12। কূপ কী?
গৌণ কোষপ্রাচীরে থাকা ছিদ্রকে কূপ বলে।
13। প্রোটোপ্লাজম কাকে বলে?
কোষের ভিতরে থাকা অর্ধস্বচ্ছ, থকথকে জেলির মতো বস্তুকে প্রোটোপ্লাজম বলে, যার মধ্যে কোষঝিল্লি, সাইটোপ্লাজমীয় অঙ্গাণু ও নিউক্লিয়াস অন্তর্ভুক্ত।
14। কোষঝিল্লি বা প্লাজমালেমা কী?
প্রোটোপ্লাজমের বাইরে দুই স্তরের স্থিতিস্থাপক পর্দা, যা প্রধানত লিপিড ও প্রোটিন দিয়ে তৈরি।
15। কোষঝিল্লির ভাঁজকে কী বলে?
মাইক্রোভিলাই।
16। কোষঝিল্লির কাজ কী?
বৈষম্যভেদ্য পর্দা হিসেবে অভিস্রবণের মাধ্যমে পানি ও খনিজ লবণের চলাচল নিয়ন্ত্রণ করে এবং কোষগুলোকে পরস্পর থেকে আলাদা রাখে।
সাইটোপ্লাজমীয় অঙ্গাণু — ঝিল্লিযুক্ত
17। মাইটোকন্ড্রিয়া কে ও কত সালে আবিষ্কার করেন?
রিচার্ড অল্টম্যান, ১৮৮৬ (মতান্তরে ১৮৯৪) সালে; তিনি এর নাম দেন বায়োব্লাস্ট, বর্তমান নাম মাইটোকন্ড্রিয়া দেন কার্ল বেনডা।
18। মাইটোকন্ড্রিয়ার ভাঁজকে কী বলে?
ক্রিস্টি (cristae), যার গায়ে অক্সিজোম (oxisomes) নামক উৎসেচকযুক্ত বৃন্তাকার বস্তু থাকে।
19। মাইটোকন্ড্রিয়াকে কেন কোষের পাওয়ার হাউস বলা হয়?
শ্বসনের ক্রেবস চক্র (সবচেয়ে বেশি শক্তি উৎপাদনকারী ধাপ) মাইটোকন্ড্রিয়াতে সম্পন্ন হয় বলে একে পাওয়ার হাউস বলা হয়।
20। কোন কোন কোষে মাইটোকন্ড্রিয়া অনুপস্থিত?
প্রাককেন্দ্রিক কোষে এবং কিছু সুকেন্দ্রিক প্রোটোজোয়াতে (যেমন Trichomonas, Monocercomonoides)।
21। প্লাস্টিড কে ও কত সালে আবিষ্কার করেন?
বিজ্ঞানী আর্নস্ট হেকেল, ১৮৬৬ সালে।
22। প্লাস্টিড কয় প্রকার ও কী কী?
তিন প্রকার: ক্লোরোপ্লাস্ট, ক্রোমোপ্লাস্ট ও লিউকোপ্লাস্ট।
23। ক্লোরোপ্লাস্টের গ্রানা ও স্ট্রোমা কী কাজ করে?
গ্রানা সূর্যালোককে রাসায়নিক শক্তিতে রূপান্তরিত করে এবং স্ট্রোমাতে অবস্থিত উৎসেচক সেই শক্তি ব্যবহার করে CO₂ ও পানি থেকে সরল শর্করা তৈরি করে।
24। ক্রোমোপ্লাস্টে কী কী রঞ্জক থাকে?
জ্যান্থফিল (হলুদ), ক্যারোটিন (কমলা), ফাইকোএরিথ্রিন (লাল), ফাইকোসায়ানিন (নীল)।
25। ক্রোমোপ্লাস্টের প্রধান কাজ কী?
ফুলকে আকর্ষণীয় করে পরাগায়নে সাহায্য করা।
26। লিউকোপ্লাস্ট কোথায় পাওয়া যায় ও এর কাজ কী?
মূল, ভ্রূণ, জননকোষের মতো আলোবিহীন স্থানে পাওয়া যায়; এর প্রধান কাজ খাদ্য সঞ্চয় করা।
27। গলজি বস্তু প্রধানত কোন কোষে পাওয়া যায়?
প্রাণিকোষে, তবে অনেক উদ্ভিদকোষেও দেখা যায়।
28। গলজি বস্তুর কাজ কী?
জীবকোষে পদার্থ নিঃসরণ, হরমোন নিঃসরণ এবং কখনো কখনো প্রোটিন সঞ্চয়ে ভূমিকা রাখে।
29। এন্ডোপ্লাজমিক রেটিকুলামের কাজ কী?
কোষে উৎপাদিত পদার্থের প্রবাহ পথ হিসেবে কাজ করে এবং এর গায়ে রাইবোজোম যুক্ত থাকায় প্রোটিন সংশ্লেষণ ঘটে।
30। কোষগহ্বর কোন কোষের বৈশিষ্ট্য?
বৃহৎ কোষগহ্বর উদ্ভিদ কোষের বৈশিষ্ট্য; প্রাণিকোষে সাধারণত অনুপস্থিত বা থাকলে আকারে ছোট।
31। কোষগহ্বরের কাজ কী?
কোষরস ধারণ করা, যাতে অজৈব লবণ, আমিষ, শর্করা, চর্বি, জৈব এসিড, রঞ্জক পদার্থ ও পানি থাকে।
32। লাইসোজোমের কাজ কী?
জীবকোষকে জীবাণুর হাত থেকে রক্ষা করা; এর উৎসেচক আগত জীবাণু হজম করে ফেলে।
33। লাইসোজোমের পর্দা ক্ষতিগ্রস্ত হলে কী ঘটে?
আশপাশের অঙ্গাণু নষ্ট হয়ে যায় এবং কখনো কখনো কোষটিই মারা যায়।
সাইটোপ্লাজমীয় অঙ্গাণু — ঝিল্লিবিহীন ও নিউক্লিয়াস
34। কোষকঙ্কাল (Cytoskeleton) কী দিয়ে তৈরি?
অ্যাকটিন, মায়োসিন, টিউবিউলিন ইত্যাদি প্রোটিন দিয়ে তৈরি জালের মতো তন্তু, যেমন মাইক্রোটিউবিউল, মাইক্রোফিলামেন্ট।
35। কোষকঙ্কালের কাজ কী?
কোষটিকে ভেতর থেকে ধরে রাখা।
36। রাইবোজোমের কাজ কী?
প্রোটিন সংশ্লেষণে সাহায্য করা, পলিপেপটাইড চেইন সংযোজন ঘটানো এবং প্রয়োজনীয় উৎসেচক সরবরাহ করা।
37। রাইবোজোম কোথায় কোথায় পাওয়া যায়?
সাইটোপ্লাজমে, এবং মাইটোকন্ড্রিয়ার ম্যাট্রিক্স ও প্লাস্টিডের স্ট্রোমাতেও পাওয়া যায়।
38। সেন্ট্রোজোম প্রধানত কোন কোষে পাওয়া যায়?
প্রাণিকোষে; নিম্নশ্রেণির উদ্ভিদ কোষে কদাচিৎ দেখা যায়।
39। সেন্ট্রিওল ও সেন্ট্রোস্ফিয়ার কী?
নিউক্লিয়াসের কাছে দুটি ফাঁপা নলাকার অঙ্গাণুকে সেন্ট্রিওল এবং তার চারপাশের গাঢ় তরলকে সেন্ট্রোস্ফিয়ার বলে; উভয় মিলে সেন্ট্রোজোম গঠিত।
40। সেন্ট্রোজোমের কাজ কী?
কোষ বিভাজনের সময় অ্যাস্টার রে ও স্পিন্ডল যন্ত্র সৃষ্টি করা এবং ফ্লাজেলা সৃষ্টিতে অংশ নেওয়া।
41। নিউক্লিয়াস কাকে বলে?
প্রোটোপ্লাজমে নির্দিষ্ট পর্দাঘেরা ক্রোমোজোম বহনকারী সুস্পষ্ট বস্তুকে নিউক্লিয়াস বলে।
42। কোন কোন কোষে নিউক্লিয়াস থাকে না?
সিভকোষ ও স্তন্যপায়ীদের লোহিত রক্তকোষে নিউক্লিয়াস থাকে না।
43। নিউক্লিয়ার ঝিল্লির কাজ কী?
সাইটোপ্লাজম থেকে নিউক্লিয়াসের অন্যান্য বস্তুকে পৃথক রাখা এবং নিউক্লিয়ার রন্ধ্রের মাধ্যমে বস্তুর চলাচল নিয়ন্ত্রণ করা।
44। নিউক্লিওপ্লাজমে কী কী থাকে?
নিউক্লিক এসিড, প্রোটিন, উৎসেচক ও কিছু খনিজ লবণ।
45। নিউক্লিওলাসের কাজ কী?
রাইবোজোম সংশ্লেষণ করা।
46। ক্রোমাটিন জালিকা কী?
বিভাজন না চলা কোষের নিউক্লিয়াসে সুতার মতো জট পাকিয়ে থাকা DNA ও প্রোটিনের সমন্বয়ে গঠিত কাঠামো।
47। ক্রোমাটিন কোষ বিভাজনের সময় কী রূপ নেয়?
জট খুলে মোটা ও খাটো হয়ে আলাদা কাঠামো হিসেবে ক্রোমোজোমে পরিণত হয়, মেটাফেজ দশায় সবচেয়ে ভালো দেখা যায়।
48। সেন্ট্রোমিয়ার ও কাইনেটোকোর কী?
ক্রোমাটিডের মধ্যবর্তী সংকুচিত অঞ্চল সেন্ট্রোমিয়ার, আর যে অংশে স্পিন্ডল যন্ত্রের মাইক্রোটিউবিউল যুক্ত হয় তাকে কাইনেটোকোর বলে।
উদ্ভিদ টিস্যু — সরল টিস্যু
49। টিস্যু কাকে বলে?
একই বা বিভিন্ন প্রকারের একগুচ্ছ কোষ একত্রিত হয়ে একই কাজ করলে এবং তাদের উৎপত্তি অভিন্ন হলে তাকে টিস্যু বলে।
50। টিস্যু কয় ধরনের?
দুই ধরনের: ভাজক টিস্যু ও স্থায়ী টিস্যু।
51। ভাজক টিস্যু ও স্থায়ী টিস্যুর পার্থক্য কী?
ভাজক টিস্যুর কোষ বিভাজনে সক্ষম, কিন্তু স্থায়ী টিস্যুর কোষ বিভাজিত হতে পারে না।
52। স্থায়ী টিস্যু কয় ধরনের?
তিন ধরনের: সরল টিস্যু, জটিল টিস্যু ও নিঃস্রাবী টিস্যু।
53। সরল টিস্যু কাকে বলে?
যে স্থায়ী টিস্যুর প্রতিটি কোষ আকার, আকৃতি ও গঠনের দিক থেকে অভিন্ন, তাকে সরল টিস্যু বলে।
54। সরল টিস্যু কয় ভাগে বিভক্ত?
তিন ভাগে: প্যারেনকাইমা, কোলেনকাইমা ও স্ক্লেরেনকাইমা।
55। প্যারেনকাইমার বৈশিষ্ট্য কী?
জীবিত, সমব্যাসীয়, পাতলা প্রাচীরযুক্ত, প্রোটোপ্লাজমপূর্ণ কোষ, আন্তঃকোষীয় ফাঁক থাকে, কোষপ্রাচীর সেলুলোজ দিয়ে তৈরি।
56। ক্লোরেনকাইমা ও অ্যারেনকাইমা কী?
ক্লোরোপ্লাস্টযুক্ত প্যারেনকাইমাকে ক্লোরেনকাইমা এবং জলজ উদ্ভিদের বায়ু-কুঠুরিযুক্ত প্যারেনকাইমাকে অ্যারেনকাইমা বলে।
57। প্যারেনকাইমার প্রধান কাজ কী?
দেহ গঠন, খাদ্য প্রস্তুত, খাদ্য সঞ্চয় ও খাদ্য পরিবহন।
58। কোলেনকাইমার বৈশিষ্ট্য কী?
কোষপ্রাচীরের কোণাগুলো পেকটিন জমে অধিক পুরু, লম্বাটে ও সজীব কোষ, প্রোটোপ্লাজমপূর্ণ।
59। কোলেনকাইমার প্রধান কাজ কী?
খাদ্য প্রস্তুত ও উদ্ভিদদেহকে দৃঢ়তা প্রদান করা।
60। স্ক্লেরেনকাইমার বৈশিষ্ট্য কী?
শক্ত, লম্বা, পুরু প্রাচীরবিশিষ্ট, প্রোটোপ্লাজমবিহীন, লিগনিনযুক্ত মৃত কোষ।
61। স্ক্লেরেনকাইমা কয় ধরনের কোষ দিয়ে গঠিত?
দুই ধরনের: ফাইবার ও স্ক্লেরাইড।
62। ফাইবার বা তন্তুর বৈশিষ্ট্য কী?
দীর্ঘ, পুরু প্রাচীরযুক্ত, শক্ত, দুই প্রান্ত সরু, প্রাচীরে কূপ থাকে।
63। স্ক্লেরাইড কী নামে পরিচিত ও এর বৈশিষ্ট্য কী?
স্টোন সেল নামে পরিচিত; খাটো, সমব্যাসীয় বা তারকাকার, গৌণপ্রাচীর শক্ত ও লিগনিনযুক্ত।
64। স্ক্লেরেনকাইমার প্রধান কাজ কী?
উদ্ভিদদেহে দৃঢ়তা প্রদান এবং পানি ও খনিজ লবণ পরিবহন করা।
উদ্ভিদ টিস্যু — জটিল টিস্যু
65। জটিল টিস্যু কাকে বলে?
বিভিন্ন ধরনের কোষের সমন্বয়ে গঠিত স্থায়ী টিস্যু, যা পরিবহনের কাজ করে বলে একে পরিবহন টিস্যুও বলা হয়।
66। জটিল টিস্যু কয় ধরনের?
দুই ধরনের: জাইলেম ও ফ্লোয়েম, যা একত্রে পরিবহন টিস্যুগুচ্ছ (vascular bundle) গঠন করে।
67। জাইলেম কয় ধরনের?
দুই ধরনের: প্রাথমিক জাইলেম ও গৌণ বা সেকেন্ডারি জাইলেম।
68। প্রাথমিক জাইলেম কীভাবে সৃষ্টি হয়?
প্রোক্যাম্বিয়াম থেকে সৃষ্টি হয়; প্রাথমিক অবস্থায় প্রোটোজাইলেম এবং পরিণত অবস্থায় মেটাজাইলেম বলে।
69। জাইলেমে কয় ধরনের কোষ থাকে?
চার ধরনের: ট্রাকিড, ভেসেল, জাইলেম প্যারেনকাইমা ও জাইলেম ফাইবার।
70। ট্রাকিডের বৈশিষ্ট্য ও কাজ কী?
লম্বা কোষ, প্রান্তদ্বয় সরু ও সুচালো, প্রাচীর লিগনিনযুক্ত, পানি চলাচল জোড়া কূপের মাধ্যমে ঘটে; কোষরস পরিবহন ও দৃঢ়তা প্রদান করে।
71। ভেসেলের বৈশিষ্ট্য ও কাজ কী?
খাটো চোঙাকৃতির কোষ যুক্ত হয়ে দীর্ঘ নল তৈরি করে, পরিণত বয়সে মৃত ও প্রোটোপ্লাজমবিহীন; পানি ও খনিজ লবণ পরিবহন ও দৃঢ়তা প্রদান করে।
72। জাইলেম প্যারেনকাইমার কাজ কী?
খাদ্য সঞ্চয় ও পানি পরিবহন করা।
73। জাইলেম ফাইবারের কাজ কী?
উদ্ভিদে যান্ত্রিক শক্তি জোগানো।
74। ফ্লোয়েম টিস্যু কী কী কোষ নিয়ে গঠিত?
সিভকোষ, সঙ্গীকোষ, ফ্লোয়েম প্যারেনকাইমা ও ফ্লোয়েম তন্তু।
75। সিভকোষ ও সিভনল কী?
লম্বালম্বিভাবে সজ্জিত পাতলা প্রাচীরযুক্ত জীবিত কোষ সিভপ্লেট দিয়ে বিভক্ত থেকে সিভনল গঠন করে।
76। সিভকোষের প্রধান কাজ কী?
পাতায় প্রস্তুত খাদ্য উদ্ভিদদেহের বিভিন্ন অংশে পরিবহন করা।
77। সঙ্গীকোষের কাজ কী?
সিভকোষের কার্যাবলি নিয়ন্ত্রণে সহায়তা করা; এদের নিউক্লিয়াস বড়।
78। ফ্লোয়েম ফাইবার বা বাস্ট ফাইবার কী?
স্ক্লেরেনকাইমা কোষ সমন্বয়ে তৈরি দীর্ঘ কোষ; পাটের আঁশ এক ধরনের বাস্ট ফাইবার।
79। জাইলেম ও ফ্লোয়েমের কাজের মূল পার্থক্য কী?
জাইলেম পানি সরবরাহ করে, ফ্লোয়েম পাতায় প্রস্তুত খাদ্য উদ্ভিদদেহের বিভিন্ন স্থানে পরিবহন করে।
প্রাণিটিস্যু — আবরণী ও যোজক টিস্যু
80। আবরণী বা এপিথেলিয়াল টিস্যুর কাজ কী?
রক্ষণ (protection), ক্ষরণ (secretion) ও ট্রান্সসেলুলার পরিবহনে ভূমিকা রাখে।
81। স্কোয়ামাস আবরণী টিস্যুর বৈশিষ্ট্য কী?
কোষগুলো চ্যাপ্টা ও পাতলা আকৃতির হয়, সাধারণত রক্ষণ কাজে ব্যবহৃত হয়।
82। কিউবয়ডাল আবরণী টিস্যুর বৈশিষ্ট্য কী?
কোষগুলো ঘনক আকৃতির হয়, ক্ষরণ ও শোষণ কাজে যুক্ত থাকে।
83। কলামনার আবরণী টিস্যুর বৈশিষ্ট্য কী?
কোষসমূহ স্তম্ভের মতো সরু ও লম্বা; প্রাণীর অন্ত্রের অন্তঃপ্রাচীরে পাওয়া যায় এবং ক্ষরণ, রক্ষণ ও শোষণের কাজ করে।
84। ভিত্তিপর্দার উপর কোষের স্তর সংখ্যার ভিত্তিতে আবরণী টিস্যু কয় ভাগে বিভক্ত?
তিন ভাগে: সাধারণ আবরণী, স্ট্র্যাটিফাইড আবরণী ও সিউডো-স্ট্র্যাটিফাইড আবরণী।
85। সাধারণ আবরণী টিস্যুর উদাহরণ দাও।
বৃক্কের বোম্যান্স ক্যাপসুল, বৃক্কের সংগ্রাহক নালিকা, অন্ত্র প্রাচীর।
86। স্ট্র্যাটিফাইড আবরণী টিস্যু কী?
ভিত্তিপর্দার উপর একাধিক স্তরে সজ্জিত কোষ, উদাহরণ মেরুদণ্ডী প্রাণীদের ত্বক।
87। সিউডো-স্ট্র্যাটিফাইড আবরণী টিস্যু কী?
কোষগুলো এক স্তরে বিন্যস্ত হলেও বিভিন্ন উচ্চতার হওয়ায় স্তরীভূত মনে হয়, উদাহরণ ট্রাকিয়া।
88। সিলিয়াযুক্ত আবরণী টিস্যু কোথায় পাওয়া যায়?
মেরুদণ্ডী প্রাণীদের শ্বাসনালির প্রাচীরে।
89। যোজক বা কানেকটিভ টিস্যুর বৈশিষ্ট্য কী?
মাতৃকার পরিমাণ তুলনামূলক বেশি এবং কোষের সংখ্যা কম।
90। যোজক টিস্যু কয় ধরনের?
তিন ধরনের: ফাইব্রাস যোজক টিস্যু, স্কেলিটাল যোজক টিস্যু ও তরল যোজক টিস্যু।
91। স্কেলিটাল যোজক টিস্যুর কাজ কী?
দেহের অভ্যন্তরীণ কাঠামো গঠন, দৃঢ়তা প্রদান, অঙ্গ সঞ্চালনে সহায়তা এবং নরম অঙ্গ রক্ষা করা।
92। কোমলাস্থি ও অস্থির পার্থক্য কী?
কোমলাস্থি নমনীয় (যেমন নাক-কান), অস্থি দৃঢ়, ভঙ্গুর ও অনমনীয় (ক্যালসিয়াম জমা হয়ে দৃঢ়তা পায়)।
93। তরল যোজক টিস্যু কয় ধরনের?
দুই ধরনের: রক্ত ও লসিকা।
94। রক্তের উপাদান কী কী?
রক্তরস (৫৫%) ও রক্তকোষ (৪৫%)।
95। রক্তকোষ কয় ধরনের?
তিন ধরনের: লোহিত রক্তকোষ, শ্বেত রক্তকোষ ও অণুচক্রিকা।
96। লোহিত রক্তকোষে কী থাকে ও এর কাজ কী?
হিমোগ্লোবিন থাকে, যা অক্সিজেনের সাথে যুক্ত হয়ে অক্সিহিমোগ্লোবিন গঠন করে দেহে অক্সিজেন পরিবহন করে।
97। লসিকা কী?
টিস্যুর মধ্যবর্তী ফাঁকা স্থানে জমা হওয়া ঈষৎ ক্ষারীয় স্বচ্ছ হলুদ বর্ণের তরল, যাতে লসিকাকোষ থাকে।
প্রাণিটিস্যু — পেশি ও স্নায়ু টিস্যু
98। পেশি টিস্যু কাকে বলে?
ভ্রূণের মেসোডার্ম থেকে তৈরি সংকোচন ও প্রসারণক্ষম টিস্যুকে পেশি টিস্যু বলে, যার মাতৃকা প্রায় অনুপস্থিত।
99। পেশি টিস্যু কয় ধরনের?
তিন ধরনের: ঐচ্ছিক পেশি, অনৈচ্ছিক পেশি ও হৃৎপেশি।
100। ঐচ্ছিক পেশির বৈশিষ্ট্য কী?
নলাকার, শাখাবিহীন, আড়াআড়ি ডোরাযুক্ত, একাধিক নিউক্লিয়াসযুক্ত; প্রাণীর ইচ্ছানুযায়ী সংকুচিত হয়, একে কঙ্কালপেশিও বলে।
101। অনৈচ্ছিক পেশির বৈশিষ্ট্য কী?
মাকু আকৃতির, আড়াআড়ি দাগবিহীন (মসৃণ), সংকোচন-প্রসারণ প্রাণীর ইচ্ছাধীন নয়; রক্তনালি ও পৌষ্টিকনালির প্রাচীরে থাকে।
102। হৃৎপেশির বৈশিষ্ট্য কী?
নলাকৃতি, শাখান্বিত, আড়াআড়ি দাগযুক্ত, ইন্টারক্যালাটেড ডিস্কযুক্ত; গঠন ঐচ্ছিক পেশির মতো কিন্তু কাজ অনৈচ্ছিক, তাই একে ঐচ্ছিক-অনৈচ্ছিক পেশিও বলে।
103। স্নায়ু টিস্যু কী দিয়ে গঠিত?
অসংখ্য নিউরন বা স্নায়ুকোষ দিয়ে গঠিত।
104। স্নায়ু টিস্যুর কাজ কী?
পরিবেশ থেকে উদ্দীপনা গ্রহণ করে মস্তিষ্কে বহন করা এবং মস্তিষ্কের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী উপযুক্ত কাজ করা।
105। একটি আদর্শ নিউরনের অংশগুলো কী কী?
কোষদেহ এবং প্রলম্বিত অংশ (অ্যাক্সন ও ডেনড্রাইট)।
106। নিউরন বিভাজিত হয় না কেন?
নিউরনের সাইটোপ্লাজমে সক্রিয় সেন্ট্রিওল না থাকায় নিউরন বিভাজিত হয় না।
107। ডেনড্রন ও ডেনড্রাইট কী?
কোষদেহের চারদিকের শাখাযুক্ত ক্ষুদ্র প্রলম্বিত অংশকে ডেনড্রন এবং তা থেকে বের হওয়া শাখাকে ডেনড্রাইট বলে।
108। অ্যাক্সন কী?
নিউরনের কোষদেহ থেকে বের হওয়া একটি লম্বা স্নায়ুতন্তু, যা পরবর্তী নিউরনের ডেনড্রাইটের সাথে যুক্ত থাকে; একটি নিউরনের একটিমাত্র অ্যাক্সন থাকে।
109। সিন্যাপস (Synapse) কী?
দুটি নিউরনের একটির অ্যাক্সন ও অন্যটির ডেনড্রাইটের মধ্যে গঠিত স্নায়ুসন্ধি, যার মাধ্যমে উদ্দীপনা এক নিউরন থেকে অন্য নিউরনে পরিবাহিত হয়।
110। মানুষ মস্তিষ্কের কত শতাংশ ব্যবহার করে?
স্বাভাবিক অবস্থায় মানুষ তার মস্তিষ্কের একশো শতাংশ ব্যবহার করে, দশ শতাংশ ব্যবহারের ধারণাটি ভুল।
অঙ্গ, তন্ত্র ও অণুবীক্ষণ যন্ত্র
111। অঙ্গ কাকে বলে?
এক বা একাধিক টিস্যু দিয়ে তৈরি এবং নির্দিষ্ট কাজ করতে সক্ষম প্রাণিদেহের অংশবিশেষকে অঙ্গ বলে।
112। বহিঃঅঙ্গসংস্থান ও অন্তঃঅঙ্গসংস্থান কী?
বাহ্যিক অঙ্গ (চোখ, কান, হাত) নিয়ে আলোচনাকে বহিঃঅঙ্গসংস্থান এবং অভ্যন্তরীণ অঙ্গ নিয়ে আলোচনাকে অন্তঃঅঙ্গসংস্থান বলে।
113। পরিপাকতন্ত্রের দুটি প্রধান অংশ কী কী?
পৌষ্টিক নালি (digestive canal) ও পৌষ্টিক গ্রন্থি (digestive glands)।
114। মানুষের শ্বসনতন্ত্র কী নিয়ে গঠিত?
নাসারন্ধ্র, গলবিল, ল্যারিংস, ট্রাকিয়া, ব্রঙ্কাস, ব্রঙ্কিওল, অ্যালভিওলাই ও একজোড়া ফুসফুস।
115। স্নায়ুতন্ত্র কী নিয়ে গঠিত?
মস্তিষ্ক, সুষুম্নাকাণ্ড ও করোটিক স্নায়ু, এবং স্বয়ংক্রিয় স্নায়ুতন্ত্র নামে আরেকটি অংশ।
116। রেচনতন্ত্র কী নিয়ে গঠিত?
একজোড়া বৃক্ক, একজোড়া ইউরেটার, একটি মূত্রথলি ও একটি মূত্রনালি।
117। জননতন্ত্রের কাজ কী?
গ্যামেট (শুক্রাণু ও ডিম্বাণু) তৈরি করে প্রজাতির ধারা অব্যাহত রাখা।
118। অন্তঃক্ষরা গ্রন্থিতন্ত্র কী নিয়ে গঠিত?
পিটুইটারি, থাইরয়েড, প্যারাথাইরয়েড, অগ্ন্যাশয়ের আইলেটস অব ল্যাঙ্গারহ্যান্স, সুপ্রারেনাল প্রভৃতি নালিহীন গ্রন্থি।
119। অন্তঃক্ষরা গ্রন্থি থেকে নিঃসৃত রসকে কী বলে?
হরমোন, যা রক্তের মাধ্যমে পরিবাহিত হয়।
120। আলোক অণুবীক্ষণ যন্ত্র ও ইলেকট্রন অণুবীক্ষণ যন্ত্রের পার্থক্য কী?
আলোক অণুবীক্ষণে আলো ব্যবহৃত হয়, ইলেকট্রন অণুবীক্ষণে আলোর বদলে ইলেকট্রন তরঙ্গ ব্যবহৃত হয়।
121। আলোক অণুবীক্ষণ যন্ত্র কয় ধরনের?
দুই ধরনের: সরল অণুবীক্ষণ যন্ত্র ও যৌগিক অণুবীক্ষণ যন্ত্র।
122। যৌগিক অণুবীক্ষণ যন্ত্রের নোজপিসে সাধারণত কয়টি অবজেকটিভ থাকে ও এদের বিবর্ধন ক্ষমতা কত?
তিনটি: লো পাওয়ার (10x-12x), হাই পাওয়ার (40x-45x), অয়েল ইমারশন (100x); কখনো কখনো স্ক্যানিং অবজেকটিভ (4x-5x) থাকে।
123। ফাইন ও কোর্স অ্যাডজাস্টমেন্ট নবের পার্থক্য কী?
ফাইন অ্যাডজাস্টমেন্ট দিয়ে ফোকাসের সূক্ষ্ম সমন্বয় হয়, কোর্স অ্যাডজাস্টমেন্ট দিয়ে ফোকাসের স্থূল সমন্বয় হয়।
124। স্টেইনিং কী?
কোষ বা টিস্যুকে রং করে পারিপার্শ্বিকতার সাপেক্ষে চিহ্নিত করার প্রক্রিয়া, ব্যবহৃত রঞ্জক পদার্থকে স্টেইন বলে।
125। দৃশ্যমান আলোর তরঙ্গদৈর্ঘ্য কত ও এর সীমাবদ্ধতা কী?
400-700 ন্যানোমিটার; সর্বোত্তম আলোক অণুবীক্ষণেও 200 ন্যানোমিটারের ছোট বস্তু বিবর্ধিত করে দেখা যায় না।
126। ইলেকট্রন অণুবীক্ষণ যন্ত্রে লেন্সের পরিবর্তে কী ব্যবহৃত হয়?
শক্তিশালী তড়িৎ চুম্বক, যা ইলেকট্রন স্রোতের গতিপথ বাঁকিয়ে দেয়।
127। ইলেকট্রন অণুবীক্ষণ যন্ত্রে তৈরি ছবি কীভাবে দেখা যায়?
সংযুক্ত কম্পিউটার অদৃশ্য ছবিকে দেখার উপযোগী ছবিতে পরিণত করে মনিটরে প্রদর্শন করে।
জীবকোষ ও টিস্যু অধ্যায়ের অনুধাবনমূলক প্রশ্ন ও উত্তর
কোষের প্রকারভেদ, কোষপ্রাচীর ও কোষঝিল্লি
1। দেহকোষ ও জননকোষের ক্রোমোজোম সংখ্যায় পার্থক্য কেন থাকে— ব্যাখ্যা করো।
দেহকোষ মাইটোসিস পদ্ধতিতে বিভাজিত হয় বলে অপত্য কোষে মাতৃকোষের সমান ক্রোমোজোম সংখ্যা বজায় থাকে, কিন্তু জননকোষ মিয়োসিস পদ্ধতিতে সৃষ্টি হয় বলে ক্রোমোজোম সংখ্যা অর্ধেক হয়ে যায়, যাতে নিষেকের পর জাইগোটে পুনরায় স্বাভাবিক ক্রোমোজোম সংখ্যা ফিরে আসে।
সাইটোপ্লাজমীয় অঙ্গাণু — ঝিল্লিযুক্ত
2। মাইটোকন্ড্রিয়া ও প্লাস্টিড একসময় স্বাধীনভাবে বসবাসকারী জীব ছিল বলে অনুমান করা হয় কেন— ব্যাখ্যা করো।
মাইটোকন্ড্রিয়া ও প্লাস্টিডের নিজস্ব DNA এবং রাইবোজোম আছে, যা দিয়ে তারা নিজেদের প্রোটিন সংশ্লেষণ করতে পারে ঠিক ব্যাকটেরিয়া কোষের মতো, এই প্রমাণের ভিত্তিতে ধারণা করা হয় যে বিবর্তনের কোনো এক পর্যায়ে এরা স্বাধীন জীব হিসেবে ছিল এবং পরে সুকেন্দ্রিক কোষের স্থায়ী অংশ হয়ে গেছে।
3। লিউকোপ্লাস্ট আলোর সংস্পর্শে এলে ক্লোরোপ্লাস্টে রূপান্তরিত হতে পারে— ব্যাখ্যা করো।
লিউকোপ্লাস্ট মূলত রঞ্জকবিহীন প্লাস্টিড যা আলোবিহীন স্থানে পাওয়া যায়; আলোর সংস্পর্শে এলে এতে ক্লোরোফিল সংশ্লেষিত হতে শুরু করে, ফলে এটি ধীরে ধীরে সবুজ রঞ্জকযুক্ত ক্লোরোপ্লাস্টে রূপান্তরিত হতে পারে, যেমনটি আলুর কন্দ আলোতে রাখলে সবুজ হয়ে যাওয়ার ক্ষেত্রে দেখা যায়।
সাইটোপ্লাজমীয় অঙ্গাণু — ঝিল্লিবিহীন ও নিউক্লিয়াস
4। নিউক্লিয়াসকে কোষের নিয়ন্ত্রণ কেন্দ্র বলা যায় কেন— ব্যাখ্যা করো।
নিউক্লিয়াসে ক্রোমোজোমের মাধ্যমে বংশগতির সকল বৈশিষ্ট্য নিহিত থাকে এবং এটি কোষের বিপাকীয় কার্যাবলিসহ সকল ক্রিয়া-বিক্রিয়া নিয়ন্ত্রণ করে, তাই একে কোষের নিয়ন্ত্রণ কেন্দ্র বলা যায়।
উদ্ভিদ টিস্যু — সরল টিস্যু
5। জলজ উদ্ভিদ পানিতে ভেসে থাকতে পারে কোন টিস্যুর কারণে— ব্যাখ্যা করো।
জলজ উদ্ভিদে অ্যারেনকাইমা নামক বিশেষ প্যারেনকাইমা টিস্যু থাকে, যাতে বড় বড় বায়ু-কুঠুরি বিদ্যমান থাকে; এই বায়ু-কুঠুরিগুলো উদ্ভিদকে উচ্ছ্বলতা দিয়ে পানিতে ভেসে থাকতে সাহায্য করে।
উদ্ভিদ টিস্যু — জটিল টিস্যু
6। পরিবহন টিস্যুকে জটিল টিস্যু বলা হয় কেন— ব্যাখ্যা করো।
জাইলেম ও ফ্লোয়েম টিস্যু ট্রাকিড, ভেসেল, প্যারেনকাইমা, ফাইবার, সিভকোষ, সঙ্গীকোষের মতো একাধিক ভিন্ন ধরনের কোষের সমন্বয়ে গঠিত হয়, যেখানে সরল টিস্যুর মতো একই ধরনের কোষ থাকে না, তাই একে জটিল টিস্যু বলা হয়।
প্রাণিটিস্যু — আবরণী ও যোজক টিস্যু
7। থাইরয়েডকে অন্তঃক্ষরা গ্রন্থি বলা হয় কেন— ব্যাখ্যা করো।
থাইরয়েড গ্রন্থির কোনো নির্দিষ্ট নালি নেই, এটি সরাসরি রক্তের মাধ্যমে হরমোন নিঃসরণ করে, নালিবিহীন এই ধরনের গ্রন্থিকেই অন্তঃক্ষরা গ্রন্থি বলা হয়।
প্রাণিটিস্যু — পেশি ও স্নায়ু টিস্যু
8। হৃৎপেশিকে ঐচ্ছিক-অনৈচ্ছিক পেশি বলা হয় কেন— ব্যাখ্যা করো।
হৃৎপেশির গঠন (নলাকৃতি, আড়াআড়ি দাগযুক্ত) ঐচ্ছিক পেশির মতো হলেও এর সংকোচন-প্রসারণ প্রাণীর ইচ্ছাধীন নয়, বরং স্বতঃস্ফূর্তভাবে ঘটে, তাই গঠনে ঐচ্ছিক ও কাজে অনৈচ্ছিক হওয়ায় একে ঐচ্ছিক-অনৈচ্ছিক পেশি বলা হয়।
অঙ্গ, তন্ত্র ও অণুবীক্ষণ যন্ত্র
9। আলোক অণুবীক্ষণ যন্ত্রের বদলে কোষের অঙ্গাণু দেখতে ইলেকট্রন অণুবীক্ষণ যন্ত্র প্রয়োজন হয় কেন— ব্যাখ্যা করো।
দৃশ্যমান আলোর তরঙ্গদৈর্ঘ্য (400-700 ন্যানোমিটার) সীমিত হওয়ায় আলোক অণুবীক্ষণ যন্ত্র দিয়ে 200 ন্যানোমিটারের চেয়ে ছোট বস্তু স্পষ্ট দেখা যায় না, কিন্তু ইলেকট্রনের তরঙ্গদৈর্ঘ্য আলোর চেয়ে অনেক ছোট করা সম্ভব হওয়ায় ইলেকট্রন অণুবীক্ষণ যন্ত্র দিয়ে কোষের ভেতরকার ক্ষুদ্র অঙ্গাণুগুলোও স্পষ্টভাবে দেখা সম্ভব হয়।
