খাদ্য, পুষ্টি এবং পরিপাক অধ্যায়ের নোট | SSC জীববিজ্ঞানের ৫ম অধ্যায় “খাদ্য, পুষ্টি এবং পরিপাক” জ্ঞানমূলক ও অনুধাবনমূলক প্রশ্ন উত্তর নিচে দেওয়া হলো। এই পোস্টে ৮৮টি জ্ঞানমূলক ও ১১টি অনুধাবনমূলক প্রশ্ন ও উত্তর আছে। বহুনির্বাচনি প্রশ্নের জন্য খাদ্য, পুষ্টি এবং পরিপাক অধ্যায়ের MCQ দেখুন।
খাদ্য, পুষ্টি এবং পরিপাক অধ্যায়ের জ্ঞানমূলক প্রশ্ন ও উত্তর
উদ্ভিদের খনিজ পুষ্টি
1। উদ্ভিদে কতটি অজৈব উপাদান শনাক্ত করা হয়েছে ও কয়টি অত্যাবশ্যকীয়?
প্রায় ৬০টি অজৈব উপাদান শনাক্ত হয়েছে, তার মধ্যে মাত্র ১৬টি অত্যাবশ্যকীয় উপাদান (essential elements)।
2। অত্যাবশ্যকীয় উপাদান কাকে বলে?
যেসব উপাদান সব ধরনের উদ্ভিদের স্বাভাবিক বৃদ্ধি, শারীরবৃত্তীয় কাজ ও প্রজননের জন্য প্রয়োজন এবং এদের অভাবে অভাবজনিত রোগ দেখা দেয়, তাদের অত্যাবশ্যকীয় উপাদান বলে।
3। ম্যাক্রোনিউট্রিয়েন্ট কাকে বলে ও কয়টি?
যেসব উপাদান বেশি পরিমাণে প্রয়োজন হয় তাদের ম্যাক্রোনিউট্রিয়েন্ট বলে; এরা ৯টি— N, K, P, Ca, Mg, C, H, O, S।
4। মাইক্রোনিউট্রিয়েন্ট কাকে বলে ও কয়টি?
যেসব উপাদান অতি সামান্য পরিমাণে প্রয়োজন হয় তাদের মাইক্রোনিউট্রিয়েন্ট বলে; এরা ৭টি— Zn, Mn, Mo, B, Cu, Cl, Fe।
5। উদ্ভিদ পুষ্টি উপাদান কোথা থেকে সংগ্রহ করে?
কার্বন ও অক্সিজেন বায়ুমণ্ডল থেকে, হাইড্রোজেন পানি থেকে এবং বাকি উপাদান মূলের মাধ্যমে মাটি থেকে আয়ন আকারে শোষণ করে (Ca²⁺, Mg²⁺, NH₄⁺, NO₃⁻, K⁺)।
6। নাইট্রোজেনের ভূমিকা কী?
নিউক্লিক এসিড, প্রোটিন ও ক্লোরোফিলের অত্যাবশ্যকীয় উপাদান; অভাবে ক্লোরোফিল সৃষ্টি ব্যাহত হয়ে খাদ্য প্রস্তুত ও শ্বসন বাধাগ্রস্ত হয়।
7। ম্যাগনেসিয়ামের ভূমিকা কী?
ক্লোরোফিল অণুর গুরুত্বপূর্ণ উপাদান এবং শ্বসনে সাহায্য করে।
8। পটাশিয়ামের ভূমিকা কী?
পত্ররন্ধ্র খোলা-বন্ধ, পানি শোষণ, কোষবিভাজন নিয়ন্ত্রণ এবং মূল-ফুল-ফল উৎপাদনে সাহায্য করে।
9। ফসফরাসের ভূমিকা কী?
মূল বর্ধনের জন্য প্রয়োজনীয় এবং DNA, RNA, NADP, ATP এর গাঠনিক উপাদান।
10। আয়রনের ভূমিকা কী?
সাইটোক্রোমের সাংগঠনিক উপাদান, তাই সবাত শ্বসনের জন্য প্রয়োজনীয় এবং ক্লোরোফিল সৃষ্টিতেও ভূমিকা রাখে।
11। মাইক্রোনিউট্রিয়েন্টের ভূমিকা উদাহরণসহ দাও।
ম্যাঙ্গানিজ ক্লোরোপ্লাস্ট গঠনে, কপার শ্বসনে, বোরন চিনি পরিবহনে, মলিবডেনাম নাইট্রোজেন সংবন্ধনে, ক্লোরিন মূল-কাণ্ড বৃদ্ধিতে ভূমিকা রাখে।
12। ক্লোরোসিস কী ও কী কী উপাদানের অভাবে হয়?
পাতা হলুদ হয়ে যাওয়াকে ক্লোরোসিস বলে; নাইট্রোজেন, লৌহ, ম্যাঙ্গানিজ বা দস্তার অভাবে হতে পারে।
13। ফসফরাসের অভাবে কী লক্ষণ দেখা যায়?
পাতা বেগুনি হয়ে যায়, মৃত অঞ্চল সৃষ্টি হয়, পাতা-ফুল-ফল ঝরে যায় ও উদ্ভিদ খর্বাকার হয়।
14। পটাশিয়ামের অভাবে কী লক্ষণ দেখা যায়?
পাতার শীর্ষ-কিনারা হলুদ হয়, পাতার কিনারায় পোড়া বাদামি দাগ দেখা যায় ও পাতা কুঁকড়ে যায়।
15। ক্যালসিয়ামের অভাবে কী লক্ষণ দেখা যায়?
বর্ধনশীল শীর্ষ অঞ্চল ও পাতার কিনারা মরে যায়, পাতা কুঁকড়ে যায় ও উদ্ভিদ হঠাৎ নেতিয়ে পড়ে।
16। সালফারের অভাবে কী লক্ষণ দেখা যায়?
পাতা হালকা সবুজ হয়ে লাল-বেগুনি দাগ পড়ে এবং ডাইব্যাক (টিস্যু ক্রমান্বয়ে মারা যাওয়া) দেখা দেয়।
17। বোরনের অভাবে কী লক্ষণ দেখা যায়?
বর্ধনশীল অগ্রভাগ মরে যায়, কচি পাতা বিকৃত হয় ও কাণ্ড ফেটে যায়।
প্রাণীর খাদ্য উপাদান
18। খাদ্য কাকে বলে?
যেসব বস্তু খাওয়ার পর দেহে শোষিত হয়ে পুষ্টিসাধন, ক্ষয়পূরণ, রোগ প্রতিরোধ ও শক্তি উৎপাদন করে, তাদের খাদ্য বলে।
19। খাদ্য উপাদান প্রধানত কয় ভাগে বিভক্ত?
প্রধানত তিন ভাগে: আমিষ, শর্করা ও স্নেহ; এছাড়া ভিটামিন, খনিজ লবণ, পানি ও খাদ্য আঁশ।
20। আমিষের কাজ ও গাঠনিক উপাদান কী?
দেহের বৃদ্ধিসাধন ও ক্ষয়পূরণ করে; কার্বন, হাইড্রোজেন, অক্সিজেন ও নাইট্রোজেন (১৬%) দিয়ে গঠিত।
21। প্রাণিজ ও উদ্ভিজ্জ আমিষের উদাহরণ দাও।
প্রাণিজ: মাছ, মাংস, ডিম, দুধ; উদ্ভিজ্জ: ডাল, চিনাবাদাম, শিমের বীচি।
22। শর্করার কাজ কী ও এর মৌলিক উপাদান কী?
দেহে কাজ করার শক্তি জোগায়; মৌলিক উপাদান কার্বন, হাইড্রোজেন ও অক্সিজেন।
23। শর্করা গঠন অনুযায়ী কয় ভাগে বিভক্ত?
তিন ভাগে: একশর্করা (গ্লুকোজ), দ্বি-শর্করা (সুক্রোজ, ল্যাকটোজ) ও বহু শর্করা (শ্বেতসার, গ্লাইকোজেন)।
24। মানবদেহ কোন ধরনের শর্করা শোষণ করতে পারে?
শুধু সরল শর্করা (মনোস্যাকারাইড) শোষণ করতে পারে।
25। স্নেহজাতীয় খাদ্যের কাজ কী?
দেহে তাপ ও শক্তি উৎপাদন করে; শর্করা-আমিষের চেয়ে প্রায় দ্বিগুণ ক্যালরি সরবরাহ করে।
26। উদ্ভিজ্জ ও প্রাণিজ স্নেহের উদাহরণ দাও।
উদ্ভিজ্জ: সয়াবিন, সরিষা, সূর্যমুখী তেল; প্রাণিজ: চর্বি, ঘি, ডালডা।
27। ভিটামিন কয় শ্রেণিতে ভাগ করা যায়?
দুই শ্রেণিতে: চর্বিতে দ্রবণীয় (A, D, E, K) ও পানিতে দ্রবণীয় (B, C)।
28। ভিটামিন A এর উৎস কী?
দুধ, মাখন, ডিম, গাজর, আম, কাঁঠাল, রঙিন শাকসবজি, মলা মাছ।
29। খনিজ লবণের কাজ কী?
হাড়-দাঁত-পেশি-এনজাইম-হরমোন গঠন, স্নায়ু উদ্দীপনা, পেশি সংকোচন ও অম্ল-ক্ষার সমতা রক্ষা করে।
30। পানির কাজ কী?
দেহ গঠন, অভ্যন্তরীণ কাজ নিয়ন্ত্রণ (দ্রাবক হিসেবে) এবং দূষিত পদার্থ নির্গমনে সাহায্য করে।
31। পূর্ণবয়স্ক মানুষের দেহে পানির পরিমাণ কত?
দৈহিক ওজনের ৫০%-৬৫%।
32। খাদ্য আঁশ বা রাফেজ কী কাজ করে?
পানি শোষণ করে মলের পরিমাণ বৃদ্ধি করে এবং বৃহদন্ত্র থেকে মল নিষ্কাশনে সাহায্য করে, যদিও এটি কোনো পুষ্টি জোগায় না।
খাদ্য গ্রহণ নীতিমালা ও পুষ্টির অভাবজনিত রোগ
33। সুষম খাদ্যের বৈশিষ্ট্য কী?
প্রয়োজনীয় শক্তি উৎপাদন সক্ষম হবে, শর্করা-আমিষ-চর্বি নির্দিষ্ট অনুপাতে থাকবে, ভিটামিন-রাফেজ-খনিজ লবণ-পানি থাকবে এবং সহজপাচ্য হবে।
34। সুষম খাদ্যতালিকা তৈরিতে কী কী বিবেচনা করতে হয়?
ব্যক্তির লিঙ্গ-বয়স-পেশা, খাদ্যের মূল্যমান, ঋতু-আবহাওয়া এবং পারিবারিক আর্থিক সংগতি।
35। গয়টার বা গলগণ্ড কী কারণে হয়?
খাবারে আয়োডিনের অভাবে হয়; সমুদ্র থেকে দূরের অঞ্চলে (উত্তরবঙ্গ, পার্বত্য এলাকা) বেশি দেখা যায়।
36। রাতকানা রোগ কীসের অভাবে হয়?
ভিটামিন A এর অভাবে জেরোফথ্যালমিয়া রোগ হয়, যার সর্বনিম্ন মাত্রা রাতকানা।
37। রাতকানা রোগে চোখের কোন কোষ ক্ষতিগ্রস্ত হয়?
চোখের সংবেদী রড কোষ ক্ষতিগ্রস্ত হয়, ফলে স্বল্প আলোতে দেখতে অসুবিধা হয়।
38। রিকেটস রোগ কীসের অভাবে হয়?
ভিটামিন D এর অভাবে হয়, যা অন্ত্রে ক্যালসিয়াম-ফসফরাস শোষণ ও হাড়-দাঁত গঠনে প্রয়োজন।
39। ভিটামিন D ত্বকে কীভাবে তৈরি হয়?
সূর্যের অতিবেগুনি রশ্মির প্রভাবে ত্বকের কোলেস্টেরল থেকে তৈরি হয়, শেষ ধাপ কিডনিতে সম্পন্ন হয়।
40। রক্তশূন্যতা বা অ্যানিমিয়া কী?
রক্তে হিমোগ্লোবিনের ঘনত্ব স্বাভাবিকের তুলনায় কমে যাওয়া অবস্থা; লৌহ, ফলিক এসিড ও ভিটামিন B-12 এর অভাবে হয়।
41। বাংলাদেশে সাধারণত কাদের রক্তশূন্যতা বেশি হয়?
শিশু, প্রজননক্ষম বয়সী নারী (১৫-৪৫ বছর) ও গর্ভবতী নারীদের।
পুষ্টি উপাদানে শক্তি ও BMR-BMI
42। খাদ্যের ছয়টি উপাদানের মধ্যে কোনগুলো শক্তি দিতে পারে?
শুধু শর্করা, প্রোটিন ও চর্বি; ভিটামিন, খনিজ ও পানি শক্তি দেয় না।
43। মৌলবিপাক শক্তি কী?
বিশ্রামাবস্থায় শ্বাস-প্রশ্বাস, হৃৎস্পন্দনের মতো অনৈচ্ছিক কাজে ব্যয়িত শক্তিকে মৌলবিপাক শক্তি বলে।
44। ১ কিলোক্যালরি কত কিলোজুলের সমান?
১ কিলোক্যালরি = প্রায় ৪.২ কিলোজুল।
45। প্রতি গ্রাম শর্করা, আমিষ ও চর্বিতে কত ক্যালরি থাকে?
শর্করা ৪ ক্যালরি, আমিষ ৪ ক্যালরি, চর্বি ৯ ক্যালরি।
46। মিশ্রখাদ্য ও বিশুদ্ধ খাদ্যের পার্থক্য কী?
মিশ্রখাদ্যে একাধিক পুষ্টি উপাদান থাকে (দুধ, ডিম), বিশুদ্ধ খাদ্যে একটিমাত্র উপাদান থাকে (চিনি, গ্লুকোজ)।
47। BMR কী নির্দেশ করে?
পূর্ণ বিশ্রামরত অবস্থায় মানবশরীরে ব্যবহৃত শক্তির পরিমাণ নির্দেশ করে।
48। হ্যারিস বেনেডিক্ট সূত্রে মেয়েদের BMR কীভাবে বের করা হয়?
BMR = 655 + (9.6×ওজন কেজি) + (1.8×উচ্চতা সে.মি.) – (4.7×বয়স বছর)।
49। হ্যারিস বেনেডিক্ট সূত্রে ছেলেদের BMR কীভাবে বের করা হয়?
BMR = 66 + (13.7×ওজন কেজি) + (5×উচ্চতা সে.মি.) – (6.8×বয়স বছর)।
50। BMR মানুষের শরীরের কত শতাংশ শক্তি উৎপাদন নিয়ন্ত্রণ করে?
৬০ থেকে ৭৫ শতাংশ।
51। BMI নির্ণয়ের সূত্র কী?
BMI = দেহের ওজন (কেজি) / দেহের উচ্চতার বর্গ (মিটার²)।
52। BMI এর মান ১৮.৫-২৪.৯ হলে কী বোঝায়?
সুস্বাস্থ্যের আদর্শ মান।
53। BMI এর মান ৪০ এর বেশি হলে কী করণীয়?
অতিরিক্ত স্থূলত্ব, মৃত্যুঝুঁকি থাকায় ডাক্তারের পরামর্শ প্রয়োজন।
54। শরীরচর্চার উপকারিতা কী?
অতিরিক্ত ওজন কমানো এবং ডায়াবেটিস, হৃদরোগ ও কিছু ক্যান্সার থেকে সুরক্ষা দেয়।
55। নিশাচর প্রাণী কাদের বলে?
যেসব প্রাণী দিনে বিশ্রাম নেয় কিন্তু রাতে খাদ্যের খোঁজে সক্রিয় থাকে।
56। খাদ্য সংরক্ষণে অনুমোদিত রাসায়নিক পদার্থ কী কী?
সোডিয়াম নাইট্রেট, সোডিয়াম বেনজোয়েট, সরবেট (পটাশিয়াম/সোডিয়াম/ক্যালসিয়াম) প্রভৃতি।
57। খাদ্যে ফরমালিন ব্যবহারের ক্ষতি কী?
মাছের কোষের সাথে যৌগ তৈরি করে মানবদেহে জটিল রোগ ও ক্যান্সারের কারণ হতে পারে।
পরিপাকতন্ত্র — অঙ্গ ও গ্রন্থি
58। পরিপাকতন্ত্র কী নিয়ে গঠিত?
পৌষ্টিকনালি (মুখ থেকে পায়ু পর্যন্ত) এবং কয়েকটি পৌষ্টিক গ্রন্থি নিয়ে গঠিত।
59। পৌষ্টিকনালির প্রধান অংশগুলো কী কী?
মুখ, মুখগহ্বর, গলবিল, অন্ননালি, পাকস্থলী, অন্ত্র (ক্ষুদ্রান্ত্র ও বৃহদন্ত্র) ও পায়ু।
60। মানুষের স্থায়ী দাঁত কয় ধরনের ও কী কী?
চার ধরনের: কর্তন দাঁত (কাটার জন্য), ছেদন দাঁত (ছেঁড়ার জন্য), অগ্রপেষণ দাঁত ও পেষণ দাঁত (চর্বণ-পেষণের জন্য)।
61। দাঁতের গাঠনিক উপাদান কী কী?
ডেন্টিন, এনামেল, দন্তমজ্জা ও সিমেন্ট।
62। ক্ষুদ্রান্ত্র কয়টি অংশে বিভক্ত?
তিনটি অংশে: ডিওডেনাম, জেজুনাম ও ইলিয়াম।
63। ভিলাস কী?
ক্ষুদ্রান্ত্রের অন্তঃপ্রাচীরে আঙুলের মতো প্রক্ষেপিত অংশ, যা পরিপাককৃত খাদ্য শোষণ করে।
64। বৃহদন্ত্র কয়টি অংশে বিভক্ত?
তিনটি অংশে: সিকাম, কোলন ও মলাশয়।
65। যকৃৎ কোথায় অবস্থিত ও এর কাজ কী?
মধ্যচ্ছদার নিচে পাকস্থলীর ডান পাশে অবস্থিত; পিত্তরস তৈরি, গ্লুকোজ গ্লাইকোজেন রূপে সঞ্চয় ও ইউরিয়া তৈরি করে।
66। যকৃৎকে রসায়ন গবেষণাগার বলা হয় কেন?
যকৃতে বিভিন্ন রকম জৈব রাসায়নিক বিক্রিয়া ঘটে বলে।
67। পিত্তরসের কাজ কী?
খাদ্যের অম্লভাব প্রশমিত করে ক্ষারীয় পরিবেশ তৈরি করে এবং চর্বিকে ক্ষুদ্র দানায় পরিণত করে।
68। অগ্ন্যাশয়কে মিশ্র গ্রন্থি বলা হয় কেন?
এটি একাধারে পরিপাক এনজাইম (বহিঃক্ষরা) ও ইনসুলিন-গ্লুকাগন হরমোন (অন্তঃক্ষরা) নিঃসরণ করে।
69। অগ্ন্যাশয় রসে কী কী এনজাইম থাকে?
ট্রিপসিন, লাইপেজ ও অ্যামাইলেজ।
খাদ্য পরিপাক প্রক্রিয়া
70। পরিপাক কাকে বলে?
জটিল, অদ্রবণীয় খাদ্য উপাদান এনজাইম ও হরমোনের সাহায্যে ভেঙে শোষণযোগ্য সরল উপাদানে পরিণত হওয়ার প্রক্রিয়াকে পরিপাক বলে।
71। যান্ত্রিক ও রাসায়নিক পরিপাক কী?
দাঁত দিয়ে খাদ্য চিবানো যান্ত্রিক পরিপাক, আর এনজাইমের মাধ্যমে খাদ্য ভাঙা রাসায়নিক পরিপাক।
72। লালারসে কী কী এনজাইম থাকে ও কী কাজ করে?
টায়ালিন ও মলটেজ, যা শ্বেতসারকে মল্টোজে পরিণত করে।
73। পেরিস্টালসিস কী?
পৌষ্টিকনালির পেশির পর্যায়ক্রমিক সংকোচন-প্রসারণে খাদ্য সামনের দিকে অগ্রসর হওয়ার প্রক্রিয়া।
74। গ্যাস্ট্রিক রসে HCl এর কাজ কী?
ক্ষতিকর ব্যাকটেরিয়া ধ্বংস করে, নিষ্ক্রিয় পেপসিনোজেনকে সক্রিয় পেপসিনে পরিণত করে ও অম্লীয় পরিবেশ তৈরি করে।
75। পেপসিনের কাজ কী?
আমিষকে ভেঙে পলিপেপটাইডে পরিণত করে।
76। কাইম বা পাকমণ্ড কী?
পাকস্থলীর সংকোচন-প্রসারণ ও এনজাইম ক্রিয়ায় খাদ্য মিশ্র মণ্ডে পরিণত হওয়াকে কাইম বলে।
77। বৃহদন্ত্রে খাদ্যের কী পরিবর্তন হয়?
কোনো রাসায়নিক পরিপাক হয় না, শুধু পানি শোষিত হয়ে মল তৈরি হয়।
78। আত্তীকরণ কী?
শোষিত খাদ্যদ্রব্য প্রোটোপ্লাজমে রূপান্তরিত হওয়ার প্রক্রিয়া, যা কোষের ক্ষয়পূরণ ও দেহবৃদ্ধিতে সাহায্য করে।
আন্ত্রিক সমস্যা ও রোগ
79। অজীর্ণতা বা বদহজম কী কারণে হয়?
পাকস্থলীতে সংক্রমণ, অগ্ন্যাশয় রোগ বা থাইরয়েড সমস্যার কারণে হতে পারে।
80। আমাশয় কী কারণে হয়?
Entamoeba histolytica নামক প্রোটোজোয়া বা Shigella ব্যাকটেরিয়ার সংক্রমণে হয়।
81। কোষ্ঠকাঠিন্য কী?
শক্ত পায়খানা হওয়া বা দুই বা তার বেশি দিন পায়খানা না হওয়া অবস্থা।
82। পেপটিক আলসারের প্রধান কারণ কী?
Helicobacter pylori নামক ব্যাকটেরিয়া (রবিন ওয়ারেন ও ব্যারি মার্শাল আবিষ্কার করেন, ২০০৫ সালে নোবেল পান)।
83। অ্যাপেনডিসাইটিস কী?
অ্যাপেনডিক্সের সংক্রমণজনিত রোগ, যাতে নাভির চারদিকে ব্যথা শুরু হয়ে পরে তলপেটের ডান দিকে সরে যায়।
84। মানুষের অন্ত্রে কোন কোন কৃমি পরজীবী হিসেবে বাস করে?
গোলকৃমি, সুতাকৃমি ও ফিতাকৃমি।
85। ডায়রিয়া কাকে বলে?
দিনে অন্তত তিনবার পাতলা পায়খানা হওয়াকে ডায়রিয়া বলে।
86। ডায়রিয়ায় খাবার স্যালাইনের গুরুত্ব কী?
দেহ থেকে হারানো পানি ও লবণ পূরণ করে রোগীকে সুস্থ রাখতে সাহায্য করে।
87। ডায়রিয়ার জন্য দায়ী প্রধান ভাইরাস কোনটি?
রোটা ভাইরাস।
88। অজীর্ণতা প্রতিরোধে কী করণীয়?
নিয়মিত সময়ে হালকা ও সহজপাচ্য খাবার গ্রহণ এবং অতিরিক্ত তেল-মসলাযুক্ত খাবার পরিহার করা।
খাদ্য, পুষ্টি এবং পরিপাক অধ্যায়ের অনুধাবনমূলক প্রশ্ন ও উত্তর
উদ্ভিদের খনিজ পুষ্টি
1। নাইট্রোজেনের অভাবে উদ্ভিদের বৃদ্ধি ব্যাহত হয় কেন— ব্যাখ্যা করো।
নাইট্রোজেন ক্লোরোফিলের অত্যাবশ্যকীয় উপাদান, এর অভাবে ক্লোরোফিল সৃষ্টি ব্যাহত হয়ে সালোকসংশ্লেষণের মাধ্যমে খাদ্য প্রস্তুত বাধাগ্রস্ত হয়, ফলে শ্বসনে শক্তি নির্গমন কমে গিয়ে সামগ্রিক বৃদ্ধি ব্যাহত হয়।
2। লৌহ, ম্যাঙ্গানিজ বা দস্তার অভাবেও ক্লোরোসিস হতে পারে কেন— ব্যাখ্যা করো।
এই উপাদানগুলো সরাসরি ক্লোরোফিল না হলেও ক্লোরোফিল উৎপাদন প্রক্রিয়ার সাথে কোনো না কোনোভাবে জড়িত, তাই এদের যেকোনো একটির অভাবেও ক্লোরোফিল সংশ্লেষণ ব্যাহত হয়ে ক্লোরোসিস দেখা দিতে পারে।
প্রাণীর খাদ্য উপাদান
3। মানুষ সরাসরি শ্বেতসার শোষণ করতে পারে না কেন— ব্যাখ্যা করো।
শ্বেতসার একটি বহু শর্করা (পলিস্যাকারাইড), আর মানবদেহ শুধু সরল শর্করা (মনোস্যাকারাইড) শোষণ করতে সক্ষম; তাই শ্বেতসারকে প্রথমে পরিপাকের মাধ্যমে ভেঙে সরল শর্করায় পরিণত করতে হয়, তারপর তা শোষিত হয়।
4। চর্বিজাতীয় খাবার খেলে বেশিক্ষণ ক্ষুধা লাগে না কেন— ব্যাখ্যা করো।
চর্বি পাকস্থলীতে অন্যান্য খাদ্য উপাদানের তুলনায় বেশি সময় ধরে থাকে, ফলে পাকস্থলী দীর্ঘ সময় পূর্ণ অনুভূত হয় এবং ক্ষুধার অনুভূতি বিলম্বিত হয়।
খাদ্য গ্রহণ নীতিমালা ও পুষ্টির অভাবজনিত রোগ
5। সমুদ্র উপকূল থেকে দূরের অঞ্চলের মানুষদের গলগণ্ড রোগ বেশি হয় কেন— ব্যাখ্যা করো।
আয়োডিনের প্রধান উৎস সামুদ্রিক উদ্ভিদ ও প্রাণী, তাই সমুদ্র থেকে দূরবর্তী উত্তরবঙ্গ বা পার্বত্য এলাকার মাটি ও খাদ্যে আয়োডিনের ঘাটতি থাকে, ফলে সেসব অঞ্চলের মানুষের মধ্যে আয়োডিনের অভাবজনিত গলগণ্ড বেশি দেখা যায়।
6। গর্ভবতী নারীদের রক্তশূন্যতার ঝুঁকি বেশি থাকে কেন— ব্যাখ্যা করো।
গর্ভাবস্থায় মা ও ভ্রূণ উভয়ের জন্য অতিরিক্ত লৌহের প্রয়োজন হয়, খাদ্যে পর্যাপ্ত লৌহ না থাকলে চাহিদা মেটাতে না পারায় হিমোগ্লোবিনের ঘনত্ব কমে গিয়ে রক্তশূন্যতা দেখা দেওয়ার ঝুঁকি বেড়ে যায়।
পুষ্টি উপাদানে শক্তি ও BMR-BMI
7। বিশ্রামরত অবস্থায়ও দেহে শক্তি ব্যয় হয় কেন— ব্যাখ্যা করো।
বিশ্রামের সময় বাহ্যিক অঙ্গ-প্রত্যঙ্গ নিষ্ক্রিয় থাকলেও শ্বাস-প্রশ্বাস ও হৃৎস্পন্দনের মতো অনৈচ্ছিক কাজ চলতে থাকে, এসব কাজে সংশ্লিষ্ট পেশির সংকোচন-প্রসারণের জন্য মৌলবিপাক শক্তি ব্যয় হতেই থাকে।
8। খাদ্য কমিয়ে ওজন কমানোর চেষ্টা করলে উল্টো ফল হতে পারে কেন— ব্যাখ্যা করো।
খাদ্য গ্রহণ কমালে শরীরের BMR মান কমে যায়, ফলে শরীর কম শক্তি খরচ করতে অভ্যস্ত হয়ে পড়ে, এতে কম খেয়েও ওজন কমানো কঠিন হয়ে ওঠে; বরং পরিমিত ব্যায়াম করলে BMR বেড়ে গিয়ে স্বাস্থ্যসম্মত উপায়ে ওজন নিয়ন্ত্রণ সহজ হয়।
পরিপাকতন্ত্র — অঙ্গ ও গ্রন্থি
9। অগ্ন্যাশয়কে মিশ্র গ্রন্থি বলা হয় কেন— ব্যাখ্যা করো।
অগ্ন্যাশয় একদিকে বহিঃক্ষরা গ্রন্থি হিসেবে অগ্ন্যাশয় নালির মাধ্যমে ট্রিপসিন-লাইপেজ-অ্যামাইলেজের মতো পরিপাক এনজাইম নিঃসরণ করে, অন্যদিকে অন্তঃক্ষরা গ্রন্থি হিসেবে সরাসরি রক্তে ইনসুলিন ও গ্লুকাগন হরমোন নিঃসরণ করে, তাই একে মিশ্র গ্রন্থি বলা হয়।
খাদ্য পরিপাক প্রক্রিয়া
10। অন্ননালিতে খাদ্যের কোনো পরিপাক ঘটে না— ব্যাখ্যা করো।
অন্ননালির কাজ শুধু পেরিস্টালসিস প্রক্রিয়ায় খাদ্যকে পাকস্থলীতে পৌঁছে দেওয়া, এখানে কোনো পরিপাক এনজাইম নিঃসৃত হয় না বলে খাদ্যের কোনো রাসায়নিক পরিবর্তন ঘটে না।
আন্ত্রিক সমস্যা ও রোগ
11। পেপটিক আলসার শুধু খাদ্যাভ্যাসের সমস্যা নয়— ব্যাখ্যা করো।
পূর্বে ধারণা করা হতো পাকস্থলীর তীব্র এসিডে কোনো ব্যাকটেরিয়া বাঁচতে পারে না, কিন্তু গবেষণায় জানা গেছে Helicobacter pylori নামক ব্যাকটেরিয়া এই এসিডীয় পরিবেশেও টিকে থেকে পেপটিক আলসারের প্রধান কারণ হতে পারে, তাই শুধু খাদ্যাভ্যাস নয় জীবাণু সংক্রমণও এর একটি গুরুত্বপূর্ণ কারণ।
