জীবন-সঙ্গীত কবিতার MCQ | SSC বাংলা ১ম পত্রের “জীবন-সঙ্গীত” কবিতা থেকে বোর্ড পরীক্ষায় নিয়মিত প্রশ্ন আসে। এই পোস্টে কবিতার সারকথা ও ৪৮টি বহুনির্বাচনি প্রশ্ন (MCQ) উত্তর ও ব্যাখ্যাসহ দেওয়া হলো। জ্ঞানমূলক ও অনুধাবনমূলক প্রশ্নের জন্য জীবন-সঙ্গীত কবিতার নোট দেখুন।
জীবন-সঙ্গীত কবিতার সারকথা ও গুরুত্বপূর্ণ তথ্য
জীবন-সঙ্গীত কবিতার কবি কে?
হেমচন্দ্র বন্দ্যোপাধ্যায় (জন্ম ১৭ এপ্রিল ১৮৩৮, গুলিটা রাজবল্লভহাট, হুগলি; মৃত্যু ২৪ মে ১৯০৩)। সরকারি চাকরি, শিক্ষকতা ও আইন ব্যবসায় নিয়োজিত। স্বদেশপ্রেমের অনুপ্রেরণায় বৃত্রসংহার মহাকাব্য রচনা। অন্যান্য কাব্য: চিন্তাতরঙ্গিণী, বীরবাহু, আশাকানন, ছায়াময়ী।
জীবন-সঙ্গীত কবিতার উৎস
মার্কিন কবি হেনরি ওয়াডসওয়ার্থ লংফেলোর ‘A Psalm of Life’ কবিতার ভাবানুবাদ।
কবিতার মূল বক্তব্য
- জীবনকে বৃথা বা স্বপ্নবৎ মনে করে হতাশ হওয়া উচিত নয়; মানব-জনম অত্যন্ত মূল্যবান।
- জীবনের উদ্দেশ্য শুধু সুখ-ভোগ নয়; সংসারে থেকে দায়িত্বশীলভাবে কাজ করাই কর্তব্য।
- সময় ও জীবন ক্ষণস্থায়ী (শৈবালের নীরের মতো), তাই দ্রুত সদ্ব্যবহার করা প্রয়োজন।
- জীবন একটি যুদ্ধক্ষেত্র (সংসার-সমরাঙ্গন), যেখানে ভয় না পেয়ে দৃঢ়পণে লড়তে হবে— মহিমা অর্জনই লক্ষ্য।
- অতীতের সুখস্মৃতি বা অনিশ্চিত ভবিষ্যৎ নিয়ে বিভ্রান্ত না হয়ে বর্তমানে মনোযোগী হতে হবে।
- মহাজ্ঞানী মহাজনদের পথ অনুসরণ করে নিজেদেরও বরণীয় ও স্মরণীয় হওয়া সম্ভব— তাদের রেখে যাওয়া পদচিহ্ন অন্যদেরও পথ দেখাবে।
- উপসংহার— জীবন বৃথা ক্ষয় না করে যে সংকল্প নেওয়া হয়েছে তা সাধন করে নিজ কাজে নিবেদিত থাকতে হবে।
জীবন-সঙ্গীত কবিতার মূল ভাব কী?
জীবনকে সংগ্রামী দৃষ্টিভঙ্গিতে দেখা, নেতিবাচকতা ও হতাশা পরিহার করে কর্মমুখী জীবনযাপন এবং মহৎ ব্যক্তিদের আদর্শ অনুসরণ করে বরণীয় হওয়ার প্রেরণাদায়ক আহ্বানই কবিতার মূল সুর।
জীবন-সঙ্গীত কবিতার গুরুত্বপূর্ণ শব্দার্থ
দারা (স্ত্রী), বাহ্যদৃশ্যে (বাইরের চাকচিক্য), জীবাত্মা (আত্মা), অনিত্য (অস্থায়ী), আকিঞ্চন (চেষ্টা), সমরাঙ্গনে (যুদ্ধক্ষেত্রে), প্রাতঃস্মরণীয় (শ্রদ্ধার পাত্র), পদাঙ্ক (মহৎ কৃতকর্ম), যশোদ্বারে (খ্যাতির দ্বারে), শৈবালের নীর (ক্ষণস্থায়ী জলবিন্দু)।
কবি পরিচিতি বিষয়ক MCQ
১। হেমচন্দ্র বন্দ্যোপাধ্যায় কত খ্রিষ্টাব্দে জন্মগ্রহণ করেন?
- ক. ১৮৩৯
- খ. ১৮৩৮
- গ. ১৮৩৭
- ঘ. ১৮৩৬
উত্তর: খ। তিনি ১৮৩৮ খ্রিষ্টাব্দের ১৭ই এপ্রিল জন্মগ্রহণ করেন।
২। হেমচন্দ্র বন্দ্যোপাধ্যায়ের জন্মস্থান কোথায়?
- ক. বর্ধমান
- খ. হুগলি জেলার গুলিটা রাজবল্লভহাট গ্রাম
- গ. নদীয়া
- ঘ. যশোর
উত্তর: খ। রাজবল্লভহাট, হুগলিে তিনি জন্মগ্রহণ করেন।
৩। হেমচন্দ্র কার আশ্রয়ে ইংরেজি শেখেন?
- ক. ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগরের
- খ. বঙ্কিমচন্দ্রের
- গ. প্রসন্নকুমার সর্বাধিকারীর
- ঘ. রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের
উত্তর: গ। কলকাতা সংস্কৃত কলেজের অধ্যক্ষ প্রসন্নকুমার সর্বাধিকারীর আশ্রয়ে তিনি ইংরেজি শেখেন।
৪। হেমচন্দ্র কোথা থেকে স্নাতক ডিগ্রি লাভ করেন?
- ক. কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়
- খ. বিশ্বভারতী
- গ. ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়
- ঘ. প্রেসিডেন্সি কলেজ
উত্তর: ক। তিনি কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে স্নাতক ডিগ্রি লাভ করেন।
৫। কর্মজীবনে হেমচন্দ্র কোন পেশায় নিয়োজিত ছিলেন না?
- ক. চিকিৎসা পেশা
- খ. আইন ব্যবসা
- গ. স্কুল-শিক্ষকতা
- ঘ. সরকারি চাকরি
উত্তর: ক। তিনি সরকারি চাকরি, স্কুল-শিক্ষকতা এবং পরিশেষে আইন ব্যবসায় নিয়োজিত ছিলেন; চিকিৎসা পেশায় ছিলেন না।
৬। স্বদেশপ্রেমের অনুপ্রেরণায় হেমচন্দ্র কোন মহাকাব্য রচনা করেন?
- ক. তিলোত্তমাসম্ভব
- খ. বৃত্রসংহার
- গ. মেঘনাদ-বধ কাব্য
- ঘ. চিন্তাতরঙ্গিণী
উত্তর: খ। স্বদেশপ্রেমের অনুপ্রেরণায় তিনি বৃত্রসংহার নামক মহাকাব্য রচনা করেন।
৭। নিচের কোনটি হেমচন্দ্র বন্দ্যোপাধ্যায়ের কাব্য নয়?
- ক. আশাকানন
- খ. সোনার তরী
- গ. বীরবাহু
- ঘ. চিন্তাতরঙ্গিণী
উত্তর: খ। সোনার তরী রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের কাব্যগ্রন্থ; বাকি তিনটি হেমচন্দ্রের রচনা।
৮। হেমচন্দ্র বন্দ্যোপাধ্যায় কত সালে মৃত্যুবরণ করেন?
- ক. ১৯০৩
- খ. ১৯০৪
- গ. ১৯০১
- ঘ. ১৯০২
উত্তর: ক। ২৪শে মে, ১৯০৩ খ্রিষ্টাব্দে তিনি মৃত্যুবরণ করেন।
জীবন-সঙ্গীত কবিতার বহুনির্বাচনি প্রশ্ন ও উত্তর (MCQ)
৯। ‘জীবন-সঙ্গীত’ কবিতাটি কোন ইংরেজ কবির রচনার ভাবানুবাদ?
- ক. হেনরি ওয়াডসওয়ার্থ লংফেলো
- খ. রবার্ট ফ্রস্ট
- গ. জন কিটস
- ঘ. উইলিয়াম ওয়ার্ডসওয়ার্থ
উত্তর: ক। এটি মার্কিন কবি হেনরি ওয়াডসওয়ার্থ লংফেলোর (১৮০৭-১৮৮২) ‘A Psalm of Life’ কবিতার ভাবানুবাদ।
১০। কবিতার মূল বক্তব্য কী?
- ক. জীবনকে যুদ্ধক্ষেত্র ভেবে সাহসী যোদ্ধার মতো বাঁচার আহ্বান
- খ. শুধু সুখের সন্ধানের আহ্বান
- গ. জীবন সম্পূর্ণ নিরর্থক
- ঘ. পার্থিব জগৎ ত্যাগ করার আহ্বান
উত্তর: ক। কবিতায় জীবনকে যুদ্ধক্ষেত্র হিসেবে দেখে সাহসী যোদ্ধার মতো সংগ্রাম করে বেঁচে থাকা এবং মহৎ ব্যক্তিদের পথ অনুসরণ করে বরণীয় হওয়ার আহ্বান জানানো হয়েছে।
১১। কবি প্রথম স্তবকে কী বলতে নিষেধ করেন?
- ক. মানুষ মরণশীল
- খ. জীবন সুন্দর
- গ. এই সংসারে জন্ম বৃথা
- ঘ. সংসার সুখের
উত্তর: গ। কবি নিষেধ করেন, কাতর স্বরে যেন কেউ না বলে এই সংসারে জন্ম বৃথা, জীবন রাতের স্বপ্নের মতো।
১২। কবির মতে ‘দারা পুত্র পরিবার’ নিয়ে কোন ধরনের ক্রন্দন করা উচিত নয়?
- ক. ‘তুমি কার, কে তোমার’ বলে নৈরাশ্যবাদী ক্রন্দন
- খ. তাদের বিচ্ছেদে কান্না
- গ. তাদের মৃত্যুতে কান্না
- ঘ. তাদের অসুস্থতায় কান্না
উত্তর: ক। কবি বলেন, দারা-পুত্র-পরিবার নিয়ে ‘তুমি কার, কে তোমার’ বলে হতাশাব্যঞ্জক ক্রন্দন করা উচিত নয়, কারণ এই সম্পর্কগুলো অর্থহীন নয়।
১৩। কবির মতে মানব-জনম সম্পর্কে কী সত্য?
- ক. এমন জনম আর পাওয়া যাবে না
- খ. এটি বারবার পাওয়া যায়
- গ. এটি গুরুত্বহীন
- ঘ. এটি শুধু কষ্টের কারণ
উত্তর: ক। কবি বলেন, মানব-জনমই সার, এমন জনম আর পাওয়া যাবে না— তাই বাহ্যিক চাকচিক্যে ভুলে এই মূল্যবান জীবন নষ্ট করা উচিত নয়।
১৪। কবির মতে যত্ন করলে কী হবে?
- ক. জয় হবে
- খ. ব্যর্থতা আসবে
- গ. কিছুই হবে না
- ঘ. সময় নষ্ট হবে
উত্তর: ক। কবি বলেন, যত্ন করলে জয় হবে, তাই মানুষের চেষ্টা (আকিঞ্চন) করা উচিত।
১৫। কবির মতে জীবনের উদ্দেশ্য কী নয়?
- ক. কাজ করা
- খ. দায়িত্ব পালন করা
- গ. শুধু সুখের আশা করা বা দুঃখের ফাঁসে আবদ্ধ হওয়া
- ঘ. সমাজে বাস করা
উত্তর: গ। কবি বলেন, শুধু সুখের আশা করা বা দুঃখের ফাঁসে জড়ানো জীবনের উদ্দেশ্য নয়।
১৬। কবি মানুষকে সংসারে কীভাবে বাস করতে বলেন?
- ক. সংসারীর মতো, নিত্য নিজ কাজ করে
- খ. উদাসীনভাবে
- গ. সন্ন্যাসীর মতো
- ঘ. একাকী
উত্তর: ক। কবি বলেন, সংসারে সংসারীর মতো সেজে নিত্য নিজ কাজ করা উচিত, যাতে জাগতিক উন্নতি হয়।
১৭। কবি সময় সম্পর্কে কী বলেন?
- ক. সময়ের কোনো মূল্য নেই
- খ. দিন-ক্ষণ দ্রুত চলে যায়, সময় কারো নয়
- গ. সময় ফিরে আসে
- ঘ. সময় স্থির থাকে
উত্তর: খ। কবি বলেন, দিন যায় ক্ষণ যায়, সময় কারো নয়, তা বেগে ধায়, স্থির থাকে না।
১৮। কবি মানুষের আয়ুকে কীসের সাথে তুলনা করেছেন?
- ক. পাহাড়ের সাথে
- খ. আকাশের সাথে
- গ. সমুদ্রের সাথে
- ঘ. শৈবালের ওপর পানির ফোঁটার সাথে
উত্তর: ঘ। কবি বলেন, আয়ু যেন শৈবালের নীর— অর্থাৎ শেওলার ওপর জলবিন্দুর মতো অত্যন্ত ক্ষণস্থায়ী।
১৯। কালের প্রভাবে কী ঘুচে যায় বলে কবি বলেন?
- ক. সহায়, সম্পদ, বল— সবকিছু
- খ. শুধু বল
- গ. শুধু সম্পদ
- ঘ. কোনো কিছুই ঘুচে যায় না
উত্তর: ক। কবি বলেন, সহায়-সম্পদ-বল সবকিছুই কাল ঘুচিয়ে দেয়— জীবনের এই ক্ষণস্থায়ী প্রকৃতিই কবি তুলে ধরেছেন।
২০। কবি সংসারকে কীসের সাথে তুলনা করেছেন?
- ক. একটি যুদ্ধক্ষেত্রের (সমরাঙ্গন) সাথে
- খ. একটি নদীর সাথে
- গ. একটি বাগানের সাথে
- ঘ. একটি সমুদ্রের সাথে
উত্তর: ক। কবি সংসারকে সমরাঙ্গন বা যুদ্ধক্ষেত্রের সাথে তুলনা করেছেন, যেখানে মানুষকে দৃঢ়পণে যুদ্ধ করতে হয়।
২১। কবি মানুষকে কীভাবে যুদ্ধ করতে বলেন?
- ক. একা একা
- খ. দৃঢ়পণে, বীর্যবান হয়ে, ভয়ে ভীত না হয়ে
- গ. অলসভাবে
- ঘ. ভীত হয়ে
উত্তর: খ। কবি বলেন, সংসার-সমরাঙ্গনে দৃঢ়পণে যুদ্ধ করতে হবে, ভয়ে ভীত না হয়ে বীর্যবান হয়ে লড়তে হবে।
২২। প্রাণ গেলেও কী দুর্লভ থেকে যায় বলে কবি বলেন?
- ক. মহিমা
- খ. সম্পদ
- গ. আনন্দ
- ঘ. স্বাস্থ্য
উত্তর: ক। কবি বলেন, ‘যায় যাবে যাক প্রাণ, মহিমাই জগতে দুর্লভ’— অর্থাৎ জীবনের চেয়েও গৌরব বা মহিমা অর্জনই সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ।
২৩। কবি কীসের ওপর ভবিষ্যতে ভরসা করতে নিষেধ করেন?
- ক. অস্পষ্ট ভবিষ্যতের ওপর অতিরিক্ত নির্ভরতা
- খ. অতীত স্মৃতির ওপর
- গ. অন্ধকারে মনোহর মূর্তি দেখে
- ঘ. বর্তমান কাজের ওপর
উত্তর: ক। কবি বলেন, অন্ধকারে মনোহর মূর্তি দেখে (অস্পষ্ট কল্পনায়) ভবিষ্যতের ওপর ভরসা করা উচিত নয়।
২৪। অতীত সুখের দিন নিয়ে কবি কী উপদেশ দেন?
- ক. তা বারবার স্মরণ করতে
- খ. তা ভুলে যেতে
- গ. তা নিয়ে গর্ব করতে
- ঘ. তা নিয়ে চিন্তা করে কাতর না হতে
উত্তর: ঘ। কবি বলেন, অতীত সুখের দিনের কথা পুনরায় ডেকে এনে চিন্তা করে কাতর হওয়া উচিত নয়— বরং বর্তমানে মনোযোগী হওয়া উচিত।
২৫। মহাজ্ঞানী মহাজনেরা কীভাবে ‘প্রাতঃস্মরণীয়’ হয়েছেন বলে কবি বলেন?
- ক. ধনসম্পদ অর্জন করে
- খ. রাজদরবারে চাকরি করে
- গ. যুদ্ধে জয়লাভ করে
- ঘ. যে পথে গমন করেছেন, সেই পথ অনুসরণ করে
উত্তর: ঘ। মহাজ্ঞানী মহাজনেরা যে পথে গমন করেছেন, সেই পথ অনুসরণ করেই তাঁরা প্রাতঃস্মরণীয় (সকলের শ্রদ্ধার পাত্র) হয়েছেন।
২৬। কবি নিজেদের সম্পর্কে কী আশা প্রকাশ করেন?
- ক. তাঁরা বিখ্যাত হবেন না
- খ. তাঁরা ধনী হবেন
- গ. তাঁরা শুধু সুখী হবেন
- ঘ. মহাজনদের পথ অনুসরণ করে বরণীয় হওয়ার আশা
উত্তর: ঘ। কবি আশা প্রকাশ করেন, মহাজনদের পথ লক্ষ্য করে নিজেদের কীর্তির ধ্বজা ধরে আমরাও বরণীয় হব।
২৭। কবি ‘পদাঙ্ক অঙ্কিত করা’ বলতে কী বোঝাতে চেয়েছেন?
- ক. এমন কীর্তি রেখে যাওয়া যা পরবর্তীদের পথ দেখাবে
- খ. একটি ধর্মীয় আচার
- গ. একটি শারীরিক ব্যায়াম
- ঘ. পায়ের ছাপ ফেলে হাঁটা মাত্র
উত্তর: ক। সমর-সাগর-তীরে পদাঙ্ক অঙ্কিত করে অমর হওয়া বলতে কবি বোঝান, এমন মহৎ কীর্তি রেখে যাওয়া যা অনুসরণ করে পরবর্তী মানুষ যশোদ্বারে পৌঁছাতে পারবে।
২৮। কবির মতে অন্য কোনো জনের কী উপকার হবে, যদি আমরা পদাঙ্ক রেখে যাই?
- ক. সেই চিহ্ন লক্ষ্য করে তারাও দ্রুত যশোদ্বারে পৌঁছাবে
- খ. তারা যুদ্ধে জয়ী হবে
- গ. তাদের কোনো উপকার হবে না
- ঘ. তারা ধনী হবে
উত্তর: ক। কবি বলেন, আমাদের রেখে যাওয়া পদচিহ্ন লক্ষ্য করে অন্য মানুষও দ্রুত যশোদ্বারে (খ্যাতির দুয়ারে) পৌঁছাতে পারবে।
২৯। কবিতার শেষ স্তবকে কবি মানবগণকে কী করতে নিষেধ করেন?
- ক. মহাজনদের অনুসরণ করতে
- খ. কাজ করতে
- গ. সংসার-সমরাঙ্গনে বৃথা জীবন ক্ষয় করতে
- ঘ. সংকল্প করতে
উত্তর: গ। কবি বলেন, মানবগণ যেন সংসার-সমরাঙ্গনে বৃথা জীবন ক্ষয় না করে।
৩০। কবির শেষ উপদেশ কী?
- ক. সংকল্প সাধন করে নিজ কাজে রত থাকতে
- খ. সংকল্প ত্যাগ করতে
- গ. অন্যের কাজে সাহায্য করতে
- ঘ. নতুন সংকল্প করতে
উত্তর: ক। কবি শেষে উপদেশ দেন, যে সংকল্প করা হয়েছে তা সাধন করতে হবে, নিজ নিজ কাজে রত থেকে।
**৩১। কবিতার মূল উপদেশ নিয়ে নিচের তথ্যগুলো লক্ষ করো —**
i. জীবনকে যুদ্ধক্ষেত্র হিসেবে দেখে সাহসের সাথে বাঁচতে হবে
ii. জীবনের উদ্দেশ্য শুধু সুখ ভোগ করা
iii. মহৎ ব্যক্তিদের পথ অনুসরণ করে বরণীয় হতে হবে
নিচের কোনটি সঠিক?
ক. i ও ii খ. i ও iii গ. ii ও iii ঘ. i, ii ও iii
**উত্তর: খ।** প্রথম ও তৃতীয় তথ্য কবিতার মূল বক্তব্যের সাথে মেলে, কিন্তু কবি স্পষ্ট বলেছেন শুধু সুখের আশা জীবনের উদ্দেশ্য নয়— তাই দ্বিতীয় তথ্যটি ভুল।
৩২। ‘দারা’ শব্দের অর্থ কী?
- ক. সন্তান
- খ. স্ত্রী
- গ. ভাই
- ঘ. পিতা
উত্তর: খ। দারা অর্থ স্ত্রী।
৩৩। ‘বাহ্যদৃশ্যে’ শব্দের অর্থ কী?
- ক. বাইরের জগতের চাকচিক্যময় রূপ
- খ. প্রাচীন দৃশ্য
- গ. অভ্যন্তরীণ সত্য
- ঘ. ভবিষ্যতের দৃশ্য
উত্তর: ক। বাহ্যদৃশ্যে অর্থ বাইরের জগতের চাকচিক্যময় রূপ বা জিনিস।
৩৪। ‘জীবাত্মা’ শব্দের অর্থ কী?
- ক. মানুষের আত্মা
- খ. বুদ্ধি
- গ. মন
- ঘ. দেহ
উত্তর: ক। জীবাত্মা অর্থ মানুষের আত্মা।
৩৫। ‘অনিত্য’ শব্দের অর্থ কী?
- ক. অস্থায়ী, যা চিরকালের নয়
- খ. চিরন্তন
- গ. পবিত্র
- ঘ. স্থায়ী
উত্তর: ক। অনিত্য অর্থ অস্থায়ী বা যা চিরকালের নয়।
৩৬। ‘আকিঞ্চন’ শব্দের অর্থ কী?
- ক. অবহেলা
- খ. চেষ্টা, আকাঙ্ক্ষা
- গ. আনন্দ
- ঘ. ভয়
উত্তর: খ। আকিঞ্চন অর্থ চেষ্টা বা আকাঙ্ক্ষা।
৩৭। ‘সমরাঙ্গনে’ শব্দের অর্থ কী?
- ক. বিদ্যালয়ে
- খ. রাজদরবারে
- গ. উৎসবে
- ঘ. যুদ্ধক্ষেত্রে
উত্তর: ঘ। সমরাঙ্গনে অর্থ যুদ্ধক্ষেত্রে— কবি মানুষের জীবনকে যুদ্ধক্ষেত্রের সাথে তুলনা করেছেন।
৩৮। ‘প্রাতঃস্মরণীয়’ শব্দের অর্থ কী?
- ক. অপ্রয়োজনীয়
- খ. রাতে স্মরণীয়
- গ. ভুলে যাওয়ার যোগ্য
- ঘ. সকলের শ্রদ্ধা ও সম্মানের পাত্র
উত্তর: ঘ। প্রাতঃস্মরণীয় অর্থ সকালবেলায় স্মরণ করার যোগ্য, অর্থাৎ সকলের শ্রদ্ধা ও সম্মানের পাত্র।
৩৯। ‘পদাঙ্ক’ শব্দের অর্থ কী?
- ক. কোনো মহৎ ব্যক্তির কৃতকর্ম বা চরিত্র
- খ. একটি স্থানের নাম
- গ. একটি পুরস্কার
- ঘ. একটি ঐতিহাসিক ঘটনা
উত্তর: ক। পদাঙ্ক অর্থ কোনো মহৎ ব্যক্তির কৃতকর্ম বা চরিত্র, যা অনুসরণযোগ্য।
৪০। ‘যশোদ্বারে’ শব্দের অর্থ কী?
- ক. বিদ্যালয়ের দরজায়
- খ. রাজপ্রাসাদের দরজায়
- গ. মন্দিরের দরজায়
- ঘ. খ্যাতির দ্বারে
উত্তর: ঘ। যশোদ্বারে অর্থ খ্যাতির দ্বারে বা প্রবেশপথে।
৪১। পাঠ-পরিচিতি অনুযায়ী কবিতায় কোন দার্শনিক অবস্থানের বিরোধিতা করা হয়েছে?
- ক. কর্মবাদ
- খ. ভক্তিবাদ
- গ. জ্ঞানবাদ
- ঘ. বৈরাগ্যবাদের বিরোধিতা করা হয়েছে
উত্তর: ঘ। পাঠ-পরিচিতি অনুযায়ী কবি মনে করেন বৈরাগ্যে (সংসার ত্যাগে) মুক্তি নেই, তাই সংসারে থেকেই দায়িত্ব পালন করা উচিত।
৪২। কবিতাটি জীবনের প্রতি কোন দৃষ্টিভঙ্গি তুলে ধরে?
- ক. ইতিবাচক, কর্মমুখী ও সংগ্রামী দৃষ্টিভঙ্গি
- খ. নেতিবাচক ও পলায়নপর দৃষ্টিভঙ্গি
- গ. উদাসীন দৃষ্টিভঙ্গি
- ঘ. শুধু ধর্মকেন্দ্রিক দৃষ্টিভঙ্গি
উত্তর: ক। কবিতাটি জীবনের প্রতি একটি ইতিবাচক, কর্মমুখী ও সংগ্রামী দৃষ্টিভঙ্গি তুলে ধরে— জীবন সংক্ষিপ্ত হলেও তা অর্থবহ করে তোলার আহ্বান জানায়।
“বৈরাগ্য সাধনে মুক্তি, সে আমার নয়। অসংখ্য বন্ধন-মাঝে মহানন্দময় লভিব মুক্তির স্বাদ।”
৪৩। উদ্দীপকের ভাব ‘জীবন-সঙ্গীত’ কবিতার কোন ভাবের সাথে সাদৃশ্যপূর্ণ?
- ক. সংসারে থেকে কর্মের মাধ্যমে জীবনের সার্থকতা অনুসন্ধান
- খ. বিরহবেদনা
- গ. প্রকৃতিপ্রেম
- ঘ. মৃত্যুচেতনা
উত্তর: ক। উদ্দীপকে যেমন বৈরাগ্যের বদলে সাংসারিক বন্ধনের মধ্যেই মুক্তির স্বাদ খোঁজার কথা বলা হয়েছে, ‘জীবন-সঙ্গীত’ কবিতাতেও সংসারে থেকে কর্মের মাধ্যমে জীবনের সার্থকতা খোঁজার একই আহ্বান প্রকাশ পেয়েছে।
**৪৪। এই সাদৃশ্যপূর্ণ ভাবের মধ্যে নিচের কোনগুলো অন্তর্ভুক্ত?**
i. বৈরাগ্যের প্রতি নিরুৎসাহভাব
ii. কর্মীরূপে সংসার জীবন যাপন
iii. সংসারের প্রতি সম্পূর্ণ উদাসীনতা
নিচের কোনটি সঠিক?
ক. i ও ii খ. i ও iii গ. ii ও iii ঘ. i, ii ও iii
**উত্তর: ক।** প্রথম দুটি তথ্য উদ্দীপক ও কবিতা উভয়ের সাথে সংগতিপূর্ণ, কিন্তু উভয় ক্ষেত্রেই সংসারের প্রতি উদাসীনতা নয় বরং সক্রিয় অংশগ্রহণের কথাই বলা হয়েছে— তাই তৃতীয় তথ্যটি ভুল।
৪৫। ‘বৃথা জন্ম এ সংসারে’— এই ধরনের হতাশাব্যঞ্জক উক্তির বিরুদ্ধে কবি কী যুক্তি দেন?
- ক. সংসার সত্যিই বৃথা
- খ. মানব-জনম অত্যন্ত মূল্যবান, এমন জনম আর পাওয়া যাবে না
- গ. জন্ম নিয়ন্ত্রণের বাইরে বলে এ নিয়ে ভাবা অর্থহীন
- ঘ. কবি এই উক্তির সাথে একমত
উত্তর: খ। কবি এই হতাশাবাদী দৃষ্টিভঙ্গির বিরুদ্ধে দৃঢ়ভাবে বলেন, মানব-জনমই সার, এমন সুযোগ বারবার আসে না— তাই তা বৃথা মনে করা উচিত নয়।
৪৬। কবিতায় ‘জীবাত্মা অনিত্য নয়’ বলে কবি কী বোঝাতে চান?
- ক. আত্মা শুধু কল্পনা মাত্র
- খ. আত্মা বলে কিছু নেই
- গ. আত্মা চিরন্তন, তাই চেষ্টায় সাফল্য সম্ভব
- ঘ. আত্মা ক্ষণস্থায়ী
উত্তর: গ। আত্মা অনিত্য নয় বলে কবি বোঝাতে চান আত্মা স্থায়ী বা চিরন্তন— তাই মানুষের উচিত যত্ন ও চেষ্টার মাধ্যমে জীবনে সাফল্য অর্জনের চেষ্টা করা।
৪৭। কবিতায় ‘ভবের উন্নতি’ বলতে কী বোঝানো হয়েছে?
- ক. ব্যক্তিগত ধনসম্পদ বৃদ্ধি
- খ. পরকালীন মুক্তি
- গ. রাজনৈতিক ক্ষমতা অর্জন
- ঘ. সাংসারিক দায়িত্ব পালনের মাধ্যমে সমাজের কল্যাণ
উত্তর: ঘ। ভবের উন্নতি বলতে জাগতিক বা সাংসারিক দায়িত্ব যথাযথভাবে পালনের মাধ্যমে সমষ্টিগত কল্যাণ সাধনকে বোঝানো হয়েছে।
৪৮। কবি কেন মানুষকে ভয়ে ভীত না হতে বলেন?
- ক. ভয়ের কোনো কারণ নেই বলে
- খ. সাহসিকতায় জীবনযুদ্ধে মহিমা অর্জন সম্ভব বলে
- গ. ভয় পাওয়া অসম্ভব বলে
- ঘ. ভয় পাওয়া অন্যায় বলে
উত্তর: খ। কবির মতে সাহসিকতার সাথে জীবনযুদ্ধে অংশগ্রহণ করলেই মানুষ জগতে দুর্লভ মহিমা অর্জন করতে পারে, ভীরুতায় তা সম্ভব নয়।
৪৯। কবিতায় ‘মহাজ্ঞানী মহাজন’দের উদাহরণ দেওয়ার উদ্দেশ্য কী?
- ক. তাদের সমালোচনা করা
- খ. তাদের সম্পদের কথা বলা
- গ. ইতিহাস শেখানো
- ঘ. তাদের পথ অনুসরণের মাধ্যমে পাঠককে অনুপ্রাণিত করা
উত্তর: ঘ। মহান ব্যক্তিদের দৃষ্টান্ত দিয়ে কবি পাঠককে তাঁদের পথ অনুসরণ করে নিজেদেরও মহৎ ও বরণীয় হওয়ার জন্য অনুপ্রাণিত করতে চেয়েছেন।
৫০। কবিতাটি Longfellow-র মূল কবিতার ‘ভাবানুবাদ’ বলা হয়েছে কেন, ‘আক্ষরিক অনুবাদ’ নয়?
- ক. এটি ইংরেজি থেকে শব্দে শব্দে অনূদিত
- খ. এটি সম্পূর্ণ ভিন্ন একটি রচনা
- গ. মূল ভাব রেখে বাংলা সংস্কৃতি উপযোগী করে পুনঃসৃজিত হয়েছে
- ঘ. এর সাথে মূল কবিতার কোনো সম্পর্ক নেই
উত্তর: গ। ভাবানুবাদ মানে মূল রচনার ভাব ও বক্তব্য অক্ষুণ্ণ রেখে তা লক্ষ্যভাষা ও সংস্কৃতির উপযোগী করে নতুনভাবে প্রকাশ করা— হেমচন্দ্র এই পদ্ধতিতেই লংফেলোর কবিতাকে বাংলা ভাষা ও ভাবের ছাঁচে ঢেলেছেন।
