নিরীহ বাঙালি প্রবন্ধের MCQ | SSC বাংলা ১ম পত্রের “নিরীহ বাঙালি” প্রবন্ধ থেকে বোর্ড পরীক্ষায় নিয়মিত প্রশ্ন আসে। এই পোস্টে প্রবন্ধের সারকথা ও ৪৯টি বহুনির্বাচনি প্রশ্ন (MCQ) উত্তর ও ব্যাখ্যাসহ দেওয়া হলো। জ্ঞানমূলক ও অনুধাবনমূলক প্রশ্নের জন্য নিরীহ বাঙালি প্রবন্ধের নোট দেখুন।
নিরীহ বাঙালি প্রবন্ধের সারকথা ও গুরুত্বপূর্ণ তথ্য
লেখিকা
বেগম রোকেয়া সাখাওয়াত হোসেন (জন্ম ৯ ডিসেম্বর ১৮৮০, পায়রাবন্দ, রংপুর; মৃত্যু ৯ ডিসেম্বর ১৯৩২)। মুসলিম নারী জাগরণের অগ্রদূত। সাখাওয়াত মেমোরিয়াল গার্লস স্কুল ও আনজুমান-ই-খাওয়াতীন-ই-ইসলাম প্রতিষ্ঠাতা। প্রধান গ্রন্থ: পদ্মরাগ, অবরোধবাসিনী, মতিচূর, সুলতানার স্বপ্ন।
উৎস ও রূপ
একটি তীক্ষ্ণ ব্যঙ্গাত্মক প্রবন্ধ, উপরে উপরে বাঙালির প্রশংসার ভান করলেও ভেতরে ভেতরে অলসতা, পরিশ্রমবিমুখতা ও অসারতার কঠোর সমালোচনা।
প্রবন্ধের মূল বিষয়বস্তু
- বাঙালিকে ব্যঙ্গার্থে ‘মূর্তিমতী কবিতা’, বিশ্বসৌন্দর্যের প্রতীক বলে অতিরঞ্জিত প্রশংসা।
- খাদ্য, পোশাক ও শারীরিক গুণাবলির অতিরঞ্জিত, ব্যঙ্গাত্মক বর্ণনা— খাদ্যগুণে ভুঁড়ি স্থূল, স্বভাব ভীরু হওয়ার হাস্যকর যুক্তি।
- বাণিজ্যে পরিশ্রম এড়িয়ে নকল ও বিলাসপণ্যে ব্যবসা করার প্রবণতার তীব্র সমালোচনা।
- ‘পাস বিক্রয়’ ব্যবসার রূপকে যৌতুকপ্রথার নির্মম সমালোচনা।
- কৃষিকাজ এড়িয়ে ‘brain culture’-এর সহজ পথ বেছে নেওয়ার এবং দরিদ্রদের প্রতি উদাসীনতার কঠোর সমালোচনা।
- আটটি ‘সহজ কাজের’ তালিকা— প্রকৃত অর্জনের বদলে উপাধি, লোকদেখানো সমবেদনা, ভিক্ষা গ্রহণ ইত্যাদির প্রতি ঝোঁকের ব্যঙ্গ।
- গৃহিণীদের রান্নায় বাধ্য করার প্রবণতার তীব্র প্রতিবাদ— নারী-পুরুষের সমান কোমলতার যুক্তিতে।
- অতিরিক্ত ভাবালুতাপূর্ণ, তুচ্ছ বিষয় নিয়ে অশ্রুসজল কবিতা রচনার প্রবণতার সমালোচনা।
নিরীহ বাঙালি প্রবন্ধের মূল ভাব কী?
ব্যঙ্গ-বিদ্রূপের আড়ালে বাঙালি সমাজের অলসতা, পরিশ্রমবিমুখতা, বাগাড়ম্বর ও অন্তঃসারশূন্যতার তীক্ষ্ণ সমালোচনা এবং প্রকৃত কর্মমুখী, উৎপাদনশীল জীবনযাপনের প্রতি আহ্বান— এই প্রবন্ধের কেন্দ্রীয় বার্তা।
নিরীহ বাঙালি প্রবন্ধের গুরুত্বপূর্ণ শব্দার্থ
সৌকুমার্য (সৌন্দর্য/কোমলতা), হাওয়ার শাড়ি (সূক্ষ্ম পাতলা শাড়ি), তণ্ডুল (চাল), দিব্যাঙ্গনা (স্বর্গের রূপসী), সাশ্রুসজলনয়ন (জলভরা চোখ), আত্মপ্রশংসা (নিজের প্রশংসা)।
লেখক পরিচিতি বিষয়ক MCQ
১। রোকেয়া সাখাওয়াত হোসেন কত খ্রিষ্টাব্দে জন্মগ্রহণ করেন?
- ক. ১৮৮০
- খ. ১৮৭৮
- গ. ১৮৮১
- ঘ. ১৮৭৯
উত্তর: ক। তিনি ১৮৮০ খ্রিষ্টাব্দের ৯ই ডিসেম্বর জন্মগ্রহণ করেন।
২। রোকেয়া সাখাওয়াত হোসেনের জন্মস্থান কোথায়?
- ক. ঢাকা
- খ. ময়মনসিংহ
- গ. ফরিদপুর
- ঘ. পায়রাবন্দ, রংপুর
উত্তর: ঘ। রংপুর জেলার পায়রাবন্দ গ্রামে তিনি জন্মগ্রহণ করেন।
৩। ছোটবেলায় কে রোকেয়াকে বাংলা শিক্ষায় সাহায্য করেন?
- ক. বড় বোন করিমুন্নেসা বেগম
- খ. তাঁর মা
- গ. বড় ভাই ইব্রাহিম সাবের
- ঘ. তাঁর পিতা
উত্তর: ক। ছোটবেলায় বড় বোন করিমুন্নেসা বেগম রোকেয়াকে বাংলা শিক্ষায় সাহায্য করেন।
৪। রোকেয়া কার তত্ত্বাবধানে ইংরেজি শেখেন?
- ক. বড় বোনের
- খ. বড় ভাই ইব্রাহিম সাবেরের
- গ. পিতার
- ঘ. স্বামীর
উত্তর: খ। বড় ভাই ইব্রাহিম সাবেরের তত্ত্বাবধানে তিনি ইংরেজি শেখেন।
৫। বিবাহের পর রোকেয়া কী নামে পরিচিত হন?
- ক. রোকেয়া সাবের
- খ. বেগম রোকেয়া সাখাওয়াত হোসেন
- গ. রোকেয়া ইব্রাহিম
- ঘ. রোকেয়া করিমুন্নেসা
উত্তর: খ। বিহারের ভাগলপুরের সৈয়দ সাখাওয়াত হোসেনের সঙ্গে বিবাহের পর তিনি বেগম রোকেয়া সাখাওয়াত হোসেন নামে পরিচিত হন।
৬। রোকেয়া সাখাওয়াত হোসেন কোন কোন প্রতিষ্ঠান স্থাপন করেন?
- ক. শুধু একটি স্কুল
- খ. একটি হাসপাতাল
- গ. সাখাওয়াত মেমোরিয়াল গার্লস স্কুল
- ঘ. একটি এতিমখানা
উত্তর: গ। তিনি সাখাওয়াত মেমোরিয়াল গার্লস স্কুল ও আনজুমান-ই-খাওয়াতীন-ই-ইসলাম প্রতিষ্ঠা করে মুসলমান নারীদের শিক্ষা ও সংস্কৃতির পথে অগ্রসর হতে সাহায্য করেন।
৭। নিচের কোনটি রোকেয়া সাখাওয়াত হোসেনের গ্রন্থ নয়?
- ক. পদ্মরাগ
- খ. অবরোধবাসিনী
- গ. মতিচূর
- ঘ. চোখের বালি
উত্তর: ঘ। চোখের বালি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের রচনা; বাকি তিনটি রোকেয়ার রচনা।
৮। রোকেয়া সাখাওয়াত হোসেনের বিখ্যাত রচনা ‘সুলতানার স্বপ্ন’ কী বিষয়ে?
- ক. নারীশাসিত কাল্পনিক সমাজ
- খ. একটি ভ্রমণকাহিনি
- গ. একটি ঐতিহাসিক ঘটনা
- ঘ. একটি প্রেমকাহিনি
উত্তর: ক। ‘সুলতানার স্বপ্ন’ একটি বিজ্ঞান-কল্পকাহিনি, যেখানে তিনি নারীশাসিত এক কাল্পনিক আদর্শ সমাজের চিত্র কল্পনা করেছেন।
৯। রোকেয়া সাখাওয়াত হোসেন কত খ্রিষ্টাব্দে মৃত্যুবরণ করেন?
- ক. ১৯৩১
- খ. ১৯৩৩
- গ. ১৯৩২
- ঘ. ১৯৩০
উত্তর: গ। ৯ই ডিসেম্বর, ১৯৩২ খ্রিষ্টাব্দে (তাঁর জন্মদিনেই) তিনি মৃত্যুবরণ করেন।
নিরীহ বাঙালি প্রবন্ধের বহুনির্বাচনি প্রশ্ন ও উত্তর (MCQ)
১০। ‘নিরীহ বাঙালি’ প্রবন্ধটি কোন ধরনের রচনা?
- ক. একটি তীক্ষ্ণ ব্যঙ্গাত্মক রচনা
- খ. একটি ভ্রমণকাহিনি
- গ. একটি আত্মজীবনী
- ঘ. একটি গম্ভীর ঐতিহাসিক প্রবন্ধ
উত্তর: ক। প্রবন্ধটি একটি তীক্ষ্ণ ব্যঙ্গাত্মক রচনা, যেখানে উপরে উপরে প্রশংসার ভান করে বাঙালির দোষত্রুটি তুলে ধরা হয়েছে।
১১। পাঠ-পরিচিতি অনুযায়ী প্রবন্ধের প্রকৃত উদ্দেশ্য কী?
- ক. রাজনৈতিক প্রচারণা
- খ. বিদেশিদের প্রশংসা করা
- গ. বাঙালিকে হেয় করা
- ঘ. ব্যঙ্গের মাধ্যমে কাজে প্রণোদিত করা
উত্তর: ঘ। পাঠ-পরিচিতি অনুযায়ী ব্যঙ্গাত্মক এই প্রবন্ধের মাধ্যমে রোকেয়া বাঙালি পুরুষ ও নারীকে সত্যিকার সামাজিক, পারিবারিক ও জাতীয় কাজে প্রণোদিত করতে চেয়েছেন।
১২। প্রবন্ধের শুরুতে ‘বাঙালি’ শব্দটিকে কীসের সাথে তুলনা করা হয়েছে?
- ক. দারিদ্র্যের সাথে
- খ. বিশ্বের সৌন্দর্যের সাথে (ব্যঙ্গার্থে)
- গ. কঠোরতার সাথে
- ঘ. যুদ্ধের সাথে
উত্তর: খ। ব্যঙ্গার্থে লেখিকা বলেন, কুসুমের সৌকুমার্য, চন্দ্রের চন্দ্রিকা, মধুর মাধুরী প্রভৃতি বিশ্বজগতের সমুদয় সৌন্দর্য নিয়ে বাঙালি গঠিত হয়েছে— এই অতিরঞ্জিত প্রশংসাই আসলে শ্লেষ।
১৩। লেখিকা বাঙালিকে কী বলে অভিহিত করেছেন?
- ক. মূর্তিমান সাহস
- খ. মূর্তিমান শক্তি
- গ. মূর্তিমতী কবিতা
- ঘ. মূর্তিমান জ্ঞান
উত্তর: গ। লেখিকা ব্যঙ্গার্থে বলেন, আমরা মূর্তিমতী কবিতা।
১৪। ভারতবর্ষকে একটি অট্টালিকা মনে করলে বঙ্গদেশ কী, আর বাঙালি কী?
- ক. বঙ্গদেশ প্রবেশদ্বার, বাঙালি জানালা
- খ. বঙ্গদেশ ভিত্তি, বাঙালি স্তম্ভ
- গ. বঙ্গদেশ বৈঠকখানা (drawing room), বাঙালি তার সাজসজ্জা
- ঘ. বঙ্গদেশ ছাদ, বাঙালি দেয়াল
উত্তর: গ। লেখিকা বলেন, ভারতবর্ষকে অট্টালিকা মনে করলে বঙ্গদেশ তার বৈঠকখানা এবং বাঙালি তাতে সাজসজ্জা।
১৫। লেখিকা বাঙালির প্রধান খাদ্যদ্রব্য হিসেবে কী কী উল্লেখ করেন?
- ক. শুধু মাছ-মাংস
- খ. পুঁইশাক, পুঁটি মাছ, ঘি-দুধ-সন্দেশ
- গ. শুধু ভাত-ডাল
- ঘ. বিদেশি খাবার
উত্তর: খ। পুঁইশাকের ডাঁটা, সজিনা, পুঁটি মাছের ঝোল, ঘি, দুধ, ছানা, নবনীত, ক্ষীর, সর, সন্দেশ, রসগোল্লা, আম ও কাঁঠাল— এসবই বাঙালির খাদ্যসামগ্রী বলে উল্লেখ করা হয়েছে।
১৬। খাদ্যের গুণের সাথে শরীরের সম্পর্ক নিয়ে লেখিকা কী ব্যঙ্গাত্মক মন্তব্য করেন?
- ক. খাদ্যগুণেই বাঙালির স্বভাব ভীরু (ব্যঙ্গার্থে)
- খ. খাদ্য বাঙালির স্বাস্থ্য ভালো রাখে
- গ. খাদ্যের সাথে শরীরের কোনো সম্পর্ক নেই
- ঘ. খাদ্যের কারণে বাঙালি শক্তিশালী
উত্তর: ক। লেখিকা ব্যঙ্গ করে বলেন, সজিনা বীজবহুল বলে বাঙালির ভুঁড়ি স্থূল হয়, আর নবনীতে কোমলতা বেশি বলে বাঙালির স্বভাবে ভীরুতাও বেশি— এটি একটি তীক্ষ্ণ শ্লেষ।
১৭। পুরুষদের পোশাক সম্পর্কে লেখিকা কী বলেন?
- ক. তারা শুধু বিদেশি পোশাক পরে
- খ. তাদের পোশাকের কোনো বৈচিত্র্য নেই
- গ. সূক্ষ্ম ধুতি-চাদর ও মাঝে কোট-শার্ট পরে
- ঘ. তারা কোনো পোশাক পরে না
উত্তর: গ। পুরুষেরা সূক্ষ্ম শিমলার ধুতি ও চাদর পরেন, যাতে বায়ুসঞ্চালনে বাধা হয় না; মাঝেমধ্যে সভ্যতার অনুরোধে কোট-শার্টও ব্যবহার করেন।
১৮। নারীদের পোশাক সম্পর্কে লেখিকা কী ব্যঙ্গ করেন?
- ক. তারা পুরুষদের মতো পোশাক পরেন
- খ. সূক্ষ্ম ‘হাওয়ার শাড়ি’ পরেন (ব্যঙ্গার্থে)
- গ. তারা ইংরেজ নারীদের মতো পোশাক পরেন
- ঘ. তাদের কোনো নির্দিষ্ট পোশাক নেই
উত্তর: খ। নারীরা ইংরেজ ললনাদের নির্লজ্জ পরিচ্ছদ (শেমজি জ্যাকেট) অনুকরণ করেন না, বরং অতি সূক্ষ্ম ‘হাওয়ার শাড়ি’ পরেন— নিজেদের সুকুমারী বলে দাবি করেন।
১৯। লেখিকার মতে ধনবৃদ্ধির দুই উপায় কী?
- ক. চাকরি ও ব্যবসা
- খ. শিক্ষা ও রাজনীতি
- গ. বাণিজ্য ও কৃষি
- ঘ. দান ও ঋণ
উত্তর: গ। ধনবৃদ্ধির দুই উপায় বাণিজ্য ও কৃষি বলে লেখিকা উল্লেখ করেন।
২০। বাঙালিরা বাণিজ্যকে কীভাবে ‘সহজ’ করে নিয়েছে বলে লেখিকা ব্যঙ্গ করেন?
- ক. বিদেশে ব্যবসা সম্প্রসারণ করে
- খ. নতুন প্রযুক্তি ব্যবহার করে
- গ. প্রচুর পরিশ্রম করে
- ঘ. কঠোর পরিশ্রম বর্জন করে
উত্তর: ঘ। লেখিকা ব্যঙ্গ করে বলেন, বাণিজ্যে যে কঠিন পরিশ্রম আবশ্যক তা বর্জন করে বাঙালিরা একে সহজ ও স্বল্পায়াসসাধ্য করে নিয়েছে।
২১। এই কারণে বাঙালির দোকানে কী পাওয়া যায় বলে লেখিকা ব্যঙ্গ করেন?
- ক. প্রয়োজনীয় জিনিসপত্র
- খ. খাঁটি সোনা-রুপা
- গ. আধুনিক প্রযুক্তি
- ঘ. শুধু বিলাসদ্রব্য ও নকল জিনিস
উত্তর: ঘ। লেখিকা বলেন, দোকানে প্রয়োজনীয় জিনিস নেই, শুধু বিলাসদ্রব্য ও নকল জিনিস (নকল হীরার আংটি, রাঙা পিতলের অলংকার ইত্যাদি) মজুদ আছে।
২২। নকল পণ্যের সংস্কৃতি নিয়ে লেখিকা কোন উদাহরণ দেন?
- ক. নকল কাপড়
- খ. নকল নামে তেল বাজারজাত করা
- গ. নকল খাবার
- ঘ. নকল ওষুধ শুধু
উত্তর: খ। কেউ যত্ন করে ‘দীর্ঘকেশী’ তৈল প্রস্তুত করলে সাথে সাথেই ‘হ্রস্বকেশী’ তৈল বের করে অনুকরণ করার প্রবণতাকে লেখিকা ব্যঙ্গ করেছেন।
২৩। বাঙালিরা ধান্য-তণ্ডুলের (চাল-ধানের) ব্যবসা করে না কেন বলে লেখিকা ব্যঙ্গ করেন?
- ক. এর চাহিদা নেই বলে
- খ. তাতে পরিশ্রম আবশ্যক বলে
- গ. এটি অলাভজনক বলে
- ঘ. এতে লাভ কম বলে
উত্তর: খ। লেখিকা ব্যঙ্গ করে বলেন, ধান্য-তণ্ডুলের ব্যবসা করা হয় না কারণ তাতে পরিশ্রম আবশ্যক।
২৪। লেখিকা কোন ব্যবসাকে বাঙালির ‘অন্যতম ব্যবসায়’ বলে ব্যঙ্গ করেন?
- ক. প্রকাশনা
- খ. শিল্প
- গ. কৃষি
- ঘ. পরীক্ষায় পাশ বিক্রয়
উত্তর: ঘ। লেখিকা তীব্র ব্যঙ্গ করে বলেন, বাঙালির অন্যতম ব্যবসায় হলো ‘পাস বিক্রয়’— অর্থাৎ শিক্ষিত পাত্র হিসেবে যৌতুকের বিনিময়ে বিয়ে করা।
২৫। এই ‘পাস বিক্রয়ে’ বিক্রেতা ও ক্রেতাকে কী বলা হয়?
- ক. দাতা ও গ্রহীতা
- খ. মালিক ও কর্মচারী
- গ. বর ও শ্বশুর
- ঘ. শিক্ষক ও ছাত্র
উত্তর: গ। এই ব্যঙ্গাত্মক ব্যবসায় পাস বিক্রেতাকে ‘বর’ এবং ক্রেতাকে ‘শ্বশুর’ বলা হয়।
২৬। এম.এ. পাসের মূল্য কী বলে ব্যঙ্গ করা হয়েছে?
- ক. এক লক্ষ টাকা
- খ. একটি চাকরি
- গ. অর্ধেক রাজত্ব লাভের সমান (ব্যঙ্গার্থে)
- ঘ. একটি বাড়ি
উত্তর: গ। এম.এ. পাসের মূল্য ‘অর্ধেক রাজত্ব ও এক রাজকুমারী’ বলে ব্যঙ্গ করা হয়েছে— অর্থাৎ যৌতুক প্রথার তীব্র সমালোচনা।
২৭। লেখিকার মতে বাঙালিরা কৃষিকাজ অপেক্ষা কোনটিকে সহজ মনে করে?
- ক. চাকরি
- খ. ব্যবসা
- গ. রাজনীতি
- ঘ. মুখস্থবিদ্যার জোরে অর্থ উপার্জন
উত্তর: ঘ। লেখিকা ব্যঙ্গ করে বলেন, কর্কশ ভূমি কর্ষণ করে ফসল ফলানোর (agriculture) চেয়ে মুখস্থ বিদ্যার জোরে অর্থ উৎপাদন (brain culture) করা সহজ মনে করা হয়।
২৮। কৃষি বিষয়ে জ্ঞানচর্চার বদলে বাঙালিরা কী করা সহজ মনে করে বলে ব্যঙ্গ করা হয়েছে?
- ক. আরাম কেদারায় বসে সংবাদ পাঠ করা
- খ. বিদেশ ভ্রমণ করা
- গ. মাঠে গিয়ে কাজ করা
- ঘ. নতুন প্রযুক্তি শেখা
উত্তর: ক। রৌদ্রের মধ্যে ছত্র হাতে কৃষিক্ষেত্র পরিদর্শনের চেয়ে টানাপাখার তলে আরাম কেদারায় বসে দুর্ভিক্ষ সমাচার পড়া সহজ মনে করা হয় বলে লেখিকা ব্যঙ্গ করেন।
২৯। দরিদ্রদের অন্নাভাবে মৃত্যু নিয়ে লেখিকা কোন উদাসীন মনোভাবের সমালোচনা করেন?
- ক. সহানুভূতিশীল মনোভাব
- খ. সাহায্যের ইচ্ছা
- গ. ‘তাতে আমাদের কি’ জাতীয় উদাসীনতা
- ঘ. উদ্বেগ
উত্তর: গ। লেখিকা তীব্র ব্যঙ্গের সাথে এই স্বার্থপর, উদাসীন মনোভাবের কথা তুলে ধরেন যা প্রকৃতপক্ষে কঠোর সমালোচনা।
৩০। বাঙালির ‘সহজ কাজের’ তালিকায় প্রথম উদাহরণ কী?
- ক. ব্যবসা করা সহজ
- খ. উপাধি লাভ রাজ্য স্থাপনের চেয়ে সহজ
- গ. চাকরি পাওয়া সহজ
- ঘ. শিক্ষালাভ করা সহজ
উত্তর: খ। তালিকার প্রথম উদাহরণ— রাজ্য স্থাপন করার চেয়ে ‘রাজা’ উপাধি লাভ করা সহজ।
৩১। প্রতিবেশীর দুঃখ-কষ্টের তুলনায় কোনটিকে সহজ বলে ব্যঙ্গ করা হয়েছে?
- ক. তাদের সাথে বন্ধুত্ব করা
- খ. তাদের এড়িয়ে চলা
- গ. শোক সভার সদস্য হওয়া
- ঘ. তাদের সাহায্য করা
উত্তর: গ। প্রতিবেশী দরিদ্রদের শোক-দুঃখে ব্যথিত হওয়ার চেয়ে বিদেশি বড়লোকদের মৃত্যুদুঃখে শোকসভার সদস্য হওয়া সহজ বলে ব্যঙ্গ করা হয়েছে।
৩২। দেশের দুর্ভিক্ষ নিবারণ নিয়ে কোন ব্যঙ্গাত্মক মন্তব্য করা হয়েছে?
- ক. দুর্ভিক্ষ নিবারণে সবাই একত্রিত হয়
- খ. পরিশ্রমের চেয়ে বিদেশি সাহায্য নেওয়া সহজ
- গ. দুর্ভিক্ষ কখনো হয় না
- ঘ. দুর্ভিক্ষের সমাধান সহজ
উত্তর: খ। দেশের দুর্ভিক্ষ নিবারণের জন্য পরিশ্রম করার চেয়ে আমেরিকার কাছ থেকে ভিক্ষা গ্রহণ করা সহজ বলে তীব্র ব্যঙ্গ করা হয়েছে।
৩৩। স্বাস্থ্যরক্ষা নিয়ে কী ব্যঙ্গ করা হয়েছে?
- ক. স্বাস্থ্য বিষয়ে কোনো আলোচনা নেই
- খ. যত্নের চেয়ে ডাক্তারের হাতে সঁপে দেওয়া সহজ
- গ. স্বাস্থ্যরক্ষা ব্যয়বহুল
- ঘ. সবাই স্বাস্থ্যের যত্ন নেয়
উত্তর: খ। স্বাস্থ্যরক্ষায় যত্নবান হওয়ার চেয়ে স্বাস্থ্য নষ্ট করে ওষুধ ও ডাক্তারের হাতে জীবন সমর্পণ করা সহজ বলে ব্যঙ্গ করা হয়েছে।
৩৪। প্রহার লাভের প্রতিক্রিয়া নিয়ে কী ব্যঙ্গ করা হয়েছে?
- ক. কেউ প্রতিক্রিয়া দেখায় না
- খ. প্রতিশোধের চেয়ে মামলা করা সহজ
- গ. সবাই সাথে সাথে প্রতিশোধ নেয়
- ঘ. আইনি ব্যবস্থা অকার্যকর
উত্তর: খ। কারো কাছে প্রহার পেয়ে তৎক্ষণাৎ বাহুবলে প্রতিশোধ নেওয়ার চেয়ে মানহানির মোকদ্দমা করা সহজ বলে ব্যঙ্গ করা হয়েছে।
৩৫। লেখিকা বাঙালিকে আর কী বলে অভিহিত করেন?
- ক. মূর্তিমান আলস্য
- খ. মূর্তিমান জ্ঞান
- গ. মূর্তিমান বীরত্ব
- ঘ. মূর্তিমান সাহস
উত্তর: ক। লেখিকা বলেন, ‘আমরা মূর্তিমান আলস্য’— এই আলস্যে গৃহিণীরা অগ্রণী বলে তিনি ব্যঙ্গ করেন।
৩৬। রান্না করার অনুরোধ প্রসঙ্গে লেখিকা কোন যুক্তি দিয়ে পুরুষদের কটাক্ষ করেন?
- ক. পুরুষ রোদ সইতে না পারলে নারী কীভাবে আগুন সইবে
- খ. রান্না নারীদের একমাত্র কাজ
- গ. রান্না কঠিন কাজ নয়
- ঘ. পুরুষদের রান্না জানা উচিত নয়
উত্তর: ক। লেখিকা কটাক্ষ করে বলেন, পুরুষরা রৌদ্রতাপ সহ্য করতে না পারলে নারীরা কীভাবে আগুনের উত্তাপ সইবেন— তাই নারীদের রান্নার কাজে বাধ্য করার প্রবণতাকে অন্যায্য বলে তুলে ধরেন।
৩৭। যে নারীদের রান্না করতে বাধ্য করে, লেখিকা তার জন্য কী শাস্তির কথা (ব্যঙ্গার্থে) বলেন?
- ক. তাকে পুরস্কৃত করা উচিত
- খ. তাকে ক্ষমা করা উচিত
- গ. কঠোর শাস্তির কথা (ব্যঙ্গার্থে)
- ঘ. তাকে সতর্ক করা উচিত
উত্তর: গ। তীব্র ব্যঙ্গের স্বরে লেখিকা বলেন, এমন ব্যক্তির ত্রিবিধ দণ্ড হওয়া উচিত— তুষানলে দগ্ধ, জবেহ ও ফাঁসি— যা আসলে নারীদের প্রতি অসম আচরণের তীব্র সমালোচনা।
৩৮। লেখিকা বাঙালিকে সবশেষে কী বলে অভিহিত করেন?
- ক. মূর্তিমান রাজনীতিবিদ
- খ. মূর্তিমান বিজ্ঞানী
- গ. মূর্তিমান বীর
- ঘ. আমরা সকলেই কবি
উত্তর: ঘ। লেখিকা বলেন, ‘আমরা সকলেই কবি’— এখানে অতিরিক্ত ভাবালুতাপূর্ণ, অশ্রুসজল কবিতা রচনার প্রবণতাকে ব্যঙ্গ করা হয়েছে।
৩৯। বাঙালির কবিতায় কোন রসের প্রাধান্য বলে লেখিকা ব্যঙ্গ করেন?
- ক. ভয়ানক রস
- খ. হাস্যরস
- গ. করুণরস
- ঘ. বীররস
উত্তর: গ। লেখিকা বলেন, বাঙালির কাব্যে বীররসের চেয়ে করুণরস বেশি— অকারণ অশ্রুপ্রবাহে কবিতা ভরপুর থাকে।
৪০। কবিতায় কোন কোন তুচ্ছ বিষয় বাদ যায় না বলে লেখিকা ব্যঙ্গ করেন?
- ক. প্রকৃতি ও ঋতু
- খ. ‘ভগ্ন শূপ’, ‘জীর্ণ কাঁথা’, ‘পুরাতন চটিজুতা’
- গ. ইতিহাস ও ঐতিহ্য
- ঘ. প্রেম ও বিরহ
উত্তর: খ। লেখিকা ব্যঙ্গ করে বলেন, পদ্য লেখার সময় ‘ভগ্ন শূপ’, ‘জীর্ণ কাঁথা’, ‘পুরাতন চটিজুতা’— কিছুই পরিত্যাজ্য নয়, অর্থহীন বিষয় নিয়েও অতিরিক্ত ভাবালুতাপূর্ণ কবিতা লেখা হয়।
**৪১। প্রবন্ধে ব্যবহৃত ব্যঙ্গাত্মক ভাষারীতি নিয়ে নিচের তথ্যগুলো লক্ষ করো —**
i. লেখিকা সরাসরি সমালোচনা না করে ইতিবাচক ভাষায় নেতিবাচক গুণাবলি তুলে ধরেছেন
ii. প্রবন্ধটি বাঙালির প্রকৃত গুণাবলির আন্তরিক প্রশংসা
iii. ব্যঙ্গের আড়ালে বাঙালির অলসতা, পরিশ্রমবিমুখতা ও অসারতার সমালোচনা লুকিয়ে আছে
নিচের কোনটি সঠিক?
ক. i ও ii খ. i ও iii গ. ii ও iii ঘ. i, ii ও iii
**উত্তর: খ।** প্রথম ও তৃতীয় তথ্য প্রবন্ধের মূল কৌশলের সাথে মেলে, কিন্তু এটি প্রকৃতপক্ষে আন্তরিক প্রশংসা নয়, বরং ব্যঙ্গাত্মক সমালোচনা— তাই দ্বিতীয় তথ্যটি ভুল।
৪২। ‘সৌকুমার্য’ শব্দের অর্থ কী?
- ক. রুক্ষতা
- খ. তীব্রতা
- গ. কঠোরতা
- ঘ. সৌন্দর্য/কোমলতা
উত্তর: ঘ। সৌকুমার্য অর্থ সৌন্দর্য বা কোমলতা।
৪৩। ‘হাওয়ার শাড়ি’ বলতে কী বোঝানো হয়েছে?
- ক. একটি রঙিন শাড়ি
- খ. একটি বিদেশি পোশাক
- গ. একটি উৎসবের পোশাক
- ঘ. অতি সূক্ষ্ম সুতোর পাতলা শাড়ি
উত্তর: ঘ। হাওয়ার শাড়ি অর্থ অতি সূক্ষ্ম সুতোর তৈরি পাতলা শাড়ি।
৪৪। ‘তণ্ডুল’ শব্দের অর্থ কী?
- ক. ডাল
- খ. গম
- গ. চাল
- ঘ. তেল
উত্তর: গ। তণ্ডুল অর্থ চাল।
৪৫। ‘দিব্যাঙ্গনা’ শব্দের অর্থ কী?
- ক. স্বর্গের রূপসী, হুরপরি
- খ. একজন যোদ্ধা নারী
- গ. একজন রাজকন্যা
- ঘ. একজন সাধারণ নারী
উত্তর: ক। দিব্যাঙ্গনা অর্থ স্বর্গের রূপসী বা হুরপরি— এখানে গৃহিণীদের ব্যঙ্গার্থে এই নামে ডাকা হয়েছে।
৪৬। ‘সাশ্রুসজলনয়ন’ শব্দের অর্থ কী?
- ক. বন্ধ চোখ
- খ. উজ্জ্বল চোখ
- গ. শুকনো চোখ
- ঘ. জলভরা চোখ
উত্তর: ঘ। সাশ্রুসজলনয়ন অর্থ জলভরা চোখ— অতিরিক্ত ভাবালুতাপূর্ণ কবিতার ভাষায় ব্যবহৃত একটি শব্দবন্ধ।
৪৭। পাঠ-পরিচিতি অনুযায়ী প্রবন্ধে পুরুষদের সম্পর্কে কী আলোচনা করা হয়েছে?
- ক. তাদের সততা
- খ. তাদের বিদ্যাবত্তা
- গ. তাদের সাহসিকতা
- ঘ. অলসপ্রিয়তা ও বাগাড়ম্বর আচরণ
উত্তর: ঘ। পাঠ-পরিচিতি অনুযায়ী প্রবন্ধে বাঙালি পুরুষদের অলসপ্রিয়তা, শারীরিক পরিশ্রমে অনীহা, বাগাড়ম্বর আচরণ সম্পর্কে আলোচনা রয়েছে।
৪৮। পাঠ-পরিচিতি অনুযায়ী নারীদের সম্পর্কে কী আলোচনা করা হয়েছে?
- ক. রূপচর্চা ও নিজেদের অবলা প্রমাণের প্রচেষ্টা
- খ. তাদের শিক্ষাগত যোগ্যতা
- গ. তাদের কর্মদক্ষতা
- ঘ. তাদের সাহিত্যপ্রীতি
উত্তর: ক। পাঠ-পরিচিতি অনুযায়ী নারীদের অহেতুক রূপচর্চা, পরচর্চা এবং নিজেদের অবলা প্রমাণ করার সর্বাত্মক প্রচেষ্টার প্রতিও আলোচনা রয়েছে।
৪৯। প্রবন্ধটি পাঠকদের কী শিক্ষা দেয়?
- ক. বিদেশিদের অনুকরণ করতে
- খ. আত্মপ্রশংসা করতে
- গ. গুরুত্বপূর্ণ কাজে মনোযোগী হতে
- ঘ. অলসতাকে মেনে নিতে
উত্তর: গ। পাঠ-পরিচিতি অনুযায়ী প্রবন্ধটি আমাদের ইতিবাচক ও গুরুত্বপূর্ণ কাজের প্রতি মনোযোগী হওয়ার শিক্ষা দেয়।
কর্মস্পৃহার অভাবে আজ আমরা হয়ে আছি সকলের চেয়ে দীন। যে বাঙালি সারা পৃথিবীর লোককে দিনের পর দিন নিমন্ত্রণ করে খাওয়াতে পারে, তারাই আজ হচ্ছে সকলের দ্বারে ভিখারি।
**৫০। উদ্দীপকে ‘নিরীহ বাঙালি’ প্রবন্ধের বাঙালি চরিত্রের যে দিকগুলো প্রতিফলিত হয়েছে তা হলো—**
i. অলসতা
ii. কর্মবিমুখতা
iii. ভোজনপ্রিয়তার ইতিবাচক ব্যবহার
নিচের কোনটি সঠিক?
ক. i ও ii খ. i ও iii গ. ii ও iii ঘ. i, ii ও iii
**উত্তর: ক।** উদ্দীপক ও প্রবন্ধ উভয় ক্ষেত্রেই অলসতা ও কর্মবিমুখতার সমালোচনা প্রতিফলিত হয়েছে, কিন্তু ভোজনপ্রিয়তা এখানে ইতিবাচকভাবে ব্যবহৃত হয়নি, বরং কর্মহীনতার সাথে সাংঘর্ষিক পরিণতি (ভিখারি হওয়া) দেখানো হয়েছে— তাই তৃতীয় তথ্যটি প্রাসঙ্গিক নয়।
৫১। উদ্দীপক ও প্রবন্ধের মূল সাদৃশ্য কী?
- ক. কর্মস্পৃহার অভাবে সম্ভাবনা নষ্টের আক্ষেপ
- খ. কোনো সাদৃশ্য নেই
- গ. উভয়ই ভিন্ন বিষয়ে আলোচনা করে
- ঘ. উভয়ই বাঙালির প্রশংসা করে
উত্তর: ক। উদ্দীপক ও প্রবন্ধ উভয়ই কর্মস্পৃহা ও পরিশ্রমের অভাবে বাঙালির সম্ভাবনাময় গুণাবলি নষ্ট হয়ে যাওয়ার গভীর আক্ষেপ প্রকাশ করে— একদা যারা সমৃদ্ধ ছিল, আজ তারাই দীন।
