একুশের গল্পের নোট | SSC বাংলা ১ম পত্রের “একুশের” গল্পের জ্ঞানমূলক ও অনুধাবনমূলক প্রশ্ন উত্তর নিচে দেওয়া হলো। বহুনির্বাচনি প্রশ্নের জন্য একুশের গল্পের MCQ দেখুন।
জ্ঞানমূলক প্রশ্ন ও উত্তর (ক)
জহির রায়হান ও একুশের গল্প গল্পের পরিচিতি বিষয়ক জ্ঞানমূলক প্রশ্ন
জহির রায়হান কত খ্রিষ্টাব্দে জন্মগ্রহণ করেন?
তিনি ১৯৩৫ খ্রিষ্টাব্দে জন্মগ্রহণ করেন।
জহির রায়হানের জন্মস্থান কোথায়?
তাঁর জন্মস্থান ফেনী জেলার মজুপুর গ্রাম।
জহির রায়হানের প্রকৃত নাম কী?
তাঁর প্রকৃত নাম মোহাম্মদ জহিরুল্লাহ।
জহির রায়হান মূলত কোন জীবনের রূপকার?
তিনি মূলত মধ্যবিত্ত জীবনের রূপকার।
সাহিত্য ছাড়া জহির রায়হান আর কোন ক্ষেত্রে খ্যাতি অর্জন করেন?
তিনি চলচ্চিত্রেও খ্যাতি অর্জন করেন।
জহির রায়হানের একটি বিখ্যাত উপন্যাসের নাম লেখো।
তাঁর একটি বিখ্যাত উপন্যাস ‘হাজার বছর ধরে’।
জহির রায়হান কীভাবে নিখোঁজ হন?
১৯৭২ সালের ৩০শে জানুয়ারি তিনি নিখোঁজ ও শহিদ হন।
জহির রায়হান কোথা থেকে বাংলায় স্নাতক (সম্মান) ডিগ্রি লাভ করেন?
১৯৫৮ খ্রিষ্টাব্দে তিনি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে বাংলায় স্নাতক (সম্মান) ডিগ্রি লাভ করেন।
নিচের কোনটি জহির রায়হানের উপন্যাস নয়?
পথের পাঁচালী বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়ের রচনা; বাকি তিনটি জহির রায়হানের উপন্যাস।
তপুর মৃত্যুর পর রাহাত কথককে কী বলে?
রাহাত ফিসফিস করে বলে, তপু না মরে সে মরলেই ভালো হতো— একসাথে থেকেও শুধু তপুরই কপালে গুলি লাগল এই আক্ষেপ তার মধ্যে গভীর।
তপুর মৃত্যুর রাতে তার মায়ের প্রতিক্রিয়া কী হয়?
তপুর মা এসে গড়াগড়ি দিয়ে কেঁদেছিলেন।
তপুর মৃত্যুর রাতে রেণুর আচরণ কেমন ছিল?
রেণুর পলকহীন চোখ থেকে অশ্রুর ফোয়ারা নামলেও সে বন্ধুদের দিকে তাকায়নি, কোনো কথাও বলেনি।
তপুর মৃত্যুর পর তার খালি সিট দেখে বন্ধুদের কেমন অনুভূতি হতো?
রাত শেষ হয়ে এলে মাঝেমধ্যে মনে হতো কেউ যেন গায়ে হাত দিয়ে ডাকছে— ‘ওঠো, আর ঘুমিও না’— কিন্তু চোখ মেলে কাউকে দেখা যেত না।
একুশের গল্প গল্পের মূল বিষয়বস্তু নিয়ে জ্ঞানমূলক প্রশ্ন
‘একুশের গল্প’ কোন গ্রন্থ থেকে সংকলিত?
এটি গল্প-সমগ্র (১৯৭৯) থেকে সংকলিত।
গল্পটি কোন ঐতিহাসিক পটভূমিতে রচিত?
এটি ১৯৫২ সালের ভাষা আন্দোলনের পটভূমিতে রচিত।
একুশের গল্প গল্পের তিন বন্ধু কারা?
গল্পের তিন বন্ধু কথক, রাহাত ও তপু।
তপুর স্ত্রীর নাম কী?
তপুর স্ত্রীর নাম রেণু।
তপুর শারীরিক ত্রুটি কী ছিল?
তপুর বাঁ পা ডান পার চেয়ে প্রায় দুই ইঞ্চি ছোট ছিল।
তপুর হাতে থাকা প্ল্যাকার্ডে কী লেখা ছিল?
প্ল্যাকার্ডে লেখা ছিল, ‘রাষ্ট্রভাষা বাংলা চাই’।
মিছিলটি কোথায় পৌঁছালে গুলি চলে?
মিছিলটি হাইকোর্টের মোড়ে পৌঁছালে গুলি চলে।
তপুর কোথায় গুলি লাগে?
তপুর কপালের মাঝখানে গুলি লাগে।
তপুর মৃতদেহ কারা তুলে নিয়ে যায়?
দুজন মিলিটারি তপুর মৃতদেহ তুলে নিয়ে যায়।
চার বছর পর হোস্টেলে কী আবিষ্কৃত হয়?
নতুন রুমমেটের এনাটমি চর্চার সময় একটি কঙ্কাল আবিষ্কৃত হয়।
কঙ্কালটি তপুর বলে কীভাবে নিশ্চিত হওয়া যায়?
কপালের গর্ত ও বাঁ পায়ের ছোট হাড় মিলিয়ে নিশ্চিত হওয়া যায়।
একুশের গল্প গল্পের শেষ শব্দ কী?
গল্পের শেষ শব্দ রাহাতের আবেগঘন উচ্চারণ— ‘তপু’।
‘এনাটমি’ শব্দের অর্থ কী?
এনাটমি অর্থ দেহতত্ত্ব।
গল্পটি কোন ভাষ্যরীতিতে বর্ণিত হয়েছে?
গল্পের কথক নিজেও একটি চরিত্র; ঘটনামালা প্রথম পুরুষের বয়ানে উপস্থাপিত হয়েছে।
তপু ‘একুশের গল্পে’র কী চরিত্র?
তপু ‘একুশের গল্পে’র প্রধান চরিত্র।
একুশের গল্প গল্পের শুরুতে কথক কী নিয়ে বিস্মিত ও উদ্বিগ্ন হয়?
চার বছর আগে হাইকোর্টের মোড়ে শেষবার দেখা তপু আবার ফিরে এসেছে— এটাই কথকদের বিস্মিত ও উদ্বিগ্ন করে তোলে।
ফিরে আসা তপুকে দেখে সবার প্রতিক্রিয়া কেমন?
তাকে চেনাই যায় না; তার দিকে তাকাতে কথকের রক্ত হিম হয়ে আসে।
তপুর মা ও স্ত্রীর খোঁজ নিতে কাকে পাঠানো হয়েছিল?
ঠিকানা জোগাড় করে রাহাতকে তপুর মা ও স্ত্রীকে খবর দিতে পাঠানো হয়েছিল।
রাহাত ফিরে এসে কী খবর জানায়?
রাহাত জানায়, তপুর মা মারা গেছেন এবং রেণু অন্য জায়গায় বিয়ে করেছে।
তপু কলেজে ভর্তি হওয়ার কতদিন পরে বিয়ে করেন?
কলেজে ভর্তি হওয়ার বছরখানেক পরে তপু রেণুকে বিয়ে করেন।
তাদের দৈনন্দিন জীবন কেমন ছিল?
তাদের জীবন ছিল যান্ত্রিক— কাক-ডাকা ভোরে ওঠা, তপুর তৈরি চা, ক্লাস, আর বিকেলে বেড়ানো।
রেণু বিকেলে বেড়াতে গেলে তাদের সাথে কী নিয়ে যেত?
রেণু মাঝে মাঝে তাদের জন্য বাসা থেকে ডালমুট ভেজে আনতো, যা তারা হাঁটতে হাঁটতে চিবাতো।
একদিন লাল মাটির পথ নিয়ে তপু কী বলে?
তপু স্বপ্নালু কণ্ঠে বলে, এই আঁকাবাঁকা লালমাটির পথের যদি কোনোদিন শেষ না হতো, অনন্তকাল ধরে যদি এমনি চলতে পারতাম।
হোস্টেলের বাইরের মাঠে সেদিন কী দেখা যায়?
ভোর থেকে ক্রুদ্ধ ছেলে-বুড়োরা প্ল্যাকার্ড, স্লোগানের চোঙা ও লাঠিতে ঝোলানো রক্তাক্ত জামা নিয়ে জমায়েত হয়েছিল সেখানে।
তপু কথককে কী করতে বলে?
তপু হাত ধরে টান দিয়ে কথককে মিছিলে যোগ দিতে বলে।
রেণু মিছিলে এসে তপুকে কী অনুরোধ করে?
রেণু হাঁপাতে হাঁপাতে ছুটে এসে তপুর হাত চেপে ধরে বাড়ি ফিরে যেতে অনুরোধ করে।
তপু রেণুর অনুরোধ প্রত্যাখ্যান করে কী বলে?
তপু হাত ছাড়িয়ে নিয়ে উলটো রেণুকে তাদের সাথে যোগ দিতে বলে; রেণু অস্বীকার করলে রাহাত রেগে যায়।
চার বছর পরে রেণু একদিন কী নিতে আসে?
রেণু এসে তপুর মালপত্র— দুটো স্যুটকেস, একটা বইয়ের ট্রাংক ও একটা বেডিং— নিয়ে যায়।
রেণু সেদিন বন্ধুদের কাছে কী জানতে চায়?
রেণু শুধু রাহাতের কাছে জানতে চায় তপুর একটা গরম কোট কোথায়— এটুকুই তার প্রশ্ন।
তপুর সিটে কতজন নতুন রুমমেট আসে একুশের গল্প গল্পের এই সময়কালে?
প্রথমে একজন ছেলে আসে (প্রায় তিন বছর ছিল), তারপর আসে আরেকজন হাসিখুশি নতুন রুমমেট।
নতুন রুমমেট কোন বিষয় পড়াশোনা করছিল সেদিন সকালে?
নতুন রুমমেট এনাটমির পাতা উলটাচ্ছিল এবং স্কেলিটনের স্কাল বের করে বইয়ের সাথে মিলিয়ে দেখছিল।
নতুন রুমমেট রাহাতকে কী দেখতে বলে?
নতুন রুমমেট জিজ্ঞেস করে, তার স্কালের কপালের মাঝখানটায় একটা গর্ত কেন— এই প্রশ্নেই রহস্য উন্মোচনের সূচনা।
কথক কোন শারীরিক বৈশিষ্ট্যের কথা মনে করে বিড়বিড় করে বলেন?
কথক বিড়বিড় করে বলেন, বাঁ পায়ের হাড়টা দুই ইঞ্চি ছোট ছিল তপুর— এই সূত্র ধরেই সত্য উদ্ঘাটিত হয়।
রাহাত হাড় পরীক্ষা করে কী নিশ্চিত হন?
রাহাত উত্তেজিত হয়ে চিৎকার করে বলেন, বাঁ পায়ের টিবিয়া-ফিবুলা সত্যিই দুই ইঞ্চি ছোট— যা নিশ্চিত করে এটি তপুরই কঙ্কাল।
একুশের গল্প গল্পের শেষ পঙক্তিতে রাহাত কী বলে ওঠেন?
কঙ্কালটি দুহাতে তুলে ধরে গলা ধরে আসা কণ্ঠে রাহাত শুধু বলেন, ‘তপু’।
পাঠ-পরিচিতি অনুযায়ী ভাষা আন্দোলন পরবর্তীকালে কী হয়ে ওঠে?
পাঠ-পরিচিতি অনুযায়ী ভাষা আন্দোলন পরবর্তীকালে বাঙালির মুক্তিসংগ্রামের প্রধান প্রেরণা হয়ে ওঠে।
তপুর মতো আত্মত্যাগের মাধ্যমে কী অর্জিত হয়েছে বলে পাঠ-পরিচিতিতে বলা হয়েছে?
তপুর মতো অনেক প্রাণের বিসর্জন ও নিরন্তর সংগ্রামের মাধ্যমেই বাংলা ভাষার অধিকার অর্জিত হয়েছে।
‘বার্নাড’শ’ কে ছিলেন?
বার্নাড’শ (George Bernard Shaw) একজন আইরিশ নাট্যকার ও সমালোচক, যাঁর নাম তপুর গল্পে রসিকতাচ্ছলে উল্লেখ করা হয়েছিল।
একুশের গল্প গল্পের এই অ-কালানুক্রমিক (ফ্ল্যাশব্যাক-নির্ভর) কাঠামো কী প্রভাব ফেলে?
কঙ্কাল আবিষ্কারের রহস্যময় দৃশ্য দিয়ে শুরু করে ধীরে ধীরে অতীতের স্মৃতিতে ফিরে গিয়ে লেখক প্রথমে রহস্য ও উত্তেজনা তৈরি করেন, পরে তিন বন্ধুর গভীর সম্পর্ক ও তপুর আত্মত্যাগের মর্মস্পর্শী তাৎপর্য ধীরে ধীরে উন্মোচিত হয়।
শাহেদের পারিবারিক ইতিহাসের সাথে ‘একুশের গল্পে’র কোন দিকটির মিল পাওয়া যায়?
‘একুশের গল্পে’ যেমন চার বছর পর কঙ্কাল আবিষ্কারের মাধ্যমে তপুর আত্মত্যাগের স্মৃতি প্রতীকীভাবে ফিরে আসে, শাহেদের পারিবারিক ঘটনায়ও তেমনি বহু বছর পর দেহাবশেষ আবিষ্কারের মাধ্যমে হারানো শহিদের আত্মত্যাগ পুনরায় স্মরণীয় হয়ে ওঠে।
এ ধরনের ঘটনা থেকে জাতীয় স্মৃতি সম্পর্কে কী শিক্ষা পাওয়া যায়?
এই ধরনের ঘটনা প্রমাণ করে, শহিদদের আত্মত্যাগ সময়ের সাথে হারিয়ে যায় না— তা বিভিন্ন প্রতীকী রূপে ফিরে এসে জাতিকে তাদের ইতিহাস ও আত্মত্যাগের কথা বারবার স্মরণ করিয়ে দেয়।
অনুধাবনমূলক প্রশ্ন ও উত্তর (খ)
একুশের গল্প গল্পের লেখক ও পটভূমি বিষয়ক অনুধাবনমূলক প্রশ্ন
তপুর মৃত্যুদৃশ্যের বর্ণনা কী প্রভাব ফেলে— ব্যাখ্যা করো।
আকস্মিক গুলিবিদ্ধ হওয়া ও মিলিটারি কর্তৃক মৃতদেহ ছিনিয়ে নেওয়ার দৃশ্য ভাষা আন্দোলনের নৃশংসতা ও আকস্মিকতাকে জীবন্তভাবে তুলে ধরে, যা পাঠকের মনে গভীর বেদনা ও ক্ষোভ জাগায়।
একুশের গল্প গল্পের চরিত্র ও মূলভাব বিষয়ক অনুধাবনমূলক প্রশ্ন
একুশের গল্প গল্পের রহস্যময় সূচনার সাহিত্যিক কৌশল কী— ব্যাখ্যা করো।
গল্প শুরু হয় চার বছর আগে নিহত তপু যেন ফিরে এসেছে এই রহস্যময় ইঙ্গিত দিয়ে, যা পাঠকের কৌতূহল জাগিয়ে রাখে। পরে ধীরে ধীরে অতীতের স্মৃতিচারণে ফিরে গিয়ে প্রকৃত সত্য (কঙ্কাল আবিষ্কার) উন্মোচিত হয়— এই কাঠামোই গল্পটিকে আরও হৃদয়স্পর্শী করে তোলে।
তপুর চরিত্রের কোন বৈশিষ্ট্য বন্ধুদের মধ্যে উল্লেখযোগ্য ছিল— ব্যাখ্যা করো।
তপু ছিল গল্পের রাজা, প্রচুর হাসতে ও গল্প বলতে পারত। তার সাধারণ জীবনের স্বপ্ন (গাঁয়ে গিয়ে ডিসপেনসারি খোলা) তাকে একজন প্রাণোচ্ছল, সহজ-সরল মানুষ হিসেবে চিত্রিত করে, যা তার আকস্মিক মৃত্যুকে আরও করুণ করে তোলে।
রেণুর বাধা উপেক্ষা করে তপুর মিছিলে যোগদানের তাৎপর্য কী— ব্যাখ্যা করো।
স্ত্রীর ব্যক্তিগত উদ্বেগ ও অনুরোধ উপেক্ষা করে তপু জাতীয় দাবির প্রতি তার অঙ্গীকার দেখায়— এটি প্রমাণ করে তার কাছে ভাষার অধিকার প্রশ্নে ব্যক্তিগত নিরাপত্তার চেয়ে জাতীয় কর্তব্য বড় ছিল।
চার বছর পর কঙ্কাল আবিষ্কারের ঘটনাটি কী প্রতীকী তাৎপর্য বহন করে— ব্যাখ্যা করো।
এই আবিষ্কার প্রতীকীভাবে দেখায়, জাতীয় ইতিহাসে বীরদের প্রকৃত মৃত্যু নেই— তাঁরা বিভিন্নভাবে ফিরে এসে ভবিষ্যৎ প্রজন্মকে তাদের আত্মত্যাগের কথা স্মরণ করিয়ে দেন।
একুশের গল্প গল্পের কাঠামোতে (অতীত-বর্তমান বিন্যাস) কী বিশেষত্ব লক্ষ করা যায়— ব্যাখ্যা করো।
গল্পটি সরল কালানুক্রমিক ধারায় না লিখে বর্তমানের রহস্য (কঙ্কাল আবিষ্কার) দিয়ে শুরু করে অতীতের স্মৃতিতে ফিরে যায়— এই জটিল সময়-কাঠামো গল্পে নাটকীয় উত্তেজনা তৈরি করে ও ধীরে ধীরে বন্ধুত্ব ও আত্মত্যাগের গভীরতা উন্মোচন করে।
রাহাতের শেষ উচ্চারণ ‘তপু’-র আবেগময় তাৎপর্য কী— ব্যাখ্যা করো।
এই একটি শব্দের মধ্যেই বন্ধুত্বের গভীরতা, দীর্ঘদিনের বিচ্ছেদের বেদনা এবং সত্য উন্মোচনের চরম আবেগঘন মুহূর্ত ধারণ করা হয়েছে— দীর্ঘ বর্ণনার প্রয়োজন ছাড়াই এই সংক্ষিপ্ত উচ্চারণ গল্পের সমাপ্তিতে গভীর আবেগ সৃষ্টি করে।
গল্পটি ভাষা আন্দোলনের ইতিহাসকে কীভাবে ব্যক্তিগত পর্যায়ে উপস্থাপন করে— ব্যাখ্যা করো।
গল্পটি বৃহৎ ঐতিহাসিক ঘটনাকে তিন বন্ধুর ব্যক্তিগত সম্পর্ক ও তপুর ব্যক্তিগত ত্যাগের মধ্য দিয়ে উপস্থাপন করে, যা পাঠকের কাছে ইতিহাসকে আরও মানবিক ও হৃদয়স্পর্শী করে তোলে।
তপুর শারীরিক ত্রুটির (বাঁ পায়ের ছোট হাড়) উল্লেখ একুশের গল্প গল্পে কী কাঠামোগত ভূমিকা রাখে— ব্যাখ্যা করো।
গল্পের শুরুতে সাধারণভাবে উল্লেখিত এই তথ্যই পরবর্তীতে কঙ্কাল শনাক্তকরণের নির্ণায়ক প্রমাণ হয়ে ওঠে— এই সূক্ষ্ম বিস্তারিত বর্ণনার কৌশলী ব্যবহার গল্পের নাটকীয় পরিণতিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।
গল্পটি পাঠককে কোন শিক্ষা দেয়— ব্যাখ্যা করো।
গল্পটি শেখায়, ভাষার অধিকারের জন্য আত্মত্যাগকারী শহিদদের স্মৃতি কখনো ভুলে যাওয়া উচিত নয়— তাদের ত্যাগের মূল্য উপলব্ধি করে মাতৃভাষার প্রতি শ্রদ্ধাশীল থাকা প্রতিটি প্রজন্মের কর্তব্য।
তপু প্রতিদিন সকালে বন্ধুদের কীভাবে জাগাতো?
তপু গায়ের ওপর থেকে লেপ টেনে ফেলে দিয়ে, জানালা খুলে দিয়ে জোর করে বন্ধুদের ঘুম ভাঙাতো।
পাঠ-পরিচিতি অনুযায়ী তপুর কঙ্কাল হয়ে ফিরে আসার মধ্যে কী তাৎপর্য নিহিত?
পাঠ-পরিচিতি অনুযায়ী তপুর কঙ্কাল হয়ে ফিরে আসা প্রতীকী অর্থ বহন করে— জাতীয় ইতিহাসে বীরদের কোনো মৃত্যু নেই, তাঁরা বারবার ফিরে এসে ভবিষ্যৎ প্রজন্মকে প্রেরণা জোগান।
উপরের জ্ঞানমূলক ও অনুধাবনমূলক প্রশ্ন-উত্তরগুলো ভালোভাবে অনুশীলন করলে একুশের গল্প গল্প থেকে সৃজনশীল প্রশ্নের ক ও খ অংশে ভালো নম্বর পাওয়া সহজ হবে।
