উপেক্ষিত শক্তির উদ্বোধন প্রবন্ধের MCQ | SSC বাংলা ১ম পত্রের “উপেক্ষিত শক্তির উদ্বোধন” প্রবন্ধ থেকে বোর্ড পরীক্ষায় নিয়মিত প্রশ্ন আসে। এই পোস্টে প্রবন্ধের সারকথা ও ৪৯টি বহুনির্বাচনি প্রশ্ন (MCQ) উত্তর ও ব্যাখ্যাসহ দেওয়া হলো। জ্ঞানমূলক ও অনুধাবনমূলক প্রশ্নের জন্য উপেক্ষিত শক্তির উদ্বোধন প্রবন্ধের নোট দেখুন।
উপেক্ষিত শক্তির উদ্বোধন প্রবন্ধের সারকথা ও গুরুত্বপূর্ণ তথ্য
উপেক্ষিত শক্তির উদ্বোধন প্রবন্ধের লেখক কে?
কাজী নজরুল ইসলাম (জন্ম ২৪ মে ১৮৯৯, চুরুলিয়া, বর্ধমান; মৃত্যু ২৯ আগস্ট ১৯৭৬, ঢাকা)। ‘বিদ্রোহী কবি’ ও স্বাধীন বাংলাদেশের জাতীয় কবি। প্রধান কাব্যগ্রন্থ: অগ্নিবীণা, বিষের বাঁশি, ছায়ানট, চক্রবাক। প্রবন্ধগ্রন্থ: যুগবাণী, দুর্দিনের যাত্রী, রাজবন্দীর জবানবন্দী।
উৎস ও প্রেক্ষাপট
যুগবাণী প্রবন্ধগ্রন্থের রচনা, অবিভক্ত ভারতবর্ষের পটভূমিতে লেখা, নজরুলের সাম্যবাদী মানসিকতার প্রকাশ।
প্রবন্ধের মূল যুক্তিধারা
- রবীন্দ্রনাথের উদ্ধৃতি দিয়ে শুরু— অপমানিতদের সাথে সমান হওয়ার আহ্বান।
- দেশের দশ আনা শক্তি নির্ভর করে অবহেলিত ‘ছোটোলোক’ সম্প্রদায়ের ওপর, যাদের অন্তর কাচের মতো স্বচ্ছ কিন্তু ভদ্র সম্প্রদায়ের অত্যাচারে তারা নিষ্ক্রিয়।
- জন্ম থেকে পাওয়া ঘৃণা-উপেক্ষার কারণে তারা নিজেদের মানুষ হিসেবে ভুলে যায়; বিদ্রোহ করলে দমন করা হয়।
- এই অবহেলাই জাতির অধঃপতনের মূল কারণ— দেশ ও জাতি গঠিত সবার সমষ্টিতে, সবাইকে বাদ দিয়ে উন্নতি অসম্ভব।
- ভদ্র সম্প্রদায় দুর্দশা বোঝাতে পারে কিন্তু বাস্তবে কাজ করার শক্তি তাদের নেই; জনশক্তিকে জাগ্রত করতে পারলে অসাধ্য সাধন সম্ভব।
- মহাত্মা গান্ধীর উদাহরণ— প্রাণ খুলে মিশে, সুখ-দুঃখের ভাগী হয়ে, জাতি-ধর্ম-সমাজভেদহীন ডাকে মানুষের হৃদয় জয়।
- মানুষকে মানুষ হিসেবে ঘৃণা করা আত্মার ধর্ম নয়— সবার আত্মা একই মহা-আত্মার অংশ।
- আহ্বান: উপেক্ষিত ভাইদের বুকে টেনে নিয়ে ‘বোধন-বাঁশি’তে সুর দাও— এই জাগরণেই আসবে যুগান্তর।
উপেক্ষিত শক্তির উদ্বোধন প্রবন্ধের মূল ভাব কী?
সমাজের অবহেলিত, প্রান্তিক মানুষদের প্রতি বৈষম্য দূর করে তাদের সুপ্ত শক্তি জাগিয়ে তোলার আহ্বান— জাতি-ধর্ম-শ্রেণিনির্বিশেষে মানবিক সাম্যের ভিত্তিতে প্রকৃত জাতীয় জাগরণ সম্ভব, এই বার্তাই প্রবন্ধের কেন্দ্রে।
উপেক্ষিত শক্তির উদ্বোধন প্রবন্ধের গুরুত্বপূর্ণ শব্দার্থ
চণ্ডাল (নিম্নবর্গের লোক), বোধন-বাঁশি (বোধ জাগানোর বাঁশি), দৈন্য (দারিদ্র্য)।
লেখক পরিচিতি বিষয়ক MCQ
১। কাজী নজরুল ইসলাম কত খ্রিষ্টাব্দে জন্মগ্রহণ করেন?
- ক. ১৮৯৭
- খ. ১৯০০
- গ. ১৮৯৮
- ঘ. ১৮৯৯
উত্তর: ঘ। তিনি ১১ই জ্যৈষ্ঠ, ১৩০৬ বঙ্গাব্দে (২৪শে মে, ১৮৯৯ খ্রিষ্টাব্দ) জন্মগ্রহণ করেন।
২। কাজী নজরুল ইসলামের জন্মস্থান কোথায়?
- ক. ঢাকা
- খ. ময়মনসিংহ
- গ. চুরুলিয়া, আসানসোল, বর্ধমান
- ঘ. কলকাতা
উত্তর: গ। পশ্চিমবঙ্গের বর্ধমান জেলার আসানসোল মহকুমার চুরুলিয়া গ্রামে তিনি জন্মগ্রহণ করেন।
৩। ছেলেবেলায় নজরুল কোন গানের দলে যোগ দেন?
- ক. লেটো গানের দলে
- খ. জারি গানের দলে
- গ. যাত্রা গানের দলে
- ঘ. কীর্তন দলে
উত্তর: ক। ছেলেবেলায় তিনি লেটো গানের দলে যোগ দিয়েছিলেন।
৪। নজরুল কোথায় সেনাবাহিনীর বাঙালি পল্টনে যোগ দেন?
- ক. করাচিতে
- খ. কলকাতায়
- গ. ঢাকায়
- ঘ. লাহোরে
উত্তর: ক। ১৯১৭ খ্রিষ্টাব্দে তিনি সেনাবাহিনীর বাঙালি পল্টনে যোগ দিয়ে করাচি যান, সেখানেই তাঁর সাহিত্যজীবনের সূচনা ঘটে।
৫। নজরুলকে কোন উপাধিতে ভূষিত করা হয়?
- ক. সাহিত্যসম্রাট
- খ. বিদ্রোহী কবি
- গ. বিশ্বকবি
- ঘ. কবিগুরু
উত্তর: খ। সামাজিক অবিচার ও পরাধীনতার বিরুদ্ধে সোচ্চার হওয়ার জন্য তাঁকে ‘বিদ্রোহী কবি’ বলা হয়।
৬। নিচের কোনটি নজরুলের কাব্যগ্রন্থ নয়?
- ক. বিষের বাঁশি
- খ. চক্রবাক
- গ. সোনার তরী
- ঘ. অগ্নিবীণা
উত্তর: গ। সোনার তরী রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের কাব্যগ্রন্থ; বাকি তিনটি নজরুলের বিখ্যাত কাব্যগ্রন্থ।
৭। নিচের কোনটি নজরুলের প্রবন্ধগ্রন্থ?
- ক. কুহেলিকা
- খ. যুগবাণী
- গ. রিক্তের বেদন
- ঘ. মৃত্যুক্ষুধা
উত্তর: খ। যুগবাণী তাঁর প্রবন্ধগ্রন্থ; বাকি তিনটি তাঁর গল্প বা উপন্যাস।
৮। কত বছর বয়সে নজরুল দুরারোগ্য রোগে আক্রান্ত হয়ে বাকশক্তি হারান?
- ক. একচল্লিশ
- খ. চুয়াল্লিশ
- গ. তেতাল্লিশ
- ঘ. বিয়াল্লিশ
উত্তর: গ। মাত্র তেতাল্লিশ বছর বয়সে তিনি দুরারোগ্য রোগে আক্রান্ত হয়ে বাকশক্তি হারিয়ে ফেলেন।
৯। বাংলাদেশ প্রতিষ্ঠার পর নজরুলকে কী মর্যাদায় ভূষিত করা হয়?
- ক. স্বাধীনতা পুরস্কারপ্রাপ্ত
- খ. জাতীয় কবি
- গ. একুশে পদকপ্রাপ্ত
- ঘ. রাষ্ট্রীয় অতিথি
উত্তর: খ। অসুস্থ কবিকে ঢাকায় এনে বাংলাদেশের নাগরিকত্ব দিয়ে তাঁকে স্বাধীন বাংলাদেশের জাতীয় কবির মর্যাদায় ভূষিত করা হয়।
১০। নজরুল কত সালে মৃত্যুবরণ করেন?
- ক. ১৯৭৭
- খ. ১৯৭৪
- গ. ১৯৭৬
- ঘ. ১৯৭৫
উত্তর: গ। ২৯শে আগস্ট, ১৯৭৬ খ্রিষ্টাব্দে ঢাকার পি.জি. হাসপাতালে তিনি শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন।
১১। নজরুলকে কোথায় সমাহিত করা হয়?
- ক. রাজশাহীতে
- খ. ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় মসজিদ প্রাঙ্গণে
- গ. কলকাতায়
- ঘ. চুরুলিয়ায়
উত্তর: খ। পূর্ণ রাষ্ট্রীয় মর্যাদায় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় মসজিদ-সংলগ্ন প্রাঙ্গণে তাঁকে সমাহিত করা হয়।
উপেক্ষিত শক্তির উদ্বোধন প্রবন্ধের বহুনির্বাচনি প্রশ্ন ও উত্তর (MCQ)
১২। ‘উপেক্ষিত শক্তির উদ্বোধন’ প্রবন্ধটি নজরুলের কোন প্রবন্ধগ্রন্থের রচনা?
- ক. দুর্দিনের যাত্রী
- খ. অগ্নিবীণা
- গ. যুগবাণী
- ঘ. রাজবন্দীর জবানবন্দী
উত্তর: গ। এটি কাজী নজরুল ইসলামের যুগবাণী প্রবন্ধগ্রন্থের একটি রচনা।
১৩। প্রবন্ধটি কোন প্রেক্ষাপটে রচিত?
- ক. পাকিস্তান আমলের প্রেক্ষাপটে
- খ. ব্রিটিশ পূর্ববর্তী যুগের প্রেক্ষাপটে
- গ. অবিভক্ত ভারতবর্ষের প্রেক্ষাপটে
- ঘ. স্বাধীন বাংলাদেশের প্রেক্ষাপটে
উত্তর: গ। পাঠ-পরিচিতি অনুযায়ী অবিভক্ত ভারতবর্ষের পটভূমিতে প্রবন্ধটি রচিত হয়েছে।
১৪। প্রবন্ধে নজরুলের কোন মানসিকতার পরিচয় ফুটে উঠেছে?
- ক. রক্ষণশীল মানসিকতা
- খ. ঔপনিবেশিক মানসিকতা
- গ. সাম্যবাদী মানসিকতা
- ঘ. রাজতান্ত্রিক মানসিকতা
উত্তর: গ। আলোচ্য প্রবন্ধে কাজী নজরুল ইসলামের সাম্যবাদী মানসিকতার পরিচয় ফুটে উঠেছে— জাতি-ধর্ম-সমাজভেদের বিরুদ্ধে তাঁর দৃঢ় অবস্থান স্পষ্ট।
১৫। প্রবন্ধের শুরুতে রবীন্দ্রনাথের যে উক্তি উদ্ধৃত করা হয়েছে, তার মূল বক্তব্য কী?
- ক. দেশের উন্নতির প্রশংসা
- খ. অপমানিতদের সাথে সমান হওয়ার আহ্বান
- গ. যুদ্ধের প্রয়োজনীয়তা
- ঘ. শিক্ষার গুরুত্ব
উত্তর: খ। উদ্ধৃতিতে বলা হয়েছে, যাদের অপমান করা হয়েছে, সেই অপমানে দেশবাসী সবাইকে তাদের সমান হতে হবে— অর্থাৎ বৈষম্যের প্রতিবাদে সমতার আহ্বান।
১৬। লেখকের মতে জাতির কত আনা শক্তি ‘ছোটোলোক’ সম্প্রদায়ের ওপর নির্ভর করে?
- ক. চৌদ্দ আনা
- খ. বারো আনা
- গ. দশ আনা
- ঘ. আট আনা
উত্তর: গ। লেখক বলেন, দশ আনা শক্তিই তাদের ওপর নির্ভর করে, অথচ তাদেরই আমরা উপেক্ষা করে আসছি।
১৭। ‘ছোটোলোক’ নামকরণটি কারা দিয়েছে বলে লেখক উল্লেখ করেন?
- ক. ধর্মীয় নেতারা
- খ. সরকার
- গ. তারা নিজেরাই
- ঘ. আভিজাত্য-গর্বিত ভদ্র সম্প্রদায়
উত্তর: ঘ। লেখক বলেন, আমাদের আভিজাত্য-গর্বিত সম্প্রদায়ই এই হতভাগাদের এই নামকরণ করেছেন।
১৮। লেখকের মতে তথাকথিত ‘ছোটোলোক’-এর অন্তর কেমন?
- ক. কুটিল ও স্বার্থপর
- খ. কাচের মতো স্বচ্ছ ও সরল
- গ. উদাসীন
- ঘ. কঠোর ও নিষ্ঠুর
উত্তর: খ। লেখক বলেন, এদের অন্তর কাচের ন্যায় স্বচ্ছ— এমন সরল, মুক্ত, উদার প্রাণ নিয়েও তারা কিছু করতে পারছে না, ভদ্র সম্প্রদায়ের অত্যাচারের কারণে।
১৯। ‘ছোটোলোক’ সম্প্রদায় কেন নিজেদের এত ছোটো মনে করে?
- ক. তাদের আর্থিক দুরবস্থার কারণে
- খ. তাদের শিক্ষার অভাব বলে
- গ. জন্ম থেকে পাওয়া ঘৃণা ও উপেক্ষার ফলে
- ঘ. তাদের ধর্মীয় বিশ্বাসের কারণে
উত্তর: গ। জন্ম থেকে ঘৃণা ও উপেক্ষা পেয়ে সঙ্কোচ-জড়তা তাদের স্বভাবের সাথে এমনভাবে জড়িয়ে যায় যে তারা নিজেদের মানুষ হওয়ার অধিকারের কথাই ভুলে যায়।
২০। কেউ এই উৎপীড়নের বিরুদ্ধে বিদ্রোহ করলে ভদ্র সম্প্রদায় কী করে?
- ক. তাদের কথা শোনে
- খ. তাদের সাহায্য করে
- গ. প্রচণ্ড আঘাত করে অজ্ঞান করে দেয়
- ঘ. তাদের ক্ষমা করে
উত্তর: গ। লেখক বলেন, কেউ বিদ্রোহাচরণ করলে ভদ্র সম্প্রদায় তার মাথায় প্রচণ্ড আঘাত করে তাকে অজ্ঞান করে ফেলে।
২১। লেখকের মতে দেশের এই অধঃপতনের মূল কারণ কী?
- ক. প্রাকৃতিক দুর্যোগ
- খ. বৈদেশিক আক্রমণ
- গ. অর্থনৈতিক মন্দা
- ঘ. এই ‘সত্যিকার মানুষদের’ প্রতি অবহেলা
উত্তর: ঘ। লেখক বলেন, এই হতভাগাদের— আমাদের এই সত্যিকার মানুষদের— এভাবে অবহেলা করে চলার কারণেই আজ আমাদের এত অধঃপতন।
২২। লেখকের মতে দেশ ও জাতি কী দিয়ে গঠিত?
- ক. শুধু সরকার দিয়ে
- খ. দেশের মানুষের সমষ্টি দিয়ে
- গ. শুধু ভদ্র সম্প্রদায় দিয়ে
- ঘ. শুধু ভূখণ্ড দিয়ে
উত্তর: খ। লেখক বলেন, দেশের অধিবাসী নিয়েই দেশ, আর ব্যক্তির সমষ্টিই জাতি— তাই সবাইকে বুঝতে না পারলে উন্নতির আশা অলীক।
২৩। জাতির উন্নতির আশাকে লেখক কীসের সাথে তুলনা করেছেন, যদি দেশের সবাই তা বুঝতে না পারে?
- ক. আকাশে অট্টালিকা নির্মাণের চেষ্টার সাথে
- খ. পাহাড় কাটার সাথে
- গ. সমুদ্রে বালির প্রাসাদ গড়ার সাথে
- ঘ. মরুভূমিতে বৃক্ষরোপণের সাথে
উত্তর: ক। লেখক বলেন, দেশ-জাতিকে সকলে না বুঝলে তার উন্নতির আশা করা আর আকাশে অট্টালিকা নির্মাণের চেষ্টা করা একই কথা— অর্থাৎ তা অসম্ভব।
২৪। লেখক ভদ্র সম্প্রদায়ের কোন দুর্বলতার কথা তুলে ধরেন?
- ক. তারা দরিদ্র
- খ. তারা সংখ্যায় কম
- গ. দুর্দশা বোঝে, কিন্তু কাজ করার শক্তি নেই
- ঘ. তারা অশিক্ষিত
উত্তর: গ। লেখক বলেন, ভদ্র সম্প্রদায় দুর্দশার কথা বুঝিয়ে কাঁদাতে পারলেও কার্যক্ষেত্রে নেমে কাজ করার শক্তি তাদের নেই— এটাই নিরেট সত্য।
২৫। জনশক্তিকে উদ্বুদ্ধ করতে পারলে লেখক কী প্রতিশ্রুতি দেন?
- ক. শিক্ষার প্রসার ঘটবে
- খ. রাজনৈতিক পরিবর্তন আসবে
- গ. দেশের অর্থনীতি উন্নত হবে
- ঘ. শত বছরের কাজ একদিনে সম্পন্ন হবে
উত্তর: ঘ। লেখক বলেন, জনশক্তিকে উদ্বুদ্ধ করে তাদের ভাই বলে কোলে নিতে পারলে শত বছরের প্রচেষ্টায় যে কাজ হয়নি, তা একদিনে সম্পন্ন হবে।
২৬। লেখক কোন মহান ব্যক্তির উদাহরণ দিয়ে জনশক্তির প্রভাব ব্যাখ্যা করেন?
- ক. জিন্নাহ
- খ. মহাত্মা গান্ধী
- গ. রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
- ঘ. সুভাষ চন্দ্র বসু
উত্তর: খ। লেখক মহাত্মা গান্ধীর উদাহরণ দিয়ে দেখান, ভারতে তিনি কী অসাধ্য সাধন করতে পেরেছিলেন।
২৭। গান্ধী কীভাবে সাধারণ মানুষের হৃদয় জয় করেছিলেন বলে লেখক বর্ণনা করেন?
- ক. রাজনৈতিক ক্ষমতা দিয়ে
- খ. তাদের সুখ-দুঃখের ভাগী হয়ে
- গ. শিক্ষা প্রদান করে
- ঘ. অর্থ দান করে
উত্তর: খ। গান্ধী তাদের সাথে প্রাণ খুলে মিশেছেন, সুখ-দুঃখের ভাগী হয়েছেন, তারা খেতে না পেলে নিজেও উপবাস করেছেন— এভাবেই তাদের আপন করে তুলেছেন।
২৮। গান্ধীর আহ্বানে কোন ভেদাভেদ ছিল না বলে লেখক উল্লেখ করেন?
- ক. শুধু ধর্মভেদ
- খ. শুধু অর্থনৈতিক ভেদ
- গ. কোনো ভেদাভেদ ছিল না
- ঘ. শুধু ভাষাভেদ
উত্তর: গ। লেখক বলেন, গান্ধীর আহ্বানে জাতিভেদ নাই, ধর্মভেদ নাই, সমাজ-ভেদ নাই— তা যেন প্রকৃত ভাইয়ের ডাক।
**২৯। মহাত্মা গান্ধীর কর্মপদ্ধতি নিয়ে নিচের তথ্যগুলো লক্ষ করো —**
i. তিনি অভিজাত্যের গর্ব ও পদগৌরবের অহংকার নিয়ে চলতেন
ii. তিনি সাধারণ মানুষের সুখ-দুঃখের ভাগী হয়েছিলেন
iii. তাঁর ডাকে জাতি-ধর্ম-সমাজভেদ ছিল না
নিচের কোনটি সঠিক?
ক. i ও ii খ. i ও iii গ. ii ও iii ঘ. i, ii ও iii
**উত্তর: গ।** লেখকের বর্ণনা অনুযায়ী গান্ধীর কোনো আভিজাত্য-গৌরব বা পদ-গৌরবের অহংকার ছিল না— তাই প্রথম তথ্যটি ভুল; বাকি দুটি তথ্য প্রবন্ধের বক্তব্যের সাথে সংগতিপূর্ণ।
৩০। উপেক্ষিত মানুষেরা কেন গান্ধীর দিকে ব্যগ্র বাহু মেলে ছুটে গিয়েছিল?
- ক. তারা রাজনৈতিক ক্ষমতা পেতে চেয়েছিল বলে
- খ. তারা অর্থ পেতে চেয়েছিল বলে
- গ. তারা ভয় পেয়েছিল বলে
- ঘ. তাদের এভাবে বুকভরা স্নেহে আর কেউ কখনো ডাকেনি বলে
উত্তর: ঘ। লেখক বলেন, তাদের যে আর কেউ কখনো এমন করে বুকভরা স্নেহ দিয়ে আহ্বান করেনি, তাই এই মহা-আহ্বানে তারা সাড়া না দিয়ে পারেনি।
৩১। লেখক পাঠকদের কাছে কোন প্রশ্ন তোলেন মানুষকে মানুষ হিসেবে ঘৃণা করার অধিকার নিয়ে?
- ক. এটি অর্থনৈতিক দিক থেকে লাভজনক কিনা
- খ. এটি আইনসম্মত কিনা
- গ. এটি রাজনৈতিক সুবিধাজনক কিনা
- ঘ. এটি আত্মার ধর্ম কিনা
উত্তর: ঘ। লেখক প্রশ্ন তোলেন, মানুষকে মানুষ হিসেবে ঘৃণা করার অধিকার কারো আছে কি— কারণ ইহা আত্মার ধর্ম নয়।
৩২। লেখকের মতে সকল মানুষের আত্মা কীসের অংশ?
- ক. একই মহা-আত্মার অংশ
- খ. শুধু ধনীদের আত্মার অংশ
- গ. ভিন্ন ভিন্ন সত্তার
- ঘ. পৃথক পৃথক ঈশ্বরের অংশ
উত্তর: ক। লেখক বলেন, তাহাদের আত্মা তোমার আত্মার মতোই ভাস্বর, আর একই মহা-আত্মার অংশ— অর্থাৎ সব মানুষ মূলগতভাবে সমান।
৩৩। লেখক পাঠককে কোন কল্পনা করতে বলেন যাতে তারা উপেক্ষিতদের বেদনা উপলব্ধি করতে পারে?
- ক. তারা যদি রাজপরিবারে জন্ম নিত
- খ. তারা যদি চণ্ডাল বংশে জন্ম নিত
- গ. তারা যদি ধনী পরিবারে জন্ম নিত
- ঘ. তারা যদি বিদেশে জন্ম নিত
উত্তর: খ। লেখক বলেন, যদি তুমি এই চণ্ডাল বংশে জন্মগ্রহণ করতে, তাহলে ভদ্রলোকদের দেওয়া এই অবহেলা-উপেক্ষার আঘাত কেমন লাগত তা কল্পনা করে দেখো।
৩৪। লেখক শেষে ভদ্র সম্প্রদায়কে কী করতে আহ্বান জানান?
- ক. তাদের আপন করে নিয়ে পাশে দাঁড়াতে
- খ. তাদের শাসন করতে
- গ. উপেক্ষিতদের থেকে দূরে থাকতে
- ঘ. তাদের জন্য দান করতে
উত্তর: ক। লেখক আহ্বান জানান, পতিত-চণ্ডাল-ছোটলোক ভাইদের বুকে করে আপন করে নিতে, তাদের মতো দীন বসন পরে, তাদের প্রাণে নিজের প্রাণ সংযোগ করে উচ্চশিরে দাঁড়াতে।
৩৫। এভাবে দাঁড়ালে লেখকের প্রতিশ্রুতি কী?
- ক. তুমি বিখ্যাত হবে
- খ. তুমি ধনী হবে
- গ. সরকার পুরস্কার দেবে
- ঘ. বিশ্ব তোমাকে নমস্কার করবে
উত্তর: ঘ। লেখক বলেন, এভাবে উপেক্ষিতদের আপন করে নিয়ে দাঁড়ালে দেখবে বিশ্ব তোমাকে নমস্কার করবে।
৩৬। প্রবন্ধের শেষে লেখক কোন প্রতীকী আহ্বান জানান?
- ক. উপেক্ষিত ভাইদের হাত ধরার আহ্বান
- খ. রাজনৈতিক আন্দোলনের আহ্বান
- গ. অর্থ সংগ্রহের আহ্বান
- ঘ. যুদ্ধের আহ্বান
উত্তর: ক। লেখক আহ্বান জানান, উপেক্ষিত ভাইদের হাত ধরে ‘বোধন-বাঁশি’তে সুর দিতে— তাদের সুপ্ত শক্তিকে জাগিয়ে তোলার এই প্রতীকী ডাক।
৩৭। ‘চণ্ডাল’ শব্দের অর্থ কী?
- ক. হিন্দু বর্ণব্যবস্থায় নিম্নবর্গের লোক
- খ. একজন যোদ্ধা
- গ. একজন পুরোহিত
- ঘ. একজন রাজা
উত্তর: ক। চণ্ডাল অর্থ হিন্দু বর্ণব্যবস্থায় নিম্নবর্গের লোক, যাদের সমাজে অস্পৃশ্য গণ্য করা হতো।
৩৮। ‘বোধন-বাঁশি’ বলতে কী বোঝানো হয়েছে?
- ক. একটি যুদ্ধের ধ্বনি
- খ. বোধ জাগিয়ে তোলার বাঁশি
- গ. একটি উৎসবের নাম
- ঘ. একটি বাদ্যযন্ত্রের নাম মাত্র
উত্তর: খ। বোধন-বাঁশি অর্থ বোধ জাগিয়ে তোলার বাঁশি— উপেক্ষিতদের সুপ্ত চেতনা জাগ্রত করার প্রতীক হিসেবে ব্যবহৃত।
৩৯। ‘দৈন্য’ শব্দের অর্থ কী?
- ক. সম্পদ
- খ. দারিদ্র্য, দীনতা
- গ. সাহস
- ঘ. গর্ব
উত্তর: খ। দৈন্য অর্থ দারিদ্র্য বা দীনতা— প্রবন্ধের শেষ পঙক্তিতে ব্যবহৃত হয়েছে।
৪০। লেখকের যুক্তি অনুযায়ী ‘ছোটোলোক’ ও ‘ভদ্রলোক’-এর মধ্যে প্রকৃত পার্থক্য কী?
- ক. জন্মগত ও অপরিবর্তনীয় পার্থক্য
- খ. বুদ্ধিমত্তার পার্থক্য
- গ. সামাজিক অবিচারে সৃষ্ট কৃত্রিম পার্থক্য মাত্র
- ঘ. নৈতিকতার পার্থক্য
উত্তর: গ। লেখকের যুক্তি অনুযায়ী উভয়েই সমান মানুষ, একই আল্লাহর সৃষ্টি— সমাজের অবিচার ও অবহেলাই তথাকথিত ‘ছোটোলোক’দের এই অবস্থায় ঠেলে দিয়েছে, এটি কোনো সহজাত পার্থক্য নয়।
৪১। গান্ধীর উদাহরণ ব্যবহার করে লেখক আসলে কোন বৃহত্তর যুক্তি প্রতিষ্ঠা করতে চেয়েছেন?
- ক. ভারতের স্বাধীনতা আন্দোলন সফল হয়েছিল
- খ. গান্ধী সর্বশ্রেষ্ঠ নেতা ছিলেন
- গ. রাজনীতিতে ধর্মের কোনো স্থান নেই
- ঘ. ভ্রাতৃত্ব দিয়েই অসাধ্য সাধন সম্ভব
উত্তর: ঘ। গান্ধীর উদাহরণ দিয়ে লেখক প্রমাণ করতে চেয়েছেন, প্রকৃত আন্তরিকতা ও ভ্রাতৃত্ববোধ দিয়ে অবহেলিত জনশক্তিকে জাগ্রত করা গেলে অসম্ভবও সম্ভব হয়ে ওঠে।
৪২। ‘সেও-যে আমাদেরই মতো মানুষ— সেও যে সেই এক আল্লাহ্-এর সৃষ্টি’— এই বক্তব্যের মূল তাৎপর্য কী?
- ক. রাজনৈতিক স্লোগান
- খ. একটি নিছক ধর্মীয় উক্তি
- গ. সকল মানুষের মৌলিক সমতা প্রতিষ্ঠা
- ঘ. ধর্মীয় শিক্ষা প্রদান
উত্তর: গ। এই বক্তব্যের মধ্য দিয়ে লেখক প্রতিষ্ঠা করতে চেয়েছেন, জাত-পাত বা শ্রেণিনির্বিশেষে সকল মানুষ মৌলিকভাবে সমান— এটাই সাম্যবাদী চিন্তার মূল ভিত্তি।
সাব্বির একটি বস্তি এলাকার শিক্ষার্থীদের নিয়ে কাজ করেন, তাদের সাথে বসে খান, তাদের পরিবারের সমস্যা নিজের সমস্যার মতো দেখেন। এলাকার মানুষ তাঁকে অত্যন্ত শ্রদ্ধা করে, তাঁর ডাকে তারা যেকোনো সামাজিক কাজে ঝাঁপিয়ে পড়ে।
৪৩। সাব্বিরের কর্মপদ্ধতির সাথে প্রবন্ধের কোন মহান ব্যক্তির সাদৃশ্য পাওয়া যায়?
- ক. রবীন্দ্রনাথ
- খ. নজরুল নিজে
- গ. আবু বকর
- ঘ. মহাত্মা গান্ধী
উত্তর: ঘ। গান্ধী যেমন সাধারণ মানুষের সুখ-দুঃখের ভাগী হয়ে তাদের আপন করে নিয়েছিলেন, সাব্বিরও একইভাবে বস্তির মানুষদের সাথে মিশে তাদের আস্থা অর্জন করেছেন।
৪৪। সাব্বিরের প্রতি এলাকাবাসীর এই সাড়া দেওয়ার কারণ প্রবন্ধের কোন মূল বক্তব্যের সাথে সংগতিপূর্ণ?
- ক. আন্তরিকতার আহ্বানে মানুষ সাড়া দেয়
- খ. অর্থের প্রভাব
- গ. রাজনৈতিক ক্ষমতার প্রভাব
- ঘ. শিক্ষাগত যোগ্যতার প্রভাব
উত্তর: ক। লেখকের মতে, প্রকৃত হৃদয়ের ডাকেই উপেক্ষিত মানুষ সাড়া দেয়— কারণ তাদের এমন আন্তরিক স্নেহ দিয়ে আর কেউ কখনো আহ্বান করেনি, এই একই নীতি সাব্বিরের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য।
৪৫। প্রবন্ধে লেখক ‘পতিত’ শব্দটি কাদের বোঝাতে ব্যবহার করেছেন?
- ক. সমাজে অবহেলিত, নিম্নবর্গের মানুষদের
- খ. অপরাধীদের
- গ. দরিদ্র ভদ্রলোকদের
- ঘ. বিদেশিদের
উত্তর: ক। লেখক ‘পতিত, চণ্ডাল, ছোটলোক ভাই’ বলতে সমাজে অবহেলিত ও নিম্নবর্গ হিসেবে গণ্য মানুষদের বুঝিয়েছেন, যাদের তিনি ভাই বলে বুকে টেনে নেওয়ার আহ্বান জানান।
৪৬। লেখকের মতে ভদ্র সম্প্রদায়ের ‘জন্মগত অধিকার’ প্রসঙ্গে তাঁর দৃষ্টিভঙ্গি কী?
- ক. জন্মগত অধিকার ভেদাভেদের ন্যায্য ভিত্তি নয়
- খ. জন্মগত অধিকার সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ
- গ. জন্মগত অধিকার আইনত রক্ষিত হওয়া উচিত
- ঘ. জন্মগত অধিকার নিয়ে তিনি কোনো মন্তব্য করেননি
উত্তর: ক। লেখক প্রশ্ন তোলেন, “তোমার জন্মগত অধিকারটাই কি এত বড়?”— অর্থাৎ জন্মসূত্রে পাওয়া সামাজিক অবস্থানকে তিনি মানুষে-মানুষে বৈষম্যের যুক্তিসঙ্গত ভিত্তি বলে মনে করেন না।
৪৭। লেখক প্রবন্ধে কোন ধরনের প্রশ্ন ছুঁড়ে দিয়ে পাঠকের বিবেককে নাড়া দেওয়ার চেষ্টা করেন?
- ক. আত্মজিজ্ঞাসামূলক নৈতিক প্রশ্ন
- খ. তথ্যভিত্তিক প্রশ্ন
- গ. রাজনৈতিক প্রশ্ন
- ঘ. ঐতিহাসিক প্রশ্ন
উত্তর: ক। লেখক বারবার পাঠককে সরাসরি প্রশ্ন করেন (যেমন মানুষকে ঘৃণা করার অধিকার আছে কিনা), যা এক ধরনের আত্মজিজ্ঞাসা ও নৈতিক আত্মপরীক্ষার আহ্বান।
৪৮। প্রবন্ধের সামগ্রিক সুর কেমন বলে চিহ্নিত করা যায়?
- ক. নিরুত্তাপ ও নিরপেক্ষ
- খ. নিরাসক্ত ও তথ্যভিত্তিক
- গ. রসিকতাপূর্ণ
- ঘ. আবেগময়, আহ্বানসূচক ও বিদ্রোহাত্মক
উত্তর: ঘ। প্রবন্ধ জুড়ে লেখকের তীব্র আবেগ, প্রত্যক্ষ আহ্বান এবং অন্যায়ের বিরুদ্ধে বিদ্রোহাত্মক সুর স্পষ্ট— যা নজরুলের চরিত্রগত বৈশিষ্ট্যেরই প্রতিফলন।
৪৯। লেখকের মতে ‘ছোটোলোক’দের প্রতি সমাজের আচরণ ও তাদের সুপ্ত শক্তির মধ্যে কী সম্পর্ক রয়েছে?
- ক. তাদের কোনো শক্তিই নেই
- খ. তাদের শক্তি ইতিমধ্যে পূর্ণমাত্রায় প্রকাশিত
- গ. কোনো সম্পর্ক নেই
- ঘ. সামাজিক অবহেলাই সুপ্ত শক্তি প্রকাশে বাধা দিচ্ছে
উত্তর: ঘ। লেখকের মূল বক্তব্য অনুযায়ী, তাদের ভেতরে সরলতা-উদারতার বিপুল শক্তি থাকা সত্ত্বেও সমাজের ঘৃণা-অবহেলাই তা প্রকাশ পেতে বাধা দিচ্ছে— সেই শক্তিকেই জাগানোর ডাক দেন লেখক।
৫০। প্রবন্ধের শিরোনাম ‘উপেক্ষিত শক্তির উদ্বোধন’-এর তাৎপর্য কী?
- ক. একটি ঐতিহাসিক ঘটনার উল্লেখ
- খ. অবহেলিত জনগোষ্ঠীকে জাগ্রত করার আহ্বান
- গ. একটি রাজনৈতিক দলের নাম
- ঘ. একটি ধর্মীয় অনুষ্ঠানের নাম
উত্তর: খ। শিরোনামেই প্রবন্ধের মূল বার্তা স্পষ্ট— সমাজের উপেক্ষিত, অবহেলিত অংশের মধ্যে লুকিয়ে থাকা বিপুল শক্তিকে জাগিয়ে তোলার (উদ্বোধন) আহ্বানই এই রচনার প্রাণকেন্দ্র।
