পল্লিসাহিত্য প্রবন্ধের MCQ | SSC বাংলা ১ম পত্রের “পল্লিসাহিত্য” প্রবন্ধ থেকে বোর্ড পরীক্ষায় নিয়মিত প্রশ্ন আসে। এই পোস্টে প্রবন্ধের সারকথা ও ৫০টি বহুনির্বাচনি প্রশ্ন (MCQ) উত্তর ও ব্যাখ্যাসহ দেওয়া হলো। জ্ঞানমূলক ও অনুধাবনমূলক প্রশ্নের জন্য পল্লিসাহিত্য প্রবন্ধের নোট দেখুন।
পল্লিসাহিত্য প্রবন্ধের সারকথা ও গুরুত্বপূর্ণ তথ্য
পল্লিসাহিত্য প্রবন্ধের লেখক কে?
মুহম্মদ শহীদুল্লাহ্ (জন্ম ১০ জুলাই ১৮৮৫, পেয়ারা গ্রাম, চব্বিশ পরগনা; মৃত্যু ১৩ জুলাই ১৯৬৯, ঢাকা)। ভাষাবিদ ও সুপণ্ডিত, সোরবন বিশ্ববিদ্যালয় থেকে ডি লিট। উল্লেখযোগ্য গ্রন্থ: বাংলা ভাষার ইতিবৃত্ত, বাংলা সাহিত্যের কথা, বাংলা ভাষার ব্যাকরণ। শিশু পত্রিকা আঙুর সম্পাদনা করেন।
উৎস ও রূপ
১৯৩৮ সালে কিশোরগঞ্জে ‘পূর্ব ময়মনসিংহ সাহিত্য সম্মিলনী’তে প্রদত্ত সভাপতির অভিভাষণের পুনর্লিখিত রূপ।
প্রবন্ধের মূল যুক্তিধারা
- পল্লিগ্রামে প্রকৃতিই সাহিত্যের উপকরণ জোগায়, কিন্তু পল্লিবাসীরা তা উপলব্ধি করে না।
- দীনেশচন্দ্র সেনের মৈমনসিংহ গীতিকা সংগ্রহ ও রোমাঁ রোলাঁর মুগ্ধতা প্রমাণ করে পল্লিসাহিত্যের প্রকৃত মূল্য।
- আধুনিক শিক্ষার প্রভাবে দেশীয় রূপকথা (রাখালের পিঠা গাছ, পক্ষিরাজ ঘোড়া) হারিয়ে গিয়ে বিদেশি গল্প (আরব্য উপন্যাস, Lamb’s Tales) জায়গা নিচ্ছে।
- প্রবাদ বাক্য, ডাকের কথা, খনার বচনে যুগযুগান্তরের অভিজ্ঞতা ও ইতিহাস লুকিয়ে আছে।
- শিশুদের ছড়া ও খেলার বাঁধা বুলি (কপাটি খেলার গৎ) বিদেশি প্রভাবে হারিয়ে যাচ্ছে।
- জারি-ভাটিয়ালি-রাখালি-মারফতি গানের মতো পল্লিগান শহুরে সমাজে অবজ্ঞাত হলেও ভাবে-সৌন্দর্যে অতুলনীয়।
- বাংলাসাহিত্যের অধিকাংশই (পনেরো আনা) নাগরিক-কেন্দ্রিক; কৃষক-জেলে-মাঝির জীবন উপেক্ষিত— এমনকি রবীন্দ্রনাথও নাগরিক সাহিত্যেই ফিরে গিয়েছিলেন।
- প্রয়োজন গেঁয়ো সাহিত্যের নতুন ঘর তোলা— ইউরোপ-আমেরিকার Proletariat সাহিত্যের মতো।
- পল্লিসাহিত্য হিন্দু-মুসলমান নির্বিশেষে সকলের সাধারণ সম্পত্তি; সংরক্ষণে পল্লীজননীর সন্তানদের উদ্যোগই একমাত্র ভরসা।
পল্লিসাহিত্য প্রবন্ধের মূল ভাব কী?
বাংলার লুপ্তপ্রায় পল্লিসাহিত্য (রূপকথা, প্রবাদ, ছড়া, পল্লিগান) সংগ্রহ ও সংরক্ষণের জরুরি আহ্বান, এবং নাগরিক সাহিত্যের পাশাপাশি পল্লিজীবনভিত্তিক সাহিত্য রচনার গুরুত্ব তুলে ধরাই এই প্রবন্ধের মূল বার্তা।
পল্লিসাহিত্য প্রবন্ধের গুরুত্বপূর্ণ শব্দার্থ
কলগান (মধুর ধ্বনি), প্রত্নতাত্ত্বিক (পুরাতত্ত্ববিদ), নৃতত্ত্ব (মানুষের উৎপত্তি-বিকাশ বিষয়ক বিজ্ঞান), ভূয়োদর্শন (অভিজ্ঞতা), বালাখানা (প্রাসাদ), বালাম (বইয়ের খণ্ড), ফক্কিকার (ফাঁকিবাজি), Proletariat সাহিত্য (শ্রমজীবী মানুষের সাহিত্য)।
লেখক পরিচিতি বিষয়ক MCQ
১। মুহম্মদ শহীদুল্লাহ্ কত খ্রিষ্টাব্দে জন্মগ্রহণ করেন?
- ক. ১৮৮৩
- খ. ১৮৮৬
- গ. ১৮৮৪
- ঘ. ১৮৮৫
উত্তর: ঘ। তিনি ১০ই জুলাই, ১৮৮৫ খ্রিষ্টাব্দে জন্মগ্রহণ করেন।
২। মুহম্মদ শহীদুল্লাহ্র জন্মস্থান কোথায়?
- ক. ফরিদপুর
- খ. রাজশাহী
- গ. পেয়ারা গ্রাম, চব্বিশ পরগনা
- ঘ. ঢাকা
উত্তর: গ। পশ্চিমবঙ্গের চব্বিশ পরগনা জেলার বসিরহাট মহকুমার পেয়ারা গ্রামে তিনি জন্মগ্রহণ করেন।
৩। মুহম্মদ শহীদুল্লাহ্ কলকাতা সিটি কলেজ থেকে কোন বিষয়ে বিএ অনার্স পাস করেন?
- ক. বাংলা
- খ. সংস্কৃত
- গ. ইংরেজি
- ঘ. ইতিহাস
উত্তর: খ। তিনি কলকাতা সিটি কলেজ থেকে সংস্কৃতে বিএ অনার্স পাস করেন।
৪। মুহম্মদ শহীদুল্লাহ্ কোথা থেকে ভাষাতত্ত্বে ডিপ্লোমা ও ডি লিট লাভ করেন?
- ক. অক্সফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয়
- খ. প্যারিসের সোরবন বিশ্ববিদ্যালয়
- গ. কেমব্রিজ বিশ্ববিদ্যালয়
- ঘ. হার্ভার্ড বিশ্ববিদ্যালয়
উত্তর: খ। প্যারিসের সোরবন বিশ্ববিদ্যালয় থেকে তিনি ভাষাতত্ত্বে ডিপ্লোমা এবং ডি লিট লাভের গৌরব অর্জন করেন।
৫। নিচের কোনটি মুহম্মদ শহীদুল্লাহ্র গ্রন্থ নয়?
- ক. বাংলা ভাষার ব্যাকরণ
- খ. বাংলা ভাষার ইতিবৃত্ত
- গ. বাংলা সাহিত্যের কথা
- ঘ. পথের পাঁচালী
উত্তর: ঘ। পথের পাঁচালী বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়ের রচনা; বাকি তিনটি মুহম্মদ শহীদুল্লাহ্র গ্রন্থ।
৬। মুহম্মদ শহীদুল্লাহ্ সম্পাদিত শিশু পত্রিকার নাম কী?
- ক. আঙুর
- খ. কিশোর বাংলা
- গ. মৌচাক
- ঘ. ঘরে বাইরে
উত্তর: ক। শিশু পত্রিকা আঙুর তাঁরই সম্পাদনায় প্রকাশিত হয়।
৭। মুহম্মদ শহীদুল্লাহ্ কত সালে মৃত্যুবরণ করেন?
- ক. ১৯৬৮
- খ. ১৯৭০
- গ. ১৯৬৯
- ঘ. ১৯৬৭
উত্তর: গ। ১৩ই জুলাই, ১৯৬৯ খ্রিষ্টাব্দে ঢাকায় তাঁর জীবনাবসান ঘটে।
পল্লিসাহিত্য প্রবন্ধের বহুনির্বাচনি প্রশ্ন ও উত্তর (MCQ)
৮। ‘পল্লিসাহিত্য’ প্রবন্ধটি মূলত কী ছিল?
- ক. সাহিত্য সম্মেলনের অভিভাষণ
- খ. একটি চিঠি
- গ. একটি গবেষণাপত্র
- ঘ. একটি সাক্ষাৎকার
উত্তর: ক। ১৯৩৮ সালে কিশোরগঞ্জে ‘পূর্ব ময়মনসিংহ সাহিত্য সম্মিলনী’র একাদশ অধিবেশনে সভাপতি হিসেবে প্রদত্ত অভিভাষণের পুনর্লিখিত রূপ এই প্রবন্ধ।
৯। প্রবন্ধের মূল বক্তব্য কী?
- ক. আধুনিক শিক্ষার প্রশংসা
- খ. পল্লিসাহিত্য সংগ্রহ ও সংরক্ষণের প্রয়োজনীয়তা
- গ. বিদেশি সাহিত্যের অনুবাদ
- ঘ. শহুরে সাহিত্যের প্রশংসা
উত্তর: খ। লেখক দেখান, বাংলার পল্লিতে ছড়িয়ে থাকা রূপকথা, ছড়া, প্রবাদ, পল্লিগান দ্রুত হারিয়ে যাচ্ছে, তাই এগুলো সংগ্রহ ও সংরক্ষণ জরুরি।
১০। লেখকের মতে পল্লিগ্রামে শহরের অভাব কীভাবে পূরণ হয়?
- ক. বিদেশি সংস্কৃতির মাধ্যমে
- খ. শহুরে অভিবাসীদের মাধ্যমে
- গ. প্রকৃতির সৌন্দর্যের মাধ্যমে
- ঘ. আধুনিক প্রযুক্তির মাধ্যমে
উত্তর: গ। কোকিল, দোয়েল, পাপিয়ার কলগান, নদীর কুলকুল ধ্বনি, পাতার মর্মর ও শ্যামল শস্যের হিলাদুলা— এসবই শহরের গায়ক-বাদক-নর্তকের অভাব পূরণ করে বলে লেখক মনে করেন।
১১। লেখক পল্লিবাসীদের সাহিত্য সম্পদ সম্পর্কে অসচেতনতাকে কীসের সাথে তুলনা করেছেন?
- ক. অন্ধের হাতির বর্ণনার মতো
- খ. বায়ুতে ডুবে থেকেও তা ভুলে যাওয়ার মতো
- গ. কূপমণ্ডূকের মতো
- ঘ. মাছের জলে বাস করার মতো
উত্তর: খ। লেখক বলেন, বাতাসের মধ্যে বাস করে যেমন আমরা ভুলে যাই আমরা বায়ু-সাগরে ডুবে আছি, তেমনি পাড়াগাঁয়ে থেকে আমরা বুঝিই না কত বড়ো সাহিত্য সম্পদ চারপাশে ছড়িয়ে আছে।
১২। ডক্টর দীনেশচন্দ্র সেন কোন গ্রন্থ সংগ্রহ করে পল্লিসাহিত্যের সম্পদ প্রকাশ করেন?
- ক. গীতাঞ্জলি
- খ. মৈমনসিংহ গীতিকা
- গ. ঠাকুরমার ঝুলি
- ঘ. বাংলার ব্রত
উত্তর: খ। ডক্টর দীনেশচন্দ্র সেন মৈমনসিংহ গীতিকা সংগ্রহ করে দেখিয়েছেন সাহিত্যের কী অমূল্য খনি পল্লিজননীর বুকে লুকিয়ে আছে।
১৩। ফরাসি সাহিত্যিক রোমাঁ রোলাঁ কার সৌন্দর্যে মুগ্ধ হয়েছিলেন?
- ক. খনার
- খ. মদিনা বিবির সৌন্দর্যে
- গ. শেক্সপিয়রের
- ঘ. দীনেশচন্দ্র সেনের
উত্তর: খ। সুদূর পশ্চিমের সাহিত্যরসিক রোমাঁ রোলাঁ পর্যন্ত ময়মনসিংহের মদিনা বিবির সৌন্দর্যে মুগ্ধ হয়েছিলেন।
১৪। রোমাঁ রোলাঁ কোন গ্রন্থের জন্য নোবেল পুরস্কার লাভ করেন?
- ক. ওয়ার অ্যান্ড পিস
- খ. জাঁ ক্রিস্তফ
- গ. পথের পাঁচালী
- ঘ. গীতাঞ্জলি
উত্তর: খ। ‘জাঁ ক্রিস্তফ’ উপন্যাসের জন্য তিনি ১৯১৫ খ্রিষ্টাব্দে সাহিত্যে নোবেল পুরস্কার লাভ করেন।
১৫। ‘দেওয়ানা-মদিনা’ লোকগাথার প্রখ্যাত কবি কে ছিলেন?
- ক. মনসুর বয়াতি
- খ. দক্ষিণারঞ্জন মিত্র মজুমদার
- গ. খনা
- ঘ. দীনেশচন্দ্র সেন
উত্তর: ক। মনসুর বয়াতি ছিলেন দেওয়ানা-মদিনা লোকগাথার প্রখ্যাত কবি, যিনি শহুরে চক্ষুর অগোচরে পল্লিতে আত্মগোপন করে ছিলেন।
১৬। আধুনিক শিক্ষিত মায়েরা এখন সন্তানদের কী শোনান বলে লেখক আক্ষেপ করেন?
- ক. বিদেশি গল্পের অনুবাদ
- খ. পল্লিগান
- গ. খনার বচন
- ঘ. দেশীয় রূপকথা
উত্তর: ক। আধুনিক শিক্ষিত মায়েরা এখন সন্তানকে রাখালের পিঠা গাছ বা পক্ষিরাজ ঘোড়ার কথা না শুনিয়ে আরব্য উপন্যাসের গল্প বা Lamb’s Tales from Shakespeare-এর অনুবাদ শোনান।
১৭। লেখকের মতে দেশি রূপকথার তুলনা কোন বিদেশি গল্পের সাথে করা যায়?
- ক. আরব্য রূপকথার সাথে
- খ. রবিনসন ক্রুশোর সাথে
- গ. সিন্ড্রেলার সাথে
- ঘ. জাঁ ক্রিস্তফের সাথে
উত্তর: ক। লেখক বলেন, পল্লির উপকথাগুলোর মূল্য আরব্য উপন্যাসের আলাউদ্দিনের আশ্চর্য প্রদীপ বা আলিবাবা ও চল্লিশ দস্যুর চেয়ে কম নয়।
**১৮। রূপকথা হারিয়ে যাওয়া নিয়ে নিচের তথ্যগুলো লক্ষ করো —**
i. লেখক মনে করেন আধুনিক শিক্ষার প্রভাবে দেশীয় রূপকথা বিস্মৃতির অতল গর্ভে তলিয়ে যাচ্ছে
ii. রূপকথা নষ্ট হলে অতীতের সঙ্গে সম্বন্ধও লোপ পায় বলে লেখক মনে করেন
iii. লেখকের মতে দেশি রূপকথার সাথে বিদেশি রূপকথার কোনো মিল থাকতে পারে না
নিচের কোনটি সঠিক?
ক. i ও ii খ. i ও iii গ. ii ও iii ঘ. i, ii ও iii
**উত্তর: ক।** প্রথম দুটি তথ্য প্রবন্ধের বক্তব্যের সাথে মেলে, কিন্তু লেখক আসলে মনে করেন বাংলার রূপকথা সিংহল, সুমাত্রা এমনকি ইউরোপের লিথোনিয়া বা ওয়েলসের রূপকথার সাথেও সাদৃশ্যপূর্ণ হতে পারে— তাই তৃতীয় তথ্যটি ভুল।
১৯। উপকথা সংগ্রহ ও গবেষণার জন্য ইউরোপ-আমেরিকায় কোন সংস্থা কাজ করে?
- ক. Cultural Society
- খ. Literary Society
- গ. History Society
- ঘ. Folklore Society
উত্তর: ঘ। Folklore Society এইসব উপকথা সংগ্রহ করে ও অন্য সভ্য দেশের উপকথার সাথে সাদৃশ্য বিচার করে থাকে।
২০। ‘Folklore’ শব্দটির উদ্ভাবক কে ছিলেন?
- ক. উইলিয়াম থমস
- খ. রোমাঁ রোলাঁ
- গ. দীনেশচন্দ্র সেন
- ঘ. দক্ষিণারঞ্জন মিত্র মজুমদার
উত্তর: ক। উইলিয়াম থমস ‘ফোকলোর’ কথাটির উদ্ভাবক এবং ১৮৪৮ সালে লন্ডনে সর্বপ্রথম এই সমিতি গঠিত হয়।
২১। লেখকের মতে দক্ষিণারঞ্জন মিত্র মজুমদারের ‘ঠাকুরমার ঝুলি’ সম্পর্কে কী বলা হয়েছে?
- ক. এটি সম্পূর্ণ সংগ্রহ
- খ. আরও ব্যাপক সংগ্রহ প্রয়োজন
- গ. এটি বিদেশি রূপকথার অনুবাদ
- ঘ. এটি মূল্যহীন
উত্তর: খ। লেখক বলেন, ‘ঠাকুরমার ঝুলি’ বা ‘ঠাকুরদার থলে’ যথেষ্ট নয়— বাংলাদেশের সমস্ত উপকথা জড়ো করলে কয়েক বালামেও তার সংকুলান হতো না।
২২। শেক্সপিয়রের রাক্ষসদের বাঁধাবুলি ‘Fie, Fie, foh, fun’-এর সাথে লেখক পল্লির কোন বুলির তুলনা করেছেন?
- ক. ‘আয় ঘুম আয়’
- খ. ‘রোদ হচ্ছে পানি হচ্ছে’
- গ. ‘হাঁউ, মাঁউ, খাঁউ, মানুষের গন্ধ পাঁউ’
- ঘ. ‘এক হাত বোল্লা বার হাত শিং’
উত্তর: গ। লেখক এই সাদৃশ্য দেখিয়ে প্রশ্ন তোলেন, তবে কি একদিন ইংরেজ ও বাঙালির পূর্বপুরুষরা এক তাঁবুর নিচে বাস করতেন?
২৩। লেখক কোন প্রবাদ বাক্যগুলোর উদাহরণ দেন?
- ক. শুধু ইংরেজি প্রবাদ
- খ. শুধু ধর্মীয় বাণী
- গ. প্রচলিত বাংলা প্রবাদ
- ঘ. শুধু আধুনিক প্রবাদ
উত্তর: গ। লেখক ‘দাঁত থাকতে দাঁতের মর্যাদা নেই’, ‘ধরি মাছ না ছুঁই পানি’, ‘আপনি বাঁচলে বাপের নাম’ এই ধরনের প্রবাদ বাক্যের উদাহরণ দেন।
২৪। খনা কে ছিলেন?
- ক. প্রাচীন নারীজ্যোতিষী
- খ. একজন সুরকার
- গ. একজন সাহিত্যিক
- ঘ. একজন রাণী
উত্তর: ক। খনা প্রাচীন ভারতের প্রখ্যাত নারীজ্যোতিষী, যাঁর কৃষিতত্ত্ব বিষয়ক উপদেশমূলক ছড়াগুলো অষ্টম থেকে দ্বাদশ শতাব্দীর মধ্যে রচিত বলে ধারণা করা হয়।
২৫। ‘পিঁড়েয় বসে পেঁড়োর খবর’ প্রবাদটি কোন ঐতিহাসিক সময়ের কথা মনে করিয়ে দেয়?
- ক. যখন মুর্শিদাবাদ রাজধানী ছিল
- খ. যখন পাণ্ডুয়া বঙ্গের রাজধানী ছিল
- গ. যখন গৌড় রাজধানী ছিল
- ঘ. যখন ঢাকা রাজধানী ছিল
উত্তর: খ। এই প্রবাদ বাক্যটি সেই সময়ের কথা মনে করিয়ে দেয় যখন পাণ্ডুয়া বঙ্গের রাজধানী ছিল।
২৬। শিশুরা রোদের মধ্যে বৃষ্টি হলে কোন ছড়া কাটে বলে লেখক উল্লেখ করেছেন?
- ক. আয় বৃষ্টি ঝেঁপে
- খ. এক যে ছিল রাজা
- গ. প্রচলিত ছড়া
- ঘ. চাঁদ উঠেছে ফুল ফুটেছে
উত্তর: গ। রোদের সময় বৃষ্টি হলে ছেলেমেয়েরা সমস্বরে কাটে, “রোদ হচ্ছে, পানি হচ্ছে, খেঁকশিয়ালীর বিয়ে হচ্ছে।”
২৭। কপাটি (কাবাডি) খেলার সময় ছেলেরা কী বাঁধা বুলি ব্যবহার করত?
- ক. মনমাঝি তোর বৈঠা নে রে
- খ. আয় ঘুম আয়
- গ. রোদ হচ্ছে পানি হচ্ছে
- ঘ. এক হাত বোল্লা বার হাত শিং
উত্তর: ঘ। কপাটি খেলার সময় ছেলেরা বলত, “এক হাত বোল্লা বার হাত শিং, উড়ে যায় বোল্লা ধা তিং তিং।”
২৮। বিদেশি খেলার প্রচলনে কী লোপ পাবার উপক্রম হয়েছে বলে লেখক মনে করেন?
- ক. দেশি খেলার গৎ বা বুলি
- খ. রূপকথা
- গ. পল্লিগান
- ঘ. প্রবাদ বাক্য
উত্তর: ক। ফুটবল, ব্যাটবলের মতো বিদেশি খেলার প্রচলনের সাথে সাথে কপাটির মতো দেশীয় খেলার বাঁধা গৎ বা বুলি হারিয়ে যাচ্ছে।
২৯। লেখক পল্লিগানের কোন কোন ধরনের উল্লেখ করেছেন?
- ক. রবীন্দ্রসংগীত ও নজরুলগীতি
- খ. আধুনিক গান
- গ. বিভিন্ন পল্লিগান
- ঘ. শাস্ত্রীয় সংগীত
উত্তর: গ। লেখক জারি গান, ভাটিয়ালি গান, রাখালি গান ও মারফতি গানের উল্লেখ করেন, যেগুলোতে প্রেম, আনন্দ, সৌন্দর্য ও তত্ত্বজ্ঞান জড়িয়ে আছে।
৩০। শহুরে সমাজে পল্লিগানকে কী বলে অবজ্ঞা করা হয়?
- ক. ধর্মীয় সংগীত
- খ. বর্বর চাষার গান
- গ. শাস্ত্রীয় সংগীত
- ঘ. আধুনিক সংগীত
উত্তর: খ। শহুরে গানের প্রভাবে পল্লিগানগুলো ভদ্রসমাজে ‘বর্বর চাষার গান’ বলে আর বিকায় না বলে লেখক আক্ষেপ করেন।
৩১। ‘মনমাঝি তোর বৈঠা নে রে’ গানের উদাহরণ দিয়ে লেখক কী প্রমাণ করতে চেয়েছেন?
- ক. পল্লিগানের সৌন্দর্য তুলনাহীন
- খ. পল্লিগান শুধু বিনোদনের জন্য
- গ. পল্লিগান পুরনো হয়ে গেছে
- ঘ. পল্লিগান নিম্নমানের
উত্তর: ক। লেখক প্রশ্ন করেন এই গানের সাথে কোনো শহুরে গানের তুলনা হতে পারে কি না— অর্থাৎ পল্লিগানের গভীরতা ও সৌন্দর্য অতুলনীয় বলে তিনি মনে করেন।
৩২। লেখকের মতে তৎকালীন প্রচলিত বাংলাসাহিত্যের কত অংশ শহুরে বা নাগরিক সাহিত্য?
- ক. সম্পূর্ণ ষোলো আনা
- খ. পনেরো আনা
- গ. বারো আনা
- ঘ. দশ আনা
উত্তর: খ। লেখকের ভাষায়, তৎকালীন বাংলাসাহিত্যের পনেরো আনাই হচ্ছে শহুরে বা নাগরিক সাহিত্য।
৩৩। নাগরিক সাহিত্যে কোন বিষয়গুলো প্রাধান্য পায় বলে লেখক উল্লেখ করেন?
- ক. কৃষক ও জেলে-মাঝির জীবন
- খ. শহুরে বিলাসের বিষয়াদি
- গ. রূপকথা
- ঘ. পল্লিগান
উত্তর: খ। নাগরিক সাহিত্যে রাজ-রাজড়ার কথা, বাবু-বিবির কথা, মোটরগাড়ি, বিজলি বাতি, সিনেমা-থিয়েটারের কথাই প্রাধান্য পায়, পল্লির গৃহস্থ-কৃষক-জেলে-মাঝুরদের কথা সেখানে ঠাঁই পায় না।
৩৪। কোন বিশ্ববরেণ্য কবির কথা উল্লেখ করে লেখক বলেন তিনিও নাগরিক সাহিত্যেই ফিরে গিয়েছিলেন?
- ক. জীবনানন্দ দাশ
- খ. রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
- গ. কাজী নজরুল ইসলাম
- ঘ. মাইকেল মধুসূদন দত্ত
উত্তর: খ। লেখক উল্লেখ করেন, বিশ্ববরেণ্য কবিসম্রাট (রবীন্দ্রনাথ) একবার ‘এবার ফিরাও মোরে’ বলেও পরে আবার পুরনো পথে নাগরিক সাহিত্য নিয়েই ব্যস্ত ছিলেন।
৩৫। লেখক শহুরে সাহিত্যের ‘বালাখানা’র পাশে কী তোলার আহ্বান জানান?
- ক. গেঁয়ো সাহিত্যের ঘর
- খ. আরেকটি বালাখানা
- গ. একটি লাইব্রেরি
- ঘ. একটি বিশ্ববিদ্যালয়
উত্তর: ক। লেখক বলেন, শহুরে সাহিত্যের বালাখানার (প্রাসাদের) পাশে গেঁয়ো সাহিত্যের জোড়াবাংলা ঘর তোলা আজ প্রয়োজন হয়ে পড়েছে।
৩৬। লেখক ইউরোপ-আমেরিকায় কোন ধরনের সাহিত্যের উত্থানের কথা উল্লেখ করেন?
- ক. পরাবাস্তব সাহিত্য
- খ. আধুনিকতাবাদী সাহিত্য
- গ. শ্রমজীবী মানুষের সাহিত্য
- ঘ. রোমান্টিক সাহিত্য
উত্তর: গ। লেখক বলেন, ইউরোপ-আমেরিকায় Proletariat সাহিত্য অর্থাৎ অত্যাচারিত শ্রমজীবী দুঃখী মানুষের সাহিত্য ক্রমে আদরের আসন পাচ্ছে, বাংলাদেশেও তা পাবে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন।
৩৭। লেখকের মতে পল্লিসাহিত্যে হিন্দু-মুসলমান বিভেদ সম্পর্কে কী সত্য?
- ক. এটি সকলের সাধারণ সম্পত্তি
- খ. এটি শুধু হিন্দুদের সম্পদ
- গ. এটি শুধু মুসলমানদের সম্পদ
- ঘ. এতে ধর্মীয় বিভাজন স্পষ্ট
উত্তর: ক। লেখক বলেন, মাতৃস্তন্যে যেমন সন্তান মাত্রেরই অধিকার, তেমনি পল্লিসাহিত্যে পল্লীজননীর হিন্দু-মুসলমান সকল সন্তানেরই সমান অধিকার।
৩৮। প্রবন্ধের শেষে লেখক কী প্রত্যাশা প্রকাশ করেন?
- ক. সরকার এ কাজে অর্থ দেবে
- খ. প্রকাশকরা এগিয়ে আসবে
- গ. বিদেশিরা এ কাজ করবে
- ঘ. সবাই পল্লিসাহিত্যে মনোযোগ দেবে
উত্তর: ঘ। লেখক আশা প্রকাশ করেন, পল্লীজননীর সন্তানেরা যদি পল্লিসাহিত্যের দিকে মনোযোগ দেয় তবেই এই সাহিত্য সভার আয়োজন সার্থক হবে, নয়তো সব ফক্কিকার (ফাঁকিবাজি) হবে।
৩৯। একদা বাংলায় থাকা বিরাট পল্লিসাহিত্যের বর্তমান অবস্থা লেখক কীভাবে বর্ণনা করেছেন?
- ক. পূর্ণাঙ্গভাবে সংরক্ষিত
- খ. নতুন করে জনপ্রিয় হচ্ছে
- গ. কঙ্কালবিশেষ টিকে আছে, ধ্বংসের পথে
- ঘ. সম্পূর্ণ বিলুপ্ত
উত্তর: গ। লেখক বলেন, এক বিরাট পল্লিসাহিত্য বাংলায় ছিল, তার কঙ্কালবিশেষ এখনও আছে, কিন্তু সময় ও রুচির পরিবর্তনে তা অনাদৃত হয়ে ধ্বংসের পথে দাঁড়িয়েছে।
৪০। ‘কলগান’ শব্দের অর্থ কী?
- ক. নীরবতা
- খ. কর্কশ ধ্বনি
- গ. শ্রুতিমধুর ধ্বনি
- ঘ. উচ্চ শব্দ
উত্তর: গ। কলগান অর্থ শ্রুতিমধুর, মধুর ধ্বনি।
৪১। ‘প্রত্নতাত্ত্বিক’ কাকে বলা হয়?
- ক. পুরাতন বই সংগ্রাহককে
- খ. প্রাচীন নিদর্শন থেকে তথ্য নির্ণয়কারী
- গ. ভাষাবিদকে
- ঘ. ঐতিহাসিক নাটক রচয়িতাকে
উত্তর: খ। প্রত্নতাত্ত্বিক বা পুরাতত্ত্ববিদ হলেন তিনি, যিনি প্রাচীন লিপি, মুদ্রা বা ভগ্নাবশেষ থেকে পুরাকালের তথ্য নির্ণয় করেন।
৪২। ‘নৃতত্ত্ব’ (Anthropology) কী বিষয়ক বিজ্ঞান?
- ক. উদ্ভিদ সম্পর্কিত
- খ. মানুষের উৎপত্তি-বিকাশ বিষয়ক
- গ. প্রাণী সম্পর্কিত
- ঘ. ভূগোল সম্পর্কিত
উত্তর: খ। নৃতত্ত্ব হলো মানুষের উৎপত্তি ও বিকাশ সংক্রান্ত বিজ্ঞান, যার মূল্যবান উপকরণ হিসেবে উপকথাকে গণ্য করা হয়।
৪৩। ‘ভূয়োদর্শন’ শব্দের অর্থ কী?
- ক. অন্ধত্ব
- খ. দূরদর্শিতা
- গ. দেখা-শোনার মাধ্যমে অর্জিত অভিজ্ঞতা
- ঘ. কল্পনাশক্তি
উত্তর: গ। ভূয়োদর্শন অর্থ প্রচুর দেখা ও শোনার মাধ্যমে অর্জিত অভিজ্ঞতা, যা প্রবাদ বাক্যে সঞ্চিত থাকে বলে লেখক মনে করেন।
৪৪। ‘বালাখানা’ শব্দের অর্থ কী?
- ক. প্রাসাদ
- খ. বিদ্যালয়
- গ. দোকান
- ঘ. কুটির
উত্তর: ক। বালাখানা অর্থ প্রাসাদ— শহুরে সাহিত্যকে লেখক এই প্রাসাদের সাথে তুলনা করেছেন।
৪৫। ‘ফক্কিকার’ শব্দের অর্থ কী?
- ক. পরিশ্রম
- খ. আন্তরিকতা
- গ. সততা
- ঘ. ফাঁকিবাজি
উত্তর: ঘ। ফক্কিকার অর্থ ফাঁকিবাজি— প্রবন্ধের শেষে লেখক বলেন, পল্লিসাহিত্যের প্রতি মনোযোগ না দিলে এই সাহিত্য সভা কেবলই ফক্কিকার হবে।
৪৬। ‘বালাম’ শব্দের অর্থ কী, যা প্রবন্ধে ব্যবহৃত হয়েছে?
- ক. একটি নদীর নাম
- খ. বইয়ের খণ্ড (Volume)
- গ. একটি পুরস্কারের নাম
- ঘ. একটি গানের ধরন
উত্তর: খ। বালাম অর্থ বইয়ের খণ্ড, ইংরেজিতে Volume— লেখক বলেন সমস্ত উপকথা জড়ো করলে কয়েক বালামেও সংকুলান হতো না।
৪৭। খনার বচনের উদাহরণ হিসেবে লেখক কোন ছড়াটি উল্লেখ করেন?
- ক. রোদ হচ্ছে পানি হচ্ছে
- খ. মনমাঝি তোর বৈঠা নে রে
- গ. এক হাত বোল্লা বার হাত শিং
- ঘ. প্রচলিত খনার বচন
উত্তর: ঘ। লেখক খনার বচনের উদাহরণ হিসেবে দেন, “কলা রুয়ে না কেটো পাত, তাতেই কাপড় তাতেই ভাত”— কৃষিসংক্রান্ত জ্ঞানসমৃদ্ধ একটি বচন।
৪৮। রোমাঁ রোলাঁ ও মুহম্মদ শহীদুল্লাহ্ কীভাবে সংযুক্ত হয়েছেন প্রবন্ধে?
- ক. রোমাঁ রোলাঁর মুগ্ধতা লেখকের যুক্তির প্রমাণ
- খ. তাঁরা একসাথে কাজ করেছেন
- গ. তাঁরা প্রতিদ্বন্দ্বী ছিলেন
- ঘ. কোনো সংযোগ নেই
উত্তর: ক। লেখক দেখান, বিদেশি একজন খ্যাতিমান সাহিত্যিকও যখন পল্লিগাথার সৌন্দর্যে মুগ্ধ হন, তখন তা প্রমাণ করে পল্লিসাহিত্যের প্রকৃত মূল্য কতটা— এটি তাঁর মূল যুক্তিকে শক্তিশালী করে।
৪৯। শেক্সপিয়রের রাক্ষসের বুলি ও পল্লির বুলির তুলনা করে লেখক প্রকৃতপক্ষে কী প্রশ্ন তোলেন?
- ক. সংস্কৃতিদ্বয়ের সাধারণ উৎস থাকতে পারে কিনা
- খ. কোন বুলিটি বেশি ভয়ংকর
- গ. রাক্ষসের অস্তিত্ব আছে কিনা
- ঘ. শেক্সপিয়র শ্রেষ্ঠ নাট্যকার কিনা
উত্তর: ক। এই আশ্চর্য মিল দেখিয়ে লেখক জিজ্ঞাসা তোলেন, ইংরেজ ও বাঙালির পূর্বপুরুষরা কোনো একদিন একসূত্রে বাঁধা ছিলেন কিনা— এটি পল্লিসাহিত্যের নৃতাত্ত্বিক গুরুত্বকে তুলে ধরে।
মায়া বাংলাদেশে বেড়াতে এসে গ্রামের একজন বৃদ্ধার মুখে পুরনো দিনের একটি ভাটিয়ালি গান শুনে মুগ্ধ হয়। সে জানতে পারে, এই গানের ভাষা, সুর ও ভাব শহরের কোনো আধুনিক গানে পাওয়া যায় না। মায়া গানটি রেকর্ড করে রাখার সিদ্ধান্ত নেয়, যাতে ভবিষ্যৎ প্রজন্ম এটি হারিয়ে না ফেলে।
৫০। মায়ার এই উদ্যোগ ‘পল্লিসাহিত্য’ প্রবন্ধের কোন মূল আহ্বানের সাথে সংগতিপূর্ণ?
- ক. আধুনিক প্রযুক্তির প্রশংসা
- খ. নাগরিক সাহিত্য রচনার আহ্বান
- গ. পল্লিসাহিত্য সংগ্রহ ও সংরক্ষণের আহ্বান
- ঘ. বিদেশি সাহিত্য অনুবাদের আহ্বান
উত্তর: গ। লেখক ঠিক এই ধরনের উদ্যোগেরই আহ্বান জানিয়েছেন— পল্লিগান, রূপকথা, ছড়া হারিয়ে যাওয়ার আগেই সংগ্রহ করে রাখা, যা মায়ার কাজের সাথে সরাসরি মিলে যায়।
৫১। মায়ার মতো উদ্যোগ না নেওয়া হলে লেখকের ভাষায় কী পরিণতি হতে পারে?
- ক. গানটি জনপ্রিয় হয়ে উঠবে
- খ. সরকার নিজেই সংরক্ষণ করবে
- গ. কিছুই হবে না, গান এমনিই টিকে থাকবে
- ঘ. পল্লিসাহিত্য চিরতরে হারিয়ে যাবে
উত্তর: ঘ। লেখকের আশঙ্কা অনুযায়ী, সময়মতো সংগ্রহ না করলে এই সম্পদ চিরতরে বিস্মৃতির অতলে তলিয়ে যাবে— যেমনটা ইতিমধ্যে রূপকথা ও ছড়ার ক্ষেত্রে ঘটছে বলে তিনি আক্ষেপ করেছেন।
