● Note

শুভা গল্পের নোট | জ্ঞানমূলক ও অনুধাবনমূলক প্রশ্ন উত্তর

শুভা গল্পের নোট | SSC বাংলা ১ম পত্রের “শুভা” গল্পের জ্ঞানমূলক ও অনুধাবনমূলক প্রশ্ন উত্তর নিচে দেওয়া হলো। বহুনির্বাচনি প্রশ্নের জন্য শুভা গল্পের MCQ দেখুন।

জ্ঞানমূলক প্রশ্ন ও উত্তর (ক)

রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর ও শুভা গল্পের পরিচিতি বিষয়ক জ্ঞানমূলক প্রশ্ন

রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর কত খ্রিষ্টাব্দে জন্মগ্রহণ করেন?

তিনি ১৮৬১ খ্রিষ্টাব্দে জন্মগ্রহণ করেন।

রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর কোন পরিবারে জন্মগ্রহণ করেন?

তিনি কলকাতার জোড়াসাঁকোর ঠাকুর পরিবারে জন্মগ্রহণ করেন।

রবীন্দ্রনাথের পিতার নাম কী?

তাঁর পিতার নাম মহর্ষি দেবেন্দ্রনাথ ঠাকুর।

রবীন্দ্রনাথ কত বছর বয়সে ‘বনফুল’ কাব্য প্রকাশ করেন?

তিনি পনেরো বছর বয়সে ‘বনফুল’ কাব্য প্রকাশ করেন।

রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর কত সালে নোবেল পুরস্কার লাভ করেন?

তিনি ১৯১৩ সালে নোবেল পুরস্কার লাভ করেন।

রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর কত সালে মৃত্যুবরণ করেন?

তিনি ১৯৪১ সালে মৃত্যুবরণ করেন।

শুভার প্রকৃত নাম কী?

শুভার প্রকৃত নাম সুভাষিণী।

নিচের কোনটি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের রচনা নয়?

আরণ্যক বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়ের রচনা; বাকি তিনটি রবীন্দ্রনাথের উপন্যাস।

শুভা গল্পের মূল বিষয়বস্তু নিয়ে জ্ঞানমূলক প্রশ্ন

‘শুভা’ গল্পটি কোন গ্রন্থের অন্তর্ভুক্ত?

এটি ‘গল্পগুচ্ছ’ গ্রন্থের অন্তর্ভুক্ত।

শুভা কোন শারীরিক সমস্যায় আক্রান্ত?

শুভা বাকপ্রতিবন্ধী, সে কথা বলতে পারে না।

শুভার বাবার নাম কী?

শুভার বাবার নাম বাণীকণ্ঠ।

শুভাদের গ্রামের নাম কী?

শুভাদের গ্রামের নাম চণ্ডীপুর।

শুভার একমাত্র মানব সঙ্গীর নাম কী?

তার নাম প্রতাপ।

প্রতাপ শুভাকে কী নামে ডাকে?

প্রতাপ তাকে ‘সু’ বলে ডাকে।

শুভার প্রিয় দুই গাভীর নাম কী?

তাদের নাম সর্বশী ও পাঙ্গুলি।

শুভার বাবা-মা তাকে নিয়ে কেন কলকাতা যাওয়ার সিদ্ধান্ত নেন?

গ্রামে নিন্দা ও এক-ঘরে করার হুমকির মধ্যে তাঁরা শুভার বিয়ে দেওয়ার জন্য কলকাতা যাওয়ার সিদ্ধান্ত নেন।

শুভার মা তার প্রতি কেমন মনোভাব পোষণ করেন?

শুভার মা তাকে নিজের ত্রুটি বা কলঙ্ক মনে করেন।

শুভার বাবার মনোভাব মায়ের থেকে কীভাবে আলাদা?

বাণীকণ্ঠ শুভাকে অন্য সন্তানদের চেয়ে বেশি ভালোবাসেন।

‘মূক’ শব্দের অর্থ কী?

মূক শব্দের অর্থ বোবা।

‘নেত্রপল্লব’ শব্দের অর্থ কী?

নেত্রপল্লব অর্থ চোখের পাতা।

গল্পের শেষে শুভা কোথায় বিদায় জানায়?

গল্পের শেষে শুভা নদীতীরে ও গোয়ালের গাভীদের কাছে বিদায় জানায়।

‘শুভা’ গল্পটি কোন সংকলন থেকে নেওয়া?

এই গল্পটি রবীন্দ্রনাথের বিখ্যাত ছোটগল্প সংকলন গল্পগুচ্ছ থেকে সংকলিত।

শুভার নামকরণের পেছনে কোন কারণ কাজ করেছিল?

তার দুই বড়ো বোনের নাম সুকেশিনী ও সুহাসিনী, তাই মিলের অনুরোধে বাবা ছোটো মেয়ের নাম সুভাষিণী রাখেন।

শুভার শারীরিক ত্রুটি কী ছিল?

শুভা জন্ম থেকেই বোবা— কথা বলতে পারত না।

শুভার চোখ কেমন ছিল বলে বর্ণনা করা হয়েছে?

শুভার সুদীর্ঘ পল্লববিশিষ্ট বড়ো বড়ো দুটি কালো চোখ ছিল, যা তার একমাত্র ভাষার মাধ্যম হয়ে উঠেছিল।

সাধারণ বালকবালিকারা শুভার সাথে কেমন আচরণ করত?

বাক্যহীন শুভার মধ্যে বৃহৎ প্রকৃতির মতো একটা বিজন মহত্ত্ব ছিল বলে সাধারণ শিশুরা তাকে ভয় করত এবং তার সাথে খেলত না।

বাণীকণ্ঠের বাড়ি নদীর কোথায় অবস্থিত ছিল?

বাণীকণ্ঠের ঘর নদীর একেবারে উপরেই অবস্থিত ছিল, যা নৌকাবাহী সবার দৃষ্টি আকর্ষণ করত।

অবসর পেলে শুভা কোথায় গিয়ে বসত?

কাজকর্মে অবসর পেলেই শুভা নদীতীরে এসে বসত— প্রকৃতিই যেন তার ভাষার অভাব পূরণ করত।

কঠিন কথা শুনলে শুভা কোথায় ছুটে যেত?

গৃহে কঠিন কথা শুনলে শুভা অসময়ে তার মূক বন্ধু গাভী দুটির কাছে গিয়ে সান্ত্বনা খুঁজত।

গাভী ছাড়া শুভার আর কী কী প্রাণী-বন্ধু ছিল?

গাভী ছাড়াও ছাগল ও বিড়ালশাবক ছিল, যদিও তাদের সাথে সমকক্ষভাবে মৈত্রী ছিল না, তবু তারা আনুগত্য প্রকাশ করত।

বিড়ালশাবকটি শুভার কোলে কী করত?

বিড়ালশাবকটি দিনে-রাতে যখন-তখন শুভার কোল দখল করে সুখনিদ্রার আয়োজন করত।

উন্নত শ্রেণির জীবের মধ্যে শুভার সঙ্গী কে ছিল?

গোঁসাইদের ছোটো ছেলে প্রতাপ ছিল শুভার একমাত্র মানব সঙ্গী।

প্রতাপের চরিত্র সম্পর্কে লেখক কী বলেছেন?

প্রতাপ নিতান্ত অকর্মণ্য লোক ছিল— তার বাবা-মা তাকে দিয়ে সংসারের উন্নতির আশা ছেড়ে দিয়েছিলেন।

প্রতাপের প্রধান শখ কী ছিল?

প্রতাপের প্রধান শখ ছিল ছিপ ফেলে মাছ ধরা, যা দিয়ে সে অনেক সময় সহজে কাটাত।

শুভা প্রতাপের জন্য কী তৈরি করে আনত?

প্রতাপের জন্য একটি করে পান বরাদ্দ ছিল, যা শুভা নিজে সাজিয়ে আনত।

শুভার কল্পনায় সে যদি জলকুমারী হতো, তাহলে সে কোথায় বাস করত?

কল্পনায় শুভা নিজেকে পাতালপুরীর রুপার অট্টালিকায় সোনার পালঙ্কে বসা এক রাজকন্যা হিসেবে দেখত, যে প্রতাপকে আশ্চর্য করে দিতে পারবে।

গ্রামের লোকজন শুভার পরিবার সম্পর্কে কী বলাবলি শুরু করেছিল?

শুভার বিয়ে না হওয়ায় লোকে নিন্দা শুরু করেছিল, এমনকি তাদের এক-ঘরে করার জনরবও শোনা যাচ্ছিল।

শুভার বিয়ের ব্যবস্থার জন্য বাণীকণ্ঠ ও তাঁর স্ত্রী শেষে কী সিদ্ধান্ত নেন?

বিস্তর পরামর্শের পর বাণীকণ্ঠ কিছুদিন বিদেশে গিয়ে ফিরে এসে সিদ্ধান্ত জানান, তাঁরা কলকাতায় যাবেন।

কলকাতায় যাওয়ার উদ্যোগের সময় শুভার মনের অবস্থা কেমন ছিল?

শুভার হৃদয় অশ্রুবাষ্পে ভরে যায়, সে একটা অনির্দিষ্ট আশঙ্কায় নির্বাক জন্তুর মতো বাবা-মায়ের সাথে সাথে ঘুরত, কিন্তু তারা তাকে কিছু বুঝিয়ে বলতেন না।

প্রতাপের এই কথা শুনে শুভার প্রতিক্রিয়া কেমন ছিল?

লেখক তুলনা করেন, মর্মবিদ্ধ হরিণী ব্যাধের দিকে যেমন তাকায় তেমনি করেই শুভা প্রতাপের দিকে চেয়েছিল— যেন বলছে, ‘আমি তোমার কাছে কী দোষ করেছিলাম’।

প্রতাপের কথা শোনার পর শুভা কোথায় গিয়ে কাঁদতে থাকে?

সেদিন গাছতলায় না বসে শুভা বাবা বাণীকণ্ঠের পায়ের কাছে বসে তাঁর মুখের দিকে চেয়ে কাঁদতে থাকে।

মেয়েকে সান্ত্বনা দিতে গিয়ে বাণীকণ্ঠের কী প্রতিক্রিয়া হয়?

মেয়েকে সান্ত্বনা দিতে গিয়ে বাণীকণ্ঠেরও চোখে জল আসে— তাঁর শুষ্ক কপোলে অশ্রু গড়িয়ে পড়ে।

কলকাতা যাওয়ার আগে শুভা তার বাল্য-সখীদের কাছে বিদায় নিতে কোথায় যায়?

যাওয়ার আগে শুভা গোয়ালঘরে গিয়ে তার বাল্য-সখী গাভী দুটির কাছে বিদায় নেয়, নিজ হাতে তাদের খাইয়ে চোখ ভরে তাদের দেখে।

যাত্রার আগের রাতে শুভা কোথায় গিয়ে শুয়ে পড়ে?

শুক্লাদ্বাদশীর রাতে শুভা শয়নগৃহ থেকে বেরিয়ে চিরপরিচিত নদীতটে ঘাসের বিছানায় লুটিয়ে পড়ে।

নদীতটে শুয়ে শুভা ধরণীর কাছে মনে মনে কী প্রার্থনা করে বলে লেখক কল্পনা করেছেন?

শুভা যেন ধরণীকে দুই বাহুতে জড়িয়ে ধরে বলতে চায়, ‘তুমি আমাকে যেতে দিয়ো না মা, তুমিও আমাকে ধরে রাখো’— প্রকৃতির প্রতি তার এই আকুল আকুতিতে গল্পটি শেষ হয়।

‘কন্যাভারগ্রস্ত পিতা-মাতা’ বাক্যাংশটির অর্থ কী?

যে পিতা-মাতার বিবাহযোগ্যা কন্যা সন্তানের বিয়ে এখনো হয়নি, তাদেরই কন্যাভারগ্রস্ত পিতা-মাতা বলা হয়েছে।

শুভার প্রাণীদের সাথে বন্ধুত্ব গভীর হওয়ার মূল কারণ কী বলে মনে হয়?

কথা বলতে না পারলেও প্রাণীদের সাথে ভাষার কোনো বাধা ছিল না— অনুভূতি ও অঙ্গভঙ্গির মাধ্যমেই তাদের মধ্যে গভীর, সহজাত এক বোঝাপড়া গড়ে উঠেছিল।

গল্পের শেষে শুভার নদীতটে গিয়ে ধরণীকে জড়িয়ে ধরার আকুতি থেকে কী বোঝা যায়?

মানুষের জগতে যে ভালোবাসা ও নিরাপত্তা শুভা পায়নি, তা সে প্রকৃতির কাছে খুঁজে পেয়েছিল— তাই বিদায়ের আগে সে প্রকৃতিরই আশ্রয় প্রার্থনা করে, যা গল্পের গভীরতম করুণ রসকে প্রকাশ করে।

মিতুর সাথে ‘শুভা’ গল্পের কোন চরিত্রের মিল সবচেয়ে বেশি?

মিতুও শুভার মতো কথা বলতে পারে না, মানুষের বদলে পোষা প্রাণীর সাথেই তার গভীর বোঝাপড়া— এই মিলটিই শুভার চরিত্রের সাথে সাদৃশ্যপূর্ণ।

উদ্দীপক ও শুভা গল্পের এই সাদৃশ্য থেকে কোন সামাজিক বাস্তবতা ফুটে ওঠে?

উভয় ক্ষেত্রেই দেখা যায়, মানুষের জগৎ থেকে যে গ্রহণযোগ্যতা ভাষাহীন ব্যক্তিরা পায় না, তা তারা নির্বাক প্রাণীদের কাছ থেকে খুঁজে পায়— এটি রবীন্দ্রনাথের গল্পের একটি সর্বজনীন সত্য।

অনুধাবনমূলক প্রশ্ন ও উত্তর (খ)

শুভা গল্পের লেখক ও পটভূমি বিষয়ক অনুধাবনমূলক প্রশ্ন

রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর কীভাবে প্রকৃতি ও মানবচরিত্রকে একসূত্রে গেঁথেছেন এই গল্পে— ব্যাখ্যা করো।

রবীন্দ্রনাথ শুভার অন্তর্জগৎ প্রকাশের জন্য প্রকৃতির উপাদান (নদী, গাভী, পাখি)-কে ব্যবহার করেছেন, যেখানে মানুষের ভাষা ব্যর্থ সেখানে প্রকৃতির নীরব ভাষাই শুভার একমাত্র আশ্রয় হয়ে ওঠে— এই নিপুণ সংযোগই গল্পটিকে গভীরতা দিয়েছে।

শুভা গল্পের চরিত্র ও মূলভাব বিষয়ক অনুধাবনমূলক প্রশ্ন

শুভার ‘ভাষা’ বলতে কী বোঝানো হয়েছে— ব্যাখ্যা করো।

শুভা কথা বলতে পারে না বলে তার বড়ো কালো চোখ দুটিই তার ভাব প্রকাশের একমাত্র মাধ্যম। এই নীরব দৃষ্টির মধ্য দিয়েই সে আনন্দ, দুঃখ, ভালোবাসা সবকিছু প্রকাশ করে, যা সাধারণ ভাষার চেয়েও গভীর বলে গল্পে প্রতিভাত হয়েছে।

শুভা কেন প্রকৃতি ও পশুপাখির সাথে গভীর বন্ধনে জড়িয়ে পড়ে— ব্যাখ্যা করো।

মানুষের সমাজে শুভা তার বাকপ্রতিবন্ধিতার কারণে অবহেলিত ও একাকী; কিন্তু প্রকৃতি ও পশুপাখি তার ভাষাহীনতাকে কোনো বাধা মনে করে না। তাই সে গাভী, ছাগল, বিড়ালশাবক ও নদীর সাথে যে সহজাত বোঝাপড়া খুঁজে পায়, তা মানুষের কাছে পায় না।

শুভার প্রতি তার মায়ের মনোভাব গল্পে কোন সামাজিক বাস্তবতা তুলে ধরে— ব্যাখ্যা করো।

শুভার মা তাকে নিজের কলঙ্ক মনে করেন, যা প্রতিবন্ধী সন্তানের প্রতি তৎকালীন সমাজের নেতিবাচক, অসংবেদনশীল দৃষ্টিভঙ্গির প্রতিফলন। এতে বোঝা যায়, ভিন্নভাবে সক্ষম মানুষদের প্রতি সমাজ কতটা নিষ্ঠুর হতে পারে।

প্রতাপের সাথে শুভার সম্পর্ক কেমন ছিল— ব্যাখ্যা করো।

প্রতাপ ছিল শুভার একমাত্র মানব সঙ্গী, যার সাথে মাছ ধরার সময় নীরব সাহচর্যে শুভা কল্পনাবিলাসে মগ্ন থাকত। যদিও এই সম্পর্ক একতরফা ও গভীরভাবে বোঝাপড়াবিহীন ছিল, তবু এটিই ছিল তার একমাত্র মানবিক নৈকট্য।

গ্রামবাসীর নিন্দা ও এক-ঘরে করার হুমকি শুভার জীবনে কী প্রভাব ফেলে— ব্যাখ্যা করো।

এই সামাজিক চাপের ফলে শুভার বাবা-মা তাকে দ্রুত বিয়ে দেওয়ার জন্য কলকাতা নিয়ে যাওয়ার সিদ্ধান্ত নেন, যা শুভার জীবনে এক আকস্মিক, বেদনাদায়ক পরিবর্তন নিয়ে আসে— তার প্রিয় প্রকৃতি ও পশুপাখি থেকে তাকে বিচ্ছিন্ন হতে হয়।

প্রতাপ শুভাকে বিয়ের খবর কীভাবে জানায়— ব্যাখ্যা করো।

প্রতাপ ঠাট্টাচ্ছলে শুভাকে বিয়ের খবর জানায়, যা তার গুরুত্ব বা সংবেদনশীলতার অভাব প্রকাশ করে। এই ঠাট্টাপূর্ণ আচরণ শুভার মর্মবেদনাকে আরও গভীর করে তোলে, কারণ সে তার একমাত্র সঙ্গীর কাছ থেকেও প্রকৃত সহানুভূতি পায় না।

যাত্রার আগে গাভীদের কাছে শুভার বিদায় দৃশ্যের তাৎপর্য কী— ব্যাখ্যা করো।

এই দৃশ্যে শুভার গভীর আবেগ ও প্রকৃতির প্রতি তার প্রকৃত মমত্ববোধ ফুটে ওঠে। মানুষের জগৎ থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে যাওয়ার আগে সে তার প্রকৃত আপনজন— গাভী ও নদী— এদের কাছেই শেষ আশ্রয় ও সান্ত্বনা খোঁজে।

গল্পের নামকরণ ‘শুভা’ কতটা তাৎপর্যপূর্ণ— ব্যাখ্যা করো।

নাম চরিত্র শুভাকে কেন্দ্র করেই সম্পূর্ণ গল্পের ঘটনাপ্রবাহ আবর্তিত হয়েছে— তার নিঃসঙ্গতা, প্রকৃতির সাথে সম্পর্ক ও পরিণতি সবকিছুই গল্পের মূল বিষয়বস্তু, তাই নামকরণ যথার্থ ও অর্থবহ।

গল্পটি সমাজকে কোন বার্তা দেয়— ব্যাখ্যা করো।

গল্পটি সমাজকে বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন মানুষের প্রতি সংবেদনশীল ও সহানুভূতিশীল হওয়ার বার্তা দেয়। ভাষাহীনতা মানেই অনুভূতিহীনতা নয়— বরং শুভার চরিত্র প্রমাণ করে গভীর আবেগ ভাষা ছাড়াও প্রকাশ পেতে পারে।

শুভার মা তাকে কীভাবে দেখতেন?

মা শুভাকে নিজের গর্ভের কলঙ্ক জ্ঞান করে তার প্রতি বিরক্ত ছিলেন, কারণ মা কন্যাকে নিজের অংশ হিসেবেই দেখেন।

লেখকের মতে, কথায় প্রকাশিত ভাব আর চোখে প্রকাশিত ভাবের মধ্যে মূল পার্থক্য কী?

লেখকের মতে কথা আমরা নিজের চেষ্টায় তর্জমার মতো গড়ে বলি, কিন্তু কালো চোখের ভাব সরাসরি ও অকৃত্রিমভাবে ফুটে ওঠে, কোনো অনুবাদের প্রয়োজন হয় না।

গ্রামের নদীটিকে লেখক কীসের সাথে তুলনা করেছেন?

নদীটিকে গৃহস্থঘরের মেয়ের মতো নিরলসা তন্বী বলে বর্ণনা করা হয়েছে, যে আপন কূল রক্ষা করে কাজ করে যায়।

গাভী দুটি শুভার মনের ভাব মানুষের চেয়ে ভালো বুঝত কেন বলে লেখক মনে করেন?

তাদের কাছে শুভার কথাহীন করুণ সুরের মর্ম ভাষার চেয়ে সহজবোধ্য ছিল, তাই তারা তার আদর, ভর্ৎসনা, মিনতি সবই বুঝতে পারত।

মাছ ধরার সময় প্রতাপ শুভাকে কেন মূল্য দিত?

মাছ ধরার সময় বাক্যহীন সঙ্গীই সর্বাপেক্ষা শ্রেষ্ঠ, এই কারণেই প্রতাপ শুভার মর্যাদা বুঝত ও তার সঙ্গ পছন্দ করত।

শুভা কেন এই ধরনের কল্পনা করত?

শুভা মনে মনে চাইত প্রতাপের কোনো কাজে লাগতে, প্রমাণ করতে যে সেও কম প্রয়োজনীয় নয়— এই আকাঙ্ক্ষা থেকেই তার এই কল্পনা।

বাণীকণ্ঠের পরিবারের কেন শত্রু ছিল বলে লেখক উল্লেখ করেছেন?

বাণীকণ্ঠের সচ্ছল অবস্থা, দুই বেলাই মাছভাত খাওয়া— এই স্বাচ্ছল্যের কারণেই তার শত্রু ছিল, যারা সুযোগ পেয়ে নিন্দা করত।

প্রতাপের সাথে শুভার সম্পর্ককে ‘ঠিক কিরূপ সম্পর্ক তা নির্ণয় করা কঠিন’ বলার মধ্য দিয়ে লেখক কী ইঙ্গিত দিতে চেয়েছেন?

শুভা ভাষাহীন আর প্রতাপ ভাষাবিশিষ্ট বলে উভয়ের মধ্যে সমভাষা ছিল না— এই অসম যোগাযোগের কারণে তাদের সম্পর্ক ছিল জটিল ও অনির্বচনীয়, নিছক বন্ধুত্ব বা প্রেম কোনোটাতেই পুরোপুরি সীমাবদ্ধ নয়।

উপরের জ্ঞানমূলক ও অনুধাবনমূলক প্রশ্ন-উত্তরগুলো ভালোভাবে অনুশীলন করলে শুভা গল্প থেকে সৃজনশীল প্রশ্নের ক ও খ অংশে ভালো নম্বর পাওয়া সহজ হবে।

আরও পড়ুন

SSC বাংলা ১ম পত্র-এর সব পোস্ট

মন্তব্য করুন

Your email address will not be published. Required fields are marked *

সাহায্য লাগবে?
BCS Journey Support
● Online
×
💬Messenger ✈Telegram
BCS JOURNEY
BCS Journey
চ্যাট শুরু করুন ➜