আম-আঁটির ভেঁপু গল্পের MCQ | SSC বাংলা ১ম পত্রের “আম-আঁটির ভেঁপু” গল্প থেকে বোর্ড পরীক্ষায় নিয়মিত প্রশ্ন আসে। এই পোস্টে গল্পের সারকথা ও ৫৫টি বহুনির্বাচনি প্রশ্ন (MCQ) উত্তর ও ব্যাখ্যাসহ দেওয়া হলো। জ্ঞানমূলক ও অনুধাবনমূলক প্রশ্নের জন্য আম-আঁটির ভেঁপু গল্পের নোট দেখুন।
আম-আঁটির ভেঁপু গল্পের সারকথা ও গুরুত্বপূর্ণ তথ্য
আম-আঁটির ভেঁপু গল্পের লেখক কে?
বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায় (জন্ম ১৮৯৪, মুরারিপুর, ২৪ পরগনা; মৃত্যু ১৯৫০)। প্রধান রচনা: পথের পাঁচালী, অপরাজিত, আরণ্যক, ইছামতি (উপন্যাস); মেঘমল্লার, মৌরীফুল, যাত্রাবদল (গল্পগ্রন্থ)।
আম-আঁটির ভেঁপু গল্পের উৎস
পথের পাঁচালী উপন্যাসের অংশবিশেষ।
আম-আঁটির ভেঁপু গল্পের মূল চরিত্র কারা?
– **অপু** — হরিহর-সর্বজয়ার ছোট ছেলে, সহজ-সরল, দিদির ন্যাওটা।
– **দুর্গা** — অপুর দিদি (বয়স ১০-১১), দুরন্ত কিন্তু স্নেহময়ী, লুকিয়ে ফল সংগ্রহ করে।
– **সর্বজয়া** — মা, একা হাতে সংসার সামলানো, দারিদ্র্যে জর্জরিত অথচ ধৈর্যশীল পল্লি-জননী।
– **হরিহর** — বাবা, অন্নদা রায়ের বাড়িতে গোমস্তা, আত্মমর্যাদাসম্পন্ন দরিদ্র ব্রাহ্মণ।
আম-আঁটির ভেঁপু গল্পের কাহিনি সংক্ষেপে
- সকালবেলা অপু রোয়াকে বসে তার টিনের বাক্সের জিনিস (কাঠের ঘোড়া, ভেঁপু-বাঁশি, পিস্তল, কড়ি, নাটা ফল, খাপরার কুচি) নিয়ে খেলছিল।
- দুর্গা লুকিয়ে পটলদের বাগান থেকে কচি আম এনে অপুর সাহায্যে তেল-নুন দিয়ে জারিয়ে খায়।
- মা সর্বজয়া ফিরে আম খাওয়ার কথা জানতে চাইলে দুর্গা এড়িয়ে যায়; স্বর্ণ গোয়ালিনীর আগমনে প্রসঙ্গ চাপা পড়ে।
- দুপুরে হরিহর কাজ থেকে ফিরে জানান, দশঘরার এক মাতবর তাঁকে গ্রামে বসবাস করে মন্ত্র দেওয়ার প্রস্তাব দিয়েছে; তিনি তাড়াহুড়ো না করে ভেবে দেখার কথা বলেন।
- সর্বজয়া সংসারের অভাব-অনটন, ধারের বোঝা ও প্রতিবেশীর তাগাদার কথা জানান।
- গল্প শেষ হয় দুর্গার একা উঠানে বসে ফলের বিচি গোনা ও অপুর জন্য ভাগ রাখার দৃশ্য দিয়ে।
আম-আঁটির ভেঁপু গল্পের মূল ভাব কী?
দারিদ্র্যের মধ্যেও গ্রামবাংলার শিশুদের সরল-নির্মল আনন্দময় শৈশব, প্রকৃতির সাথে নিবিড় সম্পর্ক, এবং ভাইবোনের নিঃস্বার্থ স্নেহ — এই রচনার মূল সুর। সর্বজয়া ও হরিহরের চরিত্রে ফুটে উঠেছে দারিদ্র্যের মধ্যেও আত্মমর্যাদা রক্ষার প্রয়াস।
আম-আঁটির ভেঁপু গল্পের গুরুত্বপূর্ণ শব্দার্থ
রোয়াক (বারান্দা), নাটাফল (করঞ্জা ফল), আমের কুসি (কচি আম), পিজরাপোলের আসামি (অবহেলিত), কুটোগাছ (তৃণ), কালমেঘ (তিক্ত ঔষধি গাছ), দাওয়া (বারান্দা), জারা (কুচি করে মাখানো)।
লেখক পরিচিতি বিষয়ক MCQ
১। বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায় কত খ্রিষ্টাব্দে জন্মগ্রহণ করেন?
- ক. ১৮৯৪
- খ. ১৮৯৩
- গ. ১৮৯৫
- ঘ. ১৮৯৬
উত্তর: ক। ১৮৯৪ খ্রিষ্টাব্দে তিনি জন্মগ্রহণ করেন — একটি মৌলিক জীবনীগত তথ্য যা প্রায় প্রতিটি পরীক্ষায় আসে।
২। তাঁর জন্মস্থান কোথায়?
- ক. ব্যারাকপুর
- খ. ২৪ পরগনার মুরারিপুর গ্রাম
- গ. বনগ্রাম
- ঘ. হুগলি
উত্তর: খ। তিনি ২৪ পরগনা জেলার মুরারিপুর গ্রামে জন্মেছিলেন। হুগলি ও ব্যারাকপুর ছিল তাঁর কর্মস্থল, জন্মস্থান নয়।
৩। তিনি কোন স্কুল থেকে ম্যাট্রিক পাশ করেন?
- ক. বনগ্রাম স্কুল
- খ. দেবীগ্রাম স্কুল
- গ. দশগ্রাম স্কুল
- ঘ. পঞ্চগ্রাম স্কুল
উত্তর: ক। স্থানীয় বনগ্রাম স্কুল থেকে ১৯১৪ খ্রিষ্টাব্দে তিনি ম্যাট্রিক পাশ করেন।
৪। আইএ ও বিএ ডিগ্রি তিনি কোন কলেজ থেকে লাভ করেন?
- ক. কলকাতা রিপন কলেজ
- খ. সিটি কলেজ
- গ. স্কটিশ চার্চ কলেজ
- ঘ. প্রেসিডেন্সি কলেজ
উত্তর: ক। কলকাতা রিপন কলেজ থেকে তিনি আইএ ও বিএ ডিগ্রি লাভ করেন।
৫। নিচের কোনটি তাঁর উপন্যাস নয়?
- ক. মেঘমল্লার
- খ. আরণ্যক
- গ. ইছামতি
- ঘ. পথের পাঁচালী
উত্তর: ক। মেঘমল্লার তাঁর একটি গল্পগ্রন্থ, উপন্যাস নয়; বাকিগুলো তাঁর বিখ্যাত উপন্যাস।
৬। তিনি কত সালে মৃত্যুবরণ করেন?
- ক. ১৯৪৮
- খ. ১৯৪৯
- গ. ১৯৫০
- ঘ. ১৯৫১
উত্তর: গ। ১৯৫০ খ্রিষ্টাব্দের ১লা সেপ্টেম্বর তিনি মৃত্যুবরণ করেন।
৭। ‘আম-আঁটির ভেঁপু’ রচনাটি কোন উপন্যাসের অংশ?
- ক. ইছামতি
- খ. অপরাজিত
- গ. পথের পাঁচালী
- ঘ. আরণ্যক
উত্তর: গ। এটি পথের পাঁচালী উপন্যাসেরই একটি অংশ, যেখান থেকে অপু-দুর্গার এই শৈশব-দৃশ্য নেওয়া হয়েছে।
৮। রচনার মূল উপজীব্য বিষয় কী?
- ক. ধর্মীয় অনুষ্ঠান
- খ. রাজনৈতিক সংগ্রাম
- গ. নাগরিক জীবনের সংকট
- ঘ. দুই ভাই-বোনের গ্রামীণ শৈশব
উত্তর: ঘ। গ্রামীণ প্রকৃতির কোলে দুই ভাইবোনের নির্মল আনন্দময় শৈশবই এই রচনার প্রাণকেন্দ্র।
৯। অপু-দুর্গার পরিবার অর্থনৈতিকভাবে কেমন ছিল?
- ক. মধ্যবিত্ত
- খ. জমিদার পরিবার
- গ. হতদরিদ্র
- ঘ. অত্যন্ত সচ্ছল
উত্তর: গ। তারা হতদরিদ্র পরিবারের সন্তান, যদিও এই দারিদ্র্য তাদের শৈশবের আনন্দকে ম্লান করতে পারেনি।
১০। গল্পের শুরুতে অপু কোথায় বসে খেলা করছিল?
- ক. কাঁঠালতলায়
- খ. দাওয়ায়
- গ. রোয়াকে
- ঘ. উঠানে
উত্তর: গ। গল্প শুরু হয় অপু রোয়াকে বসে তার টিনের বাক্সের জিনিসপত্র নিয়ে খেলা করার দৃশ্য দিয়ে।
১১। অপুর টিনের বাক্সে কোনটি ছিল না?
- ক. একটা পিস্তল
- খ. টিনের ভেঁপু-বাঁশি
- গ. একটা পুরনো বই
- ঘ. রং-ওঠা কাঠের ঘোড়া
উত্তর: গ। বাক্সে ছিল কাঠের ঘোড়া, ভেঁপু-বাঁশি, কড়ি, পিস্তল, নাটা ফল ও খাপরার কুচি — কোনো বই ছিল না।
১২। অপুর ভেঁপু-বাঁশিটির দাম কত ছিল?
- ক. চার পয়সা
- খ. তিন পয়সা
- গ. দুই পয়সা
- ঘ. এক পয়সা
উত্তর: ক। টেক্সটে বলা আছে, “চার পয়সা দামের একটা টোল-খাওয়া টিনের ভেঁপু-বাঁশি”।
১৩। বাক্সের পিস্তলটির দাম কত ছিল?
- ক. চার পয়সা
- খ. তিন পয়সা
- গ. দুই পয়সা
- ঘ. এক পয়সা
উত্তর: গ। এটি ছিল “দু’পয়সা দামের একটা পিস্তল”।
১৪। কড়িগুলো অপু কোথা থেকে সংগ্রহ করেছিল?
- ক. প্রতিবেশীর কাছ থেকে
- খ. বাজার থেকে কিনে
- গ. দুর্গার কাছ থেকে
- ঘ. লক্ষ্মীপূজার কড়ির চুপড়ি থেকে
উত্তর: ঘ। অপু মায়ের অজ্ঞাতসারে লক্ষ্মীপূজার কড়ির চুপড়ি থেকে কড়িগুলো খুলে নিয়েছিল, আর ধরা পড়ার ভয়ে লুকিয়ে রাখত।
আম-আঁটির ভেঁপু গল্পের বহুনির্বাচনি প্রশ্ন ও উত্তর (MCQ)
**১৫। অপুর বাক্সের জিনিসপত্র নিয়ে নিচের তথ্যগুলো লক্ষ করো —**
i. বাক্সের ডালাটি ভাঙা ছিল
ii. বাক্সে চার পয়সা দামের ভেঁপু-বাঁশি ছিল
iii. বাক্সের সব জিনিস অপু নিজে কিনেছিল
নিচের কোনটি সঠিক?
ক. i ও ii খ. i ও iii গ. ii ও iii ঘ. i, ii ও iii
**উত্তর: ক।** বাক্সের ডালা সত্যিই ভাঙা ছিল এবং ভেঁপু-বাঁশির দাম চার পয়সা — দুটোই সঠিক। কিন্তু জিনিসগুলোর অনেকটাই (যেমন কড়ি) অপু চুরি করে নিয়েছিল, কিনেনি — তাই তৃতীয় তথ্যটি ভুল।
১৬। নাটা ফলগুলো কে কুড়িয়ে এনেছিল?
- ক. দুর্গা
- খ. অপু
- গ. হরিহর
- ঘ. সর্বজয়া
উত্তর: ক। দেখতে ভালো লাগায় দুর্গা নাটা ফলগুলো কুড়িয়ে এনেছিল, তার কিছু অপুকে দিয়েছিল আর কিছু নিজের পুতুলের বাক্সে রেখেছিল।
১৭। খাপরার কুচিগুলো অপু কী খেলায় ব্যবহার করত?
- ক. গঙ্গা-যমুনা
- খ. গোল্লাছুট
- গ. দাড়িয়াবান্ধা
- ঘ. এক্কা-দোক্কা
উত্তর: ক। গঙ্গা-যমুনা খেলায় খাপরাগুলোর লক্ষ্য অব্যর্থ হয় বলে বিশ্বাস থাকায় অপু সেগুলো যত্ন করে বাক্সে রাখত।
১৮। দুর্গার বয়স কত ছিল?
- ক. চৌদ্দ-পনেরো বছর
- খ. দশ-এগারো বছর
- গ. বারো-তেরো বছর
- ঘ. আট-নয় বছর
উত্তর: খ। টেক্সটে স্পষ্ট বলা হয়েছে, “দুর্গার বয়স দশ-এগারো বৎসর হইল”।
১৯। দুর্গার রং অপুর তুলনায় কেমন ছিল?
- ক. অপুর মতোই ফর্সা
- খ. খুব কালো
- গ. অপুর চেয়ে বেশি ফর্সা
- ঘ. একটু চাপা রঙের ছিল
উত্তর: ঘ। দুর্গার “রং অপুর মতো অতটা ফর্সা নয়, একটু চাপা”, তবে মুখের গড়ন ও চোখ দুজনেরই প্রায় একরকম বর্ণনা করা হয়েছে।
২০। দুর্গা কী দিয়ে কচি আমগুলো নিয়ে এসেছিল?
- ক. ঝুড়িতে
- খ. কাপড়ে মুড়ে
- গ. আঁচলে বেঁধে
- ঘ. নারিকেলের মালায়
উত্তর: ঘ। দুর্গার হাতে ছিল একটা নারিকেলের মালা, তাতে করেই সে কচি আমগুলো এনেছিল।
২১। দুর্গা কোথা থেকে কচি আম পেয়েছিল বলে জানিয়েছিল?
- ক. নিজেদের বাগান থেকে
- খ. পটলদের বাগান থেকে
- গ. বাজার থেকে কিনে
- ঘ. প্রতিবেশীর দেওয়া
উত্তর: খ। দুর্গা বলে, “পটলদের বাগানে সিঁদুরকৌটোর তলায় পড়ে ছিল”।
২২। আমের কুশি জারাতে দুর্গা অপুর কাছে কী চেয়েছিল?
- ক. নুন ও ঝাল
- খ. চিনি ও লবণ
- গ. তেল ও ঝাল
- ঘ. তেল ও নুন
উত্তর: ঘ। দুর্গা অপুকে বলে, “একটু তেল আর একটু নুন নিয়ে আসতে পারিস? আমের কুশি জারাবো”।
২৩। অপু তেলের ভাঁড় ছুঁতে দ্বিধা করছিল কেন?
- ক. মা মারবে এই ভয়ে
- খ. তেলের গন্ধ পছন্দ না হওয়ায়
- গ. দুর্গার নিষেধ থাকায়
- ঘ. তেল ফুরিয়ে যাবে বলে
উত্তর: ক। অপু বলে, “তেলের ভাঁড় ছুঁলে মা মারবে যে?”— মায়ের শাসনের ভয়েই সে ইতস্তত করছিল।
২৪। আম মাখানোর পর দুর্গা অপুর কাছে আর কী আনতে চেয়েছিল?
- ক. একটা লেবু
- খ. চিনি
- গ. একটা লঙ্কা
- ঘ. একটু জল
উত্তর: গ। দুর্গা বলে, “একটা লঙ্কা আনতে পারিস? আর একখানা দেবো তা হলে”— কিন্তু অপু তক্তার ওপর রাখা লঙ্কার নাগাল পায়নি বলে জানায়।
২৫। আম খাওয়ার পর দুর্গা মালাটি কোথায় ফেলে দিয়েছিল?
- ক. ভিটার জঙ্গলে
- খ. রান্নাঘরে
- গ. পুকুরে
- ঘ. উঠানে
উত্তর: ক। দুর্গা খালি মালাটি টান মেরে ভেরেণ্ডাকচার বেড়া পার করিয়ে নীলমণি রায়ের ভিটার দিকে জঙ্গলের মধ্যে ছুঁড়ে দেয়, যাতে চিহ্ন না থাকে।
**২৬। দুর্গা সম্পর্কে নিচের তথ্যগুলো লক্ষ করো —**
i. তার বয়স দশ-এগারো বছর ছিল
ii. তার গায়ের রং অপুর চেয়ে বেশি ফর্সা ছিল
iii. তার হাতে কাচের চুড়ি ছিল
নিচের কোনটি সঠিক?
ক. i ও ii খ. i ও iii গ. ii ও iii ঘ. i, ii ও iii
**উত্তর: খ।** বয়স ও কাচের চুড়ির তথ্য দুটি ঠিক, কিন্তু দুর্গার রং আসলে অপুর মতো অতটা ফর্সা ছিল না, একটু চাপা ছিল — তাই দ্বিতীয় তথ্যটি ভুল।
২৭। প্রতিবেশী নীলমণি রায়ের সাথে হরিহরের সম্পর্ক কী ছিল?
- ক. জ্ঞাতি-ভ্রাতা
- খ. বন্ধু
- গ. প্রতিবেশী মাত্র
- ঘ. শ্বশুরবাড়ির আত্মীয়
উত্তর: ক। নীলমণি রায় হরিহরের জ্ঞাতি-ভ্রাতা ছিলেন, যিনি গত বছর মারা গেছেন।
২৮। নীলমণি রায়ের মৃত্যুর পর তাঁর স্ত্রী কোথায় বাস করছিলেন?
- ক. নিজ মাতুলালয়ে
- খ. প্রতিবেশীর বাড়িতে
- গ. নিজ শ্বশুরালয়ে
- ঘ. নিজ পিত্রালয়ে
উত্তর: ঘ। স্বামীর মৃত্যুর পর তিনি পুত্রকন্যা নিয়ে নিজ পিত্রালয়ে গিয়ে বাস করছিলেন, ফলে পাশের ভিটা জঙ্গলে ঢেকে গিয়েছিল।
২৯। হরিহরের বাড়ি থেকে সবচেয়ে কাছের প্রতিবেশীর বাড়ি কতটা দূরে ছিল?
- ক. পাঁচ মিনিটের পথ
- খ. দশ মিনিটের পথ
- গ. এক মিনিটের পথ
- ঘ. আধা ঘণ্টার পথ
উত্তর: ক। পাঁচ মিনিটের পথ গেলে তবে ভুবন মুখুয্যের বাড়ি পাওয়া যায়— তাদের বাড়ি ছিল বেশ নির্জন এলাকায়।
৩০। সর্বজয়া সকাল থেকে কী কাজে ব্যস্ত ছিলেন?
- ক. জল আনায়
- খ. রান্না করায়
- গ. সেলাই করায়
- ঘ. ক্ষার কাচায়
উত্তর: ঘ। সর্বজয়া বলেন, “সকাল থেকে ক্ষার কেচে গা-গতর ব্যথা হয়ে গেল”— এতে তাঁর একার হাতে সংসার সামলানোর কষ্ট ফুটে ওঠে।
৩১। দুর্গা আম কোথায় পেয়েছে জিজ্ঞেস করায় সে মাকে কী বলেছিল?
- ক. অস্বীকার করেছিল
- খ. সত্যি কথা বলেছিল
- গ. কেঁদে ফেলেছিল
- ঘ. চুপ করে ছিল
উত্তর: ক। দুর্গা মাকে বিভ্রান্ত করতে বলে, “এই তো এখন কাঁঠালতলায় দাঁড়িয়ে”— যদিও ঘটনাটি স্বর্ণ গোয়ালিনীর আগমনে চাপা পড়ে যায়।
৩২। দুর্গার দুধ দোয়ানো দেখতে যাওয়ার সময় অপুকে সে কী করেছিল?
- ক. একটা কিল বসিয়েছিল
- খ. গল্প বলেছিল
- গ. আদর করেছিল
- ঘ. চকলেট দিয়েছিল
উত্তর: ক। বাইরের উঠানে পা দিতেই দুর্গা অপুর পিঠে এক কিল বসিয়ে বলে, “লক্ষ্মীছাড়া বাঁদর”— আম খেয়ে দাঁত টকে গেছে বলাতেই তার এই রাগ।
৩৩। হরিহর কার বাটিতে গোমস্তার কাজ করতেন?
- ক. ভুবন মুখুয্যের
- খ. নীলমণি রায়ের
- গ. অন্নদা রায়ের
- ঘ. মজুমদার মহাশয়ের
উত্তর: গ। হরিহর গ্রামের অন্নদা রায়ের বাটিতে গোমস্তার কাজ করতেন।
৩৪। হরিহর দশঘরায় কী কাজে গিয়েছিলেন?
- ক. চাকরি খুঁজতে
- খ. বেড়াতে
- গ. পূজা করতে
- ঘ. তাগাদার জন্য
উত্তর: ঘ। হরিহর দশঘরায় তাগাদার জন্য গিয়েছিলেন, যেখানে এক মাতবরের সাথে তাঁর দেখা হয়।
৩৫। দশঘরার মাতবর লোকটি হরিহরের বংশকে কী বলে সম্বোধন করেছিল?
- ক. পুরোহিত দাদা
- খ. দাদামশাই
- গ. গুরুতুল্য লোক
- ঘ. ঠাকুরমশাই
উত্তর: গ। লোকটি বলে, “আপনারা আমাদের গুরুতুল্য লোক”— অর্থাৎ তাদের পরিবারকে ব্রাহ্মণ হিসেবে শ্রদ্ধার চোখে দেখা হতো।
৩৬। মাতবর লোকেরা হরিহরকে কী প্রস্তাব দিয়েছিল?
- ক. গ্রামে গিয়ে মন্ত্র দিতে
- খ. তাদের মেয়ের বিয়ে দিতে
- গ. শিক্ষকতা করতে
- ঘ. ব্যবসায় শরিক হতে
উত্তর: ক। তারা জমি দিয়ে হরিহরকে গ্রামে ব্রাহ্মণ হিসেবে বসবাস করানোর ও মন্ত্র দেওয়ার প্রস্তাব দেয়, কারণ গাঁয়ে কোনো ব্রাহ্মণ ছিল না।
**৩৭। মাতবরের প্রস্তাব নিয়ে নিচের তথ্যগুলো লক্ষ করো —**
i. মাতবর হরিহরকে জমি দিয়ে গ্রামে বসতে বলে
ii. মাতবরের জাত ছিল সদ্গোপ
iii. মাতবরের পাঁচ-ছয়টা গোলা ছিল
নিচের কোনটি সঠিক?
ক. i ও ii খ. i ও iii গ. ii ও iii ঘ. i, ii ও iii
**উত্তর: ঘ।** তিনটি তথ্যই টেক্সটে সরাসরি বলা আছে — জমি দিয়ে বসতে বলা, জাতে সদ্গোপ হওয়া, এবং পাঁচ-ছয়টা গোলা থাকা, সবই মাতবরের বিবরণে উল্লেখিত।
৩৮। হরিহর প্রস্তাবে সাথে সাথে রাজি হননি কেন?
- ক. সর্বজয়ার আপত্তির কারণে
- খ. তাড়াহুড়ো করলে মর্যাদা কমে যাবে ভেবে
- গ. পাত্র পছন্দ না হওয়ায়
- ঘ. তাঁর আগ্রহ ছিল না বলে
উত্তর: খ। হরিহর বলেন, “তখুনি কি রাজি হতে আছে? ছোটলোক ভাববে”— তাড়াহুড়ো করে রাজি হলে সামাজিক মর্যাদা কমে যাওয়ার আশঙ্কা তাঁর মধ্যে কাজ করছিল।
৩৯। রায়বাড়ি থেকে হরিহর মাসে কত টাকা বেতন পেতেন?
- ক. ছয় টাকা
- খ. নয় টাকা
- গ. সাত টাকা
- ঘ. আট টাকা
উত্তর: ঘ। সর্বজয়া বলেন, “ঐ রায়বাড়ির আটটা টাকা ভরসা”— তাও দুই-তিন মাস অন্তর পাওয়া যেত।
৪০। সেজ ঠাকুরুন সর্বজয়াকে ধার দেওয়া প্রসঙ্গে কী শর্ত জুড়ে দিয়েছিলেন?
- ক. সুদ দিতে হবে
- খ. বন্ধক ছাড়া ধার দেবেন না
- গ. কাউকে জানানো যাবে না
- ঘ. দ্রুত শোধ করতে হবে
উত্তর: খ। সেজ ঠাকুরুন বলেন, “আমি বন্দক ছাড়া টাকা ধার দিই নে”— তাও সর্বজয়ার অনুরোধে ব্যতিক্রম করেছিলেন বলে জানান।
**৪১। সর্বজয়ার সাংসারিক দুরবস্থা নিয়ে নিচের তথ্যগুলো লক্ষ করো —**
i. রায়বাড়ি থেকে প্রতি মাসে নিয়মিত বেতন পাওয়া যেত
ii. সেজ ঠাকুরুন বন্ধক ছাড়া ধার দিতে চান না
iii. রাধা বোষ্টমের বউ পাওনা টাকার জন্য তাগাদা শুরু করেছে
নিচের কোনটি সঠিক?
ক. i ও ii খ. i ও iii গ. ii ও iii ঘ. i, ii ও iii
**উত্তর: গ।** রায়বাড়ির আট টাকা আসলে দুই-তিন মাস অন্তর পাওয়া যেত, নিয়মিত মাসে মাসে নয় — তাই প্রথম তথ্যটি ভুল; বাকি দুটি ঠিক।
৪২। উঠানে ফিরে দুর্গা প্রথমে কোন দিকে গিয়েছিল?
- ক. গোয়ালঘরে
- খ. কুয়োতলায়
- গ. বাহির বাটীর রোয়াকে
- ঘ. রান্নাঘরে
উত্তর: গ। দুর্গা সতর্কতার সাথে বাহিরের দুয়ারের আড়াল থেকে উঁকি দিয়ে পাঁচিলের পাশ দিয়ে বাহির বাটীর রোয়াকে ওঠে, যাতে বাবা-মায়ের চোখ এড়িয়ে ঘরে ঢুকতে পারে।
৪৩। দুর্গা কেন চুপি চুপি ঘরে ঢুকতে চেয়েছিল?
- ক. খাবার আনতে
- খ. খেলনা লুকাতে
- গ. ঘুমাতে যাওয়ার জন্য
- ঘ. জামা বদলাতে
উত্তর: গ। দুয়ার খোলা পেলে ও মা ঘুমিয়ে থাকলে সে চুপি চুপি ঢুকে একটু শুয়ে নিতে চেয়েছিল, কিন্তু বাবা-মায়ের সামনে দিয়ে ঢুকতে সাহস পায়নি।
৪৪। উঠানে বসে দুর্গা কী গুনছিল?
- ক. কাঁচের চুড়ি
- খ. টাকা
- গ. শুকনো রড়া ফলের বিচি
- ঘ. কড়ি
উত্তর: গ। আঁচলের খুঁট খুলে দুর্গা শুকনো রড়া ফলের বিচি বের করে গুনতে শুরু করে, যার সংখ্যা ছাব্বিশটা হয়েছিল।
৪৫। রড়া ফলের বিচিগুলো নিয়ে দুর্গা মনে মনে কী পরিকল্পনা করছিল?
- ক. প্রতিবেশীকে দেবে
- খ. বিক্রি করবে
- গ. অপুকে ও বাক্সে কিছু দেবে
- ঘ. মাটিতে পুঁতে রাখবে
উত্তর: গ। দুর্গা মনে মনে বলে, “অপুকে এইগুলো দেবো — আর এইগুলো পুতুলের বাক্সে রেখে দেবো”— ভাইবোনের সরল স্নেহের একটি চিত্র এখানে ফুটে ওঠে।
৪৬। ‘রোয়াক’ শব্দের অর্থ কী?
- ক. ঘরের সামনের খোলা বারান্দা
- খ. রান্নাঘর
- গ. আঙিনা
- ঘ. শোবার ঘর
উত্তর: ক। রোয়াক অর্থ ঘরের সামনের খোলা জায়গা বা বারান্দা।
৪৭। ‘নাটাফল’ বলতে কোন ফলকে বোঝানো হয়েছে?
- ক. আমলকি ফল
- খ. করঞ্জা ফল
- গ. বরই ফল
- ঘ. তেঁতুল ফল
উত্তর: খ। নাটাফল হলো করঞ্জা ফল, যা দেখতে সুন্দর বলে দুর্গা কুড়িয়ে আনত।
৪৮। ‘আমের কুসি’ বলতে কী বোঝায়?
- ক. আমের পাতা
- খ. আমের আঁটি
- গ. পাকা আম
- ঘ. কচি আম
উত্তর: ঘ। আমের কুসি অর্থ কচি আম, যা জারিয়ে (কুচি কুচি করে মাখিয়ে) খাওয়া হতো।
৪৯। ‘পিজরাপোলের আসামি’ বাগধারাটি দিয়ে কী বোঝানো হয়েছে?
- ক. রাজবন্দি
- খ. অবহেলিত বন্দি কেউ
- গ. স্বাধীনভাবে ঘোরাফেরা করা কেউ
- ঘ. বিজয়ী কেউ
উত্তর: খ। এই বাগধারাটি খাঁচায় পড়ে থাকা অবহেলিত আসামির মতো অর্থে ব্যবহৃত হয়েছে— এখানে অবহেলিত পড়ে-থাকা কাঠের ঘোড়াকে বোঝাতে।
৫০। ‘কুটোগাছ’ শব্দের অর্থ কী?
- ক. তৃণ
- খ. লতা
- গ. ছোট গাছ
- ঘ. দুর্বা
উত্তর: ক। কুটোগাছ অর্থ তৃণ— সর্বজয়া অভিযোগ করেন যে বাড়ির চারপাশের তৃণও পরিষ্কার করা হয়নি।
৫১। ‘কালমেঘ’ কী ধরনের গাছ?
- ক. ফুলের গাছ
- খ. মিষ্টি স্বাদের গাছ
- গ. তিক্ত স্বাদের ঔষধি গাছ
- ঘ. ফলের গাছ
উত্তর: গ। কালমেঘ যকৃতের রোগে উপকারী একপ্রকার তিক্ত স্বাদের গাছ, যা হরিহরদের ভাঙা রোয়াকের ফাটলে জন্মেছিল— বাড়িটির জীর্ণ অবস্থার একটি ইঙ্গিত।
**৫২। শব্দার্থ নিয়ে নিচের তথ্যগুলো লক্ষ করো —**
i. রোয়াক অর্থ বারান্দা
ii. নাটাফল অর্থ করঞ্জা ফল
iii. কুটোগাছ অর্থ ফুলগাছ
নিচের কোনটি সঠিক?
ক. i ও ii খ. i ও iii গ. ii ও iii ঘ. i, ii ও iii
**উত্তর: ক।** প্রথম দুটি অর্থ ঠিক আছে, কিন্তু কুটোগাছ আসলে তৃণ বোঝায়, ফুলগাছ নয় — তাই তৃতীয় তথ্যটি ভুল।
৫৩। দুর্গা প্রথমেই অপুকে জিজ্ঞেস করেছিল, “মা ঘাট থেকে আসে নি তো?”— এই প্রশ্নটি কী প্রকাশ করে?
- ক. দুর্গার নিষ্পাপ কৌতূহল
- খ. মাকে দেখতে না পাওয়ার উদ্বেগ
- গ. মায়ের প্রতি অভিমান
- ঘ. চুরি করে আম আনার কারণে ধরা পড়ার ভয়
উত্তর: ঘ। যেহেতু দুর্গা অনুমতি ছাড়া বাগান থেকে আম কুড়িয়ে এনেছিল, মা ফিরে এলে ধরা পড়ে যাওয়ার আশঙ্কাতেই তার সুর সতর্ক ও নিচু ছিল।
৫৪। সর্বজয়ার ক্ষার কাচা ও একা সংসার সামলানোর বর্ণনা থেকে তাঁর জীবনের কোন দিকটি ফুটে ওঠে?
- ক. তাঁর সামাজিক প্রতিপত্তি
- খ. তাঁর বিলাসী জীবনযাপন
- গ. একা হাতে সংসার সামলানোর কষ্ট
- ঘ. তাঁর অলসতা
উত্তর: গ। সর্বজয়ার একার হাতে ঘরকন্না, ঋণ, ছেলেমেয়ে সামলানোর বর্ণনায় একজন দরিদ্র গৃহিণীর নিরন্তর সংগ্রাম ফুটে উঠেছে, যা তাকে পল্লি-মায়ের চিরন্তন রূপ করে তুলেছে।
৫৫। হরিহর মাতবরদের প্রস্তাবে তাৎক্ষণিক রাজি না হয়ে “পরামর্শ করে দেখি” বলাটা তাঁর চরিত্রের কোন দিক প্রকাশ করে?
- ক. আত্মমর্যাদাবোধ
- খ. তাঁর অলসতা
- গ. তাঁর ভীরুতা
- ঘ. তাঁর অর্থলোভ
উত্তর: ক। দারিদ্র্যের মধ্যেও হরিহর তাড়াহুড়ো করে সস্তা প্রতিক্রিয়া দেখাতে চাননি, বরং নিজের সামাজিক মর্যাদা বজায় রেখে ধীরস্থিরভাবে সিদ্ধান্ত নেওয়ার প্রবণতা তাঁর মধ্যে দেখা যায়।
৫৬। “আম খেয়ে দাঁত টকে” বলে অপুর অভিযোগ করাতে দুর্গার রাগের প্রতিক্রিয়া থেকে ভাইবোনের সম্পর্কের কোন দিকটি বোঝা যায়?
- ক. অপুর প্রতি দুর্গার উদাসীনতা
- খ. দুর্গার নিষ্ঠুরতা
- গ. আপাত রাগ-অভিমানের আড়ালে গভীর স্নেহ
- ঘ. তাদের মধ্যে শত্রুতা
উত্তর: গ। দুর্গা রাগ দেখিয়ে “লক্ষ্মীছাড়া বাঁদর” বললেও সাথে সাথেই আবার ভালো আম এনে দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দেয়— এই খুনসুটির আড়ালেই তাদের গভীর ভাইবোনের বন্ধন প্রকাশ পায়।
**৫৭। রচনার ভাব নিয়ে নিচের তথ্যগুলো লক্ষ করো —**
i. রচনায় মূলত শহুরে জীবনের সংকট চিত্রিত হয়েছে
ii. রচনায় দারিদ্র্যের মাঝেও শৈশবের আনন্দ চিত্রিত হয়েছে
iii. সর্বজয়া চরিত্রে পল্লি-মায়ের প্রতিচ্ছবি ফুটে উঠেছে
নিচের কোনটি সঠিক?
ক. i ও ii খ. i ও iii গ. ii ও iii ঘ. i, ii ও iii
**উত্তর: গ।** রচনাটি আসলে গ্রামীণ জীবন নিয়ে, শহুরে জীবন নিয়ে নয় — তাই প্রথম তথ্যটি ভুল; বাকি দুটি রচনার মূল ভাবের সাথে সংগতিপূর্ণ।
রাহেলা তার ছোট ভাই সোহেলের জন্য প্রতিবেশীর বাগান থেকে লুকিয়ে পেয়ারা এনে খাওয়ায়, আবার শাসনও করে। মায়ের চোখ এড়িয়ে চলা তার নিত্যকার অভ্যাস, কিন্তু ভাইয়ের প্রতি তার স্নেহের কমতি নেই।
৫৮। রাহেলার চরিত্রের সাথে গল্পের কোন চরিত্রের সাদৃশ্য পাওয়া যায়?
- ক. সর্বজয়া
- খ. দুর্গা
- গ. সেজ ঠাকুরুন
- ঘ. স্বর্ণ গোয়ালিনী
উত্তর: খ। দুর্গাও লুকিয়ে ফল সংগ্রহ করে অপুকে খাওয়ায়, আবার তাকে শাসনও করে— রাহেলার আচরণ দুর্গার চরিত্রেরই প্রতিফলন।
৫৯। উদ্দীপক ও গল্পের এই সাদৃশ্যপূর্ণ আচরণের মূল কারণ কী বলে মনে করা যায়?
- ক. মায়ের প্রতি অবাধ্যতা
- খ. প্রতিবেশীর প্রতি ঈর্ষা
- গ. আর্থিক প্রয়োজন
- ঘ. ভাইবোনের চিরন্তন স্নেহ-মমতা
উত্তর: ঘ। উভয় ক্ষেত্রেই লুকিয়ে খাবার জোগাড় করা নিছক দুষ্টুমি নয়, বরং ভাইবোনের মধ্যকার সহজাত স্নেহ-মমতারই বহিঃপ্রকাশ।
করিম মিয়া দিনমজুরের কাজ করেন, সংসারে অভাব লেগেই থাকে। প্রতিবেশী এক মাতবর তাকে সম্মান দেখিয়ে গ্রামে জায়গা-জমি দিয়ে বসবাসের প্রস্তাব দেন, কিন্তু করিম মিয়া তাড়াহুড়ো করে রাজি না হয়ে বলেন, “একটু ভেবে জানাব।”
৬০। করিম মিয়ার প্রতিক্রিয়ার সাথে গল্পের কোন চরিত্রের মিল রয়েছে?
- ক. সেজ ঠাকুরুন
- খ. অপু
- গ. হরিহর
- ঘ. দুর্গা
উত্তর: গ। হরিহরও মাতবরদের বসবাসের প্রস্তাবে তাড়াহুড়ো না করে বিবেচনা করে সিদ্ধান্ত নেওয়ার কথা বলেছিলেন— করিম মিয়ার আচরণ ঠিক তারই প্রতিরূপ।
৬১। এ ধরনের সিদ্ধান্তহীনতার পেছনে সাধারণত কোন মানসিকতা কাজ করে?
- ক. লোভ
- খ. সিদ্ধান্তহীনতা ও ভীরুতা
- গ. আত্মমর্যাদা রক্ষার প্রবণতা
- ঘ. প্রতিবেশীর প্রতি অবিশ্বাস
উত্তর: গ। অভাবী হলেও তাড়াহুড়ো করে রাজি হলে সস্তা বলে বিবেচিত হওয়ার আশঙ্কা থাকে— তাই আত্মমর্যাদা রক্ষার তাগিদেই এই সতর্কতা।
