সেইদিন এই মাঠ কবিতার MCQ | SSC বাংলা ১ম পত্রের “সেইদিন এই মাঠ” কবিতা থেকে বোর্ড পরীক্ষায় নিয়মিত প্রশ্ন আসে। এই পোস্টে কবিতার সারকথা ও ৪৯টি বহুনির্বাচনি প্রশ্ন (MCQ) উত্তর ও ব্যাখ্যাসহ দেওয়া হলো। জ্ঞানমূলক ও অনুধাবনমূলক প্রশ্নের জন্য সেইদিন এই মাঠ কবিতার নোট দেখুন।
সেইদিন এই মাঠ কবিতার সারকথা ও গুরুত্বপূর্ণ তথ্য
সেইদিন এই মাঠ কবিতার কবি কে?
জীবনানন্দ দাশ (জন্ম ১৮৯৯, বরিশাল; মৃত্যু ২২ অক্টোবর ১৯৫৪, কলকাতা, ট্রাম-দুর্ঘটনায় আহত হয়ে)। আধুনিক জীবনচেতনার কবি, বাংলার প্রকৃতির রূপবৈচিত্র্যে নিমগ্নচিত্ত। প্রধান কাব্যগ্রন্থ: ঝরা পালক, ধূসর পাণ্ডুলিপি, বনলতা সেন, রূপসী বাংলা।
সেইদিন এই মাঠ কবিতার উৎস
রূপসী বাংলা কাব্যগ্রন্থ থেকে সংকলিত।
কবিতার মূল বিষয়বস্তু
- কবি জানেন তাঁর মৃত্যুর পরও এই মাঠ, নদী, প্রকৃতি স্তব্ধ হবে না— স্বপ্ন দেখা অব্যাহত থাকবে।
- চালতাফুল শিশিরে ভিজবে, লক্ষ্মীপেঁচা তার সঙ্গিনীর জন্য গান গাইবে— প্রকৃতির নিত্যকার সৌন্দর্য অব্যাহত থাকার আশ্বাস।
- সন্ধ্যার শান্ত পরিবেশ, ভিজে গন্ধ, খেয়ানৌকার চরে ভেড়া— গ্রামবাংলার নিত্যদিনের ছবি, যা চিরকাল বেঁচে থাকবে।
- মানুষের গড়া মহান সভ্যতা (এশিরিয়া, ব্যাবিলন) কালের নিয়মে ধ্বংস হয়ে গেলেও প্রকৃতি তার রূপ-রস-গন্ধ নিয়ে চিরকাল প্রাণময় থাকে।
সেইদিন এই মাঠ কবিতার মূল ভাব কী?
ব্যক্তিমানুষের মৃত্যু অনিবার্য, কিন্তু প্রকৃতির সৌন্দর্য ও জীবনের ধারাবাহিকতার কোনো মৃত্যু নেই— এই গভীর জীবনদর্শন ও জীবনতৃষ্ণাই কবিতার কেন্দ্রীয় ভাব। মানুষের সভ্যতা ক্ষণস্থায়ী হলেও প্রকৃতি চিরন্তন।
সেইদিন এই মাঠ কবিতার গুরুত্বপূর্ণ শব্দার্থ
স্তব্ধ (নীরব/গতিহীন), চর (নদীর বালুচর), খেয়ানৌকা (পারাপারের নৌকা), লক্ষ্মীপেঁচা (শুভ পেঁচাজাতীয় পাখি), এশিরিয়া/ব্যাবিলন (প্রাচীন বিলুপ্ত সভ্যতা)।
কবি পরিচিতি বিষয়ক MCQ
১। জীবনানন্দ দাশ কত খ্রিষ্টাব্দে জন্মগ্রহণ করেন?
- ক. ১৮৯৮
- খ. ১৯০০
- গ. ১৮৯৯
- ঘ. ১৮৯৭
উত্তর: গ। তিনি ১৮৯৯ খ্রিষ্টাব্দে জন্মগ্রহণ করেন।
২। জীবনানন্দ দাশের জন্মস্থান কোথায়?
- ক. ঢাকা
- খ. বরিশাল শহর
- গ. কলকাতা
- ঘ. ফরিদপুর
উত্তর: খ। বরিশাল শহরে তিনি জন্মগ্রহণ করেন।
৩। জীবনানন্দ দাশের মাতার নাম কী?
- ক. কুসুমকুমারী দাশ
- খ. সুধাময়ী দাশ
- গ. বিভাবতী দাশ
- ঘ. সরোজিনী দাশ
উত্তর: ক। তাঁর মাতার নাম কুসুমকুমারী দাশ, যিনি নিজেও একজন স্বভাবকবি ছিলেন।
৪। জীবনানন্দ দাশ কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে কোন বিষয়ে এমএ ডিগ্রি লাভ করেন?
- ক. ইতিহাস
- খ. ইংরেজি সাহিত্য
- গ. বাংলা সাহিত্য
- ঘ. দর্শন
উত্তর: খ। কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে ইংরেজি সাহিত্যে এমএ ডিগ্রি লাভের পর তিনি অধ্যাপনা শুরু করেন।
৫। জীবনানন্দ দাশ প্রধানত কোন ধরনের কবি হিসেবে পরিচিত?
- ক. ধর্মীয় কবি
- খ. বীররসের কবি
- গ. আধুনিক জীবনচেতনার কবি
- ঘ. রোমান্টিক কবি
উত্তর: গ। তিনি প্রধানত আধুনিক জীবনচেতনার কবি হিসেবে পরিচিত।
৬। জীবনানন্দ দাশের দৃষ্টিতে বাংলাদেশ কেমন?
- ক. এক অনন্য রূপসী
- খ. দুর্গম একটি অঞ্চল
- গ. সাধারণ একটি ভূখণ্ড
- ঘ. অপরিচিত একটি স্থান
উত্তর: ক। কবির দৃষ্টিতে বাংলাদেশ এক অনন্য রূপসী, যার গাছপালা-লতাগুল্ম-ফুল-পাখি তাঁর আজন্ম প্রিয়।
৭। নিচের কোনটি জীবনানন্দ দাশের কাব্যগ্রন্থ নয়?
- ক. রূপসী বাংলা
- খ. অগ্নিবীণা
- গ. বনলতা সেন
- ঘ. ঝরা পালক
উত্তর: খ। অগ্নিবীণা কাজী নজরুল ইসলামের কাব্যগ্রন্থ; বাকি তিনটি জীবনানন্দ দাশের কাব্যগ্রন্থ।
৮। জীবনানন্দ দাশ কীভাবে মৃত্যুবরণ করেন?
- ক. দুর্ঘটনাবশত পানিতে ডুবে
- খ. বার্ধক্যজনিত কারণে
- গ. দীর্ঘ অসুস্থতায়
- ঘ. ট্রাম-দুর্ঘটনায় আহত হয়ে
উত্তর: ঘ। ১৯৫৪ খ্রিষ্টাব্দের ১৪ই অক্টোবর কলকাতায় এক ট্রাম-দুর্ঘটনায় আহত হয়ে তিনি ২২শে অক্টোবর মৃত্যুবরণ করেন।
সেইদিন এই মাঠ কবিতার বহুনির্বাচনি প্রশ্ন ও উত্তর (MCQ)
৯। ‘সেইদিন এই মাঠ’ কবিতাটি কোন কাব্যগ্রন্থ থেকে সংকলিত?
- ক. ধূসর পাণ্ডুলিপি
- খ. বনলতা সেন
- গ. মাল্যবান
- ঘ. রূপসী বাংলা
উত্তর: ঘ। কবিতাটি কবির রূপসী বাংলা কাব্য থেকে সংকলিত হয়েছে।
১০। কবিতার মূল বিষয় কী?
- ক. ধর্মীয় উপদেশ
- খ. রাজনৈতিক আন্দোলন
- গ. যুদ্ধের বর্ণনা
- ঘ. ব্যক্তিমৃত্যু ও প্রকৃতির সৌন্দর্যের সহাবস্থান
উত্তর: ঘ। কবিতায় ব্যক্তিমানুষের মৃত্যুর অনিবার্যতা এবং প্রকৃতির চিরকালীন, অক্ষয় সৌন্দর্যের মধ্যকার গভীর সম্পর্ক তুলে ধরা হয়েছে।
১১। কবিতার প্রথম পঙক্তিতে কবি কী জানেন বলে বলেন?
- ক. সেদিন এই মাঠ স্তব্ধ হবে না
- খ. সেদিন মাঠ পরিবর্তিত হবে
- গ. সেদিন মাঠ থাকবে না
- ঘ. সেদিন মাঠ স্তব্ধ হবে
উত্তর: ক। কবি বলেন, তিনি জানেন সেদিন (তিনি চলে যাওয়ার পরও) এই মাঠ স্তব্ধ হবে না— অর্থাৎ প্রকৃতি তার প্রাণবন্ততা হারাবে না।
১২। নদী নক্ষত্রের তলে সেদিনও কী করবে বলে কবি বলেন?
- ক. স্বপ্ন দেখবে
- খ. শুকিয়ে যাবে
- গ. দিক পরিবর্তন করবে
- ঘ. স্তব্ধ হয়ে যাবে
উত্তর: ক। কবি বলেন, নক্ষত্রের তলে এই নদীও সেদিন স্বপ্ন দেখবে— প্রকৃতির চিরন্তন জীবন্ততার প্রতীক।
১৩। কবিতার পুনরাবৃত্ত পঙক্তি (ধুয়া/রিফ্রেইন) কোনটি?
- ক. আমি চলে যাব বলে
- খ. সেইদিন এই মাঠ স্তব্ধ হবে নাকো জানি
- গ. চারিদিকে শান্ত বাতি
- ঘ. সোনার স্বপ্নের সাধ পৃথিবীতে কবে আর ঝরে!
উত্তর: ঘ। ‘সোনার স্বপ্নের সাধ পৃথিবীতে কবে আর ঝরে!’ পঙক্তিটি কবিতায় দুইবার পুনরাবৃত্ত হয়েছে, একটি ধুয়ার মতো।
১৪। ‘সোনার স্বপ্নের সাধ পৃথিবীতে কবে আর ঝরে!’ পঙক্তিটির ভাবার্থ কী?
- ক. স্বপ্ন শুধু সোনার জন্য দেখা হয়
- খ. স্বপ্ন দেখা পাপ
- গ. স্বপ্ন দেখা বন্ধ হয়ে যাবে
- ঘ. পৃথিবীতে সুন্দর স্বপ্নের আকাঙ্ক্ষা কখনোই শেষ হবে না
উত্তর: ঘ। এটি একটি অলংকারিক প্রশ্ন, যার অন্তর্নিহিত অর্থ— পৃথিবীতে সুন্দর স্বপ্নের আকাঙ্ক্ষা কখনো শেষ হয় না, তা চিরন্তন।
১৫। কবি নিজের মৃত্যুর পরও কী অব্যাহত থাকবে বলে প্রশ্ন তোলেন?
- ক. অর্থনৈতিক অবস্থা
- খ. রাজনৈতিক পরিস্থিতি
- গ. চালতাফুলের শিশিরে ভেজা ও লক্ষ্মীপেঁচার গান
- ঘ. মানুষের কর্মকাণ্ড
উত্তর: গ। কবি প্রশ্ন করেন, তিনি চলে গেলেও চালতাফুল কি শিশিরের জলে ভিজবে না, লক্ষ্মীপেঁচা কি তার লক্ষ্মীটির জন্য গান গাইবে না— এই প্রশ্নগুলোর অন্তর্নিহিত উত্তর হলো, প্রকৃতি অবশ্যই চলতে থাকবে।
১৬। ‘চালতাফুল’ শিশিরের জলে ভেজার বর্ণনা কী প্রকাশ করে?
- ক. প্রকৃতির চিরন্তন, রহস্যময় সৌন্দর্যের প্রতীক
- খ. ঋতু পরিবর্তনের লক্ষণ
- গ. কৃষিকাজের ইঙ্গিত
- ঘ. একটি সাধারণ প্রাকৃতিক ঘটনা মাত্র
উত্তর: ক। টীকা অনুযায়ী শিশিরের জলে চালতা ফুল ভেজার মধ্য দিয়ে যে রহস্যময় সৌন্দর্য সৃষ্টি হয়, যুগ-যুগান্তে তার কোনো শেষ নেই— এটি প্রকৃতির শাশ্বত সৌন্দর্যের প্রতীক।
১৭। ‘লক্ষ্মীপেঁচা’ কার জন্য গান গায় বলে কবি উল্লেখ করেন?
- ক. চাঁদের জন্য
- খ. সূর্যের জন্য
- গ. তার লক্ষ্মীটির (সঙ্গিনী/প্রিয়জন) জন্য
- ঘ. কবির জন্য
উত্তর: গ। কবি বলেন লক্ষ্মীপেঁচা তার লক্ষ্মীটির (সঙ্গিনী) তরে গান গায়— প্রকৃতির মধ্যে থাকা মমত্ব ও স্নেহের এক অনুপম চিত্র।
১৮। কবিতায় ‘চারিদিকে শান্ত বাতি’র বর্ণনার সাথে আর কী উল্লেখ আছে?
- ক. ভিজে গন্ধ ও মৃদু কলরব
- খ. ঝড় ও বৃষ্টি
- গ. তীব্র শব্দ ও কোলাহল
- ঘ. অন্ধকার ও নীরবতা
উত্তর: ক। কবি বলেন, চারিদিকে শান্ত বাতি, ভিজে গন্ধ, মৃদু কলরব— একটি প্রশান্ত, স্নিগ্ধ সান্ধ্য পরিবেশের বর্ণনা।
১৯। খেয়া নৌকাগুলো কোথায় এসে লেগেছে বলে কবি বর্ণনা করেন?
- ক. চরের খুব কাছে
- খ. পাহাড়ের পাদদেশে
- গ. নদীর মাঝখানে
- ঘ. দূরের সমুদ্রে
উত্তর: ক। খেয়া নৌকাগুলো চরের খুব কাছে এসে লেগেছে— গ্রামবাংলার নিত্যদিনের চিত্র।
২০। পৃথিবীর এইসব গল্প সম্পর্কে কবি কী বলেন?
- ক. এগুলো চিরকাল বেঁচে থাকবে
- খ. এগুলো গুরুত্বহীন
- গ. এগুলো পরিবর্তিত হবে
- ঘ. এগুলো ভুলে যাওয়া হবে
উত্তর: ক। কবি বলেন, পৃথিবীর এইসব গল্প (প্রকৃতির নিত্যকার ছোট ছোট ঘটনা) চিরকাল বেঁচে থাকবে।
২১। কবিতায় কোন দুটি প্রাচীন সভ্যতার উল্লেখ আছে?
- ক. মিশর ও গ্রিস
- খ. এশিরিয়া ও ব্যাবিলন
- গ. রোম ও পারস্য
- ঘ. চীন ও ভারত
উত্তর: খ। কবিতায় এশিরিয়া ও ব্যাবিলন সভ্যতার উল্লেখ আছে।
২২। এশিরিয়া ও ব্যাবিলন সভ্যতার বর্তমান অবস্থা কী বলে কবি বর্ণনা করেন?
- ক. পুনর্নির্মিত হয়েছে
- খ. এশিরিয়া ধুলো, ব্যাবিলন ছাই হয়ে গেছে
- গ. অক্ষত আছে
- ঘ. এখনও সমৃদ্ধ
উত্তর: খ। কবি বলেন, এশিরিয়া আজ ধুলো, ব্যাবিলন ছাই হয়ে আছে— মানুষের তৈরি মহান সভ্যতাও কালের নিয়মে ধ্বংস হয়ে যায়।
২৩। মানুষের সভ্যতার ধ্বংসের বিপরীতে কবি কী তুলে ধরেন?
- ক. ধ্বংসের অনিবার্যতা
- খ. প্রকৃতি তার আপন রূপ-রস-গন্ধ নিয়ে চিরকাল প্রাণময় থাকে
- গ. আরেকটি নতুন সভ্যতার উত্থান
- ঘ. মানুষের অসহায়ত্ব
উত্তর: খ। টীকা অনুযায়ী মানুষের গড়া সভ্যতা ধ্বংস হলেও প্রকৃতি তার আপন রূপ-রস-গন্ধ নিয়ে চিরকাল প্রাণময় থাকে— এই বৈপরীত্যই কবিতার মূল ভাবনা।
**২৪। কবিতার সামগ্রিক দর্শন অনুযায়ী মৃত্যু নিয়ে নিচের তথ্যগুলো লক্ষ করো —**
i. ব্যক্তিমানুষের মৃত্যু আছে
ii. প্রকৃতির সৌন্দর্যেরও মৃত্যু আছে
iii. মানুষের স্বপ্নেরও কোনো মৃত্যু নেই
নিচের কোনটি সঠিক?
ক. i ও ii খ. i ও iii গ. ii ও iii ঘ. i, ii ও iii
**উত্তর: খ।** পাঠ-পরিচিতি অনুযায়ী মানুষের মৃত্যু থাকলেও এ জগতে সৌন্দর্যের কোনো মৃত্যু নেই— তাই দ্বিতীয় তথ্যটি ভুল; প্রথম ও তৃতীয় তথ্য সঠিক।
২৫। পাঠ-পরিচিতি অনুযায়ী সভ্যতা সম্পর্কে কী বলা হয়েছে?
- ক. সভ্যতা একদিকে ক্ষয়িষ্ণু, অন্যদিকে চলে তার বিনির্মাণ
- খ. সভ্যতা চিরস্থায়ী
- গ. সভ্যতা সবসময় উন্নতি করে
- ঘ. সভ্যতার কোনো পরিবর্তন হয় না
উত্তর: ক। পাঠ-পরিচিতি অনুযায়ী সভ্যতা একদিকে যেমন ক্ষয়িষ্ণু, অন্যদিকে চলে তার বিনির্মাণ (পুনর্গঠন)।
২৬। মরণশীল ব্যক্তিমানুষের বিপরীতে প্রকৃতিতে কী থাকে বলে পাঠ-পরিচিতিতে বলা হয়েছে?
- ক. চিরকালের ব্যস্ততা
- খ. ধ্বংস
- গ. স্থবিরতা
- ঘ. নীরবতা
উত্তর: ক। মরণশীল ব্যক্তিমানুষ মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়লেও প্রকৃতিতে থাকে চিরকালের ব্যস্ততা।
২৭। পাঠ-পরিচিতি অনুযায়ী পৃথিবীর বহমানতা কী করতে পারে না?
- ক. সভ্যতা গড়তে
- খ. প্রকৃতিকে রক্ষা করতে
- গ. মানুষের মৃত্যু রহিত করতে
- ঘ. মানুষকে সাহায্য করতে
উত্তর: গ। পাঠ-পরিচিতি অনুযায়ী পৃথিবীর বহমানতা মানুষের সাধারণ মৃত্যু রহিত করতে পারে না— মৃত্যু অনিবার্য, তবু জগতের সৌন্দর্য অব্যাহত থাকে।
২৮। ‘স্তব্ধ’ শব্দের অর্থ কী?
- ক. নীরব, নিস্তব্ধ, গতিহীন
- খ. আনন্দিত
- গ. সচল
- ঘ. উচ্ছল
উত্তর: ক। স্তব্ধ অর্থ নীরব, নিস্তব্ধ বা গতিহীন অবস্থা।
২৯। ‘চর’ শব্দের অর্থ কী?
- ক. একটি নদীর নাম
- খ. নদীর মাঝে জেগে ওঠা বালুময় ভূমি
- গ. একটি গ্রামের নাম
- ঘ. একটি সমুদ্রবন্দর
উত্তর: খ। চর অর্থ নদীর মাঝে জেগে ওঠা বালুময় ভূমি।
৩০। ‘খেয়ানৌকা’ শব্দের অর্থ কী?
- ক. মাছ ধরার নৌকা
- খ. পণ্যবাহী নৌকা
- গ. যুদ্ধজাহাজ
- ঘ. যাত্রী পারাপারের জন্য ব্যবহৃত নৌকা
উত্তর: ঘ। খেয়ানৌকা অর্থ নদী বা খাল পারাপারের জন্য ব্যবহৃত যাত্রীবাহী নৌকা।
৩১। ‘লক্ষ্মীপেঁচা’ কী?
- ক. একটি মাছের নাম
- খ. একটি পেঁচাজাতীয় পাখি, শুভ বলে বিবেচিত
- গ. একটি ফুলের নাম
- ঘ. একটি প্রজাপতির নাম
উত্তর: খ। লক্ষ্মীপেঁচা একটি পেঁচাজাতীয় পাখি, যা বাংলা সংস্কৃতিতে দেবী লক্ষ্মীর বাহন হিসেবে শুভ বলে বিবেচিত।
৩২। কবিতায় জীবনানন্দ দাশের প্রকৃতিপ্রেমের কোন বৈশিষ্ট্য ফুটে উঠেছে?
- ক. প্রকৃতিকে অবহেলা করা
- খ. প্রকৃতির ক্ষুদ্র উপাদান নিয়ে গভীর মমত্ব ও পর্যবেক্ষণ
- গ. প্রকৃতিকে ভয়ের বস্তু হিসেবে দেখা
- ঘ. প্রকৃতিকে শুধু অর্থনৈতিক সম্পদ হিসেবে দেখা
উত্তর: খ। কবি চালতাফুল, লক্ষ্মীপেঁচা, খেয়ানৌকার মতো প্রকৃতির প্রতিটি ক্ষুদ্র উপাদান নিয়ে গভীর মমত্ব ও সূক্ষ্ম পর্যবেক্ষণ প্রদর্শন করেছেন— তাঁর প্রকৃতিপ্রেমের এই বৈশিষ্ট্যই কবিতায় প্রকাশ পেয়েছে।
৩৩। কবিতায় সভ্যতার ধ্বংস ও প্রকৃতির স্থায়িত্বের তুলনা করার মধ্য দিয়ে কবি কোন গভীর দর্শন তুলে ধরেন?
- ক. মানবসৃষ্ট সভ্যতা ক্ষণস্থায়ী, প্রকৃতি চিরন্তন
- খ. সভ্যতা গড়ার কোনো প্রয়োজন নেই
- গ. প্রকৃতি মানুষের চেয়ে শক্তিশালী শত্রু
- ঘ. মানুষের সব প্রচেষ্টাই ব্যর্থ
উত্তর: ক। মানবসৃষ্ট বস্তুগত সভ্যতা (এশিরিয়া, ব্যাবিলন) কালের প্রবাহে ধ্বংস হয়ে গেলেও প্রকৃতির সৌন্দর্য ও জীবনের ধারাবাহিকতা চিরন্তন— এই গভীর জীবনদর্শনই কবিতার কেন্দ্রীয় বার্তা।
৩৪। ‘আমি চলে যাব বলে’ পঙক্তিটি কবিতায় কোন ব্যক্তিগত উপলব্ধির ইঙ্গিত দেয়?
- ক. কবির অবসর গ্রহণের ইঙ্গিত
- খ. কবির দেশত্যাগের পরিকল্পনা
- গ. কবির নিজের মরণশীলতা সম্পর্কে সচেতনতা
- ঘ. কবির ভ্রমণের পরিকল্পনা
উত্তর: গ। এই পঙক্তিতে কবি নিজের মরণশীলতা তথা মৃত্যুর অনিবার্যতা সম্পর্কে গভীর সচেতনতা প্রকাশ করেছেন, যদিও তা কোনো হতাশা নয়, বরং প্রকৃতির স্থায়িত্বের প্রতি এক গভীর তৃপ্তির স্বীকৃতি।
৩৫। কবিতাটি সামগ্রিকভাবে কোন সুর ধারণ করে— আশাবাদী নাকি হতাশাবাদী?
- ক. সম্পূর্ণ নিরাসক্ত
- খ. রাগ ও ক্ষোভের সুর
- গ. সম্পূর্ণ হতাশাবাদী
- ঘ. গভীর জীবনতৃষ্ণা ও আশাবাদী তৃপ্তির সুর
উত্তর: ঘ। পাঠ-পরিচিতি অনুযায়ী কবিতাটি গভীর জীবনতৃষ্ণা নিয়ে রচিত— নিজের মৃত্যুর অনিবার্যতা মেনে নিয়েও প্রকৃতির চিরকালীন সৌন্দর্যে কবির যে গভীর তৃপ্তি ও আস্থা, তা কবিতাকে হতাশাবাদী নয় বরং এক গভীর জীবনমুখী তাৎপর্য দিয়েছে।
মিতালি জানেন তার আয়ু ফুরিয়ে আসছে, কিন্তু তিনি জানালা দিয়ে বাগানের গাছপালা, পাখির ডাক আর সূর্যাস্তের রং দেখে বলেন, ‘আমি চলে গেলেও এই সৌন্দর্য থেকে যাবে, আর কেউ না কেউ এই একই দৃশ্য দেখে মুগ্ধ হবে।’
৩৬। মিতালির উপলব্ধির সাথে ‘সেইদিন এই মাঠ’ কবিতার কোন ভাবের মিল সবচেয়ে বেশি?
- ক. মৃত্যুর অনিবার্যতা মেনে নিয়েও প্রকৃতির সৌন্দর্যে আস্থা
- খ. হতাশা ও ভয়
- গ. মৃত্যুভীতি
- ঘ. প্রকৃতির প্রতি উদাসীনতা
উত্তর: ক। কবি যেমন নিজের মৃত্যুর পরও চালতাফুল-লক্ষ্মীপেঁচার অস্তিত্ব অব্যাহত থাকবে বলে বিশ্বাস করেন, মিতালিও তেমনি নিজের মৃত্যু মেনে নিয়েও প্রকৃতির চিরস্থায়ী সৌন্দর্যে গভীর আস্থা রাখেন— উভয়ের মধ্যেই এই সুন্দর মিল লক্ষণীয়।
৩৭। এই ধরনের উপলব্ধি মানুষকে মৃত্যুর মুখোমুখি হতে কীভাবে সাহায্য করে?
- ক. এটি মৃত্যুকে অস্বীকার করতে শেখায়
- খ. এটি ভয় বাড়িয়ে দেয়
- গ. সীমাবদ্ধতা মেনে নিয়েও প্রকৃতির ধারাবাহিকতায় প্রশান্তি খুঁজে পাওয়া যায়
- ঘ. এটি কোনো সাহায্য করে না
উত্তর: গ। ব্যক্তিগত অস্তিত্বের সীমাবদ্ধতা স্বীকার করেও প্রকৃতি ও জীবনের চিরন্তন ধারাবাহিকতায় নিজের অংশগ্রহণের উপলব্ধি মানুষকে মৃত্যুর মুখোমুখি হতে এক ধরনের গভীর প্রশান্তি ও অর্থবোধ এনে দিতে পারে।
৩৮। কবিতাটি কোন কাব্যরীতিতে রচিত বলে মনে হয়?
- ক. পয়ার ছন্দের মধ্যযুগীয় কবিতা
- খ. মুক্তক গদ্যছন্দের আধুনিক কবিতা
- গ. মহাকাব্যিক ছন্দ
- ঘ. কঠোর অন্তমিলযুক্ত সনেট
উত্তর: খ। কবিতাটি মুক্তক, আধুনিক গদ্যছন্দে রচিত, যেখানে পঙক্তির দৈর্ঘ্য অসম এবং ভাবের স্বাভাবিক প্রবাহ অনুসরণ করা হয়েছে— জীবনানন্দের বৈশিষ্ট্যপূর্ণ আধুনিক কাব্যশৈলীর পরিচায়ক।
৩৯। কবিতার দুইবার ব্যবহৃত ধুয়া-পঙক্তিটির কাব্যিক কার্যকারিতা কী?
- ক. এটি নিছক পুনরাবৃত্তি, কোনো অর্থ বহন করে না
- খ. এটি মূল আবেগ ও প্রশ্ন পাঠকের মনে গেঁথে দেয়
- গ. এটি একটি প্রার্থনা মাত্র
- ঘ. এটি একটি ছন্দের ভুল
উত্তর: খ। পুনরাবৃত্ত পঙক্তিটি কবিতার কেন্দ্রীয় জিজ্ঞাসা ও আবেগকে জোরালোভাবে পাঠকের মনে প্রতিধ্বনিত করে, কবিতাকে একটি সংগীতময় কাঠামো দেয়।
৪০। কবিতায় ‘নক্ষত্রের তলে’ বাক্যাংশটি কী পরিবেশ তৈরি করে?
- ক. দিনের আলোকিত পরিবেশ
- খ. ঝড়ের পরিবেশ
- গ. শীতের সকালের পরিবেশ
- ঘ. রাতের নির্জন, বিস্তৃত মহাজাগতিক পরিবেশ
উত্তর: ঘ। ‘নক্ষত্রের তলে’ বাক্যাংশটি রাতের এক নির্জন, বিস্তৃত মহাজাগতিক পরিবেশ তৈরি করে, যেখানে নদী ও প্রকৃতি স্বপ্ন দেখে চলে— মহাকালের সাথে ক্ষুদ্র মানবজীবনের তুলনা এখানে ইঙ্গিত পাওয়া যায়।
৪১। কবিতায় ‘নরম গন্ধের ঢেউ’ বাক্যাংশটি কোন ইন্দ্রিয়ের অভিজ্ঞতা প্রকাশ করে?
- ক. ঘ্রাণ
- খ. দৃষ্টি
- গ. স্পর্শ
- ঘ. শ্রবণ
উত্তর: ক। ‘নরম গন্ধের ঢেউ’ ঘ্রাণেন্দ্রিয়ের অভিজ্ঞতা প্রকাশ করে— চালতাফুলের কোমল সুবাস তরঙ্গের মতো ছড়িয়ে পড়ার কাব্যিক বর্ণনা।
৪২। কবিতায় দৃশ্য, ঘ্রাণ ও শব্দের সমন্বয়ে কী তৈরি হয়েছে?
- ক. প্রকৃতির একটি সামগ্রিক, ইন্দ্রিয়গ্রাহ্য ও জীবন্ত চিত্র
- খ. একটি নিরস তালিকা
- গ. একটি বৈজ্ঞানিক বিবরণ
- ঘ. একটি বিভ্রান্তিকর বর্ণনা
উত্তর: ক। দৃশ্য (শান্ত বাতি, খেয়ানৌকা), ঘ্রাণ (ভিজে গন্ধ, চালতাফুলের সুবাস) ও শব্দ (মৃদু কলরব, পেঁচার গান)-এর সমন্বয়ে কবি প্রকৃতির এক সামগ্রিক, জীবন্ত ও ইন্দ্রিয়গ্রাহ্য চিত্র নির্মাণ করেছেন।
৪৩। কবিতায় ‘বাংলার প্রকৃতি’ ও ‘বিশ্ব-ইতিহাস’ (এশিরিয়া-ব্যাবিলন)-এর মধ্যে যে বৈপরীত্য দেখানো হয়েছে, তার কাব্যিক উদ্দেশ্য কী?
- ক. স্থানীয় প্রকৃতির নিরবচ্ছিন্নতাকে মহাসভ্যতার ধ্বংসের বিপরীতে স্থাপন করা
- খ. ইতিহাসকে গুরুত্বহীন প্রমাণ করা
- গ. বাংলার প্রকৃতিকে ছোট করে দেখানো
- ঘ. বাংলার ইতিহাস বর্ণনা করা
উত্তর: ক। ক্ষুদ্র, স্থানীয় প্রকৃতির (চালতাফুল, পেঁচা, খেয়ানৌকা) নিরবচ্ছিন্ন স্থায়িত্বকে বিশাল বিশ্ব-সভ্যতার (এশিরিয়া, ব্যাবিলন) ধ্বংসের বিপরীতে স্থাপন করে কবি প্রকৃতির শাশ্বত মূল্যকেই আরও জোরালোভাবে প্রতিষ্ঠিত করেছেন।
৪৪। কবিতাটি পাঠককে জীবন সম্পর্কে কোন গভীরতর প্রশ্নে ভাবিয়ে তোলে?
- ক. ব্যক্তিসত্তার সীমাবদ্ধতা ও প্রকৃতির অসীমতার প্রশ্নে
- খ. অর্থ উপার্জনের প্রশ্নে
- গ. সামাজিক মর্যাদার প্রশ্নে
- ঘ. রাজনৈতিক ক্ষমতার প্রশ্নে
উত্তর: ক। কবিতাটি পাঠককে ভাবায়— ব্যক্তিগত অস্তিত্বের সীমাবদ্ধতা ও ক্ষণস্থায়িত্বের মুখোমুখি হয়েও কীভাবে প্রকৃতির অসীম, চিরন্তন ধারাবাহিকতার মধ্যে অর্থ ও সান্ত্বনা খুঁজে পাওয়া যায়।
৪৫। কবিতায় ব্যবহৃত চিত্রকল্পগুলো (চালতাফুল, লক্ষ্মীপেঁচা, খেয়ানৌকা) কোন ধরনের জীবনের প্রতিনিধিত্ব করে?
- ক. শহুরে, আধুনিক জীবন
- খ. যাযাবর জীবন
- গ. শিল্পোন্নত জীবন
- ঘ. গ্রামবাংলার ঐতিহ্যবাহী, প্রকৃতিনির্ভর জীবন
উত্তর: ঘ। চালতাফুল, লক্ষ্মীপেঁচা, খেয়ানৌকার মতো চিত্রকল্পগুলো গ্রামবাংলার ঐতিহ্যবাহী, প্রকৃতিনির্ভর জীবনযাত্রার প্রতিনিধিত্ব করে, যা জীবনানন্দের কবিতায় বারবার ফিরে আসা একটি বৈশিষ্ট্য।
৪৬। কবিতার নামকরণ ‘সেইদিন এই মাঠ’-এর তাৎপর্য কী?
- ক. ভবিষ্যতের অনুপস্থিতির সাথে বর্তমানের সংযোগ স্থাপন করে
- খ. এটি নিছক একটি স্থানের নাম
- গ. এটি নিছক একটি কাকতালীয় শিরোনাম
- ঘ. এটি একটি ঐতিহাসিক ঘটনার উল্লেখ
উত্তর: ক। ‘সেইদিন’ (ভবিষ্যতের অনির্দিষ্ট সময়, যখন কবি থাকবেন না) ও ‘এই মাঠ’ (বর্তমানের সুনির্দিষ্ট বাস্তবতা)-এর সংযোগ শিরোনামেই কবিতার মূল ভাবকে ধারণ করে— কালের প্রবাহে প্রকৃতির স্থায়িত্ব।
৪৭। জীবনানন্দ দাশের কবিতায় সাধারণত কোন বৈশিষ্ট্য লক্ষণীয়, যা এই কবিতাতেও দেখা যায়?
- ক. কঠোর সমালোচনামূলক সুর
- খ. রাজনৈতিক প্রত্যক্ষ মন্তব্য
- গ. হাস্যরসাত্মক বর্ণনা
- ঘ. স্বপ্নময়, চিত্রধর্মী ভাষা ও বাংলার নিসর্গের সূক্ষ্ম বিবরণ
উত্তর: ঘ। জীবনানন্দের কবিতায় সাধারণত স্বপ্নময়, চিত্রধর্মী ভাষা ও বাংলার নিসর্গের সূক্ষ্ম, ইন্দ্রিয়গ্রাহ্য বিবরণ লক্ষণীয়, যা ‘সেইদিন এই মাঠ’ কবিতাতেও স্পষ্টভাবে প্রতিফলিত হয়েছে।
৪৮। কবিতাটি কীভাবে ‘মৃত্যুচেতনা’ ও ‘জীবনতৃষ্ণা’র মধ্যে ভারসাম্য বজায় রাখে?
- ক. শুধু মৃত্যুচেতনার ওপর জোর দিয়ে
- খ. মৃত্যু স্বীকার করেও প্রকৃতির সৌন্দর্যে তৃপ্তি খুঁজে পেয়ে
- গ. মৃত্যুকে সম্পূর্ণ অস্বীকার করে
- ঘ. শুধু অতীতের স্মৃতিচারণ করে
উত্তর: খ। কবি নিজের মৃত্যুর অনিবার্যতা স্বীকার করেও তাতে হতাশ না হয়ে, বরং প্রকৃতির অব্যাহত সৌন্দর্যে গভীর আনন্দ ও তৃপ্তি খুঁজে পান— এই ভারসাম্যই কবিতাকে গভীরতা দিয়েছে।
৪৯। কবিতার শেষ পঙক্তিতে ‘এশিরিয়া ধুলো আজ, ব্যাবিলন ছাই হয়ে আছে’ বলার পেছনে কী তাৎপর্য কাজ করে?
- ক. ইতিহাস অপ্রয়োজনীয়
- খ. সভ্যতা সময়ের কাছে পরাজিত হলেও প্রকৃতি টিকে থাকে
- গ. মানুষের সব প্রচেষ্টা অর্থহীন
- ঘ. এই দুই সভ্যতা মূল্যহীন ছিল
উত্তর: খ। এই পঙক্তির মাধ্যমে কবি দেখান, মানুষের সবচেয়ে গর্বিত, শক্তিশালী সভ্যতাও শেষ পর্যন্ত সময়ের কাছে পরাজিত হয় ও ধ্বংসস্তূপে পরিণত হয়, অথচ প্রকৃতি তার সৌন্দর্য নিয়ে অক্ষত থেকে যায়— এটাই কবিতার গভীরতম দার্শনিক উপলব্ধি।
৫০। সামগ্রিকভাবে কবিতাটি পাঠকের মনে কোন অনুভূতি জাগিয়ে তোলে?
- ক. রাগ ও ক্ষোভ
- খ. উদাসীনতা
- গ. ভয় ও আতঙ্ক
- ঘ. মৃত্যুর মুখোমুখি হয়েও প্রকৃতির প্রতি গভীর আস্থা
উত্তর: ঘ। কবিতাটি পাঠকের মনে মৃত্যুর মুখোমুখি হয়েও প্রকৃতি ও জীবনের ধারাবাহিকতার প্রতি এক গভীর শ্রদ্ধা ও প্রশান্ত আস্থা জাগিয়ে তোলে— এটিই কবিতার সবচেয়ে বড় সাহিত্যিক অর্জন।
