বঙ্গবাণী কবিতার MCQ | SSC বাংলা ১ম পত্রের “বঙ্গবাণী” কবিতা থেকে বোর্ড পরীক্ষায় নিয়মিত প্রশ্ন আসে। এই পোস্টে কবিতার সারকথা ও ৪৮টি বহুনির্বাচনি প্রশ্ন (MCQ) উত্তর ও ব্যাখ্যাসহ দেওয়া হলো। জ্ঞানমূলক ও অনুধাবনমূলক প্রশ্নের জন্য বঙ্গবাণী কবিতার নোট দেখুন।
বঙ্গবাণী কবিতার সারকথা ও গুরুত্বপূর্ণ তথ্য
বঙ্গবাণী কবিতার কবি কে?
আবদুল হাকিম (জন্ম আনুমানিক ১৬২০, সুধারামপুর, সন্দ্বীপ; মৃত্যু ১৬৯০)। মধ্যযুগের অন্যতম প্রধান কবি, স্বদেশ ও স্বভাষাপ্রেমী। প্রধান কাব্য: নূরনামা, ইউসুফ জোলেখা, লালমতি, সয়ফুলমুলক, কারবালা।
বঙ্গবাণী কবিতার উৎস
নূরনামা কাব্য থেকে সংকলিত কবিতা।
কবিতার মূল বক্তব্য
- যারা কিতাব (আরবি-ফারসি শাস্ত্র) পড়তে পারে না, তাদের অনুরোধে কবি বাংলায় রচনা করেন।
- আরবি-ফারসি-হিন্দি ভাষার প্রতি কবির কোনো বিদ্বেষ নেই— সেসব ভাষায় আল্লাহ-নবির স্তুতি থাকলেও তা শ্রদ্ধেয়।
- আল্লাহ স্বয়ং সকল ভাষাই বোঝেন— হিন্দুয়ানি হোক বা বঙ্গদেশী— তাই ভাষাভেদে ধর্মীয় বিশুদ্ধতার প্রশ্ন অবান্তর।
- মারফত-সাধনায় অনগ্রসর মানুষেরাই বাংলা লিপির প্রতি অহেতুক হিংসা পোষণ করে।
- বাংলাদেশে জন্মেও যারা বঙ্গবাণীকে ঘৃণা করে, তাদের প্রকৃত পরিচয় নিয়েই কবির সন্দেহ জাগে।
- কবির তীব্র প্রশ্ন— যাদের মাতৃভাষার প্রতি ভালোবাসা নেই, তারা কেন দেশ ছেড়ে বিদেশে যায় না।
- উপসংহার— বংশানুক্রমে বাংলায় বসতি হওয়ায় মাতৃভাষার উপদেশই সবচেয়ে হিতকর।
বঙ্গবাণী কবিতার মূল ভাব কী?
মধ্যযুগীয় প্রেক্ষাপটে মাতৃভাষা বাংলার প্রতি গভীর প্রেম ও অসাম্প্রদায়িক মনোভাবের এক বলিষ্ঠ ও বিরল কাব্যিক নিদর্শন— ভাষার সাথে ধর্মের কোনো সম্পর্ক নেই, বরং মাতৃভূমি ও মাতৃভাষার প্রতি ভালোবাসাই মানুষের প্রকৃত পরিচয় নির্ধারণ করে।
বঙ্গবাণী কবিতার গুরুত্বপূর্ণ শব্দার্থ
হাবিলাষ (প্রবল ইচ্ছা), ছিফত (গুণ), নিরঞ্জন (সৃষ্টিকর্তা/আল্লাহ), বঙ্গবাণী (বাংলা ভাষা), মারফত (মরমি সাধনা), জুয়ায় (জোগায়), আপে (স্বয়ং)।
কবি পরিচিতি বিষয়ক MCQ
১। আবদুল হাকিম আনুমানিক কত খ্রিষ্টাব্দে জন্মগ্রহণ করেন?
- ক. ১৬৪০
- খ. ১৬২০
- গ. ১৬১০
- ঘ. ১৬৩০
উত্তর: খ। তিনি আনুমানিক ১৬২০ খ্রিষ্টাব্দে জন্মগ্রহণ করেন।
২। আবদুল হাকিমের জন্মস্থান কোথায়?
- ক. সন্দ্বীপের সুধারামপুর গ্রাম
- খ. নোয়াখালী
- গ. ঢাকা
- ঘ. চট্টগ্রাম শহর
উত্তর: ক। সন্দ্বীপের সুধারামপুর গ্রামে তিনি জন্মগ্রহণ করেন।
৩। আবদুল হাকিম কোন যুগের কবি?
- ক. ঔপনিবেশিক যুগ
- খ. বৈষ্ণব যুগ
- গ. আধুনিক যুগ
- ঘ. মধ্যযুগ
উত্তর: ঘ। তিনি মধ্যযুগের অন্যতম প্রধান কবি।
৪। আবদুল হাকিমের বিখ্যাত কাব্যের নাম কী?
- ক. নূরনামা
- খ. ইউসুফ জোলেখা
- গ. লালমতি
- ঘ. কারবালা
উত্তর: ক। নূরনামা তাঁর বিখ্যাত কাব্য, যেখান থেকে ‘বঙ্গবাণী’ কবিতাটি সংকলিত হয়েছে।
৫। নিচের কোনটি আবদুল হাকিমের কাব্য নয়?
- ক. লালমতি
- খ. সয়ফুলমুলক
- গ. মৈমনসিংহ গীতিকা
- ঘ. কারবালা
উত্তর: গ। মৈমনসিংহ গীতিকা দীনেশচন্দ্র সেন সংগৃহীত লোকসাহিত্য, কোনো ব্যক্তিবিশেষের রচনা নয়; বাকি তিনটি আবদুল হাকিমের কাব্য।
৬। আবদুল হাকিম কত খ্রিষ্টাব্দে মৃত্যুবরণ করেন?
- ক. ১৬৯০
- খ. ১৭০০
- গ. ১৬৮০
- ঘ. ১৭১০
উত্তর: ক। তিনি ১৬৯০ খ্রিষ্টাব্দে মৃত্যুবরণ করেন।
বঙ্গবাণী কবিতার বহুনির্বাচনি প্রশ্ন ও উত্তর (MCQ)
৭। ‘বঙ্গবাণী’ কবিতাটি কোন কাব্য থেকে সংকলন করা হয়েছে?
- ক. সয়ফুলমুলক
- খ. কারবালা
- গ. নূরনামা
- ঘ. ইউসুফ জোলেখা
উত্তর: গ। ‘বঙ্গবাণী’ কবিতাটি কবির নূরনামা কাব্য থেকে সংকলন করা হয়েছে।
৮। মধ্যযুগীয় পরিবেশে এই কবিতাকে কেন দুর্লভ নিদর্শন বলা হয়?
- ক. এটি প্রথম মুদ্রিত কবিতা বলে
- খ. এটি দীর্ঘতম কবিতা বলে
- গ. এতে কোনো ধর্মীয় প্রসঙ্গ নেই বলে
- ঘ. বাংলা ভাষার প্রতি এমন বলিষ্ঠ কবিতা বিরল বলে
উত্তর: ঘ। মধ্যযুগীয় পরিবেশে বঙ্গভাষী ও বঙ্গভাষার প্রতি এমন বলিষ্ঠ বাণীবদ্ধ কবিতার নিদর্শন সত্যিই দুর্লভ।
৯। কবিতার শুরুতে কারা কবির কাছে মনের ইচ্ছা প্রকাশ করে?
- ক. যারা রাজদরবারে কাজ করে
- খ. যারা বিদেশে বসবাস করে
- গ. যারা আরবি-ফারসি জানে
- ঘ. যাদের কিতাব পড়ার অভ্যাস নেই
উত্তর: ঘ। যাদের কিতাব পড়িতে অভ্যাস নেই, তারাই কবির কাছে মনের অভিলাষ ব্যক্ত করে।
১০। তাদের অনুরোধে কবি কী করেন?
- ক. আরবিতে গ্রন্থ রচনা করেন
- খ. বাংলায় রচনা করে সবাইকে তুষ্ট করার চেষ্টা করেন
- গ. নীরব থাকেন
- ঘ. ফারসিতে অনুবাদ করেন
উত্তর: খ। সেই কাজে তিনি বাংলা ভাষায় রচনা করে নিজের পরিশ্রম দিয়ে সকলকে তুষ্ট করতে চান।
১১। আরবি-ফারসি ভাষার প্রতি কবির মনোভাব কেমন?
- ক. উদাসীনতা
- খ. কোনো রাগ বা বিদ্বেষ নেই
- গ. অবজ্ঞা
- ঘ. তীব্র বিদ্বেষ
উত্তর: খ। কবি স্পষ্ট বলেন, আরবি-ফারসি শাস্ত্রের প্রতি তাঁর কোনো রাগ নেই।
১২। ‘দেশী ভাষে বুঝিতে ললাটে পুরে ভাগ’— পঙক্তিটির অর্থ কী?
- ক. মাতৃভাষায় বোঝাটাই বরং সৌভাগ্যের বিষয়
- খ. দেশি ভাষা বোঝা কঠিন
- গ. দেশি ভাষার কোনো গুরুত্ব নেই
- ঘ. দেশি ভাষা শেখা নিষিদ্ধ
উত্তর: ক। এর অর্থ, দেশি ভাষায় (বাংলায়) সম্পূর্ণরূপে বোধগম্য হওয়াটাই বরং সৌভাগ্যের বিষয়।
১৩। কবির মতে আরবি, ফারসি ও হিন্দি ভাষায় কী রচিত হতে পারে?
- ক. আল্লাহ ও নবির ছিফত (গুণ/স্তুতি)
- খ. শুধু কাব্য
- গ. শুধু আইন
- ঘ. শুধু ইতিহাস
উত্তর: ক। কবি বলেন, আরবি-ফারসি-হিন্দিতে যদি আল্লাহ ও নবির ছিফত (গুণগান) লেখা হয়, তাতেও তাঁর কোনো আপত্তি নেই।
১৪। কবির মতে বিভিন্ন দেশের মানুষের বাক্য কে বোঝেন?
- ক. শুধু পণ্ডিতরা
- খ. প্রভু (আল্লাহ) স্বয়ং
- গ. কেউ বোঝেন না
- ঘ. শুধু রাজারা
উত্তর: খ। যেই দেশে যেই বাক্য মানুষ বলে, প্রভু স্বয়ং তা বুঝতে পারেন বলে কবি বিশ্বাস করেন।
১৫। ‘নিরঞ্জন’ শব্দটি কবিতায় কার প্রতি ব্যবহৃত হয়েছে?
- ক. কবির নিজের প্রতি
- খ. পাঠকের প্রতি
- গ. রাজার প্রতি
- ঘ. আল্লাহ বা সৃষ্টিকর্তার প্রতি
উত্তর: ঘ। নিরঞ্জন অর্থ নির্মল, এখানে সৃষ্টিকর্তা আল্লাহকে বোঝাতে ব্যবহৃত হয়েছে।
১৬। কবির মতে প্রভু কোন কোন ভাষা বোঝেন?
- ক. শুধু সংস্কৃত
- খ. সকল ভাষা, হিন্দুয়ানি থেকে বঙ্গদেশী পর্যন্ত
- গ. শুধু আরবি ও ফারসি
- ঘ. শুধু বঙ্গদেশী বাক্য
উত্তর: খ। কবি বলেন, প্রভু সর্ববাক্যই বোঝেন— হিন্দুয়ানি হোক বা বঙ্গদেশী বাক্য, যত ভাষাই হোক না কেন।
**১৭। কবিতার এই অংশ (৯-১২ পঙক্তি) নিয়ে নিচের তথ্যগুলো লক্ষ করো —**
i. কবির মতে আল্লাহ শুধু আরবি ভাষা বোঝেন
ii. কবির মতে আল্লাহ সকল ভাষাই বোঝেন
iii. কবি মনে করেন ভাষাভেদে আল্লাহর কাছে প্রার্থনার মূল্য কমে না
নিচের কোনটি সঠিক?
ক. i ও ii খ. i ও iii গ. ii ও iii ঘ. i, ii ও iii
**উত্তর: গ।** কবির মতে আল্লাহ শুধু আরবি নয়, সকল ভাষাই বোঝেন— তাই প্রথম তথ্যটি ভুল, বাকি দুটি কবিতার বক্তব্যের সাথে সংগতিপূর্ণ।
১৮। ‘মারফত ভেদে যার নাহিক গমন’— এই পঙক্তিতে কাদের কথা বলা হয়েছে?
- ক. যারা রাজদরবারে কাজ করে
- খ. যারা কিতাব পড়েছে
- গ. যারা বিদেশে গমন করেনি
- ঘ. যারা মরমি সাধনায় অগ্রসর হয়নি
উত্তর: ঘ। মারফত অর্থ মরমি সাধনা— যারা এই আধ্যাত্মিক উপলব্ধিতে অগ্রসর হয়নি, তাদের কথাই এখানে বলা হয়েছে।
১৯। মারফতে অগ্রসর না হওয়া মানুষেরা কী করে বলে কবি বলেন?
- ক. তারা বাংলা লিপির প্রতি হিংসা পোষণ করে
- খ. তারা সবার সাথে সদ্ভাব বজায় রাখে
- গ. তারা বিদেশে চলে যায়
- ঘ. তারা কিতাব পড়ে
উত্তর: ক। মরমি উপলব্ধির অভাবেই তারা বাংলা লিপির (হিন্দুর অক্ষর বলে ভুল ধারণা করে) প্রতি হিংসা পোষণ করে বলে কবি মনে করেন।
২০। যারা বাংলাদেশে জন্মেও বঙ্গবাণীকে হিংসা করে, তাদের সম্পর্কে কবির মন্তব্য কী?
- ক. তাদের জন্ম-পরিচয় নির্ণয় করা যায় না
- খ. তারা প্রকৃত পণ্ডিত
- গ. তারা সম্মানের যোগ্য
- ঘ. তারা দেশপ্রেমিক
উত্তর: ক। কবি ক্ষোভের সাথে বলেন, যারা বঙ্গে জন্মেও বঙ্গবাণীকে হিংসা করে, তাদের জন্ম কার ঘরে তা নির্ণয় করা যায় না— অর্থাৎ তাদের প্রকৃত পরিচয় নিয়েই সন্দেহ জাগে।
২১। ‘দেশী ভাষা বিদ্যা যার মনে ন জুয়ায়’— এই পঙক্তির অর্থ কী?
- ক. দেশি ভাষায় বিদ্যা অর্জন সহজ
- খ. দেশি ভাষা শেখা বাধ্যতামূলক
- গ. যাদের মন দেশি ভাষায় শিক্ষালাভে সায় দেয় না
- ঘ. দেশি ভাষায় কোনো বিদ্যা নেই
উত্তর: গ। এই পঙক্তির অর্থ, যাদের মন দেশি ভাষায় (বাংলায়) বিদ্যা অর্জনে সায় দেয় না বা যোগায় না।
২২। যাদের মনে দেশি ভাষা বিদ্যা যোগায় না, কবি তাদের প্রতি কী প্রশ্ন তোলেন?
- ক. তারা নিজ দেশ ত্যাগ করে কেন বিদেশে যায় না
- খ. তারা কেন ধনী হতে চায়
- গ. তারা কেন বিদ্যা অর্জন করে না
- ঘ. তারা কেন বিবাহ করে না
উত্তর: ক। কবি ক্ষুব্ধ হয়ে প্রশ্ন তোলেন, নিজ দেশ ত্যাগ করে তারা কেন বিদেশে যায় না— অর্থাৎ যাদের নিজের ভাষার প্রতি ভালোবাসা নেই, তাদের এদেশে থাকারই বা কী অধিকার।
২৩। এই প্রশ্নের মধ্য দিয়ে কবির মানসিকতার কোন দিকটি প্রকাশ পায়?
- ক. উদাসীনতা
- খ. ধর্মীয় গোঁড়ামি
- গ. মাতৃভাষা-বিদ্বেষীদের প্রতি তীব্র ক্ষোভ
- ঘ. রাজনৈতিক উচ্চাকাঙ্ক্ষা
উত্তর: গ। টীকা অনুযায়ী শিকড়হীন পরগাছা স্বভাবের এই মানুষদের প্রতি কবি তীব্র ক্ষোভে এই বলিষ্ঠ বাণী উচ্চারণ করেছেন।
২৪। কবিতার শেষ পঙক্তিতে কবি কী বলেন?
- ক. বাংলা ভাষা অপ্রয়োজনীয়
- খ. বংশানুক্রমে বঙ্গে বসতি, দেশি ভাষাই হিতকর
- গ. বিদেশি ভাষা শেখাই শ্রেয়
- ঘ. মাতৃভাষা শেখা কঠিন
উত্তর: খ। কবি বলেন, মাতা-পিতামহ ক্রমে বংশানুক্রমে বঙ্গে বসতি, তাই দেশি ভাষার উপদেশ মনে অত্যন্ত হিতকর মনে হয়।
২৫। কবিতার শেষ পঙক্তিতে কবি কোন যুক্তি দিয়ে বাংলা ভাষার প্রতি ভালোবাসা প্রমাণ করেন?
- ক. বাংলা ভাষা সহজ বলে
- খ. বাংলা ভাষা প্রাচীন বলে
- গ. বংশানুক্রমে বসতির কারণে মাতৃভাষার প্রতি টান থাকা উচিত
- ঘ. বাংলা ভাষা ধনী মানুষের ভাষা বলে
উত্তর: গ। পূর্বপুরুষ থেকে বংশানুক্রমে বাংলাদেশে বসতি হওয়ার কারণেই মাতৃভূমি ও মাতৃভাষার প্রতি স্বাভাবিক মমত্ববোধ থাকা উচিত বলে কবি যুক্তি দেন।
২৬। ‘হাবিলাষ’ শব্দের অর্থ কী?
- ক. ভয়
- খ. দুঃখ
- গ. রাগ
- ঘ. অভিলাষ, প্রবল ইচ্ছা
উত্তর: ঘ। হাবিলাষ অর্থ অভিলাষ বা প্রবল ইচ্ছা।
২৭। ‘ছিফত’ শব্দের অর্থ কী?
- ক. দোষ
- খ. গুণ
- গ. নাম
- ঘ. রূপ
উত্তর: খ। ছিফত অর্থ গুণ— আল্লাহ ও নবির ছিফত অর্থাৎ তাঁদের গুণগান।
২৮। ‘বঙ্গবাণী’ শব্দের অর্থ কী?
- ক. একটি অঞ্চলের নাম
- খ. একটি ধর্মগ্রন্থ
- গ. বাংলাদেশের ইতিহাস
- ঘ. বাংলা ভাষা
উত্তর: ঘ। বঙ্গবাণী অর্থ বাংলা ভাষা, যা কবিতার শিরোনামও বটে।
২৯। ‘মারফত’ শব্দের অর্থ কী?
- ক. ব্যবসা
- খ. যুদ্ধ
- গ. ভ্রমণ
- ঘ. আল্লাহকে জানার মরমি সাধনা
উত্তর: ঘ। মারফত অর্থ মরমি সাধনা— আল্লাহকে সম্যকভাবে জানার জন্য আধ্যাত্মিক সাধনা।
৩০। ‘জুয়ায়’ শব্দের অর্থ কী?
- ক. হারায়
- খ. জোগায়
- গ. কেনে
- ঘ. বিক্রি করে
উত্তর: খ। জুয়ায় অর্থ জোগায়।
৩১। ‘আপে’ শব্দের অর্থ কী?
- ক. সর্বদা
- খ. কখনো নয়
- গ. স্বয়ং, আপনি
- ঘ. অন্যে
উত্তর: গ। আপে অর্থ স্বয়ং বা আপনি— প্রভু আপে অর্থাৎ প্রভু নিজেই।
৩২। পাঠ-পরিচিতি অনুযায়ী কবিতায় কোন দুটি ভাব একসাথে প্রকাশ পেয়েছে?
- ক. মাতৃভাষার প্রতি প্রেম ও অসাম্প্রদায়িক মনোভাব
- খ. প্রকৃতিপ্রেম ও বিরহবেদনা
- গ. যুদ্ধবিরোধী মনোভাব ও শান্তিকামনা
- ঘ. রাজনৈতিক উচ্চাকাঙ্ক্ষা ও ধর্মীয় গোঁড়ামি
উত্তর: ক। পাঠ-পরিচিতি অনুযায়ী কবিতায় মাতৃভাষার প্রতি প্রেম ও অসাম্প্রদায়িক মনোভাবের পরিচয় ফুটে উঠেছে।
৩৩। কবির অসাম্প্রদায়িক মনোভাবের প্রমাণ কী?
- ক. বাংলা ভাষাকে তিনি সবার ভাষা মনে করেন
- খ. তিনি ধর্মের সমালোচনা করেন
- গ. তিনি সব ভাষাকে সমান গুরুত্বহীন মনে করেন
- ঘ. তিনি শুধু বাংলা ভাষার প্রশংসা করেন
উত্তর: ক। আরবি-ফারসির প্রতি শ্রদ্ধা বজায় রেখেও বাংলা ভাষাকে ‘হিন্দুর ভাষা’ বলে অভিহিত করার প্রবণতাকে তিনি খণ্ডন করেছেন— এটাই তাঁর অসাম্প্রদায়িক দৃষ্টিভঙ্গির প্রমাণ।
৩৪। বাংলা ভাষাকে ‘হিন্দুয়ানি’ বলে যারা এড়িয়ে চলত, কবি তাদের কীভাবে খণ্ডন করেন?
- ক. তাদের শাস্তি দাবি করে
- খ. তাদের সাথে একমত হয়ে
- গ. আল্লাহ সকল ভাষা বোঝেন বলে যুক্তি দেন
- ঘ. তাদের উপেক্ষা করে
উত্তর: গ। কবি স্পষ্ট করে বলেন, আল্লাহ নিজেই হিন্দুয়ানি হোক বা বঙ্গদেশী— সর্ববাক্য বোঝেন, তাই ভাষার সাথে ধর্মীয় বিশুদ্ধতার কোনো সম্পর্ক নেই।
সিফাত অষ্টম শ্রেণিতে বৃত্তি পাওয়ায় বাবা তাকে একটি মোবাইল সেট কিনে দিয়েছিলেন, কিন্তু দুদিন পরই সে মন খারাপ করে সেটটা ফেরত দিল— কারণ এফএম চ্যানেলের উপস্থাপকরা বাংলা ভাষাকে ইচ্ছেমতো বিকৃত করে উচ্চারণ করে, ইংরেজির প্রতি অতিরিক্ত অনুরাগ দেখায়। এটা সিফাতের ভালো লাগেনি।
৩৫। সিফাতের এই প্রতিক্রিয়ার সাথে ‘বঙ্গবাণী’ কবিতার কোন ভাবের মিল পাওয়া যায়?
- ক. ধর্মীয় ভাবাবেগ
- খ. মাতৃভাষার প্রতি গভীর মমত্ববোধ ও তার অবমূল্যায়নে ক্ষোভ
- গ. প্রযুক্তির প্রতি অনীহা
- ঘ. ইংরেজি ভাষার প্রতি বিদ্বেষ
উত্তর: খ। আবদুল হাকিম যেমন বাংলা ভাষাকে হেয় করা মানুষদের প্রতি ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন, সিফাতও তেমনি নিজের মাতৃভাষার অবমূল্যায়নে কষ্ট পেয়েছে— উভয়ের মূলে রয়েছে মাতৃভাষাপ্রীতি।
৩৬। সিফাতের অনুভূতি ও কবির অনুভূতির মধ্যে মূল পার্থক্য কী বলে বিশ্লেষণ করা যায়?
- ক. সিফাতের অনুভূতি কবির চেয়ে গভীর
- খ. কোনো পার্থক্য নেই
- গ. কবি সরাসরি সমালোচনামূলক, সিফাত নীরব প্রত্যাখ্যানে সীমাবদ্ধ
- ঘ. দুজনের অনুভূতি সম্পূর্ণ ভিন্ন
উত্তর: গ। আবদুল হাকিম সরাসরি ভাষাবিদ্বেষীদের জন্ম-পরিচয় নিয়ে প্রশ্ন তুলে তীব্র সমালোচনা করেছেন, যেখানে সিফাতের প্রতিক্রিয়া অনেকটাই নীরব ও ব্যক্তিগত— এই তীব্রতার পার্থক্যই দুই প্রকাশভঙ্গির মূল ফারাক।
৩৭। কবিতাটি কোন কাব্যরীতিতে রচিত?
- ক. অক্ষরবৃত্ত/মধ্যযুগীয় পয়ার ছন্দে
- খ. মুক্তক ছন্দে
- গ. গদ্যছন্দে
- ঘ. গদ্যকবিতা রীতিতে
উত্তর: ক। মধ্যযুগীয় বাংলা কাব্যের প্রচলিত অক্ষরবৃত্ত বা পয়ার ছন্দে কবিতাটি রচিত, যা দুই পঙক্তির প্রতি জোড়ে অন্ত্যমিল বজায় রাখে।
৩৮। কবিতায় ব্যবহৃত ভাষারীতি সম্পর্কে কী বলা যায়?
- ক. মধ্যযুগীয় বাংলার প্রাচীন রূপ, আরবি-ফারসি প্রভাবিত
- খ. এটি সম্পূর্ণ ইংরেজি শব্দবহুল
- গ. এটি সংস্কৃতঘেঁষা সাধু ভাষা
- ঘ. এটি সম্পূর্ণ আধুনিক চলিত ভাষা
উত্তর: ক। কবিতায় মধ্যযুগীয় বাংলার প্রাচীন রূপ ব্যবহৃত হয়েছে, যাতে ‘কিতাব’, ‘ছিফত’, ‘মারফত’-এর মতো আরবি-ফারসি শব্দের সাবলীল ব্যবহার লক্ষণীয়।
৩৯। কবি কেন নিজেকে ‘পরিশ্রম’ করে সকলকে তুষ্ট করার কথা বলেন?
- ক. তিনি প্রতিযোগিতায় জিততে চান বলে
- খ. তিনি অর্থ উপার্জন করতে চান বলে
- গ. তাঁর কোনো বিশেষ কারণ নেই
- ঘ. বাংলায় লিখে সাধারণ মানুষের কাছে জ্ঞান পৌঁছাতে চান বলে
উত্তর: ঘ। যারা কিতাব পড়তে পারে না তাদের কাছে জ্ঞান পৌঁছে দেওয়াই তাঁর মূল লক্ষ্য, তাই বাংলায় রচনার এই পরিশ্রমকে তিনি সার্থক মনে করেন।
৪০। কবিতায় ‘দুই মত নাই’ বলতে কী বোঝানো হয়েছে (আরবি-ফারসি-হিন্দি প্রসঙ্গে)?
- ক. এই ভাষাগুলো নিয়ে মতভেদ আছে
- খ. এই ভাষাগুলোর ব্যবহার নিয়ে কবির কোনো দ্বিমত বা আপত্তি নেই
- গ. এই ভাষাগুলো নিষিদ্ধ হওয়া উচিত
- ঘ. এই ভাষাগুলো শুধু ধর্মীয় কাজে ব্যবহার্য
উত্তর: খ। এই ভাষাগুলোর ব্যবহার নিয়ে কবির কোনো দ্বিমত নেই, বিশেষত যদি তাতে আল্লাহ-নবির গুণগান রচিত হয়।
**৪১। কবিতায় ভাষা ও ধর্মের সম্পর্ক নিয়ে নিচের তথ্যগুলো লক্ষ করো —**
i. কবির মতে কোনো নির্দিষ্ট ভাষাই ধর্মীয়ভাবে শ্রেষ্ঠ নয়
ii. কবির মতে বাংলা ভাষা ব্যবহার করলে ধর্মচর্চায় ব্যাঘাত ঘটে
iii. কবির মতে আল্লাহর কাছে সকল ভাষার প্রার্থনাই সমান গ্রহণযোগ্য
নিচের কোনটি সঠিক?
ক. i ও ii খ. i ও iii গ. ii ও iii ঘ. i, ii ও iii
**উত্তর: খ।** প্রথম ও তৃতীয় তথ্য কবিতার মূল বক্তব্যের সাথে মেলে, কিন্তু কবি আসলে বিপরীত বলেন— বাংলা ভাষায় ধর্মচর্চায় কোনো বাধা নেই, বরং তা সহজবোধ্য বলে উপকারী— তাই দ্বিতীয় তথ্যটি ভুল।
৪২। কবিতায় ব্যবহৃত ‘কিতাব’ শব্দটি সাধারণত কী বোঝায়?
- ক. একটি চিঠি
- খ. একটি মানচিত্র
- গ. ধর্মগ্রন্থ বা শাস্ত্রগ্রন্থ
- ঘ. একটি সংগীত
উত্তর: গ। কিতাব সাধারণত ধর্মগ্রন্থ বা শাস্ত্রগ্রন্থ বোঝায়, বিশেষত আরবি-ফারসি ভাষায় রচিত ধর্মীয় গ্রন্থ।
৪৩। ‘হিন্দুর অক্ষর’ বলতে কবিতায় প্রকৃতপক্ষে কী বোঝানো হয়েছে?
- ক. হিন্দুধর্মের পবিত্র লিপি
- খ. একটি প্রাচীন হরফ যা এখন ব্যবহৃত হয় না
- গ. বাংলা লিপি, যাকে ভুলভাবে হিন্দুদের মনে করা হতো
- ঘ. সংস্কৃত ভাষা
উত্তর: গ। এখানে বাংলা লিপি বা হরফকেই বোঝানো হয়েছে, যাকে সেসময় কিছু মানুষ ভুলভাবে শুধু হিন্দুদের ভাষা মনে করে হিংসা করত।
৪৪। কবিতার মূল বার্তা অনুযায়ী ভাষা ও ধর্মীয় পরিচয়ের সম্পর্ক কেমন হওয়া উচিত?
- ক. ভাষা কোনো নির্দিষ্ট ধর্মের সম্পত্তি নয়, এটি সকলের সাধারণ সম্পদ
- খ. ভাষা ও ধর্মের কোনো সম্পর্কই বিবেচনায় আসা উচিত নয়
- গ. প্রতিটি ধর্মের আলাদা ভাষা থাকা উচিত
- ঘ. ভাষা ধর্মীয় পরিচয় নির্ধারণ করে
উত্তর: ক। কবিতার মূল বার্তা অনুযায়ী কোনো ভাষাই নির্দিষ্ট কোনো ধর্মের একচেটিয়া সম্পত্তি নয়— বাংলা ভাষা হিন্দু-মুসলমান নির্বিশেষে সকল বাঙালির সাধারণ ভাষা।
৪৫। কবি কেন মাতৃভাষা-বিদ্বেষীদের ‘জন্ম নির্ণয় না জানা’ বলে কটাক্ষ করেন?
- ক. তারা এতিম বলে
- খ. তাদের জন্মনিবন্ধন হারিয়ে গেছে বলে
- গ. মাতৃভাষাকে না ভালোবাসলে প্রকৃত পরিচয় নিয়ে প্রশ্ন ওঠে
- ঘ. তাদের পরিবার সম্পর্কে তথ্য নেই বলে
উত্তর: গ। কবির যুক্তি, মাতৃভূমি ও মাতৃভাষার প্রতি ভালোবাসা মানুষের স্বাভাবিক প্রবৃত্তি— যে তা অস্বীকার করে, তার প্রকৃত শিকড় বা পরিচয় নিয়েই সংশয় জাগে।
৪৬। কবিতায় প্রকাশিত ভাবের সাথে বর্তমান কালের কোন সামাজিক সমস্যার মিল খুঁজে পাওয়া যায়?
- ক. মাতৃভাষা অবহেলা করে বিদেশি ভাষার প্রতি অনুরাগ
- খ. পরিবেশ দূষণ
- গ. বেকারত্ব সমস্যা
- ঘ. দারিদ্র্য সমস্যা
উত্তর: ক। আজও অনেকে মাতৃভাষাকে অবহেলা করে বিদেশি ভাষার প্রতি অতিরিক্ত অনুরাগ দেখান— কবিতার প্রায় চারশ বছর আগের এই সমালোচনা আজও প্রাসঙ্গিক।
মিতালি একজন লেখিকা, বিদেশে পড়াশোনা করলেও তিনি সবসময় বাংলায় লেখেন এবং বলেন, ‘আমার ভাবনাগুলো বাংলাতেই সবচেয়ে সহজে প্রকাশ পায়, এটাই আমার মায়ের ভাষা, আমার শেকড়।’ অনেকে তাকে ইংরেজিতে লেখার পরামর্শ দিলেও তিনি তা প্রত্যাখ্যান করেন।
৪৭। মিতালির মানসিকতার সাথে ‘বঙ্গবাণী’ কবিতার কোন বক্তব্যের মিল সবচেয়ে বেশি?
- ক. ধর্মীয় ভাবাবেগ
- খ. বিদেশে বসবাসের ইচ্ছা
- গ. আরবি-ফারসি ভাষার প্রতি শ্রদ্ধা
- ঘ. দেশি ভাষায় বোঝা ও প্রকাশ করাটাই সৌভাগ্যের বিষয়
উত্তর: ঘ। কবি যেমন বলেছেন দেশি ভাষায় বোঝা ও প্রকাশ করাটাই ভাগ্যের বিষয় (‘দেশী ভাষে বুঝিতে ললাটে পুরে ভাগ’), মিতালিও তেমনি মাতৃভাষাকেই নিজের ভাবপ্রকাশের সবচেয়ে সহজ ও আপন মাধ্যম মনে করেন।
৪৮। মিতালির সিদ্ধান্তকে কবিতার আলোকে কীভাবে ব্যাখ্যা করা যায়?
- ক. এটি ব্যবসায়িক কৌশল মাত্র
- খ. এটি বিদেশি ভাষার প্রতি অজ্ঞতার প্রকাশ
- গ. এটি একটি অযৌক্তিক সিদ্ধান্ত
- ঘ. এটি মাতৃভাষার প্রতি স্বাভাবিক মমত্ববোধের বহিঃপ্রকাশ
উত্তর: ঘ। কবিতায় যেমন মাতৃভাষার প্রতি স্বাভাবিক টান ও গর্বকে মহিমান্বিত করা হয়েছে, মিতালির সিদ্ধান্তও সেই একই মূল্যবোধের প্রতিফলন— এটি কোনো অযৌক্তিকতা নয়, বরং শেকড়ের প্রতি সচেতন আনুগত্য।
৪৯। কবিতাটি পাঠ করে কোন শিক্ষা পাওয়া যায়?
- ক. মাতৃভাষার প্রতি সম্মান ও গর্ব বজায় রাখা
- খ. অন্য ভাষাভাষীদের এড়িয়ে চলা উচিত
- গ. বিদেশি ভাষা শেখা নিষিদ্ধ
- ঘ. শুধু ধর্মীয় গ্রন্থ পড়া উচিত
উত্তর: ক। কবিতাটি শেখায়, নিজের মাতৃভাষার প্রতি ভালোবাসা ও সম্মান বজায় রাখা প্রতিটি মানুষের স্বাভাবিক ও প্রয়োজনীয় বোধ— এতে অন্য ভাষার প্রতি অসম্মান দেখানোর প্রয়োজন নেই।
৫০। কবিতাটি বাংলাদেশের ভাষা-আন্দোলনের চেতনার সাথে কীভাবে সাদৃশ্যপূর্ণ?
- ক. উভয়ের মূলে মাতৃভাষার মর্যাদা রক্ষার আকাঙ্ক্ষা
- খ. উভয়ই ধর্মীয় আন্দোলন
- গ. উভয়ই একই সময়ে ঘটেছে
- ঘ. কোনো মিল নেই
উত্তর: ক। যদিও ভিন্ন সময়ে রচিত, উভয়ের মূলে মাতৃভাষার মর্যাদা রক্ষা ও তার প্রতি ভালোবাসার একই চেতনা কাজ করে— এই কারণেই ‘বঙ্গবাণী’ কবিতাকে ভাষাপ্রেমের এক আদি নিদর্শন হিসেবে গণ্য করা হয়।
