১৯৭১ উপন্যাসের MCQ | SSC বাংলা সহপাঠের “১৯৭১” উপন্যাস থেকে বোর্ড পরীক্ষায় নিয়মিত প্রশ্ন আসে। এই পোস্টে উপন্যাসের সারকথা ও ২২১টি বহুনির্বাচনি প্রশ্ন (MCQ) উত্তর ও ব্যাখ্যাসহ দেওয়া হলো। জ্ঞানমূলক ও অনুধাবনমূলক প্রশ্নের জন্য ১৯৭১ উপন্যাসের নোট দেখুন।
ভূমিকা, ঔপন্যাসিক পরিচিতি ও উপন্যাসের আলোচনা
হুমায়ূন আহমেদের ‘১৯৭১’ উপন্যাসের মূল পাঠে প্রবেশের আগে পাঠ্যবইয়ে উপন্যাস সাহিত্যরূপের তত্ত্বকথা, বাংলাদেশের উপন্যাসের সংক্ষিপ্ত পরিচিতি, ঔপন্যাসিক হুমায়ূন আহমেদের পরিচিতি এবং উপন্যাসটির একটি গভীর সমালোচনামূলক আলোচনা দেওয়া আছে। নিচের প্রশ্নগুলো এই ভূমিকা-অংশের প্রতিটি ভাগ ধরে সাজানো হয়েছে, শেষে সংক্ষিপ্তসারও দেওয়া আছে।
ক. উপন্যাস কী — তত্ত্বকথা
১। সাহিত্যের প্রধান রূপ কয়টি ও কী কী?
- ক. চারটি— কবিতা, নাটক, উপন্যাস, গল্প
- খ. ছয়টি
- গ. তিনটি— কবিতা, উপন্যাস, গল্প
- ঘ. পাঁচটি (কবিতা, নাটক, প্রবন্ধ, উপন্যাস, গল্প)
উত্তর: ঘ। সাহিত্যের প্রধান পাঁচটি রূপ হলো কবিতা, নাটক, প্রবন্ধ, উপন্যাস ও গল্প।
২। উপন্যাসকে কেন আধুনিক যুগের সবচেয়ে সফল সাহিত্যরূপ বলে মনে করা হয়?
- ক. জীবনের বৃহত্তর পটভূমি উপস্থাপনের সক্ষমতার কারণে
- খ. এটি সবচেয়ে সংক্ষিপ্ত বলে
- গ. এটি সবচেয়ে প্রাচীন বলে
- ঘ. এটি রচনা করা সহজ বলে
উত্তর: ক। জনপ্রিয়তার দিক থেকে এবং জীবনের বৃহত্তর পটভূমিকে কার্যকরভাবে উপস্থাপনার সক্ষমতায় উপন্যাসকে আধুনিক যুগের সবচেয়ে সফল সাহিত্যরূপ বলে মনে করা হয়।
৩। কাহিনির বিন্যাস বা সজ্জাকে কী বলা হয়?
- ক. থিম
- খ. মোটিফ
- গ. ন্যারেটিভ
- ঘ. প্লট
উত্তর: ঘ। কাহিনির এই বিন্যাস বা সজ্জাকে বলা হয় প্লট।
৪। উপন্যাসে কাহিনির তুলনায় প্লটকে কেন বেশি গুরুত্ব দেওয়া হয়?
- ক. প্লট সহজ বলে
- খ. প্লট ছাড়া উপন্যাস লেখা যায় না
- গ. কাহিনি গুরুত্বহীন
- ঘ. প্লট পাঠকের মনের প্রতিক্রিয়া পরিচালনা করে বলে
উত্তর: ঘ। কাহিনিবিন্যাসের কৌশল ব্যবহার করে ঔপন্যাসিক কোনো ঘটনা বা মুহূর্তকে বিশেষভাবে গুরুত্বপূর্ণ করে তোলেন এবং পাঠকের মনের প্রতিক্রিয়াকে বিশেষভাবে পরিচালিত করেন বলেই প্লটকে বেশি গুরুত্ব দেওয়া হয়।
৫। উপন্যাসে ঘটনার অবলম্বন কী?
- ক. সংলাপ
- খ. পটভূমি
- গ. চরিত্র
- ঘ. প্রকৃতি
উত্তর: গ। ঘটনার অবলম্বন চরিত্র; ব্যক্তিকে অবলম্বন করেই ঘটনা সংঘটিত হয়।
৬। লেখকের কোন বিষয়ের যথার্থ বাহন চরিত্র?
- ক. অর্থনৈতিক অবস্থার
- খ. রাজনৈতিক মতাদর্শের
- গ. ভাষাশৈলীর
- ঘ. জীবনদৃষ্টির
উত্তর: ঘ। চরিত্র কেবল ঘটনার অবলম্বন বা উপন্যাসের উপকরণ নয়, লেখকের জীবনদৃষ্টিরও যথার্থ বাহন।
৭। উপন্যাসে ছোটগল্পের সাথে প্রধান পার্থক্য কী?
- ক. ছোটগল্পে কোনো ঘটনা থাকে না
- খ. ছোটগল্প জীবনের একটি মুহূর্ত প্রকাশ করে, উপন্যাস সামগ্রিকতা প্রকাশ করে
- গ. উপন্যাস গদ্যে লেখা, গল্প পদ্যে
- ঘ. উপন্যাসে চরিত্র থাকে না
উত্তর: খ। ছোটগল্পে প্রকাশিত হয় জীবনের কোনো একটি দিক বা কোনো বিশেষ মুহূর্ত, আর উপন্যাস প্রকাশ করতে চায় জীবনের সামগ্রিকতা।
৮। উপন্যাসে নাটকের সাথে প্রধান পার্থক্য কী?
- ক. নাটক শুধু পদ্যে লেখা হয়
- খ. উপন্যাসে ঘটনা বর্ণিত হয়, নাটকে তা ক্রিয়ামূলকভাবে উপস্থাপিত হয়
- গ. উপন্যাসে চরিত্র থাকে না
- ঘ. নাটকে কোনো কাহিনি থাকে না
উত্তর: খ। উপন্যাসে যেখানে ঘটনা বর্ণনা করা হয়, নাটকে সেখানে ঘটনা ক্রিয়ামূলকভাবে (অভিনয়ের মাধ্যমে) উপস্থাপন করা হয়।
৯। উপন্যাসের সংজ্ঞার্থ অনুযায়ী এটি প্রধানত কোন ভাষায় লেখা?
- ক. গদ্যে
- খ. মিশ্র ভাষায়
- গ. পদ্যে
- ঘ. সাংকেতিক ভাষায়
উত্তর: ক। উপন্যাস প্রধানত গদ্যে লেখা বর্ণনামূলক সাহিত্যরূপ।
১০। ইউরোপে উপন্যাসচর্চা কোন শতাব্দীতে শুরু হয় বলে বেশিরভাগ পণ্ডিত মনে করেন?
- ক. চতুর্দশ শতকে
- খ. আঠারো শতকে
- গ. ষোল শতকে
- ঘ. বিংশ শতকে
উত্তর: গ। ষোল শতকে ইউরোপে আধুনিকতার সূত্রপাত হওয়ার সময়েই উপন্যাসচর্চা শুরু হয়েছে বলে বেশিরভাগ পণ্ডিত মনে করেন।
১১। পুরনো দুনিয়ায় জীবনের সমগ্রতা ধারণের কাজ কে করত?
- ক. গীতিকবিতা
- খ. প্রবন্ধ
- গ. নাটক
- ঘ. মহাকাব্য
উত্তর: ঘ। পুরনো দুনিয়ায় জীবনের সমগ্রতা ধারণের এ কাজ করত মহাকাব্য, যার বিষয় ছিল সুদূর অতীতের কল্পিত জীবন।
১২। উপন্যাসের জগৎকে কী বলে বর্ণনা করা হয়েছে, মহাকাব্যের বিপরীতে?
- ক. অতীতময়
- খ. কল্পনাময়
- গ. বর্তমানময়
- ঘ. ভবিষ্যৎময়
উত্তর: গ। মহাকাব্যের বিষয় সুদূর অতীতের কল্পিত জীবন হলেও উপন্যাসের জগৎ ‘বর্তমানময়’।
১৩। বিশ শতকের কোন শিল্পমাধ্যমের সাথে উপন্যাসের তুলনা করা চলে বলে বলা হয়েছে?
- ক. সংগীত
- খ. চিত্রকলা
- গ. স্থাপত্য
- ঘ. সিনেমা
উত্তর: ঘ। জীবনের বিচিত্র রূপ ও সামগ্রিকতা প্রকাশের সক্ষমতার কারণে বিশ শতকের শিল্পমাধ্যম সিনেমার সাথে উপন্যাসের তুলনা করা চলে।
গ. বাংলাদেশের উপন্যাসের সংক্ষিপ্ত পরিচিতি
১৪। বাংলাদেশের উপন্যাসের যাত্রা কোন সময় থেকে শুরু হয়?
- ক. ১৯৪৭ সালে ব্রিটিশ সাম্রাজ্য ভাঙার পর
- খ. ১৯৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধের পর
- গ. ১৯০৫ সালের বঙ্গভঙ্গের পর
- ঘ. ১৯৫২ সালের ভাষা আন্দোলনের পর
উত্তর: ক। ১৯৪৭ সালে ব্রিটিশ সাম্রাজ্য ভেঙে ভারত ও পাকিস্তান নামে দুটি দেশের জন্ম হলে পূর্ব বাংলায় নতুন সামাজিক-রাজনৈতিক অবস্থার সূচনা ঘটে, এই সময় থেকেই বাংলাদেশের উপন্যাসের যাত্রা শুরু হয়।
১৫। গ্রামীণ পটভূমিতে রচিত উপন্যাসের তালিকায় কার লালসালু উল্লেখ করা হয়েছে?
- ক. আবু ইসহাকের
- খ. শওকত ওসমানের
- গ. সৈয়দ ওয়ালীউল্লাহর
- ঘ. জহির রায়হানের
উত্তর: গ। সৈয়দ ওয়ালীউল্লাহর লালসালু, কাঁদো নদী কাঁদো, চাঁদের অমাবস্যা— এসব গ্রামীণ পটভূমিতে রচিত উপন্যাসের তালিকায় উল্লেখ আছে।
১৬। নগর জীবনের পটভূমিতে রচিত উপন্যাসের তালিকায় আখতারুজ্জামান ইলিয়াসের কোন উপন্যাসের নাম আছে?
- ক. আগুনপাখি
- খ. সংশপ্তক
- গ. চিলেকোঠার সেপাই
- ঘ. খোয়াবনামা
উত্তর: গ। নগর জীবনের পটভূমিতে রচিত উপন্যাসের তালিকায় আখতারুজ্জামান ইলিয়াসের চিলেকোঠার সেপাই উল্লেখ আছে (খোয়াবনামা তাঁর গ্রামীণ পটভূমির উপন্যাস)।
১৭। ঐতিহাসিক ও মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক উপন্যাসের তালিকায় হুমায়ূন আহমেদের কোন কোন উপন্যাসের নাম আছে?
- ক. নন্দিত নরকে ও শঙ্খনীল কারাগার
- খ. আগুনের পরশমণি ও জ্যোৎস্না ও জননীর গল্প
- গ. কবি ও মধ্যাহ্ন
- ঘ. হিমু ও মিসির আলি সিরিজ
উত্তর: খ। ঐতিহাসিক ও মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক উপন্যাসের তালিকায় হুমায়ূন আহমেদের আগুনের পরশমণি, জ্যোৎস্না ও জননীর গল্প এবং ১৯৭১-এর নাম উল্লেখ আছে।
১৮। শহীদুল্লাহ কায়সারের কোন উপন্যাসটি গ্রাম ও নগর কেন্দ্রিক জীবনের পটভূমিতে রচিত উপন্যাসের তালিকায় আছে?
- ক. জননী
- খ. খোয়াবনামা
- গ. সংশপ্তক
- ঘ. সারেং বউ
উত্তর: গ। শহীদুল্লাহ কায়সারের সংশপ্তক গ্রাম ও নগর কেন্দ্রিক জীবনের পটভূমিতে রচিত উপন্যাসের তালিকায় উল্লেখ আছে (সারেং বউ তাঁর আঞ্চলিক উপন্যাস)।
১৯। বাংলাদেশের ঔপন্যাসিকেরা কীসের ভিত্তিতে উপন্যাস রচনা করেছেন বলে উল্লেখ আছে, শ্রেণিকরণের বাইরেও?
- ক. শুধু ধর্মীয় বিষয়ে
- খ. শুধু রাজনৈতিক দলের ভিত্তিতে
- গ. বয়সভেদে নানা বিষয়কে কেন্দ্র করে
- ঘ. শুধু লিঙ্গের ভিত্তিতে
উত্তর: গ। এই বিভাজন ছাড়াও বয়সভেদে নানা বিষয়কে কেন্দ্র করে উপন্যাস রচনা করেছেন বাংলাদেশের ঔপন্যাসিকেরা— বড়দের জন্য যেমন লিখেছেন, তেমনি লিখেছেন ছোটদের জন্যও।
ঘ. ঔপন্যাসিক পরিচিতি: হুমায়ূন আহমেদ
২০। হুমায়ূন আহমেদ কত খ্রিষ্টাব্দে জন্মগ্রহণ করেন?
- ক. ১৯৪৭
- খ. ১৯৪৯
- গ. ১৯৪৬
- ঘ. ১৯৪৮
উত্তর: ঘ। তিনি ১৯৪৮ সালের ১৩ই নভেম্বর জন্মগ্রহণ করেন।
২১। হুমায়ূন আহমেদের জন্মস্থান কোথায়?
- ক. নেত্রকোনা জেলা
- খ. ময়মনসিংহ জেলা
- গ. কিশোরগঞ্জ জেলা
- ঘ. সিলেট জেলা
উত্তর: ক। তিনি নেত্রকোনা জেলায় জন্মগ্রহণ করেন।
২২। হুমায়ূন আহমেদ ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের কোন বিভাগ থেকে বিএসসি ও এমএসসি করেন?
- ক. গণিত
- খ. রসায়ন
- গ. পদার্থবিজ্ঞান
- ঘ. পরিসংখ্যান
উত্তর: খ। তিনি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের রসায়ন বিভাগ থেকে বিএসসি (অনার্স) ও এমএসসি করেন।
২৩। হুমায়ূন আহমেদ কোথা থেকে পিএইচডি ডিগ্রি অর্জন করেন?
- ক. যুক্তরাষ্ট্রের নর্থ ডেকোটা স্টেট ইউনিভার্সিটি
- খ. জার্মানির হাইডেলবার্গ বিশ্ববিদ্যালয়
- গ. যুক্তরাজ্যের অক্সফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয়
- ঘ. কানাডার টরন্টো বিশ্ববিদ্যালয়
উত্তর: ক। তিনি যুক্তরাষ্ট্রের নর্থ ডেকোটা স্টেট ইউনিভার্সিটি থেকে পিএইচডি ডিগ্রি অর্জন করেন।
২৪। হুমায়ূন আহমেদের কর্মজীবন কোথায় শুরু হয়?
- ক. বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ে
- খ. রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ে
- গ. জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ে
- ঘ. ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে
উত্তর: ক। তাঁর কর্মজীবন শুরু হয়েছিল বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ে।
২৫। হুমায়ূন আহমেদ কত সাল থেকে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের রসায়ন বিভাগে শিক্ষকতা শুরু করেন?
- ক. ১৯৭২
- খ. ১৯৭৩
- গ. ১৯৭৫
- ঘ. ১৯৭৪
উত্তর: ঘ। ১৯৭৪ সাল থেকে তিনি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের রসায়ন বিভাগে শিক্ষকতা শুরু করেন।
২৬। হুমায়ূন আহমেদ কত সালে অধ্যাপনা থেকে অবসর নেন?
- ক. ১৯৯৭
- খ. ১৯৯৫
- গ. ১৯৯৬
- ঘ. ১৯৯৪
উত্তর: গ। ১৯৯৬ সালে অধ্যাপনা থেকে অবসর নিয়ে তিনি সার্বক্ষণিক সাহিত্যচর্চা ও নাটক-সিনেমা নির্মাণে মনোনিবেশ করেন।
২৭। হুমায়ূন আহমেদের রচনায় বিশেষভাবে কোন যুগের নাগরিক মধ্যবিত্ত জীবনের চিত্র অঙ্কনে তাঁর নৈপুণ্যের তুলনা বিরল বলা হয়েছে?
- ক. দুই হাজার সালের পর
- খ. পঞ্চাশ ও ষাটের দশক
- গ. নব্বইয়ের দশক
- ঘ. সত্তর ও আশির দশক
উত্তর: ঘ। বিশ শতকের সত্তর ও আশির দশকের নাগরিক মধ্যবিত্ত জীবনের চিত্র অঙ্কনে হুমায়ূন আহমেদের নৈপুণ্যের তুলনা বিরল।
২৮। হুমায়ূন আহমেদের সাফল্য ও প্রসিদ্ধি মূলত কোন ধরনের রচনা থেকে এসেছে?
- ক. বড় আকারের উপন্যাস
- খ. প্রবন্ধ
- গ. কবিতা
- ঘ. নভেলা বা ছোট উপন্যাস
উত্তর: ঘ। বড় উপন্যাস বেশ কয়েকটি লিখলেও তাঁর সাফল্য ও প্রসিদ্ধি এসেছে মূলত ছোট আকারের উপন্যাস বা নভেলা থেকে, যার একটি উদাহরণ ১৯৭১।
২৯। নিচের কোনটি হুমায়ূন আহমেদের সৃষ্ট জনপ্রিয় চরিত্র নয়?
- ক. ফেলুদা
- খ. শুভ্র
- গ. হিমু
- ঘ. মিসির আলি
উত্তর: ক। ফেলুদা সত্যজিৎ রায়ের সৃষ্ট চরিত্র; হিমু, মিসির আলি ও শুভ্র হুমায়ূন আহমেদের সৃষ্ট জনপ্রিয় চরিত্র।
৩০। হুমায়ূন আহমেদ কত খ্রিষ্টাব্দে মৃত্যুবরণ করেন?
- ক. ২০১০
- খ. ২০১৩
- গ. ২০১১
- ঘ. ২০১২
উত্তর: ঘ। ২০১২ সালের ১৯শে জুলাই তিনি মৃত্যুবরণ করেন।
উপন্যাসের আলোচনা: ১৯৭১
৩১। ‘১৯৭১’ উপন্যাসটি সম্পর্কে প্রফেসর আব্দুর রাজ্জাকের প্রতিক্রিয়া কী ছিল?
- ক. তিনি বইটি পড়েননি
- খ. বইয়ের নাম ১৯৭১ অথচ পৃষ্ঠা মাত্র সত্তর দেখে বিস্মিত হন
- গ. তিনি বইটির প্রশংসা করেননি
- ঘ. তিনি বইটি পছন্দ করেননি
উত্তর: খ। প্রফেসর আব্দুর রাজ্জাক বিস্মিত হয়ে বলেছিলেন, যে বইয়ের নাম ১৯৭১, তার পৃষ্ঠাসংখ্যা মাত্র সত্তর?
৩২। প্রফেসর রাজ্জাক হুমায়ূনকে কী উপদেশ দিয়েছিলেন?
- ক. নিজের মতো লিখতে, কারো কথা না শুনতে
- খ. মুক্তিযুদ্ধ নিয়ে না লিখতে
- গ. আরও বড় বই লিখতে
- ঘ. বইটি সংশোধন করতে
উত্তর: ক। প্রফেসর রাজ্জাক উপদেশ দিয়েছিলেন, নিজের মতো লিখবেন, কারো কথা শুনবেন না।
৩৩। উপন্যাসের আলোচনা অনুযায়ী ‘১৯৭১’ প্রাথমিকভাবে কীসের কাহিনি?
- ক. মুক্তিযুদ্ধের
- খ. যুদ্ধের কাহিনি, মুক্তিযুদ্ধ পরে আবিষ্কৃত হয়
- গ. রাজনীতির
- ঘ. প্রেমের
উত্তর: খ। আলোচনা অনুযায়ী এটি প্রাথমিকভাবে যুদ্ধের কাহিনি, মুক্তিযুদ্ধের নয়— মুক্তিযুদ্ধটা আবিষ্কৃত হয়েছে পরে, যুদ্ধের মধ্য দিয়ে।
৩৪। উপন্যাসের বর্ণনাশৈলীর সাথে কোন শিল্পমাধ্যমের কৌশলের তুলনা করা হয়েছে?
- ক. সংগীতের
- খ. স্থাপত্যের
- গ. চলচ্চিত্রের
- ঘ. চিত্রকলার
উত্তর: গ। বিবরণের চিত্রধর্মিতা, চরিত্রের আগমন-তিরোভাব-ক্রিয়া, পটভূমির ফটোগ্রাফিক নির্মাণ চলচ্চিত্রের কৌশলকেই স্মরণ করিয়ে দেয়।
৩৫। মেজর এজাজ আহমেদের ক্ষোভের কারণ কী ছিল?
- ক. তাকে কঠিন এলাকায় পাঠানো হয়েছিল
- খ. তার পদোন্নতি হয়নি
- গ. তার বন্ধু বিরোধী জোয়ানদের হাতে বন্দি হয়েছিল
- ঘ. তার বেতন কম ছিল
উত্তর: গ। মেজর এজাজ আহমেদের ক্ষোভ ছিল কারণ তার বন্ধু (মেজর বখতিয়ার) বন্দি হয়েছিল বিরোধী জোয়ানদের হাতে।
৩৬। মেজর এজাজ কোন মিলিটারি একাডেমির কৃতী ক্যাডেট ছিলেন?
- ক. ওয়েস্ট পয়েন্ট
- খ. কাকুল
- গ. স্যান্ডহার্স্ট
- ঘ. চিটাগং
উত্তর: খ। মেজর এজাজ কাকুল মিলিটারি একাডেমির একজন কৃতী ক্যাডেট।
৩৭। মেজর এজাজের গ্রামের নাম কী ও কোথায় অবস্থিত?
- ক. মধুবন, পাঞ্জাবে
- খ. করাচি, সিন্ধুতে
- গ. নীলগঞ্জ, বাংলাদেশে
- ঘ. রেশোবা, পেশোয়ারে
উত্তর: ঘ। তার গাঁয়ের নাম রেশোবা, যা পেশোয়ারের এক অখ্যাত গ্রাম।
৩৮। উপন্যাসের আলোচনায় মেজর এজাজের সহচরের নাম কী উল্লেখ আছে যাকে সে জাতিগত ঘৃণার কথা বলেছে?
- ক. জয়নাল
- খ. আজিজ
- গ. রফিক
- ঘ. মতি
উত্তর: গ। এজাজ তার সহচর রফিককে বাঙালির জাতিগত হীনতা বিষয়ে কোনো রাখঢাক না রেখেই তার নিশ্চয়তার কথা বলেছে।
৩৯। উপন্যাসের আলোচনা অনুযায়ী মেজর এজাজের চরিত্র সম্পর্কে কী বলা হয়েছে?
- ক. এটি একটি সাধারণ, গুরুত্বহীন চরিত্র
- খ. এটি সুচিত্রিত চরিত্র, বিদ্বেষ ছাড়াই অঙ্কিত
- গ. এটি একটি অস্পষ্ট চরিত্র
- ঘ. এটি একটি হাস্যরসাত্মক চরিত্র
উত্তর: খ। মেজর এজাজ এ উপন্যাসের সবচেয়ে সুচিত্রিত চরিত্রগুলোর একটি; হুমায়ূন আহমেদ কোনো প্রকার বিদ্বেষ ছাড়াই তাকে অঙ্কন করে গেছেন।
৪০। আলোচনা অনুযায়ী এজাজের নিপীড়নমূলক কর্মকাণ্ডকে কী হিসেবে দেখার তাগিদ অনুভূত হয়?
- ক. দুর্ঘটনা হিসেবে
- খ. ভুল বোঝাবুঝি হিসেবে
- গ. কাঠামোগত সন্ত্রাস হিসেবে
- ঘ. ব্যক্তিগত স্বভাব হিসেবে
উত্তর: গ। এজাজের অবস্থান ও কর্মকাণ্ডকে ব্যক্তিগত স্বভাব হিসেবে না দেখে কাঠামোগত সন্ত্রাস হিসেবে দেখার তাগিদ অনুভূত হয়।
৪১। আলোচনায় বলা হয়েছে, লেখক প্রথমে অঞ্চলের মানুষদের কীসের ভিত্তিতে বিন্যস্ত করেছেন?
- ক. ধর্মের ভিত্তিতে
- খ. বয়সের ভিত্তিতে
- গ. শ্রেণি, পেশা ও ক্ষমতাসম্পর্কের ভিত্তিতে
- ঘ. লিঙ্গের ভিত্তিতে
উত্তর: গ। লেখক প্রথমেই শ্রেণি, পেশা, শিক্ষা ও ক্ষমতাসম্পর্কের ভিত্তিতে ওই অঞ্চলের মানুষদের বিন্যাসটা উপস্থাপন করেছেন।
৪২। কালক্রমে এই ভিত্তিকাঠামোর জায়গা কী দখল করে বলে আলোচনায় বলা হয়েছে?
- ক. আলোচনার মাধ্যমে সমাধান
- খ. আরও যুক্তিসংগত ব্যবস্থা
- গ. বর্ণবাদ ও পরিকল্পিত সন্ত্রাসের যুদ্ধনীতি
- ঘ. শান্তিপূর্ণ সহাবস্থান
উত্তর: গ। শীঘ্রই এই ভিত্তিকাঠামো ভেঙে পড়তে শুরু করে, তার জায়গা দখল করে বর্ণবাদী আচরণ, আইনের শাসন প্রতিষ্ঠার সুভাষণ ও পরিকল্পিত সন্ত্রাস তৈরির যুদ্ধনীতি।
৪৩। চিত্রা বুড়ির ছেলের খুনের বিচারের নামে কাকে হত্যা করা হয় বলে আলোচনায় উল্লেখ আছে?
- ক. রফিককে
- খ. আজিজ মাস্টারকে
- গ. জয়নাল মিয়াকে
- ঘ. মনা কৈবর্তকে
উত্তর: ঘ। চিত্রা বুড়ির ছেলের খুনের বিচারের নামে মনা কৈবর্তকে মেরে ন্যায়বিচারের একটা বিভ্রম তৈরি হয়।
৪৪। মুক্তিযুদ্ধকে ‘জনযুদ্ধ’ বা ‘গণযুদ্ধ’ বলার ভিত্তি কী বলে আলোচনায় বলা হয়েছে?
- ক. রাজনৈতিক দলের নেতৃত্ব
- খ. ধর্মীয় প্রেরণা
- গ. পরিস্থিতিই মানুষকে যুদ্ধক্ষেত্রে নামিয়ে আনে বলে
- ঘ. বিদেশি সাহায্য
উত্তর: গ। পরিস্থিতিই অস্তিত্বের শেষ সীমানায় ফেলে দিয়ে সাধারণ মানুষকে যুদ্ধক্ষেত্রে নামিয়ে এনেছে— এটাই একমাত্র ভিত্তি যার জোরে মুক্তিযুদ্ধকে জনযুদ্ধ বলা যায়।
৪৫। রফিক চরিত্রটিকে আলোচনায় কীভাবে পড়ার আমন্ত্রণ দেওয়া হয়েছে?
- ক. প্রতীকী চরিত্র হিসেবে, যে কোনো গ্রামের রফিক
- খ. একজন হাস্যরসাত্মক চরিত্র হিসেবে
- গ. একজন গুরুত্বহীন চরিত্র হিসেবে
- ঘ. একজন বাস্তব ঐতিহাসিক ব্যক্তি হিসেবে
উত্তর: ক। রফিককে বাস্তব হিসেবে না পড়ে প্রতীকী চরিত্র হিসেবে পড়ার নিগূঢ় আমন্ত্রণ আছে উপন্যাসে— সে বাংলাদেশের যে কোনো গ্রামের যে কোনো রফিক হয়ে ওঠে।
৪৬। রফিক শেষ পর্যন্ত কী করে?
- ক. এজাজের মুখোমুখি দাঁড়িয়ে প্রতিবাদ করে বিলের পানিতে নামে
- খ. এজাজকে হত্যা করে
- গ. গ্রাম ছেড়ে চলে যায়
- ঘ. এজাজের পক্ষ ত্যাগ করে পালিয়ে যায়
উত্তর: ক। রফিক মেজর এজাজের মুখোমুখি দাঁড়িয়ে, একটুও ভীত না হয়ে, এজাজের আশু ধ্বংসবার্তা প্রচার করে বিলের পানিতে (মৃত্যুর দিকে) নামতে থাকে।
৪৭। রফিকের এই কাজকে আলোচনায় কী হিসেবে বর্ণনা করা হয়েছে?
- ক. একটি আবেগপ্রবণ কাজ মাত্র
- খ. জীবন দিয়ে প্রতিবাদ ও নতুন বাংলাদেশের জন্মলগ্ন
- গ. একটি ব্যর্থ প্রচেষ্টা
- ঘ. একটি ভুল সিদ্ধান্ত
উত্তর: খ। যুদ্ধ নয়, অন্যায় যুদ্ধ— এই নিশ্চয়তার পর প্রতিবাদ ছাড়া রফিকের হাতে আর কোনো উপায় ছিল না; জীবন দিয়ে করা এই প্রতিবাদকেই বদলে যাওয়া নতুন বাংলাদেশের জন্মলগ্ন বলে বর্ণনা করা হয়েছে।
৪৮। মীর আলি চরিত্রকে আলোচনায় কীসের প্রতীক হিসেবে পড়া সঙ্গত বলা হয়েছে?
- ক. বিজয়ের প্রতীক
- খ. আশাবাদের প্রতীক
- গ. একাত্তরের মানবিক বিপর্যয়ের প্রতীক
- ঘ. মুক্তিযোদ্ধাদের প্রতীক
উত্তর: গ। ঝড়-কবলিত মীর আলিকে একাত্তরের অন্যায় সমরে সংঘটিত মানবিক বিপর্যয়ের প্রতীক হিসেবে পড়াই সঙ্গত বলে আলোচনায় বলা হয়েছে।
৪৯। মীর আলি ও মেজর এজাজের মধ্যে কোন মিল রয়েছে বলে আলোচনায় বলা হয়েছে?
- ক. উভয়ের ঘরেই একজন অন্ধ পিতা রয়েছে
- খ. উভয়েই সৈনিক
- গ. উভয়েই একই বয়সের
- ঘ. উভয়েই একই ধর্মের
উত্তর: ক। এজাজের নিজের কথামতো তার গ্রাম রেশোবাতেও তার অন্ধ পিতা নীলগঞ্জের মীর আলির মতোই বাড়ির দরজায় বসে থাকে— এই আশ্চর্য মিল আলোচনায় উল্লেখ করা হয়েছে।
৫০। আলোচনা অনুযায়ী কোন প্রাকৃতিক দুর্যোগের চিত্র উপন্যাসে আমদানি করা হয়েছে, তুলনাসূত্রে?
- ক. কালবৈশাখী ঝড়
- খ. বন্যা
- গ. ভূমিকম্প
- ঘ. খরা
উত্তর: ক। হুমায়ূন তুলনাসূত্রেই আমদানি করেন এক কালবৈশাখীর চিত্র, যা উপন্যাসে নানারকম দায়িত্ব পালন করেছে।
৫১। মীর আলির ঘরের চালা ঝড়ে উড়ে যাওয়ার ঘটনাটি কী তাৎপর্য বহন করে?
- ক. এটি নিছক একটি প্রাকৃতিক দুর্ঘটনা
- খ. এটি ইঙ্গিত দেয় পরিবারটি খুব দরিদ্র
- গ. এর কোনো বিশেষ তাৎপর্য নেই
- ঘ. আগেও ঘটেছিল, কিন্তু এবার উভয় পীড়নে সামলে ওঠা সম্ভব নয়
উত্তর: ঘ। মীর আলির ভাগ্যে আগেও একবার এই ঘটনা ঘটেছিল এবং পরিবারটি দ্রুত সামলে উঠেছিল, কিন্তু এবার প্রাকৃতিক পীড়নের পাশাপাশি এজাজদের প্ররোচনায় সংঘটিত মানবিক বিপর্যয়ের কারণে তা সামলে ওঠার আর কোনো আশা থাকে না।
সংক্ষেপে মনে রাখার মূল বিষয় (ভূমিকা, ঔপন্যাসিক পরিচিতি ও উপন্যাসের আলোচনা)
উপন্যাস তত্ত্ব
সাহিত্যের পাঁচ রূপের একটি— কবিতা, নাটক, প্রবন্ধ, উপন্যাস, গল্প। কাহিনির বিন্যাস = প্লট; চরিত্র লেখকের জীবনদৃষ্টির বাহন। উপন্যাস গদ্যে লেখা, ‘বর্তমানময়’ জগতের সাহিত্যরূপ, ষোল শতকে ইউরোপে সূচনা।
বাংলাদেশের উপন্যাস
১৯৪৭-পরবর্তী নতুন সামাজিক-রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে যাত্রা শুরু; ছয় শ্রেণিতে বিন্যস্ত— গ্রামীণ, নগরকেন্দ্রিক, গ্রাম-নগর মিশ্র, আঞ্চলিক, মনস্তাত্ত্বিক-দার্শনিক, এবং ঐতিহাসিক-মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক।
ঔপন্যাসিক
হুমায়ূন আহমেদ (জন্ম ১৩ নভেম্বর ১৯৪৮, নেত্রকোনা; মৃত্যু ১৯ জুলাই ২০১২)। রসায়নে পিএইচডি, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক ছিলেন ১৯৭৪-৯৬। নন্দিত নরকে, শঙ্খনীল কারাগার, ১৯৭১-সহ অসংখ্য নভেলা; হিমু-মিসির আলি-শুভ্র চরিত্রের স্রষ্টা।
উপন্যাসের আলোচনা— মূল বিষয়
- প্রফেসর আব্দুর রাজ্জাকের মন্তব্য ও উপদেশের প্রসঙ্গ।
- উপন্যাসটি মূলত যুদ্ধের কাহিনি, মুক্তিযুদ্ধ পরে আবিষ্কৃত হয়— চলচ্চিত্রীয় বর্ণনাশৈলী।
- মেজর এজাজ আহমেদ— সুচিত্রিত, নিরপেক্ষভাবে অঙ্কিত চরিত্র; তার নিপীড়ন কাঠামোগত সন্ত্রাসের প্রতিফলন।
- শ্রেণি-পেশা-ক্ষমতার ভিত্তিকাঠামো ভেঙে বর্ণবাদ ও সন্ত্রাসের উত্থান।
- রফিক— প্রতীকী চরিত্র, বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধের প্রতিনিধি, জীবন দিয়ে প্রতিবাদ।
- মীর আলি— একাত্তরের অন্যায় সমরে মানবিক বিপর্যয়ের প্রতীক; এজাজের অন্ধ পিতার সাথে তার সাদৃশ্য।
- কালবৈশাখী ঝড়ের প্রতীকী ব্যবহার।
মূল ভাব/তাৎপর্য
‘১৯৭১’ উপন্যাস সংক্ষিপ্ত পরিসরে অসাধারণ ইশারার গভীরতায় মুক্তিযুদ্ধের প্রকৃত চরিত্র উন্মোচন করে— এটি প্রথমত সাধারণ মানুষের ওপর চাপিয়ে দেওয়া এক অন্যায় যুদ্ধের কাহিনি, যা ক্রমে রূপান্তরিত হয় সর্বব্যাপী জনযুদ্ধে।
মূলপাঠ, পর্ব ১ (অধ্যায় ১-৭)
হুমায়ূন আহমেদের ‘১৯৭১’ উপন্যাসের প্রথম পর্বে নীলগঞ্জ গ্রামের পটভূমি, তার বাসিন্দাদের পরিচয় এবং ১৯৭১ সালের ১লা মে ভোরে পাকিস্তানি হানাদার বাহিনীর আকস্মিক আগমন ও তার ভয়াবহতা বর্ণিত হয়েছে। নিচের প্রশ্নগুলো এই অংশের প্রতিটি অধ্যায় ধরে সাজানো, শেষে সংক্ষিপ্তসারও দেওয়া আছে।
—
**১। উপন্যাসের শুরুতে মীর আলির কী সমস্যা বলে জানা যায়?**
ক. সে বধির খ. সে কথা বলতে পারে না গ. সে হাঁটতে পারে না ঘ. সে চোখে দেখে না
**উত্তর: ঘ।** উপন্যাসের প্রথম বাক্যেই বলা হয়েছে, ‘মীর আলি চোখে দেখে না।’
**২। মীর আলির বয়স কত বলে উল্লেখ আছে?**
ক. প্রায় পঁচাত্তর খ. প্রায় ষাট গ. প্রায় আশি ঘ. প্রায় সত্তর
**উত্তর: ঘ।** মীর আলির বয়স প্রায় সত্তর।
**৩। মীর আলির বড় ছেলের নাম কী?**
ক. রফিক খ. আজিজ গ. বদিউজ্জামান ঘ. মতি
**উত্তর: গ।** মীর আলির বড় ছেলে বদিউজ্জামান, মধুবন বাজারে যার একটা মনোহারি দোকান আছে।
**৪। বদিউজ্জামানের স্ত্রীর নাম কী?**
ক. অনুফা খ. জমিলা গ. রেণু ঘ. পরীবানু
**উত্তর: ক।** বদিউজ্জামানের স্ত্রীর নাম অনুফা, যার গলার স্বর অত্যন্ত তীক্ষ্ণ।
**৫। মীর আলির নাতনির নাম কী ও বয়স কত?**
ক. রুনু, বয়স দুই খ. পরীবানু, বয়স তিন গ. জমিলা, বয়স পাঁচ ঘ. মিনু, বয়স চার
**উত্তর: খ।** মীর আলির নাতনির নাম পরীবানু, বয়স তিন।
**৬। মীর আলির গ্রামের নাম কী?**
ক. নান্দাইল খ. রূয়াইল গ. মধুবন ঘ. নীলগঞ্জ
**উত্তর: ঘ।** গ্রামের নাম নীলগঞ্জ।
**৭। উপন্যাসের ঘটনা কোন তারিখে শুরু হয় বলে উল্লেখ আছে?**
ক. পহেলা এপ্রিল, ১৯৭১ খ. পঁচিশে মার্চ, ১৯৭১ গ. পহেলা জুন, ১৯৭১ ঘ. পহেলা মে, ১৯৭১
**উত্তর: ঘ।** পহেলা মে, উনিশশো একাত্তর সালে উপন্যাসের ঘটনা শুরু হয়।
**৮। ক্ষুদ্র সেনাবাহিনী দলের অধিনায়কের নাম ও পদবি কী?**
ক. জেনারেল ইয়াহিয়া খ. কর্নেল রহমান গ. ক্যাপ্টেন খালিদ ঘ. মেজর এজাজ আহমেদ
**উত্তর: ঘ।** ক্ষুদ্র সেনাবাহিনী দলের অধিনায়ক মেজর এজাজ আহমেদ।
**৯। মেজর এজাজ আহমেদ কোন মিলিটারি একাডেমির কৃতী ক্যাডেট?**
ক. স্যান্ডহার্স্ট খ. কাকুল গ. চিটাগং ঘ. ফ্রন্টিয়ার
**উত্তর: খ।** তিনি কাকুল মিলিটারি একাডেমির একজন কৃতী ক্যাডেট, বাড়ি পেশোয়ারের রেশোবা গ্রামে।
—
**১০। ময়মনসিংহ-ভৈরব লাইনের যে স্টেশনের কথা বলা হয়েছে তার নাম কী?**
ক. নান্দাইল রোড খ. মধুবন রোড গ. রূয়াইল রোড ঘ. নীলগঞ্জ রোড
**উত্তর: ক।** ময়মনসিংহ-ভৈরব লাইনের স্টেশনটির নাম নান্দাইল রোড।
**১১। নান্দাইল রোড থেকে দশ মাইল উত্তরে কোন বাজার অবস্থিত?**
ক. জংলা বাজার খ. মধুবন বাজার গ. নীলগঞ্জ বাজার ঘ. রূয়াইল বাজার
**উত্তর: ঘ।** নান্দাইল রোড থেকে সোজা উত্তরে দশ মাইল দূরে রূয়াইল বাজার, এ অঞ্চলের সবচেয়ে বড় বাজার।
**১২। রূয়াইল বাজার থেকে আরও ত্রিশ মাইল উত্তরে কোন বাজার?**
ক. সোহাগী বাজার খ. মধুবন বাজার গ. জংলা বাজার ঘ. নান্দাইল বাজার
**উত্তর: খ।** রূয়াইল বাজারকে পেছনে ফেলে আরও মাইল ত্রিশেক উত্তরে মধুবন বাজার।
**১৩। ঘন জঙ্গলের স্থানীয় নাম কী?**
ক. মধুবনের জংলা মাঠ খ. নীলগঞ্জের বন গ. রূয়াইলের অরণ্য ঘ. কৈবর্তপাড়ার জঙ্গল
**উত্তর: ক।** ঘন জঙ্গলের স্থানীয় নাম মধুবনের জংলা মাঠ।
**১৪। নীলগঞ্জ গ্রামটি কেমন বলে বর্ণনা করা হয়েছে?**
ক. দরিদ্র, ত্রিশ-চল্লিশ ঘরের বিচ্ছিন্ন জনপদ খ. আধুনিক ও উন্নত গ. সমৃদ্ধ ও জনবহুল ঘ. পাহাড়ি অঞ্চল
**উত্তর: ক।** নীলগঞ্জ দরিদ্র, শ্রীহীন, ত্রিশ-চল্লিশ ঘরের একটি বিচ্ছিন্ন জনপদ।
**১৫। গ্রামের একমাত্র পাকা দালানটি কে নির্মাণ করেছিলেন?**
ক. চন্দ্রকান্ত সেন খ. হাতেম আলি গ. জয়নাল মিয়া ঘ. নীলু সেন
**উত্তর: ক।** সুসং দুর্গাপুরের মহারাজার নায়েব চন্দ্রকান্ত সেন এই বাড়ি বানিয়েছিলেন।
**১৬। চন্দ্রকান্ত সেনের মৃত্যু কীভাবে হয়?**
ক. বার্ধক্যে খ. অসুস্থতায় গ. দুর্ঘটনায় ঘ. গৃহপ্রবেশের দিন সর্পাঘাতে
**উত্তর: ঘ।** গৃহপ্রবেশের দিন সর্পাঘাতে চন্দ্রকান্ত সেন মারা যান।
**১৭। চন্দ্রকান্ত সেনের বর্তমান উত্তরাধিকারীর নাম কী?**
ক. চিত্রা বুড়ি খ. জয়নাল মিয়া গ. নীলু সেন ঘ. মনা কৈবর্ত
**উত্তর: গ।** চন্দ্রকান্ত সেনের বর্তমান একমাত্র উত্তরাধিকারী নীলু সেন, বয়স প্রায় পঞ্চাশ।
**১৮। গ্রামের সবচেয়ে সম্পদশালী ব্যক্তি কে?**
ক. নীলু সেন খ. হাতেম আলি গ. জয়নাল মিয়া ঘ. আজিজ মাস্টার
**উত্তর: গ।** গ্রামের সবচেয়ে সম্পদশালী ব্যক্তি জয়নাল মিয়া, যিনি মেরুদণ্ডহীন ও সবার মন রেখে কথা বলার চেষ্টা করেন।
**১৯। নীলগঞ্জে কয়জন ‘বিদেশি’ (বহিরাগত) লোক আছেন বলে উল্লেখ আছে?**
ক. দুইজন খ. একজন গ. তিনজন ঘ. চারজন
**উত্তর: ক।** নীলগঞ্জে দুজন বিদেশি লোক আছেন— নীলগঞ্জ মসজিদের ইমাম সাহেব এবং আজিজ মাস্টার।
**২০। আজিজ মাস্টার কোন প্রতিষ্ঠানের প্রধান শিক্ষক?**
ক. নীলগঞ্জ প্রাইমারি স্কুল খ. মধুবন স্কুল গ. নীলগঞ্জ হাইস্কুল ঘ. রূয়াইল কলেজ
**উত্তর: ক।** আজিজ মাস্টার নীলগঞ্জ প্রাইমারি স্কুলের হেডমাস্টার।
—
**২১। চিত্রা বুড়ি কোথায় ঘুমান?**
ক. নিজের ঘরে খ. মসজিদে গ. জয়নাল মিয়ার বাড়িতে ঘ. সেনবাড়ির কালীমন্দিরের চাতালে
**উত্তর: ঘ।** নীলু সেন তাকে থাকার জন্য ঘর দিলেও তিনি সেনবাড়ির পাকা কালীমন্দিরের চাতালে ঘুমান।
**২২। চিত্রা বুড়ি মা কালীর কাছে কীসের প্রার্থনা করেন?**
ক. দীর্ঘায়ুর খ. সুখের গ. নিহত ছেলের জন্য প্রতিশোধের ঘ. ধনসম্পদের
**উত্তর: গ।** চিত্রা বুড়ি মা কালীর কাছে প্রার্থনা করেন, যে তার ছেলেকে মেরেছে তার কলিজা যেন কালী টেনে খায়, বিনিময়ে তিনি জোড়া পাঁঠা দেবেন।
**২৩। চিত্রা বুড়ি রাতে কাদের গ্রামে ঢুকতে দেখেন?**
ক. একদল ব্যবসায়ী খ. মিলিটারির একটি দল গ. একদল ডাকাত ঘ. একদল পুলিশ
**উত্তর: খ।** চিত্রা বুড়ি রাতে মিলিটারির একটি দলকে সেনবাড়ির সামনে দিয়ে যেতে দেখেন, প্রথমে যাদের ডাকাত মনে করেছিলেন।
**২৪। ইমাম সাহেব গ্রামে মিলিটারি ঢোকার বিষয়টি কোথায় দাঁড়িয়ে প্রথম বুঝতে পারেন?**
ক. স্কুলে খ. মসজিদের সিঁড়িতে সুরা পড়ার সময় গ. বাজারে ঘ. তার ঘরে
**উত্তর: খ।** মসজিদের সিঁড়িতে দাঁড়িয়ে সুরা ইয়াসিন পড়ার সময় ইমাম সাহেব দলটিকে স্কুলঘরের দিকে যেতে দেখেন।
**২৫। ইমাম সাহেব যাকে প্রথমে বিষয়টি জিজ্ঞেস করেন সেই ব্যক্তির নাম কী?**
ক. আজিজ মাস্টার খ. রাসমোহন গ. মতি মিয়া ঘ. জয়নাল মিয়া
**উত্তর: গ।** ইমাম সাহেব প্রথমে মতি মিয়াকে জিজ্ঞেস করেন, কিন্তু মতি মিয়া তার কথা বিশ্বাস করে না।
**২৬। নীল শার্ট পরা লোকটি ইমাম সাহেবকে কী বলে ডেকে নিয়ে যায়?**
ক. তাকে গ্রেপ্তার করা হবে খ. তাকে পুরস্কার দেওয়া হবে গ. তার সাথে আলোচনা করা হবে ঘ. মেজর সাহেব তাকে ডাকছেন, ভয়ের কিছু নেই
**উত্তর: ঘ।** নীল শার্ট পরা লোকটি বলে, মেজর সাব তাকে ডাকেন, ভয়ের কিছু নেই, তাকে সঙ্গে যেতে বলে।
—
**২৭। রাসমোহনের পরিচয় কী?**
ক. একজন ব্যবসায়ী খ. একজন কৃষক গ. একজন জেলে ঘ. স্কুলের দপ্তরি ও দারোয়ান
**উত্তর: ঘ।** রাসমোহন স্কুলের দপ্তরি ও দারোয়ান, যে আজিজ মাস্টারকে মিলিটারি আসার খবর দেয়।
**২৮। আজিজ মাস্টার প্রথমে রাসমোহনের খবরকে কী মনে করেন?**
ক. সত্যি খবর খ. একটি স্বপ্ন গ. একটি রসিকতা ঘ. ভুল খবর, হয়তো পুলিশ এসেছে
**উত্তর: ঘ।** আজিজ মাস্টার রাসমোহনের কথা বিশ্বাস করে না, ভাবে হয়তো চিত্রা বুড়ির ছেলের মার্ডার কেসে পুলিশ এসেছে।
**২৯। জয়নাল মিয়া আজিজ মাস্টারকে সৈন্যদের কাছে কী নিয়ে যেতে বলেন?**
ক. খাবার খ. অস্ত্র গ. একটি চিঠি ঘ. একটি পাকিস্তানি পতাকা
**উত্তর: ঘ।** জয়নাল মিয়া বলেন, একটা পাকিস্তানি পতাকা বাঁশের আগায় বেঁধে নিয়ে যেতে, তাতে ভয়ের কিছু হবে না।
**৩০। ছোট দলটি স্কুলঘরের দিকে গিয়ে কী স্লোগান দেয়?**
ক. শান্তি চাই খ. মুক্তি চাই গ. জয় বাংলা ঘ. পাকিস্তান জিন্দাবাদ, কায়দে আযম জিন্দাবাদ
**উত্তর: ঘ।** দলটি ‘পাকিস্তান জিন্দাবাদ’, ‘কায়দে আযম জিন্দাবাদ’, ‘লিয়াকত আলী খান জিন্দাবাদ’, ‘মহাকবি ইকবাল জিন্দাবাদ’ স্লোগান দেয়।
**৩১। স্লোগান দিতে থাকা দলটির প্রতি মিলিটারিদের প্রতিক্রিয়া কেমন ছিল?**
ক. তারা উৎসাহিত হয় খ. তারা রেগে যায় গ. তারা হাসে ঘ. তাদের দৃষ্টি নির্লিপ্ত ছিল
**উত্তর: ঘ।** পতাকা নিয়ে এগিয়ে আসা দলটির প্রতি মিলিটারিদের কোনো উৎসাহ দেখা যায়নি, তাদের দৃষ্টি ছিল সন্ন্যাসীদের মতো নির্লিপ্ত।
**৩২। মেজর সাহেব কেন আজিজ মাস্টারের প্রতি বিশেষভাবে দৃষ্টি দেন?**
ক. তার বয়সের জন্য খ. তার উচ্চতার জন্য গ. তার পোশাকের জন্য ঘ. তার কাশির শব্দে
**উত্তর: ঘ।** আজিজ মাস্টারের খুকখুক কাশির শব্দ শুনে বারান্দায় বসা অফিসারটি তার দিকে তাকান।
—
**৩৩। মেজর এজাজ প্রথমে আজিজ মাস্টারের কাছে কী জানতে চান?**
ক. তার পরিবারের কথা খ. তার শিক্ষার কথা গ. তার বয়স ঘ. তার নাম
**উত্তর: ঘ।** মেজর এজাজ প্রথমে আজিজ মাস্টারের নাম জানতে চান, যা তার পুরো নাম আজিজুর রহমান মল্লিক।
**৩৪। মেজর সাহেব আজিজ মাস্টারকে কোন কবির কবিতা জানেন কিনা জিজ্ঞেস করেন?**
ক. রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর খ. জসীমউদ্দীন গ. মহাকবি ইকবাল ঘ. নজরুল ইসলাম
**উত্তর: গ।** মেজর সাহেব জিজ্ঞেস করেন আজিজ মাস্টার মহাকবি ইকবালের কবিতা পড়েছেন কিনা।
**৩৫। মেজর সাহেব আজিজ মাস্টারকে কী শোনাতে বলেন?**
ক. একটি গল্প খ. একটি গান গ. তার নিজের রচিত একটি কবিতা ঘ. একটি প্রার্থনা
**উত্তর: গ।** মেজর সাহেব আজিজ মাস্টারকে তার নিজের লেখা একটি কবিতা শোনাতে বলেন।
**৩৬। আজিজ মাস্টারের শোনানো কবিতায় যার কথা বলা হয়েছে তার নাম কী?**
ক. জমিলা খ. মালা গ. রেণু ঘ. সালমা
**উত্তর: খ।** কবিতার মেয়েটির নাম মালা।
**৩৭। মালা কার মেয়ে বলে জানা যায়?**
ক. চিত্রা বুড়ির খ. হাতেম আলির গ. নীলু সেনের ঘ. জয়নাল মিয়ার
**উত্তর: ঘ।** মালা জয়নাল মিয়ার বড় মেয়ে, তার বয়স তেরো-চৌদ্দ।
**৩৮। এই তথ্য জানার পর মেজর সাহেব কী প্রস্তাব দেন, যা পাঠকের কাছে বিরক্তিকর ও উদ্বেগজনক মনে হয়?**
ক. মেয়েটিকে পুরস্কার দেবেন খ. মেয়েটির শিক্ষার ব্যবস্থা করবেন গ. মেয়েটির পরিবারকে সাহায্য করবেন ঘ. মেয়েটির সাথে বিয়ের ব্যবস্থা করে দেবেন
**উত্তর: ঘ।** মেজর সাহেব বলেন তিনি মালার সঙ্গে আজিজ মাস্টারের বিয়ের ব্যবস্থা করে দেবেন, কালই ভোরে— এই প্রস্তাব মেজরের ক্ষমতার নির্লজ্জ অপব্যবহার ও ভীতিকর মানসিকতার ইঙ্গিত দেয়।
**৩৯। মেজর সাহেব আজিজ মাস্টারকে গ্রামে কাদের লুকিয়ে থাকার কথা বলেন?**
ক. চোর-ডাকাত খ. পুলিশ গ. রাজনৈতিক নেতা ঘ. ইস্ট বেঙ্গল রেজিমেন্টের সৈন্য ও অফিসার
**উত্তর: ঘ।** মেজর সাহেব বলেন, তারা জানেন ইস্ট বেঙ্গল রেজিমেন্টের বেশ কিছু জোয়ান ও কয়েকজন অফিসার এখানে লুকিয়ে আছে।
**৪০। আজিজ মাস্টারকে রাতে কোথায় থাকতে বলা হয়?**
ক. মসজিদে খ. বাইরে খোলা মাঠে গ. তার নিজের বাড়িতে ঘ. টিচার্স রুমে
**উত্তর: ঘ।** আজিজ মাস্টারকে স্কুলের টিচার্স রুমে রাতটা কাটাতে বলা হয়, কারণ তাকে ছেড়ে দিলে খবর ছড়িয়ে যেতে পারে।
**৪১। টিচার্স রুমে গিয়ে আজিজ মাস্টার কাকে দেখতে পান?**
ক. রক্তাক্ত অবস্থায় ইমাম সাহেবকে খ. নীলু সেনকে গ. জয়নাল মিয়াকে ঘ. চিত্রা বুড়িকে
**উত্তর: ক।** টিচার্স রুমে আজিজ মাস্টার দেখেন ইমাম সাহেব জড়োসড়ো হয়ে বসে আছেন, তাঁর নাক-মুখ ফুলে গেছে, পাঞ্জাবিতে রক্তের ছোপ।
**৪২। ইমাম সাহেবের করুণ অবস্থা দেখে আজিজ মাস্টারের কী প্রতিক্রিয়া হয়?**
ক. তিনি কেঁদে ফেলেন খ. তিনি অজ্ঞান হয়ে পড়েন গ. নিজের অজান্তেই তার প্রস্রাব হয়ে যায় ঘ. তিনি রাগ করেন
**উত্তর: গ।** ভয় ও আতঙ্কে নিজের অজান্তেই আজিজ মাস্টারের প্রস্রাব হয়ে যায়।
—
**৪৩। সপ্তম অধ্যায়ে মীর আলি সকালে কী করছিলেন?**
ক. মাঠে কাজ করছিলেন খ. মসজিদে ছিলেন গ. ঘুমাচ্ছিলেন ঘ. পরীবানুকে কোলে নিয়ে মুড়ি খাচ্ছিলেন
**উত্তর: ঘ।** মীর আলি নাতনি পরীবানুকে কোলে নিয়ে মুড়ি খেতে বসেছিলেন।
**৪৪। মীর আলির চা খাওয়ার আকাঙ্ক্ষা কেন বিশেষভাবে উল্লেখযোগ্য?**
ক. এটি একটি বিশেষ উৎসব উপলক্ষে খ. এটি তার প্রিয় পানীয় বলে গ. এটি একটি ঔষধ বলে ঘ. তিনি সাড়ম্বরে কাশেন যাতে অনুফার মনে পড়ে
**উত্তর: ঘ।** মীর আলি প্রতিদিন সাড়ম্বরে কাশেন যাতে অনুফার চায়ের কথা মনে পড়ে, যদিও বেশিরভাগ দিনই তার মনে পড়ে না।
**৪৫। মীর আলি অনুফার প্রতি কেমন মনোভাব পোষণ করেন?**
ক. তার আসার পর সংসারের ভাগ্য ফেরায় গভীর মমতা বোধ করেন খ. তিনি তাকে ভয় পান গ. তিনি উদাসীন থাকেন ঘ. তিনি অনুফাকে অপছন্দ করেন
**উত্তর: ক।** মীর আলি অনুফার প্রতি বড় মমতা বোধ করেন, কারণ অনুফা এ সংসারে আসার পর থেকে তাদের কখনো একবেলা না খেয়ে থাকতে হয়নি।
**৪৬। চা খাওয়ার সময় হঠাৎ কী ঘটে?**
ক. এক ঝাঁক গুলি চলে খ. একটি ঝড় শুরু হয় গ. একটি অগ্নিকাণ্ড ঘটে ঘ. একটি দুর্ঘটনা ঘটে
**উত্তর: ক।** হঠাৎ এক ঝাঁক গুলি হয়— হালকা মেশিনগানের কানে তালা-ধরানো শব্দ, পরীবানু আতঙ্কে কাঁদতে থাকে।
**৪৭। দ্বিতীয় সৈন্যদলের সাথে আর কারা ছিল?**
ক. চল্লিশজন রাজাকারের একটি দল খ. পুলিশ গ. আরও মিলিটারি অফিসার ঘ. স্থানীয় গ্রামবাসী
**উত্তর: ক।** দ্বিতীয় সৈন্যদলের সাথে চল্লিশজন রাজাকারের একটি দল মার্চ করে গ্রামে ঢোকে।
**৪৮। বদিউজ্জামান কোথায় লুকিয়ে থাকেন?**
ক. একটি নৌকায় খ. একটি ঘরের ভেতরে গ. একটি গাছের ওপরে ঘ. জংলা মাঠের একটি পানিভর্তি নিচু গর্তে
**উত্তর: ঘ।** বদিউজ্জামান জংলা মাঠের কাছাকাছি একটি নিচু, এক-কোমর পানিভর্তি গর্তে লুকিয়ে পড়েন।
**৪৯। লুকিয়ে থাকার সময় বদিউজ্জামানের কাছে কোন প্রাণী এগিয়ে আসে?**
ক. একটি ব্যাঙ খ. একটি ইঁদুর গ. একটি সাপ ঘ. একটি সবুজ গিরগিটি
**উত্তর: ঘ।** একটি সবুজ রঙের গিরগিটি চোখ বড় বড় করে বদিউজ্জামানকে দেখছিল, এগিয়ে আসছিল।
**৫০। জয়নাল মিয়ার দল আজিজ মাস্টারের জন্য অপেক্ষা করার সময় কী ঘটে?**
ক. তারা বাড়ি ফিরে যান খ. আজিজ মাস্টার ফিরে আসেন গ. দ্বিতীয় মিলিটারি দলটি গুলি ছুড়তে গ্রামে প্রবেশ করে ঘ. একটি সংলাপ শুরু হয়
**উত্তর: গ।** অপেক্ষার মধ্যেই গুলি ছুড়তে ছুড়তে দ্বিতীয় মিলিটারি ও রাজাকার দলটি গ্রামে উঠে আসে, সবাই দৌড়ে পালায়।
**৫১। এই বিশৃঙ্খলার মধ্যে কার আচরণ ব্যতিক্রমী ছিল?**
ক. মতি মিয়ার পাগল শালা নিজামের খ. জয়নাল মিয়ার গ. চিত্রা বুড়ির ঘ. রাসমোহনের
**উত্তর: ক।** নিজাম, মতি মিয়ার পাগল শালা, সবাই দৌড়ে পালালেও হাসিমুখে দাঁড়িয়ে থেকে পুরো ব্যাপারটি উপভোগ করছিল বলে বর্ণিত হয়েছে।
—
**৫২। এই পর্বের ঘটনাক্রম নিয়ে নিচের তথ্যগুলো লক্ষ করো —**
i. মিলিটারি প্রথমে ভোরবেলা গ্রামে প্রবেশ করে
ii. আজিজ মাস্টার ও ইমাম সাহেব উভয়েই মেজর এজাজের হাতে নির্যাতিত বা হুমকির শিকার হন
iii. এই পর্বেই মীর আলির ঘর ঝড়ে ভেঙে যায়
নিচের কোনটি সঠিক?
ক. i ও ii খ. i ও iii গ. ii ও iii ঘ. i, ii ও iii
**উত্তর: ক।** প্রথম দুটি তথ্য এই পর্বের বর্ণনার সাথে মেলে, কিন্তু মীর আলির ঘর ঝড়ে ভাঙার ঘটনা এই পর্বে ঘটেনি, তা উপন্যাসের পরবর্তী অংশে বর্ণিত— তাই তৃতীয় তথ্যটি ভুল।
**৫৩। এই পর্বে গ্রামবাসীদের মিলিটারি সম্পর্কে প্রাথমিক প্রতিক্রিয়া কেমন ছিল?**
ক. তারা উদাসীন থাকে খ. তারা তাৎক্ষণিক প্রতিরোধ করে গ. প্রথমে অবিশ্বাস, পরে ভয়-আতঙ্কে আচ্ছন্ন হয়ে পড়ে ঘ. তারা মিলিটারিকে স্বাগত জানায়
**উত্তর: গ।** গ্রামবাসীরা (মতি মিয়া, আজিজ মাস্টার প্রমুখ) প্রথমে মিলিটারি আসার খবর বিশ্বাস করেনি, ভেবেছিল ভুল শোনা বা অন্য কোনো ঘটনা— পরে বাস্তবতা বুঝে তারা ভয় ও আতঙ্কে আচ্ছন্ন হয়ে পড়ে।
—
মধ্যরাতে একটি প্রত্যন্ত গ্রামে হঠাৎ অস্ত্রধারী একদল অপরিচিত লোক প্রবেশ করে। গ্রামবাসীরা প্রথমে বুঝতে পারে না তারা কারা, কী উদ্দেশ্যে এসেছে। ধীরে ধীরে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে, মানুষ যে যেভাবে পারে লুকিয়ে পড়ে, কেউ কেউ জোরপূর্বক জিজ্ঞাসাবাদের শিকার হয়।
**৫৪। উদ্দীপকের ঘটনার সাথে ‘১৯৭১’ উপন্যাসের প্রথম পর্বের কোন দিকটির সাদৃশ্য পাওয়া যায়?**
ক. কোনো সাদৃশ্য নেই খ. একটি স্বাভাবিক ঘটনা গ. একটি উৎসবের প্রস্তুতি ঘ. সশস্ত্র দলের আকস্মিক আগমনে গ্রামবাসীদের বিভ্রান্তি ও আতঙ্ক
**উত্তর: ঘ।** উপন্যাসে যেমন নীলগঞ্জ গ্রামে মিলিটারির আকস্মিক আগমনে চিত্রা বুড়ি, ইমাম সাহেব, আজিজ মাস্টার প্রমুখ প্রথমে বিভ্রান্ত হন, পরে আতঙ্কিত ও নির্যাতিত হন, উদ্দীপকেও একই ধরনের পরিস্থিতির বর্ণনা পাওয়া যায়।
**৫৫। এ ধরনের পরিস্থিতিতে সাধারণ মানুষের প্রতিক্রিয়া থেকে কী সামাজিক-মনস্তাত্ত্বিক সত্য উঠে আসে?**
ক. মানুষ সবসময় দ্রুত প্রতিরোধ গড়ে তোলে খ. আকস্মিক সহিংসতায় মানুষ অবিশ্বাস থেকে আতঙ্কের মধ্য দিয়ে যায় গ. মানুষের কোনো মানসিক প্রতিক্রিয়া হয় না ঘ. মানুষ সবসময় শান্ত থাকে
**উত্তর: খ।** আকস্মিক ও ব্যাখ্যাতীত সহিংসতার মুখোমুখি হলে সাধারণ মানুষ সাধারণত প্রথমে অবিশ্বাস প্রকাশ করে, তারপর বিভ্রান্তি ও অবশেষে গভীর আতঙ্কের মধ্য দিয়ে যায়— এটি একটি সর্বজনীন মানবিক প্রতিক্রিয়া, যা উপন্যাস ও উদ্দীপক উভয়েই প্রতিফলিত হয়েছে।
১। উপন্যাসের শুরুতে মীর আলির কী সমস্যা বলে জানা যায়?
- ক. সে বধির
- খ. সে কথা বলতে পারে না
- গ. সে হাঁটতে পারে না
- ঘ. সে চোখে দেখে না
উত্তর: ঘ। উপন্যাসের প্রথম বাক্যেই বলা হয়েছে, ‘মীর আলি চোখে দেখে না।’
২। মীর আলির বয়স কত বলে উল্লেখ আছে?
- ক. প্রায় পঁচাত্তর
- খ. প্রায় ষাট
- গ. প্রায় আশি
- ঘ. প্রায় সত্তর
উত্তর: ঘ। মীর আলির বয়স প্রায় সত্তর।
৩। মীর আলির বড় ছেলের নাম কী?
- ক. রফিক
- খ. আজিজ
- গ. বদিউজ্জামান
- ঘ. মতি
উত্তর: গ। মীর আলির বড় ছেলে বদিউজ্জামান, মধুবন বাজারে যার একটা মনোহারি দোকান আছে।
৪। বদিউজ্জামানের স্ত্রীর নাম কী?
- ক. অনুফা
- খ. জমিলা
- গ. রেণু
- ঘ. পরীবানু
উত্তর: ক। বদিউজ্জামানের স্ত্রীর নাম অনুফা, যার গলার স্বর অত্যন্ত তীক্ষ্ণ।
৫। মীর আলির নাতনির নাম কী ও বয়স কত?
- ক. রুনু, বয়স দুই
- খ. পরীবানু, বয়স তিন
- গ. জমিলা, বয়স পাঁচ
- ঘ. মিনু, বয়স চার
উত্তর: খ। মীর আলির নাতনির নাম পরীবানু, বয়স তিন।
৬। মীর আলির গ্রামের নাম কী?
- ক. নান্দাইল
- খ. রূয়াইল
- গ. মধুবন
- ঘ. নীলগঞ্জ
উত্তর: ঘ। গ্রামের নাম নীলগঞ্জ।
৭। উপন্যাসের ঘটনা কোন তারিখে শুরু হয় বলে উল্লেখ আছে?
- ক. পহেলা এপ্রিল, ১৯৭১
- খ. পঁচিশে মার্চ, ১৯৭১
- গ. পহেলা জুন, ১৯৭১
- ঘ. পহেলা মে, ১৯৭১
উত্তর: ঘ। পহেলা মে, উনিশশো একাত্তর সালে উপন্যাসের ঘটনা শুরু হয়।
৮। ক্ষুদ্র সেনাবাহিনী দলের অধিনায়কের নাম ও পদবি কী?
- ক. জেনারেল ইয়াহিয়া
- খ. কর্নেল রহমান
- গ. ক্যাপ্টেন খালিদ
- ঘ. মেজর এজাজ আহমেদ
উত্তর: ঘ। ক্ষুদ্র সেনাবাহিনী দলের অধিনায়ক মেজর এজাজ আহমেদ।
৯। মেজর এজাজ আহমেদ কোন মিলিটারি একাডেমির কৃতী ক্যাডেট?
- ক. স্যান্ডহার্স্ট
- খ. কাকুল
- গ. চিটাগং
- ঘ. ফ্রন্টিয়ার
উত্তর: খ। তিনি কাকুল মিলিটারি একাডেমির একজন কৃতী ক্যাডেট, বাড়ি পেশোয়ারের রেশোবা গ্রামে।
১০। ময়মনসিংহ-ভৈরব লাইনের যে স্টেশনের কথা বলা হয়েছে তার নাম কী?
- ক. নান্দাইল রোড
- খ. মধুবন রোড
- গ. রূয়াইল রোড
- ঘ. নীলগঞ্জ রোড
উত্তর: ক। ময়মনসিংহ-ভৈরব লাইনের স্টেশনটির নাম নান্দাইল রোড।
১১। নান্দাইল রোড থেকে দশ মাইল উত্তরে কোন বাজার অবস্থিত?
- ক. জংলা বাজার
- খ. মধুবন বাজার
- গ. নীলগঞ্জ বাজার
- ঘ. রূয়াইল বাজার
উত্তর: ঘ। নান্দাইল রোড থেকে সোজা উত্তরে দশ মাইল দূরে রূয়াইল বাজার, এ অঞ্চলের সবচেয়ে বড় বাজার।
১২। রূয়াইল বাজার থেকে আরও ত্রিশ মাইল উত্তরে কোন বাজার?
- ক. সোহাগী বাজার
- খ. মধুবন বাজার
- গ. জংলা বাজার
- ঘ. নান্দাইল বাজার
উত্তর: খ। রূয়াইল বাজারকে পেছনে ফেলে আরও মাইল ত্রিশেক উত্তরে মধুবন বাজার।
১৩। ঘন জঙ্গলের স্থানীয় নাম কী?
- ক. মধুবনের জংলা মাঠ
- খ. নীলগঞ্জের বন
- গ. রূয়াইলের অরণ্য
- ঘ. কৈবর্তপাড়ার জঙ্গল
উত্তর: ক। ঘন জঙ্গলের স্থানীয় নাম মধুবনের জংলা মাঠ।
১৪। নীলগঞ্জ গ্রামটি কেমন বলে বর্ণনা করা হয়েছে?
- ক. দরিদ্র, ত্রিশ-চল্লিশ ঘরের বিচ্ছিন্ন জনপদ
- খ. আধুনিক ও উন্নত
- গ. সমৃদ্ধ ও জনবহুল
- ঘ. পাহাড়ি অঞ্চল
উত্তর: ক। নীলগঞ্জ দরিদ্র, শ্রীহীন, ত্রিশ-চল্লিশ ঘরের একটি বিচ্ছিন্ন জনপদ।
১৫। গ্রামের একমাত্র পাকা দালানটি কে নির্মাণ করেছিলেন?
- ক. চন্দ্রকান্ত সেন
- খ. হাতেম আলি
- গ. জয়নাল মিয়া
- ঘ. নীলু সেন
উত্তর: ক। সুসং দুর্গাপুরের মহারাজার নায়েব চন্দ্রকান্ত সেন এই বাড়ি বানিয়েছিলেন।
১৬। চন্দ্রকান্ত সেনের মৃত্যু কীভাবে হয়?
- ক. বার্ধক্যে
- খ. অসুস্থতায়
- গ. দুর্ঘটনায়
- ঘ. গৃহপ্রবেশের দিন সর্পাঘাতে
উত্তর: ঘ। গৃহপ্রবেশের দিন সর্পাঘাতে চন্দ্রকান্ত সেন মারা যান।
১৭। চন্দ্রকান্ত সেনের বর্তমান উত্তরাধিকারীর নাম কী?
- ক. চিত্রা বুড়ি
- খ. জয়নাল মিয়া
- গ. নীলু সেন
- ঘ. মনা কৈবর্ত
উত্তর: গ। চন্দ্রকান্ত সেনের বর্তমান একমাত্র উত্তরাধিকারী নীলু সেন, বয়স প্রায় পঞ্চাশ।
১৮। গ্রামের সবচেয়ে সম্পদশালী ব্যক্তি কে?
- ক. নীলু সেন
- খ. হাতেম আলি
- গ. জয়নাল মিয়া
- ঘ. আজিজ মাস্টার
উত্তর: গ। গ্রামের সবচেয়ে সম্পদশালী ব্যক্তি জয়নাল মিয়া, যিনি মেরুদণ্ডহীন ও সবার মন রেখে কথা বলার চেষ্টা করেন।
১৯। নীলগঞ্জে কয়জন ‘বিদেশি’ (বহিরাগত) লোক আছেন বলে উল্লেখ আছে?
- ক. দুইজন
- খ. একজন
- গ. তিনজন
- ঘ. চারজন
উত্তর: ক। নীলগঞ্জে দুজন বিদেশি লোক আছেন— নীলগঞ্জ মসজিদের ইমাম সাহেব এবং আজিজ মাস্টার।
২০। আজিজ মাস্টার কোন প্রতিষ্ঠানের প্রধান শিক্ষক?
- ক. নীলগঞ্জ প্রাইমারি স্কুল
- খ. মধুবন স্কুল
- গ. নীলগঞ্জ হাইস্কুল
- ঘ. রূয়াইল কলেজ
উত্তর: ক। আজিজ মাস্টার নীলগঞ্জ প্রাইমারি স্কুলের হেডমাস্টার।
২১। চিত্রা বুড়ি কোথায় ঘুমান?
- ক. নিজের ঘরে
- খ. মসজিদে
- গ. জয়নাল মিয়ার বাড়িতে
- ঘ. সেনবাড়ির কালীমন্দিরের চাতালে
উত্তর: ঘ। নীলু সেন তাকে থাকার জন্য ঘর দিলেও তিনি সেনবাড়ির পাকা কালীমন্দিরের চাতালে ঘুমান।
২২। চিত্রা বুড়ি মা কালীর কাছে কীসের প্রার্থনা করেন?
- ক. দীর্ঘায়ুর
- খ. সুখের
- গ. নিহত ছেলের জন্য প্রতিশোধের
- ঘ. ধনসম্পদের
উত্তর: গ। চিত্রা বুড়ি মা কালীর কাছে প্রার্থনা করেন, যে তার ছেলেকে মেরেছে তার কলিজা যেন কালী টেনে খায়, বিনিময়ে তিনি জোড়া পাঁঠা দেবেন।
২৩। চিত্রা বুড়ি রাতে কাদের গ্রামে ঢুকতে দেখেন?
- ক. একদল ব্যবসায়ী
- খ. মিলিটারির একটি দল
- গ. একদল ডাকাত
- ঘ. একদল পুলিশ
উত্তর: খ। চিত্রা বুড়ি রাতে মিলিটারির একটি দলকে সেনবাড়ির সামনে দিয়ে যেতে দেখেন, প্রথমে যাদের ডাকাত মনে করেছিলেন।
২৪। ইমাম সাহেব গ্রামে মিলিটারি ঢোকার বিষয়টি কোথায় দাঁড়িয়ে প্রথম বুঝতে পারেন?
- ক. স্কুলে
- খ. মসজিদের সিঁড়িতে সুরা পড়ার সময়
- গ. বাজারে
- ঘ. তার ঘরে
উত্তর: খ। মসজিদের সিঁড়িতে দাঁড়িয়ে সুরা ইয়াসিন পড়ার সময় ইমাম সাহেব দলটিকে স্কুলঘরের দিকে যেতে দেখেন।
২৫। ইমাম সাহেব যাকে প্রথমে বিষয়টি জিজ্ঞেস করেন সেই ব্যক্তির নাম কী?
- ক. আজিজ মাস্টার
- খ. রাসমোহন
- গ. মতি মিয়া
- ঘ. জয়নাল মিয়া
উত্তর: গ। ইমাম সাহেব প্রথমে মতি মিয়াকে জিজ্ঞেস করেন, কিন্তু মতি মিয়া তার কথা বিশ্বাস করে না।
২৬। নীল শার্ট পরা লোকটি ইমাম সাহেবকে কী বলে ডেকে নিয়ে যায়?
- ক. তাকে গ্রেপ্তার করা হবে
- খ. তাকে পুরস্কার দেওয়া হবে
- গ. তার সাথে আলোচনা করা হবে
- ঘ. মেজর সাহেব তাকে ডাকছেন, ভয়ের কিছু নেই
উত্তর: ঘ। নীল শার্ট পরা লোকটি বলে, মেজর সাব তাকে ডাকেন, ভয়ের কিছু নেই, তাকে সঙ্গে যেতে বলে।
২৭। রাসমোহনের পরিচয় কী?
- ক. একজন ব্যবসায়ী
- খ. একজন কৃষক
- গ. একজন জেলে
- ঘ. স্কুলের দপ্তরি ও দারোয়ান
উত্তর: ঘ। রাসমোহন স্কুলের দপ্তরি ও দারোয়ান, যে আজিজ মাস্টারকে মিলিটারি আসার খবর দেয়।
২৮। আজিজ মাস্টার প্রথমে রাসমোহনের খবরকে কী মনে করেন?
- ক. সত্যি খবর
- খ. একটি স্বপ্ন
- গ. একটি রসিকতা
- ঘ. ভুল খবর, হয়তো পুলিশ এসেছে
উত্তর: ঘ। আজিজ মাস্টার রাসমোহনের কথা বিশ্বাস করে না, ভাবে হয়তো চিত্রা বুড়ির ছেলের মার্ডার কেসে পুলিশ এসেছে।
২৯। জয়নাল মিয়া আজিজ মাস্টারকে সৈন্যদের কাছে কী নিয়ে যেতে বলেন?
- ক. খাবার
- খ. অস্ত্র
- গ. একটি চিঠি
- ঘ. একটি পাকিস্তানি পতাকা
উত্তর: ঘ। জয়নাল মিয়া বলেন, একটা পাকিস্তানি পতাকা বাঁশের আগায় বেঁধে নিয়ে যেতে, তাতে ভয়ের কিছু হবে না।
৩০। ছোট দলটি স্কুলঘরের দিকে গিয়ে কী স্লোগান দেয়?
- ক. শান্তি চাই
- খ. মুক্তি চাই
- গ. জয় বাংলা
- ঘ. পাকিস্তান জিন্দাবাদ, কায়দে আযম জিন্দাবাদ
উত্তর: ঘ। দলটি ‘পাকিস্তান জিন্দাবাদ’, ‘কায়দে আযম জিন্দাবাদ’, ‘লিয়াকত আলী খান জিন্দাবাদ’, ‘মহাকবি ইকবাল জিন্দাবাদ’ স্লোগান দেয়।
৩১। স্লোগান দিতে থাকা দলটির প্রতি মিলিটারিদের প্রতিক্রিয়া কেমন ছিল?
- ক. তারা উৎসাহিত হয়
- খ. তারা রেগে যায়
- গ. তারা হাসে
- ঘ. তাদের দৃষ্টি নির্লিপ্ত ছিল
উত্তর: ঘ। পতাকা নিয়ে এগিয়ে আসা দলটির প্রতি মিলিটারিদের কোনো উৎসাহ দেখা যায়নি, তাদের দৃষ্টি ছিল সন্ন্যাসীদের মতো নির্লিপ্ত।
৩২। মেজর সাহেব কেন আজিজ মাস্টারের প্রতি বিশেষভাবে দৃষ্টি দেন?
- ক. তার বয়সের জন্য
- খ. তার উচ্চতার জন্য
- গ. তার পোশাকের জন্য
- ঘ. তার কাশির শব্দে
উত্তর: ঘ। আজিজ মাস্টারের খুকখুক কাশির শব্দ শুনে বারান্দায় বসা অফিসারটি তার দিকে তাকান।
৩৩। মেজর এজাজ প্রথমে আজিজ মাস্টারের কাছে কী জানতে চান?
- ক. তার পরিবারের কথা
- খ. তার শিক্ষার কথা
- গ. তার বয়স
- ঘ. তার নাম
উত্তর: ঘ। মেজর এজাজ প্রথমে আজিজ মাস্টারের নাম জানতে চান, যা তার পুরো নাম আজিজুর রহমান মল্লিক।
৩৪। মেজর সাহেব আজিজ মাস্টারকে কোন কবির কবিতা জানেন কিনা জিজ্ঞেস করেন?
- ক. রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
- খ. জসীমউদ্দীন
- গ. মহাকবি ইকবাল
- ঘ. নজরুল ইসলাম
উত্তর: গ। মেজর সাহেব জিজ্ঞেস করেন আজিজ মাস্টার মহাকবি ইকবালের কবিতা পড়েছেন কিনা।
৩৫। মেজর সাহেব আজিজ মাস্টারকে কী শোনাতে বলেন?
- ক. একটি গল্প
- খ. একটি গান
- গ. তার নিজের রচিত একটি কবিতা
- ঘ. একটি প্রার্থনা
উত্তর: গ। মেজর সাহেব আজিজ মাস্টারকে তার নিজের লেখা একটি কবিতা শোনাতে বলেন।
৩৬। আজিজ মাস্টারের শোনানো কবিতায় যার কথা বলা হয়েছে তার নাম কী?
- ক. জমিলা
- খ. মালা
- গ. রেণু
- ঘ. সালমা
উত্তর: খ। কবিতার মেয়েটির নাম মালা।
৩৭। মালা কার মেয়ে বলে জানা যায়?
- ক. চিত্রা বুড়ির
- খ. হাতেম আলির
- গ. নীলু সেনের
- ঘ. জয়নাল মিয়ার
উত্তর: ঘ। মালা জয়নাল মিয়ার বড় মেয়ে, তার বয়স তেরো-চৌদ্দ।
৩৮। এই তথ্য জানার পর মেজর সাহেব কী প্রস্তাব দেন, যা পাঠকের কাছে বিরক্তিকর ও উদ্বেগজনক মনে হয়?
- ক. মেয়েটিকে পুরস্কার দেবেন
- খ. মেয়েটির শিক্ষার ব্যবস্থা করবেন
- গ. মেয়েটির পরিবারকে সাহায্য করবেন
- ঘ. মেয়েটির সাথে বিয়ের ব্যবস্থা করে দেবেন
উত্তর: ঘ। মেজর সাহেব বলেন তিনি মালার সঙ্গে আজিজ মাস্টারের বিয়ের ব্যবস্থা করে দেবেন, কালই ভোরে— এই প্রস্তাব মেজরের ক্ষমতার নির্লজ্জ অপব্যবহার ও ভীতিকর মানসিকতার ইঙ্গিত দেয়।
৩৯। মেজর সাহেব আজিজ মাস্টারকে গ্রামে কাদের লুকিয়ে থাকার কথা বলেন?
- ক. চোর-ডাকাত
- খ. পুলিশ
- গ. রাজনৈতিক নেতা
- ঘ. ইস্ট বেঙ্গল রেজিমেন্টের সৈন্য ও অফিসার
উত্তর: ঘ। মেজর সাহেব বলেন, তারা জানেন ইস্ট বেঙ্গল রেজিমেন্টের বেশ কিছু জোয়ান ও কয়েকজন অফিসার এখানে লুকিয়ে আছে।
৪০। আজিজ মাস্টারকে রাতে কোথায় থাকতে বলা হয়?
- ক. মসজিদে
- খ. বাইরে খোলা মাঠে
- গ. তার নিজের বাড়িতে
- ঘ. টিচার্স রুমে
উত্তর: ঘ। আজিজ মাস্টারকে স্কুলের টিচার্স রুমে রাতটা কাটাতে বলা হয়, কারণ তাকে ছেড়ে দিলে খবর ছড়িয়ে যেতে পারে।
৪১। টিচার্স রুমে গিয়ে আজিজ মাস্টার কাকে দেখতে পান?
- ক. রক্তাক্ত অবস্থায় ইমাম সাহেবকে
- খ. নীলু সেনকে
- গ. জয়নাল মিয়াকে
- ঘ. চিত্রা বুড়িকে
উত্তর: ক। টিচার্স রুমে আজিজ মাস্টার দেখেন ইমাম সাহেব জড়োসড়ো হয়ে বসে আছেন, তাঁর নাক-মুখ ফুলে গেছে, পাঞ্জাবিতে রক্তের ছোপ।
৪২। ইমাম সাহেবের করুণ অবস্থা দেখে আজিজ মাস্টারের কী প্রতিক্রিয়া হয়?
- ক. তিনি কেঁদে ফেলেন
- খ. তিনি অজ্ঞান হয়ে পড়েন
- গ. নিজের অজান্তেই তার প্রস্রাব হয়ে যায়
- ঘ. তিনি রাগ করেন
উত্তর: গ। ভয় ও আতঙ্কে নিজের অজান্তেই আজিজ মাস্টারের প্রস্রাব হয়ে যায়।
৪৩। সপ্তম অধ্যায়ে মীর আলি সকালে কী করছিলেন?
- ক. মাঠে কাজ করছিলেন
- খ. মসজিদে ছিলেন
- গ. ঘুমাচ্ছিলেন
- ঘ. পরীবানুকে কোলে নিয়ে মুড়ি খাচ্ছিলেন
উত্তর: ঘ। মীর আলি নাতনি পরীবানুকে কোলে নিয়ে মুড়ি খেতে বসেছিলেন।
৪৪। মীর আলির চা খাওয়ার আকাঙ্ক্ষা কেন বিশেষভাবে উল্লেখযোগ্য?
- ক. এটি একটি বিশেষ উৎসব উপলক্ষে
- খ. এটি তার প্রিয় পানীয় বলে
- গ. এটি একটি ঔষধ বলে
- ঘ. তিনি সাড়ম্বরে কাশেন যাতে অনুফার মনে পড়ে
উত্তর: ঘ। মীর আলি প্রতিদিন সাড়ম্বরে কাশেন যাতে অনুফার চায়ের কথা মনে পড়ে, যদিও বেশিরভাগ দিনই তার মনে পড়ে না।
৪৫। মীর আলি অনুফার প্রতি কেমন মনোভাব পোষণ করেন?
- ক. তার আসার পর সংসারের ভাগ্য ফেরায় গভীর মমতা বোধ করেন
- খ. তিনি তাকে ভয় পান
- গ. তিনি উদাসীন থাকেন
- ঘ. তিনি অনুফাকে অপছন্দ করেন
উত্তর: ক। মীর আলি অনুফার প্রতি বড় মমতা বোধ করেন, কারণ অনুফা এ সংসারে আসার পর থেকে তাদের কখনো একবেলা না খেয়ে থাকতে হয়নি।
৪৬। চা খাওয়ার সময় হঠাৎ কী ঘটে?
- ক. এক ঝাঁক গুলি চলে
- খ. একটি ঝড় শুরু হয়
- গ. একটি অগ্নিকাণ্ড ঘটে
- ঘ. একটি দুর্ঘটনা ঘটে
উত্তর: ক। হঠাৎ এক ঝাঁক গুলি হয়— হালকা মেশিনগানের কানে তালা-ধরানো শব্দ, পরীবানু আতঙ্কে কাঁদতে থাকে।
৪৭। দ্বিতীয় সৈন্যদলের সাথে আর কারা ছিল?
- ক. চল্লিশজন রাজাকারের একটি দল
- খ. পুলিশ
- গ. আরও মিলিটারি অফিসার
- ঘ. স্থানীয় গ্রামবাসী
উত্তর: ক। দ্বিতীয় সৈন্যদলের সাথে চল্লিশজন রাজাকারের একটি দল মার্চ করে গ্রামে ঢোকে।
৪৮। বদিউজ্জামান কোথায় লুকিয়ে থাকেন?
- ক. একটি নৌকায়
- খ. একটি ঘরের ভেতরে
- গ. একটি গাছের ওপরে
- ঘ. জংলা মাঠের একটি পানিভর্তি নিচু গর্তে
উত্তর: ঘ। বদিউজ্জামান জংলা মাঠের কাছাকাছি একটি নিচু, এক-কোমর পানিভর্তি গর্তে লুকিয়ে পড়েন।
৪৯। লুকিয়ে থাকার সময় বদিউজ্জামানের কাছে কোন প্রাণী এগিয়ে আসে?
- ক. একটি ব্যাঙ
- খ. একটি ইঁদুর
- গ. একটি সাপ
- ঘ. একটি সবুজ গিরগিটি
উত্তর: ঘ। একটি সবুজ রঙের গিরগিটি চোখ বড় বড় করে বদিউজ্জামানকে দেখছিল, এগিয়ে আসছিল।
৫০। জয়নাল মিয়ার দল আজিজ মাস্টারের জন্য অপেক্ষা করার সময় কী ঘটে?
- ক. তারা বাড়ি ফিরে যান
- খ. আজিজ মাস্টার ফিরে আসেন
- গ. দ্বিতীয় মিলিটারি দলটি গুলি ছুড়তে গ্রামে প্রবেশ করে
- ঘ. একটি সংলাপ শুরু হয়
উত্তর: গ। অপেক্ষার মধ্যেই গুলি ছুড়তে ছুড়তে দ্বিতীয় মিলিটারি ও রাজাকার দলটি গ্রামে উঠে আসে, সবাই দৌড়ে পালায়।
৫১। এই বিশৃঙ্খলার মধ্যে কার আচরণ ব্যতিক্রমী ছিল?
- ক. মতি মিয়ার পাগল শালা নিজামের
- খ. জয়নাল মিয়ার
- গ. চিত্রা বুড়ির
- ঘ. রাসমোহনের
উত্তর: ক। নিজাম, মতি মিয়ার পাগল শালা, সবাই দৌড়ে পালালেও হাসিমুখে দাঁড়িয়ে থেকে পুরো ব্যাপারটি উপভোগ করছিল বলে বর্ণিত হয়েছে।
৫৩। এই পর্বে গ্রামবাসীদের মিলিটারি সম্পর্কে প্রাথমিক প্রতিক্রিয়া কেমন ছিল?
- ক. তারা উদাসীন থাকে
- খ. তারা তাৎক্ষণিক প্রতিরোধ করে
- গ. প্রথমে অবিশ্বাস, পরে ভয়-আতঙ্কে আচ্ছন্ন হয়ে পড়ে
- ঘ. তারা মিলিটারিকে স্বাগত জানায়
উত্তর: গ। গ্রামবাসীরা (মতি মিয়া, আজিজ মাস্টার প্রমুখ) প্রথমে মিলিটারি আসার খবর বিশ্বাস করেনি, ভেবেছিল ভুল শোনা বা অন্য কোনো ঘটনা— পরে বাস্তবতা বুঝে তারা ভয় ও আতঙ্কে আচ্ছন্ন হয়ে পড়ে।
৫৪। উদ্দীপকের ঘটনার সাথে ‘১৯৭১’ উপন্যাসের প্রথম পর্বের কোন দিকটির সাদৃশ্য পাওয়া যায়?
- ক. কোনো সাদৃশ্য নেই
- খ. একটি স্বাভাবিক ঘটনা
- গ. একটি উৎসবের প্রস্তুতি
- ঘ. সশস্ত্র দলের আকস্মিক আগমনে গ্রামবাসীদের বিভ্রান্তি ও আতঙ্ক
উত্তর: ঘ। উপন্যাসে যেমন নীলগঞ্জ গ্রামে মিলিটারির আকস্মিক আগমনে চিত্রা বুড়ি, ইমাম সাহেব, আজিজ মাস্টার প্রমুখ প্রথমে বিভ্রান্ত হন, পরে আতঙ্কিত ও নির্যাতিত হন, উদ্দীপকেও একই ধরনের পরিস্থিতির বর্ণনা পাওয়া যায়।
৫৫। এ ধরনের পরিস্থিতিতে সাধারণ মানুষের প্রতিক্রিয়া থেকে কী সামাজিক-মনস্তাত্ত্বিক সত্য উঠে আসে?
- ক. মানুষ সবসময় দ্রুত প্রতিরোধ গড়ে তোলে
- খ. আকস্মিক সহিংসতায় মানুষ অবিশ্বাস থেকে আতঙ্কের মধ্য দিয়ে যায়
- গ. মানুষের কোনো মানসিক প্রতিক্রিয়া হয় না
- ঘ. মানুষ সবসময় শান্ত থাকে
উত্তর: খ। আকস্মিক ও ব্যাখ্যাতীত সহিংসতার মুখোমুখি হলে সাধারণ মানুষ সাধারণত প্রথমে অবিশ্বাস প্রকাশ করে, তারপর বিভ্রান্তি ও অবশেষে গভীর আতঙ্কের মধ্য দিয়ে যায়— এটি একটি সর্বজনীন মানবিক প্রতিক্রিয়া, যা উপন্যাস ও উদ্দীপক উভয়েই প্রতিফলিত হয়েছে।
সংক্ষেপে মনে রাখার মূল বিষয় (মূলপাঠ, পর্ব ১ (অধ্যায় ১-৭))
পটভূমি
নীলগঞ্জ গ্রাম, ১লা মে ১৯৭১। ময়মনসিংহ-ভৈরব লাইনের নান্দাইল রোড স্টেশন থেকে রূয়াইল বাজার হয়ে মধুবন বাজার, তারপর জংলা মাঠ পেরিয়ে নীলগঞ্জ— দরিদ্র, বিচ্ছিন্ন জনপদ।
মূল চরিত্র
মীর আলি (অন্ধ বৃদ্ধ), বদিউজ্জামান (তার ছেলে), অনুফা (পুত্রবধূ), পরীবানু (নাতনি), চিত্রা বুড়ি (কালীমন্দিরে বাসকারী বিধবা), নীলু সেন, জয়নাল মিয়া (গ্রামের সবচেয়ে সম্পদশালী), ইমাম সাহেব, আজিজ মাস্টার (প্রাইমারি স্কুলের হেডমাস্টার), মেজর এজাজ আহমেদ (পাকিস্তানি বাহিনীর অধিনায়ক, কাকুল একাডেমির ক্যাডেট, পেশোয়ারের রেশোবা গ্রামের সন্তান), রাসমোহন (স্কুলের দপ্তরি)।
ঘটনাক্রম (অধ্যায় ১-৭)
- মীর আলি ও তার পরিবারের পরিচয়; মেজর এজাজ ও তার বাহিনীর নীলগঞ্জে আগমনের সূচনা।
- নীলগঞ্জ অঞ্চলের ভৌগোলিক বর্ণনা ও গ্রামের উল্লেখযোগ্য বাসিন্দাদের পরিচয়।
- চিত্রা বুড়ি ও ইমাম সাহেবের মিলিটারি দল দেখতে পাওয়া, ইমাম সাহেবকে ডেকে নেওয়া।
- রাসমোহনের খবরে আজিজ মাস্টারের সন্দেহ ও পরে বাস্তবতা উপলব্ধি।
- পাকিস্তানি পতাকা নিয়ে ছয়জনের দলের স্লোগান দিয়ে এগিয়ে যাওয়া, মিলিটারির নির্লিপ্ত প্রতিক্রিয়া।
- মেজর এজাজের সাথে আজিজ মাস্টারের ভীতিকর, অস্বস্তিকর জিজ্ঞাসাবাদ— কবিতা আবৃত্তি থেকে অনুপযুক্ত বিয়ের প্রস্তাব পর্যন্ত; রক্তাক্ত ইমাম সাহেবকে আবিষ্কার।
- মীর আলির সকালের রুটিন হঠাৎ গুলির শব্দে ভেঙে যাওয়া; দ্বিতীয় সৈন্যদল ও রাজাকারদের সহিংস প্রবেশ; বদিউজ্জামানের পানিতে লুকিয়ে থাকা; জয়নাল মিয়ার দলের ছত্রভঙ্গ হওয়া।
মূল ভাব/তাৎপর্য
যুদ্ধের প্রথম আঘাত কীভাবে একটি নিরীহ, বিচ্ছিন্ন গ্রামের সাধারণ মানুষের জীবনে আকস্মিক ও ব্যাখ্যাতীত সন্ত্রাস হিসেবে নেমে আসে, তারই মর্মস্পর্শী চিত্রায়ণ এই পর্বে।
গুরুত্বপূর্ণ স্থাননাম ও ব্যক্তিনাম
নীলগঞ্জ (গ্রাম), মধুবন বাজার, রূয়াইল বাজার, নান্দাইল রোড, জংলা মাঠ, কাকুল মিলিটারি একাডেমি, রেশোবা (মেজর এজাজের গ্রাম)।
মূলপাঠ, পর্ব ২ (অধ্যায় ৮-১০)
উপন্যাসের এই অংশে আজিজ মাস্টার ও ইমাম সাহেবের অসহায় অপেক্ষা, নীলু সেনের নির্মম হত্যা এবং মনা কৈবর্ত ও তার এগারো বছরের ভাই বিরুর ভয়াবহ পরিণতির মধ্য দিয়ে যুদ্ধের নিষ্ঠুরতম রূপ ফুটে উঠেছে। এটি উপন্যাসের সবচেয়ে মর্মান্তিক অংশগুলোর একটি। নিচের প্রশ্নগুলো ঘটনার তথ্যভিত্তিক দিক ধরে সাজানো, শেষে সংক্ষিপ্তসারও দেওয়া আছে।
—
**১। অষ্টম অধ্যায়ে আজিজ মাস্টার ও ইমাম সাহেব কতক্ষণ যাবৎ একসাথে আছেন বলে উল্লেখ আছে?**
ক. তিন ঘণ্টা খ. এক ঘণ্টা গ. পাঁচ ঘণ্টা ঘ. সারা রাত
**উত্তর: ক।** গত তিন ঘণ্টা যাবৎ তারা একসঙ্গে আছেন, এই সময়ে তাদের মধ্যে বিশেষ কথাবার্তা হয়নি।
**২। ইমাম সাহেব আজিজ মাস্টারকে কোন দোয়া পড়তে বলেন?**
ক. দোয়া ইউনুস খ. দোয়া মাগফিরাত গ. আয়াতুল কুরসি ঘ. দোয়া কুনুত
**উত্তর: ক।** ইমাম সাহেব বলেন, দোয়া ইউনুসটা দমে দমে পড়তে, যা হযরত ইউনুস (আ.) মাছের পেটে পড়তেন।
**৩। আজিজ মাস্টার প্রস্রাব করে ফেলার পর থেকে তার আচরণে কী পরিবর্তন দেখা যায়?**
ক. সে আরও সক্রিয় হয়ে ওঠে খ. সে রাগান্বিত হয়ে ওঠে গ. সে অন্যরকম হয়ে যায়, মন দিতে পারছে না ঘ. সে কথা বলতে শুরু করে
**উত্তর: গ।** পায়জামা ভিজিয়ে ফেলার পর থেকে আজিজ মাস্টার কেমন অন্যরকম হয়ে গেছে, কোনো কিছুতেই মন দিতে পারছে না।
**৪। বাইরে সৈন্যদের একটি অংশকে কী করতে দেখা যায়?**
ক. তারা বিশ্রাম নিচ্ছে খ. তারা খাবার খাচ্ছে গ. কাগজের বল বানিয়ে ছুড়ে মারছে ও হাসছে ঘ. তারা টহল দিচ্ছে
**উত্তর: গ।** কয়েকজন সৈন্য কাগজের একটা বল বানিয়ে ছুড়ে ছুড়ে মারছে এবং ক্রমাগত হাসছে— এই তুচ্ছ আনন্দের দৃশ্য পরিস্থিতির ভয়াবহতার সাথে তীব্র বৈপরীত্য তৈরি করে।
**৫। ক্ষুধা-তৃষ্ণার মধ্যে আজিজ মাস্টারের মনে কোন স্মৃতি জাগে?**
ক. তার পিতামাতার স্মৃতি খ. তার শিক্ষকতার প্রথম দিনের স্মৃতি গ. তার শৈশবের স্মৃতি ঘ. মালার তাকে খাবারের জন্য ডাকতে আসার স্মৃতি
**উত্তর: ঘ।** অন্য সময় বেলা হলে মালা এসে দরজা ধরে এঁকেবেঁকে দাঁড়িয়ে খাবারের কথা বলত— এই স্মৃতিই আজিজ মাস্টারের মনে জাগে।
**৬। আজিজ মাস্টার মালার জন্য কী উপহার এনেছিলেন?**
ক. একটি বিশেষ আয়না খ. একটি পুতুল গ. একটি চুড়ি ঘ. একটি বই
**উত্তর: ক।** ময়মনসিংহ থেকে তিনি মালার জন্য একটি বাহারি আয়না কিনেছিলেন, যাতে দুটি আয়না পাশাপাশি— একটিতে মুখ বড় দেখা যায়।
**৭। নীলু সেন আগের রাতে কেমন সময় কাটান?**
ক. শান্তিতে ঘুমান খ. পড়াশোনা করেন গ. বাইরে ভ্রমণে যান ঘ. তলপেটের তীব্র ব্যথায় সারারাত ছটফট করেন
**উত্তর: ঘ।** নীলু সেন তলপেটের তীব্র ব্যথায় সারারাত ছটফট করেন, বোনপো বলাই তার এই অবস্থা প্রত্যক্ষ করে।
**৮। নীলু সেনের বোনপোর নাম কী?**
ক. রতন খ. গোপাল গ. নিতাই ঘ. বলাই
**উত্তর: ঘ।** নীলু সেনের বোনপোর নাম বলাই।
**৯। রাতের ব্যথার পর ভোরে নীলু সেন কী করেন?**
ক. ব্যথা কমে গিয়ে মেঝেতে শান্তিতে ঘুমিয়ে পড়েন খ. তিনি মারা যান গ. তিনি হাসপাতালে যান ঘ. তিনি গ্রাম ছেড়ে চলে যান
**উত্তর: ক।** শেষ রাত্রে হঠাৎ ব্যথা কমে যায়, নীলু সেন ঠান্ডা পানি খেয়ে মেঝেতে শান্তিতে ঘুমিয়ে পড়েন।
**১০। নীলু সেনের ঘুম কী দিয়ে ভাঙে?**
ক. অ্যালার্মের শব্দে খ. বলাইয়ের ডাকে গ. মিলিটারিদের ডাকাডাকি ও হইচইয়ে ঘ. পাখির ডাকে
**উত্তর: গ।** মিলিটারিদের ডাকাডাকি ও হইচইয়ে নীলু সেনের ঘুম ভাঙে।
**১১। দরজা খুলতে দেরি হওয়ায় কী ঘটে?**
ক. মিলিটারিরা চলে যায় খ. তাদের জরিমানা করা হয় গ. তাদের ক্ষমা করে দেওয়া হয় ঘ. নীলু সেনকে গুলি করে হত্যা করা হয়
**উত্তর: ঘ।** নীলু সেন ‘আদাব’ বলার আগেই চার-পাঁচটা গুলির শব্দ হয় এবং তিনি নিঃশব্দে মৃত্যুবরণ করেন।
—
**১২। নবম অধ্যায়ে বদিউজ্জামান কোথায় লুকিয়ে আছেন (পূর্ববর্তী অধ্যায় থেকে ধারাবাহিকতায়)?**
ক. একটি ঘরে খ. জংলা মাঠের পানিভর্তি গর্তে গ. একটি গাছের ওপরে ঘ. একটি নৌকায়
**উত্তর: খ।** বদিউজ্জামান জংলা মাঠের পানিভর্তি গর্তে লুকিয়ে আছেন, তীব্র তৃষ্ণার মধ্যে।
**১৩। বদিউজ্জামান মিলিটারিদের নিষ্ঠুরতার গল্পগুলো সম্পর্কে কী ভাবেন?**
ক. তিনি সেগুলো সম্পূর্ণ বিশ্বাস করেন খ. তিনি হাসেন গ. তিনি সেগুলো নিয়ে ভাবেনই না ঘ. তিনি ভাবেন এসব নিছক গুজব, মিলিটারিরাও তো মানুষ
**উত্তর: ঘ।** বদিউজ্জামান নিজেকে বোঝানোর চেষ্টা করেন যে এসব হয়তো গুজব, মিলিটারিরাও তো আল্লাহর বান্দা, শুধু পোশাকের কারণেই হয়তো রক্ত গরম মনে হয়।
**১৪। গিরগিটিটি বদিউজ্জামানের কাছে কী করতে চাইছিল বলে মনে হয়?**
ক. তাকে আক্রমণ করতে খ. তার সাথে খেলতে গ. পালিয়ে যেতে ঘ. পানি খেতে, কিন্তু তাকে দেখে ভয় পাচ্ছিল
**উত্তর: ঘ।** গিরগিটিটি পানি খেতে এসেছিল বোধহয়, কিন্তু বদিউজ্জামানকে দেখে ভয়ে এগোতেও পারছিল না, আবার তৃষ্ণা নিয়ে চলেও যেতে পারছিল না।
—
**১৫। দশম অধ্যায়ে রফিক আজিজ মাস্টার ও ইমাম সাহেবকে কোথায় নিয়ে যেতে বলে?**
ক. মসজিদে খ. স্কুলে গ. বিলের কাছে ঘ. মেজরের ক্যাম্পে
**উত্তর: গ।** রফিক তাদের বিলের কাছে নিয়ে যেতে বলে, মেজর সাহেবের নির্দেশে।
**১৬। নীল শার্ট পরা লোকটির নাম কী বলে এই অধ্যায়ে প্রকাশ পায়?**
ক. করিম খ. জামাল গ. সেলিম ঘ. রফিক
**উত্তর: ঘ।** নীল শার্ট পরা লোকটির নাম রফিক।
**১৭। রফিকের বয়স কত বলে সে নিজে জানায়?**
ক. চল্লিশ খ. পঁয়ত্রিশ গ. ত্রিশ ঘ. পঁচিশ
**উত্তর: গ।** রফিক তার বয়স ত্রিশ বলে জানায়, যদিও দেখতে তার চেয়ে বেশি মনে হয়।
**১৮। ইমাম সাহেব রফিককে তার নিজের বাড়ি কোথায় বলে জানান?**
ক. কুমিল্লার নবীনগর খ. সিলেট গ. চট্টগ্রাম ঘ. ঢাকা
**উত্তর: ক।** ইমাম সাহেব বলেন তার দেশ কুমিল্লা, নবীনগর।
**১৯। রফিক সম্পর্কে কোন রহস্যময় তথ্য উল্লেখ করা হয়েছে?**
ক. সে মেজরের আত্মীয় খ. সে খুব বয়স্ক গ. গ্রামে আগে না এলেও পথঘাট চেনার মতো হাঁটছে ঘ. সে বাংলা জানে না
**উত্তর: গ।** রফিক এই গ্রামে আগে কখনো আসেনি, তবু সে এমনভাবে হাঁটছে যেন পথঘাট তার ভালো চেনা— একটি রহস্যময়, প্রতীকী ইঙ্গিত।
—
**২০। রফিক জানায় কার বিচার হতে যাচ্ছে?**
ক. ইমাম সাহেবের খ. মনা নামের একজনের, খুনের অভিযোগে গ. জয়নাল মিয়ার ঘ. আজিজ মাস্টারের
**উত্তর: খ।** রফিক জানায়, মনা নামের একজনের বিচার হবে, যে খুন করেছে বলে অভিযোগ।
**২১। মনার বিরুদ্ধে অভিযোগ কে করেছিল?**
ক. আজিজ মাস্টার খ. চিত্রা বুড়ি গ. জয়নাল মিয়া ঘ. নীলু সেন
**উত্তর: খ।** চিত্রা বুড়ি মেজর সাহেবের কাছে নালিশ করেছিলেন।
**২২। মিলিটারিদের শাস্তি ব্যবস্থা সম্পর্কে রফিক কী বলে?**
ক. তাদের বিচার ব্যবস্থা ন্যায্য খ. তারা সবসময় ক্ষমা করে দেয় গ. জেল-হাজত নেই, সব অপরাধের শাস্তি একটাই ঘ. তাদের কোনো শাস্তি ব্যবস্থা নেই
**উত্তর: গ।** রফিক বলে, মিলিটারিদের জেল-হাজত নেই, ছোট অপরাধের জন্য যে শাস্তি বড় অপরাধের জন্যও সেই একই শাস্তি।
**২৩। আজিজ মাস্টার ও ইমাম সাহেবকে সেখানে নিয়ে যাওয়ার উদ্দেশ্য কী?**
ক. তারা শাস্তি প্রত্যক্ষ করবে, যাতে ভবিষ্যতে সহজে বাধ্য হয় খ. তাদের বিচার করা হবে গ. তাদের পুরস্কৃত করা হবে ঘ. তাদের সাহায্য নেওয়া হবে
**উত্তর: ক।** মেজর সাহেবের ধারণা, শাস্তি দেখার পর তারা কথা শুনবে ও প্রশ্নের সোজাসুজি জবাব দেবে।
—
**২৪। মনা কৈবর্তের শারীরিক গঠন কেমন বলে বর্ণনা করা হয়েছে?**
ক. অসুস্থ ও দুর্বল খ. অত্যন্ত ছোটখাটো গ. সাধারণ উচ্চতার ঘ. বিশাল, প্রায় দৈত্যের মতো
**উত্তর: ঘ।** মনার শরীর বিশাল, প্রায় দৈত্যের মতো বলে বর্ণনা করা হয়েছে।
**২৫। মনার ছোট ভাইয়ের নাম কী ও বয়স কত?**
ক. বিরু, বয়স এগারো খ. রতন, বয়স নয় গ. কালু, বয়স তেরো ঘ. মনু, বয়স আট
**উত্তর: ক।** মনার ছোট ভাইয়ের নাম বিরু, বয়স এগারো, অসম্ভব রোগা।
**২৬। মেজর সাহেব মনাকে জিজ্ঞেস করলে সে খুনের কারণ কী বলে?**
ক. তার পরিবারের সাথে খারাপ আচরণ করেছিল বলে খ. কোনো কারণ বলেনি গ. জমি নিয়ে বিরোধ ঘ. অর্থের জন্য
**উত্তর: ক।** মনা বলে, যাকে সে খুন করেছে সে তার পরিবারের সাথে খারাপ কাজ করেছিল।
**২৭। মেজর সাহেব মনার স্ত্রী সম্পর্কে কী প্রশ্ন করে বিব্রতকর পরিস্থিতি তৈরি করেন?**
ক. সে কোথায় থাকে খ. তার বয়স কত গ. তার কতজন সন্তান আছে ঘ. সে রূপবতী কিনা ও তার নাম কী
**উত্তর: ঘ।** মেজর সাহেব প্রশ্ন করেন মনার স্ত্রী রূপবতী কিনা ও তার নাম কী, যা রফিকের হস্তক্ষেপে এড়ানো যায় (গ্রামের মানুষ অপরিচিতের কাছে স্ত্রীর নাম বলে না)।
—
**২৮। মেজর সাহেব চূড়ান্তভাবে কাদের পানিতে দাঁড় করাতে নির্দেশ দেন?**
ক. শুধু বিরুকে খ. শুধু মনাকে গ. পুরো পরিবারকে ঘ. মনা ও তার ছোট ভাই বিরু উভয়কে
**উত্তর: ঘ।** মেজর সাহেব নির্দেশ দেন মনা ও তার এগারো বছরের ভাই বিরু উভয়কে পানিতে দাঁড় করাতে।
**২৯। রফিক এই নির্দেশে কী প্রতিক্রিয়া দেখায়?**
ক. সে কোনো প্রতিক্রিয়া দেখায় না খ. শিশুটির ব্যাপারে আপত্তি জানালেও মেজর তা প্রত্যাখ্যান করেন গ. সে প্রতিবাদ করে চলে যায় ঘ. সে সানন্দে মেনে নেয়
**উত্তর: খ।** রফিক প্রশ্ন করে শিশুটিরও কি প্রয়োজন আছে, মেজর সাহেব বলেন প্রয়োজন আছে, নিষ্ঠুরতার নমুনা দেখানোর জন্য।
**৩০। মেজর সাহেব রফিকের আপত্তির জবাবে ঐতিহাসিক কার উদাহরণ দেন?**
ক. জুলিয়াস সিজারের খ. চেঙ্গিস খানের গ. আলেকজান্ডার দ্য গ্রেটের ঘ. নেপোলিয়নের
**উত্তর: গ।** মেজর সাহেব বলেন, অত্যাচারী রাজারাও ইতিহাসে বীরশ্রেষ্ঠ হিসেবে সম্মানিত হন— আলেকজান্ডার দি গ্রেটের নৃশংসতার কথা কেউ মনে রাখে না।
**৩১। মেজর সাহেব আজিজ মাস্টার ও ইমাম সাহেবকে কোথায় বসাতে বলেন?**
ক. খুব কাছাকাছি, যাতে তারা দৃশ্যটি ভালোভাবে দেখতে পারে খ. বাড়িতে ফিরিয়ে দিতে বলেন গ. দূরে ঘ. আড়ালে
**উত্তর: ক।** মেজর সাহেব বলেন তাদের খুব কাছাকাছি বসিয়ে দিতে, যাতে তারা দৃশ্যটি ভালোভাবে দেখে।
—
**৩২। বিরু গুলি করার আগে কী বলে চিৎকার করে?**
ক. সে চুপ থাকে খ. সে পালানোর চেষ্টা করে গ. ‘দাদা, বড় ভয় লাগে!’ ঘ. সে ক্ষমা চায়
**উত্তর: গ।** রাইফেল তাক করার সাথে সাথে বিরু চিৎকার করে বলে, ‘দাদা, বড় ভয় লাগে! ও দাদা, ভয় লাগে!’
**৩৩। মনা বিরুকে কী বলে সান্ত্বনা দেওয়ার চেষ্টা করে?**
ক. কিছু বলে না খ. পালানোর কথা বলে গ. চোখ বন্ধ করতে বলে ঘ. ‘ভয় নাই, আমাকে শক্ত করে ধর’
**উত্তর: ঘ।** মনা মৃদুস্বরে বলে, ‘ভয় নাই। আমাকে শক্ত কইরা ধর্।’ বিরু প্রাণপণ শক্তিতে ভাইকে আঁকড়ে ধরে।
**৩৪। গুলি হওয়ার সময় ইমাম সাহেবের প্রতিক্রিয়া কী হয়?**
ক. তিনি চিৎকার করেন খ. তিনি পালিয়ে যান গ. তিনি চোখ বন্ধ করেন ও বমি করেন ঘ. তিনি অজ্ঞান হয়ে পড়েন
**উত্তর: গ।** ইমাম সাহেব গুলি হওয়ার সময় চোখ বন্ধ করে ফেলেন এবং তার পরপরই মুখভর্তি করে বমি করেন।
**৩৫। আজিজ মাস্টার এই দৃশ্য দেখে কী করেন?**
ক. তিনি পালিয়ে যান খ. তিনি প্রতিবাদ করেন গ. তিনিও চোখ বন্ধ করেন ঘ. তিনি পুরো ঘটনা দেখেন, দৃষ্টি ফেরাননি
**উত্তর: ঘ।** আজিজ মাস্টার সমস্ত ব্যাপারটি চোখের সামনে ঘটতে দেখেন, এক পলকের জন্যেও দৃষ্টি ফিরিয়ে নেননি— এক গভীর, স্তব্ধ আতঙ্কের প্রকাশ।
—
**৩৬। এই পর্বের ঘটনাবলি নিয়ে নিচের তথ্যগুলো লক্ষ করো —**
i. নীলু সেন দরজা খুলে দেরি করায় গুলিবিদ্ধ হয়ে মারা যান
ii. মনা প্রকৃতপক্ষে নির্দোষ ছিল, কোনো অপরাধই করেনি
iii. মেজর এজাজ শিশু বিরুকেও হত্যার নির্দেশ দেন, নিষ্ঠুরতার ‘নমুনা’ দেখানোর জন্য
নিচের কোনটি সঠিক?
ক. i ও ii খ. i ও iii গ. ii ও iii ঘ. i, ii ও iii
**উত্তর: খ।** প্রথম ও তৃতীয় তথ্য উপন্যাসের বর্ণনার সাথে মেলে, কিন্তু মনা স্বীকার করে সে সত্যিই একটি খুন করেছিল (পারিবারিক কারণে)— তাই দ্বিতীয় তথ্যটি ভুল; তবে তার প্রকৃত অপরাধের তুলনায় মেজরের দেওয়া শাস্তি ছিল অত্যন্ত অসামঞ্জস্যপূর্ণ ও নিষ্ঠুর, বিশেষত নিরপরাধ শিশু বিরুর ক্ষেত্রে।
**৩৭। মেজর এজাজের চরিত্রের কোন ভয়াবহ দিক এই ঘটনায় প্রকাশ পায়?**
ক. ক্ষমতার অপব্যবহার, শিশু হত্যার মাধ্যমে ভীতির রাজত্ব কায়েম করা খ. তার সাহসিকতা গ. তার করুণা ঘ. তার ন্যায়বিচারবোধ
**উত্তর: ক।** এই ঘটনায় মেজর এজাজের ক্ষমতার সম্পূর্ণ অপব্যবহার এবং একটি নিরপরাধ শিশুকেও হত্যা করে জনমনে ভীতির রাজত্ব কায়েম করার হিসেবি নিষ্ঠুরতা প্রকাশ পায়।
**৩৮। রফিকের চরিত্রে এই ঘটনায় কোন পরিবর্তনের ইঙ্গিত পাওয়া যায়?**
ক. তার কোনো পরিবর্তন হয় না খ. সে আরও নিষ্ঠুর হয়ে ওঠে গ. প্রথমবারের মতো মেজরের সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে আপত্তি জানায় ঘ. সে সম্পূর্ণ উদাসীন থাকে
**উত্তর: গ।** এই প্রথম রফিক মেজরের নির্দেশের বিরুদ্ধে (শিশু বিরুর ব্যাপারে) দুর্বলভাবে হলেও আপত্তি জানায়— যা তার পরবর্তী মানসিক রূপান্তরের একটি প্রাথমিক ইঙ্গিত হিসেবে পাঠ করা যায়।
—
—
**৩৯। ‘নন-কমিশন্ড অফিসার’ কে থাকেন মেজরের সাথে বিলের কাছে?**
ক. রফিক নিজে খ. একজন নাম-উল্লেখহীন সহকারী গ. কোনো সহকারী ছিল না ঘ. আজিজ মাস্টার
**উত্তর: খ।** মেজর সাহেবের সাথে একজন নন-কমিশন্ড অফিসার ছিলেন, দুজনে নিচুগলায় কথা বলছিলেন এবং কোনো রসিকতায় উঁচুগলায় হাসছিলেন— এই তুচ্ছ আনন্দের দৃশ্য আসন্ন নিষ্ঠুরতার সাথে তীব্র বৈপরীত্য তৈরি করে।
**৪০। বিলের পাড়ে দাঁড়ানো রাজাকারদের অবস্থা কেমন বলে বর্ণনা করা হয়েছে?**
ক. তারা প্রতিবাদ করছিল খ. তাদের মুখ শুকনো, চোখে ভয়, অধিকাংশের পায়ে কিছুই নেই গ. তারা সুখী ও নির্ভার ঘ. তারা সুসজ্জিত ও আত্মবিশ্বাসী
**উত্তর: খ।** রাজাকারদের বুক ফোলানো অহংকারী ভঙ্গি থাকলেও তাদের মুখ শুকনো, চোখে ভয়ের ছাপ, এবং দুজন ছাড়া বাকি সবার পায়ে কোনো জুতা-স্যান্ডেল ছিল না— তাদের নিজেদেরও এক ধরনের অসহায়তা ও ভীতি প্রকাশ পায়।
**৪১। ‘দোয়া ইউনুস’ কেন ‘মরতবাই অন্য’ বলে ইমাম সাহেব উল্লেখ করেন?**
ক. এটি একটি সাধারণ দোয়া বলে খ. এটি নতুন একটি দোয়া বলে গ. এটি শুধু বিশেষ উপলক্ষে পড়া হয় বলে ঘ. হযরত ইউনুস (আ.) কঠিন বিপদে এই দোয়া পড়েছিলেন বলে
**উত্তর: ঘ।** হযরত ইউনুস (আ.) মাছের পেটে বন্দি অবস্থায় (এক গভীর সংকটে) এই দোয়া পড়েছিলেন বলেই এর মর্যাদা (মরতবা) অন্যরকম বলে ইমাম সাহেব মনে করেন— নিজেদের সংকটময় পরিস্থিতির সাথে এই তুলনা তাৎপর্যপূর্ণ।
**৪২। আজিজ মাস্টার ও ইমাম সাহেবের মধ্যে চরিত্রগত পার্থক্য এই অংশে কীভাবে ফুটে ওঠে?**
ক. উভয়েই সমানভাবে সাহসী খ. উভয়েই একে অপরের প্রতি বিরূপ গ. ইমাম সাহেব অস্থির, আজিজ মাস্টার স্তব্ধ ও অন্তর্মুখী ঘ. উভয়েই সম্পূর্ণ নির্বিকার
**উত্তর: গ।** ইমাম সাহেব বারবার কথা বলে নিজের উদ্বেগ প্রকাশ করেন ও ভরসা খোঁজেন, অন্যদিকে আজিজ মাস্টার ক্রমশ স্তব্ধ ও অন্তর্মুখী হয়ে পড়েন, নিজের ভেতরে ডুবে যান— এই বৈপরীত্য চরিত্র দুটিকে স্বতন্ত্র করে তোলে।
**৪৩। রফিক ইমাম সাহেবকে বারবার কী পরামর্শ দেয়?**
ক. আরও কথা বলতে খ. দ্রুত হাঁটতে গ. কম কথা বলতে, প্রয়োজন ছাড়া কিছু না জিজ্ঞেস করতে ঘ. প্রার্থনা বন্ধ করতে
**উত্তর: গ।** রফিক ইমাম সাহেবকে বারবার বলে কম কথা বলতে, বিনা প্রয়োজনে কিছু জিজ্ঞেস না করতে— কারণ বেশি কথা বলে তিনি আগেই একবার মার খেয়েছেন।
**৪৪। মেজর এজাজের ‘আলেকজান্ডার দি গ্রেট’-এর উদাহরণ দেওয়ার মধ্য দিয়ে তার কোন মানসিকতা প্রকাশ পায়?**
ক. তিনি শুধু জ্ঞান জাহির করছিলেন খ. তিনি আলেকজান্ডারকে অপছন্দ করেন গ. নিজের নিষ্ঠুরতাকে ইতিহাসের মহত্ত্বের সাথে যুক্তিসংগত করেন ঘ. তিনি ইতিহাসপ্রেমী মাত্র
**উত্তর: গ।** এই উদাহরণের মাধ্যমে মেজর এজাজ নিজের নৃশংস কর্মকাণ্ডকে ইতিহাসের ‘মহান’ বিজেতাদের নিষ্ঠুরতার সাথে তুলনা করে তা যুক্তিসংগত ও ন্যায্য প্রমাণের এক ভয়ংকর প্রচেষ্টা চালান।
—
**৪৫। ‘মরতবা’ শব্দের অর্থ কী?**
ক. সংশয় খ. দুর্বলতা গ. মর্যাদা, গুরুত্ব ঘ. ভয়
**উত্তর: গ।** মরতবা অর্থ মর্যাদা বা গুরুত্ব।
**৪৬। ‘কৈবর্ত’ শব্দটি কী নির্দেশ করে?**
ক. একটি পেশা মাত্র খ. একটি ধর্মীয় পরিচয় গ. একটি রাজনৈতিক দল ঘ. একটি জেলে-সম্প্রদায়ের নাম
**উত্তর: ঘ।** কৈবর্ত একটি সম্প্রদায়ের নাম (সাধারণত জেলে বা কৃষিজীবী), গ্রামের কৈবর্তপাড়া তাদের বসতির নাম।
**৪৭। এই পর্বে বর্ণিত ঘটনাগুলো উপন্যাসের সামগ্রিক থিমের সাথে কীভাবে সংগতিপূর্ণ?**
ক. এটি শুধু একটি বিচ্ছিন্ন ঘটনা খ. দখলদার বাহিনী তুচ্ছ অজুহাতেও নিরপরাধের ওপর নিষ্ঠুরতা করে তা দেখায় গ. এর কোনো গভীর তাৎপর্য নেই ঘ. এটি উপন্যাসের থিমের সাথে সম্পর্কহীন
**উত্তর: খ।** উপন্যাসের ভূমিকা-অংশে বলা হয়েছে দখলদার বাহিনী ন্যায়বিচারের অজুহাতে (মনার প্রকৃত অপরাধের বিচারের ছদ্মাবরণে) কীভাবে ভীতির রাজত্ব কায়েম করে— এই পর্বের ঘটনা সেই থিমেরই প্রত্যক্ষ চিত্রায়ণ।
**৪৮। এই পর্বের ঘটনাক্রম কীভাবে গ্রামবাসীদের মনস্তত্ত্বে প্রভাব ফেলবে বলে অনুমান করা যায়?**
ক. কোনো প্রভাব পড়বে না খ. তারা তাৎক্ষণিক প্রতিরোধ গড়ে তুলবে গ. গভীর আতঙ্ক ও অসহায়ত্ববোধ তৈরি হবে, যা মেজরের উদ্দেশ্যই ছিল ঘ. তারা আরও নির্ভয় হয়ে উঠবে
**উত্তর: গ।** মেজর নিজেই বলেছেন তিনি ‘নিষ্ঠুরতার নমুনা’ দেখাতে চান, যাতে ভবিষ্যতে মিলিটারির নাম শুনলেই মানুষ ভয়ে কাবু হয়ে যায়— এই ঘটনা গ্রামবাসীদের মনে গভীর আতঙ্ক ও অসহায়ত্ববোধ তৈরি করবে বলে অনুমান করা যায়।
—
একটি সংঘাতপূর্ণ এলাকায় সাধারণ মানুষকে জোরপূর্বক একত্র করে সশস্ত্র বাহিনী একজন সন্দেহভাজনকে জনসম্মুখে শাস্তি প্রদান করে, উদ্দেশ্য বাকি জনগোষ্ঠীর মধ্যে ভীতি সঞ্চার করা। এতে নিরপরাধ পরিবারের সদস্যরাও ভুক্তভোগী হয়।
**৪৯। উদ্দীপকের ঘটনার সাথে ‘১৯৭১’ উপন্যাসের এই পর্বের কোন দিকটির সাদৃশ্য পাওয়া যায়?**
ক. একটি ন্যায্য বিচার প্রক্রিয়া খ. কোনো সাদৃশ্য নেই গ. একটি স্বাভাবিক আইনি প্রক্রিয়া ঘ. ক্ষমতাবান বাহিনীর জনসম্মুখে শাস্তি দিয়ে ভীতি সঞ্চারের কৌশল
**উত্তর: ঘ।** উপন্যাসে যেমন মেজর এজাজ মনা ও বিরুকে প্রকাশ্যে হত্যা করে আজিজ মাস্টার ও ইমাম সাহেবকে তা দেখতে বাধ্য করেন যাতে ভবিষ্যতে ভীতির মাধ্যমে জনগোষ্ঠীকে বশে রাখা যায়, উদ্দীপকেও একই কৌশলের বর্ণনা পাওয়া যায়— জনসম্মুখে শাস্তি দিয়ে ভীতি সঞ্চার।
**৫০। এই ধরনের কৌশল থেকে ক্ষমতা ও নিপীড়নের কোন সর্বজনীন সত্য উঠে আসে?**
ক. এতে সবসময় প্রকৃত অপরাধীই শাস্তি পায় খ. ক্ষমতাবান বাহিনী ন্যায়বিচারের মুখোশে নিষ্ঠুরতা যুক্তিসংগত করে, নিরপরাধরাও ক্ষতিগ্রস্ত হয় গ. এটি সবসময় ন্যায্য ও কার্যকর ঘ. এর কোনো দীর্ঘমেয়াদি প্রভাব নেই
**উত্তর: খ।** এই ধরনের ঘটনা থেকে বোঝা যায়, ক্ষমতাবান দখলদার বা নিপীড়ক শক্তি প্রায়ই ন্যায়বিচারের মুখোশ পরে চরম নিষ্ঠুরতাকে যুক্তিসংগত করার চেষ্টা করে, যার ফলে নিরপরাধ মানুষও (এখানে শিশু বিরু) নির্মমভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়— এটি নিপীড়নের এক সর্বজনীন, ভয়ংকর কৌশল।
১। অষ্টম অধ্যায়ে আজিজ মাস্টার ও ইমাম সাহেব কতক্ষণ যাবৎ একসাথে আছেন বলে উল্লেখ আছে?
- ক. তিন ঘণ্টা
- খ. এক ঘণ্টা
- গ. পাঁচ ঘণ্টা
- ঘ. সারা রাত
উত্তর: ক। গত তিন ঘণ্টা যাবৎ তারা একসঙ্গে আছেন, এই সময়ে তাদের মধ্যে বিশেষ কথাবার্তা হয়নি।
২। ইমাম সাহেব আজিজ মাস্টারকে কোন দোয়া পড়তে বলেন?
- ক. দোয়া ইউনুস
- খ. দোয়া মাগফিরাত
- গ. আয়াতুল কুরসি
- ঘ. দোয়া কুনুত
উত্তর: ক। ইমাম সাহেব বলেন, দোয়া ইউনুসটা দমে দমে পড়তে, যা হযরত ইউনুস (আ.) মাছের পেটে পড়তেন।
৩। আজিজ মাস্টার প্রস্রাব করে ফেলার পর থেকে তার আচরণে কী পরিবর্তন দেখা যায়?
- ক. সে আরও সক্রিয় হয়ে ওঠে
- খ. সে রাগান্বিত হয়ে ওঠে
- গ. সে অন্যরকম হয়ে যায়, মন দিতে পারছে না
- ঘ. সে কথা বলতে শুরু করে
উত্তর: গ। পায়জামা ভিজিয়ে ফেলার পর থেকে আজিজ মাস্টার কেমন অন্যরকম হয়ে গেছে, কোনো কিছুতেই মন দিতে পারছে না।
৪। বাইরে সৈন্যদের একটি অংশকে কী করতে দেখা যায়?
- ক. তারা বিশ্রাম নিচ্ছে
- খ. তারা খাবার খাচ্ছে
- গ. কাগজের বল বানিয়ে ছুড়ে মারছে ও হাসছে
- ঘ. তারা টহল দিচ্ছে
উত্তর: গ। কয়েকজন সৈন্য কাগজের একটা বল বানিয়ে ছুড়ে ছুড়ে মারছে এবং ক্রমাগত হাসছে— এই তুচ্ছ আনন্দের দৃশ্য পরিস্থিতির ভয়াবহতার সাথে তীব্র বৈপরীত্য তৈরি করে।
৫। ক্ষুধা-তৃষ্ণার মধ্যে আজিজ মাস্টারের মনে কোন স্মৃতি জাগে?
- ক. তার পিতামাতার স্মৃতি
- খ. তার শিক্ষকতার প্রথম দিনের স্মৃতি
- গ. তার শৈশবের স্মৃতি
- ঘ. মালার তাকে খাবারের জন্য ডাকতে আসার স্মৃতি
উত্তর: ঘ। অন্য সময় বেলা হলে মালা এসে দরজা ধরে এঁকেবেঁকে দাঁড়িয়ে খাবারের কথা বলত— এই স্মৃতিই আজিজ মাস্টারের মনে জাগে।
৬। আজিজ মাস্টার মালার জন্য কী উপহার এনেছিলেন?
- ক. একটি বিশেষ আয়না
- খ. একটি পুতুল
- গ. একটি চুড়ি
- ঘ. একটি বই
উত্তর: ক। ময়মনসিংহ থেকে তিনি মালার জন্য একটি বাহারি আয়না কিনেছিলেন, যাতে দুটি আয়না পাশাপাশি— একটিতে মুখ বড় দেখা যায়।
৭। নীলু সেন আগের রাতে কেমন সময় কাটান?
- ক. শান্তিতে ঘুমান
- খ. পড়াশোনা করেন
- গ. বাইরে ভ্রমণে যান
- ঘ. তলপেটের তীব্র ব্যথায় সারারাত ছটফট করেন
উত্তর: ঘ। নীলু সেন তলপেটের তীব্র ব্যথায় সারারাত ছটফট করেন, বোনপো বলাই তার এই অবস্থা প্রত্যক্ষ করে।
৮। নীলু সেনের বোনপোর নাম কী?
- ক. রতন
- খ. গোপাল
- গ. নিতাই
- ঘ. বলাই
উত্তর: ঘ। নীলু সেনের বোনপোর নাম বলাই।
৯। রাতের ব্যথার পর ভোরে নীলু সেন কী করেন?
- ক. ব্যথা কমে গিয়ে মেঝেতে শান্তিতে ঘুমিয়ে পড়েন
- খ. তিনি মারা যান
- গ. তিনি হাসপাতালে যান
- ঘ. তিনি গ্রাম ছেড়ে চলে যান
উত্তর: ক। শেষ রাত্রে হঠাৎ ব্যথা কমে যায়, নীলু সেন ঠান্ডা পানি খেয়ে মেঝেতে শান্তিতে ঘুমিয়ে পড়েন।
১০। নীলু সেনের ঘুম কী দিয়ে ভাঙে?
- ক. অ্যালার্মের শব্দে
- খ. বলাইয়ের ডাকে
- গ. মিলিটারিদের ডাকাডাকি ও হইচইয়ে
- ঘ. পাখির ডাকে
উত্তর: গ। মিলিটারিদের ডাকাডাকি ও হইচইয়ে নীলু সেনের ঘুম ভাঙে।
১১। দরজা খুলতে দেরি হওয়ায় কী ঘটে?
- ক. মিলিটারিরা চলে যায়
- খ. তাদের জরিমানা করা হয়
- গ. তাদের ক্ষমা করে দেওয়া হয়
- ঘ. নীলু সেনকে গুলি করে হত্যা করা হয়
উত্তর: ঘ। নীলু সেন ‘আদাব’ বলার আগেই চার-পাঁচটা গুলির শব্দ হয় এবং তিনি নিঃশব্দে মৃত্যুবরণ করেন।
১২। নবম অধ্যায়ে বদিউজ্জামান কোথায় লুকিয়ে আছেন (পূর্ববর্তী অধ্যায় থেকে ধারাবাহিকতায়)?
- ক. একটি ঘরে
- খ. জংলা মাঠের পানিভর্তি গর্তে
- গ. একটি গাছের ওপরে
- ঘ. একটি নৌকায়
উত্তর: খ। বদিউজ্জামান জংলা মাঠের পানিভর্তি গর্তে লুকিয়ে আছেন, তীব্র তৃষ্ণার মধ্যে।
১৩। বদিউজ্জামান মিলিটারিদের নিষ্ঠুরতার গল্পগুলো সম্পর্কে কী ভাবেন?
- ক. তিনি সেগুলো সম্পূর্ণ বিশ্বাস করেন
- খ. তিনি হাসেন
- গ. তিনি সেগুলো নিয়ে ভাবেনই না
- ঘ. তিনি ভাবেন এসব নিছক গুজব, মিলিটারিরাও তো মানুষ
উত্তর: ঘ। বদিউজ্জামান নিজেকে বোঝানোর চেষ্টা করেন যে এসব হয়তো গুজব, মিলিটারিরাও তো আল্লাহর বান্দা, শুধু পোশাকের কারণেই হয়তো রক্ত গরম মনে হয়।
১৪। গিরগিটিটি বদিউজ্জামানের কাছে কী করতে চাইছিল বলে মনে হয়?
- ক. তাকে আক্রমণ করতে
- খ. তার সাথে খেলতে
- গ. পালিয়ে যেতে
- ঘ. পানি খেতে, কিন্তু তাকে দেখে ভয় পাচ্ছিল
উত্তর: ঘ। গিরগিটিটি পানি খেতে এসেছিল বোধহয়, কিন্তু বদিউজ্জামানকে দেখে ভয়ে এগোতেও পারছিল না, আবার তৃষ্ণা নিয়ে চলেও যেতে পারছিল না।
১৫। দশম অধ্যায়ে রফিক আজিজ মাস্টার ও ইমাম সাহেবকে কোথায় নিয়ে যেতে বলে?
- ক. মসজিদে
- খ. স্কুলে
- গ. বিলের কাছে
- ঘ. মেজরের ক্যাম্পে
উত্তর: গ। রফিক তাদের বিলের কাছে নিয়ে যেতে বলে, মেজর সাহেবের নির্দেশে।
১৬। নীল শার্ট পরা লোকটির নাম কী বলে এই অধ্যায়ে প্রকাশ পায়?
- ক. করিম
- খ. জামাল
- গ. সেলিম
- ঘ. রফিক
উত্তর: ঘ। নীল শার্ট পরা লোকটির নাম রফিক।
১৭। রফিকের বয়স কত বলে সে নিজে জানায়?
- ক. চল্লিশ
- খ. পঁয়ত্রিশ
- গ. ত্রিশ
- ঘ. পঁচিশ
উত্তর: গ। রফিক তার বয়স ত্রিশ বলে জানায়, যদিও দেখতে তার চেয়ে বেশি মনে হয়।
১৮। ইমাম সাহেব রফিককে তার নিজের বাড়ি কোথায় বলে জানান?
- ক. কুমিল্লার নবীনগর
- খ. সিলেট
- গ. চট্টগ্রাম
- ঘ. ঢাকা
উত্তর: ক। ইমাম সাহেব বলেন তার দেশ কুমিল্লা, নবীনগর।
১৯। রফিক সম্পর্কে কোন রহস্যময় তথ্য উল্লেখ করা হয়েছে?
- ক. সে মেজরের আত্মীয়
- খ. সে খুব বয়স্ক
- গ. গ্রামে আগে না এলেও পথঘাট চেনার মতো হাঁটছে
- ঘ. সে বাংলা জানে না
উত্তর: গ। রফিক এই গ্রামে আগে কখনো আসেনি, তবু সে এমনভাবে হাঁটছে যেন পথঘাট তার ভালো চেনা— একটি রহস্যময়, প্রতীকী ইঙ্গিত।
২০। রফিক জানায় কার বিচার হতে যাচ্ছে?
- ক. ইমাম সাহেবের
- খ. মনা নামের একজনের, খুনের অভিযোগে
- গ. জয়নাল মিয়ার
- ঘ. আজিজ মাস্টারের
উত্তর: খ। রফিক জানায়, মনা নামের একজনের বিচার হবে, যে খুন করেছে বলে অভিযোগ।
২১। মনার বিরুদ্ধে অভিযোগ কে করেছিল?
- ক. আজিজ মাস্টার
- খ. চিত্রা বুড়ি
- গ. জয়নাল মিয়া
- ঘ. নীলু সেন
উত্তর: খ। চিত্রা বুড়ি মেজর সাহেবের কাছে নালিশ করেছিলেন।
২২। মিলিটারিদের শাস্তি ব্যবস্থা সম্পর্কে রফিক কী বলে?
- ক. তাদের বিচার ব্যবস্থা ন্যায্য
- খ. তারা সবসময় ক্ষমা করে দেয়
- গ. জেল-হাজত নেই, সব অপরাধের শাস্তি একটাই
- ঘ. তাদের কোনো শাস্তি ব্যবস্থা নেই
উত্তর: গ। রফিক বলে, মিলিটারিদের জেল-হাজত নেই, ছোট অপরাধের জন্য যে শাস্তি বড় অপরাধের জন্যও সেই একই শাস্তি।
২৩। আজিজ মাস্টার ও ইমাম সাহেবকে সেখানে নিয়ে যাওয়ার উদ্দেশ্য কী?
- ক. তারা শাস্তি প্রত্যক্ষ করবে, যাতে ভবিষ্যতে সহজে বাধ্য হয়
- খ. তাদের বিচার করা হবে
- গ. তাদের পুরস্কৃত করা হবে
- ঘ. তাদের সাহায্য নেওয়া হবে
উত্তর: ক। মেজর সাহেবের ধারণা, শাস্তি দেখার পর তারা কথা শুনবে ও প্রশ্নের সোজাসুজি জবাব দেবে।
২৪। মনা কৈবর্তের শারীরিক গঠন কেমন বলে বর্ণনা করা হয়েছে?
- ক. অসুস্থ ও দুর্বল
- খ. অত্যন্ত ছোটখাটো
- গ. সাধারণ উচ্চতার
- ঘ. বিশাল, প্রায় দৈত্যের মতো
উত্তর: ঘ। মনার শরীর বিশাল, প্রায় দৈত্যের মতো বলে বর্ণনা করা হয়েছে।
২৫। মনার ছোট ভাইয়ের নাম কী ও বয়স কত?
- ক. বিরু, বয়স এগারো
- খ. রতন, বয়স নয়
- গ. কালু, বয়স তেরো
- ঘ. মনু, বয়স আট
উত্তর: ক। মনার ছোট ভাইয়ের নাম বিরু, বয়স এগারো, অসম্ভব রোগা।
২৬। মেজর সাহেব মনাকে জিজ্ঞেস করলে সে খুনের কারণ কী বলে?
- ক. তার পরিবারের সাথে খারাপ আচরণ করেছিল বলে
- খ. কোনো কারণ বলেনি
- গ. জমি নিয়ে বিরোধ
- ঘ. অর্থের জন্য
উত্তর: ক। মনা বলে, যাকে সে খুন করেছে সে তার পরিবারের সাথে খারাপ কাজ করেছিল।
২৭। মেজর সাহেব মনার স্ত্রী সম্পর্কে কী প্রশ্ন করে বিব্রতকর পরিস্থিতি তৈরি করেন?
- ক. সে কোথায় থাকে
- খ. তার বয়স কত
- গ. তার কতজন সন্তান আছে
- ঘ. সে রূপবতী কিনা ও তার নাম কী
উত্তর: ঘ। মেজর সাহেব প্রশ্ন করেন মনার স্ত্রী রূপবতী কিনা ও তার নাম কী, যা রফিকের হস্তক্ষেপে এড়ানো যায় (গ্রামের মানুষ অপরিচিতের কাছে স্ত্রীর নাম বলে না)।
২৮। মেজর সাহেব চূড়ান্তভাবে কাদের পানিতে দাঁড় করাতে নির্দেশ দেন?
- ক. শুধু বিরুকে
- খ. শুধু মনাকে
- গ. পুরো পরিবারকে
- ঘ. মনা ও তার ছোট ভাই বিরু উভয়কে
উত্তর: ঘ। মেজর সাহেব নির্দেশ দেন মনা ও তার এগারো বছরের ভাই বিরু উভয়কে পানিতে দাঁড় করাতে।
২৯। রফিক এই নির্দেশে কী প্রতিক্রিয়া দেখায়?
- ক. সে কোনো প্রতিক্রিয়া দেখায় না
- খ. শিশুটির ব্যাপারে আপত্তি জানালেও মেজর তা প্রত্যাখ্যান করেন
- গ. সে প্রতিবাদ করে চলে যায়
- ঘ. সে সানন্দে মেনে নেয়
উত্তর: খ। রফিক প্রশ্ন করে শিশুটিরও কি প্রয়োজন আছে, মেজর সাহেব বলেন প্রয়োজন আছে, নিষ্ঠুরতার নমুনা দেখানোর জন্য।
৩০। মেজর সাহেব রফিকের আপত্তির জবাবে ঐতিহাসিক কার উদাহরণ দেন?
- ক. জুলিয়াস সিজারের
- খ. চেঙ্গিস খানের
- গ. আলেকজান্ডার দ্য গ্রেটের
- ঘ. নেপোলিয়নের
উত্তর: গ। মেজর সাহেব বলেন, অত্যাচারী রাজারাও ইতিহাসে বীরশ্রেষ্ঠ হিসেবে সম্মানিত হন— আলেকজান্ডার দি গ্রেটের নৃশংসতার কথা কেউ মনে রাখে না।
৩১। মেজর সাহেব আজিজ মাস্টার ও ইমাম সাহেবকে কোথায় বসাতে বলেন?
- ক. খুব কাছাকাছি, যাতে তারা দৃশ্যটি ভালোভাবে দেখতে পারে
- খ. বাড়িতে ফিরিয়ে দিতে বলেন
- গ. দূরে
- ঘ. আড়ালে
উত্তর: ক। মেজর সাহেব বলেন তাদের খুব কাছাকাছি বসিয়ে দিতে, যাতে তারা দৃশ্যটি ভালোভাবে দেখে।
৩২। বিরু গুলি করার আগে কী বলে চিৎকার করে?
- ক. সে চুপ থাকে
- খ. সে পালানোর চেষ্টা করে
- গ. ‘দাদা, বড় ভয় লাগে!’
- ঘ. সে ক্ষমা চায়
উত্তর: গ। রাইফেল তাক করার সাথে সাথে বিরু চিৎকার করে বলে, ‘দাদা, বড় ভয় লাগে! ও দাদা, ভয় লাগে!’
৩৩। মনা বিরুকে কী বলে সান্ত্বনা দেওয়ার চেষ্টা করে?
- ক. কিছু বলে না
- খ. পালানোর কথা বলে
- গ. চোখ বন্ধ করতে বলে
- ঘ. ‘ভয় নাই, আমাকে শক্ত করে ধর’
উত্তর: ঘ। মনা মৃদুস্বরে বলে, ‘ভয় নাই। আমাকে শক্ত কইরা ধর্।’ বিরু প্রাণপণ শক্তিতে ভাইকে আঁকড়ে ধরে।
৩৪। গুলি হওয়ার সময় ইমাম সাহেবের প্রতিক্রিয়া কী হয়?
- ক. তিনি চিৎকার করেন
- খ. তিনি পালিয়ে যান
- গ. তিনি চোখ বন্ধ করেন ও বমি করেন
- ঘ. তিনি অজ্ঞান হয়ে পড়েন
উত্তর: গ। ইমাম সাহেব গুলি হওয়ার সময় চোখ বন্ধ করে ফেলেন এবং তার পরপরই মুখভর্তি করে বমি করেন।
৩৫। আজিজ মাস্টার এই দৃশ্য দেখে কী করেন?
- ক. তিনি পালিয়ে যান
- খ. তিনি প্রতিবাদ করেন
- গ. তিনিও চোখ বন্ধ করেন
- ঘ. তিনি পুরো ঘটনা দেখেন, দৃষ্টি ফেরাননি
উত্তর: ঘ। আজিজ মাস্টার সমস্ত ব্যাপারটি চোখের সামনে ঘটতে দেখেন, এক পলকের জন্যেও দৃষ্টি ফিরিয়ে নেননি— এক গভীর, স্তব্ধ আতঙ্কের প্রকাশ।
৩৭। মেজর এজাজের চরিত্রের কোন ভয়াবহ দিক এই ঘটনায় প্রকাশ পায়?
- ক. ক্ষমতার অপব্যবহার, শিশু হত্যার মাধ্যমে ভীতির রাজত্ব কায়েম করা
- খ. তার সাহসিকতা
- গ. তার করুণা
- ঘ. তার ন্যায়বিচারবোধ
উত্তর: ক। এই ঘটনায় মেজর এজাজের ক্ষমতার সম্পূর্ণ অপব্যবহার এবং একটি নিরপরাধ শিশুকেও হত্যা করে জনমনে ভীতির রাজত্ব কায়েম করার হিসেবি নিষ্ঠুরতা প্রকাশ পায়।
৩৮। রফিকের চরিত্রে এই ঘটনায় কোন পরিবর্তনের ইঙ্গিত পাওয়া যায়?
- ক. তার কোনো পরিবর্তন হয় না
- খ. সে আরও নিষ্ঠুর হয়ে ওঠে
- গ. প্রথমবারের মতো মেজরের সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে আপত্তি জানায়
- ঘ. সে সম্পূর্ণ উদাসীন থাকে
উত্তর: গ। এই প্রথম রফিক মেজরের নির্দেশের বিরুদ্ধে (শিশু বিরুর ব্যাপারে) দুর্বলভাবে হলেও আপত্তি জানায়— যা তার পরবর্তী মানসিক রূপান্তরের একটি প্রাথমিক ইঙ্গিত হিসেবে পাঠ করা যায়।
৩৯। ‘নন-কমিশন্ড অফিসার’ কে থাকেন মেজরের সাথে বিলের কাছে?
- ক. রফিক নিজে
- খ. একজন নাম-উল্লেখহীন সহকারী
- গ. কোনো সহকারী ছিল না
- ঘ. আজিজ মাস্টার
উত্তর: খ। মেজর সাহেবের সাথে একজন নন-কমিশন্ড অফিসার ছিলেন, দুজনে নিচুগলায় কথা বলছিলেন এবং কোনো রসিকতায় উঁচুগলায় হাসছিলেন— এই তুচ্ছ আনন্দের দৃশ্য আসন্ন নিষ্ঠুরতার সাথে তীব্র বৈপরীত্য তৈরি করে।
৪০। বিলের পাড়ে দাঁড়ানো রাজাকারদের অবস্থা কেমন বলে বর্ণনা করা হয়েছে?
- ক. তারা প্রতিবাদ করছিল
- খ. তাদের মুখ শুকনো, চোখে ভয়, অধিকাংশের পায়ে কিছুই নেই
- গ. তারা সুখী ও নির্ভার
- ঘ. তারা সুসজ্জিত ও আত্মবিশ্বাসী
উত্তর: খ। রাজাকারদের বুক ফোলানো অহংকারী ভঙ্গি থাকলেও তাদের মুখ শুকনো, চোখে ভয়ের ছাপ, এবং দুজন ছাড়া বাকি সবার পায়ে কোনো জুতা-স্যান্ডেল ছিল না— তাদের নিজেদেরও এক ধরনের অসহায়তা ও ভীতি প্রকাশ পায়।
৪১। ‘দোয়া ইউনুস’ কেন ‘মরতবাই অন্য’ বলে ইমাম সাহেব উল্লেখ করেন?
- ক. এটি একটি সাধারণ দোয়া বলে
- খ. এটি নতুন একটি দোয়া বলে
- গ. এটি শুধু বিশেষ উপলক্ষে পড়া হয় বলে
- ঘ. হযরত ইউনুস (আ.) কঠিন বিপদে এই দোয়া পড়েছিলেন বলে
উত্তর: ঘ। হযরত ইউনুস (আ.) মাছের পেটে বন্দি অবস্থায় (এক গভীর সংকটে) এই দোয়া পড়েছিলেন বলেই এর মর্যাদা (মরতবা) অন্যরকম বলে ইমাম সাহেব মনে করেন— নিজেদের সংকটময় পরিস্থিতির সাথে এই তুলনা তাৎপর্যপূর্ণ।
৪২। আজিজ মাস্টার ও ইমাম সাহেবের মধ্যে চরিত্রগত পার্থক্য এই অংশে কীভাবে ফুটে ওঠে?
- ক. উভয়েই সমানভাবে সাহসী
- খ. উভয়েই একে অপরের প্রতি বিরূপ
- গ. ইমাম সাহেব অস্থির, আজিজ মাস্টার স্তব্ধ ও অন্তর্মুখী
- ঘ. উভয়েই সম্পূর্ণ নির্বিকার
উত্তর: গ। ইমাম সাহেব বারবার কথা বলে নিজের উদ্বেগ প্রকাশ করেন ও ভরসা খোঁজেন, অন্যদিকে আজিজ মাস্টার ক্রমশ স্তব্ধ ও অন্তর্মুখী হয়ে পড়েন, নিজের ভেতরে ডুবে যান— এই বৈপরীত্য চরিত্র দুটিকে স্বতন্ত্র করে তোলে।
৪৩। রফিক ইমাম সাহেবকে বারবার কী পরামর্শ দেয়?
- ক. আরও কথা বলতে
- খ. দ্রুত হাঁটতে
- গ. কম কথা বলতে, প্রয়োজন ছাড়া কিছু না জিজ্ঞেস করতে
- ঘ. প্রার্থনা বন্ধ করতে
উত্তর: গ। রফিক ইমাম সাহেবকে বারবার বলে কম কথা বলতে, বিনা প্রয়োজনে কিছু জিজ্ঞেস না করতে— কারণ বেশি কথা বলে তিনি আগেই একবার মার খেয়েছেন।
৪৪। মেজর এজাজের ‘আলেকজান্ডার দি গ্রেট’-এর উদাহরণ দেওয়ার মধ্য দিয়ে তার কোন মানসিকতা প্রকাশ পায়?
- ক. তিনি শুধু জ্ঞান জাহির করছিলেন
- খ. তিনি আলেকজান্ডারকে অপছন্দ করেন
- গ. নিজের নিষ্ঠুরতাকে ইতিহাসের মহত্ত্বের সাথে যুক্তিসংগত করেন
- ঘ. তিনি ইতিহাসপ্রেমী মাত্র
উত্তর: গ। এই উদাহরণের মাধ্যমে মেজর এজাজ নিজের নৃশংস কর্মকাণ্ডকে ইতিহাসের ‘মহান’ বিজেতাদের নিষ্ঠুরতার সাথে তুলনা করে তা যুক্তিসংগত ও ন্যায্য প্রমাণের এক ভয়ংকর প্রচেষ্টা চালান।
৪৫। ‘মরতবা’ শব্দের অর্থ কী?
- ক. সংশয়
- খ. দুর্বলতা
- গ. মর্যাদা, গুরুত্ব
- ঘ. ভয়
উত্তর: গ। মরতবা অর্থ মর্যাদা বা গুরুত্ব।
৪৬। ‘কৈবর্ত’ শব্দটি কী নির্দেশ করে?
- ক. একটি পেশা মাত্র
- খ. একটি ধর্মীয় পরিচয়
- গ. একটি রাজনৈতিক দল
- ঘ. একটি জেলে-সম্প্রদায়ের নাম
উত্তর: ঘ। কৈবর্ত একটি সম্প্রদায়ের নাম (সাধারণত জেলে বা কৃষিজীবী), গ্রামের কৈবর্তপাড়া তাদের বসতির নাম।
৪৭। এই পর্বে বর্ণিত ঘটনাগুলো উপন্যাসের সামগ্রিক থিমের সাথে কীভাবে সংগতিপূর্ণ?
- ক. এটি শুধু একটি বিচ্ছিন্ন ঘটনা
- খ. দখলদার বাহিনী তুচ্ছ অজুহাতেও নিরপরাধের ওপর নিষ্ঠুরতা করে তা দেখায়
- গ. এর কোনো গভীর তাৎপর্য নেই
- ঘ. এটি উপন্যাসের থিমের সাথে সম্পর্কহীন
উত্তর: খ। উপন্যাসের ভূমিকা-অংশে বলা হয়েছে দখলদার বাহিনী ন্যায়বিচারের অজুহাতে (মনার প্রকৃত অপরাধের বিচারের ছদ্মাবরণে) কীভাবে ভীতির রাজত্ব কায়েম করে— এই পর্বের ঘটনা সেই থিমেরই প্রত্যক্ষ চিত্রায়ণ।
৪৮। এই পর্বের ঘটনাক্রম কীভাবে গ্রামবাসীদের মনস্তত্ত্বে প্রভাব ফেলবে বলে অনুমান করা যায়?
- ক. কোনো প্রভাব পড়বে না
- খ. তারা তাৎক্ষণিক প্রতিরোধ গড়ে তুলবে
- গ. গভীর আতঙ্ক ও অসহায়ত্ববোধ তৈরি হবে, যা মেজরের উদ্দেশ্যই ছিল
- ঘ. তারা আরও নির্ভয় হয়ে উঠবে
উত্তর: গ। মেজর নিজেই বলেছেন তিনি ‘নিষ্ঠুরতার নমুনা’ দেখাতে চান, যাতে ভবিষ্যতে মিলিটারির নাম শুনলেই মানুষ ভয়ে কাবু হয়ে যায়— এই ঘটনা গ্রামবাসীদের মনে গভীর আতঙ্ক ও অসহায়ত্ববোধ তৈরি করবে বলে অনুমান করা যায়।
৪৯। উদ্দীপকের ঘটনার সাথে ‘১৯৭১’ উপন্যাসের এই পর্বের কোন দিকটির সাদৃশ্য পাওয়া যায়?
- ক. একটি ন্যায্য বিচার প্রক্রিয়া
- খ. কোনো সাদৃশ্য নেই
- গ. একটি স্বাভাবিক আইনি প্রক্রিয়া
- ঘ. ক্ষমতাবান বাহিনীর জনসম্মুখে শাস্তি দিয়ে ভীতি সঞ্চারের কৌশল
উত্তর: ঘ। উপন্যাসে যেমন মেজর এজাজ মনা ও বিরুকে প্রকাশ্যে হত্যা করে আজিজ মাস্টার ও ইমাম সাহেবকে তা দেখতে বাধ্য করেন যাতে ভবিষ্যতে ভীতির মাধ্যমে জনগোষ্ঠীকে বশে রাখা যায়, উদ্দীপকেও একই কৌশলের বর্ণনা পাওয়া যায়— জনসম্মুখে শাস্তি দিয়ে ভীতি সঞ্চার।
৫০। এই ধরনের কৌশল থেকে ক্ষমতা ও নিপীড়নের কোন সর্বজনীন সত্য উঠে আসে?
- ক. এতে সবসময় প্রকৃত অপরাধীই শাস্তি পায়
- খ. ক্ষমতাবান বাহিনী ন্যায়বিচারের মুখোশে নিষ্ঠুরতা যুক্তিসংগত করে, নিরপরাধরাও ক্ষতিগ্রস্ত হয়
- গ. এটি সবসময় ন্যায্য ও কার্যকর
- ঘ. এর কোনো দীর্ঘমেয়াদি প্রভাব নেই
উত্তর: খ। এই ধরনের ঘটনা থেকে বোঝা যায়, ক্ষমতাবান দখলদার বা নিপীড়ক শক্তি প্রায়ই ন্যায়বিচারের মুখোশ পরে চরম নিষ্ঠুরতাকে যুক্তিসংগত করার চেষ্টা করে, যার ফলে নিরপরাধ মানুষও (এখানে শিশু বিরু) নির্মমভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়— এটি নিপীড়নের এক সর্বজনীন, ভয়ংকর কৌশল।
সংক্ষেপে মনে রাখার মূল বিষয় (মূলপাঠ, পর্ব ২ (অধ্যায় ৮-১০))
ঘটনাক্রম (অধ্যায় ৮-১০)
- স্কুলঘরে আজিজ মাস্টার ও ইমাম সাহেবের অসহায় অপেক্ষা— ক্ষুধা-তৃষ্ণা, মালার স্মৃতি, নামাজের দুশ্চিন্তা।
- নীলু সেনের রাতভর অসুস্থতা, ভোরে আরোগ্যের আভাস, কিন্তু মিলিটারির ডাকে দরজা খুলতে দেরি করায় গুলিবিদ্ধ হয়ে নিঃশব্দ মৃত্যু।
- বদিউজ্জামানের জংলা মাঠের গর্তে তৃষ্ণার্ত অবস্থায় লুকিয়ে থাকা, মিলিটারি সম্পর্কে নিজেকে সান্ত্বনা দেওয়ার নিষ্ফল চেষ্টা।
- রফিকের পরিচয় প্রকাশ, আজিজ মাস্টার ও ইমাম সাহেবকে বিলের কাছে নিয়ে যাওয়া— মনা কৈবর্তের ‘বিচার’ প্রত্যক্ষ করানোর উদ্দেশ্যে।
- মনা ও তার এগারো বছরের ভাই বিরুর সাথে মেজর এজাজের ভীতিকর জিজ্ঞাসাবাদ।
- মেজরের নির্দেশে উভয়কে পানিতে দাঁড় করিয়ে গুলি করে হত্যা— রফিকের ব্যর্থ আপত্তি, আলেকজান্ডারের উদাহরণে মেজরের যুক্তি।
- ইমাম সাহেবের আতঙ্কে বমি করা, আজিজ মাস্টারের স্তব্ধ দৃষ্টিতে সব প্রত্যক্ষ করা।
মূল ভাব/তাৎপর্য
যুদ্ধের প্রথম দিনেই সাধারণ মানুষের ওপর নেমে আসা বিচারহীন, অসামঞ্জস্যপূর্ণ নিষ্ঠুরতার এক মর্মান্তিক চিত্র— একটি নিরপরাধ শিশুর মৃত্যু ক্ষমতার হিসেবি সন্ত্রাসের প্রতীক হয়ে ওঠে, যা পাঠকের মনে যুদ্ধের প্রকৃত ভয়াবহতা গেঁথে দেয়।
গুরুত্বপূর্ণ চরিত্র
নীলু সেন (নিহত), বলাই (তার বোনপো), মনা কৈবর্ত ও বিরু (নিহত ভাইদ্বয়), রফিক (মেজরের বাঙালি সহচর, প্রথম দ্বিধার ইঙ্গিত)।
মূলপাঠ, পর্ব ৩ (অধ্যায় ১১-১৩)
উপন্যাসের এই অংশে মেজর এজাজ ও রফিকের মধ্যে এক গভীর, দার্শনিক কথোপকথন, প্রচণ্ড কালবৈশাখী ঝড়, নীলগঞ্জের ওপর নেমে আসা যুদ্ধাপরাধের আরও ভয়াবহ রূপ এবং রফিকের মনে জন্ম নেওয়া প্রথম প্রকাশ্য বিদ্রোহের ইঙ্গিত ফুটে উঠেছে। এই অংশে যুদ্ধকালীন নারীর প্রতি সংঘটিত সহিংসতা এবং মানুষের চরম অবমাননার নির্মম বাস্তবতাও চিত্রিত হয়েছে— এই বিষয়গুলো নিয়ে প্রশ্নগুলো সংযতভাবে, মূল ঘটনা ও তাৎপর্যের ওপর গুরুত্ব দিয়ে সাজানো হয়েছে। শেষে সংক্ষিপ্তসারও দেওয়া আছে।
—
**১। একাদশ অধ্যায়ে আকাশের অবস্থা কেমন বলে বর্ণনা করা হয়েছে?**
ক. মেঘ জমতে শুরু করেছে, ঝড়বৃষ্টির আশঙ্কা খ. তুষারপাত হচ্ছে গ. কুয়াশাচ্ছন্ন ঘ. পরিষ্কার ও উজ্জ্বল
**উত্তর: ক।** আকাশে মেঘ জমতে শুরু করেছে, মেজর সাহেব রফিককে জিজ্ঞেস করেন বৃষ্টি হবে কিনা।
**২। রফিক মেজর সাহেবকে কী বলে আপত্তি জানায় যখন তিনি ‘তোমার দেশ’ বলেন?**
ক. রফিক রেগে যায় খ. রফিক কোনো প্রতিক্রিয়া দেখায় না গ. রফিক জিজ্ঞেস করে ‘তোমার দেশ বললেন কেন?’ ঘ. রফিক হাসে
**উত্তর: গ।** মেজর সাহেব ‘তোমার দেশ’ বললে রফিক মৃদুস্বরে জিজ্ঞেস করে ‘তোমার দেশ বললেন কেন?’— এই প্রশ্নে তার আত্ম-পরিচয়ের প্রশ্নে এক সূক্ষ্ম দ্বিধা প্রকাশ পায়।
**৩। মেজর সাহেব মানুষকে ভয় দেখানোর মধ্যে কী খুঁজে পান বলে জানান?**
ক. তিনি এতে অনুতপ্ত হন খ. তিনি এতে দুঃখিত হন গ. কোনো আনন্দ নেই ঘ. একটা আলাদা আনন্দ, মানুষের সহজাত প্রবৃত্তি বলে মনে করেন
**উত্তর: ঘ।** মেজর সাহেব বলেন, মানুষকে ভয় পাইয়ে দেওয়ার আলাদা আনন্দ আছে এবং অন্যকে পায়ের নিচে রাখার আকাঙ্ক্ষা মানুষের ইনস্টিংক্টের মধ্যেই আছে।
**৪। মীর আলির বাড়ির সামনে দিয়ে যাওয়ার সময় কী ঘটে?**
ক. মীর আলি কণ্ঠস্বর শুনে জিজ্ঞেস করে ‘কেডা যায়?’ খ. মীর আলি ঘুমিয়ে থাকে গ. মীর আলি পালিয়ে যায় ঘ. মীর আলি তাদের চিনতে পারে
**উত্তর: ক।** মীর আলি তীক্ষ্ণকণ্ঠে জিজ্ঞেস করে, ‘কেডা যায়? কেডা যায়, জয়নাল মিয়া?’
**৫। মেজর সাহেব রফিককে দিয়ে মীর আলিকে কী বলে পাঠান?**
ক. কোনো কথা পাঠান না খ. তিনি মেজর সাহেব তাকে সালাম জানাচ্ছেন গ. তাকে ঘরে ঢুকতে নিষেধ করেন ঘ. তাকে সরে যেতে বলেন
**উত্তর: খ।** মেজর সাহেব রফিককে দিয়ে বলে পাঠান, ‘মেজর সাহেব আপনাকে সালাম জানাচ্ছেন’— অন্ধ বৃদ্ধের প্রতি এই অস্বাভাবিক সৌজন্যের কারণ পরে প্রকাশ পায়।
—
**৬। মেজর এজাজ কেন মীর আলিকে সালাম পাঠান বলে ব্যাখ্যা করেন?**
ক. নিজের গ্রামে তার অন্ধ পিতাও এভাবেই বসে থাকেন খ. তিনি মীর আলিকে চেনেন গ. মীর আলি তার আত্মীয় ঘ. এটি একটি সামরিক নিয়ম
**উত্তর: ক।** মেজর এজাজ বলেন, রেশোবা গ্রামে তার বৃদ্ধ, অন্ধ পিতাও ঠিক মীর আলির মতোই বাড়ির উঠোনে বসে থাকেন— একটি গভীর, মর্মস্পর্শী সাদৃশ্যের প্রকাশ।
**৭। এই সাদৃশ্য সম্পর্কে রফিকের মন্তব্য কী?**
ক. এটি অসম্ভব খ. তিনি কোনো মন্তব্য করেন না গ. এতে কোনো তাৎপর্য নেই ঘ. পৃথিবীর সব জায়গার মানুষই আসলে এক রকম
**উত্তর: ঘ।** রফিক বলে, পৃথিবীর সব জায়গার মানুষই আসলে এক রকম— একটি গভীর মানবিক পর্যবেক্ষণ।
**৮। মেজর এজাজ যুদ্ধের অন্যায় কাজ সম্পর্কে কোন যুক্তি দেন?**
ক. তিনি ক্ষমা চান খ. তিনি অন্যায়ের কথা অস্বীকার করেন গ. এটি সারভাইভালের প্রশ্ন, বাঙালি সৈন্যও একই কাজ করত ঘ. তিনি নিজেকে নিরপরাধ দাবি করেন
**উত্তর: গ।** মেজর এজাজ যুক্তি দেন এটি সারভাইভালের প্রশ্ন, এই পরিস্থিতিতে অন্যায় হবেই, এবং উল্টো পরিস্থিতিতে বাঙালি সৈন্যও একই কাজ করত।
**৯। রফিক এই যুক্তির জবাবে কী বলে?**
ক. সে বিষয়টি এড়িয়ে যায় খ. সে সম্মত হয় গ. দৃঢ়ভাবে ‘না’ বলে, বাঙালি সৈন্য এমন করত না ঘ. সে চুপ থাকে
**উত্তর: গ।** রফিক দৃঢ়ভাবে ‘না’ বলে জবাব দেয়— মেজরের এই সাধারণীকরণের যুক্তি প্রত্যাখ্যান করে।
—
**১০। নীলু সেনের মৃতদেহ নিয়ে কী অবস্থা দেখা যায়?**
ক. তা লুকানো হয়েছে খ. তা সৎকার করা হয়েছে গ. তা এখনো সরানো হয়নি, নীল রঙের মাছি ভনভন করছে ঘ. তা পুড়িয়ে ফেলা হয়েছে
**উত্তর: গ।** নীলু সেনের মৃতদেহ এখনো সরানো হয়নি, দরজার পাশে পড়ে আছে, নীল রঙের বড় বড় মাছি চারদিকে ভনভন করছে।
**১১। মেজর এজাজ মন্দিরের ভেতরে কার উপস্থিতি অনুমান করেন?**
ক. বলাইয়ের খ. আজিজ মাস্টারের গ. চিত্রা বুড়ির ঘ. জয়নাল মিয়ার
**উত্তর: ক।** মেজর এজাজ অনুমান করেন কালীমূর্তির পেছনে কেউ (বলাই) লুকিয়ে আছে।
**১২। মূর্তির পেছনে লুকিয়ে থাকা ব্যক্তির প্রকৃত পরিণতি কী হয় বলে অধ্যায়ে স্পষ্ট বলা আছে?**
ক. ঝড় শুরু হওয়ায় পরিণতি স্পষ্ট বলা হয়নি, মনোযোগ ঝড়ে সরে যায় খ. তাকে ক্ষমা করা হয় গ. সে পালিয়ে যায় ঘ. তাকে সরাসরি হত্যা করা হয়
**উত্তর: ক।** ঠিক তখনই প্রচণ্ড ঝড় শুরু হয়, মেজরের মনোযোগ ঝড়ের সৌন্দর্যের দিকে সরে যায় এবং বলাইয়ের বিষয়টি অস্পষ্ট থেকে যায়।
**১৩। ঝড়ের সৌন্দর্য দেখে মেজর সাহেব কী বলে ওঠেন?**
ক. ‘Terrible!’ খ. ‘Dangerous!’ গ. কিছু বলেন না ঘ. ‘Beautiful!’
**উত্তর: ঘ।** মেজর সাহেব মুগ্ধকণ্ঠে দুইবার বলেন, ‘Beautiful!’— প্রকৃতির সৌন্দর্যে মুগ্ধ হওয়ার এই মুহূর্ত তার নিষ্ঠুরতার সাথে তীব্র বৈপরীত্য তৈরি করে।
—
**১৪। ঝড়ের মধ্যে মাঠে কাকে খালি গায়ে ছুটে যেতে দেখা যায়?**
ক. বদিউজ্জামানকে খ. পাগল নিজামকে গ. মতি মিয়াকে ঘ. রফিককে
**উত্তর: খ।** ঝড়ের মধ্যে পাগল নিজামকে মহা উল্লসিত ভঙ্গিতে খালি গায়ে ছুটে যেতে দেখা যায়।
**১৫। মেজর সাহেব নিজামের ব্যাপারে কোন সন্দেহ প্রকাশ করেন?**
ক. তার কোনো সন্দেহ ছিল না খ. সে বিপজ্জনক কিনা গ. সে সত্যিই পাগল কিনা ঘ. সে হয়তো জংলা মাঠে খবর দিতে যাচ্ছে, পাগল নয়
**উত্তর: ঘ।** মেজর সাহেবের সন্দেহ হয় নিজাম হয়তো পাগল নয়, সে জংলা মাঠে খবর দিতে যাচ্ছে।
**১৬। মেজর সাহেব জর্জ বার্নাড শ-এর কোন উক্তি উল্লেখ করেন?**
ক. যুদ্ধ সম্পর্কে খ. দশজন মিলিটারি অফিসারের মধ্যে নয়জনই বোকা, বাকি একজন রামবোকা গ. প্রেম সম্পর্কে ঘ. সাহিত্য সম্পর্কে
**উত্তর: খ।** মেজর সাহেব উল্লেখ করেন, জর্জ বার্নাড শ বলেছিলেন দশজন মিলিটারি অফিসারের মধ্যে নয়জনই বোকা, বাকি একজন রামবোকা।
—
**১৭। ঝড়ে গ্রামে কার বাড়ির ছাদ উড়ে যায়?**
ক. আজিজ মাস্টারের বাড়ির খ. নীলু সেনের বাড়ির গ. জয়নাল মিয়ার ঘ. বদিউজ্জামানের নতুন টিনের বাড়ির
**উত্তর: ঘ।** ঝড়ে বদিউজ্জামানের নতুন টিনের বাড়ির ছাদ উড়ে যায়— মীর আলি আতঙ্কে চিৎকার করতে থাকেন।
**১৮। ঝড়ের সময় পানিতে দাঁড়িয়ে থাকা বদিউজ্জামানের মানসিক অবস্থার কী পরিবর্তন ঘটে?**
ক. সে কাঁদতে শুরু করে খ. তার ভয় আরও বাড়ে গ. সে অজ্ঞান হয়ে পড়ে ঘ. তার ভয় কমে যায়, নিজের মনে অকারণে হাসে
**উত্তর: ঘ।** বদিউজ্জামানের কষ্টবোধ কমে আসে, ভয়ও কমে যায়, কোনো কারণ ছাড়াই তার হাসি পায়— দীর্ঘ আতঙ্কে মানসিক অবসাদের একটি লক্ষণ।
**১৯। মাগরেবের নামাজ পড়তে যাওয়া মুসল্লিরা কেন প্রথমে ফিরে আসে?**
ক. তারা ভুল পথে গিয়েছিল খ. আজানের পর গুলির শব্দ শুনে গ. বৃষ্টি শুরু হওয়ায় ঘ. মসজিদ বন্ধ ছিল
**উত্তর: খ।** আজানের পরপরই কয়েকটি গুলির শব্দ হওয়ায় তারা নামাজ আদায় না করেই ফিরে আসে, পরে আল্লাহর গজবের ভয়ে আবার মসজিদে ফিরে যায়।
**২০। সন্ধ্যার পর গ্রামের পরিবেশ কেমন ছিল?**
ক. স্বাভাবিক খ. চারদিকে অন্ধকার, শুধু কৈবর্তপাড়া থেকে কান্নার সুর ভেসে আসছিল গ. কোলাহলপূর্ণ ঘ. উৎসবমুখর
**উত্তর: খ।** সন্ধ্যার পর গ্রামের কোথাও কোনো বাতি জ্বলেনি, চারদিকে অন্ধকার, শুধু কৈবর্তপাড়া থেকে সুরেলা কান্না ভেসে আসছিল— চিত্রা বুড়ির কান্না।
—
**২১। বলাই কোথায় লুকিয়ে ছিল সন্ধ্যা মেলাবার পর?**
ক. একটি নৌকায় খ. জংলা মাঠে গ. মন্দিরের ভেতরে ঘ. চিলেকোঠার ছাদে, পানির মধ্যে বসে
**উত্তর: ঘ।** বলাই চিলেকোঠার লোহার সিঁড়ি বেয়ে ছাদে উঠে যায়, সেখানে আধহাত পানির মধ্যে বসে থাকে, বারবার সিঁড়িতে শব্দ শুনে আতঙ্কিত হয়।
**২২। এই অংশে সফদরউল্লাহর বাড়িতে কী ঘটে যায় বলে ইঙ্গিত দেওয়া হয়েছে?**
ক. মিলিটারি ও রাজাকাররা সেখানে ঢুকে নারীদের প্রতি সহিংসতা চালায় খ. একটি সালিশি বৈঠক হয় গ. একটি ধর্মীয় অনুষ্ঠান হয় ঘ. একটি ভোজের আয়োজন হয়
**উত্তর: ক।** ঝড়ের সময় একজন মিলিটারি সুবাদার ও তিনজন রাজাকার সফদরউল্লাহর ঘরে ঢুকে সেখানে থাকা নারীদের প্রতি নৃশংস সহিংসতা চালায়, যা যুদ্ধকালীন অপরাধের সবচেয়ে নির্মম দিক।
**২৩। এই ঘটনার পর গ্রামের নারীদের নিরাপত্তা নিয়ে জয়নাল মিয়ার প্রতিক্রিয়া কেমন ছিল?**
ক. তিনি বিষয়টিকে গুরুত্ব দেননি, বলেন মুসলমান মেয়েদের ভয় নেই খ. তিনি প্রতিবাদ করেন গ. তিনি গ্রামবাসীদের সতর্ক করেন ঘ. তিনি অবিলম্বে ব্যবস্থা নেন
**উত্তর: ক।** জয়নাল মিয়া বিষয়টিকে গুরুত্ব দেননি, তিনি ভুলভাবে দাবি করেন মুসলমান মেয়েদের কোনো ভয় নেই এবং মেয়েদের গ্রামের বাইরে পাঠানোর প্রয়োজন নেই বলে মত দেন।
**২৪। জয়নাল মিয়ার এই প্রতিক্রিয়া তার চরিত্রের কোন দিক প্রকাশ করে?**
ক. তার সহানুভূতি খ. তার প্রজ্ঞা গ. তার সাহসিকতা ঘ. তার গভীর অজ্ঞতা, আত্মপ্রতারণা ও দায়িত্বজ্ঞানহীনতা
**উত্তর: ঘ।** এই প্রতিক্রিয়া জয়নাল মিয়ার গভীর অজ্ঞতা, বাস্তবতা থেকে বিচ্ছিন্নতা এবং ভয়াবহ পরিস্থিতিতেও দায়িত্বজ্ঞানহীন আত্মপ্রতারণার পরিচয় দেয়— যা তার চরিত্রের একটি গুরুতর সমালোচনামূলক দিক।
—
**২৫। ত্রয়োদশ অধ্যায়ে মেজর সাহেব ইমাম সাহেবের কাছে জানতে চান কী?**
ক. তার পরিবারের কথা খ. জঙ্গলে লুকিয়ে থাকা বাঙালি সৈন্যের সংখ্যা গ. তার আয়ের উৎস ঘ. তার শিক্ষাগত যোগ্যতা
**উত্তর: খ।** মেজর সাহেব ইমাম সাহেবের কাছে জঙ্গলে লুকিয়ে থাকা বাঙালি সৈন্যের সংখ্যা জানতে চান।
**২৬। মেজর সাহেব ইমাম সাহেবকে শেখ মুজিবুর রহমান সম্পর্কে জিজ্ঞেস করলে কী ঘটে?**
ক. ইমাম সাহেব চুপ করে থাকলে মেজর সাহেব তাকে চড় মারেন খ. ইমাম সাহেব বিস্তারিত উত্তর দেন গ. ইমাম সাহেব হাসেন ঘ. মেজর সাহেব প্রশ্নটি প্রত্যাহার করেন
**উত্তর: ক।** ইমাম সাহেব চুপ করে থাকলে মেজর সাহেব প্রচণ্ড একটি চড় মারেন, যাতে তিনি চেয়ার থেকে উল্টে পড়ে যান।
**২৭। মেজর সাহেব ইমাম সাহেবকে মোট কতবার চড় মারেন এই দৃশ্যে?**
ক. তিনবার খ. একবার গ. দুইবার ঘ. চারবার
**উত্তর: ক।** মেজর সাহেব ইমাম সাহেবকে মোট তিনবার চড় মারেন, প্রতিবার ভিন্ন প্রশ্নের অসম্পূর্ণ উত্তরে।
**২৮। আজিজ মাস্টারকে মেজর সাহেব কোন প্রশ্নে অস্বস্তিতে ফেলেন, মালা প্রসঙ্গে?**
ক. মালার ভবিষ্যৎ নিয়ে খ. তার সব কবিতা কি মালাকে নিয়েই লেখা কিনা গ. মালার পরিবার নিয়ে ঘ. মালার শিক্ষা নিয়ে
**উত্তর: খ।** মেজর সাহেব জিজ্ঞেস করেন আজিজ মাস্টারের সব কবিতা কি মালা নামের বালিকাকে নিয়ে লেখা— একটি গভীর অস্বস্তিকর ও অনুপযুক্ত প্রশ্ন।
**২৯। বনে লুকানো সৈন্যের তথ্য না পেয়ে মেজর সাহেব আজিজ মাস্টারকে কী ধরনের শাস্তির হুমকি দেন?**
ক. চরম প্রকাশ্য অপমান ও লাঞ্ছনার, গ্রামজুড়ে ঘুরিয়ে দেখানোর খ. অর্থদণ্ডের গ. কারাদণ্ডের ঘ. মৃত্যুদণ্ডের
**উত্তর: ক।** মেজর সাহেব আজিজ মাস্টারকে চরম প্রকাশ্য অপমান ও লাঞ্ছনার হুমকি দেন— তাকে নগ্ন অবস্থায় সারা গ্রামে ঘুরিয়ে দেখানোর নির্দেশ দেন, মানুষকে সম্পূর্ণভাবে ভেঙে ফেলার এক নিষ্ঠুর কৌশল।
**৩০। মেজর সাহেবের এই আদেশে রফিকের প্রতিক্রিয়া কী হয়— এই অংশের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ মুহূর্ত কোনটি?**
ক. রফিক প্রথমবার স্পষ্ট আপত্তি জানায়, বলে এতে তাকেও অপমানিত করা হচ্ছে খ. রফিক ঘটনাস্থল ত্যাগ করে গ. রফিক নীরবে আদেশ পালন করে ঘ. রফিক হাসে
**উত্তর: ক।** রফিক প্রথমবারের মতো স্পষ্টভাবে আপত্তি জানায়— বলে মানুষকে এভাবে লজ্জা দেওয়ার কোনো অর্থ হয় না, এবং এতে সে নিজেও অপমানিত বোধ করছে যেহেতু সে-ও বাঙালি। এটি রফিকের চরিত্রের রূপান্তরের একটি গুরুত্বপূর্ণ মোড়।
**৩১। মেজর সাহেব রফিকের এই আপত্তির জবাবে কী বলেন?**
ক. তিনি আদেশ প্রত্যাহার করেন খ. তিনি ক্ষমা চান গ. তিনি রফিককে মনে করিয়ে দেন সে পাকিস্তানি ঘ. তিনি নীরব থাকেন
**উত্তর: গ।** মেজর সাহেব শীতল স্বরে বলেন, রফিক যেন মনে রাখে সে পাকিস্তানি— এটি তার নিজের স্বার্থেই মনে রাখা উচিত, এক প্রচ্ছন্ন হুমকি।
**৩২। শেষ পর্যন্ত আজিজ মাস্টারকে দেওয়া চয়েস কী ছিল?**
ক. মৃত্যু অথবা লজ্জাজনক শাস্তি খ. ক্ষমা অথবা নির্বাসন গ. কোনো চয়েস দেওয়া হয়নি ঘ. অর্থ অথবা কারাদণ্ড
**উত্তর: ক।** মেজর সাহেব আজিজ মাস্টারকে মৃত্যু অথবা লজ্জাজনক শাস্তির মধ্যে বেছে নিতে বলেন; আজিজ মাস্টার বাঁচতে চাওয়ায় লজ্জাজনক শাস্তি বেছে নেন।
**৩৩। এরপর মেজর সাহেব কাকে সেই ঘরে ঢোকান, যে দৃশ্য দেখে হতবাক হয়?**
ক. রাসমোহনকে খ. জয়নাল মিয়াকে গ. মতি মিয়াকে ঘ. চিত্রা বুড়িকে
**উত্তর: খ।** মেজর সাহেব জয়নাল মিয়াকে সেই ঘরে ঢোকান, যিনি আজিজ মাস্টারের অপমানজনক অবস্থা দেখে হতবাক হয়ে যান, কথা বলতে পারেন না।
—
**৩৪। এই পর্বের ঘটনাক্রম নিয়ে নিচের তথ্যগুলো লক্ষ করো —**
i. মেজর এজাজের নিজের পিতাও অন্ধ, যা মীর আলির সাথে তার এক অস্বস্তিকর সাদৃশ্য তৈরি করে
ii. রফিক এই পর্বে প্রথমবারের মতো মেজরের সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে স্পষ্ট আপত্তি জানায়
iii. জয়নাল মিয়া গ্রামের নারীদের নিরাপত্তা নিয়ে তাৎক্ষণিক কার্যকর ব্যবস্থা নেন
নিচের কোনটি সঠিক?
ক. i ও ii খ. i ও iii গ. ii ও iii ঘ. i, ii ও iii
**উত্তর: ক।** প্রথম দুটি তথ্য এই পর্বের বর্ণনার সাথে মেলে, কিন্তু জয়নাল মিয়া প্রকৃতপক্ষে নারীদের নিরাপত্তা নিয়ে কোনো কার্যকর ব্যবস্থা নেননি, বরং বিষয়টিকে অবহেলা করেছেন— তাই তৃতীয় তথ্যটি ভুল।
**৩৫। এই পর্বে যুদ্ধের কোন গভীরতর সত্য উন্মোচিত হয়?**
ক. যুদ্ধ সাধারণ মানুষের শরীর ও মর্যাদার ওপর সমানভাবে নিষ্ঠুর আঘাত হানে খ. যুদ্ধের কোনো মানসিক প্রভাব নেই গ. যুদ্ধে শুধু শারীরিক ক্ষতি হয় ঘ. যুদ্ধ শুধু সৈনিকদের মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকে
**উত্তর: ক।** এই পর্বে স্পষ্ট হয়, যুদ্ধ সাধারণ মানুষের শরীর (সহিংসতা), মর্যাদা (প্রকাশ্য অপমান) ও মনস্তত্ত্ব (ভয়, লজ্জা)— সব কিছুর ওপরই সমানভাবে নিষ্ঠুর আঘাত হানে, নারী-পুরুষ নির্বিশেষে।
—
**৩৬। ‘নিশুতি’ শব্দের অর্থ কী?**
ক. গভীর রাত, নিস্তব্ধ রাত খ. ভোরবেলা গ. সন্ধ্যাবেলা ঘ. দিনের বেলা
**উত্তর: ক।** নিশুতি অর্থ গভীর ও নিস্তব্ধ রাত।
**৩৭। এই পর্বে সফদরউল্লাহর হাতে দা নিয়ে বের হওয়ার তাৎপর্য কী?**
ক. তার পরিবারের ওপর সংঘটিত অপরাধের জন্য তিনি প্রতিশোধ নিতে চাইছেন খ. তিনি কাঠ কাটতে যাচ্ছেন গ. তিনি শিকার করতে যাচ্ছেন ঘ. তার কোনো বিশেষ উদ্দেশ্য নেই
**উত্তর: ক।** সফদরউল্লাহ তার পরিবারের ওপর সংঘটিত নিষ্ঠুর অপরাধের জন্য দায়ীদের খুঁজে প্রতিশোধ নিতে দা হাতে বের হন— ব্যক্তিগত প্রতিরোধের একটি প্রাথমিক ইঙ্গিত।
**৩৮। কৈবর্তপাড়ার মানুষেরা কীভাবে গ্রাম ছাড়ছিল?**
ক. জোরে চিৎকার করতে করতে খ. দিনের বেলায় প্রকাশ্যে গ. সরকারি সাহায্যে ঘ. নিঃশব্দে, দ্রুত সবকিছু গুছিয়ে
**উত্তর: ঘ।** কৈবর্তপাড়ার মানুষেরা নিঃশব্দে, দ্রুত সবকিছু (হাঁস-মুরগি-ছাগল সহ) গুছিয়ে গ্রাম ছেড়ে সরে পড়ছিল, শিশুরাও নীরব ছিল।
**৩৯। মীর আলি কেন কাঁদছিলেন এই পর্বের শেষে?**
ক. একাকিত্বে খ. ব্যথায় গ. ভয়ে ঘ. ভাতের জন্য, বদিউজ্জামান না ফেরা পর্যন্ত অনুফা ভাত রাঁধেনি বলে
**উত্তর: ঘ।** মীর আলি ভাতের জন্য কাঁদছিলেন, কারণ ছেলে না ফেরা পর্যন্ত অনুফা ভাত রাঁধতে রাজি হচ্ছিল না— চরম বিপর্যয়ের মধ্যেও ক্ষুধার মতো মৌলিক মানবিক চাহিদার এই ক্ষুদ্র বর্ণনা উপন্যাসের বাস্তববাদী শৈলীর পরিচয়।
—
**৪০। মেজর এজাজ ও রফিকের কথোপকথনের ধরন নিয়ে নিচের তথ্যগুলো লক্ষ করো —**
i. মেজর সাহেব রফিকের সাথে প্রায় বন্ধুর মতো কথা বলেন
ii. তাদের কথোপকথনে দার্শনিক প্রশ্নও উঠে আসে (যেমন মানুষের সহিংসতার প্রবৃত্তি)
iii. রফিক শুরু থেকেই মেজরের সব সিদ্ধান্তে সম্পূর্ণ সহমত পোষণ করে
নিচের কোনটি সঠিক?
ক. i ও ii খ. i ও iii গ. ii ও iii ঘ. i, ii ও iii
**উত্তর: ক।** প্রথম দুটি তথ্য সঠিক, কিন্তু রফিক ধীরে ধীরে মেজরের সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে দ্বিধা ও আপত্তি প্রকাশ করতে শুরু করে, শুরু থেকে সম্পূর্ণ সহমত পোষণ করেনি— তাই তৃতীয় তথ্যটি ভুল।
—
একটি দখলদার বাহিনী কোনো অঞ্চল দখল করার পর সেখানকার সাধারণ মানুষের ওপর নানাভাবে ক্ষমতা প্রদর্শন করে— কখনো শারীরিক নির্যাতনের মাধ্যমে, কখনো জনসম্মুখে অপমান করে, কখনো নারীদের ওপর সহিংসতা চালিয়ে। এইসব ঘটনার মধ্য দিয়ে বাহিনীর মধ্যে থাকা কিছু সদস্যের মনেও ধীরে ধীরে দ্বিধা ও অস্বস্তি জন্ম নিতে দেখা যায়।
**৪১। উদ্দীপকের বর্ণনার সাথে ‘১৯৭১’ উপন্যাসের এই পর্বের কোন দিকটির সাদৃশ্য পাওয়া যায়?**
ক. কোনো সাদৃশ্য নেই খ. একটি কাল্পনিক পরিস্থিতি, উপন্যাসের সাথে সম্পর্কহীন গ. একটি ঐতিহাসিক ঘটনার সরাসরি বর্ণনা ঘ. দখলদার শক্তির নিপীড়ন ও এর মধ্যে মনস্তাত্ত্বিক দ্বন্দ্বের উত্থান
**উত্তর: ঘ।** উপন্যাসে মেজর এজাজের বাহিনী যেমন শারীরিক নির্যাতন, প্রকাশ্য অপমান ও নারীদের প্রতি সহিংসতার মাধ্যমে ক্ষমতা প্রদর্শন করে, এবং রফিকের মধ্যে ধীরে ধীরে দ্বিধা জন্ম নেয়, উদ্দীপকেও ঠিক একই সাধারণ কাঠামোর বর্ণনা পাওয়া যায়।
**৪২। রফিকের মতো চরিত্রের মধ্যে জন্ম নেওয়া দ্বিধা কী ইঙ্গিত বহন করে?**
ক. এটি শুধু ব্যক্তিগত ভীরুতার প্রকাশ খ. এটি নিছক দুর্বলতার লক্ষণ গ. এটি কোনো গুরুত্বপূর্ণ ইঙ্গিত নয় ঘ. নিপীড়নের চরম রূপ দেখলে নিপীড়ক পক্ষের মধ্যেও মনুষ্যত্ববোধ জাগতে পারে
**উত্তর: ঘ।** রফিকের মধ্যে জন্ম নেওয়া দ্বিধা ইঙ্গিত দেয় যে, নিপীড়নের চরম, অমানবিক রূপ প্রত্যক্ষ করলে মানুষের সহজাত মনুষ্যত্ববোধ জাগ্রত হতে পারে, এমনকি যে নিপীড়ক পক্ষের অংশ, তার মধ্যেও— এটি উপন্যাসের একটি গুরুত্বপূর্ণ মানবিক বার্তা।
১। একাদশ অধ্যায়ে আকাশের অবস্থা কেমন বলে বর্ণনা করা হয়েছে?
- ক. মেঘ জমতে শুরু করেছে, ঝড়বৃষ্টির আশঙ্কা
- খ. তুষারপাত হচ্ছে
- গ. কুয়াশাচ্ছন্ন
- ঘ. পরিষ্কার ও উজ্জ্বল
উত্তর: ক। আকাশে মেঘ জমতে শুরু করেছে, মেজর সাহেব রফিককে জিজ্ঞেস করেন বৃষ্টি হবে কিনা।
২। রফিক মেজর সাহেবকে কী বলে আপত্তি জানায় যখন তিনি ‘তোমার দেশ’ বলেন?
- ক. রফিক রেগে যায়
- খ. রফিক কোনো প্রতিক্রিয়া দেখায় না
- গ. রফিক জিজ্ঞেস করে ‘তোমার দেশ বললেন কেন?’
- ঘ. রফিক হাসে
উত্তর: গ। মেজর সাহেব ‘তোমার দেশ’ বললে রফিক মৃদুস্বরে জিজ্ঞেস করে ‘তোমার দেশ বললেন কেন?’— এই প্রশ্নে তার আত্ম-পরিচয়ের প্রশ্নে এক সূক্ষ্ম দ্বিধা প্রকাশ পায়।
৩। মেজর সাহেব মানুষকে ভয় দেখানোর মধ্যে কী খুঁজে পান বলে জানান?
- ক. তিনি এতে অনুতপ্ত হন
- খ. তিনি এতে দুঃখিত হন
- গ. কোনো আনন্দ নেই
- ঘ. একটা আলাদা আনন্দ, মানুষের সহজাত প্রবৃত্তি বলে মনে করেন
উত্তর: ঘ। মেজর সাহেব বলেন, মানুষকে ভয় পাইয়ে দেওয়ার আলাদা আনন্দ আছে এবং অন্যকে পায়ের নিচে রাখার আকাঙ্ক্ষা মানুষের ইনস্টিংক্টের মধ্যেই আছে।
৪। মীর আলির বাড়ির সামনে দিয়ে যাওয়ার সময় কী ঘটে?
- ক. মীর আলি কণ্ঠস্বর শুনে জিজ্ঞেস করে ‘কেডা যায়?’
- খ. মীর আলি ঘুমিয়ে থাকে
- গ. মীর আলি পালিয়ে যায়
- ঘ. মীর আলি তাদের চিনতে পারে
উত্তর: ক। মীর আলি তীক্ষ্ণকণ্ঠে জিজ্ঞেস করে, ‘কেডা যায়? কেডা যায়, জয়নাল মিয়া?’
৫। মেজর সাহেব রফিককে দিয়ে মীর আলিকে কী বলে পাঠান?
- ক. কোনো কথা পাঠান না
- খ. তিনি মেজর সাহেব তাকে সালাম জানাচ্ছেন
- গ. তাকে ঘরে ঢুকতে নিষেধ করেন
- ঘ. তাকে সরে যেতে বলেন
উত্তর: খ। মেজর সাহেব রফিককে দিয়ে বলে পাঠান, ‘মেজর সাহেব আপনাকে সালাম জানাচ্ছেন’— অন্ধ বৃদ্ধের প্রতি এই অস্বাভাবিক সৌজন্যের কারণ পরে প্রকাশ পায়।
৬। মেজর এজাজ কেন মীর আলিকে সালাম পাঠান বলে ব্যাখ্যা করেন?
- ক. নিজের গ্রামে তার অন্ধ পিতাও এভাবেই বসে থাকেন
- খ. তিনি মীর আলিকে চেনেন
- গ. মীর আলি তার আত্মীয়
- ঘ. এটি একটি সামরিক নিয়ম
উত্তর: ক। মেজর এজাজ বলেন, রেশোবা গ্রামে তার বৃদ্ধ, অন্ধ পিতাও ঠিক মীর আলির মতোই বাড়ির উঠোনে বসে থাকেন— একটি গভীর, মর্মস্পর্শী সাদৃশ্যের প্রকাশ।
৭। এই সাদৃশ্য সম্পর্কে রফিকের মন্তব্য কী?
- ক. এটি অসম্ভব
- খ. তিনি কোনো মন্তব্য করেন না
- গ. এতে কোনো তাৎপর্য নেই
- ঘ. পৃথিবীর সব জায়গার মানুষই আসলে এক রকম
উত্তর: ঘ। রফিক বলে, পৃথিবীর সব জায়গার মানুষই আসলে এক রকম— একটি গভীর মানবিক পর্যবেক্ষণ।
৮। মেজর এজাজ যুদ্ধের অন্যায় কাজ সম্পর্কে কোন যুক্তি দেন?
- ক. তিনি ক্ষমা চান
- খ. তিনি অন্যায়ের কথা অস্বীকার করেন
- গ. এটি সারভাইভালের প্রশ্ন, বাঙালি সৈন্যও একই কাজ করত
- ঘ. তিনি নিজেকে নিরপরাধ দাবি করেন
উত্তর: গ। মেজর এজাজ যুক্তি দেন এটি সারভাইভালের প্রশ্ন, এই পরিস্থিতিতে অন্যায় হবেই, এবং উল্টো পরিস্থিতিতে বাঙালি সৈন্যও একই কাজ করত।
৯। রফিক এই যুক্তির জবাবে কী বলে?
- ক. সে বিষয়টি এড়িয়ে যায়
- খ. সে সম্মত হয়
- গ. দৃঢ়ভাবে ‘না’ বলে, বাঙালি সৈন্য এমন করত না
- ঘ. সে চুপ থাকে
উত্তর: গ। রফিক দৃঢ়ভাবে ‘না’ বলে জবাব দেয়— মেজরের এই সাধারণীকরণের যুক্তি প্রত্যাখ্যান করে।
১০। নীলু সেনের মৃতদেহ নিয়ে কী অবস্থা দেখা যায়?
- ক. তা লুকানো হয়েছে
- খ. তা সৎকার করা হয়েছে
- গ. তা এখনো সরানো হয়নি, নীল রঙের মাছি ভনভন করছে
- ঘ. তা পুড়িয়ে ফেলা হয়েছে
উত্তর: গ। নীলু সেনের মৃতদেহ এখনো সরানো হয়নি, দরজার পাশে পড়ে আছে, নীল রঙের বড় বড় মাছি চারদিকে ভনভন করছে।
১১। মেজর এজাজ মন্দিরের ভেতরে কার উপস্থিতি অনুমান করেন?
- ক. বলাইয়ের
- খ. আজিজ মাস্টারের
- গ. চিত্রা বুড়ির
- ঘ. জয়নাল মিয়ার
উত্তর: ক। মেজর এজাজ অনুমান করেন কালীমূর্তির পেছনে কেউ (বলাই) লুকিয়ে আছে।
১২। মূর্তির পেছনে লুকিয়ে থাকা ব্যক্তির প্রকৃত পরিণতি কী হয় বলে অধ্যায়ে স্পষ্ট বলা আছে?
- ক. ঝড় শুরু হওয়ায় পরিণতি স্পষ্ট বলা হয়নি, মনোযোগ ঝড়ে সরে যায়
- খ. তাকে ক্ষমা করা হয়
- গ. সে পালিয়ে যায়
- ঘ. তাকে সরাসরি হত্যা করা হয়
উত্তর: ক। ঠিক তখনই প্রচণ্ড ঝড় শুরু হয়, মেজরের মনোযোগ ঝড়ের সৌন্দর্যের দিকে সরে যায় এবং বলাইয়ের বিষয়টি অস্পষ্ট থেকে যায়।
১৩। ঝড়ের সৌন্দর্য দেখে মেজর সাহেব কী বলে ওঠেন?
- ক. ‘Terrible!’
- খ. ‘Dangerous!’
- গ. কিছু বলেন না
- ঘ. ‘Beautiful!’
উত্তর: ঘ। মেজর সাহেব মুগ্ধকণ্ঠে দুইবার বলেন, ‘Beautiful!’— প্রকৃতির সৌন্দর্যে মুগ্ধ হওয়ার এই মুহূর্ত তার নিষ্ঠুরতার সাথে তীব্র বৈপরীত্য তৈরি করে।
১৪। ঝড়ের মধ্যে মাঠে কাকে খালি গায়ে ছুটে যেতে দেখা যায়?
- ক. বদিউজ্জামানকে
- খ. পাগল নিজামকে
- গ. মতি মিয়াকে
- ঘ. রফিককে
উত্তর: খ। ঝড়ের মধ্যে পাগল নিজামকে মহা উল্লসিত ভঙ্গিতে খালি গায়ে ছুটে যেতে দেখা যায়।
১৫। মেজর সাহেব নিজামের ব্যাপারে কোন সন্দেহ প্রকাশ করেন?
- ক. তার কোনো সন্দেহ ছিল না
- খ. সে বিপজ্জনক কিনা
- গ. সে সত্যিই পাগল কিনা
- ঘ. সে হয়তো জংলা মাঠে খবর দিতে যাচ্ছে, পাগল নয়
উত্তর: ঘ। মেজর সাহেবের সন্দেহ হয় নিজাম হয়তো পাগল নয়, সে জংলা মাঠে খবর দিতে যাচ্ছে।
১৬। মেজর সাহেব জর্জ বার্নাড শ-এর কোন উক্তি উল্লেখ করেন?
- ক. যুদ্ধ সম্পর্কে
- খ. দশজন মিলিটারি অফিসারের মধ্যে নয়জনই বোকা, বাকি একজন রামবোকা
- গ. প্রেম সম্পর্কে
- ঘ. সাহিত্য সম্পর্কে
উত্তর: খ। মেজর সাহেব উল্লেখ করেন, জর্জ বার্নাড শ বলেছিলেন দশজন মিলিটারি অফিসারের মধ্যে নয়জনই বোকা, বাকি একজন রামবোকা।
১৭। ঝড়ে গ্রামে কার বাড়ির ছাদ উড়ে যায়?
- ক. আজিজ মাস্টারের বাড়ির
- খ. নীলু সেনের বাড়ির
- গ. জয়নাল মিয়ার
- ঘ. বদিউজ্জামানের নতুন টিনের বাড়ির
উত্তর: ঘ। ঝড়ে বদিউজ্জামানের নতুন টিনের বাড়ির ছাদ উড়ে যায়— মীর আলি আতঙ্কে চিৎকার করতে থাকেন।
১৮। ঝড়ের সময় পানিতে দাঁড়িয়ে থাকা বদিউজ্জামানের মানসিক অবস্থার কী পরিবর্তন ঘটে?
- ক. সে কাঁদতে শুরু করে
- খ. তার ভয় আরও বাড়ে
- গ. সে অজ্ঞান হয়ে পড়ে
- ঘ. তার ভয় কমে যায়, নিজের মনে অকারণে হাসে
উত্তর: ঘ। বদিউজ্জামানের কষ্টবোধ কমে আসে, ভয়ও কমে যায়, কোনো কারণ ছাড়াই তার হাসি পায়— দীর্ঘ আতঙ্কে মানসিক অবসাদের একটি লক্ষণ।
১৯। মাগরেবের নামাজ পড়তে যাওয়া মুসল্লিরা কেন প্রথমে ফিরে আসে?
- ক. তারা ভুল পথে গিয়েছিল
- খ. আজানের পর গুলির শব্দ শুনে
- গ. বৃষ্টি শুরু হওয়ায়
- ঘ. মসজিদ বন্ধ ছিল
উত্তর: খ। আজানের পরপরই কয়েকটি গুলির শব্দ হওয়ায় তারা নামাজ আদায় না করেই ফিরে আসে, পরে আল্লাহর গজবের ভয়ে আবার মসজিদে ফিরে যায়।
২০। সন্ধ্যার পর গ্রামের পরিবেশ কেমন ছিল?
- ক. স্বাভাবিক
- খ. চারদিকে অন্ধকার, শুধু কৈবর্তপাড়া থেকে কান্নার সুর ভেসে আসছিল
- গ. কোলাহলপূর্ণ
- ঘ. উৎসবমুখর
উত্তর: খ। সন্ধ্যার পর গ্রামের কোথাও কোনো বাতি জ্বলেনি, চারদিকে অন্ধকার, শুধু কৈবর্তপাড়া থেকে সুরেলা কান্না ভেসে আসছিল— চিত্রা বুড়ির কান্না।
২১। বলাই কোথায় লুকিয়ে ছিল সন্ধ্যা মেলাবার পর?
- ক. একটি নৌকায়
- খ. জংলা মাঠে
- গ. মন্দিরের ভেতরে
- ঘ. চিলেকোঠার ছাদে, পানির মধ্যে বসে
উত্তর: ঘ। বলাই চিলেকোঠার লোহার সিঁড়ি বেয়ে ছাদে উঠে যায়, সেখানে আধহাত পানির মধ্যে বসে থাকে, বারবার সিঁড়িতে শব্দ শুনে আতঙ্কিত হয়।
২২। এই অংশে সফদরউল্লাহর বাড়িতে কী ঘটে যায় বলে ইঙ্গিত দেওয়া হয়েছে?
- ক. মিলিটারি ও রাজাকাররা সেখানে ঢুকে নারীদের প্রতি সহিংসতা চালায়
- খ. একটি সালিশি বৈঠক হয়
- গ. একটি ধর্মীয় অনুষ্ঠান হয়
- ঘ. একটি ভোজের আয়োজন হয়
উত্তর: ক। ঝড়ের সময় একজন মিলিটারি সুবাদার ও তিনজন রাজাকার সফদরউল্লাহর ঘরে ঢুকে সেখানে থাকা নারীদের প্রতি নৃশংস সহিংসতা চালায়, যা যুদ্ধকালীন অপরাধের সবচেয়ে নির্মম দিক।
২৩। এই ঘটনার পর গ্রামের নারীদের নিরাপত্তা নিয়ে জয়নাল মিয়ার প্রতিক্রিয়া কেমন ছিল?
- ক. তিনি বিষয়টিকে গুরুত্ব দেননি, বলেন মুসলমান মেয়েদের ভয় নেই
- খ. তিনি প্রতিবাদ করেন
- গ. তিনি গ্রামবাসীদের সতর্ক করেন
- ঘ. তিনি অবিলম্বে ব্যবস্থা নেন
উত্তর: ক। জয়নাল মিয়া বিষয়টিকে গুরুত্ব দেননি, তিনি ভুলভাবে দাবি করেন মুসলমান মেয়েদের কোনো ভয় নেই এবং মেয়েদের গ্রামের বাইরে পাঠানোর প্রয়োজন নেই বলে মত দেন।
২৪। জয়নাল মিয়ার এই প্রতিক্রিয়া তার চরিত্রের কোন দিক প্রকাশ করে?
- ক. তার সহানুভূতি
- খ. তার প্রজ্ঞা
- গ. তার সাহসিকতা
- ঘ. তার গভীর অজ্ঞতা, আত্মপ্রতারণা ও দায়িত্বজ্ঞানহীনতা
উত্তর: ঘ। এই প্রতিক্রিয়া জয়নাল মিয়ার গভীর অজ্ঞতা, বাস্তবতা থেকে বিচ্ছিন্নতা এবং ভয়াবহ পরিস্থিতিতেও দায়িত্বজ্ঞানহীন আত্মপ্রতারণার পরিচয় দেয়— যা তার চরিত্রের একটি গুরুতর সমালোচনামূলক দিক।
২৫। ত্রয়োদশ অধ্যায়ে মেজর সাহেব ইমাম সাহেবের কাছে জানতে চান কী?
- ক. তার পরিবারের কথা
- খ. জঙ্গলে লুকিয়ে থাকা বাঙালি সৈন্যের সংখ্যা
- গ. তার আয়ের উৎস
- ঘ. তার শিক্ষাগত যোগ্যতা
উত্তর: খ। মেজর সাহেব ইমাম সাহেবের কাছে জঙ্গলে লুকিয়ে থাকা বাঙালি সৈন্যের সংখ্যা জানতে চান।
২৬। মেজর সাহেব ইমাম সাহেবকে শেখ মুজিবুর রহমান সম্পর্কে জিজ্ঞেস করলে কী ঘটে?
- ক. ইমাম সাহেব চুপ করে থাকলে মেজর সাহেব তাকে চড় মারেন
- খ. ইমাম সাহেব বিস্তারিত উত্তর দেন
- গ. ইমাম সাহেব হাসেন
- ঘ. মেজর সাহেব প্রশ্নটি প্রত্যাহার করেন
উত্তর: ক। ইমাম সাহেব চুপ করে থাকলে মেজর সাহেব প্রচণ্ড একটি চড় মারেন, যাতে তিনি চেয়ার থেকে উল্টে পড়ে যান।
২৭। মেজর সাহেব ইমাম সাহেবকে মোট কতবার চড় মারেন এই দৃশ্যে?
- ক. তিনবার
- খ. একবার
- গ. দুইবার
- ঘ. চারবার
উত্তর: ক। মেজর সাহেব ইমাম সাহেবকে মোট তিনবার চড় মারেন, প্রতিবার ভিন্ন প্রশ্নের অসম্পূর্ণ উত্তরে।
২৮। আজিজ মাস্টারকে মেজর সাহেব কোন প্রশ্নে অস্বস্তিতে ফেলেন, মালা প্রসঙ্গে?
- ক. মালার ভবিষ্যৎ নিয়ে
- খ. তার সব কবিতা কি মালাকে নিয়েই লেখা কিনা
- গ. মালার পরিবার নিয়ে
- ঘ. মালার শিক্ষা নিয়ে
উত্তর: খ। মেজর সাহেব জিজ্ঞেস করেন আজিজ মাস্টারের সব কবিতা কি মালা নামের বালিকাকে নিয়ে লেখা— একটি গভীর অস্বস্তিকর ও অনুপযুক্ত প্রশ্ন।
২৯। বনে লুকানো সৈন্যের তথ্য না পেয়ে মেজর সাহেব আজিজ মাস্টারকে কী ধরনের শাস্তির হুমকি দেন?
- ক. চরম প্রকাশ্য অপমান ও লাঞ্ছনার, গ্রামজুড়ে ঘুরিয়ে দেখানোর
- খ. অর্থদণ্ডের
- গ. কারাদণ্ডের
- ঘ. মৃত্যুদণ্ডের
উত্তর: ক। মেজর সাহেব আজিজ মাস্টারকে চরম প্রকাশ্য অপমান ও লাঞ্ছনার হুমকি দেন— তাকে নগ্ন অবস্থায় সারা গ্রামে ঘুরিয়ে দেখানোর নির্দেশ দেন, মানুষকে সম্পূর্ণভাবে ভেঙে ফেলার এক নিষ্ঠুর কৌশল।
৩০। মেজর সাহেবের এই আদেশে রফিকের প্রতিক্রিয়া কী হয়— এই অংশের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ মুহূর্ত কোনটি?
- ক. রফিক প্রথমবার স্পষ্ট আপত্তি জানায়, বলে এতে তাকেও অপমানিত করা হচ্ছে
- খ. রফিক ঘটনাস্থল ত্যাগ করে
- গ. রফিক নীরবে আদেশ পালন করে
- ঘ. রফিক হাসে
উত্তর: ক। রফিক প্রথমবারের মতো স্পষ্টভাবে আপত্তি জানায়— বলে মানুষকে এভাবে লজ্জা দেওয়ার কোনো অর্থ হয় না, এবং এতে সে নিজেও অপমানিত বোধ করছে যেহেতু সে-ও বাঙালি। এটি রফিকের চরিত্রের রূপান্তরের একটি গুরুত্বপূর্ণ মোড়।
৩১। মেজর সাহেব রফিকের এই আপত্তির জবাবে কী বলেন?
- ক. তিনি আদেশ প্রত্যাহার করেন
- খ. তিনি ক্ষমা চান
- গ. তিনি রফিককে মনে করিয়ে দেন সে পাকিস্তানি
- ঘ. তিনি নীরব থাকেন
উত্তর: গ। মেজর সাহেব শীতল স্বরে বলেন, রফিক যেন মনে রাখে সে পাকিস্তানি— এটি তার নিজের স্বার্থেই মনে রাখা উচিত, এক প্রচ্ছন্ন হুমকি।
৩২। শেষ পর্যন্ত আজিজ মাস্টারকে দেওয়া চয়েস কী ছিল?
- ক. মৃত্যু অথবা লজ্জাজনক শাস্তি
- খ. ক্ষমা অথবা নির্বাসন
- গ. কোনো চয়েস দেওয়া হয়নি
- ঘ. অর্থ অথবা কারাদণ্ড
উত্তর: ক। মেজর সাহেব আজিজ মাস্টারকে মৃত্যু অথবা লজ্জাজনক শাস্তির মধ্যে বেছে নিতে বলেন; আজিজ মাস্টার বাঁচতে চাওয়ায় লজ্জাজনক শাস্তি বেছে নেন।
৩৩। এরপর মেজর সাহেব কাকে সেই ঘরে ঢোকান, যে দৃশ্য দেখে হতবাক হয়?
- ক. রাসমোহনকে
- খ. জয়নাল মিয়াকে
- গ. মতি মিয়াকে
- ঘ. চিত্রা বুড়িকে
উত্তর: খ। মেজর সাহেব জয়নাল মিয়াকে সেই ঘরে ঢোকান, যিনি আজিজ মাস্টারের অপমানজনক অবস্থা দেখে হতবাক হয়ে যান, কথা বলতে পারেন না।
৩৫। এই পর্বে যুদ্ধের কোন গভীরতর সত্য উন্মোচিত হয়?
- ক. যুদ্ধ সাধারণ মানুষের শরীর ও মর্যাদার ওপর সমানভাবে নিষ্ঠুর আঘাত হানে
- খ. যুদ্ধের কোনো মানসিক প্রভাব নেই
- গ. যুদ্ধে শুধু শারীরিক ক্ষতি হয়
- ঘ. যুদ্ধ শুধু সৈনিকদের মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকে
উত্তর: ক। এই পর্বে স্পষ্ট হয়, যুদ্ধ সাধারণ মানুষের শরীর (সহিংসতা), মর্যাদা (প্রকাশ্য অপমান) ও মনস্তত্ত্ব (ভয়, লজ্জা)— সব কিছুর ওপরই সমানভাবে নিষ্ঠুর আঘাত হানে, নারী-পুরুষ নির্বিশেষে।
৩৬। ‘নিশুতি’ শব্দের অর্থ কী?
- ক. গভীর রাত, নিস্তব্ধ রাত
- খ. ভোরবেলা
- গ. সন্ধ্যাবেলা
- ঘ. দিনের বেলা
উত্তর: ক। নিশুতি অর্থ গভীর ও নিস্তব্ধ রাত।
৩৭। এই পর্বে সফদরউল্লাহর হাতে দা নিয়ে বের হওয়ার তাৎপর্য কী?
- ক. তার পরিবারের ওপর সংঘটিত অপরাধের জন্য তিনি প্রতিশোধ নিতে চাইছেন
- খ. তিনি কাঠ কাটতে যাচ্ছেন
- গ. তিনি শিকার করতে যাচ্ছেন
- ঘ. তার কোনো বিশেষ উদ্দেশ্য নেই
উত্তর: ক। সফদরউল্লাহ তার পরিবারের ওপর সংঘটিত নিষ্ঠুর অপরাধের জন্য দায়ীদের খুঁজে প্রতিশোধ নিতে দা হাতে বের হন— ব্যক্তিগত প্রতিরোধের একটি প্রাথমিক ইঙ্গিত।
৩৮। কৈবর্তপাড়ার মানুষেরা কীভাবে গ্রাম ছাড়ছিল?
- ক. জোরে চিৎকার করতে করতে
- খ. দিনের বেলায় প্রকাশ্যে
- গ. সরকারি সাহায্যে
- ঘ. নিঃশব্দে, দ্রুত সবকিছু গুছিয়ে
উত্তর: ঘ। কৈবর্তপাড়ার মানুষেরা নিঃশব্দে, দ্রুত সবকিছু (হাঁস-মুরগি-ছাগল সহ) গুছিয়ে গ্রাম ছেড়ে সরে পড়ছিল, শিশুরাও নীরব ছিল।
৩৯। মীর আলি কেন কাঁদছিলেন এই পর্বের শেষে?
- ক. একাকিত্বে
- খ. ব্যথায়
- গ. ভয়ে
- ঘ. ভাতের জন্য, বদিউজ্জামান না ফেরা পর্যন্ত অনুফা ভাত রাঁধেনি বলে
উত্তর: ঘ। মীর আলি ভাতের জন্য কাঁদছিলেন, কারণ ছেলে না ফেরা পর্যন্ত অনুফা ভাত রাঁধতে রাজি হচ্ছিল না— চরম বিপর্যয়ের মধ্যেও ক্ষুধার মতো মৌলিক মানবিক চাহিদার এই ক্ষুদ্র বর্ণনা উপন্যাসের বাস্তববাদী শৈলীর পরিচয়।
৪১। উদ্দীপকের বর্ণনার সাথে ‘১৯৭১’ উপন্যাসের এই পর্বের কোন দিকটির সাদৃশ্য পাওয়া যায়?
- ক. কোনো সাদৃশ্য নেই
- খ. একটি কাল্পনিক পরিস্থিতি, উপন্যাসের সাথে সম্পর্কহীন
- গ. একটি ঐতিহাসিক ঘটনার সরাসরি বর্ণনা
- ঘ. দখলদার শক্তির নিপীড়ন ও এর মধ্যে মনস্তাত্ত্বিক দ্বন্দ্বের উত্থান
উত্তর: ঘ। উপন্যাসে মেজর এজাজের বাহিনী যেমন শারীরিক নির্যাতন, প্রকাশ্য অপমান ও নারীদের প্রতি সহিংসতার মাধ্যমে ক্ষমতা প্রদর্শন করে, এবং রফিকের মধ্যে ধীরে ধীরে দ্বিধা জন্ম নেয়, উদ্দীপকেও ঠিক একই সাধারণ কাঠামোর বর্ণনা পাওয়া যায়।
৪২। রফিকের মতো চরিত্রের মধ্যে জন্ম নেওয়া দ্বিধা কী ইঙ্গিত বহন করে?
- ক. এটি শুধু ব্যক্তিগত ভীরুতার প্রকাশ
- খ. এটি নিছক দুর্বলতার লক্ষণ
- গ. এটি কোনো গুরুত্বপূর্ণ ইঙ্গিত নয়
- ঘ. নিপীড়নের চরম রূপ দেখলে নিপীড়ক পক্ষের মধ্যেও মনুষ্যত্ববোধ জাগতে পারে
উত্তর: ঘ। রফিকের মধ্যে জন্ম নেওয়া দ্বিধা ইঙ্গিত দেয় যে, নিপীড়নের চরম, অমানবিক রূপ প্রত্যক্ষ করলে মানুষের সহজাত মনুষ্যত্ববোধ জাগ্রত হতে পারে, এমনকি যে নিপীড়ক পক্ষের অংশ, তার মধ্যেও— এটি উপন্যাসের একটি গুরুত্বপূর্ণ মানবিক বার্তা।
সংক্ষেপে মনে রাখার মূল বিষয় (মূলপাঠ, পর্ব ৩ (অধ্যায় ১১-১৩))
ঘটনাক্রম (অধ্যায় ১১-১৩)
- মেজর এজাজ ও রফিকের মধ্যে ঝড়ের প্রাক্কালে দার্শনিক কথোপকথন— নিষ্ঠুরতা, ক্ষমতা ও যুদ্ধের ন্যায্যতা নিয়ে বিতর্ক।
- মীর আলির প্রতি মেজরের অস্বাভাবিক সৌজন্য— নিজের অন্ধ পিতার সাথে তুলনা।
- নীলু সেনের অসৎকৃত মৃতদেহ, মন্দিরে লুকিয়ে থাকা বলাইয়ের বিপদ, প্রচণ্ড কালবৈশাখী ঝড়ের বর্ণনা।
- ঝড়ে বদিউজ্জামানের বাড়ির ছাদ ওড়া, গ্রামজুড়ে অন্ধকার ও আতঙ্ক, কৈবর্তপাড়ার নীরব পলায়ন।
- সফদরউল্লাহর বাড়িতে সংঘটিত নৃশংস যুদ্ধাপরাধ এবং জয়নাল মিয়ার দায়িত্বজ্ঞানহীন উদাসীনতা।
- মেজরের হাতে ইমাম সাহেবের তিনবার প্রহৃত হওয়া।
- আজিজ মাস্টারকে চরম প্রকাশ্য অপমানের হুমকি, মৃত্যু বা লাঞ্ছনার মধ্যে বেছে নিতে বাধ্য করা।
- রফিকের প্রথম প্রকাশ্য আপত্তি— এই পর্বের সবচেয়ে তাৎপর্যপূর্ণ মোড়, তার মানসিক রূপান্তরের সূচনা।
মূল ভাব/তাৎপর্য
যুদ্ধের নিষ্ঠুরতা কীভাবে মানুষের শরীর, মর্যাদা ও মনস্তত্ত্ব— সবকিছুকেই আক্রমণ করে, তার এক গভীর চিত্রায়ণ; পাশাপাশি নিপীড়ক পক্ষের মধ্যেও মনুষ্যত্ববোধের জাগরণ সম্ভব, রফিকের ক্রমবর্ধমান দ্বিধা তারই ইঙ্গিত।
গুরুত্বপূর্ণ চরিত্র
বলাই (নীলু সেনের বোনপো, মন্দিরে লুকানো), সফদরউল্লাহ (নিজের পরিবারের ওপর অপরাধের প্রতিশোধ নিতে দা হাতে বের হন), জয়নাল মিয়া (দায়িত্বজ্ঞানহীন উদাসীনতার প্রতীক)।
মূলপাঠ, পর্ব ৪ (অধ্যায় ১৪-১৬, উপসংহার)
উপন্যাসের এই শেষ অংশে আজিজ মাস্টারের মৃত্যুবরণ, জয়নাল মিয়ার ভাঙা স্বীকারোক্তি এবং সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণভাবে রফিকের পূর্ণ রূপান্তর ও প্রতিরোধের এক অবিস্মরণীয় সমাপ্তি বর্ণিত হয়েছে। নিচের প্রশ্নগুলো ঘটনার মূল দিক ধরে সাজানো, শেষে সংক্ষিপ্তসারও দেওয়া আছে।
—
**১। সেপাইদের জন্য রান্না করা খাবার কেন পৌঁছায়নি?**
ক. ঝড়ের কারণে মধুবন থেকে খাবার পৌঁছাতে দেরি হচ্ছে খ. তারা রান্না করতে ভুলে গেছে গ. তাদের খাবার দেওয়া হবে না ঘ. খাবার শেষ হয়ে গেছে
**উত্তর: ক।** সেপাইদের রান্না মধুবনে হওয়ার কথা ছিল, কিন্তু ঝড়ের কারণে রান্না করা খাবার এসে পৌঁছায়নি বলে তারা ক্ষুধার্ত অবস্থায় বসে আছে।
**২। বদিউজ্জামানের শারীরিক-মানসিক অবস্থা এই অধ্যায়ে কেমন হয়ে ওঠে?**
ক. সে পালিয়ে যায় খ. সে ঘুমিয়ে পড়ে গ. তার জ্বর আসে, কান ঝাঁ ঝাঁ করে, অলীক শব্দ শোনে ঘ. সে সম্পূর্ণ সুস্থ বোধ করে
**উত্তর: গ।** দীর্ঘ সময় পানিতে দাঁড়িয়ে থাকার ফলে বদিউজ্জামানের জ্বরের লক্ষণ দেখা দেয়, কান ঝাঁ ঝাঁ করে, সে অলীক শব্দ ও উপস্থিতি অনুভব করতে শুরু করে— চরম মানসিক বিপর্যয়ের ইঙ্গিত।
**৩। বদিউজ্জামান মৃত্যুর মুখোমুখি হলে কী বলার পরিকল্পনা করে?**
ক. সে নীরব থাকবে খ. সে হাস্যকরভাবে বলবে ‘ভাইয়েরা, কেমন আছেন?’ গ. সে ক্ষমা চাইবে ঘ. সে প্রতিরোধ করবে
**উত্তর: খ।** মানসিক বিপর্যয়ের মধ্যেই বদিউজ্জামান ঠিক করে রাখে মিলিটারিরা তাকে মারতে এলে সে হাস্যকরভাবে বলবে ‘ভাইয়েরা, কেমন আছেন?’— এবং এই কল্পনায় নিজের মনেই হাসতে থাকে।
—
**৪। মেজর এজাজ রফিককে কেন অবিশ্বাস করেন বলে সরাসরি স্বীকার করেন?**
ক. রফিকের কোনো অভিজ্ঞতা নেই বলে খ. রফিক তাকে অপমান করেছে বলে গ. রফিক তার শত্রু বলে ঘ. যারা বাঙালিদের বিশ্বাস করেছে তারাই মারা পড়েছে, যেমন তার বন্ধু
**উত্তর: ঘ।** মেজর এজাজ বলেন, যারা বাঙালিদের বিশ্বাস করেছে তারা সবাই মারা পড়েছে— তার বন্ধু মেজর বখতিয়ারের উদাহরণ দেন, যাকে বন্দি করা হয়েছিল।
**৫। রফিক মেজর সাহেবকে ‘ইট ঝোলানো’ প্রসঙ্গে কী জবাব দেয়?**
ক. সে ভুলে গিয়েছিল খ. সে আদেশ পালন করেছে গ. সে তা করেনি, বলে এটি তার কাছে অপ্রয়োজনীয় মনে হয়েছে ঘ. সে অস্বীকার করে
**উত্তর: গ।** রফিক স্বীকার করে সে ইট ঝোলায়নি, কারণ তার কাছে তা অপ্রয়োজনীয় মনে হয়েছে— মেজরের নির্দেশ অমান্য করার একটি স্পষ্ট, সাহসী দৃষ্টান্ত।
**৬। মেজর সাহেব রফিককে আর কোন সুযোগ প্রত্যাহার করে নেন?**
ক. তার বেতন খ. তার প্রশ্ন করার অধিকার গ. তার ছুটি ঘ. তার পদমর্যাদা
**উত্তর: খ।** মেজর সাহেব বলেন, রফিককে দেওয়া প্রশ্ন করার সুযোগ (প্রিভিলেজ) এখন থেকে আর দিতে চান না।
—
**৭। মেজর সাহেব জয়নাল মিয়াকে কী বলে সবচেয়ে বেশি আতঙ্কিত করেন?**
ক. তাকে হত্যা করবেন বলে খ. তার সম্পত্তি কেড়ে নেবেন বলে গ. আজিজ মাস্টারকে তার মেয়ে মালার কাছে নিয়ে যাবেন বলে ঘ. তার বাড়ি পুড়িয়ে দেবেন বলে
**উত্তর: গ।** মেজর সাহেব বলেন আজিজ মাস্টারকে এই লাঞ্ছিত অবস্থাতেই তার মেয়ের কাছে নিয়ে যাবেন— এই ভয়াবহ হুমকিতে জয়নাল মিয়া হাউমাউ করে কেঁদে ওঠেন।
**৮। এই মুহূর্তে আজিজ মাস্টার কী বলে ওঠেন?**
ক. তিনি ক্ষমা চান খ. তিনি পালাতে চেষ্টা করেন গ. তিনি নীরব থাকেন ঘ. তিনি মরতে প্রস্তুত বলে লজ্জার হাত থেকে বাঁচাতে বলেন
**উত্তর: ঘ।** আজিজ মাস্টার স্পষ্ট স্বরে বলেন, ‘মেজর সাহেব, আমি মরবার জন্য প্রস্তুত আছি। আমাকে লজ্জার হাত থেকে বাঁচান।’— এক গভীর মর্যাদাপূর্ণ সিদ্ধান্ত।
**৯। মৃত্যুর জন্য যাওয়ার আগে আজিজ মাস্টার ইমাম সাহেবকে কী বলেন?**
ক. একটি বার্তা দেন খ. ‘সালামালিকুম’ গ. কিছুই বলেন না ঘ. একটি অনুরোধ করেন
**উত্তর: খ।** আজিজ মাস্টার যাওয়ার আগে ইমাম সাহেবের দিকে তাকিয়ে বলেন, ‘সালামালিকুম’— শান্ত, মর্যাদাপূর্ণ বিদায়।
**১০। আজিজ মাস্টার কীভাবে হেঁটে যান বিলের দিকে?**
ক. জোর করে টেনে নিয়ে যাওয়া হয় খ. কাঁদতে কাঁদতে গ. বেশ সহজ ও স্বাভাবিকভাবে ঘ. কাঁপতে কাঁপতে
**উত্তর: গ।** আজিজ মাস্টার বেশ সহজ ও স্বাভাবিকভাবেই হেঁটে যান— অপমানিত জীবনের চেয়ে মর্যাদাপূর্ণ মৃত্যু বেছে নেওয়ার শান্ত দৃঢ়তা।
**১১। আজিজ মাস্টার চলে যাওয়ার পর কী শোনা যায়?**
ক. একটি গান খ. স্কুলঘরের পেছনে কয়েকটি গুলির শব্দ গ. একটি প্রার্থনা ঘ. একটি ঘোষণা
**উত্তর: খ।** কিছুক্ষণের মধ্যেই স্কুলঘরের পেছনে কয়েকটি গুলির শব্দ শোনা যায়— আজিজ মাস্টারের মৃত্যু নিশ্চিত হয়।
—
**১২। জয়নাল মিয়া মেজরের কড়া জিজ্ঞাসাবাদে কী তথ্য প্রকাশ করে দেন?**
ক. কিছুই প্রকাশ করেন না খ. জংলা মাঠে লুকিয়ে থাকা প্রায় একশজন সৈন্যের কথা গ. শুধু নিজের নাম ঘ. মিথ্যা তথ্য দেন
**উত্তর: খ।** ভয়ে ভেঙে পড়ে জয়নাল মিয়া প্রকাশ করে দেন জংলা মাঠে প্রায় একশজন সৈন্য লুকিয়ে আছে, তারা পরশু এসেছে, তিনবার খাবার পাঠানো হয়েছে, ছয়-সাতজন আহত সৈন্য কৈবর্তপাড়ায় আছে।
**১৩। জয়নাল মিয়া কেন এই তথ্য দিতে বাধ্য হন বলে মনে হয়?**
ক. তিনি মেজরের প্রতি অনুগত ছিলেন খ. চরম ভয় ও আজিজ মাস্টারের পরিণতি দেখার পর প্রাণভয়ে গ. তাকে ঘুষ দেওয়া হয়েছিল ঘ. তিনি স্বেচ্ছায় দিতে চেয়েছিলেন
**উত্তর: খ।** আজিজ মাস্টারের ভয়াবহ পরিণতি প্রত্যক্ষ করার পর এবং নিজের প্রাণ ও কন্যার নিরাপত্তার আতঙ্কে জয়নাল মিয়া তথ্য দিতে বাধ্য হন।
**১৪। তথ্য পাওয়ার পর মেজর সাহেব জয়নাল মিয়া ও ইমাম সাহেবকে কী করতে বলেন?**
ক. তাদের বন্দি করে রাখেন খ. তাদের আরও প্রশ্ন করেন গ. তাদের চলে যেতে বলেন ঘ. তাদের শাস্তি দেন
**উত্তর: গ।** মেজর সাহেব উভয়কে চলে যেতে বলেন, দ্রুত দৌড়ে যেতে বলেন যেন তিনি মত পরিবর্তনের আগেই তারা চলে যায়।
—
**১৫। কৈবর্তপাড়ায় কী ঘটে এই পর্বে?**
ক. একটি সালিশি বৈঠক হয় খ. মানুষ ফিরে আসে গ. একটি উৎসব হয় ঘ. রাজাকাররা ঘরবাড়িতে আগুন জ্বালিয়ে দেয়
**উত্তর: ঘ।** রাজাকাররা কৈবর্তপাড়ার ঘরবাড়িতে আগুন জ্বালিয়ে দেয়, যদিও ভেজা ঘরবাড়ি হওয়ায় আগুন সহজে ধরতে চায় না।
**১৬। এই আগুন দেখে মীর আলির প্রতিক্রিয়া কী হয়?**
ক. তিনি ঘুমিয়ে পড়েন খ. তিনি নির্বিকার থাকেন গ. চোখে না দেখলেও আভা টের পেয়ে ‘আগুন আগুন’ বলে চিৎকার করেন ঘ. তিনি পালিয়ে যান
**উত্তর: গ।** চোখে দেখতে না পেলেও মীর আলি আগুনের আভা অনুভব করে ‘আগুন আগুন’ বলে চিৎকার করতে থাকেন— এক করুণ, প্রতীকী মুহূর্ত।
—
**১৭। উপন্যাসের শেষ দৃশ্যে রফিককে কোথায় নামতে দেখা যায়?**
ক. একটি খালে খ. একটি নদীতে গ. একটি নৌকায় ঘ. বিলের পানিতে
**উত্তর: ঘ।** মেজরের নির্দেশে রফিক বিলের পানিতে নামে, সম্ভবত মৃতদেহ খুঁজতে।
**১৮। বিলের পানিতে রফিকের হাতে কী ঠেকে?**
ক. একটি পাথর খ. একটি মাছ গ. একটি নৌকার অংশ ঘ. মনার ছোট ভাই বিরুর মৃতদেহ, উপুড় হয়ে ভাসছে
**উত্তর: ঘ।** রফিকের হাতে বিরুর মৃতদেহ ঠেকে, যা উপুড় হয়ে ভাসছিল।
**১৯। বিরুর মৃতদেহ স্পর্শ করে রফিক কী বলে?**
ক. পরম স্নেহে বলে, ‘ভয় নাই। ভয়ের কিছুই নাই।’ খ. কিছু বলে না গ. সে চিৎকার করে ঘ. সে কাঁদতে শুরু করে
**উত্তর: ক।** রফিক পরম স্নেহে বিরুর গায়ে হাত রেখে বলে, ‘ভয় নাই। ভয়ের কিছুই নাই।’— মৃত শিশুর প্রতি এক গভীর, মানবিক করুণার প্রকাশ, যা তার সম্পূর্ণ মানসিক রূপান্তরের প্রমাণ।
**২০। মেজর সাহেব জিজ্ঞেস করলে রফিক জানায় সে কার সাথে কথা বলছিল?**
ক. নিজের সাথে, নিজেকে সাহস দিচ্ছিল খ. মেজরের সাথে গ. কারো সাথে না ঘ. বিরুর সাথে
**উত্তর: ক।** রফিক জানায় সে নিজের সাথে কথা বলছিল, নিজেকে সাহস দিচ্ছিল, কারণ সে নিজেকে ভীতু মনে করে।
—
**২১। মেজর সাহেব শেষবারের মতো রফিককে কী প্রশ্ন করেন?**
ক. তার বেতন সম্পর্কে খ. সে বেঁচে থাকতে চায় কিনা গ. তার ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা সম্পর্কে ঘ. তার পরিবার সম্পর্কে
**উত্তর: খ।** মেজর সাহেব জিজ্ঞেস করেন, ‘রফিক, তুমি কি বেঁচে থাকতে চাও?’
**২২। রফিক এই প্রশ্নের জবাবে কী বলে?**
ক. শান্তস্বরে বলে সবাই বেঁচে থাকতে চায়, মেজরও চান খ. সে ভয় পায় গ. সে হাসে ঘ. সে জবাব দেয় না
**উত্তর: ক।** রফিক শান্তস্বরে বলে, সে বেঁচে থাকতে চায়, সবাই বেঁচে থাকতে চায়, এমনকি মেজর সাহেব নিজেও চান।
**২৩। রফিক শেষে মেজরকে কোন সাহসী, তাৎপর্যপূর্ণ কথা বলে?**
ক. সে ক্ষমা চায় খ. সে নীরব থাকে গ. তার মনে হয় না মেজর এই দেশ থেকে জীবিত ফিরে যাবেন ঘ. সে তাকে ধন্যবাদ জানায়
**উত্তর: গ।** রফিক তীক্ষ্ণস্বরে বলে, তার মনে হয় না মেজর সাহেব এই দেশ থেকে জীবিত ফিরে যাবেন— একটি সরাসরি, নির্ভীক ভবিষ্যদ্বাণী ও চ্যালেঞ্জ।
**২৪। এই কথা শুনে মেজর সাহেব কী করেন?**
ক. তিনি সঙ্গীদের পশতু ভাষায় কিছু বলেন, সম্ভবত গুলির নির্দেশ খ. তিনি হাসেন গ. তিনি পালিয়ে যান ঘ. তিনি ক্ষমা করে দেন
**উত্তর: ক।** মেজর সাহেব সঙ্গী জোয়ান দুটিকে পশতু ভাষায় কিছু বলেন— যা গুলির নির্দেশ বলে মনে হয়, যদিও রফিক পশতু বোঝে না।
**২৫। উপন্যাসের শেষ পঙক্তিতে মেজর এজাজ রফিককে কীভাবে দেখেন?**
ক. একজন পরাজিত মানুষ হিসেবে খ. তিনি তাকে চিনতে পারেন না, ‘এ অন্য রফিক’ গ. আগের মতোই চেনা রফিক হিসেবে ঘ. একজন ক্ষমাপ্রার্থী হিসেবে
**উত্তর: খ।** উপন্যাসের শেষ পঙক্তিতে বলা হয়, বুক পর্যন্ত পানিতে দাঁড়িয়ে থাকা রফিককে মেজর এজাজ চিনতে পারেন না— ‘এ অন্য রফিক’। মেজরের কপালে ঘাম জমতে থাকে— তার ভয় ও অনিশ্চয়তার প্রতীক।
—
**২৬। উপন্যাসের সমাপ্তি নিয়ে নিচের তথ্যগুলো লক্ষ করো —**
i. আজিজ মাস্টার অপমানের বদলে মৃত্যু বেছে নিয়ে মর্যাদা রক্ষা করেন
ii. রফিক সম্পূর্ণ রূপান্তরিত হয়ে মেজরকে সরাসরি চ্যালেঞ্জ জানায়
iii. উপন্যাসটি একটি সুনির্দিষ্ট, সুখী সমাপ্তিতে শেষ হয়
নিচের কোনটি সঠিক?
ক. i ও ii খ. i ও iii গ. ii ও iii ঘ. i, ii ও iii
**উত্তর: ক।** প্রথম দুটি তথ্য সঠিক, কিন্তু উপন্যাসটি একটি খোলা (open-ended), উদ্বেগপূর্ণ সমাপ্তিতে শেষ হয়— মেজরের ভীত প্রতিক্রিয়া দিয়ে, কোনো সুনির্দিষ্ট সুখী পরিণতি ছাড়াই; তাই তৃতীয় তথ্যটি ভুল।
**২৭। রফিকের চূড়ান্ত রূপান্তর কীভাবে ব্যাখ্যা করা যায়, ভূমিকা-অংশে দেওয়া বিশ্লেষণের আলোকে?**
ক. ক্রমাগত নিষ্ঠুরতা প্রত্যক্ষ করে তার ভেতরের বাঙালি পরিচয় জাগ্রত হয়েছে খ. অর্থনৈতিক কারণে গ. এটি একটি আকস্মিক, অব্যাখ্যাত পরিবর্তন ঘ. মেজরের প্রতি ব্যক্তিগত আক্রোশ থেকে
**উত্তর: ক।** ভূমিকা-অংশের আলোচনা অনুযায়ী মনা-বিরুর নিষ্ঠুর হত্যা, আজিজ মাস্টারের অপমান ও মৃত্যু, এবং একের পর এক নিষ্ঠুরতা প্রত্যক্ষ করার মধ্য দিয়ে রফিকের ভেতরে সুপ্ত থাকা বাঙালি পরিচয় ও মনুষ্যত্ববোধ জাগ্রত হয়ে ওঠে, যা তাকে শেষ পর্যন্ত প্রতিবাদমুখী করে তোলে।
**২৮। উপন্যাসের শেষ দৃশ্যে ‘আগুনের আঁচে’ রফিককে দেখানোর প্রতীকী তাৎপর্য কী হতে পারে?**
ক. এটি রফিকের শাস্তির ইঙ্গিত খ. এর কোনো প্রতীকী অর্থ নেই গ. ধ্বংসের আগুনের মধ্যেই নতুন প্রতিরোধ ও রূপান্তরের জন্ম ঘ. এটি নিছক আলোকসজ্জার বর্ণনা
**উত্তর: গ।** কৈবর্তপাড়া পোড়ানোর ধ্বংসাত্মক আগুনের আঁচে রফিকের নতুন, সাহসী রূপ প্রকাশ পাওয়া প্রতীকীভাবে ইঙ্গিত দেয়— ধ্বংস ও যন্ত্রণার মধ্য দিয়েই কখনো কখনো নতুন প্রতিরোধ ও মনুষ্যত্বের দৃঢ়তার জন্ম হয়।
১। সেপাইদের জন্য রান্না করা খাবার কেন পৌঁছায়নি?
- ক. ঝড়ের কারণে মধুবন থেকে খাবার পৌঁছাতে দেরি হচ্ছে
- খ. তারা রান্না করতে ভুলে গেছে
- গ. তাদের খাবার দেওয়া হবে না
- ঘ. খাবার শেষ হয়ে গেছে
উত্তর: ক। সেপাইদের রান্না মধুবনে হওয়ার কথা ছিল, কিন্তু ঝড়ের কারণে রান্না করা খাবার এসে পৌঁছায়নি বলে তারা ক্ষুধার্ত অবস্থায় বসে আছে।
২। বদিউজ্জামানের শারীরিক-মানসিক অবস্থা এই অধ্যায়ে কেমন হয়ে ওঠে?
- ক. সে পালিয়ে যায়
- খ. সে ঘুমিয়ে পড়ে
- গ. তার জ্বর আসে, কান ঝাঁ ঝাঁ করে, অলীক শব্দ শোনে
- ঘ. সে সম্পূর্ণ সুস্থ বোধ করে
উত্তর: গ। দীর্ঘ সময় পানিতে দাঁড়িয়ে থাকার ফলে বদিউজ্জামানের জ্বরের লক্ষণ দেখা দেয়, কান ঝাঁ ঝাঁ করে, সে অলীক শব্দ ও উপস্থিতি অনুভব করতে শুরু করে— চরম মানসিক বিপর্যয়ের ইঙ্গিত।
৩। বদিউজ্জামান মৃত্যুর মুখোমুখি হলে কী বলার পরিকল্পনা করে?
- ক. সে নীরব থাকবে
- খ. সে হাস্যকরভাবে বলবে ‘ভাইয়েরা, কেমন আছেন?’
- গ. সে ক্ষমা চাইবে
- ঘ. সে প্রতিরোধ করবে
উত্তর: খ। মানসিক বিপর্যয়ের মধ্যেই বদিউজ্জামান ঠিক করে রাখে মিলিটারিরা তাকে মারতে এলে সে হাস্যকরভাবে বলবে ‘ভাইয়েরা, কেমন আছেন?’— এবং এই কল্পনায় নিজের মনেই হাসতে থাকে।
৪। মেজর এজাজ রফিককে কেন অবিশ্বাস করেন বলে সরাসরি স্বীকার করেন?
- ক. রফিকের কোনো অভিজ্ঞতা নেই বলে
- খ. রফিক তাকে অপমান করেছে বলে
- গ. রফিক তার শত্রু বলে
- ঘ. যারা বাঙালিদের বিশ্বাস করেছে তারাই মারা পড়েছে, যেমন তার বন্ধু
উত্তর: ঘ। মেজর এজাজ বলেন, যারা বাঙালিদের বিশ্বাস করেছে তারা সবাই মারা পড়েছে— তার বন্ধু মেজর বখতিয়ারের উদাহরণ দেন, যাকে বন্দি করা হয়েছিল।
৫। রফিক মেজর সাহেবকে ‘ইট ঝোলানো’ প্রসঙ্গে কী জবাব দেয়?
- ক. সে ভুলে গিয়েছিল
- খ. সে আদেশ পালন করেছে
- গ. সে তা করেনি, বলে এটি তার কাছে অপ্রয়োজনীয় মনে হয়েছে
- ঘ. সে অস্বীকার করে
উত্তর: গ। রফিক স্বীকার করে সে ইট ঝোলায়নি, কারণ তার কাছে তা অপ্রয়োজনীয় মনে হয়েছে— মেজরের নির্দেশ অমান্য করার একটি স্পষ্ট, সাহসী দৃষ্টান্ত।
৬। মেজর সাহেব রফিককে আর কোন সুযোগ প্রত্যাহার করে নেন?
- ক. তার বেতন
- খ. তার প্রশ্ন করার অধিকার
- গ. তার ছুটি
- ঘ. তার পদমর্যাদা
উত্তর: খ। মেজর সাহেব বলেন, রফিককে দেওয়া প্রশ্ন করার সুযোগ (প্রিভিলেজ) এখন থেকে আর দিতে চান না।
৭। মেজর সাহেব জয়নাল মিয়াকে কী বলে সবচেয়ে বেশি আতঙ্কিত করেন?
- ক. তাকে হত্যা করবেন বলে
- খ. তার সম্পত্তি কেড়ে নেবেন বলে
- গ. আজিজ মাস্টারকে তার মেয়ে মালার কাছে নিয়ে যাবেন বলে
- ঘ. তার বাড়ি পুড়িয়ে দেবেন বলে
উত্তর: গ। মেজর সাহেব বলেন আজিজ মাস্টারকে এই লাঞ্ছিত অবস্থাতেই তার মেয়ের কাছে নিয়ে যাবেন— এই ভয়াবহ হুমকিতে জয়নাল মিয়া হাউমাউ করে কেঁদে ওঠেন।
৮। এই মুহূর্তে আজিজ মাস্টার কী বলে ওঠেন?
- ক. তিনি ক্ষমা চান
- খ. তিনি পালাতে চেষ্টা করেন
- গ. তিনি নীরব থাকেন
- ঘ. তিনি মরতে প্রস্তুত বলে লজ্জার হাত থেকে বাঁচাতে বলেন
উত্তর: ঘ। আজিজ মাস্টার স্পষ্ট স্বরে বলেন, ‘মেজর সাহেব, আমি মরবার জন্য প্রস্তুত আছি। আমাকে লজ্জার হাত থেকে বাঁচান।’— এক গভীর মর্যাদাপূর্ণ সিদ্ধান্ত।
৯। মৃত্যুর জন্য যাওয়ার আগে আজিজ মাস্টার ইমাম সাহেবকে কী বলেন?
- ক. একটি বার্তা দেন
- খ. ‘সালামালিকুম’
- গ. কিছুই বলেন না
- ঘ. একটি অনুরোধ করেন
উত্তর: খ। আজিজ মাস্টার যাওয়ার আগে ইমাম সাহেবের দিকে তাকিয়ে বলেন, ‘সালামালিকুম’— শান্ত, মর্যাদাপূর্ণ বিদায়।
১০। আজিজ মাস্টার কীভাবে হেঁটে যান বিলের দিকে?
- ক. জোর করে টেনে নিয়ে যাওয়া হয়
- খ. কাঁদতে কাঁদতে
- গ. বেশ সহজ ও স্বাভাবিকভাবে
- ঘ. কাঁপতে কাঁপতে
উত্তর: গ। আজিজ মাস্টার বেশ সহজ ও স্বাভাবিকভাবেই হেঁটে যান— অপমানিত জীবনের চেয়ে মর্যাদাপূর্ণ মৃত্যু বেছে নেওয়ার শান্ত দৃঢ়তা।
১১। আজিজ মাস্টার চলে যাওয়ার পর কী শোনা যায়?
- ক. একটি গান
- খ. স্কুলঘরের পেছনে কয়েকটি গুলির শব্দ
- গ. একটি প্রার্থনা
- ঘ. একটি ঘোষণা
উত্তর: খ। কিছুক্ষণের মধ্যেই স্কুলঘরের পেছনে কয়েকটি গুলির শব্দ শোনা যায়— আজিজ মাস্টারের মৃত্যু নিশ্চিত হয়।
১২। জয়নাল মিয়া মেজরের কড়া জিজ্ঞাসাবাদে কী তথ্য প্রকাশ করে দেন?
- ক. কিছুই প্রকাশ করেন না
- খ. জংলা মাঠে লুকিয়ে থাকা প্রায় একশজন সৈন্যের কথা
- গ. শুধু নিজের নাম
- ঘ. মিথ্যা তথ্য দেন
উত্তর: খ। ভয়ে ভেঙে পড়ে জয়নাল মিয়া প্রকাশ করে দেন জংলা মাঠে প্রায় একশজন সৈন্য লুকিয়ে আছে, তারা পরশু এসেছে, তিনবার খাবার পাঠানো হয়েছে, ছয়-সাতজন আহত সৈন্য কৈবর্তপাড়ায় আছে।
১৩। জয়নাল মিয়া কেন এই তথ্য দিতে বাধ্য হন বলে মনে হয়?
- ক. তিনি মেজরের প্রতি অনুগত ছিলেন
- খ. চরম ভয় ও আজিজ মাস্টারের পরিণতি দেখার পর প্রাণভয়ে
- গ. তাকে ঘুষ দেওয়া হয়েছিল
- ঘ. তিনি স্বেচ্ছায় দিতে চেয়েছিলেন
উত্তর: খ। আজিজ মাস্টারের ভয়াবহ পরিণতি প্রত্যক্ষ করার পর এবং নিজের প্রাণ ও কন্যার নিরাপত্তার আতঙ্কে জয়নাল মিয়া তথ্য দিতে বাধ্য হন।
১৪। তথ্য পাওয়ার পর মেজর সাহেব জয়নাল মিয়া ও ইমাম সাহেবকে কী করতে বলেন?
- ক. তাদের বন্দি করে রাখেন
- খ. তাদের আরও প্রশ্ন করেন
- গ. তাদের চলে যেতে বলেন
- ঘ. তাদের শাস্তি দেন
উত্তর: গ। মেজর সাহেব উভয়কে চলে যেতে বলেন, দ্রুত দৌড়ে যেতে বলেন যেন তিনি মত পরিবর্তনের আগেই তারা চলে যায়।
১৫। কৈবর্তপাড়ায় কী ঘটে এই পর্বে?
- ক. একটি সালিশি বৈঠক হয়
- খ. মানুষ ফিরে আসে
- গ. একটি উৎসব হয়
- ঘ. রাজাকাররা ঘরবাড়িতে আগুন জ্বালিয়ে দেয়
উত্তর: ঘ। রাজাকাররা কৈবর্তপাড়ার ঘরবাড়িতে আগুন জ্বালিয়ে দেয়, যদিও ভেজা ঘরবাড়ি হওয়ায় আগুন সহজে ধরতে চায় না।
১৬। এই আগুন দেখে মীর আলির প্রতিক্রিয়া কী হয়?
- ক. তিনি ঘুমিয়ে পড়েন
- খ. তিনি নির্বিকার থাকেন
- গ. চোখে না দেখলেও আভা টের পেয়ে ‘আগুন আগুন’ বলে চিৎকার করেন
- ঘ. তিনি পালিয়ে যান
উত্তর: গ। চোখে দেখতে না পেলেও মীর আলি আগুনের আভা অনুভব করে ‘আগুন আগুন’ বলে চিৎকার করতে থাকেন— এক করুণ, প্রতীকী মুহূর্ত।
১৭। উপন্যাসের শেষ দৃশ্যে রফিককে কোথায় নামতে দেখা যায়?
- ক. একটি খালে
- খ. একটি নদীতে
- গ. একটি নৌকায়
- ঘ. বিলের পানিতে
উত্তর: ঘ। মেজরের নির্দেশে রফিক বিলের পানিতে নামে, সম্ভবত মৃতদেহ খুঁজতে।
১৮। বিলের পানিতে রফিকের হাতে কী ঠেকে?
- ক. একটি পাথর
- খ. একটি মাছ
- গ. একটি নৌকার অংশ
- ঘ. মনার ছোট ভাই বিরুর মৃতদেহ, উপুড় হয়ে ভাসছে
উত্তর: ঘ। রফিকের হাতে বিরুর মৃতদেহ ঠেকে, যা উপুড় হয়ে ভাসছিল।
১৯। বিরুর মৃতদেহ স্পর্শ করে রফিক কী বলে?
- ক. পরম স্নেহে বলে, ‘ভয় নাই। ভয়ের কিছুই নাই।’
- খ. কিছু বলে না
- গ. সে চিৎকার করে
- ঘ. সে কাঁদতে শুরু করে
উত্তর: ক। রফিক পরম স্নেহে বিরুর গায়ে হাত রেখে বলে, ‘ভয় নাই। ভয়ের কিছুই নাই।’— মৃত শিশুর প্রতি এক গভীর, মানবিক করুণার প্রকাশ, যা তার সম্পূর্ণ মানসিক রূপান্তরের প্রমাণ।
২০। মেজর সাহেব জিজ্ঞেস করলে রফিক জানায় সে কার সাথে কথা বলছিল?
- ক. নিজের সাথে, নিজেকে সাহস দিচ্ছিল
- খ. মেজরের সাথে
- গ. কারো সাথে না
- ঘ. বিরুর সাথে
উত্তর: ক। রফিক জানায় সে নিজের সাথে কথা বলছিল, নিজেকে সাহস দিচ্ছিল, কারণ সে নিজেকে ভীতু মনে করে।
২১। মেজর সাহেব শেষবারের মতো রফিককে কী প্রশ্ন করেন?
- ক. তার বেতন সম্পর্কে
- খ. সে বেঁচে থাকতে চায় কিনা
- গ. তার ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা সম্পর্কে
- ঘ. তার পরিবার সম্পর্কে
উত্তর: খ। মেজর সাহেব জিজ্ঞেস করেন, ‘রফিক, তুমি কি বেঁচে থাকতে চাও?’
২২। রফিক এই প্রশ্নের জবাবে কী বলে?
- ক. শান্তস্বরে বলে সবাই বেঁচে থাকতে চায়, মেজরও চান
- খ. সে ভয় পায়
- গ. সে হাসে
- ঘ. সে জবাব দেয় না
উত্তর: ক। রফিক শান্তস্বরে বলে, সে বেঁচে থাকতে চায়, সবাই বেঁচে থাকতে চায়, এমনকি মেজর সাহেব নিজেও চান।
২৩। রফিক শেষে মেজরকে কোন সাহসী, তাৎপর্যপূর্ণ কথা বলে?
- ক. সে ক্ষমা চায়
- খ. সে নীরব থাকে
- গ. তার মনে হয় না মেজর এই দেশ থেকে জীবিত ফিরে যাবেন
- ঘ. সে তাকে ধন্যবাদ জানায়
উত্তর: গ। রফিক তীক্ষ্ণস্বরে বলে, তার মনে হয় না মেজর সাহেব এই দেশ থেকে জীবিত ফিরে যাবেন— একটি সরাসরি, নির্ভীক ভবিষ্যদ্বাণী ও চ্যালেঞ্জ।
২৪। এই কথা শুনে মেজর সাহেব কী করেন?
- ক. তিনি সঙ্গীদের পশতু ভাষায় কিছু বলেন, সম্ভবত গুলির নির্দেশ
- খ. তিনি হাসেন
- গ. তিনি পালিয়ে যান
- ঘ. তিনি ক্ষমা করে দেন
উত্তর: ক। মেজর সাহেব সঙ্গী জোয়ান দুটিকে পশতু ভাষায় কিছু বলেন— যা গুলির নির্দেশ বলে মনে হয়, যদিও রফিক পশতু বোঝে না।
২৫। উপন্যাসের শেষ পঙক্তিতে মেজর এজাজ রফিককে কীভাবে দেখেন?
- ক. একজন পরাজিত মানুষ হিসেবে
- খ. তিনি তাকে চিনতে পারেন না, ‘এ অন্য রফিক’
- গ. আগের মতোই চেনা রফিক হিসেবে
- ঘ. একজন ক্ষমাপ্রার্থী হিসেবে
উত্তর: খ। উপন্যাসের শেষ পঙক্তিতে বলা হয়, বুক পর্যন্ত পানিতে দাঁড়িয়ে থাকা রফিককে মেজর এজাজ চিনতে পারেন না— ‘এ অন্য রফিক’। মেজরের কপালে ঘাম জমতে থাকে— তার ভয় ও অনিশ্চয়তার প্রতীক।
২৭। রফিকের চূড়ান্ত রূপান্তর কীভাবে ব্যাখ্যা করা যায়, ভূমিকা-অংশে দেওয়া বিশ্লেষণের আলোকে?
- ক. ক্রমাগত নিষ্ঠুরতা প্রত্যক্ষ করে তার ভেতরের বাঙালি পরিচয় জাগ্রত হয়েছে
- খ. অর্থনৈতিক কারণে
- গ. এটি একটি আকস্মিক, অব্যাখ্যাত পরিবর্তন
- ঘ. মেজরের প্রতি ব্যক্তিগত আক্রোশ থেকে
উত্তর: ক। ভূমিকা-অংশের আলোচনা অনুযায়ী মনা-বিরুর নিষ্ঠুর হত্যা, আজিজ মাস্টারের অপমান ও মৃত্যু, এবং একের পর এক নিষ্ঠুরতা প্রত্যক্ষ করার মধ্য দিয়ে রফিকের ভেতরে সুপ্ত থাকা বাঙালি পরিচয় ও মনুষ্যত্ববোধ জাগ্রত হয়ে ওঠে, যা তাকে শেষ পর্যন্ত প্রতিবাদমুখী করে তোলে।
২৮। উপন্যাসের শেষ দৃশ্যে ‘আগুনের আঁচে’ রফিককে দেখানোর প্রতীকী তাৎপর্য কী হতে পারে?
- ক. এটি রফিকের শাস্তির ইঙ্গিত
- খ. এর কোনো প্রতীকী অর্থ নেই
- গ. ধ্বংসের আগুনের মধ্যেই নতুন প্রতিরোধ ও রূপান্তরের জন্ম
- ঘ. এটি নিছক আলোকসজ্জার বর্ণনা
উত্তর: গ। কৈবর্তপাড়া পোড়ানোর ধ্বংসাত্মক আগুনের আঁচে রফিকের নতুন, সাহসী রূপ প্রকাশ পাওয়া প্রতীকীভাবে ইঙ্গিত দেয়— ধ্বংস ও যন্ত্রণার মধ্য দিয়েই কখনো কখনো নতুন প্রতিরোধ ও মনুষ্যত্বের দৃঢ়তার জন্ম হয়।
সংক্ষেপে মনে রাখার মূল বিষয় (মূলপাঠ, পর্ব ৪ (অধ্যায় ১৪-১৬, উপসংহার))
ঘটনাক্রম (অধ্যায় ১৪-১৬, উপসংহার)
- বদিউজ্জামানের ক্রমবর্ধমান মানসিক বিপর্যয়, জ্বর ও অলীক অনুভূতি জংলা মাঠের গর্তে।
- মেজর এজাজের রফিকের প্রতি খোলাখুলি অবিশ্বাস প্রকাশ, প্রশ্ন করার অধিকার কেড়ে নেওয়া।
- আজিজ মাস্টারকে মেয়ের কাছে নগ্ন অবস্থায় নেওয়ার হুমকিতে জয়নাল মিয়ার ভেঙে পড়া; আজিজ মাস্টারের মর্যাদাপূর্ণ মৃত্যুবরণ ও দৃঢ় সিদ্ধান্ত।
- জয়নাল মিয়ার ভয়ে ভেঙে পড়ে জংলা মাঠের সৈন্যদের তথ্য প্রকাশ করে দেওয়া।
- কৈবর্তপাড়ায় অগ্নিসংযোগ, মীর আলির করুণ প্রতিক্রিয়া।
- রফিকের বিলের পানিতে বিরুর মৃতদেহ খুঁজে পাওয়া, তার প্রতি গভীর মমতা প্রকাশ।
- মেজর ও রফিকের চূড়ান্ত মুখোমুখি অবস্থান— রফিকের নির্ভীক ঘোষণা, মেজরের ভীত প্রতিক্রিয়া দিয়ে উপন্যাসের খোলা সমাপ্তি।
মূল ভাব/তাৎপর্য
যুদ্ধের নিষ্ঠুরতম মুহূর্তগুলোর মধ্য দিয়েই মানুষের মধ্যে মনুষ্যত্ব ও প্রতিরোধের চেতনা জাগ্রত হতে পারে— আজিজ মাস্টারের মর্যাদাপূর্ণ মৃত্যু ও রফিকের সাহসী রূপান্তর উপন্যাসের এই গভীর মানবিক বার্তাকেই প্রতিষ্ঠিত করে। উপন্যাসের খোলা সমাপ্তি ইঙ্গিত দেয়— নিপীড়িতের প্রতিরোধ ও নিপীড়কের অনিশ্চয়তার এই দ্বন্দ্বই একদিন বৃহত্তর মুক্তিযুদ্ধে রূপ নেবে।
গুরুত্বপূর্ণ মুহূর্ত
আজিজ মাস্টারের ‘আমি মরবার জন্য প্রস্তুত আছি’ ঘোষণা; রফিকের ‘আপনি জীবিত ফিরে যাবেন না’ ভবিষ্যদ্বাণী; উপন্যাসের শেষ পঙক্তি— ‘এ অন্য রফিক।’
