বহিপীর নাটকের MCQ | SSC বাংলা সহপাঠের “বহিপীর” নাটক থেকে বোর্ড পরীক্ষায় নিয়মিত প্রশ্ন আসে। এই পোস্টে নাটকের সারকথা ও ১৬৭টি বহুনির্বাচনি প্রশ্ন (MCQ) উত্তর ও ব্যাখ্যাসহ দেওয়া হলো। জ্ঞানমূলক ও অনুধাবনমূলক প্রশ্নের জন্য বহিপীর নাটকের নোট দেখুন।
ভূমিকা, নাট্যকার পরিচিতি ও চরিত্র পরিচিতি
সৈয়দ ওয়ালীউল্লাহ্র ‘বহিপীর’ নাটকের মূল পাঠে প্রবেশের আগে পাঠ্যবইয়ে নাটক সাহিত্যরূপের তত্ত্বকথা, বাংলা ও বাংলাদেশের নাটকের সংক্ষিপ্ত পরিচিতি, নাট্যকারের পরিচিতি, নাটকের কাহিনি-সারাংশ এবং প্রতিটি চরিত্রের বিস্তারিত বিশ্লেষণ দেওয়া আছে। নিচের প্রশ্নগুলো এই ভূমিকা-অংশের প্রতিটি ভাগ ধরে সাজানো হয়েছে, শেষে সংক্ষিপ্তসারও দেওয়া আছে।
ক-খ. নাটকের ধারণা, সংজ্ঞা ও গঠনকৌশল
১। ‘নট্’ শব্দের অর্থ কী?
- ক. গান গাওয়া
- খ. নড়াচড়া করা, অঙ্গচালনা করা
- গ. কথা বলা
- ঘ. লেখা
উত্তর: খ। নাটক, নাট্য, নট, নটী শব্দগুলোর মূল শব্দ ‘নট্’, যার অর্থ নড়াচড়া করা বা অঙ্গচালনা করা।
২। ইংরেজি ‘Drama’ শব্দটি কোন ভাষার শব্দ থেকে এসেছে?
- ক. ফরাসি
- খ. জার্মান
- গ. গ্রিক
- ঘ. ল্যাটিন
উত্তর: গ। Drama শব্দটি গ্রিক Dracin শব্দ থেকে এসেছে, যার অর্থ to do বা কোনো কিছু করা।
৩। সংস্কৃতে নাটককে কী বলা হয়েছে?
- ক. শ্রব্যকাব্য
- খ. গীতিকাব্য
- গ. মহাকাব্য
- ঘ. দৃশ্যকাব্য
উত্তর: ঘ। যে কাব্য অভিনয় করে দেখানো হতো তাকে দৃশ্যকাব্য বলা হতো, তাই সংস্কৃতে নাটককে দৃশ্যকাব্য বলা হয়েছে।
৪। সংস্কৃতে নাটক সম্পর্কে কোন বিখ্যাত উক্তি আছে?
- ক. নাট্যেষু কাব্যং রম্যম্
- খ. কাব্যং সর্বোত্তমম্
- গ. কাব্যেষু নাটকং রম্যম্
- ঘ. নাটকং সর্বশ্রেষ্ঠম্
উত্তর: গ। সংস্কৃতে বলা হয়েছে ‘কাব্যেষু নাটকং রম্যম্’, অর্থাৎ কাব্যের মধ্যে নাটকই শ্রেষ্ঠ।
৫। নাটকের সাধারণত কয়টি উপাদান থাকে ও কী কী?
- ক. তিনটি— কাহিনি, চরিত্র, সংলাপ
- খ. দুটি— কাহিনি ও চরিত্র
- গ. পাঁচটি
- ঘ. চারটি— কাহিনি, চরিত্র, সংলাপ ও পরিবেশ
উত্তর: ঘ। নাটকে সাধারণত চারটি উপাদান থাকে— কাহিনি, চরিত্র, সংলাপ ও পরিবেশ।
৬। নাটকের ‘প্রাণ’ বলা হয়েছে কোনটিকে?
- ক. চরিত্রকে
- খ. সংলাপকে
- গ. কাহিনিকে
- ঘ. পরিবেশকে
উত্তর: খ। সংলাপকে নাটকের প্রাণ বলা হয়েছে, কারণ সংলাপই কাহিনি ও চরিত্রকে ব্যক্ত করে পরিণতির দিকে নিয়ে যায়।
৭। উপন্যাস বা গল্পে পরিবেশ সৃষ্টির জন্য লেখক কী ব্যবহার করেন, যা নাটকে সম্ভব নয়?
- ক. চরিত্র
- খ. কাহিনি
- গ. সংলাপ
- ঘ. বর্ণনা
উত্তর: ঘ। উপন্যাস বা গল্পে লেখক বর্ণনার মাধ্যমে পরিবেশ সৃষ্টি করতে পারেন, নাটকে সে সুযোগ থাকে না, সেখানে প্রধান অবলম্বন সংলাপ।
৮। গ্রিক মনীষী অ্যারিস্টটল নাটকে কয় প্রকার ঐক্যের কথা বলেছেন?
- ক. দুই প্রকার
- খ. পাঁচ প্রকার
- গ. তিন প্রকার
- ঘ. চার প্রকার
উত্তর: গ। অ্যারিস্টটল তিন প্রকার ঐক্যের কথা বলেছেন— কালের ঐক্য, স্থানের ঐক্য ও ঘটনার ঐক্য।
৯। ‘কালের ঐক্য’ অনুযায়ী নাটকে কতক্ষণের কাহিনি ঘটানো উচিত বলে একদল সমালোচক মনে করেন?
- ক. এক মাসের মধ্যে
- খ. এক সপ্তাহের মধ্যে
- গ. এক সূর্যোদয় থেকে আরেক সূর্যোদয়ের মধ্যে (চব্বিশ ঘণ্টা)
- ঘ. এক ঘণ্টার মধ্যে
উত্তর: গ। একদল নাট্য-সমালোচক মনে করেন, এক সূর্যোদয় থেকে আরেক সূর্যোদয় অর্থাৎ চব্বিশ ঘণ্টার মধ্যে মঞ্চে যতটুকু কাহিনি ঘটানো সম্ভব তাই নাটকে থাকা উচিত।
১০। নাটকের কাহিনি অগ্রসর হওয়ার প্রক্রিয়াকে কয়টি পর্বে ভাগ করা হয়?
- ক. চারটি
- খ. ছয়টি
- গ. তিনটি
- ঘ. পাঁচটি
উত্তর: ঘ। নাটকের কাহিনি অগ্রসর হওয়ার প্রক্রিয়াকে পাঁচটি পর্বে ভাগ করা হয়— মুখ, প্রতিমুখ, গর্ভ (চূড়ান্ত দ্বন্দ্ব/Climax), বিমর্ষ (গ্রন্থিমোচন) ও উপসংহতি (যবনিকাপাত)।
১১। এই পাঁচ পর্বের কাঠামো সব নাটকে প্রযোজ্য নয়— কোন নাটকটির উদাহরণ দেওয়া হয়েছে যা এভাবে ভাগ করা যায় না?
- ক. স্যামুয়েল বেকেটের ওয়েটিং ফর গডো
- খ. ইবসেনের ডলস হাউস
- গ. শেক্সপিয়রের হ্যামলেট
- ঘ. চেখভের দ্য চেরি অর্চার্ড
উত্তর: ক। স্যামুয়েল বেকেট রচিত ‘ওয়েটিং ফর গডো’কে এই পাঁচ পর্বে ভাগ করা যায় না, কারণ এটি একটি নিরীক্ষাধর্মী বা অ্যাবসার্ড নাটক।
গ. বাংলা নাটকের সংক্ষিপ্ত পরিচিতি
১২। বাংলা সাহিত্যের কোন আদি নিদর্শনে নাটক অভিনীত হওয়ার উল্লেখ আছে?
- ক. বৈষ্ণব পদাবলি
- খ. শ্রীকৃষ্ণকীর্তন
- গ. মঙ্গলকাব্য
- ঘ. চর্যাপদ
উত্তর: ঘ। চর্যাপদে নাটক অভিনীত হওয়ার উল্লেখ রয়েছে; গবেষণায় দেখা গেছে চর্যাপদ নৃত্য ও অভিনয়সহ বৌদ্ধ মন্দিরে পরিবেশিত হতো।
১৩। কলকাতায় প্রথম মঞ্চনাটকের আয়োজক কে ছিলেন?
- ক. একজন রাশিয়ান নাগরিক, হেরাসিম লেবেদেফ
- খ. একজন বাঙালি নাট্যকার
- গ. একজন ফরাসি নাগরিক
- ঘ. একজন ব্রিটিশ নাগরিক
উত্তর: ক। হেরাসিম লেবেদেফ নামক একজন রাশিয়ান নাগরিক কলকাতায় প্রথম মঞ্চনাটকের আয়োজন করেন, ১৭৯৫ সালের ২৭শে নভেম্বর ‘কাল্পনিক সংবদল’ নাটকের মাধ্যমে।
১৪। বাংলা ভাষায় প্রথম আধুনিক নাটক রচনার কৃতিত্ব কার?
- ক. দীনবন্ধু মিত্রের
- খ. গিরিশচন্দ্র ঘোষের
- গ. মাইকেল মধুসূদন দত্তের
- ঘ. রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের
উত্তর: গ। বাংলা ভাষায় প্রথম আধুনিক নাটক রচনার কৃতিত্ব মাইকেল মধুসূদন দত্তের, যিনি ১৮৫৯ সালে ‘শর্মিষ্ঠা’ নাটক রচনা করেন।
১৫। দীনবন্ধু মিত্রের বিখ্যাত নাটক কোনটি?
- ক. শর্মিষ্ঠা
- খ. ডাকঘর
- গ. নীল দর্পণ
- ঘ. সিরাজউদ্দৌলা
উত্তর: গ। দীনবন্ধু মিত্রের বিখ্যাত নাটক নীল দর্পণ (১৮৬০)।
১৬। মীর মশাররফ হোসেনের রচিত নাটক কোনটি?
- ক. রক্তকরবী
- খ. নবান্ন
- গ. জমিদার দর্পণ
- ঘ. কবর
উত্তর: গ। জমিদার দর্পণ (১৮৭৩) মীর মশাররফ হোসেনের রচিত নাটক।
১৭। রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের রচিত নাটক কোনটি?
- ক. নবান্ন
- খ. সিরাজউদ্দৌলা
- গ. কল্লোল
- ঘ. ডাকঘর
উত্তর: ঘ। ডাকঘর (১৯১২) রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের রচিত বিখ্যাত নাটক; রক্তকরবী, চিত্রাঙ্গদা, চিরকুমার সভাও তাঁর নাটক।
১৮। বিজন ভট্টাচার্যের বিখ্যাত নাটক কোনটি?
- ক. এবং ইন্দ্রজিৎ
- খ. ছেঁড়া তার
- গ. নবান্ন
- ঘ. কল্লোল
উত্তর: গ। নবান্ন (১৯৪৪) বিজন ভট্টাচার্যের বিখ্যাত নাটক।
ঘ. বাংলাদেশের নাটকের সংক্ষিপ্ত পরিচিতি
১৯। ১৯৪৭ সালের পূর্বে বাংলা নাট্যচর্চার প্রাণকেন্দ্র কোথায় ছিল?
- ক. কলকাতা
- খ. ঢাকা
- গ. রাজশাহী
- ঘ. চট্টগ্রাম
উত্তর: ক। ১৯৪৭ সালের পূর্ব পর্যন্ত বাংলা নাট্যচর্চার প্রাণকেন্দ্র ছিল মূলত কলকাতা।
২০। ভারত বিভাগের পর পূর্ববঙ্গের নাট্যচর্চা কোন শহরকে কেন্দ্র করে গড়ে ওঠে?
- ক. চট্টগ্রাম
- খ. খুলনা
- গ. সিলেট
- ঘ. ঢাকা
উত্তর: ঘ। ভারত বিভাগের পর তৎকালীন পূর্ববঙ্গে ঢাকাকে কেন্দ্র করে নাট্যচর্চা গড়ে ওঠে।
২১। নূরুল মোমেনের রচিত নাটক কোনটি?
- ক. তিতুমীর
- খ. কবর
- গ. রক্তাক্ত প্রান্তর
- ঘ. নয়া খানদান
উত্তর: ঘ। নয়া খানদান নূরুল মোমেনের রচিত নাটক।
২২। বাংলাদেশের আধুনিক ধারার নাট্যচর্চার অগ্রণী নাট্যকার হিসেবে কাদের নাম উল্লেখ আছে?
- ক. নূরুল মোমেন ও আসকার ইবনে শাইখ
- খ. মুনীর চৌধুরী ও সৈয়দ ওয়ালীউল্লাহ
- গ. সিকান্দার আবু জাফর ও শওকত ওসমান
- ঘ. সেলিম আল দীন ও মামুনুর রশীদ
উত্তর: খ। মুনীর চৌধুরী ও সৈয়দ ওয়ালীউল্লাহকে বাংলাদেশের আধুনিক ধারার নাট্যচর্চার অগ্রণী নাট্যকার বলা হয়েছে।
২৩। মুনীর চৌধুরীর বিখ্যাত নাটক কোনটি?
- ক. বহিপীর
- খ. সুড়ঙ্গ
- গ. তরঙ্গভঙ্গ
- ঘ. কবর
উত্তর: ঘ। কবর (১৯৬৬) মুনীর চৌধুরীর বিখ্যাত নাটক।
২৪। নিচের কোনটি সৈয়দ শামসুল হকের রচিত নাটক?
- ক. নূরলদীনের সারা জীবন
- খ. ওরা কদম আলি
- গ. সুবচন নির্বাসনে
- ঘ. কিত্তনখোলা
উত্তর: ক। নূরলদীনের সারা জীবন সৈয়দ শামসুল হকের রচিত নাটক।
নাট্যকার পরিচিতি: সৈয়দ ওয়ালীউল্লাহ্
২৫। সৈয়দ ওয়ালীউল্লাহ্ কত খ্রিষ্টাব্দে জন্মগ্রহণ করেন?
- ক. ১৯২০
- খ. ১৯২১
- গ. ১৯২২
- ঘ. ১৯২৩
উত্তর: গ। তিনি ১৯২২ খ্রিষ্টাব্দের ১৫ই আগস্ট জন্মগ্রহণ করেন।
২৬। সৈয়দ ওয়ালীউল্লাহ্র জন্মস্থান কোথায়?
- ক. ফরিদপুর
- খ. কুড়িগ্রাম
- গ. চট্টগ্রাম শহর
- ঘ. ঢাকা
উত্তর: গ। তিনি চট্টগ্রাম শহরে জন্মগ্রহণ করেন।
২৭। সৈয়দ ওয়ালীউল্লাহ্র পিতা কী পেশায় ছিলেন?
- ক. সরকারি কর্মকর্তা
- খ. শিক্ষক
- গ. চিকিৎসক
- ঘ. ব্যবসায়ী
উত্তর: ক। তাঁর পিতা সৈয়দ আহমাদউল্লাহ্ সরকারি কর্মকর্তা ছিলেন।
২৮। সৈয়দ ওয়ালীউল্লাহ্ কত বছর বয়সে মাতৃহারা হন?
- ক. বারো বছর
- খ. আট বছর
- গ. দশ বছর
- ঘ. ছয় বছর
উত্তর: খ। তিনি মাত্র আট বছর বয়সে মাতৃহারা হন।
২৯। সৈয়দ ওয়ালীউল্লাহ্র পেশাজীবন কীভাবে শুরু হয়?
- ক. দৈনিক স্টেটসম্যান পত্রিকায় সাংবাদিকতা দিয়ে
- খ. শিক্ষকতা দিয়ে
- গ. আইন পেশা দিয়ে
- ঘ. সরকারি চাকরি দিয়ে
উত্তর: ক। তাঁর পেশাজীবন শুরু হয় দৈনিক স্টেটস্ম্যান পত্রিকায় সাংবাদিকতা করার মধ্য দিয়ে।
৩০। সৈয়দ ওয়ালীউল্লাহ্ সর্বশেষ কোথায় কাজ করেন?
- ক. ইউনেস্কো সদর দপ্তর, প্যারিসে
- খ. জাতিসংঘ, নিউইয়র্কে
- গ. বেতারে
- ঘ. পাকিস্তান দূতাবাসে
উত্তর: ক। তিনি সর্বশেষ ইউনেস্কো সদর দপ্তর প্যারিসে কাজ করেন।
৩১। বাংলাদেশের স্বাধীনতাযুদ্ধ চলাকালে সৈয়দ ওয়ালীউল্লাহ্ কী করেন?
- ক. তিনি নীরব থাকেন
- খ. প্যারিস থেকেই বাংলাদেশের পক্ষে কাজ করেন
- গ. তিনি দেশে ফিরে আসেন
- ঘ. তিনি পাকিস্তানের পক্ষে কাজ করেন
উত্তর: খ। স্বাধীনতাযুদ্ধ চলাকালে তিনি প্যারিস থেকেই বাংলাদেশের পক্ষে কাজ করেন।
৩২। সৈয়দ ওয়ালীউল্লাহ্র প্রথম গল্পগ্রন্থের নাম কী?
- ক. লালসালু
- খ. দুই তীর ও অন্যান্য গল্প
- গ. চাঁদের অমাবস্যা
- ঘ. নয়নচারা
উত্তর: ঘ। তাঁর প্রথম গল্পগ্রন্থ ‘নয়নচারা’ প্রকাশিত হয় ১৯৪৫ সালে।
৩৩। সৈয়দ ওয়ালীউল্লাহ্র বিখ্যাত উপন্যাস ‘লালসালু’ কত সালে প্রকাশিত হয়?
- ক. ১৯৫০
- খ. ১৯৪৭
- গ. ১৯৪৯
- ঘ. ১৯৪৮
উত্তর: ঘ। লালসালু উপন্যাসটি ১৯৪৮ সালে প্রকাশিত হয়।
৩৪। নিচের কোনটি সৈয়দ ওয়ালীউল্লাহ্র নাটক নয়?
- ক. কাঁদো নদী কাঁদো
- খ. তরঙ্গভঙ্গ
- গ. সুড়ঙ্গ
- ঘ. বহিপীর
উত্তর: ক। কাঁদো নদী কাঁদো তাঁর উপন্যাস; বহিপীর, তরঙ্গভঙ্গ ও সুড়ঙ্গ তাঁর নাটক।
৩৫। সৈয়দ ওয়ালীউল্লাহ্ কোন কোন পুরস্কার লাভ করেন?
- ক. শুধু জাতীয় অধ্যাপক সম্মাননা
- খ. পিইএন পুরস্কার, বাংলা একাডেমি পুরস্কার, আদমজী পুরস্কার, একুশে পদক (মরণোত্তর)
- গ. শুধু নোবেল পুরস্কার
- ঘ. শুধু স্বাধীনতা পুরস্কার
উত্তর: খ। তিনি পিইএন পুরস্কার (১৯৫৫), বাংলা একাডেমি পুরস্কার (১৯৬১), আদমজী পুরস্কার (১৯৬৫) ও একুশে পদক (মরণোত্তর, ১৯৮৪) লাভ করেন।
৩৬। সৈয়দ ওয়ালীউল্লাহ্ কত সালে ও কোথায় মৃত্যুবরণ করেন?
- ক. ১৯৭২ সালে লন্ডনে
- খ. ১৯৭১ সালের অক্টোবরে প্যারিসে
- গ. ১৯৭০ সালে ঢাকায়
- ঘ. ১৯৭৩ সালে চট্টগ্রামে
উত্তর: খ। তিনি ১৯৭১ সালের অক্টোবর মাসে প্যারিসে মৃত্যুবরণ করেন।
বহিপীর নাটক পরিচিতি ও কাহিনি-সারাংশ
৩৭। ‘বহিপীর’ নাটকটি কত সালে প্রথম প্রকাশিত হয়?
- ক. ১৯৬০
- খ. ১৯৬৪
- গ. ১৯৫৫
- ঘ. ১৯৫৮
উত্তর: ক। নাটকটি ১৯৬০ সালে ঢাকা থেকে প্রথম প্রকাশিত হয়।
৩৮। গ্রন্থাকারে প্রকাশের আগে ‘বহিপীর’ কোথায় আন্তর্জাতিক পুরস্কার লাভ করে?
- ক. কলকাতায় একটি সম্মেলনে
- খ. ১৯৫৫ সালে ঢাকায় পিইএন ক্লাবের আন্তর্জাতিক সম্মেলনে
- গ. লন্ডনে একটি নাট্য উৎসবে
- ঘ. প্যারিসে একটি প্রতিযোগিতায়
উত্তর: খ। ১৯৫৫ সালে ঢাকায় পিইএন ক্লাবের উদ্যোগে অনুষ্ঠিত আন্তর্জাতিক সম্মেলনে বাংলা নাটকের প্রতিযোগিতায় ‘বহিপীর’ আন্তর্জাতিক পুরস্কার লাভ করে।
৩৯। ‘বহিপীর’ নামকরণের কারণ কী?
- ক. তিনি বাইরে থেকে এসেছেন বলে
- খ. তাঁর নামই বহিপীর
- গ. সবসময় বইয়ের (কেতাবি) ভাষায় কথা বলেন বলে
- ঘ. তিনি বিদেশি পীর বলে
উত্তর: গ। পির সাহেব সারা বছর বিভিন্ন এলাকায় ঘুরে বেড়ান, কিন্তু প্রতিটি এলাকার ভাষা না শিখে সবসময় বইয়ের (কেতাবি) ভাষায় কথা বলেন বলে তাঁর নাম হয়েছে ‘বহিপীর’।
৪০। নাটকের নামকরণে কোন প্রতীকী তাৎপর্যের ইঙ্গিত দেওয়া হয়েছে?
- ক. পির সমাজ মানুষের সংস্কারকে পুঁজি করে ছড়ায়, তার ইঙ্গিত
- খ. এটি নিছক একটি নাম মাত্র
- গ. এটি একটি ধর্মীয় উপদেশ
- ঘ. এটি একটি ঐতিহাসিক ঘটনার উল্লেখ
উত্তর: ক। নামটির প্রতীকী তাৎপর্য হলো— ইসলাম ধর্মের সুফিবাদী ব্যাখ্যার সূত্র ধরে গড়ে ওঠা পির সমাজ কীভাবে মানুষের সংস্কারকে পুঁজি করে সমাজে ছড়িয়ে পড়ে, তারই ইঙ্গিত।
৪১। সৈয়দ ওয়ালীউল্লাহ্ পির প্রথা কাছ থেকে দেখার সুযোগ কীভাবে পান?
- ক. তিনি একজন পিরের সাথে সাক্ষাৎ করেছিলেন বলে
- খ. পিতার বদলির চাকরির সূত্রে দেশের নানা স্থান ঘুরে
- গ. তিনি গবেষণা করেছিলেন বলে
- ঘ. তিনি নিজে একজন মুরিদ ছিলেন বলে
উত্তর: খ। পিতার বদলির চাকরির সূত্রে দেশের বিভিন্ন স্থান ঘুরে বেড়ানোর সুযোগে তিনি বাঙালি মুসলমান সমাজে জেঁকে বসা পির প্রথা কাছ থেকে দেখার সুযোগ পান, যা তাঁর ‘লালসালু’ উপন্যাস ও এই নাটক উভয়েই প্রতিফলিত হয়েছে।
৪২। বহিপীর কত বছর অন্তর মুরিদদের বাড়ি ঘুরে বেড়ান?
- ক. দুই বছর
- খ. পাঁচ বছর
- গ. তিন বছর
- ঘ. এক বছর
উত্তর: ক। তিনি দুই বছরান্তে একবার শিষ্য বা মুরিদদের বাড়িতে ঘুরে বেড়ান।
৪৩। বহিপীর তাহেরাকে কীভাবে বিয়ে করেন?
- ক. তাহেরার সম্মতিতে
- খ. তাহেরার পিতা ও সৎমাতার জোরপূর্বক আয়োজনে
- গ. তাহেরা নিজে প্রস্তাব দিয়ে
- ঘ. আদালতের নির্দেশে
উত্তর: খ। তাহেরার পিতা (মুরিদ) ও তার সৎমাতা মিলে জোরপূর্বক এই বিয়ের আয়োজন করেন, যা তাহেরা মেনে নেয়নি।
৪৪। তাহেরা বিয়ে প্রত্যাখ্যান করে কোথায় আশ্রয় নেয়?
- ক. তার আত্মীয়ের বাড়িতে
- খ. হাতেম আলি জমিদারের শহরগামী বজরায়
- গ. একটি স্কুলে
- ঘ. একটি মসজিদে
উত্তর: খ। তাহেরা পালিয়ে হাতেম আলি জমিদারের শহরগামী বজরায় আশ্রয় গ্রহণ করে।
৪৫। বহিপীর তাহেরার সন্ধানে বের হয়ে কীভাবে হাতেম আলির বজরায় পৌঁছান?
- ক. নৌকা দুর্ঘটনায় পড়ে ঘটনাচক্রে
- খ. তাহেরার আমন্ত্রণে
- গ. জমিদারের আমন্ত্রণে
- ঘ. পরিকল্পিতভাবে
উত্তর: ক। বহিপীরের নিজের নৌকা দুর্ঘটনায় পতিত হয় এবং তিনি ঘটনাচক্রে হাতেম আলির বজরাতেই আশ্রয় লাভ করেন।
৪৬। বহিপীরের সঙ্গী কে?
- ক. তাহেরা
- খ. হকিকুল্লাহ
- গ. হাতেম আলি
- ঘ. হাশেম আলি
উত্তর: খ। বহিপীরের সঙ্গী হকিকুল্লাহ, যাকে সাথে নিয়ে তিনি তাহেরার সন্ধানে বের হন।
৪৭। বজরায় তাহেরার পক্ষ নেয় কে?
- ক. জমিদার হাতেম আলি নিজেই প্রথমে
- খ. হকিকুল্লাহ
- গ. জমিদারপুত্র হাশেম আলি
- ঘ. জমিদার গিন্নি
উত্তর: গ। জমিদারপুত্র হাশেম আলি তাহেরার করুণ কাহিনি জেনে তার পক্ষ নেয়, যা বজরায় দ্বন্দ্বকে চরমে নিয়ে যায়।
৪৮। বহিপীর তাহেরাকে ফিরে পেতে কী কৌশল অবলম্বন করেন, জমিদারের অসহায়ত্বের প্রসঙ্গে?
- ক. তাকে হুমকি দেন
- খ. তিনি কোনো কৌশল অবলম্বন করেন না
- গ. তাকে অর্থ দিতে অস্বীকার করেন
- ঘ. জমিদারের ঋণের বিনিময়ে তাহেরাকে ফেরত চান
উত্তর: ঘ। বহিপীর জমিদারের অসহায়ত্বের সুযোগ নিয়ে টাকার বিনিময়ে জমিদারি রক্ষা করার প্রস্তাব দেন, শর্ত হিসেবে তাহেরাকে ফেরত চান।
৪৯। নাটকের শেষে কী ঘটে?
- ক. বহিপীর জয়ী হন
- খ. জমিদার তাহেরাকে ফিরিয়ে দেন
- গ. তাহেরা বহিপীরের কাছে ফিরে যায়
- ঘ. তাহেরা ও হাশেম আলি পালিয়ে যায়, বহিপীর বাস্তবতা মেনে নেন
উত্তর: ঘ। শেষ পর্যন্ত বহিপীর জয়ী হতে পারেন না; তাহেরা ও হাশেম আলি সব বাধার জাল ছিন্ন করে পালিয়ে যায়, বহিপীর বাস্তব পরিস্থিতি মেনে নিতে বাধ্য হন।
চরিত্র পরিচিতি
৫০। বহিপীর চরিত্রটি কেমন বলে বর্ণনা করা হয়েছে?
- ক. দুর্বল ও ভীতু
- খ. সরল ও নিষ্পাপ
- গ. অত্যন্ত ধূর্ত ও বাস্তবজ্ঞানসম্পন্ন
- ঘ. উদাসীন ও নিষ্ক্রিয়
উত্তর: গ। বহিপীর অত্যন্ত ধূর্ত ও বাস্তবজ্ঞানসম্পন্ন মানুষ, যিনি অশিক্ষিত মানুষের কুসংস্কার ও ধর্মবিশ্বাসকে পুঁজি করে ধর্মব্যবসা পরিচালনা করেন।
৫১। তাহেরাকে ফিরে পেতে বহিপীর প্রথমে কোন যুক্তি দেন?
- ক. মানবিকতার দোহাই
- খ. অর্থের প্রলোভন
- গ. ধর্মীয় বিয়ের দোহাই
- ঘ. পুলিশের ভয়
উত্তর: গ। বহিপীর প্রথমে ধর্মীয় বিয়ের দোহাই দেন, কিন্তু তাহেরা পাল্টা যুক্তি দিলে তিনি সেখান থেকে সরে আসেন।
৫২। বহিপীর তারপর কোন কৌশল অবলম্বন করেন?
- ক. তাহেরার পরিবারকে হুমকি
- খ. মানবিকতার বাহানা, মেয়েটি স্নেহ পায়নি এই যুক্তি
- গ. সরাসরি জোরপূর্বক নিয়ে যাওয়া
- ঘ. পুলিশ ডাকার হুমকি
উত্তর: খ। বহিপীর মানবিকতার বাহানা করেন, বলেন এই মেয়ে কখনো স্নেহ-মমতা পায়নি, তাঁর কাছ থেকে পেলে বুঝতে পারবে।
৫৩। তাহেরা চরিত্রটি কেন নাটকের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ চরিত্র বলে বিবেচিত?
- ক. সে সবচেয়ে বেশি সংলাপ বলে
- খ. সে বহিপীরের আত্মীয়
- গ. সে নাটকের একমাত্র নারী চরিত্র
- ঘ. তাকে কেন্দ্র করেই নাটকের ঘটনাপ্রবাহ আবর্তিত হয়েছে
উত্তর: ঘ। তাহেরাকে কেন্দ্র করেই নাটকের সম্পূর্ণ ঘটনাপ্রবাহ আবর্তিত হয়েছে, যদিও নাম চরিত্র বহিপীর।
৫৪। তাহেরাকে কোন যুগের প্রতীক চরিত্র বলা যায়?
- ক. আধুনিক নারীবাদের প্রতীক
- খ. মধ্যযুগের নারী নিপীড়নের প্রতীক
- গ. বিশ শতকের প্রারম্ভে নারী অধিকার ও জাগরণের প্রতীক
- ঘ. ঔপনিবেশিক শাসনের প্রতীক
উত্তর: গ। তাহেরাকে বিশ শতকের প্রারম্ভে নারী অধিকার ও জাগরণের প্রতীক চরিত্র বলা যায়।
৫৫। তাহেরা কখন বহিপীরের সাথে যেতে রাজি হয়?
- ক. জমিদারের অসহায়ত্বের কথা জেনে
- খ. কখনোই রাজি হয় না
- গ. অর্থের প্রলোভনে
- ঘ. হুমকি পেয়ে
উত্তর: ক। জমিদারের অসহায়ত্বের কথা জেনে তাহেরা রাজি হয়, যা তার মানবিকতার পরিচয় দেয়— অর্থাৎ সে একই সাথে অনমনীয় ও মানবিক চরিত্র।
৫৬। হাশেম আলি কার পুত্র?
- ক. বহিপীরের
- খ. হাতেম আলি জমিদারের
- গ. নাটকে উল্লেখ নেই
- ঘ. হকিকুল্লাহর
উত্তর: খ। হাশেম আলি জমিদার হাতেম আলির পুত্র।
৫৭। হাশেম আলি কেন প্রেস বসাতে চায়?
- ক. অর্থের প্রয়োজনে
- খ. পিরের নির্দেশে
- গ. তার নিজস্ব আধুনিক, বাস্তববাদী চিন্তাধারা থেকে
- ঘ. পরিবারের চাপে
উত্তর: গ। হাশেম আলি বিএ পাস, বৈষয়িক বিবেচনা তার কাছে কম গুরুত্বপূর্ণ; সে নিজের আধুনিক চিন্তাধারা থেকেই প্রেস বসাতে চায়, জমিদারি হারালেও চিন্তিত নয়।
৫৮। হাশেম আলিকে নাটকে কার বিপরীত চরিত্র হিসেবে দেখা যায়?
- ক. বহিপীরের
- খ. হকিকুল্লাহর
- গ. হাতেম আলির
- ঘ. জমিদার গিন্নির
উত্তর: ক। হাশেম আলি কেন্দ্রীয় চরিত্র বহিপীরের বিপরীত চরিত্র— একজন ইতিবাচক, অন্যজন নেতিবাচক।
৫৯। হাশেম আলিকে ও বহিপীরকে যথাক্রমে কী বলে বিবেচনা করা যায়?
- ক. উভয়ই নায়ক
- খ. উভয়ই খলনায়ক
- গ. হাশেম আলি নায়ক, বহিপীর খলনায়ক
- ঘ. হাশেম আলি খলনায়ক, বহিপীর নায়ক
উত্তর: গ। হাশেম আলিকে নায়ক এবং বহিপীরকে খলনায়ক হিসেবে বিবেচনা করা যায়।
৬০। তাহেরা আত্মহনন করতে গেলে তাকে কে রক্ষা করে?
- ক. জমিদার গিন্নি
- খ. হকিকুল্লাহ
- গ. হাতেম আলি
- ঘ. হাশেম আলি
উত্তর: ঘ। হাশেম আলি তাহেরাকে আত্মহনন করতে গেলে রক্ষা করে— বজরায় সেই প্রথম সে তাহেরার সমস্যার প্রকৃতি উপলব্ধি করে।
৬১। হাশেম আলিকে নাটকে কীরূপ বলে বর্ণনা করা হলেও সে বাস্তবে কেমন ছিল?
- ক. স্থিরচিত্ত বলা হলেও প্রকৃতপক্ষে অস্থির ছিল
- খ. দুর্বল বলা হলেও সাহসী ছিল
- গ. সাহসী বলা হলেও ভীতু ছিল
- ঘ. অস্থিরচিত্ত বলা হলেও নিজের অবস্থানে ছিল স্থির
উত্তর: ঘ। নাটকে হাশেম আলিকে অস্থিরচিত্ত বলে বর্ণনা করা হলেও সে তার অবস্থানে (তাহেরার পক্ষে) ছিল স্থির— মা, বহিপীর ও পিতার কোনো কিছুই তাকে পিছু হটাতে পারেনি।
৬২। হাতেম আলি জমিদারি হারাতে বসেন কোন আইনে?
- ক. ভূমি সংস্কার আইনে
- খ. জমিদারি অধিগ্রহণ আইনে
- গ. সূর্যাস্ত আইনে
- ঘ. কোম্পানি আইনে
উত্তর: গ। খাজনা বাকি পড়ার কারণে হাতেম আলির জমিদারি সূর্যাস্ত আইনে নিলামে ওঠে।
৬৩। হাতেম আলি অর্থ সংগ্রহের জন্য শহরে যাওয়ার সময় কী অজুহাত দেন পরিবারের কাছে?
- ক. আত্মীয় দর্শনের অজুহাত
- খ. চিকিৎসার অজুহাত
- গ. তীর্থযাত্রার অজুহাত
- ঘ. ব্যবসায়িক কাজের অজুহাত
উত্তর: খ। তিনি চিকিৎসার অজুহাত দিয়ে অর্থ সংগ্রহের জন্য শহরে যান, জমিদারি নিলামের সংবাদ পরিবারের কাছে গোপন রাখেন।
৬৪। বহিপীর হাতেম আলিকে কী কঠিন শর্ত দেন ঋণের বিনিময়ে?
- ক. তাঁর স্ত্রী তাহেরাকে তাঁর হাতে তুলে দিতে হবে
- খ. তাঁর পুত্রকে তুলে দিতে হবে
- গ. জমিদারির অর্ধেক
- ঘ. তাঁর সমস্ত সম্পত্তি
উত্তর: ক। বহিপীর শর্ত দেন, অর্থ ধারের বিনিময়ে হাতেম আলিকে তাঁর স্ত্রী (তাহেরাকে) তাঁর হাতে তুলে দিতে হবে।
৬৫। হাতেম আলি শেষ পর্যন্ত এই শর্তে কী সিদ্ধান্ত নেন?
- ক. তিনি টাকা নিতে অস্বীকৃতি জানান, নিজেকে কসাই মনে হতে থাকে
- খ. তিনি তাহেরার মতামত জানতে চান
- গ. তিনি সিদ্ধান্ত পরিবর্তন করেন না
- ঘ. তিনি রাজি হন
উত্তর: ক। হাতেম আলি টাকা নিতে অস্বীকৃতি জানান, কারণ তাঁর নিজেকে নিজের কাছে কসাই মনে হতে থাকে— তাঁর উচ্চ নৈতিকতাবোধের পরিচয়।
৬৬। হাতেম আলির চরিত্রকে কীভাবে বর্ণনা করা হয়েছে?
- ক. দুর্বল ও লোভী
- খ. স্থিতধী, উচ্চ মানবিক চেতনাসম্পন্ন উজ্জ্বল চরিত্র
- গ. ধূর্ত ও স্বার্থপর
- ঘ. উদাসীন ও নিষ্ক্রিয়
উত্তর: খ। হাতেম আলি স্থিতধী, আত্মনিমগ্ন, উচ্চ মানবিক চেতনাসম্পন্ন একটি উজ্জ্বল চরিত্র।
৬৭। জমিদার গিন্নি চরিত্রটি কেমন বলে বর্ণনা করা হয়েছে?
- ক. নিষ্ঠুর ও স্বার্থপর
- খ. কুসংস্কারাচ্ছন্ন, বাঙালি চিরায়ত মায়ের প্রতিমূর্তি
- গ. আধুনিক ও যুক্তিবাদী
- ঘ. সাহসী ও দৃঢ়চেতা
উত্তর: খ। জমিদার গিন্নি কুসংস্কারাচ্ছন্ন কিন্তু অত্যন্ত ধর্মভীরু, বাঙালি চিরায়ত মায়ের প্রতিমূর্তি— তিনি ছেলে ও পিরের দ্বন্দ্বে নির্ঝঞ্ঝাট থাকতে চান, কিন্তু ছেলেকেও দমন করতে পারেন না।
৬৮। হকিকুল্লাহ চরিত্রটি কেমন?
- ক. স্বাধীনচেতা ও বিদ্রোহী
- খ. পিরের ধামাধরা, ব্যক্তিত্বহীন অনুচর
- গ. হাশেম আলির বন্ধু
- ঘ. তাহেরার সহায়ক
উত্তর: খ। হকিকুল্লাহ পিরের ধামাধরা একটি ব্যক্তিত্বহীন চরিত্র, বহিপীরের সহকারী হিসেবে শুধু তাঁর আজ্ঞা পালন করে চলে।
৬৯। নাটকের সময়কাল আনুমানিক কোন যুগ বলে অনুমান করা হয়েছে?
- ক. ঊনিশ শতকের শেষভাগ বা বিশ শতকের সূচনালগ্ন
- খ. বিংশ শতাব্দীর মাঝামাঝি
- গ. একবিংশ শতাব্দী
- ঘ. অষ্টাদশ শতাব্দীর মাঝামাঝি
উত্তর: ক। জমিদার হাতেম আলির সূর্যাস্ত আইনে জমিদারি হারানোর প্রেক্ষাপট থেকে অনুমান করা হয়, নাটকের সময়কাল ঊনিশ শতকের শেষভাগ বা বিশ শতকের সূচনালগ্ন।
৭০। ‘সূর্যাস্ত আইন’ কত সালে প্রণীত হয়?
- ক. ১৮৫০
- খ. ১৮০০
- গ. ১৭৯৩
- ঘ. ১৭৯০
উত্তর: গ। সূর্যাস্ত আইন প্রণীত হয় ১৭৯৩ সালে।
৭১। নাটকটিকে কী ধরনের ‘দলিল’ বলা হয়েছে?
- ক. আইনি দলিল
- খ. রাজনৈতিক দলিল
- গ. বাঙালি মুসলমান সমাজে পির প্রথার একটি বিশ্বস্ত দলিল
- ঘ. অর্থনৈতিক দলিল
উত্তর: গ। নাটকটিকে বাঙালি মুসলমান সমাজে প্রচলিত পির প্রথার একটি বিশ্বস্ত দলিল বলা হয়েছে।
৭২। নাটকটি শেষ পর্যন্ত কী সংকেত দেয়?
- ক. কুসংস্কার চিরস্থায়ী
- খ. কুসংস্কার-অন্ধবিশ্বাসের স্থানে মানবিকতার জয়ের সংকেত
- গ. পির প্রথার প্রয়োজনীয়তা
- ঘ. কোনো সংকেত দেয় না
উত্তর: খ। নাটকটি শেষ পর্যন্ত আলোর পথ দেখায়— কুসংস্কার, অন্ধবিশ্বাসের স্থানে মানবিকতার জয়ের সংকেত দেয়, তাহেরা ও হাশেম আলি এই ব্যবস্থা ভেঙে বেরিয়ে আসে।
৭৩। নাটকটিকে সবশেষে কী বলে অভিহিত করা হয়েছে?
- ক. একটি ঐতিহাসিক নাটক
- খ. একটি ট্র্যাজেডি
- গ. একটি প্রহসন
- ঘ. মানবিক জাগরণের দৃশ্যকাব্য
উত্তর: ঘ। নাটকটি মানবিক জাগরণের দৃশ্যকাব্য হয়ে উঠেছে বলে অভিহিত করা হয়েছে।
সংক্ষেপে মনে রাখার মূল বিষয় (ভূমিকা, নাট্যকার পরিচিতি ও চরিত্র পরিচিতি)
নাটক তত্ত্ব
নাটক = দৃশ্যকাব্য, চারটি উপাদান (কাহিনি, চরিত্র, সংলাপ, পরিবেশ); সংলাপ নাটকের প্রাণ। অ্যারিস্টটলের তিন ঐক্য (কাল, স্থান, ঘটনা); পাঁচ পর্ব (মুখ, প্রতিমুখ, গর্ভ, বিমর্ষ, উপসংহতি)।
বাংলা ও বাংলাদেশের নাটক
চর্যাপদে নাট্যচর্চার সূত্রপাত; হেরাসিম লেবেদেফ (রাশিয়ান) কলকাতায় প্রথম মঞ্চনাটক আয়োজক; মাইকেল মধুসূদন দত্ত প্রথম আধুনিক নাটকের রচয়িতা (শর্মিষ্ঠা, ১৮৫৯)। বাংলাদেশে ১৯৪৭-পরবর্তী ঢাকাকেন্দ্রিক নাট্যচর্চা; মুনীর চৌধুরী ও সৈয়দ ওয়ালীউল্লাহ অগ্রণী নাট্যকার।
নাট্যকার
সৈয়দ ওয়ালীউল্লাহ্ (জন্ম ১৫ আগস্ট ১৯২২, চট্টগ্রাম; মৃত্যু অক্টোবর ১৯৭১, প্যারিস)। উপন্যাস: লালসালু, চাঁদের অমাবস্যা, কাঁদো নদী কাঁদো; নাটক: বহিপীর, তরঙ্গভঙ্গ, সুড়ঙ্গ।
বহিপীর নাটক
১৯৬০ প্রকাশিত, ১৯৫৫ সালে পিইএন ক্লাব সম্মেলনে আন্তর্জাতিক পুরস্কারপ্রাপ্ত। কাহিনি: বহিপীর জোরপূর্বক তাহেরাকে বিয়ে করেন, তাহেরা পালিয়ে হাতেম আলির বজরায় আশ্রয় নেয়, বহিপীর ঘটনাচক্রে সেই বজরাতেই আশ্রয় পান, হাশেম আলি তাহেরার পক্ষ নেয়, বহিপীরের নানা কূটকৌশল ব্যর্থ হয়, তাহেরা-হাশেম আলি পালিয়ে যায়।
চরিত্র
বহিপীর (ধূর্ত, ধর্মব্যবসায়ী, খলনায়ক), তাহেরা (অনমনীয় ও মানবিক, নারী জাগরণের প্রতীক), হাশেম আলি (যুক্তিবাদী, মানবিক নায়ক), হাতেম আলি (নৈতিকতাসম্পন্ন ক্ষয়িষ্ণু জমিদার), জমিদার গিন্নি ও হকিকুল্লাহ (অপ্রধান চরিত্র)।
মূল ভাব/তাৎপর্য
পির প্রথা ও কুসংস্কারের বিরুদ্ধে মানবিকতা ও যুক্তিবোধের বিজয়— নাটকটি বাঙালি মুসলমান সমাজে প্রচলিত পির প্রথার বিশ্বস্ত দলিল হয়েও শেষে আশাবাদী, মানবিক জাগরণের বার্তা দেয়।
প্রথম অঙ্ক
সৈয়দ ওয়ালীউল্লাহ্র ‘বহিপীর’ নাটকের প্রথম অঙ্কে হাতেম আলির বজরায় ঘটে যাওয়া একের পর এক নাটকীয় ঘটনা— তাহেরার পলায়নের কাহিনি প্রকাশ, বহিপীরের পরিচয় উন্মোচন, হাতেম আলির জমিদারি হারানোর সংকট এবং শেষে খোদেজার হাতে তাহেরার অবস্থান ফাঁস হয়ে যাওয়ার নাটকীয় সমাপ্তি বর্ণিত হয়েছে। নিচের প্রশ্নগুলো অঙ্কের প্রতিটি অংশ ধরে সাজানো, শেষে সংক্ষিপ্তসারও দেওয়া আছে।
—
**১। নাটকের দৃশ্যপট কোন ঋতুর কোন সময়ে শুরু হয়?**
ক. গ্রীষ্মের দুপুরে খ. শীতের রাতে গ. বর্ষার সন্ধ্যায় ঘ. হেমন্তের সকাল নয়টায়
**উত্তর: ঘ।** নাটকের দৃশ্যপট হেমন্তের বেলা নয়টায় শুরু হয়, পানির শব্দ, দূরে জাহাজের সিটি-ধ্বনি, ফেরিওয়ালার হাঁকাহাঁকির কোলাহলের মধ্যে পর্দা ওঠে।
**২। মঞ্চের অধিকাংশ স্থানজুড়ে কী দেখা যায়?**
ক. একটি বাজার খ. একটি গ্রামের বাড়ি গ. দু-কামরাওয়ালা একটি রঙদার বজরা ঘ. একটি মসজিদ
**উত্তর: গ।** মঞ্চের অধিকাংশ স্থানজুড়ে দু-কামরাওয়ালা একটি রঙদার বজরা দেখা যায়।
**৩। বড় কামরায় হাতেম আলি কার সাথে কথা বলছিলেন?**
ক. বহিপীরের সাথে খ. হাশেম আলির সাথে গ. খোদেজার সাথে ঘ. তাহেরার সাথে
**উত্তর: ক।** বড় কামরায় হাতেম আলি চাদরে আধা-শরীর ঢেকে বহিপীরের সঙ্গে কথোপকথন করছিলেন।
**৪। হাতেম আলির বয়স কত বলে বর্ণনা করা হয়েছে?**
ক. সত্তরের মতো খ. চল্লিশের মতো গ. পঞ্চাশের মতো ঘ. ষাটের মতো
**উত্তর: গ।** হাতেম আলির বয়স পঞ্চাশের মতো, মুখে চিন্তার ছাপ।
**৫। হাশেম আলিকে কেমন স্বভাবের বলে বর্ণনা করা হয়েছে?**
ক. কপট ও ধূর্ত খ. শান্ত ও ধীরস্থির গ. অস্থির মতি ও একটুতে রেগে ওঠার অভ্যাস ঘ. উদাসীন ও নিষ্ক্রিয়
**উত্তর: গ।** হাশেম আলি যুবক মানুষ, তার অস্থির মতি ও একটুতে রেগে ওঠার অভ্যাস আছে।
**৬। তাহেরার চেহারায় কী ভাব লক্ষ করা যায়?**
ক. রাগান্বিত ভাব খ. সম্পূর্ণ শান্ত ভাব গ. আনন্দিত ভাব ঘ. সামান্য উদ্ভ্রান্ত ভাব
**উত্তর: ঘ।** তাহেরার বয়স অল্প, মুখে সামান্য উদ্ভ্রান্ত ভাব, যদিও তা সবসময় পরিলক্ষিত হয় না।
—
**৭। হাশেম প্রথম সংলাপে কী নিয়ে কথা বলে?**
ক. তাহেরার পরিচয় নিয়ে খ. পীরসাহেবের আগমন নিয়ে গ. জমিদারির সংকট নিয়ে ঘ. আগের রাতের প্রচণ্ড ঝড় নিয়ে
**উত্তর: ঘ।** হাশেম বলে, ‘কী ঝড়ই হলো শেষ রাতে! এমন ঝড় কখনো দেখিনি।’
**৮। খোদেজা তাহেরাকে কোথা থেকে বজরায় তুলে নিয়েছিলেন?**
ক. মধুবন থেকে খ. নীলগঞ্জ থেকে গ. সুনামগঞ্জ থেকে ঘ. ডেমরার ঘাট থেকে
**উত্তর: ঘ।** কাল ডেমরার ঘাটে বিপদে পড়া তাহেরাকে তারা তুলে নিয়েছিলেন।
**৯। ডেমরার ঘাটে তাহেরার সাথে কে ছিল?**
ক. তার চাচাতো ভাই খ. তার সৎমা গ. একা ছিল ঘ. তার বাবা
**উত্তর: ক।** তাহেরার সাথে তার চাচাতো ভাই ছিল, যে তাকে পালানোর সাথী হয়েছিল।
**১০। চাচাতো ভাইটির পরিণতি কী হয় বলে খোদেজা বর্ণনা করেন?**
ক. ভয়ে-ক্ষুধায় কাঁদতে থাকে, পুলিশ তাদের ধরে খ. সে পালিয়ে যায় গ. সে সাহসী থাকে ঘ. তার কোনো ভয় ছিল না
**উত্তর: ক।** ডেমরায় পৌঁছে ছেলেটির হুঁশ হয়, ভয়ে ও ক্ষুধায় কাঁদতে থাকে, পুলিশ এসে তাদের ধরে।
**১১। তাহেরার প্রতিক্রিয়া চাচাতো ভাইয়ের তুলনায় কেমন ছিল বলে খোদেজা প্রশংসা করেন?**
ক. তাহেরা পালাতে চেয়েছিল খ. তাহেরাও ভয়ে কাঁদছিল গ. তাহেরার চোখে না ছিল ভয়, না ছিল কান্না ঘ. তাহেরা অজ্ঞান হয়ে পড়েছিল
**উত্তর: গ।** খোদেজা বিস্মিত হয়ে বলেন, তাহেরার চোখে না ছিল ভয়, না ছিল কান্না— এমন সাহসী মেয়ে তিনি দেখেননি।
**১২। তাহেরা নদীতে তাকিয়ে কী মন্তব্য করে, যা তার মানসিক অবস্থার প্রতীকী প্রকাশ?**
ক. নদী সুন্দর খ. নদী শান্ত গ. নদী বিপজ্জনক ঘ. নদীতে খালি কচুরিপানা ভেসে যায়, শাপলা-পদ্ম-পলাশ নেই
**উত্তর: ঘ।** তাহেরা বলে, নদীতে খালি কচুরিপানা, বেগুনি শাপলা বা পদ্ম-পলাশ নেই— নিজের নিরানন্দ, অনিশ্চিত জীবনের প্রতীকী প্রকাশ।
—
**১৩। তাহেরার বাড়িতে কারা আছেন বলে সে জানায়?**
ক. তার বাবা ও সৎমা খ. তার ভাইবোন গ. শুধু তার বাবা ঘ. কেউ নেই
**উত্তর: ক।** তাহেরা জানায় তার বাপজান ও সৎমা আছেন।
**১৪। তাহেরার বাবা ও সৎমা কার মুরিদ?**
ক. হাতেম আলির খ. কারো মুরিদ নন গ. যে বৃদ্ধ পীরের সঙ্গে তাহেরার বিয়ে দিয়েছেন তাঁর ঘ. একজন স্থানীয় ইমামের
**উত্তর: গ।** তাহেরার বাবা ও সৎমা সেই বৃদ্ধ পীরের মুরিদ, যাঁর সঙ্গে তাহেরার বিয়ে দেওয়া হয়েছে।
**১৫। তাহেরা নিজেকে কীসের সাথে তুলনা করে ক্ষুব্ধভাবে প্রশ্ন তোলে?**
ক. একটি নদীর সাথে খ. বকরি-ঈদের গরু-ছাগলের সাথে গ. একটি ফুলের সাথে ঘ. একটি পাখির সাথে
**উত্তর: খ।** তাহেরা রেগে প্রশ্ন তোলে, ‘আমি কি বকরি-ঈদের গরু ছাগল নাকি?’— নিজেকে পণ্যের মতো বিয়ে দেওয়ার প্রতিবাদ।
—
**১৬। পীরসাহেব কখন চলে যাবেন বলে হাশেম জানায়?**
ক. দুপুরে খাওয়ার পরেই খ. সন্ধ্যায় গ. রাতে ঘ. পরদিন সকালে
**উত্তর: ক।** হাশেম জানায়, পীরসাহেব দুপুরে খাওয়ার পরেই চলে যাবেন, কারণ তাঁর জরুরি কাজ আছে।
**১৭। পীরসাহেবের নৌকা কীভাবে দুর্ঘটনায় পড়ে?**
ক. অন্য নৌকার সাথে সংঘর্ষে খ. ডাকাতের আক্রমণে গ. পাথরে ধাক্কা লেগে ঘ. ঝড়ের সময় বজরার সাথে ধাক্কা লেগে
**উত্তর: ঘ।** ঝড়ের সময় বজরা ও পীরসাহেবের নৌকা একসাথে খালে ঢুকতে গিয়ে ধাক্কা লাগে, নৌকাটি আধা-ডোবা হয়ে যায়।
**১৮। খোদেজা রসিকতা করে কী বলেন, যা তাহেরাকে ভীত করে?**
ক. এই বজরাতেই পীরসাহেব ও বিবির মিলন হবে, তারা সওয়াব পাবেন খ. পীরসাহেব অসুস্থ হবেন গ. পীরসাহেব শীঘ্রই চলে যাবেন ঘ. তাহেরাকে বাড়ি ফিরতে হবে
**উত্তর: ক।** খোদেজা বলেন এই বজরাতেই পীরসাহেব ও তাঁর বিবির মিলন হয়ে যাবে, মাঝখান থেকে তারা সওয়াব পাবেন— এই কথায় তাহেরা আঁতকে ওঠে।
—
**১৯। বহিপীর নিজের নামের ব্যাখ্যা দিতে গিয়ে কী বলেন?**
ক. এটি তার জন্মগত নাম খ. তার গুরু এই নাম দিয়েছেন গ. এলাকাভেদে ভাষা ভিন্ন বলে তিনি সবসময় কেতাবি ভাষায় কথা বলেন ঘ. এটি একটি উপাধি
**উত্তর: গ।** বহিপীর ব্যাখ্যা করেন, দেশের নানা স্থানে তাঁর মুরিদান, একেক স্থানে একেক ভাষা— তাই তিনি সবসময় বইয়ের ভাষায় কথা বলেন, যা তাঁর কাছে পবিত্র ও গম্ভীর মনে হয়।
**২০। বহিপীর কথ্য ভাষা সম্পর্কে কী মন্তব্য করেন?**
ক. এটি খোদার বাণী বহনের উপযুক্ত খ. এটি সহজ ও সুন্দর গ. এটি তাঁর কানে কটু ঠেকে, এতে পবিত্রতা-গাম্ভীর্য নেই ঘ. এটি সবার বোঝা উচিত
**উত্তর: গ।** বহিপীর মনে করেন কথ্য ভাষা তাঁর কানে কটু ঠেকে, তাতে পবিত্রতা বা গাম্ভীর্য নেই, তা মাঠ-ঘাটের ভাষা মাত্র।
—
**২১। বহিপীর জীবনের প্রতি এক ধরনের আক্ষেপ প্রকাশ করে কী বলেন?**
ক. যা চেয়েছিলেন পাননি, শুধু মুরিদান করেই জীবন কেটেছে খ. তিনি সম্পূর্ণ সন্তুষ্ট গ. তিনি অনেক ভ্রমণ করেছেন ঘ. তিনি কখনো আক্ষেপ করেন না
**উত্তর: ক।** বহিপীর বলেন, যা চেয়েছিলেন তা পাননি, মুরিদদের কাজেই সারা জীবন কেটেছে, নিজের এবাদতের অবসর পাননি— একটি মুহূর্তের জন্য তাঁর মানবিক দিক প্রকাশ পায়।
**২২। তাহেরা কীভাবে নিশ্চিত হয় যে পাশের ঘরের ব্যক্তিই সেই বহিপীর?**
ক. খোদেজা তাকে বলে দেয় খ. তাকে সরাসরি দেখে চিনতে পারে গ. খোলা দরজা দিয়ে তাকে দেখে এবং তার নাম ও ঠিকানা শুনে ঘ. হাতেম আলি তাকে বলে দেন
**উত্তর: গ।** খোলা দরজা দিয়ে তাহেরা তাকে দেখে, এবং হাশেমের কাছ থেকে জানতে পারে তাঁর নাম বহিপীর ও বাড়ি সুনামগঞ্জ— নিজের বিয়ের কথা মিলিয়ে সে নিশ্চিত হয়।
—
**২৩। বহিপীরের পরিচয় নিশ্চিত হয়ে তাহেরা কী করে?**
ক. সে হাসতে থাকে খ. সে শান্ত থাকে গ. আতঙ্কে জানালার কাছে গিয়ে পানিতে ঝাঁপের হুমকি দেয় ঘ. সে পালাতে চেষ্টা করে
**উত্তর: গ।** তাহেরা আতঙ্কে জানালার কাছে গিয়ে বলে, কেউ তার কাছে এলেই সে পানিতে ঝাঁপ দেবে, যদিও সে সাঁতার জানে না।
**২৪। তাহেরা কেন বহিপীরকে ‘তাঁর বিবি’ বলা নিয়ে বিদ্রূপ করে?**
ক. সে বহিপীরের প্রতি শ্রদ্ধাশীল বলে খ. সে বিয়ের কথা অস্বীকার করে বলে গ. তার কোনো কারণ নেই ঘ. তাকে কখনো দেখেননি, তার ঘরও করেননি বলে
**উত্তর: ঘ।** তাহেরা বলে, বহিপীর তাকে কখনো দেখেননি, সে তাঁর ঘরও করেনি, খেদমতও করেনি— তাই ‘তাঁর বিবি’ বলাটা অর্থহীন।
**২৫। হাশেম তাহেরাকে কী প্রতিশ্রুতি দেয়?**
ক. সে তাকে বাড়ি ফিরিয়ে দেবে খ. সে কোনো প্রতিশ্রুতি দেয় না গ. পীরসাহেবের সঙ্গে তাকে ফিরে যেতে হবে না ঘ. সে তার পরিবারকে খবর দেবে
**উত্তর: গ।** হাশেম দৃঢ়ভাবে বলে, তাহেরাকে চিন্তা করতে হবে না, পীরসাহেবের সঙ্গে তাকে ফিরে যেতে হবে না— এই প্রতিশ্রুতি তার পরবর্তী দৃঢ়তার প্রথম ইঙ্গিত।
**২৬। খোদেজা হাশেমের এই মনোভাবে কী প্রতিক্রিয়া দেখান?**
ক. অবাক হয়ে জিজ্ঞেস করেন হাশেম কেন এত মাথা ঘামাচ্ছে খ. তিনি সমর্থন করেন গ. তিনি হাশেমকে প্রশংসা করেন ঘ. তিনি উদাসীন থাকেন
**উত্তর: ক।** খোদেজা বিস্মিত হয়ে জিজ্ঞেস করেন, ‘পীরসাহেবের বিবিকে নিয়ে তোর এত মাথা ব্যথা কেন?’
—
**২৭। হাতেম আলি বহিপীরের কাছে কোন সত্য গোপন করেছিলেন বলে স্বীকার করেন?**
ক. তিনি ধনী নন খ. তার ছেলে বিদ্রোহী গ. অসুস্থ নন, জমিদারি রক্ষার জন্য অর্থ সংগ্রহ করতে এসেছিলেন ঘ. তিনি আগে থেকেই বহিপীরকে চেনেন
**উত্তর: গ।** হাতেম আলি স্বীকার করেন তিনি অসুস্থ নন, বরং জমিদারি বাঁচানোর জন্য অর্থ সংগ্রহে শহরে এসেছিলেন, কিন্তু বিষয়টি পরিবারের কাছে গোপন রেখেছিলেন।
**২৮। হাতেম আলির জমিদারি কোন আইনে নিলামে উঠতে বসেছে?**
ক. ভূমি সংস্কার আইনে খ. কর আইনে গ. উত্তরাধিকার আইনে ঘ. সান্ধ্য/সূর্যাস্ত আইনে
**উত্তর: ঘ।** খাজনা বাকি পড়ার কারণে তাঁর জমিদারি সান্ধ্য (সূর্যাস্ত) আইনে নিলামে উঠতে বসেছে, পরদিনই নিলাম।
**২৯। হাতেম আলি অর্থ সাহায্যের জন্য কার কাছে গিয়েছিলেন?**
ক. স্থানীয় ব্যাংকে খ. তার বাল্যবন্ধু আনোয়ারউদ্দিনের কাছে গ. সরকারের কাছে ঘ. আত্মীয়ের কাছে
**উত্তর: খ।** তিনি তার বাল্যবন্ধু আনোয়ারউদ্দিনের কাছে গিয়েছিলেন, কিন্তু আনোয়ারউদ্দিন সাহায্য করতে অস্বীকার করেন।
**৩০। হাতেম আলির ছেলে হাশেম কী কেনার স্বপ্ন দেখছিল, যা এই সংকটে ভেঙে যাওয়ার আশঙ্কা দেখা দেয়?**
ক. একটি বাড়ি খ. একটি দোকান গ. একটি ছাপাখানা (প্রেস) ঘ. একটি নৌকা
**উত্তর: গ।** হাশেম একটি ছাপাখানা কেনার স্বপ্ন দেখছিল, জমিদারি হারানোর সংকটে সেই স্বপ্নও ভাঙতে বসেছে।
—
**৩১। বহিপীর হাতেম আলির দুঃখের সময়ে কোন গুরুত্বপূর্ণ তথ্য প্রকাশ করেন?**
ক. তিনি চলে যাবেন খ. তিনি জমিদারি কিনে নিতে চান গ. তিনি হাতেম আলিকে অর্থ দেবেন ঘ. তাঁর বিবাহিত স্ত্রী তাহেরাই এই বজরায় লুকিয়ে আছেন
**উত্তর: ঘ।** বহিপীর প্রকাশ করেন গত জুম্মা রাতে তাহেরার সাথে তাঁর বিয়ে হয়েছে, এবং হাতেম আলির বজরাতেই তাহেরা লুকিয়ে আছেন বলে তিনি নিশ্চিত।
**৩২। বহিপীরের প্রথম স্ত্রীর মৃত্যু কত বছর আগে হয় বলে তিনি জানান?**
ক. বিশ বছর খ. পাঁচ বছর গ. চৌদ্দ বছর ঘ. দশ বছর
**উত্তর: গ।** বহিপীর বলেন, তাঁর প্রথম স্ত্রীর ইন্তেকাল হয় চৌদ্দ বছর আগে।
**৩৩। বহিপীর নিজেকে বিয়ের জন্য কেন যুক্তিসংগত মনে করেন?**
ক. এটি একটি ধর্মীয় বাধ্যবাধকতা বলে খ. তিনি একা বোধ করছিলেন বলে গ. বয়স হয়েছে, খেদমতের জন্য আপন লোকের প্রয়োজন বলে ঘ. তাহেরার পরিবার তাকে চাপ দিয়েছিল বলে
**উত্তর: গ।** বহিপীর বলেন, বয়স হয়েছে, দেখাশোনা ও খেদমতের জন্য একজন আপন লোকের প্রয়োজন— এই যুক্তিতে তিনি বিয়েতে রাজি হন।
**৩৪। তাহেরার বিয়ের ব্যবস্থা মূলত কে করেছিলেন?**
ক. তাহেরার পিতা, বহিপীরের পেয়ারা মুরিদ খ. খোদেজা গ. বহিপীর নিজে ঘ. হাতেম আলি
**উত্তর: ক।** তাহেরার পিতা, যিনি বহিপীরের পেয়ারা মুরিদ, তিনিই হাউস করে এই বিয়ের ব্যবস্থা করেছিলেন।
**৩৫। বিয়ের রাতেই কী ঘটে যায়?**
ক. তাহেরার পিতা মারা যান খ. তাহেরা এক নাবালেগ চাচাতো ভাইকে নিয়ে পালিয়ে যান গ. অনুষ্ঠান বাতিল হয় ঘ. বহিপীর অসুস্থ হয়ে পড়েন
**উত্তর: খ।** বিয়ের রাতেই তাহেরা এক নাবালেগ চাচাতো ভাইকে সঙ্গে নিয়ে বাড়ি ছেড়ে পালিয়ে যান।
**৩৬। বহিপীর তাহেরার পিতাকে পুলিশে খবর দিতে কেন নিষেধ করেন?**
ক. তিনি নিজেই তাহেরাকে ফিরে পাবেন বলে নিশ্চিত ছিলেন খ. পুলিশের ওপর আস্থা নেই বলে গ. জানাজানি হওয়ার আশঙ্কায় ঘ. এটি অপ্রয়োজনীয় খরচ বলে
**উত্তর: গ।** বহিপীর পুলিশে খবর দিতে নিষেধ করেন, কারণ পুলিশ নিয়ে ঘাঁটাঘাঁটি করলে জানাজানি হওয়ার সম্ভাবনা, যা তিনি চাননি।
—
**৩৭। বহিপীর কেন তাহেরার পরিচয় প্রথমে নিশ্চিত হতে চান, সরাসরি দাবি না করে?**
ক. তিনি তাহেরার প্রতি সহানুভূতিশীল বলে খ. তিনি সময় নষ্ট করতে চান না বলে গ. তিনি নিশ্চিত নন যে তাহেরা এখানে আছে ঘ. প্রমাণ ছাড়া তাহেরা ফাঁকি দিতে পারে বলে সতর্ক থাকেন
**উত্তর: ঘ।** বহিপীর অত্যন্ত হিসেবি ও সতর্ক— তিনি জানেন প্রমাণ ছাড়া দাবি করলে তাহেরা ফাঁকি দেওয়ার ফন্দি খুঁজতে পারে, তাই আগে নিশ্চিত হতে চান।
**৩৮। বহিপীর হাশেমকে কী দায়িত্ব দেন?**
ক. তাহেরাকে সাবধান করতে খ. তাহেরাকে সরাসরি জিজ্ঞাসাবাদ করতে গ. জমিদারের কাছে অভিযোগ জানাতে ঘ. কথায় কথায় তাহেরার পরিচয় জেনে নিতে, উদ্দেশ্য প্রকাশ না করে
**উত্তর: ঘ।** বহিপীর হাশেমকে বলেন কথায় কথায় তাহেরার পরিচয় জেনে নিতে, কিন্তু নিজের প্রকৃত উদ্দেশ্য যেন প্রকাশ না পায়।
**৩৯। হাশেম তাহেরার ঘরে গিয়ে কী সিদ্ধান্তে পৌঁছায়?**
ক. বুঝতে পারে বহিপীর পরিচয় জানেন না, তাই গোপন রাখার প্রস্তাব দেয় খ. সে কোনো সিদ্ধান্ত নিতে পারে না গ. সে তাহেরাকে ফিরিয়ে দেওয়ার পরামর্শ দেয় ঘ. তাহেরার পরিচয় জেনে বহিপীরকে জানাবে
**উত্তর: ক।** হাশেম বুঝতে পারে বহিপীর তাহেরার সঠিক পরিচয় (নাম, ঠিকানা) জানেন না, তাই সে খোদেজাকে পরিচয় গোপন রাখার অনুমতি চায়।
**৪০। খোদেজা হাশেমের এই প্রস্তাবে কী প্রতিক্রিয়া দেখান?**
ক. তিনি হাশেমকে সমর্থন করেন খ. তিনি নীরব থাকেন গ. তিনি হতবাক হয়ে জিজ্ঞেস করেন হাশেমের মাথা খারাপ হয়েছে কিনা ঘ. তিনি রাজি হন
**উত্তর: গ।** খোদেজা হতবাক হয়ে জিজ্ঞেস করেন, ‘তোর কি মাথা খারাপ হলো নাকি? এই মেয়েটা তোর মাথা খেলো নাকি?’
**৪১। হাশেম শেষ পর্যন্ত তাহেরার জন্য কী চরম প্রতিশ্রুতি দেয়?**
ক. সে তাকে বাড়ি পাঠাবে খ. তাকে বিয়ে করে হলেও বাঁচাবে গ. সে তার জন্য অর্থ দেবে ঘ. সে তাকে শহরে পাঠাবে
**উত্তর: খ।** হাশেম দৃঢ়ভাবে বলে, সে তাহেরাকে বিয়ে করে হলেও বাঁচাবে— একটি অত্যন্ত সাহসী ও তাৎপর্যপূর্ণ ঘোষণা, যা তার প্রকৃত অনুভূতির প্রথম প্রকাশ।
—
**৪২। খোদেজা কেন হাশেমের অনুরোধ প্রত্যাখ্যান করে বহিপীরকে সত্য জানিয়ে দেন?**
ক. পীরের বদদোয়ার ভয়ে ও এটি ন্যায্য বিয়ে মনে করে খ. হাতেম আলির নির্দেশে গ. তিনি হাশেমের ওপর রাগান্বিত বলে ঘ. তিনি তাহেরাকে অপছন্দ করেন বলে
**উত্তর: ক।** খোদেজা পীরের বদদোয়ার ভয়ে এবং এই বিয়েকে ধর্মমতে ন্যায্য মনে করে বহিপীরকে জানিয়ে দেন যে তাঁর বিবি (তাহেরা) তাঁর সঙ্গেই আছেন।
**৪৩। প্রথম অঙ্কের শেষ পঙক্তিতে বহিপীর কী বলে ওঠেন?**
ক. তিনি রেগে যান খ. তিনি নীরব থাকেন গ. তিনি হাতেম আলিকে ধন্যবাদ জানান ঘ. ‘শোকর আলহামদুলিল্লাহ!’
**উত্তর: ঘ।** খোদেজার প্রকাশের পর বহিপীর আনন্দে বলে ওঠেন, ‘শোকর আলহামদুলিল্লাহ্!’
**৪৪। প্রথম অঙ্কের শেষ দৃশ্যে অন্যান্য চরিত্রদের প্রতিক্রিয়া কেমন?**
ক. সবাই আনন্দিত খ. তাহেরা স্তব্ধ, হাশেম বিস্মিত, হাতেম আলি নিস্তেজ হয়ে মেঝের দিকে তাকান গ. কোনো প্রতিক্রিয়া বর্ণিত হয়নি ঘ. সবাই স্বস্তি পায়
**উত্তর: খ।** তাহেরা মূর্তির মতো স্তব্ধ, হাশেম বিস্ময়াভিভূত, হাতেম আলি নিস্তেজভাবে মেঝের দিকে তাকিয়ে থাকেন— এক নাটকীয়, উদ্বেগপূর্ণ মুহূর্তে অঙ্কের সমাপ্তি।
—
**৪৫। প্রথম অঙ্কের ঘটনাক্রম নিয়ে নিচের তথ্যগুলো লক্ষ করো —**
i. তাহেরা স্বেচ্ছায় বহিপীরের সাথে বিয়েতে রাজি হয়েছিল
ii. হাশেম তাহেরার প্রতি ক্রমশ সহানুভূতিশীল ও রক্ষাকারী ভূমিকায় দেখা যায়
iii. খোদেজা শেষ পর্যন্ত ধর্মীয় ভয় ও বিশ্বাসের কারণে তাহেরার অবস্থান প্রকাশ করে দেন
নিচের কোনটি সঠিক?
ক. i ও ii খ. ii ও iii গ. i ও iii ঘ. i, ii ও iii
**উত্তর: খ।** দ্বিতীয় ও তৃতীয় তথ্য সঠিক, কিন্তু তাহেরা স্বেচ্ছায় বিয়েতে রাজি হয়নি— তার পিতা ও সৎমা জোরপূর্বক এই বিয়ে দিয়েছিলেন, যার প্রতিবাদেই সে পালিয়েছিল; তাই প্রথম তথ্যটি ভুল।
**৪৬। বহিপীর চরিত্রের ধূর্ততা প্রথম অঙ্কে কীভাবে প্রকাশ পায়?**
ক. তিনি হাতেম আলিকে হুমকি দেন খ. সতর্কভাবে প্রমাণ যাচাই করেন, গোপনে তথ্য সংগ্রহ করান গ. তিনি পুলিশ ডাকেন ঘ. তিনি সরাসরি তাহেরাকে দাবি করেন
**উত্তর: খ।** বহিপীর তাড়াহুড়ো না করে সতর্কভাবে প্রমাণ যাচাই করেন, হাশেমকে দিয়ে গোপনে তথ্য সংগ্রহ করান এবং নিজের প্রকৃত কৌশল প্রকাশ করেন না— তাঁর ধূর্ত, হিসেবি চরিত্রের প্রথম স্পষ্ট প্রকাশ এটি।
**৪৭। হাতেম আলির চরিত্রের কোন দিক প্রথম অঙ্কে ফুটে ওঠে?**
ক. তাঁর উদাসীনতা খ. তাঁর লোভ গ. তাঁর নিষ্ঠুরতা ঘ. তাঁর আত্মমর্যাদা ও পরিবারের প্রতি দায়িত্ববোধ
**উত্তর: ঘ।** হাতেম আলির আত্মমর্যাদা (মিথ্যা বলার জন্য অনুতাপ), পরিবারের প্রতি গভীর দায়িত্ববোধ এবং সংকটেও নিজের কষ্ট গোপন রাখার চেষ্টা তাঁর চরিত্রের একটি গুরুত্বপূর্ণ দিক প্রকাশ করে।
**৪৮। প্রথম অঙ্কের নাটকীয় কাঠামো (Exposition/মুখ) হিসেবে এর ভূমিকা কী?**
ক. এটি একটি অপ্রয়োজনীয় ভূমিকা মাত্র খ. এটি শুধু হাস্যরসাত্মক অংশ গ. এটি নাটকের চূড়ান্ত পরিণতি ঘ. এটি নাটকের মূল চরিত্র ও দ্বন্দ্ব পাঠকের সামনে উপস্থাপন করে
**উত্তর: ঘ।** নাটকতত্ত্বের ‘মুখ’ (Exposition) পর্বের মতোই প্রথম অঙ্ক নাটকের সব মূল চরিত্র (বহিপীর, তাহেরা, হাশেম, হাতেম আলি, খোদেজা), তাদের সম্পর্ক ও মূল দ্বন্দ্বের (তাহেরাকে ফিরে পাওয়ার লড়াই) প্রেক্ষাপট পাঠকের সামনে কার্যকরভাবে উপস্থাপন করে।
১। নাটকের দৃশ্যপট কোন ঋতুর কোন সময়ে শুরু হয়?
- ক. গ্রীষ্মের দুপুরে
- খ. শীতের রাতে
- গ. বর্ষার সন্ধ্যায়
- ঘ. হেমন্তের সকাল নয়টায়
উত্তর: ঘ। নাটকের দৃশ্যপট হেমন্তের বেলা নয়টায় শুরু হয়, পানির শব্দ, দূরে জাহাজের সিটি-ধ্বনি, ফেরিওয়ালার হাঁকাহাঁকির কোলাহলের মধ্যে পর্দা ওঠে।
২। মঞ্চের অধিকাংশ স্থানজুড়ে কী দেখা যায়?
- ক. একটি বাজার
- খ. একটি গ্রামের বাড়ি
- গ. দু-কামরাওয়ালা একটি রঙদার বজরা
- ঘ. একটি মসজিদ
উত্তর: গ। মঞ্চের অধিকাংশ স্থানজুড়ে দু-কামরাওয়ালা একটি রঙদার বজরা দেখা যায়।
৩। বড় কামরায় হাতেম আলি কার সাথে কথা বলছিলেন?
- ক. বহিপীরের সাথে
- খ. হাশেম আলির সাথে
- গ. খোদেজার সাথে
- ঘ. তাহেরার সাথে
উত্তর: ক। বড় কামরায় হাতেম আলি চাদরে আধা-শরীর ঢেকে বহিপীরের সঙ্গে কথোপকথন করছিলেন।
৪। হাতেম আলির বয়স কত বলে বর্ণনা করা হয়েছে?
- ক. সত্তরের মতো
- খ. চল্লিশের মতো
- গ. পঞ্চাশের মতো
- ঘ. ষাটের মতো
উত্তর: গ। হাতেম আলির বয়স পঞ্চাশের মতো, মুখে চিন্তার ছাপ।
৫। হাশেম আলিকে কেমন স্বভাবের বলে বর্ণনা করা হয়েছে?
- ক. কপট ও ধূর্ত
- খ. শান্ত ও ধীরস্থির
- গ. অস্থির মতি ও একটুতে রেগে ওঠার অভ্যাস
- ঘ. উদাসীন ও নিষ্ক্রিয়
উত্তর: গ। হাশেম আলি যুবক মানুষ, তার অস্থির মতি ও একটুতে রেগে ওঠার অভ্যাস আছে।
৬। তাহেরার চেহারায় কী ভাব লক্ষ করা যায়?
- ক. রাগান্বিত ভাব
- খ. সম্পূর্ণ শান্ত ভাব
- গ. আনন্দিত ভাব
- ঘ. সামান্য উদ্ভ্রান্ত ভাব
উত্তর: ঘ। তাহেরার বয়স অল্প, মুখে সামান্য উদ্ভ্রান্ত ভাব, যদিও তা সবসময় পরিলক্ষিত হয় না।
৭। হাশেম প্রথম সংলাপে কী নিয়ে কথা বলে?
- ক. তাহেরার পরিচয় নিয়ে
- খ. পীরসাহেবের আগমন নিয়ে
- গ. জমিদারির সংকট নিয়ে
- ঘ. আগের রাতের প্রচণ্ড ঝড় নিয়ে
উত্তর: ঘ। হাশেম বলে, ‘কী ঝড়ই হলো শেষ রাতে! এমন ঝড় কখনো দেখিনি।’
৮। খোদেজা তাহেরাকে কোথা থেকে বজরায় তুলে নিয়েছিলেন?
- ক. মধুবন থেকে
- খ. নীলগঞ্জ থেকে
- গ. সুনামগঞ্জ থেকে
- ঘ. ডেমরার ঘাট থেকে
উত্তর: ঘ। কাল ডেমরার ঘাটে বিপদে পড়া তাহেরাকে তারা তুলে নিয়েছিলেন।
৯। ডেমরার ঘাটে তাহেরার সাথে কে ছিল?
- ক. তার চাচাতো ভাই
- খ. তার সৎমা
- গ. একা ছিল
- ঘ. তার বাবা
উত্তর: ক। তাহেরার সাথে তার চাচাতো ভাই ছিল, যে তাকে পালানোর সাথী হয়েছিল।
১০। চাচাতো ভাইটির পরিণতি কী হয় বলে খোদেজা বর্ণনা করেন?
- ক. ভয়ে-ক্ষুধায় কাঁদতে থাকে, পুলিশ তাদের ধরে
- খ. সে পালিয়ে যায়
- গ. সে সাহসী থাকে
- ঘ. তার কোনো ভয় ছিল না
উত্তর: ক। ডেমরায় পৌঁছে ছেলেটির হুঁশ হয়, ভয়ে ও ক্ষুধায় কাঁদতে থাকে, পুলিশ এসে তাদের ধরে।
১১। তাহেরার প্রতিক্রিয়া চাচাতো ভাইয়ের তুলনায় কেমন ছিল বলে খোদেজা প্রশংসা করেন?
- ক. তাহেরা পালাতে চেয়েছিল
- খ. তাহেরাও ভয়ে কাঁদছিল
- গ. তাহেরার চোখে না ছিল ভয়, না ছিল কান্না
- ঘ. তাহেরা অজ্ঞান হয়ে পড়েছিল
উত্তর: গ। খোদেজা বিস্মিত হয়ে বলেন, তাহেরার চোখে না ছিল ভয়, না ছিল কান্না— এমন সাহসী মেয়ে তিনি দেখেননি।
১২। তাহেরা নদীতে তাকিয়ে কী মন্তব্য করে, যা তার মানসিক অবস্থার প্রতীকী প্রকাশ?
- ক. নদী সুন্দর
- খ. নদী শান্ত
- গ. নদী বিপজ্জনক
- ঘ. নদীতে খালি কচুরিপানা ভেসে যায়, শাপলা-পদ্ম-পলাশ নেই
উত্তর: ঘ। তাহেরা বলে, নদীতে খালি কচুরিপানা, বেগুনি শাপলা বা পদ্ম-পলাশ নেই— নিজের নিরানন্দ, অনিশ্চিত জীবনের প্রতীকী প্রকাশ।
১৩। তাহেরার বাড়িতে কারা আছেন বলে সে জানায়?
- ক. তার বাবা ও সৎমা
- খ. তার ভাইবোন
- গ. শুধু তার বাবা
- ঘ. কেউ নেই
উত্তর: ক। তাহেরা জানায় তার বাপজান ও সৎমা আছেন।
১৪। তাহেরার বাবা ও সৎমা কার মুরিদ?
- ক. হাতেম আলির
- খ. কারো মুরিদ নন
- গ. যে বৃদ্ধ পীরের সঙ্গে তাহেরার বিয়ে দিয়েছেন তাঁর
- ঘ. একজন স্থানীয় ইমামের
উত্তর: গ। তাহেরার বাবা ও সৎমা সেই বৃদ্ধ পীরের মুরিদ, যাঁর সঙ্গে তাহেরার বিয়ে দেওয়া হয়েছে।
১৫। তাহেরা নিজেকে কীসের সাথে তুলনা করে ক্ষুব্ধভাবে প্রশ্ন তোলে?
- ক. একটি নদীর সাথে
- খ. বকরি-ঈদের গরু-ছাগলের সাথে
- গ. একটি ফুলের সাথে
- ঘ. একটি পাখির সাথে
উত্তর: খ। তাহেরা রেগে প্রশ্ন তোলে, ‘আমি কি বকরি-ঈদের গরু ছাগল নাকি?’— নিজেকে পণ্যের মতো বিয়ে দেওয়ার প্রতিবাদ।
১৬। পীরসাহেব কখন চলে যাবেন বলে হাশেম জানায়?
- ক. দুপুরে খাওয়ার পরেই
- খ. সন্ধ্যায়
- গ. রাতে
- ঘ. পরদিন সকালে
উত্তর: ক। হাশেম জানায়, পীরসাহেব দুপুরে খাওয়ার পরেই চলে যাবেন, কারণ তাঁর জরুরি কাজ আছে।
১৭। পীরসাহেবের নৌকা কীভাবে দুর্ঘটনায় পড়ে?
- ক. অন্য নৌকার সাথে সংঘর্ষে
- খ. ডাকাতের আক্রমণে
- গ. পাথরে ধাক্কা লেগে
- ঘ. ঝড়ের সময় বজরার সাথে ধাক্কা লেগে
উত্তর: ঘ। ঝড়ের সময় বজরা ও পীরসাহেবের নৌকা একসাথে খালে ঢুকতে গিয়ে ধাক্কা লাগে, নৌকাটি আধা-ডোবা হয়ে যায়।
১৮। খোদেজা রসিকতা করে কী বলেন, যা তাহেরাকে ভীত করে?
- ক. এই বজরাতেই পীরসাহেব ও বিবির মিলন হবে, তারা সওয়াব পাবেন
- খ. পীরসাহেব অসুস্থ হবেন
- গ. পীরসাহেব শীঘ্রই চলে যাবেন
- ঘ. তাহেরাকে বাড়ি ফিরতে হবে
উত্তর: ক। খোদেজা বলেন এই বজরাতেই পীরসাহেব ও তাঁর বিবির মিলন হয়ে যাবে, মাঝখান থেকে তারা সওয়াব পাবেন— এই কথায় তাহেরা আঁতকে ওঠে।
১৯। বহিপীর নিজের নামের ব্যাখ্যা দিতে গিয়ে কী বলেন?
- ক. এটি তার জন্মগত নাম
- খ. তার গুরু এই নাম দিয়েছেন
- গ. এলাকাভেদে ভাষা ভিন্ন বলে তিনি সবসময় কেতাবি ভাষায় কথা বলেন
- ঘ. এটি একটি উপাধি
উত্তর: গ। বহিপীর ব্যাখ্যা করেন, দেশের নানা স্থানে তাঁর মুরিদান, একেক স্থানে একেক ভাষা— তাই তিনি সবসময় বইয়ের ভাষায় কথা বলেন, যা তাঁর কাছে পবিত্র ও গম্ভীর মনে হয়।
২০। বহিপীর কথ্য ভাষা সম্পর্কে কী মন্তব্য করেন?
- ক. এটি খোদার বাণী বহনের উপযুক্ত
- খ. এটি সহজ ও সুন্দর
- গ. এটি তাঁর কানে কটু ঠেকে, এতে পবিত্রতা-গাম্ভীর্য নেই
- ঘ. এটি সবার বোঝা উচিত
উত্তর: গ। বহিপীর মনে করেন কথ্য ভাষা তাঁর কানে কটু ঠেকে, তাতে পবিত্রতা বা গাম্ভীর্য নেই, তা মাঠ-ঘাটের ভাষা মাত্র।
২১। বহিপীর জীবনের প্রতি এক ধরনের আক্ষেপ প্রকাশ করে কী বলেন?
- ক. যা চেয়েছিলেন পাননি, শুধু মুরিদান করেই জীবন কেটেছে
- খ. তিনি সম্পূর্ণ সন্তুষ্ট
- গ. তিনি অনেক ভ্রমণ করেছেন
- ঘ. তিনি কখনো আক্ষেপ করেন না
উত্তর: ক। বহিপীর বলেন, যা চেয়েছিলেন তা পাননি, মুরিদদের কাজেই সারা জীবন কেটেছে, নিজের এবাদতের অবসর পাননি— একটি মুহূর্তের জন্য তাঁর মানবিক দিক প্রকাশ পায়।
২২। তাহেরা কীভাবে নিশ্চিত হয় যে পাশের ঘরের ব্যক্তিই সেই বহিপীর?
- ক. খোদেজা তাকে বলে দেয়
- খ. তাকে সরাসরি দেখে চিনতে পারে
- গ. খোলা দরজা দিয়ে তাকে দেখে এবং তার নাম ও ঠিকানা শুনে
- ঘ. হাতেম আলি তাকে বলে দেন
উত্তর: গ। খোলা দরজা দিয়ে তাহেরা তাকে দেখে, এবং হাশেমের কাছ থেকে জানতে পারে তাঁর নাম বহিপীর ও বাড়ি সুনামগঞ্জ— নিজের বিয়ের কথা মিলিয়ে সে নিশ্চিত হয়।
২৩। বহিপীরের পরিচয় নিশ্চিত হয়ে তাহেরা কী করে?
- ক. সে হাসতে থাকে
- খ. সে শান্ত থাকে
- গ. আতঙ্কে জানালার কাছে গিয়ে পানিতে ঝাঁপের হুমকি দেয়
- ঘ. সে পালাতে চেষ্টা করে
উত্তর: গ। তাহেরা আতঙ্কে জানালার কাছে গিয়ে বলে, কেউ তার কাছে এলেই সে পানিতে ঝাঁপ দেবে, যদিও সে সাঁতার জানে না।
২৪। তাহেরা কেন বহিপীরকে ‘তাঁর বিবি’ বলা নিয়ে বিদ্রূপ করে?
- ক. সে বহিপীরের প্রতি শ্রদ্ধাশীল বলে
- খ. সে বিয়ের কথা অস্বীকার করে বলে
- গ. তার কোনো কারণ নেই
- ঘ. তাকে কখনো দেখেননি, তার ঘরও করেননি বলে
উত্তর: ঘ। তাহেরা বলে, বহিপীর তাকে কখনো দেখেননি, সে তাঁর ঘরও করেনি, খেদমতও করেনি— তাই ‘তাঁর বিবি’ বলাটা অর্থহীন।
২৫। হাশেম তাহেরাকে কী প্রতিশ্রুতি দেয়?
- ক. সে তাকে বাড়ি ফিরিয়ে দেবে
- খ. সে কোনো প্রতিশ্রুতি দেয় না
- গ. পীরসাহেবের সঙ্গে তাকে ফিরে যেতে হবে না
- ঘ. সে তার পরিবারকে খবর দেবে
উত্তর: গ। হাশেম দৃঢ়ভাবে বলে, তাহেরাকে চিন্তা করতে হবে না, পীরসাহেবের সঙ্গে তাকে ফিরে যেতে হবে না— এই প্রতিশ্রুতি তার পরবর্তী দৃঢ়তার প্রথম ইঙ্গিত।
২৬। খোদেজা হাশেমের এই মনোভাবে কী প্রতিক্রিয়া দেখান?
- ক. অবাক হয়ে জিজ্ঞেস করেন হাশেম কেন এত মাথা ঘামাচ্ছে
- খ. তিনি সমর্থন করেন
- গ. তিনি হাশেমকে প্রশংসা করেন
- ঘ. তিনি উদাসীন থাকেন
উত্তর: ক। খোদেজা বিস্মিত হয়ে জিজ্ঞেস করেন, ‘পীরসাহেবের বিবিকে নিয়ে তোর এত মাথা ব্যথা কেন?’
২৭। হাতেম আলি বহিপীরের কাছে কোন সত্য গোপন করেছিলেন বলে স্বীকার করেন?
- ক. তিনি ধনী নন
- খ. তার ছেলে বিদ্রোহী
- গ. অসুস্থ নন, জমিদারি রক্ষার জন্য অর্থ সংগ্রহ করতে এসেছিলেন
- ঘ. তিনি আগে থেকেই বহিপীরকে চেনেন
উত্তর: গ। হাতেম আলি স্বীকার করেন তিনি অসুস্থ নন, বরং জমিদারি বাঁচানোর জন্য অর্থ সংগ্রহে শহরে এসেছিলেন, কিন্তু বিষয়টি পরিবারের কাছে গোপন রেখেছিলেন।
২৮। হাতেম আলির জমিদারি কোন আইনে নিলামে উঠতে বসেছে?
- ক. ভূমি সংস্কার আইনে
- খ. কর আইনে
- গ. উত্তরাধিকার আইনে
- ঘ. সান্ধ্য/সূর্যাস্ত আইনে
উত্তর: ঘ। খাজনা বাকি পড়ার কারণে তাঁর জমিদারি সান্ধ্য (সূর্যাস্ত) আইনে নিলামে উঠতে বসেছে, পরদিনই নিলাম।
২৯। হাতেম আলি অর্থ সাহায্যের জন্য কার কাছে গিয়েছিলেন?
- ক. স্থানীয় ব্যাংকে
- খ. তার বাল্যবন্ধু আনোয়ারউদ্দিনের কাছে
- গ. সরকারের কাছে
- ঘ. আত্মীয়ের কাছে
উত্তর: খ। তিনি তার বাল্যবন্ধু আনোয়ারউদ্দিনের কাছে গিয়েছিলেন, কিন্তু আনোয়ারউদ্দিন সাহায্য করতে অস্বীকার করেন।
৩০। হাতেম আলির ছেলে হাশেম কী কেনার স্বপ্ন দেখছিল, যা এই সংকটে ভেঙে যাওয়ার আশঙ্কা দেখা দেয়?
- ক. একটি বাড়ি
- খ. একটি দোকান
- গ. একটি ছাপাখানা (প্রেস)
- ঘ. একটি নৌকা
উত্তর: গ। হাশেম একটি ছাপাখানা কেনার স্বপ্ন দেখছিল, জমিদারি হারানোর সংকটে সেই স্বপ্নও ভাঙতে বসেছে।
৩১। বহিপীর হাতেম আলির দুঃখের সময়ে কোন গুরুত্বপূর্ণ তথ্য প্রকাশ করেন?
- ক. তিনি চলে যাবেন
- খ. তিনি জমিদারি কিনে নিতে চান
- গ. তিনি হাতেম আলিকে অর্থ দেবেন
- ঘ. তাঁর বিবাহিত স্ত্রী তাহেরাই এই বজরায় লুকিয়ে আছেন
উত্তর: ঘ। বহিপীর প্রকাশ করেন গত জুম্মা রাতে তাহেরার সাথে তাঁর বিয়ে হয়েছে, এবং হাতেম আলির বজরাতেই তাহেরা লুকিয়ে আছেন বলে তিনি নিশ্চিত।
৩২। বহিপীরের প্রথম স্ত্রীর মৃত্যু কত বছর আগে হয় বলে তিনি জানান?
- ক. বিশ বছর
- খ. পাঁচ বছর
- গ. চৌদ্দ বছর
- ঘ. দশ বছর
উত্তর: গ। বহিপীর বলেন, তাঁর প্রথম স্ত্রীর ইন্তেকাল হয় চৌদ্দ বছর আগে।
৩৩। বহিপীর নিজেকে বিয়ের জন্য কেন যুক্তিসংগত মনে করেন?
- ক. এটি একটি ধর্মীয় বাধ্যবাধকতা বলে
- খ. তিনি একা বোধ করছিলেন বলে
- গ. বয়স হয়েছে, খেদমতের জন্য আপন লোকের প্রয়োজন বলে
- ঘ. তাহেরার পরিবার তাকে চাপ দিয়েছিল বলে
উত্তর: গ। বহিপীর বলেন, বয়স হয়েছে, দেখাশোনা ও খেদমতের জন্য একজন আপন লোকের প্রয়োজন— এই যুক্তিতে তিনি বিয়েতে রাজি হন।
৩৪। তাহেরার বিয়ের ব্যবস্থা মূলত কে করেছিলেন?
- ক. তাহেরার পিতা, বহিপীরের পেয়ারা মুরিদ
- খ. খোদেজা
- গ. বহিপীর নিজে
- ঘ. হাতেম আলি
উত্তর: ক। তাহেরার পিতা, যিনি বহিপীরের পেয়ারা মুরিদ, তিনিই হাউস করে এই বিয়ের ব্যবস্থা করেছিলেন।
৩৫। বিয়ের রাতেই কী ঘটে যায়?
- ক. তাহেরার পিতা মারা যান
- খ. তাহেরা এক নাবালেগ চাচাতো ভাইকে নিয়ে পালিয়ে যান
- গ. অনুষ্ঠান বাতিল হয়
- ঘ. বহিপীর অসুস্থ হয়ে পড়েন
উত্তর: খ। বিয়ের রাতেই তাহেরা এক নাবালেগ চাচাতো ভাইকে সঙ্গে নিয়ে বাড়ি ছেড়ে পালিয়ে যান।
৩৬। বহিপীর তাহেরার পিতাকে পুলিশে খবর দিতে কেন নিষেধ করেন?
- ক. তিনি নিজেই তাহেরাকে ফিরে পাবেন বলে নিশ্চিত ছিলেন
- খ. পুলিশের ওপর আস্থা নেই বলে
- গ. জানাজানি হওয়ার আশঙ্কায়
- ঘ. এটি অপ্রয়োজনীয় খরচ বলে
উত্তর: গ। বহিপীর পুলিশে খবর দিতে নিষেধ করেন, কারণ পুলিশ নিয়ে ঘাঁটাঘাঁটি করলে জানাজানি হওয়ার সম্ভাবনা, যা তিনি চাননি।
৩৭। বহিপীর কেন তাহেরার পরিচয় প্রথমে নিশ্চিত হতে চান, সরাসরি দাবি না করে?
- ক. তিনি তাহেরার প্রতি সহানুভূতিশীল বলে
- খ. তিনি সময় নষ্ট করতে চান না বলে
- গ. তিনি নিশ্চিত নন যে তাহেরা এখানে আছে
- ঘ. প্রমাণ ছাড়া তাহেরা ফাঁকি দিতে পারে বলে সতর্ক থাকেন
উত্তর: ঘ। বহিপীর অত্যন্ত হিসেবি ও সতর্ক— তিনি জানেন প্রমাণ ছাড়া দাবি করলে তাহেরা ফাঁকি দেওয়ার ফন্দি খুঁজতে পারে, তাই আগে নিশ্চিত হতে চান।
৩৮। বহিপীর হাশেমকে কী দায়িত্ব দেন?
- ক. তাহেরাকে সাবধান করতে
- খ. তাহেরাকে সরাসরি জিজ্ঞাসাবাদ করতে
- গ. জমিদারের কাছে অভিযোগ জানাতে
- ঘ. কথায় কথায় তাহেরার পরিচয় জেনে নিতে, উদ্দেশ্য প্রকাশ না করে
উত্তর: ঘ। বহিপীর হাশেমকে বলেন কথায় কথায় তাহেরার পরিচয় জেনে নিতে, কিন্তু নিজের প্রকৃত উদ্দেশ্য যেন প্রকাশ না পায়।
৩৯। হাশেম তাহেরার ঘরে গিয়ে কী সিদ্ধান্তে পৌঁছায়?
- ক. বুঝতে পারে বহিপীর পরিচয় জানেন না, তাই গোপন রাখার প্রস্তাব দেয়
- খ. সে কোনো সিদ্ধান্ত নিতে পারে না
- গ. সে তাহেরাকে ফিরিয়ে দেওয়ার পরামর্শ দেয়
- ঘ. তাহেরার পরিচয় জেনে বহিপীরকে জানাবে
উত্তর: ক। হাশেম বুঝতে পারে বহিপীর তাহেরার সঠিক পরিচয় (নাম, ঠিকানা) জানেন না, তাই সে খোদেজাকে পরিচয় গোপন রাখার অনুমতি চায়।
৪০। খোদেজা হাশেমের এই প্রস্তাবে কী প্রতিক্রিয়া দেখান?
- ক. তিনি হাশেমকে সমর্থন করেন
- খ. তিনি নীরব থাকেন
- গ. তিনি হতবাক হয়ে জিজ্ঞেস করেন হাশেমের মাথা খারাপ হয়েছে কিনা
- ঘ. তিনি রাজি হন
উত্তর: গ। খোদেজা হতবাক হয়ে জিজ্ঞেস করেন, ‘তোর কি মাথা খারাপ হলো নাকি? এই মেয়েটা তোর মাথা খেলো নাকি?’
৪১। হাশেম শেষ পর্যন্ত তাহেরার জন্য কী চরম প্রতিশ্রুতি দেয়?
- ক. সে তাকে বাড়ি পাঠাবে
- খ. তাকে বিয়ে করে হলেও বাঁচাবে
- গ. সে তার জন্য অর্থ দেবে
- ঘ. সে তাকে শহরে পাঠাবে
উত্তর: খ। হাশেম দৃঢ়ভাবে বলে, সে তাহেরাকে বিয়ে করে হলেও বাঁচাবে— একটি অত্যন্ত সাহসী ও তাৎপর্যপূর্ণ ঘোষণা, যা তার প্রকৃত অনুভূতির প্রথম প্রকাশ।
৪২। খোদেজা কেন হাশেমের অনুরোধ প্রত্যাখ্যান করে বহিপীরকে সত্য জানিয়ে দেন?
- ক. পীরের বদদোয়ার ভয়ে ও এটি ন্যায্য বিয়ে মনে করে
- খ. হাতেম আলির নির্দেশে
- গ. তিনি হাশেমের ওপর রাগান্বিত বলে
- ঘ. তিনি তাহেরাকে অপছন্দ করেন বলে
উত্তর: ক। খোদেজা পীরের বদদোয়ার ভয়ে এবং এই বিয়েকে ধর্মমতে ন্যায্য মনে করে বহিপীরকে জানিয়ে দেন যে তাঁর বিবি (তাহেরা) তাঁর সঙ্গেই আছেন।
৪৩। প্রথম অঙ্কের শেষ পঙক্তিতে বহিপীর কী বলে ওঠেন?
- ক. তিনি রেগে যান
- খ. তিনি নীরব থাকেন
- গ. তিনি হাতেম আলিকে ধন্যবাদ জানান
- ঘ. ‘শোকর আলহামদুলিল্লাহ!’
উত্তর: ঘ। খোদেজার প্রকাশের পর বহিপীর আনন্দে বলে ওঠেন, ‘শোকর আলহামদুলিল্লাহ্!’
৪৪। প্রথম অঙ্কের শেষ দৃশ্যে অন্যান্য চরিত্রদের প্রতিক্রিয়া কেমন?
- ক. সবাই আনন্দিত
- খ. তাহেরা স্তব্ধ, হাশেম বিস্মিত, হাতেম আলি নিস্তেজ হয়ে মেঝের দিকে তাকান
- গ. কোনো প্রতিক্রিয়া বর্ণিত হয়নি
- ঘ. সবাই স্বস্তি পায়
উত্তর: খ। তাহেরা মূর্তির মতো স্তব্ধ, হাশেম বিস্ময়াভিভূত, হাতেম আলি নিস্তেজভাবে মেঝের দিকে তাকিয়ে থাকেন— এক নাটকীয়, উদ্বেগপূর্ণ মুহূর্তে অঙ্কের সমাপ্তি।
৪৬। বহিপীর চরিত্রের ধূর্ততা প্রথম অঙ্কে কীভাবে প্রকাশ পায়?
- ক. তিনি হাতেম আলিকে হুমকি দেন
- খ. সতর্কভাবে প্রমাণ যাচাই করেন, গোপনে তথ্য সংগ্রহ করান
- গ. তিনি পুলিশ ডাকেন
- ঘ. তিনি সরাসরি তাহেরাকে দাবি করেন
উত্তর: খ। বহিপীর তাড়াহুড়ো না করে সতর্কভাবে প্রমাণ যাচাই করেন, হাশেমকে দিয়ে গোপনে তথ্য সংগ্রহ করান এবং নিজের প্রকৃত কৌশল প্রকাশ করেন না— তাঁর ধূর্ত, হিসেবি চরিত্রের প্রথম স্পষ্ট প্রকাশ এটি।
৪৭। হাতেম আলির চরিত্রের কোন দিক প্রথম অঙ্কে ফুটে ওঠে?
- ক. তাঁর উদাসীনতা
- খ. তাঁর লোভ
- গ. তাঁর নিষ্ঠুরতা
- ঘ. তাঁর আত্মমর্যাদা ও পরিবারের প্রতি দায়িত্ববোধ
উত্তর: ঘ। হাতেম আলির আত্মমর্যাদা (মিথ্যা বলার জন্য অনুতাপ), পরিবারের প্রতি গভীর দায়িত্ববোধ এবং সংকটেও নিজের কষ্ট গোপন রাখার চেষ্টা তাঁর চরিত্রের একটি গুরুত্বপূর্ণ দিক প্রকাশ করে।
৪৮। প্রথম অঙ্কের নাটকীয় কাঠামো (Exposition/মুখ) হিসেবে এর ভূমিকা কী?
- ক. এটি একটি অপ্রয়োজনীয় ভূমিকা মাত্র
- খ. এটি শুধু হাস্যরসাত্মক অংশ
- গ. এটি নাটকের চূড়ান্ত পরিণতি
- ঘ. এটি নাটকের মূল চরিত্র ও দ্বন্দ্ব পাঠকের সামনে উপস্থাপন করে
উত্তর: ঘ। নাটকতত্ত্বের ‘মুখ’ (Exposition) পর্বের মতোই প্রথম অঙ্ক নাটকের সব মূল চরিত্র (বহিপীর, তাহেরা, হাশেম, হাতেম আলি, খোদেজা), তাদের সম্পর্ক ও মূল দ্বন্দ্বের (তাহেরাকে ফিরে পাওয়ার লড়াই) প্রেক্ষাপট পাঠকের সামনে কার্যকরভাবে উপস্থাপন করে।
সংক্ষেপে মনে রাখার মূল বিষয় (প্রথম অঙ্ক)
দৃশ্যপট
হেমন্তের সকাল, হাতেম আলি জমিদারের শহরগামী বজরা, দু-কামরাবিশিষ্ট।
প্রথম অঙ্কের ঘটনাক্রম
- আগের রাতের ঝড়ের কথা, ডেমরার ঘাট থেকে তাহেরাকে তুলে নেওয়ার পটভূমি বর্ণনা; তাহেরার সাহসিকতা ও তার নিরানন্দ মনের প্রতীকী প্রকাশ (‘নদীতে খালি কচুরিপানা’)।
- তাহেরার নিজের পরিচয় ও জোরপূর্বক বিয়ের কথা প্রকাশ, নিজেকে ‘বকরি-ঈদের গরু-ছাগল’ বলে ক্ষোভ প্রকাশ।
- বহিপীরের নৌকা দুর্ঘটনায় পড়ে হাতেম আলির বজরায় আশ্রয় নেওয়া, নিজের নামের ব্যাখ্যা (কেতাবি ভাষায় কথা বলা)।
- খোলা দরজা দিয়ে তাহেরা বহিপীরকে চিনে ফেলা, আতঙ্কে পানিতে ঝাঁপ দেওয়ার হুমকি, হাশেমের রক্ষার প্রতিশ্রুতি।
- হাতেম আলির জমিদারি হারানোর গোপন সংকট প্রকাশ, বহিপীরের কাছে সাহায্যপ্রার্থনা।
- বহিপীর কর্তৃক তাহেরার সাথে নিজের বিয়ের ও সেই রাতে পালিয়ে যাওয়ার ঘটনা প্রকাশ, হাতেম আলির জড়িত থাকার কথা জানানো।
- বহিপীরের সতর্ক তথ্য-যাচাই, হাশেমকে দিয়ে গোপনে পরিচয় জানার চেষ্টা।
- হাশেমের তাহেরাকে বাঁচানোর দৃঢ় প্রতিজ্ঞা (এমনকি বিয়ে করে হলেও), কিন্তু খোদেজা ধর্মীয় ভয়ে সত্য প্রকাশ করে দেন— নাটকীয় উত্তেজনাপূর্ণ সমাপ্তি।
মূল ভাব/তাৎপর্য
প্রথম অঙ্ক নাটকের মূল দ্বন্দ্বের ভিত্তি স্থাপন করে— ধর্মীয় কুসংস্কার ও ক্ষমতার অপব্যবহার (বহিপীর, খোদেজার ভীতি) বনাম মানবিকতা ও ন্যায়বোধের (হাশেম, তাহেরার প্রতিরোধ) দ্বন্দ্ব, যা পরবর্তী অঙ্কে আরও তীব্র হয়ে উঠবে।
গুরুত্বপূর্ণ মুহূর্ত
তাহেরার ‘আমি কি বকরি-ঈদের গরু ছাগল নাকি?’; হাশেমের ‘তাঁকে বিয়ে করে হলেও বাঁচাব’; বহিপীরের ‘শোকর আলহামদুলিল্লাহ্!’ দিয়ে অঙ্কের সমাপ্তি।
দ্বিতীয় অঙ্ক, প্রথমাংশ
দ্বিতীয় অঙ্কের এই প্রথমাংশে রাতের অন্ধকারে বজরায় উত্তেজনা চরমে ওঠে— তাহেরার আত্মহত্যার চেষ্টা, হাশেমের প্রকাশ্য বিয়ের প্রস্তাব, হাতেম আলির জমিদারি হারানোর কথা প্রকাশ এবং সবশেষে বহিপীরের এক ধূর্ত কৌশল— হাতেম আলিকে ঋণ দেওয়ার বিনিময়ে তাহেরাকে ফিরে পাওয়ার প্রস্তাব। নিচের প্রশ্নগুলো এই অংশের প্রতিটি ভাগ ধরে সাজানো, শেষে সংক্ষিপ্তসারও দেওয়া আছে।
—
**১। দ্বিতীয় অঙ্কের দৃশ্যপট কখন?**
ক. সন্ধ্যার প্রাক্কালে খ. দিনের বেলা গ. ভোরবেলা ঘ. রাতের অন্ধকারে, আকাশে ছিটেফোঁটা তারা
**উত্তর: ঘ।** দ্বিতীয় অঙ্ক শুরু হয় রাতের অন্ধকারে, স্টেজ পূর্ববৎ থাকলেও বজরা ছাড়া সবকিছু অন্ধকারে ঢাকা।
**২। হাতেম আলি সারাদিন কার আশায় বসেছিলেন?**
ক. তাঁর ছেলের খ. তাঁর বাল্যবন্ধু আনোয়ারের গ. পীরসাহেবের ঘ. পুলিশের
**উত্তর: খ।** হাতেম আলি সারা বিকাল ও সন্ধ্যা কাটিয়েছেন এই আশায় যে বাল্যবন্ধু আনোয়ার এসে তাকে সাহায্য করবেন, কিন্তু তিনি আসেননি।
**৩। বহিপীর হাতেম আলির বিলাপের জবাবে কী দার্শনিক মন্তব্য করেন?**
ক. খোদাই রিজিকদাতা, কেউ কখনো একেবারে নিঃস্ব হয় না খ. জমিদারি ফিরে আসবে গ. বিলাপ করলে সমস্যার সমাধান হয় ঘ. তিনি সাহায্য করবেন
**উত্তর: ক।** বহিপীর বলেন, খোদাই রিজিকদাতা, কেউ কখনো একেবারে নিঃস্ব হয় না।
**৪। হাতেম আলি বহিপীরকে কী বলে খোঁচা দেন?**
ক. এক বিবি গেলে আরেক আনা যায়, কিন্তু জমিদারি গেলে ফিরবে না খ. তাঁর বয়স নিয়ে গ. তাঁর ধর্মচর্চা নিয়ে ঘ. তাঁর পোশাক নিয়ে
**উত্তর: ক।** হাতেম আলি রুক্ষভাবে বলেন, বহিপীর এক বিবি হারালে আরেক বিবি আনতে পারেন, কিন্তু জমিদারি একবার গেলে আর ফিরবে না।
**৫। হাশেম তার ভূমিকাকে কীসের সাথে তুলনা করে ক্লান্তি প্রকাশ করে?**
ক. একজন শিক্ষকের সাথে খ. একজন ব্যবসায়ীর সাথে গ. একজন বিচারকের সাথে ঘ. দুই শত্রু-শিবিরের মধ্যে বার্তাবাহকের সাথে
**উত্তর: ঘ।** হাশেম নিজেকে যুদ্ধক্ষেত্রে দুই শত্রু-শিবিরের মধ্যে বার্তাবাহকের সাথে তুলনা করে ক্লান্তি প্রকাশ করে।
**৬। বহিপীরের আচরণকে হাশেম কোন প্রাণীর সাথে তুলনা করে?**
ক. শেয়ালের সাথে খ. বাঘের সাথে গ. সাপের সাথে ঘ. ধৈর্যশীল বিড়ালের সাথে, যে ইঁদুরের জন্য অপেক্ষা করে
**উত্তর: ঘ।** হাশেম বলে, বহিপীরের সংযত আচরণ বিড়ালের মতো, যে ইঁদুরকে খাবার নিচে পেয়ে সংযত থাকে।
**৭। তাহেরা বহিপীরকে ‘বিবি সাহেব’ ডাকায় কী প্রতিক্রিয়া দেখায়?**
ক. সে ক্ষমা চায় খ. উচ্চস্বরে প্রতিবাদ করে, বলে বিয়েতে সে মত দেয়নি গ. সে হাসে ঘ. সে চুপ থাকে
**উত্তর: খ।** তাহেরা উচ্চস্বরে বাধা দিয়ে বলে তাকে ‘বিবি সাহেব’ ডাকা যাবে না, কারণ বিয়েতে সে মত দেয়নি।
**৮। তাহেরার প্রত্যাখ্যানে বহিপীর কী চরম সিদ্ধান্ত নেন?**
ক. তিনি চুপ করে থাকেন খ. রাগে আত্মহারা হয়ে হকিকুল্লাহকে পুলিশ ডাকতে পাঠান গ. তিনি চলে যান ঘ. তিনি ক্ষমা করে দেন
**উত্তর: খ।** রাগে আত্মহারা হয়ে বহিপীর হকিকুল্লাহকে পুলিশ ডাকতে পাঠান।
**৯। পুলিশ ডাকার হুমকিতে তাহেরা কী করে?**
ক. দ্রুতগতিতে জানালার দিকে গিয়ে পানিতে ঝাঁপ দিতে যায় খ. সে কাঁদতে শুরু করে গ. সে ভয় পেয়ে রাজি হয় ঘ. সে চুপ করে বসে থাকে
**উত্তর: ক।** তাহেরা দ্রুতগতিতে জানালার দিকে ছুটে গিয়ে জানালা দিয়ে গলা বের করে দেয়, আত্মহত্যার চেষ্টা করে।
**১০। কে এসে তাহেরাকে সম্পূর্ণভাবে নিরাপদে টেনে আনে?**
ক. হকিকুল্লাহ খ. হাশেম, হ্যাঁচকা টান দিয়ে গ. বহিপীর ঘ. হাতেম আলি
**উত্তর: খ।** হাশেম দ্রুত পীরসাহেবকে ডিঙিয়ে গিয়ে তাহেরার হাত ধরে হ্যাঁচকা টান দিয়ে তাকে ভেতরে নিয়ে আসে।
**১১। তাহেরা পরে ব্যাখ্যা করে তার আত্মহত্যার হুমকি সম্পর্কে কী বলে?**
ক. জান দেওয়া সোজা নয়, শুধু ভয় দেখাতে চেয়েছিল খ. সে সত্যিই মরতে চেয়েছিল গ. সে ভয় পেয়ে এমন করেছিল ঘ. এটি একটি ভুল ছিল
**উত্তর: ক।** তাহেরা বলে, ‘নিজের জান দেওয়া কি অতই সোজা?’— ইঙ্গিত দেয় তার আচরণ কৌশলগত ছিল।
**১২। হাশেম প্রকাশ্যে খোদেজার সামনে কী ঘোষণা দেয়?**
ক. সে তাহেরাকে ছেড়ে দেবে খ. সে পীরসাহেবের পক্ষ নেবে গ. সে বাড়ি ছেড়ে চলে যাবে ঘ. তাহেরার যদি মত থাকে, তবে সে তাকে বিয়ে করবে
**উত্তর: ঘ।** হাশেম স্পষ্টভাবে ঘোষণা দেয়, তাহেরার যদি মত থাকে তবে সে তাকে বিয়ে করবে।
**১৩। খোদেজা এই ঘোষণায় কী প্রতিক্রিয়া দেখান?**
ক. তিনি নীরব থাকেন খ. তিনি সমর্থন করেন গ. তিনি খুশি হন ঘ. হতবাক হয়ে ‘খাল কেটে কুমির এনেছি’ বলে হাশেমকে বের হতে বলেন
**উত্তর: ঘ।** খোদেজা হতবাক হয়ে বলেন তিনি ‘খাল কেটে ঘরে কুমির এনেছেন’।
**১৪। তাহেরা হাশেমের বিয়ের প্রস্তাবে কী প্রতিক্রিয়া দেখায়?**
ক. প্রশ্ন তোলে এই ধারণা কোথা থেকে এলো, সন্দেহ প্রকাশ করে খ. সে তৎক্ষণাৎ রাজি হয়ে যায় গ. সে ক্ষুব্ধ হয় ঘ. সে কোনো প্রতিক্রিয়া দেখায় না
**উত্তর: ক।** তাহেরা প্রশ্ন তোলে হাশেম কীভাবে ধরে নিলেন তার মত থাকবে, এবং সতর্ক করে দেয় যে ঝোঁকের মাথায় নেওয়া সিদ্ধান্ত পরে বদলাতে পারে।
**১৫। হাতেম আলি অবশেষে হাশেমকে কোন গুরুত্বপূর্ণ সত্য জানান?**
ক. তিনি অবসর নিতে চান খ. আগামীকাল তাদের জমিদারি নিলামে উঠবে গ. তিনি অসুস্থ ঘ. তিনি পীরসাহেবকে অবিশ্বাস করেন
**উত্তর: খ।** হাতেম আলি জানান, আগামীকাল তাদের জমিদারি নিলামে উঠবে, তিনি টাকা জোগাড় করতে ব্যর্থ হয়েছেন।
**১৬। এই খবরে হাশেমের প্রতিক্রিয়া কী হয়?**
ক. সে ক্রুদ্ধ হয় খ. সে বাবাকে দোষারোপ করে গ. সে উদাসীন থাকে ঘ. সে কাঁদতে শুরু করে, বাবার কষ্টের কথা ভেবে
**উত্তর: ঘ।** হাশেম কাঁদতে শুরু করে, বলে জমিদারি হারানোর জন্য নয়, বাবার নীরব কষ্টের কথা ভেবেই তার কান্না আসে।
**১৭। হাশেম নিজে জমিদারি হারানো নিয়ে কী মনোভাব প্রকাশ করে?**
ক. সে প্রতিশোধ নিতে চায় খ. সে বিদেশে চলে যেতে চায় গ. তার কিছু আসে যায় না, পড়াশোনা করে কিছু একটা করে খেতে পারবে ঘ. সে গভীরভাবে চিন্তিত
**উত্তর: গ।** হাশেম বলে জমিদারি থাক বা না থাক তার কিছু আসে যায় না, পড়াশোনা করেছে বলে সে কিছু একটা করে খেতে পারবে।
**১৮। এই সংকটময় মুহূর্তে বহিপীর হাতেম আলিকে কী চমকপ্রদ প্রস্তাব দেন?**
ক. তিনি জমিদারি কিনে নিতে চান খ. তিনি হাতেম আলিকে ছেড়ে চলে যান গ. তিনি সাহায্যের জন্য প্রার্থনা করতে বলেন ঘ. তিনি হাতেম আলিকে টাকা ঋণ দেবেন, যাতে জমিদারি রক্ষা পায়
**উত্তর: ঘ।** বহিপীর ঘোষণা করেন, ‘আপনার জমিদারি যাইবে না’— কারণ তিনি হাতেম আলিকে টাকা ঋণ দেবেন।
**১৯। বহিপীর তাহেরার মনস্তত্ত্ব সম্পর্কে কী বিশ্লেষণ দেন?**
ক. তার কোনো বিশেষ মনস্তত্ত্ব নেই খ. সে বিশ্বাসঘাতক গ. সে একগুঁয়ে ও অবাধ্য ঘ. সে কখনো প্রকৃত স্নেহ পায়নি, স্নেহ পেলেই তার কৃতজ্ঞতা জাগবে
**উত্তর: ঘ।** বহিপীর ধূর্তভাবে বিশ্লেষণ করেন, তাহেরা কখনো প্রকৃত স্নেহ-মমতা পায়নি, তাই সামান্য স্নেহের আভাসেই তার কৃতজ্ঞতা নেশার মতো জেগে উঠবে।
**২০। বহিপীরের এই কৌশলের প্রকৃত উদ্দেশ্য কী?**
ক. তাহেরাকে শাস্তি দেওয়া খ. হাতেম আলিকে সাহায্য করা গ. হাতেম আলি পরিবারকে ব্যবহার করে তাহেরার কৃতজ্ঞতা অর্জন করা ঘ. জমিদারি দখল করা
**উত্তর: গ।** বহিপীরের প্রকৃত উদ্দেশ্য হলো হাতেম আলি পরিবারকে সাহায্য করে তাহেরার কৃতজ্ঞতা অর্জন করা, যাতে তারাই তাহেরাকে রাজি করাতে সাহায্য করে।
১। দ্বিতীয় অঙ্কের দৃশ্যপট কখন?
- ক. সন্ধ্যার প্রাক্কালে
- খ. দিনের বেলা
- গ. ভোরবেলা
- ঘ. রাতের অন্ধকারে, আকাশে ছিটেফোঁটা তারা
উত্তর: ঘ। দ্বিতীয় অঙ্ক শুরু হয় রাতের অন্ধকারে, স্টেজ পূর্ববৎ থাকলেও বজরা ছাড়া সবকিছু অন্ধকারে ঢাকা।
২। হাতেম আলি সারাদিন কার আশায় বসেছিলেন?
- ক. তাঁর ছেলের
- খ. তাঁর বাল্যবন্ধু আনোয়ারের
- গ. পীরসাহেবের
- ঘ. পুলিশের
উত্তর: খ। হাতেম আলি সারা বিকাল ও সন্ধ্যা কাটিয়েছেন এই আশায় যে বাল্যবন্ধু আনোয়ার এসে তাকে সাহায্য করবেন, কিন্তু তিনি আসেননি।
৩। বহিপীর হাতেম আলির বিলাপের জবাবে কী দার্শনিক মন্তব্য করেন?
- ক. খোদাই রিজিকদাতা, কেউ কখনো একেবারে নিঃস্ব হয় না
- খ. জমিদারি ফিরে আসবে
- গ. বিলাপ করলে সমস্যার সমাধান হয়
- ঘ. তিনি সাহায্য করবেন
উত্তর: ক। বহিপীর বলেন, খোদাই রিজিকদাতা, কেউ কখনো একেবারে নিঃস্ব হয় না।
৪। হাতেম আলি বহিপীরকে কী বলে খোঁচা দেন?
- ক. এক বিবি গেলে আরেক আনা যায়, কিন্তু জমিদারি গেলে ফিরবে না
- খ. তাঁর বয়স নিয়ে
- গ. তাঁর ধর্মচর্চা নিয়ে
- ঘ. তাঁর পোশাক নিয়ে
উত্তর: ক। হাতেম আলি রুক্ষভাবে বলেন, বহিপীর এক বিবি হারালে আরেক বিবি আনতে পারেন, কিন্তু জমিদারি একবার গেলে আর ফিরবে না।
৫। হাশেম তার ভূমিকাকে কীসের সাথে তুলনা করে ক্লান্তি প্রকাশ করে?
- ক. একজন শিক্ষকের সাথে
- খ. একজন ব্যবসায়ীর সাথে
- গ. একজন বিচারকের সাথে
- ঘ. দুই শত্রু-শিবিরের মধ্যে বার্তাবাহকের সাথে
উত্তর: ঘ। হাশেম নিজেকে যুদ্ধক্ষেত্রে দুই শত্রু-শিবিরের মধ্যে বার্তাবাহকের সাথে তুলনা করে ক্লান্তি প্রকাশ করে।
৬। বহিপীরের আচরণকে হাশেম কোন প্রাণীর সাথে তুলনা করে?
- ক. শেয়ালের সাথে
- খ. বাঘের সাথে
- গ. সাপের সাথে
- ঘ. ধৈর্যশীল বিড়ালের সাথে, যে ইঁদুরের জন্য অপেক্ষা করে
উত্তর: ঘ। হাশেম বলে, বহিপীরের সংযত আচরণ বিড়ালের মতো, যে ইঁদুরকে খাবার নিচে পেয়ে সংযত থাকে।
৭। তাহেরা বহিপীরকে ‘বিবি সাহেব’ ডাকায় কী প্রতিক্রিয়া দেখায়?
- ক. সে ক্ষমা চায়
- খ. উচ্চস্বরে প্রতিবাদ করে, বলে বিয়েতে সে মত দেয়নি
- গ. সে হাসে
- ঘ. সে চুপ থাকে
উত্তর: খ। তাহেরা উচ্চস্বরে বাধা দিয়ে বলে তাকে ‘বিবি সাহেব’ ডাকা যাবে না, কারণ বিয়েতে সে মত দেয়নি।
৮। তাহেরার প্রত্যাখ্যানে বহিপীর কী চরম সিদ্ধান্ত নেন?
- ক. তিনি চুপ করে থাকেন
- খ. রাগে আত্মহারা হয়ে হকিকুল্লাহকে পুলিশ ডাকতে পাঠান
- গ. তিনি চলে যান
- ঘ. তিনি ক্ষমা করে দেন
উত্তর: খ। রাগে আত্মহারা হয়ে বহিপীর হকিকুল্লাহকে পুলিশ ডাকতে পাঠান।
৯। পুলিশ ডাকার হুমকিতে তাহেরা কী করে?
- ক. দ্রুতগতিতে জানালার দিকে গিয়ে পানিতে ঝাঁপ দিতে যায়
- খ. সে কাঁদতে শুরু করে
- গ. সে ভয় পেয়ে রাজি হয়
- ঘ. সে চুপ করে বসে থাকে
উত্তর: ক। তাহেরা দ্রুতগতিতে জানালার দিকে ছুটে গিয়ে জানালা দিয়ে গলা বের করে দেয়, আত্মহত্যার চেষ্টা করে।
১০। কে এসে তাহেরাকে সম্পূর্ণভাবে নিরাপদে টেনে আনে?
- ক. হকিকুল্লাহ
- খ. হাশেম, হ্যাঁচকা টান দিয়ে
- গ. বহিপীর
- ঘ. হাতেম আলি
উত্তর: খ। হাশেম দ্রুত পীরসাহেবকে ডিঙিয়ে গিয়ে তাহেরার হাত ধরে হ্যাঁচকা টান দিয়ে তাকে ভেতরে নিয়ে আসে।
১১। তাহেরা পরে ব্যাখ্যা করে তার আত্মহত্যার হুমকি সম্পর্কে কী বলে?
- ক. জান দেওয়া সোজা নয়, শুধু ভয় দেখাতে চেয়েছিল
- খ. সে সত্যিই মরতে চেয়েছিল
- গ. সে ভয় পেয়ে এমন করেছিল
- ঘ. এটি একটি ভুল ছিল
উত্তর: ক। তাহেরা বলে, ‘নিজের জান দেওয়া কি অতই সোজা?’— ইঙ্গিত দেয় তার আচরণ কৌশলগত ছিল।
১২। হাশেম প্রকাশ্যে খোদেজার সামনে কী ঘোষণা দেয়?
- ক. সে তাহেরাকে ছেড়ে দেবে
- খ. সে পীরসাহেবের পক্ষ নেবে
- গ. সে বাড়ি ছেড়ে চলে যাবে
- ঘ. তাহেরার যদি মত থাকে, তবে সে তাকে বিয়ে করবে
উত্তর: ঘ। হাশেম স্পষ্টভাবে ঘোষণা দেয়, তাহেরার যদি মত থাকে তবে সে তাকে বিয়ে করবে।
১৩। খোদেজা এই ঘোষণায় কী প্রতিক্রিয়া দেখান?
- ক. তিনি নীরব থাকেন
- খ. তিনি সমর্থন করেন
- গ. তিনি খুশি হন
- ঘ. হতবাক হয়ে ‘খাল কেটে কুমির এনেছি’ বলে হাশেমকে বের হতে বলেন
উত্তর: ঘ। খোদেজা হতবাক হয়ে বলেন তিনি ‘খাল কেটে ঘরে কুমির এনেছেন’।
১৪। তাহেরা হাশেমের বিয়ের প্রস্তাবে কী প্রতিক্রিয়া দেখায়?
- ক. প্রশ্ন তোলে এই ধারণা কোথা থেকে এলো, সন্দেহ প্রকাশ করে
- খ. সে তৎক্ষণাৎ রাজি হয়ে যায়
- গ. সে ক্ষুব্ধ হয়
- ঘ. সে কোনো প্রতিক্রিয়া দেখায় না
উত্তর: ক। তাহেরা প্রশ্ন তোলে হাশেম কীভাবে ধরে নিলেন তার মত থাকবে, এবং সতর্ক করে দেয় যে ঝোঁকের মাথায় নেওয়া সিদ্ধান্ত পরে বদলাতে পারে।
১৫। হাতেম আলি অবশেষে হাশেমকে কোন গুরুত্বপূর্ণ সত্য জানান?
- ক. তিনি অবসর নিতে চান
- খ. আগামীকাল তাদের জমিদারি নিলামে উঠবে
- গ. তিনি অসুস্থ
- ঘ. তিনি পীরসাহেবকে অবিশ্বাস করেন
উত্তর: খ। হাতেম আলি জানান, আগামীকাল তাদের জমিদারি নিলামে উঠবে, তিনি টাকা জোগাড় করতে ব্যর্থ হয়েছেন।
১৬। এই খবরে হাশেমের প্রতিক্রিয়া কী হয়?
- ক. সে ক্রুদ্ধ হয়
- খ. সে বাবাকে দোষারোপ করে
- গ. সে উদাসীন থাকে
- ঘ. সে কাঁদতে শুরু করে, বাবার কষ্টের কথা ভেবে
উত্তর: ঘ। হাশেম কাঁদতে শুরু করে, বলে জমিদারি হারানোর জন্য নয়, বাবার নীরব কষ্টের কথা ভেবেই তার কান্না আসে।
১৭। হাশেম নিজে জমিদারি হারানো নিয়ে কী মনোভাব প্রকাশ করে?
- ক. সে প্রতিশোধ নিতে চায়
- খ. সে বিদেশে চলে যেতে চায়
- গ. তার কিছু আসে যায় না, পড়াশোনা করে কিছু একটা করে খেতে পারবে
- ঘ. সে গভীরভাবে চিন্তিত
উত্তর: গ। হাশেম বলে জমিদারি থাক বা না থাক তার কিছু আসে যায় না, পড়াশোনা করেছে বলে সে কিছু একটা করে খেতে পারবে।
১৮। এই সংকটময় মুহূর্তে বহিপীর হাতেম আলিকে কী চমকপ্রদ প্রস্তাব দেন?
- ক. তিনি জমিদারি কিনে নিতে চান
- খ. তিনি হাতেম আলিকে ছেড়ে চলে যান
- গ. তিনি সাহায্যের জন্য প্রার্থনা করতে বলেন
- ঘ. তিনি হাতেম আলিকে টাকা ঋণ দেবেন, যাতে জমিদারি রক্ষা পায়
উত্তর: ঘ। বহিপীর ঘোষণা করেন, ‘আপনার জমিদারি যাইবে না’— কারণ তিনি হাতেম আলিকে টাকা ঋণ দেবেন।
১৯। বহিপীর তাহেরার মনস্তত্ত্ব সম্পর্কে কী বিশ্লেষণ দেন?
- ক. তার কোনো বিশেষ মনস্তত্ত্ব নেই
- খ. সে বিশ্বাসঘাতক
- গ. সে একগুঁয়ে ও অবাধ্য
- ঘ. সে কখনো প্রকৃত স্নেহ পায়নি, স্নেহ পেলেই তার কৃতজ্ঞতা জাগবে
উত্তর: ঘ। বহিপীর ধূর্তভাবে বিশ্লেষণ করেন, তাহেরা কখনো প্রকৃত স্নেহ-মমতা পায়নি, তাই সামান্য স্নেহের আভাসেই তার কৃতজ্ঞতা নেশার মতো জেগে উঠবে।
২০। বহিপীরের এই কৌশলের প্রকৃত উদ্দেশ্য কী?
- ক. তাহেরাকে শাস্তি দেওয়া
- খ. হাতেম আলিকে সাহায্য করা
- গ. হাতেম আলি পরিবারকে ব্যবহার করে তাহেরার কৃতজ্ঞতা অর্জন করা
- ঘ. জমিদারি দখল করা
উত্তর: গ। বহিপীরের প্রকৃত উদ্দেশ্য হলো হাতেম আলি পরিবারকে সাহায্য করে তাহেরার কৃতজ্ঞতা অর্জন করা, যাতে তারাই তাহেরাকে রাজি করাতে সাহায্য করে।
সংক্ষেপে মনে রাখার মূল বিষয় (দ্বিতীয় অঙ্ক, প্রথমাংশ)
দৃশ্যপট
রাতের অন্ধকার, বজরায় উত্তেজনা ক্রমশ বাড়ছে।
ঘটনাক্রম
হাতেম আলির বন্ধুর সাহায্য না আসা, জমিদারি হারানোর সংকট; বহিপীর ও তাহেরার সরাসরি মুখোমুখি কথোপকথন ও তাহেরার প্রত্যাখ্যান; পুলিশ ডাকার হুমকি, তাহেরার আত্মহত্যার চেষ্টা ও উদ্ধার; হাশেমের প্রকাশ্য বিয়ের প্রস্তাব ও খোদেজার তীব্র আপত্তি; হাতেম আলির জমিদারি হারানোর সত্য প্রকাশ; বহিপীরের ধূর্ত প্রস্তাব— জমিদারি বাঁচাতে ঋণ দেবেন, বিনিময়ে তাহেরার কৃতজ্ঞতা অর্জনের কৌশল।
মূল ভাব/তাৎপর্য
বহিপীরের ধূর্ততা ক্রমশ গভীরতর ও সূক্ষ্মতর রূপ নেয়— ক্ষমতা, অর্থ ও মনস্তাত্ত্বিক কারসাজির মাধ্যমে মানুষকে বশ করার প্রচেষ্টা এই অংশের কেন্দ্রীয় নাটকীয় উত্তেজনা তৈরি করে।
গুরুত্বপূর্ণ মুহূর্ত
তাহেরার আত্মহত্যার চেষ্টা ও উদ্ধার; হাশেমের ‘তাহেরার মত থাকলে বিয়ে করব’ ঘোষণা; বহিপীরের ‘আপনার জমিদারি যাইবে না’ ঘোষণা ও তার পেছনের কৌশল।
দ্বিতীয় অঙ্ক, শেষাংশ (সমাপ্তি)
নাটকের এই চূড়ান্ত অংশে বহিপীরের শর্ত প্রকাশ্যে জানানো হয়, তাহেরা প্রথমে রাজি হয়, হাতেম আলি টাকা প্রত্যাখ্যান করেন, বহিপীর শর্তহীনভাবে টাকা দিতে চান, আর শেষ মুহূর্তে হাশেম তাহেরাকে নিয়ে পালিয়ে যায়— বহিপীর অবশেষে বাস্তবতা মেনে নিয়ে নাটকের যবনিকাপাত ঘটে। নিচের প্রশ্নগুলো এই অংশের প্রতিটি ভাগ ধরে সাজানো, শেষে সংক্ষিপ্তসারও দেওয়া আছে।
—
**১। বহিপীর হাতেম আলিকে তাঁর অর্থের উৎস সম্পর্কে কী বলেন?**
ক. তিনি ভিক্ষা করে অর্থ জোগাড় করেন খ. খোদা তাঁকে যথেষ্ট অর্থ দিয়েছেন, ধনী মুরিদরাও আছেন গ. তাঁর নিজের কোনো অর্থ নেই ঘ. তিনি অর্থ ধার করবেন
**উত্তর: খ।** বহিপীর বলেন খোদা তাঁকে যথেষ্ট অর্থ দিয়েছেন, এবং তাঁর ধনী মুরিদরাও আছেন যাঁরা তাঁর অনুরোধে ভিটাবাড়ি বন্ধক দিয়ে হলেও সাহায্য করবেন।
**২। বহিপীর নিজের সম্পর্কে কোন গভীর দার্শনিক কথা বলেন, ত্যাগ ও এবাদত নিয়ে?**
ক. সব ত্যাগ করলে মানুষ অমানুষ হয়, স্নেহ ছাড়া এবাদতও সম্ভব নয় খ. সব ত্যাগ করাই প্রকৃত এবাদত গ. এবাদতের জন্য অর্থের প্রয়োজন ঘ. তিনি এবাদত করেন না
**উত্তর: ক।** বহিপীর বলেন, সমস্ত ত্যাগ করলে মানুষ অমানুষে পরিণত হয়; জীবনে সামান্য স্নেহ-মমতা না থাকলে কোনো এবাদতই সম্ভব নয়— পানির অভাবে বৃক্ষ যেমন শুকিয়ে মরে, তেমনি স্নেহ ছাড়া রূহও মরে যায়।
**৩। বহিপীর কেন তাহেরাকে চান বলে দাবি করেন, এই যুক্তির আলোকে?**
ক. সামাজিক মর্যাদার জন্য খ. জীবনে সামান্য ঘনিষ্ঠ স্নেহ-মমতার প্রয়োজনেই গ. প্রতিশোধের জন্য ঘ. সম্পত্তির জন্য
**উত্তর: খ।** বহিপীর দাবি করেন, জীবনে সামান্য ঘনিষ্ঠ স্নেহ-মমতার প্রয়োজনেই তিনি তাহেরাকে চান, তাঁকে ছাড়া তাঁর ঐশী প্রেমের সাধনাও অসম্ভব।
**৪। বহিপীর তাহেরার পালানোর ঘটনাকে কীভাবে ব্যাখ্যা করেন?**
ক. এটি বীরত্বের পরিচয়, এই কাজ অন্যরা করতে পারে না খ. এটি কাপুরুষতার লক্ষণ গ. এটি অস্বাভাবিক আচরণ ঘ. এটি একটি ভুল সিদ্ধান্ত
**উত্তর: ক।** বহিপীর বলেন, পালিয়ে যাওয়াটা সহজ কাজ হলেও তাহেরা তাতে অসাধারণ বীরত্বের পরিচয় দিয়েছেন, কারণ এই কাজটি অন্য কেউ সহজে করতে পারে না।
—
**৫। বহিপীর অবশেষে হাতেম আলিকে কী শর্ত স্পষ্টভাবে জানান?**
ক. তাঁকে জমিদারির অর্ধেক দিতে হবে খ. তাঁর পুত্রকে সেবা দিতে হবে গ. তাঁকে মুরিদ হতে হবে ঘ. তিনি টাকা কর্জ দেবেন এই শর্তে যে তাহেরা তাঁর সঙ্গে ফিরে যাবেন
**উত্তর: ঘ।** বহিপীর স্পষ্টভাবে জানান, তিনি টাকা কর্জ দেবেন এই শর্তে যে তাহেরা তাঁর সঙ্গে ফিরে যাবেন।
**৬। হাতেম আলি এই শর্তে প্রথমে কী প্রতিক্রিয়া দেখান?**
ক. বিভ্রান্ত হন, বোঝেন না জমিদারির সাথে তাহেরার সম্পর্ক কী খ. তিনি সহজেই মেনে নেন গ. তিনি রেগে যান ঘ. তিনি প্রত্যাখ্যান করেন
**উত্তর: ক।** হাতেম আলি বিভ্রান্ত হন, বলেন তিনি বুঝতে পারছেন না জমিদারির সাথে তাহেরার যাওয়া না-যাওয়ার কী সম্পর্ক।
**৭। তাহেরা এই শর্তকে কীভাবে ব্যাখ্যা করে?**
ক. এটি একটি সাধারণ শর্ত খ. পীরসাহেব ঠাট্টা করছেন না, তিনি বুদ্ধিমান, এটি এক ধরনের চাল গ. এর কোনো অর্থ নেই ঘ. এটি একটি ভুল বোঝাবুঝি
**উত্তর: খ।** তাহেরা বলে, পীরসাহেব ঠাট্টা করছেন না, তিনি বুদ্ধিমান লোক, এবার তিনি অন্য এক ধরনের চাল চালছেন— তার পরিচয় জানার জন্য নিজের নিরাপত্তার বদলে এই পরিবারকে বাধ্য করার কৌশল।
**৮। হাশেম এই ‘চাল’ ব্যাখ্যা করে কী বলে?**
ক. তাহেরার হাতে নিজের মুক্তির বদলে পরিবার বাঁচানোর দায়িত্ব তুলে দেওয়া হয়েছে খ. এটি কোনো কৌশল নয় গ. এটি পীরসাহেবের ভুল ঘ. এটি একটি সরল প্রস্তাব
**উত্তর: ক।** হাশেম বোঝে, বহিপীর ঠিক জানেন তাহেরা নিজের জন্য পালাতে পারেন কিন্তু একটি নির্দোষ পরিবারকে ধ্বংস হতে দিতে পারবেন না— এই মানসিকতাকেই তিনি অস্ত্র বানিয়েছেন।
—
**৯। হাশেমের অবস্থান এই সিদ্ধান্তে কীভাবে বদলে যায়?**
ক. তার কোনো পরিবর্তন হয় না খ. অসহায় বোধ করে, পালাতে বললে বাবার জমিদারি ধ্বংস হবে বলে গ. সে উদাসীন হয়ে যায় ঘ. সে আরও দৃঢ় হয়
**উত্তর: খ।** হাশেম অসহায় বোধ করে, কারণ তাহেরাকে পালিয়ে যেতে বললে বাবার সদ্য জাগা আশা ধ্বংস হয়ে যাবে— তার নিজের যুক্তি তাকেই আটকে ফেলে।
**১০। তাহেরা প্রথমে কী সিদ্ধান্ত জানায়?**
ক. সে অজ্ঞান হয়ে পড়ে খ. সে সিদ্ধান্ত জানাতে অস্বীকার করে গ. সে পালিয়ে যাবে ঘ. পীরসাহেব যা চান তাই হবে, কিন্তু আগে টাকা দিতে হবে তারপর সে যাবে
**উত্তর: ঘ।** তাহেরা কান্না সংবরণ করে বলে, পীরসাহেব যা চান তাই হবে, তবে শর্ত হলো আগে টাকা দিতে হবে, তারপর সে যাবে।
**১১। খোদেজা তাহেরার এই সিদ্ধান্তকে কীভাবে সমর্থন করেন?**
ক. তিনি দ্বিমত পোষণ করেন খ. পীরসাহেব সবার ভালোর জন্যই করছেন, তাঁর ছায়ায় থাকা সৌভাগ্যের বলেন গ. তিনি নীরব থাকেন ঘ. তিনি রেগে যান
**উত্তর: খ।** খোদেজা যুক্তি দেন, পীরসাহেব সবার ভালোর জন্যই এই চাল চেলেছেন, তাঁর ছায়ায় বাস করার সৌভাগ্য কজনের হয়।
—
**১২। হাতেম আলি পীরসাহেবের কাছে গিয়ে শেষ পর্যন্ত কী সিদ্ধান্ত জানান?**
ক. তিনি টাকা নেবেন খ. তিনি আরও সময় চান গ. তিনি সিদ্ধান্ত পরিবর্তন করতে বলেন ঘ. তাহেরা রাজি থাকলেও তিনি এভাবে টাকা নিতে পারবেন না, জমিদারি যাক
**উত্তর: ঘ।** হাতেম আলি জানান, তাহেরা রাজি থাকলেও তিনি এভাবে (তাহেরার বিনিময়ে) টাকা নিতে পারবেন না, জমিদারি যাক।
**১৩। এই সিদ্ধান্তের পর হাতেম আলির মানসিক অবস্থা কেমন হয়?**
ক. তিনি অনুতপ্ত হন খ. তিনি রেগে যান গ. তিনি আরও হতাশ হয়ে পড়েন ঘ. সব ভয়-ভাবনা কেটে যায়, নতুন জীবনের স্বাদ অনুভব করেন
**উত্তর: ঘ।** হাতেম আলি বলেন হঠাৎ সব ভয়-ভাবনা কেটে গেছে, তিনি নতুন এক জীবনের স্বাদ পেয়েছেন— নৈতিক সিদ্ধান্তের মধ্য দিয়ে এক প্রকার মুক্তির অনুভূতি।
**১৪। বহিপীর হাতেম আলির প্রত্যাখ্যানে কী প্রতিক্রিয়া দেখান?**
ক. তিনি চলে যান খ. তিনি প্রস্তাব প্রত্যাহার করেন গ. এখন শর্তহীনভাবেই টাকা দেবেন, এটি নিতেই হবে বলেন ঘ. তিনি ক্রুদ্ধ হন
**উত্তর: গ।** বহিপীর ঘোষণা করেন, এখন থেকে তিনি বিনা শর্তে টাকা দেবেন, এটি দান বা পীরের অনুগ্রহও নয়, হাতেম আলিকে এটি নিতেই হবে।
**১৫। বহিপীর নিজের সম্পর্কে মানুষদের ধারণা নিয়ে কী ক্ষুব্ধ মন্তব্য করেন?**
ক. তিনি এতে খুশি হন খ. সবাই তাঁকে বেদরদ জল্লাদ মনে করছে বলে ক্ষুব্ধ হন গ. তিনি সবার প্রশংসা পান ঘ. তিনি কোনো প্রতিক্রিয়া দেখান না
**উত্তর: খ।** বহিপীর ক্ষুব্ধ হয়ে বলেন, তারা তাঁকে হৃদয়হীন পশু, বেদরদ বেশরম জল্লাদ ভাবছেন, অথচ তিনিও মানুষ।
—
**১৬। বহিপীর নিজের ভুল স্বীকার করেন কোন বিষয়ে?**
ক. তাঁর নিজের অর্থ সম্পর্কে খ. তাহেরা সম্পর্কে তাঁর ধারণা ভুল ছিল গ. তাঁর নিজের পরিচয় সম্পর্কে ঘ. জমিদার প্রত্যাখ্যান করবেন এটা ভাবেননি, ধারণা ভুল ছিল
**উত্তর: ঘ।** বহিপীর স্বীকার করেন জমিদার সাহেবের ব্যাপারে তিনি ভুল করেছেন— তিনি নিশ্চিত ছিলেন হাতেম আলি প্রত্যাখ্যান করবেন না, কিন্তু তা ঘটেছে।
**১৭। হাশেম বহিপীরের বিনা শর্তের প্রস্তাবেও কী বলে?**
ক. সে বাবাকে গ্রহণ করতে অনুরোধ করে খ. সে সিদ্ধান্তহীন থাকে গ. দৃঢ়ভাবে বলে তাদের টাকা চাই না ঘ. সে গ্রহণ করতে বলে
**উত্তর: গ।** হাশেম ধৈর্যহারা হয়ে দৃঢ়ভাবে বলে, তাদের টাকা চাই না— বাবার সিদ্ধান্তের সাথে একাত্মতা প্রকাশ করে।
**১৮। এতে বহিপীরের প্রতিক্রিয়া কী হয়?**
ক. তিনি সহজে মেনে নেন খ. অবাক হয়ে বলেন সবাই তাঁকে অমানুষ বানিয়েছে, ‘জোব্বার সম্মান’ হিসেবে টাকা নিতেই হবে গ. তিনি হাল ছেড়ে দেন ঘ. তিনি রেগে চলে যান
**উত্তর: খ।** বহিপীর অবাক হয়ে বলেন সবাই তাঁকে অমানুষে পরিণত করেছেন, টাকা গ্রহণ করা তাঁর জোব্বার (পীরের পোশাকের) সম্মান রক্ষার জন্য প্রয়োজন, এটি ‘পরাজিত শত্রুর শেষ দাবি’।
—
**১৯। তাহেরা এই পুরো দর-কষাকষির মধ্যে শেষে কী দৃঢ় ঘোষণা দেয়?**
ক. সে সিদ্ধান্ত পরিবর্তন করে খ. একবার যে কথা বলেছে তার ব্যতিক্রম হবে না, সে যাবেই গ. সে অস্পষ্ট থাকে ঘ. সে যাবে না
**উত্তর: খ।** তাহেরা দৃঢ় কণ্ঠে ঘোষণা দেয়, একবার যে কথা বলেছে তার ব্যতিক্রম হবে না, সে যাবেই— তার প্রতিশ্রুতিরক্ষার দৃঢ়তা।
**২০। হাশেম তাহেরার এই সিদ্ধান্তকে কী বলে বর্ণনা করে?**
ক. এতে সে সহমত পোষণ করে খ. এটি তার প্রকৃত ইচ্ছা গ. এটি এক ধরনের নেশা, যা তার বিবেচনাশক্তি কেড়ে নিয়েছে ঘ. এটি একটি সঠিক সিদ্ধান্ত
**উত্তর: গ।** হাশেম বলে তাহেরাকে ‘নেশায় ধরেছে’, তিনি বুঝতে পারছেন না যে তাঁকে নিয়ে তারা খেলা করছেন, তিনি যেন দাবার গুটি।
**২১। নাটকের চূড়ান্ত মুহূর্তে হাশেম কী করে?**
ক. সে চুপচাপ মেনে নেয় খ. সে বহিপীরের সাথে তর্ক চালিয়ে যায় গ. সে বাবার কাছে সাহায্য চায় ঘ. তাহেরার হাত ধরে দ্রুত তাকে নিয়ে বজরা থেকে পালিয়ে যায়
**উত্তর: ঘ।** নাটকের চূড়ান্ত, নাটকীয় মুহূর্তে হাশেম তাহেরার হাত ধরে দ্রুতপায়ে তাকে নিয়ে বজরা থেকে তীরে উঠে অদৃশ্য হয়ে যায়।
**২২। তাহেরা এই পলায়নে কেমন প্রতিক্রিয়া দেখায়?**
ক. সে প্রবল বাধা দেয় খ. সে আনন্দিত হয়ে যায় গ. সে সম্পূর্ণ অনিচ্ছুক ঘ. সে বিশেষ বাধা দেয় না, শুধু জিজ্ঞেস করে কোথায় নিয়ে যাচ্ছে
**উত্তর: ঘ।** তাহেরার চলাটা সম্পূর্ণ ইচ্ছাকৃত না হলেও সে বিশেষ বাধা দেয় না, শুধু বারবার জিজ্ঞেস করতে থাকে কোথায় তাকে নিয়ে যাওয়া হচ্ছে— তার মনের গভীরে চাপা ইচ্ছার ইঙ্গিত।
—
**২৩। হাশেম ও তাহেরা চলে যাওয়ার পর বহিপীরের প্রতিক্রিয়া কেমন?**
ক. তিনি ভেঙে পড়েন খ. দীর্ঘনিঃশ্বাস ছেড়ে শান্তভাবে মেনে নেন, বলেন তারা নতুন জীবনের পথে যাচ্ছে গ. তিনি ক্রুদ্ধ হয়ে তাদের তাড়া করতে বলেন ঘ. তিনি অজ্ঞান হয়ে পড়েন
**উত্তর: খ।** বহিপীর দীর্ঘনিঃশ্বাস ছেড়ে শান্তভাবে মেনে নেন, বলেন ঝড় থেমেছে, তারা নতুন জীবনের পথে যাচ্ছে, তাদের ঠেকানো যায় না।
**২৪। বহিপীর খোদেজার উদ্বিগ্ন প্রশ্নের জবাবে কী বলেন?**
ক. তিনি চলে যাবেন খ. তিনি প্রতিশোধ নেবেন গ. সবাই থাকবেন, জমিদারিও থাকবে, সবাই সুখে থাকবেন ঘ. তিনি কোনো জবাব দেন না
**উত্তর: গ।** বহিপীর সান্ত্বনা দিয়ে বলেন, তারা সবাই থাকবেন, জমিদারিও থাকবে, তারা পুরনো দুনিয়ায় সুখে-স্বচ্ছন্দে বাকি দিন কাটাবেন।
**২৫। নাটকের একেবারে শেষে বহিপীর কী প্রতিক্রিয়া দেখান খোদেজার ক্রুদ্ধ কণ্ঠের প্রতি?**
ক. তিনি ক্ষমা চান খ. তিনি নীরব থাকেন গ. হাসতে হাসতে বলেন পীরের গায়ে বদদোয়া লাগে না ঘ. তিনি রাগান্বিত হন
**উত্তর: গ।** বহিপীর হাসতে হাসতে বলেন পীরের গায়ে বদদোয়া লাগে না, এবং জমিদার সাহেবের জমিদারি রক্ষার ব্যবস্থা করতে এগিয়ে যান— নাটকের শেষ দৃশ্য।
—
**২৬। নাটকের এই সমাপ্তি নিয়ে নিচের তথ্যগুলো লক্ষ করো —**
i. বহিপীর শেষ পর্যন্ত তাহেরাকে ফিরে পান
ii. হাতেম আলি নৈতিকতার প্রশ্নে টাকা প্রত্যাখ্যান করেন
iii. বহিপীর তাহেরা ও হাশেমের পলায়নের পরও জমিদারি রক্ষায় সাহায্য করার সিদ্ধান্ত অটুট রাখেন
নিচের কোনটি সঠিক?
ক. i ও ii খ. ii ও iii গ. i ও iii ঘ. i, ii ও iii
**উত্তর: খ।** দ্বিতীয় ও তৃতীয় তথ্য সঠিক, কিন্তু বহিপীর শেষ পর্যন্ত তাহেরাকে ফিরে পাননি— হাশেম তাকে নিয়ে পালিয়ে যায়; তাই প্রথম তথ্যটি ভুল।
**২৭। নাটকের সমাপ্তিতে বহিপীরের চরিত্রের কোন নতুন দিক প্রকাশ পায়?**
ক. পরাজয়েও বাস্তববাদী প্রজ্ঞা ও সৌজন্য নিয়ে বাস্তবতা মেনে নেন খ. তিনি প্রতিশোধপরায়ণ হয়ে ওঠেন গ. তিনি সম্পূর্ণ ভেঙে পড়েন ঘ. তিনি সম্পূর্ণ নিষ্ঠুর থেকে যান
**উত্তর: ক।** পরাজয়ের মুখেও বহিপীর প্রতিহিংসাপরায়ণ না হয়ে বরং এক ধরনের বাস্তববাদী প্রজ্ঞা ও সৌজন্য দেখান, এমনকি হাতেম আলির জমিদারি রক্ষায় সাহায্য অব্যাহত রাখেন— তাঁর চরিত্রের এই জটিলতাই তাঁকে নিছক এক-মাত্রিক খলনায়ক হওয়া থেকে রক্ষা করে।
**২৮। নাটকের চূড়ান্ত বার্তা কী?**
ক. প্রতিরোধ সবসময় ব্যর্থ হয় খ. অর্থই সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ গ. মানবিকতা ও সাহস শেষে কুসংস্কার ও ক্ষমতার অপব্যবহারকে পরাস্ত করে ঘ. ধূর্ততা সবসময় জয়ী হয়
**উত্তর: গ।** নাটকের চূড়ান্ত বার্তা হলো— হাতেম আলির নৈতিক দৃঢ়তা এবং হাশেম-তাহেরার সাহসী সিদ্ধান্তের মধ্য দিয়ে মানবিকতা শেষ পর্যন্ত কুসংস্কার ও ক্ষমতার অপব্যবহারকে পরাস্ত করে— যা নাটকটিকে ‘মানবিক জাগরণের দৃশ্যকাব্য’ করে তুলেছে।
১। বহিপীর হাতেম আলিকে তাঁর অর্থের উৎস সম্পর্কে কী বলেন?
- ক. তিনি ভিক্ষা করে অর্থ জোগাড় করেন
- খ. খোদা তাঁকে যথেষ্ট অর্থ দিয়েছেন, ধনী মুরিদরাও আছেন
- গ. তাঁর নিজের কোনো অর্থ নেই
- ঘ. তিনি অর্থ ধার করবেন
উত্তর: খ। বহিপীর বলেন খোদা তাঁকে যথেষ্ট অর্থ দিয়েছেন, এবং তাঁর ধনী মুরিদরাও আছেন যাঁরা তাঁর অনুরোধে ভিটাবাড়ি বন্ধক দিয়ে হলেও সাহায্য করবেন।
২। বহিপীর নিজের সম্পর্কে কোন গভীর দার্শনিক কথা বলেন, ত্যাগ ও এবাদত নিয়ে?
- ক. সব ত্যাগ করলে মানুষ অমানুষ হয়, স্নেহ ছাড়া এবাদতও সম্ভব নয়
- খ. সব ত্যাগ করাই প্রকৃত এবাদত
- গ. এবাদতের জন্য অর্থের প্রয়োজন
- ঘ. তিনি এবাদত করেন না
উত্তর: ক। বহিপীর বলেন, সমস্ত ত্যাগ করলে মানুষ অমানুষে পরিণত হয়; জীবনে সামান্য স্নেহ-মমতা না থাকলে কোনো এবাদতই সম্ভব নয়— পানির অভাবে বৃক্ষ যেমন শুকিয়ে মরে, তেমনি স্নেহ ছাড়া রূহও মরে যায়।
৩। বহিপীর কেন তাহেরাকে চান বলে দাবি করেন, এই যুক্তির আলোকে?
- ক. সামাজিক মর্যাদার জন্য
- খ. জীবনে সামান্য ঘনিষ্ঠ স্নেহ-মমতার প্রয়োজনেই
- গ. প্রতিশোধের জন্য
- ঘ. সম্পত্তির জন্য
উত্তর: খ। বহিপীর দাবি করেন, জীবনে সামান্য ঘনিষ্ঠ স্নেহ-মমতার প্রয়োজনেই তিনি তাহেরাকে চান, তাঁকে ছাড়া তাঁর ঐশী প্রেমের সাধনাও অসম্ভব।
৪। বহিপীর তাহেরার পালানোর ঘটনাকে কীভাবে ব্যাখ্যা করেন?
- ক. এটি বীরত্বের পরিচয়, এই কাজ অন্যরা করতে পারে না
- খ. এটি কাপুরুষতার লক্ষণ
- গ. এটি অস্বাভাবিক আচরণ
- ঘ. এটি একটি ভুল সিদ্ধান্ত
উত্তর: ক। বহিপীর বলেন, পালিয়ে যাওয়াটা সহজ কাজ হলেও তাহেরা তাতে অসাধারণ বীরত্বের পরিচয় দিয়েছেন, কারণ এই কাজটি অন্য কেউ সহজে করতে পারে না।
৫। বহিপীর অবশেষে হাতেম আলিকে কী শর্ত স্পষ্টভাবে জানান?
- ক. তাঁকে জমিদারির অর্ধেক দিতে হবে
- খ. তাঁর পুত্রকে সেবা দিতে হবে
- গ. তাঁকে মুরিদ হতে হবে
- ঘ. তিনি টাকা কর্জ দেবেন এই শর্তে যে তাহেরা তাঁর সঙ্গে ফিরে যাবেন
উত্তর: ঘ। বহিপীর স্পষ্টভাবে জানান, তিনি টাকা কর্জ দেবেন এই শর্তে যে তাহেরা তাঁর সঙ্গে ফিরে যাবেন।
৬। হাতেম আলি এই শর্তে প্রথমে কী প্রতিক্রিয়া দেখান?
- ক. বিভ্রান্ত হন, বোঝেন না জমিদারির সাথে তাহেরার সম্পর্ক কী
- খ. তিনি সহজেই মেনে নেন
- গ. তিনি রেগে যান
- ঘ. তিনি প্রত্যাখ্যান করেন
উত্তর: ক। হাতেম আলি বিভ্রান্ত হন, বলেন তিনি বুঝতে পারছেন না জমিদারির সাথে তাহেরার যাওয়া না-যাওয়ার কী সম্পর্ক।
৭। তাহেরা এই শর্তকে কীভাবে ব্যাখ্যা করে?
- ক. এটি একটি সাধারণ শর্ত
- খ. পীরসাহেব ঠাট্টা করছেন না, তিনি বুদ্ধিমান, এটি এক ধরনের চাল
- গ. এর কোনো অর্থ নেই
- ঘ. এটি একটি ভুল বোঝাবুঝি
উত্তর: খ। তাহেরা বলে, পীরসাহেব ঠাট্টা করছেন না, তিনি বুদ্ধিমান লোক, এবার তিনি অন্য এক ধরনের চাল চালছেন— তার পরিচয় জানার জন্য নিজের নিরাপত্তার বদলে এই পরিবারকে বাধ্য করার কৌশল।
৮। হাশেম এই ‘চাল’ ব্যাখ্যা করে কী বলে?
- ক. তাহেরার হাতে নিজের মুক্তির বদলে পরিবার বাঁচানোর দায়িত্ব তুলে দেওয়া হয়েছে
- খ. এটি কোনো কৌশল নয়
- গ. এটি পীরসাহেবের ভুল
- ঘ. এটি একটি সরল প্রস্তাব
উত্তর: ক। হাশেম বোঝে, বহিপীর ঠিক জানেন তাহেরা নিজের জন্য পালাতে পারেন কিন্তু একটি নির্দোষ পরিবারকে ধ্বংস হতে দিতে পারবেন না— এই মানসিকতাকেই তিনি অস্ত্র বানিয়েছেন।
৯। হাশেমের অবস্থান এই সিদ্ধান্তে কীভাবে বদলে যায়?
- ক. তার কোনো পরিবর্তন হয় না
- খ. অসহায় বোধ করে, পালাতে বললে বাবার জমিদারি ধ্বংস হবে বলে
- গ. সে উদাসীন হয়ে যায়
- ঘ. সে আরও দৃঢ় হয়
উত্তর: খ। হাশেম অসহায় বোধ করে, কারণ তাহেরাকে পালিয়ে যেতে বললে বাবার সদ্য জাগা আশা ধ্বংস হয়ে যাবে— তার নিজের যুক্তি তাকেই আটকে ফেলে।
১০। তাহেরা প্রথমে কী সিদ্ধান্ত জানায়?
- ক. সে অজ্ঞান হয়ে পড়ে
- খ. সে সিদ্ধান্ত জানাতে অস্বীকার করে
- গ. সে পালিয়ে যাবে
- ঘ. পীরসাহেব যা চান তাই হবে, কিন্তু আগে টাকা দিতে হবে তারপর সে যাবে
উত্তর: ঘ। তাহেরা কান্না সংবরণ করে বলে, পীরসাহেব যা চান তাই হবে, তবে শর্ত হলো আগে টাকা দিতে হবে, তারপর সে যাবে।
১১। খোদেজা তাহেরার এই সিদ্ধান্তকে কীভাবে সমর্থন করেন?
- ক. তিনি দ্বিমত পোষণ করেন
- খ. পীরসাহেব সবার ভালোর জন্যই করছেন, তাঁর ছায়ায় থাকা সৌভাগ্যের বলেন
- গ. তিনি নীরব থাকেন
- ঘ. তিনি রেগে যান
উত্তর: খ। খোদেজা যুক্তি দেন, পীরসাহেব সবার ভালোর জন্যই এই চাল চেলেছেন, তাঁর ছায়ায় বাস করার সৌভাগ্য কজনের হয়।
১২। হাতেম আলি পীরসাহেবের কাছে গিয়ে শেষ পর্যন্ত কী সিদ্ধান্ত জানান?
- ক. তিনি টাকা নেবেন
- খ. তিনি আরও সময় চান
- গ. তিনি সিদ্ধান্ত পরিবর্তন করতে বলেন
- ঘ. তাহেরা রাজি থাকলেও তিনি এভাবে টাকা নিতে পারবেন না, জমিদারি যাক
উত্তর: ঘ। হাতেম আলি জানান, তাহেরা রাজি থাকলেও তিনি এভাবে (তাহেরার বিনিময়ে) টাকা নিতে পারবেন না, জমিদারি যাক।
১৩। এই সিদ্ধান্তের পর হাতেম আলির মানসিক অবস্থা কেমন হয়?
- ক. তিনি অনুতপ্ত হন
- খ. তিনি রেগে যান
- গ. তিনি আরও হতাশ হয়ে পড়েন
- ঘ. সব ভয়-ভাবনা কেটে যায়, নতুন জীবনের স্বাদ অনুভব করেন
উত্তর: ঘ। হাতেম আলি বলেন হঠাৎ সব ভয়-ভাবনা কেটে গেছে, তিনি নতুন এক জীবনের স্বাদ পেয়েছেন— নৈতিক সিদ্ধান্তের মধ্য দিয়ে এক প্রকার মুক্তির অনুভূতি।
১৪। বহিপীর হাতেম আলির প্রত্যাখ্যানে কী প্রতিক্রিয়া দেখান?
- ক. তিনি চলে যান
- খ. তিনি প্রস্তাব প্রত্যাহার করেন
- গ. এখন শর্তহীনভাবেই টাকা দেবেন, এটি নিতেই হবে বলেন
- ঘ. তিনি ক্রুদ্ধ হন
উত্তর: গ। বহিপীর ঘোষণা করেন, এখন থেকে তিনি বিনা শর্তে টাকা দেবেন, এটি দান বা পীরের অনুগ্রহও নয়, হাতেম আলিকে এটি নিতেই হবে।
১৫। বহিপীর নিজের সম্পর্কে মানুষদের ধারণা নিয়ে কী ক্ষুব্ধ মন্তব্য করেন?
- ক. তিনি এতে খুশি হন
- খ. সবাই তাঁকে বেদরদ জল্লাদ মনে করছে বলে ক্ষুব্ধ হন
- গ. তিনি সবার প্রশংসা পান
- ঘ. তিনি কোনো প্রতিক্রিয়া দেখান না
উত্তর: খ। বহিপীর ক্ষুব্ধ হয়ে বলেন, তারা তাঁকে হৃদয়হীন পশু, বেদরদ বেশরম জল্লাদ ভাবছেন, অথচ তিনিও মানুষ।
১৬। বহিপীর নিজের ভুল স্বীকার করেন কোন বিষয়ে?
- ক. তাঁর নিজের অর্থ সম্পর্কে
- খ. তাহেরা সম্পর্কে তাঁর ধারণা ভুল ছিল
- গ. তাঁর নিজের পরিচয় সম্পর্কে
- ঘ. জমিদার প্রত্যাখ্যান করবেন এটা ভাবেননি, ধারণা ভুল ছিল
উত্তর: ঘ। বহিপীর স্বীকার করেন জমিদার সাহেবের ব্যাপারে তিনি ভুল করেছেন— তিনি নিশ্চিত ছিলেন হাতেম আলি প্রত্যাখ্যান করবেন না, কিন্তু তা ঘটেছে।
১৭। হাশেম বহিপীরের বিনা শর্তের প্রস্তাবেও কী বলে?
- ক. সে বাবাকে গ্রহণ করতে অনুরোধ করে
- খ. সে সিদ্ধান্তহীন থাকে
- গ. দৃঢ়ভাবে বলে তাদের টাকা চাই না
- ঘ. সে গ্রহণ করতে বলে
উত্তর: গ। হাশেম ধৈর্যহারা হয়ে দৃঢ়ভাবে বলে, তাদের টাকা চাই না— বাবার সিদ্ধান্তের সাথে একাত্মতা প্রকাশ করে।
১৮। এতে বহিপীরের প্রতিক্রিয়া কী হয়?
- ক. তিনি সহজে মেনে নেন
- খ. অবাক হয়ে বলেন সবাই তাঁকে অমানুষ বানিয়েছে, ‘জোব্বার সম্মান’ হিসেবে টাকা নিতেই হবে
- গ. তিনি হাল ছেড়ে দেন
- ঘ. তিনি রেগে চলে যান
উত্তর: খ। বহিপীর অবাক হয়ে বলেন সবাই তাঁকে অমানুষে পরিণত করেছেন, টাকা গ্রহণ করা তাঁর জোব্বার (পীরের পোশাকের) সম্মান রক্ষার জন্য প্রয়োজন, এটি ‘পরাজিত শত্রুর শেষ দাবি’।
১৯। তাহেরা এই পুরো দর-কষাকষির মধ্যে শেষে কী দৃঢ় ঘোষণা দেয়?
- ক. সে সিদ্ধান্ত পরিবর্তন করে
- খ. একবার যে কথা বলেছে তার ব্যতিক্রম হবে না, সে যাবেই
- গ. সে অস্পষ্ট থাকে
- ঘ. সে যাবে না
উত্তর: খ। তাহেরা দৃঢ় কণ্ঠে ঘোষণা দেয়, একবার যে কথা বলেছে তার ব্যতিক্রম হবে না, সে যাবেই— তার প্রতিশ্রুতিরক্ষার দৃঢ়তা।
২০। হাশেম তাহেরার এই সিদ্ধান্তকে কী বলে বর্ণনা করে?
- ক. এতে সে সহমত পোষণ করে
- খ. এটি তার প্রকৃত ইচ্ছা
- গ. এটি এক ধরনের নেশা, যা তার বিবেচনাশক্তি কেড়ে নিয়েছে
- ঘ. এটি একটি সঠিক সিদ্ধান্ত
উত্তর: গ। হাশেম বলে তাহেরাকে ‘নেশায় ধরেছে’, তিনি বুঝতে পারছেন না যে তাঁকে নিয়ে তারা খেলা করছেন, তিনি যেন দাবার গুটি।
২১। নাটকের চূড়ান্ত মুহূর্তে হাশেম কী করে?
- ক. সে চুপচাপ মেনে নেয়
- খ. সে বহিপীরের সাথে তর্ক চালিয়ে যায়
- গ. সে বাবার কাছে সাহায্য চায়
- ঘ. তাহেরার হাত ধরে দ্রুত তাকে নিয়ে বজরা থেকে পালিয়ে যায়
উত্তর: ঘ। নাটকের চূড়ান্ত, নাটকীয় মুহূর্তে হাশেম তাহেরার হাত ধরে দ্রুতপায়ে তাকে নিয়ে বজরা থেকে তীরে উঠে অদৃশ্য হয়ে যায়।
২২। তাহেরা এই পলায়নে কেমন প্রতিক্রিয়া দেখায়?
- ক. সে প্রবল বাধা দেয়
- খ. সে আনন্দিত হয়ে যায়
- গ. সে সম্পূর্ণ অনিচ্ছুক
- ঘ. সে বিশেষ বাধা দেয় না, শুধু জিজ্ঞেস করে কোথায় নিয়ে যাচ্ছে
উত্তর: ঘ। তাহেরার চলাটা সম্পূর্ণ ইচ্ছাকৃত না হলেও সে বিশেষ বাধা দেয় না, শুধু বারবার জিজ্ঞেস করতে থাকে কোথায় তাকে নিয়ে যাওয়া হচ্ছে— তার মনের গভীরে চাপা ইচ্ছার ইঙ্গিত।
২৩। হাশেম ও তাহেরা চলে যাওয়ার পর বহিপীরের প্রতিক্রিয়া কেমন?
- ক. তিনি ভেঙে পড়েন
- খ. দীর্ঘনিঃশ্বাস ছেড়ে শান্তভাবে মেনে নেন, বলেন তারা নতুন জীবনের পথে যাচ্ছে
- গ. তিনি ক্রুদ্ধ হয়ে তাদের তাড়া করতে বলেন
- ঘ. তিনি অজ্ঞান হয়ে পড়েন
উত্তর: খ। বহিপীর দীর্ঘনিঃশ্বাস ছেড়ে শান্তভাবে মেনে নেন, বলেন ঝড় থেমেছে, তারা নতুন জীবনের পথে যাচ্ছে, তাদের ঠেকানো যায় না।
২৪। বহিপীর খোদেজার উদ্বিগ্ন প্রশ্নের জবাবে কী বলেন?
- ক. তিনি চলে যাবেন
- খ. তিনি প্রতিশোধ নেবেন
- গ. সবাই থাকবেন, জমিদারিও থাকবে, সবাই সুখে থাকবেন
- ঘ. তিনি কোনো জবাব দেন না
উত্তর: গ। বহিপীর সান্ত্বনা দিয়ে বলেন, তারা সবাই থাকবেন, জমিদারিও থাকবে, তারা পুরনো দুনিয়ায় সুখে-স্বচ্ছন্দে বাকি দিন কাটাবেন।
২৫। নাটকের একেবারে শেষে বহিপীর কী প্রতিক্রিয়া দেখান খোদেজার ক্রুদ্ধ কণ্ঠের প্রতি?
- ক. তিনি ক্ষমা চান
- খ. তিনি নীরব থাকেন
- গ. হাসতে হাসতে বলেন পীরের গায়ে বদদোয়া লাগে না
- ঘ. তিনি রাগান্বিত হন
উত্তর: গ। বহিপীর হাসতে হাসতে বলেন পীরের গায়ে বদদোয়া লাগে না, এবং জমিদার সাহেবের জমিদারি রক্ষার ব্যবস্থা করতে এগিয়ে যান— নাটকের শেষ দৃশ্য।
২৭। নাটকের সমাপ্তিতে বহিপীরের চরিত্রের কোন নতুন দিক প্রকাশ পায়?
- ক. পরাজয়েও বাস্তববাদী প্রজ্ঞা ও সৌজন্য নিয়ে বাস্তবতা মেনে নেন
- খ. তিনি প্রতিশোধপরায়ণ হয়ে ওঠেন
- গ. তিনি সম্পূর্ণ ভেঙে পড়েন
- ঘ. তিনি সম্পূর্ণ নিষ্ঠুর থেকে যান
উত্তর: ক। পরাজয়ের মুখেও বহিপীর প্রতিহিংসাপরায়ণ না হয়ে বরং এক ধরনের বাস্তববাদী প্রজ্ঞা ও সৌজন্য দেখান, এমনকি হাতেম আলির জমিদারি রক্ষায় সাহায্য অব্যাহত রাখেন— তাঁর চরিত্রের এই জটিলতাই তাঁকে নিছক এক-মাত্রিক খলনায়ক হওয়া থেকে রক্ষা করে।
২৮। নাটকের চূড়ান্ত বার্তা কী?
- ক. প্রতিরোধ সবসময় ব্যর্থ হয়
- খ. অর্থই সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ
- গ. মানবিকতা ও সাহস শেষে কুসংস্কার ও ক্ষমতার অপব্যবহারকে পরাস্ত করে
- ঘ. ধূর্ততা সবসময় জয়ী হয়
উত্তর: গ। নাটকের চূড়ান্ত বার্তা হলো— হাতেম আলির নৈতিক দৃঢ়তা এবং হাশেম-তাহেরার সাহসী সিদ্ধান্তের মধ্য দিয়ে মানবিকতা শেষ পর্যন্ত কুসংস্কার ও ক্ষমতার অপব্যবহারকে পরাস্ত করে— যা নাটকটিকে ‘মানবিক জাগরণের দৃশ্যকাব্য’ করে তুলেছে।
সংক্ষেপে মনে রাখার মূল বিষয় (দ্বিতীয় অঙ্ক, শেষাংশ (সমাপ্তি))
ঘটনাক্রম (নাটকের সমাপ্তি)
- বহিপীরের নিজের সম্পর্কে দার্শনিক ব্যাখ্যা— স্নেহ-মমতার প্রয়োজনীয়তা, তাহেরাকে চাওয়ার যুক্তি।
- শর্ত প্রকাশ্যে জানানো— ঋণ দেবেন, বিনিময়ে তাহেরাকে ফিরে যেতে হবে; তাহেরা ও হাশেমের এই ‘চাল’ চেনা।
- তাহেরার শর্তসাপেক্ষ সম্মতি, খোদেজার সমর্থন, হাতেম আলির দ্বিধা।
- হাতেম আলির নৈতিক সিদ্ধান্ত— তাহেরার বিনিময়ে টাকা নেবেন না, জমিদারি যাক।
- বহিপীরের শর্তহীন প্রস্তাব, নিজেকে অমানুষ ভাবা নিয়ে ক্ষোভ, হাশেমের দৃঢ় প্রত্যাখ্যান।
- তাহেরার দৃঢ় প্রতিশ্রুতিরক্ষার ঘোষণা, হাশেমের একে ‘নেশা’ বলে আখ্যা।
- নাটকের চূড়ান্ত মুহূর্তে হাশেম তাহেরাকে নিয়ে পালিয়ে যায়— তাহেরার নীরব সম্মতি।
- বহিপীরের শান্ত, প্রজ্ঞাপূর্ণ প্রতিক্রিয়া, জমিদারি রক্ষায় সাহায্য অব্যাহত রাখা— নাটকের যবনিকাপাত।
মূল ভাব/তাৎপর্য
কুসংস্কার ও ক্ষমতার অপব্যবহারের বিরুদ্ধে মানবিকতা, নৈতিক সাহস ও ভালোবাসার শেষ বিজয়— হাতেম আলির সততা, হাশেমের সাহস ও তাহেরার আত্মমর্যাদা মিলে এক নতুন, আশাবাদী ভবিষ্যতের ইঙ্গিত দেয়, যেখানে বহিপীরও নিজের পরাজয়কে মর্যাদার সাথে মেনে নেন।
গুরুত্বপূর্ণ মুহূর্ত
হাতেম আলির ‘এভাবে টাকা নিতে পারব না, জমিদারি যাক’; তাহেরার ‘একবার যে কথা বলেছি তার ব্যতিক্রম হবে না’; হাশেমের শেষ মুহূর্তের পলায়ন; বহিপীরের ‘ঝড় থামিল, তাহারা গিয়াছে, যাক’— নাটকের যবনিকা।
