প্রবাস বন্ধু গল্পের MCQ | SSC বাংলা ১ম পত্রের “প্রবাস বন্ধু” গল্প থেকে বোর্ড পরীক্ষায় নিয়মিত প্রশ্ন আসে। এই পোস্টে গল্পের সারকথা ও ৫৪টি বহুনির্বাচনি প্রশ্ন (MCQ) উত্তর ও ব্যাখ্যাসহ দেওয়া হলো। জ্ঞানমূলক ও অনুধাবনমূলক প্রশ্নের জন্য প্রবাস বন্ধু গল্পের নোট দেখুন।
প্রবাস বন্ধু গল্পের সারকথা ও গুরুত্বপূর্ণ তথ্য
প্রবাস বন্ধু গল্পের লেখক কে?
সৈয়দ মুজতবা আলী (জন্ম ১৩ সেপ্টেম্বর ১৯০৪, করিমগঞ্জ, শ্রীহট্ট; মৃত্যু ১১ ফেব্রুয়ারি ১৯৭৪, ঢাকা)। বহু ভাষায় ব্যুৎপত্তিসম্পন্ন, রসগ্রাহী গদ্যশৈলীর জন্য বিখ্যাত। প্রধান রচনা: দেশে-বিদেশে, পঞ্চতন্ত্র, চাচা কাহিনী, শবনম।
প্রবাস বন্ধু গল্পের উৎস
দেশে-বিদেশে গ্রন্থের পঞ্চদশ পরিচ্ছেদ, আফগানিস্তানে লেখকের অভিজ্ঞতা নিয়ে রচিত রম্য ভ্রমণকাহিনি।
প্রবাস বন্ধু গল্পের মূল চরিত্র কারা?
– **লেখক (সৈয়দ মুজতবা আলী)** — কাবুলের কৃষিবিজ্ঞান কলেজে অধ্যাপক, রসবোধসম্পন্ন পর্যবেক্ষক।
– **আবদুর রহমান** — লেখকের বিশালদেহী, সরল, অতিথিপরায়ণ ভৃত্য-রাঁধুনি, পানশিরের অধিবাসী।
– **মশিয়ে জিরার** — কলেজের ফরাসি অধ্যক্ষ।
ঘটনার ধারা
- কাবুলের কাছে খাজামোল্লা গ্রামে বাসা ও ভৃত্য আবদুর রহমান প্রাপ্তি; তার বিশাল দৈহিক গঠনের বর্ণনা।
- আবদুর রহমানের পূর্ব অভিজ্ঞতা (পল্টনের মেস), রান্নার দক্ষতা ও বরফ সংগ্রহের কৌশল সম্পর্কে কথোপকথন।
- কাবুল শহরে হাঁটা, পথে আবদুর রহমানের ভারী বোঝা বহন, জিরার সাহেবের ধমক।
- রাতের ভোজে বিপুল পরিমাণ খাবার— কোরমা, কাবাব, পোলাও, রোস্ট মুরগি, ফালুদা, বরফি আঙুর, কাবুলি চা।
- আবদুর রহমানের মন খারাপ (রান্না পছন্দ না হওয়ার ভুল ধারণা) ও লেখকের ব্যাখ্যা।
- আবদুর রহমানের স্বদেশ পানশিরের অতিরঞ্জিত অথচ কাব্যিক বর্ণনা— প্রাচুর্য, তুষারপাত, পরিষ্কার বাতাস।
- লেখকের রসিকতাপূর্ণ সিদ্ধান্ত— পানশিরে শীত কাটাবেন, তবে আবদুর রহমানকে খুশি করতে নয়, নিজের রান্নার ব্যবস্থা বজায় রাখতেই।
প্রবাস বন্ধু গল্পের মূল ভাব কী?
আফগানিস্তানের ভূমি, পরিবেশ ও মানুষের সহজ-সরল জীবনাচরণের হাস্যরসাত্মক চিত্র— আবদুর রহমান চরিত্রে সারল্য, স্বদেশপ্রেম ও অতিথিপরায়ণতার প্রতিচ্ছবি ফুটে উঠেছে, যা আন্তর্জাতিক প্রেক্ষাপটে ভিন্ন সংস্কৃতি ও জীবনবোধ সম্পর্কে পাঠকের দৃষ্টি প্রসারিত করে।
প্রবাস বন্ধু গল্পের গুরুত্বপূর্ণ শব্দার্থ
নরদানব (বিশালদেহী মানুষ, আদরার্থে), মর্তমান কলা (একধরনের কলা), তাগদ (শক্তি), তন্বী (ক্ষীণ দেহ), বপু (বড় দেহ), বারকোশ (কানা উঁচু থালা), উত্তমার্ধ (স্ত্রী), ব্রহ্মরন্ধ্র (তালুর কেন্দ্রবিন্দু)।
লেখক পরিচিতি বিষয়ক MCQ
১। সৈয়দ মুজতবা আলী কত খ্রিষ্টাব্দে জন্মগ্রহণ করেন?
- ক. ১৯০৫
- খ. ১৯০৪
- গ. ১৯০৩
- ঘ. ১৯০২
উত্তর: খ। তিনি ১৩ই সেপ্টেম্বর, ১৯০৪ খ্রিষ্টাব্দে জন্মগ্রহণ করেন।
২। সৈয়দ মুজতবা আলীর জন্মস্থান কোথায়?
- ক. ঢাকা
- খ. কলকাতা
- গ. চট্টগ্রাম
- ঘ. আসামভুক্ত শ্রীহট্টের করিমগঞ্জ
উত্তর: ঘ। তৎকালীন আসামভুক্ত শ্রীহট্টের করিমগঞ্জে তিনি জন্মগ্রহণ করেন।
৩। সৈয়দ মুজতবা আলী কোথা থেকে স্নাতক ডিগ্রি অর্জন করেন?
- ক. কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়
- খ. আলীগড় বিশ্ববিদ্যালয়
- গ. ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়
- ঘ. বিশ্বভারতী
উত্তর: ঘ। ১৯২৬ সালে বিশ্বভারতী থেকে তিনি স্নাতক ডিগ্রি অর্জন করেন।
৪। সৈয়দ মুজতবা আলীর কর্মজীবন কোথায় শুরু হয়?
- ক. আফগানিস্তানে কাবুলের কৃষিবিজ্ঞান কলেজে
- খ. জার্মানিতে
- গ. বাংলাদেশে
- ঘ. মিশরে
উত্তর: ক। আফগানিস্তানে কাবুলের কৃষিবিজ্ঞান কলেজে অধ্যাপনা দিয়ে তাঁর কর্মজীবন শুরু হয়।
৫। সৈয়দ মুজতবা আলী কোন বিশ্ববিদ্যালয় থেকে ডক্টরেট ডিগ্রি লাভ করেন?
- ক. অক্সফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয়
- খ. কায়রো বিশ্ববিদ্যালয়
- গ. বন বিশ্ববিদ্যালয়
- ঘ. বার্লিন বিশ্ববিদ্যালয়
উত্তর: গ। ১৯৩২ সালে তিনি বন বিশ্ববিদ্যালয় থেকে ডক্টরেট ডিগ্রি লাভ করেন।
৬। সৈয়দ মুজতবা আলী কত সালে বগুড়ার আজিজুল হক কলেজে অধ্যক্ষ হিসেবে যোগদান করেন?
- ক. ১৯৪৭
- খ. ১৯৪৮
- গ. ১৯৪৯
- ঘ. ১৯৫০
উত্তর: গ। ১৯৪৯ খ্রিষ্টাব্দে তিনি বগুড়ার আজিজুল হক কলেজে অধ্যক্ষ হিসেবে যোগদান করেন।
৭। কেন সৈয়দ মুজতবা আলীকে আজিজুল হক কলেজের চাকরি ছাড়তে হয়?
- ক. অসুস্থতার কারণে
- খ. বিদেশে চলে যাওয়ায়
- গ. বয়সসীমা পার হওয়ায়
- ঘ. পাকিস্তান সরকারের বিরুদ্ধে প্রবন্ধ লেখার অভিযোগে
উত্তর: ঘ। পাকিস্তান সরকারের বিরুদ্ধে প্রবন্ধ লেখার অভিযোগে তাঁকে চাকরি ছাড়তে হয়।
৮। নিচের কোনটি সৈয়দ মুজতবা আলীর রচনা নয়?
- ক. কুহেলিকা
- খ. দেশে-বিদেশে
- গ. পঞ্চতন্ত্র
- ঘ. চাচা কাহিনী
উত্তর: ক। কুহেলিকা কাজী নজরুল ইসলামের রচনা; বাকি তিনটি সৈয়দ মুজতবা আলীর রচনা।
৯। সৈয়দ মুজতবা আলী কত সালে মৃত্যুবরণ করেন?
- ক. ১৯৭৫
- খ. ১৯৭৩
- গ. ১৯৭২
- ঘ. ১৯৭৪
উত্তর: ঘ। ১১ই ফেব্রুয়ারি, ১৯৭৪ খ্রিষ্টাব্দে ঢাকায় তিনি মৃত্যুবরণ করেন।
প্রবাস বন্ধু গল্পের বহুনির্বাচনি প্রশ্ন ও উত্তর (MCQ)
১০। ‘প্রবাস বন্ধু’ রচনাটি সৈয়দ মুজতবা আলীর কোন গ্রন্থের অংশ?
- ক. চাচা কাহিনী
- খ. পঞ্চতন্ত্র
- গ. দেশে-বিদেশে
- ঘ. শবনম
উত্তর: গ। ‘প্রবাস বন্ধু’ সৈয়দ মুজতবা আলীর দেশে বিদেশে গ্রন্থের পঞ্চদশ পরিচ্ছেদ।
১১। রচনাটি মূলত কোন দেশের অভিজ্ঞতা নিয়ে লেখা?
- ক. পাকিস্তান
- খ. মিশর
- গ. জার্মানি
- ঘ. আফগানিস্তান
উত্তর: ঘ। এটি লেখকের আফগানিস্তান বাসের আংশিক অভিজ্ঞতার বর্ণনা।
১২। লেখক কাবুল থেকে কত দূরে বাসা পেয়েছিলেন?
- ক. এক মাইল
- খ. আড়াই মাইল
- গ. দশ মাইল
- ঘ. পাঁচ মাইল
উত্তর: খ। লেখক কাবুল থেকে আড়াই মাইল দূরে খাজামোল্লা গ্রামে বাসা পান।
১৩। বাসার সাথে সাথে লেখক আর কী পান?
- ক. একটি গাড়ি
- খ. একটি বাগান
- গ. একটি ঘোড়া
- ঘ. একজন চাকর
উত্তর: ঘ। বাসার সঙ্গে সঙ্গে লেখক একজন চাকরও পান, নাম আবদুর রহমান।
১৪। অধ্যক্ষ জিরার কোন দেশের অধিবাসী ছিলেন?
- ক. ইংল্যান্ড
- খ. জার্মানি
- গ. আফগানিস্তান
- ঘ. ফ্রান্স
উত্তর: ঘ। অধ্যক্ষ জিরা জাতে ফরাসি ছিলেন।
১৫। জিরার সাহেব আবদুর রহমান সম্পর্কে কী বলেছিলেন?
- ক. সে বিশ্বস্ত নয়
- খ. সে অলস
- গ. সে নতুন কাজে যোগ দিয়েছে
- ঘ. সব কাজ করে দেবে, এমনকি খুনখারাবিও
উত্তর: ঘ। জিরার সাহেব বলেন, আবদুর রহমান সব কাজ করে দেবে— জুতো বুরুশ থেকে খুনখারাবি— অর্থাৎ সে ‘হরফুন-মৌলা’ বা সকল কাজের কাজি।
১৬। কাবুলে জিরার সাহেবের ‘কাজ’ বলতে কী বোঝানো হয়েছে?
- ক. বাণিজ্য করা
- খ. মন্ত্রীর দপ্তরে ঝগড়া-বচসা করা
- গ. খামারে কাজ করা
- ঘ. পড়াশোনা করা
উত্তর: খ। লেখক রসিকতা করে বলেন, কাবুলে সমস্ত দিন কোনো-না-কোনো মন্ত্রীর দপ্তরে ঝগড়া-বচসা করাকেই ‘কাজ’ বলা হয়।
১৭। লেখক আবদুর রহমানকে কী বলে অভিহিত করেছেন?
- ক. দৈত্য
- খ. পালোয়ান
- গ. নরদানব
- ঘ. রাক্ষস
উত্তর: গ। লেখক তাকে আদরার্থে ‘নরদানব’ বলে অভিহিত করেছেন— অর্থাৎ মানুষের মতো দেখতে ভয়ংকর বিশালদেহী মানুষ।
১৮। আবদুর রহমানের উচ্চতা কত ছিল, যা ফিতে দিয়ে মেপে দেখা হয়েছিল?
- ক. ছ ফুট চার ইঞ্চি
- খ. পাঁচ ফুট দশ ইঞ্চি
- গ. ছ ফুট
- ঘ. সাত ফুট
উত্তর: ক। ফিতে দিয়ে মেপে দেখা যায়, আবদুর রহমানের উচ্চতা ছ ফুট চার ইঞ্চি।
১৯। লেখক আবদুর রহমানের হাত সম্পর্কে কী বর্ণনা দেন?
- ক. অত্যন্ত ছোট হাত
- খ. হাত অসুস্থ দেখাচ্ছিল
- গ. হাতে আঘাতের চিহ্ন ছিল
- ঘ. দুখানা হাত হাঁটু পর্যন্ত নেমে এসেছে
উত্তর: ঘ। তাঁর দুখানা হাত হাঁটু পর্যন্ত নেমে এসেছিল, আঙুলগুলো মর্তমান কলার মতো ঝুলছিল।
২০। লেখক বলেন, আবদুর রহমান যদি আমির আবদুর রহমান হতেন তাহলে কী করতে পারতেন?
- ক. একটি সেনাবাহিনী গঠন করতে পারতেন
- খ. একটি শহর শাসন করতে পারতেন
- গ. অনায়াসে গোটা আফগানিস্তানের ভার বইতে পারতেন
- ঘ. একটি বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠা করতে পারতেন
উত্তর: গ। তাঁর প্রশস্ত কাঁধ দেখে লেখকের মনে হয়েছিল তিনি অনায়াসে গোটা আফগানিস্তানের ভার বইতে পারতেন— একটি রসিকতাপূর্ণ অতিশয়োক্তি।
২১। আবদুর রহমানের ত্বক সম্পর্কে কী বর্ণনা দেওয়া হয়েছে?
- ক. খুব কালো
- খ. অত্যন্ত মসৃণ
- গ. শিশুর মতো কোমল
- ঘ. রিলিফ ম্যাপের মতো ফাটা-চেরা চেহারা
উত্তর: ঘ। ফর্সা রং হলেও শীত-গ্রীষ্মে ত্বক এমনভাবে ফেটে গিয়েছিল যে তা আফগানিস্তানের রিলিফ ম্যাপের মতো দেখাচ্ছিল।
২২। আবদুর রহমান গুরুজনদের দিকে কেন সরাসরি তাকাত না?
- ক. আফগানিস্তানেও এমন একটি সংস্কার আছে বলে
- খ. সে লাজুক ছিল বলে
- গ. সে দৃষ্টিশক্তির সমস্যায় ভুগছিল বলে
- ঘ. সে ভয় পেত বলে
উত্তর: ক। লেখক বলেন, গুরুজনদের দিকে সরাসরি না তাকানোর একটি সংস্কার আফগানিস্তানেও প্রচলিত আছে।
২৩। আবদুর রহমান পূর্বে কোথায় কাজ করত?
- ক. একটি হোটেলে
- খ. একটি খামারে
- গ. একটি বাজারে
- ঘ. পল্টনে, মেসের চার্জে
উত্তর: ঘ। আবদুর রহমান জানায়, সে পল্টনে মেসের চার্জে ছিল, এক মাস হলো খালাস পেয়েছে।
২৪। আবদুর রহমান কী কী রান্না করতে জানত বলে জানায়?
- ক. শুধু ভাত-ডাল
- খ. পোলাও, কোরমা, কাবাব, ফালুদা
- গ. শুধু স্যুপ
- ঘ. শুধু রুটি
উত্তর: খ। সে জানায় সে পোলাও, কোরমা, কাবাব, ফালুদা রান্না করতে জানে।
২৫। বরফ কোথা থেকে আসে বলে আবদুর রহমান জানায়?
- ক. নদী থেকে সংগ্রহ করা হয়
- খ. পাগমানের পাহাড়ের গর্তে জমানো বরফ থেকে
- গ. বাজার থেকে কিনে আনা হয়
- ঘ. কল দিয়ে তৈরি করা হয়
উত্তর: খ। শীতকালে পাগমানের পাহাড়ের নিচে বড়ো গর্তে বরফ ভর্তি করে রাখা হয়, পরে তা খুঁড়ে গাধা বোঝাই করে আনা হয়।
২৬। কাবুল যাওয়ার পথে লেখক আবদুর রহমানকে কী অবস্থায় দেখেন?
- ক. অন্য কারো সাথে ঝগড়া করতে
- খ. পর্বতপ্রমাণ বোঝা বহন করে ফিরতে
- গ. ঘুমিয়ে থাকতে
- ঘ. বিশ্রাম নিতে
উত্তর: খ। পথে লেখক দেখেন আবদুর রহমান এক পর্বতপ্রমাণ বোঝা নিয়ে ফিরে আসছে।
২৭। মুটে ভাড়া না করে নিজে বোঝা বহনের কারণ হিসেবে আবদুর রহমান কী বলে?
- ক. মুটে পাওয়া যায়নি
- খ. সে মুটেদের বিশ্বাস করে না
- গ. নিজে না পারা বোঝা অন্যে বইবে কেন
- ঘ. তার কাছে টাকা ছিল না
উত্তর: গ। আবদুর রহমানের যুক্তি ছিল, যে বোঝা সে নিজেই বইতে পারে, সেজন্য আলাদা মুটে ভাড়া করার কোনো প্রয়োজন নেই।
২৮। মশিয়ে জিরার লেখককে কেন ধমক দেন?
- ক. দেরি করার জন্য
- খ. নিশাচর হওয়ার তাগদ ও হাতিয়ার নেই বলে
- গ. খরচ করার জন্য
- ঘ. আবদুর রহমানকে নিয়োগ দেওয়ার জন্য
উত্তর: খ। জিরার সাহেব বলেন, কাবুল শহরে রাতে ঘোরাফেরা করতে হলে যে শক্তি ও অস্ত্রের প্রয়োজন, তার একটিও লেখকের নেই।
২৯। জিরার সাহেবের স্ত্রী তাঁর কথায় কীভাবে সায় দেন?
- ক. চুপ থেকে
- খ. ‘উই, সার্টেনমাঁ, এভিডামাঁ’ বলে
- গ. হেসে
- ঘ. মাথা নেড়ে
উত্তর: খ। জিরার সাহেবের স্ত্রী ফরাসি ভাষায় ‘উই, সার্টেনমাঁ, এভিডামাঁ’ (অবশ্যই, নিশ্চিতভাবে, স্পষ্টতই) বলে সায় দেন।
৩০। বাড়ি ফিরে লেখক প্রথমে ঘুমিয়ে পড়ার পর কীসের শব্দে ঘুম ভাঙে?
- ক. দরজার শব্দে
- খ. বৃষ্টির শব্দে
- গ. পাখির ডাকে
- ঘ. আবদুর রহমান পানির পাত্র নিয়ে আসার শব্দে
উত্তর: ঘ। আবদুর রহমান মুখ ধোয়ার জন্য আফতাবে বা ধারাযন্ত্র নিয়ে সামনে দাঁড়ানোর শব্দে লেখকের ঘুম ভাঙে।
৩১। মুখ ধোয়ার পানি সম্পর্কে লেখকের প্রতিক্রিয়া কী ছিল?
- ক. পানি অত্যন্ত গরম ছিল
- খ. পানি অপর্যাপ্ত ছিল
- গ. পানি নোংরা ছিল
- ঘ. ঠান্ডা জলে মুখও রিলিফ ম্যাপের মতো হবে ভেবে
উত্তর: ঘ। গ্রীষ্মকাল হলেও কাবুল নদীর বরফ-গলা পানিতে মুখ ধুয়ে লেখকের মনে হয় তাঁর মুখও আফগানিস্তানের রিলিফ ম্যাপের মতো হয়ে যাবে।
৩২। খানা টেবিলে লেখক প্রথমে কী দেখতে পান?
- ক. খালি টেবিল
- খ. শুধু রুটি ও পানি
- গ. সাধারণ পরিমাণ খাবার
- ঘ. বিপুল পরিমাণ দুম্বার মাংসের কোরমা
উত্তর: ঘ। গামলাভর্তি প্রায় সের-খানেক দুম্বার মাংসের কোরমা, আটটি শামী-কাবাব, কোফতা-পোলাও ও একটি আস্ত মুরগি-রোস্ট দেখে লেখক হতবাক হয়ে যান।
৩৩। এত খাবার দেখে হতবাক হওয়া লেখককে আবদুর রহমান কী বলে আশ্বস্ত করে?
- ক. এটা ভুলবশত রান্না হয়েছে
- খ. এটাই সব খাবার
- গ. এটা অতিথিদের জন্য
- ঘ. রান্নাঘরে আরও আছে
উত্তর: ঘ। লেখককে থ হয়ে দাঁড়িয়ে থাকতে দেখে আবদুর রহমান তাড়াতাড়ি বলে, রান্নাঘরে আরও আছে।
**৩৪। খাবার প্রসঙ্গে নিচের তথ্যগুলো লক্ষ করো —**
i. আবদুর রহমান লেখকের খাওয়া তন্ময় হয়ে লক্ষ করছিল
ii. লেখক ফালুদা পছন্দ করতেন
iii. আবদুর রহমান আঙুরকে বরফে ঘষে ঠান্ডা করছিল
নিচের কোনটি সঠিক?
ক. i ও ii খ. i ও iii গ. ii ও iii ঘ. i, ii ও iii
**উত্তর: খ।** প্রথম ও তৃতীয় তথ্য সঠিক, কিন্তু লেখক আসলে মিষ্টি পছন্দ করতেন না, তাই ফালুদা প্রত্যাখ্যান করেছিলেন— তাই দ্বিতীয় তথ্যটি ভুল।
৩৫। ‘বাগেবালার বরফি আঙুর’ সম্পর্কে আবদুর রহমান কী বলে?
- ক. এটি বিদেশ থেকে আমদানি করা হয়
- খ. এটি খুবই ব্যয়বহুল
- গ. এটি বিরল
- ঘ. তামাম আফগানিস্তানে এটি মশহুর
উত্তর: ঘ। আবদুর রহমান জানায়, বাগেবালার এই বরফি আঙুর তামাম (সমস্ত) আফগানিস্তানে মশহুর (বিখ্যাত)।
৩৬। আবদুর রহমান কেন আঙুরগুলো বরফের টুকরোয় ঘষছিল?
- ক. তা পরিষ্কার করার জন্য
- খ. তার রং বদলানোর জন্য
- গ. বরফ-ঢাকা থাকা সত্ত্বেও আঙুর যথেষ্ট ঠান্ডা হয়নি বলে
- ঘ. তা খোসা ছাড়ানোর জন্য
উত্তর: গ। আঙুর যথেষ্ট হিম না হওয়ায় আবদুর রহমান মেয়েদের আচারের লেবু শিলে ঘষার মতো কায়দায় আঙুর বরফে ঘষছিল।
৩৭। কাবুলি সবুজ চা সম্পর্কে কী বর্ণনা দেওয়া হয়েছে?
- ক. এতে দুধ দেওয়া হয়
- খ. দুধ ছাড়া, প্রথম পেয়ালায় চিনি দিয়ে
- গ. এটি লাল রঙের
- ঘ. এটি খুব তেতো
উত্তর: খ। কাবুলি সবুজ চায়ে দুধ দেওয়া হয় না, শুধু প্রথম পেয়ালায় চিনি দেওয়া হয়, পরের পেয়ালাগুলোয় নয়।
৩৮। কাবুলিরা সাধারণত কত পেয়ালা চা খায়?
- ক. ছয় পেয়ালা
- খ. চার পেয়ালা
- গ. দুই পেয়ালা
- ঘ. আট পেয়ালা
উত্তর: ক। কাবুলিরা সাধারণত পেয়ালা ছয়েক চা খায়, যদিও পেয়ালাগুলো আকারে খুব ছোট, কফির পাত্রের মতো।
৩৯। চা খাওয়ার পর আবদুর রহমান কী নিয়ে ফিরে আসে?
- ক. একটি বই
- খ. বাদাম ও আখরোট এবং হাতুড়ি
- গ. আরও খাবার
- ঘ. ফুল
উত্তর: খ। আবদুর রহমান এক হাতে বাদাম-আখরোটের থলে, অন্য হাতে হাতুড়ি নিয়ে ফিরে আসে এবং খোসা ছাড়াতে বসে।
৪০। আবদুর রহমান কেন মন খারাপ করে লেখককে জিজ্ঞেস করে তার রান্না পছন্দ হয়নি কিনা?
- ক. লেখক ভালো করে খাননি বলে
- খ. লেখক তাকে বকা দিয়েছিলেন বলে
- গ. খাবার পুড়ে গিয়েছিল বলে
- ঘ. খাবারে লবণ কম ছিল বলে
উত্তর: ক। লেখক অতটা খাবার শেষ করতে পারেননি দেখে আবদুর রহমান মাথা নিচু করে জিজ্ঞেস করে তার রান্না পছন্দ হয়নি কিনা।
৪১। লেখক আবদুর রহমানকে কীভাবে বোঝান যে সমস্যাটা রান্নায় নয়?
- ক. তিনি মিথ্যা বলেন
- খ. নিজের ও আবদুর রহমানের দেহের আকার তুলনা করে
- গ. তিনি অসুস্থ বলে জানান
- ঘ. তিনি বিষয়টি এড়িয়ে যান
উত্তর: খ। লেখক বলেন, তার ‘বপু’র সাথে নিজের ‘তনু’ মিলিয়ে দেখলেই বোঝা যাবে তার পক্ষে কতটা খাওয়া সম্ভব।
৪২। আবদুর রহমান কাবুলের আবহাওয়া সম্পর্কে কী মন্তব্য করে?
- ক. এটি স্বাস্থ্যকর
- খ. এটি খুব আরামদায়ক
- গ. পানি পাথরের মতো, হাওয়া আগুনের হল্কার মতো
- ঘ. এটি নাতিশীতোষ্ণ
উত্তর: গ। আবদুর রহমান বলে, কাবুলের পানি গালানো পাথরের মতো ভারী আর হাওয়া আতসবাজির হল্কার মতো, তাই মানুষের ক্ষিদে হয় না।
৪৩। আবদুর রহমানের নিজের দেশ কোনটি?
- ক. কাবুল
- খ. হেরাত
- গ. পানশির (উত্তর-আফগানিস্তান)
- ঘ. পাগমান
উত্তর: গ। আবদুর রহমানের নিজের দেশ পানশির, যা উত্তর-আফগানিস্তানে অবস্থিত।
৪৪। পানশির সম্পর্কে আবদুর রহমান কী দাবি করে?
- ক. সেখানে জনবসতি নেই
- খ. সেখানে খাবারের অভাব আছে
- গ. সেখানে কোনো বরফ পড়ে না
- ঘ. আস্ত দুম্বা খেয়েও আবার ক্ষিদে পায় (অতিরঞ্জন)
উত্তর: ঘ। আবদুর রহমান দাবি করে, পানশিরে একটা আস্ত দুম্বা খেয়েও আবার ক্ষিদে পায়, আর সেখানকার মানুষ যেন বাতাসের ওপর ভর করে উড়ে চলে যায়।
৪৫। শীতকালে পানশিরে মানুষ কীভাবে সময় কাটায় বলে আবদুর রহমান বর্ণনা করে?
- ক. বাজারে বেচাকেনা করে
- খ. কম্বলমুড়ি দিয়ে বরফ পড়া দেখে
- গ. মাঠে কাজ করে
- ঘ. ভ্রমণে বের হয়
উত্তর: খ। শীতকালে ক্ষেত-খামারের কাজ বন্ধ থাকায় মানুষ লোহার বারকোশে আঙার জ্বালিয়ে কম্বলের তলায় বসে দিনের পর দিন জানালা দিয়ে বরফ পড়া দেখে।
৪৬। লেখক ‘সাত দিন জানালার কাছে বসে থাকব?’ বলায় আবদুর রহমানের প্রতিক্রিয়া কী হয়?
- ক. করুণভাবে তাকায়, অপদস্থ বোধ করে
- খ. সে বিষয়টি এড়িয়ে যায়
- গ. সে হেসে ফেলে
- ঘ. সে রেগে যায়
উত্তর: ক। আবদুর রহমান লেখকের এই নিরুৎসাহী প্রতিক্রিয়ায় করুণভাবে তাকায়, মনে হয় এমন বেরসিকের পাল্লায় সে জীবনে এত অপদস্থ হয়নি।
৪৭। তুষারঝড়ের সবচেয়ে বিপজ্জনক রূপ সম্পর্কে আবদুর রহমান কী বলে?
- ক. এতে কোনো বিপদ নেই
- খ. এটি সবসময় নিরাপদ
- গ. এটি শুধু রাতে হয়
- ঘ. ট্রেনের শিটির মতো শব্দে মানুষ হারিয়ে যেতে পারে
উত্তর: ঘ। আবদুর রহমান বর্ণনা করে, ঘুটঘুটে অন্ধকার ও ট্রেনের শিটির মতো শব্দসহ ঝড়ে মানুষ হারিয়ে যেতে পারে বা বরফে চাপা পড়ে যেতে পারে, যদিও বরফের নিচে দুদিন পরও মানুষ জীবিত পাওয়া গেছে।
৪৮। বরফ পড়া বন্ধ হওয়ার পরের সকালের বর্ণনায় কী বলা হয়েছে?
- ক. আকাশ মেঘলা থাকে
- খ. সূর্যের আলো তীব্র বলে কালো চশমা পরতে হয়
- গ. রাস্তা কর্দমাক্ত হয়ে থাকে
- ঘ. তুষারপাত আবার শুরু হয়
উত্তর: খ। বরফ পড়া বন্ধ হলে সাদা বরফের ওপর সূর্যের তীব্র আলোর কারণে কালো চশমা পরেই তখন বেরোতে হয়।
৪৯। সেই পরিষ্কার হাওয়া সম্পর্কে আবদুর রহমান কী দাবি করে?
- ক. এতে ধুলাবালি বেশি থাকে
- খ. এটি ক্ষতিকর
- গ. এতে অক্সিজেনের অভাব থাকে
- ঘ. প্রতিটি নিঃশ্বাসে আয়ু বাড়ে, শতাধিক রোগ দূর হয়
উত্তর: ঘ। আবদুর রহমান অতিশয়োক্তি করে বলে, প্রতিটি দমে এক বছর করে আয়ু বাড়বে, আর প্রতিবার নিঃশ্বাস ফেলায় একশটা রোগ বেরিয়ে যাবে।
৫০। আবদুর রহমান কী শর্ত দেয় পানশির থেকে ফেরার পর?
- ক. লেখক যদি আস্ত দুম্বা খেতে না পারেন তবে সে তার গোঁফ কামিয়ে ফেলবে
- খ. লেখক যদি না যান তবে সে দুঃখ পাবে
- গ. লেখক যদি খুশি না হন তবে সে চাকরি ছেড়ে দেবে
- ঘ. লেখক যদি অসন্তুষ্ট হন তবে সে ক্ষমা চাইবে
উত্তর: ক। আবদুর রহমান দাবি করে, পানশির থেকে ফিরে লেখক যদি আস্ত দুম্বা খেতে না পারেন, তবে সে তার গোঁফ কামিয়ে ফেলবে।
৫১। লেখক শেষে পানশিরে শীতকাল কাটানোর সিদ্ধান্তের কারণ হিসেবে কী বলেন?
- ক. নিজের প্রাণ বাঁচাবার জন্য (ক্ষুধা বাড়ানোর জন্য)
- খ. আবদুর রহমানের পরিবারের সাথে দেখা করতে
- গ. আবদুর রহমানকে খুশি করার জন্য
- ঘ. প্রকৃতি দেখার জন্য
উত্তর: ক। লেখক স্পষ্ট বলেন, আবদুর রহমানের খুশির জন্য নয়, বরং নিজের প্রাণ বাঁচাবার জন্যই তিনি এই সিদ্ধান্ত নিয়েছেন— একটি রসিকতাপূর্ণ উপসংহার।
৫২। গল্পের একেবারে শেষ পঙক্তির রসিকতাটি কী নিয়ে?
- ক. আবদুর রহমানের রান্নার প্রশংসা
- খ. জিরার সাহেবের ধমক
- গ. সাত দিন বসে থাকলে রান্না কে করবে
- ঘ. পানশিরের সৌন্দর্য
উত্তর: গ। লেখক শেষে রসিকতা করে বলেন, আবদুর রহমান যদি সারা শীতকাল জানালার পাশে বসে বরফ দেখে কাটায়, তাহলে তার রান্না করবে কে— এই ব্যবহারিক প্রশ্নেই গল্পের হাস্যরসাত্মক সমাপ্তি।
৫৩। ‘নরদানব’ শব্দের অর্থ কী?
- ক. বিশালদেহী, ভয়ংকর দর্শন মানুষ
- খ. একজন যোদ্ধা
- গ. একটি পৌরাণিক প্রাণী
- ঘ. একজন সাধারণ মানুষ
উত্তর: ক। নরদানব অর্থ মানুষের মতো দেখতে ভয়ংকর জন্তু— এখানে আদরার্থে বিশালদেহী মানুষ বোঝানো হয়েছে।
৫৪। ‘তন্বী’ ও ‘বপু’ শব্দ দুটির অর্থের মধ্যে পার্থক্য কী?
- ক. তন্বী অর্থ বড় দেহ, বপু অর্থ ক্ষীণ দেহ
- খ. দুটোরই একই অর্থ
- গ. তন্বী অর্থ ক্ষীণ দেহ, বপু অর্থ বড় দেহ
- ঘ. দুটোই তিরস্কার বোঝায়
উত্তর: গ। তন্বী অর্থ ক্ষীণ দেহ, আর বপু অর্থ বড় দেহ— লেখক নিজের ‘তনু’ ও আবদুর রহমানের ‘বপু’র তুলনা করে রসিকতা করেছেন।
৫৫। ‘উত্তমার্ধ’ শব্দের অর্থ কী?
- ক. একটি খাবারের নাম
- খ. স্ত্রী, সহধর্মিণী
- গ. একটি সময়কাল
- ঘ. সেরা বন্ধু
উত্তর: খ। উত্তমার্ধ অর্থ স্ত্রী বা সহধর্মিণী— জিরার সাহেবের স্ত্রীকে বোঝাতে ব্যবহৃত হয়েছে।
