মানুষ মুহম্মদ (স.) প্রবন্ধের MCQ | SSC বাংলা ১ম পত্রের “মানুষ মুহম্মদ (স.)” প্রবন্ধ থেকে বোর্ড পরীক্ষায় নিয়মিত প্রশ্ন আসে। এই পোস্টে প্রবন্ধের সারকথা ও ৫৪টি বহুনির্বাচনি প্রশ্ন (MCQ) উত্তর ও ব্যাখ্যাসহ দেওয়া হলো। জ্ঞানমূলক ও অনুধাবনমূলক প্রশ্নের জন্য মানুষ মুহম্মদ (স.) প্রবন্ধের নোট দেখুন।
মানুষ মুহম্মদ (স.) প্রবন্ধের সারকথা ও গুরুত্বপূর্ণ তথ্য
মানুষ মুহম্মদ (স.) প্রবন্ধের লেখক কে?
মোহাম্মদ ওয়াজেদ আলী (জন্ম ১৮৯৬, বাঁশদহ, সাতক্ষীরা; মৃত্যু ৮ নভেম্বর ১৯৫৪)। অসহযোগ আন্দোলনে যোগ দিয়ে লেখাপড়া ত্যাগ করে সাংবাদিকতা পেশা গ্রহণ করেন। উল্লেখযোগ্য গ্রন্থ: মরুভাস্কর, মহামানুষ মুহসীন, সৈয়দ আহমদ।
মানুষ মুহম্মদ (স.) প্রবন্ধের উৎস
মরুভাস্কর গ্রন্থ থেকে সংকলিত প্রবন্ধ।
প্রবন্ধের মূল অংশ
- হজরতের মৃত্যুসংবাদে মদিনায় শোক ও বিহ্বলতা; আবু বকর (রা.)-এর গম্ভীর ও বিচক্ষণ ভাষণে জনতা শান্ত হয়— হজরত রাসুল হলেও মানুষ, তাই মরণশীল।
- শৈশব থেকেই আল-আমিন (বিশ্বস্ত) হিসেবে পরিচিতি; বংশগৌরব নিয়ে কোনো অহংকার ছিল না।
- হিজরতের পথে উম্মে মা’বদের বর্ণনায় তাঁর অসাধারণ রূপ-সৌন্দর্যের চিত্র।
- তায়েফে নিষ্ঠুর নির্যাতনের পরেও অত্যাচারীদের জন্য ক্ষমা ও জ্ঞান প্রার্থনা।
- বদর-ওহোদ-আহজাব-খয়বরের যুদ্ধ, হুদায়বিয়া সন্ধি, মক্কা বিজয়ের প্রেক্ষাপটে তাঁর ধৈর্য ও সহনশীলতা।
- মক্কা বিজয়ের পর সবাইকে ক্ষমা করে মুক্ত ঘোষণা— প্রেমপূর্ণ প্রতিশোধ।
- সাফা পর্বতে ভীত ব্যক্তিকে সান্ত্বনা: “আমি রাজা নই, সম্রাট নই”— গভীর বিনয়ের দৃষ্টান্ত।
- অন্ধ ব্যক্তির প্রতি সামান্য বিরক্তির ত্রুটি কুরআনের বাণীর মাধ্যমে স্বীকার ও প্রচার।
- স্বেচ্ছায় দারিদ্র্য বরণ করে সাধারণ মানুষের মতো জীবনযাপন, বিবি আয়েশা (রা.)-এর গভীর শোকে মৃত্যু-পরবর্তী বর্ণনা।
মানুষ মুহম্মদ (স.) প্রবন্ধের মূল ভাব কী?
ক্ষমতা, ঐশ্বর্য ও অগাধ ভালোবাসার মধ্যে থেকেও হজরত মুহম্মদ (স.) একজন সাধারণ মানুষের মতো জীবনযাপন করে গেছেন— ত্যাগ, প্রেম, ক্ষমা, বিনয় ও সহনশীলতার এই সমন্বিত আদর্শই তাঁকে মানবজাতির শ্রেষ্ঠ অনুকরণীয় দৃষ্টান্তে পরিণত করেছে।
মানুষ মুহম্মদ (স.) প্রবন্ধের গুরুত্বপূর্ণ শব্দার্থ
আল-আমিন (বিশ্বস্ত), হিজরত (মক্কা ত্যাগ করে মদিনা যাত্রা), রাসুল (আল্লাহর প্রেরিত পুরুষ), স্থিতধী (স্থিরবুদ্ধিসম্পন্ন), অকুতোভয় (নির্ভয়), পূর্ণোদর (ভরপেট), কুসুমকোমল (ফুলের মতো নরম), লোষ্ট্রাঘাত (ঢিলের আঘাত)।
লেখক পরিচিতি বিষয়ক MCQ
১। মোহাম্মদ ওয়াজেদ আলী কত খ্রিষ্টাব্দে জন্মগ্রহণ করেন?
- ক. ১৮৯৭
- খ. ১৮৯৪
- গ. ১৮৯৬
- ঘ. ১৮৯৫
উত্তর: গ। তিনি ১৮৯৬ খ্রিষ্টাব্দে (২৯শে ভাদ্র ১৩০৩ বঙ্গাব্দ) জন্মগ্রহণ করেন।
২। মোহাম্মদ ওয়াজেদ আলীর জন্মস্থান কোথায়?
- ক. যশোর
- খ. খুলনা
- গ. বাঁশদহ, সাতক্ষীরা
- ঘ. ঢাকা
উত্তর: গ। সাতক্ষীরা জেলার বাঁশদহ গ্রামে তিনি জন্মগ্রহণ করেন।
৩। কোন আন্দোলনে যোগ দিয়ে তিনি তাঁর লেখাপড়ার সমাপ্তি ঘটান?
- ক. অসহযোগ আন্দোলন
- খ. ভাষা আন্দোলন
- গ. খেলাফত আন্দোলন
- ঘ. স্বদেশি আন্দোলন
উত্তর: ক। কলকাতা বঙ্গবাসী কলেজে বিএ ক্লাসের ছাত্র থাকাকালীন অসহযোগ আন্দোলনে যোগ দিয়ে তিনি লেখাপড়ার সমাপ্তি ঘটান।
৪। লেখাপড়া ছাড়ার পর তিনি কোন পেশা গ্রহণ করেন?
- ক. সাংবাদিকতা
- খ. শিক্ষকতা
- গ. আইন পেশা
- ঘ. চিকিৎসাবিদ্যা
উত্তর: ক। তিনি সাংবাদিকতাকে পেশা হিসেবে গ্রহণ করেন এবং একাধিক পত্রিকায় কর্মরত ছিলেন।
৫। নিচের কোনটি তাঁর কর্মস্থল পত্রিকা নয়?
- ক. সবুজপত্র
- খ. মাসিক মোহাম্মদী
- গ. দৈনিক সেবক
- ঘ. সাপ্তাহিক সওগাত
উত্তর: ক। সবুজপত্র প্রমথ চৌধুরীর সম্পাদিত পত্রিকা; বাকি তিনটি মোহাম্মদ ওয়াজেদ আলীর কর্মস্থল ছিল।
৬। নিচের কোনটি মোহাম্মদ ওয়াজেদ আলীর গ্রন্থ নয়?
- ক. মহামানুষ মুহসীন
- খ. মরুভাস্কর
- গ. বিষাদসিন্ধু
- ঘ. সৈয়দ আহমদ
উত্তর: গ। বিষাদসিন্ধু মীর মশাররফ হোসেনের রচনা; বাকি তিনটি মোহাম্মদ ওয়াজেদ আলীর রচনা।
৭। মোহাম্মদ ওয়াজেদ আলী কত সালে কলকাতা ছেড়ে বাঁশদহে ফিরে আসেন?
- ক. ১৯৩৬
- খ. ১৯৩৫
- গ. ১৯৩৪
- ঘ. ১৯৩৩
উত্তর: খ। স্বাস্থ্যগত কারণে তিনি ১৯৩৫ খ্রিষ্টাব্দে কলকাতা ছেড়ে বাঁশদহে ফিরে আসেন।
৮। মোহাম্মদ ওয়াজেদ আলী কত সালে মৃত্যুবরণ করেন?
- ক. ১৯৫৩
- খ. ১৯৫৫
- গ. ১৯৫২
- ঘ. ১৯৫৪
উত্তর: ঘ। ১৯৫৪ খ্রিষ্টাব্দের ৮ই নভেম্বর তিনি বাঁশদহে মৃত্যুবরণ করেন।
মানুষ মুহম্মদ (স.) প্রবন্ধের বহুনির্বাচনি প্রশ্ন ও উত্তর (MCQ)
৯। ‘মানুষ মুহম্মদ (স.)’ প্রবন্ধটি কোন গ্রন্থ থেকে নেওয়া হয়েছে?
- ক. ছোটদের হযরত মুহম্মদ
- খ. স্বর্ণনন্দিনী
- গ. মহামানুষ মুহসীন
- ঘ. মরুভাস্কর
উত্তর: ঘ। এই প্রবন্ধ মোহাম্মদ ওয়াজেদ আলী রচিত মরুভাস্কর গ্রন্থ থেকে নেওয়া হয়েছে।
১০। প্রবন্ধে মূলত কী তুলে ধরা হয়েছে?
- ক. হজরতের মানবিক গুণাবলি
- খ. যুদ্ধের ইতিহাস
- গ. ধর্মীয় আইন
- ঘ. হজরতের রাজনৈতিক কৌশল
উত্তর: ক। প্রবন্ধে হজরত মুহম্মদ (স.)-এর মানবিক গুণাবলি— বিনয়, প্রেম, ক্ষমা ও সাধারণ মানুষের মতো জীবনযাপন বিশ্লেষণ করা হয়েছে।
১১। হজরতের মৃত্যুর খবর ছড়ালে মদিনায় প্রথম কী প্রতিক্রিয়া দেখা যায়?
- ক. কেউ কিছু বিশ্বাস করেনি
- খ. সবাই শান্ত ছিল
- গ. উৎসব শুরু হয়
- ঘ. মানুষ শোকবিহ্বল হয়ে পড়ে
উত্তর: ঘ। হজরতের মৃত্যুর কথা প্রচারিত হলে মদিনায় যেন আঁধার ঘনিয়ে আসে, কারও মুখে কথা সরে না, কেউ পাগলের মতো আচরণ শুরু করে।
১২। হজরত ওমর (রা.) মৃত্যুসংবাদ শুনে কী প্রতিক্রিয়া দেখান?
- ক. তিনি নীরবে মেনে নেন
- খ. তিনি কেঁদে ফেলেন
- গ. তিনি মদিনা ত্যাগ করেন
- ঘ. উলঙ্গ তরবারি হাতে হুমকি দেন
উত্তর: ঘ। বীরবাহু ওমর (রা.) উলঙ্গ তরবারি হাতে লাফিয়ে উঠে বলেন, যে বলবে হজরত মারা গেছেন, তার মাথা যাবে।
১৩। শোকার্ত জনতাকে কে শান্ত করেন?
- ক. খালিদ (রা.)
- খ. হজরত ওমর (রা.)
- গ. হজরত আবু বকর (রা.)
- ঘ. আয়েশা (রা.)
উত্তর: গ। মহামতি আবু বকর (রা.) গম্ভীরভাবে জনতার মধ্যে দাঁড়িয়ে বাস্তবতা তুলে ধরেন এবং তাঁদের শান্ত করেন।
১৪। আবু বকর (রা.) জনতাকে কী বলে বোঝান?
- ক. মদিনা ছেড়ে যেতে হবে
- খ. হজরত মৃত, আল্লাহ অমর বলে জানান
- গ. হজরতের মৃত্যু হয়নি
- ঘ. প্রতিশোধ নিতে হবে
উত্তর: খ। আবু বকর (রা.) বলেন, যারা হজরতের পূজা করত তারা জানুক তিনি মারা গেছেন, আর যারা আল্লাহর উপাসক তারা জানুক আল্লাহ অমর, অবিনশ্বর।
১৫। আবু বকর (রা.)-এর বক্তব্য শুনে হজরত ওমর (রা.)-এর প্রতিক্রিয়া কী হয়?
- ক. তিনি চলে যান
- খ. তিনি রেগে যান
- গ. শিথিল হয়ে মাটিতে লুটিয়ে পড়েন
- ঘ. তিনি হাসেন
উত্তর: গ। আবু বকর (রা.)-এর গম্ভীর উক্তিতে সকলের চৈতন্য হলে হজরত ওমর (রা.)-এর শিথিল অঙ্গ মাটিতে লুটিয়ে পড়ে, তাঁর হজরতের নিজের বাণী স্মরণ হয়।
**১৬। আবু বকর (রা.)-এর ভূমিকা নিয়ে নিচের তথ্যগুলো লক্ষ করো —**
i. তিনি হজরতের মৃত্যুশয্যার পাশে ছিলেন
ii. তিনি জনতাকে বুঝিয়েছিলেন হজরত রাসুল হলেও তিনি মানুষ, রক্ত-মাংসে গঠিত
iii. তিনি মৃত্যুসংবাদ প্রচার করতে নিষেধ করেছিলেন
নিচের কোনটি সঠিক?
ক. i ও ii খ. i ও iii গ. ii ও iii ঘ. i, ii ও iii
**উত্তর: ক।** প্রথম দুটি তথ্য সঠিক, কিন্তু আবু বকর (রা.) মৃত্যুসংবাদ প্রচার নিষেধ করেননি— বরং সত্যটি স্পষ্টভাবে স্বীকার করে জনতাকে শান্ত করেছিলেন; তাই তৃতীয় তথ্যটি ভুল।
১৭। হজরত কোন বংশে জন্মগ্রহণ করেছিলেন?
- ক. মদিনার বংশে
- খ. একটি সাধারণ বংশে
- গ. তায়েফের বংশে
- ঘ. মক্কার শ্রেষ্ঠ বংশে
উত্তর: ঘ। তিনি মক্কার শ্রেষ্ঠ বংশে জন্মগ্রহণ করেছিলেন, যদিও বংশগৌরব তাঁর সচেতন চিত্তে মুহূর্তের জন্যও স্থান পায়নি।
১৮। শৈশব থেকে হজরত কী নামে পরিচিত ছিলেন?
- ক. আল-আমিন
- খ. আল-মুস্তফা
- গ. আল-হাদি
- ঘ. আন-নূর
উত্তর: ক। আবাল্য তিনি ছিলেন আল-আমিন— বিশ্বস্ত, প্রিয়ভাষী ও সত্যবাদী হিসেবে পরিচিত।
১৯। হজরতের কোন গুণাবলি বিবি খাদিজা (রা.)-কে আকর্ষণ করেছিল?
- ক. তাঁর সম্পদ
- খ. তাঁর বংশমর্যাদা
- গ. তাঁর যোগ্যতা ও বিচারশক্তি
- ঘ. তাঁর বয়স
উত্তর: গ। তাঁর অসাধারণ যোগ্যতা, বুদ্ধি, বিচারশক্তি ও বলিষ্ঠ দেহ দেখে বিবি খাদিজা (রা.) আকৃষ্ট হয়েছিলেন।
২০। হিজরতের পথে হজরত কোন দম্পতির কুটিরে আশ্রয় নেন?
- ক. আবু বকর (রা.) ও তাঁর স্ত্রীর
- খ. খালিদ (রা.) ও তাঁর স্ত্রীর
- গ. আবু মা’বদ ও উম্মে মা’বদের
- ঘ. ওমর (রা.) ও তাঁর স্ত্রীর
উত্তর: গ। হিজরতের পথে তিনি পরহিতব্রতী দম্পতি আবু মা’বদ ও উম্মে মা’বদের কুটিরে আশ্রয় নেন।
২১। উম্মে মা’বদ হজরতের তৃষ্ণা কীভাবে দূর করেন?
- ক. মধু দিয়ে
- খ. জল দিয়ে
- গ. ছাগদুগ্ধ দিয়ে
- ঘ. ফলের রস দিয়ে
উত্তর: গ। উম্মে মা’বদ ছাগদুগ্ধ দিয়ে হজরতের তৃষ্ণা দূর করেছিলেন।
২২। উম্মে মা’বদ তাঁর স্বামীর কাছে হজরতের রূপের বর্ণনায় কী বলেছিলেন?
- ক. তিনি অপূর্ব রূপের অধিকারী ছিলেন
- খ. তিনি সাধারণ দর্শনের ছিলেন
- গ. তিনি অসুস্থ দেখাচ্ছিলেন
- ঘ. তিনি অত্যন্ত দীর্ঘকায় ছিলেন
উত্তর: ক। উম্মে মা’বদ বর্ণনা করেন, তিনি সুন্দর সুদর্শন পুরুষ, দীর্ঘ নন, খর্ব নন, কৃশ নন— এক অপূর্ব পুলকদীপ্তি তাঁর চোখেমুখে।
২৩। হজরতের চরিত্র সত্যের প্রশ্নে কেমন ছিল?
- ক. উদাসীন
- খ. সত্যের প্রশ্নে অটল
- গ. নমনীয় ও পরিবর্তনশীল
- ঘ. দুর্বল ও দ্বিধাগ্রস্ত
উত্তর: খ। সত্যের প্রশ্নে তিনি বজ্রের মতো কঠিন ও পর্বতের মতো অটল ছিলেন, কিন্তু করুণায় ছিলেন কুসুমকোমল।
২৪। তায়েফে সত্য প্রচার করতে গিয়ে হজরতকে কী সহ্য করতে হয়েছিল?
- ক. কারাবাস
- খ. উপহাস মাত্র
- গ. নির্বাসন
- ঘ. শত্রুর প্রস্তরাঘাতে রক্তাক্ত হন
উত্তর: ঘ। তায়েফে পথ চলতে শত্রুর প্রস্তরাঘাতে তিনি বারবার অবসন্ন হয়ে পড়েন, রক্তে তাঁর বসন ভিজে যায়, রক্ত পাদুকায় প্রবেশ করে জমে শক্ত হয়।
২৫। এই ভীষণ নির্যাতনের পরেও হজরতের প্রতিক্রিয়া কী ছিল?
- ক. তিনি নীরব থাকেন
- খ. তিনি তাদের জন্য ক্ষমা ও জ্ঞান প্রার্থনা করেন
- গ. তিনি অত্যাচারীদের অভিশাপ দেন
- ঘ. তিনি প্রতিশোধ নেওয়ার প্রতিজ্ঞা করেন
উত্তর: খ। তাঁর অন্তর ভেদ করে একটি মাত্র প্রার্থনার বাণী জাগে— “এদের জ্ঞান দাও প্রভু, এদের ক্ষমা কর।”
২৬। অভিসম্পাত করতে অনুরুদ্ধ হয়ে হজরত কী বলেন?
- ক. তিনি নীরব থাকেন
- খ. তিনি রাজি হন
- গ. তিনি অভিসম্পাত দিতে অস্বীকার করেন
- ঘ. তিনি রাগান্বিত হন
উত্তর: গ। তিনি বলেন, “না না, তাহা কখনই সম্ভব নয়। আমি ইসলামের বাহন, সত্যের প্রচারক”— বরং বলেন হয়তো আজকের বিরোধীদের বংশধরেরাই একদিন ইসলাম গ্রহণ করবে।
২৭। মক্কা থেকে মদিনায় হিজরতের সময় হজরত ও আবু বকর (রা.)-কে হত্যার জন্য কী ঘোষণা করা হয়েছিল?
- ক. সামাজিক বয়কট
- খ. বিপুল পুরস্কার
- গ. নির্বাসনের আদেশ
- ঘ. প্রকাশ্য বিচার
উত্তর: খ। তাঁদের ছিন্ন মুণ্ড আনার জন্য বিপুল পুরস্কারের লোভ দেখিয়ে হিংস্র শত শত ঘাতক পাঠানো হয়েছিল।
২৮। বদর, ওহোদ ও আহজাব যুদ্ধে মক্কাবাসী ও তাদের মিত্ররা কী চেষ্টা করেছিল?
- ক. ইসলাম নির্মূল করার চেষ্টা
- খ. বাণিজ্য বন্ধ করার
- গ. মদিনা দখল করার
- ঘ. সন্ধি স্থাপনের
উত্তর: ক। এই যুদ্ধগুলোতে তারা প্রাণপণ চেষ্টা করেছিল ইসলাম ও মুসলিমের চিহ্নটুকু পর্যন্ত পৃথিবী থেকে মুছে ফেলতে।
২৯। খয়বরের যুদ্ধে হজরতের পরাজয়ের মিথ্যা সংবাদ শুনে বিরোধীরা কী প্রতিক্রিয়া দেখায়?
- ক. তারা আনন্দে আত্মহারা হয়
- খ. তারা সন্ধি প্রস্তাব দেয়
- গ. তারা দুঃখ প্রকাশ করে
- ঘ. তারা ক্ষমা চায়
উত্তর: ক। হজরতের মৃত্যু সম্ভাবনার মিথ্যা সংবাদ শুনে তারা আনন্দে আত্মহারা হয়ে পড়ে।
৩০। হুদায়বিয়া সন্ধিতে কী ঘটেছিল?
- ক. মুসলিমদের অনুকূল শর্ত ছিল
- খ. মক্কা জয় হয়
- গ. যুদ্ধ ঘোষণা করা হয়
- ঘ. অপমানজনক শর্ত চাপানো হয়
উত্তর: ঘ। হজরতের শান্তিপ্রিয়তার সুযোগ নিয়ে মুসলিমদের স্কন্ধে ঘোর অপমানের শর্ত চাপিয়ে দেওয়া হয়, তারপরও বিশ্বাসঘাতকতার চেষ্টা করা হয়েছিল।
৩১। মক্কা বিজয়ের দিনও কার সাথে হাঙ্গামা বাধানো হয়েছিল?
- ক. আবু বকর (রা.)-এর
- খ. আয়েশা (রা.)-এর
- গ. খালিদ (রা.)-এর
- ঘ. ওমর (রা.)-এর
উত্তর: গ। হজরত বিজয়ী বেশে মক্কায় প্রবেশ করার দিনও যুদ্ধকামনা করে খালিদ (রা.)-এর সঙ্গে হাঙ্গামা বাধানো হয়েছিল।
৩২। মক্কা বিজয়ের পর হজরত বিরোধীদের সাথে কী আচরণ করেন?
- ক. সবাইকে ক্ষমা করে মুক্ত ঘোষণা করেন
- খ. সম্পত্তি বাজেয়াপ্ত করেন
- গ. নির্বাসনে পাঠান
- ঘ. কঠোর শাস্তি দেন
উত্তর: ক। জয়ীর আসনে বসে তিনি বলেন, “তোমাদের সম্বন্ধে আমার আর কোনো অভিযোগ নাই, আজ তোমরা সবাই স্বাধীন, সবাই মুক্ত”— প্রেমপুণ্যে উদ্ভাসিত এই সুমহান প্রতিশোধ তাঁর বিরাট মনুষ্যত্বেরই প্রকাশ।
৩৩। মক্কা বিজয়ের পর সাফা পর্বতের পাশে একজন লোক কাঁপতে থাকলে হজরত তাকে কী বলেন?
- ক. নিজেকে সাধারণ মানুষ বলে পরিচয় দেন
- খ. তুমি নিরাপদ নও
- গ. তোমার ভয়ের কারণ আছে
- ঘ. তুমি শাস্তি পাবে
উত্তর: ক। হজরত স্মিতমুখে বলেন, “কেন তুমি ভয় পাইতেছ? আমি রাজা নই, সম্রাট নই, মানুষের প্রভু নই। আমি এমন এক নারীর সন্তান, সাধারণ শুষ্ক মাংসই ছিল যাঁহার নিত্যকার আহার্য।”
৩৪। এই ঘটনা হজরতের কোন গুণ প্রকাশ করে?
- ক. বিনয় ও নিরহংকার
- খ. রাজকীয়তা
- গ. যুদ্ধকৌশল
- ঘ. কূটনৈতিক দক্ষতা
উত্তর: ক। মহামহিমার মাঝেও নিজের সামান্যতা সম্পর্কে সচেতনতা তাঁর চরিত্রকে সুন্দর ও স্বচ্ছ রেখেছিল— এটি তাঁর গভীর বিনয়ের পরিচায়ক।
৩৫। মজলিসে একজন অন্ধ ব্যক্তি হজরতের বক্তৃতায় বাধা দিলে তাঁর প্রতিক্রিয়া কী হয়?
- ক. মুখে সামান্য বিরক্তির আভাস ফুটে ওঠে
- খ. তিনি নীরব থাকেন
- গ. তিনি অত্যন্ত রেগে যান
- ঘ. তিনি তাকে তিরস্কার করেন
উত্তর: ক। বাধা পেয়ে হজরতের মুখে সামান্য বিরক্তির আভাস দেখা যায়, যা অত্যন্ত স্বাভাবিক প্রতিক্রিয়া ছিল।
৩৬। এই তুচ্ছ ত্রুটির প্রতি ইঙ্গিত কোথায় এসেছিল?
- ক. কুরআনের একটি বাণীতে
- খ. আবু বকর (রা.)-এর মন্তব্যে
- গ. একজন সাহাবির কথায়
- ঘ. আয়েশা (রা.)-এর কথায়
উত্তর: ক। কুরআনের একটি বাণীতে এই তুচ্ছতম ত্রুটির প্রতি ইঙ্গিত আসে, যা হজরত নিজেই বিনা দ্বিধায় সকলের কাছে প্রচার করেন।
৩৭। এই ঘটনায় হজরতের কোন বৈশিষ্ট্য প্রকাশ পায়?
- ক. তাঁর অহংকার
- খ. তাঁর ক্রোধ
- গ. নিজের ত্রুটি স্বীকার করার সততা
- ঘ. তাঁর প্রতিহিংসাপরায়ণতা
উত্তর: গ। নিজের সামান্যতম দোষটুকুও কোনো দ্বিধা ছাড়াই জনসমক্ষে স্বীকার করার এই সততা তাঁর মহিমান্বিত জীবনের এক উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত।
৩৮। হাজার হাজার মুসলিম ইচ্ছুক থাকা সত্ত্বেও হজরত নিজেকে কীভাবে গণ্য করতেন?
- ক. একজন রাজা হিসেবে
- খ. একজন সেনাপতি হিসেবে
- গ. একজন বিচারক হিসেবে
- ঘ. একজন সাধারণ মানুষ হিসেবে
উত্তর: ঘ। অসংখ্য মুসলিম তাঁর সুখ-স্বাচ্ছন্দ্যের উপকরণ জোগাতে উৎসুক থাকলেও তিনি নিজেকে দশজন মানুষের মধ্যে একজন হিসেবেই গণ্য করতেন।
৩৯। হজরতের গৃহে কেমন অবস্থা বিরাজ করত বলে বর্ণনা করা হয়েছে?
- ক. প্রায়ই অন্ন ও তেল জুটত না
- খ. মধ্যবিত্ত জীবনযাপন
- গ. রাজকীয় বিলাসিতা
- ঘ. প্রাচুর্যপূর্ণ
উত্তর: ক। তিনি স্বেচ্ছায় দারিদ্র্যের কণ্টক মুকুট মাথায় পরেছিলেন— তাঁর গৃহে সব সময় অন্ন জুটত না, রাতে প্রদীপ জ্বালাবার তেলটুকুও মিলত না।
৪০। হজরতের মৃত্যুতে কার বক্ষ শোকে ভেঙে পড়ে বলে বর্ণনা করা হয়েছে?
- ক. বিবি আয়েশা (রা.)-এর
- খ. খালিদ (রা.)-এর
- গ. আবু বকর (রা.)-এর
- ঘ. ওমর (রা.)-এর
উত্তর: ক। স্বামীর মহাপ্রয়াণে বিয়োগবিধুরা আয়েশা (রা.)-এর বক্ষ ভেদে শোকের মাতম ওঠে।
৪১। প্রবন্ধের শেষে লেখক হজরতের কোন কোন গুণের সমাহারের কথা বলেছেন?
- ক. শুধু জ্ঞান ও প্রজ্ঞা
- খ. ত্যাগ, প্রেম, ক্ষমা ও সাহসের সমাহার
- গ. শুধু ধন-সম্পদ
- ঘ. শুধু সাহস ও শৌর্য
উত্তর: খ। লেখক বলেন, ত্যাগ, প্রেম, সাধুতা, সৌজন্য, ক্ষমা, তিতিক্ষা, সাহস, শৌর্য, অনুগ্রহ, আত্মবিশ্বাস, তীক্ষ্ণ দৃষ্টি ও সমদর্শন— এতগুলো গুণের সমাহার সচরাচর দেখা যায় না।
৪২। ‘আল-আমিন’ শব্দের অর্থ কী?
- ক. সাহসী
- খ. বিশ্বস্ত
- গ. প্রিয়ভাষী
- ঘ. জ্ঞানী
উত্তর: খ। আল-আমিন অর্থ বিশ্বস্ত— শৈশব থেকেই হজরত এই গুণের জন্য পরিচিত ছিলেন।
৪৩। ‘হিজরত’ শব্দের অর্থ কী?
- ক. সন্ধি
- খ. মক্কা ত্যাগ করে মদিনা যাত্রা
- গ. যুদ্ধ
- ঘ. বিজয়
উত্তর: খ। হিজরতের শাব্দিক অর্থ পরিত্যাগ— এখানে মক্কা ত্যাগ করে মদিনা যাত্রাকে বোঝানো হয়েছে, যা হিজরি সাল গণনার সূচনাবিন্দু।
৪৪। ‘রাসুল’ শব্দের অর্থ কী?
- ক. আল্লাহর প্রেরিত পুরুষ
- খ. সেনাপতি
- গ. বিচারক
- ঘ. রাজা
উত্তর: ক। রাসুল অর্থ আল্লাহর প্রেরিত পুরুষ।
৪৫। ‘স্থিতধী’ শব্দের অর্থ কী?
- ক. স্থিরবুদ্ধিসম্পন্ন
- খ. ভীত
- গ. উত্তেজিত
- ঘ. দুর্বল
উত্তর: ক। স্থিতধী অর্থ স্থিরবুদ্ধিসম্পন্ন— আবু বকর (রা.)-এর শান্ত, বিচক্ষণ আচরণ বোঝাতে ব্যবহৃত।
৪৬। ‘পূর্ণোদর’ শব্দের অর্থ কী?
- ক. ভরপেট
- খ. তৃপ্ত
- গ. অসুস্থ
- ঘ. ক্ষুধার্ত
উত্তর: ক। পূর্ণোদর অর্থ ভরপেট— হজরতের ভাগ্যে দুই বেলা পূর্ণোদর আহারও জুটত না বলে লেখক উল্লেখ করেছেন।
৪৭। ‘অকুতোভয়’ শব্দের অর্থ কী?
- ক. নির্ভয়
- খ. ভীত
- গ. দুর্বল
- ঘ. সংকুচিত
উত্তর: ক। অকুতোভয় অর্থ নির্ভয়— শত্রুর নিষ্ঠুরতম নির্যাতনেও হজরত অকুতোভয় বিশ্বাসে অজেয় ছিলেন।
৪৮। হজরত আবু বকর (রা.) কে ছিলেন?
- ক. একজন বীরযোদ্ধা মাত্র
- খ. ইসলামের দ্বিতীয় খলিফা
- গ. ইসলামের প্রথম খলিফা
- ঘ. আয়েশা (রা.)-এর ভাই
উত্তর: গ। আবু বকর (রা.) ইসলামের প্রথম খলিফা এবং ইসলাম গ্রহণকারীদের মধ্যে প্রথম পুরুষ ব্যক্তি, হজরতের হিজরতকালীন সঙ্গী ও বিশ্বস্ত সহচর ছিলেন।
৪৯। হজরত ওমর (রা.) ইসলাম গ্রহণের পূর্বে কী সংকল্প নিয়েছিলেন?
- ক. যুদ্ধ ঘোষণার
- খ. মহানবিকে হত্যার
- গ. মদিনা যাত্রার
- ঘ. মক্কা ত্যাগের
উত্তর: খ। ইসলাম গ্রহণের পূর্বে ওমর (রা.) মহানবিকে হত্যা করার সংকল্প নিয়ে যাচ্ছিলেন, কিন্তু ভগ্নীর কণ্ঠে কুরআনের বাণী শুনে তিনি ইসলাম গ্রহণ করেন।
৫০। সাফা ও মারওয়া পাহাড়ের সাথে কোন ঘটনার স্মৃতি জড়িয়ে আছে?
- ক. বিবি হাজেরার পানি অনুসন্ধানের ঘটনা
- খ. হুদায়বিয়া সন্ধি
- গ. বদরের যুদ্ধ
- ঘ. হিজরতের ঘটনা
উত্তর: ক। হজরত ইবরাহিম (আ.)-এর স্ত্রী বিবি হাজেরা শিশুপুত্র ইসমাইলের পিপাসা নিবারণের জন্য এই দুই পাহাড়ের মধ্যে ছোটাছুটি করেছিলেন, সেই স্মৃতিতেই আজও হজব্রতীরা দৌড়ে থাকেন।
৫১। ‘তিনি রাজা নই, সম্রাট নই, মানুষের প্রভু নই’— এই উক্তিতে হজরতের কোন গুণ প্রকাশ পায়?
- ক. ভীরুতা
- খ. উদাসীনতা
- গ. দুর্বলতা
- ঘ. নিরহংকারী ও বিনয়ী মানসিকতা
উত্তর: ঘ। বিপুল ক্ষমতা ও ভালোবাসার মধ্যে থেকেও নিজেকে সাধারণ মানুষ হিসেবে উপস্থাপনের এই মানসিকতাই তাঁর গভীর বিনয় ও নিরহংকারিতার পরিচয়।
৫২। তায়েফের ঘটনা ও মক্কা বিজয়ের পরবর্তী ক্ষমা— এই দুটি ঘটনার মধ্যে সাধারণ কোন গুণ প্রকাশ পায়?
- ক. ভীরুতা
- খ. প্রতিহিংসাপরায়ণতা
- গ. অত্যাচারীর প্রতিও ক্ষমাশীলতা ও করুণা
- ঘ. রাজনৈতিক কৌশল
উত্তর: গ। উভয় ঘটনাতেই— নিষ্ঠুর নির্যাতনের পরেও তিনি প্রতিশোধ না নিয়ে ক্ষমা ও করুণা দেখিয়েছেন, যা তাঁর চরিত্রের সবচেয়ে উজ্জ্বল দিক।
৫৩। অন্ধ ব্যক্তির ঘটনা ও তাঁর স্বেচ্ছা দারিদ্র্য বরণের মধ্যে কোন সাধারণ সূত্র খুঁজে পাওয়া যায়?
- ক. কোনো সম্পর্ক নেই
- খ. নিজের সীমাবদ্ধতা স্বীকারের সততা
- গ. তাঁর ক্ষমতার প্রকাশ
- ঘ. তাঁর ধনসম্পদের প্রতি অনীহা মাত্র
উত্তর: খ। উভয় ক্ষেত্রেই তিনি নিজের মানবিক সীমাবদ্ধতা ও সাধারণত্বকে গোপন না রেখে অকপটে মেনে নিয়েছেন— এটাই তাঁর মহত্ত্বের গভীরতম দিক।
রফিক সাহেব একজন প্রভাবশালী নেতা, তাঁর অনুসারীর সংখ্যা লক্ষাধিক। কিন্তু তিনি কখনো নিজেকে বিশেষ মনে করেননি; সাধারণ মানুষের সাথে একই সারিতে বসে খাবার খান, নিজের ভুল প্রকাশ্যে স্বীকার করেন, এবং যারা তাঁর সমালোচনা করে তাদের প্রতিও সহনশীল থাকেন।
৫৪। রফিক সাহেবের চরিত্রের সাথে প্রবন্ধের হজরতের কোন দিকটির সাদৃশ্য পাওয়া যায়?
- ক. তাঁর রাজনৈতিক কৌশল
- খ. তাঁর যুদ্ধকৌশল
- গ. বিনয়, আত্মসমালোচনা ও সহনশীলতা
- ঘ. তাঁর ধনসম্পদ
উত্তর: গ। হজরতও বিপুল শ্রদ্ধা ও ভালোবাসা পেয়েও নিজেকে সাধারণ মানুষ মনে করতেন, নিজের ত্রুটি প্রকাশ্যে স্বীকার করতেন এবং বিরোধীদের প্রতিও সহনশীল ছিলেন— এই গুণগুলোই রফিক সাহেবের চরিত্রে প্রতিফলিত।
৫৫। এ ধরনের নেতৃত্বের গুণ কেন সমাজে অনুকরণীয় বলে বিবেচিত হয়?
- ক. এতে অর্থনৈতিক লাভ হয় বলে
- খ. ক্ষমতার মধ্যেও বিনয় বজায় রাখা মহত্ত্বের পরিচয় বলে
- গ. এটি ক্ষমতা বৃদ্ধিতে সহায়ক বলে
- ঘ. এটি সহজ বলে
উত্তর: খ। প্রবন্ধ থেকে যেমন শেখা যায়, ক্ষমতা ও প্রতিপত্তির মধ্যে থেকেও বিনয়, সততা ও সহনশীলতা বজায় রাখাই প্রকৃত নেতৃত্বের মহত্ত্ব— এটিই সমাজে সবচেয়ে অনুকরণীয় আদর্শ।
