● Note

শিক্ষা ও মনুষ্যত্ব প্রবন্ধের নোট | জ্ঞানমূলক ও অনুধাবনমূলক প্রশ্ন উত্তর

শিক্ষা ও মনুষ্যত্ব প্রবন্ধের নোট | SSC বাংলা ১ম পত্রের “শিক্ষা ও মনুষ্যত্ব” প্রবন্ধের জ্ঞানমূলক ও অনুধাবনমূলক প্রশ্ন উত্তর নিচে দেওয়া হলো। বহুনির্বাচনি প্রশ্নের জন্য শিক্ষা ও মনুষ্যত্ব প্রবন্ধের MCQ দেখুন।

জ্ঞানমূলক প্রশ্ন ও উত্তর (ক)

মোতাহের হোসেন চৌধুরী ও শিক্ষা ও মনুষ্যত্ব প্রবন্ধের পরিচিতি বিষয়ক জ্ঞানমূলক প্রশ্ন

মোতাহের হোসেন চৌধুরী কত খ্রিষ্টাব্দে জন্মগ্রহণ করেন?

তিনি ১৯০৩ খ্রিষ্টাব্দে জন্মগ্রহণ করেন।

মোতাহের হোসেন চৌধুরীর পৈতৃক নিবাস কোথায়?

তাঁর পৈতৃক নিবাস লক্ষ্মীপুর জেলার কাঞ্চনপুর গ্রাম।

মোতাহের হোসেন চৌধুরী কোথা থেকে বাংলায় এমএ পাশ করেন?

তিনি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে বাংলায় এমএ পাশ করেন।

কর্মজীবনে মোতাহের হোসেন চৌধুরী কোন পেশায় নিয়োজিত ছিলেন?

তিনি বাংলা ভাষা ও সাহিত্যের অধ্যাপক ছিলেন।

মোতাহের হোসেন চৌধুরী কোন পত্রিকার সঙ্গে যুক্ত ছিলেন?

তিনি ‘শিখা’ পত্রিকার সঙ্গে যুক্ত ছিলেন।

মোতাহের হোসেন চৌধুরীর প্রধান গ্রন্থের নাম কী?

তাঁর প্রধান গ্রন্থ ‘সংস্কৃতি কথা’ (মরণোত্তর প্রকাশিত)।

মোতাহের হোসেন চৌধুরী কত খ্রিষ্টাব্দে মৃত্যুবরণ করেন?

তিনি ১৯৫৬ খ্রিষ্টাব্দে মৃত্যুবরণ করেন।

মোতাহের হোসেন চৌধুরীর গদ্যে কার প্রভাব লক্ষণীয়?

তাঁর গদ্যে প্রমথ চৌধুরীর প্রভাব লক্ষণীয়।

মোতাহের হোসেন চৌধুরীর অনুবাদগ্রন্থ কোনগুলো?

সভ্যতা ও সুখ তাঁর দুটি অনুবাদগ্রন্থ।

‘লোভে পাপ, পাপে মৃত্যু’— এই কথাটি সম্পর্কে লেখকের মূল্যায়ন কী?

লেখক জোর দিয়ে বলেন, শিক্ষার ফলে মানুষ উপলব্ধি করতে পারে যে ‘লোভে পাপ, পাপে মৃত্যু’ কথাটা নিছক বুলি নয়, সত্য।

শিক্ষা ও মনুষ্যত্ব প্রবন্ধের মূল বিষয়বস্তু নিয়ে জ্ঞানমূলক প্রশ্ন

‘শিক্ষা ও মনুষ্যত্ব’ প্রবন্ধটি কোন মূল প্রবন্ধের অংশবিশেষ?

এটি সংস্কৃতি-কথা গ্রন্থের ‘মনুষ্যত্ব’ প্রবন্ধের অংশবিশেষ।

লেখক মানুষের জীবনকে কীসের সাথে তুলনা করেন?

লেখক মানুষের জীবনকে দোতলা ঘরের সাথে তুলনা করেন।

লেখকের মতে দোতলা ঘরের নিচতলা কী প্রতিনিধিত্ব করে?

নিচতলা জীবসত্তা (জৈবিক অস্তিত্ব)-এর প্রতিনিধিত্ব করে।

লেখকের মতে দোতলা ঘরের ওপরতলা কী প্রতিনিধিত্ব করে?

ওপরতলা মানবসত্তা বা মনুষ্যত্বের প্রতিনিধিত্ব করে।

লেখকের মতে জীবসত্তা ও মানবসত্তার মধ্যে সংযোগকারী কী?

শিক্ষাই এই দুইয়ের সংযোগকারী মই।

লেখকের মতে শিক্ষার শ্রেষ্ঠ দিক কী?

শিক্ষার ‘অপ্রয়োজনীয়’ দিক, অর্থাৎ জীবন উপভোগের শিক্ষা।

লেখকের মতে অন্নবস্ত্রের অব্যবস্থার মূল কারণ কী?

লোভই অন্নবস্ত্রের অব্যবস্থার মূল কারণ।

লেখকের মতে মুক্তির জন্য কয়টি সমান্তরাল উপায় প্রয়োজন?

দুটি সমান্তরাল উপায় প্রয়োজন— অন্নবস্ত্রের মুক্তি ও শিক্ষালব্ধ মনুষ্যত্বের স্বাদ।

লেখকের মতে শিক্ষা কীসের মতো কাজ করে, ভারী বস্তু তোলার উপমায়?

শিক্ষা ‘ওপর থেকে টানা’র মতো কাজ করে।

লেখকের মতে সুশৃঙ্খল সমাজব্যবস্থা কীসের মতো কাজ করে?

সুশৃঙ্খল সমাজব্যবস্থা ‘নিচ থেকে ঠেলা’র মতো কাজ করে।

লেখকের মতে শিক্ষার আসল কাজ কী?

শিক্ষার আসল কাজ জ্ঞান পরিবেশন নয়, মূল্যবোধ সৃষ্টি করা।

‘লেফাফাদুরস্তি’ শব্দের অর্থ কী?

লেফাফাদুরস্তি অর্থ বাইরে ত্রুটিহীন, ভেতরে ফাঁপা।

শিক্ষা ও মনুষ্যত্ব প্রবন্ধের উপসংহারে লেখক কোন আহ্বান জানান?

অন্নবস্ত্রের বেড়ি থেকে মুক্তি ও মনুষ্যত্বের আহ্বান— উভয়ই একসাথে প্রয়োজন বলে জানান।

সংস্কৃতি কথা গ্রন্থটি কখন প্রকাশিত হয়?

তাঁর মৃত্যুর পর গ্রন্থটি প্রকাশিত হয়।

শিক্ষা ও মনুষ্যত্ব প্রবন্ধের মূল বক্তব্য কী?

প্রবন্ধে লেখক শিক্ষা ও মানবিক মূল্যবোধের সম্পর্ক চিহ্নিত করেছেন— জ্ঞান ও অন্তরের মুক্তি মানুষকে মনুষ্যত্ববোধে উন্নীত করে।

এই দোতলা ঘরের নিচের তলা কী বোঝায়?

নিচের তলা জীবসত্তা বোঝায়— মানুষের জৈবিক বা প্রাণিগত অস্তিত্ব।

এই ঘরের দুই তলার মধ্যে সংযোগকারী মই কী?

জীবসত্তার ঘর থেকে মানবসত্তার ঘরে ওঠার মই হচ্ছে শিক্ষা।

শিক্ষার এই ‘অপ্রয়োজনীয়’ দিকটি বড় হয়ে উঠতে না পারার কারণ কী?

ভুল শিক্ষা ও নিচের তলায় (জীবসত্তায়) বিশৃঙ্খলার কারণে মানুষ সবসময় জীবসত্তা নিয়েই সচেতন থাকে, ওপরের তলার কথা ভাবতে পারে না।

লেখকের মতে ধনী-দরিদ্র সকলের অন্তরে কোন একই ধ্বনি ওঠে?

লেখক বলেন, ধনী-দরিদ্র সকলের অন্তরেই একই ধ্বনি ওঠে— ‘চাই, চাই, আরও চাই’— অর্থচিন্তার এই নিগড়ে সবাই বন্দি।

অর্থচিন্তা থেকে মুক্তি না পেলে শিক্ষার সুফল কেমন হবে বলে লেখক মনে করেন?

লেখক বলেন, অর্থচিন্তা থেকে মুক্তি না পেলে শিক্ষার সুফল ব্যক্তিগত পর্যায়ে সীমাবদ্ধ থাকবে, বেশিরভাগ মানুষ সেই তিমিরেই থেকে যাবে।

আলো-হাওয়ার স্বাদবঞ্চিত মানুষ প্রচুর অন্নবস্ত্র পেলে কারাগারকে কী মনে করে?

যে মানুষ আলো-হাওয়ার স্বাদ কখনো পায়নি, সে প্রচুর অন্নবস্ত্র পেলে কারাগারকেই স্বর্গতুল্য মনে করে, যদিও তা প্রকৃত অর্থে স্বর্গ নয়।

শুধু অন্নবস্ত্রের সমস্যা সমাধান করলে কী ঘটতে পারে বলে লেখক আশঙ্কা করেন?

লেখক বলেন, শুধু অন্নবস্ত্রের চিন্তা থেকে মুক্তি পেলেও মনুষ্যত্বের স্বাদ না পেলে মানুষ যেখানে আছে সেখানেই পড়ে থাকতে পারে।

ভারী জিনিস ওপরে তোলার উপমা দিয়ে লেখক কী বোঝাতে চেয়েছেন?

লেখক দেখান, ভারী জিনিস ওপরে তুলতে যেমন ওপর থেকে টানা ও নিচ থেকে ঠেলা দুটোই দরকার, তেমনি মানব উন্নয়নেও শিক্ষা (ওপর থেকে টানা) ও সুশৃঙ্খল সমাজব্যবস্থা (নিচ থেকে ঠেলা) উভয়ই প্রয়োজনীয়।

লেখকের মতে শুধু শিক্ষার প্রবল প্রচেষ্টা দিয়ে কি জীবনের উন্নয়ন সম্ভব?

লেখকের মতে আপ্রাণ প্রচেষ্টার ফলে শিক্ষার দ্বারাই জীবনের উন্নয়ন সম্ভব, যেমন প্রবল টানে নিচের ঠেলা ছাড়াও জিনিস তোলা যায়— কিন্তু শুধু সমাজব্যবস্থার সুশৃঙ্খলতায় তা সম্ভব নয়।

লোভের ফলে মানুষের কী ঘটে বলে লেখক বর্ণনা করেন?

লোভের ফলে মানুষের আত্মিক মৃত্যু ঘটে, সে অনুভূতির জগতে ফতুর (নিঃস্ব) হয়ে পড়ে— শিক্ষা এই সত্য জানিয়ে দেয় বলেই মানুষ লোভের ফাঁদে পড়তে ভয় পায়।

ছোটো জিনিসের মোহে বড়ো জিনিস হারিয়েও যে দুঃখ বোধ করে না, তাকে লেখক কী বলেছেন?

লেখক বলেন, ছোটো জিনিসের মোহে বড়ো জিনিস হারিয়ে যে দুঃখ বোধ করে না, সে শিক্ষিত নয়— তার শিক্ষা বাইরের ব্যাপার মাত্র, অন্তরের ব্যাপার হয়ে ওঠেনি।

মূল্যবোধের মূল্য যেখানে পাওয়া যায় না, সেখানে লেখকের মতে কী নেই?

লেখক বলেন, যেখানে মূল্যবোধের মূল্য পাওয়া যায় না, সেখানে শিক্ষা নেই— যত জ্ঞানই বিতরণ করা হোক না কেন।

যদিও মনুষ্যত্ব লাভ শিক্ষার মূল লক্ষ্য, তবু লেখক আর কী প্রয়োজনীয় বলে মনে করেন?

লেখক বলেন, শিক্ষার মাধ্যমে মূল্যবোধ তথা মনুষ্যত্ব লাভ করা গেলেও অন্নবস্ত্রের সুব্যবস্থাও প্রয়োজনীয়, নইলে জীবনের উন্নয়নে বিলম্ব ঘটবে।

লেখকের মতে অন্নবস্ত্রের বেড়িমুক্ত হয়েও মনুষ্যত্বের আহ্বান না থাকলে কী ঘটবে?

লেখক বলেন, শুধু অন্নবস্ত্রের বেড়িমুক্ত হলেও মনুষ্যত্বের আহ্বান না থাকলে মানুষ ওপরে (মানবসত্তার দিকে) যাওয়ার তাগিদ অনুভব করবে না।

লেখকের সামগ্রিক যুক্তিধারার মূল বার্তা কী?

পুরো প্রবন্ধ জুড়ে লেখক দেখান, শুধু বস্তুগত সমৃদ্ধি বা শুধু শিক্ষা— কোনোটিই একা মানব উন্নয়নের জন্য যথেষ্ট নয়; উভয়ের সমন্বিত প্রচেষ্টাতেই প্রকৃত মুক্তি ও মনুষ্যত্ব অর্জন সম্ভব।

করিম সাহেবের মানসিকতার সাথে শিক্ষা ও মনুষ্যত্ব প্রবন্ধের কোন বক্তব্যের সাদৃশ্য সবচেয়ে বেশি?

করিম সাহেব লেখকের বর্ণিত ‘অর্থচিন্তার নিগড়ে বন্দি’ মানুষের প্রতিচ্ছবি— তাঁর অন্যায়ে অনুশোচনা না হওয়া প্রমাণ করে তাঁর শিক্ষা লেফাফাদুরস্তি মাত্র, প্রকৃত মূল্যবোধে রূপ নেয়নি।

করিম সাহেবের ক্ষেত্রে লেখকের কোন মন্তব্যটি সবচেয়ে প্রাসঙ্গিক হবে?

লেখকের ভাষায়, ছোটো জিনিসের মোহে বড়ো জিনিস হারিয়েও যে দুঃখ বোধ করে না, সে শিক্ষিত নয়— করিম সাহেবের ক্ষেত্রে এই মন্তব্যই সবচেয়ে প্রযোজ্য।

অনুধাবনমূলক প্রশ্ন ও উত্তর (খ)

শিক্ষা ও মনুষ্যত্ব প্রবন্ধের চরিত্র ও মূলভাব বিষয়ক অনুধাবনমূলক প্রশ্ন

মানুষের জীবনকে দোতলা ঘরের সাথে তুলনা করার তাৎপর্য কী— ব্যাখ্যা করো।

লেখক দেখান, মানুষের জীবসত্তা (নিচতলা) ও মানবসত্তা (উপরতলা) দুটি ভিন্ন স্তর, যেগুলো শিক্ষা নামক মইয়ের মাধ্যমে সংযুক্ত। এই উপমার মাধ্যমে তিনি বোঝান, শুধু জৈবিক প্রয়োজন মেটালেই মানুষ প্রকৃত মনুষ্যত্বে উন্নীত হয় না, এজন্য শিক্ষার প্রয়োজন।

লেখক কেন শিক্ষার ‘অপ্রয়োজনীয়’ দিককে শ্রেষ্ঠ বলে মনে করেন— ব্যাখ্যা করো।

লেখকের মতে জীবন উপভোগের শিক্ষা, যা সরাসরি বাস্তব কোনো লাভ দেয় না, তাই সবচেয়ে মূল্যবান— কারণ এটিই মানুষের অন্তরকে সমৃদ্ধ করে, শুধু জীবিকা অর্জনের শিক্ষা মানুষকে পূর্ণতা দেয় না।

কারারুদ্ধ আহারতৃপ্ত মানুষের উদাহরণ দিয়ে লেখক কী বোঝাতে চেয়েছেন— ব্যাখ্যা করো।

এই উদাহরণ দিয়ে লেখক দেখান, শুধু অন্নবস্ত্রের প্রাচুর্যে প্রকৃত মুক্তি আসে না— চিন্তা, বুদ্ধি ও আত্মপ্রকাশের স্বাধীনতা ছাড়া মানুষ কারাগারে বন্দি ব্যক্তির মতোই, যদিও তার শারীরিক প্রয়োজন মিটছে।

পিঞ্জরাবদ্ধ পাখির উপমার তাৎপর্য কী— ব্যাখ্যা করো।

খাঁচাবন্দি পাখির মতো মানুষও যদি শুধু অন্নবস্ত্রের বেড়িতে বন্দি থাকে কিন্তু মনুষ্যত্বের (ওড়ার) স্বাধীনতা না পায়, তবে তার আকাঙ্ক্ষা থাকা সত্ত্বেও প্রকৃত মুক্তি অসম্ভব— এই উপমা মুক্তির দ্বৈত প্রয়োজনীয়তা তুলে ধরে।

ভারী বস্তু তোলার উপমায় লেখক কী ব্যাখ্যা করেন— ব্যাখ্যা করো।

লেখক বলেন শিক্ষা ‘ওপর থেকে টানা’র মতো কাজ করে আর সুশৃঙ্খল সমাজব্যবস্থা ‘নিচ থেকে ঠেলা’র মতো— উভয়ই প্রয়োজনীয় হলেও প্রবল শিক্ষা একাই মানুষকে অনেকখানি ওপরে তুলতে পারে বলে তিনি মনে করেন।

লোভ ও অন্নবস্ত্রের অব্যবস্থার সম্পর্ক নিয়ে লেখকের বক্তব্য কী— ব্যাখ্যা করো।

লেখক মনে করেন, লোভই সমাজে অন্নবস্ত্রের অসম বণ্টন ও অব্যবস্থার মূল কারণ। শিক্ষা মানুষকে এই সত্য উপলব্ধি করায়, ফলে সে লোভের ফাঁদ এড়িয়ে চলতে সক্ষম হয়।

লেখক কেন বলেন শিক্ষার আসল কাজ জ্ঞান পরিবেশন নয়— ব্যাখ্যা করো।

লেখকের মতে নিছক তথ্য বা জ্ঞান দেওয়া শিক্ষার মূল লক্ষ্য নয়, বরং মূল্যবোধ সৃষ্টি করাই শিক্ষার প্রকৃত কাজ। জ্ঞান থাকা সত্ত্বেও মূল্যবোধহীন মানুষ ‘লেফাফাদুরস্তি’ মাত্র, প্রকৃত শিক্ষিত নয়।

শিক্ষা ও মনুষ্যত্ব প্রবন্ধের উপসংহারে লেখকের দ্বৈত আহ্বানের তাৎপর্য কী— ব্যাখ্যা করো।

লেখক বলেন অন্নবস্ত্রের বেড়ি থেকে মুক্তি এবং মনুষ্যত্ব উভয়ই একসাথে প্রয়োজন— শুধু একটি অর্জিত হলে অন্যটি ছাড়া মানুষ পিঞ্জরাবদ্ধ পাখির মতোই থেকে যাবে, ওড়ার আকাঙ্ক্ষা থাকলেও বাস্তবে ওড়া সম্ভব হবে না।

প্রবন্ধটি কোন সামাজিক বাস্তবতাকে সমালোচনা করে— ব্যাখ্যা করো।

প্রবন্ধটি এমন শিক্ষাব্যবস্থার সমালোচনা করে, যা শুধু ডিগ্রি বা জ্ঞান দেয় কিন্তু প্রকৃত মূল্যবোধ সৃষ্টি করে না— ফলে শিক্ষিত মানুষও অন্যায়ের প্রতি সংবেদনশীল না হয়ে অর্থচিন্তার নিগড়ে বন্দি থাকে।

প্রবন্ধটি পাঠককে কোন শিক্ষা দেয়— ব্যাখ্যা করো।

প্রবন্ধটি শেখায়, প্রকৃত শিক্ষা শুধু জীবিকা অর্জনের মাধ্যম নয়, বরং তা মূল্যবোধ, নৈতিকতা ও মনুষ্যত্ব গঠনের হাতিয়ার। বস্তুগত মুক্তির পাশাপাশি আত্মিক মুক্তিও অর্জন করতে হবে একজন পূর্ণাঙ্গ মানুষ হয়ে ওঠার জন্য।

লেখক কোন পাখির উদাহরণ দিয়ে মুক্তির গুরুত্ব বোঝান?

লেখক প্রশ্ন করেন, আকাশ-বাতাসের ডাকে আকুল পাখি কি সহজে দানাপানির লোভে খাঁচায় বন্দি হবে? উত্তর স্পষ্ট— না, কারণ মুক্তি অন্নবস্ত্রের প্রাচুর্যের চেয়ে বড়।

‘লেফাফাদুরস্তি’ ও প্রকৃত শিক্ষার মধ্যে লেখক কী পার্থক্য দেখান?

লেখক স্পষ্ট বলেন, লেফাফাদুরস্তি আর শিক্ষা এক কথা নয়— শিক্ষা বাইরের ত্রুটিহীনতা নয়, অন্তরের প্রকৃত মূল্যবোধ সৃষ্টি করা।

মনুষ্যত্বের আহ্বান থাকলেও অন্নবস্ত্রের স্বাধীনতা না থাকলে মানুষের অবস্থা কীসের সাথে তুলনা করা হয়েছে?

লেখক বলেন, এই অবস্থায় মানুষ পিঞ্জরাবদ্ধ পাখির মতো উড়বার আকাঙ্ক্ষায় পাখা ঝাপটাবে, কিন্তু উড়তে পারবে না— একদিকের সমাধান ছাড়া অন্যদিকও অসম্পূর্ণ থেকে যায়।

জীবসত্তা ও মানবসত্তার রূপক ব্যাখ্যা করে লেখক আসলে কোন গভীরতর সত্য তুলে ধরতে চেয়েছেন?

দোতলা ঘরের রূপকের মাধ্যমে লেখক দেখান, মানুষের মধ্যে মৌলিক জৈবিক চাহিদা ও উচ্চতর মানবিক-নৈতিক আকাঙ্ক্ষা উভয়ই থাকে, আর শিক্ষাই এই দুইয়ের মধ্যে সংযোগ স্থাপন করে।

উপরের জ্ঞানমূলক ও অনুধাবনমূলক প্রশ্ন-উত্তরগুলো ভালোভাবে অনুশীলন করলে শিক্ষা ও মনুষ্যত্ব প্রবন্ধ থেকে সৃজনশীল প্রশ্নের ক ও খ অংশে ভালো নম্বর পাওয়া সহজ হবে।

আরও পড়ুন

SSC বাংলা ১ম পত্র-এর সব পোস্ট

মন্তব্য করুন

Your email address will not be published. Required fields are marked *

সাহায্য লাগবে?
BCS Journey Support
● Online
×
💬Messenger ✈Telegram
BCS JOURNEY
BCS Journey
চ্যাট শুরু করুন ➜