জীবন বিনিময় কবিতার MCQ | SSC বাংলা ১ম পত্রের “জীবন বিনিময়” কবিতা থেকে বোর্ড পরীক্ষায় নিয়মিত প্রশ্ন আসে। এই পোস্টে কবিতার সারকথা ও ৪৯টি বহুনির্বাচনি প্রশ্ন (MCQ) উত্তর ও ব্যাখ্যাসহ দেওয়া হলো। জ্ঞানমূলক ও অনুধাবনমূলক প্রশ্নের জন্য জীবন বিনিময় কবিতার নোট দেখুন।
জীবন বিনিময় কবিতার সারকথা ও গুরুত্বপূর্ণ তথ্য
জীবন বিনিময় কবিতার কবি কে?
গোলাম মোস্তফা (জন্ম ১৮৯৭, মনোহরপুর, শৈলকুপা, যশোর; মৃত্যু ১৯৬৪)। কলকাতা রিপন কলেজ থেকে বিএ পাস, বিভিন্ন সরকারি বিদ্যালয়ে প্রধান শিক্ষক ছিলেন। ইসলামি ঐতিহ্য থেকে কাব্যপ্রেরণা লাভ। প্রধান কাব্য: রক্তরাগ, খোশরোজ, বুলবুলিস্তান; জীবনীগ্রন্থ: বিশ্বনবী, মরুদুলাল; অনুবাদ: কালামে ইকবাল, আল কুরআন।
জীবন বিনিময় কবিতার উৎস
বুলবুলিস্তান কাব্যগ্রন্থ থেকে সংকলিত আখ্যানকাব্য।
কবিতার মূল বিষয়বস্তু
- মোগল সম্রাট বাবরের পুত্র হুমায়ুন দুরারোগ্য ব্যাধিতে আক্রান্ত, সব চিকিৎসক নিরাশ।
- একজন দরবেশের পরামর্শ— শ্রেষ্ঠ ধন দান করলে আল্লাহ পুত্রকে বাঁচাবেন।
- বাবর উপলব্ধি করেন নিজের জীবনই তাঁর শ্রেষ্ঠ ধন; গভীর প্রার্থনায় নিজের প্রাণের বিনিময়ে পুত্রের জীবন প্রার্থনা করেন।
- প্রার্থনা কবুল হওয়ার আনন্দময় মুহূর্ত।
- সেইদিন থেকে বাবরের শরীরে রোগ-লক্ষণ, হৃষ্টচিত্তে মৃত্যুবরণ; হুমায়ুনের ধীরে ধীরে সুস্থ হয়ে ওঠা।
- উপসংহার— বাবরের মৃত্যু প্রকৃত মৃত্যু নয়, বরং আত্মত্যাগের মাধ্যমে অমরত্ব লাভ; পিতৃস্নেহের কাছে মৃত্যুর পরাজয়।
জীবন বিনিময় কবিতার মূল ভাব কী?
সন্তানের জন্য পিতার অসীম, নিঃস্বার্থ ভালোবাসা ও আত্মত্যাগের এক মহিমান্বিত দৃষ্টান্ত— পিতৃস্নেহের গভীরতা মৃত্যুকেও পরাজিত করতে পারে, এই মানবিক সত্যই কবিতার কেন্দ্রীয় বার্তা।
জীবন বিনিময় কবিতার গুরুত্বপূর্ণ শব্দার্থ
বিনিময় (বদল), নিদ (ঘুম), ভিষকবৃন্দ (চিকিৎসকগণ), শেলসম (তীক্ষ্ণ অস্ত্রের মতো), অন্তরবি (অস্তগামী সূর্য), সুপ্তিমগ্ন (ঘুমে অচেতন), ফুকারি (চিৎকার করে), কবুল (স্বীকৃত/গৃহীত)।
কবি পরিচিতি বিষয়ক MCQ
১। গোলাম মোস্তফা কত খ্রিষ্টাব্দে জন্মগ্রহণ করেন?
- ক. ১৮৯৫
- খ. ১৮৯৭
- গ. ১৮৯৬
- ঘ. ১৮৯৮
উত্তর: খ। তিনি ১৮৯৭ খ্রিষ্টাব্দে জন্মগ্রহণ করেন।
২। গোলাম মোস্তফার জন্মস্থান কোথায়?
- ক. ঢাকা
- খ. মনোহরপুর, শৈলকুপা, যশোর
- গ. খুলনা
- ঘ. ফরিদপুর
উত্তর: খ। যশোর জেলার শৈলকুপা থানার মনোহরপুর গ্রামে তিনি জন্মগ্রহণ করেন।
৩। গোলাম মোস্তফা কোন কলেজ থেকে বিএ পাশ করেন?
- ক. কলকাতা রিপন কলেজ
- খ. স্কটিশ চার্চ কলেজ
- গ. কলকাতা প্রেসিডেন্সি কলেজ
- ঘ. ঢাকা কলেজ
উত্তর: ক। তিনি কলকাতার রিপন কলেজ থেকে বিএ পাশ করেন।
৪। কর্মজীবনে গোলাম মোস্তফা কোন পেশায় নিয়োজিত ছিলেন?
- ক. আইন পেশা
- খ. সাংবাদিকতা
- গ. চিকিৎসা পেশা
- ঘ. বিভিন্ন সরকারি বিদ্যালয়ে প্রধান শিক্ষকের দায়িত্ব
উত্তর: ঘ। কর্মজীবনে তিনি বিভিন্ন সরকারি বিদ্যালয়ে প্রধান শিক্ষকের দায়িত্বে নিয়োজিত ছিলেন।
৫। গোলাম মোস্তফা তাঁর কাব্যচর্চায় কোন ঐতিহ্য থেকে প্রেরণা লাভ করেন?
- ক. বৌদ্ধ দর্শন
- খ. ইসলামি ঐতিহ্য
- গ. খ্রিষ্টান ধর্মগ্রন্থ
- ঘ. হিন্দু পুরাণ
উত্তর: খ। কাব্যচর্চার ক্ষেত্রে তিনি ইসলামি ঐতিহ্য থেকে প্রেরণা লাভ করেছিলেন।
৬। নিচের কোনটি গোলাম মোস্তফার কাব্যগ্রন্থ নয়?
- ক. সাম্যবাদী
- খ. বুলবুলিস্তান
- গ. রক্তরাগ
- ঘ. খোশরোজ
উত্তর: ক। সাম্যবাদী কাজী নজরুল ইসলামের কাব্যগ্রন্থ; বাকি তিনটি গোলাম মোস্তফার কাব্যগ্রন্থ।
৭। নিচের কোনটি গোলাম মোস্তফার জীবনীগ্রন্থ?
- ক. ভাঙ্গাবুক
- খ. বিশ্বনবী
- গ. এক মন এক প্রাণ
- ঘ. রূপের নেশা
উত্তর: খ। বিশ্বনবী ও মরুদুলাল তাঁর জীবনীগ্রন্থ; বাকিগুলো তাঁর উপন্যাস।
৮। গোলাম মোস্তফার অনূদিত গ্রন্থ কোনটি?
- ক. বুলবুলিস্তান
- খ. রক্তরাগ
- গ. খোশরোজ
- ঘ. কালামে ইকবাল
উত্তর: ঘ। কালামে ইকবাল, আল কুরআন, শিকওয়া ও জওয়াবে শিকওয়া তাঁর অনূদিত গ্রন্থ।
৯। গোলাম মোস্তফা কত খ্রিষ্টাব্দে মৃত্যুবরণ করেন?
- ক. ১৯৬৪
- খ. ১৯৬৩
- গ. ১৯৬৫
- ঘ. ১৯৬২
উত্তর: ক। তিনি ১৯৬৪ খ্রিষ্টাব্দে মৃত্যুবরণ করেন।
জীবন বিনিময় কবিতার বহুনির্বাচনি প্রশ্ন ও উত্তর (MCQ)
১০। ‘জীবন বিনিময়’ কবিতাটি কোন কাব্যগ্রন্থ থেকে সংকলিত?
- ক. রক্তরাগ
- খ. বুলবুলিস্তান
- গ. মরুদুলাল
- ঘ. খোশরোজ
উত্তর: খ। কবিতাটি গোলাম মোস্তফার বুলবুলিস্তান কাব্য থেকে সংকলিত হয়েছে।
১১। কবিতাটির প্রতিপাদ্য বিষয় কী?
- ক. ধর্মীয় বিধিবিধান
- খ. পিতৃস্নেহের কাছে মৃত্যুর পরাজয়
- গ. রাজ্যবিস্তার
- ঘ. যুদ্ধের বীরত্ব
উত্তর: খ। পিতার স্নেহ-বাৎসল্যের কাছে মৃত্যুর পরাজয়— এই বিষয়ই কবিতার প্রতিপাদ্য।
১২। কবিতায় কোন মোগল সম্রাট ও তাঁর পুত্রের কথা বলা হয়েছে?
- ক. বাবর ও হুমায়ুন
- খ. শাহজাহান ও আওরঙ্গজেব
- গ. আকবর ও জাহাঙ্গীর
- ঘ. হুমায়ুন ও আকবর
উত্তর: ক। কবিতায় মোগল সম্রাট বাবর ও তাঁর পুত্র হুমায়ুনের কথা বলা হয়েছে।
১৩। কবিতার শুরুতে বাবরের অবস্থা কেমন বলে বর্ণনা করা হয়েছে?
- ক. তিনি ঘুমিয়ে আছেন
- খ. তিনি আনন্দিত ও নিশ্চিন্ত
- গ. তিনি ভ্রমণে ব্যস্ত
- ঘ. তিনি কাঁদছেন, তাঁর চোখে ঘুম নেই
উত্তর: ঘ। বাবর কাঁদছেন, তাঁর চোখে ঘুম নেই— পুত্র হুমায়ুন বাঁচবে না এই আশঙ্কায় তিনি অস্থির।
১৪। হুমায়ুনের চারপাশে কী ঘনিয়ে আসছিল বলে বর্ণনা করা হয়েছে?
- ক. মরণ-অন্ধকার
- খ. সৌভাগ্যের আভা
- গ. উৎসবের সাজ
- ঘ. আনন্দের আলো
উত্তর: ক। হুমায়ুনের চারিধারে মরণ-অন্ধকার ঘনিয়ে আসছিল বলে বর্ণনা করা হয়েছে।
১৫। রাজ্যের কারা এসে হুমায়ুনের চিকিৎসায় নিয়োজিত হয়?
- ক. শুধু হেকিমরা
- খ. শুধু কবিরাজরা
- গ. বিজ্ঞ হেকিম, কবিরাজ ও দরবেশ
- ঘ. শুধু দরবেশরা
উত্তর: গ। রাজ্যের যত বিজ্ঞ হেকিম, কবিরাজ ও দরবেশ সবাই এসে চিকিৎসা-ব্যবস্থা দিতে থাকেন, সেবাযত্নে কোনো ত্রুটি রাখা হয়নি।
১৬। চিকিৎসার পরও হুমায়ুনের রোগের কী অবস্থা হয়?
- ক. রোগ হটে না, দুর্ভোগ বাড়তেই থাকে
- খ. রোগের কোনো পরিবর্তন হয় না
- গ. রোগ সাময়িকভাবে কমে
- ঘ. দ্রুত সেরে ওঠে
উত্তর: ক। যত দিন যায়, দুর্ভোগ ততই বাড়তে থাকে— হুমায়ুনের জীবন-প্রদীপ যেন অস্তগামী সূর্যের মতো নিভে আসছিল।
১৭। বাবর ব্যগ্রকণ্ঠে চিকিৎসকদের কাছে কী জানতে চান?
- ক. সত্যি করে বলতে, পুত্রের মুক্তি মিলবে কিনা
- খ. চিকিৎসার সময়সীমা
- গ. চিকিৎসার খরচ
- ঘ. রোগের নাম
উত্তর: ক। বাবর ব্যগ্রকণ্ঠে জিজ্ঞেস করেন, সত্যি করে বলতে, এই রোগ থেকে হুমায়ুনের মুক্তি মিলবে কিনা।
১৮। চিকিৎসকরা এই প্রশ্নের কী উত্তর দেন?
- ক. তারা নতমস্তকে নীরব থাকেন
- খ. তারা স্পষ্ট নেতিবাচক উত্তর দেন
- গ. তারা আরও সময় চান
- ঘ. তারা আশাবাদী উত্তর দেন
উত্তর: ক। চিকিৎসকরা নতমস্তকে নীরব থাকেন, কোনো কথা বলেন না— তাঁদের এই নিষ্ঠুর নীরবতাই যেন মুখর হয়ে বাবরের বুকে শেলের মতো বিঁধে যায়।
১৯। একজন দরবেশ বাবরকে কী পরামর্শ দেন?
- ক. তীর্থে যেতে
- খ. শ্রেষ্ঠ ধন দান করলে আল্লাহ পুত্রকে বাঁচাবেন
- গ. রাজ্য ত্যাগ করতে
- ঘ. আরও চিকিৎসকের কাছে যেতে
উত্তর: খ। দরবেশ বলেন, সুলতান যদি তাঁর সবচেয়ে শ্রেষ্ঠ ধন দান করতে পারেন, তবে খুশি হয়ে আল্লাহ বাদশাজাদার প্রাণ বাঁচাবেন।
২০। দরবেশের কথা শুনে বাবরের প্রতিক্রিয়া কী হয়?
- ক. তিনি সময় চান
- খ. তিনি প্রত্যাখ্যান করেন
- গ. নির্ভয়ে সেই কোরবানি দিতে প্রস্তুত হন
- ঘ. তিনি সন্দিহান হন
উত্তর: গ। বাবর শঙ্কাহীনভাবে বলেন, তাই যদি হয়, তিনি সেই কোরবানি দিতে প্রস্তুত, তিনি জানেন তাঁর শ্রেষ্ঠ ধন কী।
২১। বাবর কোথায় বসে প্রার্থনা করেন?
- ক. রাজদরবারে
- খ. হুমায়ুনের শয্যার পাশে
- গ. একটি মসজিদে
- ঘ. নিরিবিলি গৃহতলে
উত্তর: ঘ। বাবর আসন পেতে নিরিবিলি গৃহতলে গভীর ধ্যানে, শান্ত-অচঞ্চল ভঙ্গিতে বসেন।
২২। প্রার্থনার সময় বাবরের অবস্থা কেমন ছিল?
- ক. প্রার্থনারত হাত জোড়া, চোখে অশ্রু
- খ. তিনি ক্রুদ্ধ ছিলেন
- গ. তিনি নির্বিকার ছিলেন
- ঘ. তিনি ঘুমিয়ে পড়েছিলেন
উত্তর: ক। তাঁর প্রার্থনারত দুই হাত জোড়া ছিল, চোখে ছিল অশ্রুজল।
২৩। বাবর আল্লাহর কাছে কী প্রার্থনা করেন?
- ক. দীর্ঘায়ু
- খ. নিজের প্রাণের বিনিময়ে পুত্রের প্রাণ ভিক্ষা
- গ. যুদ্ধে বিজয়
- ঘ. রাজ্যের সমৃদ্ধি
উত্তর: খ। বাবর কাঁদতে কাঁদতে বলেন, তাঁর জীবনের সবচেয়ে প্রিয় বস্তু তাঁর নিজের প্রাণ, তাই নিয়ে যেন আল্লাহ তাঁর পুত্রের প্রাণ ফিরিয়ে দেন।
২৪। প্রার্থনার পরিবেশ কেমন ছিল বলে বর্ণনা করা হয়েছে?
- ক. স্তব্ধ-নীরব, গভীর রজনী, নিখিল বিশ্ব সুপ্তিমগ্ন
- খ. কোলাহলপূর্ণ
- গ. উৎসবমুখর
- ঘ. ঝড়ো
উত্তর: ক। গৃহতল স্তব্ধ-নীরব ছিল, কেউ কোনো কথা বলেনি; গভীর রজনীতে সমগ্র বিশ্ব সুপ্তিমগ্ন ছিল, আকাশে-বাতাসে যেন গোপন কানাকানি ধ্বনিত হচ্ছিল।
২৫। হঠাৎ বাবর কী বলে চিৎকার করে ওঠেন?
- ক. তিনি চিকিৎসকদের ডাকেন
- খ. তিনি সাহায্য চান
- গ. আল্লাহ তাঁর প্রার্থনা কবুল করেছেন বলে চিৎকার করেন
- ঘ. তিনি হতাশ হয়ে পড়েছেন
উত্তর: গ। বাবর হঠাৎ চিৎকার করে ওঠেন, ‘নাহি ভয় নাহি ভয়, প্রার্থনা মোর কবুল করেছে আল্লাহ যে দয়াময়’— পুত্র বাঁচবে, মরবে না নিশ্চয়।
২৬। বাবর আনন্দে কী করতে থাকেন পুত্রের প্রার্থনার সাড়া পেয়ে?
- ক. তিনি নীরবে বসে থাকেন
- খ. তিনি ঘুমিয়ে পড়েন
- গ. পুলকে পুত্রের চারিপাশে ঘুরতে থাকেন
- ঘ. তিনি রাজদরবারে যান
উত্তর: গ। বাবর পুলকে পুত্রের চারিপাশে ঘুরতে থাকেন, তাঁর নিরাশ হৃদয় যেন আশার দৃপ্ত জয়োল্লাসে ভরে ওঠে।
২৭। বাবরের আনন্দকে কবি কীসের সাথে তুলনা করেছেন?
- ক. একটি নদীর স্রোতের সাথে
- খ. একটি ফুল ফোটার সাথে
- গ. তিমির রাতের তোরণে ঊষার পূর্বাভাসের সাথে
- ঘ. একটি পাখির উড়ানের সাথে
উত্তর: গ। কবি বাবরের আনন্দকে তিমির রাতের তোরণে ঊষার পূর্বাভাসের সাথে তুলনা করেছেন— অন্ধকার রাতের অবসান ঘোষণা করে ভোরের আগমনের মতোই এই আনন্দ।
২৮। সেই দিন থেকে কার শরীরে রোগ-লক্ষণ দেখা দেয়?
- ক. বাবরের
- খ. হুমায়ুনের
- গ. দরবেশের
- ঘ. একজন চিকিৎসকের
উত্তর: ক। সেইদিন থেকে বাবরের শরীরেই রোগ-লক্ষণ দেখা দিতে শুরু করে।
২৯। রোগ-লক্ষণ দেখা দেওয়ার পর বাবরের প্রতিক্রিয়া কী হয়?
- ক. হৃষ্টচিত্তে তিনি মরণের শয্যা গ্রহণ করেন
- খ. তিনি চিকিৎসা নেওয়ার চেষ্টা করেন
- গ. তিনি অস্বীকার করেন
- ঘ. তিনি ভীত হয়ে পড়েন
উত্তর: ক। বাবর হৃষ্টচিত্তে (আনন্দিত মনে) মরণের শয্যা গ্রহণ করেন, কারণ তিনি জানতেন এর বিনিময়ে তাঁর পুত্র বাঁচবে।
৩০। হুমায়ুনের অবস্থার কী পরিবর্তন হয়?
- ক. তিনিও অসুস্থ হয়ে পড়েন
- খ. কোনো পরিবর্তন হয় না
- গ. তিনি ধীরে ধীরে নতুন জীবনে বাঁচিয়া ওঠেন
- ঘ. তাঁর অবস্থার অবনতি হয়
উত্তর: গ। হুমায়ুন ধীরে ধীরে নতুন জীবনে বাঁচিয়া ওঠেন— বাবরের আত্মত্যাগের ফল তিনি পান।
৩১। কবিতার শেষ স্তবকে বাবরের মৃত্যু সম্পর্কে কবি কী মন্তব্য করেন?
- ক. এটি একটি সাধারণ মৃত্যু
- খ. এটি প্রকৃত মৃত্যু নয়, বাবর অমর হয়েছেন
- গ. এটি এড়ানো যেত
- ঘ. এটি একটি দুর্ভাগ্যজনক ঘটনা
উত্তর: খ। কবি বলেন, ‘মরিল বাবর- না, না ভুল কথা, মৃত্যু কে তারে কয়? মরিয়া বাবর অমর হয়েছে’— অর্থাৎ এটি প্রকৃত মৃত্যু নয়, বরং আত্মত্যাগের মাধ্যমে অমরত্ব লাভ।
৩২। কবিতার শেষ পঙক্তিতে কীসের কাছে মরণের পরাজয় ঘোষিত হয়েছে?
- ক. পিতৃস্নেহের কাছে
- খ. সাহসের কাছে
- গ. জ্ঞানের কাছে
- ঘ. ধনসম্পদের কাছে
উত্তর: ক। কবি বলেন, ‘পিতৃস্নেহের কাছে হইয়াছে মরণের পরাজয়’— সন্তানের প্রতি পিতার ভালোবাসাই মৃত্যুকেও পরাজিত করেছে।
**৩৩। কবিতার মূল ঘটনাক্রম নিয়ে নিচের তথ্যগুলো লক্ষ করো —**
i. হুমায়ুনের অসুস্থতায় সব চিকিৎসক ব্যর্থ হন
ii. বাবর নিজের প্রাণের বিনিময়ে পুত্রের জীবন প্রার্থনা করেন
iii. বাবর প্রার্থনার পরেও সুস্থ থেকে দীর্ঘজীবন লাভ করেন
নিচের কোনটি সঠিক?
ক. i ও ii খ. i ও iii গ. ii ও iii ঘ. i, ii ও iii
**উত্তর: ক।** প্রথম দুটি তথ্য কবিতার বর্ণনার সাথে মেলে, কিন্তু কবিতা অনুযায়ী প্রার্থনার পর বাবরের শরীরেই রোগ-লক্ষণ দেখা দেয় এবং তিনি মৃত্যুবরণ করেন— তিনি দীর্ঘজীবন লাভ করেননি; তাই তৃতীয় তথ্যটি ভুল।
৩৪। ‘বিনিময়’ শব্দের অর্থ কী?
- ক. দান মাত্র
- খ. ক্ষতি
- গ. প্রাপ্তি
- ঘ. বদল
উত্তর: ঘ। বিনিময় অর্থ বদল।
৩৫। ‘নিদ’ শব্দের অর্থ কী?
- ক. জাগরণ
- খ. ক্লান্তি
- গ. ঘুম
- ঘ. স্বপ্ন
উত্তর: গ। নিদ অর্থ ঘুম।
৩৬। ‘ভিষকবৃন্দ’ শব্দের অর্থ কী?
- ক. সৈন্যদল
- খ. চিকিৎসকগণ
- গ. মন্ত্রীগণ
- ঘ. পুরোহিতগণ
উত্তর: খ। ভিষকবৃন্দ অর্থ চিকিৎসকগণ।
৩৭। ‘শেলসম’ শব্দের অর্থ কী?
- ক. ফুলের মতো কোমল
- খ. মেঘের মতো হালকা
- গ. তীক্ষ্ণ অস্ত্রের মতো
- ঘ. পাথরের মতো কঠিন
উত্তর: গ। শেলসম অর্থ তীক্ষ্ণ অস্ত্রের মতো।
৩৮। ‘অন্তরবি’ শব্দের অর্থ কী?
- ক. তারার আলো
- খ. উদীয়মান সূর্য
- গ. অস্তগামী সূর্য
- ঘ. পূর্ণিমার চাঁদ
উত্তর: গ। অন্তরবি অর্থ অস্তগামী সূর্য।
৩৯। ‘সবচেয়ে যে শ্রেষ্ঠ ধন’ বাক্যাংশটি কী নির্দেশ করে?
- ক. রাজ্য ও ক্ষমতা
- খ. প্রত্যেক মানুষের কাছে নিজের জীবনই শ্রেষ্ঠ ধন
- গ. সন্তান-সন্ততি
- ঘ. স্বর্ণ-রৌপ্য
উত্তর: খ। টীকা অনুযায়ী প্রত্যেক মানুষের কাছে নিজের জীবনই তার শ্রেষ্ঠ ধন হিসেবে বিবেচিত।
৪০। ‘সুপ্তিমগ্ন’ শব্দের অর্থ কী?
- ক. জাগ্রত
- খ. উত্তেজিত
- গ. ঘুমে অচেতন
- ঘ. চিন্তিত
উত্তর: গ। সুপ্তিমগ্ন অর্থ ঘুমে অচেতন।
৪১। ‘ফুকারি’ শব্দের অর্থ কী?
- ক. চুপচাপ
- খ. ধীরে ধীরে
- গ. চিৎকার করে
- ঘ. ফিসফিস করে
উত্তর: গ। ফুকারি অর্থ চিৎকার করে।
৪২। ‘কবুল’ শব্দের অর্থ কী?
- ক. প্রত্যাখ্যান
- খ. বিলম্বিত
- গ. অস্বীকার
- ঘ. স্বীকার, গৃহীত
উত্তর: ঘ। কবুল অর্থ স্বীকার বা গৃহীত।
৪৩। পাঠ-পরিচিতি অনুযায়ী সম্রাট বাবর কী উপলব্ধি করেন?
- ক. রাজ্যই সবচেয়ে মূল্যবান
- খ. নিজের প্রাণের চেয়ে বেশি প্রিয় আর কিছু নেই
- গ. সম্পদই সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ
- ঘ. ক্ষমতাই মুখ্য বিষয়
উত্তর: খ। পাঠ-পরিচিতি অনুযায়ী সম্রাট বাবর উপলব্ধি করেন, নিজের প্রাণের চেয়ে আর বেশি প্রিয় কিছু নেই— তাই সেই শ্রেষ্ঠ ধনই তিনি পুত্রের জন্য বিসর্জন দিতে প্রস্তুত হন।
৪৪। পাঠ-পরিচিতি অনুযায়ী কবিতাটি কী প্রকাশ করে?
- ক. যুদ্ধের কৌশল
- খ. ধর্মীয় বিধিবিধান
- গ. সন্তানের প্রতি পিতার অপরিসীম ভালোবাসা ও অনুভূতি
- ঘ. রাজনৈতিক দ্বন্দ্ব
উত্তর: গ। পাঠ-পরিচিতি অনুযায়ী কবিতাটি সন্তানের প্রতি পিতার অপরিসীম ভালোবাসা ও গভীর অনুভূতি প্রকাশ করে।
৪৫। কবিতায় ‘ধর্ম’ ও ‘পিতৃস্নেহ’-এর মধ্যে কোন সম্পর্ক তুলে ধরা হয়েছে?
- ক. ধর্মের কোনো ভূমিকা নেই
- খ. পিতৃস্নেহ ধর্মের চেয়ে গুরুত্বহীন
- গ. ধর্ম ও পিতৃস্নেহ পরস্পরবিরোধী
- ঘ. পিতৃস্নেহ প্রকাশের মাধ্যম হিসেবে প্রার্থনার ব্যবহার
উত্তর: ঘ। কবিতায় প্রার্থনা ও বিশ্বাসের মাধ্যমেই বাবরের পিতৃস্নেহের গভীরতা প্রকাশিত হয়েছে— ধর্মীয় বিশ্বাস এখানে পিতৃত্বের আত্মত্যাগকে প্রকাশের একটি মাধ্যম হয়ে উঠেছে।
৪৬। কবিতার নাটকীয় কাঠামো (আশা-নিরাশার দোলাচল) কী প্রভাব ফেলে?
- ক. এর কোনো প্রভাব নেই
- খ. এটি আবেগময় তীব্রতা বাড়িয়ে পাঠককে একাত্ম করে
- গ. এটি কবিতাকে দুর্বল করে
- ঘ. এটি পাঠককে বিভ্রান্ত করে
উত্তর: খ। হতাশা থেকে আশা, আশা থেকে আত্মত্যাগ, আত্মত্যাগ থেকে বিজয়ের এই নাটকীয় উত্থান-পতন কবিতার আবেগময় তীব্রতাকে বহুগুণ বাড়িয়ে তোলে এবং পাঠককে বাবরের মানসিক যন্ত্রণা ও পরিণত সিদ্ধান্তের সাথে গভীরভাবে একাত্ম করে।
সেলিনা বেগমের একমাত্র মেয়ে দুরারোগ্য ব্যাধিতে আক্রান্ত। ডাক্তাররা আশা ছেড়ে দিলে সেলিনা বেগম প্রতিদিন নামাজের পর কাঁদতে কাঁদতে প্রার্থনা করেন, নিজের বাকি জীবনের বিনিময়ে হলেও যেন মেয়ে সুস্থ হয়ে ওঠে।
৪৭। সেলিনা বেগমের প্রার্থনার সাথে ‘জীবন বিনিময়’ কবিতার বাবরের প্রার্থনার কোন দিকটির মিল পাওয়া যায়?
- ক. উভয়ই চিকিৎসা প্রত্যাখ্যান করেন
- খ. কোনো মিল নেই
- গ. উভয়ই রাজ্যের জন্য প্রার্থনা করেন
- ঘ. সন্তানের জীবন রক্ষার জন্য নিজের জীবন বিসর্জনের ইচ্ছা প্রকাশ
উত্তর: ঘ। বাবর যেমন পুত্র হুমায়ুনের জীবন রক্ষার জন্য নিজের জীবন বিসর্জন দিতে প্রার্থনা করেছিলেন, সেলিনা বেগমও তেমনি মেয়ের সুস্থতার জন্য নিজের জীবনের বিনিময়ে প্রার্থনা করছেন— সন্তানের প্রতি অকৃত্রিম পিতৃ-মাতৃস্নেহের এই আত্মত্যাগী রূপই উভয়ের মিল।
৪৮। এ ধরনের আত্মত্যাগমূলক প্রার্থনা থেকে অভিভাবক-সন্তান সম্পর্কের কোন সর্বজনীন সত্য প্রকাশ পায়?
- ক. এটি শুধু ধর্মীয় মানুষের মধ্যে সীমাবদ্ধ
- খ. এটি শুধু রাজপরিবারের ক্ষেত্রে প্রযোজ্য
- গ. পিতামাতা সন্তানের জন্য নিজের জীবন উৎসর্গ করতে প্রস্তুত থাকেন
- ঘ. এটি অতিরঞ্জিত কল্পনা মাত্র
উত্তর: গ। এ ধরনের ঘটনা প্রমাণ করে, প্রকৃত পিতা-মাতার ভালোবাসা সীমাহীন ও নিঃস্বার্থ— সন্তানের কল্যাণের জন্য তাঁরা নিজের জীবন পর্যন্ত বিসর্জন দিতে প্রস্তুত থাকেন, যা কালে-কালে, সমাজ-নির্বিশেষে একটি সর্বজনীন মানবিক সত্য।
৪৯। কবিতাটি কোন কাব্যরীতিতে রচিত?
- ক. গদ্যছন্দে
- খ. অমিত্রাক্ষর ছন্দে
- গ. মিত্রাক্ষর ছন্দে, ত্রিপদী স্তবক বিন্যাসে
- ঘ. সনেট রীতিতে
উত্তর: গ। কবিতাটি মিত্রাক্ষর (অন্ত্যমিলযুক্ত) ছন্দে রচিত, প্রতিটি স্তবক তিন পঙক্তির (ত্রিপদী) বিন্যাসে সাজানো, যা আখ্যানকাব্যের জন্য উপযোগী গতিময়তা তৈরি করে।
৫০। কবিতাটি কেন আজও পাঠকদের হৃদয় স্পর্শ করে?
- ক. এটি রাজকীয় জীবনযাত্রার বর্ণনা দেয়
- খ. এটি একটি ধর্মীয় উপদেশ মাত্র
- গ. এটি একটি ঐতিহাসিক তথ্যচিত্র মাত্র
- ঘ. এটি পিতামাতার চিরন্তন ভালোবাসার প্রতিনিধিত্ব করে
উত্তর: ঘ। যুগ-যুগান্তরে পিতামাতার সন্তানের প্রতি যে সীমাহীন, নিঃস্বার্থ ভালোবাসা মানুষ প্রত্যক্ষ করে, কবিতাটি তারই এক চিরন্তন, সর্বজনীন প্রতিনিধিত্ব করে বলেই তা আজও পাঠকের হৃদয় গভীরভাবে স্পর্শ করে।
