বই পড়া প্রবন্ধের নোট | SSC বাংলা ১ম পত্রের “বই পড়া” প্রবন্ধের জ্ঞানমূলক ও অনুধাবনমূলক প্রশ্ন উত্তর নিচে দেওয়া হলো। বহুনির্বাচনি প্রশ্নের জন্য বই পড়া প্রবন্ধের MCQ দেখুন।
জ্ঞানমূলক প্রশ্ন ও উত্তর (ক)
প্রমথ চৌধুরী ও বই পড়া প্রবন্ধের পরিচিতি বিষয়ক জ্ঞানমূলক প্রশ্ন
প্রমথ চৌধুরী কত খ্রিষ্টাব্দে জন্মগ্রহণ করেন?
তিনি ১৮৬৮ খ্রিষ্টাব্দে জন্মগ্রহণ করেন।
প্রমথ চৌধুরীর জন্মস্থান কোথায়?
তাঁর জন্মস্থান যশোর, যদিও পৈতৃক নিবাস পাবনা জেলার হরিপুর গ্রাম।
প্রমথ চৌধুরী কোন বিষয়ে এমএ ডিগ্রি লাভ করেন?
তিনি ইংরেজি সাহিত্যে এমএ ডিগ্রি লাভ করেন।
প্রমথ চৌধুরীর ছদ্মনাম কী?
তাঁর ছদ্মনাম বীরবল।
প্রমথ চৌধুরী কত সালে ‘সবুজপত্র’ পত্রিকা সম্পাদনা শুরু করেন?
তিনি ১৯১৪ সালে সবুজপত্র সম্পাদনা শুরু করেন।
প্রমথ চৌধুরী বাংলা সাহিত্যে কোন ভাষারীতির প্রবর্তক হিসেবে খ্যাত?
তিনি চলতি ভাষারীতির প্রবর্তক হিসেবে খ্যাত।
প্রমথ চৌধুরীর একটি প্রবন্ধগ্রন্থের নাম লেখো।
তাঁর একটি প্রবন্ধগ্রন্থ ‘বীরবলের হালখাতা’।
প্রমথ চৌধুরী কত সালে মৃত্যুবরণ করেন?
তিনি ১৯৪৬ সালে মৃত্যুবরণ করেন।
বিলাত থেকে ফিরে প্রমথ চৌধুরী কোন পেশায় যোগ দেননি?
ব্যারিস্টারি পড়তে বিলাত গেলেও ফিরে এসে তিনি সে পেশায় যোগ দেননি, বরং অধ্যাপনা ও পরে সাহিত্যচর্চায় মনোনিবেশ করেন।
প্রমথ চৌধুরী সম্পাদিত পত্রিকার নাম কী?
১৯১৪ সালে তাঁর সম্পাদিত সবুজপত্র বাংলা সাহিত্যে চলতি ভাষারীতি প্রবর্তনে অগ্রণী ভূমিকা পালন করে।
নিচের কোনটি প্রমথ চৌধুরীর গ্রন্থ নয়?
চোখের বালি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের উপন্যাস; বাকি তিনটি প্রমথ চৌধুরীর রচনা।
লেখকের মতে সাহিত্যের জন্ম কীসের সমবায়ে হয়?
লেখকের ভাষায়, মানুষের দর্শন, বিজ্ঞান, ধর্মনীতি, অনুরাগ-বিরাগ, আশা-নৈরাশ্য, অন্তরের স্বপ্ন ও সত্য— এসবের সমবায়ে সাহিত্যের জন্ম হয়।
বই পড়া প্রবন্ধের মূল বিষয়বস্তু নিয়ে জ্ঞানমূলক প্রশ্ন
‘বই পড়া’ প্রবন্ধটি মূলত কোথায় পঠিত হয়েছিল?
এটি একটি লাইব্রেরির বার্ষিক সভায় পঠিত হয়েছিল।
লেখক বাঙালি জাতিকে কেমন বলে মনে করেন?
লেখক বাঙালি জাতিকে শৌখিন নয় বলে মনে করেন।
লেখকের মতে দর্শন ও বিজ্ঞান কী?
লেখকের মতে দর্শন ও বিজ্ঞান মনের ভগ্নাংশ মাত্র।
লেখকের মতে পুরো মানুষের সাক্ষাৎ কোথায় মেলে?
লেখকের মতে পুরো মানুষের সাক্ষাৎ সাহিত্যেই মেলে।
লেখক কোন বিখ্যাত ইংরেজি উক্তি উদ্ধৃত করেন ফরাসি জাতি প্রসঙ্গে?
তিনি উদ্ধৃত করেন— “France was saved by her idlers”।
লেখকের মতে সুশিক্ষিত লোক আসলে কেমন?
লেখকের মতে সুশিক্ষিত লোক মাত্রই স্বশিক্ষিত।
লেখক স্কুল-কলেজের শিক্ষাপদ্ধতিকে কীসের সাথে তুলনা করেন?
তিনি একে জোর করে দুধ খাওয়ানো ও বাজিকরের গুলি গেলা-উগরানোর সাথে তুলনা করেন।
লেখকের মতে লাইব্রেরির সার্থকতা কীসের চেয়ে কম নয়?
লাইব্রেরির সার্থকতা হাসপাতালের চেয়ে কম নয়।
কোন পেশাজীবীরা কাব্যগ্রন্থ কিনতে রাজি নন বলে লেখক উল্লেখ করেন?
পেশাদার আইনজীবীরা, যাঁরা ল-রিপোর্ট কেনেন কিন্তু কাব্যগ্রন্থ কেনেন না।
‘স্বশিক্ষিত’ শব্দের অর্থ কী?
স্বশিক্ষিত অর্থ নিজে নিজে শিক্ষিত।
‘গলাধঃকরণ’ শব্দের অর্থ কী?
গলাধঃকরণ অর্থ গিলে ফেলা।
লেখকের মতে যে জাতি নিরানন্দ, সে জাতি কেমন?
লেখকের মতে যে জাতি নিরানন্দ, সে জাতি নির্জীব।
লেখকের মতে বাঙালিরা শিক্ষার কাছে কী প্রত্যাশা করে?
লেখক বলেন, বাঙালিদের বিশ্বাস শিক্ষা তাদের গায়ের জ্বালা ও চোখের জল দুই-ই দূর করবে— যদিও তিনি একে সম্ভবত ‘দুরাশা’ বলে মনে করেন।
লেখকের মতে সাহিত্যচর্চা সম্পর্কে মানুষের সন্দেহের মূল কারণ কী?
লেখক বলেন, শিক্ষার এই ফল হাতে হাতে পাওয়া যায় না অর্থাৎ তার কোনো নগদ বাজারদর নেই— এ কারণেই মানুষ সাহিত্যচর্চার সার্থকতা নিয়ে সন্দিহান।
ডেমোক্রেসি (গণতন্ত্র) সম্পর্কে লেখকের পর্যবেক্ষণ কী?
লেখকের পর্যবেক্ষণ, ডেমোক্রেসির গুরুরা সবাইকে সমান করতে চাইলেও শিষ্যরা উলটো বুঝে প্রত্যেকে বড়োমানুষ হতে চায়— ফলে ডেমোক্রেসির দোষগুলোই আত্মসাৎ হয়েছে।
লেখকের মতে সাহিত্যের চর্চা কোথায় করা সম্ভব নয়?
লেখক বলেন, ধর্মের চর্চা মন্দিরের বাইরেও, দর্শনের চর্চা গুহায়, নীতির চর্চা ঘরে সম্ভব হলেও সাহিত্যের চর্চার জন্য চাই লাইব্রেরি— কারখানা বা চিড়িয়াখানায় তা সম্ভব নয়।
লেখক লাইব্রেরিকে কী নামে অভিহিত করেছেন?
লেখক বলেন, আমাদের শিক্ষার বর্তমান অবস্থায় লাইব্রেরি হচ্ছে একরকম মনের হাসপাতাল।
লেখকের বিশ্বাস অনুযায়ী শিক্ষা সম্পর্কে কোনটি সঠিক?
লেখকের দৃঢ় বিশ্বাস, শিক্ষা কেউ কাউকে দিতে পারে না; সুশিক্ষিত লোক মাত্রই স্বশিক্ষিত।
লেখকের মতে ছেলেরা নোট মুখস্থ করে পরীক্ষায় কী করে?
লেখক বাজিকরের গুলি-গোলা গিলে আবার উগরে দেওয়ার সাথে তুলনা করে বলেন, ছেলেরাও নোট গলাধঃকরণ করে পরীক্ষায় তা উদ্গীরণ করে দেয়, প্রকৃত হজম হয় না।
‘বাজিকর’-এর উদাহরণ দিয়ে লেখক কী বোঝাতে চেয়েছেন?
বাজিকর যেমন গুলি-গোলা হজম না করেই উগরে দেয়, ছেলেরাও তেমনি নোট মুখস্থ করে পরীক্ষায় ঢেলে দেয়— প্রকৃত জ্ঞানার্জন হয় না, শুধু কষ্টকর অভ্যাস তৈরি হয়।
ফরাসি শিক্ষাশাস্ত্রীর উদ্ধৃতি অনুযায়ী ফ্রান্সকে কারা রক্ষা করেছিল?
উদ্ধৃতি অনুযায়ী, “France was saved by her idlers”— যারা পাশ করেনি বা চায়নি তারাই ফ্রান্সকে রক্ষা করেছিল, কারণ তাদের মনের বল অক্ষুণ্ণ ছিল।
লেখকের মতে লাইব্রেরিকে স্কুল-কলেজের ওপরে স্থান দেওয়ার মূল কারণ কী?
লেখক বলেন, লাইব্রেরিতে লোকে স্বেচ্ছায় স্বচ্ছন্দচিত্তে নিজের শক্তি ও রুচি অনুসারে জ্ঞানের পথে এগিয়ে যেতে পারে— এটাই তার শ্রেষ্ঠত্বের মূল কারণ।
লেখক মুসলমান ধর্মের কোন শ্রেণিবিভাগের উল্লেখ করেন?
মুসলমান ধর্মে মানবজাতিকে কেতাবি (কেতাব অনুসরণকারী) ও অ-কেতাবি— এই দুই ভাগে ভাগ করা হয়েছে বলে লেখক উল্লেখ করেন।
লেখকের মতে বাংলার শিক্ষিত সমাজ সাধারণত কখন বই পড়ে?
লেখক বলেন, ছেলেরা নোট পড়ে আর বাবারা নজির পড়েন— দুই-ই বাধ্য হয়ে, অর্থাৎ পেটের দায়ে, স্বেচ্ছায় নয়।
লেখকের মতে সাহিত্যচর্চার আনন্দ থেকে বঞ্চিত হওয়ার অর্থ কী?
লেখকের মতে সাহিত্যচর্চার আনন্দ থেকে বঞ্চিত হওয়ার অর্থ হচ্ছে জাতির জীবনীশক্তি হ্রাস করা— কোনো নীতির অনুসারেই তা কর্তব্য হতে পারে না।
প্রবন্ধ অনুযায়ী কাব্যের প্রতি আমাদের অরুচির জন্য প্রকৃত দায়ী কে/কী?
লেখক স্পষ্ট বলেন, কাব্যামৃতে আমাদের অরুচি ধরা আমাদের দোষ নয়, আমাদের শিক্ষার দোষ।
‘ভাঁড়েও ভবানী’ বাগধারাটির অর্থ কী?
ভাঁড়েও ভবানী অর্থ একেবারে রিক্ত বা শূন্য অবস্থা।
‘দাতাকর্ণ’ কে ছিলেন?
দাতাকর্ণ হলেন মহাভারতের বিশিষ্ট চরিত্র কুন্তীপুত্র কর্ণ, যিনি দানের জন্য প্রবাদতুল্য মানুষ হিসেবে পরিচিত।
লেখকের সামগ্রিক যুক্তিধারা সম্পর্কে নিচের কোনটি সঠিক?
পুরো প্রবন্ধ জুড়ে লেখক দেখান, জোরপূর্বক নোটনির্ভর শিক্ষা প্রকৃত জ্ঞান দেয় না; বরং স্বতঃস্ফূর্ত, স্বেচ্ছাপ্রণোদিত পাঠাভ্যাসই প্রকৃত মানসিক বিকাশ ঘটায়— এই যুক্তির পক্ষেই তিনি লাইব্রেরির গুরুত্ব তুলে ধরেন।
এই প্রবাদের ভাবার্থ ‘বই পড়া’ প্রবন্ধের কোন মূল বক্তব্যের সাথে সবচেয়ে বেশি সংগতিপূর্ণ?
প্রবাদের কথা— বই পড়লে আলোকিত হওয়া, না পড়লে অন্ধকারে থাকা— মূলত বলছে জ্ঞানার্জন নিজের চেষ্টাতেই হয়, যা প্রবন্ধের ‘সুশিক্ষিত লোক মাত্রই স্বশিক্ষিত’ বক্তব্যের সাথে সরাসরি মিলে যায়।
এই প্রবাদ ও বই পড়া প্রবন্ধের মূল বক্তব্য মিলিয়ে দেখলে কী উপসংহার টানা যায়?
উভয় ক্ষেত্রেই বোঝা যায়, প্রকৃত জ্ঞান বা আলোকপ্রাপ্তি ব্যক্তির নিজস্ব পাঠ ও প্রচেষ্টার ফল, যা বাইরে থেকে চাপিয়ে দেওয়া যায় না— এটাই লেখকের মূল দর্শন।
রাহাতের ছেলের শিক্ষাপদ্ধতির সাথে ‘বই পড়া’ প্রবন্ধের কোন সমালোচনার মিল রয়েছে?
রাহাতের ছেলে যেমন না বুঝে শুধু মুখস্থ করে পরীক্ষায় লিখছে, প্রবন্ধেও লেখক ঠিক এই প্রবণতাকে বাজিকরের গুলি গেলা-উগরানোর সাথে তুলনা করে সমালোচনা করেছেন।
এই ধরনের শিক্ষাপদ্ধতির দীর্ঘমেয়াদি ক্ষতি কী বলে প্রবন্ধ থেকে অনুমান করা যায়?
লেখকের মতে এই পদ্ধতি ছাত্রদের স্বশিক্ষিত হবার সুযোগই শুধু কেড়ে নেয় না, স্বশিক্ষিত হবার শক্তি পর্যন্ত নষ্ট করে দেয়— যা দীর্ঘমেয়াদে জাতির জন্য ক্ষতিকর।
লেখকের মতে যে জিনিস বাধ্য হয়ে করা হয়, তাতে মানুষের কেমন অনুভূতি হয়?
লেখক স্পষ্ট বলেন, যে জিনিস স্বেচ্ছায় না করা যায়, তাতে মানুষের মনের সন্তোষ থাকে না— বাধ্য হয়ে বই পড়া তাই প্রকৃত জ্ঞানার্জনের পথ নয়।
প্রবন্ধ অনুযায়ী কোন শ্রেণির মানুষ হাজারখানা ল-রিপোর্ট কিনলেও একখানা কাব্যগ্রন্থ কিনতে রাজি নন?
লেখক বলেন, যাঁরা হাজারখানা ল-রিপোর্ট কেনেন তাঁরা একখানা কাব্যগ্রন্থও কিনতে প্রস্তুত নন, কারণ ব্যবসায় তাতে কোনো সুসার (লাভ) নেই।
এই আইনজীবী-উদাহরণ দিয়ে লেখক প্রকৃতপক্ষে কী সমালোচনা করছেন?
এই উদাহরণের মাধ্যমে লেখক দেখান, সমাজ যা কিছু সরাসরি অর্থ বা বাস্তব ফল দেয় না তাকেই মূল্যহীন মনে করে— এটাই সাহিত্যচর্চার প্রতি অবহেলার মূল কারণ।
অনুধাবনমূলক প্রশ্ন ও উত্তর (খ)
বই পড়া প্রবন্ধের চরিত্র ও মূলভাব বিষয়ক অনুধাবনমূলক প্রশ্ন
লেখক কেন বই পড়াকে শুধু ‘শখ’ হিসেবে দেখতে রাজি নন— ব্যাখ্যা করো।
লেখক মনে করেন বাঙালি জাতি শৌখিন নয়, তাই বই পড়াকে নিছক শখ হিসেবে উপস্থাপন করলে তা গুরুত্বহীন মনে হতে পারে। তিনি বরং একে শিক্ষার অপরিহার্য অংশ হিসেবে প্রতিষ্ঠা করতে চান, যাতে মানুষ একে প্রয়োজনীয় বলে মনে করে।
ডেমোক্রেসির প্রভাবে সাহিত্যের প্রতি সমাজের মনোভাব কীভাবে বদলেছে বলে লেখক মনে করেন— ব্যাখ্যা করো।
লেখকের মতে গণতান্ত্রিক যুগে সমাজ জ্ঞানের বদলে অর্থের সার্থকতাকেই প্রাধান্য দেয়। যেহেতু সাহিত্যের কোনো নগদ বাজারদর নেই, তাই তা অবহেলিত হয়— এটিই আধুনিক সমাজের এক গভীর সংকট বলে লেখক দেখান।
লেখক কেন বলেন দর্শন-বিজ্ঞান মনের ভগ্নাংশ মাত্র— ব্যাখ্যা করো।
দর্শন ও বিজ্ঞান মানুষের বুদ্ধিবৃত্তিক দিককে স্পর্শ করলেও মানুষের আবেগ, কল্পনা ও সামগ্রিক অনুভূতির প্রকাশ ঘটায় না। সাহিত্যেই মানুষের সম্পূর্ণ সত্তা প্রতিফলিত হয় বলে লেখক একে ভগ্নাংশ বলেছেন।
স্কুল-কলেজের নোটনির্ভর শিক্ষাপদ্ধতির প্রতি লেখকের সমালোচনা কী— ব্যাখ্যা করো।
লেখক মনে করেন জোরপূর্বক নোট মুখস্থ করানো শিক্ষা প্রকৃত জ্ঞানার্জন নয়, বরং তা দুধ জোর করে খাওয়ানো বা বাজিকরের গুলি গেলা-উগরানোর মতো কৃত্রিম প্রক্রিয়া, যাতে প্রকৃত হজম (উপলব্ধি) হয় না।
‘France was saved by her idlers’ উক্তিটি দিয়ে লেখক কী প্রমাণ করতে চান— ব্যাখ্যা করো।
এই উক্তির মাধ্যমে লেখক দেখাতে চান, পরীক্ষায় অকৃতকার্য বা প্রথাগত শিক্ষায় ব্যর্থ ব্যক্তিরাও কখনো কখনো জাতির প্রকৃত রক্ষাকর্তা হতে পারেন— প্রথাগত সাফল্যই মেধা বা দেশপ্রেমের একমাত্র মাপকাঠি নয়।
লেখকের মতে শিক্ষকের প্রকৃত ভূমিকা কী— ব্যাখ্যা করো।
লেখক মনে করেন শিক্ষা কেউ কাউকে দিতে পারে না, প্রতিটি মানুষকেই নিজে শিখতে হয়। শিক্ষকের ভূমিকা কেবল পথপ্রদর্শকের— তিনি দিক দেখাতে পারেন, কিন্তু প্রকৃত শিক্ষালাভ ঘটে ছাত্রের নিজস্ব প্রচেষ্টায়।
লেখক কেন লাইব্রেরিকে হাসপাতালের সাথে তুলনা করেন— ব্যাখ্যা করো।
হাসপাতাল যেমন শরীরের রোগ নিরাময় করে, লাইব্রেরি তেমনি মনের অজ্ঞতা ও সংকীর্ণতা দূর করে। তাই লেখক মনে করেন লাইব্রেরির সামাজিক গুরুত্ব হাসপাতালের চেয়ে কোনো অংশে কম নয়।
আইনজীবীদের উদাহরণ দিয়ে লেখক কোন সমালোচনা করেন— ব্যাখ্যা করো।
লেখক দেখান, যাঁরা ব্যবহারিক লাভের জন্য বহু ল-রিপোর্ট কেনেন তাঁরাও সাহিত্যে বিনিয়োগ করতে অনিচ্ছুক, কারণ তাতে সরাসরি আর্থিক ফল নেই। এই মানসিকতাই সমাজে সাহিত্যচর্চার প্রতি অবহেলার মূল কারণ বলে লেখক দেখান।
স্বতঃপ্রণোদিত পাঠ ও বাধ্যতামূলক পাঠের মধ্যে লেখক কোন পার্থক্য দেখান— ব্যাখ্যা করো।
লেখকের মতে মানুষের মনের প্রকৃত তুষ্টির জন্য স্বেচ্ছায়, নিজের আগ্রহে বই পড়া প্রয়োজন। বাধ্য হয়ে পড়া বই কখনো প্রকৃত আনন্দ বা জ্ঞান দিতে পারে না, বরং তা বিতৃষ্ণা তৈরি করে।
বই পড়া প্রবন্ধের উপসংহারে লেখকের মূল বার্তা কী— ব্যাখ্যা করো।
প্রবন্ধের উপসংহারে লেখক বলেন, যে জাতি আনন্দহীন, সে জাতি নির্জীব হয়ে পড়ে। সাহিত্যচর্চার আনন্দ থেকে বঞ্চিত হওয়া মানেই একটি জাতির জীবনীশক্তি হ্রাস পাওয়া— তাই স্বতঃস্ফূর্ত পাঠাভ্যাস গড়ে তোলা জাতীয় জীবনীশক্তির জন্যই অপরিহার্য।
লেখক শুরুতেই কেন কাউকে ‘শখ হিসেবে’ বই পড়তে পরামর্শ দিতে চান না?
লেখকের মতে, বাঙালিরা জাত হিসেবে শৌখিন নয় এবং রোগ-শোক, দুঃখ-দারিদ্র্যের দেশে শখ করার প্রস্তাব অনেকের কাছে অর্থহীন মনে হবে।
দর্শন, বিজ্ঞান ইত্যাদিকে লেখক কীসের সাথে তুলনা করেছেন?
লেখক বলেন, দর্শন-বিজ্ঞান হলো মনগঙ্গার তোলা জল মাত্র, যেখানে সাহিত্যের ভেতরেই মনের পূর্ণ স্রোত সোল্লাসে বয়ে চলে।
লেখক পাশ করা ও শিক্ষিত হওয়ার মধ্যে কী পার্থক্য দেখান?
লেখক স্পষ্ট বলেন, পাশ করা ও শিক্ষিত হওয়া এক বস্তু নয়— এই সত্য স্বীকার করতে আমরা কুণ্ঠিত হই বলে তিনি আক্ষেপ করেন।
উপরের জ্ঞানমূলক ও অনুধাবনমূলক প্রশ্ন-উত্তরগুলো ভালোভাবে অনুশীলন করলে বই পড়া প্রবন্ধ থেকে সৃজনশীল প্রশ্নের ক ও খ অংশে ভালো নম্বর পাওয়া সহজ হবে।
