আমার দেশ কবিতার MCQ | SSC বাংলা ১ম পত্রের “আমার দেশ” কবিতা থেকে বোর্ড পরীক্ষায় নিয়মিত প্রশ্ন আসে। এই পোস্টে কবিতার সারকথা ও ৪৮টি বহুনির্বাচনি প্রশ্ন (MCQ) উত্তর ও ব্যাখ্যাসহ দেওয়া হলো। জ্ঞানমূলক ও অনুধাবনমূলক প্রশ্নের জন্য আমার দেশ কবিতার নোট দেখুন।
আমার দেশ কবিতার সারকথা ও গুরুত্বপূর্ণ তথ্য
আমার দেশ কবিতার কবি কে?
সুফিয়া কামাল (জন্ম ২০ জুন ১৯১১, শায়েস্তাবাদ, বরিশাল; মৃত্যু ২০ নভেম্বর ১৯৯৯)। ‘জননী সাহসিকা’ উপাধিপ্রাপ্ত, ভাষা আন্দোলন থেকে মুক্তিযুদ্ধ ও পরবর্তী গণতান্ত্রিক আন্দোলনে অসামান্য ভূমিকা। প্রধান কাব্য: সাঁঝের মায়া, মায়া কাজল, উদাত্ত পৃথিবী; স্মৃতিকথা: একাত্তরের ডায়েরী।
আমার দেশ কবিতার উৎস
উদাত্ত পৃথিবী কাব্যগ্রন্থ থেকে সংকলিত, একটি স্বদেশপ্রেমমূলক কবিতা।
কবিতার মূল বিষয়বস্তু
- সূর্য-ঝলকে মৌসুমী ফুল, স্নিগ্ধ শরৎ, মাঠভরা ধানের সৌন্দর্যময় বর্ণনা দিয়ে সূচনা।
- দেশের মাটিতে কবির প্রাণের নব জীবনের সন্ধান; প্লাবনেও নূহের কিশতি ও শান্তি-কপোতের প্রতীকী আশা।
- বন্যার পর নতুন চর জেগে ওঠা, মানুষের আবার পাশাপাশি ঘর বাঁধা— স্থিতিস্থাপকতার প্রতীক।
- নদীর সাগরে মিলনের সাথে মানুষে মানুষে প্রাণের মিলনের কাব্যিক তুলনা।
- দেশের মানুষের মুক্ত-উদার মন, আর্ত-ব্যথিতদের পাশে দাঁড়ানো, সেবা-সাম্য-প্রীতির বিনিময়।
- উপসংহারে আশাবাদী চিত্র— সূর্যালোকে দেশ আবার হাসে, মন নিত্য নতুনরূপে জীবনের আশ্বাসে ভরে ওঠে।
আমার দেশ কবিতার মূল ভাব কী?
বাংলাদেশের মাটি, প্রকৃতি ও মানুষের মধ্যে এক গভীর, প্রাণবন্ত সম্পর্কের কথা— দুর্যোগ-দুর্ভোগ সত্ত্বেও মানুষের অদম্য জীবনীশক্তি, পারস্পরিক সম্প্রীতি ও মিলনের মধ্য দিয়েই দেশ বারবার নতুন করে জেগে ওঠে, এই আশাবাদী জীবনদর্শনই কবিতার কেন্দ্রীয় বার্তা।
আমার দেশ কবিতার গুরুত্বপূর্ণ শব্দার্থ
সূর্য-ঝলকে (সূর্যের আলোয় উদ্ভাসিত), মৌসুমী ফুল (ঋতুভিত্তিক ফুল), ধান্য শীর্ষ (ধানের ওপর ভাগ), নূহের কিশতি (নবি নূহের নৌকা, মহাপ্লাবনে রক্ষাকারী), শান্তি-কপোত (শান্তির প্রতীক কবুতর), বারতা (সংবাদ)।
কবি পরিচিতি বিষয়ক MCQ
১। সুফিয়া কামাল কত খ্রিষ্টাব্দে জন্মগ্রহণ করেন?
- ক. ১৯১২
- খ. ১৯১০
- গ. ১৯০৯
- ঘ. ১৯১১
উত্তর: ঘ। তিনি ১৯১১ খ্রিষ্টাব্দের ২০শে জুন জন্মগ্রহণ করেন।
২। সুফিয়া কামালের জন্মস্থান কোথায়?
- ক. খুলনা
- খ. শায়েস্তাবাদ, বরিশাল (মামার বাড়ি)
- গ. ঢাকা
- ঘ. ফরিদপুর
উত্তর: খ। বরিশাল জেলার শায়েস্তাবাদে তাঁর মামার বাড়িতে তিনি জন্মগ্রহণ করেন।
৩। সুফিয়া কামাল কোন কোন আন্দোলনে অসামান্য ভূমিকা রাখেন?
- ক. শুধু মুক্তিযুদ্ধে
- খ. শুধু নারী আন্দোলনে
- গ. শুধু ভাষা আন্দোলনে
- ঘ. ভাষা আন্দোলন থেকে মুক্তিযুদ্ধ পর্যন্ত সব আন্দোলনে
উত্তর: ঘ। ‘৫২-র ভাষা আন্দোলন থেকে ‘৭১-এর মুক্তিযুদ্ধ এবং পরবর্তীকালের প্রতিটি গণতান্ত্রিক আন্দোলনে তিনি অসামান্য ভূমিকা রাখেন।
৪। সুফিয়া কামাল কী প্রতিষ্ঠার জন্য আজীবন যুদ্ধ করেছেন?
- ক. একটি রাজতন্ত্র
- খ. একটি ধর্মীয় রাষ্ট্র
- গ. একটি সামরিক শাসন
- ঘ. একটি প্রগতিশীল সমাজ-ব্যবস্থা
উত্তর: ঘ। একটি প্রগতিশীল সমাজ-ব্যবস্থা প্রতিষ্ঠার জন্য তিনি আজীবন যুদ্ধ করেছেন।
৫। বাংলাদেশের জনগণ সুফিয়া কামালকে কোন অভিধায় অভিষিক্ত করেছে?
- ক. পল্লিকবি
- খ. জননী সাহসিকা
- গ. বিশ্বকবি
- ঘ. বিদ্রোহী কবি
উত্তর: খ। তাঁর কর্মের স্বীকৃতির জন্য বাংলাদেশের জনগণ তাঁকে ‘জননী সাহসিকা’ অভিধায় অভিষিক্ত করেছে।
৬। সুফিয়া কামালের কবিতার ভাষা কেমন?
- ক. সহজ সরল, ছন্দ সুললিত ও ব্যঞ্জনাময়
- খ. সংস্কৃতঘেঁষা কঠিন
- গ. জটিল ও দুর্বোধ্য
- ঘ. সম্পূর্ণ আরবি-ফারসি শব্দবহুল
উত্তর: ক। তাঁর কবিতার ভাষা সহজ সরল, ছন্দ সুললিত ও ব্যঞ্জনাময়।
৭। নিচের কোনটি সুফিয়া কামালের কাব্যগ্রন্থ নয়?
- ক. মায়া কাজল
- খ. উদাত্ত পৃথিবী
- গ. রাখালী
- ঘ. সাঁঝের মায়া
উত্তর: গ। রাখালী জসীমউদ্দীনের কাব্যগ্রন্থ; বাকি তিনটি সুফিয়া কামালের কাব্যগ্রন্থ।
৮। সুফিয়া কামালের স্মৃতিকথামূলক গ্রন্থের নাম কী?
- ক. ইতল বিতল
- খ. কেয়ার কাঁটা
- গ. একাত্তরের ডায়েরী
- ঘ. নওশল কিশোরের দরবারে
উত্তর: গ। একাত্তরের ডায়েরী তাঁর স্মৃতিকথামূলক গ্রন্থ।
৯। সুফিয়া কামালের গল্পগ্রন্থের নাম কী?
- ক. সাঁঝের মায়া
- খ. মায়া কাজল
- গ. কেয়ার কাঁটা
- ঘ. উদাত্ত পৃথিবী
উত্তর: গ। কেয়ার কাঁটা তাঁর গল্পগ্রন্থ।
১০। সুফিয়া কামাল কোন কোন পুরস্কারে ভূষিত হন?
- ক. শুধু নোবেল পুরস্কার
- খ. বাংলা একাডেমি পুরস্কার, একুশে পদক ও আন্তর্জাতিক পুরস্কার
- গ. শুধু জাতীয় অধ্যাপক সম্মাননা
- ঘ. শুধু বাংলা একাডেমি পুরস্কার
উত্তর: খ। সাহিত্যকর্মে অসামান্য অবদানের জন্য তিনি বাংলা একাডেমি পুরস্কার, একুশে পদক, Women’s Federation for World Peace Crest-সহ অনেক জাতীয় ও আন্তর্জাতিক পুরস্কারে ভূষিত হন।
১১। সুফিয়া কামাল কত খ্রিষ্টাব্দে মৃত্যুবরণ করেন?
- ক. ২০০০
- খ. ১৯৯৮
- গ. ১৯৯৯
- ঘ. ১৯৯৭
উত্তর: গ। ২০শে নভেম্বর, ১৯৯৯ খ্রিষ্টাব্দে তিনি মৃত্যুবরণ করেন।
আমার দেশ কবিতার বহুনির্বাচনি প্রশ্ন ও উত্তর (MCQ)
১২। ‘আমার দেশ’ কবিতাটি কোন কাব্যগ্রন্থ থেকে সংকলিত?
- ক. মায়া কাজল
- খ. সাঁঝের মায়া
- গ. একাত্তরের ডায়েরী
- ঘ. উদাত্ত পৃথিবী
উত্তর: ঘ। কবিতাটি সুফিয়া কামালের উদাত্ত পৃথিবী কাব্য থেকে ‘সুফিয়া কামাল রচনাসংগ্রহ’ থেকে সংকলন করা হয়েছে।
১৩। ‘আমার দেশ’ কোন জাতীয় কবিতা?
- ক. ঐতিহ্যবিষয়ক
- খ. স্বদেশপ্রেমমূলক
- গ. প্রকৃতিবিষয়ক
- ঘ. জাগরণমূলক
উত্তর: খ। ‘আমার দেশ’ একটি স্বদেশপ্রেমমূলক কবিতা।
১৪। কবিতার শুরুতে কীসের কথা বলা হয়েছে?
- ক. একটি খরার চিত্র
- খ. সূর্য-ঝলকে মৌসুমী ফুল ও স্নিগ্ধ শরতের চিত্র
- গ. একটি ঝড়ের বর্ণনা
- ঘ. একটি শীতের বর্ণনা
উত্তর: খ। কবিতার শুরুতে সূর্যের ঝলকে মৌসুমী ফুল ফোটার এবং স্নিগ্ধ শরৎ আকাশের ছায়া মাঠভরা ধানের ওপর পড়ার সুন্দর চিত্র বর্ণনা করা হয়েছে।
১৫। কবির প্রাণ কোথায় নব জীবনের সন্ধান লাভ করে?
- ক. বিদেশে
- খ. পাহাড়ে
- গ. সমুদ্রে
- ঘ. আমার দেশের মাটিতে
উত্তর: ঘ। কবি বলেন, আমার দেশের মাটিতে আমার প্রাণ প্রতিনিয়ত নব জীবনের সন্ধান লাভ করে।
১৬। প্লাবনের সময় কী ভাসে বলে কবিতায় বর্ণিত হয়েছে?
- ক. নূহের কিশতি (প্রতীকী অর্থে)
- খ. একটি ছোট নৌকা
- গ. একটি জাহাজ
- ঘ. একটি ভেলা
উত্তর: ক। কবি বলেন, প্লাবনে এখানে নূহের কিশতি ভাসে, শান্তি-কপোত বার্তা নিয়ে আসে— বন্যার মধ্যেও আশার প্রতীকী চিত্র।
১৭। ‘নূহের কিশতি’ বলতে কী বোঝানো হয়েছে?
- ক. একটি যুদ্ধজাহাজ
- খ. একটি জেলে নৌকা
- গ. একটি সাধারণ নৌকা
- ঘ. মহাপ্লাবনে সবাইকে রক্ষাকারী নবির নৌকা
উত্তর: ঘ। টীকা অনুযায়ী নূহের কিশতি হলো সেমিটিক পুরাণ অনুসারে পৃথিবীতে মহাপ্লাবনের সময় একজন নবির যে বড় নৌকা সবাইকে রক্ষা করেছিল।
১৮। ‘শান্তি-কপোত’ বলতে কী বোঝানো হয়েছে?
- ক. একটি যুদ্ধের চিহ্ন
- খ. একটি সাধারণ পাখি
- গ. শান্তির প্রতীক কবুতর
- ঘ. একটি ধর্মীয় প্রতীক
উত্তর: গ। শান্তি-কপোত অর্থ শান্তির কবুতর— কবুতরকে শান্তির প্রতীক বলা হয়।
১৯। বন্যার পর কী জেগে ওঠে বলে কবিতায় বর্ণিত হয়েছে?
- ক. নতুন সমুদ্র
- খ. নতুন শহর
- গ. নতুন পাহাড়
- ঘ. নতুন চর
উত্তর: ঘ। বন্যার পর নতুন চর জেগে ওঠে, আর সেই চরে মানুষেরা আবার পাশাপাশি ঘর বাঁধে।
২০। নতুন চরে মানুষ কী করে বলে কবিতায় বলা হয়েছে?
- ক. তারা অপেক্ষা করে
- খ. তারা একে অপরের সাথে বিবাদ করে
- গ. তারা চর ছেড়ে চলে যায়
- ঘ. তারা পাশাপাশি আবার ঘর বাঁধে
উত্তর: ঘ। সেই নতুন চরে মানুষেরা সবাই আবার পাশাপাশি ঘর বাঁধে— দুর্যোগের পরও জীবনের প্রতি অদম্য আশাবাদের চিত্র।
২১। প্রতিদিনের সূর্যালোকে কী জাগে বলে কবিতায় বর্ণিত হয়েছে?
- ক. নতুন দুশ্চিন্তা
- খ. নতুন সমস্যা
- গ. নতুন সংঘাত
- ঘ. নব অঙ্কুর
উত্তর: ঘ। প্রতি দিবসের সূর্য-আলোকে অন্তরের অনুরাগে নব অঙ্কুর জাগে— নতুন জীবনের সূচনার প্রতীক।
২২। কবির প্রাণের ঘ্রাণ কীসের সাথে মিশে আছে বলে বলা হয়েছে?
- ক. দেশের মাটির সাথে
- খ. সমুদ্রের সাথে
- গ. বাতাসের সাথে
- ঘ. আকাশের সাথে
উত্তর: ক। কবি বলেন, আমার দেশের মাটিতে মেশানো আমার প্রাণের ঘ্রাণ, গৌরবময় জীবনের সম্মান।
২৩। প্রাণ-স্পন্দনে কী সৃষ্টি হয় বলে কবিতায় বলা হয়েছে?
- ক. একটি ভূমিকম্প
- খ. একটি বন্যা
- গ. একটি ঝড়
- ঘ. লক্ষ তরঙ্গ
উত্তর: ঘ। কবি বলেন, প্রাণ-স্পন্দনে লক্ষ তরঙ্গ সৃষ্টি হয়, জীবনপ্রবাহ মর্মরে সঞ্চারিত হয়ে বক্ষে আগামী দিনের আশা জাগায়।
২৪। কবি তাঁর দেশের মাটি ও ভাষা সম্পর্কে কী বলেন?
- ক. তা মধুর
- খ. তা কঠিন ও রুক্ষ
- গ. তা গুরুত্বহীন
- ঘ. তা জটিল
উত্তর: ক। কবি বলেন, ‘আমার দেশের এ মাটি মধুর, মধুর আমার ভাষা’— নিজের দেশ ও মাতৃভাষার প্রতি গভীর ভালোবাসার প্রকাশ।
২৫। নদীরা কোথায় মিলিত হয়ে যায় বলে কবিতায় বলা হয়েছে?
- ক. পাহাড়ে
- খ. একটি হ্রদে
- গ. মরুভূমিতে
- ঘ. সাগরের পানে
উত্তর: ঘ। কবি বলেন, নদীতে নদীতে মিলে এখানে গিয়ে সাগরের পানে ধায়— নদীর এই মিলনকে মানুষের মিলনের সাথে প্রতীকীভাবে তুলনা করা হয়েছে।
২৬। মানুষে মানুষে কীভাবে মিলিত হয় বলে কবিতায় বলা হয়েছে?
- ক. বিভক্ত হয়ে
- খ. প্রতিযোগিতা করে
- গ. দূরত্ব বজায় রেখে
- ঘ. প্রাণে প্রাণে মিলে গিয়ে
উত্তর: ঘ। নদীর মিলনের মতোই মানুষে মানুষে প্রাণে প্রাণে মিলে যায় বলে কবিতায় বর্ণিত হয়েছে— নদী ও মানুষের এই সমান্তরাল মিলন-প্রতীক কবিতার একটি সুন্দর কাব্যিক কৌশল।
২৭। আপন দেশের মাটিতে দাঁড়িয়ে মানুষ কী করে বলে কবিতায় বলা হয়েছে?
- ক. হাসে
- খ. পালিয়ে যায়
- গ. চিন্তিত থাকে
- ঘ. কাঁদে
উত্তর: ক। আপন দেশের মাটিতে দাঁড়িয়ে মানুষ হাসে বলে কবিতায় বর্ণিত হয়েছে— নিজ দেশের প্রতি গর্ব ও আনন্দের প্রকাশ।
২৮। জীবনের ডাক এলে কী হয় বলে কবিতায় বলা হয়েছে?
- ক. কোনো প্রতিক্রিয়া হয় না
- খ. মানুষ ভয় পায়
- গ. নদী-প্রান্তর পার হয়ে লক্ষ প্রাণের ধারা আসে
- ঘ. মানুষ উদাসীন থাকে
উত্তর: গ। জীবনের ডাক এলে সেই ডাকে সাড়া দিয়ে নদী-প্রান্তর পার হয়ে লক্ষ প্রাণের ধারা সবার সাথে মিলিত হতে আসে।
২৯। কবির দেশের মানুষেরা কেমন মনের অধিকারী বলে বর্ণনা করা হয়েছে?
- ক. মুক্ত-উদার মনের অধিকারী
- খ. ভীত ও সংকুচিত
- গ. সংকীর্ণ ও স্বার্থপর
- ঘ. উদাসীন
উত্তর: ক। কবি বলেন, আমার দেশের মানুষেরা সবে মুক্ত-উদার মনের অধিকারী।
৩০। কবির দেশের মানুষেরা কাদের পাশে দাঁড়ায় বলে বলা হয়েছে?
- ক. শুধু নিজেদের আত্মীয়দের পাশে
- খ. কারো পাশে দাঁড়ায় না
- গ. শুধু ধনীদের পাশে
- ঘ. আর্ত-ব্যথিত ও সুধী-গুণীজনের পাশে
উত্তর: ঘ। কবির দেশের মানুষেরা আর্ত-ব্যথিত সুধী-গুণীজনের পাশে দাঁড়ায়, সেবা-সাম্য-প্রীতি বিনিময়ের আশায়।
৩১। কবিতার শেষে দেশের মন কীভাবে ভরে ওঠে বলে বর্ণনা করা হয়েছে?
- ক. দুশ্চিন্তায়
- খ. নিতি নবরূপে, জীবনের আশ্বাসে
- গ. ভয়ে
- ঘ. হতাশায়
উত্তর: খ। কবিতা শেষ হয় এই আশাবাদী চিত্র দিয়ে যে, সূর্য-আলোকে আবার এদেশে হাসি ফোটে, মন প্রতিনিয়ত নবরূপে জীবনের আশ্বাসে ভরে ওঠে।
**৩২। কবিতায় প্রকৃতি ও মানবজীবনের মিলন নিয়ে নিচের তথ্যগুলো লক্ষ করো —**
i. নদীর সাগরে মিলনকে মানুষের পারস্পরিক মিলনের সাথে তুলনা করা হয়েছে
ii. বন্যার পরও মানুষ আবার নতুন করে ঘর বাঁধে
iii. কবিতায় শুধু দুর্যোগ ও দুঃখের কথাই বলা হয়েছে, কোনো আশাবাদ নেই
নিচের কোনটি সঠিক?
ক. i ও ii খ. i ও iii গ. ii ও iii ঘ. i, ii ও iii
**উত্তর: ক।** প্রথম দুটি তথ্য কবিতার বর্ণনার সাথে মেলে, কিন্তু কবিতাটি প্রকৃতপক্ষে গভীর আশাবাদে পরিপূর্ণ— দুর্যোগের মধ্যেও নতুন জীবনের আশা ও মানুষের মিলনের কথাই কবিতার মূল সুর; তাই তৃতীয় তথ্যটি ভুল।
৩৩। ‘সূর্য-ঝলকে’ শব্দবন্ধের অর্থ কী?
- ক. সূর্যের উজ্জ্বল আলোয় আলোকিত/উদ্ভাসিত
- খ. মেঘলা আকাশে
- গ. অন্ধকারে
- ঘ. বৃষ্টির মধ্যে
উত্তর: ক। সূর্য-ঝলকে অর্থ সূর্যের উজ্জ্বল আলোয় আলোকিত বা উদ্ভাসিত।
৩৪। ‘মৌসুমী ফুল’ বলতে কী বোঝানো হয়েছে?
- ক. কৃত্রিম ফুল
- খ. শুধু বর্ষাকালের ফুল
- গ. সব ঋতুতে ফোটা ফুল
- ঘ. বিশেষ ঋতুতে (সময়ে) উৎপন্ন ফুল
উত্তর: ঘ। মৌসুমী ফুল অর্থ বিশেষ ঋতুতে উৎপন্ন ফুল।
৩৫। ‘স্নিগ্ধ শরৎ’ বলতে কী বোঝানো হয়েছে?
- ক. শরৎকালের উজ্জ্বলতা
- খ. শরৎকালের অন্ধকার
- গ. শরৎকালের বৃষ্টি
- ঘ. শরৎকালের ঝড়
উত্তর: ক। স্নিগ্ধ শরৎ বলতে শরৎকালের উজ্জ্বলতা বোঝানো হয়েছে।
৩৬। ‘ধান্য শীর্ষ’ শব্দবন্ধের অর্থ কী?
- ক. ধানের ওপর ভাগ
- খ. ধানের মূল
- গ. ধানের বীজ
- ঘ. ধানক্ষেতের সীমানা
উত্তর: ক। ধান্য শীর্ষ অর্থ ধানের ওপর ভাগ।
৩৭। ‘বারতা’ শব্দের অর্থ কী?
- ক. অনুরোধ
- খ. প্রশ্ন
- গ. সংবাদ, বার্তা
- ঘ. উত্তর
উত্তর: গ। বারতা অর্থ সংবাদ বা বার্তা।
৩৮। পাঠ-পরিচিতি অনুযায়ী বাংলাদেশের জলবায়ু সম্পর্কে কী বলা হয়েছে?
- ক. এটি অত্যন্ত শীতল
- খ. এটি সম্পূর্ণ শুষ্ক
- গ. এটি চরম ও প্রতিকূল
- ঘ. এটি চমৎকার— সহনীয় রৌদ্রতাপ ও নমনীয় জল-বৃষ্টি
উত্তর: ঘ। পাঠ-পরিচিতি অনুযায়ী বাংলাদেশের জলবায়ু চমৎকার— সহনীয় রৌদ্রতাপ, নমনীয় জল-বৃষ্টি, যার ফলে মাঠ সোনালি ধান, সবুজ পাট ও ফলমূলে ভরে ওঠে।
৩৯। পাঠ-পরিচিতি অনুযায়ী দুর্যোগের পরে বাংলার মানুষ কী করে?
- ক. দুর্যোগ কাটলে আবার ঘর বেঁধে শান্তিতে বাস করে
- খ. তারা হতাশ হয়ে পড়ে থাকে
- গ. তারা একে অপরকে দোষারোপ করে
- ঘ. তারা দেশ ছেড়ে চলে যায়
উত্তর: ক। পাঠ-পরিচিতি অনুযায়ী দুর্যোগ অতিক্রান্ত হওয়া মাত্র বাংলার মানুষ আবার ঘর বাঁধে পাশাপাশি এবং শান্তিতে বসবাস করে।
৪০। পাঠ-পরিচিতি অনুযায়ী বাংলার মানুষের ভাষা ও জীবনানন্দ তাদের কোথায় নিয়ে যায়?
- ক. দ্বন্দ্বের দিকে
- খ. প্রতিযোগিতার দিকে
- গ. বিচ্ছিন্নতার দিকে
- ঘ. সম্প্রীতির মহাসাগরে
উত্তর: ঘ। পাঠ-পরিচিতি অনুযায়ী বাংলার মানুষের মধুর ভাষা ও অপার জীবনানন্দ তাদের সম্প্রীতির মহাসাগরে নিয়ে যায়।
৪১। পাঠ-পরিচিতি অনুযায়ী কবিতায় কী ধরা পড়েছে?
- ক. একটি রাজনৈতিক আন্দোলনের ইতিহাস
- খ. একটি ঐতিহাসিক ঘটনা
- গ. চিরায়ত বাংলার জীবনবাণী
- ঘ. একটি ব্যক্তিগত অভিজ্ঞতা মাত্র
উত্তর: গ। পাঠ-পরিচিতি অনুযায়ী কবিতায় চিরায়ত বাংলার জীবনবাণী অসাধারণভাবে ধরা পড়েছে।
৪২। কবিতায় ‘নদী ও সাগর’ এবং ‘মানুষে মানুষে মিলন’-এর মধ্যে যে সমান্তরাল উপমা ব্যবহার করা হয়েছে, তার সাহিত্যিক তাৎপর্য কী?
- ক. প্রকৃতির নিয়মের সাথে মানবিক মিলনকে যুক্ত করা
- খ. এর কোনো বিশেষ তাৎপর্য নেই
- গ. এটি নিছক প্রাকৃতিক বর্ণনা
- ঘ. এটি একটি ভৌগোলিক তথ্য প্রদান
উত্তর: ক। নদীর সাগরে মিলনের প্রাকৃতিক, অনিবার্য নিয়মের সাথে মানুষে মানুষে মিলনকে যুক্ত করে কবি একটি সর্বজনীন সত্য প্রতিষ্ঠা করেছেন— মানুষের মিলন ও সম্প্রীতিও প্রকৃতির নিয়মেরই মতো স্বাভাবিক ও অনিবার্য।
৪৩। কবিতায় বন্যা বা প্লাবনের উল্লেখ থাকা সত্ত্বেও কবিতাটির সামগ্রিক সুর কেমন?
- ক. নিরপেক্ষ ও তথ্যনির্ভর
- খ. সম্পূর্ণ হতাশাব্যঞ্জক
- গ. আশাবাদী, দুর্যোগেও নতুন জীবনের সম্ভাবনা তুলে ধরে
- ঘ. ভীতিপ্রদর্শক
উত্তর: গ। যদিও বন্যা বা প্লাবনের উল্লেখ আছে, কবিতাটির সামগ্রিক সুর গভীরভাবে আশাবাদী— দুর্যোগের মধ্যেও মানুষ কীভাবে নতুন করে জীবন গড়ে তোলে (নতুন চরে ঘর বাঁধা), তাই এই কবিতার মূল বার্তা।
৪৪। কবিতাটি বাংলাদেশের ভৌগোলিক বাস্তবতা (নদী, বন্যা, চর) কীভাবে ব্যবহার করেছে?
- ক. এই বাস্তবতা মানুষের স্থিতিস্থাপকতার প্রতীক হিসেবে ব্যবহৃত
- খ. এটি নিছক আবহ তৈরির জন্য
- গ. শুধু ভৌগোলিক তথ্য দিতে
- ঘ. এর কোনো প্রতীকী ব্যবহার নেই
উত্তর: ক। বাংলাদেশের নদী, বন্যা, নতুন চর জেগে ওঠার ভৌগোলিক বাস্তবতাকে কবি মানুষের স্থিতিস্থাপকতা, অদম্য জীবনীশক্তি ও পুনর্গঠনের সামর্থ্যের প্রতীক হিসেবে চমৎকারভাবে ব্যবহার করেছেন।
প্রবল বন্যায় ভেসে যায় কুলিয়ারচর। ধনী, দরিদ্র, হিন্দু, মুসলিম সবাই আশ্রয়কেন্দ্রে ওঠে। সবটুকু আনন্দ-বেদনাকে তারা ভাগাভাগি করে নেয়। এ যেন নতুন এক জীবন।
৪৫। উদ্দীপকে ‘আমার দেশ’ কবিতার কোন বিষয়টি ফুটে উঠেছে?
- ক. শুভ সংবাদ
- খ. নতুন বসতি
- গ. প্রাণস্পন্দন
- ঘ. সম্প্রীতি
উত্তর: ঘ। উদ্দীপকে ধনী-দরিদ্র, হিন্দু-মুসলিম নির্বিশেষে সবাই একসাথে আশ্রয়কেন্দ্রে উঠে সুখ-দুঃখ ভাগাভাগি করার মধ্য দিয়ে যে সম্প্রীতির চিত্র ফুটে উঠেছে, তা ‘আমার দেশ’ কবিতার মানুষে মানুষে মিলনের ভাবের সাথে সাদৃশ্যপূর্ণ।
**৪৬। উদ্দীপকে পরিবেশের যে রূপ ফুটে উঠেছে তা নিচের কোন পঙক্তিতে সবচেয়ে বেশি প্রতিফলিত হয়েছে?**
i. শান্তি-কপোত বারতা লইয়া আসে
ii. সেই চরে ফের মানুষেরা সব পাশাপাশি বাঁধে ঘর
iii. নিতি নবরূপে ভরে ওঠে মন জীবনের আশ্বাসে
নিচের কোনটি সঠিক?
ক. i ও ii খ. i ও iii গ. ii ও iii ঘ. i, ii ও iii
**উত্তর: ঘ।** তিনটি পঙক্তিই দুর্যোগ-পরবর্তী পরিস্থিতিতে মানুষের ঐক্য, নতুন করে জীবন গড়ে তোলা ও আশাবাদের সাথে সাদৃশ্যপূর্ণ, যা উদ্দীপকের বন্যা-পরবর্তী সম্প্রীতির চিত্রের সাথে মেলে।
৪৭। কবিতায় ‘সূর্য-ঝলকে’ পঙক্তিটি দুইবার ব্যবহারের উদ্দেশ্য কী?
- ক. এটি নিছক ছন্দ মেলানোর জন্য
- খ. এর কোনো বিশেষ কার্যকারিতা নেই
- গ. পুনরাবৃত্তির মাধ্যমে আশার ভাবকে জোরালো করে
- ঘ. এটি একটি ভুল পুনরাবৃত্তি
উত্তর: গ। ‘সূর্য-ঝলকে’ পঙক্তিটির পুনরাবৃত্তি একটি ধুয়ার মতো কাজ করে কবিতায়, যা আশা, নতুন জীবনের সূচনা ও ইতিবাচকতার ভাবকে বারবার জোরালো করে তোলে।
৪৮। কবিতার ভাষারীতি সম্পর্কে কী বলা যায়?
- ক. অত্যন্ত জটিল ও দুর্বোধ্য
- খ. সহজ-সরল, প্রবহমান, প্রকৃতির চিত্রকল্পে সমৃদ্ধ
- গ. সংলাপনির্ভর
- ঘ. শুধু তথ্যভিত্তিক
উত্তর: খ। কবিতার ভাষা সহজ-সরল ও প্রবহমান, প্রকৃতির নানা চিত্রকল্পে (সূর্য, ফুল, নদী, চর) সমৃদ্ধ, যা সুফিয়া কামালের কাব্যভাষার বৈশিষ্ট্যের সাথে সংগতিপূর্ণ।
৪৯। কবিতাটি ‘জীবন বিনিময়’ বা ‘উমর ফারুক’-এর মতো ব্যক্তিকেন্দ্রিক কবিতা থেকে বিষয়বস্তুর দিক থেকে কীভাবে ভিন্ন?
- ক. এটি একটি অনুবাদ কবিতা
- খ. এটি ব্যক্তির বদলে দেশের সম্মিলিত জীবনচেতনা নিয়ে রচিত
- গ. এটি একটি ঐতিহাসিক জীবনী
- ঘ. এটি সম্পূর্ণ ভিন্ন, সম্পর্কহীন বিষয়
উত্তর: খ। ‘জীবন বিনিময়’ বা ‘উমর ফারুক’ যেখানে নির্দিষ্ট ঐতিহাসিক ব্যক্তির জীবনকাহিনি কেন্দ্রিক, সেখানে ‘আমার দেশ’ কোনো একক ব্যক্তির নয়, বরং সমগ্র দেশ ও তার মানুষের সম্মিলিত জীবনচেতনা, প্রকৃতি ও সম্প্রীতির কথা বলে— এটি একটি বিস্তৃত, সামষ্টিক দৃষ্টিভঙ্গির কবিতা।
৫০। কবিতাটি থেকে পাঠক দেশপ্রেম সম্পর্কে কোন গভীর শিক্ষা নিতে পারেন?
- ক. দেশপ্রেম মানে দেশের মাটি ও মানুষের প্রতি গভীর ভালোবাসা
- খ. দেশপ্রেম মানে শুধু জাতীয় সংগীত গাওয়া
- গ. দেশপ্রেম শুধু যুদ্ধকালে প্রাসঙ্গিক
- ঘ. দেশপ্রেমের কোনো ব্যবহারিক গুরুত্ব নেই
উত্তর: ক। কবিতাটি শেখায়, প্রকৃত দেশপ্রেম মানে দেশের মাটি, মানুষ, ভাষা ও পারস্পরিক সম্প্রীতির প্রতি এক গভীর, প্রাণবন্ত ভালোবাসা ও আস্থা— যা দুর্যোগেও অটুট থাকে এবং নতুন করে জীবন গড়ার শক্তি জোগায়।
