● Note

উমর ফারুক কবিতার নোট | জ্ঞানমূলক ও অনুধাবনমূলক প্রশ্ন উত্তর

উমর ফারুক কবিতার নোট | SSC বাংলা ১ম পত্রের “উমর ফারুক” কবিতার জ্ঞানমূলক ও অনুধাবনমূলক প্রশ্ন উত্তর নিচে দেওয়া হলো। বহুনির্বাচনি প্রশ্নের জন্য উমর ফারুক কবিতার MCQ দেখুন।

জ্ঞানমূলক প্রশ্ন ও উত্তর (ক)

কাজী নজরুল ইসলাম ও উমর ফারুক কবিতাের পরিচিতি বিষয়ক জ্ঞানমূলক প্রশ্ন

‘উমর ফারুক’ কবিতাটি কাজী নজরুল ইসলামের কোন কাব্যগ্রন্থ থেকে সংকলিত?

কবিতাটি জিঞ্জীর কাব্যগ্রন্থ থেকে সংকলিত।

‘ফারুক’ উপাধিটির অর্থ কী?

যিনি সত্য ও মিথ্যার মধ্যে পার্থক্য নিরূপণ করতে পারেন, তাঁকে ‘ফারুক’ বলা হয়।

হজরত উমর (রা.)-এর শাসনামলে ইসলামি রাষ্ট্রের সীমা কতদূর প্রসারিত হয়?

তাঁর শাসনামলে ইসলামি রাষ্ট্রের সীমা আরব সাম্রাজ্য থেকে মিশর ও তুর্কিস্তানের সীমা পর্যন্ত প্রসারিত হয়।

উমর ফারুক কবিতাের মূল বিষয়বস্তু নিয়ে জ্ঞানমূলক প্রশ্ন

কবিতাটিতে কার জীবনাদর্শ প্রতিফলিত হয়েছে?

দ্বিতীয় খলিফা হজরত উমর (রা.)-এর জীবনাদর্শ প্রতিফলিত হয়েছে।

হজরত উমর (রা.)-এর খেলাফতের সময়কাল কত বছর ছিল?

তাঁর খেলাফতের সময়কাল দশ বছর।

রাসুলুল্লাহ (স.) হজরত উমর (রা.) সম্পর্কে কী বলেছিলেন?

তাঁর পরে যদি কেউ নবি হতেন, তাহলে তিনি হতেন উমর (রা.) বলে বলেছিলেন।

উমর ফারুক কবিতার শুরুতে কবি কী শুনতে পান?

কবি দূর মসজিদে এশার আজান শুনতে পান।

উমর (রা.) কীভাবে অর্ধ পৃথিবী শাসন করেছেন বলে বর্ণনা করা হয়েছে?

তিনি ধুলার তখতে বসে অর্ধ পৃথিবী শাসন করেছেন।

জেরুজালেমের শত্রুরা কী শর্ত দেয়?

উমর (রা.) স্বয়ং এসে সন্ধিপত্রে স্বাক্ষর করলে তবেই দুর্গের দ্বার খুলবে বলে শর্ত দেয়।

জেরুজালেম যাত্রায় উমর (রা.)-এর সাথে কী কী সামগ্রী ছিল?

দুই খানা শুকনো খুবজ রুটি, একটি মশকে সামান্য পানি এবং কিছু খোর্মা ছিল।

পথিমধ্যে উমর (রা.) ভৃত্যকে কী বলেন?

নিজে উট থেকে নেমে ভৃত্যকে উটে চড়তে বলেন।

একদিন রাতে নগর-ভ্রমণে বের হয়ে উমর (রা.) কী দেখতে পান?

ক্ষুধার্ত দুই শিশু ও তাদের দুঃখিনী মা কাঁদছে দেখতে পান।

এই দৃশ্য দেখে উমর (রা.) কী করেন?

বায়তুল-মাল থেকে নিজ হাতে ঘি ও আটা নিয়ে যান।

উমর (রা.)-এর পুত্রের নাম কী ছিল?

তাঁর পুত্রের নাম আবু শাহমা।

আবু শাহমা কোন অপরাধে অভিযুক্ত হন?

তিনি মদ্যপানের অপরাধে অভিযুক্ত হন।

উমর (রা.) তাঁর পুত্রকে কী শাস্তি দেন?

তিনি নিজ হাতে পুত্রকে দোররা মারেন।

উমর (রা.) মহাবীর খালেদ (রা.)-কে কী নির্দেশ পাঠান?

ইঙ্গিতে তাঁকে সিপাহ-সালার থেকে সাধারণ সেনায় নামিয়ে দেন।

খলিফা উমর (রা.)-কে শেষ দৃশ্যে কোথায় পাওয়া যায়?

আঙিনায় রোদ্রে বসে থাকা অবস্থায় পাওয়া যায়, কারণ তাঁর একমাত্র জামাটি কাচা হয়েছিল।

‘পরশমণি’ শব্দের অর্থ কী?

পরশমণি অর্থ স্পর্শমণি, যার ছোঁয়ায় লোহাও সোনা হয়।

‘সাইমুম’ শব্দের অর্থ কী?

সাইমুম অর্থ মরুভূমির প্রচণ্ড উত্তপ্ত ঝড়।

উমর ফারুক কবিতার মূল বিষয় কী?

হজরত উমর ফারুক (রা.)-এর সরলতা, ন্যায়বিচার, সাম্য ও মানবিকতার জীবনাদর্শ।

কবি কাকে সম্বোধন করে কবিতাটি শুরু করেন?

কবি আমির-উল-মুমেনিন উমর (রা.)-কে সম্বোধন করে কবিতাটি শুরু করেন।

কবি বলেন, উমর (রা.)-এর স্মৃতি কে জানে না?

কবি বলেন, ‘তোমার স্মৃতি যে আজানের ধ্বনি জানে না মুয়াজ্জিন’— কারণ আজানের প্রকাশ্য প্রচলনের সাথে উমর (রা.)-এর স্মৃতি জড়িত থাকলেও অনেক মুয়াজ্জিন তা জানেন না।

বিপদে-দুর্যোগে (সাইমুম-ঝড়ে) উমর (রা.)-এর অবস্থান কেমন ছিল বলে বর্ণনা করা হয়েছে?

কবি বলেন, ঊর্ধ্বের যারা তারা পড়েছে, কিন্তু উমর (রা.) মাটিতে দৃঢ়ভাবে দাঁড়িয়ে ছিলেন, কোনো বিপদে নত হননি।

ভৃত্য এই প্রস্তাবে কী প্রতিক্রিয়া দেখায়?

ভৃত্য কেঁদে বলে, কেমন করে সে আরামে উটে বসে থাকবে আর খলিফা উমর (রা.) হেঁটে যাবেন উটের রশি ধরে।

পুত্র ক্ষমা চাইলে উমর (রা.) কী জবাব দেন?

উমর (রা.) পাষাণে বুক বেঁধে বলেন, ‘অপরাধ করে তোরি মত স্বরে কাঁদিয়াছে অপরাধী’— অর্থাৎ ন্যায়বিচারে তিনি ব্যক্তিগত স্নেহের কাছে নতি স্বীকার করেননি।

কবি নিজে কোথায় গিয়ে ফিরে আসার কথা বলেন?

কবি বলেন, আবু শাহমার গোরে কাঁদতে গিয়ে ফিরে এসে উমর (রা.)-কে সালাম জানান— পুত্রের প্রতি ন্যায়বিচারের এই কঠোরতাতেও তিনি শ্রদ্ধা প্রকাশ করেন।

খাস দরবারে বহু দেশের লোক কী খুঁজছিল?

খাস দরবার হাজার দেশের লোকে ভরে গিয়েছিল, সবাই উৎসুক চোখে জিজ্ঞেস করছিল ‘কোথায় খলিফা’।

উমর ফারুক কবিতায় উমর (রা.)-এর সাহসিকতা সম্পর্কে কী বলা হয়েছে?

কবি বলেন, তিনি নির্ভীক, এক খোদা ছাড়া আর কাউকে ভয় করতেন না— এই সত্যব্রতের জন্যই কেউ কেউ তাঁকে উদ্ধত বলত।

‘আমির-উল-মুমেনিন’ শব্দবন্ধের অর্থ কী?

আমির-উল-মুমেনিন অর্থ বিশ্বাসীদের নেতা— মুসলমানদের ধর্মীয় প্রধান ও রাষ্ট্রীয় নেতা হজরত উমর (রা.)-কে বোঝাতে ব্যবহৃত।

পাঠ-পরিচিতি অনুযায়ী উমর (রা.)-এর চরিত্রে কোন গুণাবলির সমন্বয় ঘটেছিল?

পাঠ-পরিচিতি অনুযায়ী তাঁর চরিত্রে একাধারে বীরত্ব, কোমলতা, নিষ্ঠা এবং সাম্যবাদী আদর্শের অনন্য সমন্বয় ঘটেছিল।

পাঠ-পরিচিতি অনুযায়ী কবি উমর (রা.)-কে কীসের উদাহরণ হিসেবে উপস্থাপন করেছেন?

পাঠ-পরিচিতি অনুযায়ী মহৎপ্রাণ ও আদর্শ মানব চরিত্র অর্জনের জন্য কবি উমর ফারুক (রা.)-কে উৎকৃষ্ট উদাহরণ হিসেবে উপস্থাপন করেছেন।

মেম্বার সাহেবের চরিত্রের সাথে ‘উমর ফারুক’ কবিতার উমর (রা.)-এর কোন দিকগুলোর মিল পাওয়া যায়?

উমর (রা.) যেমন সাধারণ জীবনযাপন করতেন, নিজ পুত্রকেও ন্যায়বিচারে ছাড় দেননি এবং প্রজাদের দুঃখ-কষ্টে নিজে ছুটে যেতেন, মেম্বার সাহেবের চরিত্রেও এই একই গুণাবলির প্রতিফলন দেখা যায়।

অনুধাবনমূলক প্রশ্ন ও উত্তর (খ)

উমর ফারুক কবিতাের লেখক ও পটভূমি বিষয়ক অনুধাবনমূলক প্রশ্ন

কবি উমর (রা.)-কে ইসলামকে কীসের সাথে তুলনা করেন?

কবি বলেন, ইসলাম যেন পরশ-মানিক, যার স্পর্শে লোহাও সোনা হয়ে যায়— তার স্পর্শে যারা সোনা হয়েছে তাদেরই আসল মানুষ বলে বোঝা যায়।

উমর ফারুক কবিতাের চরিত্র ও মূলভাব বিষয়ক অনুধাবনমূলক প্রশ্ন

রাসুলুল্লাহ (স.)-এর ভবিষ্যদ্বাণীর তাৎপর্য কী— ব্যাখ্যা করো।

রাসুলুল্লাহ (স.) বলেছিলেন উমর (রা.) নবি হতে পারতেন যদি তাঁর পরে আর কোনো নবির প্রয়োজন হতো— এই উক্তি উমর (রা.)-এর অসাধারণ আদর্শবান ব্যক্তিত্ব ও নৈতিক উচ্চতার প্রমাণ বহন করে।

উমর (রা.)-এর ধুলার তখতে বসে শাসন করার তাৎপর্য কী— ব্যাখ্যা করো।

এই বর্ণনা তাঁর অসাধারণ সরলতা ও বিলাসহীন জীবনযাপনের পরিচয় দেয়— বিপুল ক্ষমতা ও রাজ্য শাসন করলেও তিনি ব্যক্তিগত জীবনে কোনো আড়ম্বর গ্রহণ করেননি।

জেরুজালেম যাত্রায় ভৃত্যের সাথে উমর (রা.)-এর আচরণ কী শিক্ষা দেয়— ব্যাখ্যা করো।

নিজে হেঁটে ভৃত্যকে উটে বসানোর ঘটনা তাঁর সাম্যবাদী দৃষ্টিভঙ্গির স্পষ্ট প্রমাণ— ইসলামে সবাই সমান, তাই ক্ষমতাবান হয়েও তিনি নিজের আরাম একা ভোগ করতে রাজি হননি।

ক্ষুধার্ত শিশুদের জন্য খাদ্য নিজ পিঠে বহন করার ঘটনার তাৎপর্য কী— ব্যাখ্যা করো।

এই ঘটনা প্রমাণ করে উমর (রা.) নিজেকে প্রজাদের কল্যাণের জন্য ব্যক্তিগতভাবে দায়বদ্ধ মনে করতেন— শাসক হিসেবে দায়িত্ব পালনে ত্রুটির জন্য তিনি নিজেই প্রায়শ্চিত্ত করতে চেয়েছেন।

নিজ পুত্রকে শাস্তি দেওয়ার ঘটনা উমর (রা.)-এর ন্যায়বিচার সম্পর্কে কী প্রকাশ করে— ব্যাখ্যা করো।

এই ঘটনা দেখায় উমর (রা.) ন্যায়বিচারে ব্যক্তিগত স্নেহের কাছে নতি স্বীকার করেননি— নিজের সন্তান হলেও অপরাধের জন্য তাকে ছাড় দেননি, যা তাঁর ন্যায়পরায়ণতার চরম দৃষ্টান্ত।

মহাবীর খালেদ (রা.)-কে পদাবনতির পেছনে উমর (রা.)-এর যুক্তি কী ছিল— ব্যাখ্যা করো।

উমর (রা.)-এর যুক্তি ছিল, মানুষ হয়ে মানুষের অতিরিক্ত পূজা মানুষেরই অপমান— তাই অতিরিক্ত বীর-পূজা এড়াতে তিনি খালেদ (রা.)-এর মতো বিশ্ববিজয়ী বীরকেও শাসন করতে দ্বিধা করেননি।

খলিফাকে জামা কাচার অপেক্ষায় বসে থাকতে দেখার দৃশ্যের তাৎপর্য কী— ব্যাখ্যা করো।

এই দৃশ্য উমর (রা.)-এর চরম সারল্যের প্রতীক— বিশাল সাম্রাজ্যের শাসক হয়েও তাঁর কাছে মাত্র একটি জামা ছিল, যা তাঁর বিলাসহীন, সাদাসিধা জীবনযাপনের এক অসাধারণ দৃষ্টান্ত।

কবিতাটি কেন উমর (রা.)-কে ফিরে আসার আহ্বান জানিয়ে শুরু হয়— ব্যাখ্যা করো।

কবি মনে করেন ইসলামের আলো দিনে দিনে ম্লান হয়ে যাচ্ছে, তাই উমর (রা.)-এর মতো ন্যায়পরায়ণ, সরল ও মানবিক নেতৃত্বের অভাব অনুভব করে কবি তাঁকে ফিরে আসার আহ্বান জানান।

কবিতাটি নেতৃত্বের কোন আদর্শ উপস্থাপন করে— ব্যাখ্যা করো।

কবিতাটি এমন নেতৃত্বের আদর্শ উপস্থাপন করে যেখানে ক্ষমতা থাকা সত্ত্বেও বিনয়, সরলতা, ন্যায়বিচার ও প্রজাদের প্রতি ব্যক্তিগত দায়বদ্ধতা বজায় থাকে— এটি আজকের যুগেও একটি অনুকরণীয় নেতৃত্বের মডেল।

কবিতাটি পাঠককে কোন শিক্ষা দেয়— ব্যাখ্যা করো।

কবিতাটি শেখায়, প্রকৃত মহত্ত্ব ক্ষমতা বা বিলাসিতায় নয়, বরং সরলতা, ন্যায়বিচার, সাম্য ও মানবিকতায় নিহিত— হজরত উমর (রা.)-এর জীবন এই আদর্শের এক অনন্য দৃষ্টান্ত।

উমর (রা.) নিজের অবস্থানকে কীভাবে বর্ণনা করা হয়েছে অন্যদের তুলনায়?

কবি বলেন, সবাইকে ঊর্ধ্বে তুলে ধরে উমর (রা.) নিজে সবচেয়ে নিচে থাকতেন, বুকে করে সবাইকে পার করে নিজে পিছনে থেকে যেতেন— নেতৃত্বের এক মহৎ দৃষ্টান্ত।

এই খবর শুনে উমর (রা.) কীভাবে যাত্রা করেন?

আধেক ধরার মালিক আমির-উল-মুমেনিন উমর (রা.) একাকী উটে চড়ে বিরামহীনভাবে সাহারা মরুভূমি পাড়ি দিয়ে রওনা হন।

উমর (রা.) এই খাদ্য কীভাবে দুঃখিনী মায়ের ঘরে পৌঁছে দেন?

উমর (রা.) বলেন, এই ভার তাঁর নিজের পিঠে চাপিয়ে তিনিই বহন করে নিয়ে যাবেন দুঃখিনী মায়ের ঘরে।

পাঠ-পরিচিতি অনুযায়ী উমর (রা.) কেন নিজ ভৃত্যকে সমান মর্যাদা দিতে দ্বিধাবোধ করেননি?

পাঠ-পরিচিতি অনুযায়ী বিশাল মুসলিম রাষ্ট্রের অধিনায়ক হয়েও তিনি অতি সহজ, সরল জীবনযাপন করেছেন এবং তাঁর সাম্যবাদী আদর্শের কারণে নিজ ভৃত্যকেও সমান মর্যাদা দিতে কুণ্ঠিত হননি।

এ ধরনের নেতৃত্বের গুণ সমাজে কেন গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করা যায়?

এ ধরনের নেতৃত্ব প্রমাণ করে, ক্ষমতাশালী হয়েও সাধারণ মানুষের প্রতি দায়বদ্ধতা, ন্যায়পরায়ণতা ও বিনয় বজায় রাখাই প্রকৃত নেতৃত্বের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ গুণ, যা উমর (রা.)-এর জীবনাদর্শের কেন্দ্রীয় শিক্ষা।

উপরের জ্ঞানমূলক ও অনুধাবনমূলক প্রশ্ন-উত্তরগুলো ভালোভাবে অনুশীলন করলে উমর ফারুক কবিতা থেকে সৃজনশীল প্রশ্নের ক ও খ অংশে ভালো নম্বর পাওয়া সহজ হবে।

আরও পড়ুন

SSC বাংলা ১ম পত্র-এর সব পোস্ট

মন্তব্য করুন

Your email address will not be published. Required fields are marked *

সাহায্য লাগবে?
BCS Journey Support
● Online
×
💬Messenger ✈Telegram
BCS JOURNEY
BCS Journey
চ্যাট শুরু করুন ➜