● Note

ফুলের বিবাহ গল্পের নোট | জ্ঞানমূলক ও অনুধাবনমূলক প্রশ্ন উত্তর

ফুলের বিবাহ গল্পের নোট | SSC বাংলা ১ম পত্রের “ফুলের বিবাহ” গল্পের জ্ঞানমূলক ও অনুধাবনমূলক প্রশ্ন উত্তর নিচে দেওয়া হলো। বহুনির্বাচনি প্রশ্নের জন্য ফুলের বিবাহ গল্পের MCQ দেখুন।

জ্ঞানমূলক প্রশ্ন ও উত্তর (ক)

বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় ও ফুলের বিবাহ গল্পের পরিচিতি বিষয়ক জ্ঞানমূলক প্রশ্ন

বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় কত খ্রিষ্টাব্দে জন্মগ্রহণ করেন?

তিনি ১৮৩৮ খ্রিষ্টাব্দে জন্মগ্রহণ করেন।

বঙ্কিমচন্দ্রের জন্মস্থান কোথায়?

তাঁর জন্মস্থান চব্বিশ পরগনা জেলার কাঁঠালপাড়া গ্রাম।

বঙ্কিমচন্দ্রের প্রথম বাংলা উপন্যাসের নাম কী?

তাঁর প্রথম বাংলা উপন্যাসের নাম দুর্গেশনন্দিনী (১৮৬৫)।

বঙ্কিমচন্দ্র ১৮৫৮ সালে কোন পদে নিযুক্ত হন?

তিনি ডেপুটি ম্যাজিস্ট্রেট ও ডেপুটি কালেক্টর পদে নিযুক্ত হন।

বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় কত খ্রিষ্টাব্দে মৃত্যুবরণ করেন?

তিনি ১৮৯৪ খ্রিষ্টাব্দে মৃত্যুবরণ করেন।

বঙ্কিমচন্দ্রের কোন কৃতিত্ব বিশেষভাবে উল্লেখযোগ্য?

পাশ্চাত্য ভাবাদর্শে বাংলা উপন্যাস রচনার পথিকৃৎ হিসেবে তাঁর অসামান্য কৃতিত্ব প্রকাশ পেয়েছে।

নিচের কোনটি বঙ্কিমচন্দ্রের উপন্যাস নয়?

চোখের বালি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের উপন্যাস; বাকি তিনটি বঙ্কিমচন্দ্রের রচনা।

বঙ্কিমচন্দ্রের উল্লেখযোগ্য প্রবন্ধগ্রন্থ কোনটি?

কমলাকান্তের দপ্তর, লোকরহস্য, কৃষ্ণচরিত্র তাঁর উল্লেখযোগ্য প্রবন্ধগ্রন্থ।

ফুলের বিবাহ গল্পের মূল বিষয়বস্তু নিয়ে জ্ঞানমূলক প্রশ্ন

‘কমলাকান্তের দপ্তর’ কী ধরনের গ্রন্থ?

এটি বঙ্কিমচন্দ্রের একটি প্রবন্ধ/রম্যরচনা গ্রন্থ।

‘ফুলের বিবাহ’ রচনাটি কোন গ্রন্থের অন্তর্ভুক্ত?

এটি ‘কমলাকান্তের দপ্তর’ গ্রন্থের নবম রচনা।

‘ফুলের বিবাহ’ রচনায় কনে কোন ফুল?

কনে মল্লিকা ফুল।

‘ফুলের বিবাহ’ রচনায় বর কোন ফুল?

বর গোলাপ ফুল।

মল্লিকা-কন্যার বিয়ের ঘটক কে?

ঘটক ভ্রমর (ভোমরা)।

মল্লিকা-কন্যাকে ঘোমটা খুলতে কে রাজি করান?

সন্ধ্যাঠাকুরানী-দিদি তাকে রাজি করান।

বরযাত্রায় নহবত (বাদ্য) কে বাজায়?

উচ্চিংড়া নহবত বাজায়।

বরযাত্রায় আলোর ব্যবস্থা কারা করে?

খদ্যোতেরা (জোনাকিরা) আলোর ব্যবস্থা করে।

বাহকের দায়িত্ব শেষ পর্যন্ত কে পালন করেন?

স্বয়ং লেখক বাহকের দায়িত্ব পালন করেন।

বিয়েতে সূচ-সুতা নিয়ে কে দাঁড়িয়ে থাকে?

নসী বাবুর নবমবর্ষীয়া কন্যা কুসুমলতা সূচ-সুতা নিয়ে দাঁড়িয়ে থাকে।

ফুলের বিবাহ রচনার শেষে লেখকের ঘুম কে ভাঙায়?

কুসুমলতা লেখকের ঘুম ভাঙায়।

‘কন্যাভারগ্রস্ত’ শব্দের অর্থ কী?

বিবাহযোগ্যা কন্যাকে বিয়ে দেওয়ার দায়িত্ব বহনকারী।

‘পরিমল’ শব্দের অর্থ কী?

পরিমল অর্থ সুগন্ধ।

‘কুলাচার্য’ শব্দের অর্থ কী?

কুলের আচার্য বা বংশের প্রধান পুরোহিত।

রচনাটি কী ধরনের লেখা?

এটি একটি হাস্যরসাত্মক লঘুরচনা।

রচনাটিতে লেখক প্রকৃতপক্ষে কী তুলে ধরেছেন?

পাঠ-পরিচিতি অনুযায়ী এই রচনায় হাস্যরসের মাধ্যমে বিভিন্ন ফুলের নাম, গন্ধের তারতম্য, বর্ণের রকমফের অত্যন্ত সংবেদনশীলতার সঙ্গে তুলে ধরা হয়েছে।

লেখক কোথায় বসে এই বিবাহ দেখেন বলে জানান?

লেখক ১লা বৈশাখে নসী বাবুর ফুলবাগানে বসে এই বিবাহ দেখেন।

এই বিবাহে কনে কে?

মল্লিকা ফুলের বিবাহ নিয়েই এই রচনা— কলিকা-কন্যা বিবাহযোগ্যা হয়ে ওঠে।

মল্লিকা-কন্যার পিতার (বৃক্ষের) অবস্থা কেমন বলে বর্ণনা করা হয়েছে?

কন্যার পিতা বড়োলোক নন, ক্ষুদ্র বৃক্ষ, তাতে আবার অনেকগুলো কন্যাভারগ্রস্ত।

প্রথমে কোন কোন পাত্রের কথা আলোচিত হয়, যা শেষে স্থির হয়নি?

স্থলপদ্ম (ঘর বড়ো উঁচু), জবা (বড়ো রাগী) ও গন্ধরাজ (বড়ো দেমাগ)— এই তিন পাত্রের কথা আলোচিত হলেও কোনোটাই স্থির হয়নি।

ঘটকের ভূমিকা কে পালন করে?

ভ্রমররাজ ঘটক হয়ে মল্লিকা-বৃক্ষসদনে উপস্থিত হন।

ভ্রমর মল্লিকা-বৃক্ষের কাছে গিয়ে প্রথমে কী বলেন?

ভ্রমর গুনগুন করে জিজ্ঞেস করেন, ‘মেয়ে আছে?’

কন্যার মুখ দেখে ভ্রমর কী বলে মন্তব্য করেন?

কন্যার পরিমলে মুগ্ধ হয়ে ভ্রমর বলেন কন্যা গুণবতী বটে।

ভ্রমর কন্যাকর্তার কাছে কী জানতে চান?

ভ্রমর জিজ্ঞেস করেন, ‘ঘরে মধু কত?’— যৌতুক বা সম্পদের পরিমাণ জানতে চান।

ভ্রমর নিজের জন্য কী দাবি করেন?

ভ্রমর ঘটকালির জন্য কিছু আগাম নগদ দানের দাবি করেন, যাতে বৃক্ষ বিরক্ত হয়ে ওঠে।

বৃক্ষ বিরক্ত হয়ে কী জানতে চায়?

বিরক্ত হয়ে বৃক্ষ সব শাখা নাড়িয়ে বলে, আগে বরের কথা বলো— বর কে?

বর কে বলে প্রকাশ পায়?

গোলাপ ফুলই এই বিবাহের বর।

গোলাপের কাঁটা নিয়ে কুলাচার্য কী যুক্তি দেন?

কুলাচার্য বলেন, কেউ যদি বলে এ ফুলে কাঁটা আছে, তবে প্রশ্ন ওঠে কোন কুলে বা কোন ফুলে কাঁটা নেই— অর্থাৎ এটি ত্রুটি নয়, স্বাভাবিক বিষয়।

সম্বন্ধ স্থির হওয়ার পর ভ্রমর কোথায় খবর দিতে যান?

সম্বন্ধ স্থির করে ভ্রমর উড়ে গিয়ে গোলাপ বাবুর বাড়িতে খবর দেন।

খবর শুনে গোলাপের প্রতিক্রিয়া কী হয়?

বিবাহের নাম শুনে গোলাপ আহ্লাদিত হয়ে কন্যার বয়স জিজ্ঞেস করে; ভ্রমর বলে ‘আজি কালি ফুটিবে’।

বিবাহযাত্রায় নহবত (বাদ্য) বাজানোর দায়িত্ব কার?

উচ্চিংড়া নহবৎ বাজাতে আরম্ভ করে।

সানাইয়ের বায়না নিয়েও কে যেতে পারেনি?

মৌমাছি সানাইয়ের বায়না নিয়েছিল, কিন্তু রাতকানা বলে সঙ্গে যেতে পারেনি।

কোন ফুলের দল সেকেলে রাজাদের মতো উঁচু ডালে চড়ে এসেছিল?

করবীদের দল সেকেলে রাজাদের মতো বড়ো উঁচু ডালে চড়ে এসে উপস্থিত হয়।

অশোকের সাথে কারা মোসায়েব (সহচর) হয়ে আসে?

অশোক নেশায় লাল হয়ে আসে, সঙ্গে একপাল পিঁপড়া মোসায়েব হয়ে আসে, যারা হুল ফুটিয়ে প্রায়ই বিবাদ বাধায়।

বরযাত্রায় বাহকের (বহনকারীর) দায়িত্ব কার নেওয়ার কথা ছিল?

বাতাস বাহকের বায়না নিয়েছিলেন, কাজের সময় হুঁ-হুম করে বড়াই করলেও তখন লুকিয়ে যান।

বাতাস না থাকায় কী সমস্যা দেখা দেয়?

বাতাস অনুপস্থিত থাকায় বর, বরযাত্রী সকলে অবাক হয়ে স্থিরভাবে দাঁড়িয়ে থাকেন, কেউ এগোতে পারেন না।

মল্লিকাপুরে পৌঁছে লেখক কী দৃশ্য দেখেন?

কন্যাকুল, সকল ভগিনী আহ্লাদে ঘোমটা খুলে মুখ ফুটিয়ে, পরিমল ছড়িয়ে সুখের হাসি হাসছিল।

কোন ফুলেরা স্ত্রী-আচার করে বরণ করে?

যূথী, মালতী, বকুল, রজনীগন্ধা প্রভৃতি এয়োগণ (সধবা নারী) স্ত্রী-আচার করে বর বরণ করে।

বাসর-ঘরে টগর ঠাকুরানীদিদি কী করেন?

প্রাচীনা টগর ঠাকুরানীদিদি রসিকতা করতে করতে শুকিয়ে ওঠেন— বাসরঘরের চিরাচরিত হাস্যরসিকতার চিত্র।

বর গোলাপ রজনীগন্ধাকে কী বলে তামাসা করেন?

বর রজনীগন্ধাকে তাড়কা রাক্ষসী (রামায়ণের একটি রাক্ষসী চরিত্র) বলে তামাসা করেন, সম্ভবত তার উচ্চতা বা আকৃতি নিয়ে।

কুসুমলতা লেখককে জিজ্ঞেস করলে তিনি কী উত্তর দেন তিনি কী করছিলেন?

কুসুম জিজ্ঞেস করলে লেখক বলেন, ‘দূর পাগলি, আমি বিয়ে দিচ্ছিলাম।’

কুসুমলতা নিজে কী করেছিল বলে জানায়?

কুসুমলতা বলে সেও ফুলের বিয়ে দিয়েছে— তার গাঁথা মালাতেই লেখকের কল্পনার বর-কনে (ফুল) রয়েছে।

পাঠ-পরিচিতি অনুযায়ী লেখক কী কৌশলে বাঙালির গার্হস্থ্য অনুষ্ঠান উপস্থাপন করেছেন?

পাঠ-পরিচিতি অনুযায়ী বিবাহ অনুষ্ঠানের সঙ্গে যুক্ত থাকেন এমন নানা ব্যক্তির পরিবর্তে বিভিন্ন ফুলের উল্লেখ করে অসাধারণ দক্ষতায় বঙ্কিমচন্দ্র বাঙালির গার্হস্থ্য অনুষ্ঠানকে আরও আনন্দদায়ক করে উপস্থাপন করেছেন।

রচনাটি পাঠকের মধ্যে কোন দৃষ্টিভঙ্গি তৈরি করতে সহায়ক বলে পাঠ-পরিচিতিতে বলা হয়েছে?

পাঠ-পরিচিতি অনুযায়ী ‘ফুলের বিবাহ’ গদ্যটি কৌতূহলী ও পর্যবেক্ষণশীল দৃষ্টিভঙ্গি তৈরি করতে সহায়ক।

মিনুর এই কল্পনাশক্তির সাথে ‘ফুলের বিবাহ’ রচনার লেখকের দৃষ্টিভঙ্গির কোন দিকটির মিল পাওয়া যায়?

বঙ্কিমচন্দ্র যেমন ফুলদের মানুষের বিবাহ-অনুষ্ঠানের চরিত্রে রূপ দিয়েছেন, মিনুও তেমনি প্রজাপতি-মৌমাছি-ফুলকে মানবিক চরিত্রে কল্পনা করছে— প্রকৃতিকে সৃজনশীল কল্পনার মাধ্যমে দেখার এই ক্ষমতাই উভয়ের মিল।

অনুধাবনমূলক প্রশ্ন ও উত্তর (খ)

ফুলের বিবাহ গল্পের লেখক ও পটভূমি বিষয়ক অনুধাবনমূলক প্রশ্ন

বঙ্কিমচন্দ্র ফুলদের বিভিন্ন চরিত্রে কীভাবে উপস্থাপন করেছেন— ব্যাখ্যা করো।

তিনি বিয়ের অনুষ্ঠানের সাথে যুক্ত বিভিন্ন মানুষের (কনে, বর, ঘটক, আত্মীয়স্বজন) ভূমিকায় বিভিন্ন ফুলকে (মল্লিকা, গোলাপ, ভ্রমর ইত্যাদি) বসিয়ে দিয়েছেন, যা প্রকৃতির প্রতি তাঁর সূক্ষ্ম পর্যবেক্ষণ ও অসাধারণ কল্পনাশক্তির পরিচয় দেয়।

ফুলের বিবাহ গল্পের চরিত্র ও মূলভাব বিষয়ক অনুধাবনমূলক প্রশ্ন

‘ফুলের বিবাহ’ রচনাটিকে হাস্যরসাত্মক বলা হয় কেন— ব্যাখ্যা করো।

রচনায় বিভিন্ন ফুলকে মানুষের চরিত্রে রূপ দিয়ে একটি বিবাহ-অনুষ্ঠানের কল্পিত বর্ণনা দেওয়া হয়েছে— ঘটকালি, দরকষাকষি, বরযাত্রা, বাসরঘরের রসিকতা সবকিছুতেই কৌতুকপূর্ণ ভাষা ব্যবহৃত হয়েছে, তাই এটি হাস্যরসাত্মক।

মল্লিকা-কন্যা কেন প্রথমে ঘোমটা খুলতে রাজি হয়নি— ব্যাখ্যা করো।

মল্লিকা-কন্যা লজ্জাশীলা ছিল, তাই সহজে ঘোমটা খুলতে রাজি হয়নি। সন্ধ্যাঠাকুরানী-দিদির স্নেহপূর্ণ আচরণে মুগ্ধ হয়ে অবশেষে সে ঘোমটা খোলে— যা তার সারল্য ও স্বাভাবিক লজ্জাশীলতার প্রকাশ।

কুলাচার্য গোলাপ বংশকে কুলীন বলার পেছনে কী যুক্তি দেন— ব্যাখ্যা করো।

কুলাচার্য বলেন গোলাপ বংশ ‘ফুলে’ মেল এবং সাক্ষাৎ বাঞ্ছামালির (ইচ্ছামতো ফুল ফোটাতে পারা মালি) স্বহস্তরোপিত সন্তান, তাই তারা কুলীন। এভাবে তিনি সমাজের কৌলীন্যপ্রথাকে ব্যঙ্গ করেছেন।

বাতাস বাহকের দায়িত্ব পালন না করায় কী সমস্যা তৈরি হয়— ব্যাখ্যা করো।

বাতাস বাহকের বায়না নিলেও কাজের সময় অনুপস্থিত থাকায় বর ও বরযাত্রীরা অসহায়ভাবে দাঁড়িয়ে থাকে, কেউ এগোতে পারে না। এই বিপত্তি দূর করতে লেখক নিজেই বাহকের ভূমিকা নেন, যা রচনায় হাস্যরস আরও বাড়িয়ে দেয়।

ফুলের বিবাহ রচনার শেষে লেখকের মনে কোন দার্শনিক ভাবনা জাগে— ব্যাখ্যা করো।

স্বপ্নভঙ্গের পর লেখকের মনে হয় সংসার অনিত্য— এই আছে এই নাই। রাজা-প্রজা, পর্বত-সমুদ্র সবই একদিন ধ্বংসপুরে মিলিয়ে যাবে, এই কল্পিত বিবাহের মতোই সবকিছু শূন্যে মিশে যাবে— এক গভীর জীবনদর্শন এতে প্রকাশ পায়।

কুসুমলতার প্রসঙ্গ ফুলের বিবাহ রচনায় কী তাৎপর্য বহন করে— ব্যাখ্যা করো।

কুসুমলতা নিজেও একটি ফুলের মালা গেঁথে ‘ফুলের বিয়ে’ দিয়েছিল বলে জানায়, যার মধ্যে লেখকের কল্পনার বর-কনে ফুল বিদ্যমান। এতে বোঝা যায়, লেখকের স্বপ্নদৃশ্য বাস্তবের একটি সাধারণ শিশুসুলভ খেলা থেকেই উদ্ভূত হয়েছিল।

রচনাটি কীভাবে পাঠকের মধ্যে পর্যবেক্ষণশীল দৃষ্টিভঙ্গি তৈরি করে— ব্যাখ্যা করো।

রচনায় বিভিন্ন ফুলের নাম, গন্ধ, রং ও বৈশিষ্ট্যের সূক্ষ্ম বর্ণনা দেওয়া হয়েছে, যা পাঠকের মনে প্রকৃতির প্রতি কৌতূহল ও গভীর পর্যবেক্ষণের অভ্যাস তৈরি করতে সহায়ক।

বাসরঘরের দৃশ্যে কোন সামাজিক রীতি প্রতিফলিত হয়েছে— ব্যাখ্যা করো।

বাসরঘরে বিভিন্ন ফুলের (টগর, রজনীগন্ধা, বকুল প্রভৃতি) রসিকতা ও আচরণের মাধ্যমে বাঙালি বিবাহের চিরাচরিত বাসরঘরের হাস্যরসিকতা, ঠাট্টা-তামাশা ও আত্মীয়স্বজনের মিলনের সামাজিক রীতি প্রতিফলিত হয়েছে।

রচনাটির মূল সাহিত্যিক কৌশল কী— ব্যাখ্যা করো।

রচনার মূল কৌশল হলো মানবজীবনের একটি সাধারণ সামাজিক অনুষ্ঠান (বিবাহ)-কে প্রকৃতির উপাদান (ফুল, পাখি, পতঙ্গ) দিয়ে রূপায়িত করা— এই ব্যক্তিত্বারোপণ (personification) কৌশলই রচনাকে অনন্য ও আকর্ষণীয় করে তুলেছে।

লেখক এই বিবাহের বিবরণ কেন লিখে রাখছেন বলে জানান?

লেখক রসিকতা করে বলেন, ভবিষ্যৎ বরকন্যাদের শিক্ষার্থে তিনি এই বিবরণ লিখে রাখছেন।

মল্লিকা-কন্যা শেষে কীভাবে ঘোমটা খোলে?

কতবার রাগ করলেও শেষে সন্ধ্যার স্নিগ্ধ স্বভাবে মুগ্ধ হয়ে কন্যা মুখ খোলে।

কুলাচার্য গোলাপ বংশকে কেন কুলীন বলে বর্ণনা করেন?

কুলাচার্য বলেন, গোলাপ বংশ কুলীন কারণ তারা ‘ফুলে’ মেল এবং সাক্ষাৎ বাঞ্ছামালির (ইচ্ছামতো ফুল ফোটাতে পারা মালি) স্বহস্তরোপিত সন্তান।

বরযাত্রায় স্থলপদ্ম কেন আসতে পারেননি?

স্থলপদ্ম (পদ্মফুল) দিবাবসান বা সন্ধ্যাকালে অসুস্থকর বলে (কারণ পদ্ম দিনে ফোটে, রাতে বন্ধ হয়) আসতে পারেননি।

বকুল কেন এক কোণে চুপচাপ বসে থাকে?

বকুল বালিকা, তার যত গুণ তত রূপ নয় বলে সে সংকোচে এক কোণে চুপ করে বসে থাকে।

ফুলের বিবাহ রচনার শেষে গোটা বিবাহ-দৃশ্যটি কীভাবে শেষ হয়?

কুসুমলতা ‘কমলকাকা, ওঠ, বাড়ি যাই’ বলে লেখকের গা ঠেলে ডেকে তোলে; চমক ভাঙলে দেখা যায় কিছুই নেই— পুরো দৃশ্যটি লেখকের কল্পনা।

উপরের জ্ঞানমূলক ও অনুধাবনমূলক প্রশ্ন-উত্তরগুলো ভালোভাবে অনুশীলন করলে ফুলের বিবাহ গল্প থেকে সৃজনশীল প্রশ্নের ক ও খ অংশে ভালো নম্বর পাওয়া সহজ হবে।

আরও পড়ুন

SSC বাংলা ১ম পত্র-এর সব পোস্ট

মন্তব্য করুন

Your email address will not be published. Required fields are marked *

সাহায্য লাগবে?
BCS Journey Support
● Online
×
💬Messenger ✈Telegram
BCS JOURNEY
BCS Journey
চ্যাট শুরু করুন ➜