● MCQ

আশা কবিতার MCQ | বহুনির্বাচনি প্রশ্ন ও উত্তর

আশা কবিতার MCQ | SSC বাংলা ১ম পত্রের “আশা” কবিতা থেকে বোর্ড পরীক্ষায় নিয়মিত প্রশ্ন আসে। এই পোস্টে কবিতার সারকথা ও ৪৯টি বহুনির্বাচনি প্রশ্ন (MCQ) উত্তর ও ব্যাখ্যাসহ দেওয়া হলো। জ্ঞানমূলক ও অনুধাবনমূলক প্রশ্নের জন্য আশা কবিতার নোট দেখুন।

আশা কবিতার সারকথা ও গুরুত্বপূর্ণ তথ্য

আশা কবিতার কবি কে?

সিকান্দার আবু জাফর (জন্ম ১৯ মার্চ ১৯১৯, তেঁতুলিয়া, খুলনা; মৃত্যু ৫ আগস্ট ১৯৭৫)। পেশায় সাংবাদিক, স্বাধীনতা আন্দোলনের একনিষ্ঠ সাংস্কৃতিক কর্মী। মুক্তিযুদ্ধের বিখ্যাত গান ‘আমাদের সংগ্রাম চলবেই চলবে’-এর রচয়িতা। প্রধান কাব্য: প্রসন্ন শহর, বৈরী বৃষ্টিতে, তিমিরান্তিক, মালব কৌশিক। বাংলা একাডেমি পুরস্কার ও একুশে পদক (মরণোত্তর) প্রাপ্ত।

আশা কবিতার উৎস

মালব কৌশিক কাব্যগ্রন্থ থেকে সংকলিত কবিতা।

কবিতার মূল বিষয়বস্তু

  1. কবি এমন এক জগতে হারিয়ে যেতে চান, যেখানে দরিদ্র মানুষেরা জীর্ণ ঘরে নির্ভাবনায় ঘুমায়।
  2. সেই জগতের মানুষ সোনা-রুপার পাহাড় জমায় না, বিত্ত-সুখের দুর্ভাবনায় আয়ু কমায় না— তুচ্ছ বিষয়েই তুষ্ট থাকে।
  3. সারাদিনের পরিশ্রমেও একদিনের আহার্য না জুটলেও তাদের মনে দুরাশা, দীনতা বা সংশয় নেই।
  4. সেই জগতের মানুষ একে অপরকে ভালোবাসতে পারে, প্রতিবেশীর দুঃখে আলো জ্বালাতে পারে।
  5. কবি সেই জগতের কান্না-হাসির অন্তরালে হারিয়ে যেতে চান— জীবনের সুখ-দুঃখ উভয়ের সাথে একাত্ম হয়ে।

আশা কবিতার মূল ভাব কী?

বিত্ত-বৈভবের মোহহীন, সরল, মানবপ্রেমী দরিদ্র মানুষদের মধ্যেই জীবনের প্রকৃত সুখ ও মনুষ্যত্ব নিহিত— জটিল, আত্মকেন্দ্রিক আধুনিক জীবনযাত্রার বিপরীতে এই সারল্য ও মানবিকতার প্রতি কবির গভীর আকাঙ্ক্ষাই কবিতার কেন্দ্রীয় বার্তা।

আশা কবিতার গুরুত্বপূর্ণ শব্দার্থ

নির্ভাবনায় (নিশ্চিন্তে), বিত্ত (ধনসম্পদ), দুরাশা (দূরাগত/অসম্ভব আশা), দীনতা (দরিদ্রতা/হীনম্মন্যতা), সংশয় (সন্দেহ)।

কবি পরিচিতি বিষয়ক MCQ

১। সিকান্দার আবু জাফর কত খ্রিষ্টাব্দে জন্মগ্রহণ করেন?

  • ক. ১৯১৮
  • খ. ১৯২০
  • গ. ১৯১৯
  • ঘ. ১৯১৭

উত্তর: গ। তিনি ১৯১৯ খ্রিষ্টাব্দের ১৯শে মার্চ জন্মগ্রহণ করেন।

২। সিকান্দার আবু জাফরের জন্মস্থান কোথায়?

  • ক. বরিশাল
  • খ. খুলনা জেলার তেঁতুলিয়া গ্রাম
  • গ. যশোর
  • ঘ. ফরিদপুর

উত্তর: খ। খুলনা জেলার তেঁতুলিয়া গ্রামে তিনি জন্মগ্রহণ করেন।

৩। কর্মজীবনে সিকান্দার আবু জাফর কী পেশায় ছিলেন?

  • ক. চিকিৎসক
  • খ. সাংবাদিকতা
  • গ. আইনজীবী
  • ঘ. শিক্ষকতা

উত্তর: খ। কর্মজীবনে তিনি সাংবাদিক ছিলেন, রেডিও পাকিস্তানসহ বিভিন্ন পত্রিকায় কাজ করেন।

৪। নিচের কোনটি সিকান্দার আবু জাফরের কর্মস্থল পত্রিকা নয়?

  • ক. সাপ্তাহিক সওগাত
  • খ. মাসিক সমকাল
  • গ. দৈনিক মিল্লাত
  • ঘ. দৈনিক ইত্তেফাক

উত্তর: ক। সাপ্তাহিক সওগাত তাঁর কর্মস্থল ছিল না; বাকি তিনটি পত্রিকায় তিনি সাংবাদিকতা করেন।

৫। মুক্তিযুদ্ধের সময় সিকান্দার আবু জাফরের লেখা কোন গান বাঙালি জাতিকে অনুপ্রাণিত করে?

  • ক. জয় বাংলা বাংলার জয়
  • খ. একবার আয় না চোখে ফোটাবি আলো
  • গ. আমার সোনার বাংলা
  • ঘ. আমাদের সংগ্রাম চলবেই চলবে

উত্তর: ঘ। ‘আমাদের সংগ্রাম চলবেই চলবে’ গানটি স্বাধীনতাকামী বাঙালি জাতিকে বিশেষভাবে অনুপ্রাণিত করে।

৬। সিকান্দার আবু জাফরের গণসংগীত ও কবিতা কীসের প্রেরণায় সমৃদ্ধ?

  • ক. প্রকৃতিপ্রেমের
  • খ. ধর্মীয় ভাবাবেগের
  • গ. রাজকীয় জীবনের
  • ঘ. মেহনতি মানুষের মুক্তির

উত্তর: ঘ। তাঁর গণসংগীত ও কবিতা মেহনতি মানুষের মুক্তির প্রেরণায় সমৃদ্ধ।

৭। নিচের কোনটি সিকান্দার আবু জাফরের কাব্যগ্রন্থ নয়?

  • ক. চিন্তাতরঙ্গিণী
  • খ. প্রসন্ন শহর
  • গ. বৈরী বৃষ্টিতে
  • ঘ. তিমিরান্তিক

উত্তর: ক। চিন্তাতরঙ্গিণী হেমচন্দ্র বন্দ্যোপাধ্যায়ের রচনা; বাকি তিনটি সিকান্দার আবু জাফরের কাব্যগ্রন্থ।

৮। সিকান্দার আবু জাফর সাহিত্যকর্মে অবদানের জন্য কোন কোন পুরস্কারে ভূষিত হন?

  • ক. একুশে পদক ও স্বাধীনতা পুরস্কার
  • খ. জাতীয় অধ্যাপক সম্মাননা
  • গ. নোবেল পুরস্কার
  • ঘ. বাংলা একাডেমি পুরস্কার ও একুশে পদক (মরণোত্তর)

উত্তর: ঘ। তিনি বাংলা একাডেমি পুরস্কার ও একুশে পদকে (মরণোত্তর) ভূষিত হন।

৯। সিকান্দার আবু জাফর কত খ্রিষ্টাব্দে মৃত্যুবরণ করেন?

  • ক. ১৯৭৬
  • খ. ১৯৭৫
  • গ. ১৯৭৩
  • ঘ. ১৯৭৪

উত্তর: খ। ৫ই আগস্ট, ১৯৭৫ খ্রিষ্টাব্দে তিনি মৃত্যুবরণ করেন।

আশা কবিতার বহুনির্বাচনি প্রশ্ন ও উত্তর (MCQ)

১০। ‘আশা’ কবিতাটি কোন কাব্যগ্রন্থ থেকে সংকলিত?

  • ক. বৃশ্চিক লগ্ন
  • খ. প্রসন্ন শহর
  • গ. মালব কৌশিক
  • ঘ. তিমিরান্তিক

উত্তর: গ। কবিতাটি কবির মালব কৌশিক কাব্য থেকে সংকলিত হয়েছে।

১১। কবিতার মূল বিষয় কী?

  • ক. প্রকৃতির বর্ণনা
  • খ. সহজ-সরল, মানবপ্রেমী মানুষের জগতে হারিয়ে যাওয়ার আকাঙ্ক্ষা
  • গ. প্রেমের কবিতা
  • ঘ. রাজনৈতিক আন্দোলনের আহ্বান

উত্তর: খ। কবিতায় বিত্ত-বৈভবের মোহহীন, সহজ-সরল, মানবপ্রেমী দরিদ্র মানুষের জগতে হারিয়ে যাওয়ার গভীর আকাঙ্ক্ষা প্রকাশ পেয়েছে।

১২। পাঠ-পরিচিতি অনুযায়ী জাগতিক পৃথিবী সম্পর্কে কী বলা হয়েছে?

  • ক. এটি ক্রমশ শান্তিপূর্ণ হয়ে উঠছে
  • খ. এটি ক্রমশ সরল হয়ে উঠছে
  • গ. এটি ক্রমশ জটিল হয়ে উঠছে, মানুষ আত্মকেন্দ্রিক হয়ে পড়ছে
  • ঘ. এটি অপরিবর্তিত আছে

উত্তর: গ। পাঠ-পরিচিতি অনুযায়ী জাগতিক এই পৃথিবী ক্রমশ জটিল হয়ে উঠছে, মানুষ ক্রমশ আত্মকেন্দ্রিক হয়ে পড়ছে, মানুষে-মানুষে ব্যবধান বাড়ছে।

১৩। কবি কোথায় হারিয়ে যেতে চান?

  • ক. সেই জগতে, যেখানে মানুষ নির্ভাবনায় ঘুমিয়ে থাকে
  • খ. বিদেশে
  • গ. শহরের কোলাহলে
  • ঘ. পাহাড়ে

উত্তর: ক। কবি সেই জগতে হারিয়ে যেতে চান, যেখানে গভীর নিশুত রাতে জীর্ণ বেড়ার ঘরে মানুষেরা নির্ভাবনায় ঘুমিয়ে থাকে।

১৪। ‘জীর্ণ বেড়ার ঘর’ বলতে কী বোঝানো হয়েছে?

  • ক. দরিদ্র মানুষের ভাঙা, সাধারণ বাসস্থান
  • খ. একটি প্রাসাদ
  • গ. একটি ধর্মীয় স্থাপনা
  • ঘ. একটি সরকারি ভবন

উত্তর: ক। জীর্ণ বেড়ার ঘর বলতে দরিদ্র মানুষের ভাঙা, সাধারণ বাসস্থান বোঝানো হয়েছে, যেখানেও মানুষ নিশ্চিন্তে ঘুমাতে পারে।

১৫। কবি এই মানুষদের নির্ভাবনার ঘুমকে কীসের বিপরীতে স্থাপন করেছেন?

  • ক. অসুস্থতার বিপরীতে
  • খ. অলসতার বিপরীতে
  • গ. বিত্তবানদের নিদ্রাহীন রাত্রি যাপনের বিপরীতে
  • ঘ. যুদ্ধের বিপরীতে

উত্তর: গ। টীকা অনুযায়ী সুখের চিন্তায় অনেক মানুষের রাতে ঘুম হয় না, কিন্তু এই দরিদ্র মানুষেরা সারাদিন কাজের পর শান্তির ঘুমে তৃপ্তি পায়— এই বৈপরীত্যই কবি তুলে ধরেছেন।

১৬। কবির কল্পিত জগতে মানুষ কী করে না?

  • ক. খাবার খায় না
  • খ. ঘুমায় না
  • গ. কাজ করে না
  • ঘ. সোনা-রুপার পাহাড় জমায় না

উত্তর: ঘ। সেই জগতে মানুষ সোনা-রুপায় পাহাড় জমায় না।

১৭। বিত্ত-সুখের দুর্ভাবনা মানুষের কী কমায় বলে কবি বলেন?

  • ক. জ্ঞান
  • খ. আয়ু
  • গ. সম্পদ
  • ঘ. সুখ

উত্তর: খ। কবি বলেন, বিত্ত-সুখের দুর্ভাবনায় মানুষ আয়ু কমায়— অর্থাৎ সম্পদের পেছনে ছুটে জীবনকে সংক্ষিপ্ত করে ফেলে।

১৮। টীকা অনুযায়ী বিত্ত-সুখের দুর্ভাবনার প্রকৃত ফলাফল কী?

  • ক. রোগ-বালাই ও অকালমৃত্যু
  • খ. দীর্ঘায়ু ও সুখ
  • গ. সামাজিক মর্যাদা
  • ঘ. আধ্যাত্মিক উন্নতি

উত্তর: ক। টীকা অনুযায়ী বিত্ত-সুখের দুর্ভাবনা মানুষকে সুখ দেয় না, বরং বিভিন্ন রোগ-বালাইয়ে আক্রান্ত করে অকালমৃত্যুর দিকে ঠেলে দেয়।

১৯। কবির কল্পিত জগতের মানুষ কীসে তুষ্ট থাকে?

  • ক. বিপুল সম্পদে
  • খ. রাজনৈতিক ক্ষমতায়
  • গ. সামাজিক প্রতিপত্তিতে
  • ঘ. তুচ্ছ বিষয়ে

উত্তর: ঘ। কবি বলেন, সেই জগতে লোকে তুচ্ছ নিয়ে তুষ্ট থাকে— ছোট ছোট আনন্দেই তাদের জীবন কাটে।

২০। এই মানুষেরা সারাদিন পরিশ্রম করেও কী খুঁজে পায় না?

  • ক. বিশ্রাম
  • খ. সঙ্গী
  • গ. আনন্দ
  • ঘ. একটি দিনের আহার্য-সঞ্চয়

উত্তর: ঘ। কবি বলেন, সারাদিনের পরিশ্রমেও তারা একটি দিনের আহার্য-সঞ্চয় খুঁজে পায় না— চরম দারিদ্র্যের চিত্র।

২১। এই দারিদ্র্য সত্ত্বেও তাদের মনে কী নেই বলে কবি বলেন?

  • ক. আনন্দ
  • খ. ভালোবাসা
  • গ. দুরাশা গ্লানি, দীনতা ও সংশয়
  • ঘ. পরিশ্রম করার ইচ্ছা

উত্তর: গ। কবি বলেন, চরম দারিদ্র্য সত্ত্বেও তাদের মনের কোণে দুরাশার গ্লানি নেই, দীনতা নেই, কোনো সংশয়ও নেই— এক গভীর মানসিক প্রশান্তির চিত্র।

২২। ‘দুরাশা গ্লানি’ শব্দবন্ধের অর্থ কী প্রসঙ্গে ব্যবহৃত হয়েছে?

  • ক. তৃপ্তির অনুভূতি
  • খ. আনন্দের অনুভূতি
  • গ. গর্বের অনুভূতি
  • ঘ. অতিরিক্ত আশা পূরণ না হওয়ার গ্লানি

উত্তর: ঘ। দুরাশা গ্লানি বলতে দূরাগত বা অসম্ভব আশা পূরণ না হওয়ার হতাশা বা গ্লানিবোধ বোঝানো হয়েছে, যা এই দরিদ্র মানুষদের মনে নেই।

২৩। কবির কল্পিত জগতে মানুষ মানুষের প্রতি কী করতে পারে?

  • ক. অবহেলা করতে পারে
  • খ. ভালোবাসতে পারে
  • গ. প্রতিযোগিতা করতে পারে
  • ঘ. উদাসীন থাকতে পারে

উত্তর: খ। কবি বলেন, সেই জগতে মানুষ মানুষকে ভালোবাসতে পারে— এটাই তাদের জীবনের সবচেয়ে বড় গুণ।

২৪। এই মানুষেরা প্রতিবেশীর প্রতি কী করতে পারে?

  • ক. তাদের সম্পদ কেড়ে নিতে পারে
  • খ. তাদের বিচার করতে পারে
  • গ. তাদের এড়িয়ে চলতে পারে
  • ঘ. তাদের আঁধার ঘরে আলো জ্বালতে পারে

উত্তর: ঘ। কবি বলেন, তারা প্রতিবেশীর আঁধার ঘরে আলো জ্বালতে পারে— অর্থাৎ অন্যের দুঃখ-কষ্ট দূর করতে এগিয়ে আসতে পারে।

২৫। টীকা অনুযায়ী প্রতিবেশীর দুঃখে এগিয়ে আসার মধ্যে কী নিহিত আছে?

  • ক. সামাজিক বাধ্যবাধকতা মাত্র
  • খ. অর্থনৈতিক লাভ
  • গ. জীবনের মহত্ত্ব ও এক ধরনের গভীর তৃপ্তি
  • ঘ. কোনো তাৎপর্য নেই

উত্তর: গ। টীকা অনুযায়ী মানবপ্রেম বা মানুষকে ভালোবাসতে পারার মাঝে জীবনের মহত্ত্ব নিহিত থাকে, প্রতিবেশীর দুঃখ দূর করার মাঝেও এক ধরনের তৃপ্তি আছে।

২৬। কবিতার শেষে কবি আবার কী বলেন?

  • ক. তিনি সেই জগতে যাবেন না
  • খ. সেই জগতের কান্না-হাসির অন্তরালে তিনি হারিয়ে যেতে চান
  • গ. তিনি অনিশ্চিত
  • ঘ. তিনি নিজের জগতেই থাকতে চান

উত্তর: খ। কবিতা শেষ হয় কবির পুনরাবৃত্ত আকাঙ্ক্ষায়— সেই জগতের কান্না-হাসির অন্তরালে তিনি হারিয়ে যেতে চান।

২৭। ‘কান্না-হাসির অন্তরালে হারিয়ে যাওয়া’ বাক্যাংশটি কী নির্দেশ করে?

  • ক. জীবন থেকে পালিয়ে যাওয়া
  • খ. জীবনের সুখ-দুঃখের সাথে একাত্ম হওয়ার আকাঙ্ক্ষা
  • গ. শুধু দুঃখের জগৎ
  • ঘ. শুধু আনন্দের জগৎ

উত্তর: খ। এই বাক্যাংশ জীবনের সুখ-দুঃখ উভয় অভিজ্ঞতার সাথে সম্পূর্ণভাবে একাত্ম হওয়ার আকাঙ্ক্ষা নির্দেশ করে, নিছক পলায়ন নয়।

**২৮। কবির আকাঙ্ক্ষিত জগৎ সম্পর্কে নিচের তথ্যগুলো লক্ষ করো —**
i. সেখানে মানুষ সম্পদের প্রতি আসক্ত নয়
ii. সেখানে মানুষের মধ্যে গভীর ভালোবাসা ও সহমর্মিতা আছে
iii. সেখানকার মানুষ আর্থিকভাবে সচ্ছল

নিচের কোনটি সঠিক?
ক. i ও ii খ. i ও iii গ. ii ও iii ঘ. i, ii ও iii
**উত্তর: ক।** প্রথম দুটি তথ্য কবিতার বর্ণনার সাথে মেলে, কিন্তু কবিতায় স্পষ্ট বলা আছে এই মানুষেরা এতটাই দরিদ্র যে একদিনের আহারও জোটে না— তাই তৃতীয় তথ্যটি ভুল।

২৯। ‘নির্ভাবনায়’ শব্দের অর্থ কী?

  • ক. চিন্তিত হয়ে
  • খ. নিশ্চিন্তে, চিন্তামুক্ত হয়ে
  • গ. ভীত হয়ে
  • ঘ. ক্রুদ্ধ হয়ে

উত্তর: খ। নির্ভাবনায় অর্থ নিশ্চিন্তে বা চিন্তামুক্ত হয়ে।

৩০। ‘বিত্ত’ শব্দের অর্থ কী?

  • ক. স্বাস্থ্য
  • খ. ধনসম্পদ
  • গ. দারিদ্র্য
  • ঘ. জ্ঞান

উত্তর: খ। বিত্ত অর্থ ধনসম্পদ।

৩১। ‘দুরাশা’ শব্দের অর্থ কী?

  • ক. আনন্দ
  • খ. দূরাগত বা অসম্ভব আশা
  • গ. নিরাশা
  • ঘ. প্রকৃত আশা

উত্তর: খ। দুরাশা অর্থ দূরাগত বা প্রায় অসম্ভব এমন আশা।

৩২। ‘দীনতা’ শব্দের অর্থ কী?

  • ক. ধনী অবস্থা
  • খ. সাহসিকতা
  • গ. উদারতা
  • ঘ. দরিদ্রতা, হীনম্মন্যতা

উত্তর: ঘ। দীনতা অর্থ দরিদ্রতা বা হীনম্মন্যতার বোধ।

৩৩। ‘সংশয়’ শব্দের অর্থ কী?

  • ক. আনন্দ
  • খ. নিশ্চয়তা
  • গ. বিশ্বাস
  • ঘ. সন্দেহ

উত্তর: ঘ। সংশয় অর্থ সন্দেহ।

৩৪। পাঠ-পরিচিতি অনুযায়ী কবি কাদের সান্নিধ্য পেতে চান?

  • ক. ধনী ও ক্ষমতাবান মানুষদের
  • খ. যারা প্রকৃত অর্থেই মানুষ ও মনুষ্যত্বের আলো জ্বালিয়ে রাখেন
  • গ. রাজনৈতিক নেতাদের
  • ঘ. বিখ্যাত ব্যক্তিদের

উত্তর: খ। পাঠ-পরিচিতি অনুযায়ী কবি সেসব মানুষের সান্নিধ্য পেতে চান যারা প্রকৃত অর্থেই মানুষ, মনুষ্যত্বের আলো জ্বালিয়ে রেখেছেন।

৩৫। কবির মতে এই দরিদ্র মানুষেরা কেন প্রকৃত অর্থে ‘মানুষ’?

  • ক. তারা ক্ষমতাবান বলে
  • খ. তাদের প্রচুর অর্থ আছে বলে
  • গ. দারিদ্র্যেও তারা মানুষকে ভালোবাসে ও সাহায্য করে বলে
  • ঘ. তারা শিক্ষিত বলে

উত্তর: গ। কবি মনে করেন, দারিদ্র্যের মধ্যেও যারা মানুষকে ভালোবাসতে পারে ও প্রতিবেশীকে সাহায্য করে, তারাই প্রকৃত অর্থে মানুষ— বিত্ত নয়, মানবিকতাই মানুষের প্রকৃত পরিচয়।

৩৬। পাঠ-পরিচিতি অনুযায়ী কবিতাটিতে কোন ভাবের প্রতিফলন ঘটেছে?

  • ক. রাজনৈতিক প্রতিহিংসা
  • খ. ধর্মীয় গোঁড়ামি
  • গ. গণমানুষের প্রতি একাত্মতা ও মানবিকতার সংবেদনা
  • ঘ. ব্যক্তিস্বার্থ ও প্রতিযোগিতা

উত্তর: গ। পাঠ-পরিচিতি অনুযায়ী কবিতাটিতে গণমানুষের প্রতি একাত্মতা, মানবিকতা ও মনুষ্যত্বের সুগভীর সংবেদনা প্রতিফলিত হয়েছে।

৩৭। কবিতার সামগ্রিক দর্শন অনুযায়ী প্রকৃত সুখ কীসের মধ্যে নিহিত?

  • ক. সরলতা, তুষ্টি ও মানবিক সম্পর্কের মধ্যে
  • খ. ক্ষমতা ও প্রতিপত্তিতে
  • গ. অর্থ ও সম্পদের প্রাচুর্যে
  • ঘ. প্রতিযোগিতায় জয়লাভে

উত্তর: ক। কবিতার সামগ্রিক দর্শন অনুযায়ী প্রকৃত সুখ অর্থ-সম্পদের প্রাচুর্যে নয়, বরং সরলতা, তুষ্টি ও গভীর মানবিক সম্পর্কের মধ্যে নিহিত।

৩৮। কবি ধনী ও দরিদ্র মানুষের মধ্যে কোন বৈপরীত্য তুলে ধরেছেন?

  • ক. উভয়েই সমান সুখী
  • খ. ধনীরা সবসময় সুখী, দরিদ্ররা সবসময় দুঃখী
  • গ. ধনীরা দুশ্চিন্তায় নিদ্রাহীন, দরিদ্ররা নিশ্চিন্তে ঘুমায়
  • ঘ. কোনো বৈপরীত্য নেই

উত্তর: গ। কবি দেখান, ধনীরা সম্পদ আহরণ ও সুখের দুশ্চিন্তায় নিদ্রাহীন রাত কাটায়, অথচ দরিদ্র মানুষেরা সারল্য ও তুষ্টির মধ্যে নিশ্চিন্তে ঘুমাতে পারে— এই বৈপরীত্যই কবিতার মূল ভাবনার কেন্দ্রে।

করিম মিয়া একজন রিকশাচালক, সারাদিন পরিশ্রম করেও কোনোদিন সঞ্চয় করতে পারেন না। কিন্তু প্রতিবেশীর কারো অসুখ হলে নিজের সামান্য সঞ্চয় থেকেও তিনি সাহায্য করেন, আর রাতে ক্লান্ত শরীরে নিশ্চিন্তে ঘুমিয়ে পড়েন, কোনো দুশ্চিন্তা তাকে জাগিয়ে রাখে না।

৩৯। করিম মিয়ার চরিত্রের সাথে ‘আশা’ কবিতার কল্পিত জগতের মানুষদের কোন দিকটির মিল সবচেয়ে বেশি?

  • ক. দারিদ্র্যেও নিশ্চিন্ত ঘুম ও প্রতিবেশীর প্রতি ভালোবাসা
  • খ. তাদের শিক্ষাগত যোগ্যতা
  • গ. তাদের আর্থিক সচ্ছলতা
  • ঘ. তাদের সামাজিক প্রতিপত্তি

উত্তর: ক। করিম মিয়া যেমন দারিদ্র্যের মধ্যেও নিশ্চিন্তে ঘুমান ও প্রতিবেশীকে সাহায্য করেন, কবিতার কল্পিত জগতের মানুষেরাও ঠিক এই একই গুণাবলি ধারণ করে— এখানেই তাদের মিল।

৪০। করিম মিয়ার জীবনযাত্রা কবিতার কোন মূল বার্তাকে সমর্থন করে?

  • ক. সঞ্চয় করা প্রয়োজনীয় নয়
  • খ. পরিশ্রম করা উচিত নয়
  • গ. বিত্ত ছাড়াও মানবিকতা দিয়ে জীবনের মহত্ত্ব অর্জন সম্ভব
  • ঘ. দারিদ্র্য সবসময় দুঃখজনক

উত্তর: গ। করিম মিয়ার জীবনযাত্রা প্রমাণ করে, বিত্তের প্রাচুর্য ছাড়াও মানবিকতা, সারল্য ও পরার্থপরতার মধ্য দিয়ে জীবনের প্রকৃত মহত্ত্ব অর্জন করা সম্ভব— এটাই কবিতার কেন্দ্রীয় বার্তা।

৪১। কবিতাটি কোন কাব্যরীতিতে রচিত?

  • ক. মহাকাব্যিক আখ্যান
  • খ. পয়ার ছন্দ
  • গ. মুক্তক ছন্দের আধুনিক গীতিকবিতা
  • ঘ. সনেট

উত্তর: গ। কবিতাটি মুক্তক ছন্দে রচিত একটি আধুনিক গীতিকবিতা, যেখানে কবির ব্যক্তিগত আকাঙ্ক্ষা ও আবেগ সরাসরি প্রকাশিত হয়েছে।

৪২। কবিতায় ‘ভাই’ সম্বোধনটি বারবার ব্যবহারের উদ্দেশ্য কী?

  • ক. একটি নির্দিষ্ট ব্যক্তিকে সম্বোধন করা
  • খ. পাঠকের সাথে আন্তরিক সংলাপের সুর তৈরি করা
  • গ. কোনো বিশেষ উদ্দেশ্য নেই
  • ঘ. নিছক ছন্দ মেলানো

উত্তর: খ। ‘ভাই’ সম্বোধনের মাধ্যমে কবি পাঠকের সাথে একটি আন্তরিক, ঘনিষ্ঠ ও সরাসরি সংলাপের সুর তৈরি করেছেন, যা কবিতার আবেদনকে আরও হৃদয়স্পর্শী করে তোলে।

৪৩। কবিতায় ধনী ও দরিদ্রের তুলনা করার মধ্য দিয়ে কবি কোন সামাজিক বাস্তবতার প্রতি ইঙ্গিত দেন?

  • ক. বস্তুগত সমৃদ্ধি ও মানসিক প্রশান্তি সবসময় একসাথে আসে না
  • খ. ধনীরাই প্রকৃত সুখী
  • গ. দারিদ্র্য দূর করা উচিত নয়
  • ঘ. দরিদ্ররাই একমাত্র সৎ মানুষ

উত্তর: ক। কবিতার মাধ্যমে কবি ইঙ্গিত দেন যে, বস্তুগত সমৃদ্ধি ও প্রকৃত মানসিক প্রশান্তি সবসময় একসাথে আসে না— বরং কখনো কখনো সরলতা ও অল্পে তুষ্টিই প্রকৃত সুখের চাবিকাঠি।

৪৪। কবিতাটি কি দারিদ্র্যকে মহিমান্বিত করে, নাকি দারিদ্র্যের মধ্যে থাকা মানবিক গুণাবলিকে?

  • ক. দারিদ্র্য নয়, তার মধ্যে টিকে থাকা মানবিকতাকেই মহিমান্বিত করে
  • খ. দারিদ্র্য দূর করার আহ্বান জানায়
  • গ. দারিদ্র্যকে সরাসরি মহিমান্বিত করে
  • ঘ. দারিদ্র্যকে সমালোচনা করে

উত্তর: ক। কবিতাটি দারিদ্র্য নিজে নয়, বরং তার মধ্যেও টিকে থাকা মানবিকতা, সারল্য ও নিঃস্বার্থ ভালোবাসার গুণকেই মহিমান্বিত করেছে— এটি একটি গুরুত্বপূর্ণ পার্থক্য।

৪৫। কবিতায় ‘আধুনিক নাগরিক জীবন’ সম্পর্কে কোনো প্রত্যক্ষ সমালোচনা না থাকলেও, কীভাবে পরোক্ষ সমালোচনা ফুটে উঠেছে?

  • ক. বিত্ত-আসক্ত জীবনের বিপরীতে সরল জীবনের প্রশংসার মধ্য দিয়ে
  • খ. রাজনৈতিক ব্যবস্থার সমালোচনা করে
  • গ. শহর ধ্বংসের আহ্বান জানিয়ে
  • ঘ. সরাসরি নাগরিক জীবনের নিন্দা করে

উত্তর: ক। বিত্ত-আসক্ত, দুশ্চিন্তাগ্রস্ত জীবনযাত্রার বিপরীতে সরল, তুষ্ট, মানবিক জীবনের প্রশংসার মধ্য দিয়েই কবি পরোক্ষভাবে আধুনিক আত্মকেন্দ্রিক জীবনযাত্রার সমালোচনা করেছেন।

৪৬। কবিতার নামকরণ ‘আশা’-র তাৎপর্য কী?

  • ক. এটি একটি চরিত্রের নাম
  • খ. সেই আদর্শ মানবিক জগতে পৌঁছানোর আকাঙ্ক্ষাকে নির্দেশ করে
  • গ. এটি একটি ঋতুর নাম
  • ঘ. এটি নিছক একটি সাধারণ নাম

উত্তর: খ। ‘আশা’ শিরোনামটি কবির সেই আদর্শ, মানবিক, সরল জগতে পৌঁছানোর গভীর আকাঙ্ক্ষা বা প্রত্যাশাকেই নির্দেশ করে, যা তিনি বাস্তব জগতে খুঁজে বেড়ান।

৪৭। কবিতাটির সুর কেমন— নৈরাশ্যবাদী নাকি আশাবাদী?

  • ক. সম্পূর্ণ নৈরাশ্যবাদী
  • খ. আশাবাদী, কবি এমন জগতের অস্তিত্বে বিশ্বাস করেন বলে
  • গ. সম্পূর্ণ নিরাসক্ত
  • ঘ. রাগান্বিত ও ক্ষুব্ধ

উত্তর: খ। যদিও কবিতায় সমাজের জটিলতা ও আত্মকেন্দ্রিকতার প্রচ্ছন্ন সমালোচনা আছে, কবিতার সুর মূলত আশাবাদী— কবি বিশ্বাস করেন এমন একটি সরল, মানবিক জগৎ সত্যিই বিদ্যমান ও তার সন্ধানে তিনি আকুল।

৪৮। কবি সিকান্দার আবু জাফরের সাংবাদিক ও সাংস্কৃতিক কর্মী হিসেবে পরিচয়ের সাথে এই কবিতার ভাবের কী সম্পর্ক থাকতে পারে?

  • ক. এটি শুধু একটি কাল্পনিক রচনা
  • খ. এটি তাঁর ব্যক্তিগত জীবনের প্রতিফলন মাত্র
  • গ. কোনো সম্পর্ক নেই
  • ঘ. সাধারণ মানুষের প্রতি তাঁর গভীর শ্রদ্ধারই প্রতিফলন এই কবিতা

উত্তর: ঘ। সিকান্দার আবু জাফরের গণসংগীত ও কবিতা যেমন মেহনতি মানুষের মুক্তির প্রেরণায় সমৃদ্ধ, তেমনি এই কবিতাতেও সাধারণ, দরিদ্র মানুষের জীবন ও মূল্যবোধের প্রতি তাঁর গভীর শ্রদ্ধা ও মমত্ববোধ প্রতিফলিত হয়েছে।

৪৯। কবিতাটি কীভাবে বাংলা সাহিত্যের সামাজিক-মানবিক চেতনাধারার সাথে সংগতিপূর্ণ?

  • ক. এটি ব্যতিক্রমী, কোনো ধারার সাথে মেলে না
  • খ. দরিদ্র মানুষের প্রতি সহানুভূতি প্রকাশের ঐতিহ্যের সাথে সংগতিপূর্ণ
  • গ. এটি ধর্মীয় সাহিত্যের অংশ
  • ঘ. এটি শুধু ব্যক্তিগত অনুভূতির প্রকাশ

উত্তর: খ। ‘মমতাদি’, ‘অভাগীর স্বর্গ’-এর মতো রচনাগুলোর মতোই এই কবিতাও প্রান্তিক, দরিদ্র মানুষের প্রতি মানবিক সহানুভূতি ও শ্রদ্ধা প্রকাশের বাংলা সাহিত্যের দীর্ঘ ঐতিহ্যের সাথে সংগতিপূর্ণ।

৫০। কবিতাটি থেকে পাঠক জীবনের অগ্রাধিকার সম্পর্কে কী শিক্ষা নিতে পারেন?

  • ক. উচ্চাকাঙ্ক্ষা রাখা উচিত নয়
  • খ. দারিদ্র্যকে মেনে নেওয়া উচিত
  • গ. মানবিক সম্পর্ক বস্তুগত সমৃদ্ধির চেয়ে অধিক মূল্যবান হতে পারে
  • ঘ. সম্পদ আহরণই জীবনের একমাত্র লক্ষ্য হওয়া উচিত

উত্তর: গ। কবিতাটি পাঠককে শেখায়, জীবনে মানবিক সম্পর্ক, সারল্য ও পরার্থপরতা কখনো কখনো বস্তুগত সমৃদ্ধির চেয়েও অধিক মূল্যবান ও অর্থবহ হতে পারে— এটিই কবিতার সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ জীবনশিক্ষা।

আরও পড়ুন

SSC বাংলা ১ম পত্র-এর সব পোস্ট

মন্তব্য করুন

Your email address will not be published. Required fields are marked *

সাহায্য লাগবে?
BCS Journey Support
● Online
×
💬Messenger ✈Telegram
BCS JOURNEY
BCS Journey
চ্যাট শুরু করুন ➜