● Note

বহিপীর নাটকের নোট | জ্ঞানমূলক ও অনুধাবনমূলক প্রশ্ন উত্তর

বহিপীর নাটকের নোট | SSC বাংলা সহপাঠ বইয়ের “বহিপীর” নাটকের জ্ঞানমূলক ও অনুধাবনমূলক প্রশ্ন উত্তর নিচে দেওয়া হলো। বহুনির্বাচনি প্রশ্নের জন্য বহিপীর নাটকের MCQ দেখুন।

ভূমিকা, নাট্যকার পরিচিতি ও চরিত্র পরিচিতি

জ্ঞানমূলক প্রশ্ন ও উত্তর (ক)

‘নট্’ শব্দের অর্থ কী?

নট্ শব্দের অর্থ নড়াচড়া করা বা অঙ্গচালনা করা।

সংস্কৃতে নাটককে কী বলা হয়েছে?

সংস্কৃতে নাটককে দৃশ্যকাব্য বলা হয়েছে।

বহিপীর নাটকের সাধারণত কয়টি উপাদান থাকে?

নাটকে সাধারণত চারটি উপাদান থাকে— কাহিনি, চরিত্র, সংলাপ ও পরিবেশ।

বহিপীর নাটকের ‘প্রাণ’ বলা হয়েছে কোনটিকে?

সংলাপকে নাটকের প্রাণ বলা হয়েছে।

অ্যারিস্টটল নাটকে কয় প্রকার ঐক্যের কথা বলেছেন?

তিনি তিন প্রকার ঐক্যের কথা বলেছেন।

বহিপীর নাটকের কাহিনি অগ্রসর হওয়ার প্রক্রিয়াকে কয়টি পর্বে ভাগ করা হয়?

এটি পাঁচটি পর্বে ভাগ করা হয়।

কলকাতায় প্রথম মঞ্চবহিপীর নাটকের আয়োজক কে ছিলেন?

হেরাসিম লেবেদেফ নামক একজন রাশিয়ান নাগরিক ছিলেন।

বাংলা ভাষায় প্রথম আধুনিক নাটক বহিপীর রচনার কৃতিত্ব কার?

মাইকেল মধুসূদন দত্তের।

বাংলাদেশের আধুনিক ধারার নাট্যচর্চার অগ্রণী নাট্যকার কারা?

মুনীর চৌধুরী ও সৈয়দ ওয়ালীউল্লাহ।

সৈয়দ ওয়ালীউল্লাহ্‌ কত খ্রিষ্টাব্দে জন্মগ্রহণ করেন?

তিনি ১৯২২ খ্রিষ্টাব্দে জন্মগ্রহণ করেন।

সৈয়দ ওয়ালীউল্লাহ্‌র জন্মস্থান কোথায়?

তাঁর জন্মস্থান চট্টগ্রাম শহর।

সৈয়দ ওয়ালীউল্লাহ্‌র পেশাজীবন কীভাবে শুরু হয়?

দৈনিক স্টেটস্‌ম্যান পত্রিকায় সাংবাদিকতার মাধ্যমে শুরু হয়।

সৈয়দ ওয়ালীউল্লাহ্‌র বিখ্যাত উপন্যাস লালসালু কত সালে প্রকাশিত হয়?

এটি ১৯৪৮ সালে প্রকাশিত হয়।

সৈয়দ ওয়ালীউল্লাহ্‌ কত সালে ও কোথায় মৃত্যুবরণ করেন?

তিনি ১৯৭১ সালের অক্টোবরে প্যারিসে মৃত্যুবরণ করেন।

‘বহিপীর’ নাটকটি কত সালে প্রথম প্রকাশিত হয়?

এটি ১৯৬০ সালে প্রকাশিত হয়।

‘বহিপীর’ নামকরণের কারণ কী?

পির সাহেব বিভিন্ন এলাকার ভাষা না শিখে সবসময় বইয়ের (কেতাবি) ভাষায় কথা বলেন বলে।

তাহেরা বিয়ে প্রত্যাখ্যান করে কোথায় আশ্রয় নেয়?

সে হাতেম আলি জমিদারের শহরগামী বজরায় আশ্রয় নেয়।

বহিপীর হাতেম আলিকে কী কঠিন শর্ত দেন ঋণের বিনিময়ে?

তাঁর স্ত্রী তাহেরাকে তাঁর হাতে তুলে দিতে হবে এই শর্ত দেন।

হাতেম আলি জমিদারি হারাতে বসেন কোন আইনে?

তিনি সূর্যাস্ত আইনে জমিদারি হারাতে বসেন।

বহিপীর নাটকের শেষে কী ঘটে?

তাহেরা ও হাশেম আলি সব বাধা ছিন্ন করে পালিয়ে যায়, বহিপীর বাস্তবতা মেনে নেন।

ইংরেজি ‘Drama’ শব্দটি কোন ভাষার শব্দ থেকে এসেছে?

Drama শব্দটি গ্রিক Dracin শব্দ থেকে এসেছে, যার অর্থ to do বা কোনো কিছু করা।

সংস্কৃতে নাটক সম্পর্কে কোন বিখ্যাত উক্তি আছে?

সংস্কৃতে বলা হয়েছে ‘কাব্যেষু নাটকং রম্যম্’, অর্থাৎ কাব্যের মধ্যে নাটকই শ্রেষ্ঠ।

উপন্যাস বা বহিপীর গল্পে পরিবেশ সৃষ্টির জন্য লেখক কী ব্যবহার করেন, যা নাটকে সম্ভব নয়?

উপন্যাস বা গল্পে লেখক বর্ণনার মাধ্যমে পরিবেশ সৃষ্টি করতে পারেন, নাটকে সে সুযোগ থাকে না, সেখানে প্রধান অবলম্বন সংলাপ।

‘কালের ঐক্য’ অনুযায়ী নাটকে কতক্ষণের কাহিনি ঘটানো উচিত বলে একদল সমালোচক মনে করেন?

একদল নাট্য-সমালোচক মনে করেন, এক সূর্যোদয় থেকে আরেক সূর্যোদয় অর্থাৎ চব্বিশ ঘণ্টার মধ্যে মঞ্চে যতটুকু কাহিনি ঘটানো সম্ভব তাই নাটকে থাকা উচিত।

এই পাঁচ পর্বের কাঠামো সব নাটকে প্রযোজ্য নয়— কোন নাটকটির উদাহরণ দেওয়া হয়েছে যা এভাবে ভাগ করা যায় না?

স্যামুয়েল বেকেট রচিত ‘ওয়েটিং ফর গডো’কে এই পাঁচ পর্বে ভাগ করা যায় না, কারণ এটি একটি নিরীক্ষাধর্মী বা অ্যাবসার্ড নাটক।

বাংলা সাহিত্যের কোন আদি নিদর্শনে নাটক অভিনীত হওয়ার উল্লেখ আছে?

চর্যাপদে নাটক অভিনীত হওয়ার উল্লেখ রয়েছে; গবেষণায় দেখা গেছে চর্যাপদ নৃত্য ও অভিনয়সহ বৌদ্ধ মন্দিরে পরিবেশিত হতো।

দীনবন্ধু মিত্রের বিখ্যাত নাটক কোনটি?

দীনবন্ধু মিত্রের বিখ্যাত নাটক নীল দর্পণ (১৮৬০)।

মীর মশাররফ হোসেনের রচিত নাটক কোনটি?

জমিদার দর্পণ (১৮৭৩) মীর মশাররফ হোসেনের রচিত নাটক।

রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের রচিত নাটক কোনটি?

ডাকঘর (১৯১২) রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের রচিত বিখ্যাত নাটক; রক্তকরবী, চিত্রাঙ্গদা, চিরকুমার সভাও তাঁর নাটক।

বিজন ভট্টাচার্যের বিখ্যাত নাটক কোনটি?

নবান্ন (১৯৪৪) বিজন ভট্টাচার্যের বিখ্যাত নাটক।

নূরুল মোমেনের রচিত নাটক কোনটি?

নয়া খানদান নূরুল মোমেনের রচিত নাটক।

মুনীর চৌধুরীর বিখ্যাত নাটক কোনটি?

কবর (১৯৬৬) মুনীর চৌধুরীর বিখ্যাত নাটক।

নিচের কোনটি সৈয়দ শামসুল হকের রচিত নাটক?

নূরলদীনের সারা জীবন সৈয়দ শামসুল হকের রচিত নাটক।

সৈয়দ ওয়ালীউল্লাহ্‌র পিতা কী পেশায় ছিলেন?

তাঁর পিতা সৈয়দ আহমাদউল্লাহ্‌ সরকারি কর্মকর্তা ছিলেন।

সৈয়দ ওয়ালীউল্লাহ্‌ কত বছর বয়সে মাতৃহারা হন?

তিনি মাত্র আট বছর বয়সে মাতৃহারা হন।

বাংলাদেশের স্বাধীনতাযুদ্ধ চলাকালে সৈয়দ ওয়ালীউল্লাহ্‌ কী করেন?

স্বাধীনতাযুদ্ধ চলাকালে তিনি প্যারিস থেকেই বাংলাদেশের পক্ষে কাজ করেন।

সৈয়দ ওয়ালীউল্লাহ্‌র প্রথম গল্পগ্রন্থের নাম কী?

তাঁর প্রথম গল্পগ্রন্থ ‘নয়নচারা’ প্রকাশিত হয় ১৯৪৫ সালে।

সৈয়দ ওয়ালীউল্লাহ্‌ কোন কোন পুরস্কার লাভ করেন?

তিনি পিইএন পুরস্কার (১৯৫৫), বাংলা একাডেমি পুরস্কার (১৯৬১), আদমজী পুরস্কার (১৯৬৫) ও একুশে পদক (মরণোত্তর, ১৯৮৪) লাভ করেন।

গ্রন্থাকারে প্রকাশের আগে ‘বহিপীর’ কোথায় আন্তর্জাতিক পুরস্কার লাভ করে?

১৯৫৫ সালে ঢাকায় পিইএন ক্লাবের উদ্যোগে অনুষ্ঠিত আন্তর্জাতিক সম্মেলনে বাংলা নাটকের প্রতিযোগিতায় ‘বহিপীর’ আন্তর্জাতিক পুরস্কার লাভ করে।

বহিপীর কত বছর অন্তর মুরিদদের বাড়ি ঘুরে বেড়ান?

তিনি দুই বছরান্তে একবার শিষ্য বা মুরিদদের বাড়িতে ঘুরে বেড়ান।

বহিপীরের সঙ্গী কে?

বহিপীরের সঙ্গী হকিকুল্লাহ, যাকে সাথে নিয়ে তিনি তাহেরার সন্ধানে বের হন।

বজরায় তাহেরার পক্ষ নেয় কে?

জমিদারপুত্র হাশেম আলি তাহেরার করুণ কাহিনি জেনে তার পক্ষ নেয়, যা বজরায় দ্বন্দ্বকে চরমে নিয়ে যায়।

বহিপীর তাহেরাকে ফিরে পেতে কী কৌশল অবলম্বন করেন, জমিদারের অসহায়ত্বের প্রসঙ্গে?

বহিপীর জমিদারের অসহায়ত্বের সুযোগ নিয়ে টাকার বিনিময়ে জমিদারি রক্ষা করার প্রস্তাব দেন, শর্ত হিসেবে তাহেরাকে ফেরত চান।

বহিপীর চরিত্রটি কেমন বলে বর্ণনা করা হয়েছে?

বহিপীর অত্যন্ত ধূর্ত ও বাস্তবজ্ঞানসম্পন্ন মানুষ, যিনি অশিক্ষিত মানুষের কুসংস্কার ও ধর্মবিশ্বাসকে পুঁজি করে ধর্মব্যবসা পরিচালনা করেন।

তাহেরাকে ফিরে পেতে বহিপীর প্রথমে কোন যুক্তি দেন?

বহিপীর প্রথমে ধর্মীয় বিয়ের দোহাই দেন, কিন্তু তাহেরা পাল্টা যুক্তি দিলে তিনি সেখান থেকে সরে আসেন।

তাহেরা কখন বহিপীরের সাথে যেতে রাজি হয়?

জমিদারের অসহায়ত্বের কথা জেনে তাহেরা রাজি হয়, যা তার মানবিকতার পরিচয় দেয়— অর্থাৎ সে একই সাথে অনমনীয় ও মানবিক চরিত্র।

হাশেম আলি কার পুত্র?

হাশেম আলি জমিদার হাতেম আলির পুত্র।

হাশেম আলিকে নাটকে কার বিপরীত চরিত্র হিসেবে দেখা যায়?

হাশেম আলি কেন্দ্রীয় চরিত্র বহিপীরের বিপরীত চরিত্র— একজন ইতিবাচক, অন্যজন নেতিবাচক।

হাশেম আলিকে ও বহিপীরকে যথাক্রমে কী বলে বিবেচনা করা যায়?

হাশেম আলিকে নায়ক এবং বহিপীরকে খলনায়ক হিসেবে বিবেচনা করা যায়।

তাহেরা আত্মহনন করতে গেলে তাকে কে রক্ষা করে?

হাশেম আলি তাহেরাকে আত্মহনন করতে গেলে রক্ষা করে— বজরায় সেই প্রথম সে তাহেরার সমস্যার প্রকৃতি উপলব্ধি করে।

হাশেম আলিকে নাটকে কীরূপ বলে বর্ণনা করা হলেও সে বাস্তবে কেমন ছিল?

নাটকে হাশেম আলিকে অস্থিরচিত্ত বলে বর্ণনা করা হলেও সে তার অবস্থানে (তাহেরার পক্ষে) ছিল স্থির— মা, বহিপীর ও পিতার কোনো কিছুই তাকে পিছু হটাতে পারেনি।

হাতেম আলি অর্থ সংগ্রহের জন্য শহরে যাওয়ার সময় কী অজুহাত দেন পরিবারের কাছে?

তিনি চিকিৎসার অজুহাত দিয়ে অর্থ সংগ্রহের জন্য শহরে যান, জমিদারি নিলামের সংবাদ পরিবারের কাছে গোপন রাখেন।

হাতেম আলি শেষ পর্যন্ত এই শর্তে কী সিদ্ধান্ত নেন?

হাতেম আলি টাকা নিতে অস্বীকৃতি জানান, কারণ তাঁর নিজেকে নিজের কাছে কসাই মনে হতে থাকে— তাঁর উচ্চ নৈতিকতাবোধের পরিচয়।

বহিপীর নাটকের সময়কাল আনুমানিক কোন যুগ বলে অনুমান করা হয়েছে?

জমিদার হাতেম আলির সূর্যাস্ত আইনে জমিদারি হারানোর প্রেক্ষাপট থেকে অনুমান করা হয়, নাটকের সময়কাল ঊনিশ শতকের শেষভাগ বা বিশ শতকের সূচনালগ্ন।

‘সূর্যাস্ত আইন’ কত সালে প্রণীত হয়?

সূর্যাস্ত আইন প্রণীত হয় ১৭৯৩ সালে।

নাটকটিকে কী ধরনের ‘দলিল’ বলা হয়েছে?

নাটকটিকে বাঙালি মুসলমান সমাজে প্রচলিত পির প্রথার একটি বিশ্বস্ত দলিল বলা হয়েছে।

নাটকটি শেষ পর্যন্ত কী সংকেত দেয়?

নাটকটি শেষ পর্যন্ত আলোর পথ দেখায়— কুসংস্কার, অন্ধবিশ্বাসের স্থানে মানবিকতার জয়ের সংকেত দেয়, তাহেরা ও হাশেম আলি এই ব্যবস্থা ভেঙে বেরিয়ে আসে।

নাটকটিকে সবশেষে কী বলে অভিহিত করা হয়েছে?

নাটকটি মানবিক জাগরণের দৃশ্যকাব্য হয়ে উঠেছে বলে অভিহিত করা হয়েছে।

অনুধাবনমূলক প্রশ্ন ও উত্তর (খ)

নাটককে কেন দৃশ্যকাব্য বলা হয়— ব্যাখ্যা করো।

নাটক অভিনয়ের মাধ্যমে দর্শনযোগ্য না হলে নাট্যরচনার উদ্দেশ্যই ব্যর্থ হয়, কারণ নাটকের মূল লক্ষ্য দর্শকসমাজ, পাঠক নয়— এই কারণেই নাটককে দৃশ্যকাব্য বলা হয়।

নাটকে সংলাপকে কেন প্রাণ বলা হয়— ব্যাখ্যা করো।

উপন্যাস বা গল্পে লেখক বর্ণনার মাধ্যমে পরিবেশ ও ঘটনা প্রকাশ করতে পারেন, কিন্তু নাটকে সে সুযোগ থাকে না— সেখানে সংলাপই কাহিনি, চরিত্র ও পরিবেশ সবকিছু প্রকাশের একমাত্র মাধ্যম।

‘বহিপীর’ নামকরণের প্রতীকী তাৎপর্য কী— ব্যাখ্যা করো।

নামটির প্রতীকী তাৎপর্য হলো— ইসলাম ধর্মের সুফিবাদী ব্যাখ্যার সূত্র ধরে গড়ে ওঠা পির সমাজ কীভাবে মানুষের সংস্কারকে পুঁজি করে সমাজে ছড়িয়ে পড়ে, তারই ইঙ্গিত।

সৈয়দ ওয়ালীউল্লাহ্‌ কীভাবে পির প্রথা কাছ থেকে দেখার সুযোগ পান— ব্যাখ্যা করো।

পিতার বদলির চাকরির সূত্রে দেশের বিভিন্ন স্থান ঘুরে বেড়ানোর সুযোগে তিনি বাঙালি মুসলমান সমাজে জেঁকে বসা পির প্রথা কাছ থেকে দেখার সুযোগ পান, যা তাঁর লালসালু উপন্যাস ও এই নাটক উভয়েই প্রতিফলিত হয়েছে।

বহিপীর কেন হাতেম আলিকে ঋণ দেওয়ার শর্তে তাহেরাকে ফেরত চান— ব্যাখ্যা করো।

বহিপীর জমিদারের অসহায়ত্বের সুযোগ নিয়ে তাঁর ধূর্ত কৌশল প্রয়োগ করেন— অর্থ ও ক্ষমতার মাধ্যমে তিনি তাহেরাকে ফিরে পেতে চান, যা তাঁর প্রকৃত ধূর্ততা ও নিষ্ঠুরতা প্রকাশ করে।

হাতেম আলির চরিত্রের নৈতিক দৃঢ়তা কীভাবে প্রকাশ পায়— ব্যাখ্যা করো।

স্থিতধী, আত্মনিমগ্ন হাতেম আলি নিজেকে নিজের কাছে কসাই মনে করেন এই ভেবে যে তিনি স্ত্রীকে বিক্রি করে টাকা নিতে পারবেন না— তাঁর এই উচ্চ নৈতিকতাবোধ তাঁকে একটি উজ্জ্বল চরিত্র করে তোলে।

তাহেরাকে বিশ শতকের প্রারম্ভে নারী জাগরণের প্রতীক বলার তাৎপর্য কী— ব্যাখ্যা করো।

জোরপূর্বক বিয়ের বিরুদ্ধে তাহেরার প্রতিরোধ ও নিজের সিদ্ধান্তের ওপর অটল থাকার দৃঢ়তা সেই সময়ের প্রেক্ষাপটে নারী অধিকার ও জাগরণের এক অগ্রণী প্রতিনিধিত্ব করে।

হাশেম আলিকে বহিপীরের বিপরীত চরিত্র বলার তাৎপর্য কী— ব্যাখ্যা করো।

হাশেম আলি যুক্তিবাদী, মানবিক ও ন্যায়পরায়ণ, যেখানে বহিপীর ধূর্ত ও স্বার্থপর— এই বৈপরীত্যের মাধ্যমে নাটকে নায়ক ও খলনায়কের সুস্পষ্ট দ্বন্দ্ব প্রতিষ্ঠিত হয়।

নাটকটিকে ‘পির প্রথার বিশ্বস্ত দলিল’ বলার তাৎপর্য কী— ব্যাখ্যা করো।

নাটকটি বাঙালি মুসলমান সমাজে প্রচলিত পির প্রথার আচার-আচরণ, শোষণ ও কুসংস্কারকে অত্যন্ত বাস্তবসম্মতভাবে চিত্রিত করেছে, যা এটিকে সেই সামাজিক বাস্তবতার একটি নির্ভরযোগ্য দলিলে পরিণত করেছে।

নাটকটি কেন ‘মানবিক জাগরণের দৃশ্যকাব্য’ বলে অভিহিত হয়— ব্যাখ্যা করো।

নাটকটি শেষ পর্যন্ত কুসংস্কার ও অন্ধবিশ্বাসের ওপর মানবিকতা ও যুক্তিবোধের বিজয় দেখায়— তাহেরা ও হাশেম আলির প্রতিরোধ ও পলায়ন এই মানবিক জাগরণেরই প্রতীক, যা নাটকটিকে এই অভিধা দিয়েছে।

১৯৪৭ সালের পূর্বে বাংলা নাট্যচর্চার প্রাণকেন্দ্র কোথায় ছিল?

১৯৪৭ সালের পূর্ব পর্যন্ত বাংলা নাট্যচর্চার প্রাণকেন্দ্র ছিল মূলত কলকাতা।

ভারত বিভাগের পর পূর্ববঙ্গের নাট্যচর্চা কোন শহরকে কেন্দ্র করে গড়ে ওঠে?

ভারত বিভাগের পর তৎকালীন পূর্ববঙ্গে ঢাকাকে কেন্দ্র করে নাট্যচর্চা গড়ে ওঠে।

বহিপীর নাটকের নামকরণে কোন প্রতীকী তাৎপর্যের ইঙ্গিত দেওয়া হয়েছে?

নামটির প্রতীকী তাৎপর্য হলো— ইসলাম ধর্মের সুফিবাদী ব্যাখ্যার সূত্র ধরে গড়ে ওঠা পির সমাজ কীভাবে মানুষের সংস্কারকে পুঁজি করে সমাজে ছড়িয়ে পড়ে, তারই ইঙ্গিত।

বহিপীর তাহেরাকে কীভাবে বিয়ে করেন?

তাহেরার পিতা (মুরিদ) ও তার সৎমাতা মিলে জোরপূর্বক এই বিয়ের আয়োজন করেন, যা তাহেরা মেনে নেয়নি।

বহিপীর তাহেরার সন্ধানে বের হয়ে কীভাবে হাতেম আলির বজরায় পৌঁছান?

বহিপীরের নিজের নৌকা দুর্ঘটনায় পতিত হয় এবং তিনি ঘটনাচক্রে হাতেম আলির বজরাতেই আশ্রয় লাভ করেন।

তাহেরা চরিত্রটি কেন বহিপীর নাটকের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ চরিত্র বলে বিবেচিত?

তাহেরাকে কেন্দ্র করেই নাটকের সম্পূর্ণ ঘটনাপ্রবাহ আবর্তিত হয়েছে, যদিও নাম চরিত্র বহিপীর।

তাহেরাকে কোন যুগের প্রতীক চরিত্র বলা যায়?

তাহেরাকে বিশ শতকের প্রারম্ভে নারী অধিকার ও জাগরণের প্রতীক চরিত্র বলা যায়।

হাশেম আলি কেন প্রেস বসাতে চায়?

হাশেম আলি বিএ পাস, বৈষয়িক বিবেচনা তার কাছে কম গুরুত্বপূর্ণ; সে নিজের আধুনিক চিন্তাধারা থেকেই প্রেস বসাতে চায়, জমিদারি হারালেও চিন্তিত নয়।

হাতেম আলির চরিত্রকে কীভাবে বর্ণনা করা হয়েছে?

হাতেম আলি স্থিতধী, আত্মনিমগ্ন, উচ্চ মানবিক চেতনাসম্পন্ন একটি উজ্জ্বল চরিত্র।

প্রথম অঙ্ক

জ্ঞানমূলক প্রশ্ন ও উত্তর (ক)

বহিপীর নাটকের দৃশ্যপট কোন ঋতুর কোন সময়ে শুরু হয়?

হেমন্তের বেলা নয়টায় শুরু হয়।

মঞ্চের অধিকাংশ স্থানজুড়ে কী দেখা যায়?

দু-কামরাওয়ালা একটি রঙদার বজরা দেখা যায়।

খোদেজা তাহেরাকে কোথা থেকে বজরায় তুলে নিয়েছিলেন?

ডেমরার ঘাট থেকে তুলে নিয়েছিলেন।

ডেমরার ঘাটে তাহেরার সাথে কে ছিল?

তার চাচাতো ভাই ছিল।

তাহেরার বাবা ও সৎমা কার মুরিদ?

তারা সেই বৃদ্ধ পীরের মুরিদ, যাঁর সঙ্গে তাহেরার বিয়ে দেওয়া হয়েছে।

পীরসাহেবের নৌকা কীভাবে দুর্ঘটনায় পড়ে?

ঝড়ের সময় বজরার সাথে ধাক্কা লেগে দুর্ঘটনায় পড়ে।

বহিপীর নিজের নামের ব্যাখ্যা দিতে গিয়ে কী বলেন?

বিভিন্ন এলাকার ভাষা ভিন্ন বলে তিনি সবসময় বইয়ের (কেতাবি) ভাষায় কথা বলেন বলে ব্যাখ্যা দেন।

তাহেরা কীভাবে নিশ্চিত হয় যে পাশের ঘরের ব্যক্তিই সেই বহিপীর?

খোলা দরজা দিয়ে তাকে দেখে এবং তার নাম ও ঠিকানা শুনে নিশ্চিত হয়।

বহিপীরের পরিচয় নিশ্চিত হয়ে তাহেরা কী হুমকি দেয়?

সে পানিতে ঝাঁপ দেওয়ার হুমকি দেয়।

হাশেম তাহেরাকে কী প্রতিশ্রুতি দেয়?

পীরসাহেবের সঙ্গে তাকে ফিরে যেতে হবে না এই প্রতিশ্রুতি দেয়।

হাতেম আলি বহিপীরের কাছে কোন সত্য গোপন করেছিলেন বলে স্বীকার করেন?

তিনি অসুস্থ নন, জমিদারি রক্ষার জন্য শহরে এসেছিলেন এই সত্য গোপন করেছিলেন।

হাতেম আলির জমিদারি কোন আইনে নিলামে উঠতে বসেছে?

সূর্যাস্ত আইনে নিলামে উঠতে বসেছে।

বহিপীর হাতেম আলির দুঃখের সময়ে কোন তথ্য প্রকাশ করেন?

তাঁর বিবাহিত স্ত্রী তাহেরাই এই বজরায় লুকিয়ে আছেন এই তথ্য প্রকাশ করেন।

তাহেরার বিয়ের ব্যবস্থা মূলত কে করেছিলেন?

তাহেরার পিতা, যিনি বহিপীরের পেয়ারা মুরিদ, তিনি এই ব্যবস্থা করেছিলেন।

বহিপীর হাশেমকে কী দায়িত্ব দেন?

কথায় কথায় তাহেরার পরিচয় জেনে নিতে বলেন, নিজের উদ্দেশ্য প্রকাশ না করে।

হাশেম শেষ পর্যন্ত তাহেরার জন্য কী চরম প্রতিশ্রুতি দেয়?

তাকে বিয়ে করে হলেও বাঁচানোর প্রতিশ্রুতি দেয়।

খোদেজা কেন হাশেমের অনুরোধ প্রত্যাখ্যান করে বহিপীরকে সত্য জানিয়ে দেন?

পীরের বদদোয়ার ভয়ে ও এটাকে ধর্মীয়ভাবে ন্যায্য বিয়ে মনে করে জানিয়ে দেন।

প্রথম অঙ্কের শেষ পঙক্তিতে বহিপীর কী বলে ওঠেন?

তিনি ‘শোকর আলহামদুলিল্লাহ্!’ বলে ওঠেন।

প্রথম অঙ্কের শেষ দৃশ্যে তাহেরার প্রতিক্রিয়া কেমন?

তাহেরা মূর্তির মতো স্তব্ধ হয়ে দাঁড়িয়ে থাকে।

প্রথম অঙ্কের মূল বিষয়বস্তু কী?

তাহেরার পলায়নের কাহিনি প্রকাশ, বহিপীরের পরিচয় উন্মোচন, হাতেম আলির সংকট এবং খোদেজার হাতে তাহেরার অবস্থান ফাঁস হয়ে যাওয়া।

বড় কামরায় হাতেম আলি কার সাথে কথা বলছিলেন?

বড় কামরায় হাতেম আলি চাদরে আধা-শরীর ঢেকে বহিপীরের সঙ্গে কথোপকথন করছিলেন।

হাতেম আলির বয়স কত বলে বর্ণনা করা হয়েছে?

হাতেম আলির বয়স পঞ্চাশের মতো, মুখে চিন্তার ছাপ।

হাশেম আলিকে কেমন স্বভাবের বলে বর্ণনা করা হয়েছে?

হাশেম আলি যুবক মানুষ, তার অস্থির মতি ও একটুতে রেগে ওঠার অভ্যাস আছে।

তাহেরার চেহারায় কী ভাব লক্ষ করা যায়?

তাহেরার বয়স অল্প, মুখে সামান্য উদ্ভ্রান্ত ভাব, যদিও তা সবসময় পরিলক্ষিত হয় না।

হাশেম প্রথম সংলাপে কী নিয়ে কথা বলে?

হাশেম বলে, ‘কী ঝড়ই হলো শেষ রাতে! এমন ঝড় কখনো দেখিনি।’

চাচাতো ভাইটির পরিণতি কী হয় বলে খোদেজা বর্ণনা করেন?

ডেমরায় পৌঁছে ছেলেটির হুঁশ হয়, ভয়ে ও ক্ষুধায় কাঁদতে থাকে, পুলিশ এসে তাদের ধরে।

তাহেরার বাড়িতে কারা আছেন বলে সে জানায়?

তাহেরা জানায় তার বাপজান ও সৎমা আছেন।

পীরসাহেব কখন চলে যাবেন বলে হাশেম জানায়?

হাশেম জানায়, পীরসাহেব দুপুরে খাওয়ার পরেই চলে যাবেন, কারণ তাঁর জরুরি কাজ আছে।

খোদেজা রসিকতা করে কী বলেন, যা তাহেরাকে ভীত করে?

খোদেজা বলেন এই বজরাতেই পীরসাহেব ও তাঁর বিবির মিলন হয়ে যাবে, মাঝখান থেকে তারা সওয়াব পাবেন— এই কথায় তাহেরা আঁতকে ওঠে।

বহিপীর কথ্য ভাষা সম্পর্কে কী মন্তব্য করেন?

বহিপীর মনে করেন কথ্য ভাষা তাঁর কানে কটু ঠেকে, তাতে পবিত্রতা বা গাম্ভীর্য নেই, তা মাঠ-ঘাটের ভাষা মাত্র।

বহিপীর জীবনের প্রতি এক ধরনের আক্ষেপ প্রকাশ করে কী বলেন?

বহিপীর বলেন, যা চেয়েছিলেন তা পাননি, মুরিদদের কাজেই সারা জীবন কেটেছে, নিজের এবাদতের অবসর পাননি— একটি মুহূর্তের জন্য তাঁর মানবিক দিক প্রকাশ পায়।

খোদেজা হাশেমের এই মনোভাবে কী প্রতিক্রিয়া দেখান?

খোদেজা বিস্মিত হয়ে জিজ্ঞেস করেন, ‘পীরসাহেবের বিবিকে নিয়ে তোর এত মাথা ব্যথা কেন?’

হাতেম আলি অর্থ সাহায্যের জন্য কার কাছে গিয়েছিলেন?

তিনি তার বাল্যবন্ধু আনোয়ারউদ্দিনের কাছে গিয়েছিলেন, কিন্তু আনোয়ারউদ্দিন সাহায্য করতে অস্বীকার করেন।

বহিপীরের প্রথম স্ত্রীর মৃত্যু কত বছর আগে হয় বলে তিনি জানান?

বহিপীর বলেন, তাঁর প্রথম স্ত্রীর ইন্তেকাল হয় চৌদ্দ বছর আগে।

বিয়ের রাতেই কী ঘটে যায়?

বিয়ের রাতেই তাহেরা এক নাবালেগ চাচাতো ভাইকে সঙ্গে নিয়ে বাড়ি ছেড়ে পালিয়ে যান।

হাশেম তাহেরার ঘরে গিয়ে কী সিদ্ধান্তে পৌঁছায়?

হাশেম বুঝতে পারে বহিপীর তাহেরার সঠিক পরিচয় (নাম, ঠিকানা) জানেন না, তাই সে খোদেজাকে পরিচয় গোপন রাখার অনুমতি চায়।

হাতেম আলির চরিত্রের কোন দিক প্রথম অঙ্কে ফুটে ওঠে?

হাতেম আলির আত্মমর্যাদা (মিথ্যা বলার জন্য অনুতাপ), পরিবারের প্রতি গভীর দায়িত্ববোধ এবং সংকটেও নিজের কষ্ট গোপন রাখার চেষ্টা তাঁর চরিত্রের একটি গুরুত্বপূর্ণ দিক প্রকাশ করে।

অনুধাবনমূলক প্রশ্ন ও উত্তর (খ)

তাহেরার ‘নদীতে খালি কচুরিপানা’ মন্তব্যের প্রতীকী তাৎপর্য কী— ব্যাখ্যা করো।

এই মন্তব্য তাহেরার নিজের নিরানন্দ, অনিশ্চিত জীবনের প্রতীকী প্রকাশ— তার জীবনে সৌন্দর্য বা আনন্দের (শাপলা-পদ্ম) কোনো স্থান নেই, শুধু বিশৃঙ্খলা (কচুরিপানা) আছে।

তাহেরা নিজেকে ‘বকরি-ঈদের গরু-ছাগল’ বলার তাৎপর্য কী— ব্যাখ্যা করো।

এই তুলনার মাধ্যমে তাহেরা তার জোরপূর্বক বিয়ের বিরুদ্ধে তীব্র প্রতিবাদ জানায়— নারীকে পণ্যের মতো বিয়ে দেওয়ার সামাজিক প্রথার প্রতি তার ক্ষোভ এতে প্রকাশ পায়।

বহিপীরের কেতাবি ভাষায় কথা বলার ব্যাখ্যা কী প্রকাশ করে— ব্যাখ্যা করো।

তিনি মনে করেন কথ্য ভাষা তাঁর কানে কটু ঠেকে, তাতে পবিত্রতা নেই— এই মনোভাব তাঁর আত্মকেন্দ্রিক, নিজেকে অন্যদের ঊর্ধ্বে ভাবার মানসিকতা প্রকাশ করে।

তাহেরার আতঙ্কে পানিতে ঝাঁপ দেওয়ার হুমকির তাৎপর্য কী— ব্যাখ্যা করো।

এই হুমকি তাহেরার প্রকৃত ভয় ও অসহায়ত্বের গভীরতা প্রকাশ করে— জোরপূর্বক বিয়ের চেয়ে মৃত্যুকেও শ্রেয় মনে করার এই প্রতিক্রিয়া তার দৃঢ় প্রতিরোধী মানসিকতার পরিচয় দেয়।

হাতেম আলির জমিদারি হারানোর সত্য গোপন রাখার তাৎপর্য কী— ব্যাখ্যা করো।

এই গোপনীয়তা হাতেম আলির আত্মমর্যাদা ও পরিবারের প্রতি সুরক্ষামূলক মনোভাব প্রকাশ করে— তিনি পরিবারকে অকারণ দুশ্চিন্তা থেকে রক্ষা করতে চান, যদিও এতে নিজে গভীর মানসিক চাপে থাকেন।

বহিপীরের ধূর্ততা প্রথম অঙ্কে কীভাবে প্রকাশ পায়— ব্যাখ্যা করো।

তিনি তাড়াহুড়ো না করে সতর্কভাবে প্রমাণ যাচাই করেন, হাশেমকে দিয়ে গোপনে তথ্য সংগ্রহ করান এবং নিজের প্রকৃত কৌশল প্রকাশ করেন না— তাঁর ধূর্ত, হিসেবি চরিত্রের প্রথম স্পষ্ট প্রকাশ এটি।

হাশেমের ‘তাহেরাকে বিয়ে করে হলেও বাঁচাব’ ঘোষণার তাৎপর্য কী— ব্যাখ্যা করো।

এই সাহসী ঘোষণা হাশেমের প্রকৃত অনুভূতি ও মানবিক সাহসের প্রথম প্রকাশ— নিজের পরিবারের প্রথাগত মূল্যবোধ উপেক্ষা করেও ন্যায়ের পক্ষে দাঁড়ানোর তার দৃঢ়তা এতে প্রকাশ পায়।

খোদেজার ধর্মীয় ভয়ে সত্য প্রকাশ করে দেওয়ার তাৎপর্য কী— ব্যাখ্যা করো।

এই সিদ্ধান্ত দেখায় কীভাবে ধর্মীয় কুসংস্কার ও ভয় মানুষকে ন্যায়-অন্যায় বিচার না করেই কাজ করতে বাধ্য করে— খোদেজার এই আচরণ পির প্রথার প্রতি সমাজের অন্ধ আনুগত্যের প্রতীক।

প্রথম অঙ্কের নাটকীয় কাঠামো (Exposition) হিসেবে এর ভূমিকা কী— ব্যাখ্যা করো।

নাটকতত্ত্বের ‘মুখ’ পর্বের মতোই প্রথম অঙ্ক নাটকের সব মূল চরিত্র, তাদের সম্পর্ক ও মূল দ্বন্দ্বের প্রেক্ষাপট পাঠকের সামনে কার্যকরভাবে উপস্থাপন করে।

প্রথম অঙ্কের সমাপ্তি কীভাবে পরবর্তী নাটকীয় উত্তেজনার ভিত্তি স্থাপন করে— ব্যাখ্যা করো।

খোদেজার সত্য প্রকাশের মাধ্যমে বহিপীর তাহেরার অবস্থান নিশ্চিত হন, যা দ্বিতীয় অঙ্কে বহিপীর ও হাশেম-তাহেরার মধ্যে সরাসরি সংঘাতের ভিত্তি তৈরি করে— এই ক্লাইম্যাক্সধর্মী সমাপ্তি নাটকীয় উত্তেজনাকে চরমে নিয়ে যায়।

তাহেরার প্রতিক্রিয়া চাচাতো ভাইয়ের তুলনায় কেমন ছিল বলে খোদেজা প্রশংসা করেন?

খোদেজা বিস্মিত হয়ে বলেন, তাহেরার চোখে না ছিল ভয়, না ছিল কান্না— এমন সাহসী মেয়ে তিনি দেখেননি।

তাহেরা নদীতে তাকিয়ে কী মন্তব্য করে, যা তার মানসিক অবস্থার প্রতীকী প্রকাশ?

তাহেরা বলে, নদীতে খালি কচুরিপানা, বেগুনি শাপলা বা পদ্ম-পলাশ নেই— নিজের নিরানন্দ, অনিশ্চিত জীবনের প্রতীকী প্রকাশ।

তাহেরা নিজেকে কীসের সাথে তুলনা করে ক্ষুব্ধভাবে প্রশ্ন তোলে?

তাহেরা রেগে প্রশ্ন তোলে, ‘আমি কি বকরি-ঈদের গরু ছাগল নাকি?’— নিজেকে পণ্যের মতো বিয়ে দেওয়ার প্রতিবাদ।

তাহেরা কেন বহিপীরকে ‘তাঁর বিবি’ বলা নিয়ে বিদ্রূপ করে?

তাহেরা বলে, বহিপীর তাকে কখনো দেখেননি, সে তাঁর ঘরও করেনি, খেদমতও করেনি— তাই ‘তাঁর বিবি’ বলাটা অর্থহীন।

হাতেম আলির ছেলে হাশেম কী কেনার স্বপ্ন দেখছিল, যা এই সংকটে ভেঙে যাওয়ার আশঙ্কা দেখা দেয়?

হাশেম একটি ছাপাখানা কেনার স্বপ্ন দেখছিল, জমিদারি হারানোর সংকটে সেই স্বপ্নও ভাঙতে বসেছে।

বহিপীর নিজেকে বিয়ের জন্য কেন যুক্তিসংগত মনে করেন?

বহিপীর বলেন, বয়স হয়েছে, দেখাশোনা ও খেদমতের জন্য একজন আপন লোকের প্রয়োজন— এই যুক্তিতে তিনি বিয়েতে রাজি হন।

বহিপীর তাহেরার পিতাকে পুলিশে খবর দিতে কেন নিষেধ করেন?

বহিপীর পুলিশে খবর দিতে নিষেধ করেন, কারণ পুলিশ নিয়ে ঘাঁটাঘাঁটি করলে জানাজানি হওয়ার সম্ভাবনা, যা তিনি চাননি।

বহিপীর কেন তাহেরার পরিচয় প্রথমে নিশ্চিত হতে চান, সরাসরি দাবি না করে?

বহিপীর অত্যন্ত হিসেবি ও সতর্ক— তিনি জানেন প্রমাণ ছাড়া দাবি করলে তাহেরা ফাঁকি দেওয়ার ফন্দি খুঁজতে পারে, তাই আগে নিশ্চিত হতে চান।

দ্বিতীয় অঙ্ক, প্রথমাংশ

জ্ঞানমূলক প্রশ্ন ও উত্তর (ক)

দ্বিতীয় অঙ্কের দৃশ্যপট কখন?

রাতের অন্ধকারে, আকাশে ছিটেফোঁটা তারা দেখা যায়।

হাতেম আলি সারাদিন কার আশায় বসেছিলেন?

তাঁর বাল্যবন্ধু আনোয়ারের আশায় বসেছিলেন।

বহিপীর হাতেম আলির বিলাপের জবাবে কী দার্শনিক মন্তব্য করেন?

খোদাই রিজিকদাতা, কেউ কখনো একেবারে নিঃস্ব হয় না বলে মন্তব্য করেন।

হাতেম আলি বহিপীরকে কী বলে খোঁচা দেন?

এক বিবি গেলে তিনি আরেক বিবি আনতে পারেন, কিন্তু জমিদারি একবার গেলে ফিরবে না বলে খোঁচা দেন।

হাশেম নিজের ভূমিকাকে কীসের সাথে তুলনা করে ক্লান্তি প্রকাশ করে?

দুই শত্রু-শিবিরের মধ্যে বার্তাবাহকের সাথে তুলনা করে।

হাশেম বহিপীরের আচরণকে কোন প্রাণীর সাথে তুলনা করে?

বিড়ালের সাথে তুলনা করে।

তাহেরা বহিপীরকে ‘বিবি সাহেব’ ডাকায় কী প্রতিক্রিয়া দেখায়?

সে উচ্চস্বরে প্রতিবাদ করে, বলে বিয়েতে সে মত দেয়নি।

তাহেরার প্রত্যাখ্যানে বহিপীর কী চরম সিদ্ধান্ত নেন?

তিনি রাগে আত্মহারা হয়ে হকিকুল্লাহকে পুলিশ ডাকতে পাঠান।

পুলিশ ডাকার হুমকিতে তাহেরা কী করে?

সে দ্রুতগতিতে জানালার দিকে গিয়ে পানিতে ঝাঁপ দিতে যায়।

কে এসে তাহেরাকে সম্পূর্ণভাবে নিরাপদে টেনে আনে?

হাশেম হ্যাঁচকা টান দিয়ে তাকে ভেতরে নিয়ে আসে।

তাহেরা পরে ব্যাখ্যা করে তার আত্মহত্যার হুমকি সম্পর্কে কী বলে?

নিজের জান দেওয়া অত সোজা নয় বলে বলে।

হাশেম প্রকাশ্যে খোদেজার সামনে কী ঘোষণা দেয়?

তাহেরার মত থাকলে সে তাকে বিয়ে করবে এই ঘোষণা দেয়।

খোদেজা এই ঘোষণায় কী প্রতিক্রিয়া দেখান?

তিনি হতবাক হয়ে বলেন তিনি ‘খাল কেটে ঘরে কুমির এনেছেন’।

তাহেরা হাশেমের বিয়ের প্রস্তাবে কী প্রতিক্রিয়া দেখায়?

সে প্রশ্ন তোলে তার মত থাকবে এই ধারণা কোথা থেকে এলো।

হাতেম আলি অবশেষে হাশেমকে কোন সত্য জানান?

আগামীকাল তাদের জমিদারি নিলামে উঠবে এই সত্য জানান।

এই খবরে হাশেমের প্রতিক্রিয়া কী হয়?

সে কাঁদতে শুরু করে, বাবার কষ্টের কথা ভেবে।

হাশেম নিজে জমিদারি হারানো নিয়ে কী মনোভাব প্রকাশ করে?

তার কিছু আসে যায় না, পড়াশোনা করেছে বলে কিছু একটা করে খেতে পারবে এই মনোভাব প্রকাশ করে।

এই সংকটময় মুহূর্তে বহিপীর হাতেম আলিকে কী প্রস্তাব দেন?

তিনি হাতেম আলিকে টাকা ঋণ দেবেন এই প্রস্তাব দেন।

বহিপীর তাহেরার মনস্তত্ত্ব সম্পর্কে কী বিশ্লেষণ দেন?

সে জীবনে কখনো প্রকৃত স্নেহ-মমতা পায়নি বলে বিশ্লেষণ দেন।

বহিপীরের এই কৌশলের প্রকৃত উদ্দেশ্য কী?

হাতেম আলি পরিবারকে ব্যবহার করে তাহেরার কৃতজ্ঞতা অর্জন করে তাকে ফিরে পাওয়া।

অনুধাবনমূলক প্রশ্ন ও উত্তর (খ)

হাতেম আলির বহিপীরকে খোঁচা দেওয়ার (‘এক বিবি গেলে আরেক বিবি আনতে পারেন’) তাৎপর্য কী— ব্যাখ্যা করো।

এই মন্তব্য হাতেম আলির অসহায় ক্ষোভ প্রকাশ করে— নিজের অপূরণীয় ক্ষতির (জমিদারি) সাথে বহিপীরের সহজে পূরণযোগ্য ক্ষতির (স্ত্রী) তুলনা করে তিনি নিজের যন্ত্রণা প্রকাশ করেন।

হাশেমের বহিপীরকে বিড়ালের সাথে তুলনার তাৎপর্য কী— ব্যাখ্যা করো।

এই তীক্ষ্ণ উপমা বহিপীরের সংযত, ধৈর্যশীল কিন্তু শিকারের প্রতি নিবিষ্ট আচরণ তুলে ধরে— তিনি তাহেরাকে ইঁদুরের মতো ধীরে ধীরে ফাঁদে ফেলার কৌশল নিচ্ছেন, এই বিদ্রূপাত্মক তুলনায় তা স্পষ্ট।

তাহেরার আত্মহত্যার চেষ্টার প্রকৃত উদ্দেশ্য কী হতে পারে— ব্যাখ্যা করো।

পরবর্তীতে তাহেরার নিজের ব্যাখ্যা থেকে বোঝা যায় এই আচরণ আংশিকভাবে কৌশলগত ছিল, ভয় দেখানোর জন্য— তবে এর গভীরে তার প্রকৃত অসহায়ত্ব ও হতাশাও লুকিয়ে থাকতে পারে।

হাশেমের প্রকাশ্য বিয়ের প্রস্তাবের সাহসিকতা কীভাবে প্রকাশ পায়— ব্যাখ্যা করো।

নিজের মায়ের সামনে, সামাজিক প্রথা উপেক্ষা করে তাহেরাকে বিয়ে করার প্রস্তাব দেওয়ার এই সাহস হাশেমের ন্যায়বোধ ও মানবিকতার প্রতি তার গভীর অঙ্গীকার প্রকাশ করে।

তাহেরার হাশেমের প্রস্তাবে সতর্ক, বিচক্ষণ প্রতিক্রিয়ার তাৎপর্য কী— ব্যাখ্যা করো।

তাহেরা তাড়াহুড়ো করে রাজি না হয়ে প্রশ্ন তোলার মধ্য দিয়ে তার আত্মমর্যাদা ও বিচক্ষণতা প্রকাশ করে— সে একই সাথে সাহায্যপ্রার্থী ও নিজের সিদ্ধান্তে দৃঢ়, এই জটিলতাই তাকে গভীর চরিত্র করে তোলে।

হাতেম আলির জমিদারি হারানোর সত্য প্রকাশে হাশেমের কান্নার তাৎপর্য কী— ব্যাখ্যা করো।

হাশেম বলে সে জমিদারি হারানোর জন্য নয়, বাবার নীরব কষ্টের কথা ভেবেই কাঁদছে— এটি তার বস্তুগত মূল্যের চেয়ে মানবিক সম্পর্ককে বেশি গুরুত্ব দেওয়ার মানসিকতা প্রকাশ করে।

বহিপীরের নিজের ও হাতেম আলির সমস্যাকে যুক্ত করার যুক্তির তাৎপর্য কী— ব্যাখ্যা করো।

বহিপীর দুই পৃথক সংকটকে (জমিদারি রক্ষা ও তাহেরাকে ফিরে পাওয়া) কৌশলে যুক্ত করেন, একটির সমাধানকে অন্যটির অলিখিত শর্তে পরিণত করেন— এটি তাঁর সূক্ষ্ম, বিপজ্জনক কারসাজির স্পষ্ট প্রমাণ।

বহিপীরের তাহেরার মনস্তত্ত্ব বিশ্লেষণের (স্নেহ-মমতার অভাব) তাৎপর্য কী— ব্যাখ্যা করো।

বহিপীর ধূর্তভাবে তাহেরার মানসিক দুর্বলতা চিহ্নিত করেন এবং তা কাজে লাগানোর পরিকল্পনা করেন— এই বিশ্লেষণ তাঁর মানুষের মনস্তত্ত্ব বোঝার ক্ষমতা ও তা শোষণের জন্য ব্যবহারের নিষ্ঠুরতা একসাথে প্রকাশ করে।

এই অংশে বহিপীরের কৌশল কীভাবে ক্রমশ গভীরতর হয়ে ওঠে— ব্যাখ্যা করো।

প্রথমে ধৈর্যশীল আলোচনা, তারপর ক্রোধ ও পুলিশ ডাকার হুমকি, এবং সবশেষে সবচেয়ে সূক্ষ্ম কৌশল (ঋণের বিনিময়ে কৃতজ্ঞতা আদায়)— এই ক্রমবিকাশ বহিপীরের চরিত্রের জটিলতা ও বিপজ্জনক বুদ্ধিমত্তা প্রকাশ করে।

হাতেম আলির জমিদারি সংকট ও তাহেরার বিয়ের সংকট কীভাবে নাটকীয়ভাবে সংযুক্ত হয়— ব্যাখ্যা করো।

বহিপীর সচেতনভাবে দুই পৃথক সংকটকে যুক্ত করেন, একটির সমাধানকে অন্যটির শর্ত বানিয়ে— এটি নাটকের কেন্দ্রীয় দ্বন্দ্বকে আরও জটিল ও তীব্র করে তোলে, যা পরবর্তী অংশের ভিত্তি স্থাপন করে।

দ্বিতীয় অঙ্ক, শেষাংশ (সমাপ্তি)

জ্ঞানমূলক প্রশ্ন ও উত্তর (ক)

বহিপীর হাতেম আলিকে তাঁর অর্থের উৎস সম্পর্কে কী বলেন?

খোদা তাঁকে যথেষ্ট অর্থ দিয়েছেন এবং তাঁর ধনী মুরিদরাও আছেন বলে বলেন।

বহিপীর তাহেরাকে চাওয়ার পেছনে কোন যুক্তি দেন?

জীবনে সামান্য ঘনিষ্ঠ স্নেহ-মমতার প্রয়োজনেই তাহেরাকে চান বলে যুক্তি দেন।

বহিপীর অবশেষে হাতেম আলিকে কী শর্ত স্পষ্টভাবে জানান?

তিনি টাকা কর্জ দেবেন এই শর্তে যে তাহেরা তাঁর সঙ্গে ফিরে যাবেন।

তাহেরা এই শর্তকে কীভাবে ব্যাখ্যা করে?

পীরসাহেব বুদ্ধিমান, এটি এক ধরনের চাল বলে ব্যাখ্যা করে।

হাশেম এই ‘চাল’ ব্যাখ্যা করে কী বলে?

তাহেরা এমন এক দায়িত্বে বাঁধা পড়েছেন যে নিজের মুক্তির চেয়ে পরিবারকে বাঁচানোর দায়িত্ব তাঁর হাতে তুলে দেওয়া হয়েছে বলে।

তাহেরা প্রথমে কী সিদ্ধান্ত জানায়?

পীরসাহেব যা চান তাই হবে, তবে আগে টাকা দিতে হবে এই সিদ্ধান্ত জানায়।

হাতেম আলি পীরসাহেবের কাছে গিয়ে শেষ পর্যন্ত কী সিদ্ধান্ত জানান?

তিনি এভাবে টাকা নিতে পারবেন না, জমিদারি যাক বলে জানান।

এই সিদ্ধান্তের পর হাতেম আলির মানসিক অবস্থা কেমন হয়?

সব ভয়-ভাবনা কেটে যায়, তিনি নতুন এক জীবনের স্বাদ পান।

বহিপীর হাতেম আলির প্রত্যাখ্যানে কী প্রতিক্রিয়া দেখান?

তিনি বলেন এখন শর্তহীনভাবেই টাকা দেবেন।

বহিপীর নিজের সম্পর্কে মানুষদের ধারণা নিয়ে কী মন্তব্য করেন?

সবাই তাঁকে হৃদয়হীন, বেদরদ জল্লাদ ভাবছে বলে ক্ষুব্ধ হন।

হাশেম বহিপীরের বিনা শর্তের প্রস্তাবেও কী বলে?

সে দৃঢ়ভাবে বলে তাদের টাকা চাই না।

তাহেরা এই পুরো দর-কষাকষির মধ্যে শেষে কী দৃঢ় ঘোষণা দেয়?

একবার যে কথা বলেছে তার ব্যতিক্রম হবে না, সে যাবেই এই ঘোষণা দেয়।

হাশেম তাহেরার এই সিদ্ধান্তকে কী বলে বর্ণনা করে?

সে এটিকে ‘নেশা’ বলে বর্ণনা করে।

বহিপীর নাটকের চূড়ান্ত মুহূর্তে হাশেম কী করে?

সে তাহেরার হাত ধরে দ্রুত তাকে নিয়ে বজরা থেকে পালিয়ে যায়।

তাহেরা এই পলায়নে কেমন প্রতিক্রিয়া দেখায়?

সে বিশেষ বাধা দেয় না, শুধু জিজ্ঞেস করে কোথায় নিয়ে যাচ্ছে।

হাশেম ও তাহেরা চলে যাওয়ার পর বহিপীরের প্রতিক্রিয়া কেমন?

তিনি দীর্ঘনিঃশ্বাস ছেড়ে শান্তভাবে মেনে নেন।

বহিপীর খোদেজার উদ্বিগ্ন প্রশ্নের জবাবে কী বলেন?

তারা সবাই থাকবেন, জমিদারিও থাকবে বলে বলেন।

নাটকের একেবারে শেষে বহিপীর কী প্রতিক্রিয়া দেখান?

তিনি হাসতে হাসতে বলেন পীরের গায়ে বদদোয়া লাগে না।

নাটকের একেবারে শেষে বহিপীর কী করতে এগিয়ে যান?

তিনি জমিদার সাহেবের জমিদারি রক্ষার ব্যবস্থা করতে এগিয়ে যান।

বহিপীর নাটকের চূড়ান্ত বার্তা কী?

মানবিকতা, সাহস ও নৈতিক দৃঢ়তা শেষ পর্যন্ত কুসংস্কার ও ক্ষমতার অপব্যবহারকে পরাস্ত করতে পারে।

বহিপীর নিজের সম্পর্কে কোন গভীর দার্শনিক কথা বলেন, ত্যাগ ও এবাদত নিয়ে?

বহিপীর বলেন, সমস্ত ত্যাগ করলে মানুষ অমানুষে পরিণত হয়; জীবনে সামান্য স্নেহ-মমতা না থাকলে কোনো এবাদতই সম্ভব নয়— পানির অভাবে বৃক্ষ যেমন শুকিয়ে মরে, তেমনি স্নেহ ছাড়া রূহও মরে যায়।

হাতেম আলি এই শর্তে প্রথমে কী প্রতিক্রিয়া দেখান?

হাতেম আলি বিভ্রান্ত হন, বলেন তিনি বুঝতে পারছেন না জমিদারির সাথে তাহেরার যাওয়া না-যাওয়ার কী সম্পর্ক।

বহিপীর নিজের ভুল স্বীকার করেন কোন বিষয়ে?

বহিপীর স্বীকার করেন জমিদার সাহেবের ব্যাপারে তিনি ভুল করেছেন— তিনি নিশ্চিত ছিলেন হাতেম আলি প্রত্যাখ্যান করবেন না, কিন্তু তা ঘটেছে।

এতে বহিপীরের প্রতিক্রিয়া কী হয়?

বহিপীর অবাক হয়ে বলেন সবাই তাঁকে অমানুষে পরিণত করেছেন, টাকা গ্রহণ করা তাঁর জোব্বার (পীরের পোশাকের) সম্মান রক্ষার জন্য প্রয়োজন, এটি ‘পরাজিত শত্রুর শেষ দাবি’।

নাটকের সমাপ্তিতে বহিপীরের চরিত্রের কোন নতুন দিক প্রকাশ পায়?

পরাজয়ের মুখেও বহিপীর প্রতিহিংসাপরায়ণ না হয়ে বরং এক ধরনের বাস্তববাদী প্রজ্ঞা ও সৌজন্য দেখান, এমনকি হাতেম আলির জমিদারি রক্ষায় সাহায্য অব্যাহত রাখেন— তাঁর চরিত্রের এই জটিলতাই তাঁকে নিছক এক-মাত্রিক খলনায়ক হওয়া থেকে রক্ষা করে।

অনুধাবনমূলক প্রশ্ন ও উত্তর (খ)

বহিপীরের ‘সমস্ত ত্যাগ করলে মানুষ অমানুষে পরিণত হয়’ উক্তির তাৎপর্য কী— ব্যাখ্যা করো।

এই উক্তিতে বহিপীর তাঁর নিজের কামনাকে ন্যায্যতা দেওয়ার চেষ্টা করেন— জীবনে সামান্য স্নেহ-মমতার প্রয়োজনীয়তার যুক্তি দিয়ে তিনি তাহেরাকে ফিরে পাওয়ার তাঁর আকাঙ্ক্ষাকে একটি দার্শনিক আবরণ দেন।

হাতেম আলি প্রথমে বহিপীরের শর্ত বুঝতে না পারার তাৎপর্য কী— ব্যাখ্যা করো।

তাঁর বিভ্রান্তি দেখায় তিনি এখনও বহিপীরের সম্পূর্ণ ধূর্ততা ও কৌশল উপলব্ধি করতে পারেননি— এই সারল্য তাঁর চরিত্রের মহত্ত্ব ও অসতর্কতা উভয়ই প্রকাশ করে।

হাতেম আলির টাকা প্রত্যাখ্যানের নৈতিক তাৎপর্য কী— ব্যাখ্যা করো।

তাহেরা রাজি থাকা সত্ত্বেও এভাবে (স্ত্রীর বিনিময়ে) টাকা নিতে অস্বীকার করার এই সিদ্ধান্ত হাতেম আলির উচ্চ নৈতিকতাবোধের চূড়ান্ত প্রকাশ— বস্তুগত সম্পদের চেয়ে নৈতিক মর্যাদাকে তিনি বেশি গুরুত্ব দেন।

প্রত্যাখ্যানের পর হাতেম আলির মানসিক মুক্তির অনুভূতির তাৎপর্য কী— ব্যাখ্যা করো।

সব ভয়-ভাবনা কেটে যাওয়া ও নতুন জীবনের স্বাদ পাওয়ার এই অনুভূতি দেখায়, নৈতিক সিদ্ধান্তের মধ্য দিয়েই প্রকৃত আত্মিক মুক্তি সম্ভব— বস্তুগত ক্ষতি সত্ত্বেও নৈতিক বিজয় তাঁকে প্রকৃত শান্তি দেয়।

বহিপীরের নিজেকে ‘অমানুষ’ ভাবা নিয়ে ক্ষোভের তাৎপর্য কী— ব্যাখ্যা করো।

এই ক্ষোভ বহিপীরের চরিত্রের একটি নতুন, মানবিক দিক উন্মোচন করে— তিনিও চান তাঁকে মানবিক হিসেবে দেখা হোক, যদিও তাঁর কর্মকাণ্ড প্রায়ই তার বিপরীত।

তাহেরার প্রতিশ্রুতিরক্ষার দৃঢ়তাকে হাশেম কেন ‘নেশা’ বলে আখ্যা দেয়— ব্যাখ্যা করো।

হাশেম মনে করেন তাহেরা বদান্যতার প্রতি অন্ধ আকর্ষণে তার বিবেচনাশক্তি হারিয়ে ফেলেছে, যেন সে দাবার গুটির মতো ব্যবহৃত হচ্ছে— এই উদ্বেগ তাহেরার প্রতি তার গভীর সুরক্ষামূলক ভালোবাসা প্রকাশ করে।

বহিপীর নাটকের চূড়ান্ত মুহূর্তে হাশেমের পলায়নের সিদ্ধান্তের তাৎপর্য কী— ব্যাখ্যা করো।

কথায় বা যুক্তিতে না পেরে হাশেম শেষে কার্যকর পদক্ষেপ নেয়— এই সিদ্ধান্তমূলক কাজ তার চরিত্রের চূড়ান্ত বিকাশ ও তাহেরার প্রতি তার প্রকৃত ভালোবাসার প্রমাণ।

তাহেরার পলায়নে বিশেষ বাধা না দেওয়ার তাৎপর্য কী— ব্যাখ্যা করো।

যদিও সম্পূর্ণ ইচ্ছাকৃত নয়, তাহেরার এই নীরব সম্মতি ইঙ্গিত দেয় তার মনের গভীরে হয়তো হাশেমের প্রতি একটি চাপা আকর্ষণ বা মুক্তির আকাঙ্ক্ষা ছিল।

বহিপীরের পরাজয়ের প্রতি শান্ত, প্রজ্ঞাপূর্ণ প্রতিক্রিয়ার তাৎপর্য কী— ব্যাখ্যা করো।

পরাজয়ের মুখেও প্রতিহিংসাপরায়ণ না হয়ে বাস্তবতা মেনে নেওয়া এবং হাতেম আলির জমিদারি রক্ষায় সাহায্য অব্যাহত রাখা বহিপীরের চরিত্রে এক জটিল, মানবিক প্রজ্ঞা প্রকাশ করে, যা তাকে নিছক একমাত্রিক খলনায়ক হওয়া থেকে রক্ষা করে।

বহিপীর নাটকের সমাপ্তি থেকে পাঠক কোন সর্বজনীন শিক্ষা নিতে পারেন— ব্যাখ্যা করো।

নাটকের সমাপ্তি শেখায়, নৈতিক সাহস, মানবিকতা ও আত্মমর্যাদা শেষ পর্যন্ত কুসংস্কার ও ক্ষমতার অপব্যবহারকে পরাস্ত করতে পারে— এমনকি বিরোধী পক্ষও কখনো কখনো মানবিক প্রজ্ঞার পরিচয় দিতে সক্ষম।

বহিপীর কেন তাহেরাকে চান বলে দাবি করেন, এই যুক্তির আলোকে?

বহিপীর দাবি করেন, জীবনে সামান্য ঘনিষ্ঠ স্নেহ-মমতার প্রয়োজনেই তিনি তাহেরাকে চান, তাঁকে ছাড়া তাঁর ঐশী প্রেমের সাধনাও অসম্ভব।

বহিপীর তাহেরার পালানোর ঘটনাকে কীভাবে ব্যাখ্যা করেন?

বহিপীর বলেন, পালিয়ে যাওয়াটা সহজ কাজ হলেও তাহেরা তাতে অসাধারণ বীরত্বের পরিচয় দিয়েছেন, কারণ এই কাজটি অন্য কেউ সহজে করতে পারে না।

হাশেমের অবস্থান এই সিদ্ধান্তে কীভাবে বদলে যায়?

হাশেম অসহায় বোধ করে, কারণ তাহেরাকে পালিয়ে যেতে বললে বাবার সদ্য জাগা আশা ধ্বংস হয়ে যাবে— তার নিজের যুক্তি তাকেই আটকে ফেলে।

খোদেজা তাহেরার এই সিদ্ধান্তকে কীভাবে সমর্থন করেন?

খোদেজা যুক্তি দেন, পীরসাহেব সবার ভালোর জন্যই এই চাল চেলেছেন, তাঁর ছায়ায় বাস করার সৌভাগ্য কজনের হয়।

উপরের জ্ঞানমূলক ও অনুধাবনমূলক প্রশ্ন-উত্তরগুলো ভালোভাবে অনুশীলন করলে বহিপীর নাটক থেকে সৃজনশীল প্রশ্নের ক ও খ অংশে ভালো নম্বর পাওয়া সহজ হবে।

আরও পড়ুন

SSC বাংলা সহপাঠ-এর সব পোস্ট

মন্তব্য করুন

Your email address will not be published. Required fields are marked *

সাহায্য লাগবে?
BCS Journey Support
● Online
×
💬Messenger ✈Telegram
BCS JOURNEY
BCS Journey
চ্যাট শুরু করুন ➜