শিক্ষা ও মনুষ্যত্ব প্রবন্ধের MCQ | SSC বাংলা ১ম পত্রের “শিক্ষা ও মনুষ্যত্ব” প্রবন্ধ থেকে বোর্ড পরীক্ষায় নিয়মিত প্রশ্ন আসে। এই পোস্টে প্রবন্ধের সারকথা ও ৫০টি বহুনির্বাচনি প্রশ্ন (MCQ) উত্তর ও ব্যাখ্যাসহ দেওয়া হলো। জ্ঞানমূলক ও অনুধাবনমূলক প্রশ্নের জন্য শিক্ষা ও মনুষ্যত্ব প্রবন্ধের নোট দেখুন।
শিক্ষা ও মনুষ্যত্ব প্রবন্ধের সারকথা ও গুরুত্বপূর্ণ তথ্য
শিক্ষা ও মনুষ্যত্ব প্রবন্ধের লেখক কে?
মোতাহের হোসেন চৌধুরী (জন্ম ১ এপ্রিল ১৯০৩, কাঞ্চনপুর, লক্ষ্মীপুর; মৃত্যু ১৮ সেপ্টেম্বর ১৯৫৬)। বাংলা ভাষা ও সাহিত্যের অধ্যাপক, ‘শিখা’ পত্রিকার সঙ্গে যুক্ত। প্রধান গ্রন্থ: সংস্কৃতি কথা (মরণোত্তর প্রকাশিত); অনুবাদগ্রন্থ: সভ্যতা ও সুখ।
শিক্ষা ও মনুষ্যত্ব প্রবন্ধের উৎস
সংস্কৃতি-কথা গ্রন্থের ‘মনুষ্যত্ব’ প্রবন্ধের অংশবিশেষ।
প্রবন্ধের মূল যুক্তিধারা
- মানুষের জীবন দোতলা ঘরের মতো— জীবসত্তা (নিচতলা), মানবসত্তা/মনুষ্যত্ব (উপরতলা); শিক্ষাই এই দুইয়ের সংযোগকারী মই।
- শিক্ষার শ্রেষ্ঠ দিক তার ‘অপ্রয়োজনীয়’ দিক— জীবন উপভোগের শিক্ষা; কিন্তু অর্থচিন্তার নিগড়ে বন্দি থাকায় তা অবহেলিত থাকে।
- শুধু অন্নবস্ত্রের প্রাচুর্যে প্রকৃত মুক্তি আসে না— কারারুদ্ধ আহারতৃপ্ত মানুষের উদাহরণ ও পাখির উপমা দিয়ে চিন্তা-বুদ্ধি-আত্মপ্রকাশের স্বাধীনতার গুরুত্ব তুলে ধরা।
- মুক্তির জন্য দুটি সমান্তরাল উপায় প্রয়োজন— অন্নবস্ত্রের মুক্তি ও শিক্ষালব্ধ মনুষ্যত্বের স্বাদ।
- ভারী বস্তু তোলার উপমা— শিক্ষা ‘ওপর থেকে টানা’, সুশৃঙ্খল সমাজব্যবস্থা ‘নিচ থেকে ঠেলা’; উভয়ই প্রয়োজনীয়, তবে প্রবল শিক্ষা একাই অনেকখানি করতে পারে।
- লোভই অন্নবস্ত্রের অব্যবস্থার মূল কারণ; শিক্ষা এই সত্য উপলব্ধি করায়, ফলে মানুষ লোভের ফাঁদ এড়াতে সক্ষম হয়।
- শিক্ষার আসল কাজ জ্ঞান পরিবেশন নয়, মূল্যবোধ সৃষ্টি— লেফাফাদুরস্তি প্রকৃত শিক্ষা নয়।
- উপসংহার: অন্নবস্ত্রের বেড়ি থেকে মুক্তি ও মনুষ্যত্বের আহ্বান— উভয়ই একসাথে প্রয়োজন, নয়তো পিঞ্জরাবদ্ধ পাখির মতো আকাঙ্ক্ষা থাকলেও ওড়া সম্ভব হবে না।
শিক্ষা ও মনুষ্যত্ব প্রবন্ধের মূল ভাব কী?
শিক্ষার প্রকৃত লক্ষ্য জ্ঞান বিতরণ নয়, মূল্যবোধ ও মনুষ্যত্ব সৃষ্টি— আর তা অর্জনের জন্য বস্তুগত মুক্তি ও আত্মিক মুক্তি উভয়ের সমন্বিত সাধনা অপরিহার্য।
শিক্ষা ও মনুষ্যত্ব প্রবন্ধের গুরুত্বপূর্ণ শব্দার্থ
নিগড় (শিকল/বেড়ি), তিমির (অন্ধকার), ক্ষুৎপিপাসা (ক্ষুধা-তৃষ্ণা), ফতুর (নিঃস্ব), লেফাফাদুরস্তি (বাইরে ত্রুটিহীন, ভেতরে ফাঁপা), পিঞ্জরাবদ্ধ (খাঁচাবন্দি), জীবসত্তা (জৈবিক অস্তিত্ব), মানবসত্তা (মানবিক অস্তিত্ব/মনুষ্যত্ব)।
লেখক পরিচিতি বিষয়ক MCQ
১। মোতাহের হোসেন চৌধুরী কত খ্রিষ্টাব্দে জন্মগ্রহণ করেন?
- ক. ১৯০১
- খ. ১৯০৪
- গ. ১৯০২
- ঘ. ১৯০৩
উত্তর: ঘ। তিনি ১৯০৩ খ্রিষ্টাব্দের ১লা এপ্রিল জন্মগ্রহণ করেন।
২। মোতাহের হোসেন চৌধুরীর পৈতৃক নিবাস কোথায়?
- ক. ঢাকা
- খ. কাঞ্চনপুর, লক্ষ্মীপুর
- গ. চট্টগ্রাম
- ঘ. নোয়াখালী
উত্তর: খ। তাঁর পৈতৃক নিবাস লক্ষ্মীপুর জেলার কাঞ্চনপুর গ্রামে।
৩। মোতাহের হোসেন চৌধুরী কোথা থেকে বাংলায় এমএ পাশ করেন?
- ক. কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়
- খ. ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়
- গ. রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়
- ঘ. চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়
উত্তর: খ। তিনি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে বাংলায় এমএ পাশ করেন।
৪। কর্মজীবনে মোতাহের হোসেন চৌধুরী কী পেশায় নিয়োজিত ছিলেন?
- ক. বাংলা ভাষা ও সাহিত্যের অধ্যাপক
- খ. সাংবাদিক
- গ. আইনজীবী
- ঘ. চিকিৎসক
উত্তর: ক। কর্মজীবনে তিনি বাংলা ভাষা ও সাহিত্যের অধ্যাপক ছিলেন।
৫। মোতাহের হোসেন চৌধুরী কোন পত্রিকার সঙ্গে যুক্ত ছিলেন?
- ক. সওগাত
- খ. শিখা
- গ. সবুজপত্র
- ঘ. মোহাম্মদী
উত্তর: খ। ঢাকা থেকে প্রকাশিত ‘শিখা’ পত্রিকার সঙ্গে তিনি যুক্ত ছিলেন।
৬। মোতাহের হোসেন চৌধুরীর গদ্যে কার প্রভাব লক্ষণীয়?
- ক. বঙ্কিমচন্দ্রের
- খ. প্রমথ চৌধুরীর
- গ. শরৎচন্দ্রের
- ঘ. রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের
উত্তর: খ। তাঁর গদ্যে প্রমথ চৌধুরীর প্রভাব লক্ষণীয়।
৭। মোতাহের হোসেন চৌধুরীর প্রবন্ধগ্রন্থের নাম কী?
- ক. সংস্কৃতি কথা
- খ. প্রবন্ধ সংগ্রহ
- গ. যুগবাণী
- ঘ. মরুভাস্কর
উত্তর: ক। তাঁর প্রবন্ধগ্রন্থ সংস্কৃতি কথা বাংলা সাহিত্যের মননশীল প্রবন্ধ-ধারায় একটি উল্লেখযোগ্য সংযোজন।
৮। সংস্কৃতি কথা গ্রন্থটি কখন প্রকাশিত হয়?
- ক. এখনো প্রকাশিত হয়নি
- খ. তাঁর জীবদ্দশায়
- গ. তাঁর মৃত্যুর পর
- ঘ. তাঁর জন্মের আগে
উত্তর: গ। তাঁর মৃত্যুর পর গ্রন্থটি প্রকাশিত হয়।
৯। মোতাহের হোসেন চৌধুরীর অনুবাদগ্রন্থ কোনগুলো?
- ক. মরুভাস্কর ও সৈয়দ আহমদ
- খ. বীরবলের হালখাতা ও নীললোহিত
- গ. সভ্যতা ও সুখ
- ঘ. যুগবাণী ও দুর্দিনের যাত্রী
উত্তর: গ। সভ্যতা ও সুখ তাঁর দুটি অনুবাদগ্রন্থ।
১০। মোতাহের হোসেন চৌধুরী কত সালে মৃত্যুবরণ করেন?
- ক. ১৯৫৭
- খ. ১৯৫৪
- গ. ১৯৫৬
- ঘ. ১৯৫৫
উত্তর: গ। ১৯৫৬ খ্রিষ্টাব্দের ১৮ই সেপ্টেম্বর তিনি পরলোকগমন করেন।
শিক্ষা ও মনুষ্যত্ব প্রবন্ধের বহুনির্বাচনি প্রশ্ন ও উত্তর (MCQ)
১১। ‘শিক্ষা ও মনুষ্যত্ব’ প্রবন্ধটি কোন গ্রন্থের কোন প্রবন্ধের অংশবিশেষ?
- ক. যুগবাণীর একটি স্বতন্ত্র প্রবন্ধ
- খ. সংস্কৃতি কথার ‘মনুষ্যত্ব’ প্রবন্ধের অংশ
- গ. মরুভাস্করের একটি অধ্যায়
- ঘ. সভ্যতা ও সুখ গ্রন্থের অংশ
উত্তর: খ। এটি মোতাহের হোসেন চৌধুরীর সংস্কৃতি-কথা গ্রন্থের ‘মনুষ্যত্ব’ শীর্ষক প্রবন্ধের অংশবিশেষ।
১২। প্রবন্ধের মূল বক্তব্য কী?
- ক. জীবসত্তাই মানুষের একমাত্র পরিচয়
- খ. শিক্ষা শুধু জ্ঞান বিতরণ করে
- গ. অর্থই জীবনের একমাত্র লক্ষ্য
- ঘ. শিক্ষা ও মানবিক মূল্যবোধের গভীর সম্পর্ক
উত্তর: ঘ। প্রবন্ধে লেখক শিক্ষা ও মানবিক মূল্যবোধের সম্পর্ক চিহ্নিত করেছেন— জ্ঞান ও অন্তরের মুক্তি মানুষকে মনুষ্যত্ববোধে উন্নীত করে।
১৩। লেখক মানুষের জীবনকে কীসের সাথে তুলনা করেছেন?
- ক. একটি দোতলা ঘরের সাথে
- খ. একটি সমুদ্রের সাথে
- গ. একটি গাছের সাথে
- ঘ. একটি নদীর সাথে
উত্তর: ক। লেখক মানুষের জীবনকে একটি দোতলা ঘরের সাথে তুলনা করেছেন— জীবসত্তা নিচের তলা, মানবসত্তা ওপরের তলা।
১৪। এই দোতলা ঘরের নিচের তলা কী বোঝায়?
- ক. মানবসত্তা
- খ. শিক্ষা
- গ. মনুষ্যত্ব
- ঘ. জীবসত্তা
উত্তর: ঘ। নিচের তলা জীবসত্তা বোঝায়— মানুষের জৈবিক বা প্রাণিগত অস্তিত্ব।
১৫। এই ঘরের দুই তলার মধ্যে সংযোগকারী মই কী?
- ক. শিক্ষা
- খ. অর্থ
- গ. সময়
- ঘ. ধর্ম
উত্তর: ক। জীবসত্তার ঘর থেকে মানবসত্তার ঘরে ওঠার মই হচ্ছে শিক্ষা।
১৬। লেখকের মতে শিক্ষার আসল কাজ কী?
- ক. শুধু জীবিকা অর্জনের সহায়তা করা
- খ. শুধু ক্ষুধা নিবারণে সহায়তা করা
- গ. মানুষকে মনুষ্যত্বলোকের সঙ্গে পরিচয় করিয়ে দেওয়া
- ঘ. শুধু পরীক্ষায় পাশ করানো
উত্তর: গ। লেখকের মতে শিক্ষার আসল কাজ মানুষকে মনুষ্যত্বলোকের সঙ্গে পরিচয় করিয়ে দেওয়া, যদিও জীবসত্তার ঘরেও তার কিছু কাজ থাকে।
১৭। লেখকের মতে শিক্ষার শ্রেষ্ঠ দিক কোনটি?
- ক. তার অপ্রয়োজনীয় দিক
- খ. তার অর্থনৈতিক দিক
- গ. তার প্রয়োজনীয় দিক
- ঘ. তার প্রযুক্তিগত দিক
উত্তর: ক। লেখক বলেন, শিক্ষার প্রয়োজনের দিকের চেয়ে অপ্রয়োজনের দিকই তার শ্রেষ্ঠ দিক— যা জীবন উপভোগ করতে ও কল্পনার রস আস্বাদন করতে শেখায়।
১৮। শিক্ষার এই ‘অপ্রয়োজনীয়’ দিকটি বড় হয়ে উঠতে না পারার কারণ কী?
- ক. সময়ের অভাব
- খ. অর্থের অভাব
- গ. শিক্ষার অভাব
- ঘ. ভুল শিক্ষা ও জীবসত্তার ঘরে বিশৃঙ্খলা
উত্তর: ঘ। ভুল শিক্ষা ও নিচের তলায় (জীবসত্তায়) বিশৃঙ্খলার কারণে মানুষ সবসময় জীবসত্তা নিয়েই সচেতন থাকে, ওপরের তলার কথা ভাবতে পারে না।
১৯। লেখকের মতে ধনী-দরিদ্র সকলের অন্তরে কোন একই ধ্বনি ওঠে?
- ক. মুক্তি চাই
- খ. জ্ঞান চাই
- গ. শান্তি চাই
- ঘ. আরও চাই, আরও চাই
উত্তর: ঘ। লেখক বলেন, ধনী-দরিদ্র সকলের অন্তরেই একই ধ্বনি ওঠে— ‘চাই, চাই, আরও চাই’— অর্থচিন্তার এই নিগড়ে সবাই বন্দি।
২০। অর্থচিন্তা থেকে মুক্তি না পেলে শিক্ষার সুফল কেমন হবে বলে লেখক মনে করেন?
- ক. সর্বজনীন হবে
- খ. শুধু ব্যক্তিগত পর্যায়ে সীমাবদ্ধ থাকবে
- গ. একেবারেই হবে না
- ঘ. তাৎক্ষণিক হবে
উত্তর: খ। লেখক বলেন, অর্থচিন্তা থেকে মুক্তি না পেলে শিক্ষার সুফল ব্যক্তিগত পর্যায়ে সীমাবদ্ধ থাকবে, বেশিরভাগ মানুষ সেই তিমিরেই থেকে যাবে।
২১। ‘কারারুদ্ধ আহারতৃপ্ত মানুষের মূল্য কতটুকু?’— এই প্রশ্নের মাধ্যমে লেখক কী বোঝাতে চেয়েছেন?
- ক. খাদ্যের গুরুত্ব সবচেয়ে বেশি
- খ. ক্ষুধা মানুষের একমাত্র সমস্যা
- গ. শুধু অন্নবস্ত্রের প্রাচুর্যেই জীবনের প্রকৃত উন্নয়ন হয় না
- ঘ. কারাগার আসলে স্বর্গের মতো
উত্তর: গ। লেখক দেখান, শুধু খাওয়া-পরার সমস্যা মিটে গেলেই জীবনের প্রকৃত উন্নয়ন হয় না— চিন্তার, বুদ্ধির ও আত্মপ্রকাশের স্বাধীনতাও প্রয়োজন।
২২। আলো-হাওয়ার স্বাদবঞ্চিত মানুষ প্রচুর অন্নবস্ত্র পেলে কারাগারকে কী মনে করে?
- ক. অসহনীয়
- খ. নরকতুল্য
- গ. স্বর্গতুল্য
- ঘ. সাধারণ একটি স্থান
উত্তর: গ। যে মানুষ আলো-হাওয়ার স্বাদ কখনো পায়নি, সে প্রচুর অন্নবস্ত্র পেলে কারাগারকেই স্বর্গতুল্য মনে করে, যদিও তা প্রকৃত অর্থে স্বর্গ নয়।
২৩। যে মানুষ বাইরের আলো-হাওয়ার স্বাদ পেয়েছে, সে প্রচুর অন্নবস্ত্র পেলেও কারাগারকে কী মনে করবে?
- ক. একটি ভালো জায়গা
- খ. স্বর্গ
- গ. কারাগারই মনে করবে, মুক্তির কথাই ভাববে
- ঘ. একটি সাময়িক অবস্থান
উত্তর: গ। বাইরের স্বাধীনতার স্বাদ পাওয়া মানুষ প্রচুর অন্নবস্ত্র পেলেও কারাগারকে কারাগারই মনে করবে এবং মুক্তির উপায় খোঁজাই হবে তার একমাত্র চিন্তা।
২৪। লেখক কোন পাখির উদাহরণ দিয়ে মুক্তির গুরুত্ব বোঝান?
- ক. যে পাখি খাঁচায় থাকতে ভালোবাসে
- খ. মুক্তির ডাকে আকুল পাখি দানার লোভে বন্দি হয় না
- গ. যে পাখি উড়তে জানে না
- ঘ. যে পাখি খাঁচাতেই জন্ম নিয়েছে
উত্তর: খ। লেখক প্রশ্ন করেন, আকাশ-বাতাসের ডাকে আকুল পাখি কি সহজে দানাপানির লোভে খাঁচায় বন্দি হবে? উত্তর স্পষ্ট— না, কারণ মুক্তি অন্নবস্ত্রের প্রাচুর্যের চেয়ে বড়।
**২৫। মুক্তি সম্পর্কে নিচের তথ্যগুলো লক্ষ করো —**
i. লেখকের মতে চিন্তার স্বাধীনতা, বুদ্ধির স্বাধীনতা ও আত্মপ্রকাশের স্বাধীনতা ছাড়া প্রকৃত মুক্তি নেই
ii. অন্নবস্ত্রের প্রাচুর্যের চেয়ে মুক্তি বড়, এই বোধই মনুষ্যত্বের পরিচায়ক
iii. লেখকের মতে ক্ষুৎপিপাসার তৃপ্তির কোনো প্রয়োজন নেই
নিচের কোনটি সঠিক?
ক. i ও ii খ. i ও iii গ. ii ও iii ঘ. i, ii ও iii
**উত্তর: ক।** প্রথম দুটি তথ্য প্রবন্ধের বক্তব্যের সাথে মেলে, কিন্তু লেখক আসলে বলেন ক্ষুৎপিপাসায় কাতর মানুষকে তৃপ্ত রাখা প্রয়োজন, তবেই আত্মার অমৃত উপলব্ধি সম্ভব— তাই তৃতীয় তথ্যটি ভুল।
২৬। লেখকের মতে মুক্তির জন্য কয়টি উপায় অবলম্বন করতে হবে?
- ক. চারটি
- খ. একটি
- গ. তিনটি
- ঘ. দুটি
উত্তর: ঘ। লেখক বলেন, মুক্তির জন্য দুটি উপায় অবলম্বন করতে হবে— অন্নবস্ত্রের চিন্তা থেকে মুক্তি ও শিক্ষার দ্বারা মনুষ্যত্বের স্বাদ পাওয়ানো।
২৭। শুধু অন্নবস্ত্রের সমস্যা সমাধান করলে কী ঘটতে পারে বলে লেখক আশঙ্কা করেন?
- ক. মানুষ তৎক্ষণাৎ মনুষ্যত্ব অর্জন করবে
- খ. অর্থনৈতিক উন্নতি হবে না
- গ. সমাজে বিশৃঙ্খলা বাড়বে
- ঘ. মনুষ্যত্বের স্বাদ না পেলে মানুষ থমকে থাকতে পারে
উত্তর: ঘ। লেখক বলেন, শুধু অন্নবস্ত্রের চিন্তা থেকে মুক্তি পেলেও মনুষ্যত্বের স্বাদ না পেলে মানুষ যেখানে আছে সেখানেই পড়ে থাকতে পারে।
২৮। শুধু শিক্ষার ওপর নির্ভর করলে লেখকের মতে কী সমস্যা হতে পারে?
- ক. অন্নবস্ত্রের দুশ্চিন্তায় মনুষ্যত্বের সাধনা ব্যর্থ হতে পারে
- খ. সমাজ অস্থিতিশীল হবে
- গ. কোনো সমস্যা হবে না
- ঘ. মানুষ অলস হয়ে পড়বে
উত্তর: ক। লেখক বলেন, শিক্ষাদীক্ষার মাধ্যমে মনুষ্যত্বের স্বাদ পেলেও অন্নবস্ত্রের দুশ্চিন্তায় সেই সাধনা ব্যর্থ হওয়া অসম্ভব নয়।
২৯। ভারী জিনিস ওপরে তোলার উপমা দিয়ে লেখক কী বোঝাতে চেয়েছেন?
- ক. শুধু ওপর থেকে টানাই যথেষ্ট নয়
- খ. শুধু নিচ থেকে ঠেললেই যথেষ্ট
- গ. শিক্ষা ও সুশৃঙ্খল সমাজ— উভয়ই প্রয়োজন
- ঘ. এই উপমার কোনো তাৎপর্য নেই
উত্তর: গ। লেখক দেখান, ভারী জিনিস ওপরে তুলতে যেমন ওপর থেকে টানা ও নিচ থেকে ঠেলা দুটোই দরকার, তেমনি মানব উন্নয়নেও শিক্ষা (ওপর থেকে টানা) ও সুশৃঙ্খল সমাজব্যবস্থা (নিচ থেকে ঠেলা) উভয়ই প্রয়োজনীয়।
৩০। লেখকের মতে শুধু শিক্ষার প্রবল প্রচেষ্টা দিয়ে কি জীবনের উন্নয়ন সম্ভব?
- ক. শুধু সমাজব্যবস্থা দিয়েই যথেষ্ট
- খ. প্রচেষ্টায় সম্ভব, তবে শুধু সমাজব্যবস্থায় নয়
- গ. একেবারেই সম্ভব নয়
- ঘ. শুধু শিক্ষা দিয়েই সহজে সম্ভব
উত্তর: খ। লেখকের মতে আপ্রাণ প্রচেষ্টার ফলে শিক্ষার দ্বারাই জীবনের উন্নয়ন সম্ভব, যেমন প্রবল টানে নিচের ঠেলা ছাড়াও জিনিস তোলা যায়— কিন্তু শুধু সমাজব্যবস্থার সুশৃঙ্খলতায় তা সম্ভব নয়।
৩১। লেখকের মতে অন্ন-বস্ত্রের অব্যবস্থার মূলে কী রয়েছে?
- ক. দুর্ভাগ্য
- খ. লোভ
- গ. অলসতা
- ঘ. অজ্ঞতা
উত্তর: খ। লেখক বলেন, অন্ন-বস্ত্রের অব্যবস্থার মূলে লোভ, আর শিক্ষার মাধ্যমেই মানুষ এই সত্য উপলব্ধি করতে পারে।
৩২। ‘লোভে পাপ, পাপে মৃত্যু’— এই কথাটি সম্পর্কে লেখকের মূল্যায়ন কী?
- ক. এটি নিছক একটি প্রবাদ, সত্য নয়
- খ. এর কোনো ব্যবহারিক গুরুত্ব নেই
- গ. এটি একটি ধর্মীয় বিষয় মাত্র
- ঘ. এটি নিছক বুলি নয়, বরং সত্য
উত্তর: ঘ। লেখক জোর দিয়ে বলেন, শিক্ষার ফলে মানুষ উপলব্ধি করতে পারে যে ‘লোভে পাপ, পাপে মৃত্যু’ কথাটা নিছক বুলি নয়, সত্য।
৩৩। লোভের ফলে মানুষের কী ঘটে বলে লেখক বর্ণনা করেন?
- ক. আর্থিক ক্ষতি মাত্র
- খ. শারীরিক মৃত্যু
- গ. সামাজিক মর্যাদাহানি
- ঘ. আত্মিক মৃত্যু, অনুভূতির জগতে ফতুর হয়ে পড়া
উত্তর: ঘ। লোভের ফলে মানুষের আত্মিক মৃত্যু ঘটে, সে অনুভূতির জগতে ফতুর (নিঃস্ব) হয়ে পড়ে— শিক্ষা এই সত্য জানিয়ে দেয় বলেই মানুষ লোভের ফাঁদে পড়তে ভয় পায়।
৩৪। ছোটো জিনিসের মোহে বড়ো জিনিস হারিয়েও যে দুঃখ বোধ করে না, তাকে লেখক কী বলেছেন?
- ক. সে শিক্ষিত নয়
- খ. সে বুদ্ধিমান
- গ. সে বিচক্ষণ
- ঘ. সে সৌভাগ্যবান
উত্তর: ক। লেখক বলেন, ছোটো জিনিসের মোহে বড়ো জিনিস হারিয়ে যে দুঃখ বোধ করে না, সে শিক্ষিত নয়— তার শিক্ষা বাইরের ব্যাপার মাত্র, অন্তরের ব্যাপার হয়ে ওঠেনি।
৩৫। ‘লেফাফাদুরস্তি’ ও প্রকৃত শিক্ষার মধ্যে লেখক কী পার্থক্য দেখান?
- ক. লেফাফাদুরস্তি বাইরের আবরণ, শিক্ষা অন্তরের মূল্যবোধ
- খ. কোনো পার্থক্য নেই
- গ. দুটি একই বিষয়
- ঘ. লেফাফাদুরস্তিই প্রকৃত শিক্ষা
উত্তর: ক। লেখক স্পষ্ট বলেন, লেফাফাদুরস্তি আর শিক্ষা এক কথা নয়— শিক্ষা বাইরের ত্রুটিহীনতা নয়, অন্তরের প্রকৃত মূল্যবোধ সৃষ্টি করা।
৩৬। লেখকের মতে শিক্ষার আসল কাজ কী?
- ক. জ্ঞান পরিবেশন
- খ. তথ্য মুখস্থ করানো
- গ. পরীক্ষায় পাশ করানো
- ঘ. মূল্যবোধ সৃষ্টি
উত্তর: ঘ। লেখক বলেন, শিক্ষার আসল কাজ জ্ঞান পরিবেশন নয়, মূল্যবোধ সৃষ্টি; জ্ঞান পরিবেশন সেই মূল্যবোধ সৃষ্টির একটি উপায় মাত্র।
৩৭। মূল্যবোধের মূল্য যেখানে পাওয়া যায় না, সেখানে লেখকের মতে কী নেই?
- ক. জনসংখ্যা
- খ. ধন-সম্পদ
- গ. শিক্ষা
- ঘ. প্রযুক্তি
উত্তর: গ। লেখক বলেন, যেখানে মূল্যবোধের মূল্য পাওয়া যায় না, সেখানে শিক্ষা নেই— যত জ্ঞানই বিতরণ করা হোক না কেন।
৩৮। যদিও মনুষ্যত্ব লাভ শিক্ষার মূল লক্ষ্য, তবু লেখক আর কী প্রয়োজনীয় বলে মনে করেন?
- ক. রাজনৈতিক ক্ষমতা প্রয়োজনীয়
- খ. শুধু শিক্ষাই যথেষ্ট
- গ. অন্নবস্ত্রের সুব্যবস্থাও প্রয়োজনীয়
- ঘ. ধর্মীয় অনুশাসনই যথেষ্ট
উত্তর: গ। লেখক বলেন, শিক্ষার মাধ্যমে মূল্যবোধ তথা মনুষ্যত্ব লাভ করা গেলেও অন্নবস্ত্রের সুব্যবস্থাও প্রয়োজনীয়, নইলে জীবনের উন্নয়নে বিলম্ব ঘটবে।
৩৯। পায়ের কাঁটার উপমা দিয়ে লেখক কী বোঝাতে চেয়েছেন?
- ক. অন্নচিন্তায় বিব্রত থাকলে মুক্তির আনন্দ উপভোগ কঠিন
- খ. কাঁটা সবসময় বিপজ্জনক
- গ. কাঁটা তুলে ফেলা সহজ
- ঘ. হাঁটা স্বাস্থ্যকর
উত্তর: ক। এই উপমার মাধ্যমে লেখক দেখান, ক্রমাগত অন্নবস্ত্রের চিন্তায় বিব্রত থাকলে মানুষ মুক্তির প্রকৃত আনন্দ উপভোগ করতে পারে না— যেমন কাঁটার ব্যথায় হাঁটার আনন্দ মাটি হয়ে যায়।
৪০। লেখকের মতে অন্নবস্ত্রের বেড়িমুক্ত হয়েও মনুষ্যত্বের আহ্বান না থাকলে কী ঘটবে?
- ক. মানুষ সুখী হবে
- খ. মানুষ শিক্ষিত হয়ে উঠবে
- গ. মানুষ আরও ধনী হবে
- ঘ. মানুষ ওপরে যাওয়ার তাগিদ অনুভব করবে না
উত্তর: ঘ। লেখক বলেন, শুধু অন্নবস্ত্রের বেড়িমুক্ত হলেও মনুষ্যত্বের আহ্বান না থাকলে মানুষ ওপরে (মানবসত্তার দিকে) যাওয়ার তাগিদ অনুভব করবে না।
৪১। মনুষ্যত্বের আহ্বান থাকলেও অন্নবস্ত্রের স্বাধীনতা না থাকলে মানুষের অবস্থা কীসের সাথে তুলনা করা হয়েছে?
- ক. একটি নদীর সাথে
- খ. একটি সাগরের সাথে
- গ. পিঞ্জরাবদ্ধ পাখির সাথে
- ঘ. একটি মুক্ত পাখির সাথে
উত্তর: গ। লেখক বলেন, এই অবস্থায় মানুষ পিঞ্জরাবদ্ধ পাখির মতো উড়বার আকাঙ্ক্ষায় পাখা ঝাপটাবে, কিন্তু উড়তে পারবে না— একদিকের সমাধান ছাড়া অন্যদিকও অসম্পূর্ণ থেকে যায়।
৪২। ‘নিগড়’ শব্দের অর্থ কী?
- ক. স্বাধীনতা
- খ. আনন্দ
- গ. জ্ঞান
- ঘ. শিকল, বেড়ি
উত্তর: ঘ। নিগড় অর্থ শিকল বা বেড়ি— ‘অর্থচিন্তার নিগড়ে সকলে বন্দি’ বাক্যে ব্যবহৃত।
৪৩। ‘তিমির’ শব্দের অর্থ কী?
- ক. অন্ধকার
- খ. জ্ঞান
- গ. আলো
- ঘ. আনন্দ
উত্তর: ক। তিমির অর্থ অন্ধকার— ‘যে তিমিরে সে তিমিরেই থেকে যাবে’ বাক্যাংশে ব্যবহৃত।
৪৪। ‘ক্ষুৎপিপাসা’ শব্দের অর্থ কী?
- ক. আশা-নিরাশা
- খ. জ্ঞান-অজ্ঞান
- গ. আনন্দ-বেদনা
- ঘ. ক্ষুধা ও তৃষ্ণা
উত্তর: ঘ। ক্ষুৎপিপাসা অর্থ ক্ষুধা ও তৃষ্ণা।
৪৫। ‘ফতুর’ শব্দের অর্থ কী?
- ক. ধনী
- খ. নিঃস্ব, সর্বস্বান্ত
- গ. সুখী
- ঘ. জ্ঞানী
উত্তর: খ। ফতুর অর্থ নিঃস্ব বা সর্বস্বান্ত— লোভের ফলে মানুষ অনুভূতির জগতে ফতুর হয়ে পড়ে বলে লেখক উল্লেখ করেছেন।
৪৬। ‘লেফাফাদুরস্তি’ শব্দের অর্থ কী?
- ক. বাইরের দিক থেকে ত্রুটিহীনতা কিন্তু ভিতরে ফাঁপা
- খ. আন্তরিকতা
- গ. প্রকৃত জ্ঞান
- ঘ. পরিপূর্ণ শিক্ষা
উত্তর: ক। লেফাফাদুরস্তি অর্থ বাইরের দিক থেকে ত্রুটিহীন দেখানো কিন্তু ভেতরে ফাঁপা— প্রকৃত মূল্যবোধহীন আপাত-শিক্ষার প্রতীক।
৪৭। ‘পিঞ্জরাবদ্ধ’ শব্দের অর্থ কী?
- ক. উড়ন্ত
- খ. মুক্ত
- গ. খাঁচায় বন্দি
- ঘ. স্বাধীন
উত্তর: গ। পিঞ্জরাবদ্ধ অর্থ খাঁচায় বন্দি।
৪৮। লেখকের সামগ্রিক যুক্তিধারার মূল বার্তা কী?
- ক. শুধু অর্থনৈতিক উন্নয়নই যথেষ্ট
- খ. বস্তুগত মুক্তি ও মূল্যবোধ— উভয়ই প্রয়োজন
- গ. শিক্ষার কোনো গুরুত্ব নেই
- ঘ. অন্নবস্ত্রের সমস্যা গুরুত্বহীন
উত্তর: খ। পুরো প্রবন্ধ জুড়ে লেখক দেখান, শুধু বস্তুগত সমৃদ্ধি বা শুধু শিক্ষা— কোনোটিই একা মানব উন্নয়নের জন্য যথেষ্ট নয়; উভয়ের সমন্বিত প্রচেষ্টাতেই প্রকৃত মুক্তি ও মনুষ্যত্ব অর্জন সম্ভব।
৪৯। জীবসত্তা ও মানবসত্তার রূপক ব্যাখ্যা করে লেখক আসলে কোন গভীরতর সত্য তুলে ধরতে চেয়েছেন?
- ক. মানুষ শুধু জৈবিক প্রাণী
- খ. জৈবিক ও মানবিক সত্তার মধ্যে শিক্ষাই সেতুবন্ধন
- গ. মানবসত্তা অপ্রয়োজনীয়
- ঘ. জীবসত্তা সম্পূর্ণ উপেক্ষণীয়
উত্তর: খ। দোতলা ঘরের রূপকের মাধ্যমে লেখক দেখান, মানুষের মধ্যে মৌলিক জৈবিক চাহিদা ও উচ্চতর মানবিক-নৈতিক আকাঙ্ক্ষা উভয়ই থাকে, আর শিক্ষাই এই দুইয়ের মধ্যে সংযোগ স্থাপন করে।
করিম সাহেব একজন সফল ব্যবসায়ী, প্রচুর অর্থ উপার্জন করেন। কিন্তু ব্যবসার প্রতিযোগিতায় টিকে থাকতে তিনি প্রতিনিয়ত অন্যায় পথ অবলম্বন করেন, প্রতিদ্বন্দ্বীদের ক্ষতি করে এগিয়ে যান। তাঁর কাছে সাফল্য মানে শুধু অর্থের পরিমাণ বৃদ্ধি; এতে তাঁর কোনো অনুশোচনা হয় না।
৫০। করিম সাহেবের মানসিকতার সাথে প্রবন্ধের কোন বক্তব্যের সাদৃশ্য সবচেয়ে বেশি?
- ক. জীবসত্তা ও মানবসত্তার মিলন
- খ. অন্নবস্ত্রের চিন্তা থেকে মুক্তির প্রয়োজনীয়তা
- গ. পিঞ্জরাবদ্ধ পাখির উপমা
- ঘ. অর্থচিন্তায় বন্দি থাকা ও শিক্ষা অন্তরের না হওয়া
উত্তর: ঘ। করিম সাহেব লেখকের বর্ণিত ‘অর্থচিন্তার নিগড়ে বন্দি’ মানুষের প্রতিচ্ছবি— তাঁর অন্যায়ে অনুশোচনা না হওয়া প্রমাণ করে তাঁর শিক্ষা লেফাফাদুরস্তি মাত্র, প্রকৃত মূল্যবোধে রূপ নেয়নি।
৫১। করিম সাহেবের ক্ষেত্রে লেখকের কোন মন্তব্যটি সবচেয়ে প্রাসঙ্গিক হবে?
- ক. তাঁর কোনো সমালোচনার কারণ নেই
- খ. তাৎক্ষণিক লাভের মোহে নৈতিকতা হারানো শিক্ষার অভাবের লক্ষণ
- গ. তিনি প্রকৃত শিক্ষিত মানুষ
- ঘ. তিনি সমাজের আদর্শ ব্যক্তি
উত্তর: খ। লেখকের ভাষায়, ছোটো জিনিসের মোহে বড়ো জিনিস হারিয়েও যে দুঃখ বোধ করে না, সে শিক্ষিত নয়— করিম সাহেবের ক্ষেত্রে এই মন্তব্যই সবচেয়ে প্রযোজ্য।
