বিভীষণের প্রতি মেঘনাদ কবিতার MCQ | HSC বাংলা ১ম পত্র-এর “বিভীষণের প্রতি মেঘনাদ” কবিতা থেকে বোর্ড পরীক্ষায় নিয়মিত প্রশ্ন আসে। এই পোস্টে কবিতার সারকথা ও ১৩৫টি বহুনির্বাচনি প্রশ্ন (MCQ) উত্তর ও ব্যাখ্যাসহ দেওয়া হলো।
বিভীষণের প্রতি মেঘনাদ কবিতার বহুনির্বাচনি প্রশ্ন ও উত্তর (MCQ)
1। ‘বিভীষণের প্রতি মেঘনাদ’ কাব্যাংশের মূল উপজীব্য বিষয় কী?
- ক. রাক্ষসদের বীরত্বগাথা
- খ. দেশপ্রেম ও বিশ্বাসঘাতকতার বিরুদ্ধে ঘৃণা
- গ. দেবতাদের মাহাত্ম্য কীর্তন
- ঘ. রাম-রাবণের যুদ্ধের বর্ণনা
উত্তর: খ। পাঠ-পরিচিতি অনুযায়ী, এ অংশে মাতৃভূমির প্রতি ভালোবাসা এবং বিশ্বাসঘাতকতা ও দেশদ্রোহিতার বিরুদ্ধে গভীর ঘৃণা প্রকাশিত হয়েছে।
2। মেঘনাদ কেন বিভীষণের প্রতি ক্ষুব্ধ হয়েছিলেন?
- ক. লক্ষ্মণকে যজ্ঞাগারে প্রবেশের পথ দেখানোর জন্য
- খ. বিভীষণ মেঘনাদকে ভর্ৎসনা করায়
- গ. বিভীষণ রামের দাসত্ব স্বীকার করায়
- ঘ. বিভীষণ রাবণের পক্ষ ত্যাগ করায়
উত্তর: ক। নিজের পিতৃব্য বিভীষণ শত্রুপক্ষের লক্ষ্মণকে পথ দেখিয়ে নিকুম্ভিলা যজ্ঞাগারে নিয়ে আসায় মেঘনাদ সবচেয়ে বেশি ক্ষুব্ধ হন।
3। ‘মেঘনাদবধ কাব্যে’ কোন চেতনার প্রতিফলন ঘটেছে?
- ক. রেনেসাঁস বা নবজাগরণের মানবকেন্দ্রিকতা
- খ. মধ্যযুগীয় ভক্তি চেতনা
- গ. ধর্মান্ধতা
- ঘ. পৌরাণিক দেবনির্ভরতা
উত্তর: ক। উনিশ শতকের বাংলার নবজাগরণের প্রেরণাতেই মধুসূদন মানবকেন্দ্রিকতার আলোকে রামায়ণকে নবমূল্য দান করেছেন।
4। মাইকেল মধুসূদন দত্তের দৃষ্টিতে রাম-লক্ষ্মণ কেমন?
- ক. মহৎ ও আদর্শবান
- খ. ঐশ্বরিক ক্ষমতাসম্পন্ন
- গ. মানবীয় গুণের ধারক
- ঘ. হীন ও দুর্বল চরিত্রের
উত্তর: ঘ। নবজাগরণের প্রেরণায় মধুসূদনের লেখনীতে রাম-লক্ষ্মণ হীনরূপে উপস্থাপিত হয়েছেন।
5। ‘রাঘবদাস আমি’- এ কথাটি কে বলেছেন?
- ক. মেঘনাদ
- খ. রামচন্দ্র
- গ. লক্ষ্মণ
- ঘ. বিভীষণ
উত্তর: ঘ। মেঘনাদের প্রশ্নের উত্তরে নিজের অবস্থান স্পষ্ট করতে বিভীষণ নিজেকে রঘুবংশের সন্তান রামের দাস বলে দাবি করেন।
6। মেঘনাদের চরিত্রটি কেমন?
- ক. দেশপ্রেমিক ও অসমসাহসী বীর
- খ. ক্ষমতালোভী
- গ. ভীরু ও কাপুরুষ
- ঘ. বিশ্বাসঘাতক
উত্তর: ক। মেঘনাদ দেশপ্রেমে উদ্বুদ্ধ একজন অসমসাহসী বীর, যিনি নিজ মাতৃভূমির সুরক্ষায় নিবেদিত।
7। ‘নিজগৃহপথ, তাত, দেখাও তস্করে?’- এখানে ‘তস্কর’ বলতে কাকে বোঝানো হয়েছে?
- ক. রামচন্দ্রকে
- খ. রাবণকে
- গ. বিভীষণকে
- ঘ. লক্ষ্মণকে
উত্তর: ঘ। চোরের মতো গোপনে যজ্ঞাগারে প্রবেশ করায় মেঘনাদ লক্ষ্মণকে তস্কর বা চোর হিসেবে আখ্যায়িত করেছেন।
8। মেঘনাদ বিভীষণকে ‘চণ্ডাল’ শব্দের সাথে কার তুলনা করেছেন?
- ক. রামের
- খ. বানরসেনার
- গ. লক্ষ্মণের
- ঘ. নিজের
উত্তর: গ। ‘চণ্ডালে বসাও আনি রাজার আলয়ে’- চণ্ডাল বলতে এখানে হীন লক্ষ্মণকে বোঝানো হয়েছে, যাকে বিভীষণ পথ দেখিয়ে এনেছেন।
9। মেঘনাদ কোথায় পূজা সম্পন্ন করতে মনস্থির করেছিলেন?
- ক. অশোক বনে
- খ. নিকুম্ভিলা যজ্ঞাগারে
- গ. শিব মন্দিরে
- ঘ. রাজপ্রাসাদে
উত্তর: খ। যুদ্ধযাত্রা নিশ্চিত করার জন্য মেঘনাদ নিকুম্ভিলা যজ্ঞাগারে ইষ্টদেবতা অগ্নিদেবের পূজা সম্পন্ন করতে চেয়েছিলেন।
10। নিকুম্ভিলা যজ্ঞাগারে মেঘনাদ কোন দেবতার পূজারত ছিলেন?
- ক. ইন্দ্র
- খ. শিব
- গ. ব্রহ্মা
- ঘ. বৈশ্বানর বা অগ্নিদেব
উত্তর: ঘ। পাঠ-পরিচিতি অনুযায়ী মেঘনাদ ইষ্টদেবতা বৈশ্বানর বা অগ্নিদেবের পূজারত অবস্থায় ছিলেন।
11। লক্ষ্মণের যজ্ঞাগারে অনুপ্রবেশে কারা সহায়তা করেছিল?
- ক. রামচন্দ্র ও হনুমান
- খ. সীতা ও মায়া দেবী
- গ. মায়া দেবী ও বিভীষণ
- ঘ. কেবল বিভীষণ
উত্তর: গ। পাঠ-পরিচিতিতে স্পষ্টভাবে উল্লেখ আছে যে মায়া দেবীর আনুকূল্যে এবং বিভীষণের সহায়তায় লক্ষ্মণ যজ্ঞাগারে প্রবেশ করে।
12। মেঘনাদের চোখে লক্ষ্মণের সাথে যুদ্ধপ্রার্থনা কেমন ছিল?
- ক. কাপুরুষোচিত ও অন্যায়
- খ. বীরত্বপূর্ণ
- গ. সম্মানজনক
- ঘ. মহারথী-প্রথা সম্মত
উত্তর: ক। নিরস্ত্র যজ্ঞরত ব্যক্তির সাথে যুদ্ধ চাওয়া বীরের কাজ নয়, তাই মেঘনাদ একে অন্যায় ও কাপুরুষোচিত বলেছেন।
13। ‘ছাড় দ্বার, যাব অস্ত্রাগারে’- মেঘনাদ অস্ত্রাগারে যেতে চেয়েছিলেন কেন?
- ক. আত্মরক্ষা করে পালাতে
- খ. বিভীষণকে হত্যা করতে
- গ. অস্ত্র লুকিয়ে রাখতে
- ঘ. লক্ষ্মণের সাথে যুদ্ধের জন্য অস্ত্র আনতে
উত্তর: ঘ। নিরস্ত্র মেঘনাদ লক্ষ্মণের সাথে যুদ্ধ করার জন্য অস্ত্রাগার থেকে অস্ত্র আনতে পথ ছাড়তে বলেছিলেন।
14। ‘পাঠাইব রামানুজে শমন-ভবনে’- এখানে ‘রামানুজ’ কে?
- ক. বিভীষণ
- খ. কুম্ভকর্ণ
- গ. মেঘনাদ
- ঘ. লক্ষ্মণ
উত্তর: ঘ। রামের অনুজ (ছোট ভাই) হিসেবে এখানে লক্ষ্মণকে রামানুজ বলা হয়েছে।
15। ‘শমন-ভবনে’ বলতে কী বোঝানো হয়েছে?
- ক. রাবণের সভায়
- খ. স্বর্গালয়ে
- গ. রামের প্রাসাদে
- ঘ. যমালয়ে বা মৃত্যুর দেশে
উত্তর: ঘ। শমন অর্থ যম, তাই শমন-ভবন মানে যমালয়, যেখানে মেঘনাদ লক্ষ্মণকে পাঠাতে চেয়েছিলেন।
16। ‘লঙ্কার কলঙ্ক আজি ভঞ্জিব আহবে’- কীভাবে মেঘনাদ কলঙ্ক মোচন করতে চান?
- ক. রামের দাসত্ব মেনে
- খ. সন্ধি করে
- গ. যুদ্ধে লক্ষ্মণকে হত্যা করে
- ঘ. যজ্ঞ সম্পন্ন করে
উত্তর: গ। ‘ভঞ্জিব আহবে’ অর্থাৎ যুদ্ধের মাধ্যমে লক্ষ্মণকে বিনাশ করে তিনি লঙ্কাপুরীর কলঙ্ক মুছতে চেয়েছেন।
17। বিভীষণ নিজেকে কেন মেঘনাদের অনুরোধ রক্ষায় অপারগ জানান?
- ক. তিনি রাবণের উপর রাগান্বিত
- খ. তার অস্ত্র ছিল না
- গ. তিনি রাঘবের (রামের) দাস
- ঘ. তিনি মেঘনাদকে ভয় পান
উত্তর: গ। বিভীষণ বলেন, \”রাঘবদাস আমি; কী প্রকারে তাঁহার বিপক্ষ কাজ করিব\”, তাই তিনি পথ ছাড়তে রাজি হননি।
18। ‘হে পিতৃব্য, তব বাক্যে ইচ্ছি মরিবারে!’- মেঘনাদ কেন এ কথা বলেছেন?
- ক. পিতৃব্য রামের দাসত্ব স্বীকার করায় চরম হতাশায়
- খ. রাবণের মৃত্যু সংবাদ শুনে
- গ. লক্ষ্মণের ভয়ে
- ঘ. যুদ্ধে পরাজয় নিশ্চিত জেনে
উত্তর: ক। রাক্ষসকুলের একজন হয়েও বিভীষণ যখন নিজেকে রামের দাস বলেন, তখন এই তীব্র অপমানে মেঘনাদের মরে যেতে ইচ্ছা করে।
19। মেঘনাদ চাঁদ (বিধু)-এর উদাহরণ দিয়ে কী বোঝাতে চেয়েছেন?
- ক. চাঁদের কলঙ্ক
- খ. চাঁদের সৌন্দর্য
- গ. উচ্চবংশের সম্মান ও মহত্ত্ব
- ঘ. শিবের মহিমা
উত্তর: গ। বিধাতা চাঁদকে নিশ্চল আকাশে স্থান দিয়েছেন, সে কখনও ধুলোয় লুটায় না; তেমনি উচ্চবংশীয় বিভীষণেরও হীন রামের দাসত্ব করা সাজে না।
20। ‘রাজহংস’ ও ‘পঙ্কিল সলিল’-এর উপমা দিয়ে মেঘনাদ কী বুঝিয়েছেন?
- ক. রাজহংসের রূপ
- খ. রাক্ষসদের জলকেলি
- গ. উচ্চবংশীয়দের নীচ কাজে অনাগ্রহ
- ঘ. পদ্মবনের সৌন্দর্য
উত্তর: গ। স্বচ্ছ জলে বাস করা রাজহংস যেমন কাদা-জলে যায় না, তেমনি রাক্ষস বংশের বীর বিভীষণেরও নীচ রামের সাথে মেশা উচিত নয়।
21। ‘মৃগেন্দ্র কেশরী’ বলতে কাকে বোঝানো হয়েছে?
- ক. হাতিকে
- খ. পশুরাজ সিংহকে
- গ. হরিণকে
- ঘ. বানরকে
উত্তর: খ। ‘মৃগেন্দ্র’ এবং ‘কেশরী’ উভয় শব্দই পশুরাজ সিংহকে নির্দেশ করে।
22। মেঘনাদ সিংহ ও শৃগালের উপমায় কী বুঝিয়েছেন?
- ক. বনের প্রাণীদের স্বভাব
- খ. বীর কখনো কাপুরুষের সাথে মিত্রতা করে না
- গ. শৃগালের ধূর্ততা
- ঘ. সিংহের শ্রেষ্ঠত্ব
উত্তর: খ। সিংহ (রাক্ষসকুল) কখনো শৃগালের (রাম-লক্ষ্মণ) সাথে মিত্রতা করে না, এটাই মেঘনাদ এই উপমায় বুঝিয়েছেন।
23। ‘মহারথী-প্রথা’ বলতে কী বোঝায়?
- ক. রাজসভায় বসার রীতি
- খ. শ্রেষ্ঠ বীরদের আচরণ-প্রথা
- গ. রথ চালানোর নিয়ম
- ঘ. যুদ্ধ থেকে পালানোর প্রথা
উত্তর: খ। মহারথী বা শ্রেষ্ঠ বীরদের যে যুদ্ধনীতি ও আচরণবিধি থাকে, তাকেই মহারথী-প্রথা বলা হয়েছে।
24। মেঘনাদের মতে লক্ষ্মণের যুদ্ধপ্রার্থনা মহারথী-প্রথা বিরোধী কেন?
- ক. লক্ষ্মণ নিরস্ত্র যোদ্ধাকে যুদ্ধে আহ্বান করেছে
- খ. লক্ষ্মণ যজ্ঞাগারে প্রবেশ করেছে
- গ. লক্ষ্মণ রামের ভাই
- ঘ. লক্ষ্মণ মেঘনাদের চেয়ে বয়সে ছোট
উত্তর: ক। নিরস্ত্র ও পূজারত কারও সাথে যুদ্ধ করা শ্রেষ্ঠ বীরদের নিয়মের বিরোধী, তাই মেঘনাদ একে মহারথী-প্রথা বিরোধী বলেছেন।
25। ‘নাহি শিশু লঙ্কাপুরে, শুনি না হাসিবে এ কথা!’- কোন কথার কথা বলা হয়েছে?
- ক. লক্ষ্মণের নিরস্ত্র মেঘনাদের কাছে যুদ্ধপ্রার্থনার কথা
- খ. রামের লঙ্কা আক্রমণের কথা
- গ. মেঘনাদের অস্ত্রহীন থাকার কথা
- ঘ. বিভীষণের রামের দাস হওয়ার কথা
উত্তর: ক। দুর্বল লক্ষ্মণ যে নিরস্ত্র বীর মেঘনাদের কাছে যুদ্ধ চাইছে, এ কথা শুনলে লঙ্কার শিশুরাও হাসবে বলে মেঘনাদ ব্যঙ্গ করেছেন।
26। ‘দেব-দৈত্য-নর-রণে, স্বচক্ষে দেখেছ, রক্ষঃশ্রেষ্ঠ, পরাক্রম দাসের!’- এখানে ‘দাসের’ বলতে কার কথা বলা হয়েছে?
- ক. রামের
- খ. লক্ষ্মণের
- গ. মেঘনাদের নিজের
- ঘ. বিভীষণের
উত্তর: গ। মেঘনাদ বিভীষণকে উদ্দেশ্য করে নিজের বীরত্ব ও পরাক্রমের কথা বোঝাতে বিনয়বশত নিজেকে ‘দাস’ বলে উল্লেখ করেছেন।
27। মেঘনাদ নিজেকে ‘বাসববিজয়ী’ কেন বলেছেন?
- ক. তিনি রামকে জয় করেছিলেন
- খ. তিনি যজ্ঞ সম্পন্ন করেছিলেন
- গ. তিনি রাবণকে জয় করেছিলেন
- ঘ. তিনি বাসব বা ইন্দ্রকে জয় করেছিলেন
উত্তর: ঘ। দেবতাদের রাজা ইন্দ্র বা বাসবকে যুদ্ধে পরাস্ত করার কারণেই মেঘনাদকে বাসববিজয়ী বা ইন্দ্রজিৎ বলা হয়।
28। ‘প্রগলভে পশিল দম্ভী’- এখানে ‘দম্ভী’ বলতে কাকে বোঝানো হয়েছে?
- ক. রাবণকে
- খ. রামকে
- গ. মেঘনাদকে
- ঘ. লক্ষ্মণকে
উত্তর: ঘ। দাম্ভিক চিত্তে নিকুম্ভিলা যজ্ঞাগারে প্রবেশকারী লক্ষ্মণকেই এখানে দম্ভী বলা হয়েছে।
29। ‘হে বিধাতঃ, নন্দন-কাননে ভ্রমে দুরাচার দৈত্য?’- নন্দন-কানন বলতে এখানে কী বোঝানো হয়েছে?
- ক. রামের বাসস্থান
- খ. স্বর্গীয় উদ্যান বা লঙ্কাপুরী
- গ. পাতালপুরী
- ঘ. সীতার কারাগার
উত্তর: খ। লঙ্কাপুরী মেঘনাদের কাছে স্বর্গের উদ্যান বা নন্দন-কাননের মতো পবিত্র, যেখানে লক্ষ্মণরূপী দৈত্য প্রবেশ করেছে।
30। মেঘনাদ লক্ষ্মণকে কীসের সাথে তুলনা করেছেন?
- ক. দুরাচার দৈত্য ও কীট
- খ. স্বচ্ছ সরোবর
- গ. নন্দন-কানন
- ঘ. প্রফুল্ল কমল
উত্তর: ক। মেঘনাদ নন্দন-কাননে প্রবেশকারী দুরাচার দৈত্য এবং প্রফুল্ল কমলে বাস করা কীটের সাথে লক্ষ্মণের তুলনা করেছেন।
31। মেঘনাদের তীব্র ভর্ৎসনায় বিভীষণের অবস্থা কেমন হয়েছিল?
- ক. তিনি অট্টহাসি হেসেছিলেন
- খ. তিনি রেগে আক্রমণ করেছিলেন
- গ. তিনি রামকে ডাকতে শুরু করেন
- ঘ. মহামন্ত্র-বলে অবনত সাপের মতো তিনি লজ্জিত হয়েছিলেন
উত্তর: ঘ। ‘মহামন্ত্র-বলে যথা নম্রশিরঃ ফণী, মলিনবদন লাজে’- মেঘনাদের কথায় বিভীষণ লজ্জিত ও মাথা নত করেছিলেন।
32। বিভীষণ রাবণকে লঙ্কার পতনের জন্য কীভাবে দায়ী করেছেন?
- ক. সীতাকে হরণ না করার জন্য
- খ. নিজ কর্মদোষ বা পাপের জন্য
- গ. মেঘনাদের অহংকারের জন্য
- ঘ. দুর্বল সেনাবাহিনীর জন্য
উত্তর: খ। বিভীষণ বলেন, \”নিজকর্ম-দোষে, হায়, মজাইলা এ কনক-লঙ্কা রাজা\”, অর্থাৎ রাবণ নিজের পাপেই লঙ্কার সর্বনাশ ডেকে এনেছেন।
33। ‘ডুবিছে লঙ্কা এ কালসলিলে!’- বিভীষণের মতে লঙ্কার এই অবস্থার কারণ কী?
- ক. দেবতাদের অভিশাপ
- খ. রাবণের পাপ
- গ. মেঘনাদের দুর্বলতা
- ঘ. রামের পরাক্রম
উত্তর: খ। রাবণের পাপে লঙ্কাপুরী পাপপূর্ণ হয়ে গেছে বলেই তা কালসলিলে বা প্রলয়জলে ডুবছে বলে বিভীষণ দাবি করেন।
34। বিভীষণ কেন রামের আশ্রয় নিয়েছিলেন?
- ক. পরদোষে মজে না গিয়ে নিজেকে রক্ষা করার জন্য
- খ. লঙ্কার রাজত্ব পাওয়ার লোভে
- গ. রাবণ তাকে তাড়িয়ে দেওয়ায়
- ঘ. মেঘনাদের ওপর প্রতিশোধ নিতে
উত্তর: ক। \”পরদোষে কে চাহে মজিতে?\”- রাবণের পাপে লঙ্কার পতন আসন্ন জেনে নিজেকে রক্ষার জন্যই বিভীষণ রামের আশ্রয় নেন।
35। ‘রুষিলা বাসবত্রাস।’- এখানে ‘বাসবত্রাস’ কে?
- ক. কুম্ভকর্ণ
- খ. মেঘনাদ
- গ. ইন্দ্র
- ঘ. রাবণ
উত্তর: খ। দেবরাজ বাসব বা ইন্দ্র যার ভয়ে ভীত থাকে অর্থাৎ বাসবের ত্রাস হলেন মেঘনাদ।
36। মেঘনাদ বিভীষণের যুক্তি শুনে কোন শাস্ত্রের কথা স্মরণ করিয়ে দেন?
- ক. মনুস্মৃতি
- খ. পুরাণ
- গ. জাতিত্ব ও ভ্রাতৃত্ববোধের নীতি
- ঘ. বেদ
উত্তর: গ। তিনি বলেন, \”শাস্ত্রে বলে, গুণবান যদি পরজন, গুণহীন স্বজন, তথাপি নির্গুণ স্বজন শ্রেয়ঃ, পরঃ পরঃ সদা!\”
37। ‘পরঃ পরঃ সদা!’- কথাটির অর্থ কী?
- ক. পরপর আঘাত করা
- খ. পরকাল সম্পর্কে সচেতন হওয়া
- গ. পরের উপকার করা উচিত
- ঘ. পর সবসময় পরই থেকে যায়
উত্তর: ঘ। গুণবান হলেও পর ব্যক্তি সবসময় পরই থাকে, সে কখনো আপন হতে পারে না।
38। ‘গতি যার নীচসহ, নীচ সে দুর্মতি।’- কথাটি মেঘনাদ কাকে উদ্দেশ্য করে বলেছেন?
- ক. বিভীষণকে
- খ. রাবণকে
- গ. রামকে
- ঘ. লক্ষ্মণকে
উত্তর: ক। রাম-লক্ষ্মণের মতো নীচদের সাথে মেশার কারণে পিতৃব্য বিভীষণও বর্বরতা শিখেছে এবং তার মন নীচ হয়ে গেছে বোঝাতে মেঘনাদ এ কথা বলেন।
39। ‘নিশীথে অম্বরে মন্দ্রে জীমূতেন্দ্র কোপি’- এর অর্থ কী?
- ক. সাগরের উত্তাল ঢেউ
- খ. গভীর রাতে আকাশে মেঘের প্রবল গর্জন
- গ. সিংহের ভয়ংকর ডাক
- ঘ. রাতের আকাশে চাঁদের আলো
উত্তর: খ। ‘নিশীথ’ অর্থ রাত, ‘অম্বর’ আকাশ এবং ‘জীমূতেন্দ্র’ মানে মেঘের ডাক। অর্থাৎ রাতে মেঘের গর্জনের মতো মেঘনাদ কথা বলে উঠলেন।
40। রাবণ-অনুজ বলতে কাকে বোঝানো হয়েছে?
- ক. মেঘনাদকে
- খ. কুম্ভকর্ণকে
- গ. বিভীষণকে
- ঘ. বীরবাহুকে
উত্তর: গ। রাবণের অনুজ বা ছোট ভাই হলেন বিভীষণ।
41। রাবণ-আত্মজ বলতে কাকে বোঝানো হয়েছে?
- ক. লক্ষ্মণকে
- খ. বিভীষণকে
- গ. ইন্দ্রকে
- ঘ. মেঘনাদকে
উত্তর: ঘ। রাবণের আত্মজ বা পুত্র হলেন মেঘনাদ।
42। ‘শূলীশম্ভুনিভ’ শব্দের অর্থ কী?
- ক. যমরাজের মতো
- খ. ইন্দ্রের বজ্রের মতো
- গ. বিষ্ণুর মতো
- ঘ. ত্রিশূল হাতে শিবের মতো
উত্তর: ঘ। শূলপাণি মহাদেব বা শিবের মতো শক্তিশালী বোঝাতে এই শব্দ ব্যবহৃত হয়েছে (কুম্ভকর্ণের প্রসঙ্গে)।
43। ‘নিকষা’ কে ছিলেন?
- ক. রাবণ, কুম্ভকর্ণ ও বিভীষণের মা
- খ. রাবণের স্ত্রী
- গ. সীতার পরিচারিকা
- ঘ. মেঘনাদের মা
উত্তর: ক। নিকষা সতী ছিলেন রাবণ, কুম্ভকর্ণ ও বিভীষণের জননী। মেঘনাদ বিভীষণকে তার উচ্চবংশের কথা মনে করাতে মায়ের নাম উল্লেখ করেন।
44। মেঘনাদের অপর নাম ইন্দ্রজিৎ কেন?
- ক. তিনি দেবতাদের রাজা ইন্দ্রকে যুদ্ধে জয় করেছিলেন বলে
- খ. ইন্দ্র তাকে বর দিয়েছিলেন বলে
- গ. ইন্দ্রের সাথে তার মিত্রতা ছিল বলে
- ঘ. ইন্দ্রের রূপ ধারণ করেছিলেন বলে
উত্তর: ক। বাসব বা ইন্দ্রকে জয় করার কারণে মেঘনাদকে বাসববিজয়ী বা ইন্দ্রজিৎ বলা হয়।
45। ‘অরিন্দম’ শব্দের অর্থ কী?
- ক. অরণ্যের দেবতা
- খ. অহংকারী ব্যক্তি
- গ. আকাশ থেকে নেমে আসা বীর
- ঘ. অরি বা শত্রুকে দমন করে যে
উত্তর: ঘ। অরি অর্থাৎ শত্রুকে যে দমন করে। এখানে মেঘনাদকে অরিন্দম বলা হয়েছে।
46। ‘সৌমিত্রি’ কার অপর নাম?
- ক. রামের
- খ. ভরতের
- গ. লক্ষ্মণের
- ঘ. শত্রুঘ্নের
উত্তর: গ। সুমিত্রার গর্ভজাত সন্তান বলে লক্ষ্মণকে সৌমিত্রি বলা হয়।
47। রাবণের রাজত্ব কোথায় ছিল?
- ক. কিষ্কিন্ধ্যায়
- খ. কৈলাসে
- গ. স্বর্ণলঙ্কায়
- ঘ. অযোধ্যায়
উত্তর: গ। রাবণ ছিলেন দ্বীপরাজ্য স্বর্ণলঙ্কার রাজা।
48। ‘ভর্ৎস’ শব্দের অর্থ কী?
- ক. ভর্ৎসনা বা তিরস্কার করা
- খ. প্রশংসা করা
- গ. পূজা করা
- ঘ. ভয় দেখানো
উত্তর: ক। বিভীষণ মেঘনাদকে উদ্দেশ্য করে বলেছিলেন, \”বৃথা ভর্ৎস মোরে তুমি\”, অর্থাৎ আমাকে অযথা তিরস্কার করছ।
49। ‘অবিদিত নহে কিছু তোমার চরণে।’- মেঘনাদ কেন এ কথা বলেছেন?
- ক. বিভীষণ কিছুই জানেন না বলে
- খ. বিভীষণ সব ভুলে গেছেন বলে
- গ. মেঘনাদ বিভীষণকে ব্যঙ্গ করতে চেয়েছেন বলে
- ঘ. বিভীষণ জ্ঞানী ও বিজ্ঞতম বলে
উত্তর: ঘ। মেঘনাদ বিভীষণকে বিজ্ঞ ও জ্ঞানী মনে করতেন, তাই তিনি বলেন যে বিভীষণের অজানা কিছুই নেই।
50। মেঘনাদ লক্ষ্মণকে শাস্তিদানের জন্য কার আজ্ঞা বা অনুমতি চেয়েছিলেন?
- ক. রাবণের
- খ. রামের
- গ. বিভীষণের (পিতৃব্যের)
- ঘ. মন্দোদরীর
উত্তর: গ। \”আজ্ঞা কর দাসে, শাস্তি নরাধমে\”- মেঘনাদ তার গুরুজন পিতৃব্য বিভীষণের কাছেই পথ ছাড়ার ও শাস্তি দেওয়ার আজ্ঞা চেয়েছিলেন।
51। উদ্দীপকের মীরজাফরের সাথে ‘বিভীষণের প্রতি মেঘনাদ’ কাব্যাংশের কোন চরিত্রের মিল রয়েছে?
- ক. রাম
- খ. মেঘনাদ
- গ. রাবণ
- ঘ. বিভীষণ
উত্তর: ঘ। মীরজাফর যেমন নিজ দেশের নবাবের সাথে বিশ্বাসঘাতকতা করে বিদেশিদের সাহায্য করেছিল, বিভীষণও তেমনি নিজ ভাতিজা ও দেশের বিরুদ্ধে গিয়ে বহিরাগত রাম-লক্ষ্মণকে সাহায্য করেছিল।
52। উদ্দীপক ও কাব্যাংশটির মূল সাদৃশ্য কোন চেতনায়?
- ক. দেশপ্রেম
- খ. যুদ্ধকৌশল
- গ. বিশ্বাসঘাতকতা ও স্বজনদ্রোহিতা
- ঘ. বীরত্ব
উত্তর: গ। উভয় ক্ষেত্রেই আপনজনের বিশ্বাসঘাতকতা ও স্বজনদ্রোহিতার কারণে নিজ পক্ষের পতন বা বিপদের কথা ফুটে উঠেছে।
53। করিম সাহেবের দরিদ্র ভাইয়ের গুরুত্ব কাব্যাংশের কোন চরণের ভাবার্থকে সমর্থন করে?
- ক. গুণহীন স্বজন, তথাপি নির্গুণ স্বজন শ্রেয়ঃ, পরঃ পরঃ সদা!
- খ. প্রফুল্ল কমলে কীটবাস
- গ. রাঘবদাস আমি
- ঘ. গতি যার নীচসহ, নীচ সে দুর্মতি
উত্তর: ক। গুণহীন আপনজনও যে বাইরের গুণবান লোকের চেয়ে শ্রেষ্ঠ, এই সত্যটিই উদ্দীপকে এবং মেঘনাদের এই উক্তিতে প্রতিফলিত হয়েছে।
54। উদ্দীপকের করিম সাহেবের আচরণের সাথে কাব্যাংশের বিভীষণের আচরণের সাদৃশ্য কোথায়?
- ক. ভীরু প্রকৃতির হওয়ায়
- খ. ধার্মিক হওয়ায়
- গ. ধন-সম্পদের লোভে
- ঘ. নিজ স্বজনকে অবজ্ঞা করে পরকে আপন ভাবায়
উত্তর: ঘ। করিম সাহেব যেমন দরিদ্র ভাইকে অবজ্ঞা করে বাইরের প্রভাবশালীকে আপন ভেবেছিলেন, বিভীষণও রাক্ষসকুলকে ত্যাগ করে বাইরের রামের আশ্রয় নিয়েছিলেন।
55। উদ্দীপকের রাজাকারদের কর্মকাণ্ড কাব্যাংশের কার কর্মকাণ্ডের সমতুল্য?
- ক. রাবণের
- খ. রামের
- গ. বিভীষণের
- ঘ. লক্ষ্মণের
উত্তর: গ। রাজাকাররা যেমন নিজ দেশের বিরুদ্ধে কাজ করেছে, বিভীষণও তেমনি লঙ্কার বিরুদ্ধে গিয়ে রাম-লক্ষ্মণকে সহায়তা করেছে।
56। মেঘনাদের কোন উক্তিটি উদ্দীপকের রাজাকারদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য হতে পারে?
- ক. রাঘবদাস আমি
- খ. স্থাপিলা বিধুরে বিধি স্থাণুর ললাটে
- গ. নিজগৃহপথ, তাত, দেখাও তস্করে?
- ঘ. মহারথী-প্রথা কি এ?
উত্তর: গ। নিজের ঘরের পথ বা দেশের গোপন তথ্য শত্রুদের (তস্করদের) হাতে তুলে দেওয়ার এই উক্তিটি রাজাকারদের দেশদ্রোহিতার সাথে মিলে যায়।
57। তারিকের এই মানসিকতায় মেঘনাদের কোন বৈশিষ্ট্যের প্রকাশ ঘটেছে?
- ক. বীরত্ব ও যুদ্ধনীতি (মহারথী-প্রথা)
- খ. ভীরুতা
- গ. বিশ্বাসঘাতকতা
- ঘ. অহংকার
উত্তর: ক। মেঘনাদ যেমন নিরস্ত্র অবস্থায় লক্ষ্মণের আক্রমণকে মহারথী-প্রথার পরিপন্থী ও কাপুরুষোচিত বলেছিলেন, তারিকের কথাতেও সেই বীরত্ব ও নীতির প্রকাশ ঘটেছে।
58। কাব্যাংশের কোন লাইনে উদ্দীপকের ভাবটি প্রতিফলিত?
- ক. কহ, মহারথী, এ কি মহারথী-প্রথা?
- খ. নাহি শিশু লঙ্কাপুরে, শুনি না হাসিবে এ কথা!
- গ. গতি যার নীচসহ, নীচ সে দুর্মতি
- ঘ. শাস্ত্রে বলে, গুণবান যদি পরজন
উত্তর: ক। সম্মুখ সমরের আহ্বান এবং কাপুরুষোচিত আক্রমণের প্রতিবাদ ‘এ কি মহারথী-প্রথা?’ চরণের মাধ্যমেই কাব্যাংশে ব্যক্ত হয়েছে।
59। শিমুলের মানসিকতায় কাব্যাংশের কোন চরিত্রের প্রতিফলন দেখা যায়?
- ক. লক্ষ্মণ
- খ. রাম
- গ. মেঘনাদ
- ঘ. বিভীষণ
উত্তর: গ। মেঘনাদ তার রাক্ষসবংশের ঐতিহ্য নিয়ে গর্বিত ছিলেন এবং বিভীষণকে তার বংশের মহত্ত্ব স্মরণ করিয়ে দিয়ে হীন রামের দাসত্ব করতে বারণ করেছিলেন।
60। এই বংশমর্যাদাবোধ বোঝাতে মেঘনাদ কোন উপমাটি ব্যবহার করেছেন?
- ক. মৃগেন্দ্র কেশরী, কবে, হে বীরকেশরী, সম্ভাষে শৃগালে মিত্রভাবে
- খ. মহামন্ত্র-বলে যথা নম্রশিরঃ ফণী
- গ. জীমূতেন্দ্র কোপি
- ঘ. প্রফুল্ল কমলে কীটবাস
উত্তর: ক। সিংহ (উচ্চ বংশ) কখনো শৃগালের (হীন ব্যক্তি) সাথে মিত্রতা করে না- এই উপমা দিয়ে মেঘনাদ উচ্চবংশের মর্যাদাবোধ বুঝিয়েছেন।
61। ‘পশিল রক্ষঃপুরে!’- এখানে ‘পশিল’ অর্থ কী?
- ক. প্রবেশ করল
- খ. পলায়ন করল
- গ. পূজা করল
- ঘ. আক্রমণ করল
উত্তর: ক। পশিল শব্দের অর্থ প্রবেশ করল। লক্ষ্মণ রক্ষঃপুরে বা যজ্ঞাগারে প্রবেশ করেছিল।
62। ‘নিকষা সতী তোমার জননী’- মেঘনাদ এই উক্তি দিয়ে বিভীষণকে কী বোঝাতে চেয়েছেন?
- ক. মায়ের প্রতি শ্রদ্ধা
- খ. সীতার পবিত্রতা
- গ. সতী নারীর মর্যাদা
- ঘ. রাক্ষসবংশের শ্রেষ্ঠত্ব ও পবিত্রতা
উত্তর: ঘ। সতী নিকষার সন্তান হিসেবে বিভীষণের জন্ম যে এক উচ্চ ও পবিত্র বংশে, মেঘনাদ সেটাই স্মরণ করিয়ে দিতে চেয়েছেন।
63। ‘সহোদর রক্ষঃশ্রেষ্ঠ’- এখানে ‘রক্ষঃশ্রেষ্ঠ’ কে?
- ক. মেঘনাদ
- খ. বিভীষণ
- গ. রাবণ
- ঘ. কুম্ভকর্ণ
উত্তর: গ। রাক্ষসকুলের শ্রেষ্ঠ হিসেবে বিভীষণের সহোদর রাবণকে বোঝানো হয়েছে।
64। ‘কিন্তু নাহি গঞ্জি তোমা’- মেঘনাদ কেন বিভীষণকে গঞ্জনা বা তিরস্কার করতে চাননি?
- ক. বিভীষণ শক্তিশালী ছিলেন বলে
- খ. বিভীষণ ভুল স্বীকার করেছিলেন বলে
- গ. রামের ভয়ে
- ঘ. বিভীষণ গুরুজন ও পিতৃতুল্য বলে
উত্তর: ঘ। মেঘনাদ বলেছেন, \”গুরুজন তুমি পিতৃতুল্য\”, তাই তিনি তাকে গঞ্জনা দিতে চান না।
65। ‘রাঘবদাস আমি’- বিভীষণের এই উত্তরে কোন মনোভাব প্রকাশ পেয়েছে?
- ক. দেশপ্রেম
- খ. আত্মসমর্পণ ও দাসত্ববোধ
- গ. অহংকার
- ঘ. অনুশোচনা
উত্তর: খ। রামের (রাঘবের) কাছে নিজেকে দাস হিসেবে পরিচয় দেওয়ায় বিভীষণের চরম দাসত্ববোধ প্রকাশ পেয়েছে।
66। ‘স্থাপিলা বিধুরে বিধি স্থাণুর ললাটে’- এখানে ‘স্থাণু’ বলতে কী বোঝানো হয়েছে?
- ক. শিব
- খ. নিশ্চল (আকাশ/শিবের কপাল)
- গ. আকাশ
- ঘ. ধূলিকণা
উত্তর: খ। স্থাণু মানে নিশ্চল। বিধাতা চাঁদকে নিশ্চল আকাশে (বা শিবের কপালে) স্থাপন করেছেন।
67। ‘পড়ি কি ভূতলে শশী যান গড়াগড়ি ধূলায়?’- এখানে ‘শশী’ কার প্রতীক?
- ক. সীতার
- খ. লক্ষ্মণের
- গ. উচ্চবংশীয় মর্যাদাসম্পন্ন ব্যক্তির (বিভীষণ)
- ঘ. রামের
উত্তর: গ। চাঁদ বা শশী যেমন ধুলোয় গড়ায় না, তেমনি উচ্চবংশীয় বিভীষণেরও নীচদের সাথে মেশা উচিত নয়। শশী এখানে বিভীষণের মর্যাদার প্রতীক।
68। ‘স্বচ্ছ সরোবরে করে কেলি রাজহংস’- এখানে ‘রাজহংস’ কাকে নির্দেশ করে?
- ক. লক্ষ্মণকে
- খ. দেবতাদের
- গ. রামকে
- ঘ. রাক্ষসকুলকে বা বিভীষণকে
উত্তর: ঘ। স্বচ্ছ জলে খেলা করা রাজহংসের মতো রাক্ষসকুলের বীরদের অবস্থান অনেক উঁচুতে। এটি বিভীষণের উচ্চবংশকে নির্দেশ করে।
69। ‘পঙ্কিল সলিলে, শৈবালদলের ধাম’- এটি কাদের অবস্থান নির্দেশ করে?
- ক. দেবতাদের
- খ. রাক্ষসদের
- গ. রাম-লক্ষ্মণ ও তাদের বানরসেনার
- ঘ. মেঘনাদের
উত্তর: গ। কাদা-জলে পূর্ণ শৈবালের আবাস বলতে এখানে রাম-লক্ষ্মণের নীচ ও হীন অবস্থানকে বোঝানো হয়েছে।
70। ‘অজ্ঞ দাস, বিজ্ঞতম তুমি’- এখানে ‘অজ্ঞ দাস’ কে?
- ক. মেঘনাদ
- খ. লক্ষ্মণ
- গ. বিভীষণ
- ঘ. হনুমান
উত্তর: ক। মেঘনাদ পিতৃব্যকে সম্মান দেখিয়ে নিজেকে ‘অজ্ঞ দাস’ এবং বিভীষণকে ‘বিজ্ঞতম’ বলেছেন।
71। ‘ক্ষুদ্রমতি নর, শূর, লক্ষ্মণ’- মেঘনাদ লক্ষ্মণকে ‘ক্ষুদ্রমতি’ কেন বলেছেন?
- ক. সে নিরস্ত্রকে আক্রমণ করতে এসেছে বলে তার মন নীচ
- খ. সে বানরসেনা নিয়ে এসেছে বলে
- গ. সে আকারে ছোট বলে
- ঘ. সে মেঘনাদকে ভয় পায় বলে
উত্তর: ক। মহারথী প্রথা ভেঙে নিরস্ত্রকে যুদ্ধের আহ্বান জানানোয় মেঘনাদ লক্ষ্মণকে ক্ষুদ্রমতি বা হীনমনা বলেছেন।
72। ‘বিমুখে সমরে মোরে সৌমিত্রিকুমতি!’- এখানে ‘সুমতি’র বিপরীত ‘কুমতি’ শব্দটি কেন ব্যবহৃত হয়েছে?
- ক. লক্ষ্মণ যুদ্ধে পারদর্শী বলে
- খ. লক্ষ্মণ খুব জ্ঞানী বলে
- গ. মেঘনাদের স্তুতি করতে
- ঘ. লক্ষ্মণের মন্দ বা অসৎ বুদ্ধি বোঝাতে
উত্তর: ঘ। লক্ষ্মণের অসৎ উদ্দেশ্য ও নীচ মানসিকতা বোঝাতেই তাকে সৌমিত্রি-কুমতি বলা হয়েছে।
73। ‘কী দেখি ডরিবে এ দাস হেন দুর্বল মানবে?’- মেঘনাদ লক্ষ্মণকে কী ভেবেছেন?
- ক. দৈত্য
- খ. দুর্বল মানব
- গ. মহাবীর
- ঘ. দেবতা
উত্তর: খ। মেঘনাদ দেব-দৈত্য জয় করেছেন, তাই লক্ষ্মণকে তিনি সামান্য দুর্বল মানব হিসেবেই জ্ঞান করেছেন।
74। ‘দম্ভী’ শব্দের অর্থ কী?
- ক. দাম্ভিক বা অহংকারী
- খ. বিনয়ী
- গ. ভীতু
- ঘ. শক্তিশালী
উত্তর: ক। দম্ভ করে যে, তাকে দম্ভী বলে। লক্ষ্মণ দাম্ভিক চিত্তে প্রবেশ করেছিল বলে তাকে দম্ভী বলা হয়েছে।
75। ‘তব জন্মপুরে, তাত, পদার্পণ করে বনবাসী!’- এখানে বনবাসী কে?
- ক. ঋষি
- খ. রাম-লক্ষ্মণ
- গ. রাবণ
- ঘ. মেঘনাদ
উত্তর: খ। রাম-লক্ষ্মণ বনবাসে ছিল, তাই মেঘনাদ তাদের বনবাসী বলে উল্লেখ করেছেন।
76। ‘প্রফুল্ল কমলে কীটবাস?’- এই উপমায় ‘কীট’ বলতে কাকে বোঝানো হয়েছে?
- ক. বিভীষণকে
- খ. মেঘনাদকে
- গ. লক্ষ্মণকে
- ঘ. রামকে
উত্তর: গ। প্রফুল্ল কমল হলো লঙ্কাপুরী বা যজ্ঞাগার, আর সেখানে অনুপ্রবেশকারী হীন লক্ষ্মণ হলো কীট।
77। ‘মহামন্ত্র-বলে যথা নম্রশিরঃ ফণী’- এখানে ‘ফণী’ বলতে কী বোঝায়?
- ক. ফণা তোলা সাপ
- খ. দেবতার আশীর্বাদ
- গ. মেঘের ডাক
- ঘ. পাখির কলরব
উত্তর: ক। ফণী মানে সাপ। মন্ত্রপড়া সাপের মতো বিভীষণ মাথা নিচু করেছিলেন।
78। ‘মলিনবদন লাজে’- কার বদন মলিন হয়েছিল?
- ক. বিভীষণের
- খ. রাবণের
- গ. লক্ষ্মণের
- ঘ. মেঘনাদের
উত্তর: ক। মেঘনাদের তীব্র ভর্ৎসনায় লজ্জিত হয়ে বিভীষণের মুখ মলিন হয়ে গিয়েছিল।
79। ‘বিরত সতত পাপে দেবকুল’- বিভীষণের এই উক্তির অর্থ কী?
- ক. দেবতারা যুদ্ধে যোগ দিয়েছেন
- খ. দেবতারা রাবণকে শাস্তি দিচ্ছেন
- গ. দেবতারা সবসময় পাপ থেকে দূরে থাকেন
- ঘ. দেবতারা পাপ কাজ করতে পছন্দ করেন
উত্তর: গ। বিভীষণ বোঝাতে চেয়েছেন যে দেবতারা পাপমুক্ত, কিন্তু রাবণ পাপ করেছে, তাই দেবতাদের আশীর্বাদ রাবণের সাথে নেই।
80। ‘বসুধা’ শব্দের অর্থ কী?
- ক. সাগর
- খ. পৃথিবী
- গ. আকাশ
- ঘ. পাতাল
উত্তর: খ। প্রলয়ে যেমন বসুধা বা পৃথিবী ডুবে যায়, তেমনি লঙ্কাও পাপের কারণে ডুবছে বলে বিভীষণ জানিয়েছেন।
81। ‘তেঁই আমি।’- এখানে ‘তেঁই’ শব্দের অর্থ কী?
- ক. তুমি
- খ. তজ্জন্য বা সেহেতু
- গ. তাড়াতাড়ি
- ঘ. আমি
উত্তর: খ। সেহেতু বা সেই কারণেই বিভীষণ রামের আশ্রয় নিয়েছেন বোঝাতে ‘তেঁই’ শব্দটি ব্যবহৃত হয়েছে।
82। ‘পরদোষে কে চাহে মজিতে?’- এ কথাটি কে বলেছে?
- ক. বিভীষণ
- খ. রাম
- গ. মেঘনাদ
- ঘ. রাবণ
উত্তর: ক। রাবণের দোষে লঙ্কার ধ্বংস অনিবার্য জেনে বিভীষণ নিজেকে রক্ষা করতে এই উক্তি করেছেন।
83। ‘রুষিলা বাসবত্রাস।’- ‘রুষিলা’ শব্দের অর্থ কী?
- ক. কেঁদে ফেলল
- খ. রাগান্বিত হলো
- গ. হাসল
- ঘ. দৌড়ে গেল
উত্তর: খ। বিভীষণের খোঁড়া যুক্তি শুনে বাসবত্রাস মেঘনাদ রুষিলা বা রাগান্বিত হলেন।
84। ‘অম্বরে মন্দ্রে জীমূতেন্দ্র কোপি’- এখানে ‘অম্বর’ অর্থ কী?
- ক. সাগর
- খ. বাতাস
- গ. মাটি
- ঘ. আকাশ
উত্তর: ঘ। অম্বর মানে আকাশ। আকাশে মেঘের গর্জনের মতো মেঘনাদ কথা বললেন।
85। ‘জীমূতেন্দ্র’ শব্দের অর্থ কী?
- ক. সমুদ্রের ঢেউ
- খ. মেঘের ডাক বা আওয়াজ
- গ. হাতির ডাক
- ঘ. সিংহের গর্জন
উত্তর: খ। জীমূতেন্দ্র মানে মেঘের ডাক বা প্রবল গর্জন।
86। ‘ধর্মপথগামী, হে রাক্ষসরাজানুজ’- মেঘনাদ বিভীষণকে এ কথা কেন বলেছেন?
- ক. বিভীষণ ধর্ম পালনের বড়াই করায় তাকে তীব্র ব্যঙ্গ করতে
- খ. বিভীষণ সত্যিই ধর্ম মেনে চলেন বলে
- গ. মেঘনাদ তাকে সম্মান করতে চেয়েছেন বলে
- ঘ. বিভীষণ মন্দিরে যান বলে
উত্তর: ক। বিভীষণ নিজেকে রামের আশ্রয়ে গিয়ে ধার্মিক প্রমাণের চেষ্টা করায় মেঘনাদ তীব্র ব্যঙ্গ করে তাকে এই কথা বলেন।
87। ‘এ সকলে দিলা জলাঞ্জলি?’- মেঘনাদ কোন বিষয়গুলোর কথা বলেছেন?
- ক. জ্ঞাতি-ধর্ম, ভ্রাতৃত্ববোধ ও জাতি
- খ. রাজ্য ও সিংহাসন
- গ. অস্ত্র ও শক্তি
- ঘ. ধন-সম্পদ
উত্তর: ক। বিভীষণ রামের পক্ষ নেওয়ায় সে তার জ্ঞাতি, ভ্রাতৃত্ববোধ এবং নিজ জাতিকে জলাঞ্জলি বা সম্পূর্ণ বিসর্জন দিয়েছে বলে মেঘনাদ উল্লেখ করেছেন।
88। ‘নির্গুণ স্বজন শ্রেয়ঃ’- শাস্ত্রের এই কথার অর্থ কী?
- ক. গুণবান পরজন ভালো
- খ. আপনজনকে দূরে রাখা উচিত
- গ. আপনজনের গুণ না থাকলেও সে পরজনের চেয়ে ভালো
- ঘ. গুণহীন ব্যক্তিকে ত্যাগ করা উচিত
উত্তর: গ। শাস্ত্রমতে গুণহীন হলেও আপনজন সবসময় গুণবান পরজনের চেয়ে উত্তম।
89। ‘গতি যার নীচসহ, নীচ সে দুর্মতি।’- এখানে ‘দুর্মতি’ শব্দের অর্থ কী?
- ক. বুদ্ধিমান
- খ. চালাক
- গ. সৎব্যক্তি
- ঘ. অসৎ বা মন্দবুদ্ধি
উত্তর: ঘ। রাম-লক্ষ্মণের মতো নীচদের সাথে মেশার কারণে বিভীষণের বুদ্ধিও অসৎ বা মন্দ (দুর্মতি) হয়ে গেছে।
90। ‘আহবে’ শব্দের অর্থ কী?
- ক. যুদ্ধে
- খ. আকাশে
- গ. পূজায়
- ঘ. যজ্ঞে
উত্তর: ক। মেঘনাদ বলেছিল ‘ভঞ্জিব আহবে’, যার অর্থ আমি যুদ্ধে (আহবে) তাকে বিনাশ করব।
91। মেঘনাদের স্ত্রীর নাম কী ছিল?
- ক. মন্দোদরী
- খ. প্রমীলা
- গ. সীতা
- ঘ. শর্মিষ্ঠা
উত্তর: খ। (যদিও মূল পাঠে সরাসরি নেই, মেঘনাদবধ কাব্যে মেঘনাদের স্ত্রীর নাম প্রমীলা। তবে পাঠ্যবইয়ের তথ্যানুযায়ী এটি সাধারণ জ্ঞানের অংশ হতে পারে)।
92। ‘ধীমান’ শব্দের অর্থ কী?
- ক. ধীসম্পন্ন বা জ্ঞানী
- খ. বোকা
- গ. সাহসী
- ঘ. অহংকারী
উত্তর: ক। বিভীষণ মেঘনাদকে ‘ধীমান’ বলে সম্বোধন করেছিলেন, যার অর্থ জ্ঞানী বা ধীসম্পন্ন।
93। ‘রাবণি’ কে?
- ক. কুম্ভকর্ণ
- খ. রাবণ
- গ. মেঘনাদ
- ঘ. বিভীষণ
উত্তর: গ। রাবণের পুত্র বলে মেঘনাদকে ‘রাবণি’ বলা হয়েছে।
94। ‘রক্ষোরথী’ শব্দের অর্থ কী?
- ক. রাক্ষসদের রাজা
- খ. রথ ধ্বংসকারী
- গ. রথ প্রস্তুতকারী
- ঘ. রক্ষকুলের বীর
উত্তর: ঘ। রক্ষকুলের বীর বা রথচালককে রক্ষোরথী বলা হয়।
95। ‘মজাইলা’ শব্দের অর্থ কী?
- ক. রক্ষা করা
- খ. মজা দেখা
- গ. বিপদগ্রস্ত করা বা ধ্বংস করা
- ঘ. আনন্দ দেওয়া
উত্তর: গ। ‘মজাইলা এ কনক-লঙ্কা’ বলতে রাবণ নিজের ভুলে লঙ্কাকে বিপদগ্রস্ত করেছেন তা বোঝানো হয়েছে।
96। ‘তেঁই’ শব্দটি কোন অর্থে ব্যবহৃত হয়েছে?
- ক. তুমি
- খ. তারা
- গ. তাই বা সেহেতু
- ঘ. তিনটি
উত্তর: গ। ‘তেঁই আমি’ মানে সেহেতু বা সেকারণেই আমি।
97। ‘জলাঞ্জলি’ দেওয়া বলতে কী বোঝায়?
- ক. নদীতে ঝাঁপ দেওয়া
- খ. সম্পূর্ণ পরিত্যাগ করা
- গ. জল পান করা
- ঘ. জল দিয়ে পূজা করা
উত্তর: খ। জলাঞ্জলি দেওয়া মানে কোনো কিছুকে সম্পূর্ণভাবে ত্যাগ বা বিসর্জন দেওয়া।
98। ‘নীচ’ শব্দের অর্থ কী?
- ক. মাটির নিচে
- খ. নিচের দিকে
- গ. গভীর
- ঘ. হীন, নিকৃষ্ট বা ইতর
উত্তর: ঘ। মেঘনাদ রাম-লক্ষ্মণকে হীন বা নিকৃষ্ট বোঝাতে ‘নীচ’ শব্দ ব্যবহার করেছেন।
99। ‘बली’ (বলী) শব্দের অর্থ কী?
- ক. বল নিয়ে খেলা করা
- খ. বলবান বা বীর
- গ. বলি দেওয়া
- ঘ. দুর্বল
উত্তর: খ। বীরেন্দ্র বলী বলতে মেঘনাদকে অত্যন্ত বলবান বা বীর হিসেবে আখ্যায়িত করা হয়েছে।
100। মেঘনাদের মতে রাম-লক্ষ্মণ কোন বংশের সন্তান?
- ক. কুরুবংশের
- খ. রাক্ষসবংশের
- গ. যদুবংশের
- ঘ. রঘুবংশের
উত্তর: ঘ। রাম-লক্ষ্মণকে ‘রাঘব’ বলা হয়েছে, কারণ তারা রঘুবংশের সন্তান।
101। ‘মেঘনাদবধ কাব্য’ কয়টি সর্গে বিন্যস্ত?
- ক. আটটি
- খ. দশটি
- গ. সাতটি
- ঘ. নয়টি
উত্তর: ঘ। পাঠ-পরিচিতিতে স্পষ্টভাবে উল্লেখ আছে যে ‘মেঘনাদবধ কাব্য’ সর্বমোট নয়টি সর্গে বিন্যস্ত।
102। ‘বিভীষণের প্রতি মেঘনাদ’ কাব্যাংশটি ‘মেঘনাদবধ কাব্যে’-এর কোন সর্গ থেকে নেওয়া হয়েছে?
- ক. নবম (সংস্করণ)
- খ. ষষ্ঠ (বধো)
- গ. প্রথম (অভিষেক)
- ঘ. পঞ্চম (উদ্যোগ)
উত্তর: খ। এটি কাব্যের ষষ্ঠ সর্গ বা ‘বধো’ নামক সর্গ থেকে সংকলিত।
103। মেঘনাদের মৃত্যু কার হাতে ঘটে?
- ক. লক্ষ্মণের
- খ. রামের
- গ. হনুমানের
- ঘ. বিভীষণের
উত্তর: ক। ষষ্ঠ সর্গে অন্যায় যুদ্ধে লক্ষ্মণের হাতে বীর মেঘনাদের মৃত্যু ঘটে।
104। রাবণ কাকে মহাযুদ্ধের সেনাপতি হিসেবে বরণ করেছিলেন?
- ক. কুম্ভকর্ণকে
- খ. মেঘনাদকে
- গ. বিভীষণকে
- ঘ. বীরবাহুকে
উত্তর: খ। কুম্ভকর্ণ ও বীরবাহুর মৃত্যুর পর রাবণ পুত্র মেঘনাদকে পরবর্তী দিনের মহাযুদ্ধের সেনাপতি হিসেবে বরণ করেন।
105। মেঘনাদের ইষ্টদেবতা কে ছিলেন?
- ক. ব্রহ্মা
- খ. ইন্দ্র
- গ. অগ্নিদেব বা বৈশ্বানর
- ঘ. শিব
উত্তর: গ। মেঘনাদ নিকুম্ভিলা যজ্ঞাগারে ইষ্টদেবতা অগ্নিদেবের পূজা সম্পন্ন করতে চেয়েছিলেন।
106। রেনেসাঁস বা নবজাগরণের সারকথা কী?
- ক. অন্ধবিশ্বাস
- খ. মানবকেন্দ্রিকতা
- গ. দেবভক্তি
- ঘ. রাজতন্ত্র
উত্তর: খ। পাঠ-পরিচিতিতে বলা হয়েছে, মানবকেন্দ্রিকতাই রেনেসাঁস বা নবজাগরণের সারকথা।
107। বাল্মীকি-রামায়ণকে নবমূল্য দান করেছেন কে?
- ক. রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
- খ. কৃত্তিবাস ওঝা
- গ. মাইকেল মধুসূদন দত্ত
- ঘ. কাজী নজরুল ইসলাম
উত্তর: গ। উনিশ শতকের বাংলার নবজাগরণের প্রেরণায় মাইকেল মধুসূদন দত্ত বাল্মীকি-রামায়ণকে মানবকেন্দ্রিকতার আলোকে নবমূল্য দান করেছেন।
108। মধুসূদনের লেখনীতে পুরাণের রাক্ষসরাজ রাবণ ও মেঘনাদ কীভাবে উপস্থাপিত?
- ক. যাবতীয় মানবীয় গুণের ধারকরূপে
- খ. নিষ্ঠুর হিসেবে
- গ. দুর্বল চরিত্র হিসেবে
- ঘ. ভিলেন হিসেবে
উত্তর: ক। দেবনির্ভরতার বিপরীতে মধুসূদন রাবণ ও মেঘনাদকে যাবতীয় মানবীয় গুণের ধারক হিসেবে উপস্থাপন করেছেন এবং তাদের প্রতিই তার মমতা ও শ্রদ্ধা।
109। ‘বিভীষণের প্রতি মেঘনাদ’ কাব্যাংশটি কোন ছন্দে রচিত?
- ক. পয়ার ছন্দে
- খ. স্বরবৃত্ত ছন্দে
- গ. মাত্রাবৃত্ত ছন্দে
- ঘ. অমিল প্রবহমান যতিস্বাধীন অক্ষরবৃত্ত ছন্দে
উত্তর: ঘ। এটি ১৪ মাত্রার অমিল প্রবহমান যতিস্বাধীন অক্ষরবৃত্ত ছন্দে (বা অমিত্রাক্ষর ছন্দে) রচিত।
110। অমিত্রাক্ষর ছন্দের প্রতিটি পঙ্ক্তি কয় মাত্রার?
- ক. ৮ মাত্রার
- খ. ১৮ মাত্রার
- গ. ১৪ মাত্রার
- ঘ. ১০ মাত্রার
উত্তর: গ। অমিত্রাক্ষর ছন্দের প্রতিটি চরণ বা পঙ্ক্তি ১৪ মাত্রার হয়ে থাকে।
111। অমিত্রাক্ষর ছন্দের পঙ্ক্তিটি কয়টি পর্বে বিন্যস্ত থাকে?
- ক. ৭ + ৭
- খ. ৮ + ৬
- গ. ৬ + ৮
- ঘ. ৪ + ৪ + ৬
উত্তর: খ। প্রতিটি পঙ্ক্তি ১৪ মাত্রায় এবং ৮ + ৬ মাত্রার দুটি পর্বে বিন্যস্ত থাকে।
112। অমিত্রাক্ষর ছন্দের প্রধান বৈশিষ্ট্য কোনটি?
- ক. চরণের শেষে অন্ত্যমিল থাকে
- খ. নির্দিষ্ট স্থানে থামতে হয়
- গ. দুই পঙ্ক্তির চরণান্তিক মিল পরিহার করা হয়
- ঘ. যতিচিহ্নের ব্যবহার থাকে না
উত্তর: গ। প্রথম পঙ্ক্তির সঙ্গে দ্বিতীয় পঙ্ক্তির চরণান্তের মিলহীনতাই (অমিত্রাক্ষর) এর প্রধান বৈশিষ্ট্য।
113। কাব্যাংশটিতে বিরামচিহ্নের স্বাধীন ব্যবহার কীসের ওপর নির্ভর করে?
- ক. বিষয় বা বক্তব্যের অর্থের অনুষঙ্গে
- খ. চরণের দৈর্ঘ্যের ওপর
- গ. মাত্রার ওপর
- ঘ. পাঠকের ইচ্ছার ওপর
উত্তর: ক। যতিপাত বা বিরামচিহ্নের স্বাধীন ব্যবহার বিষয় বা বক্তব্যের অর্থের অনুষঙ্গেই হয়ে থাকে।
114। মধুসূদন-পূর্ব হাজার বছরের বাংলা কবিতার মূল ছন্দ কী ছিল?
- ক. পয়ার
- খ. মাত্রাবৃত্ত
- গ. গদ্যছন্দ
- ঘ. অক্ষরবৃত্ত
উত্তর: ক। মধুসূদনের পূর্বে হাজার বছর ধরে বাংলা কবিতার ছন্দ ছিল মূলত পয়ার ছন্দ।
115। অমিত্রাক্ষর ছন্দ মূলত কোন ছন্দের নবরূপায়ণ?
- ক. মাত্রাবৃত্ত ছন্দের
- খ. অক্ষরবৃত্ত ছন্দের
- গ. পয়ার ছন্দের
- ঘ. স্বরবৃত্ত ছন্দের
উত্তর: খ। অমিত্রাক্ষর ছন্দ মূলত বাংলা অক্ষরবৃত্ত ছন্দেরই নবরূপায়ণ।
116। আধুনিক বাংলা কবিতার পথিকৃৎ কে?
- ক. রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
- খ. বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
- গ. জীবনানন্দ দাশ
- ঘ. মাইকেল মধুসূদন দত্ত
উত্তর: ঘ। মাইকেল মধুসূদন দত্তকেই আধুনিক বাংলা কবিতার পথিকৃৎ বলা হয়।
117। মাইকেল মধুসূদন দত্ত কবে জন্মগ্রহণ করেন?
- ক. ১৮২৪ খ্রিষ্টাব্দের ২৫শে জানুয়ারি
- খ. ১৮৩৩ খ্রিষ্টাব্দের ২৫শে জানুয়ারি
- গ. ১৮৭৩ খ্রিষ্টাব্দের ২৯শে জুন
- ঘ. ১৮৪৩ খ্রিষ্টাব্দের ২৫শে মে
উত্তর: ক। কবি পরিচিতি অনুযায়ী তিনি ১৮২৪ খ্রিষ্টাব্দের ২৫শে জানুয়ারি জন্মগ্রহণ করেন।
118। মাইকেল মধুসূদন দত্তের জন্মস্থান কোথায়?
- ক. কলকাতার শিবপুরে
- খ. ঢাকার বিক্রমপুরে
- গ. নদীয়ার কৃষ্ণনগরে
- ঘ. যশোর জেলার সাগরদাঁড়ি গ্রামে
উত্তর: ঘ। তিনি যশোর জেলার কপোতাক্ষ নদের তীরে সাগরদাঁড়ি গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন।
119। মধুসূদন দত্তের পিতার নাম কী?
- ক. রামচন্দ্র দত্ত
- খ. হরিনাথ দত্ত
- গ. রাজনারায়ণ দত্ত
- ঘ. দেবেন্দ্রনাথ দত্ত
উত্তর: গ। তার পিতার নাম ছিল রাজনারায়ণ দত্ত।
120। মধুসূদন দত্তের মায়ের নাম কী?
- ক. প্রভাবতী দেবী
- খ. জাহ্নবী দেবী
- গ. কাদম্বিনী দেবী
- ঘ. ভুবনেশ্বরী দেবী
উত্তর: খ। তার মাতার নাম জাহ্নবী দেবী।
121। মধুসূদন দত্ত কবে হিন্দু কলেজের স্কুল শাখায় ভর্তি হন?
- ক. ১৮৩৩ খ্রিষ্টাব্দে
- খ. ১৮৫০ খ্রিষ্টাব্দে
- গ. ১৮৪৩ খ্রিষ্টাব্দে
- ঘ. ১৮২৪ খ্রিষ্টাব্দে
উত্তর: ক। প্রাথমিক শিক্ষা শেষে তিনি ১৮৩৩ খ্রিষ্টাব্দে কলকাতার হিন্দু কলেজের স্কুল শাখায় ভর্তি হন।
122। মধুসূদন দত্ত খ্রিষ্টধর্ম গ্রহণ করেন কবে?
- ক. ১৮৩৩ খ্রিষ্টাব্দে
- খ. ১৮৭৩ খ্রিষ্টাব্দে
- গ. ১৮৪৩ খ্রিষ্টাব্দে
- ঘ. ১৮৫৬ খ্রিষ্টাব্দে
উত্তর: গ। তিনি ১৮৪৩ খ্রিষ্টাব্দে খ্রিষ্টধর্ম গ্রহণ করে নামের শুরুতে ‘মাইকেল’ যোগ করেন।
123। হিন্দু কলেজ ত্যাগ করার পর মধুসূদন কোথায় ভর্তি হন?
- ক. প্রেসিডেন্সি কলেজে
- খ. শিবপুরের বিশপস কলেজে
- গ. সংস্কৃত কলেজে
- ঘ. কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়ে
উত্তর: খ। ধর্মান্তরিত হওয়ার পর তাঁকে হিন্দু কলেজ ত্যাগ করে শিবপুরের বিশপস কলেজে ভর্তি হতে হয়।
124। বিশপস কলেজে মধুসূদন কোন ভাষাগুলো শেখার সুযোগ পান?
- ক. গ্রিক, লাতিন ও হিব্রু
- খ. ফরাসি, জার্মান ও ইতালীয়
- গ. আরবি, ফারসি ও উর্দু
- ঘ. ইংরেজি, সংস্কৃত ও বাংলা
উত্তর: ক। বিশপস কলেজে তিনি গ্রিক, লাতিন ও হিব্রু ভাষা শিক্ষার সুযোগ লাভ করেন।
125। হিন্দু কলেজে ছাত্রাবস্থায় মধুসূদনের সাহিত্যচর্চার মাধ্যম কী ছিল?
- ক. সংস্কৃত
- খ. ইংরেজি
- গ. বাংলা
- ঘ. ফারসি
উত্তর: খ। ছাত্রাবস্থায় বিদেশি ভাষার প্রতি মোহের কারণে তাঁর সাহিত্যচর্চার মাধ্যম ছিল ইংরেজি।
126। বাংলায় চতুর্দশপদী কবিতা বা সনেটের প্রবর্তক কে?
- ক. কাজী নজরুল ইসলাম
- খ. সত্যেন্দ্রনাথ দত্ত
- গ. রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
- ঘ. মাইকেল মধুসূদন দত্ত
উত্তর: ঘ। বাংলায় চতুর্দশপদী কবিতা বা সনেটের প্রবর্তক মাইকেল মধুসূদন দত্ত।
127। মধুসূদন দত্ত রচিত প্রহসনের নাম কী?
- ক. বীরাঙ্গনা ও ব্রজাঙ্গনা
- খ. একেই কি বলে সভ্যতা? ও বুড় সালিকের ঘাড়ে রোঁ
- গ. শর্মিষ্ঠা ও পদ্মাবতী
- ঘ. কৃষ্ণকুমারী ও মায়াকানন
উত্তর: খ। ‘একেই কি বলে সভ্যতা?’ ও ‘বুড় সালিকের ঘাড়ে রোঁ’ তাঁর অন্যতম শ্রেষ্ঠ প্রহসন।
128। নিচের কোনটি মাইকেল মধুসূদনের আধুনিক নাটক?
- ক. চতুর্দশপদী কবিতাবলি
- খ. তিলোত্তমাসম্ভব কাব্য
- গ. শর্মিষ্ঠা
- ঘ. একেই কি বলে সভ্যতা?
উত্তর: গ। ‘শর্মিষ্ঠা’, ‘পদ্মাবতী’ ও ‘কৃষ্ণকুমারী’ তাঁর লেখা আধুনিক নাটক।
129। ‘বীরাঙ্গনা কাব্য’ মধুসূদন দত্তের কী ধরনের রচনা?
- ক. প্রহসন
- খ. নাটক
- গ. কাব্যগ্রন্থ
- ঘ. উপন্যাস
উত্তর: গ। ‘বীরাঙ্গনা কাব্য’ তাঁর রচিত অন্যতম শ্রেষ্ঠ কাব্যগ্রন্থ।
130। ‘মেঘনাদবধ কাব্য’ কার লেখা?
- ক. ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর
- খ. বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
- গ. হেমচন্দ্র বন্দ্যোপাধ্যায়
- ঘ. মাইকেল মধুসূদন দত্ত
উত্তর: ঘ। ‘মেঘনাদবধ কাব্য’ মাইকেল মধুসূদন দত্ত রচিত বাংলা সাহিত্যের অন্যতম শ্রেষ্ঠ মহাকাব্য।
131। মাইকেল মধুসূদন দত্ত কবে মৃত্যুবরণ করেন?
- ক. ১৮৭৪ খ্রিষ্টাব্দের ২৫শে জানুয়ারি
- খ. ১৮৯৯ খ্রিষ্টাব্দের ২৭শে মে
- গ. ১৯৪১ খ্রিষ্টাব্দের ৭ই আগস্ট
- ঘ. ১৮৭৩ খ্রিষ্টাব্দের ২৯শে জুন
উত্তর: ঘ। কবি ১৮৭৩ খ্রিষ্টাব্দের ২৯শে জুন কলকাতায় মৃত্যুবরণ করেন।
132। কোন ভাষার মোহ থেকে মুক্ত হয়ে মধুসূদন মাতৃভাষায় সাহিত্যচর্চায় ফিরে আসেন?
- ক. গ্রিক
- খ. লাতিন
- গ. ফরাসি
- ঘ. ইংরেজি
উত্তর: ঘ। ছাত্রাবস্থায় ইংরেজির প্রতি মোহ থাকলেও পরে তিনি মাতৃভাষা বাংলায় ফিরে আসেন।
133। মাইকেল মধুসূদন দত্ত বাংলা সাহিত্যের কোন যুগের উদ্ভবকালের অন্যতম শ্রেষ্ঠ নাট্যকার?
- ক. প্রাচীন যুগের
- খ. প্রাক-আধুনিক যুগের
- গ. মধ্যযুগের
- ঘ. আধুনিক যুগের
উত্তর: ঘ। তিনি আধুনিক বাংলা নাটকের উদ্ভবযুগের অন্যতম শ্রেষ্ঠ নাট্যকার।
134। ‘কৃষ্ণকুমারী’ মাইকেল মধুসূদন দত্তের কী ধরনের রচনা?
- ক. প্রহসন
- খ. মহাকাব্য
- গ. আধুনিক নাটক
- ঘ. সনেট
উত্তর: গ। ‘কৃষ্ণকুমারী’ হলো তাঁর রচিত একটি আধুনিক নাটক।
135। মধুসূদনের কবিতায় ‘পয়ার’ ছন্দের কোন প্রথাটি ভাঙা হয়?
- ক. পর্বের বিন্যাস
- খ. চরণের শেষে অন্ত্যমিল
- গ. স্তবকের ব্যবহার
- ঘ. মাত্রার হিসাব
উত্তর: খ। হাজার বছরের পয়ার ছন্দের অনড় প্রথা ছিল এক চরণের শেষে অন্য চরণের মিল রাখা, মধুসূদন এই অন্ত্যমিলের প্রথাকেই ভেঙেছেন।
