জীবন ও বৃক্ষ প্রবন্ধের MCQ | HSC বাংলা ১ম পত্র-এর “জীবন ও বৃক্ষ” প্রবন্ধ থেকে বোর্ড পরীক্ষায় নিয়মিত প্রশ্ন আসে। এই পোস্টে ১২২টি বহুনির্বাচনি প্রশ্ন (MCQ) উত্তর ও ব্যাখ্যাসহ দেওয়া হলো।
জীবন ও বৃক্ষ প্রবন্ধের বহুনির্বাচনি প্রশ্ন ও উত্তর (MCQ)
1। সমাজের প্রকৃত কাজ কোনটি?
- ক. অর্থনৈতিক উন্নয়ন করা
- খ. মানুষকে বড় করে তোলা
- গ. আইন-শৃঙ্খলা রক্ষা করা
- ঘ. কেবল টিকে থাকার সুবিধা দেওয়া
উত্তর: খ। প্রবন্ধের শুরুতেই বলা হয়েছে, সমাজের কাজ কেবল টিকে থাকার সুবিধা দেওয়া নয়, মানুষকে বড় করে তোলা।
2। সমাজের উচিত মানুষের জীবনে কীসের জন্য আগ্রহ জাগিয়ে দেওয়া?
- ক. টিকে থাকার জন্য
- খ. ক্ষমতা লাভের জন্য
- গ. অর্থ উপার্জনের জন্য
- ঘ. বিকশিত জীবনের জন্য
উত্তর: ঘ। সমাজের কাজ হলো বিকশিত জীবনের জন্য মানুষের জীবনে আগ্রহ জাগিয়ে দেওয়া।
3। সংসার কীরূপ মানুষে পরিপূর্ণ?
- ক. শিক্ষিত ও জ্ঞানী মানুষে
- খ. সৃজনশীল ও ভাবুক মানুষে
- গ. উদার ও মহৎ মানুষে
- ঘ. স্বল্পপ্রাণ স্থূলবুদ্ধি ও জবরদস্তিপ্রিয় মানুষে
উত্তর: ঘ। লেখকের মতে, আমাদের চারপাশের সংসার স্বল্পপ্রাণ, স্থূলবুদ্ধি ও জবরদস্তিপ্রিয় মানুষে পরিপূর্ণ।
4। স্থূলবুদ্ধি ও জবরদস্তিপ্রিয় মানুষের প্রধান কাজ কী?
- ক. অপরের সার্থকতার পথে অন্তরায় সৃষ্টি করা
- খ. নিজের জীবন সার্থক করা
- গ. সাহিত্য চর্চা করা
- ঘ. সমাজের উন্নয়ন করা
উত্তর: ক। এই ধরনের মানুষের কাজ নিজেদের জীবনকে সুন্দর করা নয়, বরং অপরের সার্থকতার পথে বাধা বা অন্তরায় সৃষ্টি করা।
5। জবরদস্তিপ্রিয় মানুষেরা কেন নিষ্ঠুর ও বিকৃতবুদ্ধি হয়?
- ক. তারা সমাজবিচ্ছিন্ন বলে
- খ. তারা অশিক্ষিত বলে
- গ. তারা দরিদ্র বলে
- ঘ. তারা প্রেম ও সৌন্দর্যের স্পর্শ লাভ করেনি বলে
উত্তর: ঘ। প্রেম ও সৌন্দর্যের অভাবই মানুষকে নিষ্ঠুর ও বিকৃতবুদ্ধি করে তোলে।
6। স্থূলবুদ্ধি ও অহংকারী মানুষের একমাত্র দেবতা কে?
- ক. অর্থ
- খ. অহংকার
- গ. খ্যাতি
- ঘ. ক্ষমতা
উত্তর: খ। প্রবন্ধে স্পষ্টভাবে বলা হয়েছে, এদের একমাত্র দেবতা অহংকার এবং তারই চরণে তারা নিবেদিতপ্রাণ।
7। জবরদস্তিপ্রিয় মানুষেরা সাধারণত কোন ধরনের অহংকারের নিশান ওড়ায় না?
- ক. ব্যক্তিগত অহংকার
- খ. জাতিগত অহংকার
- গ. পারিবারিক অহংকার
- ঘ. আন্তর্জাতিক অহংকার
উত্তর: ঘ। এরা ব্যক্তিগত, পারিবারিক এবং জাতিগত অহংকারের নিশান ওড়ায়, আন্তর্জাতিকতার কথা বলা হয়নি।
8। স্থূলবুদ্ধি মানুষের মুখে মানবপ্রেমের কথা শুনলে লেখকের কী মনে হয়?
- ক. তা সমাজ পরিবর্তনের হাতিয়ার
- খ. তা অনুপ্রেরণামূলক
- গ. তা আন্তরিকতাশূন্য ও উপলব্ধিহীন বুলি
- ঘ. তা খুব আন্তরিক
উত্তর: গ। অহংকারী মানুষের মানবপ্রেমের কথায় নেশা ধরে না, তা নেহাতই উপলব্ধিহীন বুলি মনে হয়।
9। সমাজের অহংকারী মানুষের স্থানে কেমন মানুষ এনে দিতে হবে?
- ক. সাধারণ মানুষ
- খ. কঠোর শাসক
- গ. সূক্ষ্মবুদ্ধি, উদারহৃদয় ও গভীরচিত্ত ব্যক্তি
- ঘ. বিত্তবান মানুষ
উত্তর: গ। স্থূলবুদ্ধি মানুষের পরিবর্তে বড় মানুষ বা সূক্ষ্মবুদ্ধি, উদারহৃদয় ব্যক্তি প্রয়োজন।
10। বড় মানুষের কাছে কোনটি বড় হয়ে ওঠে?
- ক. কেবল টিকে থাকা
- খ. জীবনের বিকাশ
- গ. অর্থ সঞ্চয়
- ঘ. প্রতিপত্তি লাভ
উত্তর: খ। বড় মানুষের কাছে কেবল টিকে থাকা নয়, জীবনের বিকাশই সবচেয়ে বড় হয়ে ওঠে।
11। বড় মানুষের কাছে জীবনাদর্শের প্রতীক কোনটি?
- ক. প্রাণহীন ছাঁচ
- খ. প্রবহমান নদী
- গ. সজীব বৃক্ষ
- ঘ. কল বা মেশিন
উত্তর: গ। বড় মানুষের কাছে সজীব বৃক্ষই জীবনাদর্শের প্রতীক, প্রাণহীন ছাঁচ বা কল নয়।
12। সজীব বৃক্ষের প্রধান কাজ কী?
- ক. মাটির রস টেনে নেওয়া
- খ. ফুলে-ফলে পরিপূর্ণ হয়ে অপরের সেবায় প্রস্তুত হওয়া
- গ. ছায়া দেওয়া
- ঘ. কাঠ সরবরাহ করা
উত্তর: খ। বৃক্ষের বৃদ্ধি ও বিকাশ ঘটে ফুলে-ফলে পরিপূর্ণ হয়ে অপরের সেবার জন্য প্রস্তুত হওয়ার নিমিত্তে।
13। বৃক্ষকে সার্থকতার প্রতীক হিসেবে বুঝতে হলে তার কী উপলব্ধি করা দরকার?
- ক. তার জীবনের গতি ও বিকাশ
- খ. তার মূলের গভীরতা
- গ. তার পাতার রং
- ঘ. তার শাখা-প্রশাখার বিস্তার
উত্তর: ক। বৃক্ষের জীবনের গতি ও বিকাশ উপলব্ধি না করলে সার্থকতা ও পরিপূর্ণতার ছবি বোঝা সম্ভব নয়।
14। জীবনের তাৎপর্য উপলব্ধি সহজ হয় কীসের দিকে তাকালে?
- ক. নদীর দিকে
- খ. বৃক্ষের দিকে
- গ. পাহাড়ের দিকে
- ঘ. আকাশের দিকে
উত্তর: খ। লেখকের মতে, বৃক্ষের দিকে তাকালেই জীবনের প্রকৃত তাৎপর্য সহজে উপলব্ধি করা যায়।
15। মাটির রস টেনে নিজেকে মোটাসোটা করে তোলাতেই কার কাজের সমাপ্তি নয়?
- ক. মানুষের
- খ. পশুর
- গ. বৃক্ষের
- ঘ. নদীর
উত্তর: গ। শুধু রস টেনে বড় হওয়া নয়, ফুল ফোটানো ও ফল ধরানোই বৃক্ষের প্রকৃত কাজ।
16। বৃক্ষ ফুল না ফোটালে ও ফল না ধরালে তার জীবন কেমন থেকে যাবে?
- ক. অসম্পূর্ণ
- খ. অর্থহীন
- গ. অসুন্দর
- ঘ. ব্যর্থ
উত্তর: ক। ফুল ফোটানো ও ফল ধরানোর মাধ্যমেই বৃক্ষের জীবন সম্পূর্ণ হয়, নইলে তা অসম্পূর্ণ থেকে যায়।
17। সজীবতা ও সার্থকতার জীবন্ত দৃষ্টান্ত কোনটি?
- ক. বৃক্ষ
- খ. ফুল
- গ. আকাশ
- ঘ. নদী
উত্তর: ক। বৃক্ষকে সার্থকতা ও সজীবতার শ্রেষ্ঠ ও জীবন্ত দৃষ্টান্ত হিসেবে প্রবন্ধে উল্লেখ করা হয়েছে।
18। রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর মনুষ্যত্বের সাদৃশ্য দেখতে পেয়েছেন কোনটির মধ্যে?
- ক. আকাশের বিশালতায়
- খ. নদীর গতির মধ্যে
- গ. পর্বতের স্থিরতায়
- ঘ. ফুলের ফোটায়
উত্তর: খ। রবীন্দ্রনাথ নদীর গতির সাথেই মনুষ্যত্বের সাদৃশ্য খুঁজে পেয়েছেন।
19। রবীন্দ্রনাথের মতে, মনুষ্যত্বের বেদনা কোথায় উপলব্ধ হয়?
- ক. ফুলের ফোটায়
- খ. বৃক্ষের বৃদ্ধিতে
- গ. নদীর গতিতে
- ঘ. মেঘের গর্জনে
উত্তর: গ। রবীন্দ্রনাথ মনে করতেন মনুষ্যত্বের বেদনা নদীর গতিতেই বেশি উপলব্ধি করা যায়।
20। রবীন্দ্রনাথের মতে কোন কাজটি সহজ?
- ক. জীবন সংগ্রাম
- খ. নদীর গতি
- গ. পাহাড় ডিঙানো
- ঘ. ফুলের ফোটা
উত্তর: ঘ। রবীন্দ্রনাথ বলেছেন ফুলের ফোটা সহজ, কিন্তু নদীর গতি সহজ নয়।
21। নদীকে সাগরে পৌঁছাতে কী করতে হয়?
- ক. নীরবে বইতে হয়
- খ. মাটির রস টানতে হয়
- গ. ফুল ফোটাতে হয়
- ঘ. অনেক বাধা ডিঙানোর দুঃখ পেতে হয়
উত্তর: ঘ। নদীর গতি সহজ নয়, তাকে পথ চলতে অনেক বাধা ডিঙানোর দুঃখ সহ্য করতে হয়।
22। লেখকের মতে, রবীন্দ্রনাথ নদীর পরিবর্তে কোনটির দিকে তাকালে ভালো করতেন?
- ক. চাঁদের আলোর দিকে
- খ. বৃক্ষের ফুল ফোটানোর দিকে
- গ. পাখির উড্ডয়নের দিকে
- ঘ. আকাশের দিকে
উত্তর: খ। লেখক মনে করেন ফুলের ফোটার বদলে বৃক্ষের ফুল ফোটানোর সাধনার দিকে তাকালে রবীন্দ্রনাথ ভালো করতেন।
23। লেখক রবীন্দ্রনাথকে কী বলে আখ্যায়িত করেছেন?
- ক. বিশ্বকবি
- খ. তপোবনপ্রেমিক
- গ. প্রকৃতিপ্রেমিক
- ঘ. দার্শনিক
উত্তর: খ। অরণ্য ও বৃক্ষপ্রেমের কারণে লেখক তাঁকে \’তপোবনপ্রেমিক রবীন্দ্রনাথ\’ বলেছেন।
24। নদীর গতিকে মনুষ্যত্বের প্রতীক করার পক্ষে কী যুক্তি দেওয়া হতে পারে?
- ক. নদীতে জলের প্রবাহ থাকে
- খ. নদীর গতিতে মনুষ্যত্বের দুঃখ স্পষ্ট হয়ে ওঠে
- গ. নদী ফসল ফলায়
- ঘ. নদী সাগরে পতিত হয়
উত্তর: খ। নদীর বাধা ডিঙানোর কষ্টে মনুষ্যত্বের দুঃখ স্পষ্ট হয় বলেই হয়তো কবি একে প্রতীক করেছেন।
25। কী বড় করে তুললে বৃক্ষের বেদনাও সহজে উপলব্ধি করা যায়?
- ক. দূরবীক্ষণ যন্ত্রকে
- খ. জ্ঞানের পরিধিকে
- গ. চর্মচক্ষুকে
- ঘ. কল্পনা ও অনুভূতির চক্ষুকে
উত্তর: ঘ। শুধু চর্মচক্ষু নয়, কল্পনা ও অনুভূতির চোখ দিয়ে দেখলে বৃক্ষের নীরব বেদনাও বোঝা যায়।
26। বৃক্ষের সাধনায় কেমন ভাব দেখতে পাওয়া যায়?
- ক. অস্থির ভাব
- খ. হিংস্র ভাব
- গ. চঞ্চল ভাব
- ঘ. ধীরস্থির ভাব
উত্তর: ঘ। বৃক্ষের সাধনা নদীর মতো চঞ্চল নয়, বরং এটি অত্যন্ত ধীরস্থির।
27। মানুষের সাধনা কেমন হওয়া উচিত বলে লেখক মনে করেন?
- ক. বাতাসের মতো অশান্ত
- খ. বৃক্ষের মতো ধীরস্থির
- গ. পর্বতের মতো অটল
- ঘ. নদীর মতো অনবরত ধেয়ে চলা
উত্তর: খ। মানুষের সাধনাও বৃক্ষের মতোই ধীরস্থির হওয়া উচিত, অনবরত ধেয়ে চলা নয়।
28। গোপন ও নীরব সাধনা কোথায় অভিব্যক্ত?
- ক. নদীতে
- খ. আকাশে
- গ. সমুদ্রে
- ঘ. বৃক্ষে
উত্তর: ঘ। নদীর গর্জন বা গতির বিপরীতে বৃক্ষেই গোপন ও নীরব সাধনার প্রকাশ ঘটে।
29। নদীর সার্থকতার ছবি সহজে উপলব্ধি করা যায় না কেন?
- ক. নদীর সাগরে পতিত হওয়া প্রতিদিন দেখা যায় না বলে
- খ. নদী অনেক দীর্ঘ হয় বলে
- গ. নদী শুকিয়ে যায় বলে
- ঘ. নদীর জল ঘোলা থাকে বলে
উত্তর: ক। নদী সাগরে মেশে সত্য, কিন্তু সেই ছবি প্রতিদিন মানুষের চোখে পড়ে না।
30। দোরের কাছে দাঁড়িয়ে থেকে কে অনবরত নতি, শান্তি ও সেবার বাণী প্রচার করে?
- ক. ফুল
- খ. বৃক্ষ
- গ. নদী
- ঘ. পাহাড়
উত্তর: খ। ঘরের কাছের বৃক্ষই ফুল-ফল দিয়ে অনবরত সেবা ও শান্তির বাণী প্রচার করে।
31। সাধনার ব্যাপারে কোনটি একটি বড় জিনিস?
- ক. কষ্ট
- খ. অপেক্ষা
- গ. প্রাপ্তি
- ঘ. বিসর্জন
উত্তর: গ। লেখকের মতে, সাধনার চূড়ান্ত লক্ষ্য ও সবচেয়ে বড় বিষয় হলো প্রাপ্তি।
32। নদীর সাগরে পতিত হওয়াকে লেখক কী বলেছেন?
- ক. আত্মবিসর্জন
- খ. প্রাপ্তি
- গ. সার্থকতা
- ঘ. মুক্তি
উত্তর: ক। নদী সাগরে মিশে নিজেকে হারিয়ে ফেলে, তাই তা প্রাপ্তি নয়, আত্মবিসর্জন।
33। বৃক্ষে কোন দুটি বিষয় এক হয়ে গেছে?
- ক. জন্ম ও মৃত্যু
- খ. ফুল ও পাতা
- গ. আলো ও অন্ধকার
- ঘ. প্রাপ্তি ও দান
উত্তর: ঘ। বৃক্ষের প্রাপ্তি (ফুল-ফল) এবং তার দান (অপরকে দেওয়া) মূলত একই বিষয়।
34। কাদের প্রাপ্তি ও দানে পার্থক্য দেখা যায় না?
- ক. সৃজনশীল মানুষের
- খ. সাধারণ মানুষের
- গ. ধনীদের
- ঘ. স্থূলবুদ্ধি মানুষের
উত্তর: ক। বৃক্ষের মতোই সৃজনশীল মানুষের যা কিছু প্রাপ্তি, তা-ই সমাজের জন্য তাদের দান।
35। বৃক্ষের পানে তাকিয়ে রবীন্দ্রনাথ অন্তরের কী উপলব্ধি করেছেন?
- ক. শূন্যতা
- খ. বৈরাগ্য
- গ. বিনাশধর্ম
- ঘ. সৃষ্টিধর্ম
উত্তর: ঘ। রবীন্দ্রনাথ অনেক কবিতায় বৃক্ষের বন্দনা করে তার সৃষ্টিধর্ম উপলব্ধি করেছেন।
36। রবীন্দ্রনাথ তাঁর বৃক্ষ-বন্দনা ও সৃষ্টিধর্মের কথা কোথায় স্পষ্ট করে বলেননি?
- ক. চিঠিতে
- খ. গদ্যে
- গ. কবিতায়
- ঘ. গানে
উত্তর: খ। কবিতায় বৃক্ষের কথা থাকলেও গদ্যে তিনি তা স্পষ্ট করে বলেননি বলে লেখক আক্ষেপ করেছেন।
37। নীরব ভাষায় বৃক্ষ আমাদের কীসের গান গেয়ে শোনায়?
- ক. সার্থকতার গান
- খ. বিরহের গান
- গ. বিদ্রোহের গান
- ঘ. দুঃখের গান
উত্তর: ক। ফুল-ফল ধারণের মাধ্যমে বৃক্ষ তার সার্থকতার গানই নীরব ভাষায় প্রচার করে।
38। বৃক্ষের সার্থকতার গান কোন কান দিয়ে শুনতে হবে?
- ক. অনুভূতির কান দিয়ে
- খ. চর্মকর্ণ দিয়ে
- গ. কল্পনার কান দিয়ে
- ঘ. বিবেকের কান দিয়ে
উত্তর: ক। বৃক্ষ যেহেতু নীরব, তাই তার গান শুনতে হলে অনুভূতির কান প্রয়োজন।
39। জীবনের মানে যদি বৃদ্ধি হয়, তবে ধর্মের মানে কী?
- ক. বৃদ্ধি
- খ. শান্তি
- গ. নিয়ম
- ঘ. প্রার্থনা
উত্তর: ক। জীবনের মানে বৃদ্ধি, আর ধর্মের মানেও তাই বলে প্রবন্ধে উল্লেখ করা হয়েছে।
40। প্রকৃতির ধর্মের সাথে মানুষের ধর্মের সাদৃশ্য কোথায়?
- ক. উভয়েই স্থির
- খ. উভয়েই বিবেকহীন
- গ. উভয়েই বৃদ্ধির ওপর নির্ভরশীল
- ঘ. উভয়েই ধ্বংসশীল
উত্তর: গ। প্রকৃতির যে ধর্ম (বৃদ্ধি), মানুষেরও সেই ধর্ম।
41। তরুলতা ও জীবজন্তুর বৃদ্ধির সাথে মানুষের বৃদ্ধির মূল পার্থক্য কী?
- ক. মানুষের বৃদ্ধির ওপর তার নিজের হাত রয়েছে
- খ. মানুষের বৃদ্ধি দৃশ্যমান নয়
- গ. তরুলতার বৃদ্ধি সীমাহীন
- ঘ. মানুষের বৃদ্ধি দ্রুত হয়
উত্তর: ক। তরুলতার বৃদ্ধিতে তাদের হাত নেই, কিন্তু মানুষ তার নিজের আত্মিক বৃদ্ধি নিয়ন্ত্রণ করতে পারে।
42। মানুষের মর্যাদা কোথায় নিহিত?
- ক. নিজের বৃদ্ধির ওপর নিজের হাত থাকায়
- খ. তার বংশ পরিচয়ে
- গ. তার শারীরিক শক্তিতে
- ঘ. তার ধনে
উত্তর: ক। মানুষ নিজেই নিজের আত্মিক বিকাশ ঘটাতে পারে, এখানেই তার শ্রেষ্ঠত্ব বা মর্যাদা।
43। মানুষের বৃদ্ধি কেবল দৈহিক নয়, আর কীরূপ?
- ক. সামাজিক
- খ. অর্থনৈতিক
- গ. মানসিক
- ঘ. আত্মিক
উত্তর: ঘ। মানুষের বৃদ্ধি শারীরিক সীমানা ছাড়িয়ে আত্মিক বা মনোজাগতিক স্তরে বিস্তৃত।
44। মানুষকে কোনটি সৃষ্টি করে নিতে হয়?
- ক. আত্মা
- খ. দেহ
- গ. বুদ্ধি
- ঘ. ভাগ্য
উত্তর: ক। মানুষকে আত্মা সৃষ্টি করে নিতে হয়, তা জন্মগতভাবে তৈরি পাওয়া যায় না।
45। সুখ-দুঃখ-বেদনা উপলব্ধির ফলে অন্তরের যে পরিপক্বতা, তাকে কী বলা যায়?
- ক. জ্ঞান
- খ. বিবেক
- গ. মনুষ্যত্ব
- ঘ. আত্মা
উত্তর: ঘ। জীবনের বিচিত্র অভিজ্ঞতায় অন্তরের যে পরিপক্বতা আসে, লেখক তাকেই আত্মা বলেছেন।
46। আত্মারূপ ফল কার উপভোগ্য?
- ক. নিজের
- খ. প্রকৃতির
- গ. স্রষ্টার
- ঘ. সমাজের
উত্তর: গ। সুমিষ্ট ফলের মতো পরিপক্ব আত্মা স্রষ্টার বা সৃষ্টিকর্তার উপভোগ্য।
47। \’Ripeness is all\’ বা \’পরিপক্বতাই সব\’—কথাটি কার?
- ক. মহাকবির (শেকসপিয়রের)
- খ. রবীন্দ্রনাথের
- গ. লেখকের নিজের
- ঘ. ক্লাইভ বেলের
উত্তর: ক। মহাকবি শেকসপিয়র তাঁর নাটকে এই বিখ্যাত উক্তিটি করেছেন।
48। আত্মাকে কীরূপ করে গড়ে তুলতে হবে?
- ক. বিশাল ও বিস্তৃত
- খ. নীরব ও শান্ত
- গ. কঠোর ও কঠিন
- ঘ. মধুর ও পুষ্ট
উত্তর: ঘ। স্রষ্টার উপভোগের উপযুক্ত করতে হলে আত্মাকে মধুর ও পুষ্ট করে গড়ে তুলতে হবে।
49। কীসের দ্বারা আত্মার পরিপুষ্টি ও মাধুর্য সম্পাদন সম্ভব?
- ক. বিজ্ঞান চর্চার দ্বারা
- খ. শুধু বই পড়ার দ্বারা
- গ. কঠোর পরিশ্রমের দ্বারা
- ঘ. বিচিত্র অভিজ্ঞতা, প্রচুর প্রেম ও গভীর অনুভূতির দ্বারা
উত্তর: ঘ। অভিজ্ঞতা, প্রেম এবং অনুভূতির গভীরতাই আত্মাকে পুষ্ট করে।
50। মানুষের শিক্ষার প্রধান বিষয়বস্তু কী হওয়া উচিত?
- ক. কারিগরি বিদ্যা
- খ. আত্মার পরিপুষ্টি সাধনা
- গ. বিজ্ঞান
- ঘ. ইতিহাস
উত্তর: খ। আত্মাকে মধুর ও পুষ্ট করার সাধনাই শিক্ষার প্রধান বিষয়বস্তু হওয়া উচিত।
51। কোনটি কখনো শিক্ষার প্রধান বিষয়বস্তু হতে পারে না বলে লেখক মনে করেন?
- ক. শিল্পকলা
- খ. সাহিত্য
- গ. দর্শন
- ঘ. বস্তুজিজ্ঞাসা তথা বিজ্ঞান
উত্তর: ঘ। বিজ্ঞান বস্তুজগৎ নিয়ে কাজ করে বলে তা শিক্ষার প্রধান বিষয়বস্তু হতে পারে না।
52। বস্তুজিজ্ঞাসা বা বিজ্ঞান শিক্ষার প্রধান বিষয়বস্তু হতে পারে না কেন?
- ক. এটি খুব কঠিন
- খ. এতে আত্মার উন্নতি হয় না
- গ. এতে অনেক সময় লাগে
- ঘ. এটি বাস্তবমুখী নয়
উত্তর: খ। বিজ্ঞানে জীবনবোধ ও মূল্যবোধে অন্তর পরিপূর্ণ হয় না, তাই আত্মার উন্নতি ঘটে না।
53। জীবনবোধ ও মূল্যবোধে অন্তর পরিপূর্ণ হয় কীসের দ্বারা?
- ক. গণিতের দ্বারা
- খ. সাহিত্য-শিল্পকলার দ্বারা
- গ. ভূগোলের দ্বারা
- ঘ. বিজ্ঞানের দ্বারা
উত্তর: খ। সাহিত্য ও শিল্পকলা মানুষের অনুভূতি ও মূল্যবোধকে জাগ্রত করে আত্মাকে সমৃদ্ধ করে।
54। বৃক্ষের অঙ্কুরিত হওয়া থেকে ফলবান হওয়া পর্যন্ত কেবলই কীসের ইতিহাস?
- ক. বৃদ্ধির ইতিহাস
- খ. দুঃখের ইতিহাস
- গ. ধ্বংসের ইতিহাস
- ঘ. বেঁচে থাকার ইতিহাস
উত্তর: ক। একটি বীজ থেকে বৃক্ষ হয়ে ফল দান করা পর্যন্ত পুরো প্রক্রিয়াই হলো বৃদ্ধির ইতিহাস।
55। বৃক্ষের পানে তাকিয়ে আমরা লাভবান হতে পারি কেন?
- ক. আমরা ফল খেতে পারি বলে
- খ. আমরা ছায়া পাই বলে
- গ. কাঠ বিক্রি করতে পারি বলে
- ঘ. জীবনের গূঢ় অর্থ সম্বন্ধে সচেতন হতে পারি বলে
উত্তর: ঘ। বৃক্ষ আমাদের আত্মিক বৃদ্ধি ও সেবার গূঢ় তাৎপর্য শেখায়।
56। বৃক্ষ কেবল বৃদ্ধির ইশারা নয়, আর কীসের ইঙ্গিত?
- ক. অশান্তির
- খ. মৃত্যুর
- গ. অহংকারের
- ঘ. প্রশান্তির
উত্তর: ঘ। বৃক্ষ অত্যন্ত প্রশান্ত ও ধীরস্থির, তাই সে প্রশান্তির ইঙ্গিত বহন করে।
57। বৃক্ষ কীসের মাধ্যমে জীবনের গুরুভার বহন করে?
- ক. ক্রোধ ও অভিমানে
- খ. অহংকার ও দম্ভে
- গ. অভিযোগ ও বিলাপে
- ঘ. অতি শান্ত ও সহিষ্ণুতায়
উত্তর: ঘ। প্রবন্ধের শেষ লাইনে বলা হয়েছে, বৃক্ষ অতি শান্ত ও সহিষ্ণুতায় জীবনের গুরুভার বহন করে।
58। মোতাহের হোসেন চৌধুরীর \’জীবন ও বৃক্ষ\’ প্রবন্ধটি কোন গ্রন্থ থেকে সংকলিত হয়েছে?
- ক. সুখ
- খ. সভ্যতা
- গ. সংস্কৃতি-কথা
- ঘ. প্রবন্ধ সংগ্রহ
উত্তর: গ। পাঠ-পরিচিতি অনুযায়ী প্রবন্ধটি তাঁর বিখ্যাত \’সংস্কৃতি-কথা\’ গ্রন্থ থেকে নেওয়া হয়েছে।
59। প্রবন্ধে লেখক মানবজীবনকে কার সাথে তুলনা করেছেন?
- ক. বৃক্ষের সাথে
- খ. নদীর সাথে
- গ. পাহাড়ের সাথে
- ঘ. আকাশের সাথে
উত্তর: ক। প্রবন্ধের মূল বিষয়ই হলো মানবজীবনের সাথে বৃক্ষের বিকাশ ও সার্থকতার তুলনা।
60। বৃক্ষের বিকাশ, পরিপূর্ণতা ও সার্থকতার পেছনে কী রয়েছে?
- ক. সূর্যের আলো
- খ. কৃষকের যত্ন
- গ. নীরব সাধনা
- ঘ. নদীর জল
উত্তর: গ। বৃক্ষ নীরবে সাধনা করেই ফুল-ফলে পরিপূর্ণ হয়ে ওঠে।
61। মানুষের জীবনকাঠামো বৃক্ষের মতো হলে সমাজে কাদের জায়গা কমে যাবে?
- ক. স্বার্থপর ও অহংকারী মানুষের
- খ. বিজ্ঞানীদের
- গ. সৃজনশীল মানুষের
- ঘ. সাহিত্যিকদের
উত্তর: ক। মানুষ বৃক্ষের আদর্শ গ্রহণ করলে সমাজে জবরদস্তিপ্রিয় ও অহংকারী মানুষের জায়গা থাকবে না।
62। \”তাদের কাজ নিজের জীবনকে সার্থক ও সুন্দর করে তোলা নয়\”—কাদের কথা বলা হয়েছে?
- ক. বিজ্ঞানীদের
- খ. বড় মানুষের
- গ. কবি-সাহিত্যিকদের
- ঘ. স্থূলবুদ্ধি ও জবরদস্তিপ্রিয় মানুষের
উত্তর: ঘ। যারা অহংকারী ও বিকৃতবুদ্ধি, তারা অন্যের পথে বাধা সৃষ্টি করতেই ব্যস্ত থাকে।
63। \”তাতে নেশা ধরে না\”—কীসে নেশা ধরে না?
- ক. নদীর শব্দে
- খ. শিল্পকলায়
- গ. বৃক্ষের সৌন্দর্যে
- ঘ. স্থূলবুদ্ধি মানুষের মানবপ্রেমের কথায়
উত্তর: ঘ। অহংকারী মানুষের মুখে মানবপ্রেমের বুলি আন্তরিকতাহীন, তাই তা মানুষের মনে রেখাপাত করে না বা নেশা ধরায় না।
64। লেখকের মতে, বৃক্ষের জীবনের সার্থকতা কীসে?
- ক. ঝড়-বৃষ্টি সহ্য করায়
- খ. অনেক দিন বেঁচে থাকায়
- গ. ফুলে-ফলে পরিপূর্ণ হয়ে অপরের সেবায়
- ঘ. অনেক বড় হওয়ায়
উত্তর: গ। পরার্থে আত্মনিবেদন বা দানই বৃক্ষের সার্থকতা।
65। রবীন্দ্রনাথ কেন নদীর গতিকে মনুষ্যত্বের প্রতীক করেছেন বলে লেখক মনে করেন?
- ক. নদীর গতি সহজ বলে
- খ. নদীর গতিতে দুঃখ ও বাধা ডিঙানোর চিত্র স্পষ্ট বলে
- গ. নদী সাগরে মেশে বলে
- ঘ. নদীর জল মিষ্টি বলে
উত্তর: খ। নদীকে পাথর ও বাধা ডিঙিয়ে চলতে হয়, যা মানুষের জীবন-সংগ্রামের সমতুল্য।
66। \’আত্মবিসর্জন\’ বলতে নদী কী করে?
- ক. শুকিয়ে যায়
- খ. পাহাড়ে ধাক্কা খায়
- গ. দুকূল ছাপিয়ে বন্যা সৃষ্টি করে
- ঘ. সাগরে পতিত হয়ে নিজের অস্তিত্ব হারায়
উত্তর: ঘ। নদী সাগরে পড়লে তার আর নিজস্ব কোনো সত্তা থাকে না, এটি আত্মবিসর্জন।
67। বৃক্ষের দানের সাথে সৃজনশীল মানুষের কীসের মিল রয়েছে?
- ক. নীরবতার
- খ. আত্মবিসর্জনের
- গ. অহংকারের
- ঘ. প্রাপ্তি ও দানের এক হয়ে যাওয়ার
উত্তর: ঘ। সৃজনশীল মানুষ যা অর্জন করে, তা-ই সমাজের জন্য দান করে, ঠিক বৃক্ষের ফুল-ফলের মতো।
68। প্রকৃতির ধর্ম এবং মানুষের ধর্মের মূল কথা কী?
- ক. আত্মবিসর্জন
- খ. ধ্বংস করা
- গ. বৃদ্ধি ও বিকাশ
- ঘ. থেমে থাকা
উত্তর: গ। প্রকৃতির সব উপাদান এবং মানুষের জীবনের মূল ধর্মই হলো বিকশিত হওয়া বা বৃদ্ধি পাওয়া।
69। \”মানুষকে আত্মা সৃষ্টি করে নিতে হয়\”—এর মানে কী?
- ক. মানুষ আত্মাহীন জন্মায়
- খ. বিচিত্র অভিজ্ঞতা ও অনুভূতি দিয়ে আত্মার পরিপক্বতা অর্জন করতে হয়
- গ. আত্মাকে ব্যায়ামের মাধ্যমে বাড়াতে হয়
- ঘ. বিজ্ঞান চর্চার মাধ্যমে আত্মা তৈরি হয়
উত্তর: খ। জন্মের পর সুখ-দুঃখের অভিজ্ঞতার ভেতর দিয়ে মানুষের মনোজগত বা আত্মা পূর্ণতা পায়।
70। \’Ripeness is all\’—উক্তিটি দ্বারা কী বোঝানো হয়েছে?
- ক. ফল পেকে যাওয়াই সব
- খ. অন্তরের পরিপক্বতা বা পূর্ণ বিকাশই জীবনের মূল লক্ষ্য
- গ. বয়স হওয়াই সব
- ঘ. মৃত্যু অবধারিত
উত্তর: খ। আত্মার পরিপূর্ণ বিকাশ বা সুপরিণতি লাভকেই \’পরিপক্বতাই সব\’ বলা হয়েছে।
71। লেখক কেন বিজ্ঞানকে শিক্ষার প্রধান বিষয়বস্তু করতে চাননি?
- ক. বিজ্ঞান মিথ্যা বলে
- খ. বিজ্ঞান কেবল ধনীদের জন্য
- গ. বিজ্ঞানে আত্মার উন্নতি বা মূল্যবোধ তৈরি হয় না
- ঘ. বিজ্ঞান মানুষের ক্ষতি করে
উত্তর: গ। বিজ্ঞান বস্তুজগত নিয়ে ভাবে, তাই এটি মানুষের অন্তর্নিহিত মূল্যবোধ বা আত্মার বিকাশ ঘটাতে পারে না।
72। সাহিত্য ও শিল্পকলা মানুষের কী উপকারে আসে?
- ক. জীবনবোধ ও মূল্যবোধে অন্তর পরিপূর্ণ করে
- খ. দৈহিক শক্তি বৃদ্ধি করে
- গ. অর্থ উপার্জনে সাহায্য করে
- ঘ. অহংকার বাড়ায়
উত্তর: ক। সাহিত্য ও শিল্পকলা মানুষের অনুভূতিকে সূক্ষ্ম করে আত্মাকে বিকশিত করে।
73। বৃক্ষের সহিষ্ণুতা মানবজীবনের কোন কাজে আদর্শ হতে পারে?
- ক. গুরুভার বা দুঃখ-কষ্ট শান্তভাবে বহনে
- খ. যুদ্ধে জয়লাভ করতে
- গ. ক্ষমতা দখল করতে
- ঘ. সম্পদ বৃদ্ধিতে
উত্তর: ক। বৃক্ষ যেমন অতি শান্ত ও সহিষ্ণুতায় জীবনের গুরুভার বহন করে, মানুষেরও তেমনি হওয়া উচিত।
74। \’জীবন ও বৃক্ষ\’ প্রবন্ধে কোন সাহিত্যিকের মতামতের গঠনমূলক সমালোচনা করা হয়েছে?
- ক. কাজী আবদুল ওদুদ
- খ. রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
- গ. বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
- ঘ. কাজী নজরুল ইসলাম
উত্তর: খ। রবীন্দ্রনাথ নদীর গতিকে মনুষ্যত্বের প্রতীক বলায় লেখক তার সমালোচনা করে বৃক্ষকে শ্রেষ্ঠ বলেছেন।
75। বৃক্ষের প্রাপ্তি ও দান এক হয়ে গেছে কীভাবে?
- ক. সে মাটি থেকে রস নিয়ে আবার মাটিতে ফেলে দেয়
- খ. সে কাঠ হয়ে মানুষকে সুবিধা দেয়
- গ. সে অক্সিজেন গ্রহণ করে এবং ছাড়ে
- ঘ. তার অর্জিত ফুল ও ফল সে অপরের জন্য দান করে দেয়
উত্তর: ঘ। বৃক্ষ নিজের পরিশ্রমে ফুল-ফল উৎপাদন করে (প্রাপ্তি) এবং তা অন্যের ভোগের জন্য দিয়ে দেয় (দান)।
76। \”মাঝে মাঝে মানবপ্রেমের কথাও তারা বলে\”—কাদের কথা বলা হয়েছে?
- ক. সৃজনশীল মানুষের
- খ. তপোবন-প্রেমিকদের
- গ. স্থূলবুদ্ধি ও অহংকারী মানুষের
- ঘ. বড় মানুষের
উত্তর: গ। অহংকারী মানুষেরা মাঝে মাঝে লোক দেখাতে মানবপ্রেমের কথা বলে।
77। বৃক্ষ নীরব সাধনার মধ্য দিয়ে কীসের বাণী প্রচার করে?
- ক. অহংকারের বাণী
- খ. বিদ্রোহের বাণী
- গ. নতি, শান্তি ও সেবার বাণী
- ঘ. আত্মবিসর্জনের বাণী
উত্তর: গ। বৃক্ষ দোরের কাছে দাঁড়িয়ে বিনয় (নতি), শান্তি এবং সেবার বাণী প্রচার করে।
78। \”তা তো প্রাপ্তি নয়, আত্মবিসর্জন\”—কোন ঘটনাকে ইঙ্গিত করা হয়েছে?
- ক. বৃক্ষের পাতা ঝরা
- খ. নদীর সাগরে পতিত হওয়া
- গ. মানুষের মৃত্যু
- ঘ. বৃক্ষের ফল দান
উত্তর: খ। নদী সাগরে মিশে নিজের রূপ হারায় বলে একে আত্মবিসর্জন বলা হয়েছে।
79। \’জীবন ও বৃক্ষ\’ প্রবন্ধে মানুষের কোন সাধনাকে শ্রেষ্ঠ বলা হয়েছে?
- ক. গোপন, নীরব ও ধীরস্থির সাধনা
- খ. অনবরত ধেয়ে চলার সাধনা
- গ. অর্থ উপার্জনের সাধনা
- ঘ. নদীর মতো গর্জন করার সাধনা
উত্তর: ক। বৃক্ষের মতো ধীরস্থির ও নীরব সাধনাই মানুষের শ্রেষ্ঠ সাধনা হওয়া উচিত।
80। লেখক মোতাহের হোসেন চৌধুরীর গদ্যের প্রধান বৈশিষ্ট্য কী?
- ক. মননশীল, চিন্তা-উদ্দীপক ও পরিশীলিত গদ্য
- খ. প্রচুর হাস্যরস
- গ. কঠিন ও দুর্বোধ্য ভাষা
- ঘ. আঞ্চলিক ভাষার ব্যবহার
উত্তর: ক। লেখক পরিচিতি অনুযায়ী তিনি মননশীল, চিন্তা-উদ্দীপক ও পরিশীলিত গদ্যের রচয়িতা হিসেবে বিশিষ্ট।
81। আমজাদ সাহেবের সাধনাকে প্রবন্ধের আলোকে কী বলা যায়?
- ক. আত্মবিসর্জন
- খ. প্রাপ্তি ও দানের অপূর্ব সমন্বয়
- গ. জবরদস্তি
- ঘ. বস্তুজিজ্ঞাসা
উত্তর: খ। ছাত্রদের সাফল্যই তাঁর প্রাপ্তি এবং সমাজকে সুনাগরিক দেওয়াই তাঁর দান, যা বৃক্ষের প্রাপ্তি ও দানের মতো এক হয়ে গেছে।
82। উদ্দীপকের নদী ও মানবজীবনের সাদৃশ্যের সাথে প্রবন্ধকার মোতাহের হোসেন চৌধুরী কি একমত?
- ক. না, তিনি নদীর বদলে বৃক্ষকে আদর্শ মনে করেন
- খ. তিনি পাহাড়কে আদর্শ মনে করেন
- গ. তিনি নদী ও বৃক্ষ উভয়কেই বর্জন করেছেন
- ঘ. হ্যাঁ, সম্পূর্ণ একমত
উত্তর: ক। মোতাহের হোসেন চৌধুরী রবীন্দ্রনাথের নদীর উপমাকে খণ্ডন করে বৃক্ষকে শ্রেষ্ঠ আদর্শ হিসেবে প্রতিষ্ঠা করেছেন।
83। লেখক স্থূলবুদ্ধি মানুষদের \’স্বল্পপ্রাণ\’ বলেছেন কেন?
- ক. তারা শারীরিক ভাবে দুর্বল বলে
- খ. তাদের আয়ু কম বলে
- গ. তাদের জীবনীশক্তি ও মানবিক অনুভূতির অভাব বলে
- ঘ. তারা বেশি কথা বলে না বলে
উত্তর: গ। প্রাণ বা জীবনীশক্তি বলতে এখানে আত্মার সজীবতা বোঝানো হয়েছে, যার অভাব এই মানুষদের মধ্যে রয়েছে।
84। বড় মানুষদের কাছে জীবন কেবল \’টিকে থাকা\’ নয়—এর অর্থ কী?
- ক. তারা মরতে ভয় পায় না
- খ. জীবনের উদ্দেশ্য মানবকল্যাণে বিকশিত হওয়া, তারা মনে করে
- গ. তারা স্বাস্থ্যবান হতে চায়
- ঘ. তারা অনেক টাকা জমাতে চায়
উত্তর: খ। টিকে থাকা পশু-পাখিরও কাজ, কিন্তু বড় মানুষের লক্ষ্য হলো বিকশিত হয়ে অপরের কল্যাণে নিজেকে প্রস্তুত করা।
85। \”নদীর সাগরে পতিত হওয়া আত্মবিসর্জন, প্রাপ্তি নয়।\”—কেন?
- ক. সাগরে নদীর জল শুকিয়ে যায়
- খ. সাগর নদীকে গ্রহণ করে না
- গ. নদীর জল সাগরে গিয়ে মিষ্টি হয়ে যায়
- ঘ. নদী সাগরে মিশে নিজের অস্তিত্ব হারিয়ে ফেলে
উত্তর: ঘ। সাগরে মিশে নদীর নিজস্ব কোনো পরিচয় থাকে না, তাই তা বিসর্জন, প্রাপ্তি নয়।
86। \”মানুষের বৃদ্ধি কেবল দৈহিক নয়, আত্মিকও।\”—আত্মিক বৃদ্ধি কীভাবে হয়?
- ক. সুখ-দুঃখ-বেদনা উপলব্ধির মাধ্যমে আত্মার পরিপক্বতা অর্জনে
- খ. বিজ্ঞান ল্যাবরেটরিতে গবেষণা করে
- গ. ভালো খাবার খেয়ে
- ঘ. নদীর তীরে বসে থেকে
উত্তর: ক। বিচিত্র অভিজ্ঞতা এবং অনুভূতির মাধ্যমেই মানুষের আত্মিক বৃদ্ধি ঘটে।
87। \’জীবন ও বৃক্ষ\’ প্রবন্ধের মূল সুর কী?
- ক. বিজ্ঞানের অপকারিতা বর্ণনা
- খ. পরার্থে আত্মনিবেদিত সার্থক মানবজীবনের প্রত্যাশা
- গ. বৃক্ষরোপণের প্রয়োজনীয়তা
- ঘ. রবীন্দ্রনাথের সাহিত্য সমালোচনা
উত্তর: খ। বৃক্ষের দৃষ্টান্তের মাধ্যমে লেখক পরোপকারী, বিকশিত ও সার্থক মানবজীবনের আদর্শ তুলে ধরেছেন।
88। \’স্থূলবুদ্ধি\’ শব্দের অর্থ কী?
- ক. সূক্ষ্ম বিচারবুদ্ধিহীন বা অগভীর জ্ঞানসম্পন্ন
- খ. চালাক ব্যক্তি
- গ. প্রখর বুদ্ধিসম্পন্ন
- ঘ. বিশাল দেহের অধিকারী
উত্তর: ক। শব্দার্থ অনুযায়ী, যার বুদ্ধির গভীরতা বা সূক্ষ্ম বিচারবোধ নেই তাকে স্থূলবুদ্ধি বলে।
89। \’জবরদস্তিপ্রিয়\’ বলতে কী বোঝায়?
- ক. দুর্বল প্রকৃতির মানুষ
- খ. গায়ের জোরে কাজ হাসিলে তৎপর বা বিচার-বিবেচনাহীন
- গ. যে সবাইকে ভালোবাসে
- ঘ. যে নিয়মতান্ত্রিকভাবে কাজ করে
উত্তর: খ। যে নিজের ইচ্ছাকে গায়ের জোরে অন্যের ওপর চাপিয়ে দেয়।
90। \’বিকৃতবুদ্ধি\’ অর্থ কী?
- ক. উন্নত চিন্তার অধিকারী
- খ. বুদ্ধির বিকার ঘটেছে এমন বা যথাযথ চিন্তাচেতনাহীন
- গ. বিজ্ঞানমনস্ক
- ঘ. সৃষ্টিশীল মস্তিষ্ক
উত্তর: খ। যাদের চিন্তাভাবনা স্বাভাবিক ও সুস্থ নয়, তারাই বিকৃতবুদ্ধি।
91। \’বুলি\’ শব্দটি প্রবন্ধে কোন অর্থে ব্যবহৃত হয়েছে?
- ক. গৎ-বাঁধা কথা, অভ্যাসবশে বলা হয় কিন্তু আন্তরিকতা নেই
- খ. পাখির ডাক
- গ. মহৎ বাণী
- ঘ. শিশুর প্রথম কথা
উত্তর: ক। অহংকারীদের মানবপ্রেমের কথাকে লেখক অর্থহীন \’বুলি\’ বলেছেন।
92। \’মনুষ্যত্ব\’ বলতে কী বোঝায়?
- ক. মানুষের দৈহিক শক্তি
- খ. মানুষের বংশপরিচয়
- গ. অহংকারবোধ
- ঘ. মানবোচিত সদগুণাবলি বা মানুষের বিশেষ গুণ
উত্তর: ঘ। মানুষের মানবিক ও নৈতিক গুণাবলিই হলো মনুষ্যত্ব।
93। \’তপোবন\’ শব্দের অর্থ কী?
- ক. অরণ্যে ঋষির আশ্রম বা তপস্যার বন
- খ. মরুভূমি
- গ. ঘন জঙ্গল
- ঘ. রাজার বাগান
উত্তর: ক। প্রাচীনকালে ঋষিরা যে বনে বসে তপস্যা বা সাধনা করতেন, তাকে তপোবন বলা হয়।
94। \’অনুভূতির চক্ষু\’ বলতে লেখক কী বুঝিয়েছেন?
- ক. মনের চোখ বা সংবেদনশীলতা
- খ. চশমা
- গ. দূরবীন
- ঘ. চোখের দৃষ্টিশক্তি
উত্তর: ক। কেবল বাইরের চোখ নয়, অন্তর দিয়ে অনুভব করার ক্ষমতাকে অনুভূতির চক্ষু বলা হয়েছে।
95। \’নতি\’ শব্দের অর্থ কী?
- ক. অহংকার
- খ. উচ্চতা
- গ. অবনত ভাব বা বিনয়
- ঘ. নদীর তীর
উত্তর: গ। বৃক্ষ দোরের কাছে দাঁড়িয়ে বিনয় বা \’নতি\’ প্রচার করে।
96। \’সৃষ্টিধর্ম\’ শব্দের অর্থ কী?
- ক. ঈশ্বরকে চেনা
- খ. ধ্বংস করা
- গ. ধর্ম পালন করা
- ঘ. সৃষ্টি বা সৃজনের বৈশিষ্ট্য
উত্তর: ঘ। নতুন কিছু তৈরি বা সৃষ্টি করার যে অন্তর্নিহিত বৈশিষ্ট্য, তাকেই সৃষ্টিধর্ম বলে।
97। \’আত্মিক\’ শব্দটি কোন অর্থের সাথে সম্পর্কিত?
- ক. দৈহিক
- খ. মনোজাগতিক বা দৈহিক নয় এমন
- গ. অর্থনৈতিক
- ঘ. সামাজিক
উত্তর: খ। যা দেহের সাথে নয়, বরং আত্মা বা মনের সাথে জড়িত তাকে আত্মিক বলে।
98। \’পরিপক্বতা\’ বলতে কী বোঝানো হয়েছে?
- ক. কাঁচা অবস্থা
- খ. বার্ধক্য
- গ. পচে যাওয়া
- ঘ. সুপরিণতিজাত বা পরিপূর্ণ বিকাশসাধন
উত্তর: ঘ। ফলের পেকে যাওয়া বা আত্মার পূর্ণাঙ্গ বিকাশ লাভ করাকে পরিপক্বতা বোঝানো হয়েছে।
99। \’বস্তুজিজ্ঞাসা\’ বলতে কী বোঝায়?
- ক. দর্শন শাস্ত্র
- খ. শিল্পকলা
- গ. ঈশ্বর সম্পর্কে জানার আগ্রহ
- ঘ. বস্তুজগতের রহস্য উন্মোচন-অন্বেষা বা বিজ্ঞান
উত্তর: ঘ। ভৌত বা বস্তুজগৎ সম্পর্কে জানার আগ্রহকেই বস্তুজিজ্ঞাসা বলা হয়, যা বিজ্ঞানের মূল বিষয়।
100। \’গূঢ় অর্থ\’ বলতে কী বোঝানো হয়েছে?
- ক. ভুল অর্থ
- খ. সহজ অর্থ
- গ. আক্ষরিক অর্থ
- ঘ. প্রচ্ছন্ন গভীর তাৎপর্য
উত্তর: ঘ। যে অর্থ সহজে চোখে পড়ে না, কিন্তু ভেতরে গভীরভাবে নিহিত থাকে।
101। মোতাহের হোসেন চৌধুরী কত খ্রিষ্টাব্দে জন্মগ্রহণ করেন?
- ক. ১৯৫৬
- খ. ১৮৯৯
- গ. ১৯২১
- ঘ. ১৯০৩
উত্তর: ঘ। লেখক পরিচিতি অনুযায়ী তিনি ১৯০৩ খ্রিষ্টাব্দে জন্মগ্রহণ করেন।
102। মোতাহের হোসেন চৌধুরী কোন জেলায় জন্মগ্রহণ করেন?
- ক. নোয়াখালী
- খ. চট্টগ্রাম
- গ. কুমিল্লা
- ঘ. ঢাকা
উত্তর: ক। তিনি নোয়াখালী জেলার কাঞ্চনপুর গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন।
103। মোতাহের হোসেন চৌধুরী বাঙালি মুসলমান সমাজের কোন যুগান্তকারী আন্দোলনের অন্যতম কাণ্ডারি ছিলেন?
- ক. বুদ্ধির মুক্তি আন্দোলন
- খ. স্বদেশী আন্দোলন
- গ. ভাষা আন্দোলন
- ঘ. ফরায়েজি আন্দোলন
উত্তর: ক। তিনি \’বুদ্ধির মুক্তি আন্দোলন\’-এর অন্যতম পুরোধা ব্যক্তিত্ব ছিলেন।
104। মোতাহের হোসেন চৌধুরী বাস্তব জীবনে ও সাহিত্যে কোন আদর্শের অনুসারী ছিলেন?
- ক. ধর্মীয় গোঁড়ামির
- খ. সৌন্দর্যবোধ, মুক্তবুদ্ধি-চেতনা ও মানবপ্রেমের
- গ. সমাজতন্ত্রের
- ঘ. পুঁজিবাদের
উত্তর: খ। তিনি তাঁর জীবন ও সাহিত্যে মানবপ্রেম, সৌন্দর্য ও মুক্তবুদ্ধির চর্চা করতেন।
105। নিচের কে মোতাহের হোসেন চৌধুরীর সহযোগী ছিলেন না?
- ক. প্রমথ চৌধুরী
- খ. আবুল ফজল
- গ. আবুল হুসেন
- ঘ. কাজী আবদুল ওদুদ
উত্তর: ক। কাজী আবদুল ওদুদ, আবুল হুসেন, কাজী মোতাহার হোসেন, আবুল ফজল প্রমুখ তাঁর সহযোগী ছিলেন। প্রমথ চৌধুরী নন।
106। মোতাহের হোসেন চৌধুরীর গদ্য কীরূপ ছিল?
- ক. অত্যন্ত কঠিন
- খ. আবেগসর্বস্ব
- গ. মননশীল, চিন্তা-উদ্দীপক ও পরিশীলিত
- ঘ. চটুল ও হালকা
উত্তর: গ। তিনি মননশীল এবং পরিশীলিত গদ্যের রচয়িতা হিসেবে বিশিষ্ট।
107। বাংলাদেশের প্রবন্ধ-সাহিত্যে মোতাহের হোসেন চৌধুরীর কোন গ্রন্থটি এক বিশিষ্ট সংযোজন?
- ক. সুখ
- খ. সভ্যতা
- গ. প্রবন্ধ সংগ্রহ
- ঘ. সংস্কৃতি-কথা
উত্তর: ঘ। তাঁর লেখা \’সংস্কৃতি-কথা\’ প্রবন্ধ সাহিত্যের একটি অমূল্য সম্পদ।
108। মোতাহের হোসেন চৌধুরীর \’সভ্যতা\’ গ্রন্থটি কার গ্রন্থ অবলম্বনে রচিত?
- ক. ক্লাইভ বেলের
- খ. শেকসপিয়রের
- গ. বারট্রান্ড রাসেলের
- ঘ. কার্ল মার্ক্সের
উত্তর: ক। ক্লাইভ বেল-এর \’Civilization\’ গ্রন্থ অবলম্বনে তিনি \’সভ্যতা\’ রচনা করেন।
109। মোতাহের হোসেন চৌধুরীর \’সুখ\’ গ্রন্থটি কার গ্রন্থের অনুবাদ?
- ক. বারট্রান্ড রাসেলের
- খ. সিগমুন্ড ফ্রয়েডের
- গ. ক্লাইভ বেলের
- ঘ. প্লেটোর
উত্তর: ক। বারট্রান্ড রাসেলের \’Conquest of Happiness\’ গ্রন্থের অনুবাদ হলো তাঁর \’সুখ\’ গ্রন্থটি।
110। মোতাহের হোসেন চৌধুরী পেশায় কী ছিলেন?
- ক. চিকিৎসক
- খ. সাংবাদিক
- গ. প্রকৌশলী
- ঘ. অধ্যাপক
উত্তর: ঘ। তিনি চট্টগ্রাম কলেজে অধ্যাপনা করতেন।
111। মোতাহের হোসেন চৌধুরী কত খ্রিষ্টাব্দে মৃত্যুবরণ করেন?
- ক. ১৯৫৬
- খ. ১৯৪৫
- গ. ১৯৫২
- ঘ. ১৯৭১
উত্তর: ক। তিনি ১৯৫৬ খ্রিষ্টাব্দের ১৮ই সেপ্টেম্বর মৃত্যুবরণ করেন।
112। মোতাহের হোসেন চৌধুরীর প্রকাশিত ও অপ্রকাশিত সমস্ত রচনা কোন প্রতিষ্ঠান প্রকাশ করেছে?
- ক. বাংলা একাডেমি
- খ. এশিয়াটিক সোসাইটি
- গ. বিশ্বসাহিত্য কেন্দ্র
- ঘ. শিল্পকলা একাডেমি
উত্তর: ক। বাংলা একাডেমি তাঁর সমস্ত রচনা গ্রন্থাকারে প্রকাশ করেছে।
113। \”এদের প্রধান দেবতা অহংকার\”—এখানে \’এদের\’ বলতে কাদের বোঝানো হয়েছে?
- ক. বৃক্ষপ্রেমিকদের
- খ. কবিদের
- গ. স্থূলবুদ্ধি ও জবরদস্তিপ্রিয় মানুষের
- ঘ. বিজ্ঞানীদের
উত্তর: গ। যারা যথাযথ চিন্তাচেতনাহীন ও পরশ্রীকাতর, তারাই অহংকারকে দেবতা মনে করে।
114। মানবপ্রেমের বুলি আওড়ানো ব্যক্তিদের মূল সমস্যা কোথায়?
- ক. তারা অশিক্ষিত
- খ. তাদের মনে আন্তরিকতা ও উপলব্ধি নেই
- গ. তারা সমাজ থেকে বিতাড়িত
- ঘ. তারা দরিদ্র
উত্তর: খ। অহংকারী মানুষ লোক দেখাতে মানবপ্রেমের কথা বললেও তাদের অন্তরে কোনো আন্তরিক উপলব্ধি থাকে না।
115। লেখক বৃক্ষকে কোন অর্থে নদীর চেয়ে শ্রেষ্ঠ মনে করেছেন?
- ক. বৃক্ষ ছায়া দেয়
- খ. বৃক্ষ ফল দেয়, নদী দেয় না
- গ. বৃক্ষ কাঠ দেয়
- ঘ. বৃক্ষের সার্থকতা প্রাপ্তি ও দানে, আর নদীর সার্থকতা আত্মবিসর্জনে
উত্তর: ঘ। নদীর আত্মবিসর্জনের চেয়ে বৃক্ষের প্রাপ্তি ও অপরের সেবায় দানের সার্থকতাকে লেখক বড় করে দেখেছেন।
116। বৃক্ষ দোরের কাছে দাঁড়িয়ে কীসের বাণী প্রচার করে না?
- ক. অহংকার
- খ. সেবা
- গ. শান্তি
- ঘ. নতি
উত্তর: ক। বৃক্ষ অহংকার প্রচার করে না, সে বিনয় (নতি), শান্তি ও সেবার বাণী প্রচার করে।
117। আত্মার উন্নতি বা পরিপক্বতার জন্য কোনটি সবচেয়ে বেশি প্রয়োজন?
- ক. কঠোর শারীরিক পরিশ্রম
- খ. উচ্চতর ডিগ্রি
- গ. বিচিত্র অভিজ্ঞতা, প্রেম ও গভীর অনুভূতি
- ঘ. প্রচুর ধন-সম্পদ
উত্তর: গ। জীবনের বিচিত্র অভিজ্ঞতার মধ্য দিয়ে প্রাপ্ত অনুভূতিই আত্মাকে পরিপক্ব করে।
118। বিজ্ঞান ও সাহিত্য—এই দুটির মধ্যে পার্থক্য বর্ণনায় লেখক কী বুঝিয়েছেন?
- ক. বিজ্ঞান প্রয়োজনীয়, সাহিত্য নয়
- খ. বিজ্ঞান ও সাহিত্য উভয়ই আত্মার উন্নতি করে
- গ. সাহিত্য পড়া কঠিন
- ঘ. বিজ্ঞান বস্তুজগৎ নিয়ে ভাবে, সাহিত্য অন্তরের বিকাশ ঘটায়
উত্তর: ঘ। বিজ্ঞান বস্তুজগতের হিসাব দেয়, আর সাহিত্য মূল্যবোধ ও আত্মার বিকাশ নিশ্চিত করে।
119। \’Ripeness is all\’ বা পরিপক্বতাই সব—এই দর্শনের মূল কথা কী?
- ক. শুধু বৃদ্ধ হওয়াই জীবনের সার্থকতা
- খ. মানুষের দৈহিক বৃদ্ধিই আসল
- গ. জীবনের অভিজ্ঞতা দিয়ে আত্মাকে সার্থক করে তোলাই মূল কথা
- ঘ. ফল পেকে গেলে তা খেতে মিষ্টি হয়
উত্তর: গ। জীবনের সুখ-দুঃখকে ধারণ করে আত্মিক পরিপূর্ণতা বা \’Ripeness\’ অর্জনই জীবনের লক্ষ্য।
120। বৃক্ষের জীবনের গতি ও বিকাশের চিত্র আমরা কীভাবে উপলব্ধি করতে পারি?
- ক. অনুভূতির কান ও চোখ দিয়ে
- খ. কেবল বই পড়ে
- গ. গাছ কেটে
- ঘ. বিজ্ঞানাগারে পরীক্ষা করে
উত্তর: ক। বৃক্ষের নীরব সাধনা কেবল চর্মচক্ষু দিয়ে নয়, অনুভূতির চোখ ও কান দিয়ে উপলব্ধি করতে হয়।
121। \’জীবন ও বৃক্ষ\’ প্রবন্ধটি পাঠককে প্রধানত কী শিক্ষা দেয়?
- ক. পরার্থপরতা, সহিষ্ণুতা এবং আত্মিক বিকাশের শিক্ষা
- খ. নদীর গতিপথ পরিবর্তন
- গ. বিজ্ঞান চর্চার গুরুত্ব
- ঘ. বৃক্ষরোপণ অভিযান
উত্তর: ক। বৃক্ষের নীরব সাধনা, দান এবং সহিষ্ণুতার দৃষ্টান্ত দিয়ে লেখক মানবজীবনকে পরার্থপর ও সার্থক করার শিক্ষা দিয়েছেন।
122। প্রবন্ধে উল্লেখিত জবরদস্তিপ্রিয় মানুষের স্থানে বড় মানুষ এলে সমাজের কী পরিবর্তন হবে?
- ক. সমাজ অর্থনৈতিকভাবে শক্তিশালী হবে
- খ. সবাই বিজ্ঞানী হবে
- গ. মানুষ টিকে থাকার বদলে বিকশিত জীবনে আগ্রহী হবে
- ঘ. সবাই নদীতে ভ্রমণ করবে
উত্তর: গ। বড় মানুষেরা এলে সমাজে অহংকারের বদলে প্রেম, সৌন্দর্য ও আত্মিক বিকাশের প্রতি আগ্রহ সৃষ্টি হবে।
