সোনার তরী কবিতার MCQ | HSC বাংলা ১ম পত্র-এর “সোনার তরী” কবিতা থেকে বোর্ড পরীক্ষায় নিয়মিত প্রশ্ন আসে। এই পোস্টে ১৩৬টি বহুনির্বাচনি প্রশ্ন (MCQ) উত্তর ও ব্যাখ্যাসহ দেওয়া হলো।
সোনার তরী কবিতার বহুনির্বাচনি প্রশ্ন ও উত্তর (MCQ)
1। ‘সোনার তরী’ কবিতার মূল দর্শন কী?
- ক. প্রকৃতির রুদ্ররূপের বর্ণনা
- খ. কৃষকের কৃষিকাজের বন্দনা
- গ. নৌকায় ভ্রমণের আনন্দ
- ঘ. মহাকালে স্রষ্টার বিলীন হওয়া, সৃষ্টির বেঁচে থাকা
উত্তর: ঘ। পাঠ-পরিচিতি অনুযায়ী, মহাকালের স্রোতে মানুষের ব্যক্তিসত্তা বিলীন হলেও তার সৃজনশীল কর্মসম্ভার বেঁচে থাকে—এটাই এই কবিতার মূল দর্শন।
2। কবিতায় ‘সোনার ধান’ কিসের প্রতীক?
- ক. মোহ ও মায়া
- খ. অমূল্য রত্ন
- গ. কৃষকের শ্রেষ্ঠ ফসল বা শিল্পস্রষ্টার সৃষ্টিসম্ভার
- ঘ. পার্থিব ধন-সম্পদ
উত্তর: গ। শব্দার্থ ও টীকা অনুযায়ী, ‘সোনার ধান’ হলো কৃষকের শ্রেষ্ঠ ফসল এবং ব্যঞ্জনার্থে শিল্পস্রষ্টা কবির সৃষ্টিসম্ভার।
3। ‘গান গেয়ে তরী বেয়ে কে আসে পারে’—এখানে ‘মাঝি’ কিসের প্রতীক?
- ক. মৃত্যু দূতের
- খ. প্রকৃতির রূপের
- গ. সৃষ্টিকর্তার
- ঘ. নির্মোহ মহাকালের
উত্তর: ঘ। রবীন্দ্র-ভাবনায় এই গায়েন মাঝি হলো নির্মোহ মহাকালের প্রতীক, যে কেবল সৃষ্টিকে গ্রহণ করে।
4। ‘বাঁকা জল’ বলতে কবিতায় কী বোঝানো হয়েছে?
- ক. নদীর ঢেউ
- খ. কৃষকের কান্না
- গ. বন্যার পানি
- ঘ. অনন্ত কালস্রোত
উত্তর: ঘ। নদীর ‘বাঁকা জলস্রোতে’ বেষ্টিত খেতটির বিলীয়মান হওয়ার ইঙ্গিত রয়েছে। এখানে ‘বাঁকা জল’ অনন্ত কালস্রোতের প্রতীক।
5। ‘সোনার তরী’ কবিতায় মাঝির দৃষ্টি কেমন?
- ক. রাগান্বিত
- খ. স্নেহপূর্ণ
- গ. নিরাসক্ত ও সুনির্দিষ্ট দৃষ্টিপাতহীন
- ঘ. অনুসন্ধিৎসু
উত্তর: গ। মহাকালের প্রতীক এই মাঝি নিরাসক্ত বলেই তার কোনো সুনির্দিষ্ট দৃষ্টিপাত নেই (‘কোনো দিকে নাহি চায়’)।
6। ‘শূন্য নদীর তীরে রহিনু পড়ি’—এই চরণে কী প্রকাশ পেয়েছে?
- ক. বাড়ি ফেরার আকুলতা
- খ. নিঃসঙ্গ অপূর্ণতার বেদনা ও মৃত্যুর প্রতীক্ষা
- গ. কৃষকের আনন্দ
- ঘ. ফসল হারানোর ক্ষোভ
উত্তর: খ। সোনার তরী শুধু ফসল নিয়ে যায়, স্রষ্টাকে নয়। তাই নিঃসঙ্গ অপূর্ণতার বেদনা নিয়ে আসন্ন মৃত্যুর প্রতীক্ষার ইঙ্গিত রয়েছে এখানে।
7। ‘সোনার তরী’ কবিতায় কোন সত্যটি প্রতিষ্ঠিত হয়েছে?
- ক. মহাকাল স্রষ্টাকে গ্রহণ করে, সৃষ্টিকে নয়
- খ. মহাকাল সৃষ্টিকে গ্রহণ করে, স্রষ্টাকে কালগ্রাসে পতিত করে
- গ. কালস্রোতে সৃষ্টি ও স্রষ্টা উভয়েই অমরত্ব পায়
- ঘ. মহাকাল মানুষের সবকিছু স্মৃতিতে রাখে
উত্তর: খ। কবিতায় দেখা যায়, মহাকালরূপী সোনার তরী মহৎ সৃষ্টিকে ঠাঁই দিলেও ব্যক্তিসত্তাকে নিষ্ঠুর কালগ্রাসের শিকার হতে হয়।
8। ‘ঠাঁই নাই, ঠাঁই নাই—ছোটো সে তরী’—তরীটি ছোটো কেন?
- ক. মাঝির নৌকাটি আকারে ছোট ছিল
- খ. কৃষকের ফসলের পরিমাণ বেশি ছিল
- গ. নৌকায় অন্য যাত্রী ছিল
- ঘ. মহাকালের নৌকায় কেবল সৃষ্টিরই স্থান সংকুলান হয়
উত্তর: ঘ। সোনার তরীতে কেবল মহৎ সৃষ্টিরই স্থান সংকুলান হয়, স্রষ্টার ব্যক্তিসত্তার জায়গা সেখানে নেই।
9। ‘সোনার তরী’ কবিতাটি কোন ছন্দে রচিত?
- ক. গদ্যছন্দ
- খ. স্বরবৃত্ত
- গ. অক্ষরবৃত্ত
- ঘ. মাত্রাবৃত্ত
উত্তর: ঘ। পাঠ-পরিচিতির শেষ লাইনে স্পষ্টভাবে উল্লেখ আছে যে, ‘সোনার তরী’ মাত্রাবৃত্ত ছন্দে রচিত।
10। ‘বিদেশ’ শব্দটি কবিতায় কী অর্থে ব্যবহৃত হয়েছে?
- ক. পরকাল
- খ. অন্য রাষ্ট্র
- গ. অচেনা গ্রাম
- ঘ. চিরায়ত শিল্পলোক
উত্তর: ঘ। ‘ওগো, তুমি কোথা যাও কোন বিদেশে?’—এখানে বিদেশ চিরায়ত শিল্পলোকের প্রতীক হিসেবে ব্যবহৃত হয়েছে।
11। কৃষক মাঝিকে তার সোনার ধান কীভাবে নিয়ে যেতে বলেছে?
- ক. মূল্য পরিশোধ করে
- খ. করুনার সাথে
- গ. জোরপূর্বক
- ঘ. ক্ষণিক হেসে
উত্তর: ঘ। কবিতায় কৃষক বলেছে, ‘শুধু তুমি নিয়ে যাও ক্ষণিক হেসে / আমার সোনার ধান কূলেতে এসে।’
12। ‘এখন আমারে লহো করুণা করে’—এখানে কৃষকের কোন আকুতি প্রকাশ পেয়েছে?
- ক. ফসল বিক্রির আগ্রহ
- খ. মৃত্যু থেকে বাঁচার চেষ্টা
- গ. নদী পার হওয়ার সাধারণ ইচ্ছা
- ঘ. মহাকালের নৌকায় স্থান পাওয়ার ব্যাকুলতা
উত্তর: ঘ। স্রষ্টা তার সমগ্র সৃষ্টি তুলে দেওয়ার পর নিজেও মহাকালের নৌকায় তথা চিরায়ত শিল্পলোকে স্থান পেতে চায়।
13। ‘দেখে যেন মনে হয় চিনি উহারে’—কৃষকের এই মনে হওয়ার কারণ কী?
- ক. মাঝিকে সে আগে দেখেছিল
- খ. মাঝি তার গ্রামের লোক
- গ. মহাকাল মানুষের পূর্বপরিচিত
- ঘ. চেনা মনে হলেও কৃষকরূপী কবির সংশয় থেকে যায়
উত্তর: ঘ। টীকা অনুযায়ী, এই আগন্তুক মাঝি কৃষক বা শিল্পস্রষ্টার চেনা হতে পারে, কিন্তু সংশয় থেকেই যায় বলেই ‘যেন মনে হয়’ বলা হয়েছে।
14। ‘আমি একেলা’ বলতে কবিতায় কী বোঝানো হয়েছে?
- ক. নদীর তীরে আর কেউ নেই
- খ. কৃষকের পরিবার নেই
- গ. মাঠে আর কোনো ফসল নেই
- ঘ. কৃষক কিংবা শিল্পস্রষ্টা কবির চরম নিঃসঙ্গ অবস্থা
উত্তর: ঘ। ‘আমি একেলা’ চরণটি কৃষক কিংবা প্রতীকী অর্থে শিল্পস্রষ্টা কবির অন্তিম নিঃসঙ্গ অবস্থাকে নির্দেশ করে।
15। চারদিকের ‘বাঁকা জল’ কৃষকের মনে কী সৃষ্টি করেছে?
- ক. তৃষ্ণা
- খ. সাঁতার কাটার ইচ্ছা
- গ. প্রবল আনন্দ
- ঘ. ঘনঘোর আশঙ্কা
উত্তর: ঘ। পাঠ-পরিচিতিতে বলা হয়েছে, আকাশের ঘন মেঘ আর চারদিকের ‘বাঁকা জল’ কৃষকের মনে ঘনঘোর আশঙ্কা সৃষ্টি করেছে।
16। মহৎ সাহিত্যের একটি বিশেষ গুণ কী?
- ক. তা সহজে বোঝা যায় না
- খ. তা কেবল নির্দিষ্ট সময়ে সমাদৃত হয়
- গ. তা দ্রুত জনপ্রিয়তা পায়
- ঘ. নতুন দৃষ্টিভঙ্গিতে কালে কালে তার শ্রেষ্ঠত্ব নিরূপিত হয়
উত্তর: ঘ। পাঠ-পরিচিতি অনুযায়ী, মহৎ সাহিত্যের একটি বিশেষ গুণ হলো কালে কালে নতুন দৃষ্টিভঙ্গির আলোকে তার শ্রেষ্ঠত্ব নিরূপিত হয়।
17। ‘সোনার তরী’ কবিতাটি শতাব্দীকাল ধরে কেন আলোচিত?
- ক. এর ছন্দপতনের জন্য
- খ. এর সহজবোধ্যতার জন্য
- গ. এর গূঢ় রহস্য ও শ্রেষ্ঠত্বের কারণে
- ঘ. এর রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটের জন্য
উত্তর: গ। শতাব্দীকাল ধরে কবিতাটি গুঢ় রহস্য ও শ্রেষ্ঠত্বের স্মারক হিসেবে নানামুখী ব্যাখ্যায় নতুন তাৎপর্যে অভিষিক্ত।
18। ‘মহাকাল আমার সর্বস্ব লইয়া যায় বটে, কিন্তু আমাকে ফেলিয়া যায় বিস্মৃতি ও অবহেলার মধ্যে।’—উক্তিটি কার?
- ক. প্রমথ চৌধুরী
- খ. জীবনানন্দ দাশ
- গ. রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
- ঘ. কাজী নজরুল ইসলাম
উত্তর: গ। টীকা অংশে ‘শূন্য নদীর তীরে রহিনু পড়ি’ প্রসঙ্গে রবীন্দ্রনাথ নিজেই এ উক্তিটি করেছেন।
19। কবিতায় ‘ভারা ভারা’ শব্দযুগল কী অর্থে ব্যবহৃত হয়েছে?
- ক. ভারী বোঝা
- খ. নৌকার ওজন
- গ. মেঘের ভার
- ঘ. ধান রাখার পাত্রের সমষ্টি
উত্তর: ঘ। ‘ভারা’ অর্থ ধান রাখার পাত্র; এরকম পাত্রের সমষ্টি বোঝাতে ‘ভারা ভারা’ শব্দটি ব্যবহৃত হয়েছে।
20। ‘গগনে গরজে মেঘ, ঘন বরষা।’—কবিতার এই শুরুতে কীসের ইঙ্গিত রয়েছে?
- ক. আনন্দময় পরিবেশের
- খ. মাঝির আগমনের
- গ. কৃষকের ভালো ফলনের
- ঘ. আসন্ন ধ্বংস ও প্রতিকূল পরিস্থিতির
উত্তর: ঘ। আকাশে মেঘের গর্জন ও ঘন বর্ষা আসন্ন কালস্রোত ও প্রতিকূল পরিস্থিতির ধ্বংসাত্মক রূপের ইঙ্গিত দেয়।
21। ‘কূলে একা বসে আছি, নাহি ভরসা।’—কৃষকের ভরসা না থাকার কারণ কী?
- ক. ফসল চুরি যাওয়ার ভয়
- খ. বৃষ্টিতে ভিজে যাওয়ার ভয়
- গ. নৌকা না পাওয়া
- ঘ. খরস্রোতা নদী ও বৈরী প্রকৃতিতে জীবন-ফসলের অনিশ্চয়তা
উত্তর: ঘ। ভরা নদী, ক্ষুরধারা স্রোত এবং প্রবল বর্ষার কারণে একা কৃষকের জীবন ও ফসলের সুরক্ষার কোনো ভরসা ছিল না।
22। ‘ক্ষুরধারা’ বলতে কেমন স্রোতকে বোঝানো হয়েছে?
- ক. ক্ষুরের মতো ধারালো স্রোত
- খ. ধীরগতির স্রোত
- গ. নদীর বাঁক
- ঘ. ঘোলা জল
উত্তর: ক। শব্দার্থ অনুযায়ী ‘ক্ষুরধারা’ মানে ক্ষুরের মতো ধারালো যে প্রবাহ বা স্রোত।
23। ‘খরপরশা’ শব্দের অর্থ কী?
- ক. খরগোশ
- খ. খরস্রোতা নদী
- গ. ধারালো অস্ত্র বা বর্শা
- ঘ. পরশপাথর
উত্তর: গ। ‘খরপরশা’ মানে ধারালো বর্শা। নদীর স্রোতকে ধারালো বর্শার মতো তীব্র বোঝাতে এটি ব্যবহৃত হয়েছে।
24। ‘কাটিতে কাটিতে ধান এল বরষা।’—এটি কী নির্দেশ করে?
- ক. সময়ের দ্রুত সমাপ্তি বা মহাকালের আগমনের অনিবার্যতা
- খ. কৃষকের কাজ শেষ হয়নি
- গ. কৃষকের গাফিলতি
- ঘ. বর্ষাকাল দীর্ঘস্থায়ী
উত্তর: ক। জীবনব্যাপী সৃষ্টি বা কর্ম (ধান কাটা) শেষ হতে না হতেই অন্তিম সময় (বর্ষা/মৃত্যু) ঘনিয়ে আসে।
25। ‘একখানি ছোটো খেত’—এই ‘ছোটো খেত’ কিসের প্রতীক?
- ক. ছোট দ্বীপ
- খ. কৃষকের দারিদ্র্য
- গ. নদীর চর
- ঘ. মানুষের ক্ষণস্থায়ী ও সীমিত জীবনকাল
উত্তর: ঘ। ছোট খেত মানুষের সীমিত জীবন ও কর্মক্ষেত্রের প্রতীক, যা অনন্ত কালস্রোতের (বাঁকা জল) মাঝে ভাসমান।
26। ‘তরুছায়ামসী-মাখা / গ্রামখানি মেঘে ঢাকা’—এই গ্রামের রূপ কেমন?
- ক. জনশূন্য
- খ. বন্যায় প্লাবিত
- গ. আলোকিত ও উৎসবমুখর
- ঘ. গাছের ছায়ার কালো রঙে মাখানো ও অস্পষ্ট
উত্তর: ঘ। ওপারের মেঘে ঢাকা গ্রামটি যেন গাছের ছায়ার কালো রঙে (মসী) মাখানো, যা পরপারের অস্পষ্টতাকে নির্দেশ করে।
27। ‘প্রভাতবেলা’ শব্দটি কোন পঙ্ক্তির সাথে যুক্ত?
- ক. ঢেউগুলি নিরুপায়
- খ. একখানি ছোটো খেত
- গ. গগনে গরজে মেঘ
- ঘ. গ্রামখানি মেঘে ঢাকা
উত্তর: ঘ। মূল কবিতায় আছে—‘গ্রামখানি মেঘে ঢাকা / প্রভাতবেলা’।
28। মাঝির গান গাওয়া ও তরী বেয়ে আসা কীসের ইঙ্গিত দেয়?
- ক. মহাকালের নিজস্ব স্বাভাবিক গতির
- খ. ঝড়ের সমাপ্তির
- গ. তার আনন্দের
- ঘ. কৃষকের প্রতি করুণার
উত্তর: ক। মহাকালরূপী মাঝি তার নিজস্ব ছন্দে (গান গেয়ে) ও গতিতে নির্লিপ্তভাবে এগিয়ে আসে।
29। ‘ভরা পালে চলে যায়’—মাঝির নৌকার পাল ভরা কেন?
- ক. মহাকালের গতি অপ্রতিরোধ্য বলে
- খ. নৌকায় অনেক ফসল বলে
- গ. মাঝি খুব ব্যস্ত বলে
- ঘ. প্রবল বাতাসের কারণে
উত্তর: ক। ভরা পাল মহাকালের দ্রুত ও অপ্রতিরোধ্য কালস্রোতকে নির্দেশ করে।
30। ‘ঢেউগুলি নিরুপায় / ভাঙে দু ধারে’—ঢেউগুলো নিরুপায় কেন?
- ক. কালস্রোতের কাছে প্রকৃতির অন্যান্য উপাদানও অসহায় বলে
- খ. নদীর তীর ভেঙে যাচ্ছে বলে
- গ. মাঝির গতির কাছে হার মেনে
- ঘ. বাতাস খুব প্রবল বলে
উত্তর: ক। নির্লিপ্ত মহাকালের নৌকার গতির কাছে খরস্রোতা নদীর ঢেউগুলোও যেন নিরুপায় হয়ে আছড়ে পড়ে।
31। ‘ওগো, তুমি কোথা যাও কোন বিদেশে?’—কৃষকের এই প্রশ্নের অন্তর্নিহিত অর্থ কী?
- ক. মাঝিকে পথ নির্দেশ করা
- খ. কৃষকের বিদেশে যাওয়ার ইচ্ছা
- গ. মাঝির গন্তব্য জানার কৌতূহল
- ঘ. শিল্পস্রষ্টার চিরন্তন শিল্পলোকের প্রতি জিজ্ঞাসা
উত্তর: ঘ। এখানে ‘বিদেশ’ বলতে চিরায়ত শিল্পলোককে বোঝানো হয়েছে, যেখানে স্রষ্টা তার সৃষ্টিকে পাঠাতে চায়।
32। ‘যেয়ো যেথা যেতে চাও, / যারে খুশি তারে দাও’—কৃষকের এই কথায় কী প্রকাশ পায়?
- ক. কৃষকের রাগ
- খ. মাঝির প্রতি অবজ্ঞা
- গ. ফসলের প্রতি অনাগ্রহ
- ঘ. স্রষ্টার নির্লিপ্ততা ও সৃষ্টির সংরক্ষণের আকুতি
উত্তর: ঘ। স্রষ্টার নিজের কোনো দাবি নেই, সে শুধু চায় মহাকাল তার সৃষ্টিটুকু (সোনার ধান) গ্রহণ করুক।
33। ‘আমার সোনার ধান কূলেতে এসে’—কৃষক মাঝিকে কী করতে বলেছে?
- ক. ধানগুলো তীরে ফেলে যেতে
- খ. ধানের বীজ দিয়ে যেতে
- গ. ধান কিনে নিতে
- ঘ. ক্ষণিক হেসে ধান নৌকায় তুলে নিতে
উত্তর: ঘ। ‘শুধু তুমি নিয়ে যাও ক্ষণিক হেসে / আমার সোনার ধান কূলেতে এসে।’
34। ‘যত চাও তত লও তরণী-পরে।’—এখানে স্রষ্টার কোন মানসিকতা ফুটে উঠেছে?
- ক. নিঃস্বার্থভাবে সবকিছু সমর্পণ
- খ. অহংকার
- গ. বিরক্তি
- ঘ. ব্যবসার ইচ্ছা
উত্তর: ক। স্রষ্টা তার সারা জীবনের সবটুকু সঞ্চয় নিঃস্বার্থভাবে মহাকালের কাছে সমর্পণ করেছে।
35। ‘আর আছে—আর নাই, দিয়েছি ভরে’—এই চরণ কী প্রমাণ করে?
- ক. নৌকায় আর জায়গা নেই
- খ. স্রষ্টার সৃষ্টির পূর্ণ সমর্পণ
- গ. কৃষকের ফসল কম ছিল
- ঘ. মাঝি আর ধান নিতে চায় না
উত্তর: খ। স্রষ্টা তার জীবনের সবটুকু সৃষ্টিসম্ভার মহাকালের নৌকায় তুলে দিয়েছে, তার কাছে আর কিছুই অবশিষ্ট নেই।
36। ‘এতকাল নদীকূলে / যাহা লয়েছিনু ভুলে’—‘ভুলে’ শব্দটি এখানে কী অর্থে ব্যবহৃত?
- ক. স্মৃতিভ্রংশ
- খ. পার্থিব মোহ নিয়ে যা সঞ্চয় করেছিল
- গ. পথ ভুলে যাওয়া
- ঘ. ভুল করে ফসল ফলানো
উত্তর: খ। স্রষ্টা পার্থিব জীবনের মোহে যে সৃষ্টিসম্ভার তিল তিল করে গড়ে তুলেছিল, কালস্রোতের সামনে তা যেন এক ভ্রম।
37। ‘সকলি দিলাম তুলে / থরে বিথরে’—‘থরে বিথরে’ অর্থ কী?
- ক. স্তরে স্তরে বা সুবিন্যস্ত রূপে
- খ. জোর করে
- গ. এলোমেলোভাবে
- ঘ. দ্রুতগতিতে
উত্তর: ক। শব্দার্থ অনুযায়ী ‘থরে বিথরে’ মানে স্তরে স্তরে বা সুবিন্যস্ত রূপে।
38। ‘আমারি সোনার ধানে গিয়েছে ভরি।’—তরীটি কিসে ভরে গেছে?
- ক. বৃষ্টির জলে
- খ. অন্যান্য যাত্রীতে
- গ. গাছের পাতায়
- ঘ. কৃষকের নিজেরই সৃষ্ট সোনার ধানে
উত্তর: ঘ। কৃষকের নিজের হাতে ফলানো সোনার ধানেই নৌকার সবটুকু জায়গা পূর্ণ হয়ে গেছে।
39। ‘শ্রাবণগগন ঘিরে / ঘন মেঘ ঘুরে ফিরে’—শ্রাবণের এই আকাশ কিসের প্রতীক?
- ক. আসন্ন মৃত্যু বা ধ্বংসের ঘনঘোর রূপের
- খ. বৃষ্টির সৌন্দর্যের
- গ. কৃষকের আনন্দের
- ঘ. ফসলের প্রাচুর্যের
উত্তর: ক। জীবনের শেষ প্রান্তে শূন্য নদীর তীরে দাঁড়িয়ে থাকা স্রষ্টার কাছে শ্রাবণের মেঘাচ্ছন্ন আকাশ অনিবার্য মৃত্যুর ভয়াল রূপ।
40। ‘যাহা ছিল নিয়ে গেল সোনার তরী।’—সোনার তরী কী নিয়ে গেল?
- ক. কৃষকের জমিকে
- খ. কৃষকের সমগ্র ফসল বা শিল্পস্রষ্টার সৃষ্টিসম্ভারকে
- গ. কৃষকের ঘরবাড়িকে
- ঘ. কৃষকের পরিবারকে
উত্তর: খ। মহাকালরূপী সোনার তরী স্রষ্টার সমগ্র সৃষ্টি বা সোনার ধান নিয়ে চলে যায়, স্রষ্টাকে ফেলে রেখে যায়।
41। রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর কোন ছদ্মনামে লিখতেন?
- ক. ভানুসিংহ
- খ. টেকচাঁদ ঠাকুর
- গ. নীললোহিত
- ঘ. বীরবল
উত্তর: ক। যদিও পাঠ্যবইয়ে সরাসরি নেই, এটি রবীন্দ্রনাথের সাধারণ জীবনভিত্তিক তথ্যের অংশ, তবে কবিতায় তিনি ভানুসিংহ নামে লিখতেন। (নোট: পাঠ্যের তথ্যকে প্রাধান্য দিলে, এটি সাধারণ জ্ঞান)।
42। কবিতায় ‘আমি’ বলতে সাধারণ অর্থে কাকে বোঝানো হয়েছে?
- ক. মেঘকে
- খ. মাঝিকে
- গ. কৃষককে
- ঘ. ঈশ্বরকে
উত্তর: গ। শব্দার্থ ও টীকায় স্পষ্ট বলা আছে, ‘আমি’ সাধারণ অর্থে কৃষককে নির্দেশ করে।
43। কবিতায় ‘আমি’ বলতে প্রতীকী অর্থে কাকে বোঝানো হয়েছে?
- ক. মহাকালকে
- খ. সাধারণ মানুষকে
- গ. শিল্পস্রষ্টা কবিকে
- ঘ. পাঠককে
উত্তর: গ। টীকা অনুযায়ী, প্রতীকী অর্থে ‘আমি’ হলো শিল্পস্রষ্টা কবি।
44। নদীর ‘বাঁকা জল’ কোথায় খেলা করছে?
- ক. দূর সাগরে
- খ. ওপারের গ্রামে
- গ. মেঘের মাঝে
- ঘ. ছোট খেতের চারিদিকে
উত্তর: ঘ। ‘চারি দিকে বাঁকা জল করিছে খেলা’—অর্থাৎ ছোট ধানখেতের চারপাশ ঘিরে বাঁকা জল স্রোত বইছে।
45। ‘তরুছায়ামসী-মাখা’—এখানে ‘মসী’ শব্দের অর্থ কী?
- ক. মেঘ
- খ. মাটি
- গ. কালি
- ঘ. মশা
উত্তর: গ। মসী মানে কালি বা কালো রং। গাছের ছায়ার কালো রঙে গ্রামটি মাখানো মনে হচ্ছে।
46। ‘গান গেয়ে তরী বেয়ে কে আসে পারে’—মাঝির এই আগমন কীভাবে ঘটে?
- ক. কাঁদতে কাঁদতে
- খ. চুপচাপ
- গ. গান গেয়ে
- ঘ. দ্রুতবেগে
উত্তর: গ। কবিতায় স্পষ্ট বলা আছে, মাঝি গান গাইতে গাইতে তরী বেয়ে পারের দিকে এগিয়ে আসে।
47। মাঝি নৌকার হাল কীভাবে ধরেছিল?
- ক. শক্ত করে
- খ. কোনো দিকে না তাকিয়ে (ভরা পালে চলে যায়)
- গ. কৃষকের দিকে তাকিয়ে
- ঘ. ঢেউয়ের দিকে তাকিয়ে
উত্তর: খ। মাঝি নিরাসক্ত, সে ‘কোনো দিকে নাহি চায়’, শুধু ভরা পালে নৌকা চালিয়ে যায়।
48। ‘ঢেউগুলি নিরুপায় / ভাঙে দু ধারে’—ঢেউগুলো কোথায় ভাঙে?
- ক. নৌকার দু ধারে
- খ. ওপারের গ্রামে
- গ. আকাশে
- ঘ. কৃষকের গায়ে
উত্তর: ক। মাঝির নৌকার প্রবল গতির কারণে ঢেউগুলো নিরুপায় হয়ে নৌকার দু ধারে ভেঙে পড়ে।
49। কৃষক মাঝিকে নৌকা কোথায় ভেড়াতে বলেছিল?
- ক. ওপারের গ্রামে
- খ. নদীর মোহনায়
- গ. সাগরের মাঝে
- ঘ. কূলেতে এসে
উত্তর: ঘ। ‘বারেক ভিড়াও তরী কূলেতে এসে’—কৃষক মাঝিকে নদীর কূলে নৌকা ভেড়াতে মিনতি করেছিল।
50। ‘বারেক’ শব্দের অর্থ কী?
- ক. বাইরে
- খ. একবার
- গ. বারবার
- ঘ. বারণ করা
উত্তর: খ। ‘বারেক ভিড়াও তরী’ মানে একবার অন্তত নৌকা কূলে ভেড়াও।
51। কৃষক তার সোনার ধান মাঝিকে কীভাবে নিয়ে যেতে বলেছে?
- ক. গম্ভীর মুখে
- খ. ক্ষণিক হেসে
- গ. পারিশ্রমিক দিয়ে
- ঘ. কেঁদে কেঁদে
উত্তর: খ। ‘শুধু তুমি নিয়ে যাও ক্ষণিক হেসে’—কৃষক মাঝির কাছে সামান্য হাসিমুখের করুণা চেয়েছে।
52। ‘তরণী-পরে’ বলতে কী বোঝায়?
- ক. তরণীর নিচে
- খ. তরণীর বা নৌকার উপরে
- গ. নৌকা পার হওয়ার পর
- ঘ. তরী ভাঙার পর
উত্তর: খ। ‘যত চাও তত লও তরণী-পরে’—অর্থাৎ নৌকার ওপর যত খুশি তুলে নাও।
53। ‘সকলি দিলাম তুলে’—এখানে ‘সকলি’ বলতে কী বোঝানো হয়েছে?
- ক. সারা জীবনের অর্জিত সোনার ধান বা সৃষ্টিসম্ভার
- খ. কৃষকের সব অর্থসম্পদ
- গ. নদীর জল
- ঘ. আকাশের মেঘ
উত্তর: ক। সারা জীবনের পরিশ্রমের ফসল সোনার ধানের সবটুকুই কৃষক নৌকায় তুলে দিয়েছে।
54। ‘ঠাঁই নাই, ঠাঁই নাই’—এই হাহাকারের কারণ কী?
- ক. কৃষকের ফসলের জায়গা না হওয়া
- খ. মাঝির নৌকায় জল ওঠা
- গ. নদীর কূল ভেঙে যাওয়া
- ঘ. নৌকায় স্রষ্টার নিজের স্থান না হওয়া
উত্তর: ঘ। সোনার তরীতে কৃষকের সমগ্র ফসল স্থান পেলেও কৃষকের বা স্রষ্টার নিজের জায়গা হয়নি।
55। সোনার তরী কী দিয়ে ভরে গিয়েছিল?
- ক. আমারি সোনার ধানে (স্রষ্টার সৃষ্টি দিয়ে)
- খ. মেঘ দিয়ে
- গ. অন্যান্য কৃষকের ফসলে
- ঘ. নদীর জলে
উত্তর: ক। ‘আমারি সোনার ধানে গিয়াছে ভরি’—অর্থাৎ স্রষ্টার নিজের সৃষ্টিতেই তরী পূর্ণ।
56। ‘শূন্য নদীর তীরে’ কৃষক কেন পড়ে রইল?
- ক. সোনার তরীতে তার জায়গা হয়নি
- খ. সে গ্রামের অপেক্ষায় ছিল
- গ. সে যেতে চায়নি
- ঘ. মাঝি তাকে ভয় দেখিয়েছিল
উত্তর: ক। নৌকায় তিল ধারণের ঠাঁই না থাকায় শূন্য নদীর তীরে কৃষককে একা পড়ে থাকতে হয়।
57। ‘রাশি রাশি ভারা ভারা’—এখানে রাশি রাশি কী?
- ক. জল
- খ. ধান
- গ. ঢেউ
- ঘ. মেঘ
উত্তর: খ। ‘রাশি রাশি ভারা ভারা / ধান কাটা হলো সারা’—এখানে কাটা ধানের প্রাচুর্য বোঝাতে রাশি রাশি বলা হয়েছে।
58। ‘খরপরশা’ কীসের উপমা হিসেবে ব্যবহৃত হয়েছে?
- ক. কৃষকের কাস্তে
- খ. বর্শার মতো মেঘের গর্জন
- গ. ধারালো বর্শার মতো নদীর স্রোত
- ঘ. মাঝির বৈঠা
উত্তর: গ। খরস্রোতা নদীর ক্ষুরধারা স্রোতকে ধারালো বর্শা বা ‘খরপরশা’র সাথে তুলনা করা হয়েছে।
59। নদীর স্রোতের সাথে কৃষকের ক্ষেতের অবস্থান কেমন ছিল?
- ক. অনেক উঁচুতে পাহাড়ের উপর
- খ. চারপাশে বাঁকা জলে ঘেরা ছোট দ্বীপের মতো
- গ. স্রোতের একেবারে নিচে
- ঘ. নদীর অনেক দূরে
উত্তর: খ। ‘চারি দিকে বাঁকা জল করিছে খেলা’ এবং ‘একখানি ছোটো খেত’ প্রমাণ করে এটি দ্বীপের মতো স্রোতবেষ্টিত।
60। ওপারের গ্রামটিকে কোন বেলার মেঘে ঢাকা দেখা যাচ্ছিল?
- ক. নিশীথবেলার
- খ. গোধূলিবেলার
- গ. দুপুরবেলার
- ঘ. প্রভাতবেলার
উত্তর: ঘ। ‘গ্রামখানি মেঘে ঢাকা / প্রভাতবেলা’—কবিতায় প্রভাতবেলার কথা বলা হয়েছে।
61। ‘দেখে যেন মনে হয় চিনি উহারে’—এই পঙ্ক্তিটি কবিতায় কতবার ব্যবহৃত হয়েছে?
- ক. চারবার
- খ. একবার
- গ. দুবার
- ঘ. তিনবার
উত্তর: গ। তৃতীয় স্তবকে পঙ্ক্তিটি দুবার ব্যবহৃত হয়েছে।
62। ‘ভরা পালে চলে যায়’—নৌকাটি কোন দিকে চলে যায়?
- ক. কোনো দিকে না চেয়ে আপন বেগে
- খ. কূলের দিকে
- গ. ওপারের গ্রামে
- ঘ. নির্দিষ্ট গন্তব্যে
উত্তর: ক। মহাকাল কারও দিকে ভ্রুক্ষেপ করে না, তাই নৌকাটি ‘কোনো দিকে নাহি চায়’।
63। ‘যেয়ো যেথা যেতে চাও’—কৃষক এ কথা কাকে বলেছে?
- ক. নিজেকে
- খ. নদীকে
- গ. মাঝিকে
- ঘ. মেঘকে
উত্তর: গ। কৃষক মহাকালরূপী মাঝিকে উদ্দেশ্য করেই এ কথা বলেছে।
64। ‘যারে খুশি তারে দাও’—এর মাধ্যমে স্রষ্টার কী প্রকাশ পায়?
- ক. স্বত্বত্যাগ বা নির্লিপ্ততা
- খ. ক্রোধ
- গ. হতাশা
- ঘ. অহংকার
উত্তর: ক। স্রষ্টা তার সৃষ্টি মহাকালকে সমর্পণ করে তার ওপর থেকে নিজের সকল দাবি বা স্বত্ব ত্যাগ করেছেন।
65। ‘এতকাল নদীকূলে’—কৃষক এতকাল কী করছিল?
- ক. শুধু কান্না করছিল
- খ. নৌকার জন্য অপেক্ষা করছিল
- গ. ঘুমিয়ে ছিল
- ঘ. সোনার ধান ফলিয়েছিল বা সৃষ্টিসম্ভার গড়েছিল
উত্তর: ঘ। এতকাল ধরে কৃষক কষ্ট করে সোনার ধান ফলিয়েছে, যা সে তুলে দিয়েছে।
66। ‘রহিনু পড়ি’—কোথায় পড়ে রইল?
- ক. ধানখেতে
- খ. শূন্য নদীর তীরে
- গ. নৌকার মাঝে
- ঘ. ওপারের গ্রামে
উত্তর: খ। ‘শূন্য নদীর তীরে / রহিনু পড়ি’—কৃষক নদীর তীরে পড়ে রইল।
67। ‘যাহা ছিল নিয়ে গেল সোনার তরী।’—এই চরণে কী প্রতিধ্বনিত হয়?
- ক. প্রাপ্তির আনন্দ
- খ. মাঝির প্রতি কৃতজ্ঞতা
- গ. ভবিষ্যৎ সৃষ্টির প্রত্যাশা
- ঘ. জীবনের চরম রিক্ততা ও হাহাকার
উত্তর: ঘ। স্রষ্টার সবটুকু সৃষ্টি মহাকাল নিয়ে যাওয়ায় তার নিজের যে রিক্ততা ও শূন্যতা, তারই করুণ হাহাকার এখানে ফুটে উঠেছে।
68। ‘সোনার তরী’ কবিতায় ‘আমি’ বলতে কয়টি অর্থ বোঝানো হয়েছে?
- ক. একটি
- খ. দুটি (সাধারণ ও প্রতীকী)
- গ. তিনটি
- ঘ. চারটি
উত্তর: খ। সাধারণ অর্থে কৃষক এবং প্রতীকী অর্থে শিল্পস্রষ্টা কবি—এই দুটি অর্থে ‘আমি’ ব্যবহৃত হয়েছে।
69। ‘বাঁকা জল’ কিসের ইঙ্গিত দেয়?
- ক. ছোট খেতটুকুর আশু বিলীয়মান হওয়ার বা আসন্ন মৃত্যুর
- খ. নৌকার দ্রুত গতির
- গ. নদীর স্বাভাবিক সৌন্দর্য
- ঘ. প্রচুর মাছ পাওয়ার
উত্তর: ক। টীকা অনুযায়ী, ঘূর্ণায়মান স্রোতের উদ্দামতা ছোট খেতটুকুর আশু বিলীয়মান হওয়ার ইঙ্গিত দেয়।
70। সোনার তরীতে কার স্থান সংকুলান হয় না?
- ক. সোনার ধানের
- খ. স্রষ্টার ব্যক্তিসত্তা ও শারীরিক অস্তিত্বের
- গ. মহৎ সৃষ্টির
- ঘ. মাঝির
উত্তর: খ। ব্যক্তিসত্তা ও শারীরিক অস্তিত্বকে নিশ্চিতভাবে মহাকালের গ্রাসের শিকার হতে হয়, তাই স্রষ্টার জায়গা তরীতে হয় না।
71। রবীন্দ্রনাথের মতে, মহাকাল মানুষকে কোথায় ফেলে যায়?
- ক. বিস্মৃতি ও অবহেলার মধ্যে
- খ. অমরত্বের মাঝে
- গ. নতুন সৃষ্টির তাড়নায়
- ঘ. স্বর্গে
উত্তর: ক। রবীন্দ্রনাথ লিখেছেন, ‘আমাকে ফেলিয়া যায় বিস্মৃতি ও অবহেলার মধ্যে।’
72। ‘সোনার তরী’ কবিতার পরতে পরতে কোন দর্শন লুকিয়ে আছে?
- ক. নিবিড় জীবনদর্শন
- খ. মার্কসীয় দর্শন
- গ. প্রকৃতিবাদ
- ঘ. মরমী দর্শন
উত্তর: ক। পাঠ-পরিচিতিতে বলা হয়েছে, এ কবিতায় নিবিড়ভাবে মিশে আছে কবির গভীর জীবনদর্শন।
73। মানুষের কী মহাকালের স্রোতে ভেসে যায়?
- ক. সৃজনশীল কর্ম
- খ. সোনার তরী
- গ. মহৎ সৃষ্টি
- ঘ. জীবন-যৌবন
উত্তর: ঘ। পাঠ-পরিচিতি অনুযায়ী, মহাকালের স্রোতে জীবন-যৌবন ভেসে যায়, কিন্তু বেঁচে থাকে মানুষের সৃজনশীল কর্মসম্ভার।
74। নদীর খরস্রোতা রূপ কিসের প্রভাবে হিংস্র হয়ে ওঠে?
- ক. মাঝির গানে
- খ. আকাশের ঘন মেঘ আর ভারী বর্ষণে
- গ. কৃষকের কান্নায়
- ঘ. বাতাসের প্রভাবে
উত্তর: খ। আকাশের ঘন মেঘ আর ভারী বর্ষণে পাশের খরস্রোতা নদী হিংস্র হয়ে ওঠে।
75। কৃষক মাঝিকে সকাতরে কী মিনতি জানিয়েছিল?
- ক. তার সাথে গল্প করতে
- খ. নৌকা কূলে ভিড়িয়ে সোনার ধান নিয়ে যেতে
- গ. বৃষ্টি থামিয়ে দিতে
- ঘ. তাকে পার করে দিতে
উত্তর: খ। উৎকণ্ঠিত কৃষক নৌকা কূলে ভিড়িয়ে তার উৎপাদিত সোনার ধান নিয়ে যাওয়ার জন্য মাঝিকে সকাতরে মিনতি জানায়।
76। উদ্দীপকের জয়নুল আবেদিনের সাথে ‘সোনার তরী’ কবিতার কোন চরিত্রের মিল পাওয়া যায়?
- ক. শ্রোতা
- খ. গ্রামের লোক
- গ. মাঝি
- ঘ. কৃষক (শিল্পস্রষ্টা)
উত্তর: ঘ। কৃষক যেমন তার ফসল রেখে যায় নিজে কালের গর্ভে হারিয়ে যায়, জয়নুল আবেদিনও তার সৃষ্টি রেখে পৃথিবী থেকে বিদায় নিয়েছেন।
77। উদ্দীপকের মূলভাব ‘সোনার তরী’ কবিতার কোন পঙ্ক্তির সাথে সাদৃশ্যপূর্ণ?
- ক. গগনে গরজে মেঘ, ঘন বরষা
- খ. যাহা ছিল নিয়ে গেল সোনার তরী
- গ. দেখে যেন মনে হয় চিনি উহারে
- ঘ. একখানি ছোটো খেত, আমি একেলা
উত্তর: খ। ‘যাহা ছিল নিয়ে গেল সোনার তরী’ অর্থাৎ মহাকাল শিল্পীর সৃষ্টিকর্মকে গ্রহণ করে অমরত্ব দিয়েছে।
78। রহিম সাহেবের এই উপলব্ধি ‘সোনার তরী’ কবিতার কোন প্রতীকটিকে স্মরণ করিয়ে দেয়?
- ক. সোনার ধান
- খ. প্রভাতবেলা
- গ. বাঁকা জল
- ঘ. খরপরশা
উত্তর: ক। মানুষের সারাজীবনের অর্জন পৃথিবীতে পড়ে থাকে, যা কবিতায় কৃষকের অর্জিত ‘সোনার ধান’-এর সমতুল্য।
79। রহিম সাহেবের শারীরিক অস্তিত্বের পরিণতি কবিতার আলোকে কী হবে?
- ক. অমরত্ব লাভ করবে
- খ. সোনার তরীতে ঠাঁই পাবে
- গ. চিরকাল স্মরণীয় হবে
- ঘ. মহাকালের নিষ্ঠুর কালগ্রাসের শিকার হবে
উত্তর: ঘ। স্রষ্টা বা মানুষের শারীরিক অস্তিত্ব নিশ্চিতভাবে কালগ্রাসের শিকার হয় এবং বিস্মৃতিতে তলিয়ে যায়।
80। উদ্দীপকের ‘কালের খেয়া’ ‘সোনার তরী’ কবিতায় কী হিসেবে চিত্রিত হয়েছে?
- ক. তরুছায়া
- খ. ছোটো খেত
- গ. সোনার তরী
- ঘ. বাঁকা জল
উত্তর: গ। মহাকালের খেয়া যা মহৎ সৃষ্টিকে বহন করে যুগ যুগ ধরে টিকে থাকে, কবিতায় তা-ই সোনার তরী।
81। জীবনানন্দ দাশের পরিণতি কবিতার কোন চরণের ভাব বহন করে?
- ক. রাশি রাশি ভারা ভারা
- খ. শূন্য নদীর তীরে রহিনু পড়ি
- গ. ভরা পালে চলে যায়
- ঘ. চারি দিকে বাঁকা জল করিছে খেলা
উত্তর: খ। স্রষ্টার মৃত্যু বা মহাকালের বুকে স্থান না পাওয়া শূন্য নদীর তীরে পড়ে থাকারই নামান্তর।
82। উদ্দীপকের পরিবেশ ‘সোনার তরী’ কবিতার কোন অংশের কথা মনে করিয়ে দেয়?
- ক. তরুছায়ামসী-মাখা গ্রামখানি মেঘে ঢাকা
- খ. যারে খুশি তারে দাও
- গ. গান গেয়ে তরী বেয়ে কে আসে পারে
- ঘ. চারি দিকে বাঁকা জল করিছে খেলা
উত্তর: ঘ। নদীর প্রবল স্রোতে ভাঙনের আশঙ্কা কবিতায় ‘বাঁকা জল’-এর উদ্দামতার সাথে তুলনীয়, যা ছোট খেতটিকে গ্রাস করতে উদ্যত।
83। উদ্দীপকের ব্যক্তির মনের অবস্থা কৃষকের কোন অবস্থার সমান্তরাল?
- ক. মাঝিকে ডাকার আকুলতা
- খ. ফসল ঘরে তোলার আনন্দ
- গ. ঘনঘোর আশঙ্কা ও নিঃসঙ্গতা
- ঘ. সবকিছু বিলিয়ে দেওয়ার তৃপ্তি
উত্তর: গ। বৈরী প্রকৃতি ও কালস্রোতের সামনে দাঁড়িয়ে উদ্দীপকের ব্যক্তি এবং কবিতার কৃষক উভয়েই গভীর আশঙ্কা ও নিঃসঙ্গতায় ভুগছে।
84। লোকমান মিয়ার এই পরিণতি রবীন্দ্রনাথের কোন উক্তির বাস্তব রূপ?
- ক. আমারি সোনার ধানে গিয়াছে ভরি
- খ. ঠাঁই নাই, ঠাঁই নাই
- গ. যাহা ছিল নিয়ে গেল সোনার তরী
- ঘ. আমাকে ফেলিয়া যায় বিস্মৃতি ও অবহেলার মধ্যে
উত্তর: ঘ। লোকমান মিয়া স্কুল তৈরি করলেও মানুষ তাকে ভুলে গেছে, ঠিক যেমন মহাকাল স্রষ্টাকে বিস্মৃতি ও অবহেলার মধ্যে ফেলে যায়।
85। উদ্দীপকের স্কুলটি কবিতার কোন প্রতীকের সাথে তুলনীয়?
- ক. সোনার ধান
- খ. ছোটো খেত
- গ. সোনার তরী
- ঘ. বাঁকা জল
উত্তর: ক। স্রষ্টার সৃষ্ট মহৎ কর্ম হিসেবে স্কুলটি কৃষকের ‘সোনার ধান’ বা সৃষ্টিসম্ভারের সমতুল্য।
86। উদ্দীপকের চালকদের আচরণ কবিতার কার আচরণের অনুরূপ?
- ক. নদীর ঢেউয়ের
- খ. মাঝির
- গ. কৃষকের
- ঘ. মেঘের
উত্তর: খ। চালকরা যেমন ভিখারির দিকে না তাকিয়ে আপন গতিতে ছুটেছে, মহাকালরূপী মাঝিও তেমনি নির্লিপ্তভাবে ভরা পালে চলে যায়, কোনো দিকে চায় না।
87। মাঝির এই ‘কোনো দিকে না চাওয়া’ কী নির্দেশ করে?
- ক. অহংকার
- খ. মহাকালের নিরাসক্ততা
- গ. সময়ের অভাব
- ঘ. মাঝির অন্ধত্ব
উত্তর: খ। মহাকাল কোনো ব্যক্তির প্রতি পক্ষপাতিত্ব করে না বা আবেগ দেখায় না, সে সম্পূর্ণ নিরাসক্ত।
88। হুমায়ূন আহমেদের এই অবস্থা কবিতার কোন চরণের সাথে মিলে যায়?
- ক. এপারেতে ছোটো খেত, আমি একেলা
- খ. ভরা নদী ক্ষুরধারা খরপরশা
- গ. এখন আমারে লহো করুণা করে
- ঘ. কাটিতে কাটিতে ধান এল বরষা
উত্তর: ঘ। জীবনরূপী ধান কাটা শেষ হতে না হতেই বা সৃষ্টি সম্পন্ন করতে করতেই বর্ষারূপী মৃত্যু বা অন্তিম সময় ঘনিয়ে আসে।
89। উদ্দীপকে প্রতিফলিত হুমায়ূন আহমেদের সৃষ্টির তাড়না কবিতার কোন সত্যকে তুলে ধরে?
- ক. প্রকৃতির নিয়ম অলঙ্ঘনীয়
- খ. সৃষ্টির মাধ্যমেই স্রষ্টা কালস্রোতে টিকে থাকতে চায়
- গ. মহাকাল সবাইকে মনে রাখে
- ঘ. মানুষ মৃত্যুকে ভয় পায় না
উত্তর: খ। অনিবার্য মৃত্যু জেনেও স্রষ্টা মহাকালের বুকে তার সৃষ্টিকে (সোনার ধান) ঠাঁই দেওয়ার জন্যই অবিরাম কাজ করে যায়।
90। মায়ের এই নিঃস্বার্থ আত্মত্যাগ ‘সোনার তরী’ কবিতার কোন চরণের চেতনার সাথে সম্পর্কিত?
- ক. আর আছে—আর নাই, দিয়েছি ভরে
- খ. শূন্য নদীর তীরে রহিনু পড়ি
- গ. কূলে একা বসে আছি, নাহি ভরসা
- ঘ. গান গেয়ে তরী বেয়ে কে আসে পারে
উত্তর: ক। মা যেমন সন্তানের জন্য নিজের সর্বস্ব দিয়েছেন, স্রষ্টাও তেমনি তার সৃষ্টির জন্য নিজের সবটুকু নিঃস্বার্থভাবে বিলিয়ে দেয়।
91। উদ্দীপকের সন্তান এবং কবিতার ‘সোনার ধান’ এর মধ্যে মূল সাদৃশ্য কোথায়?
- ক. উভয়ই অমূল্য সম্পদ
- খ. উভয়ই কালস্রোতে হারিয়ে যায়
- গ. উভয়ই প্রাকৃতিক উপাদান
- ঘ. উভয়ই স্রষ্টাকে রক্ষা করে
উত্তর: ক। মায়ের কাছে সন্তান এবং কৃষকের বা স্রষ্টার কাছে তার সৃষ্টি (সোনার ধান) উভয়ই জীবনের সবচেয়ে মূল্যবান সম্পদ।
92। সোনার তরী কবিতায় কোন ঋতুর উপস্থিতি লক্ষ্য করা যায়?
- ক. গ্রীষ্ম
- খ. শরৎ
- গ. বসন্ত
- ঘ. বর্ষা
উত্তর: ঘ। ‘ঘন বরষা’ এবং ‘শ্রাবণগগন’ শব্দগুলো স্পষ্টভাবে বর্ষা ঋতুর উপস্থিতি প্রমাণ করে।
93। ‘গরজে’ শব্দের অর্থ কী?
- ক. গর্জন করে
- খ. গাছ
- গ. মেঘ
- ঘ. গরিব
উত্তর: ক। ‘গগনে গরজে মেঘ’—এখানে গরজে মানে গর্জন করা বা শব্দ করা।
94। ‘ভারা ভারা’ বলতে কী বোঝায়?
- ক. বৃষ্টির জলের পরিমাণ
- খ. ধান রাখার পাত্রের সমষ্টি
- গ. নৌকার পাল
- ঘ. অনেক ভারী জিনিস
উত্তর: খ। ‘ভারা’ অর্থ ধান রাখার পাত্র। এরকম অনেক পাত্রের সমষ্টি বোঝাতে ‘ভারা ভারা’ ব্যবহৃত হয়েছে।
95। ‘ক্ষুরধারা’ শব্দটি কীভাবে গঠিত?
- ক. ক্ষুরের মতো ধারালো যে প্রবাহ (সমাসবদ্ধ পদ)
- খ. নদীর নাম
- গ. ক্ষুর ও ধারার সন্ধি
- ঘ. অস্ত্রের নাম
উত্তর: ক। ক্ষুরের মতো ধারালো স্রোত বোঝাতেই ‘ক্ষুরধারা’ শব্দটি ব্যবহৃত হয়েছে।
96। ‘খরপরশা’ শব্দের ‘পরশা’ অর্থ কী?
- ক. পরশ পাথর
- খ. বর্শা
- গ. পাতা
- ঘ. স্পর্শ
উত্তর: খ। খরপরশা মানে ধারালো বর্শা। এখানে পরশা বলতে বর্শা নামক অস্ত্রকে বোঝানো হয়েছে।
97। ‘চারি দিকে বাঁকা জল করিছে খেলা’—এখানে ‘খেলা’ বলতে কী বোঝানো হয়েছে?
- ক. ঘূর্ণায়মান স্রোতের উদ্দামতা
- খ. নৌকার দুলুনি
- গ. আনন্দ করা
- ঘ. মাছের সাঁতার
উত্তর: ক। ছোট খেতের পাশে নদীর ঘূর্ণায়মান ও ভয়ংকর স্রোতের উদ্দামতাকেই বাঁকা জলের খেলা বলা হয়েছে।
98। ‘মসী’ শব্দের অর্থ কী?
- ক. মশারি
- খ. মাটি
- গ. কালি বা কালো রং
- ঘ. মেঘ
উত্তর: গ। ‘তরুছায়ামসী-মাখা’—এখানে মসী বলতে কালো কালি বোঝানো হয়েছে।
99। ‘নির্লোভ’ বা ‘নিরাসক্ত’ বোঝাতে কবিতায় মাঝির কোন আচরণটি উল্লেখ করা হয়েছে?
- ক. কোনো দিকে না চাওয়া
- খ. গান গাওয়া
- গ. তরী বাওয়া
- ঘ. ক্ষণিক হাসা
উত্তর: ক। মহাকাল কারও প্রতি মোহ বা আসক্তি দেখায় না, তাই সে কোনো দিকে চায় না।
100। ‘চিরায়ত’ শব্দের অর্থ কী?
- ক. পুরানো
- খ. ক্ষণস্থায়ী
- গ. যা চিরকাল ধরে চলে আসছে বা শাশ্বত
- ঘ. নতুন
উত্তর: গ। ‘চিরায়ত শিল্পলোক’ বলতে শাশ্বত বা চিরন্তন শিল্পের জগৎকে বোঝায়, যা কখনো ধ্বংস হয় না।
101। ‘বারেক’ শব্দের আভিধানিক অর্থ কী?
- ক. একবার
- খ. বাইরে
- গ. বারণ
- ঘ. বারবার
উত্তর: ক। বারেক মানে অন্তত একবার।
102। ‘থরে বিথরে’ শব্দটির ব্যাকরণগত রূপ কী?
- ক. সর্বনাম
- খ. সমার্থক শব্দযুগল (স্তরে স্তরে অর্থে)
- গ. বিপরীত শব্দ
- ঘ. বিশেষ্য
উত্তর: খ। থরে বিথরে মানে স্তরে স্তরে বা সুবিন্যস্তরূপে।
103। ‘করুণা করে’—স্রষ্টা কার কাছে করুণা ভিক্ষা করেছেন?
- ক. প্রকৃতির কাছে
- খ. মহাকালরূপী মাঝির কাছে
- গ. ঈশ্বরের কাছে
- ঘ. সমাজের কাছে
উত্তর: খ। স্রষ্টা মহাকালের তরীতে নিজের একটু ঠাঁই পাওয়ার জন্য মাঝির কাছে করুণা চেয়েছেন।
104। ‘কালগ্রাস’ বলতে কী বোঝায়?
- ক. অন্ধকার
- খ. সময়ের হিসাব
- গ. কালসাপ
- ঘ. মহাকাল বা সময়ের করাল গ্রাস, যাতে সব ধ্বংস হয়
উত্তর: ঘ। মহাকালের নির্মম ধ্বংসলীলাকেই কালগ্রাস বলা হয়, যার শিকার হয় ব্যক্তিসত্তা।
105। ‘বিস্মৃতি’ শব্দের অর্থ কী?
- ক. স্মৃতিচিহ্ন
- খ. অবাক হওয়া
- গ. মনে রাখা
- ঘ. ভুলে যাওয়া বা বিস্মরণ
উত্তর: ঘ। মহাকাল স্রষ্টাকে বিস্মৃতির (ভুলে যাওয়ার) অতলে ফেলে রেখে যায়।
106। ‘সকাতরে’ মিনতি জানানো বলতে কী বোঝায়?
- ক. হাসতে হাসতে
- খ. অহংকারের সাথে
- গ. করুণভাবে বা কাতরতার সাথে
- ঘ. জোর করে
উত্তর: গ। কৃষক অত্যন্ত কাতর হয়ে বা সকাতরে মাঝিকে নৌকা ভিড়াতে মিনতি করেছিল।
107। ‘উদ্দামতা’ শব্দের অর্থ কী?
- ক. বাঁধনহারা বা প্রবল বেগ
- খ. ভয়
- গ. শান্ত ভাব
- ঘ. আনন্দ
উত্তর: ক। ঘূর্ণায়মান স্রোতের উদ্দামতা মানে নদীর স্রোতের প্রবল ও বাঁধনহারা রূপ।
108। বিশ্বকবি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর কবে জন্মগ্রহণ করেন?
- ক. ৭ই আগস্ট ১৯৪১
- খ. ২৫শে বৈশাখ ১৮৯৯
- গ. ১১ই জ্যৈষ্ঠ ১৮৯৯
- ঘ. ৭ই মে ১৮৬১
উত্তর: ঘ। কবি পরিচিতি অনুযায়ী তিনি ১৮৬১ খ্রিষ্টাব্দের ৭ই মে জন্মগ্রহণ করেন।
109। রবীন্দ্রনাথ কোথায় জন্মগ্রহণ করেন?
- ক. ভারতের কলকাতায়
- খ. ঢাকায়
- গ. শান্তিনিকেতনে
- ঘ. শিলাইদহে
উত্তর: ক। তিনি ভারতের কলকাতায় জন্মগ্রহণ করেন।
110। বাংলা সাহিত্যের কোন সময়কাল ‘রবীন্দ্রযুগ’ নামে পরিচিত?
- ক. তার জন্মের আগের সময়
- খ. তার সাহিত্যসাধনার একটি বৃহৎকাল
- গ. উনিশ শতকের প্রথমভাগ
- ঘ. তার মৃত্যুর পরের সময়
উত্তর: খ। তার সাহিত্যসাধনার একটি বৃহৎকাল বাংলা সাহিত্যের ‘রবীন্দ্রযুগ’ নামে পরিচিত।
111। রোমান্টিক এই কবির কবিতার মূল সুর কী?
- ক. পরাধীনতার গ্লানি
- খ. বিদ্রোহ ও বিপ্লব
- গ. আধ্যাত্মিকতা ও সন্ন্যাস
- ঘ. মানবধর্মের জয় ও সৌন্দর্য-তৃষ্ণা
উত্তর: ঘ। মানবধর্মের জয় ও সৌন্দর্য-তৃষ্ণা রোমান্টিক এই কবির কবিতার মূল সুর।
112। রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর কোন বিশ্ববিদ্যালয়ের স্বাপ্নিক ও প্রতিষ্ঠাতা?
- ক. ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়
- খ. কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়
- গ. রবীন্দ্রভারতী
- ঘ. বিশ্বভারতী
উত্তর: ঘ। নিজে প্রাতিষ্ঠানিক শিক্ষায় নিরুৎসাহী হলেও তিনি ‘বিশ্বভারতী’ নামের বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রতিষ্ঠাতা।
113। মাত্র পনেরো বছর বয়সে রবীন্দ্রনাথের কোন কাব্য প্রকাশিত হয়?
- ক. সোনার তরী
- খ. গীতাঞ্জলি
- গ. বলাকা
- ঘ. বনফুল
উত্তর: ঘ। মাত্র পনেরো বছর বয়সে তাঁর প্রথম কাব্য ‘বনফুল’ প্রকাশিত হয়।
114। রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর কত সালে নোবেল পুরস্কার পান?
- ক. ১৯১৩
- খ. ১৯১১
- গ. ১৯১০
- ঘ. ১৯৪১
উত্তর: ক। তিনি ১৯১৩ খ্রিষ্টাব্দে প্রথম এশীয় হিসেবে নোবেল পুরস্কারে ভূষিত হন।
115। কোন গ্রন্থের জন্য রবীন্দ্রনাথ নোবেল পুরস্কার লাভ করেন?
- ক. বলাকা
- খ. সোনার তরী
- গ. গীতাঞ্জলি (মূল বাংলা)
- ঘ. Song Offerings
উত্তর: ঘ। ‘গীতাঞ্জলি’ এবং অন্যান্য কাব্যের কবিতার সমন্বয়ে স্ব-অনূদিত ‘Song Offerings’ গ্রন্থের জন্য তিনি এই পুরস্কার পান।
116। বাংলা ছোটগল্পের পথিকৃৎ ও শ্রেষ্ঠ শিল্পী কে?
- ক. বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
- খ. রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
- গ. শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
- ঘ. প্রভাতকুমার মুখোপাধ্যায়
উত্তর: খ। কবি পরিচিতিতে স্পষ্টভাবে উল্লেখ আছে যে বাংলা ছোটগল্পের তিনি পথিকৃৎ ও শ্রেষ্ঠ শিল্পী।
117। নিচের কোনটি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের কাব্যগ্রন্থ নয়?
- ক. চিত্রা
- খ. বিষাদ-সিন্ধু
- গ. ক্ষণিকা
- ঘ. মানসী
উত্তর: খ। ‘বিষাদ-সিন্ধু’ মীর মশাররফ হোসেনের রচনা। মানসী, চিত্রা, ক্ষণিকা রবীন্দ্রনাথের কাব্যগ্রন্থ।
118। ‘বিসর্জন’ রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের কী ধরনের রচনা?
- ক. কাব্যনাট্য
- খ. ছোটগল্প
- গ. উপন্যাস
- ঘ. প্রবন্ধ
উত্তর: ক। ‘বিসর্জন’ ও ‘চিত্রাঙ্গদা’ তাঁর রচিত ভিন্ন স্বাদের কাব্যনাট্য।
119। ‘কথা’ ও ‘কাহিনি’ রবীন্দ্রনাথের কী ধরনের সংকলন?
- ক. কাহিনি-কবিতার
- খ. ছোটগল্পের
- গ. প্রবন্ধের
- ঘ. গানের
উত্তর: ক। ‘কথা’ ও ‘কাহিনি’ তাঁর কাহিনি-কবিতার সংকলন।
120। রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর কবে মৃত্যুবরণ করেন?
- ক. ৭ই মে ১৯৪১
- খ. ২২শে শ্রাবণ ১৮৬১
- গ. ৭ই আগস্ট ১৯৪১
- ঘ. ২৫শে বৈশাখ ১৯৪১
উত্তর: গ। ১৯৪১ সালের ৭ই আগস্ট তাঁর জীবনাবসান ঘটে।
121। রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের শেষ কাব্যগ্রন্থ কোনটি?
- ক. শেষ লেখা
- খ. জন্মদিনে
- গ. পুনশ্চ
- ঘ. বলাকা
উত্তর: ক। প্রদত্ত তালিকায় ‘শেষ লেখা’ তাঁর অন্যতম শ্রেষ্ঠ ও শেষ কাব্যগ্রন্থ।
122। নিচের কোনটি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের একটি পরিচয় নয়?
- ক. অনন্য চিত্রশিল্পী
- খ. সামরিক সেনাপতি
- গ. অনুসন্ধিৎসু বিশ্বপরিব্রাজক
- ঘ. দক্ষ সম্পাদক
উত্তর: খ। তিনি চিত্রশিল্পী, পরিব্রাজক ও সম্পাদক ছিলেন, সামরিক সেনাপতি ছিলেন না।
123। রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর কেমন শিক্ষা গ্রহণে নিরুৎসাহী ছিলেন?
- ক. আত্মশিক্ষা
- খ. আধ্যাত্মিক শিক্ষা
- গ. কারিগরি শিক্ষা
- ঘ. প্রাতিষ্ঠানিক শিক্ষা
উত্তর: ঘ। তিনি নিজে প্রাতিষ্ঠানিক শিক্ষাগ্রহণে নিরুৎসাহী ছিলেন।
124। ‘সোনার তরী’ কাব্যগ্রন্থের রচয়িতা কে?
- ক. মাইকেল মধুসূদন দত্ত
- খ. জসীমউদ্দীন
- গ. রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
- ঘ. কাজী নজরুল ইসলাম
উত্তর: গ। ‘সোনার তরী’ রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের অন্যতম শ্রেষ্ঠ কাব্যগ্রন্থ।
125। ‘পুনশ্চ’ কাব্যগ্রন্থটি কার লেখা?
- ক. সত্যেন্দ্রনাথ দত্ত
- খ. জীবনানন্দ দাশ
- গ. রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
- ঘ. সুকান্ত ভট্টাচার্য
উত্তর: গ। ‘পুনশ্চ’ রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের লেখা অন্যতম শ্রেষ্ঠ একটি কাব্যগ্রন্থ।
126। রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর কততম এশীয় হিসেবে নোবেল পুরস্কার পান?
- ক. চতুর্থ
- খ. দ্বিতীয়
- গ. তৃতীয়
- ঘ. প্রথম
উত্তর: ঘ। ১৯১৩ খ্রিষ্টাব্দে প্রথম এশীয় হিসেবে তিনি নোবেল পুরস্কারে ভূষিত হন।
127। ‘চিত্রাঙ্গদা’ কী?
- ক. ছোটগল্প
- খ. প্রবন্ধ গ্রন্থ
- গ. কাব্যনাট্য
- ঘ. উপন্যাস
উত্তর: গ। ‘বিসর্জন’ ও ‘চিত্রাঙ্গদা’ হলো রবীন্দ্রনাথ রচিত কাব্যনাট্য।
128। কবিতায় ‘সোনার ধান’ এর স্রষ্টা কাকে বলা হয়েছে?
- ক. মহাকালকে
- খ. ঈশ্বরকে
- গ. কৃষক বা প্রতীকী অর্থে শিল্পস্রষ্টা কবিকে
- ঘ. মাঝিকে
উত্তর: গ। ‘সোনার ধান’ উৎপাদন করেছে কৃষক, যা প্রতীকী অর্থে কবির সৃষ্টি।
129। রবীন্দ্রনাথের কবিতায় মহাকাল কাকে বিস্মৃতির অতলে ফেলে যায়?
- ক. সোনার ধানকে
- খ. নৌকার মাঝিকে
- গ. স্রষ্টাকে
- ঘ. সৃষ্টিকে
উত্তর: গ। মহাকাল সৃষ্টিকে গ্রহণ করলেও স্রষ্টাকে বিস্মৃতির অতলে ফেলে যায়।
130। ‘জন্মদিনে’ গ্রন্থটির রচয়িতা কে?
- ক. রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
- খ. হুমায়ূন আহমেদ
- গ. কাজী নজরুল ইসলাম
- ঘ. শামসুর রাহমান
উত্তর: ক। ‘জন্মদিনে’ রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের একটি উল্লেখযোগ্য কাব্যগ্রন্থ।
131। রবীন্দ্রনাথের মৃত্যু কোথায় হয়েছিল তা যদিও পাঠ্যে সরাসরি নেই, তবে তিনি কখন মারা যান?
- ক. ১৯১৩ সালের মে মাসে
- খ. ১৮৬১ সালের আগস্টে
- গ. ১৯৪১ সালের আগস্টে
- ঘ. ১৯৪১ সালের জানুয়ারিতে
উত্তর: গ। তিনি ১৯৪১ সালের ৭ই আগস্ট মারা যান।
132। ‘সোনার তরী’ কবিতাটি কোন কাব্যগ্রন্থ থেকে সংকলিত?
- ক. বলাকা
- খ. গীতাঞ্জলি
- গ. ক্ষণিকা
- ঘ. সোনার তরী
উত্তর: ঘ। ‘সোনার তরী’ রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের ‘সোনার তরী’ কাব্যগ্রন্থেরই নাম-কবিতা।
133। পাঠ-পরিচিতি অনুযায়ী ‘সোনার তরী’ কবিতাটি কত বছর ধরে আলোচিত?
- ক. দশ বছর
- খ. শতাধিক বছর
- গ. পঞ্চাশ বছর
- ঘ. দুই শত বছর
উত্তর: খ। শতাধিক বছর ধরে এ কবিতা বিপুল আলোচনা ও নানামুখী ব্যাখ্যায় নতুন নতুন তাৎপর্যে অভিষিক্ত।
134। ‘মানসী’ রবীন্দ্রনাথের কী ধরনের গ্রন্থ?
- ক. কাব্যগ্রন্থ
- খ. নাটক
- গ. উপন্যাস
- ঘ. ভ্রমণকাহিনি
উত্তর: ক। ‘মানসী’ তাঁর অন্যতম শ্রেষ্ঠ কাব্যগ্রন্থ।
135। ‘Song Offerings’ মূলত কী?
- ক. বাংলা গল্পের ইংরেজি অনুবাদ
- খ. একটি ভ্রমণকাহিনি
- গ. একটি ইংরেজি উপন্যাস
- ঘ. গীতাঞ্জলি এবং অন্যান্য কাব্যের কবিতার স্ব-অনূদিত সংকলন
উত্তর: ঘ। এটি ‘গীতাঞ্জলি’ এবং অন্যান্য কাব্যের কবিতার সমন্বয়ে স্ব-অনূদিত গ্রন্থ।
136। রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর বাংলা সাহিত্যের কোন শাখার প্রাণপুরুষ?
- ক. বাংলা প্রবন্ধের
- খ. বাংলা নাটকের
- গ. বাংলা কবিতার
- ঘ. বাংলা উপন্যাসের
উত্তর: গ। অসামান্য প্রতিভার অধিকারী বিশ্বকবি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর বাংলা কবিতার প্রাণপুরুষ।
