বৃষ্টি কবিতার MCQ | SSC বাংলা ১ম পত্রের “বৃষ্টি” কবিতা থেকে বোর্ড পরীক্ষায় নিয়মিত প্রশ্ন আসে। এই পোস্টে কবিতার সারকথা ও ৪৯টি বহুনির্বাচনি প্রশ্ন (MCQ) উত্তর ও ব্যাখ্যাসহ দেওয়া হলো। জ্ঞানমূলক ও অনুধাবনমূলক প্রশ্নের জন্য বৃষ্টি কবিতার নোট দেখুন।
বৃষ্টি কবিতার সারকথা ও গুরুত্বপূর্ণ তথ্য
বৃষ্টি কবিতার কবি কে?
ফররুখ আহমদ (জন্ম ১০ জুন ১৯১৮, মাঝআইল, মাগুরা; মৃত্যু ১৯ অক্টোবর ১৯৭৪)। ইসলামি আদর্শ ও ঐতিহ্য থেকে কাব্যপ্রেরণা লাভ। প্রধান কাব্য: সাত সাগরের মাঝি, সিরাজাম মুনীরা, নৌফেল ও হাতেম, মুহূর্তের কবিতা। বাংলা একাডেমি পুরস্কার, আদমজী পুরস্কার, একুশে পদক (মরণোত্তর) প্রাপ্ত।
উৎস ও রূপ
মুহূর্তের কবিতা কাব্যগ্রন্থ থেকে সংকলিত একটি সনেট (চতুর্দশপদী কবিতা)।
কবিতার মূল ভাব-বিন্যাস
- **অষ্টক (প্রথম ৮ চরণ):** পদ্মা-মেঘনার দুপাশে বহু প্রতীক্ষিত বৃষ্টির আনন্দময় আগমন; বিদ্যুৎ-রূপসী পরীর কল্পনা, কেয়া ফুলের শিহরণ, রৌদ্র-দগ্ধ ধানক্ষেতের বৃষ্টির স্পর্শ পাওয়ার আকুতি, নদীর ফাটলে বন্যার প্রাণের জোয়ার।
- **ষটক (শেষ ৬ চরণ):** রুক্ষ মাঠ-আকাশকে রুগ্ণ বৃদ্ধ ভিখারির উপমা দিয়ে বর্ণনা, তৃষিত বনের সাথে তৃষাতপ্ত মনের জাগরণ, বিস্মৃত স্মৃতির প্রতি আকর্ষণ, এবং বিষণ্ণ-মেদুর বর্ষার মেঘের জাগরণ দিয়ে সমাপ্তি।
বৃষ্টি কবিতার মূল ভাব কী?
কৃষিপ্রধান বাংলার বহু-প্রতীক্ষিত বৃষ্টির আগমন কেবল প্রাকৃতিক ঘটনা নয়, তা মানুষের অন্তরের গভীর তৃষ্ণা, স্মৃতি ও আবেগকেও গভীরভাবে স্পর্শ করে— প্রকৃতি ও মানবমনের এই ঘনিষ্ঠ সংযোগই কবিতার কেন্দ্রীয় ভাব।
বৃষ্টি কবিতার গুরুত্বপূর্ণ শব্দার্থ
সওয়ার (আরোহী), তৃষাতপ্ত (পিপাসায় কাতর), বিদগ্ধ (উত্তপ্ত/দগ্ধ), বিষণ্ণ মেদুর (বিষণ্ণ ও কোমল-ঘন), বিদ্যুৎ-রূপসী পরী (বিদ্যুৎ চমকানোর কাব্যিক রূপক)।
কবি পরিচিতি বিষয়ক MCQ
১। ফররুখ আহমদ কত খ্রিষ্টাব্দে জন্মগ্রহণ করেন?
- ক. ১৯১৭
- খ. ১৯১৬
- গ. ১৯১৮
- ঘ. ১৯১৯
উত্তর: গ। তিনি ১৯১৮ খ্রিষ্টাব্দের ১০ই জুন জন্মগ্রহণ করেন।
২। ফররুখ আহমদের জন্মস্থান কোথায়?
- ক. খুলনা
- খ. মাগুরা জেলার মাঝআইল গ্রাম
- গ. ফরিদপুর
- ঘ. যশোর
উত্তর: খ। মাগুরা জেলার মাঝআইল গ্রামে তিনি জন্মগ্রহণ করেন।
৩। ফররুখ আহমদ কোন কলেজ থেকে আইএ পাশ করেন?
- ক. ঢাকা কলেজ
- খ. কলকাতা রিপন কলেজ
- গ. স্কটিশ চার্চ কলেজ
- ঘ. কলকাতা প্রেসিডেন্সি কলেজ
উত্তর: খ। তিনি কলকাতা রিপন কলেজ থেকে আইএ পাশ করেন।
৪। ফররুখ আহমদ কোন কলেজে অনার্সের ছাত্র ছিলেন?
- ক. সিটি কলেজে
- খ. স্কটিশ চার্চ কলেজে
- গ. প্রেসিডেন্সি কলেজে
- ঘ. রিপন কলেজে
উত্তর: খ। তিনি কলকাতার স্কটিশ চার্চ কলেজে দর্শনে অনার্স ও ইংরেজিতে অনার্সের ছাত্র ছিলেন, তবে পরীক্ষা না দিয়েই কর্মজীবনে প্রবেশ করেন।
৫। ফররুখ আহমদ কত সাল থেকে কত সাল পর্যন্ত ঢাকা বেতারে স্টাফ রাইটার ছিলেন?
- ক. ১৯৪৫ থেকে ১৯৭০
- খ. ১৯৪৮ থেকে ১৯৭৩
- গ. ১৯৪৭ থেকে ১৯৭২
- ঘ. ১৯৫০ থেকে ১৯৭৫
উত্তর: গ। ১৯৪৭ থেকে ১৯৭২ খ্রিষ্টাব্দ পর্যন্ত তিনি ঢাকা বেতারে স্টাফ রাইটার পদে নিয়োজিত ছিলেন।
৬। ফররুখ আহমদকে কাব্যসৃষ্টিতে কী প্রেরণা জুগিয়েছে?
- ক. ইসলামি আদর্শ ও ঐতিহ্য
- খ. পাশ্চাত্য সাহিত্য
- গ. হিন্দু পুরাণ
- ঘ. আধুনিক বিজ্ঞান
উত্তর: ক। ইসলামি আদর্শ ও ঐতিহ্য তাঁকে কাব্যসৃষ্টিতে প্রেরণা জুগিয়েছে।
৭। নিচের কোনটি ফররুখ আহমদের গ্রন্থ নয়?
- ক. নৌফেল ও হাতেম
- খ. সিরাজাম মুনীরা
- গ. পুতুল নাচের ইতিকথা
- ঘ. সাত সাগরের মাঝি
উত্তর: গ। পুতুল নাচের ইতিকথা মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়ের রচনা; বাকি তিনটি ফররুখ আহমদের রচনা।
৮। ফররুখ আহমদ সাহিত্যে অবদানের জন্য কোন কোন পুরস্কারে ভূষিত হন?
- ক. শুধু নোবেল পুরস্কার
- খ. শুধু জাতীয় অধ্যাপক সম্মাননা
- গ. শুধু স্বাধীনতা পুরস্কার
- ঘ. বাংলা একাডেমি পুরস্কার, আদমজী পুরস্কার, একুশে পদক (মরণোত্তর)
উত্তর: ঘ। তিনি বাংলা একাডেমি পুরস্কার, আদমজী পুরস্কার, একুশে পদকসহ (মরণোত্তর) অনেক পুরস্কারে ভূষিত হন।
৯। ফররুখ আহমদ কত খ্রিষ্টাব্দে মৃত্যুবরণ করেন?
- ক. ১৯৭৩
- খ. ১৯৭২
- গ. ১৯৭৪
- ঘ. ১৯৭৫
উত্তর: গ। ১৯৭৪ খ্রিষ্টাব্দের ১৯শে অক্টোবর তিনি পরলোকগমন করেন।
বৃষ্টি কবিতার বহুনির্বাচনি প্রশ্ন ও উত্তর (MCQ)
১০। ‘বৃষ্টি’ কবিতাটি কোন কাব্যগ্রন্থ থেকে সংকলিত?
- ক. মুহূর্তের কবিতা
- খ. সিরাজাম মুনীরা
- গ. পাখির বাসা
- ঘ. সাত সাগরের মাঝি
উত্তর: ক। কবিতাটি ফররুখ আহমদের মুহূর্তের কবিতা কাব্য থেকে সংকলিত হয়েছে।
১১। কবিতাটির কাব্যরূপ কী?
- ক. মহাকাব্য
- খ. অমিত্রাক্ষর মহাকাব্য
- গ. চতুর্দশপদী কবিতা (সনেট)
- ঘ. পয়ার
উত্তর: গ। কবিতাটি চৌদ্দ চরণে রচিত একটি সনেট বা চতুর্দশপদী কবিতা।
১২। কবিতাটি কী নিয়ে রচিত?
- ক. শীতকালের বর্ণনা
- খ. বসন্তের সৌন্দর্য
- গ. কৃষিপ্রধান বাংলার বহু-প্রতীক্ষিত বৃষ্টি
- ঘ. খরার কষ্ট
উত্তর: গ। কবিতাটি কৃষিপ্রধান বাংলার বহু-প্রতীক্ষিত বৃষ্টি নিয়ে লিখিত।
১৩। কবিতার প্রথম পঙক্তিতে কী এসেছে বলে উচ্ছ্বসিতভাবে ঘোষণা করা হয়েছে?
- ক. একটি উৎসব
- খ. শীত
- গ. বসন্ত
- ঘ. বহু প্রতীক্ষিত বৃষ্টি
উত্তর: ঘ। কবি বলেন, ‘বৃষ্টি এলো… বহু প্রতীক্ষিত বৃষ্টি!’— দীর্ঘ প্রতীক্ষার পর বৃষ্টি আসার আনন্দময় ঘোষণা।
১৪। বৃষ্টি কোথায় এসেছে বলে বর্ণনা করা হয়েছে?
- ক. শুধু সমুদ্রে
- খ. পদ্মা-মেঘনার দুপাশের আবাদি গ্রামে
- গ. শুধু শহরে
- ঘ. শুধু পাহাড়ে
উত্তর: খ। পদ্মা-মেঘনার দুপাশে আবাদি গ্রামে, পুবের হাওয়ায় বৃষ্টি এসেছে বলে বর্ণিত হয়েছে।
১৫। আকাশ ও মাঠের অবস্থা কেমন হয় বৃষ্টির প্রভাবে?
- ক. কোনো পরিবর্তন হয় না
- খ. আরও রৌদ্রদগ্ধ হয়
- গ. বিদগ্ধ আকাশ ও মাঠ কাজল ছায়ায় ঢেকে যায়
- ঘ. আরও শুষ্ক হয়ে ওঠে
উত্তর: গ। বিদগ্ধ (উত্তপ্ত) আকাশ, মাঠ কাজল (কালো) ছায়ায় ঢেকে যায় বৃষ্টির মেঘের প্রভাবে।
১৬। ‘বিদ্যুৎ-রূপসী পরী’ কী করে বলে কল্পনা করা হয়েছে?
- ক. সে আকাশে উড়ে বেড়ায়
- খ. সে বৃষ্টি থামায়
- গ. সে মেঘে মেঘে সওয়ার (আরোহী) হয়েছে
- ঘ. সে সূর্যকে ঢেকে রাখে
উত্তর: গ। বিদ্যুৎকে লোকজ ধারণায় সুন্দরী পরীর সাথে তুলনা করে বলা হয়েছে, সে মেঘে মেঘে সওয়ার হয়েছে।
১৭। ‘বিদ্যুৎ-রূপসী পরী’ উপমাটির পেছনে কোন লোকজ ধারণা কাজ করেছে?
- ক. বিদ্যুৎ একটি ভয়ংকর শক্তি
- খ. বিদ্যুৎ চমকানোকে সুন্দরী পরীর সাথে তুলনা করা
- গ. বিদ্যুৎ একটি অশুভ লক্ষণ
- ঘ. বিদ্যুৎ দেবতার প্রতীক
উত্তর: খ। টীকা অনুযায়ী বিদ্যুৎ চমকানোকে লোকজ ধারণা অনুযায়ী সুন্দরী পরীর সাথে তুলনা করা হয়েছে, যে মেঘে মেঘে ঘুরে বেড়ায়।
১৮। বৃষ্টির দিনে অরণ্যের কেয়া ফুল কী করে বলে বর্ণনা করা হয়েছে?
- ক. ঝরে পড়ে
- খ. শিহরিত হয়
- গ. শুকিয়ে যায়
- ঘ. বিবর্ণ হয়ে যায়
উত্তর: খ। বিদ্যুৎ-পরীর অপরূপ আভা দেখে বর্ষণ-মুখর দিনে অরণ্যের কেয়া ফুল শিহরিত হয়।
১৯। রৌদ্র-দগ্ধ ধানক্ষেত কী চায় বলে বলা হয়েছে?
- ক. বৃষ্টির স্পর্শ
- খ. ছায়া
- গ. সার
- ঘ. আরও রোদ
উত্তর: ক। রৌদ্র-দগ্ধ ধানক্ষেত আজ বৃষ্টির স্পর্শ পেতে চায় বলে বর্ণনা করা হয়েছে।
২০। নদীর ফাটলে বন্যা কী নিয়ে আসে?
- ক. পূর্ণ প্রাণের জোয়ার
- খ. ক্ষতি
- গ. দুশ্চিন্তা
- ঘ. ধ্বংস
উত্তর: ক। শুকিয়ে ফাটল ধরা নদীতে বন্যা পূর্ণ প্রাণের জোয়ার নিয়ে আসে— জীবনের পুনরুজ্জীবনের প্রতীক।
**২১। অষ্টক অংশে (প্রথম আট চরণ) প্রকাশিত ভাব নিয়ে নিচের তথ্যগুলো লক্ষ করো —**
i. বহু প্রতীক্ষিত বৃষ্টির আগমনের আনন্দময় ঘোষণা
ii. প্রকৃতির বিভিন্ন উপাদানের (কেয়া ফুল, ধানক্ষেত, নদী) বৃষ্টির প্রতি আকুলতা
iii. অষ্টক অংশে বৃদ্ধ ভিখারির উপমা ব্যবহৃত হয়েছে
নিচের কোনটি সঠিক?
ক. i ও ii খ. i ও iii গ. ii ও iii ঘ. i, ii ও iii
**উত্তর: ক।** প্রথম দুটি তথ্য অষ্টক অংশের সাথে মেলে, কিন্তু বৃদ্ধ ভিখারির উপমাটি আসলে ষটক অংশে (নবম চরণে) ব্যবহৃত হয়েছে, অষ্টকে নয়— তাই তৃতীয় তথ্যটি ভুল।
২২। ষটক অংশে (শেষ ছয় চরণ) রুক্ষ মাঠ ও আকাশকে কীসের সাথে তুলনা করা হয়েছে?
- ক. রুগ্ণ বৃদ্ধ ভিখারির রগ-ওঠা হাতের সাথে
- খ. একটি পাখির সাথে
- গ. একটি শিশুর সাথে
- ঘ. একটি ফুলের সাথে
উত্তর: ক। কবি রুক্ষ মাঠ ও আকাশকে রুগ্ণ বৃদ্ধ ভিখারির রগ-ওঠা (শিরা স্পষ্ট) হাতের সাথে তুলনা করেছেন— দীর্ঘ বর্ষণহীনতায় শুকিয়ে যাওয়া প্রকৃতির রুক্ষতার এক করুণ চিত্র।
২৩। এই রুক্ষ মাঠ-আকাশ কী শোনে বলে বর্ণনা করা হয়েছে?
- ক. বাতাসের শব্দ
- খ. মানুষের কথা
- গ. পাখির ডাক
- ঘ. বর্ষণের সুর
উত্তর: ঘ। রুক্ষ মাঠ ও আকাশ বর্ষণের সুর শোনে, যা তাদের দীর্ঘ তৃষ্ণা নিবারণের আশ্বাস বহন করে।
২৪। তৃষিত বনের সাথে আর কী জেগে ওঠে বলে কবি বলেন?
- ক. তৃষাতপ্ত মন
- খ. একটি নদী
- গ. পাখির ঝাঁক
- ঘ. একটি গ্রাম
উত্তর: ক। তৃষিত বনের সাথে তৃষাতপ্ত (পিপাসায় কাতর) মনও জেগে ওঠে বলে কবি বলেন— প্রকৃতির তৃষ্ণার সাথে মানুষের মনের তৃষ্ণাকেও একসূত্রে বাঁধা হয়েছে।
২৫। তৃষাতপ্ত মন কী করতে চায় বলে বর্ণনা করা হয়েছে?
- ক. বহু পথ, বন্ধুর প্রান্তর পাড়ি দিতে
- খ. ঘুমিয়ে পড়তে
- গ. স্থির থাকতে
- ঘ. ফিরে যেতে
উত্তর: ক। তৃষাতপ্ত মন বহু পথ, বন্ধুর (দুর্গম) প্রান্তর পাড়ি দিয়ে যেতে চায়।
২৬। মন কোথায় পাড়ি দিতে চায় বলে বর্ণিত হয়েছে?
- ক. একটি নতুন শহরে
- খ. একটি সমুদ্রতীরে
- গ. একটি পাহাড়ে
- ঘ. যেখানে বিস্মৃত দিন নিঃসঙ্গ নির্জন হয়ে পড়ে আছে
উত্তর: ঘ। মন সেই জায়গায় পাড়ি দিতে চায় যেখানে বিস্মৃত (ভুলে যাওয়া) দিন নিঃসঙ্গ, নির্জন হয়ে পড়ে আছে— অতীত স্মৃতির প্রতি একধরনের বিষণ্ণ আকর্ষণ।
২৭। কবিতার শেষ পঙক্তিতে বর্ষার মেঘ কীভাবে জেগে ওঠে বলে বর্ণনা করা হয়েছে?
- ক. বিষণ্ণ মেদুরভাবে
- খ. আনন্দময়ভাবে
- গ. উদাসীনভাবে
- ঘ. ক্রুদ্ধভাবে
উত্তর: ক। সেখানে বর্ষার মেঘ আজ বিষণ্ণ মেদুরভাবে (বিষণ্ণ ও কোমল-ঘন) জেগে ওঠে বলে কবিতা শেষ হয়— আনন্দ ও বিষাদের এক জটিল মিশ্রণ।
২৮। ‘বিষণ্ণ মেদুর’ শব্দবন্ধের তাৎপর্য কী?
- ক. শুধু দুঃখের প্রকাশ
- খ. প্রকৃতি স্নিগ্ধ ও প্রাণোচ্ছল হয়েও কিছুটা বিষাদের রেশ থাকা
- গ. শুধু আনন্দের প্রকাশ
- ঘ. এর কোনো গভীর অর্থ নেই
উত্তর: খ। টীকা অনুযায়ী বৃষ্টির আগমনে বৃষ্টিবিহীন প্রকৃতির রুক্ষতা দূরীভূত হয়ে প্রকৃতি স্নিগ্ধ-কোমল ও প্রাণোচ্ছল হয়ে উঠেছে, তবু এই আনন্দের মধ্যেও একধরনের বিষণ্ণতার সূক্ষ্ম রেশ রয়ে গেছে।
২৯। ‘সওয়ার’ শব্দের অর্থ কী?
- ক. চালক
- খ. দর্শক
- গ. পথিক
- ঘ. আরোহী
উত্তর: ঘ। সওয়ার অর্থ আরোহী।
৩০। ‘তৃষাতপ্ত’ শব্দের অর্থ কী?
- ক. পিপাসায় কাতর
- খ. উদাসীন
- গ. আনন্দিত
- ঘ. তৃপ্ত
উত্তর: ক। তৃষাতপ্ত অর্থ পিপাসায় কাতর।
৩১। ‘বিদগ্ধ’ শব্দটি কবিতায় কোন অর্থে ব্যবহৃত হয়েছে?
- ক. পণ্ডিত অর্থে
- খ. সুন্দর অর্থে
- গ. আলোকিত অর্থে
- ঘ. উত্তপ্ত/দগ্ধ অর্থে
উত্তর: ঘ। কবিতায় ‘বিদগ্ধ আকাশ’ বলতে উত্তপ্ত বা দগ্ধ আকাশ বোঝানো হয়েছে, দীর্ঘ অনাবৃষ্টির ফলে।
৩২। পাঠ-পরিচিতি অনুযায়ী প্রকৃতিতে বর্ষা কী নিয়ে আসে?
- ক. ধ্বংস
- খ. দুশ্চিন্তা
- গ. প্রাণস্পন্দন
- ঘ. নীরবতা
উত্তর: গ। পাঠ-পরিচিতি অনুযায়ী প্রকৃতিতে বর্ষা আসে প্রাণস্পন্দন নিয়ে, আর বৃষ্টিই বর্ষার প্রাণ।
৩৩। পাঠ-পরিচিতি অনুযায়ী নদীর দুই ধারে প্লাবনের ফলে কী উপকার হয়?
- ক. মানুষ ক্ষতিগ্রস্ত হয়
- খ. জমি নষ্ট হয়
- গ. কোনো উপকার হয় না
- ঘ. পলিমাটির গৌরবে ফসল ভালো হয়
উত্তর: ঘ। পাঠ-পরিচিতি অনুযায়ী নদীর দু-ধারে প্লাবনের ফলে পলিমাটির গৌরবে ফসল ভালো হয়।
৩৪। পাঠ-পরিচিতি অনুযায়ী বৃষ্টির দিনে সংবেদনশীল মানুষের মনে কী হয়?
- ক. তারা ভীত হয়ে পড়ে
- খ. তারা উদাসীন থাকে
- গ. তাদের কোনো প্রতিক্রিয়া হয় না
- ঘ. তারা রসসিক্ত হয়ে পুরনো স্মৃতি স্মরণ করে
উত্তর: ঘ। পাঠ-পরিচিতি অনুযায়ী বৃষ্টির দিনে সংবেদনশীল মানুষও রসসিক্ত হয়ে ওঠে, তাদের মনে পড়ে সুখময় অতীত, পুরনো স্মৃতি।
৩৫। পাঠ-পরিচিতি অনুযায়ী বৃষ্টি কখনো কখনো মনে কী প্রভাব ফেলে?
- ক. মনকে সম্পূর্ণ শান্ত করে
- খ. কোনো প্রভাব ফেলে না
- গ. শুধু আনন্দ দেয়
- ঘ. মনকে বিষণ্ণ করে, একাকী জীবনে বিরহ বাড়ায়
উত্তর: ঘ। পাঠ-পরিচিতি অনুযায়ী বৃষ্টি কখনো কখনো মনকে বিষণ্ণও করে, একাকী জীবনে বিরহ বাড়ায়।
৩৬। পাঠ-পরিচিতি অনুযায়ী বৃষ্টি সম্পর্কে কবিতার মূল বক্তব্য কী?
- ক. বৃষ্টির কোনো তাৎপর্য নেই
- খ. বৃষ্টি শুধু কৃষির জন্য গুরুত্বপূর্ণ
- গ. বৃষ্টি শুধু একটি প্রাকৃতিক ঘটনা মাত্র
- ঘ. বৃষ্টি প্রাকৃতিক ঘটনা মাত্র নয়, জীবনও এর সাথে সম্পৃক্ত
উত্তর: ঘ। পাঠ-পরিচিতি অনুযায়ী বৃষ্টি শুধু প্রাকৃতিক ঘটনা বা ঋতু-পরিবর্তনের নিয়ামক নয়, ব্যক্তির জীবনও এর সঙ্গে কতটা সম্পৃক্ত তারই কাব্যরূপ কবিতায় ফুটে উঠেছে।
৩৭। কবিতার অষ্টক ও ষটক অংশের মধ্যে সুরের কোন পরিবর্তন লক্ষণীয়?
- ক. উভয় অংশই বিষণ্ণ
- খ. উভয় অংশই সম্পূর্ণ আনন্দময়
- গ. অষ্টক আনন্দময়, ষটকে তৃষ্ণা-বিরহের গভীর সুর যুক্ত হয়
- ঘ. কোনো পরিবর্তন নেই
উত্তর: গ। অষ্টক অংশে বৃষ্টির আগমনের আনন্দময়, উদ্দীপনাপূর্ণ ঘোষণা থাকলেও ষটক অংশে দীর্ঘ প্রতীক্ষার তৃষ্ণা, বিরহ ও এক গভীর বিষণ্ণতার সুর যুক্ত হয়েছে— এই সুরের পরিবর্তনই কবিতাকে গভীরতা দিয়েছে।
৩৮। কবিতায় প্রকৃতির তৃষ্ণা ও মানুষের মনের তৃষ্ণার মধ্যে কোন সমান্তরাল সম্পর্ক দেখানো হয়েছে?
- ক. মানুষের মনের তৃষ্ণা প্রকৃতির সাথে সম্পর্কহীন
- খ. উভয়ই দীর্ঘ বঞ্চনার পর একই সাথে জেগে ওঠে ও প্রশমিত হতে চায়
- গ. কোনো সম্পর্ক নেই
- ঘ. প্রকৃতির তৃষ্ণা মানুষের তৃষ্ণার চেয়ে বেশি গুরুত্বপূর্ণ
উত্তর: খ। কবিতায় প্রকৃতির দীর্ঘ অনাবৃষ্টিজনিত তৃষ্ণা এবং মানুষের মনের সুপ্ত তৃষ্ণা (আকাঙ্ক্ষা, স্মৃতি, বিরহ)— উভয়ই বৃষ্টির আগমনে একসাথে জেগে ওঠে ও প্রশমিত হতে চায়, এই সমান্তরাল সম্পর্কই কবিতার গভীরতম কাব্যিক কৌশল।
৩৯। কবিতাটি কোন সর্বজনীন মানবিক সত্যকে তুলে ধরে?
- ক. প্রকৃতির পরিবর্তন মানুষের আবেগকে প্রভাবিত করে
- খ. বৃষ্টি শুধু কৃষকদের জন্য গুরুত্বপূর্ণ
- গ. মানুষের মন প্রকৃতির প্রভাবমুক্ত
- ঘ. প্রকৃতি মানুষের জীবন থেকে সম্পূর্ণ বিচ্ছিন্ন
উত্তর: ক। কবিতাটি এই সর্বজনীন সত্য তুলে ধরে যে, প্রকৃতির পরিবর্তন (যেমন বৃষ্টির আগমন) মানুষের অভ্যন্তরীণ আবেগ-অনুভূতি, স্মৃতি ও মনস্তাত্ত্বিক অবস্থাকে গভীরভাবে প্রভাবিত করে— প্রকৃতি ও মানুষ একে অপরের থেকে বিচ্ছিন্ন নয়।
দীর্ঘ অনাবৃষ্টির পর অবশেষে বৃষ্টি নামলে কৃষক রহিম মিয়া মাঠে ছুটে যান, ভেজা মাটির গন্ধ নেন, আর তাঁর চোখে জল আসে। তিনি বলেন, ‘এই বৃষ্টি শুধু ফসলের জন্য নয়, আমার প্রাণের জন্যও।’
৪০। রহিম মিয়ার প্রতিক্রিয়ার সাথে ‘বৃষ্টি’ কবিতার কোন ভাবের মিল পাওয়া যায়?
- ক. বৃষ্টির প্রতি উদাসীনতা
- খ. বৃষ্টির প্রতি ভীতি
- গ. বৃষ্টি মানুষের অন্তরের তৃষ্ণা ও আবেগকেও স্পর্শ করে
- ঘ. কোনো মিল নেই
উত্তর: গ। কবিতায় যেমন প্রকৃতির তৃষ্ণার সাথে মানুষের ‘তৃষাতপ্ত মন’-এর কথা বলা হয়েছে, রহিম মিয়ার প্রতিক্রিয়াও তেমনি প্রমাণ করে বৃষ্টি নিছক প্রাকৃতিক ঘটনা নয়, তা মানুষের অন্তরের গভীর তৃষ্ণা ও আবেগকেও গভীরভাবে স্পর্শ করে।
৪১। এই ধরনের প্রতিক্রিয়া থেকে মানুষ ও প্রকৃতির সম্পর্ক সম্পর্কে কী উপলব্ধি করা যায়?
- ক. মানুষ প্রকৃতি থেকে সম্পূর্ণ বিচ্ছিন্ন
- খ. প্রকৃতির কোনো প্রভাব মানুষের ওপর নেই
- গ. প্রকৃতি মানুষের নিয়ন্ত্রণাধীন
- ঘ. মানুষের জীবন, জীবিকা ও আবেগ প্রকৃতির সাথে অবিচ্ছেদ্যভাবে জড়িত
উত্তর: ঘ। এই ধরনের প্রতিক্রিয়া থেকে বোঝা যায়, মানুষের জীবন, জীবিকা ও আবেগ প্রকৃতির সাথে অবিচ্ছেদ্যভাবে জড়িত— বিশেষত কৃষিনির্ভর সমাজে বৃষ্টির মতো প্রাকৃতিক ঘটনা মানুষের অস্তিত্বের সাথে গভীরভাবে সম্পৃক্ত।
৪২। কবিতায় ‘পদ্মা মেঘনার দুপাশে আবাদি গ্রামে’ বাক্যাংশটি কী ইঙ্গিত দেয়?
- ক. একটি নির্দিষ্ট শহরের কথা
- খ. একটি মরুভূমির কথা
- গ. একটি পাহাড়ি অঞ্চলের কথা
- ঘ. কৃষিনির্ভর, নদীবিধৌত বাংলার একটি প্রতিনিধিত্বমূলক চিত্র
উত্তর: ঘ। পদ্মা-মেঘনার দুপাশের আবাদি গ্রামের উল্লেখ কৃষিনির্ভর, নদীবিধৌত সমগ্র বাংলার একটি সাধারণ ও প্রতিনিধিত্বমূলক চিত্র তুলে ধরে, যেখানে বৃষ্টি জীবন-জীবিকার সাথে অবিচ্ছেদ্যভাবে জড়িত।
৪৩। কবিতায় ব্যবহৃত ‘কেয়া’, ‘ধানক্ষেত’, ‘নদী’-র মতো উপাদানগুলো কী প্রতিনিধিত্ব করে?
- ক. বৃষ্টির জন্য উন্মুখ গ্রামীণ প্রকৃতির জীবন্ত রূপ
- খ. একটি ভৌগোলিক তালিকা
- গ. নিছক আলংকারিক শব্দ
- ঘ. শুধু উদ্ভিদবিজ্ঞানের তথ্য
উত্তর: ক। কেয়া ফুল, ধানক্ষেত, নদী— এই উপাদানগুলো বাংলার গ্রামীণ প্রকৃতির বৈচিত্র্যময় ও জীবন্ত রূপকে প্রতিনিধিত্ব করে, যারা সবাই দীর্ঘ অনাবৃষ্টির পর বৃষ্টির জন্য উন্মুখ হয়ে অপেক্ষা করছিল।
৪৪। কবিতার ভাষারীতি সম্পর্কে কী বলা যায়?
- ক. সহজ ও নিরাভরণ
- খ. চিত্রকল্পসমৃদ্ধ, উপমা-অলংকারে ভরপুর কাব্যিক ভাষা
- গ. সংলাপনির্ভর
- ঘ. সম্পূর্ণ কথ্য ভাষা
উত্তর: খ। কবিতার ভাষা চিত্রকল্পসমৃদ্ধ (বিদ্যুৎ-রূপসী পরী, রুগ্ণ বৃদ্ধ ভিখারি) ও উপমা-অলংকারে ভরপুর, যা কাব্যিক গভীরতা ও সৌন্দর্য সৃষ্টি করে।
৪৫। ‘নদীর ফাটলে বন্যা আনে পূর্ণ প্রাণের জোয়ার’ পঙক্তিটি কোন বৈপরীত্যকে তুলে ধরে?
- ক. কোনো বৈপরীত্য নেই
- খ. শুষ্কতা ও প্রাণহীনতা থেকে আকস্মিক প্রাণচাঞ্চল্যে রূপান্তর
- গ. শুধু ধ্বংসাত্মক বন্যার চিত্র
- ঘ. এটি একটি সাধারণ বর্ণনা মাত্র
উত্তর: খ। এই পঙক্তি শুষ্ক, ফাটল-ধরা, প্রাণহীন নদী থেকে বন্যার আগমনে আকস্মিক প্রাণচাঞ্চল্যে রূপান্তরের নাটকীয় বৈপরীত্যকে তুলে ধরে— ধ্বংসের বদলে জীবনের পুনরুজ্জীবনের ইতিবাচক দিকটিই এখানে গুরুত্ব পেয়েছে।
৪৬। কবিতার নামকরণ ‘বৃষ্টি’-র তাৎপর্য কী?
- ক. এটি নিছক একটি ঋতুর নাম
- খ. এটি একটি ঐতিহাসিক ঘটনার নাম
- গ. বৃষ্টি এখানে জীবন ও আশার কেন্দ্রীয় প্রতীক
- ঘ. এর কোনো বিশেষ তাৎপর্য নেই
উত্তর: গ। শিরোনামে ‘বৃষ্টি’ শুধু একটি প্রাকৃতিক ঘটনা নয়, বরং জীবন, আশা, তৃষ্ণা-নিবারণ ও প্রাণসঞ্চারের কেন্দ্রীয় প্রতীক হিসেবে কবিতা জুড়ে উপস্থিত।
৪৭। কবিতাটিতে ‘বহু পথ, প্রান্তর বন্ধুর’ পাড়ি দেওয়ার আকাঙ্ক্ষা কী প্রতীকী অর্থ বহন করে?
- ক. শুধু ভ্রমণের ইচ্ছা
- খ. হারানো স্মৃতির সন্ধানে মনের কষ্টসাধ্য যাত্রার আকাঙ্ক্ষা
- গ. এর কোনো প্রতীকী অর্থ নেই
- ঘ. একটি বাস্তব সমস্যা সমাধানের চেষ্টা
উত্তর: খ। এই আকাঙ্ক্ষা অতীতের হারানো, বিস্মৃত স্মৃতি বা অনুভূতির সন্ধানে মনের এক গভীর, কষ্টসাধ্য অভ্যন্তরীণ যাত্রার প্রতীকী প্রকাশ— বৃষ্টি যেমন বাহ্যিক প্রকৃতিকে জাগায়, তেমনি তা মনের অভ্যন্তরেও এক সুপ্ত আকাঙ্ক্ষা জাগিয়ে তোলে।
৪৮। কবিতাটি কীভাবে ইন্দ্রিয়গ্রাহ্য (sensory) অভিজ্ঞতা তৈরি করে?
- ক. শুধু দৃশ্যের বর্ণনার মাধ্যমে
- খ. দৃশ্য, শ্রবণ ও স্পর্শ ইন্দ্রিয়ের সমন্বয়ে
- গ. শুধু ঘ্রাণের বর্ণনার মাধ্যমে
- ঘ. কোনো ইন্দ্রিয়গ্রাহ্য বর্ণনা নেই
উত্তর: খ। কবিতাটি দৃশ্য (কাজল ছায়া, মেঘের খেলা), শ্রবণ (বর্ষণের সুর) ও স্পর্শ (রৌদ্র-দগ্ধ ক্ষেতের বৃষ্টি-স্পর্শের আকাঙ্ক্ষা)— একাধিক ইন্দ্রিয়ের সমন্বয়ে বৃষ্টির আগমনের এক সামগ্রিক, জীবন্ত অভিজ্ঞতা তৈরি করে।
৪৯। কবিতাটি পাঠকের মনে কোন গভীর জীবনদর্শন জাগিয়ে তোলে?
- ক. বৃষ্টি সবসময় ক্ষতিকর
- খ. প্রকৃতি ও মানুষ সম্পূর্ণ ভিন্ন সত্তা
- গ. জীবনে কোনো পুনরুজ্জীবন সম্ভব নয়
- ঘ. শুষ্কতার পরও নতুন জীবন ও আশার সঞ্চার সম্ভব
উত্তর: ঘ। কবিতাটি এই গভীর জীবনদর্শন জাগিয়ে তোলে যে, দীর্ঘ কষ্ট, শুষ্কতা বা বিচ্ছিন্নতার পরও নতুন জীবন, আশা ও প্রাণসঞ্চার সম্ভব— এই সত্য প্রকৃতি ও মানবজীবন উভয় ক্ষেত্রেই সমানভাবে প্রযোজ্য।
৫০। কবিতাটি সামগ্রিকভাবে কোন আবেগের এক জটিল মিশ্রণ প্রকাশ করে?
- ক. শুধু ক্রোধ
- খ. আনন্দ, স্বস্তি, তৃষ্ণা এবং এক মৃদু বিষণ্ণতার জটিল সহাবস্থান
- গ. শুধু বিশুদ্ধ আনন্দ
- ঘ. শুধু ভয় ও উদ্বেগ
উত্তর: খ। কবিতাটি বৃষ্টির আগমনের আনন্দ ও স্বস্তির পাশাপাশি দীর্ঘ তৃষ্ণার স্মৃতি এবং এক মৃদু, গভীর বিষণ্ণতার জটিল সহাবস্থান প্রকাশ করে— এই আবেগীয় জটিলতাই কবিতাকে অনন্য গভীরতা দিয়েছে।
