● SSC বাংলাদেশ ও বিশ্বপরিচয়

বাংলাদেশের স্বাধীনতা অধ্যায়ের নোট | জ্ঞানমূলক ও অনুধাবনমূলক প্রশ্ন উত্তর

বাংলাদেশের স্বাধীনতা অধ্যায়ের নোট | SSC বাংলাদেশ ও বিশ্বপরিচয়ের ২য় অধ্যায় “বাংলাদেশের স্বাধীনতা” জ্ঞানমূলক ও অনুধাবনমূলক প্রশ্ন উত্তর নিচে দেওয়া হলো। এই পোস্টে ৬৪টি জ্ঞানমূলক ও ৬টি অনুধাবনমূলক প্রশ্ন ও উত্তর আছে। বহুনির্বাচনি প্রশ্নের জন্য বাংলাদেশের স্বাধীনতা অধ্যায়ের MCQ দেখুন।

বাংলাদেশের স্বাধীনতা অধ্যায়ের জ্ঞানমূলক প্রশ্ন ও উত্তর

মুক্তিযুদ্ধের প্রস্তুতি ও স্বাধীনতার আনুষ্ঠানিক যাত্রা

1। ইয়াহিয়া খান কবে জাতীয় পরিষদের অধিবেশন স্থগিত ঘোষণা করেন?

১৯৭১ সালের ১লা মার্চ।

2। অধিবেশন স্থগিতের প্রতিবাদে শেখ মুজিবুর রহমান কবে অসহযোগ আন্দোলনের ডাক দেন?

২রা মার্চ।

3। স্বাধীন বাংলাদেশের পতাকা প্রথম কে ও কবে উত্তোলন করেন?

২রা মার্চ ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে আ স ম আবদুর রবের নেতৃত্বে ছাত্রসমাজ উত্তোলন করেন।

4। স্বাধীনতার ইশতেহার কে পাঠ করেন?

৩রা মার্চ পল্টন ময়দানে ছাত্রনেতা শাহজাহান সিরাজ পাঠ করেন।

5। শেখ মুজিবুর রহমানের ঐতিহাসিক ভাষণ কবে ও কোথায় দেওয়া হয়?

১৯৭১ সালের ৭ই মার্চ রেসকোর্স ময়দানে (বর্তমান সোহরাওয়ার্দী উদ্যান)।

6। ৭ই মার্চের ভাষণকে ইউনেস্কো কী স্বীকৃতি দেয় ও কবে?

২০১৭ সালে ‘ওয়ার্ল্ড ডকুমেন্টারি হেরিটেজ’ বা ‘বিশ্ব প্রামাণ্য দলিল’ হিসেবে স্বীকৃতি দেয়।

7। অপারেশন সার্চলাইট এর পরিকল্পনা কারা তৈরি করে?

১৭ই মার্চ টিক্কা খান ও রাও ফরমান আলী নীল নকশা তৈরি করেন।

8। অপারেশন সার্চলাইট কবে শুরু হয়?

১৯৭১ সালের ২৫শে মার্চ রাতে।

9। ২৫শে মার্চের রাতকে কী নামে অভিহিত করা হয় ও এই দিবস এখন কী হিসেবে স্বীকৃত?

‘কালরাত্রি’ নামে অভিহিত করা হয় এবং এটি এখন ‘জাতীয় গণহত্যা দিবস’ হিসেবে স্বীকৃত।

10। বাংলাদেশের স্বাধীনতা প্রথম কে ঘোষণা করেন ও কোথা থেকে?

মেজর জিয়াউর রহমান ২৬শে মার্চ চট্টগ্রামের কালুরঘাট বেতার কেন্দ্র থেকে ঘোষণা করেন।

11। জিয়াউর রহমান কবে শেখ মুজিবুর রহমানের পক্ষে পুনরায় স্বাধীনতার ঘোষণা দেন?

২৭শে মার্চ।

মুজিবনগর সরকারের গঠন ও কার্যক্রম

12। মুজিবনগর সরকার কবে ও কোথায় শপথ গ্রহণ করে?

মেহেরপুর জেলার বৈদ্যনাথতলার আম্রকাননে ১৯৭১ সালের ১৭ই এপ্রিল শপথ গ্রহণ করে।

13। মুজিবনগর সরকার কবে গঠিত হয়?

১৯৭১ সালের ১০ই এপ্রিল, ঐদিনই বাংলাদেশের স্বাধীনতার ঘোষণাপত্র আনুষ্ঠানিকভাবে ঘোষিত হয়।

14। মুজিবনগর সরকারের রাষ্ট্রপতি ও উপরাষ্ট্রপতি কে ছিলেন?

রাষ্ট্রপতি শেখ মুজিবুর রহমান এবং উপরাষ্ট্রপতি সৈয়দ নজরুল ইসলাম (অস্থায়ী রাষ্ট্রপতি)।

15। মুজিবনগর সরকারের প্রধানমন্ত্রী ও অর্থমন্ত্রী কে ছিলেন?

প্রধানমন্ত্রী তাজউদ্দীন আহমদ এবং অর্থমন্ত্রী এম. মনসুর আলী।

16। মুজিবনগর সরকারের স্বরাষ্ট্র মন্ত্রী ও পররাষ্ট্রমন্ত্রী কে ছিলেন?

স্বরাষ্ট্র, ত্রাণ ও পুনর্বাসন মন্ত্রী এ.এইচ.এম. কামারুজ্জামান এবং পররাষ্ট্র ও আইনমন্ত্রী খন্দকার মোশতাক আহমেদ।

17। উপদেষ্টা পরিষদে মোট কতজন সদস্য ছিলেন ও তারা কারা?

৬ সদস্য: মাওলানা ভাসানী, অধ্যাপক মোজাফফর আহমেদ, কমরেড মণি সিং, মনোরঞ্জন ধর, তাজউদ্দীন আহমদ ও খন্দকার মোশতাক আহমেদ।

18। মুক্তিযুদ্ধের প্রধান সেনাপতি কে ছিলেন?

কর্নেল (অব.) এম.এ.জি ওসমানী।

19। মুজিবনগর সরকারে মোট কতটি মন্ত্রণালয় বা বিভাগ ছিল?

মোট ১২টি মন্ত্রণালয় বা বিভাগ ছিল।

20। মুজিবনগর সরকার কোন কোন শহরে মিশন স্থাপন করে?

কলকাতা, দিল্লি, লন্ডন, ওয়াশিংটন, নিউইয়র্ক, স্টকহোম প্রভৃতি শহরে।

21। মুক্তিযুদ্ধে বিশেষ দূত হিসেবে কাকে নিয়োগ দেওয়া হয়?

বিচারপতি আবু সাঈদ চৌধুরীকে।

22। বাংলাদেশকে যুদ্ধ পরিচালনার জন্য কয়টি সেক্টরে ভাগ করা হয়?

১১টি সেক্টরে ভাগ করে ১১জন সেক্টর কমান্ডার নিয়োগ করা হয়।

23। বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধকে কেন ‘গণযুদ্ধ’ বলা হয়?

কারণ বেসামরিক রেজিমেন্ট, ইপিআর, পুলিশ, আনসার, কৃষক, শ্রমিক, ছাত্র-ছাত্রীসহ বিভিন্ন পেশার সর্বস্তরের জনগণ এতে অংশগ্রহণ করেছিল।

24। মুক্তিযুদ্ধে ছাত্রসমাজের ভূমিকা কেমন ছিল?

মুক্তিযুদ্ধাভিযানে একক গোত্রী হিসেবে ছাত্র-ছাত্রীদের সংখ্যা ছিল সবচেয়ে বেশি এবং অনেকে ভারতে প্রশিক্ষণ নিয়ে যুদ্ধে অংশ নেয়।

25। মুক্তিযুদ্ধে পেশাজীবীদের ভূমিকা কী ছিল?

শিক্ষক, চিকিৎসক, প্রকৌশলী, আইনজীবী, সাংবাদিকরা তথ্য সরবরাহ, আন্তর্জাতিক ফোরামে বক্তব্য প্রদান ও শরণার্থীদের সহায়তায় ভূমিকা রাখেন।

26। মুক্তিযুদ্ধে নারীদের অবদানের স্বীকৃতি হিসেবে কী উপাধি দেওয়া হয়?

‘বীরাঙ্গনা’ উপাধি; সরকার ২০১৬ সালে তাঁদের মুক্তিযোদ্ধা হিসেবে স্বীকৃতি দেয়।

27। স্বাধীন বাংলা বেতার কেন্দ্র কবে ও কোথায় চালু হয়?

২৬শে মার্চ চট্টগ্রামে শিল্পী ও সংস্কৃতি কর্মীরা চালু করেন, পরে মুজিবনগর সরকারের তত্ত্বাবধানে পরিচালিত হয়।

28। মুজিবনগর সরকারের প্রচার সেলের পত্রিকার নাম কী?

‘জয়বাংলা’ পত্রিকা।

29। মুক্তিযুদ্ধে ত্রিশ লাখ শহিদের মধ্যে কাদের সংখ্যা বেশি ছিল?

সাধারণ মানুষের সংখ্যা ছিল অধিক।

30। মুক্তিযুদ্ধে প্রবাসী বাংলাদেশিদের ভূমিকা কী ছিল?

বিভিন্ন দেশে অর্থ সংগ্রহ, পার্লামেন্ট সদস্যদের কাছে সমর্থন আদায় এবং পাকিস্তানে অস্ত্র সরবরাহ বন্ধের আবেদন জানান।

31। মুক্তিযুদ্ধে জনপ্রিয় সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান কী কী ছিল?

‘চরমপত্র’ ও ‘জল্লাদের দরবার’।

32। মুক্তিযুদ্ধে বিভিন্ন পেশাজীবী কী ধরনের সেল গঠন করেন?

সরকারের অধীনে সেল গঠন করে তথ্য সরবরাহ, সহায়তার আবেদন ও শরণার্থীদের সহায়তার কাজ করেন।

33। মুক্তিযুদ্ধে সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ডের প্রভাব কী ছিল?

রণাঙ্গনে মুক্তিযোদ্ধাদের মানসিক ও নৈতিক বল ধরে রাখতে সাহায্য করেছে এবং জনগণকে শত্রুর বিরুদ্ধে দুর্মনীয় করে তুলেছে।

মুক্তিযুদ্ধে বিশ্বজনমত ও বিভিন্ন দেশের ভূমিকা

34। বাংলাদেশের স্বাধীনতা যুদ্ধে সরাসরি সমর্থন জানায় কোন দেশ?

প্রতিবেশী রাষ্ট্র ভারত।

35। ভারত কবে বাংলাদেশকে স্বীকৃতি দেয়?

৬ ডিসেম্বর ১৯৭১।

36। পাকিস্তানি বাহিনী কবে ও কতজন যৌথ কমান্ডের কাছে আত্মসমর্পণ করে?

১৬ই ডিসেম্বর ১৯৭১, ৯৩ হাজার পাকিস্তানি সেনাসহ জেনারেল এ কে নিয়াজী আত্মসমর্পণ করেন।

37। ভারতের পর সর্বাধিক অবদান রাখে কোন দেশ?

অধুনা বিলুপ্ত সোভিয়েত ইউনিয়ন (বর্তমান রাশিয়া)।

38। জাতিসংঘে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের যুদ্ধবন্ধ প্রস্তাব কে ভেটো দেয়?

সোভিয়েত ইউনিয়ন।

39। ‘কনসার্ট ফর বাংলাদেশ’ কে ও কোথায় আয়োজন করেন?

জর্জ হ্যারিসন, পণ্ডিত রবি শংকর ও আলী আকবর খান নিউইয়র্ক শহরে আয়োজন করেন।

40। বহির্বিশ্বে মুক্তিযুদ্ধের পক্ষে প্রচারের প্রধান কেন্দ্র কোথায় ছিল?

লন্ডন।

41। বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধে জাতিসংঘের ভূমিকা কেমন ছিল?

নীরব দর্শকের ভূমিকা পালন করে, মানবাধিকার লঙ্ঘনের বিরুদ্ধে কোনো কার্যকর ব্যবস্থা নিতে পারেনি।

42। কোন কোন সমাজতান্ত্রিক রাষ্ট্র বাংলাদেশের মুক্তিসংগ্রামকে সমর্থন জানায়?

কিউবা, যুগোশ্লাভিয়া, পোল্যান্ড, হাঙ্গেরি, বুলগেরিয়া, চেকোস্লোভাকিয়া ও পূর্ব জার্মানি।

43। ব্রিটেনের কোন প্রচারমাধ্যম মুক্তিযুদ্ধের পক্ষে বিশ্ব জনমত জাগ্রত করে?

বিবিসি এবং লন্ডন থেকে প্রকাশিত পত্র-পত্রিকা।

44। বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধের ঐতিহাসিক তাৎপর্য কী?

এটি বাংলাদেশের মানুষের শক্তিশালী জাতীয়তাবাদী চেতনার বহিঃপ্রকাশ এবং বিশ্বের নিপীড়িত জনগণকে অনুপ্রাণিত করে।

45। ১৯৭৫ সালে শেখ মুজিব সরকার কোন সংশোধনীর মাধ্যমে বাকশাল প্রতিষ্ঠা করে?

সংবিধানের চতুর্থ সংশোধনীর মাধ্যমে একদলীয় শাসনব্যবস্থা বাকশাল প্রতিষ্ঠা করেন।

46। ১৯৭৯ সালে কার নেতৃত্বে বহুদলীয় গণতন্ত্র পুনরায় চালু হয়?

রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের নেতৃত্বে।

47। জিয়াউর রহমান কবে শাহাদাত বরণ করেন?

১৯৮১ সালের মে মাসে একটি ব্যর্থ সামরিক অভ্যুত্থানে।

48। এরশাদ কবে ক্ষমতা দখল করেন?

১৯৮২ সালে প্রেসিডেন্ট আব্দুস সাত্তারকে অপসারণ করে।

49। এরশাদবিরোধী আন্দোলনে কতটি রাজনৈতিক জোট গঠিত হয়?

তিনটি জোট— আওয়ামী লীগের নেতৃত্বে ১৫ দলীয় জোট, বিএনপির নেতৃত্বে ৭ দলীয় জোট, এবং পরে ৫ দলীয় জোট।

50। এরশাদবিরোধী আন্দোলনে কারা জীবন দেন?

নূর হোসেন, নাজির উদ্দিন জেহাদ, ডা. শামসুল আলম খান মিলনসহ অনেকে।

51। এরশাদ সরকারের পতন কবে ঘটে?

৬ ডিসেম্বর ১৯৯০।

52। এরশাদ পতনের পর কার নেতৃত্বে তত্ত্বাবধায়ক সরকার গঠিত হয়?

তৎকালীন প্রধান বিচারপতি সাহাবুদ্দিন আহমদের নেতৃত্বে।

53। তত্ত্বাবধায়ক সরকারের অধীনে নির্বাচনে কে জয়লাভ করে সরকার গঠন করেন?

বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলের (বিএনপি) চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়া গণতান্ত্রিক সরকার গঠন করেন।

২০২৪ সালের জুলাই গণঅভ্যুত্থান

54। জুলাই আন্দোলনের সূত্রপাত কোন ইস্যুতে হয়?

সরকারি চাকরিতে কোটা প্রথাকে কেন্দ্র করে জুন ২০২৪ থেকে শিক্ষার্থীরা আন্দোলন শুরু করে।

55। ১৫ জুলাই কোন ঘটনা আন্দোলনকে নতুন মাত্রা দেয়?

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের ওপর ছাত্রলীগের নির্মম হামলা।

56। ১৬ জুলাই কোন কোন শিক্ষার্থী পুলিশের গুলিতে শহিদ হন?

রংপুরে বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের আবু সাঈদ এবং চট্টগ্রামে মোঃ ওয়াসিম আকরাম ও মোঃ ফয়সাল আহমেদ শান্ত।

57। শেখ হাসিনা সরকারের পতন কবে ঘটে?

৫ আগস্ট, ২০২৪।

58। জাতিসংঘ তদন্ত অনুযায়ী আন্দোলনের ৩৬ দিনে কত মানুষ শহিদ হয়?

প্রায় দেড় হাজার মানুষ, যার মধ্যে ১২-১৩ শতাংশ ছিল শিশু।

59। জাতিসংঘ এই ঘটনাকে কী হিসেবে চিহ্নিত করে?

মানবতাবিরোধী অপরাধের সমপর্যায়ের অপরাধ (amount to crimes against humanity)।

60। ২০২৫ সালে OHCHR প্রতিবেদনে এই হত্যাকাণ্ডকে কী বলা হয়?

‘brutal systematic oppression of protest’ বা ‘প্রতিবাদ কর্মসূচির উপর নিষ্ঠুর পদ্ধতিগত দমন-পীড়ন’।

61। দুর্নীতি তদন্ত কমিশনের রিপোর্ট অনুযায়ী বছরে কত অর্থ পাচার হয়েছিল?

প্রায় ষোল বিলিয়ন মার্কিন ডলার সমপরিমাণ সম্পদ বিদেশে পাচার করা হয়েছিল।

62। জুলাই গণঅভ্যুত্থানে কোন বিষয়টি নতুন মাত্রা হিসেবে দেখা যায়?

রাজপথের আন্দোলনে ও নেতৃত্বে নারীদের ব্যাপক ও সক্রিয় অংশগ্রহণ।

63। জুলাই গণঅভ্যুত্থানে নতুন কী বিষয় দেখা যায় দেয়ালচিত্রের ক্ষেত্রে?

দেশব্যাপী দেয়ালে দেয়ালে বিপুল পরিমাণ গ্রাফিতি বা দেয়ালচিত্র অঙ্কিত হয়, যাতে মানুষের অধিকার চেতনা ও জাতীয় ঐক্যের বার্তা ফুটে ওঠে।

64। জুলাই আন্দোলনে বিভিন্ন পেশাজীবীর অংশগ্রহণ কেমন ছিল?

শিক্ষক, চিকিৎসক, আইনজীবী, শিল্পী-সাহিত্যিকসহ সব শ্রেণির মানুষ আন্দোলনে সম্পৃক্ত হয়েছিল।

বাংলাদেশের স্বাধীনতা অধ্যায়ের অনুধাবনমূলক প্রশ্ন ও উত্তর

মুক্তিযুদ্ধের প্রস্তুতি ও স্বাধীনতার আনুষ্ঠানিক যাত্রা

1। ৭ই মার্চের ভাষণকে বিশ্ব প্রামাণ্য দলিল বলা যৌক্তিক কেন— ব্যাখ্যা করো।

এই ভাষণে একটি নিপীড়িত জাতির স্বাধিকার আদায়ের আকাঙ্ক্ষা, রাজনৈতিক দিকনির্দেশনা এবং সংগ্রামের চেতনা এমনভাবে প্রকাশ পেয়েছে যে তা বিশ্ব ইতিহাসে রাজনৈতিক ভাষণের এক অনন্য দৃষ্টান্ত হয়ে আছে, তাই ইউনেস্কো একে বিশ্ব প্রামাণ্য দলিল হিসেবে স্বীকৃতি দিয়েছে।

মুজিবনগর সরকারের গঠন ও কার্যক্রম

2। মুজিবনগর সরকার গঠন মুক্তিযুদ্ধ পরিচালনার জন্য অপরিহার্য ছিল কেন— ব্যাখ্যা করো।

একটি সুসংগঠিত ও বৈধ সরকার ছাড়া মুক্তিযুদ্ধকে সঠিক দিকনির্দেশনা দেওয়া, বহির্বিশ্বে বাংলাদেশের পক্ষে জনমত গঠন, বিদেশে মিশন স্থাপন এবং যুদ্ধের প্রশাসনিক কাঠামো পরিচালনা সম্ভব ছিল না, তাই মুজিবনগর সরকার গঠন মুক্তিযুদ্ধ পরিচালনার জন্য অপরিহার্য ছিল।

3। বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধকে ‘গণযুদ্ধ’ বলার যৌক্তিকতা ব্যাখ্যা করো।

মুক্তিযুদ্ধে শুধু সামরিক বাহিনী নয়, বরং ছাত্র, শিক্ষক, কৃষক, শ্রমিক, নারী, পেশাজীবী, সাংবাদিক, শিল্পী-সাহিত্যিকসহ সমাজের প্রতিটি স্তরের মানুষ প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবে অংশগ্রহণ করেছিল, এই সর্বজনীন অংশগ্রহণের কারণেই একে গণযুদ্ধ বা জনযুদ্ধ বলা হয়।

মুক্তিযুদ্ধে বিশ্বজনমত ও বিভিন্ন দেশের ভূমিকা

4। ভারতের সমর্থন মুক্তিযুদ্ধের বিজয়ে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে কেন— ব্যাখ্যা করো।

ভারত লাখ লাখ শরণার্থীকে আশ্রয় দেয়, মুক্তিযোদ্ধাদের খাদ্য-বস্ত্র-চিকিৎসা-অস্ত্র-প্রশিক্ষণ দিয়ে সাহায্য করে এবং শেষপর্যায়ে সরাসরি যুদ্ধে যোগ দিয়ে যৌথ কমান্ড গঠন করে, এই সার্বিক সহায়তা ছাড়া মাত্র নয় মাসে বিজয় অর্জন কঠিন হতো, তাই ভারতের ভূমিকা মুক্তিযুদ্ধের বিজয়ে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ছিল।

5। ১৯৯০ সালের গণঅভ্যুত্থান বাংলাদেশের গণতান্ত্রিক ইতিহাসে গুরুত্বপূর্ণ কেন— ব্যাখ্যা করো।

দীর্ঘ প্রায় নয় বছরের আন্দোলনের মাধ্যমে জনগণ স্বৈরাচারী এরশাদ সরকারের পতন ঘটিয়ে একটি নিরপেক্ষ তত্ত্বাবধায়ক সরকারের অধীনে অবাধ ও গ্রহণযোগ্য নির্বাচনের পথ সুগম করে, যা বাংলাদেশে গণতান্ত্রিক শাসনব্যবস্থা পুনঃপ্রতিষ্ঠায় একটি মাইলফলক হিসেবে বিবেচিত হয়।

২০২৪ সালের জুলাই গণঅভ্যুত্থান

6। জুলাই গণঅভ্যুত্থানকে নিছক সামাজিক-রাজনৈতিক ঘটনা না বলে নতুন নাগরিক চেতনার উন্মেষ বলা হয় কেন— ব্যাখ্যা করো।

এই আন্দোলনে সকল মত-পথের মানুষ গণতন্ত্র, আইনের শাসন, সাম্য ও মানবিক মর্যাদার দাবিতে অভূতপূর্ব ঐক্যের পরিচয় দেয় এবং জনগণের মধ্যে ভবিষ্যতের যেকোনো সরকারের কাছে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা দাবি করার এক স্থায়ী সচেতনতা তৈরি হয়, তাই একে শুধু একটি রাজনৈতিক পটপরিবর্তন নয় বরং নতুন নাগরিক চেতনার উন্মেষ হিসেবে গণ্য করা হয়।

আরও পড়ুন

SSC বাংলাদেশ ও বিশ্বপরিচয়-এর সব পোস্ট

মন্তব্য করুন

Your email address will not be published. Required fields are marked *

সাহায্য লাগবে?
BCS Journey Support
● Online
×
💬Messenger ✈Telegram
BCS JOURNEY
BCS Journey
চ্যাট শুরু করুন ➜