বাংলাদেশের সামাজিক সমস্যা ও প্রতিকার অধ্যায়ের নোট | SSC বাংলাদেশ ও বিশ্বপরিচয়ের ১৫তম অধ্যায় “বাংলাদেশের সামাজিক সমস্যা ও প্রতিকার” জ্ঞানমূলক ও অনুধাবনমূলক প্রশ্ন উত্তর নিচে দেওয়া হলো। এই পোস্টে ৫০টি জ্ঞানমূলক ও ৬টি অনুধাবনমূলক প্রশ্ন ও উত্তর আছে। বহুনির্বাচনি প্রশ্নের জন্য বাংলাদেশের সামাজিক সমস্যা ও প্রতিকার অধ্যায়ের MCQ দেখুন।
বাংলাদেশের সামাজিক সমস্যা ও প্রতিকার অধ্যায়ের জ্ঞানমূলক প্রশ্ন ও উত্তর
সড়ক দুর্ঘটনার কারণ-প্রভাব-প্রতিরোধ ও দুর্নীতি
1। সড়ক দুর্ঘটনার একটি প্রধান কারণ কী?
প্রশিক্ষণবিহীন ও লাইসেন্সবিহীন চালক দ্বারা গাড়ি চালানো।
2। অতিরিক্ত যাত্রী ও মালামাল বহন কীভাবে দুর্ঘটনার কারণ হয়?
আসনসংখ্যার চেয়ে বেশি যাত্রী বা পরিবহনসীমার অতিরিক্ত মাল বোঝাই করলে গাড়ির ভারসাম্য নষ্ট হয়ে দুর্ঘটনা ঘটে।
3। চালকদের মাদকাসক্তি দুর্ঘটনায় কী ভূমিকা রাখে?
নেশাগ্রস্ত অবস্থায় গাড়ি চালানোর ফলে দুর্ঘটনার ঝুঁকি বহুগুণ বেড়ে যায়।
4। পথচারীদের অসতর্কতা কীভাবে দুর্ঘটনার কারণ হয়?
জেব্রাক্রসিং বা ওভারব্রিজ ব্যবহার না করা এবং মোবাইলে কথা বলতে বলতে পথ চলা দুর্ঘটনার কারণ হয়।
5। সড়কের নকশা ও নির্মাণে ত্রুটি কীভাবে দুর্ঘটনা বাড়ায়?
ইঞ্জিনিয়ার ও কন্ট্রাক্টরের উদাসীনতায় ত্রুটিপূর্ণ সড়ক নির্মিত হলে দুর্ঘটনার ঝুঁকি বেড়ে যায়।
6। হাইওয়ে পুলিশের প্রতিবেদন অনুযায়ী দুর্ঘটনায় পতিতদের কত শতাংশের বয়স ১৫ বছরের নিচে?
২৪ শতাংশ।
7। সড়ক দুর্ঘটনা প্রধানত কাদের শিকার করে?
উপার্জনক্ষম ব্যক্তিদের, যার ফলে পরিবারের সদস্যদের আর্থিক ক্ষতি ও দুর্বিষহ জীবনযাপনের মুখোমুখি হতে হয়।
8। দুর্ঘটনায় পঙ্গু হওয়া ব্যক্তির জীবনে কী প্রভাব পড়তে পারে?
কর্মক্ষমতা হারিয়ে মানসিক ভারসাম্যহীনতা, এমনকি ভিক্ষাবৃত্তি বা অপরাধ জগতে প্রবেশের ঘটনাও ঘটতে পারে।
9। সড়ক দুর্ঘটনা প্রতিরোধে চালক নিয়োগে কী নিশ্চিত করতে হবে?
উপযুক্ত শিক্ষা ও প্রশিক্ষণসহ যোগ্যতা নির্ধারণ করে চালক নিয়োগ দিতে হবে।
10। সড়ক দুর্ঘটনা প্রতিরোধে অবকাঠামোগত কী পদক্ষেপ নেওয়া যায়?
ভারী যানবাহনের জন্য আলাদা লেন এবং সকল সিগন্যাল পয়েন্টে বৈদ্যুতিক সিগন্যাল স্থাপন করা।
11। চালকদের মাদক পরীক্ষার মাধ্যমে কী ব্যবস্থা নেওয়া যায়?
রক্ত পরীক্ষার মাধ্যমে অ্যালকোহল বা মাদক গ্রহণকারী চালকদের শনাক্ত করে তাদের লাইসেন্স প্রত্যাহার করা যায়।
12। দুর্নীতি বিস্তারের একটি রাজনৈতিক কারণ কী?
রাজনীতিতে গণতান্ত্রিক মূল্যবোধ চর্চার অভাব ও অগণতান্ত্রিক পন্থায় ক্ষমতা দখলের আকাঙ্ক্ষা।
13। দ্রব্যমূল্য বৃদ্ধি ও মুদ্রাস্ফীতি কীভাবে দুর্নীতির সাথে সম্পর্কিত?
ব্যবসায়ী, আড়তদার, মজুতদাররা প্রতারণা ও দুর্নীতির মাধ্যমে অধিক মুনাফা অর্জন করে, স্বল্প আয়ের মানুষও বাঁচার তাগিদে দুর্নীতির আশ্রয় নেয়।
14। দুর্নীতির প্রভাব সমাজে কী তৈরি করে?
ন্যায্য অধিকারের বঞ্চনা, ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠায় বাধা এবং মানুষের মধ্যে হতাশা সৃষ্টি করে।
15। দুর্নীতি প্রতিরোধে গণমাধ্যমের ভূমিকা কী?
দুর্নীতি সম্পর্কে তথ্য প্রচার করে গণসচেতনতা গড়ে তোলার কার্যকর হাতিয়ার হিসেবে কাজ করে।
16। দুর্নীতি প্রতিরোধের উপায় কী কী?
সমাজের সর্বস্তরে জবাবদিহিতা প্রতিষ্ঠা, সম্পদের হিসাব প্রদান বাধ্যতামূলক করা এবং ব্যাপক কর্মসংস্থান সৃষ্টি।
নারীর প্রতি সহিংসতা প্রতিরোধে আইন এবং শিশুশ্রম-কিশোর অপরাধ-মাতৃকল্যাণ
17। অ্যাসিড অপরাধ দমন আইন কত সালে পাস হয়?
২০০২ সালে।
18। অ্যাসিড দ্বারা মৃত্যু ঘটালে শাস্তি কী?
মৃত্যুদণ্ড বা যাবজ্জীবন সশ্রম কারাদণ্ড এবং অতিরিক্ত অনূর্ধ্ব এক লক্ষ টাকা অর্থদণ্ড।
19। অ্যাসিড নিয়ন্ত্রণ (সংশোধন) আইন কত সালে পাস হয়?
২০১০ সালে।
20। নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইন কত সালের?
২০০০ সালের; পাচারের ক্ষেত্রে মৃত্যুদণ্ড বা যাবজ্জীবন কারাদণ্ড বা অনধিক ২০ বছর কিন্তু অন্যূন ১০ বছর সশ্রম কারাদণ্ডের বিধান আছে।
21। মানবপাচার প্রতিরোধ ও দমন আইন কত সালের ও সর্বোচ্চ শাস্তি কী?
২০১২ সালের; সর্বোচ্চ শাস্তি মৃত্যুদণ্ডসহ পাঁচ লক্ষ টাকা অর্থদণ্ড।
22। নারীর প্রতি সহিংসতা প্রতিরোধে সমাজের করণীয় কী কী?
নারীশিক্ষা কার্যক্রম গ্রহণ, বিধবা ভাতা প্রদান, নারীর জন্য ঋণদান কর্মসূচি এবং নারী নির্যাতনকারীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি।
23। সামাজিক চাপ প্রয়োগকারী প্রতিষ্ঠানের উদাহরণ কী কী?
গ্রাম আদালত ও ইউনিয়ন পরিষদ, যা নারীর প্রতি সহিংসতা প্রতিরোধে অধিক সক্রিয় করা প্রয়োজন।
24। বাংলাদেশে শিশুশ্রমের প্রধান কারণ কী?
অর্থনৈতিক দুরবস্থা; দরিদ্র পরিবারের পক্ষে ভরণ-পোষণ মিটিয়ে সন্তানের লেখাপড়ার খরচ জোগানো সম্ভব হয় না।
25। বাংলাদেশের শ্রম আইন ২০০৬ অনুযায়ী শিশু ও কিশোরের বয়সসীমা কত?
শিশুর ন্যূনতম বয়স ১৪ বছরের নিচে এবং কিশোরের বয়স ১৪ থেকে ১৮ বছর নির্ধারণ করা হয়েছে।
26। শ্রম আইন অনুযায়ী কিশোর শ্রমিকের কাজের সময়সীমা কত?
দৈনিক ৫ ঘণ্টা; সন্ধ্যা ৭টা থেকে ভোর ৭টা পর্যন্ত কাজ করানো যাবে না।
27। জাতীয় শিশুশ্রম নিরসন নীতি কত সালের?
২০১০ সালের।
28। জাতিসংঘ শিশু অধিকার সনদ কত সালে প্রণীত ও বাংলাদেশ কত সালে অনুসমর্থন করে?
১৯৮৯ সালে প্রণীত, বাংলাদেশ ১৯৯০ সালে অনুসমর্থন করে।
29। বাংলাদেশের শিশু আইন ২০১৩ অনুযায়ী শিশুর বয়সসীমা কত?
অনূর্ধ্ব ১৮ বছর বয়স পর্যন্ত সকল ব্যক্তি শিশু হিসেবে গণ্য হবে।
30। কিশোর অপরাধের বিচার ব্যবস্থার মূল উদ্দেশ্য কী?
সাজা দেওয়া নয়, বরং তারা যেন তাদের ভুল উপলব্ধি করে সংশোধন হওয়ার সুযোগ পায়।
31। শিশু আইনে কিশোর অপরাধীদের সংশোধনে কোথায় পাঠানোর নির্দেশ আছে?
শিশু উন্নয়ন কেন্দ্রে।
32। মাতৃকল্যাণ বলতে কী বোঝায়?
মায়ের স্বাস্থ্য, সুরক্ষা এবং ভালো থাকার জন্য সমাজ ও সামাজিক সংগঠন কর্তৃক সংঘবদ্ধ প্রচেষ্টা।
সামাজিক নৈরাজ্য, মূল্যবোধের অবক্ষয় ও নারীর প্রতি সহিংসতা
33। সামাজিক সমস্যা কী?
সমাজের জন্য ক্ষতিকর ও অসুবিধাজনক অবস্থা, যা সমাজবাসীর বৃহৎ অংশকে প্রভাবিত করে এবং প্রতিকারের জন্য ঐক্যবদ্ধ প্রচেষ্টা প্রয়োজন।
34। সামাজিক বিশৃঙ্খলা কী?
সমাজের প্রচলিত আচার-আচরণ, রীতি-নীতি, প্রথা নিয়ন্ত্রণের ব্যতিক্রমকে সামাজিক বিশৃঙ্খলা বলে।
35। সামাজিক নৈরাজ্য কাকে বলে?
রাষ্ট্রের শাসনযন্ত্র যখন আর কাজ করে না এবং ব্যক্তি বা গোষ্ঠীর আচরণ নিয়ন্ত্রণ করতে পারে না, তখন সমাজে যে অবস্থার সৃষ্টি হয়, তাকে সামাজিক নৈরাজ্য বলে।
36। সামাজিক বিশৃঙ্খলা ও নৈরাজ্যের লক্ষণ কী কী?
অপরাধ, কিশোর অপরাধ, মাদকাসক্তি, অপহরণ, আত্মহত্যা, নারী নির্যাতন, বিবাহবিচ্ছেদ, ঘুষ, ছিনতাই, সন্ত্রাস ও চাঁদাবাজি।
37। সামাজিক মূল্যবোধ কী?
যেসব ধ্যানধারণা, বিশ্বাস, লক্ষ্য ও উদ্দেশ্য মানুষের আচার-আচরণ পরোক্ষভাবে নিয়ন্ত্রণ করে, তাদের সমষ্টি।
38। সামাজিক মূল্যবোধের উদাহরণ দাও।
বড়দের প্রতি শ্রদ্ধা দেখানো, অতিথির প্রতি সম্মান প্রদর্শন এবং ছোটদের প্রতি স্নেহ-মায়া-মমতা।
39। সামাজিক মূল্যবোধ অবক্ষয়ের ফলে কী সৃষ্টি হয়?
সামাজিক অসংগতি সৃষ্টি হয়।
40। নৈরাজ্য ও মূল্যবোধ অবক্ষয়ের প্রভাব কী কী?
মানুষের অধিকার বঞ্চনা বেড়ে যায়, অপরাধীদের দৌরাত্ম্য বেড়ে যায় এবং দেশের সেবাখাতের মান নিম্নগামী হয়।
41। সামাজিক নৈরাজ্য প্রতিরোধে কী কী পদক্ষেপ নেওয়া যায়?
সামাজিক আন্দোলন ও সচেতনতামূলক কার্যক্রম, আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী প্রতিষ্ঠানে স্বচ্ছতা আনয়ন এবং ধর্মীয় ও নৈতিক শিক্ষার প্রসার।
42। নারীর প্রতি সহিংসতা কী?
পুরুষ বা নারী কর্তৃক যেকোনো বয়সের নারীর প্রতি শুধু নারী হওয়ার কারণে যে সহিংস আচরণ করা হয়, তাই নারীর প্রতি সহিংসতা।
43। পারিবারিক সহিংসতা কী?
নারীরা বাড়িতে যেসব শারীরিক ও মানসিক নির্যাতনের শিকার হয়, সাধারণত স্বামী, শাশুড়ি, ননদ ও পরিবারের অন্যান্য সদস্য দ্বারা।
44। পারিবারিক সহিংসতার উদাহরণ কী কী?
খোঁটা দেওয়া, প্রহার, যৌতুক সম্পর্কিত নির্যাতন এবং শিক্ষা-সম্পত্তির অধিকার থেকে বঞ্চনা।
45। ইভটিজিং (Eve-Teasing) কী?
লোকসমাগমপূর্ণ স্থানে পুরুষ কর্তৃক নারীদের নিগ্রহ বা উত্ত্যক্ত করা, যা যৌন হয়রানির ইংরেজি প্রতিশব্দ।
46। গ্রামীণ এলাকায় নারীর প্রতি সহিংসতার একটি বিশেষ রূপ কী?
মনগড়া ফতোয়ার মাধ্যমে সহিংসতা, যেখানে প্রভাবশালীরা মনগড়া আইনে বিচার পরিচালনা করে।
47। অ্যাসিড নিক্ষেপের প্রধান কারণ কী কী?
প্রেম বা অনৈতিক প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান, সম্পত্তি নিয়ে বিরোধ ও পারিবারিক কলহ।
48। নারী ও শিশু পাচারের শিকার হয়ে তাদের কী কাজে ব্যবহার করা হয়?
দেহব্যবসা, উটের জকি ইত্যাদি অবমাননাকর কাজে, এমনকি অঙ্গপ্রত্যঙ্গ বিক্রিতেও ব্যবহৃত হয়।
49। নারীর প্রতি সহিংসতার সামাজিক কারণ কী কী?
যৌতুক, বাল্যবিবাহ, বহুবিবাহ এবং কন্যাসন্তানের বদলে পুত্রসন্তানের প্রতি আগ্রহ।
50। অর্থনৈতিক দুরবস্থা কীভাবে নারীর প্রতি সহিংসতায় ভূমিকা রাখে?
অর্থনৈতিক দুরবস্থা যৌতুক প্রথাকে উৎসাহিত করেছে, যা পরে সহিংসতার হাতিয়ারে পরিণত হয়েছে।
বাংলাদেশের সামাজিক সমস্যা ও প্রতিকার অধ্যায়ের অনুধাবনমূলক প্রশ্ন ও উত্তর
সড়ক দুর্ঘটনার কারণ-প্রভাব-প্রতিরোধ ও দুর্নীতি
1। সড়ক দুর্ঘটনা শুধু পারিবারিক নয় বরং আর্থ-সামাজিক জীবনকেও বিপর্যস্ত করে— ব্যাখ্যা করো।
দুর্ঘটনায় উপার্জনক্ষম ব্যক্তির মৃত্যু বা পঙ্গুত্ব ঘটলে পরিবার আর্থিক সংকটে পড়ে এবং শিশুদের শিক্ষা ব্যাহত হয়, পাশাপাশি সড়ক অবরোধে যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে কাঁচামাল নষ্ট হওয়া বা কর্মঘণ্টা অপচয়ের মতো ব্যাপক অর্থনৈতিক ক্ষতিও হয়, তাই সড়ক দুর্ঘটনা পারিবারিক গণ্ডি ছাড়িয়ে সামগ্রিক আর্থ-সামাজিক জীবনকেও ক্ষতিগ্রস্ত করে।
2। দুর্নীতি প্রতিরোধে প্রাতিষ্ঠানিক জবাবদিহিতা অপরিহার্য— ব্যাখ্যা করো।
সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের সম্পদের হিসাব প্রদান বাধ্যতামূলক করা হলে অস্বাভাবিক সম্পদ বৃদ্ধি সহজেই শনাক্ত করা যায় এবং দুর্নীতিবাজদের বিচারের আওতায় আনা সহজ হয়, এই জবাবদিহিতার ভয়ে অনেকেই দুর্নীতি থেকে বিরত থাকতে বাধ্য হবে, তাই দুর্নীতি প্রতিরোধে প্রাতিষ্ঠানিক জবাবদিহিতা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
নারীর প্রতি সহিংসতা প্রতিরোধে আইন এবং শিশুশ্রম-কিশোর অপরাধ-মাতৃকল্যাণ
3। শুধু আইন প্রণয়ন করলেই নারীর প্রতি সহিংসতা বন্ধ হবে না— ব্যাখ্যা করো।
আইনের যথাযথ প্রয়োগ নিশ্চিত না হলে এবং সমাজে নারী অধিকার বিষয়ে ব্যাপক সচেতনতা তৈরি না হলে শুধু কাগজে-কলমে আইন থাকলেও তা বাস্তবে কার্যকর হয় না, তাই আইনের পাশাপাশি শিক্ষা, সামাজিক আন্দোলন ও ধর্মীয়-নৈতিক মূল্যবোধের বিকাশ একসাথে প্রয়োজন।
4। দরিদ্র পরিবারে শিশুশ্রম একটি চক্রাকার সমস্যা— ব্যাখ্যা করো।
দরিদ্র পিতামাতা সন্তানের লেখাপড়ার খরচ জোগাতে না পেরে তাকে কাজে পাঠান, ফলে শিশুটি শিক্ষাবঞ্চিত থেকে যায় এবং বড় হয়ে দক্ষতাহীন শ্রমিক হিসেবে থেকে যায়, এই দক্ষতাহীনতা তার নিজের পরিবারকেও দারিদ্র্যের বৃত্তে আটকে রাখে, তাই শিশুশ্রম প্রজন্মান্তরে দারিদ্র্যের একটি চক্রাকার সমস্যা তৈরি করে।
সামাজিক নৈরাজ্য, মূল্যবোধের অবক্ষয় ও নারীর প্রতি সহিংসতা
5। সামাজিক প্রতিষ্ঠানের ভাঙন সামাজিক নৈরাজ্যের সূত্রপাত ঘটায়— ব্যাখ্যা করো।
সামাজিক রীতিনীতি যখন ব্যক্তির আচরণ নিয়ন্ত্রণ করতে ব্যর্থ হয় তখন মানুষের নৈতিক অবনতি শুরু হয়, এই অবনতি ব্যাপক আকার ধারণ করলে পরিবার-শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের মতো সামাজিক প্রতিষ্ঠানগুলো তাদের স্বাভাবিক কার্যকারিতা হারিয়ে ফেলে, ফলে সমাজে বিশৃঙ্খলা ও চূড়ান্তভাবে নৈরাজ্য দেখা দেয়।
6। যৌতুক প্রথা নারীর প্রতি সহিংসতার একটি প্রধান হাতিয়ার হয়ে উঠেছে— ব্যাখ্যা করো।
অর্থনৈতিক দুরবস্থার কারণে যৌতুক প্রথা সমাজে প্রতিষ্ঠিত হয়েছে এবং কনে পক্ষ কাঙ্ক্ষিত যৌতুক দিতে ব্যর্থ হলে বধূকে শারীরিক-মানসিক নির্যাতনের শিকার হতে হয়, এমনকি অনেক ক্ষেত্রে হত্যার ঘটনাও ঘটে, তাই যৌতুক প্রথা ক্রমে নারীর প্রতি সহিংসতার একটি ভয়ংকর হাতিয়ারে পরিণত হয়েছে।
