● SSC বাংলাদেশ ও বিশ্বপরিচয়

জাতীয় সম্পদ ও অর্থনৈতিক ব্যবস্থা অধ্যায়ের নোট | জ্ঞানমূলক ও অনুধাবনমূলক প্রশ্ন উত্তর

জাতীয় সম্পদ ও অর্থনৈতিক ব্যবস্থা অধ্যায়ের নোট | SSC বাংলাদেশ ও বিশ্বপরিচয়ের ১০ম অধ্যায় “জাতীয় সম্পদ ও অর্থনৈতিক ব্যবস্থা” জ্ঞানমূলক ও অনুধাবনমূলক প্রশ্ন উত্তর নিচে দেওয়া হলো। এই পোস্টে ৫৭টি জ্ঞানমূলক ও ৬টি অনুধাবনমূলক প্রশ্ন ও উত্তর আছে। বহুনির্বাচনি প্রশ্নের জন্য জাতীয় সম্পদ ও অর্থনৈতিক ব্যবস্থা অধ্যায়ের MCQ দেখুন।

জাতীয় সম্পদ ও অর্থনৈতিক ব্যবস্থা অধ্যায়ের জ্ঞানমূলক প্রশ্ন ও উত্তর

জাতীয় সম্পদের ধারণা, শ্রেণিবিভাগ, উৎস ও সংরক্ষণ

1। কোনো বস্তুকে সম্পদ বলতে হলে কী কী বৈশিষ্ট্য থাকতে হবে?

উপযোগ, অপ্রাচুর্য, বাহ্যিকতা ও হস্তান্তরযোগ্যতা।

2। উপযোগ কী?

মানুষের অভাব পূরণে কোনো দ্রব্যের ক্ষমতাকে উপযোগ বলে।

3। অপ্রাচুর্য কী?

কোনো দ্রব্য বা সেবার চাহিদার তুলনায় জোগান কম হলে তার অপ্রাচুর্য দেখা দেয়; যেমন খাদ্য।

4। বাতাসের অপ্রাচুর্য নেই কেন?

প্রকৃতিতে বাতাস অফুরন্ত হওয়ায় প্রয়োজনের তুলনায় সরবরাহ বেশি, তাই এর জন্য দাম দিতে হয় না।

5। জাতীয় সম্পদ কী?

এমন সব প্রাকৃতিক ও মানব সৃষ্ট অর্থনৈতিক উপাদান যা দেশের জনগণের যৌথ মালিকানা এবং দেশের উন্নয়ন ও জনগণের কল্যাণে ব্যবহৃত হয়।

6। সম্পদকে কয় শ্রেণিতে ভাগ করা যায়?

পাঁচ শ্রেণিতে— ব্যক্তিগত, একান্ত ব্যক্তিগত, সমষ্টিগত, জাতীয় ও আন্তর্জাতিক সম্পদ।

7। একান্ত ব্যক্তিগত সম্পদ কী?

নিজস্ব প্রতিভা, ব্যক্তির দক্ষতা যা হস্তান্তরযোগ্য নয় কিন্তু ব্যবহার করে সম্পদ সৃষ্টি করা যায়।

8। সমষ্টিগত সম্পদ কী?

সমাজের সকলে সম্মিলিতভাবে যে সকল সম্পদ ভোগ করে, যেমন রাস্তাঘাট, সরকারি হাসপাতাল-স্কুল, বনাঞ্চল, নদ-নদী।

9। আন্তর্জাতিক সম্পদ কী?

যা বিশেষ কোনো রাষ্ট্রের মালিকানাধীন নয় ও বিশ্বের সকল জাতি ভোগ করতে পারে, যেমন সাগর-মহাসাগর, পেটেন্টবিহীন বৈজ্ঞানিক আবিষ্কার।

10। জাতীয় সম্পদের উৎস প্রধানত কয়টি?

দুইটি— প্রকৃতি প্রদত্ত ও মানবসৃষ্ট।

11। প্রকৃতি প্রদত্ত সম্পদের উদাহরণ দাও।

প্রাকৃতিক বনাঞ্চল, নদ-নদী, মৎস্যসম্পদ, খনিজ সম্পদ।

12। মানবসৃষ্ট সম্পদ কী?

মানুষ তার শ্রম ও মূলধনের সাহায্যে প্রাকৃতিক সম্পদ ব্যবহার করে যে নতুন সম্পদ সৃষ্টি করে।

13। সংরক্ষণ কী?

কোনো বস্তু বা সম্পত্তি বিশেষ যত্নসহকারে রক্ষা করা ও তার তত্ত্বাবধান করা।

14। ব্যক্তিগত সম্পদ সংরক্ষণে ব্যক্তির ভূমিকা কী?

নিজস্ব সম্পদ যত্নের সাথে রক্ষণাবেক্ষণ করা এবং অযথা ব্যয় বা অপচয় না করা।

15। সমষ্টিগত সম্পদ সংরক্ষণে নাগরিকদের দায়িত্ব কী?

রাষ্ট্র ও জনগণের যৌথ মালিকানাধীন সম্পদ ব্যবহারে যত্নবান হওয়া এবং ক্ষতিসাধন রোধে সচেতন থাকা।

16। বাংলাদেশে জাতীয় সম্পদ সংরক্ষণে করণীয় কী কী?

আইন প্রণয়ন, সম্পদের টেকসই ব্যবহার নিশ্চিত করা এবং বন ও প্রাণি বৈচিত্র্য সংরক্ষণ।

17। গণমাধ্যমের ভূমিকা কী হতে পারে সম্পদ সংরক্ষণে?

নাগরিকদের করণীয় সম্পর্কে প্রচারের মাধ্যমে সচেতন করা।

উৎপাদনের উপকরণ ও অর্থনৈতিক ব্যবস্থার ধারণা

18। উৎপাদন কী?

দ্রব্য বা সম্পদের এক অবস্থা থেকে অন্য অবস্থায় রূপান্তর করাকে উৎপাদন বলে।

19। উৎপাদনের চারটি উপাদান কী কী?

ভূমি, শ্রম, মূলধন ও সংগঠন।

20। অর্থনীতিতে ভূমি বলতে কী বোঝায়?

সকল প্রাকৃতিক সম্পদ, যেমন জমি, নদী-সাগরের পানি, পাহাড়, বাতাস, আলো, খনিজ সম্পদ ও ভৌগোলিক স্থান।

21। শ্রম কী?

উৎপাদন কাজে ব্যবহারযোগ্য মানুষের শারীরিক ও মানসিক কর্মক্ষমতা।

22। মূলধন কী?

উৎপাদিত উপাদান, যা সরাসরি ভোগ করা হয় না কিন্তু অধিকতর উৎপাদনে ব্যবহৃত হয়; যেমন যন্ত্রপাতি, কলকারখানা।

23। সংগঠন বা সংগঠক কী?

ভূমি, শ্রম ও মূলধনকে সমন্বিত করে উৎপাদন কার্য পরিচালনাকারীকে সংগঠক বা উদ্যোক্তা বলে।

24। উৎপাদনের চারটি উপাদানের আয়কে কী বলে?

যথাক্রমে খাজনা (ভূমি), মজুরি (শ্রম), সুদ (মূলধন) ও মুনাফা (সংগঠন)।

25। অর্থনৈতিক কার্যাবলির পর্যায়গুলো কী কী?

অভাব → প্রচেষ্টা → উৎপাদন → বণ্টন → ভোগ।

26। অর্থনৈতিক ব্যবস্থা কী?

যে ব্যবস্থার আওতায় উৎপাদনের উপাদানসমূহের মালিকানা নির্ধারিত হয় এবং উৎপাদন-বণ্টন-ভোগ প্রক্রিয়া সম্পাদিত হয়।

27। বর্তমান বিশ্বে প্রধানত কয় ধরনের অর্থনৈতিক ব্যবস্থা কার্যকর?

চার ধরনের— ধনতান্ত্রিক, সমাজতান্ত্রিক, মিশ্র ও ইসলামি অর্থনৈতিক ব্যবস্থা।

ধনতান্ত্রিক ও সমাজতান্ত্রিক অর্থনৈতিক ব্যবস্থা

28। ধনতান্ত্রিক অর্থব্যবস্থায় উৎপাদনের উপাদানসমূহের মালিকানা কার?

ব্যক্তিমালিকানাধীন।

29। ধনতান্ত্রিক ব্যবস্থাকে কী বলা হয়?

মুক্তবাজার অর্থনীতি; এখানে দ্রব্যের উৎপাদন-বণ্টন-ভোগ বাজারের চাহিদা-যোগানের ক্রিয়া দ্বারা পরিচালিত হয়।

30। ধনতান্ত্রিক ব্যবস্থায় উৎপাদনের উদ্দেশ্য কী?

সর্বাধিক মুনাফা অর্জন।

31। ধনতান্ত্রিক ব্যবস্থায় শ্রমিক বঞ্চনা কীভাবে ঘটে?

উৎপাদন ব্যয় কম রাখতে শ্রমিককে ন্যায্য মজুরির চেয়ে কম মজুরি দেওয়া হয়, উদ্বৃত্ত অংশ পুঁজিপতির মুনাফা হিসেবে সঞ্চিত হয়।

32। সমাজতান্ত্রিক অর্থব্যবস্থায় উৎপাদনের উপাদানসমূহের মালিকানা কার?

রাষ্ট্রীয় মালিকানাধীন; ব্যক্তিমালিকানা থাকে না।

33। সমাজতান্ত্রিক ব্যবস্থায় সিদ্ধান্ত কে নেয়?

সরকার কেন্দ্রীয় পরিকল্পনার মাধ্যমে দ্রব্য উৎপাদন ও বণ্টন সংক্রান্ত সিদ্ধান্ত নেয়।

34। সমাজতান্ত্রিক ব্যবস্থায় শ্রমিকের মজুরির মূলনীতি কী?

প্রত্যেককে তার যোগ্যতা অনুযায়ী কাজ ও কাজ অনুযায়ী পারিশ্রমিক দেওয়া হয়।

35। সমাজতান্ত্রিক ব্যবস্থায় বেকারত্ব কেন থাকে না?

রাষ্ট্র প্রত্যেকের সামর্থ্য ও যোগ্যতা অনুযায়ী কাজের ব্যবস্থা করে দেয়।

36। সমাজতান্ত্রিক ব্যবস্থার একটি সীমাবদ্ধতা কী?

ব্যক্তির প্রণোদনা ও উদ্যম হ্রাস পেতে পারে, ফলে ব্যক্তির সর্বোচ্চ উৎপাদনশীলতা নিশ্চিত হয় না।

37। ধনতান্ত্রিক ব্যবস্থায় দ্রব্যের দাম কীভাবে নির্ধারিত হয়?

বাজারে ক্রেতা ও বিক্রেতাদের মধ্যে অবাধ প্রতিযোগিতার মাধ্যমে দ্রব্যের দাম নির্ধারিত হয়।

38। প্রাচীন বাংলা ও ব্রিটিশ আমলে কোন অর্থনৈতিক ব্যবস্থা প্রচলিত ছিল?

সামন্ততান্ত্রিক অর্থনৈতিক ব্যবস্থা, যা ছিল ভূস্বামীকেন্দ্রিক।

39। ব্রিটিশ আমলে ভূস্বামীদের কী বলা হতো?

জমিদার।

40। স্বাধীনতার পর বাংলাদেশে কোন অর্থনৈতিক ব্যবস্থা প্রতিষ্ঠার উদ্যোগ নেওয়া হয়?

সমাজতন্ত্র অভিমুখী অর্থনৈতিক ব্যবস্থা।

41। রাষ্ট্রায়ত্ত শিল্পকারখানা লোকসানের সম্মুখীন হওয়ার কারণ কী?

দক্ষ প্রশাসক-ব্যবস্থাপক-উদ্যোক্তার অভাব এবং অবাঙালি মালিকদের দেশত্যাগ।

42। বর্তমানে বাংলাদেশে কোন অর্থনৈতিক ব্যবস্থা বিদ্যমান?

ধনতান্ত্রিক অর্থনৈতিক ব্যবস্থার প্রাধান্যসহ মিশ্র অর্থনৈতিক ব্যবস্থা।

43। বাংলাদেশের অর্থনীতিতে মূলধন বা পুঁজি কোথা থেকে সংগৃহীত হয়?

বেশিরভাগ অভ্যন্তরীণ উৎস থেকে, তবে বৈদেশিক ঋণ-সাহায্য-অনুদানও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।

44। জাতীয় আয় কী?

খাজনা, মজুরি, সুদ ও মুনাফা— এই চারটির সমষ্টি।

45। বাংলাদেশে জাতীয় আয় বণ্টনে কী বৈষম্য দেখা যায়?

জাতীয় আয়ের বৃহত্তর অংশ অল্পসংখ্যক ব্যক্তি ভোগ করে, ক্ষুদ্রতর অংশ বৃহত্তর জনগোষ্ঠীর মধ্যে বণ্টিত হয়।

46। বাংলাদেশে সরকারি খাতে শ্রমিকদের মজুরি অবস্থা কেমন?

সরকারি নিয়ন্ত্রণ থাকায় সরকারি খাতে শ্রমিকদের ন্যায্য মজুরি তুলনামূলকভাবে নিশ্চিত করা সম্ভব হয়।

47। বাংলাদেশে আয় বৈষম্যের একটি বড় কারণ কী?

সুশাসনের অভাব ও সম্পদের পুঞ্জিভবন, যা অল্প মানুষের হাতে অধিক সম্পদ কেন্দ্রীভূত করে।

মিশ্র ও ইসলামি অর্থনৈতিক ব্যবস্থা

48। মিশ্র অর্থব্যবস্থা কী?

ধনতান্ত্রিক ও সমাজতান্ত্রিক ব্যবস্থার সমন্বয়ে গঠিত ব্যবস্থা, যেখানে ব্যক্তিগত ও সরকারি উভয় খাত সহাবস্থান করে।

49। মিশ্র অর্থব্যবস্থায় কোন খাতগুলো সরকার নিয়ন্ত্রণ করে?

বড়ো বড়ো কলকারখানা, ভারী শিল্প, অত্যাবশ্যকীয় পণ্যের উৎপাদন ও আমদানি-রপ্তানি।

50। মিশ্র অর্থনীতিতে সরকারি খাতে উৎপাদনের উদ্দেশ্য কী?

মুনাফা অর্জন নয় বরং সর্বাধিক সামাজিক কল্যাণ অর্জন।

51। ইসলামি অর্থনৈতিক ব্যবস্থার ভিত্তি কী?

পবিত্র কুরআন ও হাদিস।

52। ইসলামি অর্থব্যবস্থায় সম্পদের মালিকানা কেমন?

ব্যক্তিগত মালিকানা স্বীকৃত, তবে কিছু শর্ত সাপেক্ষে।

53। ইসলামি অর্থব্যবস্থায় সুদের বিধান কী?

সুদ নিষিদ্ধ বা হারাম; সুদের পরিবর্তে মুনাফার অংশীদারিত্বে গুরুত্ব দেওয়া হয়।

54। যাকাত কী?

সম্পদশালী ব্যক্তির জন্য বাধ্যতামূলক এক নির্ধারিত পরিমাণ সম্পদ দরিদ্র জনগণের মধ্যে বণ্টনের ব্যবস্থা।

55। নিসাব কী?

যে ন্যূনতম পরিমাণ সম্পদ থাকলে জাকাত দিতে হয়, তাকে নিসাব বলে।

56। ইসলামি ব্যাংক ব্যবস্থায় কী ব্যবস্থা আছে?

সুদমুক্ত আমানত রাখা ও ঋণ গ্রহণের ব্যবস্থা, যেখানে ব্যবসার লাভ থেকে লভ্যাংশ পরিশোধ করা যায়।

57। ইসলামি অর্থব্যবস্থায় উৎপাদনের লক্ষ্য কী?

হালাল বা ইসলামসম্মত দ্রব্য ও সেবা উৎপাদন নিশ্চিত করা এবং সামাজিক কল্যাণমুখী শোষণহীন উৎপাদন প্রক্রিয়া অনুসরণ করা।

জাতীয় সম্পদ ও অর্থনৈতিক ব্যবস্থা অধ্যায়ের অনুধাবনমূলক প্রশ্ন ও উত্তর

জাতীয় সম্পদের ধারণা, শ্রেণিবিভাগ, উৎস ও সংরক্ষণ

1। স্বাস্থ্যবান শরীর সবসময় সম্পদ নয়, কিন্তু কখনো কখনো সম্পদ হয়ে ওঠে— ব্যাখ্যা করো।

স্বাস্থ্যের উপযোগ ও অপ্রাচুর্য থাকলেও এর সাধারণত বাহ্যিকতা ও হস্তান্তরযোগ্যতা থাকে না বলে একে সম্পদ বলা যায় না, কিন্তু কোনো স্বাস্থ্যবান ব্যক্তি যখন তার শারীরিক সক্ষমতা প্রদর্শন করে অর্থ উপার্জনে সক্ষম হন (যেমন মডেলিং বা খেলাধুলায়), তখন সেই বিশেষ স্বাস্থ্য বাহ্যিকতা ও হস্তান্তরযোগ্যতা অর্জন করে সম্পদে পরিণত হয়।

2। সমষ্টিগত সম্পদ সংরক্ষণে প্রতিটি নাগরিকের বিশেষ দায়িত্ব থাকা প্রয়োজন কেন— ব্যাখ্যা করো।

সমষ্টিগত সম্পদের ওপর সকল নাগরিকের সমান অধিকার থাকে এবং এই সম্পদ ব্যবহার করে রাষ্ট্র জনগণের সার্বিক কল্যাণের ব্যবস্থা করে, কিন্তু এই সম্পদের কোনো একক মালিক না থাকায় ব্যক্তিগত সম্পদের মতো এর প্রতি স্বাভাবিক যত্ন কম থাকতে পারে, তাই সচেতনভাবে সংরক্ষণের দায়িত্ব প্রতিটি নাগরিককে নিতে হয়।

উৎপাদনের উপকরণ ও অর্থনৈতিক ব্যবস্থার ধারণা

3। সংগঠক বা উদ্যোক্তাকে ঝুঁকি বহনকারী বলা হয় কেন— ব্যাখ্যা করো।

সংগঠক ভূমি, শ্রম ও মূলধনকে সমন্বিত করে উৎপাদন প্রক্রিয়া পরিচালনা করেন এবং উৎপাদিত দ্রব্য বাজারে বিক্রি না হলে বা লোকসান হলে সেই আর্থিক ক্ষতির দায়ভার তাকেই বহন করতে হয়, তাই উৎপাদনের অনিশ্চয়তা বা ঝুঁকি মূলত সংগঠকের ওপরই বর্তায়।

ধনতান্ত্রিক ও সমাজতান্ত্রিক অর্থনৈতিক ব্যবস্থা

4। সমাজতান্ত্রিক অর্থব্যবস্থায় আয় বৈষম্য ধনতান্ত্রিক ব্যবস্থার চেয়ে কম কেন— ব্যাখ্যা করো।

সমাজতান্ত্রিক ব্যবস্থায় ব্যক্তিগত মুনাফা অর্জনের সুযোগ নেই এবং রাষ্ট্রই শ্রমিকের মজুরি নির্ধারণ করে যোগ্যতা ও কাজ অনুযায়ী, ফলে ধনতান্ত্রিক ব্যবস্থার মতো পুঁজিপতি কর্তৃক শ্রমিককে বঞ্চিত করে মুনাফা কুক্ষিগত করার সুযোগ থাকে না, তাই সমাজতান্ত্রিক ব্যবস্থায় আয় বৈষম্য তুলনামূলক কম হয়।

5। বাংলাদেশে আয় বৈষম্যের প্রধান কারণ ব্যাখ্যা করো।

বাংলাদেশে অর্থনীতির অধিকাংশ খাত বেসরকারি নিয়ন্ত্রণাধীনে থাকায় ধনতান্ত্রিক ব্যবস্থার বৈশিষ্ট্য অনুযায়ী শ্রমিকরা তাদের ন্যায্য মজুরির তুলনায় কম মজুরি পান, আর উদ্যোক্তারা উচ্চহারে মুনাফা অর্জন করেন, ফলে জাতীয় আয়ের সিংহভাগ অল্পসংখ্যক মানুষের হাতে কেন্দ্রীভূত হয়ে আয় বৈষম্য সৃষ্টি করে।

মিশ্র ও ইসলামি অর্থনৈতিক ব্যবস্থা

6। ইসলামি অর্থব্যবস্থায় যাকাত ধনী-গরিবের বৈষম্য হ্রাসে ভূমিকা রাখে কীভাবে— ব্যাখ্যা করো।

নির্দিষ্ট পরিমাণ সম্পদের অধিকারী ব্যক্তির জন্য যাকাত প্রদান বাধ্যতামূলক, এই যাকাতের অর্থ দরিদ্র জনগণের মধ্যে বণ্টিত হয়, ফলে সম্পদ শুধু ধনীদের হাতে কেন্দ্রীভূত না থেকে সমাজের নিম্ন আয়ের মানুষের কাছেও পৌঁছায়, এভাবে যাকাত ধনী-গরিবের মধ্যকার বৈষম্য হ্রাসে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।

আরও পড়ুন

SSC বাংলাদেশ ও বিশ্বপরিচয়-এর সব পোস্ট

মন্তব্য করুন

Your email address will not be published. Required fields are marked *

সাহায্য লাগবে?
BCS Journey Support
● Online
×
💬Messenger ✈Telegram
BCS JOURNEY
BCS Journey
চ্যাট শুরু করুন ➜