সৌরজগৎ ও ভূমণ্ডল অধ্যায়ের নোট | SSC বাংলাদেশ ও বিশ্বপরিচয়ের ৩য় অধ্যায় “সৌরজগৎ ও ভূমণ্ডল” জ্ঞানমূলক ও অনুধাবনমূলক প্রশ্ন উত্তর নিচে দেওয়া হলো। এই পোস্টে ৬৫টি জ্ঞানমূলক ও ৭টি অনুধাবনমূলক প্রশ্ন ও উত্তর আছে। বহুনির্বাচনি প্রশ্নের জন্য সৌরজগৎ ও ভূমণ্ডল অধ্যায়ের MCQ দেখুন।
সৌরজগৎ ও ভূমণ্ডল অধ্যায়ের জ্ঞানমূলক প্রশ্ন ও উত্তর
পৃথিবীর গতি, দিবা-রাত্রির হ্রাস-বৃদ্ধি ও ঋতু পরিবর্তন
1। পৃথিবীর গতি কয় প্রকার?
দুই প্রকার— আহ্নিক গতি ও বার্ষিক গতি।
2। আহ্নিক গতি কাকে বলে?
পৃথিবী নিজ অক্ষে পশ্চিম থেকে পূর্বদিকে আবর্তন করার গতি, যাতে সময় লাগে ২৩ ঘণ্টা ৫৬ মিনিট ৪ সেকেন্ড।
3। আহ্নিক গতির ফলাফল কী কী?
দিন-রাত সংঘটন, সময় গণনা এবং জোয়ার-ভাটা ও সমুদ্রস্রোতে প্রভাব।
4। ছায়াবৃত্ত কী?
পৃথিবীর আলোকিত ও অন্ধকার অংশের মধ্যবর্তী বৃত্তাকার অংশ।
5। ঊষা ও গোধূলি কী?
প্রভাতের পূর্বে ক্ষীণ আলোর সময় ঊষা এবং সন্ধ্যার পূর্বে ক্ষীণ আলোর সময় গোধূলি।
6। বার্ষিক গতি কাকে বলে?
পৃথিবী উপবৃত্তাকার কক্ষপথে সূর্যের চারদিকে যে পরিক্রমণ করে তাকে বার্ষিক গতি বলে, যা সম্পন্ন হতে ৩৬৫ দিন ৫ ঘণ্টা ৪৮ মিনিট ৪৭ সেকেন্ড লাগে।
7। অধিবর্ষ বা লিপইয়ার কী?
প্রতি চার বছরে একদিন বাড়িয়ে ৩৬৬ দিনে গণনা করা বছর, যেখানে ফেব্রুয়ারি ২৯ দিনে ধরা হয়।
8। অনুসূর ও অপসূর কী?
জানুয়ারির ১-৩ তারিখে সূর্য পৃথিবীর নিকটতম (অনুসূর) এবং জুলাইয়ের ১-৪ তারিখে সবচেয়ে দূরে (অপসূর) থাকে।
9। ২১শে জুন কী ঘটে?
সূর্যরশ্মি কর্কটক্রান্তির (২৩.৫° উত্তর) উপর লম্বভাবে পড়ে, উত্তর গোলার্ধে দীর্ঘতম দিন ও ক্ষুদ্রতম রাত্রি হয়, একে উত্তর অয়নান্ত বলে।
10। ২৩শে সেপ্টেম্বর কী ঘটে?
সূর্যরশ্মি নিরক্ষরেখায় লম্বভাবে পড়ে এবং পৃথিবীর সর্বত্র দিবারাত্রি সমান হয়।
11। ২২শে ডিসেম্বর কী ঘটে?
সূর্যরশ্মি মকরক্রান্তি রেখায় লম্বভাবে পড়ে, দক্ষিণ গোলার্ধে দিন সবচেয়ে বড়ো হয়, একে দক্ষিণ অয়নান্ত বলে।
12। ২১শে মার্চ কী ঘটে ও একে কী বলে?
উভয় মেরু সূর্য থেকে সমান দূরে থাকে ও দিবারাত্রি সমান হয়; একে বাসন্ত বিষুব বলে।
13। সুমেরুবৃত্ত ও কুমেরুবৃত্ত কোন অক্ষাংশে অবস্থিত?
সুমেরুবৃত্ত ৬৬.৫° উত্তর এবং কুমেরুবৃত্ত ৬৬.৫° দক্ষিণ অক্ষাংশে।
14। লম্বভাবে পতিত সূর্যরশ্মি তির্যক রশ্মির চেয়ে বেশি উত্তপ্ত করে কেন?
লম্বভাবে পতিত রশ্মি কম বায়ুস্তর ভেদ করে আসে এবং কম স্থানে কেন্দ্রীভূত হয়, তাই ভূপৃষ্ঠকে অধিক উত্তপ্ত করে।
15। বাংলাদেশের ঋতু পরিবর্তনের সাথে কোন রেখার সম্পর্ক আছে?
কর্কটক্রান্তি রেখা (২৩.৫° উত্তর), যা বাংলাদেশের মাঝামাঝি স্থান দিয়ে অতিক্রম করেছে।
মূল মধ্যরেখা, দ্রাঘিমা, স্থানীয় সময়, প্রমাণ সময় ও আন্তর্জাতিক তারিখ রেখা
16। মূল মধ্যরেখা কাকে বলে?
যুক্তরাজ্যের গ্রিনিচ মানমন্দিরের উপর দিয়ে উত্তর মেরু ও দক্ষিণ মেরু পর্যন্ত বিস্তৃত মধ্যরেখা, যার মান ০ ডিগ্রি।
17। দ্রাঘিমা কাকে বলে?
গ্রিনিচের মূল মধ্যরেখা থেকে পূর্ব বা পশ্চিমে যেকোনো স্থানের কৌণিক দূরত্বকে দ্রাঘিমা বলে।
18। মূল মধ্যরেখা ৩৬০ ডিগ্রিকে কীভাবে ভাগ করেছে?
১৮০ ডিগ্রি পূর্ব ও ১৮০ ডিগ্রি পশ্চিমে সমান দুই ভাগে ভাগ করেছে।
19। অক্ষাংশ ও দ্রাঘিমা উভয়ই ০ ডিগ্রি হয় কোথায়?
গিনি উপসাগরের একটি স্থানে, যেখানে নিরক্ষরেখা ও মূল মধ্যরেখা লম্বভাবে ছেদ করে।
20। স্থানীয় সময় কাকে বলে?
কোনো স্থানের মধ্যরেখা সূর্যের সামনে এসে মধ্যাহ্ন হওয়ার সময় থেকে নির্ধারিত সেই স্থানের সময়কে স্থানীয় সময় বলে।
21। ১ ডিগ্রি ও ১ মিনিট দ্রাঘিমার পার্থক্যে সময়ের পার্থক্য কত?
১ ডিগ্রিতে ৪ মিনিট এবং ১ মিনিটে ৪ সেকেন্ড।
22। পৃথিবী ১ ডিগ্রি ঘুরতে কত সময় নেয়?
৪ মিনিট (২৪ ঘণ্টা বা ১৪৪০ মিনিটকে ৩৬০ দিয়ে ভাগ করে পাওয়া যায়)।
23। প্রমাণ সময় কাকে বলে?
প্রত্যেক দেশের মধ্যভাগের কোনো স্থানের দ্রাঘিমারেখা অনুযায়ী নির্ণীত সময়কে সেই দেশের প্রমাণ সময় বলে।
24। বাংলাদেশের প্রমাণ সময় গ্রিনিচের সময় থেকে কত এগিয়ে?
৬ ঘণ্টা অগ্রবর্তী; ৯০ ডিগ্রি পূর্ব দ্রাঘিমারেখাকে ভিত্তি ধরা হয়।
25। আমেরিকা ও কানাডায় কতটি প্রমাণ সময় আছে?
আমেরিকায় চারটি এবং কানাডায় পাঁচটি প্রমাণ সময় রয়েছে।
26। আন্তর্জাতিক তারিখ রেখা কী?
প্রশান্ত মহাসাগরের জলভাগের উপর ১৮০ ডিগ্রি দ্রাঘিমারেখা বরাবর কল্পিত রেখা, যা অতিক্রম করলে দিন ও তারিখের পরিবর্তন হয়।
27। আন্তর্জাতিক তারিখ রেখা অতিক্রমকালে জাহাজ বা বিমান কী নিয়ম মেনে চলে?
পূর্বগামী হলে একদিন বিয়োগ করে এবং পশ্চিমগামী হলে একদিন যোগ করে তারিখ গণনা করে।
28। আন্তর্জাতিক তারিখ রেখা কোথা দিয়ে গেছে?
সাইবেরিয়ার উত্তর-পূর্ব অংশ, অ্যালুসিয়ান, ফিজি ও চ্যাথাম দ্বীপপুঞ্জের উপর দিয়ে বেঁকে গেছে।
সৌরজগৎ ও গ্রহসমূহ
29। সৌরজগৎ কাকে বলে?
সূর্য এবং এর গ্রহ, উপগ্রহ, গ্রহাণুপুঞ্জ, ধূমকেতু, উল্কা প্রভৃতি নিয়ে যে পরিবার গঠিত হয়েছে তাকে সৌরজগৎ বলে।
30। সৌরজগতে গ্রহের সংখ্যা কত?
৮টি— বুধ, শুক্র, পৃথিবী, মঙ্গল, বৃহস্পতি, শনি, ইউরেনাস ও নেপচুন।
31। সূর্যের ব্যাস ও উপরিভাগের উষ্ণতা কত?
ব্যাস প্রায় ১৩ লক্ষ ৮৪ হাজার কিলোমিটার এবং উপরিভাগের উষ্ণতা ৫৭,০০০ ডিগ্রি সেলসিয়াস।
32। সূর্য কী কী উপাদানে গঠিত?
৫৫ ভাগ হাইড্রোজেন, ৪৪ ভাগ হিলিয়াম এবং ১ ভাগ অন্যান্য গ্যাস।
33। সৌরকলঙ্ক কী?
সূর্যের মধ্যে মাঝে মাঝে যে কালো দাগ দেখা যায়, যেখানে উত্তাপ অন্যান্য অংশের চেয়ে কিছুটা কম থাকে।
34। সূর্য নিজ অক্ষে কত দিনে আবর্তন করে?
প্রায় ২৫ দিনে।
35। বুধ গ্রহের বৈশিষ্ট্য কী?
সৌরজগতের ক্ষুদ্রতম ও সূর্যের নিকটতম গ্রহ, ব্যাস ৪,৮৫০ কিমি, সূর্য প্রদক্ষিণে ৮৮ দিন লাগে, কোনো উপগ্রহ নেই।
36। শুক্র গ্রহকে কী বলা হয় ও কেন?
পৃথিবীর যমজ বা বোনগ্রহ বলা হয়; সন্ধ্যায় সন্ধ্যাতারা ও ভোরে শুকতারা রূপে দেখা যায়।
37। শুক্রের বায়ুমণ্ডলে কার্বন ডাই-অক্সাইডের পরিমাণ কত?
প্রায় শতকরা ৯৬ ভাগ, অক্সিজেন নেই।
38। পৃথিবীর ব্যাস ও সূর্য প্রদক্ষিণের সময় কত?
পূর্ব-পশ্চিমে ব্যাস ১২,৭৫২ কিমি, উত্তর-দক্ষিণে ১২,৭০৯ কিমি; সূর্য প্রদক্ষিণে ৩৬৫ দিন ৫ ঘণ্টা ৪৮ মিনিট ৪৭ সেকেন্ড লাগে।
39। মঙ্গল গ্রহের রং লালচে কেন?
এর পাথরগুলোতে মরিচা পড়েছে বলে গ্রহটি লালচে বর্ণ ধারণ করেছে।
40। মঙ্গলের উপগ্রহ কয়টি ও কী কী?
দুটি— ডিমোস ও ফোবোস।
41। বৃহস্পতি কেন সৌরজগতের সর্ববৃহৎ গ্রহ?
এর আয়তন পৃথিবীর প্রায় ১,৩০০ গুণ এবং এটি সূর্য থেকে দূরত্বের ভিত্তিতে পঞ্চম অবস্থানে থাকা সবচেয়ে বড় গ্রহ।
42। গ্রহাণুপুঞ্জ কী?
মঙ্গল ও বৃহস্পতির মাঝের পরিসরে অসংখ্য ক্ষুদ্র গ্রহাণু পুঞ্জীভূত হয়ে যা পরিক্রমণ করছে।
43। শনি গ্রহের বৈশিষ্ট্য কী?
সৌরজগতের দ্বিতীয় বৃহত্তম গ্রহ, তিনটি উজ্জ্বল বলয় দ্বারা বেষ্টিত, ৬২টি উপগ্রহ আছে।
44। ইউরেনাস ও নেপচুনের মধ্যে পার্থক্য কী?
ইউরেনাস সূর্যকে ৮৪ বছরে ও নেপচুন ১৬৫ বছরে প্রদক্ষিণ করে; নেপচুন অনেক বেশি দূরে ও শীতল।
পৃথিবীতে জীব বসবাসের কারণ ও ভূ-অভ্যন্তরের গঠন
45। বায়ুমণ্ডল কী?
পৃথিবীকে বেষ্টনকারী অদৃশ্য গ্যাসীয় আবরণ, যা মাধ্যাকর্ষণ শক্তির আকর্ষণে ভূপৃষ্ঠের সঙ্গে লেপ্টে আছে।
46। ট্রপোমণ্ডল কী?
ভূপৃষ্ঠ সংলগ্ন বায়ুমণ্ডলের সর্বনিম্ন স্তর, গড় গভীরতা প্রায় ১৩ কিমি, যেখানে আর্দ্রতা-মেঘ-বৃষ্টি ঘটে।
47। ওজোন স্তর কী?
বায়ুমণ্ডলে থাকা ওজোন গ্যাসের একটি স্তর, গভীরতা ১২-১৬ কিমি, যা সূর্যের অতিবেগুনি রশ্মি শোষণ করে পৃথিবীকে বসবাসযোগ্য করে।
48। পৃথিবীর গড় তাপমাত্রা কত?
১৩.৯০° সেলসিয়াস।
49। ভূতত্ত্ববিদগণ ভূঅভ্যন্তরকে কয়টি স্তরে ভাগ করেছেন?
তিনটি স্তরে— কেন্দ্রমণ্ডল, গুরুমণ্ডল ও অশ্মমণ্ডল।
50। কেন্দ্রমণ্ডল কী দিয়ে গঠিত?
লৌহ, নিকেল, পারদ, সীসা প্রভৃতি কঠিন ও ভারী পদার্থ; নিকেল-লৌহের আধিক্যে একে নাইফ (Nife) বলে।
51। কেন্দ্রমণ্ডল কয়টি অংশে বিভক্ত?
দুটি অংশে— বাইরের অংশ (তরল) ও ভিতরের অংশ (কঠিন)।
52। গুরুমণ্ডল কী দিয়ে গঠিত?
সিলিকন ও ম্যাগনেসিয়াম দ্বারা গঠিত, তাই একে সিমা (Sima) বলে।
53। অশ্মমণ্ডল কী দিয়ে গঠিত ও একে কী বলে?
অক্সিজেন, সিলিকন, অ্যালুমিনিয়াম প্রভৃতি দিয়ে গঠিত; সিলিকন-অ্যালুমিনিয়ামের আধিক্যে একে সিয়াল (Sial) বলে।
54। ভূত্বকের গভীরতা কত?
৩ কিমি (সমুদ্রের তলদেশ) থেকে ৪০ কিমি (পর্বতের তলদেশ), গড় গভীরতা ১৭ কিমি।
জোয়ার-ভাটা
55। জোয়ার ও ভাটা কাকে বলে?
সমুদ্রের পানি নিয়মিতভাবে ফুলে ওঠাকে জোয়ার এবং নেমে যাওয়াকে ভাটা বলে।
56। জোয়ার-ভাটা কত সময় পর পর হয়?
প্রতি ৬ ঘণ্টা ১৩ মিনিট পর পর।
57। জোয়ার-ভাটার প্রধান কারণ কী?
পৃথিবীর আবর্তনের ফলে সৃষ্ট কেন্দ্রাতিগ শক্তি ও চন্দ্র-সূর্যের আকর্ষণ।
58। মহাকর্ষ ও মাধ্যাকর্ষণের পার্থক্য কী?
মহাবিশ্বের দুই বস্তুর মধ্যে আকর্ষণ মহাকর্ষ, আর পৃথিবী ও এর নিকটবর্তী বস্তুর মধ্যকার আকর্ষণ মাধ্যাকর্ষণ।
59। পৃথিবীর ওপর চন্দ্রের আকর্ষণ সূর্যের চেয়ে বেশি কেন?
সূর্য চন্দ্রের চেয়ে ২.৬০ কোটি গুণ বড়ো হলেও দূরত্ব অনেক বেশি হওয়ায় চন্দ্রের আকর্ষণ সূর্যের প্রায় দ্বিগুণ।
60। জোয়ার-ভাটা কয় শ্রেণিতে বিভক্ত?
চার শ্রেণিতে— মুখ্য জোয়ার, গৌণ জোয়ার, ভরা কোটাল ও মরা কোটাল।
61। তেজ কোটাল বা ভরা কোটাল কখন হয়?
অমাবস্যা ও পূর্ণিমা তিথিতে, যখন চন্দ্র ও সূর্য সমসূত্রে থাকে ও উভয়ের মিলিত আকর্ষণে প্রবল জোয়ার হয়।
62। মরা কটাল কখন হয়?
সপ্তমী ও অষ্টমী তিথিতে, যখন চন্দ্র ও সূর্য পৃথিবীর সমকোণে থাকায় জোয়ারের বেগ কম হয়।
63। জোয়ার-ভাটার অর্থনৈতিক প্রভাব কী?
নদীর আবর্জনা পরিষ্কার হয়, জলবিদ্যুৎ উৎপাদন হয়, সেচকাজে ব্যবহৃত হয় এবং সমুদ্রগামী জাহাজ নদীতে প্রবেশ করতে পারে।
64। বান (Tidal Bore) কী?
ভরা কটালের সময় সমুদ্রের পানি প্রবল তরঙ্গে নদীর মোহনা দিয়ে স্থলভাগে প্রবেশ করে যে বন্যা সৃষ্টি করে, যার উচ্চতা ৩/৪ ফুট থেকে ৪০ ফুট পর্যন্ত হতে পারে।
65। মুখ্য জোয়ার ও গৌণ জোয়ার কী?
প্রতিদিন একটি স্থানে দুইবার জোয়ার হয়, তুলনামূলক বড়টি মুখ্য জোয়ার ও ছোটটি গৌণ জোয়ার নামে পরিচিত।
সৌরজগৎ ও ভূমণ্ডল অধ্যায়ের অনুধাবনমূলক প্রশ্ন ও উত্তর
পৃথিবীর গতি, দিবা-রাত্রির হ্রাস-বৃদ্ধি ও ঋতু পরিবর্তন
1। প্রতি চার বছর পর পর অধিবর্ষ গণনা করা হয় কেন— ব্যাখ্যা করো।
পৃথিবীর সূর্য প্রদক্ষিণে প্রকৃত সময় লাগে ৩৬৫ দিন ৫ ঘণ্টা ৪৮ মিনিট ৪৭ সেকেন্ড, কিন্তু হিসাবের সুবিধার জন্য বছরকে ৩৬৫ দিনে ধরা হয়; এই বাদ পড়া প্রায় ৬ ঘণ্টা করে চার বছরে জমে প্রায় একদিন হয়ে যায়, তাই এই ঘাটতি পূরণ করতে প্রতি চার বছর পর পর একদিন যোগ করে অধিবর্ষ গণনা করা হয়।
2। তির্যকভাবে পতিত সূর্যরশ্মি ভূপৃষ্ঠকে কম উত্তপ্ত করে কেন— ব্যাখ্যা করো।
তির্যক রশ্মি লম্ব রশ্মির তুলনায় অধিক বায়ুস্তর ভেদ করে আসে এবং একই পরিমাণ শক্তি বৃহত্তর ভূপৃষ্ঠের এলাকা জুড়ে ছড়িয়ে পড়ে, ফলে একক এলাকায় প্রাপ্ত তাপের পরিমাণ কমে যায়, তাই তির্যক রশ্মি ভূপৃষ্ঠকে কম উত্তপ্ত করে।
মূল মধ্যরেখা, দ্রাঘিমা, স্থানীয় সময়, প্রমাণ সময় ও আন্তর্জাতিক তারিখ রেখা
3। পৃথিবীর বিভিন্ন স্থানে স্থানীয় সময় ভিন্ন হয় কেন— ব্যাখ্যা করো।
পৃথিবী গোলাকার হওয়ায় এবং নিজ অক্ষে পশ্চিম থেকে পূর্বে আবর্তন করার ফলে ভূপৃষ্ঠের বিভিন্ন স্থান ভিন্ন ভিন্ন সময়ে সূর্যের সামনে উপস্থিত হয়, ফলে প্রতিটি স্থানে সূর্য যখন মাথার উপর আসে তখনই সেই স্থানে মধ্যাহ্ন হয়, এই কারণেই বিভিন্ন দ্রাঘিমার স্থানে স্থানীয় সময় ভিন্ন হয়।
4। আন্তর্জাতিক তারিখ রেখা প্রশান্ত মহাসাগরের জলভাগে স্থাপন করা হয়েছে কেন— ব্যাখ্যা করো।
১৮০ ডিগ্রি দ্রাঘিমারেখা সরলভাবে কোনো জনবহুল স্থলভাগ দিয়ে গেলে একই এলাকায় একদিনের ব্যবধানে দুই তারিখ থাকার বিভ্রান্তি তৈরি হতো, তাই স্থানীয় জনজীবনে অসুবিধা এড়াতে রেখাটিকে জলভাগের উপর দিয়ে বাঁকিয়ে নেওয়া হয়েছে।
সৌরজগৎ ও গ্রহসমূহ
5। শুক্রকে পৃথিবীর বোনগ্রহ বলা হয় কেন কিন্তু এতে জীবন সম্ভব নয় কেন— ব্যাখ্যা করো।
আকার ও গঠনে পৃথিবীর সাথে সাদৃশ্যপূর্ণ হওয়ায় শুক্রকে বোনগ্রহ বলা হলেও এর বায়ুমণ্ডলে ৯৬ ভাগ কার্বন ডাই-অক্সাইড, কোনো অক্সিজেন নেই, প্রবল বায়ুচাপ ও অ্যাসিড বৃষ্টি হয়, তাই জীবনের অস্তিত্বের জন্য প্রয়োজনীয় শর্তগুলো এখানে অনুপস্থিত।
পৃথিবীতে জীব বসবাসের কারণ ও ভূ-অভ্যন্তরের গঠন
6। ওজোন স্তর পৃথিবীকে বসবাসযোগ্য করে তোলে কীভাবে— ব্যাখ্যা করো।
ওজোন স্তর সূর্যের ক্ষতিকর অতিবেগুনি রশ্মি শোষণ করে নেয়, ফলে এই ক্ষতিকর রশ্মি ভূপৃষ্ঠে পৌঁছাতে পারে না এবং জীবজগৎ সূর্যের বিকিরণজনিত ক্ষতি থেকে রক্ষা পায়, তাই ওজোন স্তরকে পৃথিবীর প্রাণিজগতের বাস উপযোগী করার জন্য অপরিহার্য বলা হয়।
জোয়ার-ভাটা
7। বাংলাদেশের চট্টগ্রাম ও মংলা বন্দরে জাহাজ চলাচলে জোয়ার-ভাটার গুরুত্ব ব্যাখ্যা করো।
জোয়ারের সময় নদীর পানির গভীরতা বৃদ্ধি পায়, ফলে সমুদ্রগামী বড় বড় জাহাজ সহজেই নদীতে প্রবেশ করতে পারে এবং ভাটার টানে আবার সমুদ্রে ফিরে যেতে পারে, তাই বন্দরে জাহাজ চলাচল অনেকাংশে জোয়ার-ভাটার ওপর নির্ভরশীল।
