বাংলাদেশ সরকারের অর্থ ও ব্যাংক ব্যবস্থা অধ্যায়ের নোট | SSC বাংলাদেশ ও বিশ্বপরিচয়ের ১২তম অধ্যায় “বাংলাদেশ সরকারের অর্থ ও ব্যাংক ব্যবস্থা” জ্ঞানমূলক ও অনুধাবনমূলক প্রশ্ন উত্তর নিচে দেওয়া হলো। এই পোস্টে ৪৫টি জ্ঞানমূলক ও ৬টি অনুধাবনমূলক প্রশ্ন ও উত্তর আছে। বহুনির্বাচনি প্রশ্নের জন্য বাংলাদেশ সরকারের অর্থ ও ব্যাংক ব্যবস্থা অধ্যায়ের MCQ দেখুন।
বাংলাদেশ সরকারের অর্থ ও ব্যাংক ব্যবস্থা অধ্যায়ের জ্ঞানমূলক প্রশ্ন ও উত্তর
বাণিজ্যিক ব্যাংকের কার্যাবলি ও দারিদ্র্য বিমোচনে ব্যাংকের ভূমিকা
1। বাণিজ্যিক ব্যাংকের প্রধান কাজ কী?
জনসাধারণের কাছ থেকে আমানত গ্রহণ করা।
2। ব্যাংকের আমানত কয় প্রকার?
তিন প্রকার— চলতি, সঞ্চয়ী ও স্থায়ী আমানত।
3। চলতি আমানত কী?
যেকোনো সময় তোলা যায় এমন আমানত, যার জন্য কোনো সুদ প্রদান করা হয় না।
4। স্থায়ী আমানত কী?
নির্দিষ্ট সময় অতিক্রান্ত হওয়ার পর তোলা যায় এমন আমানত, যাতে উচ্চ হারে সুদ প্রদান করা হয়।
5। বাণিজ্যিক ব্যাংক কীভাবে বিনিময়ের মাধ্যম সৃষ্টি করে?
চেক, ব্যাংক ড্রাফট, হুন্ডি, ভ্রমণকারীর ঋণপত্র ইত্যাদির মাধ্যমে।
6। বাট্টা (Discount) কী?
মেয়াদ উত্তীর্ণ হওয়ার আগে বিনিময় বিল ভাঙিয়ে নগদ টাকা দেওয়ার সময় ব্যাংক যে চার্জ ধার্য করে।
7। বাণিজ্যিক ব্যাংক গ্রাহকদের কী কী সেবা দেয়?
বন্ড-স্টক-শেয়ার ক্রয়-বিক্রয়, বাড়িভাড়া-আয়কর-বিমা প্রিমিয়াম পরিশোধে সহায়তা, মূল্যবান জিনিস নিরাপদে গচ্ছিত রাখা।
8। স্বকর্মসংস্থান কী?
কর্মক্ষম মানুষ বেকারত্ব থেকে মুক্ত হয়ে নিজ উদ্যোগে উৎপাদন বা আয় অর্জনের ক্ষেত্রে নিয়োজিত থাকা।
9। বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক কীভাবে গঠিত হয়?
স্বাধীনতার পরপরই সাবেক কৃষি উন্নয়ন ব্যাংকের সকল দায় ও সম্পদ নিয়ে গঠিত হয়।
10। বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক কী কী কাজের জন্য ঋণ দেয়?
হালের বলদ, বীজ-সার, কৃষি যন্ত্রপাতি, সেচের পাম্প এবং হাঁস-মুরগি ও পশু পালন, মৎস্য উৎপাদনের জন্য।
11। কৃষি ও পল্লী ঋণ খাতে কত শতাংশ দারিদ্র্য বিমোচনের জন্য নির্ধারিত রাখতে হয়?
ন্যূনতম শতকরা ২৫ ভাগ।
12। গ্রামীণ ব্যাংকের প্রতিষ্ঠাতা কে?
বাংলাদেশের নোবেল বিজয়ী অর্থনীতিবিদ প্রফেসর ড. মোহাম্মদ ইউনুস।
13। গ্রামীণ ব্যাংক কাদের ঋণ দেয়?
পল্লীর ভূমিহীন নারী ও পুরুষদের বিনা জামানতে ক্ষুদ্র ঋণ প্রদান করে।
14। গ্রামীণ ব্যাংকের ঋণদান পদ্ধতির বৈশিষ্ট্য কী?
গোষ্ঠীগত দায়বদ্ধতার মাধ্যমে বিনা জামানতে ঋণ প্রদান করে।
15। গ্রামীণ ব্যাংক নারীর ক্ষমতায়নে কী ভূমিকা রাখে?
নারীর আর্থিক সক্ষমতা বৃদ্ধির মাধ্যমে পরিবার, সমাজ ও রাষ্ট্রে নারীর অবস্থানকে শক্তিশালী করে।
ব্যাংকের ধারণা, শ্রেণিবিভাগ ও কেন্দ্রীয় ব্যাংকের কার্যাবলি
16। ব্যাংক কী?
জনসাধারণের অর্থ গচ্ছিত রাখার এবং ঋণ গ্রহীতাদের বিভিন্ন মেয়াদি ঋণ প্রদান করার প্রতিষ্ঠান।
17। ব্যাংককে কেন ঋণের কারবারি বলা হয়?
সঞ্চিত অর্থে দেওয়া সুদ ও ঋণে নেওয়া সুদের পার্থক্যই ব্যাংকের মুনাফা, এই মুনাফার ওপর ভিত্তি করেই ব্যাংক টিকে থাকে।
18। ব্যাংককে কয় শ্রেণিতে ভাগ করা হয়?
তিন শ্রেণিতে— কেন্দ্রীয় ব্যাংক, বাণিজ্যিক ব্যাংক ও বিশেষ আর্থিক প্রতিষ্ঠান।
19। বাংলাদেশের কেন্দ্রীয় ব্যাংকের নাম কী?
বাংলাদেশ ব্যাংক।
20। বাংলাদেশের কয়েকটি বাণিজ্যিক ব্যাংকের নাম বল।
সোনালী ব্যাংক, জনতা ব্যাংক, অগ্রণী ব্যাংক, রূপালী ব্যাংক, উত্তরা ব্যাংক, ইসলামী ব্যাংক।
21। বিশেষ আর্থিক প্রতিষ্ঠানের উদাহরণ দাও।
শিল্প ব্যাংক, কৃষি ব্যাংক, গৃহনির্মাণ ঋণদান সংস্থা, সমবায় ব্যাংক, গ্রামীণ ব্যাংক।
22। কেন্দ্রীয় ব্যাংকের প্রধান কাজ কী?
কাগজি মুদ্রার প্রচলন ও মুদ্রাব্যবস্থা স্থিতিশীল রাখা।
23। কেন্দ্রীয় ব্যাংক কর্তৃক ইস্যুকৃত মুদ্রাকে কী বলে?
বিহিত মুদ্রা।
24। কেন্দ্রীয় ব্যাংককে কেন সরকারের ব্যাংক বলা হয়?
সরকারের প্রতিনিধি হিসেবে বিনা খরচে সরকারের পাওনা আদায় ও দেনা পরিশোধ করে এবং সরকারকে ঋণ ও আর্থিক পরামর্শ দেয়।
25। কেন্দ্রীয় ব্যাংককে কেন সকল ব্যাংকের ব্যাংক বলা হয়?
অন্যান্য ব্যাংককে তাদের মূলধনের নির্দিষ্ট অংশ কেন্দ্রীয় ব্যাংকে জমা রাখতে হয় এবং এই জমার পরিমাণ পরিবর্তন করে কেন্দ্রীয় ব্যাংক বাণিজ্যিক ব্যাংকের ঋণদান ক্ষমতা নিয়ন্ত্রণ করে।
26। কেন্দ্রীয় ব্যাংককে কেন সর্বশেষ পর্যায়ের ঋণদাতা বলা হয়?
বাণিজ্যিক ব্যাংক আর্থিক সংকটে অন্য কোনো উৎস থেকে ঋণ না পেলে কেন্দ্রীয় ব্যাংক তাদের ঋণ দিয়ে রক্ষা করে।
27। কেন্দ্রীয় ব্যাংককে কেন নিকাশঘর বলা হয়?
বিভিন্ন বাণিজ্যিক ব্যাংকের পারস্পরিক দেনা-পাওনা চেকের মাধ্যমে মিটিয়ে দেওয়ার দায়িত্ব পালন করে বলে।
28। কেন্দ্রীয় ব্যাংক বিনিময় হার সংক্রান্ত কী কাজ করে?
অন্যান্য দেশের মুদ্রার সাথে দেশের মুদ্রার নির্দিষ্ট বিনিময় হার রক্ষার জন্য বৈদেশিক মুদ্রা ক্রয়-বিক্রয় করে।
সরকারি অর্থব্যবস্থা, কর রাজস্ব ও ব্যয়ের খাত
29। অধ্যাপক হাগ ডালটনের মতে সরকারি অর্থব্যবস্থা কী?
সরকারের আয়ব্যয় এবং এদের একটির সঙ্গে অপরটির সমন্বয় বিধানের কার্যাবলি আলোচনা করে।
30। বাংলাদেশ সরকারের আয়ের উৎস কয় ভাগে বিভক্ত?
দুই ভাগে— কর রাজস্ব ও কর-বহির্ভূত রাজস্ব।
31। বাণিজ্য শুল্ক কী?
দেশের আমদানি ও রপ্তানিকৃত দ্রব্যের ওপর ধার্যকৃত কর, যা সরকারের আয়ের প্রধান উৎস।
32। আবগারি শুল্ক কী?
দেশের অভ্যন্তরে উৎপাদিত ও ব্যবহৃত দ্রব্যের ওপর ধার্যকৃত কর, যেমন চা, সিগারেট, তামাক।
33। আয়কর কী?
জনসাধারণের ব্যক্তিগত আয়ের ওপর ধার্যকৃত কর, যা একটি নির্দিষ্ট সীমার ঊর্ধ্বে প্রগতিশীল হারে আদায় করা হয়।
34। মূল্য সংযোজন কর বা ভ্যাট কী?
আমদানিকৃত ও স্থানীয়ভাবে উৎপাদিত দ্রব্য এবং নির্ধারিত সেবাখাতের ওপর আরোপিত কর।
35। সম্পূরক শুল্ক কী?
আমদানি শুল্ক বা আবগারি শুল্ক বা ভ্যাট আরোপের পরও অতিরিক্ত যে শুল্ক আরোপ করা হয়।
36। ভূমি রাজস্ব কী?
ভূমি ভোগ দখলের জন্য সরকারকে প্রদত্ত খাজনা; সরকার ২৫ বিঘা পর্যন্ত জমির খাজনা মওকুফ করে।
37। যানবাহন কর কী?
বিভিন্ন প্রকার যানবাহন নিবন্ধনের জন্য প্রদত্ত কর।
38। কর-বহির্ভূত রাজস্ব কী?
কর ও শুল্ক ছাড়া অন্যান্য উৎস থেকে অর্জিত রাজস্ব, যেমন লভ্যাংশ-মুনাফা, সুদ, রেলওয়ে, ডাক বিভাগ।
39। টোল ও লেভির পার্থক্য কী?
টোল হলো ব্রিজ-সেতু-ঘাট থেকে সেবা বাবদ আদায়কৃত রাজস্ব, আর লেভি হলো বিশেষ সময়ে আরোপিত বিশেষ রাজস্ব, যেমন পদ্মা সেতু সংশ্লিষ্ট রাজস্ব।
40। বাংলাদেশ সরকারের ব্যয়ের প্রধান খাত কোনটি?
প্রতিরক্ষা— সেনা-নৌ-বিমান বাহিনীর বেতন-ভাতা ও অস্ত্রশস্ত্র ক্রয়ে ব্যয়।
41। সরকারের শিক্ষাখাতে ব্যয়ের উদাহরণ কী কী?
অনুদান, উপবৃত্তি, বিনামূল্যে পাঠ্যপুস্তক প্রদান ও শিক্ষক প্রশিক্ষণ।
42। সরকারকে ঋণ ও সুদ পরিশোধে কেন ব্যয় করতে হয়?
উন্নয়নমূলক কাজের জন্য অভ্যন্তরীণ ও বৈদেশিক উৎস থেকে গৃহীত ঋণের আসল ও সুদ পরিশোধের জন্য।
43। বাংলাদেশ সরকারের সামাজিক নিরাপত্তা খাতে ব্যয় কী কী?
বৃদ্ধ, বিধবা ও প্রতিবন্ধী ভাতা প্রদান।
44। অপ্রত্যাশিত ব্যয় কী?
বন্যা, ঘূর্ণিঝড়, খরা, মহামারির মতো প্রাকৃতিক দুর্যোগ মোকাবিলার জন্য ব্যয়।
45। সরকারি ব্যয় ব্যবস্থাপনায় গুরুত্বপূর্ণ বিষয় কী?
উৎপাদনশীল খাতে ব্যয় বৃদ্ধি করা এবং অনুৎপাদনশীল খাতে ব্যয় নিয়ন্ত্রণে রাখা।
বাংলাদেশ সরকারের অর্থ ও ব্যাংক ব্যবস্থা অধ্যায়ের অনুধাবনমূলক প্রশ্ন ও উত্তর
বাণিজ্যিক ব্যাংকের কার্যাবলি ও দারিদ্র্য বিমোচনে ব্যাংকের ভূমিকা
1। স্থায়ী আমানতে সঞ্চয়ী আমানতের চেয়ে বেশি সুদ দেওয়া হয় কেন— ব্যাখ্যা করো।
স্থায়ী আমানতে গচ্ছিত অর্থ একটি নির্দিষ্ট মেয়াদ পর্যন্ত ব্যাংকে আটকে থাকে, ফলে ব্যাংক এই অর্থ দীর্ঘ সময় ধরে বিনিয়োগ বা ঋণদানে ব্যবহার করে বেশি মুনাফা অর্জন করতে পারে, কিন্তু সঞ্চয়ী আমানত থেকে ঘন ঘন টাকা তোলা যায় বলে ব্যাংক তা দীর্ঘমেয়াদি বিনিয়োগে ব্যবহার করতে পারে না, তাই স্থায়ী আমানতে অপেক্ষাকৃত বেশি সুদ দেওয়া হয়।
2। গ্রামীণ ব্যাংক একটি ব্যতিক্রমধর্মী ব্যাংক হিসেবে পরিচিত কেন— ব্যাখ্যা করো।
প্রচলিত ব্যাংকগুলো ঋণ দেওয়ার সময় জামানত দাবি করে, কিন্তু গ্রামীণ ব্যাংক ভূমিহীন দরিদ্র নারী-পুরুষদের কোনো জামানত ছাড়াই শুধু গোষ্ঠীগত দায়বদ্ধতার ভিত্তিতে ক্ষুদ্র ঋণ প্রদান করে, এই ব্যতিক্রমী পদ্ধতির মাধ্যমে দরিদ্রদের গ্রামীণ মহাজনদের শোষণ থেকে রক্ষা করে স্বকর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি করে, তাই গ্রামীণ ব্যাংককে ব্যতিক্রমধর্মী ব্যাংক বলা হয়।
ব্যাংকের ধারণা, শ্রেণিবিভাগ ও কেন্দ্রীয় ব্যাংকের কার্যাবলি
3। ব্যাংককে ঋণের কারবারি বলার যৌক্তিকতা ব্যাখ্যা করো।
ব্যাংক জনগণের কাছ থেকে স্বল্প সুদে আমানত সংগ্রহ করে এবং সেই অর্থ উদ্যোক্তা-ব্যবসায়ীদের কাছে অপেক্ষাকৃত বেশি সুদে ঋণ হিসেবে প্রদান করে, এই সুদের হারের পার্থক্যই ব্যাংকের মূল মুনাফার উৎস এবং এই মুনাফার ভিত্তিতেই ব্যাংক টিকে থাকে, তাই ব্যাংককে ঋণের কারবারি বলা যথাযথ।
4। কেন্দ্রীয় ব্যাংককে সর্বশেষ পর্যায়ের ঋণদাতা বলা হয় কেন— ব্যাখ্যা করো।
বাণিজ্যিক ব্যাংক যখন আর্থিক সংকটে পড়ে এবং অন্য কোনো উৎস থেকে ঋণ পেতে ব্যর্থ হয়, তখন একমাত্র কেন্দ্রীয় ব্যাংকই তাদের প্রয়োজনীয় ঋণ দিয়ে সংকট থেকে রক্ষা করে, অন্য কোনো বিকল্প উৎস না থাকায় কেন্দ্রীয় ব্যাংকই শেষ ভরসাস্থল হিসেবে কাজ করে, তাই একে সর্বশেষ পর্যায়ের ঋণদাতা বলা হয়।
সরকারি অর্থব্যবস্থা, কর রাজস্ব ও ব্যয়ের খাত
5। আয়করে প্রগতিশীল হার প্রয়োগ করা হয় কেন— ব্যাখ্যা করো।
প্রগতিশীল হারে আয়কর ধার্য করলে বেশি আয়ের ব্যক্তিরা বেশি হারে এবং কম আয়ের ব্যক্তিরা কম হারে কর প্রদান করে, এতে করের বোঝা আর্থিক সামর্থ্য অনুযায়ী সুষমভাবে বণ্টিত হয় এবং আয় বৈষম্য কিছুটা হ্রাস পায়, তাই আয়করে প্রগতিশীল হার প্রয়োগ করা হয়।
6। প্রতিরক্ষা খাতে সরকারের ব্যয় ক্রমাগত বৃদ্ধি পাচ্ছে কেন— ব্যাখ্যা করো।
দেশের সার্বভৌমত্ব ও নিরাপত্তা রক্ষার জন্য আধুনিক অস্ত্রশস্ত্র ও প্রশিক্ষিত জনবল প্রয়োজন, আন্তর্জাতিক পরিস্থিতির পরিবর্তনের সাথে তাল মিলিয়ে প্রতিরক্ষা বাহিনীকে আধুনিকায়ন করতে হয়, তাই প্রতিরক্ষা খাতে সরকারের ব্যয় ক্রমাগত বৃদ্ধি পাচ্ছে।
