● SSC বাংলাদেশ ও বিশ্বপরিচয়

বাংলাদেশের নদ-নদী ও প্রাকৃতিক সম্পদ অধ্যায়ের নোট | জ্ঞানমূলক ও অনুধাবনমূলক প্রশ্ন উত্তর

বাংলাদেশের নদ-নদী ও প্রাকৃতিক সম্পদ অধ্যায়ের নোট | SSC বাংলাদেশ ও বিশ্বপরিচয়ের ৫ম অধ্যায় “বাংলাদেশের নদ-নদী ও প্রাকৃতিক সম্পদ” জ্ঞানমূলক ও অনুধাবনমূলক প্রশ্ন উত্তর নিচে দেওয়া হলো। এই পোস্টে ৫৪টি জ্ঞানমূলক ও ৭টি অনুধাবনমূলক প্রশ্ন ও উত্তর আছে। বহুনির্বাচনি প্রশ্নের জন্য বাংলাদেশের নদ-নদী ও প্রাকৃতিক সম্পদ অধ্যায়ের MCQ দেখুন।

বাংলাদেশের নদ-নদী ও প্রাকৃতিক সম্পদ অধ্যায়ের জ্ঞানমূলক প্রশ্ন ও উত্তর

পানিসম্পদ ব্যবস্থাপনা ও বনভূমির শ্রেণিবিভাগ

1। পানি ব্যবস্থাপনা কী?

পানির পরিকল্পিত প্রাপ্যতা ও ব্যবহারকে পানি ব্যবস্থাপনা বলে।

2। স্বাধীনতার পঞ্চাশ বছরে জনসংখ্যা ও খাদ্যোৎপাদনের পরিবর্তন কেমন?

জনসংখ্যা দ্বিগুণের বেশি বেড়েছে এবং খাদ্যোৎপাদন তিন গুণ বৃদ্ধি পেয়েছে।

3। পানি ব্যবস্থাপনায় গৃহীত পদক্ষেপগুলোর মধ্যে গুরুত্বপূর্ণ কী কী?

পরিবেশ সংরক্ষণ, পানির সদ্ব্যবহার, নাব্যতা সংকট দূরীকরণ, নদী দখল ও দূষণ রোধ।

4। লবণাক্ততা সমস্যা সমাধানে কী করণীয়?

উজান থেকে স্বাদু পানির প্রবাহ নিশ্চিত করতে হবে এবং অভিন্ন নদী কমিশনকে কার্যকর করতে হবে।

5। অভিন্ন নদী কমিশনের ভূমিকা কী?

আন্তর্জাতিক কনভেনশন অনুযায়ী বাংলাদেশের হিস্যা আদায়ে ভূমিকা রাখা।

6। সংযোগ খাল ও রিজার্ভার খননের উপকারিতা কী?

শুষ্ক মৌসুমে খাদ্য উৎপাদনে প্রয়োজনীয় পানির চাহিদা পূরণ এবং মাছ চাষ-প্রজনন স্বাভাবিক রাখা।

7। বাংলাদেশে বনভূমির পরিমাণ কত ও আদর্শ পরিমাণ কত হওয়া উচিত?

বর্তমানে মাত্র ১৭%, কিন্তু একটি দেশের মোট আয়তনের ২০-২৫ শতাংশ বনভূমি থাকা প্রয়োজন।

8। বাংলাদেশের বন এলাকাকে কয় ভাগে ভাগ করা যায়?

চার ভাগে— চট্টগ্রামের বনাঞ্চল, সিলেটের বন, সুন্দরবন ও ঢাকা-টাঙ্গাইল-ময়মনসিংহ অঞ্চলের বনভূমি।

9। উদ্ভিদের বৈশিষ্ট্য অনুসারে বনাঞ্চল কয় ভাগে বিভক্ত?

তিন ভাগে— ক্রান্তীয় চিরহরিৎ ও পত্রপতনশীল বনভূমি, ক্রান্তীয় পাতাঝরা বনভূমি ও স্রোতজ (ম্যানগ্রোভ) বনভূমি।

10। ক্রান্তীয় চিরহরিৎ বনভূমির উল্লেখযোগ্য গাছ কী কী?

চাপালিশ, ময়না, তেলসুর, মেহগনি, জারুল, সেগুন, গর্জন।

11। পত্রপতনশীল বনভূমিকে শালবন বলা হয় কেন?

এ বনভূমিতে প্রধানত শালগাছ প্রধান বৃক্ষ, তাই একে শালবন বলা হয়।

12। মধুপুর ভাওয়াল বনভূমি কোথায় অবস্থিত?

ময়মনসিংহ, টাঙ্গাইল ও গাজীপুরে।

13। স্রোতজ বা গরান বনভূমি কোথায় দেখা যায়?

সাতক্ষীরা, খুলনা, বাগেরহাট, বরগুনা এবং নোয়াখালী-চট্টগ্রামের উপকূলে; প্রধানত সুন্দরবনে।

14। সুন্দরবনের উল্লেখযোগ্য গাছ কী কী?

সুন্দরী, গেওয়া, পশুর, ধুন্দল, কেওড়া, বাইন, গরান, গোলপাতা।

প্রাকৃতিক সম্পদ: ধারণা, দক্ষিণ এশিয়ার তুলনা ও অর্থনৈতিক গুরুত্ব

15। প্রাকৃতিক সম্পদ কাকে বলে?

প্রকৃতি থেকে প্রাপ্ত সম্পদকে প্রাকৃতিক সম্পদ বলে, যেমন মাটি, পানি, বনভূমি, সৌরতাপ, মৎস্য, খনিজ।

16। বাংলাদেশে কোন কোন কৃষিজ পণ্যের উৎপাদন ব্যাপক?

ধান, আলু ও পাট।

17। নেপালে শস্য উৎপাদন সীমিত হয় কেন?

হিমালয়ের পাদদেশে অবস্থানের কারণে।

18। বাংলাদেশ, ভারত ও মিয়ানমারের কোন অঞ্চলে চিরহরিৎ অরণ্য দেখা যায়?

বাংলাদেশের পার্বত্য চট্টগ্রাম, ভারতের পূর্বাঞ্চল ও মিয়ানমারের উত্তরাঞ্চলে।

19। বাংলাদেশের কোথায় গ্যাস ও তেল পাওয়া গেছে?

পূর্বাঞ্চলীয় পাহাড়ি জেলাসমূহে এবং উত্তরাঞ্চলে কয়লা ও চুনাপাথর পাওয়া গেছে।

20। খনিজসম্পদে দক্ষিণ এশিয়ার দেশগুলোর মধ্যে কোন দেশ এগিয়ে ও কোনটি পিছিয়ে?

ভারত খনিজসম্পদে সবচেয়ে সমৃদ্ধ এবং নেপাল তুলনামূলকভাবে পিছিয়ে আছে।

21। দক্ষিণ এশিয়ার দেশগুলো প্রচুর সৌরশক্তি পায় কেন?

নিরক্ষীয় বা ক্রান্তীয় অঞ্চলে অবস্থিত হওয়ায় সূর্য প্রায় সবসময় লম্বভাবে কিরণ দেয়।

22। বাংলাদেশের অর্থনীতিতে গুরুত্বপূর্ণ প্রাকৃতিক সম্পদগুলো কী কী?

ভূমি, বনভূমি, মৎস্য, খনিজ পদার্থ, সৌরতাপ, প্রাকৃতিক জলাশয়।

23। মাটিকে কেন গুরুত্বপূর্ণ সম্পদ বলা হয়?

অত্যন্ত উর্বর এই মাটিতে ফসল ফলাতে বেশি পুঁজির প্রয়োজন পড়ে না।

24। বাংলাদেশ স্বাধীনতার পঞ্চাশ বছরে খাদ্য উৎপাদন কতগুণ বৃদ্ধি করেছে?

তিনগুণ।

25। অর্থনীতিতে পানিসম্পদের গুরুত্ব কী?

কৃষি ও শিল্প অর্থনীতি এবং যোগাযোগ ব্যবস্থা পানিপথের ওপর সম্পূর্ণরূপে নির্ভরশীল।

26। প্রাকৃতিক সম্পদের সঠিক ব্যবহারে কী অর্জন সম্ভব?

দারিদ্র্য দূরীকরণ, খাদ্যনিরাপত্তা বিধান এবং উন্নত জীবনমান নিশ্চিত করা সম্ভব।

27। বনভূমি রক্ষায় কাদের ভূমিকা প্রয়োজন?

শিক্ষার্থী, শিক্ষক ও নাগরিক সমাজের যৌথ প্রচেষ্টা প্রয়োজন।

নদ-নদী: জনবসতি, পানির অভাব, যাতায়াত-জলবিদ্যুৎ-বাণিজ্য

28। নদীর তীরে গড়ে ওঠা শহরের উদাহরণ দাও।

বুড়িগঙ্গার তীরে ঢাকা, কর্ণফুলীর তীরে চট্টগ্রাম, শীতলক্ষ্যার তীরে নারায়ণগঞ্জ, সুরমার তীরে সিলেট, গোমতীর তীরে কুমিল্লা।

29। গঙ্গা-কপোতাক্ষ পরিকল্পনার সুবিধা কী?

কুষ্টিয়া, যশোর ও খুলনা জেলার বিস্তীর্ণ অঞ্চলে কৃষিজ জমিতে পানি সেচের ব্যবস্থা করা হচ্ছে।

30। কর্ণফুলী বহুমুখী পরিকল্পনার ফলাফল কী?

৪৮৮ কিমি নৌপথ ব্যবহৃত হচ্ছে এবং ১০ লক্ষ একর জমিতে কৃষিজ ফলন হচ্ছে।

31। বাংলাদেশে নদীর তলদেশ ভরাট হওয়ার কারণ কী?

উজান থেকে আসা প্রচুর পলি নদীর তলদেশে জমা হয়ে দীর্ঘদিনে তলদেশ ভরাট করে দেয়।

32। ভারতের ফারাক্কা বাঁধের প্রভাব কী?

দেশের উত্তর-পশ্চিমাঞ্চল ভয়াবহ সমস্যার সম্মুখীন হয়েছে, বিশেষ করে শুষ্ক মৌসুমে পানির চরম সংকট দেখা দেয়।

33। অতিরিক্ত পানি উত্তোলনের ফলে কী ঘটে?

সেচসহ নানা কাজে পাম্প দিয়ে পানি উত্তোলনের ফলে মূল নদীতে পানি আশঙ্কাজনকভাবে কমে যায়।

34। নদী শুকিয়ে যাওয়ার ফলে কী কী সমস্যা হতে পারে?

কৃষি-বাণিজ্য-মৎস্য চাষ-যাতায়াত বন্ধ হয়ে যাওয়া, মাছের অভাবে পুষ্টিহীনতা এবং জনবসতির স্থানান্তর।

35। বাংলাদেশে নদীপথের মোট দৈর্ঘ্য কত ও সবসময় নৌচলাচলযোগ্য পথ কত?

মোট দৈর্ঘ্য প্রায় ৫৮৩৩ কিমি, যার মধ্যে ৩,৮৬৫ কিমি সারাবছর নৌচলাচলযোগ্য।

36। জলবিদ্যুৎ কী?

নদী বা জলপ্রপাতের পানির বেগ ব্যবহার করে টারবাইনের সাহায্যে উৎপাদিত বিদ্যুৎ, যা একটি নবায়নযোগ্য শক্তিসম্পদ।

37। বাংলাদেশে প্রথম জলবিদ্যুৎ উৎপাদন কোথায় শুরু হয়?

পার্বত্য চট্টগ্রামের কাপ্তাই নামক স্থানে কর্ণফুলী নদীতে, পাকিস্তান আমলে।

38। বাংলাদেশে জলবিদ্যুৎ উৎপাদনের সুযোগ কম কেন?

জলবিদ্যুৎ উৎপাদনের উপযোগী পাহাড়ি নদী ও পাহাড় দেশে বেশি নেই বলে।

39। বাংলাদেশে অভ্যন্তরীণ নৌপথে মোট বাণিজ্যিক মালামালের কত শতাংশ পরিবহন হয়?

প্রায় ৭৫ শতাংশ।

40। শুষ্ক মৌসুমে জাহাজ চলাচলে কী সমস্যা হয়?

নদীর নাব্যতা হ্রাস পাওয়ার কারণে কোনো কোনো নদীতে জাহাজ চলাচল সীমিত হয়ে আসে।

বাংলাদেশের প্রধান নদ-নদী

41। বাংলাদেশে বর্তমানে কতটি নদ-নদী আছে ও এদের মোট দৈর্ঘ্য কত?

১০০৮টি নদ-নদী আছে, মোট দৈর্ঘ্য ২২,১৫৫ কিমি।

42। পদ্মা নদীর উৎপত্তিস্থল কোথায়?

মধ্য হিমালয়ের গঙ্গোত্রী হিমবাহ; ভারতে গঙ্গা এবং বাংলাদেশে চাঁপাইনবাবগঞ্জ জেলা দিয়ে প্রবেশ করে পদ্মা নামে পরিচিত।

43। পদ্মা কোথায় যমুনা ও মেঘনার সাথে মিলিত হয়?

গোয়ালন্দের কাছে যমুনার সাথে এবং চাঁদপুরে মেঘনার সাথে মিলিত হয়।

44। ব্রহ্মপুত্রের উৎপত্তিস্থল কোথায়?

তিব্বতের মানস সরোবর।

45। যমুনা নদীর সৃষ্টি কীভাবে হয়?

১৭৮৭ সালে ভূমিকম্পে ব্রহ্মপুত্রের তলদেশ উত্থিত হওয়ায় নতুন স্রোতধারা সৃষ্টি হয়, যা যমুনা নামে পরিচিত।

46। ব্রহ্মপুত্রের দৈর্ঘ্য ও অববাহিকার আয়তন কত?

দৈর্ঘ্য ২৮৯৭ কিমি; অববাহিকার আয়তন ৫,৮০,১৬০ বর্গকিমি, যার ৪৪,০৩০ বর্গকিমি বাংলাদেশে।

47। মেঘনা নদীর উৎপত্তি কীভাবে হয়?

আসামের বরাক নদী নাগা-মণিপুর অঞ্চলে উৎপত্তি হয়ে সুরমা-কুশিয়ারার সাথে মিলিত হয়ে কালনী নামে অগ্রসর হয়ে মেঘনা নাম ধারণ করে।

48। কর্ণফুলী নদীর উৎপত্তিস্থল ও দৈর্ঘ্য কত?

লুসাই পাহাড়ে উৎপত্তি, দৈর্ঘ্য ৩২০ কিমি; চট্টগ্রাম বন্দর এর তীরে অবস্থিত।

49। তিস্তা নদীর উৎপত্তিস্থল ও বর্তমান দৈর্ঘ্য কত?

সিকিমের পার্বত্য অঞ্চল থেকে উৎপত্তি; বর্তমান দৈর্ঘ্য ১৭৭ কিমি।

50। তিস্তা ব্যারেজ প্রকল্প কবে নির্মিত হয়?

১৯৯৭-১৯৯৮ সালে।

51। পশুর নদীর দৈর্ঘ্য ও গুরুত্ব কী?

প্রায় ১৪২ কিমি দীর্ঘ; মংলা সমুদ্রবন্দরে জাহাজ প্রবেশে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।

52। সাঙ্গু নদীর উৎপত্তিস্থল কোথায়?

উত্তর আরাকান পাহাড়; দৈর্ঘ্য ২৯৪ কিমি।

53। নাফ নদী কোথায় অবস্থিত ও দৈর্ঘ্য কত?

বাংলাদেশ-মিয়ানমার সীমান্তে অবস্থিত, দৈর্ঘ্য প্রায় ৫৬ কিমি।

54। মাতামুহুরী নদীর উৎপত্তিস্থল ও দৈর্ঘ্য কত?

লামার মাইভার পর্বত; দৈর্ঘ্য প্রায় ১২০ কিমি।

বাংলাদেশের নদ-নদী ও প্রাকৃতিক সম্পদ অধ্যায়ের অনুধাবনমূলক প্রশ্ন ও উত্তর

পানিসম্পদ ব্যবস্থাপনা ও বনভূমির শ্রেণিবিভাগ

1। পানি নিরাপত্তা নিশ্চিত হলে খাদ্য নিরাপত্তাও নিশ্চিত হয়— ব্যাখ্যা করো।

কৃষি উৎপাদনের প্রতিটি ধাপে সেচের জন্য পর্যাপ্ত পানি অপরিহার্য, পানির সরবরাহ নিয়মিত ও পরিকল্পিত হলে ফসল উৎপাদন ব্যাহত হয় না, তাই সারাবছর পানির প্রাপ্যতা নিশ্চিত করা গেলে কৃষি উৎপাদন নিরবচ্ছিন্ন থাকে এবং এর মাধ্যমে খাদ্য নিরাপত্তাও নিশ্চিত হয়।

2। সুন্দরবনের গাছপালাকে স্রোতজ বা ম্যানগ্রোভ বলা হয় কেন— ব্যাখ্যা করো।

সুন্দরবন অঞ্চলে জোয়ার-ভাটার প্রভাবে লোনা ও ভেজা মাটিতে বিশেষ ধরনের উদ্ভিদ জন্মায়, যেগুলো লবণাক্ত পানি ও কাদামাটির পরিবেশের সাথে অভিযোজিত, এই বিশেষ ধরনের উদ্ভিদগোষ্ঠীকে স্রোতজ বা ম্যানগ্রোভ বনভূমি বলা হয়।

প্রাকৃতিক সম্পদ: ধারণা, দক্ষিণ এশিয়ার তুলনা ও অর্থনৈতিক গুরুত্ব

3। বাংলাদেশের পার্বত্য চট্টগ্রামে চিরহরিৎ অরণ্য সৃষ্টি হয়েছে কেন— ব্যাখ্যা করো।

উষ্ণ ও আর্দ্র জলবায়ু অঞ্চলে সারা বছর প্রচুর বৃষ্টিপাত হয়, এই অনুকূল আবহাওয়ায় গাছের পাতা একত্রে ঝরে না গিয়ে ক্রমাগত নতুন পাতা গজায়, ফলে বন সারা বছর সবুজ থাকে, তাই পার্বত্য চট্টগ্রামের মতো উষ্ণ-আর্দ্র অঞ্চলে চিরহরিৎ অরণ্য গড়ে উঠেছে।

4। পরিকল্পিতভাবে ভূমি ব্যবহার না করলে জাতীয় জীবনে বিপর্যয় ঘটতে পারে— ব্যাখ্যা করো।

ক্রমবর্ধমান জনসংখ্যার চাপে বাড়িঘর, কলকারখানা ও রাস্তাঘাট নির্মাণে উর্বর কৃষিজমি ক্রমাগত হ্রাস পাচ্ছে, ভূমির এই অপরিকল্পিত ব্যবহার অব্যাহত থাকলে খাদ্য উৎপাদনের জমি কমে গিয়ে খাদ্য সংকট তৈরি হতে পারে, তাই ভূমির পরিকল্পিত ব্যবহার নিশ্চিত করা জাতীয় স্বার্থে অপরিহার্য।

নদ-নদী: জনবসতি, পানির অভাব, যাতায়াত-জলবিদ্যুৎ-বাণিজ্য

5। বাংলাদেশের প্রধান শহরগুলো নদীর তীরে গড়ে উঠেছে কেন— ব্যাখ্যা করো।

প্রাচীনকাল থেকেই মানুষ পানির সহজলভ্যতা, কৃষিকাজ, মাছ শিকার ও পণ্য পরিবহনের সুবিধার জন্য নদীর তীরে বসতি স্থাপন করত, ধীরে ধীরে এই বসতিগুলো ব্যবসা-বাণিজ্যের কেন্দ্র হয়ে শহরে রূপান্তরিত হয়, তাই ঢাকা-চট্টগ্রাম-সিলেটের মতো প্রধান শহরগুলো নদীর তীরে গড়ে উঠেছে।

6। জলবিদ্যুৎ অন্যান্য বিদ্যুৎ উৎপাদন পদ্ধতির চেয়ে সাশ্রয়ী কেন— ব্যাখ্যা করো।

জলবিদ্যুৎ উৎপাদনে নদীর প্রাকৃতিক পানিপ্রবাহের শক্তি ব্যবহৃত হয়, যেখানে তেল-গ্যাস বা পারমাণবিক চুল্লি ব্যবহারের মতো জ্বালানি খরচ করতে হয় না, তাই একবার অবকাঠামো তৈরি হয়ে গেলে জলবিদ্যুৎ উৎপাদন খরচ অন্যান্য পদ্ধতির তুলনায় অনেক কম হয়।

বাংলাদেশের প্রধান নদ-নদী

7। যমুনা নদীর সৃষ্টি ব্রহ্মপুত্র নদীর ইতিহাসে একটি গুরুত্বপূর্ণ ঘটনা— ব্যাখ্যা করো।

১৭৮৭ সালের ভূমিকম্পে ব্রহ্মপুত্রের তলদেশ উত্থিত হয়ে পানি ধারণক্ষমতার বাইরে চলে যায়, ফলে সম্পূর্ণ নতুন একটি স্রোতধারা সৃষ্টি হয়ে যমুনা নামে প্রবাহিত হতে থাকে, এই প্রাকৃতিক দুর্যোগ বাংলাদেশের নদী ব্যবস্থায় স্থায়ী পরিবর্তন এনেছিল বলে এটি একটি গুরুত্বপূর্ণ ঐতিহাসিক ঘটনা।

আরও পড়ুন

SSC বাংলাদেশ ও বিশ্বপরিচয়-এর সব পোস্ট

মন্তব্য করুন

Your email address will not be published. Required fields are marked *

সাহায্য লাগবে?
BCS Journey Support
● Online
×
💬Messenger ✈Telegram
BCS JOURNEY
BCS Journey
চ্যাট শুরু করুন ➜