বাংলাদেশের গণতন্ত্র ও নির্বাচন ব্যবস্থা অধ্যায়ের নোট | SSC বাংলাদেশ ও বিশ্বপরিচয়ের ৮ম অধ্যায় “বাংলাদেশের গণতন্ত্র ও নির্বাচন ব্যবস্থা” জ্ঞানমূলক ও অনুধাবনমূলক প্রশ্ন উত্তর নিচে দেওয়া হলো। এই পোস্টে ৪৮টি জ্ঞানমূলক ও ৬টি অনুধাবনমূলক প্রশ্ন ও উত্তর আছে। বহুনির্বাচনি প্রশ্নের জন্য বাংলাদেশের গণতন্ত্র ও নির্বাচন ব্যবস্থা অধ্যায়ের MCQ দেখুন।
বাংলাদেশের গণতন্ত্র ও নির্বাচন ব্যবস্থা অধ্যায়ের জ্ঞানমূলক প্রশ্ন ও উত্তর
নির্বাচন কমিশন, আচরণবিধি ও নির্বাচনি অপরাধ
1। নির্বাচন কমিশন কী ধরনের প্রতিষ্ঠান?
একটি স্বতন্ত্র, স্বাধীন, নিরপেক্ষ ও সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠান।
2। নির্বাচন কমিশন কাদের নিয়ে গঠিত?
প্রধান নির্বাচন কমিশনার ও অনধিক চারজন নির্বাচন কমিশনার।
3। নির্বাচন কমিশনারদের নিয়োগ কে দেন?
সংবিধান অনুযায়ী রাষ্ট্রপতি।
4। নির্বাচন কমিশনের মেয়াদ কত?
পাঁচ বছর।
5। নির্বাচন কমিশনাররা কীভাবে অপসারিত হতে পারেন?
অসদাচরণ ও অসামর্থ্যের কারণে অপসারিত হতে পারেন, অথবা স্বেচ্ছায় পদত্যাগ করতে পারেন।
6। নির্বাচন কমিশন কোন কোন নির্বাচন পরিচালনা করে?
ইউনিয়ন পরিষদ, জেলা পরিষদ, পৌরসভা, সিটি কর্পোরেশন ও জাতীয় সংসদ নির্বাচন।
7। নির্বাচনি এলাকার সীমানা নির্ধারণ কে করে?
নির্বাচন কমিশন, এবং সীমানা বিতর্কে কমিশনের সিদ্ধান্ত চূড়ান্ত।
8। মনোনয়নপত্র বাছাইয়ের দায়িত্ব কার?
নির্বাচন কমিশনের; বিতর্ক দেখা দিলে কমিশনের সিদ্ধান্ত চূড়ান্ত।
9। নির্বাচনি তফসিল ঘোষণার পর প্রার্থীর কোন কাজ নিষিদ্ধ?
কোনো প্রতিষ্ঠানে চাঁদা বা অনুদান প্রদান বা উন্নয়ন প্রকল্পের অঙ্গীকার প্রদান।
10। নির্বাচনি প্রচারণায় সকলের কী অধিকার আছে?
রাজনৈতিক দল ও প্রার্থী নির্বিশেষে প্রচারণার ক্ষেত্রে সমান অধিকার।
11। মাইক বা উচ্চ শব্দ ব্যবহারের সময়সীমা কত?
দুপুর দুইটা থেকে রাত আটটা পর্যন্ত।
12। ভোটকেন্দ্রে কারা প্রবেশ করতে পারবেন?
শুধু নির্বাচনি কর্মকর্তা, কর্মচারী, প্রার্থী, নির্বাচনি এজেন্ট ও ভোটারগণ।
13। নির্বাচনি অপরাধ ও দণ্ড কোন আদেশ অনুযায়ী নির্ধারিত?
গণপ্রতিনিধিত্ব আদেশ, ১৯৭২।
14। নির্বাচনি অপরাধের উদাহরণ কী কী?
ঘুষ গ্রহণ, জাল ভোট দেওয়া, ভোটদানে বাধা সৃষ্টি করা, প্রার্থীর চরিত্র সম্পর্কে মিথ্যা বলা।
15। নির্বাচনি অপরাধের সর্বোচ্চ ও সর্বনিম্ন সাজা কত?
সর্বোচ্চ ১০ বছর এবং কমপক্ষে ২ বছর সশ্রম কারাদণ্ড।
16। নির্বাচনি কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে মামলা করতে কী প্রয়োজন?
নির্বাচন কমিশনের লিখিত অনুমোদন।
রাজনৈতিক দল ও বাংলাদেশের নির্বাচন প্রক্রিয়া
17। অধ্যাপক গেটেলের মতে রাজনৈতিক দল কী?
কমবেশি সংগঠিত একদল লোক যারা রাজনৈতিক একরূপে কাজ করে এবং ভোটাধিকার প্রয়োগের মাধ্যমে সরকার গঠন করতে চায়।
18। এডমন্ড বার্কের মতে রাজনৈতিক দল কী?
কিছু ঐক্যবদ্ধ নীতির ভিত্তিতে জাতীয় স্বার্থ অর্জনের জন্য সংঘবদ্ধ একটি জনসমষ্টি।
19। ম্যাকাইভারের মতে রাজনৈতিক দল কী?
যারা কতগুলো সুনির্দিষ্ট নীতির ভিত্তিতে ঐক্যবদ্ধ হয় এবং সাংবিধানিক উপায়ে সরকার গঠন করতে চেষ্টা করে।
20। রাজনৈতিক দলের একটি প্রধান উদ্দেশ্য কী?
রাষ্ট্রের গুরুত্বপূর্ণ সমস্যাসমূহ চিহ্নিত করে কর্মসূচি ও নীতিমালা প্রণয়ন ও বাস্তবায়ন করা।
21। অধ্যাপক ফাইনার রাজনৈতিক দল সম্পর্কে কী বলেছেন?
আধুনিক গণতান্ত্রিক শাসন কার্যত রাজনৈতিক দলের শাসন।
22। রাজনৈতিক দলের নীতি ও কর্মসূচি কোথায় উল্লেখ থাকে?
দলের ইশতেহারে বা ম্যানিফেস্টোতে।
23। নির্বাচনে সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জনকারী দল কী করে?
সরকার গঠন করে এবং দলীয় নীতিমালা ও কর্মসূচির ভিত্তিতে শাসনকার্য পরিচালনা করে।
24। বিরোধী দল কীভাবে সংসদকে কার্যকর রাখে?
পার্লামেন্টে বিতর্ক, সরকারের নীতির সমালোচনা ও মুলতবি প্রস্তাব উপস্থাপনের মাধ্যমে।
25। নির্বাচন কী?
নির্দিষ্ট নিয়ম অনুযায়ী প্রতিনিধি বাছাই করার প্রক্রিয়াকে নির্বাচন বলে।
26। নির্বাচকমণ্ডলী কী?
সকল ভোটারকে একত্রিতভাবে নির্বাচকমণ্ডলী বলা হয়।
27। প্রত্যক্ষ নির্বাচন পদ্ধতি কী?
যে পদ্ধতিতে ভোটারগণ সরাসরি ভোট প্রদানের মাধ্যমে প্রতিনিধি নির্বাচন করেন; বাংলাদেশে এই পদ্ধতি চালু।
28। পরোক্ষ নির্বাচন পদ্ধতি কী?
যেখানে ভোটারগণ ভোট দিয়ে একটি মধ্যবর্তী নির্বাচনি সংস্থা (ইলেক্টোরাল কলেজ) গঠন করে, যা চূড়ান্তভাবে প্রতিনিধি নির্বাচন করে।
29। যুক্তরাষ্ট্রে রাষ্ট্রপতি কোন পদ্ধতিতে নির্বাচিত হন?
পরোক্ষ নির্বাচন পদ্ধতিতে, ইলেক্টোরাল কলেজের মাধ্যমে।
30। বাংলাদেশে সংসদ নির্বাচনের জন্য দেশকে কতটি নির্বাচনি এলাকায় বিভক্ত করা হয়েছে?
৩০০টি নির্বাচনি এলাকায়।
31। নির্বাচনি তফসিল কী?
নির্বাচন কমিশন কর্তৃক ঘোষিত নির্বাচনের তারিখ ও কার্যক্রমের সময়সূচি।
32। নির্বাচন প্রক্রিয়ার অংশ কী কী?
ভোটার তালিকা প্রণয়ন, মনোনয়নপত্র বিতরণ-গ্রহণ-বাছাই, প্রতীক বণ্টন, ভোট গ্রহণ ও গণনা, ফলাফল ঘোষণা।
গণতন্ত্রের ধারণা, প্রকারভেদ ও দোষ-গুণ
33। আব্রাহাম লিংকনের গণতন্ত্রের সংজ্ঞা কী?
গণতান্ত্রিক সরকার হলো জনগণের দ্বারা গঠিত, জনগণকে সেবা দেওয়ার জন্য ও জনগণ দ্বারা নির্বাচিত সরকার ব্যবস্থা।
34। অধ্যাপক গেটেলের মতে গণতন্ত্র কী?
যে শাসন ব্যবস্থায় জনগণ সার্বভৌম ক্ষমতার প্রয়োগে অংশ নেওয়ার অধিকারী তাই গণতন্ত্র।
35। গণতন্ত্র সর্বপ্রথম কোথায় প্রচলিত হয়?
প্রাচীন গ্রিসের এথেন্সে।
36। অষ্টাদশ শতকের গণতান্ত্রিক ভাবধারার উৎসমূল কোন দেশকে ধরা হয়?
ইংল্যান্ডকে।
37। গণতন্ত্র কয় ধরনের?
দুই ধরনের— প্রত্যক্ষ বা বিশুদ্ধ গণতন্ত্র ও পরোক্ষ বা প্রতিনিধিত্বমূলক গণতন্ত্র।
38। প্রত্যক্ষ গণতন্ত্র কী?
যে শাসনব্যবস্থায় নাগরিকগণ সরাসরিভাবে শাসনকার্য পরিচালনায় অংশগ্রহণ করার সুযোগ পায়।
39। বর্তমানে কোথায় আংশিকভাবে প্রত্যক্ষ গণতন্ত্র চালু আছে?
সুইজারল্যান্ডের কয়েকটি অঞ্চলে।
40। পরোক্ষ বা প্রতিনিধিত্বমূলক গণতন্ত্র কী?
প্রতিনিধি নির্বাচনের মাধ্যমে শাসনকার্য পরিচালনা করার পদ্ধতি, যেখানে নাগরিকগণ সরাসরি শাসনকার্যে অংশ নেন না।
41। আধুনিক গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রে কোন ধরনের গণতন্ত্র প্রচলিত?
পরোক্ষ বা প্রতিনিধিত্বমূলক গণতন্ত্র।
42। গণতন্ত্রের একটি সুন্দর দিক কী?
সরকার জনগণের প্রত্যক্ষ ভোটে নির্বাচিত হয় এবং জনগণের কাছে জবাবদিহিতা থাকে।
43। গণতন্ত্রে কীসের মাধ্যমে সরকার পরিচালিত হয়?
জনমতের মাধ্যমে।
44। গণতন্ত্রকে কারা মূর্খ বা অযোগ্যর শাসনব্যবস্থা বলেছেন?
প্লেটো ও অ্যারিস্টটল।
45। প্লেটো-অ্যারিস্টটলের সমালোচনার কারণ কী?
সংখ্যাগরিষ্ঠের শাসন হিসেবে নির্বাচনের মাধ্যমে অজ্ঞ, অযোগ্য ও দুর্নীতিগ্রস্ত ব্যক্তিও শাসন ক্ষমতায় অধিষ্ঠিত হতে পারে।
46। বাস্তবে গণতন্ত্র কীসে পরিণত হয়?
সংখ্যাগরিষ্ঠের শাসনে, যেখানে সংখ্যালঘুরা আইনসভায় প্রতিনিধি পাঠাতে পারে না।
47। গণতন্ত্রের একটি অর্থনৈতিক ত্রুটি কী?
এটি তুলনামূলক ব্যয়বহুল শাসনব্যবস্থা; ঘন ঘন নির্বাচন ও প্রচারকার্যে প্রচুর অর্থ ব্যয় হয়।
48। রাজনৈতিক দলের মধ্যে সমঝোতার অভাবে কী হতে পারে?
জাতি দ্বিধাবিভক্ত হয়ে পড়ে এবং গণতন্ত্র হুমকির মুখে পড়ে।
বাংলাদেশের গণতন্ত্র ও নির্বাচন ব্যবস্থা অধ্যায়ের অনুধাবনমূলক প্রশ্ন ও উত্তর
নির্বাচন কমিশন, আচরণবিধি ও নির্বাচনি অপরাধ
1। নির্বাচন কমিশনকে স্বাধীন ও নিরপেক্ষ প্রতিষ্ঠান হিসেবে গড়ে তোলা প্রয়োজন কেন— ব্যাখ্যা করো।
নির্বাচন কমিশনের ওপর সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ নির্বাচন আয়োজনের গুরুদায়িত্ব ন্যস্ত থাকে, কমিশন যদি কোনো পক্ষের প্রভাবাধীন থাকে তাহলে নির্বাচনের ফলাফল প্রশ্নবিদ্ধ হয়ে জনগণের আস্থা নষ্ট হতে পারে, তাই নির্বাচন কমিশনকে স্বাধীন ও নিরপেক্ষ প্রতিষ্ঠান হিসেবে গড়ে তোলা অপরিহার্য।
2। নির্বাচনি আচরণবিধি সুষ্ঠু নির্বাচনের জন্য অপরিহার্য কেন— ব্যাখ্যা করো।
আচরণবিধি সকল প্রার্থী ও দলের জন্য সমান সুযোগ নিশ্চিত করে এবং অর্থ-অস্ত্র-পেশিশক্তির প্রভাব থেকে নির্বাচনকে মুক্ত রাখতে সাহায্য করে, এই বিধি না থাকলে প্রভাবশালীরা নির্বাচনি প্রক্রিয়াকে কুক্ষিগত করতে পারত, তাই সুষ্ঠু ও গ্রহণযোগ্য নির্বাচনের জন্য আচরণবিধি অপরিহার্য।
রাজনৈতিক দল ও বাংলাদেশের নির্বাচন প্রক্রিয়া
3। রাজনৈতিক দল ছাড়া গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রের কথা কল্পনা করা যায় না কেন— ব্যাখ্যা করো।
আধুনিক গণতন্ত্র মূলত প্রতিনিধিত্বমূলক গণতন্ত্র, আর রাজনৈতিক দলই জনমত গঠন, প্রার্থী মনোনয়ন, নির্বাচনি প্রচারণা এবং সরকার গঠনের মূল ভিত্তি হিসেবে কাজ করে, দল ছাড়া সুসংগঠিতভাবে জনমত সংগঠিত করে সরকার গঠন করা সম্ভব নয়, তাই রাজনৈতিক দল ছাড়া গণতান্ত্রিক রাষ্ট্র কল্পনা করা যায় না।
4। বাংলাদেশে প্রত্যক্ষ নির্বাচন পদ্ধতি জনগণের জন্য বেশি উপযোগী কেন— ব্যাখ্যা করো।
প্রত্যক্ষ নির্বাচনে ভোটাররা নিজেরাই সরাসরি ভোট দিয়ে তাদের প্রতিনিধি নির্বাচন করতে পারেন, কোনো মধ্যবর্তী সংস্থার ওপর নির্ভর করতে হয় না, ফলে জনগণের মতামতের সরাসরি প্রতিফলন ঘটে এবং প্রতিনিধিত্ব অধিকতর নির্ভরযোগ্য ও গ্রহণযোগ্য হয়।
গণতন্ত্রের ধারণা, প্রকারভেদ ও দোষ-গুণ
5। আধুনিক রাষ্ট্রে প্রত্যক্ষ গণতন্ত্র চর্চার সুযোগ কম কেন— ব্যাখ্যা করো।
আধুনিক রাষ্ট্র আয়তনে বিশাল এবং এর জনসংখ্যাও অনেক বেশি, ফলে সকল নাগরিকের পক্ষে একত্রিত হয়ে সরাসরি আইন প্রণয়ন ও সিদ্ধান্ত গ্রহণে অংশ নেওয়া বাস্তবে সম্ভব নয়, তাই আধুনিক রাষ্ট্রে প্রত্যক্ষ গণতন্ত্রের বদলে পরোক্ষ বা প্রতিনিধিত্বমূলক গণতন্ত্র প্রচলিত।
6। গণতন্ত্রে ব্যক্তি তার আত্মবিকাশের সর্বাধিক সুযোগ পায়— ব্যাখ্যা করো।
গণতান্ত্রিক ব্যবস্থায় ব্যক্তিস্বাধীনতা ও বাকস্বাধীনতা স্বীকৃত থাকে, নাগরিকরা নিজেদের মতামত অবাধে প্রকাশ করতে পারে এবং রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডে অংশগ্রহণের সুযোগ পায়, এই স্বাধীনতা ও অংশগ্রহণের সুযোগই ব্যক্তির আত্মবিকাশকে সহজতর করে তোলে।
