বাংলাদেশের ভূপ্রকৃতি ও জলবায়ু অধ্যায়ের নোট | SSC বাংলাদেশ ও বিশ্বপরিচয়ের ৪র্থ অধ্যায় “বাংলাদেশের ভূপ্রকৃতি ও জলবায়ু” জ্ঞানমূলক ও অনুধাবনমূলক প্রশ্ন উত্তর নিচে দেওয়া হলো। এই পোস্টে ৬০টি জ্ঞানমূলক ও ৭টি অনুধাবনমূলক প্রশ্ন ও উত্তর আছে। বহুনির্বাচনি প্রশ্নের জন্য বাংলাদেশের ভূপ্রকৃতি ও জলবায়ু অধ্যায়ের MCQ দেখুন।
বাংলাদেশের ভূপ্রকৃতি ও জলবায়ু অধ্যায়ের জ্ঞানমূলক প্রশ্ন ও উত্তর
ভূপ্রকৃতি-জনসংখ্যা-ভূমি ব্যবহার ও জলবায়ুর প্রভাব-বজ্রপাত
1। ২০২২ সালের জনশুমারি অনুযায়ী বাংলাদেশের জনসংখ্যা কত?
প্রায় ১৬.৯৮ কোটি, জনসংখ্যা বৃদ্ধির হার ১.১২% এবং জনঘনত্ব প্রতি বর্গকিমিতে ১১১৯ জন।
2। কোন কোন অঞ্চলে জনবসতির ঘনত্ব সবচেয়ে কম?
পার্বত্য এলাকা ও সুন্দরবন অঞ্চলে, কারণ এসব স্থানে জীবিকা সংস্থান কষ্টসাধ্য।
3। সমতল নদী অববাহিকা অঞ্চলে জনবসতি ঘন হয় কেন?
উর্বর পলিমাটির কারণে কৃষি আবাদ সহজসাধ্য এবং নদী-সড়ক-রেলপথের সুবিধা থাকে।
4। খনিজ সম্পদ অঞ্চলে জনবসতি বৃদ্ধির কারণ কী?
জীবিকার সন্ধানে বহু শ্রমিক-কর্মচারী জড়ো হয়ে এলাকাকে ঘনবসতিপূর্ণ করে তোলে।
5। শিল্প শহরের উদাহরণ দাও।
তেজগাঁও, টঙ্গী, নরসিংদী, খুলনা, চট্টগ্রাম।
6। ১৯৭৪ ও বর্তমানে মাথাপিছু জমির পরিমাণ কত?
১৯৭৪ সালে ০.২৮ একর, বর্তমানে তা ০.২৫ একরে দাঁড়িয়েছে।
7। জনবসতি বিস্তারের ফলে ভূমির উপর কী প্রভাব পড়ছে?
চাষযোগ্য জমির পরিমাণ কমছে, কৃষিজমি খণ্ড-বিখণ্ড হচ্ছে এবং খাল-বিল ভরাট করে ও বন কেটে বসতি গড়া হচ্ছে।
8। জলবায়ু পরিবর্তনের ফলে বাংলাদেশে সমুদ্রপৃষ্ঠের উচ্চতা কতটা বেড়েছে?
হিরন পয়েন্ট, চর চঙ্গা ও কক্সবাজারে প্রতিবছর গড়ে ৪ থেকে ৬ মিমি বেড়েছে।
9। জলবায়ু পরিবর্তনের ফলে মানুষের জীবিকায় কী পরিবর্তন আসছে?
নদীভাঙনে বাস্তুহারা মানুষ শহরে আশ্রয় নিচ্ছে এবং জেলেরা পেশা পরিবর্তন করছে।
10। ভারতের বাঁধ ও নদী সংযোগ প্রকল্পের প্রভাব কী?
অভিন্ন নদীর পানি প্রবাহ কমে গেছে এবং পলি জমে বহু নদী হারিয়ে যাচ্ছে।
11। বজ্রপাত কী?
বজ্রঝড়ের ফলে সৃষ্ট ঝড়-বৃষ্টির সময় উজ্জ্বল আলোর ঝলকানি ও বিকট শব্দসহ ঘটা প্রাকৃতিক ঘটনা।
12। বাংলাদেশে বছরে গড়ে কতজন বজ্রপাতে মারা যায়?
প্রায় ৩৫০ জন (দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী)।
13। বাংলাদেশে কোন মাসে সবচেয়ে বেশি বজ্রপাত হয়?
এপ্রিল ও মে মাসে, উত্তরপূর্বাঞ্চলের জেলাগুলোতে।
14। বজ্রপাতের সময় মাঠে কাজ করা অবস্থায় করণীয় কী?
নিরাপদ আশ্রয় না থাকলে গুটিশুটি মেরে বসে পড়তে হবে, মাটিতে শুয়ে পড়া যাবে না।
ভূমিকম্প — ধারণা, কারণ, বিশ্ব ও বাংলাদেশের ঝুঁকি মোকাবিলা
15। ভূমিকম্প কাকে বলে?
ভূপৃষ্ঠের কোনো অংশের আকস্মিক ও ক্ষণস্থায়ী কম্পনকে ভূমিকম্প বলে।
16। ভূমিকম্পের কেন্দ্র ও উপকেন্দ্র কাকে বলে?
ভূঅভ্যন্তরে যেখানে ভূমিকম্পের উৎপত্তি হয় তাকে কেন্দ্র (Focus) এবং কেন্দ্রের ঠিক উপরের ভূপৃষ্ঠকে উপকেন্দ্র (Epicenter) বলে।
17। টেকটনিক প্লেট কী?
ভূত্বক ৮টি বড়ো ও ৬টি আঞ্চলিক টুকরায় বিভক্ত, এদের টেকটনিক প্লেট বলে।
18। ভূমিকম্পের প্রধান কারণ কী?
টেকটনিক প্লেটের স্থানান্তর বা বিচ্যুতি, ভিত্তিশিলা চ্যুতি, আগ্নেয়গিরির লাভা নির্গমন ইত্যাদি।
19। সুনামি কী?
ভূমিকম্পের ধাক্কায় সমুদ্রের পানি তীর থেকে নেমে গিয়ে পরে ১৫-২০ মিটার উঁচু ঢেউ আকারে উপকূলে আছড়ে পড়ার ঘটনা।
20। ২০০৪ সালের সুনামি কোন কোন দেশে ক্ষতি করে?
ইন্দোনেশিয়া, মালয়েশিয়া, শ্রীলংকা, থাইল্যান্ড, ভারত প্রভৃতি দেশে।
21। বিশ্বের ভূমিকম্পপ্রবণ অঞ্চল কয়টি ও কী কী?
তিনটি— প্রশান্ত মহাসাগরীয় অংশ, ভূমধ্যসাগরীয়-হিমালয় অংশ ও মধ্য আটলান্টিক-ভারত মহাসাগরীয় শৈলশিরা অংশ।
22। প্রশান্ত মহাসাগরীয় অংশে কোন কোন দেশ ভূমিকম্পপ্রবণ?
জাপান, ফিলিপাইন, চিলি, অ্যালিসিয়ান দ্বীপপুঞ্জ ও আলাস্কা।
23। বাংলাদেশ কেন ভূমিকম্পপ্রবণ অঞ্চল?
ইন্ডিয়ান ও ইউরোপিয়ান প্লেটের সীমানার কাছে অবস্থিত এবং ইন্ডিয়ান প্লেট ও মিয়ানমার সাব-প্লেটের মাঝখানে অবস্থিত হওয়ায়।
24। ডাউকি ডেঞ্জার চ্যুতি কোথায় সংযুক্ত?
আসামের ডাউকি ডেঞ্জার চ্যুতির সাথে বাংলাদেশের সিলেট জেলা সংযুক্ত।
25। বাংলাদেশের ভূমিকম্প বলয় মানচিত্র কবে ও কারা তৈরি করেন?
১৯৮৯ সালে ফরাসি ইঞ্জিনিয়ারিং কনসোর্টিয়াম তৈরি করেন, যাতে ৩টি বলয় দেখানো হয়েছে।
26। বাংলাদেশের তিনটি ভূমিকম্প বলয় কী কী?
প্রলয়ঙ্করী, বিপজ্জনক ও লঘু— একত্রে ‘সিসমিক রিস্ক জোন’ বলা হয়।
27। প্রলয়ঙ্করী বলয়ে কোন কোন জেলা আছে?
বান্দরবান, চট্টগ্রাম, সিলেট, ময়মনসিংহ ও রংপুর।
28। বাড়ি তৈরির সময় ভূমিকম্প প্রতিরোধে কী মেনে চলতে হয়?
‘ন্যাশনাল বিল্ডিং কোড’ অনুসরণ করে দক্ষ প্রকৌশলীর তদারকিতে ভালো নির্মাণসামগ্রী ব্যবহার করতে হবে।
29। ভূমিকম্পের সময় বহুতল দালানে থাকলে করণীয় কী?
টেবিল বা খাটের নিচে ঢুকে যাওয়া এবং কাচের জানালা থেকে দূরে থাকা।
30। ভূমিকম্পের পর করণীয় কী কী?
নিজের ও অন্যদের আঘাত পরীক্ষা করা, গ্যাস-পানি-বিদ্যুৎ লাইন পরীক্ষা করা এবং খালি পায়ে চলাফেরা না করা।
বাংলাদেশ ও দক্ষিণ এশিয়ার জলবায়ু
31। বাংলাদেশের জলবায়ুকে কী বলা হয়?
‘ক্রান্তীয় মৌসুমি জলবায়ু’, কারণ মৌসুমি বায়ুর প্রভাব খুব বেশি।
32। বাংলাদেশে বছরে কয়টি ঋতু দেখা যায়?
ছয়টি ঋতু— গ্রীষ্ম, বর্ষা, শরৎ, হেমন্ত, শীত ও বসন্ত।
33। বাংলাদেশের শীতকাল কখন থেকে কখন পর্যন্ত থাকে?
নভেম্বর থেকে ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত; শীতলতম মাস জানুয়ারি, গড় তাপমাত্রা ১৭.৭° সে.।
34। বাংলাদেশের গ্রীষ্মকাল কখন ও সর্বোচ্চ-সর্বনিম্ন তাপমাত্রা কত?
মার্চ থেকে মে; সর্বোচ্চ ৩৮° সে., সর্বনিম্ন ২১° সে., উষ্ণতম মাস এপ্রিল।
35। কালবৈশাখি কী?
গ্রীষ্মকালে দক্ষিণ-পশ্চিম মৌসুমি বায়ু ও উত্তর-পশ্চিমের শুষ্ক-শীতল বায়ুর সংঘর্ষে সৃষ্ট ঝড়।
36। বাংলাদেশের বর্ষাকাল কখন ও গড় বৃষ্টিপাত কত?
জুন থেকে অক্টোবর; গড় বৃষ্টিপাত সর্বনিম্ন ১১৯ সেমি ও সর্বোচ্চ ৩৪০ সেমি (সিলেটের পাহাড়ি অঞ্চলে)।
37। বাংলাদেশের মোট বৃষ্টিপাতের কত ভাগ বর্ষাকালে হয়?
পাঁচ ভাগের চার ভাগ (৮০%)।
38। বাংলাদেশে বৃষ্টিপাত কোন দিক থেকে বাড়ে?
পশ্চিম থেকে পূর্বদিকে ক্রমেই বেশি হয়, যেমন পাবনায় ১১৪ সেমি ও রাঙ্গামাটিতে ১৯০ সেমি।
39। ভারতের জলবায়ু বিচিত্র হওয়ার কারণ কী?
বিশাল আয়তন এবং অক্ষাংশ, সমুদ্র থেকে দূরত্ব, বায়ুপ্রবাহের ভিন্নতা।
40। ভারতের কয়টি ঋতু আছে?
চারটি— শীতকাল, গ্রীষ্মকাল, বর্ষাকাল এবং শরৎ ও হেমন্তকাল।
41। হিমালয় পর্বতমালা ভারতের জলবায়ুতে কী ভূমিকা রাখে?
প্রাচীরের মতো দাঁড়িয়ে থেকে উত্তরের শীতল বায়ুকে সরাসরি ভারতে প্রবেশ করতে বাধা দেয়, ফলে ভারত শীত থেকে রক্ষা পায়।
42। ভারতের বর্ষাকালে মৌসুমি বায়ু কয়টি শাখায় বিভক্ত?
দুটি শাখায়— আরব সাগরীয় শাখা ও বঙ্গোপসাগরীয় শাখা।
43। পশ্চিমবঙ্গে হেমন্তকালীন ঘূর্ণিঝড়কে কী বলে?
‘আশ্বিনা ঝড়’।
44। মিয়ানমারের জলবায়ুতে কয়টি ঋতু স্পষ্ট?
তিনটি— শীত, গ্রীষ্ম ও বর্ষা।
45। মিয়ানমারের গ্রীষ্মকালীন গড় তাপমাত্রা কত?
প্রায় ২৯° সে., মান্দালয়ে ৩২° সে. পর্যন্ত।
46। নেপালের জলবায়ুতে কয়টি ঋতু পরিলক্ষিত হয়?
দুটি— বর্ষাকাল (জুন-সেপ্টেম্বর) ও শীতকাল (নভেম্বর-জানুয়ারি)।
47। নেপালের বার্ষিক গড় বৃষ্টিপাত কত?
১৪৫ সেমি, যার প্রায় পুরোটাই জুন-সেপ্টেম্বরে হয়।
বাংলাদেশের ভৌগোলিক অবস্থান ও ভূপ্রাকৃতিক অঞ্চল
48। বাংলাদেশ কোন অক্ষরেখা ও দ্রাঘিমারেখার মধ্যে অবস্থিত?
২০°৩৪´ থেকে ২৬°৩৮´ উত্তর অক্ষরেখা এবং ৮৮°০১´ থেকে ৯২°৪১´ পূর্ব দ্রাঘিমারেখার মধ্যে।
49। বাংলাদেশের পূর্ব-পশ্চিমে ও উত্তর-দক্ষিণে সর্বোচ্চ বিস্তৃতি কত?
পূর্ব-পশ্চিমে ৪৪০ কিমি এবং উত্তর-দক্ষিণে ৭৬০ কিমি।
50। বাংলাদেশের মোট আয়তন কত?
১,৪৭,৫৭০ বর্গ কিমি বা ৫৬,৯৭৭ বর্গমাইল।
51। বাংলাদেশের সীমানা কী কী দেশ নিয়ে গঠিত?
উত্তরে ভারতের পশ্চিমবঙ্গ-মেঘালয়-আসাম, পূর্বে আসাম-ত্রিপুরা-মিজোরাম ও মিয়ানমার, দক্ষিণে বঙ্গোপসাগর, পশ্চিমে ভারতের পশ্চিমবঙ্গ।
52। ভূ-প্রকৃতির ভিত্তিতে বাংলাদেশকে কয় ভাগে ভাগ করা যায়?
তিন ভাগে— টারশিয়ারি যুগের পাহাড়সমূহ, প্লাইস্টোসিন কালের সোপানসমূহ ও সাম্প্রতিক কালের প্লাবন সমভূমি।
53। টারশিয়ারি যুগের পাহাড়সমূহ বাংলাদেশের কত শতাংশ ভূমি নিয়ে গঠিত?
প্রায় ১২% এলাকা।
54। বাংলাদেশের সর্বোচ্চ শৃঙ্গের নাম ও উচ্চতা কত?
তাজিনডং (বিজয়), উচ্চতা ১,২৩১ মিটার, বান্দরবান জেলায় অবস্থিত।
55। বাংলাদেশের দ্বিতীয় সর্বোচ্চ শৃঙ্গ কোনটি?
কিওক্রাডং, উচ্চতা ১,২৩০ মিটার।
56। উত্তরের পাহাড়গুলোকে কী বলা হয় ও এদের উচ্চতা কত?
স্থানীয়ভাবে টিলা বলা হয়, উচ্চতা ৩০ থেকে ৯০ মিটার।
57। প্লাইস্টোসিন কালের সোপানসমূহ কত শতাংশ ভূমি নিয়ে গঠিত ও কয় ভাগে বিভক্ত?
প্রায় ৮% ভূমি নিয়ে গঠিত; তিন ভাগে— বরেন্দ্রভূমি, মধুপুর ও ভাওয়ালের গড়, এবং লালমাই পাহাড়।
58। বরেন্দ্রভূমির আয়তন ও অবস্থান কী?
৯,৩২০ বর্গকিমি; নওগাঁ, রাজশাহী, বগুড়া, জয়পুরহাট, রংপুর ও দিনাজপুর জেলায় অবস্থিত।
59। লালমাই পাহাড়ের অবস্থান ও উচ্চতা কত?
কুমিল্লা শহর থেকে ৮ কিমি পশ্চিমে অবস্থিত, গড় উচ্চতা ২১ মিটার, আয়তন ৩৪ বর্গকিমি।
60। সাম্প্রতিককালের প্লাবন সমভূমি কত শতাংশ ভূমি নিয়ে গঠিত?
প্রায় ৮০% ভূমি, আয়তন প্রায় ১,২৪,২৬৬ বর্গকিমি।
বাংলাদেশের ভূপ্রকৃতি ও জলবায়ু অধ্যায়ের অনুধাবনমূলক প্রশ্ন ও উত্তর
ভূপ্রকৃতি-জনসংখ্যা-ভূমি ব্যবহার ও জলবায়ুর প্রভাব-বজ্রপাত
1। পার্বত্য এলাকা ও সুন্দরবন অঞ্চলে জনবসতি কম কেন— ব্যাখ্যা করো।
এসব অঞ্চলে ভালো রাস্তাঘাট বা রেল সংযোগ না থাকায় জীবিকা সংস্থান কষ্টসাধ্য এবং অনুন্নত যাতায়াত ব্যবস্থা, ঘন বনভূমি ও দুর্গম ভূপ্রকৃতির কারণে মানুষের বসবাস করা কঠিন হয়ে পড়ে, তাই এসব অঞ্চল জনবিরল থেকে যায়।
2। নদীভাঙন মানুষের জীবনযাত্রায় গভীর প্রভাব ফেলে কীভাবে— ব্যাখ্যা করো।
নদীভাঙনে লাখ লাখ মানুষ তাদের ভিটেমাটি ও কৃষিজমি হারিয়ে বাস্তুহারা হয়ে পড়ে, জীবিকার সংস্থান না থাকায় তারা শহরে আশ্রয় নিতে বাধ্য হয়, এতে পারিবারিক বন্ধন ভেঙে যায় এবং শিশু-বৃদ্ধ-নারীর নিরাপত্তা বিঘ্নিত হয়, তাই নদীভাঙন শুধু ভৌগোলিক নয় বরং একটি গভীর সামাজিক সমস্যাও তৈরি করে।
ভূমিকম্প — ধারণা, কারণ, বিশ্ব ও বাংলাদেশের ঝুঁকি মোকাবিলা
3। ভূমিকম্পের পূর্বাভাস দেওয়া কঠিন কেন— ব্যাখ্যা করো।
ভূমিকম্প ভূঅভ্যন্তরে ঘটে বলে সরাসরি পর্যবেক্ষণের কোনো সুযোগ নেই, এটি অত্যন্ত আকস্মিকভাবে সংঘটিত হয় এবং মাত্র কয়েক সেকেন্ড স্থায়ী হয়, তাই অন্যান্য প্রাকৃতিক দুর্যোগের তুলনায় ভূমিকম্পের সঠিক পূর্বাভাস দেওয়া অনেক বেশি কঠিন।
4। ঢাকায় বড় ভূমিকম্প হলে ক্ষয়ক্ষতি বেশি হওয়ার আশঙ্কা কেন— ব্যাখ্যা করো।
ঢাকায় জনসংখ্যার ঘনত্ব অত্যধিক, অপরিকল্পিত নগরায়ন, অধিক বহুতল ভবন, খোলা জায়গার অভাব, সরু গলিপথ এবং উদ্ধার তৎপরতার দুর্বল প্রস্তুতি রয়েছে, ফলে ভূমিকম্পের সময় উদ্ধারকাজ পরিচালনা কঠিন হয়ে পড়বে এবং প্রকৃত কম্পনের চেয়ে উদ্ধার ব্যর্থতাতেই বেশি প্রাণহানি ঘটতে পারে।
বাংলাদেশ ও দক্ষিণ এশিয়ার জলবায়ু
5। বর্ষাকালে অতিরিক্ত তাপ অনুভূত না হওয়ার কারণ ব্যাখ্যা করো।
বর্ষাকালে সূর্য বাংলাদেশের ওপর প্রায় লম্বভাবে কিরণ দেওয়ায় তাপমাত্রা বেশি হওয়ার কথা, কিন্তু এই ঋতুতে ঘন মেঘ ও অধিক বৃষ্টিপাত হওয়ায় সূর্যরশ্মি সরাসরি ভূপৃষ্ঠে কম পৌঁছায় এবং বাষ্পীভবনে তাপ ব্যয় হয়, তাই তাপমাত্রা প্রত্যাশিত মাত্রায় বৃদ্ধি পায় না।
6। হিমালয় পর্বতমালা না থাকলে ভারতের জলবায়ু কেমন হতো— ব্যাখ্যা করো।
হিমালয় পর্বতমালা একটি প্রাচীরের মতো কাজ করে সাইবেরিয়া থেকে আসা তীব্র শীতল বায়ুকে ভারতে প্রবেশ করতে বাধা দেয়; হিমালয় না থাকলে এই শীতল বায়ু সরাসরি ভারতে প্রবেশ করত এবং শীতকালে ভারতের তাপমাত্রা আরও অনেক কমে যেত, ফলে জলবায়ু বর্তমানের তুলনায় অনেক বেশি চরমভাবাপন্ন হতো।
বাংলাদেশের ভৌগোলিক অবস্থান ও ভূপ্রাকৃতিক অঞ্চল
7। বাংলাদেশের নদ-নদীগুলো উত্তর থেকে দক্ষিণে প্রবাহিত হয় কেন— ব্যাখ্যা করো।
বাংলাদেশের ভূখণ্ড উত্তর থেকে দক্ষিণ দিকে ক্রমশ ঢালু হয়ে অবস্থিত, ফলে মহাকর্ষের নিয়মে পানি সবসময় উঁচু থেকে নিচু দিকে প্রবাহিত হয়, তাই দেশের নদ-নদী, উপনদী ও শাখা নদীগুলো উত্তর দিক থেকে দক্ষিণে বঙ্গোপসাগর অভিমুখে প্রবাহিত হয়।
