● বিসিএস লিখিত: বাংলাদেশ বিষয়াবলি

সুশাসন কী? বাংলাদেশে সুশাসন প্রতিষ্ঠার সাফল্য ও পর্যালোচনা | বিসিএস লিখিত

📌 এক নজরে

সুশাসন বিশ্বায়নের যুগে রাষ্ট্র পরিচালনার একটি বহুল আলোচিত ধারণা। এই পোস্টে জানবেন সুশাসন কী, এটি রাষ্ট্র ও জনগণের সম্পর্ককে কীভাবে ব্যাখ্যা করে এবং সুশাসন প্রতিষ্ঠায় বাংলাদেশের সাফল্যগুলো কী। প্রশ্নটি নিজস্ব মতামত চায়, তাই বিশ্লেষণ কীভাবে সাজাবেন সেটিও দেখানো হলো।

সুশাসনের ধারণা বর্তমানে বিশ্বায়নের যুগে রাষ্ট্র পরিচালনায় একটি অতি উত্তম ব্যবস্থা হিসেবে বিবেচিত এবং এটি বহুল আলোচিত বিষয় হিসেবে স্থান পেয়েছে। এর মাধ্যমে রাষ্ট্র পরিচালনার দিক নির্দেশনা, রাষ্ট্র ও জনগণের মধ্যে সম্পর্কের ধরন সুস্পষ্টভাবে তুলে ধরা হয়। মূলত সুশাসন হলো কোনো রাষ্ট্রীয় কার্যাবলি পরিচালনার পদ্ধতি এবং শাসক ও শাসিতের মধ্যে সম্পর্কের স্বরূপ বিশ্লেষণ করে।

সুশাসন: সুশাসন আধুনিক বিশ্বে একটি গতিশীল ও চলমান সামাজিক ধারণা। সুশাসন ধারণাটি বিশ্বব্যাংকের উদ্ভাবিত একটি ধারণা। ১৯৮৯ সালে বিশ্ব ব্যাংকের একটি সমীক্ষায় সর্বপ্রথম ‘সু’ প্রত্যয়টি ব্যবহার করা হয়। শাসন এর সাথে ‘সু’ প্রত্যয় যোগ করে ‘সুশাসন’ (Good Governance) শব্দটি প্রকাশ ঘটানো হয়েছে। এর ফলে সুশাসনের অর্থ দাঁড়িয়েছে নির্ভুল, দক্ষ ও কার্যকরী শাসন।

বিশ্বব্যাংকের মতে, সুশাসন হলো এমন এক প্রক্রিয়া যেখানে রাজনৈতিক কর্তৃত্ব ও প্রাতিষ্ঠানিক সম্পদ সমাজের সমস্যা ও চাহিদা পূরণে ব্যবহৃত হয়। সংস্থাটি সুশাসনকে সংজ্ঞায়িত করেছেন এভাবে, “Governance is the manner in which power is exercised in the management of a countries economic and social resources for development.” বিশ্বব্যাংকের

মতে, সুশাসন চারটি প্রধান স্তম্ভের উপর নির্ভরশীল। এ চারটি স্তম্ভ হলো- ১) দায়িত্বশীলতা, ২) স্বচ্ছতা, ৩) আইনি কাঠামো এবং ৪) অংশগ্রহণ।

UNDP এর মতে, সুশাসন হলো অর্থনৈতিক, রাজনৈতিক এবং প্রশাসনিক কর্তৃত্বের বিধিবদ্ধ চর্চা যার মাধ্যমে একটি দেশের উন্নয়ন কার্যাবলি পরিচালনা করা হয়। UNDP সুশাসনের ৫টি মূল উপাদানের কথা বলেছেন। এগুলো হলো: বৈধতা, জবাবদিহিতা, আইনের শাসন, মানবাধিকার ও সাম্য।

সুশাসন প্রতিষ্ঠায় বাংলাদেশের সাফল্য:

  1. ১জনগণের অংশগ্রহণ: জাতি, ধর্ম, বর্ণ, ধনী-গরিব, নারী-পুরুষ নির্বিশেষে সকল জনগণকে নিয়ে একটি পরিপূর্ণ ও সুশৃঙ্খল শাসনব্যবস্থা প্রতিষ্ঠা করা সুশাসনের অন্যতম বৈশিষ্ট্য। স্থানীয় পরিকল্পনা প্রণয়ন ও বাস্তবায়নে বর্তমানে স্থানীয় নাগরিক সমাজের অংশগ্রহণ বেড়েছে। বর্তমানে স্থানীয় প্রশাসনের মাধ্যমে জনগণের মাঝে সচেতনতা বৃদ্ধি ও মতামত গ্রহণের জন্য উঠান বৈঠকের আয়োজন করা হয়। এসব উঠান বৈঠক জনপ্রতিনিধি, স্থানীয় সব শ্রেণি পেশার মানুষদের নিয়ে করা হয়।
  2. ২আইনের শাসন প্রতিষ্ঠা: সুশাসনের একটি গুরুত্বপূর্ণ বৈশিষ্ট্য হলো আইনের শাসন। আইনের শাসন বলতে আইনের সুস্পষ্ট প্রাধান্য এবং আইনের চোখে সাম্যকেই বুঝায়। মানবতাবিরোধী অপরাধের বিচার, মাদকের বিরুদ্ধে জিরো টলারেন্স নীতি, মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইন ২০১৮, নারী ও শিশু নির্যাতন সংক্রান্ত অপরাধ বিচারের লক্ষ্যে ৯৫টি নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনাল গঠন, বিচার কাজে গতিশীলতা বৃদ্ধির জন্য বিচারকের সংখ্যা বাড়ানোসহ নানা সফলতার প্রমাণ দিয়েছে সরকার।
  3. ৩গণমাধ্যমের স্বাধীনতা: সুশাসনের জন্য গণমাধ্যমের স্বাধীনতা একান্ত প্রয়োজন। বর্তমান সরকার গণমাধ্যমের বিকাশে অগ্রণী ভূমিকা পালন করছে। ২০০৯ সাল থেকে গণমাধ্যম, তথ্য ও তথ্যপ্রযুক্তির বিকাশে ব্যাপক পদক্ষেপ গ্রহণ করেছে। তথ্য অধিকার আইন – ২০০৯ প্রণয়ন ও তথ্য কমিশন প্রতিষ্ঠা। জাতীয় সম্প্রচার নীতিমালা – ২০১৪, বেসরকারি খাতে টেলিভিশন, এফএম রেডিও এবং কমিউনিটি রেডিও চ্যানেল অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। বঙ্গবন্ধু স্যাটেলাইট – ১ উৎক্ষেপণের ফলে টেলিভিশন সম্প্রচারে নতুন মাত্রা যোগ হয়েছে। ২০২৩ সালে মুক্ত গণমাধ্যম সূচকে বাংলাদেশের অবস্থান ১৬৩তম।
  4. ৪স্বচ্ছতা বৃদ্ধি: সাধারণত সিদ্ধান্ত গ্রহণ এবং বাস্তবায়নে আইনগত পদ্ধতি অবলম্বন করাকে স্বচ্ছতা বলে। স্বচ্ছতা হচ্ছে সরকারের প্রতিটি বিভাগের বিশেষ করে সরকারি কর্মকাণ্ডের পরিপূর্ণ প্রকাশ, যা থেকে জনগণ সরকারের কর্মকাণ্ড সম্পর্কে সুস্পষ্ট ধারণা লাভ করতে পারবে। বর্তমানে সুশাসন প্রতিষ্ঠায় এবং মানবাধিকার বাস্তবায়নের জন্য তথ্য অধিকার নিশ্চিত করতে “তথ্য অধিকার আইন -২০০৯” প্রণয়ন করা হয়েছে। সাংবিধানিক অধিকার আদায়ের ধারাবাহিকতায় এটি একটি মাইলফলক আইন। এছাড়া বর্তমানে সেবা প্রদানকারী কর্তৃপক্ষের কর্মকাণ্ডের স্বচ্ছতা, জবাবদিহিতা ও প্রশাসনের গতিশীলতা বৃদ্ধি করতে সিটিজেন চার্টারের মাধ্যমে সেবা দেয়া হয়।
  5. ৫লিঙ্গ সমতা: সুশাসন প্রতিষ্ঠার জন্য লিঙ্গ বৈষম্যের অবসান ঘটিয়ে বাংলাদেশ এখন লিঙ্গ সমতা অর্জন করেছে। বর্তমানে নারী ক্ষমতায়নে বিশ্বে বাংলাদেশের অবস্থান ৫৯তম। নারীর রাজনৈতিক ক্ষমতায়নে বাংলাদেশের অবস্থান নবম। বাংলাদেশের সংসদ পৃথিবীর একমাত্র সংসদ, যেখানে সংসদের স্পিকার, সংসদ নেতা ও উপনেতা সবাই নারী। সশস্ত্র ও আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর মতো চ্যালেঞ্জিং পেশায় নারী কাজ করছে। বিমান চালনা, সর্বোচ্চ আদালতের বিচারক, প্রশাসন, বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য, রাষ্ট্রদূতদের মতো উচ্চ পদগুলোতে বাংলাদেশের নারীরা দক্ষতার সাথে কাজ করছেন। বাংলাদেশের নারীদের জাতিসংঘ শান্তি মিশন, এভারেস্ট জয় ও দেশে-বিদেশে খেলাধুলায়ও বেশ সাফল্য অর্জন করছে।

আরও পড়ুন

মন্তব্য করুন

Your email address will not be published. Required fields are marked *

সাহায্য লাগবে?
BCS Journey Support
● Online
×
💬Messenger ✈Telegram
BCS JOURNEY
BCS Journey
চ্যাট শুরু করুন ➜